আর্কাইভ

Archive for নভেম্বর, 2016

কার্টুন-রঙ্গঃ কম্পিউটারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে…

computer-security-1computer-security-2computer-security-3

Advertisements

ভালো চাকুরির দরখাস্ত (সিভি) তৈরী করতে কিছু পরামর্শ

cv-prep

বিভাগ:শিক্ষা

মাঠা ও লাচ্ছি – দুটোই গুণাগুণে অতুলনীয় !

matha-lachchhi

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোড লাইনের সংখ্যা কতো?

codelines-in-google

হিটলারের আত্মহননের বাঙ্কার !

hitler-suicide-room-1hitler-suicide-room-2hitler-suicide-room-3

বিমানের শুধু ‘নাট-বোল্ট’ ঢিলা নয়…

airlines-bd-3গোলাম মোর্তোজা : একটি নাটবোল্ট ঢিলা হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এবার আলোচনায় এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের উড়োজাহাজের নাটবোল্ট ঢিলা! একের পর এক তদন্ত কমিটি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কর্তারা যারযার পদে বহাল আছেন। শেষটায় কী ঘটবে জানি না। নিচের দিকের দু’চারজনের চাকরি যাওয়া বা বরখাস্তের মধ্য দিয়ে ঘটনার ইতি টানার একটা সম্ভাবনা আছে। তা দেখার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। অপেক্ষা করি এবং সেই সুযোগ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনা করা যেতে পারে। একটি নাটবোল্ট ঢিলা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা, নাকি এটাই স্বাভাবিক চিত্র?

. ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ বিমানের। যা সোজা হয়ে কখনও দাঁড়াতে পারেনি। অনিয়মদুর্নীতিচুরির খনি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ বিমান। সুনামের সঙ্গে কখনও যাত্রী বহন করতে পারেনি, বহন করেছে দুর্নাম। বিভিন্ন সময়ে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন অনিয়মদুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নাইজেরিয়া থেকে বিমানের কর্তারা কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে বারবার লিজে নিম্নমানের বহু পুরনো উড়োজাহাজ এনেছেন। বিমানে যত রকমের কেনাকাটা হয়, সব কিছুতেই পুকুর বা সাগর চুরির ঘটনা ঘটে। দৃশ্যমান দুর্নীতির অভিযোগেরও তদন্ত হয় না। যখন যারা ক্ষমতায় থেকেছেন, বাংলাদেশ বিমানকে নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। এরশাদের সময়ে বিমানের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় সবচেয়ে বড়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

২০০৪ সালে এসে বাংলাদেশ বিমান তার ৪০% শেয়ার বিক্রি করে দিতে চায়। তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের ইচ্ছায় চলত বিমান। দেশিবিদেশি কোনও উদ্যোক্তা বিমানের শেয়ার কিনতে আগ্রহী হয় না। শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব প্রস্তুত করার জন্য ব্যয় করা হয় ১.৬ মিলিয়ন ডলার! এটা দুর্নীতিঅনিয়মের ছোট্ট একটি উদাহরণ।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ বিমানে উড়োজাহাজের সংখ্যা ছিল আট নয়টি। ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৫৩ জন! বিরল দৃষ্টান্ত!

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিমান। এই সময় প্রায় ১ হাজার ৯০০জন কর্মী কমানো হয়। পরবর্তী সময়ে আবার নিয়োগ দেওয়াও অব্যাহত থাকে!
২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টাইম ম্যাগাজিন একটি প্রতিবেদনে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিমান সেবা হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের নাম উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বিমানের প্রতিটি ফ্লাইট গড়ে ৩ ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। ২০০৮ সালে জাতিসংঘ তার কর্মীদের উদ্দেশে নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সময়সূচি না মানার কারণে বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে।

প্রতি বছর কয়েক’শ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে, চুরিচোরাচালানিদের স্বর্গ হিসেবে চলছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

. ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মাহবুব জামিল যখন উপদেষ্টা, তখন বিমান একটা দিক নির্দেশনা পায়। মাহবুব জামিল উদ্যোগী হয়ে বোয়িং কোম্পানি থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেন। পুরনো উড়োজাহাজ কেনা বা লিজে আনার অনিয়মদুর্নীতির ধারা থেকে বিমানকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিশাল অঙ্কের চুক্তিটি হয় প্রায় নীরবে এবং কোনও রকম দুর্নীতিঅনিয়ম বা কমিশনের অভিযোগ ছাড়া। এর মধ্য দিয়ে মাহবুব জামিলের অসাধারণ যোগ্যতা দক্ষতার বিষয়টি আর একবার প্রমাণিত হয়। সেই চুক্তির ফসল হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চার পাঁচটি উড়োজাহাজ পেয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে আরও ৫টি উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বহন করছিল এরকমই একটি নতুন উড়োজাহাজ।

. এই নতুন উড়োজাহাজের নাট ঢিলা হয়ে যাওয়া গাফিলতি না হত্যার ষড়যন্ত্র? যদি এটা গাফিলতি হয়েও থাকে, তবু সেভাবে দেখা উচিত নয়। গাফিলতি হলেও ঘটনাটিকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখা উচিত। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তদন্ত কোনও অবস্থাতেই একটি নাটবোল্ট ঢিলার মধ্যে আটকে থাকা সমীচীন হবে না। তদন্ত হওয়া প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ বিমান নিয়ে। নতুন উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। প্রয়োজনে তা কেনা যেতে পারে।

ranga_provat_bimanঅব্যবস্থাপনা বা ষড়যন্ত্র চাপা দেওয়ার জন্যে যেন বিষয়টি সামনে আনা না হয়। যে সব বিষয়ে তদন্ত এবং অনিয়ম দুর্নীতি দূর করা অপরিহার্য

. কর্মীটোলা থেকে জিয়া, এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই পৃথিবীর একমাত্র বিমানবন্দর, যেখানে যাত্রীদের লাগেজ পাওয়ার জন্য দেড় থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। যেভাবে লাগেজ ছুড়ে ফেলে ক্ষতি করা হয়, তাও পৃথিবীর অন্য কোনও বিমানবন্দরে দেখা যায় না। ছয় সাত হাজার কর্মকর্তার কাজ যে কী, উত্তর জানা ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

. প্রধানমন্ত্রী যেদিন গেছেন সেদিনই কলকাতাগামী একটি ফ্লাইট উড়ার আগে দু’বার ত্রুটি ধরা পড়েছে। ওড়ার পর আবার ত্রুটি ধরা পড়ায় যশোর থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছে। এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিন ঘটে, আলোচনায় আসে না। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ত্রুটির কারণে সুযোগ এসেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার।

. বাংলাদেশ বিমান পরিচালনার জন্যে সবসময় বিমানবাহিনী থেকে একজনকে নিয়ে আসা হয়। কেন এই কর্ম করা হয়, তার উত্তর নেই। বিদেশি সিইও আনা হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে, নানা বাধা প্রতিকূলতা তৈরি করা হয়।

. অলাভজনক জানার পরও এমন কিছু রুটে কেন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়, অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

. ছয় সাত হাজার কর্মকর্তাকর্মচারী থাকার পরও কেন নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্রিটিশ কোম্পানিকে দিতে হয়? নেপথ্যের কারণ বা অযোগ্যতাটা কোথায়? বাংলাদেশের কেউ লাগেজ স্ক্যান করতে পারবে না ঠিকমতো, এই অপবাদ মেনে নেওয়া যায় না।

. ইমিগ্রেশন পুলিশের কাজের গতি এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। শামুক গতির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা দিয়ে বিমানবন্দর চলতে পারে না।

. সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং কলকাতা থেকে আসা যাত্রীদের সঙ্গে (চোরাচালানিদের কথা বলছি না) কাস্টমসের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। চোরাচালানিদের থেকে অর্থ নিয়ে, সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করে কাজ দেখানোর মানসিকতা পরিহার করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

. স্বর্ণ চোরাচালানের ট্রানজিট রুট হিসেবে বাংলাদেশ বিমান এবং বিমানবন্দর যাতে ব্যবহৃত হতে না পারে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

. বিমানবন্দরের জমি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিকে লিজ দিয়ে, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাসুস্থ চিন্তা নয়। এখন বিমানবন্দরের ৩০% থেকে ৩৫% ব্যবহার হয়। ৭০% অব্যবহৃত থাকে। মাস্টারপ্ল্যানে আর একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের রানওয়ে করার সুযোগ আছে। খুব সহজেই আর একটি রানওয়ে করা যায়। অন্যান্য ভবন, সুযোগসুবিধা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করার মতো জায়গা আছে। সেদিকে মনোযোগ দিয়ে, নতুন বিমানবন্দরের চিন্তা বাদ দেওয়া দরকার। নিজেদের বিমান সংস্থা ঠিক না করে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করলে তা অব্যবহৃত পড়ে থাকবে।

. লি কুয়ান ইউ আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। ক্ষমতাসীনরা এখন বিভিন্ন আলোচনায় তাকে সামনে আনেন।
তার একটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে লেখা শেষ করব। লি কুয়ান তার ‘ফ্রম থার্ড ওয়ার্ল্ড টু ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড, দ্য সিঙ্গাপুর স্টোরি ১৯৬৫২০০০ আত্মজৈবনিক গ্রন্থের ৩৬৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ১৯৭৩ সালে টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। গিয়েছিলেন লি কুয়ান ইউ’ও। বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ নিয়ে বঙ্গবন্ধু যোগ দিয়েছিলেন সম্মেলনে। উড়োজাহাজটি ৮ দিন পার্ক করে ছিল টরেন্টো বিমানবন্দরে। কোনও ফ্লাইট পরিচালনা না করে এভাবে একটি উড়োজাহাজ বসিয়ে রাখা দেখে অবাক হয়েছিলেন লি কুয়ান।

তিনি লিখেছেন, ‘Another person I remember from the Ottawa meeting was Prime Minister Sheikh Mujibur Rahman, the hero who had opposed Pakistan and led East Pakistan to independence as Bangladesh. He arrived in style at Ottawa in his own aircraft. When I landed, I saw a parked Boeing 707 with ‘Bangladesh’ emblazoned on it. When I left it was still standing on the same spot, idle for eight days, getting obsolescent without earning anything. As I left the hotel for the airport, two huge vans were being loaded with packages for the Bangladeshi aircraft. At the conference, Mujibur Rahman had made a pitch for aid to his country. Any public relations firm would have advised him not to leave his special aircraft standing for eight whole days on the parking apron.’

এখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৪টি। যার তিন চারটি সবসময় নষ্ট থাকে। কর্মকর্তাকর্মচারীর সংখ্যা ছয় সাত হাজার। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০৭টি। কর্মকর্তাকর্মচারীর সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি না। বাংলাদেশ বিমান পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেবার স্বীকৃতি পাওয়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো সেবা দেওয়ার স্বীকৃত বিপুল লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

‘ইসলামি ব্যাংকিংয়ে শরিয়া মানা হচ্ছে না’

islamic-banking-wordleখাঁটি ইসলামের অনুসারী বলে দাবীদার ওয়াহহাবী, সালাফী এবং আহলেহাদীস মতাদর্শীরা কখনো বলে না যে, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক রাসুলুল্লাহ (সা), সাহাবী বা তাবেয়ীদের সময়ে ছিলো না, সুতরাং ইসলামী ব্যাংকিং বিদআত !

বছরখানেক আগে অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া ইসলামী ব্যাংকের সমলোচনা করে দেশের ইসলামীপন্থীদের দ্বারা তিরষ্কৃত হয়েছিলেন এবং তাকে মুরতাদ’ আখ্যা দেয়া হয়েছিলো ! এবার দেখা যাক, ঐসব ইসলামপন্থীরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে কিনা !

লাভলোকসানের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংক চলে দাবী করলেও তারা শুধুমাত্র লাভজনক প্রকল্পেই হাত দেয় অর্থাৎ তারা ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে নারাজ ! তাহলে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে ঝুঁকিমূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে কারা ?

সাধারণ ব্যাংকিংএর আদলে গঠিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক শুধুমাত্র কিছু নবউদ্ভাবিত ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে সুদ নিচ্ছে!

বিদেশে বাড়ী কিনতে ইসলামী ব্যাংকের দারস্থ হলে দেখা যায়, তারা বাড়ীর ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে সাধারণ ব্যাংকের সুদসমেত পরিশোধ্য মূল্যের মতোই ! (১৫ বা ৩০ বছরমেয়াদী ঋণ) । অর্থাৎ বাড়ীর মর্টগেজের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বর্ধিত মূল্য ধরা হয় । তাহলে ইসলামী ব্যাংকের সাথে সাধারণ ব্যাংকের তেমন বিশেষ পার্থক্য থাকে না । উপরন্তু, বাণিজ্যিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে অংশদারিত্বের ভিত্তিতে কেনা হচ্ছে বলে ইসলামী ব্যাংক বাড়ী কেনার সময় প্রদত্ত অর্থের ভিত্তিতে মালিকানার অংশ নির্ধারণপূর্বক বাড়ী ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশও ভোগ করতে থাকে যা সাধারণ ব্যাংক করে না অর্থাৎ সাধারণ ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে ইসলামী ব্যাংকের তুলনায় বেশী ছাড় দেয় !

= = =

বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে, তাতে ইসলাম ধর্মের নিয়মকানুন বা শরিয়া পালিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শরিয়াভিত্তিক অর্থায়নের ৫২টি মান আছে। বাংলাদেশে মাত্র দুএকটি পালন করা হয়।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ইসলামি ব্যাংকগুলোতে করপোরেট সুশাসন নিয়ে এক সেমিনারে ফরিদউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও কয়েকজন বক্তা বলেন, বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক আসলে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতোই।

অনুষ্ঠানে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর বলেন, লাভলোকসান ভাগাভাগির ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংকগুলো খুব কম পরিমাণে ঋণ দেয়। তিনি বলেন, দুটি মুরগির একটি মহান আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়, অন্যটি তাঁর নাম না নিয়ে জবাই করা হয়। কিন্তু রান্না করলে স্বাদ একই। একইভাবে ইসলামি ব্যাংকিং ও সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই।

ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, কী কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার না বলে ঋণ দেওয়া হলে তা হারাম হয়ে যায়। অন্যান্য ব্যাংকের মতো ইসলামি ব্যাংকগুলোতেও গ্রাহক শুধু ফরম পূরণ করেন। শর্ত সম্পর্কে পুরো ধারণা রাখেন না। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো গ্রাহককে নগদ টাকার বদলে পণ্য কিনে দেয়। এখন তারা ক্রেতা প্রতিনিধিকে (বায়িং এজেন্ট) টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। কিন্তু নিয়ম হলো আগে ব্যাংক পণ্য কিনবে, নিজের দখলে নেবে, তারপর দাম নির্ধারণ করে গ্রাহককে দেবে। এর কি কোনো মানে আছে?

ফরিদউদ্দিন আরও বলেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহককে দিয়ে মুদারাবা হিসাব খোলায়। কিন্তু গ্রাহককে বলে না যে লোকসান হলে ভাগ নিতে হবে। এ সময় সেমিনারে উপস্থিত ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কী কখনো গ্রাহককে বলেন ব্যাংকের লোকসানের ভাগ নিতে হবে? বলেন না। ব্যাংকের মুনাফা ভাগাভাগির নীতিমালাও গোপন থাকে।’

অনুষ্ঠানে বিআইবিএমএর মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক এস এ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৩০ নভেম্বর ২০১৬