আর্কাইভ

Archive for এপ্রিল, 2016

লিও টলস্টয়ের অজানা কিছু কথা

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

আফসানা সুমী : ওয়ার এন্ড পিসএবং আনা কারেনিনাবইয়ের লেখক লিও টলস্টয় আমাদের সবারই পরিচিত। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৮ সালে রাশিয়ার এক অভিজাত পরিবারে। তার আসল নাম লেভ নিকোলায়েভিচ টলস্টয়। লিও টলস্টয়কে সর্বোকালের সেরা লেখক হিসেবে বিশ্বব্যাপি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। উপরে উল্লেখিত বই দুইটি তার অনন্য সৃষ্টি। এই বই দুটি বিশ্বব্যাপী সাফল্য পাওয়ার পর তরূণ বয়সেও উগ্রতার চর্চা করেন নি। এমনকি আধ্যাত্মিকতার চর্চা বা নৈতিক কোন দর্শন না দাঁড় করিয়ে তিনি বরং বেছে নিয়েছেন সাধারণ জীবনযাপন এবং শান্তিবাদ। যা তার হাজারো ভক্তকে উৎসাহী করেছে, এদের মধ্যে রয়েছেন মহাত্মা গান্ধী এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। আসুন জেনে নিই টলস্টয় সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য।

টলস্টয়ের আত্মউন্নয়ন

বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন যেমন তার আত্মজীবনীতে ১৩ টি গুণের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তেমনি টলস্টয়েরও ছিল নিয়মের তালিকা। কীভাবে তিনি জীবনযাপন করবেন, কী করবেন আর কী করবেন না এ বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা ছিল তার। সেগুলোর অনেক কিছুই অবশ্য এখনো মানুষের দৈনন্দিন চর্চায় সন্নিবেশ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমনপরিমিত খাওয়া, ১০ টায় ঘুমাতে যাওয়া এবং ৫ টায় ঘুম থেকে ওঠা, মিষ্টি খাবার এড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি। নিজের খারাপ দিকগুলোকেও অদ্ভুতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। যেমন, ব্রথেলে মাসে ২ বারের বেশি যেতেন না। জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিশোর বয়স থেকে তিনি একটি পত্রিকা রাখতেন। নাম ছিল “Journal of Daily Occupations”। তিনি চাইতেন তার প্রতি মিনিটের হিসেব রাখতে। কীভাবে তিনি দিন পার করেছেন তা লিখতেন এবং একইসাথে পর্যালোচনা করতেন, কীভাবে দিনটি যেতে পারত! এতেও শান্তি না হলে তিনি নিজের ব্যর্থতার একটা তালিকা তৈরি করতেন। এরপরও তিনি গান শোনা বা কার্ড খেলার সময় পেতেন।

ওয়ার এন্ড পিসলিখতে সাহায্য করেছিলেন তার স্ত্রী সোফিয়া

দেখা হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ১৮ বছর বয়সি সোফিয়াকে বিয়ে করেছিলে ৩৪ বছর বয়সী টলস্টয়। সালটি ছিল ১৮৬২। টলস্টয় তখন ওয়ার এন্ড পিসলেখা শুরু করেছেন। প্রথম ড্রাফটটি শেষ করেন ১৮৬৫ সালে। এরপর সোফিয়া তার ড্রাফটটি গুছিয়ে লেখার ভার নেন। তিনি হাতে লিখতেন, প্রয়োজনে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখে নিতেন, পরীক্ষা করতেন টলস্টয়ের প্রতিটি কাটাকাটি বা এলোমেলো অক্ষর। পরবর্তী ৭ বছর সময় নিয়ে তিনি লেখাটির পরিচ্ছন্ন কপি তৈরি করেন। এজন্য কোন কোন অংশ তিনি ৮ বার লিখেছেন। আবার কোনটা লিখেছেন ৩০ বারও। সোফিয়া জন্ম দিয়েছেন ১৩টি শিশুর এবং একই সাথে দেখাশোনা করতেন ব্যবসা এবং স্থাবরঅস্থাবর সম্পত্তি।

রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চ তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে

আনা কারেনিনা লেখার পর জীবন সম্পর্কে টলস্টয়ের ভাবনার ব্যপক পরিবর্তন ঘটে। ১৮৭০ সাথে আনা কারেনিনা প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তিনি তার অভিজাত পরিবার এবং বিপুল সহায় সম্পত্তি নিয়ে বিব্রত বোধ করতে থাকেন। আধ্যাত্মিক অনুশাসনের সংকট তাকে বাধ্য করে নিজের বিশ্বাসের প্রতি প্রশ্ন করতে। ধর্মীয় নিয়মকানুনগুলোর মধ্যে তিনি নানাবিধ সমস্যা দেখতে পান। যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা তাকে আর সন্তুষ্ট করতে পারে না। টলস্টয় ধর্মকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন, ধর্মীয় অনুশাসন মানতে অস্বীকৃতি জানান। রাষ্ট্রের নিয়মের ত্রুটি তুলে ধরেন। এই সবকিছু তাকে রাশিয়ার দুই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তির চক্ষুশূল করে তোলে। ফলে ১৯০১ সালে রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চ তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

সূত্রঃ প্রিয়.কম

চীনে টিউলিপ ফুলের চাষাবাদের নয়নাভিরাম ছবি

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

tulip cultivation china -1tulip cultivation china -2tulip cultivation china -3tulip cultivation china -4tulip cultivation china -5

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের সাতকাহন

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

UN secretary election 2UN secretary election 1

আর্ট ব্যবসার গুপ্ত কারবার

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

art-44নাজমুল আহসান : অনেকদিন পর্যন্ত ইহুদি আর্ট ডিলারের নাতি জানতেন, তার দাদার একটি দামি পেইন্টিং লুট করেছিল নাৎসি বাহিনী। এরপর ওই পেইন্টিংয়ের কোনো খোঁজ পাননি তিনি। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন, ওই পেইন্টিংটি মূলত আছে আর্ট দুনিয়ায় সবচেয়ে প্রভাবশালী একটি পরিবারের কাছে। ইতালিয়ান শিল্পী আমেদিও মোদিগলিয়ানির ওই চিত্রকর্মের নাম ছিল ‘সিটেড ম্যান উইথ অ্যা ক্যান’। প্রায় এক শতাব্দী আগে যক্ষ্মায় মত্যু হয় অসচ্ছল মদ্যপ চিত্রশিল্পী মোদিগলিয়ানির। আর আজ তার পেইন্টিংগুলোর দাম আনুমানিক ১৭ কোটি ডলার! গোঁফওয়ালা কেতাদুরস্ত এক ব্যক্তির চেয়ারের উচ্চাসনে বসে থাকার একটি ছবি এঁকেছিলেন তিনি। ওই চিত্রকর্মের বর্তমান দাম ধরা হয় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার!

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এ চিত্রকর্মটি ১৯৯৬ সালে একটি নিলাম থেকে কিনেছিল একদল ধনকুবেরের গোষ্ঠীনাহমাদ পরিবার। ইহুদি নাতি এখন এ চিত্রকর্মটি ফেরত চান। তার আইনজীবীরা নিউ ইয়র্কের নাহমাদ গ্যালারিকে চিঠি লিখে বলেছেন এ পেইন্টিংটি ওই নাতির। তাকে এটি ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে একটি বৈঠকেরও অনুরোধ করেন তারা। আদালতের নথিতে দেখা যায়, গ্যালারি কর্তৃপক্ষ এ চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। অগত্যা আর্ট ডিলারের নাতি মামলা করেন। চার বছর হয়ে গেল। দুই পক্ষের আইনজীবীরা এখনও লড়ছেন।

নাহমাদ কর্তৃপক্ষ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ও স্টেট কোর্টে দাবি করে, মোদিগলিয়ানির চিত্রকর্মটি তাদের মালিকানায় নেই! বরং, পানামার স্বল্পপরিচিত একটি ল’ ফার্মের নিবন্ধিত ‘ইন্টারন্যাশনাল আর্ট সেন্টার’ নামে একটি অফসোর কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে সেটি। কিন্তু ‘পানামা পেপার্স’ থেকে দেখা যাচ্ছে, পুরো বিষয়টি একটি সুনিপুণ ধাপ্পাবাজি। মূলত, পেইন্টিংটির আসল মালিকদের নাম অগোচরে রাখতেই অফসোর কোম্পানির এই আইনি জাল। ‘ইন্টারন্যাশনাল আর্ট সেন্টার’ আসলে নাহমাদ পরিবারেরই একটি গোপন কোম্পানি। শুধু এ ঘটনাই নয়। ল’ ফার্ম মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া সাড়ে ১১ মিলিয়ন নথি থেকে দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আর্ট ব্যবসা ও অফসোর কোম্পানির সংযোগ। এসব তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে স্বল্পনিয়ন্ত্রিত এ শিল্পের ভেতরের কাজকারবার। সব ধরনের সন্দেহজনক কারবার অবাধে চালাতে এ শিল্পে আশ্রয় নেয়া হয় গোপনীয়তার।
গোপন নথি থেকে জানা যায়, নাহমাদ পরিবারই ‘ইন্টারন্যাশনাল আর্ট সেন্টার’ (আইএসি) নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ২০ বছর ধরে। এ পরিবারের আর্ট ব্যবসার খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ অফসোর কোম্পানি। পরিবারের প্রধান ডেভিড নাহমাদ। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এ কোম্পানির একমাত্র মালিক। এসব নিয়ে নাহমাদ পরিবারের সঙ্গে মুখোমুখি হলে, তাদের আইনজীবী রিচার্ড গোলাব বলেন, ‘আইএসি কার মালিকানাধীন, সেটি এখানে বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, এখানে বিষয়টা কী এবং বাদীপক্ষ এটি প্রমাণ করতে পারবে কি না।’ গোলাবের মতে, যুক্তি, ওই নাতি কি প্রমাণ করতে পারবে তার দাদার কাছ থেকেই ওই চিত্রকর্ম চুরি করা হয়েছিল? কিন্তু আসল রহস্য হলো, আদালতে বছরের পর ধরে চলা লড়াইয়ে বিচারকরা এ বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাতই করেননি। কেন না, উভয় পক্ষই মূলত লড়াই করছিল পেইন্টিংটি কার মালিকানায় ছিল, তা নিয়ে। এখন পেইন্টিংয়ের মালিকের পরিচয় জানার পর বলা হচ্ছে, নাৎসি বাহিনী লুট করেছিলএ বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে! জানা যাচ্ছে, মোসাক ফনসেকা শুধু নাহমাদ পরিবারকে আইএসি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছে, তা নয়। বরং, বহু খদ্দেরের সঙ্গে বিশাল অঙ্কের লেনদেনেও সহায়তা করেছে। এসব লেনদেনের মধ্যে রয়েছে ভ্যান গগ, রেমব্রান্ডট, চ্যাগাল, ম্যাটিজে, বাসকুইয়াট ও ওয়ারহলের মতো বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্মও। তাদের একেকটি চিত্রকর্মের বর্তমান মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে সবার। শুধু নাহমাদ পরিবারই নয়। মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে অফসোর কোম্পানি নিবন্ধন করিয়েছে আর্ট দুনিয়ার আরও অনেক বড় রুইকাতলা। এর মধ্যে আছে স্পেনের থাইসেন বোর্নেমিসজা বংশ, চীনের বিনোদন ম্যাগনেট ওয়াং ঝোংজুন ও পিকাসোর নাতনি ম্যারিনা রুইয পিকাসো। ফনসেকার নথিপত্রে যতসব চিত্রকর্মের উল্লেখ আছে, তা দিয়ে একটি ছোটখাটো জাদুঘর ভর্তি করে ফেলা যাবে। মোদিগলিয়ানির চিত্রকর্ম নিয়ে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছাড়াও, আরও জানা গেছে এক গ্রিক শিপিং ম্যাগনেটের হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি মাস্টারপিস ও বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত মডার্ন আর্ট নিলাগুলোর একটির অজ্ঞাত তথ্য।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিত্রকর্মের দাম বেড়ে হয়েছে বহু গুণ। তাই অফসোর কোম্পানি, ফ্রন্ট ম্যান বা ভুয়া মালিক, ফ্রি ট্রেড জোনস, জাল নিলাম ও বিভিন্ন পদ্ধতির আশ্রয় নেয়া হয়। আইনগতভাবেই প্রচার এড়াতে গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়ার বিধান আছে। কিন্তু একে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় কুকর্ম প্রকাশ না করার কাজে। বিশেষ করে কর ফাঁকি, মালিকানা লুকানো, অবৈধ অর্থ পাচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে। যেহেতু চিত্রকর্মের দাম অনেক বেশি, পরিবহন করা যায় সহজে এবং নজরদারিও খুব কম, সেহেতু কর্তৃপক্ষের শঙ্কা এসব প্রায়ই ব্যবহার করা হয় অর্থ পাচারের কাজে।

২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৬৩৮০ কোটি ডলারের চিত্রশিল্প বেচাকেনা হয়েছে। ২০১৩ সালে চিত্রকর্মের পেছনে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ গচ্ছিত ছিল ৩২৬০ কোটি ডলার সমপরিমাণের। তাই সম্পদ গচ্ছিত রাখার দারুণ উপায় হওয়ার কারণে হু হু করে বাড়ছে চিত্রকর্মের দাম। চিত্রকর্মের দাম চুকানোর অর্ধেক ঘটনাই রাখা হয় গোপনক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে। বাকিগুলো প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়। এসব ক্ষেত্রে দাম সম্পর্কে কিছু স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু তবুও রহস্য যে জিইয়ে রাখা হয় না, তা নয়। কেনার পর ওই উচ্চমূল্যের চিত্রকর্ম নিয়ে যাওয়া হয় ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ বা ‘ফ্রি পোর্টে’। এখানে মালিককে কোনো কর পরিশোধ করতে হয় না। ফলে করফাঁকি বা অর্থ পাচারের শঙ্কা থেকে যায়। কেন না, আর্টের আসল মূল্য জানানো হয় না। ৪২ শতাংশ আর্ট কালেক্টরই এ উপায় অবলম্বন করে। এত বেশি চিত্রকর্মসহ দুনিয়ার সবচেয়ে পুরনো ফ্রি পোর্ট হলো জেনেভা। ধারণা করা হয়, জেনেভার সংরক্ষণ ফ্যাসিলিটিতে এত বেশি গুপ্ত চিত্রকর্ম আছে, তা দিয়ে দুনিয়ার যে কোনো জাদুঘরকে টেক্কা দেয়া সম্ভব।

সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন, ১৩ এপ্রিল ২০১৬

কিছু বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনের গোপন কথা !

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

বিচিত্র মানুষের জীবন। নানা চড়া্ই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে রচিত হয় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়। জীবনের ক্যানভাসে যেমন খচিত থাকে সফলতা তেমনি থাকে ব্যর্থতাও। থাকে কিছু আলোকময় ও অন্ধকার পৃষ্টা।

খুব স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ মানুষ জীবনের অন্ধকার অধ্যায়গুলো লুকিয়ে রাখে আড়ালে আবডালে। সহজে মুখ খোলেন না এসব বিষয় নিয়ে। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছেন যারা এসব কথা অকপটে স্বীকার করেন। নিজের জীবনের অন্ধকার বা নেতিবাচক বিষয়ে কথা বলেছেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, আমেরিকান মডেল অভিনেত্রী লক্ষ্মী, অভিনেতা নির্মাতা চার্লি চ্যাপলিন। তাদের জীবনের গোপন কিছু সরল উক্তি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

নাসিরুদ্দিন শাহ : সংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয় মানসিকতায় সোজাসাপটা কথা বলাটা কঠিন। মানুষের জীবনের যা নেতিবাচক তার প্রায় সবই থাকে গোপন। খুব কম মানুষই তার জীবনের নেতিবাচক দিক নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নাসিরুদ্দিন শাহ তার জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছেন। নিষিদ্ধপল্লী থেকে নেশা করাকোন কিছুই গোপন করেননি তার আত্মজীবনীতে।

অ্যান্ড দেন ওয়ান ডে : মেমোরি শিরোনামের তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজা, চরস খাওয়ার কথা। যৌনপাঠ নিতে চলে গিয়েছিলেন নিষিদ্ধ এলাকায়। এসব কথা খোলামেলা লিখেছেন নাসির।

জোর গলায় বলেছেন, ‘ওই বয়সে সেটাই স্বাভাবিক ছিল।’ বাদ দেননি মেয়ে হিবার অধ্যায়ও। মাত্র ২০ বছর বয়সে মানারা সিক্রিকে বিয়ে করেছিলেন নাসির। হঠকারিতা তো বটেই। কিন্তু ক্যারিয়ারথিয়েটারের নেশায় মত্ত নাসির মানারার সঙ্গে বেশিদিন ঘর করেননি। বাইরের টান তার প্রবল ‍ছিল। বলা যায়, ছোট্ট হিবাকে এক প্রকার পরিত্যাগ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় খোঁজ নেননি মানারা আর মেয়ের।

অন্যদিকে নাসিরের জীবনে ততদিনে রত্না পাঠক এসে গিয়েছেন। এখন অবশ্য হিবার সঙ্গে নাসিরের যোগাযোগ পূর্ণমাত্রায়। আত্মজীবনীর প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে নাসির বলেছিলেন, ‘হিবার দায়িত্ব না নিয়ে তখন হয়তো ভুল করেছিলাম। কিন্তু আমারই বা কী বয়স ছিল!’ অভিনেতা জানিয়েছেন, এরপর আরেকটি বইও তার লেখার ইচ্ছে রয়েছে। যেখানে তিনি বলিউডের অন্দরকথা খোলসা করবেন।

পদ্মলক্ষ্মী : মডেল অভিনেত্রী হিসেবে তাকে মানুষ যতটা না চিনে তার চেয়ে বেশি চিনে সালমান রুশদির স্ত্রী হিসেবে। পদ্মলক্ষ্মীর বায়োগ্রাফি ‘লাভ, লস অ্যান্ড হোয়াট উই এট’ তার প্রমাণ। মডেলিং দুনিয়ায় যতই চাকচিক্য প্রত্যক্ষ করুন, তার ছোটবেলাটা কেটেছে অন্ধকারেই। জন্মসূত্রে পদ্মলক্ষ্মী ভারতীয়। তামিল ব্রাক্ষ্মণ। ছোটবেলায় বাবামায়ের বিচ্ছেদ হয়। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি চিনতেনই না নিজের বাবাকে। নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে সৎবাবার বন্ধু দিনের পর দিন তাকে যৌন নিগ্রহ করেছে। এত কিছুর পরেও নিজের মতো করে ক্যারিয়ার গড়েন তিনি।

২৩ বছর বয়সে তিনি সালমান রুশদিকে বিয়ে করেছিলেন। রুশদির ঘরনি হওয়াটাই এক সময়ে পদ্মলক্ষ্মীর আসল পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো এ পরিচয় তিনি মেনেও নিতেন যদি রুশদির ভালোবাসা পেতেন।

তাদের বিচ্ছেদের পর রুশদি বলেছিলেন, ‘পদ্মলক্ষ্মী তার কাছে ‘ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট’।’ যদিও এটা ছিল রুশদির চতুর্থ বিয়ে। পদ্মলক্ষ্মী লিখেছেন, প্রবাদপ্রতিম লেখক তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সহবাস করতেন। পদ্মলক্ষ্মী ছোট থেকেই এন্ডোমেট্রিওসিস’র সমস্যায় ভুগতেন। মেনস্ট্রুয়েশনের সময় পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হত। তখনও রুশদি তার সঙ্গে সহবাস করতে চাইতেন। যার ফলে পদ্মলক্ষ্মীকে একবার হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল।

পদ্মলক্ষ্মীর বয়ানে, তার অসুস্থতা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা ছিল না রুশদির। তিনি নিজের চাহিদা মেটাতে পারলেই খুশি হতেন। তিন বছরের মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে ছেদ পড়ে। রুশদির পরের অধ্যায়ে পদ্মলক্ষ্মীর জীবনে একাধিক পুরুষ এসেছে। এ তালিকায় রিচার্ড গেয়ারেরও নাম শোনা যায়। আপাতত তিনি ব্যবসায়ী অ্যাডাম ডেলের সঙ্গে ঘর করছেন। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। এ বছর পদ্মলক্ষ্মীর আত্মজীবনী প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠে। কিন্তু খুব ভালোভাবেই তা সামলেও নেন তিনি।

চার্লি চ্যাপলিন : চ্যাপলিনের মা হ্যানা গাইতেন ভদেভিলে। বাবার ছিলেন মদে তীব্র আসক্তি। চ্যাপলিনের জন্মের এক বছরের মধ্যে তাদের বিচ্ছেদ হয়। আত্মজীবনীতে চ্যাপলিন বলেছেন, ‘মদ খেলে বাবার মেজাজ সপ্তমে চড়ে থাকত। যার কারণেই মা ওর সঙ্গে থাকতে পারেননি।’

হ্যানার আগের পক্ষের ছেলে সিডনি। চ্যাপলিনের বড় ভাই। দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো খোরপোশ ছাড়া কীভাবে দিনআনিদিনখাই কাটিয়েছেনসেই গল্পই রয়েছে ‘চার্লস চ্যাপলিন: মাই অটোবায়োগ্রাফি’র পাতায়। অভাবের কারণে মা’কে যৌনবৃত্তি করতে হয়েছে, সে কথাও বলেছেন চ্যাপলিন তার আত্মজীবনীতে।

অনেকে বলেন, সেই অভাবের মধ্যে পরিবার আগলানোর জন্য মা’কে এতকিছু সইতে দেখার একটা প্রভাব পড়েছিল চ্যাপলিনের চলচ্চিত্রে। যে কারণে তার চলচ্চিত্রে প্রান্তিক লোকের আনাগোনা বেশি (তরুণী দেহজীবী কিংবা ভবঘুরে)। একে অনেকে সহজ অনুমান বলতেই পারেন। কিন্তু তার কমেডিতে ‘সাবঅল্টার্ন’এর ভূমিকা অস্বীকার করবেন না কেউই। এটা হয়তো সমাজের একেবারে নিচুতলায় যৎসামান্য রোজগারে যাপন করার অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে।

চ্যাপলিনের মা শেষে উন্মাদ হয়ে যান। তারপর বাবার কাছে চলে যেতে হয় দুই ভাইকে। সেখানেই বড় হয়ে ওঠার এক অন্য গল্প রচনা হতে থাকে। টাকার ‘মূল্য’ কী এবং কেনসেটা জীবন দিয়ে বুঝেছিলেন চ্যাপলিন। তার নাকি বলার অভ্যেস ছিল– ‘ইউ নো, আই অ্যাম এ ভেরি ওয়েল্দি ম্যান!’ অর্থবিত্তপ্রভাব হয়তো এক সময় হয়েছিল চ্যাপলিনের কিন্তু যে সম্পদের কথা তিনি বলেছেন, তা জীবনের কানাকড়ি ছাড়া আর কীই বা হতে পারে!

সূত্রঃ : রাইজিংবিডি ডট কম, এপ্রিল ৩০, ২০১৬

খলিল জিবরানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

khalil zibran

তুর্কী পার্লামেন্টে বাকযুদ্ধ হস্তযুদ্ধে পর্যবসিত !

এপ্রিল 30, 2016 মন্তব্য দিন

scuffle in turkish parliament