Archive

Archive for ফেব্রুয়ারি, 2015

গোলাম আযমের ভাষা আন্দোলন ও তার কিছু অজানা তথ্য

ফেব্রুয়ারি 21, 2015 মন্তব্য দিন

golam-azam-05জামায়াতে ইসলামী ঠিক কোন ঘরানার ইসলামী দল সেটা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি তীব্র সন্দেহ পোষণ করি। কারণটা এদের তীব্র মিথ্যাচার। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তথ্য ঘাঁটাঘাটি করতে গিয়ে এই মিথ্যাচারের কদর্য রূপটা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগীর ভূমিকায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের চেয়েও নৃশংসতা দেখানো দলটি স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার পর থেকেই তারা মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করতেই নানা রকম মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে। তার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মিথ্যাচার চরিত্রহানি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মিথ্যে গল্প ফেঁদে ইতিহাস বিকৃতি। এর সবটাই তারা করেছে গোটা আবহটাকে বিতর্কিত করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে জাস্টিফাই করতে। এবং এর মধ্যে নাটের গুরু ঘাতক দালাল শিরোমনি গোলাম আযমের মিথ্যাচার আলাদা আলোচনার দাবি রাখে।

যেই মুহূর্ত থেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি নতুন করে ব্যাপ্তি পেলো, গোলাম আযমকে একজন ভাষাসৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য উঠে পড়ে লাগলো তার অনুসারীরা। বাজারে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসনামে একটা সিডি তারা ছেড়েছে। এবং তাতে বদরুদ্দিন উমরসহ বেশ কজন বিশিষ্ট মানুষের নাম রয়েছে যারা গোলামকে ভাষা আন্দোলনের মহান সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গে উমর তার এক কলামে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ক্যাসেটটিতে ভাষা আন্দোলনের ওপর কিছু কথাবার্তা থাকলেও বিশেষভাবে লক্ষণীয় হল জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযমের দুদফা সাক্ষাৎকার, যাতে তিনি নিজেকে ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেছেন। এই প্রচেষ্টা যে কত অসৎ হীন এর একটা প্রমাণ হচ্ছে, ক্যাসেট তৈরির সময় তথ্য সহায়তা যারা করেছেন তাদের মধ্যে আমার নাম উল্লেখ। কাজ করার উদ্দেশ্য যে এই প্রতারণাপূর্ণ ব্যাপারটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি সর্বৈব মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। এক বন্ধু ক্যাসেটটি দেখার জন্য আমাকে দেয়ার আগে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের ভূমিকা সম্পর্কে প্রচার কাজে আমি তথ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সহায়তা করেছি এটা প্রচার করা থেকে বড় ধৃষ্টতা আর কি হতে পারে? কতখানি নৈতিক অধ:পতন ঘটলে কাজ কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব, সেটা বলাই বাহুল্য।

আমি আমার ভাষা আন্দোলনের বইটির প্রথম খণ্ডে একবারই মাত্র গোলাম আযমের উল্লেখ করেছি। ১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। ২৭ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাকে একটি মানপত্র দিয়ে তাতে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। মানপত্রটি পাঠ করেন ইউনিয়নের তৎকালীন সেক্রেটারি গোলাম আযম। আসলে এটি পাঠ করার কথা ছিল ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরবিন্দ বোসের। কিন্তু লিয়াকত আলীকে ভাষা আন্দোলনের দাবি সংবলিত মানপত্র পাঠ একজন হিন্দু ছাত্রকে দিয়ে করালে তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে এবং মুসলিম লীগ সরকার নিয়ে নানা প্রকার বিরূপ প্রচার শুরু করবে আশংকা থেকেই একজন মুসলমান ছাত্র হিসেবে সেক্রেটারি গোলাম আযমকে সেটা পাঠ করতে দেয়া হয়েছিল। এই হল ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের বিরাটভূমিকা।

বিষয়ে গোলাম তার আত্মজীবনীতে যা লিখেছেন তাতেও বদরুদ্দিন উমরের কথার সত্যতা মেলে। গোলাম স্বীকার করেছেন, এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নিতান্তই আকস্মিক। তার ভাষায়, ৪৯৪৯ সালে ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় সেশনেও জিএসএর দায়িত্ব আমার উপরই রইল। কিন্তু হলে না থাকায় আমার জন্য দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়লো। তাই ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে নির্বাচিত সদস্যদের একজনের উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ৪৮ এর ২৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নিকট পেশ করার জন্য একটি মেমোরেন্ডাম (স্মারকলিপি) রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি আবদুর রহমান চৌধুরীর উপর (যিনি বিচারপতি হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন) একটি কমিটি স্মারকলিপিটি চূড়ান্ত করে।

ইউনিভার্সিটি ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস চ্যান্সেলর . সৈয়দ মুয়াযযাম হোসেন তখন বিদেশে থাকায় ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর জনাব সুলতানুদ্দীন আহমদকে সভাপতিত্ব করতে হয়। শেরে বাংলা কে ফজলুল হকের পর তিনি গভর্নর হয়েছিলেন। ছাত্র মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সামনে মেমোরান্ডামটি কে পাঠ করে শুনাবে নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলো। ছাত্র ইউনিয়নের ভিপির উপরই দায়িত্ব দেওয়া স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু স্মারকলিপিতে পূর্ব পাকিস্তানের অনেক দাবিদাওয়ার তালিকায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ থাকায় সবাই একমত হলো যে, পরিস্থিতিতে একজন হিন্দুর হাতে প্রধানমন্ত্রীকে তা পেশ করা মোটেই সমীচীন নয়। কারণ মুসলিম লীগ সরকার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পেছনে হিন্দুদের হাত আবিষ্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হিসেবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে ছাত্রইউনিয়নের জিএস গোলাম আযমকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।(জীবনে যা দেখেছি, ১ম খন্ড পৃ:৯৬)

মজার ব্যাপার হচ্ছে একই বইয়ের ১৪১ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছে, ৪৮এর ২৭ নভেম্বর প্রথম কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানকে ঢাকার ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম গ্রাউন্ডে এক ঐতিহাসিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্রভাষার দাবির সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানের সামগ্রিক দাবি বলিষ্ঠ ভাষায় জোরালোভাবে শামিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যদি একমাত্র উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বলে ঘোষণা দিতেন তাহলে মঞ্চেই এর প্রতিবাদ করার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু ঝানু রাজনীতিক ভাষার বিষয়ে কিছুই না বলায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে নতুন গতিবেগ সৃষ্টি হয়নি।

প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের মার্চ রংপুর কারমাইকেল কলেজের প্রভাষক থাকা অবস্থায় তাকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় গোলাম। এর স্বপক্ষে ভিন্ন কোনো সূত্রে কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে বাংলা এবং উর্দুর মধ্যে তার পক্ষপাতটুকু আমরা তার আত্মজীবনীতে অনেকবারই পেয়েছি।

এই সিচুয়েশনাল হিরোশিপের ফায়দা এখন গোলাম আবার তুলতে চাইছেন অবস্থার ফেরে পড়ে। অথচ তার উর্দুপ্রীতির কথা তিনি লুকোননি তার আত্মজীবনিতে। বরং ১৯৫০ সালে তার উর্দু শেখার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘…আমাদের আমীর উর্দুভাষী হওয়ায় উর্দু শোনা বুঝার সুযোগ পেয়ে ভালোই লাগলো। উর্দু ভাষার এক প্রকার মিষ্টতা আছে, যার কারণে শুনতে শ্রুতিমধুর মনে হয়।আমাদের আমীর উর্দুভাষী হলেও কোলকাতার অধিবাসী হওয়ায় বাংলা মোটামুটি বুঝেন কিছু কিছু বলতেও পারেন বলে আমাদের জন্য শিখতে সহজ হলো। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনের সময় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকায় উর্দু শিখবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে ক্ষোভ আর রইল না। উর্দু শেখা শুরু হয়ে গেলো।‘’ (জীবনে যা দেখেছি, ১ম খন্ড, পৃ: ১১২)

১৯৪৮ সালের ওই ঘটনায় গোলামের মুসলমান পরিচয়টিকেই ব্যবহার কার হয়েছে মাত্র। এবং এই পরিচয়ে আজীবনই গোলাম উর্দুকেই শ্রেষ্ঠ মেনে গেছেন। তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যাক তার আত্মজীবনীর ৩য় খন্ডের ১০৫ পৃষ্ঠায় বলা কিছু কথা, ‘১৯৭১ সাল থেকে সৌদী আরব, কুয়েত, দুবাই, বাহরাইন, কাতার, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, সিঙ্গাপুর, জাপান ইত্যাদি দেশে অনেকবার আমার সফর করার সুযোগ হয়েছে। হিমালয়ান উপমহাদেশে যারা ইসলামের কর্মসূচী নিয়ে চর্চা করেন, তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমই হলো উর্দু। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, আফগানিস্তান মায়ানমারসহ গোটা উপমহাদেশের মুসলমানদের কমন ভাষা একমাত্র উর্দুই। উচ্চশিক্ষিতদের জন্য ইংরেজি কমন ভাষা হলেও সকলের জন্য উর্দুর কোনো বিকল্প নেই। মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন কারণে ভাষায়ই সবচেয়ে সহজে ভাবের আদানপ্রদান সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ভারতের মুসলমানদের বিরাট জনশক্তি ঐসব দেশে রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা ইসলামী কর্মকান্ডে জড়িত, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। উপমহাদেশের কোন দেশ থেকে কোন ইসলামী ব্যক্তিত্ব আসলে তারা যৌথ সমাবেশের আয়োজন করে থাকেন। তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ মতবিনিময়ের মাধ্যম প্রধানত উর্দু ভাষা। তাই বাংলাদেশীরাও উর্দু মোটামুটি বুঝে এবং কিছু কিছু বলতেও পারে।

১৯৭০ সালেই সে ভাষা আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আফসোস জানিয়ে বক্তৃতা দিয়েছে যার উল্লেখ মিলে ১৯ জুন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায়। সেখানে লেখা হয়, “পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে ১৮ই জুন (১৯৭০) এক সংবর্ধনা সভায় জামায়াত নেতা গোলাম আযম বলেন, উর্দু পাক ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা।’’

তিনি বলেন, ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনিও তাতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তা ভুল হয়েছিল।” (সূত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস . মোহাম্মদ হাননান পৃষ্ঠা ৩৯৯)

একই তথ্য সমর্থিত হয়েছে বদরুদ্দিন উমরের কলামেও, ‘মহামান্য গোলাম আযম সাহেব ভাষা আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ নায়কোচিত ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও তাতে নিজের এই অংশগ্রহণকে সুবিধাবাদী কারণে অস্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। আজ নয়, পাকিস্তানি আমলে ১৯৭০ সালের জুন মাসে, পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক বক্তৃতা প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতাখোদার সেরা দানবাংলা ভাষা ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল এবং তিনি নিজে এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য দু:খিত। গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে বলেন, উর্দু হচ্ছে এমন একটা ভাষা যার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার উপযুক্ত প্রচার প্রসার সম্ভব। কারণউর্দু পাকভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা এবং এতে তাদের সাংস্কৃতিক ধর্মীয় সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে।নিজের ভ্রান্ত ভূমিকা সম্পর্কে খেদোক্তি করতে গিয়ে গোলাম আযম আরও বলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই সঠিক কাজ হয়নি। (দৈনিক আজাদ, ২০ জুন, ১৯৭০) শুক্কুরে দেয়া গোলাম আযমের এই বক্তৃতা পত্রিকায় প্রকাশের পর আমি আমার সম্পাদিত সাপ্তাহিকগণশক্তিপত্রিকায় এর ওপর লিখেছিলাম। (২১..১৯৭০) গোলাম আযম এসব কথা বলছিলেন এমন এক সময়ে যার অনেক আগে ভাষা আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল।

দেখা যাচ্ছে, জামায়াত নেতা গোলাম আযম সাহেবের কথাবার্তার ভেল্কিবাজি নৈতিক অধ:পতনের তুলনা নেই। ভাষা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের কাহিনী, তারপর ১৯৭০ সালে তাতে অংশগ্রহণে দু: প্রকাশ ভাষা আন্দোলনকে বেঠিক কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা, ১৯৯২ সালে নিজেকেভাষাসৈনিকহিসেবে প্রচার করা এবং এখন আবার বাংলা ভাষাকেখোদার সেরা দানহিসেবে গৌরবান্বিত করার জন্য মিথ্যায় পরিপূর্ণ ক্যাসেট বের করা সবই হল জামায়াতে ইসলামীর জাদুর খেলা। এর সঙ্গে যে প্রকৃত ইসলামী নৈতিকতার কোন সম্পর্ক নেই একথা বলাই বাহুল্য।

সবশেষে আসা যাক গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার জামায়াতে ইসলামীর এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গী কেমন ছিলো সে বিষয়ে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ভাষা দিবসের স্মারক শহীদ মিনারটি গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সেটিকে স্বাগত জানায় গোলাম আযম তার দল। এবং এর পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন যে, শহীদ দিবসের নামে হিন্দুয়ানি প্রথার চর্চা চলছিলো নাকি এখানে। প্রমাণ হিসেবে বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে ১২ মে ১৬ জুলাইয়ে প্রকাশিত দুটো সংবাদ তুলে দেওয়া হলো:

১২ মের সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশের ইতি হোক শিরোনামে লেখা হয় : হিন্দুস্তানী সংস্কৃতি মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি ক্ষেত্রের প্রচণ্ড ক্ষতিসাধন করেছে। যার ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় শ্লোগানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আল্লাহু আকবর পাকিস্তান জিন্দাবাদ বাক্যগুলি বাদ পড়ে এগুলোর জায়গা নিয়েছিলো জয় বাংলা। মুসলমানী ভাবধারার জাতীয় সঙ্গীতের স্থান দখল করেছিলো মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু কবির রচিত গান।

শহীদ দিবসের ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগী মুসলমান ছাত্রদের জন্য দোয়া কালাম পড়ে মাগফেরাত কামনার পরিবর্তে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনার্থে হিন্দুয়ানী কায়দা, নগ্নপদে চলা, প্রভাতফেরী, শহীদ মিনারের পাদদেশে আল্পনা আঁকা চন্ডীদেবীর মূর্তি স্থাপন যুবকযুবতীদের মিলে নাচগান করা মূলত ঐসকল পত্রপত্রিকা সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলির বদৌলতেই এখানে করা সম্ভব হয়েছে।

১৬ জুলাই `ইতিহাস কথা বলে` সম্পাদকীয়তে তারা লেখে : আইউব খানের গভর্নর আজম খান ছাত্রদের খুশী করার জন্য যে শহীদ মিনার তৈরি করলেন তাকে পুজা মন্ডপ বলা যেতে পারে কিন্তু মিনার কিছুতেই না। যাহোক সেনাবাহিনী সেই কুখ্যাত মিনারটি ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ গড়ে শহীদদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন জেনে দেশবাসী খুশী হয়েছে।

আশা করি এরপর পাঠকদের গোলাম আযম তার অনুসারীদের বাংলা ভাষা এবং এর জন্য আন্দোলনে ভূমিকা সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।

http://www.boipotrobd.com/newsdetail/detail/307#sthash.RnxwByaI.dpuf 11 April, 2013

golam_azam_21

Golam+Azam+1952

lang_movement_wrong

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত দুটি অগ্রহণযোগ্য (জাল ?) হাদীস

ফেব্রুয়ারি 20, 2015 মন্তব্য দিন

hadis-e-rasol_cover

hadis-e-rasol_inside_cover

hadis-e-rasool-p26

hadis-e-rasool-p27

কবিতাঃ নারী – কাজী নজরুল ইসলাম

ফেব্রুয়ারি 20, 2015 মন্তব্য দিন

nari

 

আল্লাহ’র ওলীদের পরিচয় কি ?

ফেব্রুয়ারি 12, 2015 মন্তব্য দিন

আল্লাহর ওলীদের বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পাওয়া যায় কুরআনের সুরা ইউনুসের ৬২ থেকে ৬৫ আয়াতে মধ্যে – “জেনে রেখো নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওলীদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (আউলিয়া কেরাম তারা) যারা (সঠিক) ঈমান স্থাপন করেছে এবং তাকওয়া বা পরহেজগারী অবলম্বন করেছে দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবনে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসাফল্য।

ইসলামের নানা বিষয়ের মতো ওলীদের সংজ্ঞার ব্যাপারেও উলামাদের মধ্যে আছে মতবিরোধ । সালাফী শ্রেণীর উলামাদের মতে, আমরা সবাই আল্লাহর ওলী কারো মর্যাদার স্তর অন্যের চেয়ে কম অথবা বেশী । আবার ট্র্যাডিশনাল উলামাদের মতে, এক বিশেষ শ্রেণীর বান্দারাই কেবল আল্লাহর ওলী হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন । তারা ওলী হয়ে জন্মগ্রহণ করেন না তবে সাধনার মাধ্যমে ঐ স্তরে উপনীত হন ।

সালাফী উলামাদের চাইতে আমার কাছে ট্র্যাডিশনাল উলামাদের বক্তব্য অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে হয় । প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা সবাই আল্লাহর ওলী হলে আল্লাহ কুরআনে তো আমাদের প্রায়শঃ ওলী বলে সম্বোধন করতে পারতেন । কিন্তু তা তো তিনি করেননি । দ্বিতীয়তঃ সুরা ইউনুসের উপরোক্ত আয়াতগুলো বিশেষ একটি শ্রেণীর লোকদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে বলে মনে হয় । তৃতীয়তঃ তাকওয়ার নিম্ন স্তরের বান্দাদের মধ্যে কিন্তু জাগতিক বা পার্থিব ব্যাপারে ভয় পাবার বা পেরেশান হওয়ার প্রবণতা দেখা যায় । তাহলে তারা কিভাবে আল্লাহর ওলী যোগ্যতা রাখে কুরআনের উপরোক্ত আয়াত অনুযায়ী ?

যে বিষয়ে উভয় শ্রেণীর উলামাদের মধ্যে ঐকমত্য দেখা যায় তা হচ্ছে নিম্নরূপঃ

১। বর্তমান যুগে লোকেরা যে যেভাবে চায় সেভাবে নিজের ইচ্ছামত ওলীদের পরিচয় নির্ধারণ করে থাকে। অনেকে শুধুমাত্র কারামত প্রদর্শনকারী ব্যক্তিকে ওলী বলে আখ্যায়িত করে থাকে। কিন্তু এ ধারণা একেবারেই ভুল, কেননা অলৌকিকতা চার প্রকার রয়েছে। মোজেজা, এহরাছ, কারামত, ইসতেদরাজ। মোজেজা ঐ আশ্চর্য মহান কাজকেই বলা হয়ে থাকে যা সম্মানিত নবীগণের সত্যতার দাবি প্রমাণের নিমিত্তে প্রদর্শন করা হয়। যেমনহযরত মুসা (.)-এর লাঠি মোবারক, ঈসা (.)-এর ফুক। এহরাছ ঐ আশ্চর্য ঘটনাকে বলা হয়ে থাকে যা, নবীর নবুওয়াতের দাবির পূর্বে তার থেকে প্রকাশ পায়। যেমনহযরত হালিমা (রা.)-এর ঘরে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লামের বারাকাত কারামত ঐ আশ্চর্য ঘটনাসমূহকে বলা হয়, যেগুলো নবীর উম্মতের ওলী হতে প্রকাশ পায়। যেমনহযরত গাউছে পাক (রা.), সুলতানুল হিন্দ খাজা আজমিরী (রা.), হযরত খাজা নকশেবন্দ (রা.)-এর কারামতসমূহ। ইসতেদরাজ ওইসব আশ্চর্য ঘটনাসমূহকে বলা হয়, যেগুলো কাফির হতে প্রকাশ পায়। শয়তান ও অনেক অবাক কান্ড ঘটিয়ে দেখায়, আর দাজ্জাল তো অনেক আশ্চর্য কাজ করে দেখাবে। মৃত্যুকে জীবিত করবে, বৃষ্টি বর্ষণ করবে, অবাক কান্ড প্রদর্শনের উপরই বেলায়েতের ভিত্তি হয়। তবে শয়তান এবং দজ্জালকেও ওলী বলতে হবে? সুফিগণ বলেন, যদি বাতাসে উজ বেলায়েতের প্রমাণ হতো, তবে শয়তানকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ওলী বলতে হবে।

২। আবার অনেকেরই ধারণা, ওলী ঐ ব্যক্তি যে দুনিয়া ত্যাগী, যে ঘরসংসার করে না। মানুষের ভ্রান্ত ধারণা যে, ধনসম্পদ অর্জন করে সে আবার কিভাবে ওলী হতে পারে? এ ধারণাও নিতান্তই অমূলক। দেখুন হযরত সুলেমান (.), হযরত উসমান গণী (রা.), হযরত গাউসুল আযম আব্দুল কাদির (রা.), হযরত ঈমামে আবু হানিফা (রা.), মাওলানা রুমি (রা.) প্রত্যেকেই বিত্তশালী ছিলেন। তারা কি ওলী ছিলেন না? তারা শুধু ওলীই ছিলেন না বরং তারা ওলী তৈরি করতেন। অনেক হিন্দু সন্ন্যাসী, কাফিরও দুনিয়াত্যাগী তাই বলে কি তারা ওলী? কখনো না। আবার কেউ কেউ মনে করে ওলী সেই যে মূর্খ। বর্তমান লোকেরা পাগল এবং দেওয়ানাকে ওলী মনে করে থাকে। এটিও ভ্রান্ত ধারণা।

(দ্রষ্টব্যঃ অধ্যক্ষ শেখ মোহা. আব্দুল করিম কৃত প্রবন্ধ ওলী আওলিয়াদের মর্যাদা”, দৈনিক ইনকিলাব, ৩০ জুলাই, ২০১৩)

এবার আমি তাফসীর মারিফুল কোরআনে ওলী সম্পর্কিত আলোচনা (পৃষ্ঠা ৬১১৬১২) থেকে উদ্ধৃতি পেশ করবোঃ

wali-p611

wali-p612Lt

wali-p612Lb

wali-p612Rt

wali-p612Rb

পরিশেষে আবার অধ্যক্ষ শেখ মোহা. আব্দুল করিম (সিরাজনগর ফাজিল মাদরাসা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য : বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) কৃত প্রবন্ধ ওলী আওলিয়াদের মর্যাদা” থেকে আবারো আরেকটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করে এই লেখার ইতি টানবোঃ

কামিল ওলী তিনি, যার মাথার উপর শরীয়ত, বগলে তরিকত, চলার পথে শরীয়তসম্মত দুনিয়াদারী বিষয়াদী এসব ঠিকঠাক রেখে সে আল্লাহর রাস্তা অতিক্রম করতে থাকে। মসজিদে নামাজি, ময়দানে গাজী, কোর্টকাচারিতে কাজী, একই সাথে তিনি আবার শরীয়ত সম্মত পুরু দুনিয়াদার। বস্তুত একজন কামিল ওলী মসজিদে এলে মুকাররাবিন ফেরেস্তার পূর্ণ নমুনা, আবার বাজার বা কর্মস্থলে এলে দায়িত্ববান ফেরেস্তার মতোই কার্য সমাধা করেন। আবার অনেকেই অহেতুক বেলায়েতের দাবি করেন কিন্তু তারা নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না অথচ কামলিয়াত জাহের করার জন্য বলে বেড়ায় আমি বায়তুল্লাহ শরীফে নামাজ পড়ি। আশ্চর্য! তারা নামাজ তো পড়ে বায়তুল্লাহ শরীফে অথচ রুটি নজরানা গুহনের সময় মুরিদের ঘরে। এরা সম্পূর্ণ শয়তান। যখন পর্যন্ত বিবেক এবং হুঁশ কায়েম থাকবে ততক্ষণ শরীয়তের হুকুমআহকাম মাফ নেই। এদের সম্পর্কেই বলা হয়

কারে শয়তান মিকুনদ নামাশ ওলী

ঘর ওলী ইছত লা’নত বর ওলী।’

অর্থাৎ শয়তানের যত কাজ অথচ নাম হচ্ছে ওলী। জাতীয় ওলীর উপর অভিসম্পাৎ। আল্লাহপাক আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করে সত্যিকার আল্লাহর ওলীর পরিচয় লাভ করার তাওফিক দান করুন, তাদের ফয়েজ বরকত হাছিল করার তাওফিক দান করুন।

নারী আন্দোলন বনাম ইসলামী দাবি

ফেব্রুয়ারি 10, 2015 মন্তব্য দিন

ডাঃ আয়েশা ছিদ্দিকা : মহান আল্লাহ রাববুল আলামিনের কাছে জানাই সকল প্রশংসা। আলহামদুলিল্লাহ। যিনি সমস্ত বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন অগণিত ফেরেস্তা। সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য মাবোনকন্যা। এসব আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।

বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নারী মুক্তি আন্দোলনের দাবি বয়ে চলেছে। কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংগঠন এ আন্দোলনকে প্রধান সারিতে রাখছেন।

এখন কথা হচ্ছে নারী আন্দোলন কি? নারী আন্দোলন হলো নারীদের সমস্যা, অধিকার আদায়ের কথা, সুযোগসুবিধা আদায়ের কথা রাষ্ট্রের কাছে, সরকারের কাছে দাবির মাধ্যমে তুলে ধরা। যারা বর্তমানে এই নারী আন্দোলনের সাথে জড়িত তারা হলেন কিছু নারী ও পাশাপাশি পুরুষগণও সহায়ক ভূমিকা রাখছেন। এখন আমার প্রশ্ন নারী আন্দোলন যারা করেছেন, তারা আসলে কি বোঝাতে চান? বছর বছর পরিসংখ্যান বের করা, কতজন নারী লাঞ্ছিত হচ্ছে, কতজন নারীর হত্যা, ধর্ষণ, এর ঘটনা পত্রিকার পাতায় উঠছে, এসবের হিসাব দেয়া?

তাই যদি না হয় আমরা নারী মুক্তি আন্দোলনের নামে বিশ্বনারী দিবসেও পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই নারী হত্যা, নারী ধর্ষণ, যৌতুকের দায়ে আত্মহত্যা, ভাইয়ের হাতে বোন খুন হয়ে যাওয়ার মতো অসংখ্য ঘটনা। আমরা দেখা সময়ের অভিজ্ঞতা, নারী দিবস যত সোচ্চার হচ্ছে নারী লাঞ্ছিতের ঘটনা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে, সামান্যতম প্রতিকার হচ্ছে না। পত্রিকার সুশীল সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন, আমরা দিনদিনই চেতনা হারিয়ে ফেলছি কিনা? প্রকৃতপক্ষে বিশ্বনারী দিবস পালনের মাঝেই কি এর প্রতিকার? হলে, প্রতিকার হচ্ছে না কেন? এর ভিন্ন কোন উপায় আছে কিনা তা ভেবে দেখার এখনই সময়।

আমার মনে হয় যারা এই আন্দোলন ও মুক্তির চেষ্টা করছেন তাদের আরো কিছু চিন্তা করা, প্রকৃত মুক্তি আসলে কোথায়?

প্রথমেই আসি মুসলিম দেশের নাগরিক হিসেবে, মুসলমান হিসেবে চিন্তা করব, মুসলমান মানে মুসলিমের সন্তান নয়। যেমন একজন ডাক্তারের সন্তান হলেই ডাক্তার বলা যায় না। একজন ইঞ্জিনিয়ারের সন্তান হলেই ইঞ্জিনিয়ার বলা যায় না। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন সত্যিকার মুসলমান হতে কি প্রয়োজনীয়?

পূর্ণ মুসলমান হওয়ার জন্য প্রয়োজন চেতনা, যে কালিমা পাঠ করে মুসলমান হয়েছি, কি পড়েছি কালিমাতে এটা জেনেবুঝে স্বেচ্ছায় ও আনন্দে ইসলামে প্রবেশ করেছি কিনা। পূর্ণ মুসলমান হওয়ার অর্থ মানুষকে পূর্ণ সচেতনতার সাথে এই সিদ্ধান্ত নেয়া, বিশ্বজাহানের কর্তৃত্বও প্রতিপালনের যতগুলো দাবিদার আছে তাদের মধ্যে শুধু একমাত্র আল্লাহ্র বন্দেগী করতে হবে। পৃথিবীর সমস্ত কিছুই আল্লাহ্র দাবি মেনে সর্বদা হুকুম পালন করছে। ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক। একমাত্র মানুষকেই তার মনুষত্বের দাবি পূরণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, স্বাধীনতার মাঝে শর্তও জুড়ে দিয়েছেন ‘‘যিনি প্রভুর হুকুম পূর্ণরূপে মানবে সে আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা। আর যে এ হুকুম মানবেনা সে পশুর চাইতে নিকৃষ্ট কীটে পরিণত হবে।’’

‘‘এখানে হুকুম পালনকারী থাকবেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে। আর হুকুম অমান্যকারী থাকবেন জাহান্নামের নিম্নস্তরে’’। এ দাবি পূরণের সহায়তা প্রভু নিজেই করেছেন, প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষকও দিয়েছেন মহানবী (সাঃ)কে। পথ বাছাই এর জন্য, জীবন পদ্ধতি জানানোর জন্য দিয়েছেন আল কুরআন। পৃথিবীর সমস্ত বিধান এ কুরঅনে অত্যন্ত শৃক্মখলভাবে রয়েছে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আমি যে হিদায়াত এনেছি (প্রশিক্ষণের জন্য) যতক্ষণ না তোমাদের ইচ্ছা ও বাসনা তার অধীন হয়, ততক্ষণ তোমাদের একজনও মুসলমান হতে পারবে না।”

অতএব, রাসূল (সাঃ) এর বাণীর অর্থ হলো নিজের মনগড়া নীতি বাদ দিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না সে রাসূলের নীতি, হেদায়াকেত (প্রশিক্ষিত হওয়ার জন্য) প্রবেশ করবে ততক্ষণ সে মুসলমান নয়। তাই মুসলিম নারী হিসাবে এ দাবি প্রত্যক্ষ নারীর (মা, বোন, কন্যা) উপরও বর্তাবে। আমরা বিশ্বজগতের দিকে তাকালে দেখব কোথাও কোন অসঙ্গতি (বিশৃক্মখলা) নেই, প্রভুর সৃষ্টির মাঝে। সবই এক সুষ্ঠু নিয়মবিধিতে, একজনের নিয়ন্ত্রণে চলছে। যেমন : ঘরথেকে রাজ্য, মা থেকে শাসক (রাজা)। সবাই একই নিয়মে খায়, ঘুমায়, কাজ করে। জন্মও হয়েছে একই নিয়মে। নারীর গর্ভে জন্মেছে পৃথিবীর সমস্ত নবীরাসূল, পীর আউলিয়া, শিক্ষক, মন্ত্রী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজা ও সকল প্রজা। তাই একজন নারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ স্থানে।

নারীর এ মর্যাদা দিয়েছেন বিশ্বজগতের মালিক, প্রভু মহান আল্লাহ্তাআলা। আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল হে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) আমার সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার কে? হুজুর (সাঃ) বলছেন, তোমার মা, তারপর লোকটি বলল তারপর কে? হুজুর বললেন তোমার মা। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল তারপর কে? হুজুর বললেন তোমার মা। লোকটি পুনরায় বললো তারপর কে? হুজুর বললেন, তোমার বাবা। (বুখারী ও মুসলিম)

কুরআনেও নারীকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। রাসূল (সাঃ) ও মর্যাদার আসনে স্থান দিয়ে উদাহরণ দেখিয়েছেন বিশ্ব সমাজের কাছে। হযরত আয়েশা (রাঃ)কে সমস্ত মানব কুলের (উম্মতের) জননী আখ্যা দিয়েছেন। তাই আমার মাবোনদের কাছে দাবি, নারী মুক্তি যদি সত্যিকার অর্থে চাই, নারী তার সম্মান অর্জন করুক স্বামীর কাছে, তার সন্তানের কাছে, তার সমাজের কাছে, তার রাষ্ট্রের কাছে…তাহলে সর্বাগ্রে জানা প্রয়োজন, একজন (মুসলমান) নারীর নিকট ইসলাম কি চায়, ইসলামের দাবি কি সে পূরণ করছেন? নারী নিজে তার অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হলে তার মর্যাদা ও সমাধান পেয়ে যাবেন। এর জন্য প্রয়োজন ঈমানের দাবি হিসেবে নিজেকে প্রভুর দাসত্বের শৃক্মখলে আবদ্ধ করা (নামাযের মাধ্যমে) প্রভুর নীতিই কুরআনের নীতি, কুরআনের নীতিই রাসূলের আদর্শ। সে নিজেকে এই নীতির ভিতরে যতটুকু প্রবেশ করিয়াছে, এটা গবেষণামূলকভাবে চিন্তা করা যাচাই করা (নিজেকে) ও মুসলমান হিসাবে পরিপূর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া।

সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখা ও অটলঅবিচল থাকা। টার্গেট নিয়ে পূর্বে নিজের মন গড়া অভ্যাসগুলো বাদ দেয়া, কুরআনের নূর দিয়ে খালি জায়গা পূরণ করা। এর জন্য প্রয়োজন কুরআন অর্থ (বাংলা) বুঝে পড়া, হাদীস বুঝে বুঝে পড়া।

একজন নারী তার গন্তব্য কোথায়, তার কি অধিকার, তার কি কর্তব্য এটা নিজে জানলে সে তার সন্তানের অধিকার পূরণ করতে পারবে যথাসময়ে। তাহলে তার সন্তানের কাছেও বার্ধক্যে তার দাবি পেশ করতে পারবে। তেমনিভাবে স্বামীকে সে বোঝাতে পারবে। আল্লাহ্র দরবারে সাহায্য চাইবে একদিন তার স্বামীও বুঝবেন তার স্ত্রীর মর্যাদা কি? অধিকার কি?

প্রকৃত পক্ষে নারী যদি না জানে তার অধিকার কি? সন্তান শিখবে কোথায় তার অধিকার কর্তব্য? ধরুন, স্বামী ডাক্তার না, কিন্তু আপনি আপনার স্বামীকে বলছেন চিকিৎসা করার জন্য, তিনি তা পারবে? আবার ধরুন, আপনার স্বামী কি তা পারবে? তেমনিভাবে বিশ্ব প্রভুর দেয়া বিধি বিধান কুরআনে দেয়া আছে হাদীসে দেয়া আছে একজন নারীর কর্তব্য কি? অধিকার কি? একজন সন্তানের কর্তব্য কি? অধিকার কি? বাস্তবক্ষেত্রে, আমি নারী নিজেই জানি না আমার কর্তব্য অধিকার সম্পর্কে আর শুধু বলতে থাকি নারীর অধিকার চাই, মর্যাদা চাই। এটা পাওয়া কখনো সম্ভব নয়। তাই নারীকে আগে জানতে হবে মা হিসেবে কুরআন কি দায়িত্ব দিয়েছে, তার সন্তানের উপর। সে সন্তান ছোট বেলা থেকে যখন শিখবে এভাবে বড় হবে, সেই সন্তানই একদিন বাবা হবে। তাই নারীর অধিকারের শ্লোগানের, আন্দোলনের আগে প্রয়োজন নিজেকে আল্লাহর কাছে সপে দেয়া। আল্লাহর রং এ রাঙানো নিজেকে রাসূলের আদর্শে গড়ে তোলা নিজেকে। কুরআন এক সুবিন্যস্ত, সুশৃক্মখল জ্ঞান যেখানে কোন উচ্ছৃক্মখল নেই, আছে স্বস্তি, শান্তি। তাই মুসলিম নারী হিসেবে শৃক্মখলাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করা একান্ত প্রয়োজন।

কুরআনে সূরা বাকারাতে আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, () ‘স্বামী, স্ত্রীর পোশাক, স্ত্রী, স্বামীর পোশাক।’ অর্থাৎ একজন অপরজনের সাথী ও নিরাপত্তাকারী সম্মান হিফাজতকারী। কিন্তু সংসারের কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে পুরুষকে। নারী তার অধিকারের নামে সীমা লংঘন করতে পারে না। যেমন হাদীসে বলা হয়েছে : () ‘‘ঐ স্ত্রী সর্বোত্তম যে তার স্বামীকে কষ্ট দেয় না।’’ () ‘‘ঐ স্বামী জান্নাতী যার স্ত্রী, তার উপর সন্তুষ্ট।’’ () বাবামা তোমার জান্নাত, তোমার জাহান্নাম। () পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। কুরআনে সূরা নূরে বলা হয়েছে ৩০ নং আয়াতে। () হে নবী মুমেন পুরষদের বল তারা যেন নিজের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। ইহাই তাদের পক্ষে পবিত্রতম নীতি। তারা থাকবে আল্লাহর পুরোপুরি অবহিত। সুরা আহযাবে ৫৯ আয়াতে বলা হয়েছে, () তোমার স্ত্রী, কন্যা, ঈমানদার মহিলাদের বলে দাও, তারা যেন নিজেদের বুকের উপর চাদর ঝুলিয়ে দেয়, এটা উত্তম নিয়মনীতি। সূরা বনী ঈস্রাফিলে ২৩২৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, () পিতামাতার সাথে সদাচরণ কর। যদি তাদের একজন অথবা উভয়ই তোমার নিকট উপনিত হয়। ‘তবে তাদের কখনো, উহ! শব্দ পর্যন্ত বলবে না তাদেরকে ধমক দিবে না এবং তাদের সাথে মার্জিতভাবে কথা বল।

সূরা নিসাতে বিস্তারিতভাবে আসছে নারীর অধিকার অর্থাৎ মিরাস বন্টন, হক সম্পর্কে কুরআন কোথাও পুরুষকে একতরফা কোন অধিকার দেয়নি। নারীকেও অবহেলা করেনি। পূর্ণ অধিকার ইসলাম দিয়েছেন, নারীর মোহরানার অধিকার, সন্তান লালনের অধিকার, উত্তম আচরণ পাওয়ার অধিকার, তেমনি পুরুষ সেবা পাওয়ার অধিকার, সংসারের কর্তৃত্ব করার অধিকার। এক কথায় সকল বিধি বিধান পূর্ণরূপে কুরআন দিয়েছে, রাসূল ৯সা.) তাঁর জীবনে চিত্র অংকন করে দেখিয়েছেন নারীর অধিকার সম্পর্কে কি কি অধিকার ইসলাম দিয়েছে তা সংক্ষিপ্তভাবে কিছু বলছি।

() ব্যক্তিত্বের অধিকার (ভোটাধিকার), () উত্তরাধিকার (সম্পত্তির মালিকানা), () দাম্পত্য অধিকার (স্বামী নির্বাচন ও বিচ্ছেদ), () উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার অধিকার (ডাক্তার), () যুদ্ধ বিদ্যার অধিকার (সামাজিক ও যুদ্ধ কৌশল যা সে নিজকে হেফাজত রাখবে) () মত প্রকাশের অধিকার (সংসারে যে কোন সিদ্ধান্ত জানাবে)

কুরআনের এই জীবন বিধান যা সকলে মিলে চললে কোন সমস্যাই থাকে না। পরিবার হতে পারে, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তির উৎস। বৈজ্ঞানিকভাবে চিকিৎসাবিদগণ জানিয়েছেন, নারী স্বাধীনতার নামে নারীরা অবাধে যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে, সমাজ হচ্ছে কলুশিত, মহাব্যাধি, ভয়ানক ব্যাধি দ্বারা সমাজ রাষ্ট্রে কলুশিত হচ্ছে। ইহা ছাড়া নারী পুরুষ এক সাথে যে অবাধে মেলামেশা করলে হরমোন ট্রানফিউশন হয়। নারী হয় পুরুষালী বৈশিষ্ট্যের পুরুষ হয় নারী বৈশিষ্ট্যের । তাই বোনেরা আমি নারী হিসেবে পুরুষ ভাইদের সরাসরি না বলে আমার প্রিয় মাবোনকে বলছি। আমরা যদি আমাদের স্বামীদেরকে বলি হারাম খাদ্য আমার ঘরে ঢুকবে না, অল্প খাব, অল্প পড়ব কিন্তু হারাম খাব না। তাহলে তারাও হালালের চেষ্টা করবেন। আমরা যদি বলি মুহাম্মদ (সা.) স্বামী হিসেবে কি অপূর্ব মানুষ ছিলেন। আবু বকরের (রা.) মত স্বামী আমাদের ভাল লাগে, ওমর (রা.) মত বৈশিষ্ট্যের স্বামী আমার ভাল লাগে তারা কতই না মধুর ছিলেন, শান্তিপ্রিয় ছিলেন। স্ত্রী পারে না এমন কোন কাজ নেই। তারাই পারে একজন স্বামীকে সৎ পথে আনতে। আমরা বলি শাহরুখ খানের মত চার্লিক্যানের মত কাটিং পোশাক ভাল লাগে, পুরুষ সমাজও পাগল হয়ে যাবে তাদের মত হতে। তাই আমরা খ্রিস্টান, ইহুদী, হিন্দুয়ানা, নায়কের স্টাইল ঘৃণা করব, পোশাক, কথার রং, কাটিং ঘৃণা করব। প্রায়শ: সংসারে এ কথাগুলি পুরুষদের সামনে বলব তাহলে তারাও চেষ্টা করবেন মুসলিম চরিত্র, ইসলাম চরিত্র গঠন করতে। সর্বোপরি নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো, স্বামীকে সন্তানকে বাঁচানোর তাকিদেই আমাদের এই হরেক রকম কৌশল অবলম্বন করব। আল্লাহর কাছে সাহায্য ও দোয়া চাইব ঈমানের দাবি পূরণের জন্য।

রাসূল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সর্বাধিক দুরবস্থার সম্মুখীন হবে, যে পার্থিব লাভের খাতিরে নিজের পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে”। সর্বশেষ আমি আমার মতামত ব্যক্ত করতে চাই যে, সম্মানিত ভাই, বোনেরা ও কন্যাগণ। আমরা নারী দিবস নারী মুক্তি আন্দোলন বলে শ্লোগান না দিয়ে মুসলিম হিসাবে ইসলামের দাবি ঈমানের দাবি পূরণ করার কাজে ব্যস্ত হই, ব্যক্তি জীবনে সমাজ জীবনে, পত্রিকার পাতায়, ক্লাবে, কবিতায়, গল্পে, শিক্ষা জীবনে, সংগঠনে, অফিসে, মার্কেটিং, গাড়িতে, বাসে, রাস্তায় সকল স্থানে :

তাহলেই নারী পাবে তার অধিকার

কারো কিছু থাকবে না হারাবার।

পুরুষ প্রশাসন পাবে মুক্তি

এতো কুরআনের অপূর্ব যুক্তি।

৭৩টি ফের্কার একটি মাত্র ফের্কাই কি জান্নাতি হবে ?

ফেব্রুয়ারি 10, 2015 মন্তব্য দিন

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.) ২৩ বছরের (১৩ বছর মক্কায় ও ১০ বছর মদীনায়) নিরলস চেষ্টাপ্রচেষ্টার পর একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে যখন জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করছিলেন তখন তিনি ইসলাম এবং মুসলিম সমাজের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন এর আগে যেসব কাফের, মুশরিক, ইহুদি, মোনাফিক এবং গুপ্তচরদের তিনি মোকাবিলা করেছিলেন আজ বাহ্যিকভাবে তারা মুসলমান বলে দাবী করলেও তারা আবার অতীতের অন্ধকারে ফিরে গিয়ে আগের মতোই রক্তপাত, হানাহানি, দ্বন্দ্বসংঘাতে লিপ্ত হবে। ফলে সমাজে আবারো বিচ্যুতি দেখা দেবে, গোত্রীয় দ্বন্দ্বের শেকড়গুলো আবারো মাথাচাড়া দেবে, আবারো বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং বিভিন্ন ফেরকায় ভাগ হয়ে যাবে মুসলমানরা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে উম্মতকে সতর্ক করার জন্য চিন্তা করবেন ও তাদের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করবেনএটাই স্বাভাবিক। তিনি বিভিন্ন উপলক্ষে স্পষ্ট ভাষণের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে তাদের ভবিষ্যতের নানা বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং এ ধরনের বিপদে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতেন।

এ ধরনের একটি ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি বলেছিলেন: “আমার উম্মতদের ৭৩টি ফেরকা হবে, তাদের মধ্য থেকে একটিমাত্র ফেরকা হেদায়েতপ্রাপ্ত, অন্য ফেরকাগুলো বিভ্রান্ত এবং ধ্বংস হবে।

এ হাদিসটি শিয়াসুন্নি উভয় মাজহাবের আলেমদের বর্ণনাতেই এসেছে। অবশ্য আল্লাহর রাসূল (সা.) যে বলেছেন আমার উম্মত ৭৩টি ফেরকায় বিভক্ত হবে, এটা ফেরকার আধিক্যের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মানে এই নয় যে মুসলমানরা গুনে গুনে ঠিক ৭৩টি ফেরকাতেই বিভক্ত হবে। পবিত্র কুরআনেও এ রকম আধিক্য অর্থে ৭০ সংখ্যাটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কুরআনে এসেছে: “হে পয়গাম্বর তুমি যদি মুনাফিকদের জন্য আল্লাহর কাছে ৭০ বারও ক্ষমা চাও তবুও আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এটা বলে বুঝাতে চেয়েছেন যে, মুসলমানরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ঘটনা, দুর্ঘটনা, ফেতনাফ্যাসাদ ইত্যাদির কারণে অসংখ্য দলউপদলে বিভক্ত হয়ে যাবে। তখন ধর্মকে টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে যেসব মুসলমান কোনোরকম বিচ্যুতিতে নিমজ্জিত না হয়ে এবং বিভেদের মধ্যে না জড়িয়ে সঠিক দ্বীনের ওপর অটল থাকবে তারাই মূলত সত্যিকারের দ্বীনের অনুসারী হিসেবে পরিগণিত হবে।#

সূত্র:

.কুরআন, সূরা তওবা ৮০

.সুনানে ইবনে দাউদ, ৪র্থ খ:, পৃ:১৯৮ কিতাবুস সুন্নাহ

.মোসতাদরাকুস আলাস সাহিহিন, ৩য় খ:,পৃ:১৫১

http://bangla.irib.ir/2012-06-26-09-20-49/item/52378

উগ্রবাদে উৎসাহ মাদ্রাসার বইয়ে

ফেব্রুয়ারি 10, 2015 মন্তব্য দিন

ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কোনো কল্যাণমূলক মতবাদ পৃথিবীতে নেই। ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতার নামান্তর। ধর্মকে ধ্বংস করার কৌশল হিসেবে রচিত একটি অপতন্ত্র। এটি ইসলামী ধর্ম বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।আলিম (একাদশ) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত ইসলামী পৌরনীতিবইয়ের ৩৮৭ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা অনুচ্ছেদের একাংশে বলা হয়েছে এসব কথা। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ সিলেবাস অনুযায়ী আলবারাকা প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদনের সিলও আছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেই মাদ্রাসা শিক্ষায় ধর্মান্ধতা ও উগ্রবাদের বীজ বপনের এই চিত্র ফুটে উঠেছে। গত বছরের ১৫ মে ফাউন্ডেশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিশেষজ্ঞ আলেম, মুফতি, মুফাসসির ও মুহাদ্দিস সমন্বয়ে গঠিত ২১ সদস্যের কমিটি প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

ইসলামিয়া কুতুবখানা রচিত আলিম শ্রেণির ইসলামী পৌরনীতিবইয়ের ৩৬২ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে মানব রচিত বাতিল ব্যবস্থাকে উৎখাতের চেষ্টার নামই হলো ইসলামী আন্দোলন। এই আন্দোলন সকল নবীরাসূলের আন্দোলন।পর্যালোচনা কমিটি মনে করছে, এসব লেখায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামের বিষয়ে যুদ্ধ বা জিহাদের মনোভাব জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও এনসিটিবির অনুমোদিত বেশির ভাগ বইয়ে জামায়াতের দর্শন, মওদুদীবাদ ও ইসলামপন্থী উগ্রবাদ বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে সুকৌশলে। বছরের পর বছর এ চেষ্টা সফল হয়েছে সবার অগোচরে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামি উগ্রবাদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জামায়াতি ও মওদুদী দর্শনযুক্ত বই অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারসহ সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষায় জঙ্গিবাদের আগ্রাসনের কারণেই সরকার ও প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতার মধ্যেও উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর কর্মীসমর্থক বাড়ছে। মেধাবী তরুণরাই এখন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দারের অভিযানে যেসব জঙ্গি ধরা পড়ছে, তাদের বেশির ভাগই মেধাবী ছাত্র।

আবার জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতনতার কাজে উদ্বুদ্ধ করছে সরকার। জঙ্গিবাদ বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরিতে দুটি আলাদা কমিটিও আছে। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণ ও ভাতা নিলেও বেশির ভাগ ইমাম জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতনতামূলক বয়ান (বক্তব্য) করছেন না। কিছু এলাকায় ইমামদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে গঠিত জাতীয় কমিটি স্থানীয় পর্যায়েও কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তবে এসব কমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম।

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জঙ্গিবাদের বিষয়ে সচেতনতার জন্য কোনো ধরনের তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি মাদ্রাসা শিক্ষায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শুধু উগ্রবাদ প্রচার নয়, মাদ্রাসার পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উপেক্ষা করে ভুল ও আংশিক ইতিহাস লেখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটির সদস্য সামীম মোহাম্মদ আফজাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জামায়াতি ও মওদুদী দর্শন পড়িয়ে উগ্রবাদী করার যে চেষ্টা তার চিত্র আমাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশ ও জাতি জঙ্গিবাদ থেকে রেহাই পাবে। এ জন্য বেশ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে কোথায় ত্রুটি আছে বের করতে পারি। তবে বাস্তবায়ন করতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যসব কর্তৃপক্ষকে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার কমিটির সভা হয়। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যেসব পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম অথবা ইতিহাস বিকৃত করে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশসহ জানাবেন। সে অনুযায়ী আলিয়া মাদ্রাসার বেশির ভাগ পাঠ্যপুস্তক ও গাইড বই পরীক্ষানিরীক্ষার পর গত বছরের ১৫ মে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জামায়াতশিবিরের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা ১০টি প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত বইগুলো প্রকাশ করেছে। এগুলো হচ্ছে আলফাতাহ পাবলিকেশন্স, আলবারাকা প্রকাশনী, পাঞ্জেরী প্রকাশনী, কামিয়াব প্রকাশনী, আল মদিনা প্রকাশনী, মিল্লাত প্রকাশনী, ইমতেহান প্রকাশনী, ইসলামিয়া কুতুবখানা, মাদ্রাসা লাইব্রেরি ও আলআরাফা প্রকাশনী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কে এম ছায়েফ উল্ল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে আলিম শ্রেণির যেসব বইয়ের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বোর্ডের অনুমোদিত নয়। এসব বইয়ের উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ উসকে দেওয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের অবহিত করেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, প্রকাশকদের নামঠিকানাও সঠিক নয়। বইয়ে ব্যবহৃত বোর্ডের অনুমোদনের সিলও ভুয়া। এসব বইয়ের ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে আমরা অভিযানও চালাব।

বইগুলো এত দিন ধরে বাজারে আছে, শিক্ষার্থীরা সেগুলো পড়ছেআপনারা এ ব্যাপারে জানতেন না? এ প্রশ্নের জবাবে এ কে এম ছায়েফ উল্ল্যাহ বলেন, অতীতে যাঁরা বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা এসব খতিয়ে দেখেননি, তাই এগুলো অতীতে ধরা পড়ে নাই।

পুলিশ ও র‌্যাবের হিসাবে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সাড়ে সাত শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭০০ জনই ছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাত্র। র‌্যাব ২৪০ জন হিযবুত তাহরীর সদস্যকে আটক করে, যার মধ্যে ২১০ জনই ছাত্র ছিল। জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম ও হুজিসহ অন্য সংগঠনগুলোর আটক কর্মীদের মধ্যে অর্ধেকই ছাত্র বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করছে জঙ্গিরা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্ররা ধর্মীও অনুভূতির আবেগে সহজেই জঙ্গিদের টোপ গিলছে। তারা মেধাবী ও উচ্চ শিক্ষিত হলেও ইসলামের ইতিহাস ও মর্ম সম্পর্কে সচেতন নয়। তারা নিজেকে এই কাজে নিয়োজিত করে সফল মনে করছে।

বয়ানে নেই নজরদারি : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পশ্চিম নাখালপাড়ার বেলাল মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান। বয়ানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে ইমাম সাহেব সরাসরি কোনো কথা বলেন না। উল্টো তাঁর সব বয়ানেই ইসলামের জন্য জিহাদ করতে হবে‘; ‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখতে হবেএমন কথা থাকে। তবে এ ব্যাপারে ওই মসজিদের ইমাম আলহাজ আজিজুল হক বলেন, ‘জিহাদের ব্যাপারে উৎসাহ জোগানোর মতো বক্তব্য দিই না। জঙ্গিবাদ স্পর্শকাতর বিষয় বলে বয়ানে আনতে সাহস পাই না আমি। এটা ঠিক, জিহাদের ব্যাপারে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নাই। আমার সীমিত জ্ঞানে বোঝানোর চেষ্টা করি।ইমাম হিসেবে কোনো প্রশিক্ষণ পাননি বলেও জানান আজিজুল হক।

স্থানীয় মসজিদগুলোয় নজরদারি আছে কি না, জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বিষয়ে আমাদের নজরদারি আছে সবখানেই। তবে প্রশিক্ষিত ইমামরা কী বলছেন, সেটা তদারকির দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর আরো কিছু মসজিদ এবং ঢাকার বাইরের মসজিদের মুসল্লি, ইমাম ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে একই রকম তথ্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হিসাবমতে (২০০৮), সারা দেশে মসজিদের সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯টি। এর মধ্যে ঢাকা জেলায়ই আছে পাঁচ হাজার ৭৭৬টি। ২০০৯ সালে জঙ্গি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কমিটি গঠনের পর সচেতনতার বিষয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি। এতে দেখা গেছে, ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে, ভুল বুঝিয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে জাগ্রত করে জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের সদস্য বৃদ্ধি করছে। ওই সময়ই আলেম ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সচেতনতার কাজ শুরুর চিন্তা করা হয়। সূত্র জানায়, গত বছরের জুন পর্যন্ত ৮০ হাজার ৯৮৪ জন ইমামকে ৪৫ দিনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন মেয়াদে আরো ৮৪ হাজার ৩০৩ জন ইমামকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ সচেতনতামূলক বই ও লিফলেট বিতরণ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও জাতীয় কমিটির সদস্য সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘আমরা ইমামদের ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি। তবে দেশের দুই লাখ ৬০ হাজার মসজিদে কারা, কী বয়ান করছেন তা দেখা সম্ভব হয় না। আলেমদের শিক্ষায় অনেক ঘাটতি আছে। অনেকেই কোরআনহাদিসের আলোকে কথা বলেন না। এসব কথিত আলেম গত দুই যুগ ধরে দেশের জনগণকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। মাদ্রাসা শিক্ষার নামে কোমলমতি সন্তানদের জামায়াত আর জঙ্গি বানানোর চেষ্টা চলছিল। আমরা এগুলো শনাক্ত করেছি। আমরা জনগণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে পারি। তবে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য প্রশাসন।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার কমিটির স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো চলছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনেরই তত্ত্বাবধানে। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার কাজ পর্যবেক্ষণ করে ওই কমিটির প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া সব কার্যক্রমই চলছে নামমাত্র। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি) মুহাম্মদ তাহের হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি প্রশিক্ষণেই ইমামদের সচেতনতার বিষয়ে বলা হয়। তারা বয়ানে কোরআনহাদিসের আলোকে কিভাবে বলবেন, তা তাদের দেওয়া বইয়ে লেখাও আছে। এসব প্রশিক্ষণ ইমামদের সচেতন করে তুলেছে। তবে তাঁরা কী বয়ান দিচ্ছেন, তা সব সময় আমাদের পক্ষে মনিটরিং করা সম্ভব নয়।কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের প্রতিনিধিরা কমিটির মাধ্যমে রিপোর্ট পাঠায়। তবে সেটা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত তা বলব না। এটা লোকাল প্রশাসনেরই দেখার কথা।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক জেলার এসপিরা একটি নামমাত্র রিপোর্ট দেন। তবে সেখানে সব তথ্য সন্তোষজনকই থাকে। কারণ একটি থানার ২০২৫ জন পুলিশের পক্ষে গোটা এলাকার শত শত মসজিদে নজরদারি করা সম্ভব নয়। এখানে সিভিলের লোকজনের সহায়তা নেই। তাই আমাদের লোকজনও উদাসীন।

এস এম আজাদ