আর্কাইভ

Archive for জুলাই, 2015

মিসাইল মানবের জীবনের ৭টি স্মরণীয় ঘটনা

জুলাই 30, 2015 মন্তব্য দিন

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা এপিজে আবদুল কালাম সারা জীবন স্বপ্ন বিক্রি করে গেছেন। তার প্রতিটি কথা ও কাজের মধ্যে রয়েছে শিক্ষণীয় এবং অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। আবদুল কালামের জীবনে ঘটা ৭টি সাধারণ কাহিনী এখানে তুলে ধরা হল, যা মানুষকে অসাধারণ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।apj-kalam2

দেয়ালে ভাঙা কাচ লাগিয়ো না

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) একটি ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চারদিকের দেয়ালে ভাঙা কাচের টুকরো লাগাতে চেয়েছিলেন। এপিজে আবদুল কালাম তার টিমকে বললেন, ‘বাড়ির সুরক্ষা দিতে দেয়ালে ভাঙা কাচ লাগিয়ো না। পাখিরা সেখানে বসতে পারবে না। ভাঙা কাচ পাখিদের জন্য ক্ষতিকর।

এ চেয়ারে আমি বসব না

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বারানাসির আইআইটির কনভোকেশন অনুষ্ঠানে কালাম ছিলেন প্রধান অতিথি। মঞ্চে আরও পাঁচজন অতিথির জন্য পাঁচটি চেয়ার নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার চেয়ারটি ছিল ভিন্ন ডিজাইনের। আর সব চেয়ারের চেয়ে বড়। সবার চেয়ে আলাদা ওই চেয়ারে বসতে অস্বীকার করেন তিনি। পাশে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে বসার অনুরোধ করেন।

জীবনের সব সঞ্চয় ও বেতন ট্রাস্ট ফান্ডে দান

আবদুল কালাম যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন তখন তিনি আমুলের প্রতিষ্ঠাতা ড. ভার্গিস কুরিনকে ডেকে বলেন, ‘আমি তো এখন ভারতের রাষ্ট্রপতি। যতদিন বেঁচে আছি, সরকার আমার ভরণপোষণ দিতে যাচ্ছে। তবে আমার সারা জীবনের সঞ্চয় ও বেতন কী করব?’ এরপর নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রোভাইডিং আরবান অ্যামেনিটিস টু রুর‌্যাল এরিয়াসতে (পুরা) সব দান করে দিলেন তিনি।

ধন্যবাদ কার্ডে নিজের স্বাক্ষর

একবার নামান নারাইন নামের এক তরুণ রাষ্ট্রপতি আবদুল কালামের একটি স্কেচ তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি সেই কার্ড পেয়ে প্রতি উত্তরে একটি ধন্যবাদ কার্ড পাঠান। তাতে নিজের হাতে একটি ক্ষুদেবার্তা লিখে নিজেই স্বাক্ষর করেছিলেন। এতে আশ্চর্য হয়ে যায় নামান।

রাষ্ট্রপতি ভবনে মুচিদোকানির দাওয়াত

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কেরালার রাজভবনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্টশিয়াল গেস্ট হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তখন ব্যক্তিগতভাবে যে কোনো ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজের সঙ্গে আপ্যায়নের সুযোগ দেয়া হয় তাকে। আবদুল কালাম রাস্তার একজন মুচি ও হোটেলের দোকানদারকে দাওয়াত করেছিলেন।

শেষ রাতে মঞ্চ বানানো দেখতে এলেন একাকী

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিও) থাকাকালীন একটি কলেজ প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি ছিলেন ড. এপিজে আবদুল কালাম। কলেজের শিক্ষার্থীরা সারারাত ধরে মঞ্চ প্রস্তুত করছিল। আবদুল কালাম হঠাৎ শেষ রাতে কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই এলেন মঞ্চ বানানো দেখতে। ছাত্রদের সঙ্গে গল্প করলেন। বললেন, আমি প্রকৃত কাজের মানুষদের দেখতে চাই।

কী দিলাম সেটাই বড়

২০১১ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাটসন ও রাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বক্তব্য দেন, তার শিরোনাম ঠিক করে নিয়েছিলেন ‘আমাকে প্রশ্ন করো না আমি কী নিতে পারি, বরং বল আমি কী দিতে পারি।’ এ বক্তব্যের শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা আপনাদের মাকে খুশি করুন। কেননা প্রতিটি ঘরের মা সুখী থাকলে সুখী হয় প্রতিটি ঘর। ঘর সুখী হলে সুখী হয় সমাজ, সমাজ হলে দেশ। এভাবেই সুখী হবে পুরো বিশ্ব।’

যুগান্তর, ৩০ জুলাই, ২০১৫

সচিত্র ঈদ-২০১৫ (আক্কেল)সালামি কার্টুন-রঙ্গ

জুলাই 25, 2015 মন্তব্য দিন

সালামি-জ্বালা থেকে বাঁচতে চাইলে…

eid-salami-avoidance-1

eid-salami-avoidance-2

eid_cartoon-1

কেউ কেউ আবার আক্কেল-গুড়ুম করা সালামি-ও পেয়ে থাকে – তেলা মাথায় তেল?!

eid-salami-porimoni

সচিত্র ঈদ-২০১৫ : ঘরে ফেরা এবং না-ফেরা…

জুলাই 25, 2015 মন্তব্য দিন

সব পাখী ঘরে ফেরে আর তাদের সাথে ফেরে মানুষ-ও! eid-journey-6

eid_journey-bus

launch-station1

eid-journey-4 eid-journey-1 eid-journey-2 আবার কেউ কেউ না-ফেরার দেশে চলে যায় চিরতরেঃ eid_accidents

সচিত্র ঈদ-২০১৫ কেনাকাটা

জুলাই 25, 2015 মন্তব্য দিন

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে নেয়াঃ

eid_purchase-in080715

bashundhara city_shopping-in060715

eid_purchases-mk120715

eid_shopping-2

eid_shopping-7

eid_shopping-10

eid_shopping-8

eid_shopping-3

eid_shopping-6

কবিতাঃ ঈদ মোবারক – কাজী নজরুল ইসলাম

জুলাই 19, 2015 মন্তব্য দিন

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখিধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কণ্টকবনে আশ্বাস এনে গুলবাগের,
সাকীরে ”জা’মের” দিলে তাগিদ!

eid-nazrul

খুশির পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধূজাগে আজ নিশীথবাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ওগো কা’ল সাঁঝে দ্বিতীয়া চাঁদের ইশারা কোন্
মুজদা এনেছে, সুখে ডগমগ মুকুলী মন!
আশাবরীসুরে ঝুরে সানাই।
আতর সুবাসে কাতর হ’ল গো পাথরদিল্,
দিলে দিলে আজ বন্ধকী দেনানাই দলীল,
কবুলিয়াতের নাই বালাই।।

আজিকে এজিদে হাসেনে হোসেনে গলাগলি,
দোজখে বেহেশ্তে ফুলে ও আগুনে ঢলাঢলি,
শিরী ফরহাদে জড়াজড়ি।
সাপিনীর মত বেঁধেছে লায়লি কায়েসে গো,
বাহুর বন্ধে চোখ বুঁজে বঁধু আয়েসে গো।
গালে গালে চুমু গড়াগড়ি।।

দাউ দাউ জ্বলে আজি স্ফুর্তির জাহান্নাম
শয়তান আজ বেহেশ্তে বিলায় শরাবজাম,
দুশমন দোস্ত্ একজামাত!
আজি আরাফাত্ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁয়ে,
কোলাকুলি করে বাদশাফকিরে ভায়ে ভায়ে,
কা’বা ধ’রে নাচে ‘‘লাত্মানাত”।।

eid-child

আজি ইসলামীডঙ্কা গরজে ভরি’ জাহান,
নাই বড় ছোট–সকল মানুষ এক সমান,
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
কে আমীর তুমি নওয়াব বাদশা বালাখানায়?
সকল কালের কলঙ্ক তুমি: জাগালে হায়
ইসলামে তুমি সন্দেহ।।

ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখদুখ সমভাগ ক’রে নেব সকলে ভাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো আঁখিজলে কারো ঝারে কিরে জ্বলিবে দীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দনসিব, লাখে লাখে হবে বদনসিব?
এ নহে বিধান ইসলামের।

ঈদঅলফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান,
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান,
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!
ভোগের পিয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতুরের হিসসা আছে ও পিয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর, বীর, দেদার।

বুক খালি ক’রে আপনারে আজ দাও জাকাত,
ক’রো না হিসাবী, আজি হিসাবের অঙ্কপাত!
একদিন কর ভুল হিসাব
দিলে দিলে আজ খুনসুড়ি করে দিললগী,
আজিকে ছায়েলালায়েলাচুমায় লাল যোগী!
জামশেদবেচে চায় শরাব।।

পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু,
ঈদমোবারক! আসসালাম!
ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনী ফুলকালাম!
বিলিয়ে দেওয়ার আজিকে ঈদ।
আমার দানের অনুরাগেরাঙা ঈদগা’ রে!
সকলের হাতে দিয়ে দিয়ে আজ আপনারে—
দেহ নয়, দিল হবে শহীদ।

কলিকাতা, ১৯শে চৈত্র, ১৩৩৩

সারাবিশ্বে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে: সমাধান কোন পথে?

জুলাই 19, 2015 মন্তব্য দিন

আনোয়ারুল হক আনোয়ার: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা চরম অস্থিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যা, মুসলিম দেশের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি এমনকি ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এক দেশ অপর দেশের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। আর এ সুযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানরা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের রক্ত ঝরেছে। বিতাড়িত করা হয়েছে নিজ জন্মভূমি থেকে। আবার পশ্চিমাদের অকৃত্রিম বন্ধু মুসলিম বেশ কয়েকজন শাসককে শেষতক চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

cr-US_disturbs_mideastবর্তমানে ইসলাম বিরোধীরা শিয়া-সুন্নি ইস্যুকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে। অনাহুত বিষয়টিকে নিয়ে কতিপয় মুসলিম দেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আত্মঘাতী বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কতিপয় পশ্চিমা দেশ ইসলামের নামে কিছু অস্ত্রধারী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে মুসলিম দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। যার ফলে বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নামাজে জানাযা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়েশাদী থেকে শুরু করে হাটবাজারে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখে ইসলাম বিরোধীরা দাঁত বের করে হাসছে।

আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার পর এখন সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক ও মিশরের ভূমিকা বিতর্কিত বলে প্রতীয়মান হয়। ইয়েমেনে সৌদি আরব একতরফা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। উদ্দেশ্য ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত হাদি সরকারকে ক্ষমতায় বসানো। মুসলমানদের অনৈক্যের কারণে বসনিয়ায় মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে- সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে হার মানায়। সর্বশেষ মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এমনকি দলে দলে নারী-পুরুষ-শিশুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলো কিছুই করতে পারেনি।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রধান টার্গেট হচ্ছে ইরান। ইরানের ওউপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে দেশটি সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হবে এবং দেশটি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ আরব দেশগুলোর জন্য ‘মহা হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে- এ ধরনের জুজুর ভয়ে এসব দেশ হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করে আমেরিকাসহ তার মিত্রদের থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ইরানের ভয় দেখিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ের কি প্রয়োজন? ইরানের সাথে এসব দেশের সূসম্পর্ক গড়ে উঠলে তো গোটা মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম উম্মাহ আরো শক্তিশালী হবার কথা। কিন্তু অনাহুত ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা মোটেই কাম্য নয়। এতে করে বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এটা এখন সময়ের দাবি। একে অন্যকে ভালো না লাগার বিষয়টি বিতর্কের উর্ধ্বে রেখে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে  ‘মুসলিম ঐক্য’ স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে ওআইসিকে এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি মুসলামানদের মধ্যে অনৈক্য বৃদ্ধি পেতে থাকে- তাহলে সংঘাত আরো বৃদ্ধি পাবে। যার পরিণামে বিশ্বে মুসলমানদের আরো রক্ত ঝরবে। মুসলিম দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে আত্মঘাতী সংঘাত অব্যাহত থাকবে এমনকি অনেক মুসলিম দেশ পরাধীন হয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।