আর্কাইভ

Archive for মার্চ, 2016

মিয়ানমার নেত্রী সূচি’র অসূচি উচ্চারণ

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

suchi islamophobia 1

ইতিহাসের এক কালজয়ী সাক্ষী রোমের কলোসিয়াম

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

collaseum

চিত্রে সিরিয়ার ঐতিহাসিক পামিরা নগরীর স্থাপত্যকলা

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

palmyra.gif

palmyra

palmyra 4

palmyra 5

palmyra 6

palmyra 7

palmyra 8

palmyra 9

palmyra 10

palmyra 11

 

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এখন থেকে শুধু-ই অনলাইনে

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

independent printing 2independent  printing 1

খিলাফত বিলুপ্ত করার পর তুরস্কে যা হয়েছিলো

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

) শিশুদের ইসলামী শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়।

) ধর্ম মন্ত্রণালয়, মাদরাসামসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং হজ্জওমরা নিষিদ্ধ করা হয়।

) বড় বড় মসজিদগুলোতে নামায বন্ধ করে দিয়ে সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘আয়া ছুফিয়া’কে রূপান্তরিত করা হয়েছিলো সরকারি জাদুঘরে।

) নারীদের জন্য হিজাব পরিধান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশে তুর্কী পুলিশ রাস্তায় বের হওয়া মুসলিম মহিলাদের ওড়না কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলত।

) আরবী অক্ষরের ব্যবহার নিষিদ্ধ হয় আরবীতে কুরআন পড়া, নামাজ পড়া ও আজান দেওয়া নিষিদ্ধ হয়।

) তুর্কী ভাষা আরবী হরফে না লিখে ল্যাটিন হরফে লিখতে হতো।

) সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে রবিবারকে নির্ধারণ করা হয়।

) তুরস্কবাসীকে ভিন্ন ধরণের পোষাক পরতে বাধ্য করা হয়।

) মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদকে বর্জনীয় ঘোষনা করা হয়।

) তুরস্কের অধীন আজারবাইজানকে রাশিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

১০) বক্তৃতা এবং বিবৃতিতে নিয়মিত ইসলাম ও ইসলামী পরিভাষাসমূহ নিয়ে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনা করে সেগুলো বর্জনের প্রতি সবাইকে আদেশনিষেধ করা হয়।

১১) সরকারী লোকদের জামাতে নামায পড়া নিষিদ্ধ হয়।

১২) ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী সালাম দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয় । এর পরিবর্তে সুপ্রভাত (Good Morning) বিদায় (Good Bye) ও হ্যান্ডশেক রেওয়াজ প্রবর্তিত হয়।

১৩) ইমামমুফতীদের পাগড়ি ও জুব্বা পরা নিষিদ্ধ করা হয়।

১৪) হিজরী সন উঠিয়ে দিয়ে ইংরেজী সন চালু করা হয়।

১৬) আরবী ভাষায় নাম রাখা নিষিদ্ধ হয়। এর পরিবর্তে তুর্কী ভাষায় নাম রাখতে বাধ্য করা হয়।

১৭) আলেমদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং আলেমদেরকে প্রজতন্ত্রের শত্রু হিসিবে চিহ্নিত করা হয়। কোন আলেম তার বিরুদ্ধাচরণ করলে তাকে সাথে হত্যা করা হয়। এছাড়া ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে আলেমদের অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়।

যে ১৫টি কৌশলে সম্পদ বৃদ্ধি করেন ধনীরা

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

ধনীদের বিভিন্ন ধরনের অভ্যাস ও কৌশল থাকে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষাণাবেক্ষণ এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধির কাজে তারা এসব অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ধনীদের এমনই ১৫টি অভ্যাসের কথা যার প্রয়োগে তারা সম্পদ বৃদ্ধি করে চলেন।

. আবেগপ্রবণ না হওয়া : অর্থ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো আবেগপ্রবণ হতে নেই। এ নিয়মটি মেনে চলেন ধনীরা। ১৯৬০এর দশকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. ওয়াল্টার মিশেল এক গবেষণায় জানান, আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে কিছু পাওয়ার চেয়ে ধীরে চাহিদা পূরণ হলে তৃপ্তির মাত্রা বেড়ে যায়। এতে ভুলও কম হয়।

. চাহিদা ও প্রয়োজনের পার্থক্য বোঝেন : চাওয়া ও প্রয়োজনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশাল একটা বাড়ি বা দামি পোশাক চাহিদা হতে পারে। কিন্তু এর প্রয়োজন রয়েছে কি? ধনীরা প্রয়োজন মিটিয়ে তারপর চাহিদা পূরণের চিন্তার করেন। এতে অর্থের অপচয় হয় না।

. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেন : পেনি স্টক মিলিওনিয়ার টিমোথি স্কাইস বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে ন্যূনতম ১৫ বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু এসব লক্ষ্য নির্ধারণে ধনীরা এগিয়ে। তারা তাৎক্ষণিক কিছু পেতে চান না। ধীরে ধীরে বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান।

. আয়ের একাধিক উৎস : ধনীদের আয়ের একাধিক উৎস থাকে। একটি উৎসের ওপর নির্ভর করেন না তারা। একটি উৎস শুকিয়ে গেলে অন্য উৎস দিয়ে ঠিকই টিকে থাকেন তারা।

. স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগ : তারা রোবটের মতো নিজেদের ওপর নির্দেশনা জারি করেছেন। স্থায়ী খরচগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেয়। আবার একটি উৎসের লাভের অংশ হয়তো অন্য কোনো উৎসের বিনিয়োগ হিসাবে খাটে। এ সবই অটোমেটিক পদ্ধতিতে হয়ে যায়। এতে করে হাতে অর্থ নিয়ে তা খরচের ঝামেলা থেকে মুক্তি পান তারা। তাছাড়া এতে খরচের খাত এলোমেলো হয়ে যায়।

. বাজেট মেনে চলেন : ধনীরা জানেন কত অর্থ আসছে আর যাচ্ছে। সে অনুযায়ী বাজেট মেনে চলেন। প্রচুর অর্থ থাকলেও তারা বেহিসাবী নন। গবেষণায় বলা হয়, যত ধনীই হন না কেন, তারা সবাই যার যার বাজেট করে নিয়েছেন।

. জরুরি অবস্থার ফান্ড : জীবনে নানা ধরনের জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ব্যবসায় মন্দা আসতেই পারে। এ সব পরিস্থিতি সামলাতে ধনীরা পৃথক ফান্ডের ব্যবস্থা করে রাখেন। বলা হয়, টানা এক বছরের ধকল সামলানোর মতো অর্থ জরুরি ফান্ডে রাখতে হয়।

. বিনিয়োগ সেখানেই… : ধনীরা একমাত্র সেই সব খাতে বিনিয়োগ করেন যার সম্পর্কে তারা বোঝেন। অচেনা জগতে তারা ঢুঁ মারেন না। কাজেই বিনিয়োগ ও উপার্জন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই কাজটি করেন।

. খরচের হিসাব রাখেন : অনেকেই ভাবেন ধনীরা হিসাব না করে খরচ করেন। এ ধারণা ভুল। তারা প্রতিদিন, প্রতিমাস এবং প্রতি বছরের পরিষ্কার হিসাব রাখেন।

১০. সাধ্যের ভেতরে জীবনযাপন করেন : ধনীদের জন্যে এটা কোনো মিথ্যা নয় যে, তারা হয় সাদামাটা অথবা সাধ্যের মধ্যে জীবনযাপন করেন। অর্থাৎ, অর্থ আছে দেখে নিজেকে ভাসিয়ে দেন না। এ ছাড়া চলাফেরাতেও তারা সাধারণদের মতোই কাজ করে থাকেন।

১১. ত্যাগী মানসিকতা রয়েছে : ধনী মানেই যে লেটেস্ট মডেলের দামি গাড়ি থাকতে হবে তা নয়। বিখ্যাত সব ধনীদের মনে বহু দামি গাড়ি কেনার ইচ্ছা থাকলেও তা ত্যাগ করতে প্রস্তুত। অথচ সে সাধ্য তাদের রয়েছে। আবার বড় কোনো লক্ষ্য হাসিলে তারা বর্তমান ইচ্ছার বিষয়ে ত্যাগী থাকেন।

১২. ঋণের জালে নয় : ধনীরা ঋণ নিয়ে থাকেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধে সচেতন থাকেন। ঋণের জালে এক জড়িয়ে গেলে বহু ক্ষতি ঘটে যায়। বিশেষ করে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে নতুন বিনিয়োগের জন্যে ঋণ নিয়ে থাকেন তারা।

১৩. পরামর্শ নেন : ধনীরা অর্থ বিষয়ে সব সময় অভিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। সব মানুষের মাঝেই দুর্বলতা রয়েছে। নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে তাদের। আর দুর্বল জায়গাগুলোতেই পরামর্শকদের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।

১৪. স্বশিক্ষিত হন : ধনীরা ক্রমাগত নিজেকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। তারা স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। বহু ধনী রয়েছেন যারা উচ্চশিক্ষিত না হয়েও বহু দূর এগিয়েছেন। এর কারণ একমাত্র তারা বাস্তব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৫. সিদ্ধান্তের আগে হিসাব কষে নেন : ধনীরা কখনোই হুটহাট সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বহু হিসাবনিকাশ কষে নেন। যাবতীয় যোগ, বিয়োগ বা ভাগের হিসাব নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হলেই কেবলমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণে এগোতে থাকেন।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

রুশ ঔপন্যাসিক ম্যাক্সিম গোর্কি’র জীবনী

মার্চ 31, 2016 মন্তব্য দিন

Gorki-4ফেরদৌস জামান : একবার গোর্কিকে বলা হয়েছিল কেন লেখেন? জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে সহজ ভাষায় বলেছিলেন, মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে প্রবল করে তোলার জন্য।

আরও বলেছিলেন, কঠোর বাস্তবতা ও তার সকল প্রকার অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে বিদ্রোহী করে তোলার সংগ্রামে নিজেকে প্রত্যক্ষভাবে লিপ্ত করার জন্য হাতে কলম তুলে নিয়েছেন। এ্যালেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ্ পেশকভ যে ম্যাক্সিম গোর্কি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন তার পেছনে প্রধান কারণ হলো, বাল্যকাল থেকেই তাকে অন্যায় অত্যাচারের বিভৎসতা এবং ব্যাভিচারের আগুনে দাউ দাউ করে দগ্ধ হতে হয়েছে। দগ্ধ হতে হতেই তিনি অর্জন করেন শিল্পী হবার মৌলিক অধিকার ও যোগ্যতা।

মধ্য রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীরবর্তী শহরে ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ (সেকালে রাশিয়ার জুলিয়ান পঞ্জিকা মোতাবেক ১৬ মার্চ, কারণ তা ছিল বিশ্বব্যাপী প্রচলিত গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা থেকে ১২ দিন পেছানো) জন্ম হয় ম্যাক্সিম গোর্কির। শিশু কালেই গোর্কি পিতাকে হারান, যখন তার বয়স মাত্র চার বছর। এমন পরিস্থিতিতে ভার্ভারা দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে স্টিমারে চেপে বসেন। পথিমধ্যে গোর্কির ছোট্ট ভাইটিরও মৃত্যু হয়। নানানানীর আশ্রয়ে পিতৃহীন বালকটিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সে আর বেশিদূর এগোয়নি। এরই মধ্যে মায়ের বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র। নানী তাকে প্রায়ই মারধর করতো। এমন পরিস্থিতিতে এগারো বছর বয়সে মাকেও হারান। কার্যত পৃথিবীতে তার আপন বলতে আর কেউ রইল না। মা চোখ বোজা মাত্রই কঠিনপ্রাণ মাতামহ সাফ বলে দেন বসে বসে খাওয়ানোর পয়সা তার নেই। তখন থেকেই গোর্কির বাস্তব দুনিয়ার মুখোমুখি হওয়া। হাঁটতে থাকলেন পৃথিবীর পথে পথে। মুচির দোকানে, রুটির দোকানে, বিস্কুট কারখানায়, বাগানের মালী, স্টিমারের হেঁসেলে বয়বেয়ারাগিরি, মাছের আড়তে চাকরি, রেলস্টেশনের দারোয়ানীকি করেননি?

১৬ বছর বয়সে চলে যান কাজান শহরে। চার বছর সেখানেই অবস্থান করেন। পেয়ে যান কিছু বন্ধুবান্ধব, যাদের সংস্পর্শে তার স্বপ্রণোদিত শিক্ষা অর্জন উৎসাহিত হতে থাকে। পড়তে থাকেন রুশ সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের রচনা। বাদ যায়নি সৃজনশীল সাহিত্য, দর্শন ও বিশ্ব সাহিত্য। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ পর্বেই পরিচিত হন কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো ও মার্ক্সএ্যাঙ্গেলস্ এর রচনাবলীর সাথে। ১৮৮৮ থেকে ৯২ পর্যন্ত তিনি পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেন রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কাজ করলেন আর ঘুরতে থাকলেন। এমনি করে ভোলগা নদীর অববাহিকাজুড়ে বিশাল এলাকার মানুষ এবং তাদের সমাজ, আর্থসামাজিক অবস্থা, আচরণ, অভ্যাস ইত্যাদি ব্যাপারে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এর আগে ১৯ বছর বয়সে দুইদুইবার আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টাও চালান। সে অপরাধে তাকে অবশ্য শাস্তিও পেতে হয়েছিল।

তিফ্লিস্ শহর থেকে প্রকাশিত ‘কাফকাজ’ নামের দৈনিক সংবাদপত্রে ১৮৯২ এর ১২ সেপ্টেম্বর একটি গল্প ছাপা হয়। গল্পটির নাম ‘মার্কা চুদ্রা’, লেখকের নাম ম্যাক্সিম গোর্কি। বিদায় হল এ্যালেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ্ পেশকভের; তার স্থলে আবির্ভূত হল ম্যাক্সিম গোর্কির। এ সময় এক নারীর প্রেমে পড়লেন গোর্কি। ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র আট বছরের দাম্পত্য জীবন তাদের, টিকে ছিল ১৯০৪ পর্যন্ত। আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ না হলেও তারা আর একত্রে জীবনযাপন করেননি। এরই মাঝে নতুন করে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বহুভাষাবিদ ও মস্কো আর্ট থিয়েটারের অভিনেত্রী, একইসাথে বলশেভিক পার্টির সদস্য মারিয়া ফিওদরনা আন্দ্রেইয়েভার সাথে। পরোবর্তীতে অবশ্য তার সাথেও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। দেখা গেছে বিচ্ছেদ হলেও স্ত্রী একাতেরিনা ও প্রেমিকা মারিয়া উভয়েই গোর্কির খোঁজ খবর রেখেছেন।

১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পিটাসবুর্গ থেকে তার প্রথম গ্রন্থ ‘ওচের্কি ই রাস্কাজি’ (নকশা ও গল্পাবলী) দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এর আগেই পত্রপত্রিকায় অনেক গল্প প্রকাশ হয়। এর মধ্যে ‘পেসনিয়া আ সোকলে’ ও ‘পেসনিয়া আ বুরেভিয়েনিকে’ (যথাক্রমে বাজপাখির গান ও ঝড়ো পাখির গান) নামে দুটি কবিতা তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। ১৮৯৫এ তার বিখ্যাত ‘চেলকাশ’ গল্পটি এক দৈনিকে প্রকাশ হবার পর আলোড়ন পড়ে যায়। সেই সুবাদে সামারার এক বড় পত্রিকায় চাকরির সুযোগ পেয়ে যান। তখন তিনি ঠিক করেন, চাকরি করবেন এবং পাশাপাশি লেখা চালিয়ে যাবেন। ম্যাক্সিম গোর্কি অবশ্য পরোবর্তীতে ১৯১৫এ ‘লিয়েতপিস্’ (কড়চা) পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং তার ছয় বছর পর ১৯২১ থেকে তার সম্পাদনায় সোভিয়েত সাহিত্য পত্রিকা ‘ক্রাস্নায়া নোফ্’ (রক্তিম জমি) প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যায় অত্যাচারের আগুনে দগ্ধ হওয়া গোর্কি রাজনীতির সাথে যোগাযোগ সবসময়ই রেখেছেন। যার ফলোশ্রুতিতে জার শাসিত রাশিয়াতে যেমন তাকে নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে, তেমনি ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের বলশেভিক বিপ্লব পরোবর্তী সোভিয়েত যুগেও সহ্য করতে হয়েছে। ১৯০৫এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন বলশেভিক পার্টিতে। সে বছরই জারের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় প্রথম বিপ্লব, যা ইতিহাসে ‘রক্তাক্ত রবিবার’ বলে পরিচিত। এর পরের বছরই গোর্কিকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর প্রায় সাত বছর তিনি নানান জায়গায় অন্তরীণ হন। এ দীর্ঘ সময়কালের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করেন ইতালির কাপ্রি দ্বীপে। অন্যায় অত্যাচারের চির বিদ্রোহী গোর্কি সেখানেও পরিচালনা করেছেন রাজনৈতিক পঠনপাঠনের বিদ্যালয়। দেশে ফেরেন ১৯১৩ সালে। এর মাত্র চার বছর পর ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়াতে সংঘটিত হয় ইতিহাসের সর্ব প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। পতন হয় জারতন্ত্রের, প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিককৃষকের শাসন। বিপ্লব পরোবর্তী সোভিয়েত রাশিয়াতে তিনি দেশ গড়ার কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু নতুন দেশে নতুনভাবে আর পার্টি সদস্য হননি। শতভাগ মনোনিবেশ করেন লেখালেখিতে। জীবদ্দশায় সোভিয়েত রাশিয়ায় তিনি ছিলেন সাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাট। ‘মা’ উপন্যাস তাকে সোভিয়েত রাশিয়ার গন্ডি ছাপিয়ে পৃথিবীতে এক অভূতপূর্ব মর্যাদার আসনে নিয়ে যায়। কারও কারও মতে অদ্যাবধি এটি পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত এবং সর্বাধিক সংখ্যক ভাষায় অনুদিত একটি গ্রন্থ।

১৯২১ সালে শরীরে যক্ষা ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য লেনিন তাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জার্মানিতে প্রেরণ করেন। বছর দুই চিকিৎসা পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তার প্রিয় ইতালি কাপ্রিতে। সেখানে আরও চার বছর অবস্থান করে সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। অতঃপর ১৯২৮এ দেশে ফেরেন। ব্যাধি যে ঠিক মত সারলো তা নয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জুন ৬৮ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান ম্যাক্সিম গোর্কি।

তখন সোভিয়েত সরকারের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিন। তার সরকার বিষ প্রয়োগের অভিযোগে গোর্কির চিকিৎসকদের বিচারের মুখোমুখি করে এবং শাস্তি দেয়। একই সাথে একই অভিযোগে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সারির কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয়, যা অবিলম্বে কার্যকরও করা হয়। গোর্কির আকস্মিক মৃত্যু রহস্য আজও অনুদ্ঘাটিতই রয়ে গেছে। অনেক পণ্ডিত ব্যক্তির বদ্ধমূল ধারণা, কাজটি আসলে স্তালিনেরই ছিল। কারণ গোর্কি বহু বিষয়ে পার্টির সঙ্গে একমত হতে পারতেন না, সমালোচনা করতেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশে বা তুলে ধরতে অকুণ্ঠ সাহসী ছিলেন। ঘটনার পরিকল্পনাকারী বা হোতা যিনিই হোন না কেন, গোর্কির মৃত্যু যে স্বাভাবিক ছিল না, এ বিষয়ে সকলেই সংশয়হীন। শেষকৃত্যানুষ্ঠানের শবযাত্রায় জোসেফ স্তালিন অংশ নেন কফিন বাহকদের একজন হিসেবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

সূত্রঃ রাউজিং বিডি ডট কম