Archive

Archive for অগাষ্ট, 2015

স্বাস্থ্যকণিকাঃ আমরা কেনো হাই তুলি?

অগাষ্ট 31, 2015 মন্তব্য দিন

yawning-reason

বিভাগ:Uncategorized

রম্য রচনাঃ সুখ আসলে কি?

অগাষ্ট 31, 2015 মন্তব্য দিন

চৈনিক দার্শনিক কনফুসিয়াসেhappinessর কাছে একবার এক দল লোক গেল ‘সুখ আসলে কী’ জানতে! ( তার মানে সে যুগেও মানুষের সুখ নিয়ে হাহাকার ছিল) কনফুসিয়াস তাদের প্রত্যেকের হাতে একটা করে আপেল দিলেন। তারপর বললেন, তোমরা প্রত্যেকে যার যার আপেলে নিজের নাম লেখ।

সবাই লিখল। কনফুসিয়াস বললেন, এবার আপেলগুলো ঐ বড় ঝুড়িতে রাখ। রাখা হলো। কনফুসিয়াস ঝুড়ির আপেলগুলো এলোমেলো করে দিলেন। তারপর বললেন, এবার যার যার নাম লেখা আপেল সংগ্রহ কর।

সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে যার যার আপেল খুঁজতে লাগল। কিন্তু কেউ পাচ্ছে না। একটা হুড়োহুড়ি লেগে গেল। দু’একজন ঠেলাঠেলিতে ছিটকে পড়ল। তখন কনফুসিয়াস সবাইকে থামালেন। বললেন, যার যার নাম লেখা আপেল খোঁজার দরকার নেই। প্রত্যেকে একটা করে আপেল হাতে নাও, তারপর আপেলে লেখা নাম পড়ে যারটা তাকে দিয়ে দাও।

তখন সবাই তাই করল এবং দেখা গেল মুহূর্তে সবাই সবার নাম লেখা আপেল হাতে পেয়ে গেল। তখন কনফুসিয়াস বললেন, এবার বুঝলে সুখ কী?

যার যার নাম লেখা আপেল হাতে সবাই মাথা নাড়ল। তারা তখনও কিছু বুঝতে পারে নি। দার্শনিক তখন ব্যাখ্যা করলেন এভাবে: ‘তোমরা অন্যের নাম লেখা আপেল হাতে নিয়ে নাম পড়ে অন্যকে দিয়ে দিলে এবং নিজেরটাও এভাবেই ফিরে পেলে। তার মানে কী দাঁড়াল? অন্যকে কিছু দিলে নিজের সুখটাও ফিরে আসে।’

সুখ || আহসান হাবীব

বিভাগ:Uncategorized

বাঙালীদের ঘরের কাজ করতে অনীহা

অগাষ্ট 31, 2015 মন্তব্য দিন

বাংলাদেশের বন্ধুরা জুসটাও ঢেলে খেতে জানে না

তসলিমা নাসরিন

লেখালেখি নিয়ে আমার চূড়ান্ত ব্যস্ততা। তারপরও আমি নিজে বাজার করি, রান্না করি। অতিথি এলে বারো পদের খাবার একা আমিই রাঁধি। কাজে সাহায্য করার যে মেয়েটি আসে চার ঘণ্টার জন্য, সে শাকসবজি, পেঁয়াজরসুন কেটে দিলো, ব্যস এটুকুই। মেয়েটি মূলত যে কাজগুলো করে, তা হলো, বাসন মাজা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঘর মোছা। মেয়েটি না এলে আমি ওসব নিজেই করি। তাছাড়া কাপড় কাচার মেশিনটা আমিই চালাই। গাছে আমিই জল দিই। আমি বলতে চাইছি, আমি পারি ঘরের কাজকম্ম করতে। কোনও কাজে আমার অনীহা নেই। আমি নিজেই তো টয়লেট পরিস্কার করি। কারণ টয়লেট পরিস্কার করতে সাহায্যকারীরা রাজি নয়। যেটা বলার জন্য এত সব বলছি, সেটা হলো, ভারত এবং বাংলাদেশের বন্ধুরা যারা আমার কাছে আসে, থাকে, তাদের দেখেছি, তারা ঘরের কোনও কাজে হাত দিতে চায় না, তারা কিছু করতে অভ্যস্ত নয়। জুসটাও ঢেলে খেতে জানে না।taslima-640

আমি যখন তাদের জন্য রান্না করি, তারা ড্রইংরুমে বসে থাকে। আমি যখন বাসন মাজি, ঘর ঝাড়ু দিই, তারা দূরে বসে বসে দেখে। পুরোই হ্যান্ডিক্যাপ্ড। তাদের কাজ হল, বসে থাকা, আর গল্প করা অথবা অনর্থক শুয়ে থাকা। তারা ঘরের কাজগুলো আমার সঙ্গে ভাগ করে করে না, তার কারণ কিন্তু এই নয় যে তারা আমাকে ভালোবাসে না, তারা করে না কারণ কিছু করতে তারা জানে না, করতে শেখেনি, করে অভ্যেস নেই। শেখার এবং করার কোনও ইচ্ছে তাদের নেই। যদি কিছু করতে বলি, যদি বলি তোমার বিছানার চাদরটা চেঞ্জ করো, বা বালিশে নতুন ওয়াড় লাগাও, তাদের মুখ ভার হয়ে যায়, ঘরের কোনও কাজ করাকে তারা ইনসাল্ট বলে মনে করে। যদি ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষই আমার বাড়িতে থাকতো, যারা ইউরোপ বা আমেরিকায় কয়েক বছর হলেও থেকেছে, তাহলে কিন্তু তারা আমার মতো সবকিছুই করতে জানতো। আমি একা ঘরের সব কাজ করছি দেখলে তারাও কিছু কাজ ভাগ করে নিত। নিতে লজ্জা করতো না। অথবা বাসনগুলো মেজে দাও বললে তারা গাল ফুলোতো না।

এই উপমহাদেশের উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েগুলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোয় কয়েক বছর করে থেকে এলে ভালো মানুষ হতে পারতো। কাজ ভাগ করে করা, কোনও কাজকে ঘৃণা না করা, মানুষকে সম্মান করাএসব খুব জরুরি। মুশকিল হলো, জরুরি ব্যাপারগুলোকে মোটেও তারা জরুরি বলে মনে করে না। নিজেদের দেশে তারা গরিব লোক সব সময়ই পেয়ে যাবে, যারা সংসারের সব কাজ করে দেবে। সুতরাং তাদের খামোকা বসে থাকা আর শুয়ে থাকাটা তারা যতদিন বেঁচে থাকে, চালিয়ে নিতে পারবে। আমি বলছি না তারা সব আলসে লোক। তারা কিন্তু বাইরে কাজ করছে, চাকরি বাকরি করছে। কিন্তু ঘরের কাজগুলো তাদের কাজ নয়, ঘরের কাজগুলো চাকর বাকরের কাজ, এটা তাদের মস্তিস্কে জন্মের পরই ঢুকে বসে আছে। প্রয়োজনে এই কাজগুলো যে নিজেও করা যায়, এতে যে কোনও লজ্জা নেইএ সম্পর্কে তাদের কোনও আইডিয়াই নেই।

কার্টুন-রঙ্গঃ চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া

অগাষ্ট 29, 2015 মন্তব্য দিন

fatty-food

চীনের বিস্ময়কর উত্থান: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত?

অগাষ্ট 29, 2015 মন্তব্য দিন

অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। শিল্পায়ন, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, সামরিক, অর্থনৈতিক, পর্যটন, যোগাযোগ, মহাকাশ গবেষণা এমনকি বিভিন্ন দেশের সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা করছে উদীয়মান দেশটি। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি পরিবারে চীনের তৈরি পণ্যসামগ্রী শোভা পাচ্ছে। এক সময়ের কমিউনিজম বলয় থেকে বেরিয়ে দেশটির শক্তিশালী নেতা দেং শিয়াও পিং যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল আজ তার সুফল পাচ্ছে প্রতিটি চীনা নাগরিক। ১৯৭৮ সালের পূর্বে যেখানে চীনের মাথাপিচু আয় ছিল মাত্র ১১’শ ডলার বর্তমানে মাথাপিচু আয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার মার্কিন ডলার। আগামী এক দশকে মাথাপিচু আয় ১৫ হাজার ডলার দাঁড়ালে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। অর্থাৎ চীন বিশ্বমণ্ডলে টর্ণেডোর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব প্রদান।

map-of-east-asia

চীনের আয়তন ও অবস্থান : ১৯৪৯ সালে গনপ্রজাতন্ত্রী চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। চীনের আয়তন ৩৭ লাখ ৪ হাজার ৪২৭ বর্গমাইল। অর্থাৎ আমেরিকার আয়তনের সমান। জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি। দেশটির উত্তরে মঙ্গোলিয়া, উত্তরপূর্বে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া, পূর্বে চীন সাগর, দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, ভারত, ভূটান, নেপাল, দক্ষিণ পশ্চিমে পাকিস্তান, পশ্চিমে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরজিগিস্তান ও কাজাকিস্তান। চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। তাই চীনারা তাদের দেশকে ‘চুংকও’ অর্থাৎ মধ্যদেশ হিসেবে ডাকে। চীনের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, চীনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষা করা, আধিপত্যের বিরোধিতা করা, বিশ্বশান্তি রক্ষা করা, দেশ যত ছোট বা বড় হোক, শক্তিশালী হোক আর দুর্বল হোক সবাই আন্তর্জাতিক সমাজের একই মর্যাদাপ্রাপ্ত। ১৯৫০ সালে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রায়ত্ব করা হয়। সে সময় চীন মূলতঃ সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে। এরপর চীনের লৌহ মানব দেং শিয়াও পিং চীনকে অথনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে মুক্ত সংস্কার অর্থনীতি গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে হংকং এর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ১৯৮০ দশকের চীনে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্ধন শুরু হয়। বিমান বন্দর, সড়ক, রেলপথ, নৌবন্দর নির্মাণ বৃদ্ধি পায়। ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত গড়ে ১০% অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি অর্জন সম্ভব হয়।

চীনের শিল্প বিপ্লব : শিল্পায়ন ব্যতীত দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। চীনের লৌহ মানব দেং শিয়াও পিং এ বিষয়টি উপলব্ধি করে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। দেশকে শিল্পায়নে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষে আশির দশক থেকে দ্রুত অগ্রগতি লাভ করে চীন। দেশটিতে অনেকগুলো ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রয়েছে। এগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করা হয়। বিদেশে রফতানির পূর্বে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিশেষভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী জাহাজ চারটি মহাদেশে চীনা পণ্য পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে  উৎপাদিত পণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজার দখল করে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপের কোনো দেশ একটি পণ্য বাজারজাত করার কয়েক দিনের মধ্যে চীনারা উক্ত পণ্যটি আরো কম মূল্যে প্রস্তুত ও বাজারজাত করছে। ফলে অধিক সস্তায় ক্রেতারা চীনা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। আর এভাবে চীনা পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, কোনো শত্রু দেশও চীনা পণ্যের আগমন ঠেকাতে পারছে না। দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে চীন অর্থনীতিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। চীনের শিল্পোন্নতি ও অথনৈতিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গত এক দশকে দেশটিতে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এক কথায় ১৩৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটির বিশাল বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে। একসময় পণ্য সামগ্রী রফতানীর শীর্ষে ছিল জার্মানি। ২য় ও তয় যথাক্রমে জাপান ও আমেরিকা। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানিকে পেছনে ফেলে চীন রফতানীর শীর্ষ পদটি দখল করে। মানুষের প্রয়োজনের সবগুলো পণ্য উৎপাদন করছে চীন।

hainan-1চীনের প্রতিরক্ষা শিল্প : শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পেও চীন প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন চমক প্রদর্শন করে চলেছে। এক সময় আমেরিকার অহংকার এফ১৬ যুদ্ধ বিমান ছিল শত্রু পক্ষের জন্য চরম আতঙ্কের বিষয়। কিন্তু চীন আমেরিকার এ১৬, বি স্টিলথ বোমারু বিমান, গোয়েন্দা বিমান কিংবা মহাশূন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। আমেরিকা উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম অর্জন করে দশ বছর পূর্বে। অপরদিকে ২০১৩ সালে চীনের একটি উপগ্রহ অকেজো হওয়ায় এটি ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানার আশংকা ছিল। কিন্তু চীন তার নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উর্ধ্বে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উপগ্রহটি ধ্বংস করে বিশ্বকে অবাক করে দেয়। চলতি বছর আমেরিকা ১১’শ কোটি ডলার ব্যয়ে বিশাল আয়তনের বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন করে। এর মাত্র দেড় সপ্তাহ পর চীন ঘোষণা করে যে, তাদের কাছে এমন সব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছেযেগুলো দিয়ে আমেরিকার সকল রণতরী এমনকি ডুবোজাহাজও সনাক্ত করে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিষয়টি নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। সর্বশেষ একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, মহাকাশে আমেরিকার আধিপত্য ঠেকাতে চীন অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করেছে এমনকি মহাকাশে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব যেকোনো সময় খর্ব করে দিতে পারে চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

দেড় দশক পূর্বে ইউক্রেন থেকে ভাসমান ক্যাসিনো নির্মাণের জন্য চীন ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ক্রয় করে। পরে চীনারা ২০১৪ সালে ওই জাহাজটিকে ”বিমানবাহী রণতরী”তে রূপান্তর করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এরপর আরো একটি বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রে যাত্রা করে। আগামী এক দশকে চীন অন্তত আরো ৪টি বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ করবে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।Liaoning big

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমেরিকার ১১টি বিমানবাহী রণতরী ৪টি মহাদেশের সাগর মহাসাগরে বিচরন করছে। পারমানবিক ডুবোজাহাজ নির্মাণে চীন অনেকদূর এগিয়েছে। আগামী ১০/১২ বছরে চীন পারমানবিক ও ডিজেল চালিত ডুবো জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। চীনের অকৃত্রিম মিত্র পাকিস্তান আগামী এক বছরের মধ্যে চীন থেকে ৬টি ডুবোজাহাজ গ্রহণ করবে। গত কয়েক দশকে চীন কারো সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। সেক্ষেত্রে চীনা গণফৌজসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাস পাবার কথা। কিন্তু চীন বিষয়টি উপলব্ধি করে বিভিন্ন দেশের সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে আসছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিবছর প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করলেও বাস্তবে এখাতে আরো বেশী অর্থ ব্যয় করে থাকে। এর মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, বৃটেন, চীন উল্লেখযোগ্য। তাই চীনও এ পদাঙ্ক অনুসরণ করে আসছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, চীন কী ধরনের এবং কী পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করে থাকে সেটা আজানা থেকে যায়। চীনের প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর সেক্টরের তথ্যাদি দেশটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনী কিংবা অস্ত্রশস্ত্রের সঠিক হিসাবনিকাশ প্রায়ই অজানা থেকে যায়। এক্ষেত্রে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যেটুকু প্রকাশ করেশুধুমাত্র সেটাই বিশ্ববাসী জানতে পারে। আর এতে করে চীনের চৌকশ প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা আমেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। অর্থনীতির পাশাপাশি চীনের সামরিক উত্থানে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা মহা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে।

চীনের অর্থনৈতিক অবস্থান : আমেরিকা, পশ্চিমাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক, বীমা, শিল্প, যোগাযোগ, পর্যটন থাতে চীন হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্য আমেরিকা সর্বত্র চীনের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ, সেতু, ভবন, বিমানবন্দর, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণে চীনাদের জুড়ি নেই। চীনে ৪৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল সেতু রয়েছে। মাত্র তিন বছরে ওই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। ১০ মাত্রার ভূমিকম্প নিরোধ সেতুটি। এটি নির্মাণে ৪২ লাখ মেট্রিক টন ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে। তেমনিভাবে মাত্র ৬০ দিনে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ চীনাদের কীর্তি বহন করে। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার বহু দেশে চীনের আর্থিক সহযোগিতায় অর্থনৈতিক গতির সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশেও চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক কথায় সমস্যা জর্জরিত ৮/১০ টি দেশকে একসাথে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল করতে পারে একমাত্র চীন। যেটা অন্য কোন দেশের পক্ষে সম্ভবপর নয়। চীনের বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানী ও ফ্রান্সসহ চারটি দেশের রিজার্ভের সমান। শুধু নিজ দেশেই নয়বরং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের শিল্পায়নের চীন বিনিয়োগ করছে। ফলে শিল্পক্ষেত্রেও বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে অগ্রসর হচ্ছে চীন। কথায় বলে, চীনের প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রী যে দেশ সফর করে থাকেসে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। প্রবাদটি অমূলক নয়। চীনা প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেন। ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে করাচীতে ১১’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। যেটা পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচে বড় বিনিয়োগ বলেছে বিশেষজ্ঞরা। তেমনিভাবে ইউক্রেন ইস্যুতে পাশ্চিমারা ২০১৪ সালে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন রাশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। এর কয়েক মাস পর চীনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির সাথে ৭ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি করে। ফলে রাতারাতি রাশিয়ায় অর্থনৈতিক গতি ফিরে আসে। অর্থাৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন সারা বিশ্বকে মাকড়সার জ্বালের ন্যায় আবদ্ধ করছে। এতে উভয় দেশই উপকৃত হচ্ছে।

china-construction-tower_3

বৈদেশিক সম্পর্ক : শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্বির পাশাপাশি চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অনেকদূর এগিয়েছে। বিশেষ করে, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশেগুলোর সাথে চীনের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। অপরদিকে অর্থনীতি ও শিল্পায়নের সুবাদে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশে ‘আর্থিক রক্ষাকবজ’এর ভূমিকা পালন করছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল বাজারে এখন চীনা পণ্যের সমাহার পর্যটকদের নজর কাড়ে। এক সময়ের কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি বর্তমানে বন্ধু রাষ্ট্রের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছে। চীনা পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এক সময় ভারতের বাজারে বিদেশী পণ্য কদাচিৎ দেখা গেলেও মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর সুবাদে এখন চীনা পণ্যের রমরমা ব্যবসা চলছে দেশটিতে।

পরিশেষে : সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, কঠোর পরিশ্রম, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কঠোর নীতি প্রণয়ন এবং শত কোটি অধিবাসীর অগাধ দেশ প্রেমের সুবাদে চীন সারা বিশ্বের জন্য রোল মডেল। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যে কোন ইস্যুতে চীন এখন শক্তিশালী অভিভাবকের আসনে আসীন। এক সময়ের বিরুদ্ধবাদী এমনকি শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোও বর্তমানে বাধ্য হয়ে চীনকে সমীহ করে চলেছে। বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য, অগাধ অর্থ, চমক লাগানো সামরিক শক্তি এবং হিমালয়ের ন্যায় দেশপ্রেম সম্পন্ন চীন বিশ্ব মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এক সময় আমেরিকারাশিয়াকে দুই পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে সব হিসাবনিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। যোগ্যতার নিরিখে চীন এই মর্যাদা লাভ করেছে। সুতরাং আমি মনে করি ‘চীনের বিস্ময়কর উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে।‘

লেখক : আনোয়ারুল হক আনোয়ার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব এবং আন্তর্জাতিক গবেষক।

আমেরিকা নামক দেশটির কিছু অন্ধকার দিক…

অগাষ্ট 28, 2015 মন্তব্য দিন

সিআইএ’র ওয়েব সাইটে বিশ্বের সকল দেশের তথ্য হালনাগাদ থাকে। আজকের বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও এফবিআই’র দাপটের ব্যাপারে নতুন করে বলার কিছু নেই। মার্কিনীরা নিজের দেশের অপরাধের চেয়ে বাইরের দেশে সন্ত্রাসবাদ খুজেঁ বেড়ায়। নিজের দেশের পারমানবিক বোমা অক্ষুন্ন রেখে বাইরের দেশের পারমানবিক বোমা ধ্বংসের জন্য হুমকি ধমকী দিয়ে যায়। ওয়ান ইলেভেন’র টুইন টাওয়ার ধসের পর লাদেনকে খোঁজ করার নামে ধ্বংস করে আফগানিস্তান রাষ্ট্রটি।

নিরীহ জনগণের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর চড়াও হয় ইরাকের উপর। এখনও পর্যন্ত চলছে ধ্বংসলীলা। ইরাক নামের ঐতিহাসিক দেশটিও ধ্বংস করে দেয়া হয়। এভাবে চলছে ধ্বংসের খেলা। ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র দেশ আমেরিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কারাগারে বন্দী থাকে। সে দেশের রাষ্ট্রনায়করা যখন ‘স্বাধীনতাগণতন্ত্র’ রক্ষার নামে বিভিন্ন দেশের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, ডাক দেয় অনন্ত যুদ্ধের, তখন ঢাকা পড়ে যায় আমেরিকা নামক দেশটির অন্ধকার দিকটি।

সারা বিশ্বে ‘উন্নত’ ‘সভ্যতার ধারক বাহক’ বিশ্বের মোড়ল এ রাষ্ট্রটির প্রকৃত চেহারা আমাদের অনেকেরই অজানা। আজকে আমেরিকা বললে আমরা পাগল। সবাই ছুটে যেতে চায় সেখানে। যেন অবারিত সুখের হাতছানি। এ সুখের হাতছানিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধা পাচার হচ্ছে, ডিভি লটারিসহ নানা কান্ডের আমেরিকান লোভ আমাদের নেশাগ্রস্ত করে তুলছে। সারা বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উপর আমেরিকান দমন পীড়ন চলছে। মরছে নারী, শিশুসহ লাখ লাখ সাধারন মানুষ।

টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখছি। আমেরিকা মারছে। আজকে আফগানিস্থান, কালকে ইরাক। এভাবে একের পর এক দেশ আমেরিকান সন্ত্রাসের বলি হচ্ছে। তারপরও আমেরিকা সভ্যতার ধারক ও বাহক। আমরা ছুটে যেতে চায় সেখানে। ‘মাইকেল প্যারেন্টি’ আমেরিকান একজন সাধারণ মানুষ। জন্মের পর থেকে তার পক্ষে আমেরিকার এসব ‘দাদাগিরি’ পছন্দ হতো না। ছোট বেলা থেকে আমেরিকান বিভিন্ন ধ্বংসলীলা দেখে দেখে প্যারেন্টি নিজ দেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকেন। লিখতে থাকেন একের পর এক মার্কিন সমালোচনা। এক সময় তার লেখা আমেরিকান সমাজে আলোড়ন তুলতে থাকে।

state_by_state_political_issues

মার্কিনী সরকার তার ব্যাপারে নড়ে চড়ে বসে। শেষপর্যন্ত আমেরিকার মূলধারার বিরুদ্ধ মতাবলম্বন ও রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারেন্টি আর পড়তে পারেননি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের দেশ আমেরিকার সমাজের চিত্র নিয়ে মাইকেল প্যারেন্টি ১৯৯৬ সালে একটি বই প্রকাশ করেন। ‘কলঙ্কিত সত্য’ নামের এ বই প্রকাশের পর আমেরিকা শুধু নয় সারা বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

যারা এ স্বপ্নের দেশে যাবার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাদের বেশিরভাগেরই অজানা এ চিত্র। কারণ আমেরিকার অভ্যন্তরে কি হচ্ছে তার বেশিরভাগ অজানাই থেকে যায়। কাগজে কলমে রেকর্ড থাকলেও মোড়ল রাষ্ট্রের এসব দুর্বলতা বিশ্বে খুব কমই প্রকাশিত হয়। ‘আমি বহু লোককে দেখেছি একটা কাজের জন্য কাদঁতে কাদঁতে এই ঘরের মেঝে ভিজিয়ে ফেলেছে। আমাদের আবেদন করতে হয়েছে কেউ এসে এদের আত্মহনন থেকে ঠেকাক। অনেকেই (বলে তারা) স্রেফ মরে যেতে চায়’..বলছিলেন একটি প্রাইভেট সোস্যাল এজেন্সির একজন পরিচালক। আর জায়গাটা ছিল গাড্সডেন, আলবামা।

১৯৯৬ সালে মাইকেল প্যারেন্টি যখন বইটি লিখছিলেন তখন আমেরিকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ কোটি আর এখন প্রায় ৩১ কোটি। প্যারেন্টি সারা বিশ্বের সভ্যতার ধারকবাহক এই মোড়ল রাষ্ট্রের অভ্যন্তরিণ কিছু নিষিদ্ধ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। যাতে বেরিয়ে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চিত্র। যা প্রকাশিত হতে পারতো আমাদের রাষ্ট্রের অপরাধের চিত্রের মতোন। কিন্ত খুব একটা হয় না। অতিতেও হয়নি এখনও হয় না। আমেরিকান মিডিয়াগুলোও বহিঃবিশ্ব নিয়ে যতটুকু সচেতন তার চেয়ে নিজের দেশে কি হচ্ছে তা নিয়ে তারা অচেতনই থাকেন। তাই মিডিয়াতে নিজের দেশের অপরাধ তেমন একটা প্রকাশ পায় না। আর এতগুলো অঙ্গরাজ্যে কে বা কার খবর রাখে।

কি রয়েছে তার ‘কলঙ্কিত সত্য’ বইয়ে। সেখানে তিনি প্রকাশ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে কোন একটি বছরে ‘২৭ হাজার মার্কিন নাগরিক আত্মহত্যা করে। ৫ হাজার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় (অনেকের মতে এ সংখ্যা আরও বেশি)। ২৬ হাজার মানুষ মারা যায় ঘরের ভেতরেই মারাত্মক দূর্ঘটনায়। ২৩ হাজার মানুষ খুন হয়। ৮৫ হাজার মার্কিন নাগরিক আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হন। এর মধ্যে পরে মারা যান ৩৮ হাজার। যার মধ্যে ২ হাজার ৬০০ জন শিশু। ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন নাগরিক নানা রকম অপরাধের কবলে পড়েন যার মধ্যে রয়েছে শারিরীক আক্রমন, ধর্ষন, ডাকাতি, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি। ১ লাখ ৩৫ হাজার শিশু স্কুলে বন্দুক নিয়ে যায়। ৫৫ লাখ ব্যক্তি নানা অপরাধের জন্য গ্রেফতার হন।

To mark the fortieth anniversary of John F. Kennedy’s assassination, AMERICAN EXPERIENCE reprises The Kennedys, a dramatic portrait of America’s most famous political family, airing Monday and Tuesday, November 17 and 18, at 9pm on PBS (check local listings). Here, John Kennedy Jr., age 3, salutes as his father’s casket is carried from St. Matthew’s Cathedral, Washington, DC; November 25, 1963. CREDIT: © Bettmann/Corbis USAGE: This image may be used in the direct promotion of AMERICAN EXPERIENCE. No other rights are granted. All rights are reserved.১ লাখ ২৫ হাজার ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে অকালে মারা যান। ৪ লাখ ৭৩ হাজার ব্যক্তি তামাক ব্যবহার জনিত অসুস্থতায় অকাল মৃত্যুবরন করে যার মধ্যে ৫৩ হাজারই অধুমপায়ী। ৬৫ লাখ ব্যাক্তি নিয়মিতভাবে হিরোইনসহ নানা মাদক ব্যবহার করে, ৫ হাজার অবৈধ ড্রাগ ব্যবহার করে মারা যায়, ৩ কোটি ১৫ লাখ নাগরিক (প্রায় ৮ জনে ১ জন) গাজাঁ ব্যবহার করে আর এদের মধ্যে ৩ লাখ ভয়াবহ নেশাগ্রস্ত। ৩ কোটি ৭০ লাখ বা প্রতি ৬ জনে ১ জন নিয়মিতভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ ব্যবহার করেনএদের বেশির ভাগই মহিলা। ডাক্তাররা এটা ব্যবহার করতে বাধ্য করে আর এগুলোর যোগান দেয় ঔষধ কোম্পানি। কারণ এ ব্যবসায় লাভ বেশি।

হাসপাতালে ভর্তি হন এমন ২০ লাখ ব্যক্তিকে খুবই মন নিয়ন্ত্রক ঔষধ দেয়া হয়। ৫ হাজার মানসিক নিয়ন্ত্রণকারী ড্রাগ ট্রিটমেন্টে মারা যায়। ২ লাখ লোককে ইলেকট্রিক শকের চিকিৎসা দেয়া হয় যেটা মাথায় ও স্নায়ু যন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। ৬ থেকে ১

হাজার জনের মস্তিষ্কের সামনের দিকে একটা অংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা, ২৫ লাখ মার্কিন নাগরিক অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ১ জন মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য চায়, ব্যবস্থাপত্র নেয় বা মানসিক ও আবেগজনিত সমস্যায় মেডিকেলে যায়। এতে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়। ১৩ লাখ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাকালে আঘাতজনিত কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০ লাখ ব্যক্তি অপ্রয়োজনিয় শল্য চিকিৎসা গ্রহণ করে আর এর মধ্যে ১০ হাজার অপারেশনের কারনে মারা যায়। ১ লাখ ৮০ হাজার লোক ঔষধের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় মারা যায়, ১৪ হাজারেরও বেশি লোক বৈধ প্রেসক্রিপশনে দেয়া ঔষধের অধিক মাত্রার কারনে মারা যায়। ৪৫ হাজার মানুষ মোটরগাড়ী দূর্ঘটনায় মারা যায়। ১৮ লাখ মানুষ কম মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করে।

১ লাখ ২৬ হাজার শিশু বড় ধরনের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জম্মায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই কারণ হচ্ছে বাবা মায়ের যত্নের অভাব, পুষ্টির অভাব,পরিবেশগত বিষাক্ততা, মায়ের ড্রাগ আসক্তি। ২৯ লাখ শিশু ভয়াবহ রকমের অবহেলা, অপমান, শারীরিক নির্যাতন ও ইচ্ছেকৃত না খাইয়ে রাখার শিকার হয়। ৫ হাজার শিশু পিতামাতা, দাদাদাদি বা নানানানির হাতে প্রাণ হারায়।

৩০ হাজার শিশু নির্যাতন ও অবহেলার কারণে স্থায়ী রূপে শারিরীকভাবে অক্ষম হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশু নির্যাতনে প্রতি বছর যে সংখ্যক শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা ব্লাড ক্যান্সার, মোটর যান দুর্ঘটনা, নানা সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুও চেয়েও বেশি। ১৪ লাখ শিশু বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এদের বেশিরভাগই পিতা – মাতা এবং বয়স্কদের দ্বারা যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পথে ঘাটে যে সব যৌন নিপীড়িত শিশুদের পাওয়া গেছে তাদের শতকরা ৮৩ ভাগ শ্বেতাঙ্গ পরিবার থেকে আসা। দেড় লাখ শিশু হারিয়ে যাওয়ার খবর বিভিন্ন রির্পোটে পাওয়া যায়।ferguson_protest

এদের মধ্যে ৫০ হাজারকে আর কখনই খুঁজে পাওয়া যায় না। এরা ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী। নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষ্য মতে, এদের মধ্যে কেউ কেউ মারা যায়। সম্ভবত প্রতি বছর যত শিশুকে কবর দেয়া হয় তার অর্ধেকই নাম পরিচয়হীন। ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ নারী নির্যাতিত হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহিলাদের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ হলো ঘরের নির্যাতন এবং তাদের আঘাত পাওয়ার একমাত্র বৃহত্তম কারণ হলো এই নির্যাতন। ৭ লাখ নারী ধর্ষিত হয়। যা প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে ১ জন। ৫০ লাখ শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে আহত হয়, এদের মধ্যে দেড় লাখ কর্ম সর্ম্পকিত স্থায়ী অক্ষমতায় ভোগে যার মধ্যে রয়েছে পঙ্গুত্ব, পক্ষাঘাত, নষ্ট শ্রবন শক্তি, অন্ধত্ব ও বন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ অক্ষমতা। ১ রাখ ভয়াবহ পেশা জনিত রোগে ভোগে যার মধ্যে আছে ফুসফুস কালো হয়ে যাওয়া, ক্যান্সার এবং যক্ষা। ১৪ হাজার কর্মস্থলে খুন হয়। এদের মধ্যে ৯০ ভাগ পুরুষ।

১ লাখ মানুষ পেশাজনিত রোগেভোগে অকাল মৃত্যুবরণ করে। ৬০ হাজার মানুষ কেবলমাত্র বিষাক্ত পরিবেশগত দূষণ অথবা খাদ্য, জল ও বায়ু দূষণের কারনে মারা যায়। ৪ হাজার মানুষ বিষাক্ত মাংস খেয়ে মারা যায়। ১০ লাখ লোকের এইডস আছে। যার মধ্যে আড়াই লাখ মারা গেছে। ১০ লাখেরও বেশি শিশুর আশ্রয় অনাথ আশ্রম বা জেলখানা। পরিবারের মধ্যে বসবাসকারী ১৮ লাখ প্রবীণকে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

জোর করে বন্দি রাখা, প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার দেয়া, প্রহার করা হয় প্রবীণদের। ১ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিক হাঁপানি রোগে ভুগছে। ৪ কোটি ব্যক্তি অথবা প্রতি ৪ জন মহিলার মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে ১জন, বেশিরভাগই তাদের বয়স যখন ৯ থেকে ১২ বছর সে সময়কালে ঘনিষ্ট বা দূর সর্ম্পকের আত্মীয়দের যৌন নিপীড়িত

হয়। এ ধরনের নির্যাতন স্মৃতিতে সারা জীবনের জন্য দুঃসহ হয়ে বারবার ফিরে আসে।

আমেরিকান ‘মাইকেল প্যারেন্টি’র কথা *:: কাজী আবুল মনসুর ::* দৈনিক পূর্বকোণ, শুক্রবার, ২৯ অগাষ্ট ২০১৪

সৌদি আরবে প্রতি দুইদিনে একজনের শিরশ্ছেদ!

অগাষ্ট 27, 2015 মন্তব্য দিন

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ১৭৫ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসেব মতে প্রতি দুই দিনে একজনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। জুনের মধ্যে প্রথম ছয় মাসেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০২ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯৯৫ সালেই সবচেয়ে বেশিসর্বমোট ১৯২ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। সৌদি আরবে এমনকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ বছরেsaudi-beheading-2র নিচের শিশু এবং শারীরিকভাবে পঙ্গুরাও শিরশ্ছেদের হাত থেকে রেহাই পায় না।

অ্যামনেস্টির তথ্য মতে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হার বাড়তে থাকে। এরপর নতুন রাজা সালমানের অধীনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেক এতে আরো উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

২৫শে আগষ্ট, ২০১৫ প্রকাশিত অ্যামনেস্টির ৪৪ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবে ২ হাজার ২০৮ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এদের ৪৮.৫ শতাংশই ছিল আবার বিদেশি নাগরিক।

১৯৯১ সাল থেকে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলোর ২৮ শতাংশই দেওয়া হয়েছিল মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, ব্যাভিচার, ধর্মদ্রোহীতা, যাদুটোনা ও ডাকিনীবিদ্যা চর্চার অপরাধে। এর অনেকগুলোই হয়তো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোনো অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে না। অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য শাখার পরিচালক বৌমেদৌহা বলেন, সৌদি আরবে যে বিচার পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে তা গভীর ত্রুটিপূর্ণ।

এছাড়া দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

এছাড়া শরীয়াহ আইনের আওতায়, দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন অনেক মানুষেরও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু পক্ষপাতিত্ব চোখে পড়েছে।

২০১৪ সালের ২৭ মে জেদ্দার একটি আদালত আলী মোহাম্মদ বাকির আল নিমর নামের ১৬১৭ বছর বয়সী এক শিশুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা এবং সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু মূলত স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আর নির্যাতনের মাধ্যমেই ওই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় বলে দাবি অ্যামনেস্টির। আর এ বছর ১৪ এপ্রিল এক ইন্দোনেশীয় নারী, দুই সন্তানের মা জয়নবের শিরশ্ছেদ করা হলো গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়। এটিও প্রমাণিত হয়েছিল, জয়নব একজন মানসিক রোগী। অপরদিকে গত বছর, ৭ ডিসেম্বর রফিক তাজুল ইসলাম (৩২) নামক এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবককে যখন আজান দিতে দেরি করার ‘অপরাধে’ ওরতাবিয়াহ মসজিদের মুয়াজ্জিন গুলি করে হত্যা করে, তখন ঐ মুয়াজ্জিনকেও মানসিক ভারসাম্যহীন ঘোষণা করা হয়। ফলাফল : বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত।

শিরশ্ছেদ বেশির ভাগ সময়েই সংঘটিত হয়েছে জনসমক্ষে। বহু লোক সমাগম ঘটে এমন কোনো চত্বরে। এমনও হয়েছে, শিরশ্ছেদের পর মৃতদেহটি তার ছিন্ন মাথাসহ চত্বরের কোনো বাতিদণ্ডে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, প্রদর্শনীর জন্যে। সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ড প্রদানপ্রক্রিয়া আলোচনায় এসেছে মূলত এর বীভৎসতার জন্যে। যদি শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকরপ্রসঙ্গ বিচার করা হয়, তাহলে সৌদির চেয়ে এগিয়ে আছে চীন ও ইরান। আর সৌদি পেছনেই রয়েছে ইরাক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।