Archive

Archive for জুন, 2015

মরিশাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট আমিনা ফেরদৌস

মুসলিম আমিনা ফেরদৌস-কে মরিশাসের অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে ! ব্যাপারটা আমাদের মাথায় রাখা দরকার । সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম হলে কি আমরা তখন সংখ্যালঘিষ্ট থেকে কাউকে রাষ্ট্রশাসনের দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত আছি?

amina_ferdousভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মরিশাসের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির ডাকসাইটে জীববিজ্ঞানী আমিনা ফেরদৌস গারিবফাকিম। দেশটির সংসদ বৃহস্পতিবার তাকে এই পদে নির্বাচিত করে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট কৈলাস পুরিয়াগ পদত্যাগ করলে এ পদটি শূন্য হয়।

আমিনাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী স্যার আনেরুড জগনাউথ। সংসদ তা বলিষ্ঠভাবে অনুমোদন দিয়েছে। বিরোধী দলও তার মনোনয়ন সমর্থন করেছে।

আমিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদের স্পিকার হানুমানজি মায়া বলেছেন, ‘মরিসাসের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা যে, এই পদে (প্রেসিডেন্ট) আসীন হলেন কোনো নারী।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জগনাউথ বলেছেন, ঐতিহাসিক এই পরিবর্তনের অংশ হতে পেরে তিনি খুব গর্বিত। তিনি বলেন, আমিনা এই পদটির জন্য যথার্থই যোগ্য।

শুক্রবার মরিসাসের ৬ষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ৫৬ বছর বয়সী আমিনা ফেরদৌস গারিবফাকিম।

১৯৬৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে মরিশাস।

দেশটি আফ্রিকার অন্যতম ধনী এবং সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত।

১৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্য আয়ের দেশটির মাথাপিছু আয় ৯০০০ মার্কিন ডলার।

মরিশাসের জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এখানে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ১৮ ভাগ।

4 Jun, 2015

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রোযা পালনের সময়কাল

world-time-4

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রোজা পালন করছে উত্তর ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ড। আইসল্যান্ডে এবার সেহরি খেতে হচ্ছে রাত দু’টোয় আর ইফতার হয় পরের দিন রাত ১২ টায়। সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার ব্যবধান। আর সবচেয়ে অল্প সময়ের রোজা পালিত হচ্ছে চিলিতে। সেখানে বৃহস্পতিবার রোজার সময় ছিল মাত্র ৯ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। বাংলাদেশে প্রথম রোজার সময় ছিল ১৫ ঘণ্টা ০৪ মিনিট।

আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে ফিরে আসে পবিত্র রমজান মাস। প্রতিটি মুসলমানের আত্মার পরিশুদ্ধতার মাস এই রমজান। কিন্তু সেই রোজাই কারো কারো জন্য হয়ে ওঠে অপেক্ষাকৃত কঠিন, কারো জন্য অনেক সহজ। রোজা পালন সে তো সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে। সূর্যোদয়ের আগেই খেয়ে নিতে হবে সেহরি। আর ইফতার করতে হবে সূর্যাস্তের পর। এর মাঝে নেই কোনও খাদ্য গ্রহণের সুযোগ। কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইফতারের দু’ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়। অর্থাৎ তাদের জন্য রোজা ২২ ঘণ্টার। অকল্পনীয় মনে হলেও এটাই বাস্তব!

বিশ্বজুড়ে কেমন হবে এবারের রোজা? প্রকৃতির খেয়ালে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বিশ্বের নানা দেশে রোজার সময় কমবেশি হয়। বিশ্বের কোথায় কোন ভৌগলিক অবস্থানে রয়েছেন তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় এই সময়। এতে তৈরি হয় সময়ের হেরফেরও। বিশ্বের কোথাও সেই সময় ২২ ঘণ্টা আবার কোথাও ১০ ঘণ্টারও কম।

আইসল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৩,২৩,০০২ জন। এর মধ্যে মাত্র ৭৭০ জন মুসলমান। তবে এই ৭৭০ জনের মধ্যে যারা পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা করেন, তারা এক দিক থেকে বিশ্বের আর সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ছাড়িয়ে যান। সুইডেনে ২০ ঘণ্টার রোজা: খুব গরমের মধ্যে রোজা হলে সুইডেনের মুসলমানদেরও কষ্টের সীমা থাকে না। দেশটির ৫ লাখ মুসলমানের মধ্যে যারা রোজা রাখেন, তাদের ইফতারের মাত্র চার ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়। উল্টো দিক থেকে ভাবলে কষ্টটা বুঝা যায়। সুইডেনের মুসলমানদের অনেক দিন সেহরির ২০ ঘণ্টা পর ইফতার খেতে হয়।

আলাস্কায় ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের রোজা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ৩ হাজার মুসলমানের মধ্যে কেউ কেউ আজকাল সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে সেহরি আর ইফতার করতে শুরু করেছেন। গ্রীষ্মকালে ভীষণ গরম থাকে সেখানে। তার ওপর কোনো কোনোদিন সূর্যোদয়ের ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর সূর্য ডোবে। তীব্র গরম, তার উপর এত লম্বা সময় ধরে রোজা রাখা সত্যিই এক চরম ত্যাগের প্রমাণ।

জার্মানিতে ১৯ ঘণ্টার রোজা

রমজান মাসের এই সময়ে দিন খুব বড় বলে জার্মানির মুসলমানদেরও রোজা রাখতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। এ বছর জার্মানিতে সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে সেহরি খেতে হচ্ছে রাত সাড়ে তিনটায় আর ইফতার রাত ১০টায়।

ইংল্যান্ডে ১৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের রোজা

ইংল্যান্ডে সেহরি থেকে ইফতারের সময়ের পার্থক্য ১৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। রমজান শুরুর আগেই তাই মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন নামের একটি সংগঠন এত দীর্ঘ সময়ের রোজা রাখার আগে ভেবে দেখতে বলেছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এত লম্বা সময় রোজা রাখলে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ডায়বেটিসে আক্রান্তদের প্রাণহানির শঙ্কাও দেখা দিতে পারে। ব্রিটেনে এখন প্রায় ২৭ লক্ষ মুসলমান আছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজারই ডায়বেটিসে আক্রান্ত।

কানাডায় ১৭ ঘণ্টা ৭মিনিটের রোজা

এখন প্রায় ১০ লক্ষ মুসলমান আছে কানাডায়। সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস টরন্টোতে। এবার কোনো কোনো দিন সেহরির প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ইফতারি খেতে হবে তাদের।

তুরস্কে সাড়ে ১৭ ঘণ্টার রোজা

মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্কেও গরমকালে রোজা রাখতে হয় খুব কষ্ট করে। এবার সেহরির প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর ইফতার করতে হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

http://www.banglamail24.com/news/2015/06/20/id/227588/ ২০ জুন ২০১৫

সর্বত্র মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ের দ্বার খুলে দাও

michelle_london-school-200615এ মুহূর্তে সারাবিশ্বে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া মেয়েদের সংখ্যা ৬ কোটি ২০ লাখেরও বেশি। নিজেদের ভেতরে থাকা সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ থেকে ওই মেয়েদের বঞ্চিত রাখার এক অবিচার এটি। প্রায়ই মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে অনতিক্রম্য বাধার মুখোমুখি হয়। যেমন: সামর্থ্যরে বাইরে বিদ্যালয়ের বেতন, জবরদস্তিমূলক বাল্যবিয়ে ও গর্ভধারণ, ছেলেদের মতো মেয়েদের এত লেখাপড়া করা উচিত নয় এমন সামাজিক ধারণা ইত্যাদি।

যেসব মেয়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পর বিয়ে হয় ও সন্তানের জন্ম হয়, তাদের মাতৃত্বকালীন ও সন্তান মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। তাদের শিশুদের এইচআইভি/এইডসেআক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম। এর অর্থ, নারী শিক্ষার বিষয়টি কেবল একটি নৈতিক ইস্যুই নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ইস্যু। সহিংস সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের হাতে থাকা সেরা অস্ত্রটি হলো শিক্ষা। তাই এ ইস্যুটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। নারী শিক্ষার বিষয়টি একই সঙ্গে জরুরি অর্থনৈতিক ইস্যুও বটে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মেয়ের বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণের বয়স অতিরিক্ত এক বছর বাড়ার অর্থ তার আয় করার সক্ষমতা ১০২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া। সুতরাং আরও বেশি মেয়েকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠানোর মাধ্যমে একটি দেশের পুরো অর্থনীতিরই অগ্রগতি হতে পারে।

কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি শুধুই নীতি বা অর্থনীতির ব্যাপার নয়। এটি একান্তই ব্যক্তিগত। কেননা, আমি এ ইস্যুটি নিয়ে একজন ফার্স্টলেডি হিসেবে লড়ছি না। লড়ছি একজন মা হিসেবে।

আমি যখন বিদেশ সফরে যাই, তখন আমি ওই মেয়েদের দেখি। প্রতিবারই আমি তাদের প্রচআবেগ, বুদ্ধিমত্তা ও জানার অপরিসীম আগ্রহ দেখে অভিভূত হই। আমি তাদের মধ্যে আমার নিজের মেয়েদের দেখতে পাই। আমার নিজের মেয়েদের মতো, ওই মেয়েদের প্রত্যেকের মধ্যেই অসাধারণ কিছুর স্ফুলিঙ্গ বিদ্যমান। কিন্তু একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে, আমার মেয়েরা নিজেদের মধ্যকার লুকায়িত সম্ভাবনাগুলো বিকাশের সুযোগ পেয়েছে আর তারা পায়নি। তাই আমরা যারা পিতামাতা ও দাদাদাদি, তাদের উচিত আত্মজিজ্ঞাসা করা যে, আমরা আমাদের নিজেদের মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া মানতে পারবো কিনা। আমরা তাদের ১২ বছর বয়সে পূর্ণবয়স্ক এক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে, ১৩ বছর বয়সে গর্ভবতী হতে দিতে পারবো কিনা। আমরা আমাদের মেয়েদের পরনির্ভরশীল, প্রকৃতপক্ষে ভয় ও নির্যাতনের এক জীবনে বন্দি করে রাখতে পারবো কিনা।

আমাদের নিজেদের বেলায় মেয়েদের এ ধরনের জীবন চিন্তাও করতে পারি না। তাহলে আমরা কেন এ গ্রহেরই অন্য কোন মেয়ের এ ভাগ্য বরণ করাটা মেনে নিচ্ছি? আমি এ সপ্তাহে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেছি এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। আমরা সাক্ষাৎ করেছি বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিশোরী মেয়েদের শিক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি নতুন আংশীদারিত্বের ঘোষণা দিতে। বিশ্বব্যাপী কিশোরী মেয়েদের শিক্ষার পেছনে যুক্তরাজ্য বহু বছর ধরে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও বিনিয়োগ করেছে। এ বছরের শুরুর দিকে দেশটি লেট গার্লস লার্ন (মেয়েদের শিখতে দাও) নামের একটি কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিজেদের সমাধান নিজেরাই খুঁজে বের করতে ইউএস পিস কর্পসের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টা।

আমাদের নতুন অংশীদারিত্ব এসব প্রচেষ্টার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী আরও বেশি কিশোরী মেয়েকে শিক্ষিত করার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। আমাদের অংশীদারিত্বের আওতায় আমরা কঙ্গোতে পাঁচ বছরে নারী শিক্ষার পেছনে ১৮ কোটি ডলার ব্যয় করবো। এর মাধ্যমে উপকৃত হবে সাড়ে ৭ লাখ মেয়ে।

পাশাপাশি আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে কিশোরী মেয়েদের শিক্ষিত করার সেরা উপায় খুঁজে বের করতে প্রমাণভিত্তিক গবেষণা চালাবে। বৃটিশ ও আমেরিকান অংশীদাররা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মেয়ে নেতৃত্ববিষয়ক ক্যাম্প ও অন্যান্য সাম্প্রদায়ভিত্তিক প্রকল্পে সহায়তা দেবে। আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্যমাত্রা ২০ কোটি ডলার। কিন্তু এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার সংকীর্ণ সুযোগ বিবেচনায় নিলে এ অর্থ কোনভাবেই পর্যাপ্ত নয়। মেয়েদের শিক্ষার বিষয়টি একটি বৈশ্বিক বিষয়। এজন্যই মার্চে আমি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবের পাশে দাঁড়াতে দেশটি সফর করেছিলাম। বিশ্বব্যাপী মেয়েদের বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করাতে আমরা একই ধরনের অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছিলাম।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফার্স্টলেডি থাকাকালে ও তার পরের সময় এ প্রচেষ্টায় বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ করানোর পেছনে ব্যয় করবো। কারণ, প্রতিটি মেয়েরই তার ভেতরে থাকা সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ প্রাপ্য। সে কোথায় বসবাস করে, সেটি কোন বিবেচ্য বিষয় নয়।

——————————————————————————————————————
[
মিশেল ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী, অর্থাৎ মার্কিন ফার্স্টলেডি। এ লেখাটি লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত তার নিবন্ধের অনুবাদ।]

ইফতারে শরবত: ধনীর ‘শাহী’ গরীবের ‘লেবু-পানি’

ঢাকা: সারাদিন রোজার পর এক গ্লাস ভালো শরবত পানে প্রাণ তো জুড়াবেই সঙ্গে স্বাস্থ্যটাও রক্ষা পাবে ষোল আনা। তাই ইফতার আয়োজনের বড় একটা অংশ দখল করে আছে শরবত। আর এসব শরবতের মধ্যেও আছে নানার প্রকার ভেদ, আছে সে অনুযায়ী গ্রহীতা।

Sarbat

এর মধ্য ধনীদের পছন্দের তালিকায় আছে জাফরানের শরবত, দুধবাদামের শরবত বা দই ভ্যানিলা শরবতের মত বাহারী সব শরবত। তবে সামর্থ অনুযায়ী গরীবদের পছন্দের তালিকায় আছে লেবুপানি ও ঘৃতকুমারীর শরবত।

শনিবার ইফতারের আগে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমনই সব চিত্র। চিত্র থেকে ধনীগরীব ভেদে শরবতের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সন্ধান পাওয়া গেল।

ধনীদের শরবত:

বেইলি রোডের ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, ক্যাফে থার্টি থ্রি, বেইলি বারবিকিউ, গার্ডেন ওয়েসিস, সুইস, ডেকেরাট, ফ্রেশকো, গোল্ডেন ফুড, রেড কোর্ট, বেইলি হাট এবং প্যারাডাইস ফ্রুটস অ্যান্ড জুস বারে গিয়ে জানা যায় ইফতারে ধনীদের পছন্দের শরবতের নাম ও মূল্য তালিকা।

তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে দইভ্যানিলা শরবত, দুধবাদামের শরবত, শাহী জাফরানি শরবত, মসলাদার লাচ্ছি, আমদইয়ের শরবতসহ আরো কয়েক পদের শরবত।

দই ভ্যানিলা শরবত: এ পদের শরবতটি বরাবরই ধনীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে। এবারও তাই ইফতার আয়োজনের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইফতারের পাশাপাশি রেখেছে দই ভ্যানিলা শরবত।

ক্যাপিটাল কনফেকশনারি ও প্যারাডাইস ফ্রুটস অ্যান্ড জুস বারের শরবত প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এ পদের শরবত তৈরিতে ২৫০ গ্রাম মিষ্টি দই, এক পেয়ালা ঘন দুধ, এক পেয়ালা ভ্যানিলা আইসক্রিম ও প্রয়োজন মত চিনির প্রয়োজন হয়। দোকান ভেদে এ শরবতের দাম ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা লিটার বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দুধবাদামের শরবত: দুধ ও বাদামের মিশ্রনে তৈরি দুধবাদামের শরবতটি ধনী পরিবারের অল্প বয়সীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে মেয়েদের কাছে। ক্যাফে থার্টি থ্রির শরবত প্রস্তুতকারক মাহেরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ প্রকার শরবত তৈরিতে প্রয়োজন হয় গুরুর খাঁটি দুধ ও কয়েক পদের বাদাম। এ শরবতের মূল্য দোকান ভেদে ২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা।

শাহী জাফরানি শরবত: ঘন দুধ, আমন্ড বা কাঠবাদাম কুচির সঙ্গে মালাই, চিনি, গোলাপজল, ও জাফরানের মিশ্রণে তৈরি হয় বিশেষ এ শাহী জাফরানি শরবত। ছোটবড় সবার কাছেই এ শরবতটি বেশ পছন্দের। দোকান ভেদে এর দাম ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।

বেইলি বারবিকিউ, গার্ডেন ওয়েসিস, সুইস, ডেকেরাট ও ফ্রেশকোতে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ এ পদের শরবতটি।

মসলাদার লাচ্ছি: টক দই, পানি, আদা, জিরা, লবণ, ব্রাউন সুগার, গোলমরিচ গুঁড়া, ধনেপাতা এবং কাঁচা মরিচের সংমিশ্রণে তৈরি হয় মাসালদার লাচ্ছি। ছোটদের তুলনায় বড়দের কাছে এটি বেশি প্রিয়।

বেইলি বারবিকিউ, সুইস, ডেকেরাট, ফ্রেশকো, গোল্ডেন ফুড, বেইলি হাট এবং প্যারাডাইস ফ্রুটস অ্যান্ড জুস বারে পাওয়া যাচ্ছে মাসালদার লাচ্ছি। দোকান ভেদে এ লাচ্ছি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

আমদইয়ের শরবত: পাকা আম, লেবুর খোসা কুচি ও রস, ক্রিম, টক দই এবং চিনির মিশ্রণে তৈরি হয় আমদইয়ের শরবত। ছোটবড় সবার কাছেই এ পদের শরবতটি অধিক প্রিয়। বিশেষ করে এখন আমের মৌসুম হওয়ায় এবারের ইফতারিতে এ পদের শরবতের কদর বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

বেইলি রোডের ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, ক্যাফে থার্টি থ্রি, গার্ডেন ওয়েসিস, সুইস, ফ্রেশকো, গোল্ডেন ফুড এবং প্যারাডাইস ফ্রুটস অ্যান্ড জুস বারে পাওয়া যাচ্ছে আমদইয়ের এ বিশেষ ধরনের শরবতটি। দোকান ভেদে এ শরবত লিটার প্রতি দাম রাখা হচ্ছে আড়াইশ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা।

গরীবের শরবত:

ধনীদের জন্য তৈরি শরবতের খোঁজ বড়বড় ইফতারের দোকানে গিয়ে খুব সহজে জানা গেলেও গরীবের জন্য তৈরি শরবতের খোঁজ করতে গিয়ে বেশক্ষাণিকটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামটর, কাকরাইল, পল্টন, বিজয়নগর মোড় ঘুরে জানা যায় ইফতারে গরীবের সামর্থ ও পছন্দের তালিকায় থাকা শরবতের খোঁজ।

লেবুপানি ও ইসুপগুলের শরবত: লেবু, পানি, ইসুপগুল ও বিটলবণের মিশ্রণে তৈরি হয় লেবুপানির বিশেষ এ শরবতটি। দামে সস্তা হওয়ায় এ পদের শরবত গরীবের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বলে জানান বেশ কয়েকজন শরবত বিক্রেতা। ৫ থেকে ১০ টাকা গ্লাস মূল্যে পাওয়া যায় এ পদের শরবত।

ঘৃতকুমারী: ঘৃতকুমারী নামক ওষুধি গুণসম্পন্ন বিশেষ এক গাছের পাতার নির্যাস ও মধুর সংমিশ্রণে তৈরি হয় ঘৃতকুমারী শরবত। শরীর ঠাণ্ডা রাখাসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দূর করাসহ পথ্য হিসেবেও এ পানীয়টির ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে বড়দের কাছে এর জনপ্রিয়তা বেশি থাকলেও ছোটরা খুব একটা পছন্দ করে না। রমজানে রাজধানীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা দরে এ শরবত বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সূত্রঃ বাংলা মেইল

রঙ্গ-ব্যাঙ্গঃ রমজানে ভুরিভোজের মচ্ছব!

iftar_party

cartoon-iftar-1

cartoon-iftar-2

cartoon-iftar-3

cartoon-iftar_sahri

(সংগৃহীত)

রমজানে ইফতারের সময় ভুরিভোজের প্রস্তুতিঃ বাংলাদেশী ষ্টাইল

চকবাজারে ইফতারি ঐতিহ্য

iftari-2পলাশ মাহমুদ : রোজার দিনের বিকেল মানেই ইফতারি আয়োজন। সে আয়োজন যেমন চলে ঘরে, তেমনি বাইরেও। রোজার বিকেলে ঘরে ঘরে রকমারি ইফতারি তৈরি হয়। তবে শহুরে রোজাদারদের আগ্রহ থাকে ঐতিহ্যবাজী কিছু ইফতারির বাজারে। এসব ঐতিহ্যবাহী ইফতারি বাজারের অন্যতম হচ্ছে ঢাকার চকবাজার। রোজার যে কোনো দিন চকবাজারে গেলেই আপনি বিক্রেতাদের মুখে শুনতে পাবেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। এটি আসলে চকবাজারের ইফতারির ঐতিহ্যগত শ্লোগান। কে সেই বড় বাপ, আর কে সেই পোলা (ছেলে), তা কিন্তু জানে না চকবাজারের কেউ। তবে মুঘল আমল থেকেই ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে চকবাজারের ইফাতারি এখনো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।অন্যান্য বছরের মতো এবার রোজার শুরুতেই জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এ ইফতারি বাজার। সরগরম হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার চকবাজার, নাজিমউদ্দিন রোড, চক সার্কুলার রোড, নর্থসাউথ রোড, শাহী মসজিদ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকায় সাজানো হয়েছে শত শত দোকানে রকমারি ইফতারির পসরা। সম্প্রতি চকের ঐতিহ্য যেন আরও বেড়েছে। এখনকার ইফতার সামগ্রীও উৎকৃষ্ট মানের। বংশ পরম্পরায় তৈরি হয় চকের ইফতারি। যুগ যুগ ধরে ইফতার তৈরির একই ধারা এখানে চলে আসছে। সুতি কাবাব, জালি কাবাব তৈরি হয় সেই মুঘল ধাঁচে। আস্ত মুরগির রোস্ট, কবুতর রোস্ট, বঁটি কাবাব, জালিকাবাব, সুতি কাবাবের পাশাপাশি চকবাজারে উঠেছে আস্ত খাসির কাবাবও। রয়েছে নানা ধরনের শরবত আর ফলের পসরা। আম, কাঁঠাল, বাঙ্গি, পেয়ারা, আপেল, নাশপতি সবই আছে সেখানে। চকবাজারে মূলত দুপুর থেকেই শুরু হয় ইফতার বাজারের ভিড়। দুপুর যতো বিকেলের দিকে গড়াতে থাকে ততোই বাড়তে থাকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সমাগম। জমে ওঠে রকমারি ইফতার বিক্রির ধুম। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসতেই বাড়তে থাকে বিক্রেতাদের হাঁকডাক। প্রায় ৭৫ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খাবারটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ৩১টি আইটেম। এ খাবারে ডিম, কলিজা, আলু, মরিচ, গরুর মগজ, মুরগি গোস্তের কুচি, গিলা, সুতি কাবাব, কিমা ডাবলি চিড়া, বুটের ডালসহ ১৫ পদের খাবার ও ১৬ পদের মশলার মিশ্রণ করা হয়। সবার কাছে এই খাবারটি ব্যাপক জনপ্রিয়। মগবাজার থেকে আসা একজন রোজাদার ইমরান বলেন, বড় বাপের পোলায় এ খাবারটি খাবে বলেই এখানে আসতে হয়েছে। এটা সবারই খুব পছন্দের।চকবাজারের ইফতারি দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, এখানে বেগুনি, আলুর চপ, পনিরের পেটিস, সাসলিক, রোল, নারকেলি, ডিম চপ, পাকুড়া, নিমকি, চিকেন টোস্ট, ছোলা, ভেজিটেবল রোল, শিঙ্গাড়া, সমুচা, মুরগি ও গরুর কিমা বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। পাশাপাশি হরেক রকম কাবাবেরও বেশ চাহিদা এখানে। এসবের মধ্য সুতি, কাঠি, জালি, শিক ও নার্গিস ব্যাপক জনপ্রিয় বলে জানান এক কাবাব বিক্রেতা। ঝাল ইফতারের পাশাপাশি মিষ্টি সামগ্রীরও কমতি নেই চকবাজারে। শাহী জিলাপি বিক্রি হচ্ছে বিরামহীন। সব মহলের ক্রেতাদের কাছেই এ জিলাপির বেশ চাহিদা রয়েছে জানান বিক্রেতারা। মিষ্টিসামগ্রীর মধ্যে চকবাজারে পাওয়া যাচ্ছে ছানার মিষ্টি, আমিত্তি, ফিরনি, মিষ্টি শিঙ্গাড়া, মিষ্টি রোল ও রস বড়ি। এ ছাড়াও রয়েছে বাহারি রকমের শরবত। নানান ফল আর মুখরোচক জিনিস দিয়ে তৈরি এসব শরবতের মধ্যে রয়েছে চকের মাঠা, বোরহানি, লাবাং, লাচ্চি, লেবুর শরবত ও কাশ্মিরি শরবত।চকের একটি দোকানে গিয়ে দেখা গেলো নানা আইটেমের ইফতার। এর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের আস্ত মুরগির রোস্ট। প্রতিটির দাম ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এছাড়া তার আরেকটি খাবার ‘আনাম খাসি’ (আস্ত খাসি)। এর দাম সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অন্যান্য পদের মধ্যে তিনি বিক্রি করছেন কোয়েল পাখির রোস্ট, প্রতি পিস ৮০ থেকে ১শ’ টাকা এবং চিংড়ি রোস্ট প্রতি পিস ২শ’ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘দামের কারণে নয়, ঐতিহ্যবাহী ইফতারির স্বাদ নিতেই এখানে ছুটে আসা। চকবাজারে ইফতারির যেমন নাম রয়েছে, স্বাদেও অতুলনীয়। তাই সুযোগ পেলেই এখানে ছুটে আসেন ক্রেতারা। তবে এবার ইফতার সামগ্রীর দাম গত বারের থেকে একটু বেশি।’

http://www.dailyinqilab.com/ ২০১৫০৬২০

চকের ইফতার দামেও বেড়েছে

চকবাজার। বাহারি ইফতারের জন্য প্রসিদ্ধ বাজার। পুরান ঢাকার এ ইফতারি বাজারে তাই দুপুরের আগ থেকেই ভিড় জমে প্রতিদিন। রমজানের প্রথম দিনে তাই দেখা গেছে। সময় ও আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এবারের বাহারি ইফতারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন আইটেম। গতকাল দুপুরের পর থেকেই চকবাজার শাহী মসজিদের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানিরা আগ থেকেই মাথার ওপর সামিয়ানা টানিয়ে দোকান নিয়ে বসেন। রাস্তার মাঝখানেই বসে সারি সারি দোকান। আর তাতে বিক্রেতাদের ব্যাপক হাঁকডাক। ক্রেতারাও তাদের পছন্দ মতো ইফতার সামগ্রী কেনার জন্য এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

iftari-5

কাশ্মিরী শরবত। এটা পেস্তা বাদামের হলুদ রঙের শরবত। চাকবাজারে ডিসেন্ট পেস্টি সপে পাওয়া যায়। প্রতি লিটার দাম ২৮০ টাকা। চাহিদাও ব্যাপক। ইফতার কিনতে আসা প্রায় ক্রেতাদের ব্যাগেই এ শরবত। রোজদারদের মুখরোচক খাবারের সঙ্গে এটাও বেশ পছন্দের বললেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা। চকের শাহী ইফতারি বাজারে কোয়েল পাখির রোস্ট থেকে শুরু বিশাল শিকের সঙ্গে জড়ানো সুতি কাবাব পাওয়া যায়। আধা থেকে ৫ কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপি। কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ, জালি কাবাব, শাকপুলি, টিকা কাবাব, ডিম চপ, পেঁয়াজুসহ শতাধিক ইফতারি উপকরণ মেলে এ বাজারে। অনেক উপকরণ আছে যা চলে আসছে সেই মোগল আমল থেকে। আর নতুন কিছু সংযোজিত হয়ে এই ইফতারির বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে। দুপুরের আগেই দইবড়া, ডিসেন্ট হালিম, মোল্লার হালিম, নূরানি লাচ্ছি, পনির, মৌসুমি দেশ বিদেশী ফল ভাঙি, আম, কাঁঠাল, লটকন, আনারস, তরমুজ, পেঁপে, কলা, পেয়ারা ভরে যায় চকবাজারের সার্কুলার রোড। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চকবাজারে চারদিকে চার শতাধিক ইফতারির দোকান বসে।

হাজী শহিদ বাবুর্চির দোকান থেকে ভেসে আসছিল চিৎকার। প্রায় সবার কাছে অতি পরিচিত। দোকানিরা সুর করে বলছেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোংগায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া নিয়া যায়।’ তার দোকানের অবস্থান একেবারে শাহী মসজিদের সামনে। এখানে প্রচণ্ড ভিড়। শখের বশে ক্রেতারা হুড়োহুড়ি করে কিনছেন। শহিদ বাবুর্চি জানান, ২১ রকমের অধিক আইটেম এবং ১২১৩ প্রকার মসল্লা দিয়ে তৈরি হয় এ খাবার। দাম প্রতিকেজি ৪০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়ায় গতবারের তুলনায় এবার কেজিতে ৫০ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

chalkbazar-iftar-19-06-15

চকবাজারে ইফতারির দাম দোকানভেদে একটু আলাদা। শসা ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, ছোলা বুট, শিঙাড়া, সমুচা, নিমকি, আলুর চপ, ঘুগনি ও মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দামেও রয়েছে তারতম্য। বিভিন্ন দোকানে মুরগির রোস্ট বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, শিক কাবাব ৭০ থেকে ৯০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতি কাবাব গরু ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি কেজি। হান্নান বাবুর্চি জানান, গত বছর এই সুতি কাবাব ৫০০ টাকা প্রতি কেজি ছিল। খাসি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা প্রতি কেজি, কবুতরের রোস্ট ৫০ টাকা বেড়ে প্রতিটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কিমা পরোটা ৩০ টাকা, এক কেজি ওজনের শাহী জিলাপি ১৬০ টাকা, দইবড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, দুধের তৈরি লাবাং বিক্রি হয় লিটার ১২০১৩০ টাকায়, ডিসেন্ট শপে শাহী হালিম প্রতি বাটি (বড়) ৪৫০ টাকা, মাঝারি ৩০০ টাকা, ছোট বাটি ১৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলাউদ্দিন সুইট মিটসে দইবড়া কেজি ২০০ টাকা, দুধের শরবত লিটার ২৪০ টাকা, বোরহানি লিটার ১২০ টাকা, চিকেন স্টিক পিস ৭০ টাকা, চিকেন নার্গেট ৫০ টাকা, বিফ জালি কাবাব ২০ টাকা, বিফ স্টিক ৪০ টাকা, কিমা পরোটা ৩০ টাকা, টানা পরোটা ২০ টাকা, চিকেন উইন্স ৩০ টাকা পিস দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর বনশ্রী থেকে ইফতার কিনতে আসা চিশ্‌তি জানান, এ বাজারের ইফতার সেরা এবং ঐতিহ্যবাহী। তাই পুরান ঢাকা থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন তিনি। মিরপুর থেকে ইফতার কিনতে আসা চাকরিজীবী মাহমুদ বললেন, প্রতি বছর এখান থেকে ইফতার কেনা তার শখ। কেরানীগঞ্জ থেকে ইফতার কিনতে আসা মোবারক বললেন, এখানে আসলে ভাল ইফতার পাওয়া যায়।

http://www.mzamin.com/ ২০ জুন ২০১৫

রমজানে খাদ্যাভাস: ভাজাপোড়ার বিকল্প কি আছে?

বছর ঘুরে আবারো চলে এসেছে রমজান মাস। রমজান আসার সাথে সাথেই প্রতি বিকেলে পুরনো ঢাকার চকবাজারে শুরু হয়ে যায় ইফতার বিক্রেতাদের হাকডাক, আর পুরো রাস্তাজুড়ে ভ্যানেটেবিলে সাজানো থাকে শত রকমের ইফতারির খাবার। চিকেন রোস্ট, চিকেন ফ্রাই, শামি কাবাব, সুতি কাবাব, শাহি জিলাপি থেকে শুরু করে হরেক রকম খাবার মিশিয়ে বড় বাপের পোলায় খায় নামের অদ্ভূত এক খাবার। কি নেই চকবাজারে!

iftari-3

সারাদিন রোজা রাখার পর মানুষ একটু ভাজাপোড়া খেতেই পছন্দ করে। রমজানে ভাজাপোড়া খাবার বিক্রির কারণ হিসেবে বললেন চকবাজারের আমানিয়া হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ হানিফ। মি. হানিফের কথা অবশ্য ভুল নয়। শুধু পুরনো ঢাকার মানুষেরা না, এই এলাকার বাইরে থেকেও মানুষজন চকবাজার থেকে ইফতারি কিনে নিয়ে যান। পুরো মাসে সম্ভব না হলেও, মাসে অন্তত একদিন চকবাজার থেকে ইফতার কিনে বাসায় ফেরেন। তবে চকবাজারের বাইরেও যেখানেই ইফতারির খাবার কিনতে যান না কেন, সেখানেই পাবেন তেলে ভাজা পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ কিংবা জিলিপি। কিন্তু সারাদিন না খেয়ে থাকার পর এ ধরণের খাবার স্বাস্থ্যের ওপর কি প্রভাব ফেলে?

তেলটা যদি খারাপ হয় তাহলে এসিডিটি থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যদি বেশি পোড়ানো হয় তাহলে সেটি আর পরিপাক হয় না। বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য এবং পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম মাওলা। তবে শুধুমাত্র দোকানের ইফতারি নয়, রমজানে বাসায় বানানো ইফতারিতেও থাকে ভাজাপোড়ার প্রাধান্য।

ঢাকার একজন গৃহিনী আফরোজা শিল্পী বলেন, তার বাসায় ইফতারের মূল খাবার হিসেবে থাকে ভাজা ছোলা, পেঁয়াজু এবং বেগুনী। যদিও এর বাইরে শরবত এবং ফলমূলও থাকে কিন্তু তার তিন শিশু সন্তানের কথা চিন্তা করে পেঁয়াজুবেগুনির মতো কিছু খাবার বানাতেই হয়। এসব খাবার তো আমরা রোজার সময়ই খাই। মায়ের কথায় সায় দিয়ে বললো কন্যা নিঝুম।

ভাজাপোড়া বাচ্চারা পছন্দ করবেই। তবে বড়রাও যে পছন্দ করে না তা নয়।

অধ্যাপক মাওলা বলছিলেন, ইফতারের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, শরীরে যেন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব না হয়। আর সেজন্যে একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে। আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরি আসতে হবে সুষমভাবে। আমিষ, চর্বি এবং শর্করা সবগুলো থেকেই আসতে হবে।

ইফতারে চিকেন স্যুপ খাওয়া যায়, তবে ননস্পাইসি। কিছু সব্জি রাখতে হবে, ফলমূল রাখতে হবে। দধিটা শরীরের জন্য খুবই ভাল কারণ এতে প্রোটিন থাকে এবং পরিপাকেও সাহায্য করে। এমন খাবার খেতে হবে যা সহজে হজম হয়। বলেন অধ্যাপক মাওলা।

iftari-6

বাংলাদেশে ইফতারের এই ভাজাপোড়া খাবারগুলো কোথা থেকে এলো? সঠিকভাবে কেউ না বলতে পারলেও চকবাজারের শতবর্ষ পুরনো খাবার দোকান, আলাউদ্দিন সুইটমিটের মোহাম্মদ আমিরুদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ প্রজন্ম আগে তার পূর্বপুরুষেরা এসেছিলেন ভারতের লক্ষ্ণৌ থেকে। তখন থেকেই তারা পুরনো ঢাকায় ইফতারের জন্য এধরণের খাবার বানিয়ে আসছেন। ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষেরা এভাবেই খাওয়াদাওয়া তৈরি করতো। সেই ঐতিহ্যই আমরা ধরে রেখেছি। বলেন মি. আমিরুদ্দিন। তবে ইফতারের প্লেটে যাই থাকুক না কেন, পুষ্টিবিদদের মতে ইফতারিতে একটি উপাদান সেখানে অবশ্যই থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে থাকতে হবে। সেই উপাদান হচ্ছে পানি। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে যে পানিশূণ্যতার তৈরি হয়, তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, শরবত, ফলের রস, পানির সাথে গুড় মিশিয়ে কিংবা অন্য যে কোন পানিসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণ করা যায়।

এদিকে গত কয়েক বছরে ইফতারের পাশাপাশি সেহরিতেও বাইরে খাওয়ার একটি প্রচলন হয়েছে। ভোর রাতেও শখ করে অনেকে ভিড় করেন শহরের রেস্তোরাগুলোয়। যদিও এ সংখ্যা এখনো খুব বেশি নয়। পুষ্টিবিদ অধ্যাপক মাওলা বলেন, সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে যেটি অনেক্ষন পেটে থাকবে। চিড়াদধিটা ভোর রাতের জন্য খুব ভালো খাবার। এর আগে মাছমাংস এবং সব্জি খাওয়া যায়। ভোররাতে এর বেশি খাবার দরকার নেই।

মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও শুধু স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়া একদম বাদ দিয়ে দেবে এমন মানুষ মনে হয় খুজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই, তবে খাওয়া উচিত পরিমিতি বজায় রেখে। রমজানের মূল নীতিতেও আছে যেই সংযমের কথা।

বিবিসি বাংলা | ২০ জুন ২০১৫

ইবাদাত কি এবং কেনো?

ইবাদাত

ইবাদাত কি?ইসলামের হাকীকতগ্রন্থের শেষ প্রবন্ধেদ্বীনশরীয়াত শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থ এবং ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে আমিইবাদাতশব্দটির বিস্তারিত অর্থ আপনাদের সামনে পেশ করবো। শব্দটি সর্বসাধারণ মুসলমান প্রায়ই বলে থাকে কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ অনেকেই জানে না।
ইবাদতের অর্থঃ ব্যাপক অর্থে ইবাদত হল, সকল প্রকার প্রকাশ্যঅপ্রকাশ্য এমন কথা কাজ যা আল্লাহ্* পছন্দ করেন এবং উহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন।
আত্মীক ইবাদতঃ ভয়, ভরসা, ভালবাসা, আশাআকংখা, আগ্রহ ইত্যাদি হল আত্মীক ইবাদত।
আর ভাষা অন্তর দিয়েঃ তাসবিহ পড়া (বা সুবহানাল্লাহ বলা), তাহলীল পড়া (বা লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা), প্রশংসা করা, শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) করা হল ভাষাগত আত্মাগত ইবাদত।
আর ছালাত, যাকাত, হজ্জ, জিহাদ ইত্যাদি হল আত্মিক দৈহিক ইবাদাত।
এছাড়া আরো অনেক ধরণের ইবাদত রয়েছে। যা আদায়ের মাধ্যমে হলো, অন্তর, ভাষা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
ইবাদত এমন একটি বিষয়, শুধুমাত্র যাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেনঃ
(وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون ـ ما أريد منهم من رزق وما أريد أن يطعمون ـ إن الله هوالرزاق ذوالقوة المتين)
একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই আমি জ্বিন মানব জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমার আহার্য যোগাবে। আল্লাহ্* তাআলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।(সূরা আয্* যারিয়াত ৫৬৫৮)
ইবাদতের প্রকারভেদ এবং উহার ব্যাপকতাঃ ইবাদতের অনেক প্রকার রয়েছে। উহা ভাষা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা আদায় কৃত প্রতিটি প্রকাশ্য আনুগত্যকে শামিল করে। এমনি ভাবে মুমিনের প্রতিটি কাজ, যার মাধ্যমে সে আল্লাহ্* নৈকট্য বা সন্তুষ্টি পেতে চায়, সেটাও ইবাদতের অন্তর্গত। এমনকি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন ঘুমানো, খানাপিনা, বেচাকেনা, জীবিকার অনুসন্ধান, বিবাহশাদী ইত্যাদি। এগুলোর মাধ্যমে যদি আল্লাহ্* আনুগত্যের প্রতি শক্তি অর্জন উদ্দেশ্য হয় তাহলে তা সৎ নিয়তের কারণে ইবাদতে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং তাতে প্রতিদানও দেয়া হয়। ইবাদত কেবল মাত্র পরিচিত নিদর্শনাবলীর উপর সীমাবদ্ধ নয়।
ইবাদত নির্দিষ্ট করণে কিছু ভ্রান্তধারণাঃ ইবাদত সমূহ তওকিফিয়া (অর্থাৎ দলীলের উপর নির্ভরশীল) অর্থাৎ কুরআন সুন্নার দলীল ব্যাতিরেকে কোন ইবাদতই বৈধ নয়। আর যা বৈধ নয় তাকেই বিদআত বলে গণ্য করা হয় যা প্রত্যাখ্যাত।
নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন
مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُناَ فَهُوَ رَدٌّ(رواه مسلم)
যে ব্যক্তি কোন আমল করল, যার উপর আমাদের (শরীয়তের) কোন নির্দেশ নেই তা অগ্রহণযোগ্য।(মুসলিম)
অর্থাৎ তার আমল প্রত্যাখ্যান করা হবে, গ্রহণীয় তো হবেই না বরং সে গুনাহ্*গার হবে। কেননা ওটা আনুগত্য নয় পাপের কাজ। আবার শরীয়ত সম্মত ইবাদত সমূহ আদায়ের সঠিক নীতিমালা হলো শিথীলতা অলসতা এবং দৃঢ়তা বাড়াবাড়ীর মধ্যবর্তী স্থানে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগে পরস্পর বিরোধী দু’টি দল রয়েছেঃ
১ম দলঃ তারা ইবাদতের অর্থ বুঝতে অপারগ হয়ে তা আদায়ের ব্যপারে উদাসীনতা দেখিয়েছে, এমনকি অনেক বড় বড় ইবাদতকেই তারা বর্জন করে বসেছে। আর নির্দিষ্ট সামান্য কিছু ক্রিয়াকর্মের মাঝে ইবাদতকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যা শুধু মাত্র মসজিদে আদায় হয়ে থাকে। তাদের ধারণানুযায়ী বাড়ীঘর, অফিসআদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, সাধারণ কাজকর্ম, রাজনীতি ইত্যাদিতে ইবাদতের কোন সুযোগ নেই। আর এটাই হল ধর্ম নিরপেক্ষতা, যা মানুষের ধর্মকে তার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
২য় দলঃ তারা ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ী করেছে। এমন কি মুস্তাহাব বিষয়গুলোকে ওয়াজেবের পর্যায়ে নিয়ে গেছে, কতক মুবাহ বিষয়কে হারাম ঘোষণা করেছে, কেহ যদি তাদের নীতিমালা বা চিন্তাধারার বিরোধিতা করে বা তা ভুল সাব্যস করে তবে তাকে বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট বলে স্থির করেছে। আর এটাই হলোالغلوفي الدينবা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি যে সম্পর্কে আল্লাহ সতর্ক করেছেন। তিনি বলেনঃ
(يا أهل الكتاب لاتغلوا في دينكم)
হে আহ্*লে কিতাবগণ, দ্বীনের ব্যপারে তোমরা কোন প্রকার বাড়াবাড়ী করো না।(সূরা নেসা১৭১)
আর এটা থেকে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতদেরকে সতর্কও করেছেন। তিনি বলেনঃ
(وإياكم والغلو في الدين فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين)
সাবধান, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে সতর্ক হও। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে এইবাড়াবাড়িইধবংস করেছে। (সহীহ্* হাদীস, নাসায়ী ইবনু মাজাহ্*)
ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত সমূহঃ যে কোন আমল বা ইবাদত আল্লাহ্* দরবারে কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছেঃ
প্রথম শর্তঃ ইবাদতটি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হওয়া। এবং
দ্বিতীয় শর্তঃ উহা রাসূলুল্লাহ্* (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাত মোতাবেক সঠিক হওয়া।
প্রথম শর্তটি হল কালেমাلاإله إلا اللهএর প্রকৃত অর্থ। কেননা, এই কলেমার দাবী হলো এককভাবে ইবাদতকে আল্লাহর জন্য খালেস করা এবং তাতে অন্য কাউকে শরীক না করা।
আর দ্বিতীয় শর্তটি হলمحمد رسول اللهএকথা সাক্ষ্য দানের প্রকৃত অর্থ। কেননা, এই সাক্ষ্যের দাবী হল অনিবার্যভাবে রাসূলুল্লাহ্* (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্য করা, তিনি যা বৈধ ঘোষণা করেছেন তার অনুসরণ করা এবং বিদআত বা ইবাদতের নামে নতুন সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ্* বলেনঃ
(بلى من أسلم وجهه لله و هو محسن فله أجره عند ربه ولاخوف عليهم ولاهم يحزنون)
অর্থাৎহ্যাঁ যে ব্যক্তি নিজেকে একমাত্র আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে এবং সে সৎকর্মশীল, তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে প্রতিদান। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তাও নেই। (বাক্বারা ১১২)
আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করাঅর্থাৎ সকল ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করা। এবংসে সৎকর্মশীলঅর্থাৎ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্যকারী হওয়া।
আল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে বলেছেনঃআমি জিন মানব জাতিকে কেবল আমারই ইবাদাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।(সূরা আয যারিয়াতঃ ৫৬)
থেকে নি:সন্দেহে বুঝা গেল যে, মানুষের জন্ম, জীবনের উদ্দেশ্য লক্ষ্য আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত এবং বন্দেগী ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আপনারা সহজেই বুঝতে পারেন যে,ইবাদাতশব্দটির প্রকৃত অর্থ জেনে নেয়া আমাদের পক্ষে কতখানি জরুরী। শব্দটির অর্থ না জানলে যে মহান উদ্দেশ্যে আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা আপনি কখনই লাভ করতে পারেন না। আর যে তার উদ্দেশ্য লাভ করতে পারে না তা ব্যর্থ নিষ্ফল হয়ে থাকে।
চিকিত্সক রোগীকে নিরাময় করতে না পারলে বলা হয় যে, সে চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়েছে, কৃষক ভাল ফসল জন্মাতে না পারলে কৃষিকার্যে তার ব্যর্থতা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। তেমনি আপনারা যদি আপনাদের জীবনের উদ্দেশ্য লাভ অর্থাৎ ইবাদাত করতে না পারেন তবে বলতে হবে যে, আপনাদের জীবন ব্যর্থ হয়েছে। এজন্যই আমি আশা করি আপনারা ইবাদাতশব্দটির প্রকৃত অর্থ তাৎপর্য জানার জন্য বিশেষ মনোযোগী হবেন এবং তা আপনাদের হৃদয়মগযে বদ্ধমূল করে নিবেন। কারন মানব জীবনের সাফল্য ব্যর্থতা এরই ওপর একান্তভাবে নির্ভর করে।
ইবাদাত শব্দটি আরবীআবদহতে উদ্ভূত হয়েছে।আবদঅর্থ দাস গোলাম। অতএবইবাদাতশব্দের অর্থ হবে বন্দেগী গোলামী করা। যে ব্যক্তি অন্যের দাস সে যদি তার বাস্তবিকই মনিবের সমীপে একান্ত অনুগত হয়ে থাকে এবং তার সাথে ঠিক ভৃত্যের ন্যায় ব্যবহার করে, তবে একে বলা হয় বন্দেগী ইবাদাত। পক্ষান্তরে কেউ যদি কারো চাকর হয় এবং মনিবের কাছ থেকে পুরোপুরি বেতন আদায় করে, কিন্তু তবুও সে যদি ঠিক চাকরের ন্যায় কাজ না করে তবে বলতে হবে যে, সে নাফরমানী বিদ্রোহ করেছে। আসলে একে অকৃতজ্ঞতাই বালা বাঞ্ছনীয়। তাই সর্বপ্রথম জানতে হবে, মনিবের সামনেচাকরেরন্যয় কাজ করা এবং তার সমীপে আনুগত্য প্রকাশ করার উপায় কি হতে পারে।
বান্দাহ বা চাকরেকে প্রথমতে মনিবকেপ্রভুবলে স্বীকার করতে হবে এবং মনে করতে হবে যে, যিনি আমার মালিক, যিনি আমাকে দৈনন্দিন রুজী দান করেন এবং যিনি আমার মালিক, যিনি আমার হেফাযত রক্ষণাবেক্ষণ করেন তাঁরই আনুগত হওয়া আমার কর্তব্য। তিনি ছাড়া অন্য কেউই আমার আনুগত্য লাভের অধিকারী নয় সকল সময় মনিবের আনুগত্য করা, তাঁর হুকুম পালন করা, তার অনুবর্তিতা মূহূর্তের জন্যও পরিত্যাগ না করা, মনিবের বিরুদ্ধে মনে কোন কথার স্থান না দেয়া এবং অন্য কারো কথা পালন না করাই বান্দাহর দ্বিতীয় কর্তব্য। গোলাম সবসময়ই গোলাম ; তার এথা বলার কোন অধিকার নেই যে, আমি মনিবের আদেশ মানবো আর অমুক আদেশ মনবো না। কিংবা আমি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনিবের গেলাম আর অন্যান্য সময় অমি তার গোলামী হতে সম্পূর্ণ আযাদ মুক্ত।
মনিবের প্রতি সম্মান সম্ভ্রম প্রদর্শন এবং তার সমীপে আদব রক্ষা করে চলা বান্দার তৃতীয় কাজ। আদব সম্মান প্রকাশের যে পন্থা মনিব নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেই সময়ে নিশ্চিতরূপে উপস্থিত হওয়া এবং মনিবের আনুগত্য দাসত্ব স্বীকার করে নিজেকে প্রতিজ্ঞা আন্তরিক নিষ্ঠা প্রমাণ করা একান্তু আবশ্যক।
তিনটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে যে কার্যর্টি সম্পন্ন হয়ে আরবী পরিভায়ায় তাকেই বলেইবাদাত প্রথমত, মনিবের দাসত্ব স্বীকার, দ্বিতীয়ত, মনিবের অনুগত্য এবং তৃতীয়ত, মনিবের সম্মান সম্ভ্রম রক্ষা করা।
আল্লাহ তায়ালা জ্নি মানব জাতিকে একমাত্র উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন যে, তারা কেবল আল্লাহ তায়ালরই দাসত্ব করবে অন্য কারো নয়, কেবল আল্লাহর হুকুম পালন করবে, এছাড়া অন্য কারো হুকুম অনুসরন করবে না এবং কেবল তাঁরই সামনে সম্মান সম্ভ্রম প্রকাশের জন্য মাথা নত করবে, অন্য কারো সামনে নয়। তিনটি জিনিসকে আল্লাহ তয়ালা বুঝিয়েছেন ব্যাপক অর্থবোধক শব্দইবাদাতদ্বারা। যেসব আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইবাদাতের নির্দেশ দিয়েছেন তার অর্থ এটাই। আমাদের শেষ নবী এবং তাঁর পূর্ববতীর্ আম্বিয়ায়ে কেরামের যাবতীয় শিক্ষার সারকথা হচ্ছে :
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করো নাঅর্থাৎ দাসত্ব অনুগত্য লাভের যোগ্য সারা জাহানে একজনই মাত্র বাদশাহ আছেনতিনি হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা ; অনুসরণযোগ্য মাত্র একটি বিধান বা আইন আছেতাহলো আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা এবং একটি মাত্র সত্তাই আছে, যার পূজাউপাসনা, আরাধনা করা যেতে পারে। আর সেই সত্তাই হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ।
ইবাদাত শব্দের অর্থ আপনি স্মরণ রাখুন এবং আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে থাকুন। একটি চাকর যদি মনিবের নির্ধারিত কর্তব্য পালন না করে বরং তাঁর সামনে কেবল হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে, লক্ষ বার কেবল তার নাম জপে, তবে চাকরিটি সম্পর্কে আপিনি কি বলেবেন? মনিব তাকে অন্যান্য মানুষের প্রাপ্য আদায় করতে বলেন। কিন্তু সে কেবল সেখানেই দাঁড়িয়ে থেকে মনিবের সমনে মাথা নত করে দশবার সালাম করে এবং আবার হাত বেঁধে দাঁড়ায়। মনিব তকে অনিষ্টকর কাজগুলে বন্ধ করতে আদেশে করেন। কিন্তু সে সেখান থেকে একটুও নড়ে না। বরং কেবল সিজদাহ করে থাকে মনিব তাকে চোরের হাত কাটতে বলেন। কিন্তু সে দাঁড়িয়ে থেকে সুললিত কণ্ঠে বিশবার পড়তে বা উচ্চরণ করত থাকেচোরের হাত কাটকিন্তু সে একবারও রকম শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করে না যার অধীনে চোরের হাত কাঁটা সম্ভব হবে। এমন চাকর সম্পর্কে কি মন্তব্য করবেন? আপনি কি বলতে পারেন যে, সে প্রকৃতপক্ষে মনিবের বন্দেগী ইবাদত করছে? আপনার কোন চাকর এরূপ করলে আপনি তাকে কি বলবেন তা আমি জনি না, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আল্লাহর যে চাকর এরূপ আচরণ করে তাকে আপনিবড় আবেদ(ইবাদাতকারী, বুজুর্গ ইত্যাদি ) নামে অভিহিত করেন। এরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালার কত শত হুকুম পাঠ করে, কিন্তু সেগুলো পালন করার এবং কাজে পরিণত করার জন্য একটু চেষ্টাও করে না। বরং কেবল নফলের পর নফল পড়তে থাকে, আল্লাহর নামে হাজার দানা তাসবীহ জপতে থাকে এবং মধুর কন্ঠে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করতে থাকে। আপনি তার ধরনের কার্যাবলী দেখেন, আর বিম্মিত হয়ে বলেন :ওহে ! লোকটা কত বড় অবদ আর কত বড় পরহেযগার।আপনারদের ভুল ধরণার মূল কারন এই যে, আপনারাইবাদাতশব্দটির প্রকৃত অর্থ মোটেই জানেন না।
আর একজন চাকরের কথা ধরুন। সে রাতদিন কেবল পরের কাজ করে, অন্যের আদেশ শুনে এবং পালন করে, অন্যের আইন মেনে চলে এবং তার প্রকৃত মনিবের যত আদেশ ফারমানই হোক না কেন, তার বিরোধিতা করে। কিন্তুসালামদেয়ার সময় সে তার প্রকৃত মনিবের সামনে উপস্থিত হয় এবং মুখে কেবল তার নাম জপতে থাকে। আপনাদের কারো কোন চাকর এরূপ করলে আপনারা কি করবেন? তারসালামকি তার মুখের ওপর নিক্ষেপ করবেন না? মুখে মুখে সে যখন অপনাকে মনিব বলে ডাকবে তখন আপনি তি তাকে একথা বলবেন না যে, তুই ডাহা মিথ্যা বাদী বেঈমান ; তুই আমার বেতন খেয়ে অন্যের তাবেদারী করিস, মুখে আমাকে মনিব বলে ডাকিস, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেবল অন্যেরই কাজ করে বেড়াস? এটা যে নিতান্ত সাধারণ বুদ্ধির কথা এটা কারো কুঝতে কষ্ট হয় না। কিন্তু কি আশ্চর্যের কথা ! যারা রাতদিন আল্লাহর আইন ভঙ্গ কররে, কাফের মুশরিকদের আশষ অনুযায়ী কাজ করে এবং নিজেদের বাস্তব কর্মজীবনে আল্লাহর বিধানের কোন পরোয়া করে না ; তাদের নামাযরোযা, তাসবীহ পাঠ, কুরআনে তেলাওয়াত, হাজ্জ, যাকাত ইত্যাদিকে আপনি ইবাদাত বলে মনে করেন। ভুল ধারণারও মূল কারণ ইবদাত শব্দের প্রকৃতি অর্থ না জানা।
আর এটি চাকরের উদাহরণ নিন। মনিব তার চাকরদের জন্য যে ধরণের পেশাক নির্দিষ্ট করেছেন, মাপজোখ ঠিক রেখে সে ঠিক সেই ধরণের পোশাক পরিধান করে, বড় আদব যত্ন সহকারে সে মনিবের সামনে হাজির হয়, প্রত্যেকটি হুকুম শুনা মাত্রই মাথা নত করে শিরোধার্য করে নেয় যেন তার তুলনায় বেশী অনুগত চাকর আর কেউই নয়।সালাম; দেয়ার সময় সে একেবারে সকলের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং মনিবের নাম জপবার ব্যাপারে সমস্ত চাকরের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিষ্ঠা প্রমাণ করে; কিন্তু অন্যদিকে ব্যক্তি মনিবের দুশমন এবং বিদ্রোহীদের খেদমত করে, মনিবের বিরুদ্ধে তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে এবং মনিবের নাম পর্যন্ত দুনিয়া হতে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তারা যে চেষ্টাই করে, হতভাগা তার সহযোগীতা করে ; রাতের অন্ধকারে সে মনিবের ঘরে সিঁদ কাটে এবং ভোর হলে বড় অনুগত চাকরটির ন্যয় হাত বেঁধে মনিবের সামনে হাজির হয়, চাকরটি সম্পর্কে আপনি কি বলবেন? আপনি নিশ্চয়ই তাকে মুনাফিক , বিদ্রোহী নিমকহারাম প্রভৃতি নামে অভিহিত করতে একটুও কুন্ঠিত হবেন না। কিন্তু আল্লাহর কোন চাকর যখন ধরনের হাস্যকর আচরণ করতে থাকে তখন তাকে আপনারা কি বলতে থাকেন? তখন আপনারা কাউকেপীর সাহেবকাউকেহযরত মাওলানাকাউকে বড়কামেল,পরহেজগারপ্রভৃতি নামে ভূষিত করেন এর কারণ এই যে, আপনারা তাদের মুখে মাপ মত লম্বা দাড়ি দেখে, তাদের পায়জামা পায়ের গিরার দুইঞ্চি ওপরে দেখে, তাদের কপালে নামাযের কালো দাগ দেখে, এবং তাদের লম্বা লম্বা নামায মোটা মোটা দানার তাসবীহ দেখে, বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ; এদেরকে বড় দ্বীনদার ইবাদাতকারী বলে মনে করেন ভুল শুধু এজন্য যে,ইবাদাত দ্বীনদারীর ভুল অর্থই আপনাদের মনে বদ্বমূল হয়ে রয়েছে।
আপনি হয়তো মনে করেন হাত বেঁধে কেবলামুখি হয়ে দাড়ানো, হাঁটুর ওপর হাত রেখে মাথা নত করে , মাটিতে মাথা রেখে সিজদা করা এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট শব্দ উচ্চারণ করা শুধু কয়টি কাজই প্রকৃত ইবাদাত হয়ত আপনি মনে করেন, রমযানের প্রথম দিন হতে শাওয়লের চাঁদ উঠা পর্যন্ত প্রত্যেক দিন সকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার বন্ধ রাখার নাম ইবাদাত। আপনি হয়তো এটাও মনে করেন যে, কুরআন শরীফের কয়েক রুকু, পাঠ করার নামই ইবাদাত, আপনি বুঝে থাকেন মক্কা শরীফে গিয়ে কাবা ঘরের চারদিকে তাওয়াফ করার নামই ইবাদাত। মোটকথা, ধরনের বাহ্যিক রূপকে আপনারাইবাদাতমনে করে নিয়েছেন এবং ধরনের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখে উপরোক্ত কাজগুলো থেকেই সমাধা করলেই আপনারা মনে করেন যে,ইবাদাতসুসম্পন্ন করেছে এবং (ওমা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন) এর উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছে। তাই জীবনের অন্যান্য ব্যাপারে সে একেবারে আযাদ নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী কাজ করে যেতে পারে

কিন্তু প্রকৃত ব্যপার এই যে, আল্লাহ তায়ালা যে ইবাদাতের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যে ইবাদাত করার আদেশ আপনাকে দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস সেই ইবাদাত এই যে, আপনি আপনার জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্তেই আল্লাহর অনুগত্য স্বীকার করে চলবেন এবং আল্লাহর আইনের বিরোধী দুনিয়ায় যা কিছু প্রচলিত আছে তা অনুসরণ করতে আপনি একেবারে অস্বীকার করবেন। আপনার প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি গতিবিধি আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে হতে হবে। পন্থায় যে জীবনযাপন করবেন তার সবটুকুই ইবাদত বলে গন্য হবে। ধরনের জীবনে আপনার শয়নজাগরণ, পানাহার ,চলাফিরা, কথা বলা, আলোচনা করাও ইবাদত বিবেচিত হবে। এমনকি নিজ স্ত্রীর কাছে যাওয়া এবং নিজের সন্তানদেরকে স্নেহ করাও ইবাদাতের শামিল হবে। যে সকল কাজকে আপনারাদুনিয়াদারীবলে থাকেন তাওইবাদতএবদ্বীনদারীহতে পারে যদি সকল বিষয় আপনি আল্লাহ নির্ধারিত সীমার মধ্যে কে আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে সমাধা করেন ; আর পদে পদে এদিকে লক্ষ্য রাখেন যে, আল্লাহর কাছে কোনটা জায়েয আর কোনটা নাজায়েয, কি হালাল আর কি হারাম, কি ফরয আর কি নিষেধ, কোন কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট আর কোন কাজে হন অসন্তুষ্ট। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি রুজি অর্থোপার্জনের জন্য বের হন। পথে হারাম উপার্জনের অসংখ্য সহজ উপায় আপনার সামনে আসবে। এখন আপনি যদি আল্লাহকে ভয় করে সেই সুযোগ গ্রহণ না করেন এবং কেবল হালাল রুজি অর্থ উপার্জন করেন কাজে যে সময় লেগেছে তা সবই ইবাদাত এবং হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ ঘরে এনে আপনি নিজে খান আর পরিবারপরিজনের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন, সেই সাথে যদি আল্লাহর নির্ধারিত অন্যান্য হকদারের হকও আদায় করেন, তাহলে এসব কাজেও আপনি অসীম সাওয়াব পাবেন। পথ চলার সময় আপনি পথের কাঁটা দূর করেন ধারণায যে, এটা দ্বারা আল্লাহর কোন বান্দাহ কষ্ট পেতে পারে তবে এটাও আপনার ইবাদত বলে গণ্য হবে। আপনি কোন রুগ্নব্যক্তিকে শুশ্রূষা করলেন, কোন ব্যক্তিকে পথচলতে সাহায্য করলেন, কিংবা বিপন্ন ব্যক্তিকে চলতে সাহায্য করলেন তবে এটাও ইবাদাত হবে। কথাবার্তা বলতে আপনি মিথ্যা, গীবত, কুৎসা রটনা, অশ্লীল কথা বলে পরের মনে আঘাত দেয়া ইত্যাদি পরিহার করেন এবং আল্লাহর ভয়ে কেবল সত্য কথাই বলেন তবে যতক্ষণ সময় অপনার কাজে ব্যয় হবে, তা সবই ইবাদাতে অতিবাহিত হবে।

(সংগৃহীত)