ড্রপা পাথর: অমীমাংসিত রহস্য

droppa stoneএক অমীমাংসিত রহস্যময় বস্তু হলো ‘ড্রপা পাথর’। সুম উম নেই নামক এক চৈনিক গবেষক এ পাথরকে প্রথম ড্রপা নামক এলিয়েনদের ডায়েরি বলে আখ্যা দেয়।

মূলত, ড্রপা পাথর হলো প্রায় ১২ হাজার বছরের পুরাতন ৭১৬টি চাকতি আকৃতির পাথুরে খণ্ড যেগুলোর ওপর সাংকেতিক ভাষায় বিভিন্ন তথ্য উৎকীর্ণ আছে। এই পাথরের চাকতিগুলোর প্রতিটির ব্যাস ১ ফুট এবং এদের মধ্যে একটি গর্ত রয়েছে, যা দিয়ে সর্পাকারে দুটি ছাঁচ আটকে রাখা হতো। হায়ারোগ্লিফের মতো সাংকেতিক চিহ্নগুলো এই ছাঁচে খোদাই করা ছিল।

ড্রপা এবং ড্রপা পাথর সম্পর্কিত সর্বপ্রথম একটি তথ্যসূত্র ১৯৬২ সালের ‘দ্য ওয়েগেটারাইশি ইউনিভার্সাম’ নামক একটি জার্মান উদ্ভিদ সম্পর্কিত সাময়িকীতে পাওয়া যায়।

১৯৩৮ সালে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চি পু তেই প্রায়ই তার ছাত্রদের নিয়ে তিব্বত সীমান্তে অভিযানে যান। সেখানে ‘বায়ান কারা উলা’ পর্বতের বেশকিছু গুহা পর্যবেক্ষণের সময় এক অদ্ভুত গুহার সন্ধান লাভ করেন।

গুহার দেয়াল বেশ মসৃণ ছিল। গুহার ভেতরটা বেশ উষ্ণ ছিল। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তারা বেশকিছু সারিবদ্ধ সমাধির সন্ধান লাভ করে। প্রায় ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের কবরগুলো খনন করতেই বেরিয়ে আসে কঙ্কাল।

কিন্তু এসব কঙ্কালের মাথার খুলিসহ বিভিন্ন হাড় স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় আকারে বেশ বড় ছিল। অধ্যাপক চি পু তে এসব কঙ্কাল মানুষের নয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে আরও অনুসন্ধানে তারা এক ফুট ব্যাসার্ধের শত শত পাথুরে চাকতির সন্ধান লাভ করে। পাথরের গায়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়বস্তু, যেমন-সূর্য, চন্দ্র, পাখি, ফল, বৃক্ষ প্রভৃতি বেশ যত্ন করে খোদাই করা ছিল। অধ্যাপক চি পু তেই প্রায় কয়েকশ চাকতি নিয়ে বেইজিংয়ে ফেরত যান।

ধীরে ধীরে চীন ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীতে এই পাথুরে চাকতির গল্প ছড়িয়ে পড়ে। গবেষকগণ এই পাথুরে চাকতির নাম দেন ‘ড্রপা পাথর’। ড্রপা পাথরের গায়ের সাংকেতিক ভাষার মাঝে কোন অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে, তা ভেদ করতে উঠে পড়ে লাগেন বিজ্ঞানীরা।

ড্রপা পাথরের ‘ড্রপা’ নামের আবিষ্কারক বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রহস্যময় গবেষক সুম উম নেই। প্রায় চার বছরের গবেষণা শেষে দুর্ভেদ্য ড্রপার রহস্যের তিনি এমন সমাধান দেন, যা শুনে ইতিহাসবিদ এবং পুরাতত্ত্ববিদরা তা হেসে ছুড়ে ফেলে।

সুম এক জার্নালের মাধ্যমে দাবি করেন, পাথরের গায়ে হায়ারোগ্লিফিক বর্ণ দ্বারা ‘ড্রপা’ নামক এক ভিনগ্রহের জাতির সফরনামা লিখিত রয়েছে। তিনি একটি চাকতি সম্পূর্ণ অনুবাদ করেন এভাবে ‘আমরা মেঘের ওপর থেকে মহাকাশযানে চড়ে মাটিতে অবতরণ করি। আমরা আমাদের সন্তানেরা এই গুহায় প্রায় ১০ সূর্যোদয় পর্যন্ত লুকিয়ে থাকি। কয়েক দিন পর যখন আমরা স্থানীয়দের দেখা পাই, তখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। ইশারায় যোগাযোগ করতে সক্ষম হওয়ায় আমরা গুহা থেকে বেরিয়ে আসি।’

সুম এর মৃত্যুর পর ১৯৬৮ সালে ড্রপা পাথর রুশ বিজ্ঞানীভায়াস্লভ সাইজেভের গবেষণাগারে স্থানান্তরিত হয়। তখন সামনে চলে আসে আরও রহস্য আর কিছু প্রশ্ন! তিনি চাকতির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেশকিছু পরীক্ষা চালান। তার মতে ড্রপা পাথরের পাথরগুলো মূলত একধরনের গ্রানাইট পাথর যার মাঝে কোবাল্টের পরিমাণ অনেক বেশি।

প্রশ্ন উঠে, তৎকালীন অধিবাসীরা ঠিক কীভাবে এই শক্ত পাথরের মাঝে সাংকেতিক চিহ্ন খোদাই করেছেন? সাইজেভের মতে, ১২ হাজার বছর পূর্বে এমন কোনো পদ্ধতি ছিল না, যা দিয়ে এরূপ পাথরের মাঝে খোদাই করা সম্ভব!

রুশ বিজ্ঞানীরা অসিলোগ্রাফের মাধ্যমে এই পাথর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, কোনো একসময়ে এই পাথরগুলোতে বৈদ্যুতিক বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কখন বা কীভাবে? এ আরেক প্রশ্ন!

এরপর ১৯৭৪ সালের কথা। অস্ট্রীয় প্রকৌশলী আর্নেস্ট ওয়েগারার সেবার চীনের বানপো জাদুঘর পরিদর্শনে ড্রপা পাথরের দুটো চাকতি দেখতে পান। তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে চাকতি দুটোকে ক্যামেরাবন্দি করেন।

কিন্তু এই ঘটনার কিছুদিন পরেই তৎকালীন জাদুঘরের মহাব্যবস্থাপককে বিনা কারণে বরখাস্ত করা হয় এবং চাকতি দুটো ধ্বংস করে ফেলা হয়। এই রহস্যময় ঘটনার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ড্রপা পাথর নিয়ে বহু গবেষণা হলেও নানা বিতর্কের কারণে গবেষণার অগ্রগতি একদম শূন্যই বলা যায়। আর যেহেতু পাথরগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে তাই ড্রপা পাথর পৃথিবীর একটি অমীমাংসিত রহস্যই রয়ে গেল।

Advertisements

‘মানুষ বিপদে পড়ার ভয়ে প্রতিবাদ করছে না’

human rights fdn speakers

ক্রমশ মানুষ কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করছে না বিপদে পড়ার ভয়ে। মানবাধিকারের বিষয়টি ক্রমশ নেতিবাচক হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে এসে মানবাধিকার চর্চা করতে হবে। বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

এমএসএফ-এর যাত্রারম্ভ উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

এ সময় ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানে উল্লেখিত মানবাধিকারের যতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে মানবাধিকার কর্মীদের জন্য। তবে বিভিন্ন সূচকে দেশ এগিয়ে গেলেও এখনও মানবাধিকার রক্ষার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অনেক ভুয়া সংগঠনও গড়ে উঠেছে, যারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার গৌরব ধ্বংস করছে।

সভাপতির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুর্বৃত্তায়নের ফলে নাগরিক বোধ হারিয়ে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তের কাছে নিয়মতান্ত্রিক অধিকার অসহায় হয়ে পড়ছে। মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও নারী বিদ্বেষ ক্রমশ এ দেশটাকে দখল করে নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্বাক্ষর রাখলেও এ দেশ মানবাধিকার ইস্যুতে অবহেলা, উদাসীনতা ও অনগ্রসরতার যে উদাহরণ রেখেছে, তাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বললেও খুব কম বলা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো কীভাবে এই সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে?

লিখিত বক্তব্যে একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সুলতানা কামাল জানান, প্রতি একশ জনের মধ্যে ৮৭ জন নারী কোনও না কোনোভাবে পরিবারের মধ্যে নির্যাতিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আটশ’ নারী, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৯০টিরও বেশি। সরকারি সংস্থা ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। গত এক বছরে ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। শিশু নির্যাতন, হত্যা আর সহিংসতার সংখ্যা গত এক বছরে দেড় হাজারেরও বেশি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাকির হোসেন, এমএসএফের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সারাদেশে মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রচারে যাত্রা শুরু করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ  )। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে সুলতানা কামাল ছাড়াও রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী সাইদুর রহমান, সানিয়া ফাহিম আনছারী, ডালিয়া আফরোজ, জাহেদুল আলম টিটু, তানভীর রোজেলিন সুলতানা, সাদিয়া তাসনিম, ইভা সাহা এবং তৌফিক আল মামুন।

রম্য-রচনাঃ “পাওয়া গেছে বিজ্ঞপ্তি”

Forma-2.qxd

Forma-2.qxd

Forma-2.qxd

নবাব সলিমুল্লাহর কাঁধে আজও দেনার দায়

salimullah debtব্রিটিশ যুগে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। ব্রিটিশ যুগ গেছে, পাকিস্তানি আমল পেরিয়ে বাংলাদেশেরও প্রায় অর্ধশতাব্দী ছুঁই ছুঁই। ঋণ শোধ হয়নি। দেনার দায়ে সরকারের হেফাজতে এসেছিল হীরক খণ্ড ‘দরিয়া-এ নূর’ ও আরো ১০৯ প্রকার স্বর্ণালংকারসহ নবাবদের ভূসম্পদ। হীরা ও স্বর্ণালংকারগুলো এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন রক্ষিত আছে সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভল্টে। ঢাকা গড়ায় অবদান রাখা নবাব সলিমুল্লাহ ১১০ বছরেও ঋণমুক্ত হতে পারেননি।

নবাব সলিমুল্লাহ পানীয় জল, ইলেকট্রিসিটি এবং টেলিফোন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার জন্ম দেন। ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন ঢাকা সফরে এলে তাঁর কাছে পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তিনি তুলে ধরেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন এবং বাবার নামে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমানে বুয়েট) প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসরদের ক্রমাগত আক্রমণ থেকে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ধর্ম রক্ষায় প্রায় ছয় মাসের চেষ্টায় পাক-ভারত উপমহাদেশে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ গঠনে তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন।

সরকারের নথি থেকে জানা যায়, ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ আর্থিক সংকটে পড়লে ১৯০৮ সালে ‘রেহেন দলিল ৪১৪২’ মূলে নবাব পরিবার ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য বার্ষিক ৩% সুদে ১৪ লাখ রুপি ঋণ গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, “ঢাকা নবার স্টেটের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যা ১৯০৮ সালের ৬ আগস্ট পূর্ববঙ্গ আসাম সরকারের পক্ষে কমিশনার ঢাকা বিভাগ এবং নবাব সলিমুল্লাহ বাহাদুর সিএসআইয়ের মধ্যে সম্পাদিত বন্ধকী চুক্তি অনুসারে অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে পাঁচ লাখ রুপি মূল্যের ‘দরিয়া-এ নূর’ ও ১০৯ প্রকার হীরক খণ্ড পাওয়া যায়।”

ভূমি সংস্কার বোর্ডের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় সম্পদগুলো ব্রিটিশ সরকার সেফ ডিপোজিট হিসেবে তৎকালীন স্টেট ব্যাংকে জমা রাখে, সেই ধারাবাহিকতায় এ সম্পদ বর্তমানে সোনালী ব্যাংকে জমা আছে। দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি সংস্কার বোর্ড। বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন,‘ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় নবাব পরিবারের সম্পদ বন্ধকী হিসেবে আছে।’

এদিকে কারো কারো সন্দেহ, হীরক খণ্ডটি যথাস্থানে নেই। ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হীরক খণ্ডটি যাচাইয়ের সুপারিশ করে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিটির ২৩তম বৈঠকে। ভূমিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘দরিয়া-এ নূর’ পরিদর্শনের সুপারিশ করা হয়। ভূমি সংস্কার বোর্ডের ২০১৬ সালের ৬ অক্টোররের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা যায়, ২০০৩ সালের ৩ মে নবাব স্টেটের অস্থাবর সম্পত্তি পরিদর্শনে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি কোনো বৈঠকে মিলিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে নেই। তবে ভূমি সংস্কার বোর্ডের নথিতে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২১ জুন লোহার বাক্স কাপড়ে মোড়ানো সিলগালাকৃত অবস্থায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে এনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ভূমিমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেদিন হীরক খণ্ডটি উন্মুক্ত করে দেখা হয়নি।

ঢাকা গড়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রাখা নবাব সলিমুল্লাহর কোনো উত্তরাধিকারীও এ ঋণ শোধ করেনি। জানা যায়, সলিমুল্লাহর বোনের ছেলে পাকিস্তানের একসময়ের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঋণ পরিশোধ করে সম্পত্তি অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে পারেননি পারিবারিক বিরোধের কারণে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন,‘১৯০৮ সালের ১৪ লাখ রুপি এখন কয়েক শ কোটি টাকা হতে পারে। কেউ ঋণ নিলে তিনি জীবিত না থাকলে তাঁর উত্তরাধিকারীদের কারো পক্ষ থেকে তো ঋণের দায়মুক্তির আবেদন আসতে হবে। এলেই সরকার বিবেচনা করতে পারে। এ ছাড়া এই ঋণের কথা এই প্রথম শুনলাম।’

বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন,‘নবাব সলিমুল্লাহ ঋণ নিয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে। ব্রিটিশ সরকার এ খেলাপি ঋণের কোনো সুরাহা করেনি। তারপর পাকিস্তান গেছে। বাংলাদেশও অনেক বছর পার করল। এখন রাষ্ট্র কিভাবে তাঁকে ঋণমুক্ত করবে?’

সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এমন কোনো নথি সোনালী ব্যাংকে আমার সময় দেখিনি। তবে নবাব পরিবারের অজনা কিছু অস্থাবর সম্পদ বাক্সবন্দি অবস্থায় সোনালী ব্যাংকে আছে সেফ ডিপোজিট হিসেবে; এটা ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পদ হিসেবে নয়। এর মধ্যে হীরক খণ্ড বা অন্য কী আছে সেটা ব্যাংকের জানার কথা নয়। কারণ সেফ ডিপোজিট আননোন কনন্টেট হিসেবে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘ঋণের বিষয়টি লিপিবদ্ধ থাকলে হয়তো ঋণমুক্তির প্রশ্ন আসত।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের ডিএলআরসি রইসউদ্দিন এ নবাব স্টেট ও হীরক খণ্ড নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর উত্তরাধিকারী খাজা নাজিমউদ্দিনও ঋণ পরিশোধ করেননি। এখন সমাধান হতে পারে যদি সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়।

অন্যদিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই হীরক খণ্ড সোনালী ব্যাংকের ভল্টে বন্দি করে রাখার কোনো যুক্তি দেখছি না। এ ছাড়া এটা ১০০ বছর ধরে ব্যাংকে আছে এখন এমনিতেই জাদুঘর পেতে পারে। আমরা এটা নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আবারও নতুন করে ২০১৫ সাল থেকে চেষ্টা করছি। বিভিন্ন দপ্তরে লেখালেখি করছি। সোনালী ব্যাংকের এমডিকে জাদুঘরে নিয়ে এসেছিলাম। তাঁকে বলেছিলাম হীরক খণ্ড বন্দি না রেখে জাদুঘরে দিতে। তবে কোনো পক্ষেরই সাড়া পাচ্ছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে জাদুঘরে হীরক খণ্ড রাখার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আমি বলি, হীরক খণ্ডের চেয়েও দামি জিনিসপত্র জাদুঘরে আছে।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহর বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকার বলে ঢাকায় বসবাসকারী বেশ কিছু লোক দাবি করেন। তবে তাঁরা কেউ নবাব সলিমুল্লাহর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হননি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিভূতিভূষণ বলেন, ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি ঋণের দাবি প্রত্যাহার না করে অব্যাহত রাখে তাহলে ঋণ গ্রহীতার বংশধরদের সে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এখানে বংশধরদের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই।

বিয়ে বাড়ির বাজনা এবং সামাজিক বর্বরতা

জাফর সোহেল : ঢাকা একটি শহরের নাম। একটি দেশের রাজধানী। অথচ দেখেশুনে মনে হয় সারাদেশ থেকে বাছাই করে এখানে কিছু বোধ বিবেচনাহীন মানুষকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাজধানী ভরে উঠেছে এ ধরনের মানুষে। এদের মনোবৈকল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মন বলে তাদের আদৌ কিছু আছে কি না এই প্রশ্ন তোলা যায়! মনহীন মানুষ কি মানুষ? শুধু একটা দেহ নিয়ে কি মানুষ হওয়া যায়? ঢাকা শহরে সম্ভবত এমন মানুষের সংখ্যাই এখন বেশি। এ ধরনের মানুষের সঙ্গে প্রাণহীন জঞ্জালের আসলে কোনো পার্থক্য নেই।

পুরান ঢাকার গোপীবাগে বিয়ে বাড়িতে হত্যার শিকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর স্বজন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন: ‘সিনেমা দেখে না সিনেমা, ঐরকম। সবাই সিনেমা দেখতে ছিল। একটা লোকও এগিয়ে আসেনি। তারা অসুস্থ লোকটাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। কেউ একটা কথাও বলেনি!’

টেলিভিশনের নিউজ দেখতে দেখতে আমার কাছে পুরো ব্যাপারটা সিনেমার মতোই মনে হচ্ছিল। পেশি শক্তির ব্যবহার; এমনকি বিয়ের মতো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের দিনও কম দেখাতে রাজি নয় কিছু মানুষ। অন্যদিকে সিনেমার শুটিং দেখার বাইরে এই শহরের মানুষের যেন আর কোনো দায়-দায়িত্ব নেই! কোনো বোধ নেই, অনুভূতি নেই। খবর দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, নিহত এই ভদ্রলোক কি তার প্রতিবেশীর বিয়েতে নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন?

এবার ‘সিনেমা’র গল্পটিতে চলুন প্রবেশ করি। গল্পের পটভূমি, নায়ক-নায়িকা-ভিলেন সব পুরান ঢাকার গোপীবাগের। সেখানকার একটি বাড়িতে এক রাজকুমারের বিয়ে হবে। বিয়ের আগে গায়ে হলুদের রাত। বিয়ে বাড়িতে শুরু হয় রাজকুমারকে নিয়ে নানারকম ব্যস্ততা। এর মধ্যে বাড়ির ছাদে উঠতে থাকে ইয়া বড় বড় বাক্স। শব্দের কম্পন তোলা যেগুলোর কাজ। বাদ্য বাজনার তালে তালে এই বাক্সগুলো যত বেশি কম্পমান হবে তত এদের কদর। একসময় এদের ভূমিকা শুরু হয়ে যায়। এদের স্বাভাবিক মাত্রার কম্পনে সন্তুষ্ট হয় না রাজকুমার আর তার স্বজনরা। তারা আরও জোরে বিল্ডিং কাঁপিয়ে দেয়ার মাত্রায় তাদের চালিত করে। এতে বোবা বাক্সগুলো কষ্ট পেলেও, ফেটে গিয়ে মারা যাওয়ার (ধ্বংস হওয়ার) ভয় থাকলেও কিছু বলে না। কারণ তারা বলতে পারে না। সুতরাং তাদের সর্বোচ্চ শক্তির কম্পনে চারপাশ প্রকম্পিত হতে থাকে। এমন সময় বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে শোনা যায় গোঙানি। সদ্য হার্টে বাইপাস সার্জারি করা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নাজমুল হক বুকে হাত দিয়ে গোঙাতে থাকেন। মধ্যরাতে বাবার বুকের ব্যথা বেড়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে দেরি হয় না ছেলের। সাহস করে ছাদের ওপরে উঠে যান তিনি। উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণের প্রতিবাদ করেন।

পরদিন সকালে বিয়ে বাড়ির রাজকুমার বর আর তার স্বজনরা নাজমুল আর তার ছেলেকে ডেকে পাঠান। কত বড় সাহস, রাত দুপুরে অপমান! বাবা-ছেলে নেমে আসেন। আর তখনই হার্টের রোগী বাবা আর ছেলের ওপর শুরু হয়ে যায় অ্যাকশন। হৃদযন্ত্রের অব্যবস্থপনায় আগে থেকেই নাকাল বয়োজ্যেষ্ঠ নাজমুল বুকের ভেতরের প্রাণপাখি আর ধরে রাখতে পারেন না। তার প্রাণপাখি আকাশে উড়াল দেয়। নিয়াজুল পড়ে যান। এমনভাবে পড়েন, যেখান থেকে তাকে টেনে তোলার সাধ্য কারো নেই।

সিনেমার গল্প শেষ। এবার নিহত নাজমুলের স্বজনের ক্ষোভের জায়গাটায় একটু যাই। একটা শহর। এখানে মানুষ আছে; মানুষের মিলিত সমাজ আছে। ন্যায় অন্যায় সমাজে থাকবেই। কিন্তু প্রকাশ্যে অন্যায় চললেও এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না- এটা কোন ধরনের সমাজ? পৃথিবীর ইতিহাসে কি এমন কোনো সমাজ ছিল, যেখানে মানুষের বিপদে মানুষ এগিয়ে আসে না? হ্যাঁ ছিল, অরাজক দেশে। যেখানে শাসন বা অনুশাসন বলে আসলে কিছু কার্যকর থাকে না। যে যার মতো চলে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে শক্তিধরেরা যেমন খুশি তেমন আচরণ করে। দুর্বলেরা কেঁচোর মতো নিজেদের অর্ধেক মাটিতে ডুবিয়ে রাখে। সবলের কোদালে অপরাপর কেঁচোরা কচুকাটা হলেও অন্যরা মুখ লুকিয়ে থাকে। ঢাকা শহর কি একটি অরাজক দেশের অংশ? এখানেও যেভাবে সবলের কাছে দুর্বলের মার খাওয়া এবং আইনের শাসনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অন্যায় দেখেও সমাজের মানুষের নির্লিপ্ত থাকার ছবি সামাজিক বিপর্যয়ের কথা বলে। না হলে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে একেবারে আয়োজন করে পেটানো হচ্ছে আর মানুষ তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে, সিনেমার শুটিংয়ের মতো! এ কথা ভাবা যায়?

আমরা ইতিহাস পড়ি। হাজার বছর আগে কীভাবে বিক্ষিপ্ত মানুষেরা সমাজ গঠন করেছিল; মিলেমিশে থাকতে শিখেছিল; একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস রপ্ত করেছিল। আমরা দাবি করি, দিনে দিনে মানুষের এই সমাজ ব্যবস্থা আরো দৃঢ় হয়েছে এবং হচ্ছে। দিন যত এগোয়, সমাজ নাকি তত সভ্য হয়, বন্ধন নাকি তত পোক্ত হয়। এই তার নমুনা? পুরান ঢাকার গোপীবাগের বিয়ে বাড়ি কোন সমাজের প্রতীভূ? সেখানকার বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, সিনেমার শুটিংয়ের দর্শক প্রতিবেশী কোন সমাজ থেকে এসেছেন? বইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তবতার মিল কোথায়? বাস্তবে তো আমরা দেখছি দিনে দিনে সমাজ সভ্য হওয়ার বদলে অসভ্য হচ্ছে; সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হওয়ার বদলে বন্ধন ছিঁড়ে যাচ্ছে। মিলন নয়, কীভাবে একে অপর থেকে পৃথক হওয়া যায় সেই চর্চা চলছে পরিবারে।

আবার আরেক দিক থেকে যদি দেখি, সমাজের মানুষ কখন নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করে? যখন সে দেখে, এরকম আরো দশটা ঘটনায় কারো কোনো বিচার হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব ঘটনায় কিছু যায় আসে না। কিংবা যে কোনো প্রকার সম্পর্ক দিয়ে, সেটা অর্থ হোক বা ক্ষমতা, আইনের চোখ বেঁধে রাখা যায়। পুরান ঢাকার বিয়ে বাড়ির লোকেরাই কেবল নন, এই সমাজের অনেক মানুষই এখন মনে করে ‘আমার কিচ্ছু হবে না’। এই মানুষেরা সমাজের কাছ থেকে এক ধরনের ইনডেমনিটি পেয়ে যায়; প্রশাসনের কাছ থেকেও। ফলে এরা যখন কাউকে কানে ধরে উপর তলা থেকে নীচ তলায় নামিয়ে আনে, তখন কারো কিছু বলার থাকে না। মারধরের বেলায় এরা কি চোর-ছেঁচড়ার গায়ে হাত তুলছে, নাকি সজ্জন ব্যক্তির গায়ে হাত দিচ্ছে- দেখার কেউ থাকে না। এরা যা করে তাই ঠিক। এরা নিজেদের মনে করে সমাজের প্রশাসক। তাই যে কাউকে মারার যেমন এদের অধিকার আছে, তেমনি মেরে একেবারে পরপারে পাঠিয়ে দেয়ারও বিশেষ অধিকার এরা রাখে। ‘অনধিকার চর্চা’র মতো শব্দ তাদের অভিধানে নেই।

দেশে যে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। বিষয়টি স্বীকার করে সংকটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা নেয়াতেই রয়েছে এর সমাধান। একটা সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে সেখানে প্রকাশ্যে মানুষ পিটিয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটতে পারে না। ঘটনার হোতারা এই সাহস পেত না। রাষ্ট্রে বসবাসরত একজন সুস্থ সামাজিক মানুষ কখনও ভাবতে পারে না- আমিই সব। আমাদের ওপর কথা বলার কেউ নেই। বিয়ে বাড়িতে বাদ্য বাজবে কি বাজবে না, বাজলে কোন মাত্রায় বাজবে; শব্দ দূষণ করা যাবে কি যাবে না; বিশেষ আবদারে কিছুটা দূষণের অনুমতি দিলেও তা কত মাত্রায় থাকবে; যেখানে অনুষ্ঠান হবে সেখানে বা আশপাশে হাসপাতাল আছে কি না, অসুস্থ মানুষ আছে কি না; প্রস্তাবিত আয়োজনে কমিউনিটির সবার সায় আছে কি না- এ ব্যাপারগুলো মীমাংসা করা কি এতই কঠিন?

বিয়ে বাড়িতে বাদ্য-বাজনার শখ যেমন অধিকার, তেমনি প্রতিবেশীরও আছে নিরুপদ্রব ঘুমের অধিকার। একজনের কারণে দশজনের কষ্ট হতে পারে না। তাছাড়া দেশে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন আছে। ফলে আপনার শখের নামে অত্যাচার প্রতিবেশী কেন সহ্য করবে? গোপীবাগের ঘটনায় জানা যায়, তারা কমিউনিটির কারো মতামতের তোয়াক্কা করেনি। যথেষ্ট সুযোগ সেখানে ছিল কিছু করার। গানের শব্দ যেমন কমানো যেত, তেমনি অনুরোধ করে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়া যেত। কিন্তু ঐ যে ‘আমিই সব’ টাইপের চিন্তাভাবনা যেখানে ঢুকে গেছে, সেখানে কে কাকে অনুরোধ করবে? কে কার অনুমতি নেবে? সুতরাং সময় এসেছে যারা এমন ভাবে, তাদের উচিত শিক্ষা দেয়ার। যাতে তারা বুঝতে পারে-আমি আসলে কিছুই না। বরং সমাজের অন্য দশজনের মতো সাধারণ একজন।

আর আমরা যারা সিনেমার শুটিংয়ের দর্শক তাদেরও ভাবতে হবে, বুঝতে হবে-  কেঁচোর মতো মুখ লুকিয়ে থাকলেই কিংবা বোবা জন্তুর মতো চুপ করে থাকলেই বেঁচে যাওয়া যাবে না। আজ নাজমুল ঘটনার শিকার হয়েছেন কাল আপনিও হতে পারেন। পিঠের ওপর প্রতিবেশীর মারের দাগ কেবল নাজমুলের পরিবারকে নিতে হয়নি। এ দাগ আমাদের সবার পিঠেই লেগেছে। কষ্ট করে পেছনে হাত দিয়ে দেখুন। মন খুলে ভাবুন বুঝতে পারবেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন বাঙালির অনুপ্রেরণা

১২ জানুয়ারি শুক্রবার ছিল মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৪ তম ফাঁসি দিবস। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সূর্য সেন ও বিল্পবী তারকেশ^র দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুড়ী দিয়ে তাদের দাঁত ও হাড় ভেঙে দেয়। হাতুড়ী দিয়ে ইচ্ছে মতো পিটিয়ে অত্যাচার করে। এই অত্যাচারের এক পর্যায়ে মাস্টারদা ও তারকেশ^র দস্তিদার অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর তাদের অর্ধমৃত দেহগুলোকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে পুরো মৃত্যু নিশ্চিত করে জেলা খানা থেকে ট্র্রাকে তুলে চার নং স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে বুকে লোহার টুকরো বেঁধে বঙ্গপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন একটি জায়গায় ফেলে দেয়া হয়। যাতে কেউ মাস্টারদা ও তারকেশ^রের মৃত দেহও খুঁজে না পায়। চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এই বিল্পবী নেতা তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজের জীবনও বলিদান করেন দেশের জন্য। ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী চট্টগ্রাম শাখা গঠন করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় সশস্ত্র বিল্পবের ডাক দেন মাস্টারদা সূর্য সেন। এছাড়া চট্টগ্রাম যুব দিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশদের হাত থেকে টানা চারদিন চট্টগ্রামকে মুক্ত রাখেন বিল্পবীরা। মাস্টারদার নেতৃত্বে অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমন, জালালাবাদ যুদ্ধ হয়।

মাস্টারদার পুরো নাম সূর্য কুমার সেন। তবে মাস্টার দা নামে সহযোদ্ধাদের কাছে বেশ পরিচিত ছিলেন। মাস্টার দা ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন। মাস্টারদারা ছিলেন দুই ভাই ও চার বোন। শৈশবে পিতা মাতাকে হারিয়ে সূর্য সেন কাকা গৌরমণির কাছে মানুষ হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্বভাবের ছিলেন। সেই সাধারণ পরিবারের ছোট্ট সূর্য একদিন আলো ছড়িয়ে পুরো দেশকে স্বাধীন করতে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছিল। কে জানতো সেই সূর্য কুমার সেনই একদিন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হয়ে যুগের পর যুগ লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবে?

১৯১৮ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করে চট্টগ্রামে ফিরে আচার্য হরিশ দত্তের জাতীয় স্কুলে শিক্ষাকতা শুরু করার মাধ্যমেই মাস্টারদার কর্মজীবন শুরু। অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি দেওয়ানবাজারের বিশিষ্ট উকিল অন্নদা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত অধুনালুপ্ত ‘উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে’ অংকের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এই সময় বিল্পবী দলের সাথে যুক্ত হয়ে ওঠেন এবং শিক্ষকতা করার কারণে তিনি মাস্টারদা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন বিপ্লবী সহযোদ্ধাদের কাছে।

১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় উক্ত কলেজের অধ্যাপক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর সান্নিধ্য লাভ করে সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন মাস্টারদা। অধ্যাপক সতীশচন্দ্র তৎকালীন যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে মাস্টারদাকে বিপ্লবী আদর্শে ও বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দেন। বিপ্লবী ভাব ধারায় দীক্ষিত সূর্য সেন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকে একমাত্র তপস্যা হিসেবে নিয়ে ছিলেন। তাই তিনি বিবাহ-বিরোধী ছিলেন। কারণ মাস্টারদা মনে করতেন, বিবাহিত জীবন তাঁকে কর্তব্য ভ্রষ্ট করবে, আদর্শচ্যুত করবে। কিন্তু পারিবারিক ও আত্মীয় স্বজনের চাপে ১৯১৯ সালে বিয়ে করতে বাধ্য হন। যদিও বিবাহর তিন দিন পর মাস্টারদা বাড়ি থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।

১৯১৮ সালে শিক্ষা জীবন শেষে বহররমপুর থেকে ফিরে উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় গোপনে চট্টগ্রামে বিল্পবী দলে যোগ দেন। এরপর চট্টগ্রামে আগে থেকে গঠন করা দুই বিল্পবী দল যুগান্তর ও অনুশীলনে যোগ না দিয়ে মাস্টারদা ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ^যুদ্ধের শেষের দিকে বিপ্লবী অনুরূপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্রনাথ সেনদের সঙ্গে নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গোপন বিপ্লবী দল গঠন করেন। এর মধ্যে বিপ্লবী চারুবিকাশ দত্ত তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে অনুশীলন দলের সাথে যুক্ত হয়ে যান। যদিও ১৯২০ সালে গান্ধীজী কর্তৃক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে অনেক বিপ্লবী এই আন্দোলনে যোগ দিলে কিছুদিন পর মাস্টারদাও যোগ দেন। গান্ধীজীর অনুরোধে এক বছর বিপ্লবী কাজ বন্ধ রাখার পর ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বর্তমান টাইগার পাস এলাকা থেকে মাস্টারদার গুপ্ত সমিতির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতনের ১৭,০০০ টাকার বস্তা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের দুই সপ্তাহ পর গোপন বৈঠক বসলে পুলিশ টের পেয়ে বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দেয়।

এসময় পুলিশের সাথে বিপ্লবীদের খ- যুদ্ধ হয়। যা “নগরখানা পাহাড় যুদ্ধ” নামে পরিচিত। মাস্টারদা ও অম্বিকা চক্রবর্তীকে রেলওয়ে ডাকাতি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। যদিও কিছুদিন পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারে তাঁরা দুজন ছাড়া পেয়ে যায়। তৎকালীন সময় বিপ্লবী দলগুলোতে প্রথম দিকে মেয়েদের যোগ দেয়া নিষিদ্ধ ছিল বিভিন্ন কারণে। পরবর্তীতে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তদের মধ্যে বিপ্লবীর আগুন দেখে মাস্টারদা মেয়েদের দলে যুক্ত না করার নির্দেশ শিথিল করেন। এরপর প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত যোগ দেন।

১৯২৮ সালে কলকাতায় নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে চট্টগ্রাম থেকে মাস্টারদাসহ অন্যান্যরা যোগ দেন। তখন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের সাথে মাস্টারদার বৈঠক হয়। এর পরের বছর ১৯২৯ সালে মহিমচন্দ্র ও মাস্টারদা চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৩০ সালে মাস্টারদা ও অম্বিকা চক্রবর্তী চট্টগ্রাম আসকার খাঁর দিঘির পশ্চিম পাড়ে কংগ্রেস অফিসে সশস্ত্র বিপ্লবের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করারকালীন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের দলের নাম পরিবর্তন করে “ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ” বাংলায় “ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা” করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে একটি দলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। মাস্টারদার দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৫ জন, অম্বিকার ১৫ জন, অনন্ত সিং ও গণেশ ঘোষের ২২ জন এবং নির্মল সেনের ৬ জন। চারটি দল অস্ত্র সংগ্রহ ও বোমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলো।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল শুক্রবার রাতে বিদ্রোহের দিন ঠিক করে চারটি দল চার বাড়ি থেকে বের হয়ে একদল ধুম রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে দেয়। এতে একটি মালবহনকারী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। যার কারণে চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই সুযোগে একদল নন্দনকানেন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস দখল করে হাতুড়ি দিয়ে ভাংচুর করে, কেউ রেলওয়ে অস্ত্রগার দখল করে পেট্রোল আগুন লাগিয়ে দেয়। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী দামপাড়া পুলিশ রিজাভ ব্যারাক দখল করে আক্রমণে অংশ নেওয়া বিপ্লবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। বিপ্লবীরা মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে মাস্টারদা সূর্য সেনকে তাঁর আদর্শের সাথে সাহসী নেতৃত্বদানের জন্য সংবর্ধনা প্রদান করেন। ওই সময়ই মাস্টারদা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন এবং পুরো চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসকদের হাত থেকে চারদিন মুক্ত রাখেন।
১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল বিপ্লবীরা জালাবাদ পাহাড়ে অবস্থান করলে ইংরেজ সৈন্যরা তাঁদের আক্রমণ করেন। টানা দুই ঘন্টা যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যদের ৭০ জন নিহিত হয় এবং বিপ্লবীদের মধ্যে ১২ জন শহিদ হন। জালালাবাদ যুদ্ধের পর মাস্টারদাকে গ্রেফতারের অনেক চেষ্টার পরও ব্যর্থ হয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু বিপ্লবীদের মধ্যে কেউ কেউ ধরা পড়ে আবার কেউ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। ১৯৩০ সালের সেই ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ওই ক্লাবে কেউ ছিল না বলে মাস্টারদা ঠিক করেন পরের মাসের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়েদ্দারের নেতৃত্বে হামলা করা হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করা হয়। এই আক্রমণে ৫৩জন ইংরেজ হতাহত হয়। গুলিতে আহত প্রীতিলতা দৈহিকভাবে অত্যাচারিত হওয়ার চাইতে স্বেচ্চায় মৃত্যুকে বেছে নিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড নামক একটি কঠিন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইংরেজ প্রশাসন মাস্টারদাকে জীবিত বা মৃত ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। পরে ১৯৩৩ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে সূর্য সেন ও ব্রজেন সেনকে অস্ত্রসহ গৈড়লা গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা বিশ^াসের বাড়ি থেকে রাত দুইটায় গ্রেফতার করে। সেই রাতে ক্ষীরোদপ্রভার বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সূর্য সেনের লেখা অসামাপ্ত আত্মজীবনীর খাতা উদ্ধার করে। খাতার উপর লেখা ছিল “বিজয়া”।

সূর্যসেন, তারকেশ^র ও কল্পনা দত্তকে বিচার করার জন্য ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২১/১২১এ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৯৩৩ সালের ১৪ই আগষ্ট এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে ১২১ ধারায় মৃত্যুদ- প্রদান করেন। ওই একই ধারায় তারকেশ^রও মৃত্যুদ- পায়। অন্যদিকে কুমারী কল্পনা দত্তকে ১২১ ধারায় দোষী করে যাবজ্জীবন দ-াদেশ করে। মামলার রায় প্রদানের পর তিন জনের পক্ষে কোলকাতা হাই কোর্টে আপিল করলেও ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের দেয়া দ- বহাল রাখে।

এরপর সূর্যসেনকে চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেমড সেলের নির্জন কুঠুরীতে রাখা হতো। একজন কয়েদি মেথর সূর্য সেনের লেখা চিঠি ময়লার ঝুড়িতে নিয়ে জেলের বিভিন্ন ওয়াডের্র বন্দী বিপ্লবীদের দিয়ে আসতো। মৃত্যুর আগে জেলে আটক বিপ্লবী কালীকিঙ্করের কাছে পেন্সিলে লেখা বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি লেখেন, “আমার শেষ বাণী- অদর্শ ও একতা”। তাঁর ভাষায়, “ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো।” এছাড়া তিনি সংগঠনের মধ্যে বিভেদ না আসার জন্য একান্ত ভাবে আবেদন করেন। এরপর ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে মাস্টারদা সূর্য সেন ও তারকেশ^রকে হাতুড়ী দিয়ে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফাঁসি দেয়।

মাস্টারদা মৃত্যুর আগে বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম মাত্র একটি জিনিস, তা হলো আমার একটি সোনালী স্বপ্ন। স্বাধীনতার স্বপ্ন। প্রিয় কমরেডস, এগিয়ে চলো। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত” সূর্য সেনের সেই সংগ্রামী ও আদর্শিক পথ দেখানোর মাধ্যমে বিপ্লবী তৎপরতায় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদ পরাজিত হয়েছে। ঠিক একই ভাবে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের মুক্তিকামী জনগণ একত্রিত হয়ে একই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তানী শাসকদের পরাজিত করেছিলো। বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নি। কারণ বাঙালি সূর্যসেন, প্রীতিলতা ও তিতুমীরের উত্তরসূরী। আজো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে বাক স্বাধীনতার জন্য, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক ও শোষণ বৈষম্যহীন সমাজের জন্য। মানবিক পৃথিবী বিনির্মাণের লড়াইয়ে মাস্টারদা আমাদের অনুপ্রেরণীয় হয়ে থাকবেন।

লেখক : শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী।

স্বাস্থ্য-কথাঃ গাজরের পুষ্টগুণ

carrot benefits