Archive

Archive for জানুয়ারি, 2015

ঈদে-মিলাদুন্নবী নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ !

জানুয়ারি 16, 2015 মন্তব্য দিন

yemen-miladunnabi

প্রতি বৎসর ব্লগে ঈদমিলাদুন্নবী পালন করা নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্কের গরম বাতাস বইতে দেখা যায় । ব্লগে ইসলামের কিছু বিষয়াদি নিয়ে এ ধরণের মৌসুমী গরম বাতাসের প্রবাহ নতুন কিছু নয় । এর আগেও আমরা এগুলো দেখেছি এবং কোন পক্ষ হাল ছেড়ে না দিলে ভবিষ্যতেও আবার দেখা যাবে বলেই প্রতিভাত হয় । ঈদেমিলাদুন্নবী পালন করা সঠিক নাকি বেঠিক সেটা আলোচনা করা আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য নয় বরং কিছু বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা । তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এ দিবস পালনের ব্যাপারে এক পক্ষ বেশী বাড়াবাড়ি করছে, আরেক পক্ষ একেবারে ছাড়াছাড়ি করছে ।

বিদআত দৃষ্টিকোণঃ

মূলত: বিতর্কিত সৌদী ধর্মপ্রচারক আবদুল ওয়াহহাব নজদীর আক্বীদা অনুসারীরা (বাংলাদেশে আহলেহাদীস, সালাফী এবং জামাতশিবির) এটাকে মারাত্মক বিদআত বলে মনে করে এবং এই দিবস পালনের ঘোরতর বিরোধী । তাদের মূল যুক্তি এই যে, রাসুলুল্লাহর জন্ম তারিখ নিশ্চিতভাবেই ১২ই রবিউল আউয়াল বলে প্রমাণিত নয় । তাছাড়া, নবী (সাঃ) নিজে পালন করেননি বা করার জন্য বলে দিয়ে যাননি; সাহাবী বা তাবেয়ীরাও পালন করেননি । সুতরাং এটা দ্বীনে নবআবিষ্কৃত বিষয় ; অতএব বিদআত অতএব এই দিবস পালন করা যাবে না (হারাম !)

bid'at-quote

উপরের যুক্তিতে প্রথম সমস্যা হচ্ছে বিদআতের সংজ্ঞা নিয়ে । এই বিষয়ে আমি এখানে বিষদ আলোচনায় যাবো না । অন্য একটি আলাদা পোষ্টে ভবিষ্যতে আলোচনার আশা রাখি ইনশাল্লাহ । এখানে শুধু এতটুকু বলবো যে, বিদআতের উপরোল্লেখিত সংজ্ঞা যে সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোজ্য নয় সেটার আলোচনা এই ব্লগে আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি। যেমন, ব্লগার কানিজ ফাতেমার এই ব্লগ । কিন্তু সুবিধাবাদীরা তর্কে জয় লাভের ফসল ঘরে তুলবার জন্য এই ক্ষেত্রে বিদআতের সীমিত পরিসরের সংজ্ঞা (তথা আভিধানিক অর্থ) নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে আগ্রহী অর্থাৎ বিদআতের ব্যাপক অর্থবোধক সংজ্ঞাটি (তথা পারিভাষিক অর্থ) চেপে যেয়ে এক ধরণের প্রতারণার আশ্রয় নেয় ।

দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) যে হাদীসকে বিদআতের শরয়ী সংজ্ঞার ভিত্তি ধরা হয় সেখানে সরাসরি বা সুস্পষ্টভাবে “ দ্বীনেবা দ্বীনের মধ্যেশব্দটি নেই অর্থাৎ বলা যায়, বিদআতের সংজ্ঞা নিয়েই সুকৌশলে আরেক বিদআতের (নবউদ্ভাবন বা সংযোজনবিয়োজন) আশ্রয় নেয়া হয়েছে । যেমন, নীচের উদ্ধৃতিতে আমর (?) শব্দের অর্থ এক লেখক দ্বীনধরে নিয়েছেন এবং সেভাবে তার ব্যাখ্যা হাজির করেছেন ।

খুব কম লেখকই ঐ শব্দ বা শব্দদ্বয়কে ব্র্যাকেটবন্দী করে রাখেন । ব্র্যাকেটবন্দী করা হোক বা না হোক, ঐ শব্দ বা শব্দদ্বয়ের সংযোজনের মাধ্যমে হাদীসের নিজস্ব (বা বলা যেতে পারে মনগড়া) ব্যাখ্যা হাজির করা হয় । বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব আরবী বিভিন্ন শব্দের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অর্থ করে থাকেন এবং এগুলো নিয়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়ে আসছে । আবার ঐ সংযোজন করা না হলে বিরাট এক সমস্যার সৃষ্টি হয় কারণ এতে মুসলমানদের জীবন অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয় ।

তৃতীয় সমস্যাটি হচ্ছে, দ্বীনের অর্থ নিয়ে । দ্বীনের অর্থ ধর্ম নিলে বিদআতের সংজ্ঞা সংকুচিত করে আনা যায় কিন্তু দ্বীন অর্থ জীবনব্যবস্থা (মওদূদীয় ব্যাখ্যা) করলে তা জটিল আকার ধারণ করবে !

দিনতারিখের সমস্যাঃ

একটি ব্যাপার সবার দৃষ্টির অন্তরালে থেকে গেছে যারা ঈদেমিলাদুন্নবী পালনের পক্ষে তারা ১২ই রবিউল আউয়াল যে রাসুলুল্লাহ জন্মদিন ছিলো তা হিসাবনিকাশ করে প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছেন সৌদীতে যেখানে শনিবার ১২ই রবিউল আউয়াল (৩রা জানুয়ারী ২০১৫) সেখানে বাংলাদেশে ৪ঠা জানুয়ারী (রবিবার) ১২ই রবিউল আউয়াল ! বিভিন্ন দেশে চাঁদ (আসলে বলা উচিত হিলাল‘) দেখার হিসেবে গোলমালের কারণে এই সমস্যাটি শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহ জন্মদিনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, ওফাত দিবসের সাথে ! সুতরাং নির্দিষ্ট একটি দিনে কোন কিছুর পালন (যেমন, ঈদ, রমযান বা মহররমের শুরু, আশুরা, মিরাজের রাত, শববারাআত, শবক্বদর ইত্যাদি) যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে হয়ে আসছে সেটা আমরা উপলদ্ধি করি আর নাইবা করি ! যেদিন সেটা করা হয়ে থাকুক না কেন, আমি মনে করি আল্লাহপাক সবারটা সঠিক দিবসে কৃতহিসেবে (আমি কবুলহওয়ার কথা বলছি না) নিয়েছেন কারণ মানুষকে তো তার সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে

কোন দেশগুলো এই দিবস পালন করেঃ

miladunnabi-uae

এই দিবস পালন না করার পক্ষাবলম্বনকারীরা ব্যাপারটাকে পানসে করে উপস্থাপন করার জন্য অজ্ঞতাবশত: বলে থাকেন যে, পাকভারত উপমহাদেশ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের আর কোথাও ঈদেমিলাদুন্নবী পালন করা হয় না । আমি এ ব্যাপারে বিশেষ গবেষণা করতে যাইনি । তবে যতটুকু দেখেছি, তাতে পেয়েছি যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান (৯ই জানুয়ারী জন্মদিন এবং ২৮শে সফর মহানবীর (সাঃ) ওফাত দিবস), ইরাক, মিশর, কুয়েত, ইয়েমেন এ দিবসটি পালন করে । আফ্রিকা মহাদেশের আরো কিছু দেশ এ দিবসটি পালন করে বলে মনে হয় ।

সৌদী কূটনৈতিক ড: আলী আলঘামদির ভাষ্যঃ

ghamdi-miladunnabi-1

আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার মনে হয়েছে, আব্দুল ওয়াহহাব নজদীর ভাবশিষ্য হয়ে সাবেক সৌদী কূটনৈতিক : আলী আলঘামদি (দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ; জামাতের প্রতি সহানুভূতিশীল) দিবসটি পালনের ব্যাপারে উলামাদের মতানৈক্যের কথা উল্লেখপূর্বক এই দিবসটিকে বিদআতে হাসানাবিবেচনাপূর্বক কুরআন সুন্নাহ আলোকে পালনের পক্ষে মত দিয়েছেন যেখানে সৌদী গ্র্যান্ড মুফতী বলেছেন নৈব নৈব চ ! তাঁর ভাষায় -”Despite divergent views of scholars about celebrations of the Prophet’s birthday, my personal opinion is in favor of those who celebrate it. Those who oppose celebration of the birthday say that it is a bid’ah but I consider it as a good bid’ah. … In the meantime, I would like to say that I am against those rituals and practices – which are against the principles of the Holy Qur’an and Sunnah – that are being observed in the name of Mawlid.“ । হুক্কা হুয়া সামলাও এবার ঠেলা !

ফখরুদ্দীন নামক এক ব্যক্তি : ঘামদি জেদ্দায় কায়েদেআযম জিন্নাহ জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদানের রেশ ধরে মন্তব্য করেছেন, জিন্নাহ তুলানায় মহানবীর (সাঃ) অবদান অনেক অনেক বেশী থাকা সত্ত্বেও সৌদীরা কেনো মহানবীর (সাঃ) জন্মদিন পালনে (সাদামাটাভাবে হলে) কার্পণ্য করে?

Fakruddin

One Simple Questions to my saudi brothers

Dear Brothers My intention is neither to hurt nor to indulge into debate. When Saudis can honor and attend a mere muslim birthday celebration for his efforts towards muslim umma then why dont you guys honor our Beloved Prophet (S.A.W.) birthday. Whereas our Beloved Prophet (S.A.W.) deserve it more than Mr. Jinnah. He only created a nation state our Prophet (S.A.W.) built whole umma. If not huge celebrations at least some articles, seminars, lectures, competition, etc in Rabiul Awwal. Think!!!!

: ইউসুফ কারাযাভী ড: ঘামদির অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন – “It is permissible to celebrate the Prophet’s birthday as an expression of love to the Prophet provided that the celebration doesn’t involve any of the prohibited acts.”

জামাতের প্রকাশনীসমূহের ডিগবাজিঃ

sangram-miladunnabi-2

ব্লগে জামাতশিবিরের কর্মী ও সমর্থকদের ঈদেমিলাদুন্নবী পালনের বিপক্ষে সোচ্চার দেখা গেলেও তাদের পত্রপত্রিকাগুলো এই দিবস পালনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি । বরং তারা ঈদেমিলাদুন্নবীশব্দদ্বয় ব্যবহারপূর্বক ফলাও করে প্রচার করেছে অর্থাৎ বিদআতের প্রচার ও প্রসারে সহযোগী হয়েছে ! দৈনিক সংগ্রাম তাদের ৬ তারিখের পত্রিকায় জানিয়েছে যে, “মুসলিম বিশ্বউৎসাহউদ্দীপনার মধ্যে দিনটি পালন করেছে ! দৈনিক নয়া দিগন্তও পিছিয়ে থাকেনি । জামাতশিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্লগাররা এ ব্যাপারে স্পিকটিনটকেনো? তাই তো বলি আপনি আচরি বিদ্যা পরকে শেখাও ।

আমার কথাটি ফুরোলো

নটে গাছটি মুড়োলো ।

ফান্টা নীতি অবলম্বনে ফোক-ফ্যান্টাসী রচনা

জানুয়ারি 16, 2015 মন্তব্য দিন

Fanta_principle

FANTA (ফান্টা) বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন কোকাকোলা কোম্পানী প্রস্তুতকৃত একটি ফলের স্বাদযুক্ত কার্বোনেটেড পানীয়ের নাম । জানা যায় যে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাৎসী জার্মানীর বিরুদ্ধে বাণিজ্য অবরোধ আরোপিত থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জার্মানীতে কোকাকোলার কাঁচামাল (অর্থাৎ সিরাপ) রফতানী করা সম্ভব ছিলো না । তখন কোকাকোলার জার্মানী(Coca-Cola Deutschland) প্রধান নির্বাহী ম্যাক্স কীথ জামার্নীতেই সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে একটি নতুন পানীয় উদ্ভাবন করেন। এর নাম স্থির করার জন্য তিনি কর্মচারীদেরকে তাদের কল্পনাশক্তি (অর্থাৎ imagination যাকে জার্মান ভাষায় বলা হয় fantasie) ব্যবহার করে এক আকর্ষণীয় নাম প্রস্তাব করার জন্য বলেন । এক বিক্রয়কর্মী এতে ফান্টা‘ (Fanta) নাম প্রস্তাব করে বসলো। ব্যাস ! সেটালাগভেল্কি লাগ” হয়ে গেলো এবং ফলশ্রুতিতে ফান্টা নামক একটি নতুন শব্দ আমাদের অনেকের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেলো।

এই ফান্টা শব্দটি দেখলে কখনো কখনো কেন জানি আমার ঔপন্যাসিকা সেলিনা হোসেনের একটি বিশেষ উপন্যাসের কথা মনে পড়ে যায় ফ্রয়েডিয়ান ব্যাপারস্যাপার হলেও হতে পারে । তবে সেলিনা হোসেন যে ফান্টার কথা বলেছেন সেই ফান্টা অবশ্য এই ফান্টা নয় ! সেটা কি এবং কেন তা পরে বলছি । সম্প্রতি সেলিনা হোসেনকে নিয়ে একটি সংবাদ পাঠ করে এই ফান / ফালতু / ফান্টা বা ফোকফান্টাসী জাতীয় পোষ্ট দেবার কুচিন্তা মাথার মধ্যে কিলবিল করে উঠলো ।

সম্প্রতি সরকার বাহাদুর বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের মাথায়/কাঁধে এক গুরু দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন তবে এটি এমন বোঝা যে তা বহন করতে তিনি আনন্দে বাগবাকুম করতে পারেন আগ্রহী পাঠকবৃন্দের অবগতির জন্য জানাচ্ছি তাঁকে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাঁ সর্বশেষ (২০১৩) উপন্যাসের নাম আগস্টের এক রাত; জানি না উপন্যাসের বিষয়বস্তু কি ? ওটা কি তাঁকে আওয়ামী সরকারের নেক নজরে এনে দিয়েছে ?

সেলিনা হোসেনের রচিত উপন্যাসগুলো হচ্ছেঃ

জ্যোস্নায় সূর্য জ্বালা (১৯৭৩), জ্বলোচ্ছাস (১৯৭২), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), মগ্ন চৈতন্যে শীষ (১৯৭৯), যাপিত জীবন (১৯৮১), পদশব্দ (১৯৮২), নীল ময়ুরের যৌবন (১৯৮৩), চাঁদ বেনে (১৯৮৪), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬), নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি (১৯৮৭), ক্ষরণ (১৯৮৮), কাঁটাতারে প্রজাপতি (১৯৮৯), খুন ভালোবাসা (১৯৯০), কালকেতু এবং ফুল্লরা (১৯৯২), ভালোবাসা প্রীতিলতা (১৯৯২), টানাপোড়েন (১৯৯৪), গায়ত্রী সন্ধ্যা (১৯৯৬), দ্বিপান্বিতা (১৯৯৭), যুদ্ধ (১৯৯৮), লারা (২০০০), কাঠকয়লার ছবি (২০০১), মহিনীর বিয়ে (২০০২), আণবিক অন্ধকার (২০০৩), ঘুমকাতুরে ঈশ্বর (২০০৪), মর্গের নীলপাখী (২০০৫), অপেক্ষা (২০০৭), দিনের রশিতে গিট্টু (২০০৭), মাটি শস্যের বুনন (২০০৭), মাটি শস্যের বুনন (২০০৭), পূর্ণ ছবির মগ্নতা (২০০৮), ভূমি কুসুম (২০১০), যমুনা নদীর মশাইরা (২০১১), গাছটির ছায়া নাই (২০১২), সোনালী ডুমুর (২০১২), আগস্টের এক রাত (২০১৩)

সেলিনা হোসেনের (জন্ম ১৯৪৭) পুরষ্কার প্রাপ্তির থলিতে আছেঃ

. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮০), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), কমর মুশতারী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৭), ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধী (২০১০), রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (২০১০), একুশে পদক (২০০৯), সুর্মা চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার (২০১১)

গায়ত্রী সন্ধ্যাউপন্যাসের জন্য আইআইপিএম (দিল্লী) কর্তৃক রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার২০১০ । দিল্লীর সাহিত্য আকাদেমী থেকে প্রেমচাঁদ ফেলোশিপ লাভ ২০০৯ । নীল ময়ুরের যৌবনযাপিত জীবনউপন্যাস রবীন্দ্র জয়ন্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নিরন্তর ঘন্টাধ্বনিহাঙরনদীগ্রেনেডউপন্যাস যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পত্রে পাঠ্য, প্রেসিডেন্সি কলেজে (কোলকাতা) পাঠ্য । গায়ত্রী সন্ধ্যা“, “নীল ময়ুরের যৌবন“, হাঙরনদীগ্রেনেডআসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ৩টি উপন্যাস নিয়ে এমফিল সম্পন্ন করা হয় । ওকটন কমিউনিটি কলেজে (ইলিনয়) ২০০৬ সালের দুই সেমিস্টারে পাঠ্য ছিলো হাঙরনদীগ্রেনেডউপন্যাসের ইংরেজী অনুবাদ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগে কালকেতু ও ফুল্লরাউপন্যাস পাঠ্য । নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি১৯৯৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে এমএ ক্লাসের পাঠ্য ।

সেলিনা হোসেনের সাহিত্য কর্ম নিয়ে আলোচনা করা আমার এই চটুল পোষ্টের উদ্দেশ্য নয় আবার তাঁর চরিত্র হননের অনধিকার চর্চা করার জন্য আমি উদগ্রীব নই তাছাড়া, আমি কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকে গল্পউপন্যাসের বইপত্রের দিকে হাত বাড়ানোর সময়সুযোগ বা আগ্রহ জন্মাতে পারিনি প্রযুক্তি বিষয়ক পড়াশোনা, নেশা পেশার কারণে। তাই তাঁর (এবং অন্য আরো লেখকের) লেখা গল্পউপন্যাসাদি নাড়াচাড়া করা হয়ে ওঠেনি অনেক দিন হলো তবে যতটা জানতে পেরেছি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত “হাঙরনদীগ্রেনেডনামক উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য সমাজে একটা ভালো পরিচিতি লাভ করেন।

এবার মূল কথায় আসি অধুনাবিলুপ্ত এক সময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক যায় যায় দিনএর ১৭৮৬ সংখ্যায় তাঁর একটি উপন্যাস নিয়ে কিছু আলোচনা প্রকাশিত হয়েছিলো তার কিয়দংশ ছিলো নিম্নরূপঃ

একটি সাপ্তাহিকীর এবারের ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ক্ষরণ নি:সন্দেহে চমকপ্রদ বিশেষ করে যৌন বর্ণনায় লেখিকার দু:সাহসিক খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য। একটু উদ্ধৃতি দেই,আমার বন্ধুদের মেয়ে সংক্রান্ত ধারণাগুলো আমি সব সময় মানতে পারি না। ওরা দারুণভাবে FANTA নীতিতে বিশ্বাসী। Fuck And Not Touch Again. ওরা মাঝে মাঝে ফান্টা উৎসব করে। বোতল ছোড়াছুড়ি হয়। অশ্লীল নাচগানে ভরিয়ে রাখে সময়। এইসব অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে দম আটকে আসে আমার। আমার ভ্যালুস এখনো কিছুটা পুরনো। যা ভালো সেটা আঁকড়ে ধরতে চাই। চট করে উড়িয়ে দিতে পারি না। ওরা ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না। ওরা কি চায় নিজেরা বোঝে না। আমরা কি পুঁতিগন্ধময় সময়ের ছেলেমেয়ে?’ ”

সেলিনা হোসেনের গল্পউপন্যাসে সচরাচর বিষয়বস্তু বা উপজীব্য বিষয় কি থাকে তা আমি জানি না সেগুলোতে কি খেলারাম খেলে যা” জাতীয় “দু:সাহসিক খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গীর” প্রকাশ মেলে তাও আমার অজ্ঞাত যদিও ক্ষরণউপন্যাসের উদ্ধৃতাংশে দেখা যাচ্ছে তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যালুস” বা মূল্যবোধ কিছুটা সেকেলে অন্তত তাঁর দাবী সেটিই । উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি একজন পুরুষ চরিত্রের আড়ালে তাঁর বাস্তব জীবনে লালিত রক্ষণশীল অভিব্যক্তি উপস্থাপন করার প্রয়াস পেয়েছেন আবার সেই তিনি(যায় যায় দিনএর সমালোচনা অনুযায়ী) রগরগে যৌন বর্ণনায় পারঙ্গমতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর এই দ্বৈত্ব মনোবৃত্তি প্রকাশের পেছনে কোন্ মানসিক প্রবৃত্তি কাজ করে থাকতে পারে সেটা জানার একমাত্র উপায় হচ্ছে খোদ তাঁকে জিজ্ঞেস করা । কিন্তু কেউ কি কখনো সেটা করেছে ? আমার জানা নেই । তবে আমি যেটা অনুমান করতে পারি সেটা হচ্ছে দুর্বল মানব মনের সুপ্ত কামনাবাসনায় সুড়সুড়ি দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, বইএর ব্যাপক কাটতি এবং অর্থলিপ্সা নীতিনৈতিকতা ও সুবচন যেখান থেকে একেবারে নির্বাসিত। কবি নির্মলেন্দু গুণ, আলমাহমুদসহ আরো অনেক প্রথিতযশা আধুনিক কবিসাহিত্যিকরা সম্ভবত ঐ একই গ্যাঁড়াকলে পা দিয়েছিলেন তাঁদের সাহিত্য জীবনের প্রথমার্ধে ?!

কথা হচ্ছে, এই শিশু একাডেমীর বড় শিশুরা যদি এখন তাঁকে ক্ষরণও ঐ জাতীয় উপন্যাসে বর্ণিত খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তিনি সেটা কিভাবে সামাল দেবেন ? তিনি কি অতীতের সেই অসতর্ক লেখাগুলো নিয়ে এখন লজ্জিত হবেন ? কিন্তু গতস্য শোচনা নাস্তি বলে যে একটা কথা আছে ! এটা শুধু সেলিনা হোসেনই নন যে কোন নেশা ও পেশার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । সাহিত্যের নামে নিম্নমানের (নিম্নাঙ্গের বললেও বোধ হয় অত্যক্তি হবে না) অশ্লীল রচনা নিশ্চয়ই অনভিপ্রেত ।

জাতীয় চরিত্র বিনির্মাণে কবিসাহিত্যিকদেরও একটা দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে । তারা সেটা যথার্থভাবে পালন না করলে ইহ ও পরজীবনে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন । একথাটি স্মরণ রাখলে বোধ হয় দুই কালেই পস্তানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকবে।

আল্লাহ আমাদের বোঝার ও তদানুযায়ী আমল করার সুমতি দিন । আমীন ।

সৌদী আরবে বাংলাদেশী আযানদাতা হত্যা সম্পর্কিত খবরের একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

জানুয়ারি 16, 2015 মন্তব্য দিন

muezzin_calling-4

সৌদী আরব থেকে প্রকাশিত ইংরেজী দৈনিক আরব নিউজ পত্রিকানুযায়ীসৌদী আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মাজমাহ জেলার ওরতাউয়্যিয়াহ নামক স্থানে মুয়াজ্জিন পদাধিকারী এক সৌদী নিজে আযান দেয়ার কাজ না করে ৩২ বয়স বয়স্ক মোহাম্মদ রফিক তাজুল ইসলাম নামক এক বাংলাদেশীকে নিযুক্ত করেছিলো আযান দেয়ার জন্য

muezzin_murder-arab_news-1

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে (রবিবার) আসরের নামাযের আযান (বিকাল :৩০) দিতে দেরী করার অপরাধে ক্রোধান্ধ সৌদী ব্যক্তি গুলি করে হত্যা করে বাংলাদেশীকে তার গুলিতে আহত হয়েছে আরেক ভারতীয় ব্যক্তি সৌদী পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁকে মানসিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে

muezzin_murder-sg

সৌদী আরব থেকে প্রকাশিত আরেক ইংরেজী দৈনিক সৌদী গ্যাজেট পত্রিকার ভাষ্যানুযায়ী ব্যক্তি অনুমতি না নিয়ে আযান দেয়ায় তাকে আক্রোশবশত হত্যা করা হয় যেখানে আরব নিউজ জানিয়েছে আযান দিতে দেরী করায় তাকে গুলি করা হয়েছিলো

তাজুলের বয়স ৩০ উল্লেখ করা হয়েছে

কোন পত্রিকার কথা বিশ্বাস করবেন ?

কারা সঠিক খবর পরিবেশন করে ?

দেশাভ্যন্তরের খবর কারা বিলম্বে ছাপে ? ঘটনা ঘটেছে ডিসেম্বর সৌদী গ্যাজেট ছেপেছে ১০ ডিসেম্বর, আরব নিউজ ১১ ডিসেম্বর !

আরব নিউজ পত্রিকার মতামত বিভাগে অনেকে (প্রায় ১১৯টি শেষ দেখা মতে) অভিযোগ করেছেন যে, অনেক সময় প্রবাসীদের হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত সৌদীদের জল্লাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় যেমন,

Ammar • 21 days ago

I have never been and probably will ever be able to understand why local killers are always “psychiatric patient” when ever they murder a non-white expatriate specially from poor countries?

1. Did those in authority made a mentally unfit person Moazzin of Masjid?

2. Nobody knew he is unfit for years?

3. He is fit enough to carry a firearm, fill magazine, pull chamber to load weapon and shoot?

It is the common cover-up nowadays to cover up expat murders in KSA giving legal protection to local murderer. What a shame.

ZMA • 21 days ago

Same old story, if he is Saudi then he is mentally ill, if he is an expatriate he is Culprit and in senses have killed. Why this double theory of government. Allah says in Quran, if anyone kills one person, as if he has killed the whole nation and if he saves one person, as if he has saved the whole nation. KSA government please not for anyone sake but for the sake of Allah the Almighty change your mindset and know that every human being life is very important and you have to answer for your acts to Allah on the day of judgement. This Muezzein since how long working / saying prayers in that Masjid, why not he was terminated from his job as he was psychiatric patient….shame…shame with this double standard.

একজন মানসিক রোগী কিভাবে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলো? নিজে দায়িত্ব পালন না করে সরকারী অর্থ ভোগ করা ?

তার হাতে কিভাবে অস্ত্র এলো ?

হত্যাকারীর নাম কেনো প্রকাশ করা হয় না?

তদন্তের আগে কিভাবে পুলিশ তাকে মানসিক রোগী বলে সাব্যস্ত করে ?

অনেকে তাদের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে সুবিচার পাবার ব্যাপারে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন

আল্লাহ পাক মৃত ব্যক্তিকে যেন মাফ করে দেন

আমীন

বিভাগ:ইসলাম ট্যাগসমূহ: