Archive

Archive for এপ্রিল, 2015

যৌন হয়রানির কারণ অনুসন্ধানে…

এপ্রিল 27, 2015 মন্তব্য দিন

যৌন হয়রানি বিষয়ক আমার বিভিন্ন পোষ্টগুলো করার উদ্দেশ্য হচ্ছে: () এটা বোঝানো যে, মুসলিম দেশগুলোতে অনেকদিন ধরেই নীরবভাবে জিইয়ে থাকা ভয়াবহ যৌন হয়রানি এখন সরবভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে মাত্র, () রক্ষণশীল মুসলিম দেশগুলো পর্যন্ত পারলৌকিক শাস্তির ভয় দেখিয়ে এই ধরণের অপরাধ দমনে ব্যর্থ হচ্ছে, () শাসকগোষ্ঠী নিজেদের ধোয়া তুলসী পাতাজাতীয় ভাবমূর্তি ইমেজ বজায় রাখার জন্য এসব অপরাধের প্রতিকারের ব্যাপারে যত্নবান হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত সচেতন জনগোষ্ঠী সরব না হয়, () নারীদের ব্যাপারে পুরুষদের ধর্ষকামী মনোবৃত্তির অবসান ঘটানোর ব্যাপারে কোনো ধরণের সচেতনতা সৃষ্টি না করে উল্টো নারীদের কঠোর পর্দায় অবগুন্ঠিত না থাকাকে যৌন নিপীড়ন করার জন্য ফ্রি লাইসেন্স পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অর্থাৎ তেঁতুললালা চিন্তাভাবনা উস্কে দেয়া । রক্ষণশীল দেশগুলো থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে আসা পুরুষরা কিসের ভয়ে স্বল্পবসনা বা যৌনাবেদনময়ী নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে না ? পারলোকিক শাস্তির ভয়ে নাকি মানব রচিত আইনে নির্ধারিত পার্থিব শাস্তির ভয়ে?

provocative_dress-dk180415

সমস্যা মেয়েদের পোশাকে, নাকি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে?

বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্যক্তকারী পুরুষকে হাতেনাতে ধরে নাকালও করছেন। বিবিসি বাংলার শায়লা রুখসানা কথা বলেছেন এরকম কয়েকজন নারীর সঙ্গে:

প্রতিদিনের মতো কারওয়ানবাজারের অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুম মুনিরা। বাসে নিত্যদিনের মতো সেদিনও বেশ ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম।”

ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য মুনিরা ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন, সুবেশি এক মানুষ, চোখে রিমলেস চশমা। এই মানুষটি এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন তাঁর পেছনে। মুনিরা ছেড়ে দেবার পাত্র নন। তিনি প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, উল্টো তাকেই দুষছেন লোকটি।

যে লোকটা আমার সঙ্গে এরকম একটা কান্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো যে আমিই নাকি তাকে উত্তেজিত করেছি। কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরেই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ঐ সুবেশি লোকটি আমাকে উত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কমবেশি এরকম অভিজ্ঞতা আছে। কারওয়ান বাজারে সিরাজুম মুনিরার অফিস থেকে বেরিয়ে আমি উঠে পড়ি মতিঝিলগামী এক বাসে। সামনের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তিন মহিলা যাত্রী। পুরো বাসে আর সব পুরুষ যাত্রী।

পুরুষ যাত্রীর ভূমিকা

বাসের ভেতর যখন মহিলা যাত্রীদের এরকম যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তখন সহযাত্রী পুরুষরা কি করেন? “আমি সব সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি, বাধা দেয়ার চেষ্টা করি’, বললেন এক তরুণ যাত্রী।

মেয়েরা এরকম ঘটনার শিকার হলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা তার সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হন, দাবি করলেন আরেক পুরুষ যাত্রী।

কিন্তু তৃতীয় পুরুষ যাত্রী এরকম ঘটনার দায় চাপালেন মেয়েদের ওপরই। “মেয়েরা কেমন পোশাকে ঘুরছে, সেটা তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো বিদেশ নয়, বাংলাদেশ। তারা কেন বাংলাদেশে এমন পোশাকে ঘুরবে?”

সমস্যা আমাদের পোশাকে নয়, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে, জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন দুই মহিলা যাত্রী।

আমি বৃদ্ধ লোককেও দেখেছি মেয়েদেরকে উত্যক্ত করতে, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন একজন।

বাসে একটু বেশি ভিড় থাকলেই ইচ্ছে করে এসে ধাক্কা দিয়ে গায়ে পড়ে। তখন বলে যে বাস ব্রেক করায় ধাক্কা লাগছে”, বললেন অপরজন।

বোরকায় সুরক্ষা?

বাসে উঠলেন এক বোরকা পরা মহিলা। তার কন্ঠে শোনা গেল একেবারেই ভিন্ন ভাষ্য। “আমরা মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরি, তাহলে ছেলেরা এরকম করতেই পারে। আমরা যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরতাম, চলাফেরা করতাম, তাহলে এরকম ঘটতো না।”

আসলেই কি তাই? বোরকাই কি তাহলে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়?

ঢাকার শাহবাগ মোড়ে ব্যস্ত সময়ে বাসে উঠার চেষ্টা করছিলেন এক বোরকায় আবৃত মহিলা। কয়েকবার চেষ্টা করেও বাসে উঠতে পারলেন না। জানতে চেয়েছিলাম তার অভিজ্ঞতার কথা।

একদিন আমি শাহবাগ থেকে কল্যাণপুর যাচ্ছিলাম। তখন রাত প্রায় নটা। বেশ ভিড় ছিল বাসে। আমি বাসে ওঠার সময় একটা লোক আমার গায়ে হাত দিল। আমি তো বোরকা পরি, পর্দা মেনে চলি, তারপরও এমন করলো। খুবই আপত্তিকর। শুধু আমার নয়, সব মেয়ের জন্যই এটা আপত্তিকর।”

undressing-3

প্রতিবাদী নারী

রাস্তাঘাটে এরকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাভলি তার এরকম এক অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন আমাকে।

একদিন রাস্তার পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি বাসের দরোজায় ফর্মাল কাপড়চোপড় পরা এক পুরুষ আমাকে জিহ্বা দেখিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করছে, ইশারা করে আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলছে। আমি একটু ভাবলাম, তারপর এগিয়ে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম। তাকে মারতে শুরু করলাম। বাস চলছে, তার মধ্যে আমি এই লোকটাকে পেটাচ্ছি।”

লাভলির মতো আরও অনেকেই এখন প্রতিবাদী হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা হাতে গোণা, বলছেন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রোকসানা সুলতানা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি।

আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা—-এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।”

মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব,” বলছেন রোকসানা সুলতানা।

http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2015/05/150522_mh_bangla_women_sexual_harassment

যৌন হয়রানি, সৌদি আরবে যুবকের জেল

মানবজমিন ডেস্ক | ডিসেম্বর ২০১৩, রবিবার

saudi-harass-1

নারীদের যৌন হয়রানির কারণে যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দিয়েছেন দাম্মাম ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। দাম্মাম হলো সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ। সেখানকার দাহরান এলাকায় একটি শপিং মলে কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানি করে ওই যুবকরা। ২২শে অক্টোবরের ওই ঘটনার শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার তাদেরকে এক মাস থেকে ১৫ মাসের জেল দেয়। একই সঙ্গে তাদেরকে বেত্রাঘাতের আদেশ দেয় আদালত। নারীদের অশালীন ভাষায় শারীরিক অবমাননা করার ঘটনা কে বা কারা ভিডিওতে ধারণ করে। তা যখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠে। এর ফলে সরকারের ওপর যৌন হয়রানির আইন করার চাপ সৃষ্টি হয়। ২০০৫ সালে রিয়াদে নারীদের হয়রানি করার অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে বেত্রাঘাত করে জেল দেয়া হয়েছে। ২০১২ সালে এমন ঘটনা সৌদি আরবে ঘটেছে ২৭৯৭টি। এর মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ অপরাধে জড়িত সৌদি আরবের নাগরিকরা। বাকি ৪০ ভাগ বিদেশীরা। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে রিয়াদে। সেখানে সংখ্যা ৬৫০, জেদ্দায় ২৫০, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ২১০, মক্কায় ১৮০ এবং মদিনায় ১৭০।

প্রিয় পুরুষ, আপনাকেই বলছি

হাবীবাহ্ নাসরীন : পাঁচ বছরের একটি শিশু ধর্ষিত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। জীবনমৃত্যুর সঙ্গে বোঝাপড়া করছে সে। অথচ এখন তার অ, , , খ বুঝতে বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল। হয়তো শিক্ষকের কড়া চক্ষু ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠতো, এর কলম দিয়ে ওর ব্যাগে একটুখানি দাগ টেনে দিতো। সেই নিয়ে নালিশ করতো তার বন্ধুটি, `স্যার, পূজা আমার ব্যাগে দাগ দিয়েছে, দেখেন!` না।

পূজা বিদ্যালয়ে যায়নি। পূজা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাকে `ধর্ষণ` করা হয়েছে। পাঁচ বছরের পূজা এখনও ছেলে আর মেয়ের তফাৎটাই বোঝে না, সেই কি না ধর্ষণের শিকার! প্রিয় পুরুষ, আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন, পূজার কুঁচকে যাওয়া মুখখানা, ঘৃণাভরা চোখ দুটি? জানি, আপনি ধর্ষক নন। কিন্তু একজন পুরুষ হিসেবে এই লজ্জার দায় আপনি এড়াতে পারেন না। যেমন আমরা পারি না একজন মানুষ হয়েও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার দায় এড়াতে।

এ রকম একটা ঘটনার পরে অনেকেই বলে থাকেন, `কী দোষ ছিল মেয়েটির? তার পোশাকে তো সমস্যা ছিল না!` অথবা কোনো হিজাব পরা মেয়ে ধর্ষিত হলে বলে, `মেয়েটি তো পর্দা করতো, তাহলে তাকে ধর্ষণ করা হলো কেন!` এখন, আমার কথা হচ্ছে, একটি মেয়ে হিজাব না পরলে বা অশালীন পোশাক পরলে তাকে ধর্ষণ করা যাবে? মেয়েটি শালীন পোশাক না পরে যদি ভুল করে থাকে, আপনি তার দিকে অসংযত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সমান অপরাধ করতে পারেন না নিশ্চয়ই।

ইসলাম শুধু মেয়েদেরকেই পর্দা করতে বলেনি বরং নারীপুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দাকে সমানভাবে ফরজ করেছে। পুরুষদেরকে তাদের গোপনাঙ্গের হেফাজত করতে এবং দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে। এখন, আপনারা, পুরুষেরা সব মেয়ের দিকেই কামনা নিয়ে তাকাবেন আর মেয়েটি শালীন পোশাকে না থাকলে তাকে ধর্ষণ করা বৈধ হয়ে যাবে আর কালো বোরখায় আবৃত থাকলে আপনাদের লোলুপ দৃষ্টিসীমা থেকে বেঁচে যাবে, এই যুক্তি আপনারা কোথা থেকে এনেছেন?

নারীর পোশাকের প্রসঙ্গ এলেই আপনারা সবাই ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে যান। ইসলাম নারীকে যার যার সম্পত্তিতে যতখানি অধিকার দিয়েছে, একজন বোন হিসেবে, একজন মা হিসেবে, একজন স্ত্রী হিসেবে যতখানি অধিকার দিয়েছে, বুকে হাত রেখে বলুন, আপনি তার কতটুকু আদায় করতে পেরেছেন। একটু পিছনে তাকিয়ে দেখুন তো, আপনার পরিবারেই আপনার ফুফুকে অথবা বোনকে সম্পত্তির ভাগ ঠিকভাবে দেয়া হয়েছে কি না? ছেলে হিসেবে মায়ের প্রতি কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন? বিয়ের আগে এবং পরে আপনার স্ত্রীর হক কখনো নষ্ট করেছেন কি না! এখানে যেতে পারবে না, ওই পোশাক পরতে পারবে না, এটা বলে আপনি আপনার `পৌরুষ` টিকিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু এর বদলে নারীদের কাছ থেকে শুধু ঘৃণাই পাবেন।

পরিবার হচ্ছে আমাদের প্রথম বিদ্যালয়। আপনি যদি আপনার পরিবারে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নিশ্চিত থাকুন, পরবর্তীতে সময়ে আপনার দ্বারা কোনো নারী অসম্মানিত হবেন না। যে তার মাকে ভালোবাসে, বোনকে ভালোবাসে, প্রিয়তমাকে ভালোবাসে সে কখনো অন্য একজন নারীকে উত্ত্যক্ত করতে পারে না। আপনি একজন পুরুষ। আপনি একজন মানুষ। আপনার নিজের কি এতটুকু ব্যক্তিত্ব নেই যে, যে কারো সামনে আপনি উলঙ্গ হয়ে যেতে পারেন!

নারীরা খারাপ তাই তারা ধর্ষিত হয়, এই আপনাদের যুক্তি। কিন্তু কথা হচ্ছে এই ধর্ষণটা করে কারা? যে পুরুষটি ধর্ষণ করলো, কতখানি মানবিক অবক্ষয়ের শিকার হলে সে এই কাজটি করতে পারে, তা আপনাদের চিন্তাতেও আসে না। বিভিন্ন সময় লোকাল বাসে চড়তে গিয়ে আমি একটি বিষয় দেখেছি। একজন পুরুষ সে হয়তো অশালীনভাবে কোনো নারীর গায়ে স্পর্শ করেছে। নারীটি যখন এই কথা বলতে যাবে, বাসের অন্য পুরুষরাও তখন একজোট হয়ে যায়। সবাই পক্ষ নেয় অপরাধীর। যেন একজন পুরুষ দায়ী হলে, সবাই দায়ী হয়ে যায়।

সব পুরুষ কখনোই ধর্ষক নয়। আমি আমার নিজের জীবনেই প্রচুর ভালো পুরুষের দেখা পেয়েছি। আমাদের পরিবারে নারীকে পরিপূর্ণ সম্মান করা হয়। তাই আমার ভাইয়েরা কখনো নারীকে উত্ত্যক্ত করে না বা রাস্তাঘাটে টিজিং করে না। এই শিক্ষাটা সব পরিবারেই জরুরি। আপনি যখন ধর্ষকের পক্ষ নেন বা মৌন থাকেন, তখন বুঝতে হবে আপনি তার নীরব সমর্থনকারী।

অপরাধ করা আর তাতে সমর্থন দেয়া সমান অপরাধ। খাদিজাকে যখন কোপানো হলো, তখন অনেক পুরুষকেই দেখেছি মনে মনে খুশি হতে। যেন তারা তাদের প্রেমিকাদের প্রতি দীর্ঘ দিনের আক্ষেপ বদরুলের মাধ্যমে পূর্ণ করতে পেরেছেন! আমাদের সম্পর্কগুলো নারী কিংবা পুরুষের গণ্ডিতে আটকে না থেকে মানবিক হোক। আমাদের শিশুরা উঠোনজুড়ে নিরাপদে খেলা করে বেড়াক। আর কোনো নরপশু যেন ওদের শৈশব কেড়ে নিতে না পারে। শিশু না বাঁচলে আগামী বাঁচবে না, নারী না বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে না। একটি শিশুর জন্য, একজন নারীর জন্য, একজন

পুরুষের জন্য এককথায় বলতে গেলে একজন মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে হলে সবার আগে সচেষ্ট হতে হবে আপনাকেই। কেউ কোনো ভুলের মধ্যে থাকলে আপনি তাকে পরামর্শ দিতে পারেন সঠিক পথের। কিন্তু আপনি তাকে আক্রমণ করতে পারেন না। আপনি একজন পুরুষ, আপনি এই মুহূর্ত থেকে প্রতিজ্ঞা করুন, আপনার দৃষ্টি সংযত রাখবেন, লুকিয়ে অশ্লীল ভিডিও দেখবেন না, ইনবক্সে মেয়েদের নোংরা মেসেজ পাঠাবেন না, আপনি আপনার লজ্জাস্থানের হেফাজত করবেন, অশ্লীল বাক্য বিনিময় থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন, অফিসে আপনার সহকর্মী নারীটি আপনার দ্বারা কোনোভাবেই নিপীড়িত হবে না, আপনার গৃহকর্মী মেয়েটির সামনে আপনি সুযোগ বুঝে হায়েনা হয়ে উঠবেনা না; আপনার বোন, আপনার মা, আপনার স্ত্রীর অধিকার আপনি নিশ্চিত করবেন। তাহলেই দেখবেন, আগামীকাল থেকে আর কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে না।

লেখক : সাংবাদিক।

উৎসঃ জাগো নিউজ

মিশরে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন

এপ্রিল 25, 2015 মন্তব্য দিন

পুরনো খবর কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া (অ)ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাসি খবর উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম ।

মানবজমিন ডেস্ক: মিশরে এখন নারীদেরকে যৌন হয়রানি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মিশরের নারীরা এখন একাকী বা নারী সহযোগীদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। মিশরের নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা বলছেন যৌন হয়রানির সমস্যাটা এখন মহামারী আকারই ধারণ করেছে। গত তিন মাসে সেখানে ধরনের সমস্যা বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করছেন। মিশরের অনেক নারীর মতেই যৌন হয়রানির বিষয়টি মিশরে এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধরনের হয়রানির ঘটনা কখনও কখনও চরম আকার ধারণ করে সহিংস হামলার রূপ ধারণ করে। বিবিসি জানিয়েছে গত শীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতে একজন নারী একদল পুরুষের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনার একটি ভিডি ফুটেজে দেখা গেছে ওই নারীকে কয়েকজন পুরুষ টেনে কাঁধে তুলে নিচ্ছে এবং অন্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে নামাচ্ছে। জনতার হৈচৈয়ের মধ্যে হামলার শিকার ওই নারীর চিৎকার চাপা পড়ে যাচ্ছে। অবস্থা দেখে কোন ভাবেই বোঝার উপায় নেই যে, কে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে আর কে তার ওপর হামলে পড়ছে। এটি নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের চরম অবস্থা হলেও সমীক্ষায় দেখা গেছে, মিশরের প্রত্যেক নারীই প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

egypt-women-teasing

মারওয়া নামের এক তরুণী বলেছেন, বাড়ির বাইরে গেলে তিনি শারীরিক বা মৌখিক ভাবে নিপীড়নের শিকার হন। তিনি বলেছেন, কারণে সব সময় তিনি ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। মারওয়া বলেন, একজন নারী হিসেবে সব সময়ই বিষয়টি আমাকে আতঙ্কে রাখে। যখনই আমি বাড়ির বাইরে যাই, রাস্তায় হাঁটি তখনই কেউ না কেউ আমাকে নিপীড়ন বা বিরক্ত করবে। কারণে সব সময়ই আমি ভয়ে থাকি। কারণ আমি বাড়ির বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছি। পোশাক পরার ক্ষেত্রে আমি এখন অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করি। মানুষকে আকর্ষিত করতে পারে এমন ধরনের কাপড় পরা আমি এড়িয়ে চলি।

বাড়ির বাইরে ছেলেদের হয়রানি এড়াতে মিশরের নারীরা ঢিলেঢালা পোশাকের পাশাপাশি মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করছেন। কিন্তু মিশরের নারী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ইজিপ্ট গার্লস আর রেড লাইনএর দীনা ফরিদ বলেছেন ধরনের রক্ষণশীল পোশাকও তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তিনি বলেছেন চেহারা আড়াল করতে যারা হিজাব ব্যবহার করছেন তারাও যৌন হয়রানির টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। আসলে রক্ষণশীল পোশাক যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোন ভূমিকাই রাখছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারণ মিশরের বেশির ভাগ নারীই পর্দা ব্যবহার করেন। অথচ তারা প্রতিনিয়তই যৌন হযরানির শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যেসব নারী বা তরুণী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই নিকাব দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করে রেখেছিলেন।

২০০৮ সালে ইজিপ্টশিয়ান সেন্টার ফর উইমেন রাইট পরিচালিত এক সমীক্ষাতে দেখা গেছে ৮০ ভাগ নারীই কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর ধরনের হয়রানির শিকার অধিকাংশ নারীই ইসলামিক অনুশাসন মেনে হিজাব পরিধান করছেন। কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সির একজন সমাজবিজ্ঞানি সাঈদ সাদেক বলেছেন মিশরের সমাজের গভীরেই সমস্যার মূল গ্রোথিত রয়েছে। তিনি বলেছেন, এর মূলে রয়েছে ইসলামিক রক্ষণশীলতার মনোভাব এবং পিতৃতান্ত্রিক আচরণের সংমিশ্রণ। তিনি বলেন, ইসলামী মৌলবাদের উত্তান ঘটছে আর তারা এখন নারীদেরকেই তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন। তারা চাইছেন নারীরা ঘরেই বসে থাক। বাইরে কাজ করার জন্য তারা যেন বের না হন। তিনি বলেন পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি নারীদেরকে পুরুষদের চেয়ে উঁচু স্থানে থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। কারণ, কিছু কিছু নারী নিজেদের শিক্ষাকর্মদক্ষতা আর যোগ্যতার বলে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে নারীদের দমিয়ে রাখার উপায় হচ্ছে যে কোন ভাবে তাদের ওপর যৌন হয়রানি করা। সাদেক বলেন এটা ফারাওদের সংস্কৃতি নয়। এটা বেদুঈনদের সংস্কৃতি।

সাঈদ সাদেক এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো ধরনের প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতাকেও দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে নারীদের পোশাকের জন্য তাদেরকে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আর নিপীড়নকারীদের মধ্যে টিনেজারদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের নিপীড়নের ব্যাপারে কায়রোর একদল টিনেজার জানিয়েছেন নারীরাই তাদেরকে নিপীড়ন করতে ছেলেদেরকে প্রলুব্ধ করে। তারা বলেছে মেয়েরা যদি সম্মানজনকভাবে পোশাক পরে তাহলে কেউই তাদেরকে বিরক্ত করবে না। নারীরাই চাইছে তাদেরকে বিরক্ত করা হোক। এমনকি নিকাব পরা মেয়েরাও নিজেদের পেছনে ছেলেদের ঘোরাতে পছন্দ করে। এজন্য অবশ্য ছেলেদেরকে পুরোপুরি দোষারোপ করা যায় না। কারণ, টাইট জিন্স পরে নেকাব ব্যবহারকারী নারী আর শালীন পোশাকের সঙ্গে হিজাব ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যে নারীরা টাইট জিন্স পরে আবার নেকাব ব্যবহার করে তাদের তো হয়রানি প্রাপ্যই বলা চলে।

মিশর সরকার অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা জানিয়েছে। তবে নারী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো দাবি করেছে সরকার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে না। তবে সচেতন নারীদের অনেকেই বিষয়টিকে তাদের স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন। মিশরের একজন নারী যেমন বলছিলেন আমি নিরাপদে একজন মানুষ হিসেবে রাস্তায় হাঁটতে চাই। আমাকে যেন কেউ বিব্রত বা হয়রানি করতে না পারে। এটাই হচ্ছে আমার স্বাধীনতা।

http://www.mzamin.com Sep 6, 2012

প্রিয় পুরুষ, আপনাকেই বলছি

হাবীবাহ্ নাসরীন : পাঁচ বছরের একটি শিশু ধর্ষিত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। জীবনমৃত্যুর সঙ্গে বোঝাপড়া করছে সে। অথচ এখন তার অ, , , খ বুঝতে বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল। হয়তো শিক্ষকের কড়া চক্ষু ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠতো, এর কলম দিয়ে ওর ব্যাগে একটুখানি দাগ টেনে দিতো। সেই নিয়ে নালিশ করতো তার বন্ধুটি, `স্যার, পূজা আমার ব্যাগে দাগ দিয়েছে, দেখেন!` না।

পূজা বিদ্যালয়ে যায়নি। পূজা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাকে `ধর্ষণ` করা হয়েছে। পাঁচ বছরের পূজা এখনও ছেলে আর মেয়ের তফাৎটাই বোঝে না, সেই কি না ধর্ষণের শিকার! প্রিয় পুরুষ, আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন, পূজার কুঁচকে যাওয়া মুখখানা, ঘৃণাভরা চোখ দুটি? জানি, আপনি ধর্ষক নন। কিন্তু একজন পুরুষ হিসেবে এই লজ্জার দায় আপনি এড়াতে পারেন না। যেমন আমরা পারি না একজন মানুষ হয়েও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার দায় এড়াতে।

এ রকম একটা ঘটনার পরে অনেকেই বলে থাকেন, `কী দোষ ছিল মেয়েটির? তার পোশাকে তো সমস্যা ছিল না!` অথবা কোনো হিজাব পরা মেয়ে ধর্ষিত হলে বলে, `মেয়েটি তো পর্দা করতো, তাহলে তাকে ধর্ষণ করা হলো কেন!` এখন, আমার কথা হচ্ছে, একটি মেয়ে হিজাব না পরলে বা অশালীন পোশাক পরলে তাকে ধর্ষণ করা যাবে? মেয়েটি শালীন পোশাক না পরে যদি ভুল করে থাকে, আপনি তার দিকে অসংযত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সমান অপরাধ করতে পারেন না নিশ্চয়ই।

ইসলাম শুধু মেয়েদেরকেই পর্দা করতে বলেনি বরং নারীপুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দাকে সমানভাবে ফরজ করেছে। পুরুষদেরকে তাদের গোপনাঙ্গের হেফাজত করতে এবং দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে। এখন, আপনারা, পুরুষেরা সব মেয়ের দিকেই কামনা নিয়ে তাকাবেন আর মেয়েটি শালীন পোশাকে না থাকলে তাকে ধর্ষণ করা বৈধ হয়ে যাবে আর কালো বোরখায় আবৃত থাকলে আপনাদের লোলুপ দৃষ্টিসীমা থেকে বেঁচে যাবে, এই যুক্তি আপনারা কোথা থেকে এনেছেন?

নারীর পোশাকের প্রসঙ্গ এলেই আপনারা সবাই ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে যান। ইসলাম নারীকে যার যার সম্পত্তিতে যতখানি অধিকার দিয়েছে, একজন বোন হিসেবে, একজন মা হিসেবে, একজন স্ত্রী হিসেবে যতখানি অধিকার দিয়েছে, বুকে হাত রেখে বলুন, আপনি তার কতটুকু আদায় করতে পেরেছেন। একটু পিছনে তাকিয়ে দেখুন তো, আপনার পরিবারেই আপনার ফুফুকে অথবা বোনকে সম্পত্তির ভাগ ঠিকভাবে দেয়া হয়েছে কি না? ছেলে হিসেবে মায়ের প্রতি কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন? বিয়ের আগে এবং পরে আপনার স্ত্রীর হক কখনো নষ্ট করেছেন কি না! এখানে যেতে পারবে না, ওই পোশাক পরতে পারবে না, এটা বলে আপনি আপনার `পৌরুষ` টিকিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু এর বদলে নারীদের কাছ থেকে শুধু ঘৃণাই পাবেন।

পরিবার হচ্ছে আমাদের প্রথম বিদ্যালয়। আপনি যদি আপনার পরিবারে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নিশ্চিত থাকুন, পরবর্তীতে সময়ে আপনার দ্বারা কোনো নারী অসম্মানিত হবেন না। যে তার মাকে ভালোবাসে, বোনকে ভালোবাসে, প্রিয়তমাকে ভালোবাসে সে কখনো অন্য একজন নারীকে উত্ত্যক্ত করতে পারে না। আপনি একজন পুরুষ। আপনি একজন মানুষ। আপনার নিজের কি এতটুকু ব্যক্তিত্ব নেই যে, যে কারো সামনে আপনি উলঙ্গ হয়ে যেতে পারেন!

নারীরা খারাপ তাই তারা ধর্ষিত হয়, এই আপনাদের যুক্তি। কিন্তু কথা হচ্ছে এই ধর্ষণটা করে কারা? যে পুরুষটি ধর্ষণ করলো, কতখানি মানবিক অবক্ষয়ের শিকার হলে সে এই কাজটি করতে পারে, তা আপনাদের চিন্তাতেও আসে না। বিভিন্ন সময় লোকাল বাসে চড়তে গিয়ে আমি একটি বিষয় দেখেছি। একজন পুরুষ সে হয়তো অশালীনভাবে কোনো নারীর গায়ে স্পর্শ করেছে। নারীটি যখন এই কথা বলতে যাবে, বাসের অন্য পুরুষরাও তখন একজোট হয়ে যায়। সবাই পক্ষ নেয় অপরাধীর। যেন একজন পুরুষ দায়ী হলে, সবাই দায়ী হয়ে যায়।

সব পুরুষ কখনোই ধর্ষক নয়। আমি আমার নিজের জীবনেই প্রচুর ভালো পুরুষের দেখা পেয়েছি। আমাদের পরিবারে নারীকে পরিপূর্ণ সম্মান করা হয়। তাই আমার ভাইয়েরা কখনো নারীকে উত্ত্যক্ত করে না বা রাস্তাঘাটে টিজিং করে না। এই শিক্ষাটা সব পরিবারেই জরুরি। আপনি যখন ধর্ষকের পক্ষ নেন বা মৌন থাকেন, তখন বুঝতে হবে আপনি তার নীরব সমর্থনকারী।

অপরাধ করা আর তাতে সমর্থন দেয়া সমান অপরাধ। খাদিজাকে যখন কোপানো হলো, তখন অনেক পুরুষকেই দেখেছি মনে মনে খুশি হতে। যেন তারা তাদের প্রেমিকাদের প্রতি দীর্ঘ দিনের আক্ষেপ বদরুলের মাধ্যমে পূর্ণ করতে পেরেছেন! আমাদের সম্পর্কগুলো নারী কিংবা পুরুষের গণ্ডিতে আটকে না থেকে মানবিক হোক। আমাদের শিশুরা উঠোনজুড়ে নিরাপদে খেলা করে বেড়াক। আর কোনো নরপশু যেন ওদের শৈশব কেড়ে নিতে না পারে। শিশু না বাঁচলে আগামী বাঁচবে না, নারী না বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে না। একটি শিশুর জন্য, একজন নারীর জন্য, একজন

পুরুষের জন্য এককথায় বলতে গেলে একজন মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে হলে সবার আগে সচেষ্ট হতে হবে আপনাকেই। কেউ কোনো ভুলের মধ্যে থাকলে আপনি তাকে পরামর্শ দিতে পারেন সঠিক পথের। কিন্তু আপনি তাকে আক্রমণ করতে পারেন না। আপনি একজন পুরুষ, আপনি এই মুহূর্ত থেকে প্রতিজ্ঞা করুন, আপনার দৃষ্টি সংযত রাখবেন, লুকিয়ে অশ্লীল ভিডিও দেখবেন না, ইনবক্সে মেয়েদের নোংরা মেসেজ পাঠাবেন না, আপনি আপনার লজ্জাস্থানের হেফাজত করবেন, অশ্লীল বাক্য বিনিময় থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন, অফিসে আপনার সহকর্মী নারীটি আপনার দ্বারা কোনোভাবেই নিপীড়িত হবে না, আপনার গৃহকর্মী মেয়েটির সামনে আপনি সুযোগ বুঝে হায়েনা হয়ে উঠবেনা না; আপনার বোন, আপনার মা, আপনার স্ত্রীর অধিকার আপনি নিশ্চিত করবেন। তাহলেই দেখবেন, আগামীকাল থেকে আর কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে না।

লেখক : সাংবাদিক।

উৎসঃ জাগো নিউজ