Archive

Archive for মার্চ, 2015

ইয়েমেনে অতল গহ্বরে সৌদি আরব – রবার্ট ফিস্ক

মার্চ 29, 2015 মন্তব্য দিন

yemen-status [ হিংস্রতার প্রতীক আব্দুল ওয়াহহাবের মতাদর্শানুসারী মধ্যপ্রাচ্যের আরবরা যে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে জড়াবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই । আব্দুল ওয়াহহাবের এই ভাবশিষ্যরা তো তাদের আক্বিদায় বিশ্বাসী ছাড়া আর কাউকে মুসলমান হিসেবে-ই স্বীকৃতি দেয় না – পাক-ভারত উপমহাদেশে বাংলাদেশে জামাত-শিবির, সালাফী ও আহলে-হাদীসরা যেমন।

শিয়া হুথিদের বিজয়ে শঙ্কিত হয়ে আরব লীগের সমর্থন বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বা আন্তর্জাতিক কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে (যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটভুক্ত ইউরোপীয়ান দেশগুলোর মতো ও তাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে) সৌদি আরব তার আজ্ঞাবহ রাজন্যবর্গ নিয়ে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন শুরু করে দিয়েছে ইয়েমেনে। সৌদি আরবের বিমানবাহিনী ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ’র অবস্থানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করার পর পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করার জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি’র প্রতি আহবান জানায়। সৌদি আরব এর আগে আসির, নাজরান ও জিযান নামে ইয়েমেনের তিনটি প্রদেশ দখল করেছিল এবং সম্প্রতি ওই প্রদেশগুলোকে সৌদিভূখণ্ডের অংশ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

saudi_aggression-yemen

ইয়েমেন বিষয়ে বিশদ আলোচনা পরবর্তীতে করবো এই লেখাটির বাইরে-ও আরো কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে । নানা ব্যস্ততা হেতু এই মুহুর্তে আমার পক্ষে কিছু যোগ করা গেলো না । ] সৌদি আরব অতল গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের ওপর তাদের বিমান হামলা চালানোর ঘটনাটি ঐতিহাসিক। তবে একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ সৌদি রাজপরিবারের জন্য ভয়ের কারণ হয়েও দেখা দিতে পারে। কে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশে এই যুদ্ধ হতে হবে? সৌদি আরবের বাদশাহ, যাকে নিয়ে কানাঘুষা আছে যে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ। নাকি সৌদি প্রিন্সরা? যারা এই নিয়ে ভীত যে, নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনী রাজবংশের সমর্থন করবে না!

ইয়েমেনের গল্প বেশ সরল। সৌদি আরবের দাবি, ইরানের সহায়তায় শিয়া মুসলমান হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করেছে। দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর আল হাদি তার শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত প্রাচীন রাজধানী এডেন থেকে সৌদির রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে গেছেন।

সৌদি আরব কখনোই চায় না তাদের সীমান্ত ঘেঁষে ইরানের মতাদর্শী একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠুক। তবে এ ক্ষেত্রে তারা সব সময়ই ভুলে যায়, ২০০৩ সালে ইঙ্গ-মার্কিন বদান্যতায় এরই মধ্যে তাদের সীমান্তঘেঁষা ইরানের মতাদর্শী একটি রাষ্ট্র হয়েছে-যার নাম ইরাক। মূল গল্পটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো বা সৌদি সেনাবাহিনীর অর্ধেক সেনাই ইয়েমেনের বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠী থেকে এসেছেন। পারিবারিকভাবে সৌদি সেনারা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে ইয়েমেনের সঙ্গে যুক্ত এবং ইয়েমেনের বিপ্লব সৌদি রাজপরিবারের জন্য বড় একটি আঘাত। সৌদি বাদশাহ সালমানকে দেশ চালাতে হলে অবশ্যই এই সংকটের অবসান ঘটাতে হবে। কিন্তু সানায় সৌদি বোমা হামলা কি শিয়া মুসলমানদের বিপ্লব বন্ধ রুখতে পারবে? রিয়াদের কাছে ব্যাপারটি কেমন তা আপনারাই বুঝতে পারবেন। উত্তরে শিয়া-নেতৃত্বাধীন ইরাকি সরকারকে সহায়তা করছে শিয়া মুসলিম ইরানিয়ান রেভ্যুলশনারি গার্ড, যেখানে প্রতিপক্ষ সুন্নি মুসলমান সংগঠন আইএস। উত্তর-পশ্চিমে আলাউইত (পড়ুন শিয়া) প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদকে সহায়তা করছে ইরানিয়ান রেভ্যুলশনারি গার্ড, যেখানে প্রতিপক্ষ আইসিস, আল-নুসরা আর ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ নামে বাকি সবাই। আসাদের বাহিনীর পাশে আরো আছে লেবাননের শিয়া হিজবুল্লাহ। এ ছাড়া আফগানিস্তান থেকে আসা শিয়া মুসলমানরাও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পোশাকে যুদ্ধ করছে। সৌদি আরবের দাবি, ইয়েমেনের হুথিদের সহায়তা করছে ইরান। যদি তা ঠিক না হয়েও থাকে, তারপরও ইরানের অস্ত্র আছে ইয়েমেনে। এরই মধ্যে ইয়েমেনের যুদ্ধ আরব দেশগুলোকে বিভক্ত করেছে। লেবাননের সাবেক সুন্নি প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি সৌদি আরবের হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বাদশাহ সালমানের সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। হারিরি শুধুমাত্র সুন্নিই নন, তিনি একই সঙ্গে সৌদি আরবের নাগরিক। কিন্তু ইয়েমেনে সৌদি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ। তাদের মতে, এটি সৌদি আরবের ‘বেহিসেবি অভিযান’। সৌদি আরবের সমালোচনায় তারা বেশ সতর্কতার সঙ্গেই শব্দ বেছে নিয়েছে। ঠিক এই শব্দগুলোই ২০০৬ সালে সৌদি আরব হিজবুল্লাহর প্রতি ব্যবহার করেছিল। ওই সময় হিজবুল্লাহ তিন ইসরাইলি সেনাকে আটক করে। এর জবাবে ওই বছরের শেষদিকে লেবাননে বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্র জানে না পরবর্তীকালে কী করতে হবে। সৌদি আরবকে তারা সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে পারে না। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাদশাহ সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের মৌখিক সমর্থনের মানে হলো, তাদের সুন্নি সহযোগী রাষ্ট্রগুলোকে শান্ত রাখা আর একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে চুক্তির যতই সম্ভাবনা দেখা দেবে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সহযোগীরা এটি নস্যাতে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। তাই বলা চলে, ইয়েমেনের সৌদি আরবের অন্য রকম অভিযান আসলে এডেনের হুথিদের বিরুদ্ধে নয় বরং এর লক্ষ্যবস্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যেকার লওসেন সমঝোতা চুক্তি। হিজবুল্লাহ সৌদি হামলাকে ‘সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র ষড়যন্ত্র’ বলতে পারে-কিছুটা সময় চিন্তা করলে মনে হতে পারে এর কিছুটা অন্তত সত্য। কিন্তু বিষয়টি আরবদের কাছে দৃশ্যমান হবে এভাবে- যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৌদিরা উত্তরের মহাশত্রুকে (ইসরাইল) বাদ দিয়ে আরেক আরব জাতির ওপর হামলে পড়েছে। সৌদি হামলা শুনলেই

yemen-attack-1

অনেকের মনে হতে পারে, এটি হয়তো ইসরাইলের ওপর হামলা। ইতিহাস হয়তো বলবে, ইয়েমেনের ওপর হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। আরবরা বিশ্বাস করে নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ হলে, তা পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইলকে সন্তুষ্ট করবে। তবে এটিও সত্য যে, এই অঞ্চলের নিজেদের শক্তিশালী সামরিক শক্তি প্রমাণ করায় সৌদিদের এটিই শেষ সুযোগ। ১৯৯০ সালে সাদ্দামের কুয়েত আক্রমণের সময় তারা বিধর্মী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের রক্ষায় সহায়তা চেয়েছিল (যা ছিল ওসামা বিন লাদেনের রাগের কারণ)। তারা ওহাবি জাতি- কার্যকরভাবেই তালিবান ও আইসিসের মতাদর্শে তারাও বিশ্বাসী। ৯/১১ হামলার ১৫ থেকে ১৯ জনই ছিল সৌদি নাগরিক। ভুললে চলবে না তারা দিয়েছে বিন লাদেন, যিনি ছিলেন ইয়েমেনি উপজাতি গোষ্ঠীর। ১৯৯০ সালে কুয়েতে সাদ্দামের আগ্রাসনকে সমর্থন দিয়েছিল ইয়েমেন। অকৃতজ্ঞতার জবাবে ১০ হাজার ইয়েমেনিকে দেশ থেকে বের করে দেয় সৌদি আরব। এখন কি সৌদি আরব আশা করে, ইয়েমেনিরা তাদের সমর্থনে র্যা লি করবে? সর্বশেষ ইয়েমেনে সৌদিরা যুদ্ধ করেছে মিশরের জামাল আবদেল নাসেরের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। যুদ্ধটি ছিল বিপর্যয়কর। এই মহূর্তে মিশরকে পাশে পেয়েছে সৌদিরা। এমনকি ইয়েমেনে সেনা মোতায়েনেও মিশরকে অনুরোধ করেছে তারা। কিন্তু কী প্রয়োজনে? ইয়েমেনকে আজ্ঞাবহ সুন্নিরাষ্ট্র হিসেবে রাখতে? এতে কি সিনাইয়ের সুন্নি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে বলে নিশ্চয়তা পেতে পারে মিশর? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইয়েমেনে হামলা কি সৌদি রাজপরিবারে আসন্ন সংঘাত সমাধান করতে পারবে?—যেখানে অনেক প্রিন্স মনে করেন, ইয়েমেন সৌদি শক্তির ভিত্তিপ্রস্তর নয় এবং একই সঙ্গে যারা ওহাবিজমকে স্থায়ী বিশ্বাস বলে মনে করে না।  ইয়েমেনের সংকট থেকে কে লাভবান হবে? অবশ্যই তেল উৎপাদকরা, এর মানে হলো সৌদি আরব ও ইরান। রবার্ট ফিস্ক: যুক্তরাজ্যের ‘দি ইনডিপেনডেন্ট’ পত্রিকার মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রশংসা করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

saudi-yemen-attack-4

ইয়েমেনে সৌদি হামলার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। আজ (বৃহস্পতিবার) সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক টেলিফোন কনফারেন্সে ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রশংসা করেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সৌদি টিভি চ্যানেল ‘আলআরাবিয়া’ জানিয়েছেইয়েমেনে বিমান হামলায় সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান, মরক্কো ও সুদানও অংশ নিচ্ছে। ২৬ মার্চ, ২০১৫

তিকরিতে আইএসআইএলকে রক্ষা করছে মার্কিন বিমান

ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একজন কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন বিমানগুলো তিকরিতে ওয়াহাবিতাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলএর একদল কমান্ডার ও নিষিদ্ধ বাথ পার্টির সদস্যদের রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন বিমানগুলো তিকরিতের উপকণ্ঠে সরকারি সেনাদের কয়েকটি ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ করলে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২০ জন সদস্য হতাহত হন। হতাহতদের ১৭ জন ছিলেন ইরাকের পুলিশ। এ ছাড়াও মার্কিন বিমানগুলো তিকরিতে ওয়াহাবিতাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলএর একদল কমান্ডার ও নিষিদ্ধ বাথ পার্টির সদস্যদের রক্ষার জন্য তাদেরকে বিমানে চড়িয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় বলে তিনি জানান। আন্তর্জাতিক জোট ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনীকে তিকরিতে ঢুকতে নিষেধ করেছে যাতে আইএসআইএলএর সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এই শহরকে মুক্ত না করা যায়।

ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী তিকরিতকে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হত, কিন্তু মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে তিকরিতকে মুক্ত করার অভিযান এখন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইরাকের সরকার সেনারা বেশ কয়েক দিন ধরে তিকরিত শহরকে অবরোধ করে রাখলেও এই শহরের ভেতরে ঢুকছে না এবং এই শহরকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। ইরাক সরকার তিকরিতের যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের বিমান সহায়তা চাচ্ছে এবং স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনীকে পরিপূরক বাহিনী হিসেবে রক্ষা করতে চায় বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে গতকাল (শনিবার) জানানো হয়েছে। ২৯ মার্চ, ২০১৫

ইয়েমেনে সালাফিপন্থীদের সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের সংঘর্ষ: নিহত ২৪

আজজাউফ প্রদেশের রাজধানী হিজমের স্থানীয় সরকারের দফতরগুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সালাফিপন্থী জঙ্গিদের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী এবং স্থানীয় যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং অনেক আহত হয়েছে। ইয়েমেনের উত্তরে সালাফিপন্থীদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি চলতি মাসের গোড়ার দিকে দখল করে নেয় হুথি যোদ্ধারা। কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধের পর অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে হুথিরা। তাদের কাছ থেকে আবার অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সালাফিপন্থী জঙ্গিরা সরকারি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষ হয়।

ইয়েমেনের জনপ্রিয় ইসলামী গণ-প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান সাইয়্যেদ আবদুল মালিক হুথি বলেছেন, ইয়েমেনে চলমান সৌদি আগ্রাসন মার্কিন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইহুদিবাদী কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকেই তা প্রমাণিত হয়েছে।  তিনি বলেন, মার্কিন সরকারই সৌদিদের এ আগ্রাসন শুরু করার অনুমতি ও নির্দেশ দিয়েছে এবং এ সরকারই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তা পরিচালনা করেছে। সাইয়্যেদ আবদুল মালিক হুথি সৌদি সরকারকে মার্কিন সরকারের গোলাম বা সেবাদাস হিসেবে অভিহিত করেন এবং সৌদিরা মার্কিন নীল-নক্সা বাস্তবায়নে কেবল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

বিশ্ব ঐতিহ্যে সৌদি হামলা, ইউনেস্কোর নিন্দা; নিহত ১৭

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ (শুক্রবার) সা’দা প্রদেশের বাকেম জেলার একটি বাজারে সৌদি বিমান হালায় ১২ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হযেছে। এছাড়া, yemeni_heritage_bombed-120615রাজধানী সানায় ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এলাকায় বোমা বর্ষণ করেছে আগ্রাসী বাহিনী। এর ফলে অন্তত পাঁচ জন নিহত ও ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত তিনটি বাড়ী ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধরত সব পক্ষেরই উচিত এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের প্রতি সম্মান দেখানো।

পুরোনো সানা’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় ১১শ’ শতাব্দির আগে নির্মিত বহু ভবন রয়েছে, যা ইসলামি সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। এসব ভবন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত হয়েছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু মসজিদ রয়েছে সেখানে। এছাড়া ওই এলাকায় এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বসতি গড়ে উঠেছিল বলে জানা গেছে।

ইউনেস্কো বলেছে, আজকের হামলায় তিনটি ঐতিহাসিক ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ইয়েমেনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই সৌদি আরব গত ২৬ মার্চ থেকে দেশটিতে বর্বরোচিত বিমান হামলা শুরু করেছে। এতে প্রতিদিনই বহু নিরাপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ১২ জুন, ২০১৫

ওয়াহহাবী আন্দোলন

মার্চ 28, 2015 মন্তব্য দিন

নিরপেক্ষ বা প্রকৃত ইতিহাস বলে কোন কিছু আছে কিনা আমার জানা নাই যেখানে মানুষ স্বভাবগতভাবে নিরপেক্ষ না আমরা সবাই আমাদের biased দৃষ্টিভঙ্গী থেকে কথা বলি ইতিহাসবিদদেরও অবস্থা তথৈবচ

এক মনিষী বলে গিয়েছেন, The victorious gets to write the history. যেমন, ৭১এর যুদ্ধে বিজয়ী বাঙালীরা সমস্ত দায় পাকিস্তানী শাসকদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের ভার্শনের ইতিহাস রচনা করে রেখেছে পরাজিত পাকিস্তানীরা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রজাতীয় কোন ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করতে যায়নি তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ৭১এর যুদ্ধ ছিলো ভারতীয়দের যোগসাজশে বাঙালী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সশস্ত্র গুন্ডামী !

তেমনি উসমানীয়দের বিপক্ষে বিজয়ী আলসৌদ বংশ তো তাদের মতো করে ইতিহাস লিখবে এবং লেখাবে তাই ইতিহাসের পাঠক হিসাবে আমরা যা করতে পারি তা হচ্ছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে ইতিহাস পাঠ করে আমার নিজের কাছে কোন ভার্সন সঠিকের সবচেয়ে কাছাকাছি মনে হয় সে রকম একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া

আপনার দৃষ্টিভঙ্গীতে কাউকে “ইতিহাস বিকৃতকারীমনে হতে পারে কিন্তু তার দিক থেকে উল্টো আপনাকে ট্রাবোল মেকারমনে হতে পারে ! কে সঠিক তা বিচারের ভার আল্লাহর উপর দুনিয়াবী জীবনে কে বিজয়ী হলো তা দিয়ে সব সময় কে সঠিক ছিলো তা বিচার করা সম্ভব নয় ইতিহাসে সে নজির ভুরি ভুরি পাওয়া যাবে

মাযহাব এবং আর দুএকটি ব্যাপার নিয়ে আবদুল ওয়াহহাব যা করেছেন তার জন্য তাঁকে আমি সাধুবাদ জানাই বিশেষত: মসজিদুল হারামে চার ইমামের পেছনে চার জামাত ব্যাপারটা বিশ্রী ছিলো কিন্তু অন্যান্য অনেক ব্যাপারে তাঁর কর্মকান্ড অত্যন্ত নিন্দনীয় ছিলো তবে এক ইমামের পেছনে এক জামাতে নামায পড়ানোতে (বা সমস্ত বিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন করে, ইত্যাদি) মুসলমানদের মধ্যে কিন্তু একতা তৈরী হয়ে যায়নি ব্রিটিশদের সাথে ষড়যন্ত্র করে উসমানী খিলাফত ভেঙে কিন্তু মুসলমানদের এক করা যায়নি বরং জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অনেকগুলো পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে মুসলমানদের ঐক্য আরো বিনষ্ট হয়েছে !

Mawlana Shaykhu-l-Islam Ahmad Zayni Dahlan al-Makki ash-Shafi’i (Chief Mufti of Mecca al-Mukarramah) রচিত Fitnatu-l-Wahhabiyyah এবং Shaykh Gibril Fouad Haddad রচিত The Doctrine of Ahl as-Sunnah Versus the “Salafi” Movement লেখা দুটি পড়ুন সেখানে আলসৌদ বংশের উত্থানের ইতিহাস ছাড়া শরয়ী আলোকে থেকে আবদুল ওয়াহহাবের বিভিন্ন ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দৃষ্টিভঙ্গীর জবাব দেয়া হয়েছে।

চার মাযহাবের অনুসারী মুসলমানরা এক সময় কাবা চার কোণায় চারটি মিম্বর বানিয়ে তাদের ইমামের পেছনে আলাদা নামাজ পড়ত। আঠারো শতাব্দীতে ওহাবীরা এগুলো ভেঙ্গে দেয়। (ওহাবী তাণ্ডবের কারণে ১৮০৩ থেকে ১৮০৯ এই বছর কাবা আশেপাশের মুসলিম ছাড়া বিশ্বমুসলিমের জন্য হজ্ব কার্য্যত: বন্ধ ছিল)

ওয়াহহাবীরা চার ইমামের পেছনে কাবায় নামায পড়া বন্ধ করলেও  সেটা খোলস পরিবর্তন ছাড়া আর কিছু ছিলো না মানুষ ঠিক তাদের মাযহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে গেছে।

সালাফী [ওহাবীদের নতুন সংস্করণ?] এবং আহলেহাদীস [ওহাবীদের বাংলাদেশী সংস্করণ?] ভাইদের মতে অনেক কিছুবিদআত ! বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ

হাজীদের সম্বল
অনুবাদ সংকলনেঃ আবুল কালাম আযাদ

(
লিসান্স
, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
আস
সুলাই ইসলামী দাওয়া সেন্টার
পোঃ বক্স নং ১৪১৯
, রিয়াদ ১১৪৩১
সাউদী আরব

বইটির ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ‘) বলা হয়েছে, “… নামায, রোযা, মীলাদমাহফীল, আক্বীদা এগুলি এবং ধরণের অন্যান্য বিষয়গুলি পবিত্র কুরআন ছহীহ হাদীছের আলোকে বিস্তারিত জানার জন্য প্রথমত: হাদীছের কিতাবগুলি যেমন বুলুগুম মারাম, বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ এরপর আহলে হাদীছ বা সালাফী ওলামাদের লিখিত বইপুস্তকগুলি পড়ার আবেদন জানাচ্ছি যেমন, সাউদী আরবের শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রাহেমাহুল্লাহ), শায়খ মুহাম্মদ বিন ছালেহ আলউছাইমীন (রাহেমাহুল্লাহ), শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহেমাহুল্লাহ), বাংলাদেশের আল্লামাহ আব্দুল্লাহীল কাফী আলকুরাইশী (রাহেমাহুল্লাহ), ডঃ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আলগালিব (হাফিযাহুল্লাহ) প্রমুখ

ওহাবীরা বড় বড় সাহাবীদের কবর যিরারতে বাধা দেয় কিন্তু মহানবীর (সাঃ) কবর যিরারতে বাধা দেয় না। এখানে হাদীসের নিরঙ্কুশ অর্থগ্রহণের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তাহলে ছবি সংক্রান্ত হাদীস অনুসরণ করা হচ্ছে না কেন?

তাঁর অনুসারীরা আবদুল ওয়াহহাবের যে জীবনী সব সময় আমাদের সামনে উপস্থাপন করে থাকে তা সৌদী সরকারের আর্থানুকল্যে পৃষ্ঠপোষকতায় দরবারী আলেমদের দ্বারা প্রণীত হওয়ায় একপেশে ধরণের হয় অনেক অপ্রিয় সত্যকে ঢেকে রেখে তাঁর একটি ফুলের মত পবিত্র, আবদুল ওয়াহহাবের চরিত্রধরণের জীবনালেখ্য রচনা করা হয়। সৌদী রাজবংশ যেহেতু ঐতিহাসিকভাবে আবদুল ওয়াহহাবের সাথে পারিবারিকভাবে যুক্ত হয়েছিলো এবং ধর্মীয় ব্যাপারে তাঁর কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছিলো (অর্থাৎ তাঁর ব্যাখ্যা করা ইসলামকে মেনে নিয়েছিলো এবং এখনো করে), সেহেতু আবদুল ওয়াহহাবের মন্দ দিকগুলো তারা কখনো কাউকে উপস্থাপন করতে দেয় না প্রকৃতপক্ষে রকম কোনো পুস্তক তারা ঐ দেশে কোনোদিন প্রকাশ করতে দেবে না বাক স্বাধীনতা জাতীয় কোনো কনসেপ্ট তাদের অভিধানে নেই রাষ্ট্রশাসন যেমন চলছে আমাদের দেশের আওয়ামী লীগের বাকশালের মতো তাদের ধর্মীয় গুরুর দোষত্রুটি প্রকাশ করলে তো শক্ত জনমত বা অনুসারী তৈরী করা যাবে না সুতরাং তারা ইচ্ছাপূর্বক আবদুল ওয়াহহাবের গুণগান গেয়ে যাবে এটা অনেকটা জামাতইসলামীর অনুসারীদের মাওলানা মওদূদী বা গোলাম আযমের ভুল ও দোষত্রুটি তালাশ করতে বলার মতো ব্যাপার তারা বড়জোর বলবে, মাওলানা মওদূদী বা গোলাম আযম ভুলত্রুটির উর্দ্ধে কোনো মানুষ ছিলেন না কিন্তু সেই ভুলগুলো কি কি ছিলো তা কোনোদিন বলবে না যাহোক, ঐসব আংশিক সত্য পুস্তকাদি পাঠ করে ভুলভাবে প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন দেশে এক শ্রেণীর বিভ্রান্ত দল মতের জনমত তৈরী হয়েছে যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা ইসলামের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে

সে হিজরী ১১১৫ (১৭০৩ খৃষ্টীব্দ) সনে সৌদী নজদ অঞ্চলের উয়্যানাহ নাম স্থানে জন্মগ্রহণ করে এবং দারইয়্যাহ নামক স্থানে হিজরী ১২০৬ (১৭৯২ খৃষ্টীব্দ) সনে মৃত্যুবরণ করে ।

আমাদের অনেক অতিরঞ্জিত কেচ্ছা শোনানো হয়ে থাকে যে, আবদুল ওয়াহহাবের সময়ে মানুষ ইসলামকে এতোটাই বিকৃত করে ফেলেছিলো যে, মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে গাছপাথর পূজা করতো, সাহাবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিলো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে, এই বিষয়টি শুধু আবদুল ওয়াহহাবের নজরে পড়েছিলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর এতো এতো মুসলমান হজ্বউমরাহ করতে গিয়ে এগুলো অনুধাবন করলো না হাজীগণ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তো পরিব্রাজকরা মক্কামদীনা শরীফ পরিভ্রমণ করেছেন তাদের কারোর লেখায় বিষয়টি কিভাবে অনুপস্থিত ?!

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব নজদী যেমন নিজেকে হাম্বলী দাবী করতঃ সাধারণ মুসলমানদেরকে ধোঁকায় ফেলতো, তার অনুসারীরা (ওয়াহহাবী, সালাফী, আহলেহাদীস জামাতইসলামী) তেমনি শুধুমাত্র সহীহ হাদীসের অনুসরণ করতে হবে এমন দাবী করে সাধারণ মুসলমানদেরকে তেমনি ধোঁকায় ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওয়াহাবী আক্বীদায় দীক্ষিত করে তোলার পরে এদেরকে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় এসব মগজধোলাইকৃত আলেম নামধারী ধর্মব্যবসায়ীরা পেট্রো ডলারের জোরে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল খুলে বসে এবং দারুসসালাম পাবলিকেসন্স থেকে প্রকাশিত সুদৃশ্য রঙীন মলাটের বইপুস্তকাদি বিনা মূল্যে মানুষের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিরাট অনুসারী বানানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত । এবার আব্দুল ওয়াহহাবের ধামাচাপা-দেয়া জীবনীর দিকে সংক্ষিপ্তভাবে একটু অলোকপাত করা যাক ।

মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদী তাহার অনুসারীগণ নজদ হইতে প্রকাশ পায় এবং মক্কা মদীনা শরীফ আক্রমণ করে ধোঁকা দেবার জন্য নিজেকে হাম্বলী বলিয়া দাবী করে; কিন্তু ইহার আকায়েদ মতামত এই ছিল যে, আমি আমার মতালম্বীগণ-ই কেবল মুসলমান অন্যান্য সকলেই মুশরেক বা কাফের এই হেতু সে সুন্নাত অল জামাতের বহু মুসলমান আলেমকে হত্যা করে পরে খোদা পাক ইসলামী সৈন্য প্রেরণ করতঃ উহাদিগকে ধ্বংস করেন ইহা সন ১২৩৩ হিজরীর ঘটনা ” [রদ্দুল মুহতার ৩য় খন্ড, বাবুল বাগাতের প্রথমাংশ দ্রষ্টব্য]

সে ১৩০০ হিজরীতে আরবের নজদ দেশ হইতে প্রকাশ পায় তাহার মধ্যে বাতিল খিয়াল, মন্দ আক্বিদা সমূহ বর্তমান ছিল এই হেতু সে আহলে সুন্নাত অল জামাআতের লোকের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিল তাহাদিগকে জোরজবরদস্তি মালের ন্যায় মনে করতঃ হালাল জানিত সে সুন্নাতঅল জামাআতের মুসলমানকে হত্যা করা খুবই সওয়াবের কার্য্য মনে করিত খাস করিয়া মক্কা মদিনাবাসীদিগকে এবং সাধারণ হিজাজবাসীদিগকে খুবই কষ্ট যন্ত্রণা দিয়াছিল অতীতকালের বুজুর্গ নেক ব্যক্তির তাবেদারী সম্বন্ধে বেয়াদবী বাক্য প্রয়োগ করিত তাহার এইরূপ কষ্ট জুলুমের কারণে বহু লোক মক্কা মদিনা ত্যাগ করিতে বাধ্য করিয়াছিল হাজার হাজার মুসলমান তাহার সৈন্যদিগের দ্বারা শহীদ হইয়াছিল ” [মৌলানা হুসাইন আহমদ মাদানী কর্তৃক প্রণীত শিহাবুস সাকেব নামক উর্দু পুস্তকের ৪২ পৃষ্ঠার বঙ্গানুবাদ]

“সে মক্কা মদিনা শরীফের নিরীহ ব্যক্তিদেরকে ব্যাপকভাবে খুন করে সৈয়দ বংশীয় সকলকে হত্যা করতঃ তাঁদের ধন সম্পত্তি লুন্ঠন করে মদিনার মসজিদের মখমলের বিছানাপত্র, দামী ঝাড় ফানুসগুলি নজদে নিয়ে যায় সমস্ত সাহাবা আহলে বাইতের মাযার গম্বুজসমূহ ভেঙ্গে সমতল করে দেয় যখন এদের মধ্যে কেউ রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর মাযার ভাঙতে উদ্যত হয়, তখন আল্লাহ তরফ থেকে তাকে একটি বিষধর সর্প দংশন করলে সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়

এই দলের নেতার নামানুসারে এরা ওহাবী বলে পরিচিত

তারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর মাযার যিয়ারত করা, তাঁর মাযার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে বের হওয়া, তাঁর মাযারের দিকে মুখ করে দোয়া করা, তাঁকে উসিলা করে আল্লাহ কাছে দোয়া করা ইত্যাদিকে হারাম শিরক ধারণা করতঃ অস্বীকার করে

প্রধান চার মাযহাবের ইমামদের (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল) তাকলীদ করাকে শিরক সমতুল্য মনে করে অথচ আবদুল ওয়াহাব নজদী, ইবনে তাইমিয়া, আবদুল আজিজবিনবায বা আলবাণীর তাকলীদ করায় কোনো শিরক খুঁজের পায় না

মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব নজদী নিজ মতালম্বী ব্যতীত দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদেরকে কাফের, মুশরিক ধারণা করতো । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইন্তেকালের পর তাঁর কবরে জীবিত আছে এমন ধারণা পোষণ করাকে বিভ্রান্তি মনে করে তাদের বিশ্বাস, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)- শরীর মাটিতে মিশে গেছে; তিনি হায়াতুন্নবী নন

তদ্রুপ নবী ওলীগণ মৃত্যুর পর মাটিতে মিশে গিয়েছেন বলে মনে করে

রাসুলুল্লাহ মাযার যিয়ারত হারাম এবং তজ্জন্য সফর করা হারাম মনে করে

তদ্রুপ কোনো ওলীর মাযার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যাওয়া, বুযুর্গদের মাযারে পাকা গম্বুজ তৈরী করা ওলীদের মাযারের তাযীম করাকে নাজায়েয শিরক বলে

রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বড় ভাইএর সমতুল্য মনে করে

রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে মাসুম বা বেগুণাহ বলে স্বীকার করে না

নবী ওলীদের অসীলা দিয়ে দোয়া করাকে নাজায়েয শিরক মনে করে

কবর তালকীন, কবর যিয়ারত বা কবরের দিকে হাত উঠিয়ে দোয়া করাকে বিদআত বলে

আল্লাহ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বিশেষ বান্দাদের (পীর, ওলী, বুযুর্গ, প্রমুখ) কারামতকে অস্বীকার করে

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ব্যতীত সাহাবা, তাবেইন বা মাযহাবের ইমামগণকে সত্যের মানদন্ড বলে স্বীকার করে না ; এজন্য তাঁদের দোষত্রুটি অনুসন্ধানের পরোয়া করে না

ইসলামী সাম্যের দোহাই দিয়ে নবী, ওলী, পীর, ওস্তাদ পিতামাতা প্রমুখকে সমমর্যাদা দিয়ে থাকে

তারা প্রকাশ্যে ইমাম হাম্বলের অনুসারী দাবী করলে তাদের কার্যকলাপ সমস্ত মাসআলায় ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মতানুযায়ী নয় নিজের জ্ঞান অনুযায়ী যে সমস্ত মাসআলাকে সহীহ হাদীসের বিপরীত মনে করে তখন ফিকাহের মাসআলাকে ত্যাগ করে

তারা ইয়া রাসুলুল্লাহবলাকে সরাসরি নিষধ করে

তারা আসসালাতু আসসালামু আলায়কা ইয়া রাসুলুল্লাহবলাকে কঠোরভাবে নিষেধ করে এইরুপ বাক্য নিয়ে আরববাসীদের প্রতি ঠাট্টা বিদ্রুপ করে

তারা বেশী দরুদ সালাম পড়াকে খুবই খারাপ মনে করে

তারা হযরতের পয়দা এশের প্রকৃত বর্ণনাকে খুবই মন্দ বিদআত মনে করে এইরূপ ওলীদের বয়ান বর্ণনাকে মন্দ মনে করে

বিদআতে হাসানার অস্তিত্ব অস্বীকার করে দ্বীন সংক্রান্ত কোনো বিষয়াদি রাসুলুল্লাহ (সাঃ), সাহাবী তাবেঈনদের পর বের হলে সেটাকে বিদআত বলে

২০ রাকাত তারাবীহ নামায পড়াকে নাজায়েয মনে করে

ইজমা কিয়াস অস্বীকার করে।

যঈফ হাদীসের প্রতি অবজ্ঞাভাব দেখায় তার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয় না

আযানের পর বা খুতবার আযানের পর হাত উঠিয়ে দোয়া করা নাজায়েয মনে করে

নেক মজলিস কায়েম করার জন্য সর্বদা এক তারিখ নির্দিষ্ট করা নাজায়েয বলে

ওয়াযের মজলিসে উচ্চস্বরে দরুদ পড়া নাজায়েয বলে

ঈদের নামাযের পর মুসাফাহা করা নাজায়েয মনে করে

এক মজলিসে তিন তালাক দিলে এক তালাক বলে গণ্য করা

সুন্নাহ পালন করা ফরয – সে কারণে তাহাজ্জুদ না পড়লে ফরয তরকের গুণাহ হয় মনে করে ।

প্রায় দেখা যায় যে, ওয়াহাবীরা উপরোক্ত প্রচলিত বিষয়গুলো নিয়ে সমাজের মধ্যে নানারূপ মতভেদ সৃষ্টি করে এবং দল পাকাবার চেষ্টা করে

এরা অপরের মানমর্যাদা দেখলে হিংসায় জ্বলে ওঠে এদের আচারব্যবহারে বেআদবীর ভাব প্রকাশ পায়

এদের চেহারা লাবণ্যহীন, বিটকেল, বিশ্রী, অহংকারে হৃদয় পরিপূর্ণ, কথাবার্তা কর্কশ তাতে রসমাধুর্য্য থাকে না এরূপ লক্ষণগুলো তাদের কলুষিত অন্তরের পরিচায়ক

সূত্রঃ, মুফতীয়ে আজম বাংলা ও আসাম, ফখরুল মুহাদ্দেসীন অলফুকাহা, সুপ্রসিদ্ধ পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মাওলানা মুহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী সাহেবের আদেশে ও যত্নে তদীয় বড় সাহেবজাদা মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী (পীর কেবলা সাহেব, ফুরফুরা দরবার শরীফ (ভারত) কর্তৃক সংকলিত তাহ্‌কীকুল মাসায়েলনামক পুস্তক (২য় সংস্করণ, বাংলাদেশ মুদ্রণ, নভেম্বর ২০০৫ ইং) থেকে গৃহীত ।

পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? না ভুল ব্যাখ্যা?

মার্চ 28, 2015 মন্তব্য দিন

প্রশ্ন :
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে, কিন্তু আমাদের দেশের ওলামারা এমনটি করতে বলেন না কেন? এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

মূলত হাদীসে পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কাতার সোজা করতে এমনভাবে যে একজনের পা যেন অপরজনের পায়ের বরাবর সোজা থাকে। আগ পিছ না হয়ে যায়। একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। আসলেই পায়ের সাথে পা মিলানো উদ্দেশ্য নয়।

কাতার সোজা করা সম্পর্কিত হাদীস সমূহের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট হবে আশা করি

692 – حدثنا عمرو بن خالد قال حدثنا زهير عن حميد عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( أقيموا صفوفكم فإني أراكم من وراء ظهري ) . وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه (صحيح البخارىكتاب الجماعة والإمامة ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف، رقم الحديث-692)
হযরত আনাস রাঃ বলেনরাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“তোমরা কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের পিছন থেকেও দেখি
আর আমাদের একেকজন কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতো, আর পায়ের সাথে পা মিলাতো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং৬৯২}

وقال النعمان بن بشير رأيت الرجل منا يلزق كعبه بكعب صاحبه (صحيح البخارىكتاب الجماعة والإمامة ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف)

হযরত নুমান বিন বাশির রাঃ বলেনআমাদের মাঝে একজনকে দেখতাম তিনি তার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতেন। {সহীহ বুখারী, কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর অধ্যায়}

عَنْ أَبِى الْقَاسِمِ الْجَدَلِىِّ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمعَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ « أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ». ثَلاَثًا « وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ». قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ (سنن ابى داودكتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث-662)
আবুল কাশেম জাদালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হযরত নুমান বিন বাশির কে বলতে শুনেছিরাসূল সাঃ আমাদের দিকে ফিরে তিনবার বললেন-“তোমরা কাতার সোজা কর, আল্লাহর কসম! তোমরা কাতার সোজা কর, নতুবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তর পরিবর্তন করে দিবেন
তিনি [নুমান বিন বাশির] বলেনতখন আমি দেখলাম এক লোক তার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাচ্ছে, এবং হাটুর সাথে হাটু মিলাচ্ছে, এবং পায়ের গিটের সাথে গিট মিলাতো।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمقَالَ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ »»وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث-666)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনতোমরা কাতার সোজা কর এবং কাঁধসমূহের মাঝে বরাবরি রাখ, খালি স্থান পূর্ণ কর। আর শয়তানের জন্য খালি যায়গা রেখো না। আর যে কাতার মিলালো, আল্লাহ তায়ালা তাকে মিলিয়ে দিবেন। আর যে পৃথক করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে পৃথক করে দিবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং৬৬৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং৫৭২৪, সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং৪৯৬৭}

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمقَالَ « رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ إِنِّى لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، رقم الحديث– 667)
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনতোমরা কাতার সোজা কর, এবং ঘাড়কে বরাবর কর, নিশ্চয় যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! আমি দেখি শয়তান তোমাদের কাতারের ফাঁকে প্রবিষ্ট হয় বকরীর ছোট বাচ্চার মত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং৬৬৭)

উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কী উদ্দেশ্য?

কাতার সোজা করা আবশ্যক একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। সেই সাথে জামাতে নামায পড়ার সময় মাঝখানে এমন ফাঁক রাখা যাবে না, যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। নামাযে মুসল্লী পা ছড়িয়ে পাশের জনের পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াবে সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়।
পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নামাযে পা ছড়িয়ে দাঁড়াতে হবে একথা উদ্দেশ্য।

প্রথম বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরামদের।
আর দ্বিতীয় বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ উদ্ধারে অক্ষম কতিপয় ব্যক্তিদের মত। যারা শুধুমাত্র হাদীসের বাহ্যিক অনুবাদ পড়েই হাদীসের মর্ম বুঝে গেছেন মনে করে আত্মঅহংকারে ভোগেন তাদের বক্তব্য।

বিশুদ্ধ বক্তব্য

প্রথম বক্তব্যটিই বিশুদ্ধ। কারণ হাদীসে রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য যদি সত্যিকারভাবেই পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো, আর হাটুর সাথে হাটু মিলিয়ে দাঁড়ানো ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছড়িয়ে দাঁড়ানো উদ্দেশ্য হত, তাহলে এরকম উদ্ভট কথা রাসূল সাঃ কিছুতেই বলতে পারেন না যা একেবারেই অসম্ভব। কারণ নুমান বিন বাশির রাঃ এর এক বর্ণনায় এসেছে কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর কথা, আর অন্য বর্ণনায় এসেছে হাটুর কথাও। তাহলে এই সুরতটি কখনো সম্ভব? হাটু, কাঁধ ও পা কি একসাথে মিলানো যায় কখনো?

সুতরাং বুঝা গেলএসব হাদীসে রাসূল সাঃ এর মূল উদ্দেশ্য হলযেন লোকেরা এভাবে দাঁড়ায় যে, কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক থাকতে না পারে যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। সেই সাথে কাতার হতে হবে একদম সোজা। যেন সবার কাঁধ বরাবর হয়। পায়ের সাথে পা বরাবর হয়। হাটুর সাথে বরাবর হয়। পায়ের গিটের সাথে পাশের জনের পায়ের গিট বরাবর হয়। লাগোয়া নয় বরং বরাবর হওয়া উদ্দেশ্য।

এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে সকল হাদীসের অর্থ সঠিক হয়ে যায়। কারণ তখনকাঁধের সাথে কাঁধ মিলবেমানে হল সবার কাঁধ সমান সমান হবে।পায়ের সাথে পা মিলবেমানে হল সবার পা রাখার স্থান বরাবর হবে।হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলবেমানে হল সবার হাটু বরাবর হবে।পায়ের গিটের সাথে গিট মিলবেমানে হল সবার পায়ের গিট বরাবর হবে।

পক্ষান্তরে সত্যিকারর্থে পায়ের সাথে পায়ের পা মিলানোর কথা বললে সেটা হবে আজগুবি কথা। কারণ পায়ের সাথে পা মিলালে কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো সম্ভব নয়। আবার কাঁধ ও পা যদি আলৌকিকভাবে মিলেও যায়, তাহলে হাটুর সাথে হাটু মিলবে কি করে? যেটা আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে। সেই সাথে পায়ের গিটের সাথে গিট ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো কি সম্ভব?
সুতরাং বুঝা গেল পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা এসব হাদীসে বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। বরং কাতার সোজা করার গুরুত্ব ও সোজা করার পদ্ধতি বুঝানো উদ্দেশ্য। যেটা হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারীতে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেনالمراد بذلك المبالغة فى تعديل الصف وسد خلله (فتح البارى-2/211) অর্থাৎ এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হলকাতার সোজা করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বুঝানো, আর কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা। {ফাতহুল বারী/২১১}

হাদীসের মাঝে অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা

কথিত আহলে হাদীস তথা গায়রে মুকাল্লিদরা এ সকল হাদীস দিয়ে পা ছড়িয়ে অন্য মুসল্লির সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো প্রমাণ করতে হাদীসের মাঝে একটি চাতুরীর আশ্রয় নেয়। যেহেতু পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব হয় না, তাই তারা বলে যে, পায়ের সাথে পা মিলানোর মানে হল একজনের পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুলীর সাথে অপরজনের কনিষ্ঠা আঙ্গুলী মিলানো।
এ কথাটি হাদীস নিয়ে একটি চাতুরী ছাড়া কিছু নয়। কারণ হাদীসের সুষ্পষ্ট শব্দ হলقدم যার অর্থ পা। আর আঙ্গুল বুঝানো উদ্দেশ্য হলে হাদীসের ভাষ্য হতো الإصبع [আঙ্গুল] পায়ের কথা কেন বলা হল? হাদীসের শব্দের মূলার্থ পাল্টে এই মনগড়া ব্যাখ্যা দেবার অধিকার তারা কি করে পেল?

বিস্তারিত জানতে পড়ুন
তুহফাতুল আলমায়ী/৫৫১৫৫৪
ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া/৪৫২৪৫৭

والله اعلم بالصواب

এখান থেকে নেয়াhttp://jamiatulasad.com/?p=1017

এক আলেমের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান

মার্চ 22, 2015 মন্তব্য দিন
      1. মিডিয়ার আরেক কুরুচিঃ যৌন জিহাদ

লিখেছেন ডঃ আবুল কালাম আজাদ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আজকের দুনিয়ায় মিডিয়াগুলো করতে পারে না, বা বলতে পারে না এমন কিছুই নাই। তিলকে তাল করা, বা তালকে তিল করা হলো অসাধু মিডিয়ার কাজ।

তারই একটা নমুনা দেখুন এখানেঃ

কোন কোন সৌদী আলেম নাকি সিরিয়ার বিদ্রোহের সাহায্যের জন্যে নারীদেরকে সেখানে গিয়ে যৌন জিহাদে যাওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং সেই ফতোয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক দেশের মুসলিম মেয়েরা এমনকি নেক্বাবী মেয়েরা সিরিয়ায় গিয়েছেন এবং তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। Click this link

আমি এটা দেখে অবাক হয়ে বিষয়টা নিয়ে খুজতে লাগলাম। কিন্তু আসলে সৌদির কোন আলেম বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছেন তার সূত্র আমি এখনো পাই নি। তবে, সি এন এন আরবি পাতায় ব্যাপারে একটা প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।

তার চেয়ে বড় কথা হলোঃ যৌন জিহাদ বলে যা বুঝানো হয়েছে তার সাথে মূল আরবির কোন মিল নেই। আরবি ভাষায় যৌন জিহাদ বলে কিছু নেই ইদানিং কিছু লোক একটা পরিভাষা ব্যবহার করছেনতা হলো জিহাদুন নিকাহ‘, মানে বিয়ের জিহাদ। বিয়ের জিহাদ আর যৌন জিহাদ কি এক জিনিস? এই অনুবাদের পরিস্কার ভাবে একটা কুরুচির গন্ধ পাওয়া যায়। যার মূল উদ্দেশ্য হলোনির্দিষ্ট কাউকে হেয় করা।

এখন কথা হলোএই বিয়ের জিহাদের অর্থ কি?

এই বিয়ের মূল কাঠামো হলোঃ সাময়িক বিয়ে বা খন্ডকালীন বিয়ে। এটার ক্লাসিক্যাল শব্দ হলো নিকাহুল মুত ) রাসুলুল্লাহ () এর যুগে যুদ্ধরত সৈনিকরা করতেন। তবে, সুন্নী স্কলারদের মতে এই ব্যবস্থা খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বাতিল করা হয়; কিন্তু শিয়া স্কলারদের মতে শর্ত প্রয়োজন সাপেক্ষে এই ব্যবস্থা এখনো চালু আছে।

এই অস্থায়ী বা সাময়িক বিয়ের অনেক নিয়ম কানুন বাধানিষেধ আছে। এটা শুধু মাত্র একটা যৌনলেনদেন নয়।

তাই জিহাদুন নিকাহকে যৌন জিহাদঅনুবাদ করা ভুল পক্ষপাতদুষ্ট।

http://www.bdtomorrow.net/blog/blogdetail/detail/4038/drazad/27462#127421

সমালোচকঃ

মিডিয়া নিয়ে যা বলেছেন তার সাথে একমত কিন্তু পোষ্টে উপস্থাপিত কিছু তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। যেমনঃ

হলুদ ব্লগিং

আপনার লিংক দেয়াআমাদের সময়পত্রিকা বলেছে, “কিছু সৌদী মুফতি চলতি বছরের শুরুতে এই ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের যৌন সেবা দেয়ার জন্য মুসলিম মেয়ে নারীরা যেন সিরিয়া যান। এই সেবার নাম দেয়া হয় জিহাদ আননিকাহ সোদী মুফতিদের এই ফতোয়ার ধোঁকায় পড়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের শত শত নারী সিরিয়া গেছেন এবং তাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাচ্ছে সস্ত্রাসীরা।

sex-jihad-tunisiaলক্ষ্যণীয় যে, “আমাদের সময়” পত্রিকা বলেছে, “বিভিন্ন মুসলিম দেশের শত শত নারীআর আপনি সেটাকে বলেছেনঅনেক দেশের মুসলিম মেয়েরা। আপনি নিশ্চয়বিভিন্ন মুসলিম দেশেরঅনেক দেশেরশব্দগুলোর মাঝে পার্থক্যটা জানেন। আপাতদৃষ্টিতে এটা শব্দখেলা মনে হলে এগুলো কিন্তু এক পর্যায়ে মূল অর্থ বিকৃত করে দেয় সেটা অনুবাদের ক্ষেত্রে হতে পারে যেটা নিয়ে আপনি বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আমি যতটা তথ্য সংগ্রহ করেছি তা থেকে দেখা যায়, মুসলিম মেয়েরা মাত্র গুটিকয়েক মুসলিম / অমুসলিম দেশ থেকে রণাঙ্গনে গেছে

আমাদের সময়বলেছে,মুসলিম মেয়ে নারীরাআর আপনি সেটাকে বানিয়েছেন, এমনকি নেক্বাবী মেয়েরা এখানে আপনি অতিরঞ্জনের আশ্রয় নিয়েছেন ! কিন্তু কেন?

আমাদের সময়বলেছে, “পাশবিক অত্যাচারআর আপনি সেটাকে বানিয়েছেন, “যৌন নির্যাতনপাশবিক নির্যাতনশব্দটি দিয়ে কিন্তু শুধুমাত্রযৌন নির্যাতনবোঝানো হয় না এর পরিধি অনেক ব্যাপক যুদ্ধক্ষেত্রে (যদি বিদ্রোহীরা এমন করে থাকে) মেয়েদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গৃহস্থালীর কাজকর্মে বাধ্য করে, মারপিট করে, সশস্ত্র যুদ্ধ করতে বাধ্য করে, যুদ্ধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, সময়ের বাছবিচার না করে যৌন কর্মে বাধ্য করে, এক মেয়েকে অনেক জিহাদীর দ্বারা যৌনকর্মে বাধ্য করে ইত্যাদি সব পাশবিক অত্যাচারের আওতায় আসবে

মোদ্দা কথা, আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, আপনি নিজে কিন্তু সংবাদ অতিরঞ্জিত বা বিকৃত করার দোষে দায়ী (হলুদ ব্লগিং ?) অনেক দেশ, নেক্বাবী মেয়ে যৌন নির্যাতন শব্দগুলো কিন্তু অনেক ভারী অর্থ বহন করে। নিজের বক্তব্য জোরালো করে তুলবার জন্য কি আপনার প্রয়াসগুলো ছিলো ? আপনার মতো ইসলামপাবন্দ লোকেরা যদি এমন করে তাহলে আমাদের সময়এর মতো সেক্যুলার পত্রিকায় কাজকরা সাংবাদিকদের (সাংঘাতিকদের ?) কাছ থেকে আর ভালো কি আশা করা যায় ? আর মুসলিম ইসলামের ক্ষেত্রে পশ্চিমা জগতের মিডিয়াগুলো তো তথ্য বিকৃত করার জন্য মুখিয়ে আছে !

জামায়াতের আদর্শ প্রচারে মাদরাসা বোর্ড

মার্চ 22, 2015 মন্তব্য দিন

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে এ দেশে গণহত্যা করার পরও ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের সুযোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে আবার তৎপরতা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলেও ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রকে নানা কৌশলে ব্যবহার করেছে দলটি। আর এ কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের বিরোধিতার মুখেও টিকে গেছে দলটি।

তবে শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর দৃশ্যত চাপে পড়েছে দলটি। শক্তি ক্ষয়ের লক্ষণও স্পষ্ট। তবে জামায়াতকে একেবারে নিশ্চিন্ত করতে আদর্শিক লড়াই জরুরি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আদর্শিক লড়াই রাষ্ট্রকেই শুরু করতে হবে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু রাষ্ট্র আদর্শিক লড়াই করবে দূরের কথা, উল্টো রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই নিজ আদর্শ প্রচার করছে জামায়াত।

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগে মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমে নিজেদের নানা কর্মকাের প্রচার শুরু করে জামায়াত। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসার পরও বিষয়টি রয়ে যায় দৃষ্টির আড়ালে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্প্রতি আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাকে বিস্ময়কর বলছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাদরাসার পৌরনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে জামায়াতের নানা কর্মকান্ডের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আদর্শিক ইসলামী দলএমন বক্তব্যও পড়ানো হয় ছাত্রদের। জামায়াতের বিরোধীরা ইসলামের বিরোধীএমন শিক্ষা কৈশর আসার আগেই মনন মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

মাদরাসায় পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জামায়াতের পক্ষে অবস্থান জোরালো বলে মনে করা হয়। পাঠ্যক্রমে এমন বিষয়গুলো থাকলে এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জামায়াতের আদর্শ প্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাঠ্যক্রমে যা আছে

আলিয়া মাদরাসার পাঠ্য বইয়ে প্রকাশ্যেই পড়ানো হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর গুণকীর্র্তন ও মওদুদীবাদ। ব্যাংকিংব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের নানা কার্যক্রমের বিষয়েও উল্লেখ আছে মাদরাসার পাঠ্য বইয়ে। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের হেয়ালিপনা ও তদারকির অভাবে বছরে পর বছর একটি নির্দিষ্ট দলের আদর্শ প্রচারে ব্যবহার হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম শ্রেণির পাঠ্য বই ‘ইসলামি পৌরনীতি’। এই বইটি একাধিক প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বেসরকারি এসব প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বই ঘেঁটে দেখা গেছে, ইসলামি পৌরনীতির সিলেবাস এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের খেলাফত রাষ্ট্র কায়েমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী, মওদুদীবাদের প্রকাশ্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সুকৌশলে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে তুলে ধরা হয়েছে পুরোপুরি ইতিবাচক হিসেবে। গুণগান গাওয়া হয়েছে দলটির ব্যাপারে। এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে একাত্তরে দলটি শত্রুপক্ষের হয়ে অস্ত্র ধরেছিল, সেই কথাও। বরং রাজনীতির পাশাপাশি জামায়াত ‘সমাজসেবা’ করছে বলে দাবি করা হয়েছে সরকারি পাঠ্য বইয়ে। ব্যবহার করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাভোগ অবস্থায় মারা যাওয়া গোলাম আযমের উদ্ধৃতিও।

এ ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, দ্বিজাতি তত্ত্ব, ইসলামী নেতৃত্বের যোগ্যতা, গুণাবলি, দেশের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ শ্রেণির প্রাধান্য, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা ও মুসলিম রাজনীতি বিলোপের চেষ্টা। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের কল্পকাহিনিও আছে ‘ইসলামি পৌরনীতি’তে। পাশাপাশি জামায়াতের তহবিলে পরিচালিত রাবেতা আলম আল ইসলামীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ইসলামী ব্যাংকের কার্যাবলি, ইসলামী শাসনতন্ত্র ইত্যাদিও আছে আলিম শ্রেণির সিলেবাসে। রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনী পরিচালনায় নারীকে একেবারে অক্ষম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মাদারাসা বোর্ডের পাঠ্যক্রমে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এভাবে দিনের পর দিন এসবই পড়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যে কারণে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একটি ছেলে কিংবা মেয়ে শিক্ষাজীবন থেকেই ভুল তথ্য ও ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে। ব্যক্তি, সমাজ ও কর্মজীবনেও এই গন্ডি থেকে বের হতে পারে না তারা। যারা নিজে থেকে শেখা ও জানার চেষ্টা করে তারা হয়তো কিছুটা খোলস ছাড়তে পারে। তবে এ সংখ্যা খুবই কম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মাদরাসা শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর ব্যাপারে আরো আগেই সচেতন হওয়া দরকার ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের যদি প্রকৃত সত্য জানতে দেওয়া না হয়, তা হলে তারা তো অন্ধকারেই থেকে যাবে। সব জ্ঞানই তো মানুষের মনে আলো জ্বালাতে পারে না। আলোকিত মানুষ করে তুলতে পারেন না। এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। যারা এগুলো পড়ছে তাদের তো কোনো দোষ দেওয়া যাবে না। কিন্তু যাদের কথা ছিল এসব তদারকি করার, তারা কী করছে? তাদের ভূমিকা এত দিন কী ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার সময় এসেছে।’

আলিয়া মাদরাসা পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল। তিনি জানান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড শুধু আলিম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে থাকে। তারা নিজেরা কোনো বই প্রকাশ করে না। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রমের আলোকে বাইরের প্রকাশকরা বই প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। বাইরের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের এসব বই পাঠ্যক্রমে অনুযায়ী হয়েছে কি না বা অন্য কোনো বিষয় যোগ করা হয়েছে কি না তা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখে অনুমোদন দেয় কি না তা স্পষ্ট নয়।

তবে মাদরাসার পাঠ বইয়ে স্পষ্ট লেখা থাকে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে কর্তৃক অনুমোদিত।’ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে বই প্রকাশের জন্য অনুমোদনপত্রও দিয়েছে মাদরাসা বোর্ড। আবার কোনো কোনো বইয়ে লেখা থাকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ পাঠ্যক্রমে অনুযায়ী রচিত। এসব বইয়ে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত যেসব বিষয় অন্তর্র্ভুক্ত রয়েছে তা দেখে বোঝা যায় যে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড সিলেবাস প্রণয়ন ও বই প্রকাশের অনুমোদন দেওয়ার পর তা পাঠ্যক্রম অনুযায়ী হয়েছে কি না তা তদারকি করে না। অথচ বইগুলোতে ঠিকই মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নাম ব্যবহার করা হয়।

জামায়াতের আদর্শ প্রচারে মাদরাসা বোর্ড

পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে দিনে পর দিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম সাইফ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি বইগুলো পড়েছি। জামায়াত ও মওদুদীবাদের বিষয়গুলো যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা পুরোপুরি দলীয় আদর্শ প্রচারের নগ্ন কৌশল।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইসলামি পৌরনীতি বইটি আলিমের পাঠ্যক্রম থেকে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বোর্ডের নজরে বিষয়টি আসার পর থেকে মাদরাসার পাঠ্যক্রম আবার পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’ প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বইয়ের বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরও যেসব জায়গায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে যারা এসব বই ছেপেছে সেসব প্রকাশনাকে যথাযথ ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায় না। আমরা একাধিকবার পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়েছি।’

চারদলীয় জোট আমলে করা এই পাঠ্যক্রম এত দিন কেন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? জবাবে এ কে এম সাইফ উল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কীভাবে দিনে পর দিন এসব বই পড়ানো হয়েছে, তা চিন্তা কূল পাওয়া যাবে না। আমি তো বোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে বছরখানেক হচ্ছে। আমি এসেই এসব পর্যালোচনা করে এগুলো পরিবর্তন, পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমার আগে যারা ছিলেন তারা কী করেছে, কে জানে।’

মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব বই পাঠ্য করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে তার এমপিও বাতিলের জন্য সব ধরনের সুপারিশ করা হবে।

জামায়াতের আদর্শ প্রচারে মাদরাসা বোর্ড

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন মনে করেন, এসবের দায় পুরোপুরি মাদরাসা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তাদের চোখের সামনে কীভাবে জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে লিখতে ও বলতে গিয়ে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এর দায় কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা গলা ফাটালেও কোনো লাভ নেই, যতক্ষণ সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী না হবে তত দিন কোনো কাজ হবে না।’

চারদলীয় জোট আমলে মাদরাসা শিক্ষায় করা পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের সময় এসেছে উল্লেখ করে মুনতাসির মামুন বলেন, ‘ছয়সাত বছর ধরে সরকার এ ব্যাপারে অনেকটা নীরব ছিল। এখন যতদ্রুত সম্ভব পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ জামায়াত দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথা চিন্তা করে এসব অপকর্ম করেছে। তাদের এই কৌশল ঠেকানো না গেলে মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে না।’

জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়ে অনেক পর্যালোচনা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। অতীতে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে কুলষিত করা হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে না এলে মাদরাসা শিক্ষার মান বাড়ানো যাবে না।’ তিনি জানান, একটি যুগোপযোগী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করছে।

পাঠ্য বইয়ে জামায়াতের গুণগান

আলিয়া মাদরাসার পাঠ্য বইয়ে কোনো ধরনের রাখঢাক না রেখেই গুণগান গাওয়া হয়েছে একাত্তরে প্রকাশ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামীর। বাংলাবাজারের ইসলামিয়া কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আলিম শ্রেণির ‘ইসলামি পৌরনীতি’। বইটির ৫৯১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীনিতে সর্বাধিক বড় রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ইসলামি রাজনীতিকে এ উপমহাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রয়াস পেয়েছেন। ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপর তাঁর অনেক রচনাবলি আছে। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কার্যাবলি ছাড়াও সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানবতার পাশে সব সময়ই জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আসে। এদেশে ইসলামি অর্থনীতি চালুর প্রচেষ্টায় জামায়াতে ইসলামীর বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের বলিষ্ঠ ভূমিকা মুখ্য। জামায়াতে ইসলামী শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখেছে। জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত বিভিন্ন ট্রাস্ট বা সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। পুস্তক প্রকাশনা, ফোরকানিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রভৃতি প্রণয়নে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি বিশেষ অবদান রেখেছে। তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের অধীনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে। মাদরাসাটির শিক্ষাদানের মান বেশ উন্নত। প্রতিবছর বোর্ডে পরীক্ষায় ছাত্ররা বেশ ভালো ফল করে।’

একই বইয়ের ৩৫৬ নম্বর পৃষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের গুণকীর্তন তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ রাবিতাতুল আলম আল ইসলামির ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার জামায়াতিদের একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘মুসলিম বিশ্বে যে ইসলামি গণচেতনা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলো সদা সচেষ্ট রয়েছে। খ্র্রিস্টান ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোর হীন প্রচেষ্টা মোকাবিলা করার জন্য রাবেতা অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।’

আওয়ামী লীগকে তুলে ধরা হয়েছে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে

একই বইয়ে ৫৮২ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘ধর্ম বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ’ শিরোনামের নিচে দেওয়া বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান করে, কিন্তু ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে না দেওয়ায় ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বরবরাই তিক্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ ছিল। বিএনপি সরকার মরহুম জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সনের সংবিধানের মূলনীতি সংশোধন করে বিসমিল্লাহ সংযোজিত হয় এবং অন্যতম মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতার কথা লিখিত হয়। বিএনপি সরকারের আমলে স্বায়ত্তশাসিত বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড চালু হয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নীতি স্বীকৃত হয়।’

চারদলীয় জোট সরকারের শরিক জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট ‘অনেক চড়াইউতরাই’ পার হয়ে সাফল্য পেয়েছে বলেও দাবি করা হয় বইটিতে। একই পৃষ্ঠায় লেখা হয়, ‘এ চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম দুটি দল হলো জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোট। তাই বলা হয়, এ দেশে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাকরণের ক্ষেত্রে ইসলামী দলগুলো অনেক চড়াইউতরাই পেরিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। সময়ের বিবর্তনে এ দেশের হয়তো একদিন তাওহীদের পতাকা উত্তোলিত হবেএমন ধারণা এ দেশের ইসলামপ্রিয় জনগণের।’

পাঠ্যবইয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারণা বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমলীর সদস্য নূহউল আলম লেনিন। তিনি বলেন, ‘যখন এটি করা হয়েছে তখন যারা সরকারে ছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে বিশ্বাস করে না। যে কারণেই মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্য বইয়ে এসব অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এর দায় বর্তমান সরকারের নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব এসব পাঠ্য বই নিষিদ্ধ করা দরকার।’

মওদুদীবাদের প্রচার, জাতীয়তাবাদের সমালোচনা

সুকৌশলে সরকারি পাঠ্য বইয়ে মওদুদীবাদের প্রচার করা হচ্ছে। মওদুদীর উক্তিকে উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আলিম শ্রেণির বইয়ে। বাংলাবাজারের আলবারাকা লাইব্রেরি প্রকাশিত ‘ইসলামি পৌরনীতি’ বইয়ে ‘কওমিয়াতজাতীয়তাবাদ’ শিরোনামে লেখা নিবন্ধে মওদুদীর উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। ‘জাতীয়তাবাদ ইসলামি আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলেও এখানে উল্লেখ আছে। বইটির ৭০ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে– ‘সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী (রহ.)-এর মতে, ‘জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম উভয়ে মতাদর্শ হিসেবে পরস্পরের বিপরীত।’ তাঁর মতে, ‘মুসলমানদের হৃদয় ও মনের এক প্রান্ত দিয়ে যখন জাতীয়তাবাদের চেতনা অনুপ্রবেশ করে, তখন অন্য প্রান্ত দিয়ে ইসলাম নিষ্ক্রান্ত হয়। যে মুসলিক নিজেকে জাতীয়তাবাদের ধারক বলে জাহির করেন, তিনি ইসলামের আলোকবর্তিকা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শের বিপরীতে জাতীয়তাবাদ মানুষে মানুষে বিভক্তি আনে। জাতিতে জাতিতে হিংসা, বিদ্বেষ, লড়াই ও সংঘাত জাতীয়তাবাদেরই পরিণাম।’

এ বিষয়ের আলোচনায় জাতীয়তাবাদকে বিশ্বে মানবতার ‘বিপর্যয়’ ও ‘বিপদের’ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানেও মওদুদীর ভাষায় ‘জাতীয়তাবাদ হচ্ছে, বর্তমান বিশ্বে মানবতা যেসব বিপর্যয় ও বিপদাপদে নিপতিত তার মূল কারণ।’ দিল্লি থেকে মাকতাবা জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশিত মওদুদীর ‘প্রসেস অব ইসলামিক রেভ্যুলেশন’ বই থেকে এই উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

আলিম শ্রেণির ‘ইসলামী পৌরনীতি’র এ বইটির ৮০ নম্বর পৃষ্ঠায় মওদুদীকে ‘বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বিংশ শতাব্দীর ইসলামি পুনর্জাগরণ আন্দোলনের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ বইয়ের ৮৫ ও ৮৬ পৃষ্ঠায় ‘ইসলামি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা’য় মওদুদী, গোলাম আযম, মোহাম্মদ আসাদ, আবুল কাসেম ছিফাতুল্লাহর উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ.)-এর মতে, ‘ইসলামী রাষ্ট্র একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র। ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নই এ রাষ্ট্রের লক্ষ্য। মানবজীবনের সব দিককে এ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলে এটিকে সর্বাত্মক রাষ্ট্রও বলা যায়।’ ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় আরও বলা হয়, অধ্যাপক গোলাম আযমএর মতে, ‘যে রাষ্ট্রের আইন রচনা, শাসনকার্য ও বিচারব্যবস্থা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা চূড়ান্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তারই নাম ইসলামি রাষ্ট্র।’ মুহাম্মদ আসাদএর মতে, ‘একটি রাষ্ট্রকে তখনি ইসলামি রাষ্ট্র বলা যায়, যখন ইসলামের সমাজ রাষ্ট্র, সম্পর্কিত বিধানগুলো জাতির জীবনে সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং দেশের মৌলিক শাসন সংবিধানে সেগুলো অন্তর্র্ভুক্ত করা হয়।’ একই প্রসঙ্গে ‘আবুল কাসেম ছিফাতুল্লাহর মতে-‘যে ভূখন্ডে ঐশী সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য, সরকার, জনগণ ও আল্লাহর আইন তথা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ নীতির বুনিয়াদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গোটা ব্যবস্থাকে পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকেই বলা হয় ইসলামি রাষ্ট্র।’

ছাত্রশিবিরের প্রচারণাও পাঠ্য বইয়ে!

চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে করা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম শ্রেণির পাঠ্যক্রম এখনো চলছে। ওই পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আলিম শ্রেণির বইয়ে অনেক সূক্ষ্ম কৌশল মেনে ইসলামী ছাত্রসংঘ, ছাত্রশক্তি এবং ছাত্রশিবিরের প্রচার করা হয়েছে। আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের প্রকাশিত ‘ইসলামি পৌরনীতি’ বইয়ের ৫৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে– ‘যুগে যুগে ব্যক্তি সমষ্টি তথা সমিতি, সংঘ, দল প্রভৃতিও ইসলামী মূল্যাবোধের অনুশীলনে যথেষ্ট অবদান রাখছে। বর্তমান শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বে বহু দেশে বহু সংঘ বা দল সমাজে ইসলামী মূল্যবোধে জাগ্রত করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইখওয়ানুল মুসলেমীন, ইন্দোনেশিয়ান শরীয়ত পার্টি, মালয়েশিয়ায় প্যান মালেয়ান ইসলামী অ্যাসোসিয়েশন, ভারতীয় উপমহাদেশে ও আফগানিস্তানে জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদের মধ্যে সাবেক ইসলামী ছাত্রসংঘ, ছাত্র শক্তি পরে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রভৃতি ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টায় মুসলিম সমাজে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে বা হচ্ছে।’

ধর্মনিরপেক্ষবাদের সমালোচনা

ধর্মনিরপেক্ষবাদ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে আলবারাকা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘ইসলামি পৌরনীতি’ বইটিতে। ৩৮৭ নম্বর পৃষ্ঠায় বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা শিরোনামের লেখা প্যারায় বলা হয়েছে-‘কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই ধর্মনিরপেক্ষতা জুড়ে দেওয়া হলো শতকরা ৯০ জন মুসলিম রাষ্ট্রের সংবিধানে। রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে ধর্মহীনতাকে প্রতিষ্ঠা করা হলো, যা রাষ্ট্রের সর্বত্র অশান্তির দাবানল প্রজ্জ্বলিত করেছিল।’ এর পরেই ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয়ে বলা হয়েছে– ‘এই প্রশ্নের জবাবে এতটুকুই বলা যথেষ্ট যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কোনো কল্যাণমূলক মতবাদ পৃথিবীতে নেই।

ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতার নামান্তর। ধর্মকে ধ্বংস করার কৌশল হিসেবে রচিত একটি অপতন্ত্র। কেননা ধর্মনিরপেক্ষতার মূলকথা হলো, কোনো ধর্মই স্বয়ংসম্পর্ণ নয়। সুতরাং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধর্মকেই মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্ম থেকে কিছু কিছু মূলনীতি গ্রহণ করে মূলনীতিগুলো মানব রচিত মতবাদ থেকে গ্রহণ করত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। এটি ইসলামি ধর্ম বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ একই বইয়ের ৪৯১ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘এ দেশে সরকারি উদ্যোগে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের কাজ তেমনটা হয়নি।’ একই বিষয়ে টেনে আনা হয়েছে মওদুদীকেও। বলা হয়েছে-‘ইসলামি সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলামি চেতনা ও সংস্কৃতির বিকাশে অনবদ্য অবদান রাখেন এ উপমহাদেশে সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ.)। ইসলামী অর্থব্যবস্থা, ব্যাংকিং, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ, রাজনৈতিক দর্শন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

একই পৃষ্ঠার অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া ইসলামি আইন চালু হতে পারে না বলেই জামায়াত রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করে। সমাজ সেবা ও সামাজিক সংশোধনের জোর তাগিদ ইসলাম দিয়েছে বলেই জামায়াত সমাজ সেবা ও সমাজ সংস্কারে মনোযোগ দেয়। তাই জামায়াতে ইসলামি একাধারে ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল। এ অর্থেই জামায়াতে ইসলামি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি আন্দোলন ও ইসলামি বিপ্লবের পতাকাবাহী কাফেলা।’ একই পৃষ্ঠার শেষ দিকে ‘জিহাদে’ উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘ইকামাতে দ্বীনই মুসলিম জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। জিহাদই (সংগ্রাম) আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের একমাত্র পথ।’

নারী রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘অক্ষম’!

নারীকে রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোপুরি ‘অক্ষম’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মাদরাসার পাঠ্য বইয়ে। ইসলামিয়া কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত ‘ইসলামি পৌরনীতি’ বইয়ের ৩৩৪ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘নারীর দৈহিক ও প্রাকৃতিক কারণে পুরুষের তুলনায় অক্ষম। ফলে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পদে নারী নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা প্রায় সর্বজন স্বীকৃত। আর এ কারণে বলা হয়েছে নেতৃত্বেদান কেবলমাত্র পুরুষদের পক্ষেই সম্ভব।’

পাঠ্য বইয়ে শিশু কিশোররা নারীবিদ্বেষী কথা পড়লে সারা জীবনেই তার প্রভাব থাকে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই যদি শিশুকিশোরদের নারীদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা দেওয়া হয় তবে তারা বড় হয়েও এই চিন্তাকেই ভেতরে লালন করে। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র দায়ী।’ তিনি বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড নয়, অন্যান্য শিক্ষামাধ্যমের পাঠ্য বইয়েও যদি নারীদের ব্যাপারে বিরূপ ধারণার কিছু লেখা হয় তা হলে দ্রুত তা বাদ দিতে হবে। নারীদের ব্যাপারে এই সমাজের ধ্যানধারণা পরিবর্তন না হলে দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন হবে না।’

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও জামায়াতের

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড শুধু আলিম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে। তারা নিজেরা কোনো বই প্রকাশ করে না। পাঠ্যক্রমের আলোকে বেসরকারি প্রকাশকরা বই ছাপায়। এর মধ্যে আছে আলবারাকা লাইব্রেরি, ইসলামিয়া কুতুবখানা, আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স, পাঞ্জেরী প্রকাশনী, কামিয়াব প্রকাশনী, আলমদিনা প্রকাশনী, মিল্লাত প্রকাশনী, ইমতেহান প্রকাশনী, মাদরাসা লাইব্রেরি, আলআরাফা প্রকাশনী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রকাশনীর সিংহভাগই জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের। যারা ব্যবসার আড়ালে দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যবইকে। যে কারণে, প্রায় সব প্রকাশনীর বইয়ে একই ধরনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের অনুদানও দেওয়া হয় এসব প্রকাশনীকে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, মাদরাসা বোর্ড একটি পাঠ্যক্রম করে দিয়েই তাদের দায় শেষ, এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রকাশনীগুলো পাঠ্যক্রমভাবে মানছে কিনা তাও কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। ভালো করে পরীক্ষানিরীক্ষা করে বই বাজারজাত করার অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে এসব বইয়ের আড়ালে জামায়াতের দলীয় আদর্শ ও মওদূদীবাদের যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা ঠেকানো সহজ হবে না।

আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার পেছনে

এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি বছর কম করে হলেও দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে। সরকারের এই বিপুল অর্থ মূলত জামায়াত ও মওদুদী দর্শনের প্রচারে ব্যবহার হচ্ছে। যদি সত্যিকার অর্থে আলিয়া মাদরাসার মাধ্যমে প্রকৃত আলেম তৈরি করতে হয় তা হলে আলিম থেকে কামিল পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক সরকারিভাবে রচনা ও প্রকাশিত হওয়া দরকার।’

বই বিতরণের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে

মাদরাসা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪৯ লাখ ৭১ হাজার ১২৩ জন মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে বই দিয়ে আসছে। আলিয়া মাদরাসার আলিম থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষার্র্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। মাদরাসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে সরকার ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে বই দিতে পারছে, সেখানে মাত্র সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে বই দেওয়া কঠিন কিছু হবে না। এতে সরকারের যে আর্থিক ব্যয় হবে তার চেয়ে রাষ্ট্রীয় কল্যাণ বেশি হবে। কারণ ইসলামী রাষ্ট্রের নামে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ইসলামী বিপ্লবের বীজ বুনে দেওয়া হচ্ছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নতুন করে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।

জড়িতদের শাস্তি দাবি

মাদরাসা শিক্ষাকে যারা রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারে ব্যবহার করেছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তারা বলেন, পাঠ্য বই হচ্ছে একটি শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার পাঠ। তারা যদি শুরুতেই কোনো রাজনৈতিক দলের হীন প্রচারের স্বীকার হন তা হলে সঠিক ইতিহাস জানার ও বোঝার সুযোগ হবে না। জামায়াতপন্থিরা বুঝে শুনেই এসব অপরাধ করেছে। তাই তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি অযৌক্তিক নয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমলীর সদস্য নূহউল লেনিন বলেন, ‘কারা এসব বই লিখেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে এসব অপকর্মের বিহিত হবে না।’

http://www.bdmonitor.net/newsdetail/detail/200/100978 1 Dec, 2014

নারী নির্যাতনে তাকফিরি গোষ্ঠী আইএসআইএল-এর নৃশংসতা

মার্চ 22, 2015 মন্তব্য দিন

পাশ্চাত্য ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের মদদপুষ্ট তাকফিরিওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল ইসলামী খিলাফত ও শরিয়ত প্রতিষ্ঠার নামে নানা ধরনের বর্বর এবং নৃশংস তৎপরতা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চলে নারীদের ওপর পৈশাচিক এবং পাশবিক নির্যাতন হচ্ছে এসবের মধ্যে অন্যতম। ২০১৩ সাল থেকে সক্রিয় এই গোষ্ঠী নানা শহর দখলের পর সেখানে ঘরবাড়ি ধ্বংস করে পুরুষদের হত্যা করে ও নারীদের ধর্ষণ করে বা যৌনদাসী বানায়। তারা শিয়া মুসলমান ও সুন্নি এবং খ্রিস্টানসহ দলমত নির্বিশেষে তাদের চিন্তাদর্শের বিরোধী যে কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গেই এ ধরণের অমানুষিক আচরণ করছে।

তাকফিরিওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল গত বছরের তথা ২০১৪ সালের পয়লা আগস্ট সন্ধ্যায় সিনজার শহরে হামলা চালিয়ে তা দখল করে নেয় এবং উত্তর ইরাকে অবস্থিত এ শহরটির অধিবাসীদের ওপর পৈশাচিক নৃশংসতা চালায়। শহরটি স্থানীয় কুর্দি ইজাদি সম্প্রদায়ের কাছে খুবই পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বহু বছর ধরে তারা সেখানে কোনো সংঘাত ও উপদ্রব ছাড়াই নিজস্ব ধর্ম ও প্রথাগুলো পালন করে আসছিল।

সারা বিশ্বে ইজাদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। আর তাদের বেশিরভাগই বসবাস করে ইরাকে। তাদের দুটি পবিত্র স্থানের নাম শেনগাললাশ। তাকফিরিওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সিনজার শহর দখল করে নিলে স্থানীয় অধিবাসীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হাজার হাজার অধিবাসী আশপাশের পাহাড়গুলোতে আশ্রয় নেয়। বাবা শেইখ হাদি নামের একজন প্রবীণ ইজাদি জানিয়েছেন, তাকফিরিওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল পালিয়ে যেতে অক্ষম স্থানীয় পুরুষদের হত্যা ও নারীদের ধর্ষণ করে।

এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিজিত অঞ্চলের নারীদেরকে গণিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বলে মনে করে এবং তাদেরকে মানুষ বলেই মনে করে না। ইজাদি সম্প্রদায়ের নারী ও কন্যাদের সঙ্গে আইএসআইএলকর্মীদের গণধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটেও প্রচারের ব্যবস্থা করেছে এই তাকফিরি গোষ্ঠী। বিষয়টিকে প্রচারযুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তারা যাতে সবাই এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে ভয় পায়।

২০১৪ সালের ৭ ই আগস্ট ইরাকি রেডক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুহাম্মাদ খাজায়ি সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেছেন: আইএসআইএল বন্দী খ্রিস্টান ও ইজাদি নারীদেরকে মসুলের একটি বাজারে নিয়ে আসে বিক্রি করে দেয়ার জন্য।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থার প্রধানও জানিয়েছেন: যদিও উগ্রবাদের বিষাক্ত ছোঁয়া ইরাকি সমাজকে দিনকে দিন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ও হুমকির শিকার হচ্ছে নারীরা।

নির্ভরযোগ্য নানা রিপোর্টে দেখা গেছে, ইরাকের নারী ও কন্যারা আইএসআইএলএর সেনা রিক্রুটকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে অপহরণ, ধর্ষণ ও বলপূর্বক বিয়ের মত নানা ধরণের পাশবিকতা এবং নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। এগুলো স্পষ্টভাবেই মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ইরাকের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ও এইসব বাস্তবতার কথা স্বীকার করেছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এসেছে:

আইএসআইএলএর অন্যতম কমান্ডার আবু উনস আললিবি নিকাহর জিহাদ বা যৌনজিহাদে অংশ নিতে অস্বীকার করায় ইরাকের ফাল্লুজা শহরের ১৫০ নারী ও কন্যাকে হত্যা করেছে। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের নারী সংস্থার প্রধান বলেছেন: এইসব ঘটনার খবর খুবই উদ্বেগজনক। আমরা জেনেছি যে কোনো কোনো নারী আইএসআইএলএর সেনা রিক্রুটকারী ব্যক্তিদের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যার পদক্ষেপ নেন।

সম্প্রতি ফরাসি বার্তা সংস্থার রিপোর্টার ডাবলিও জি ডানলোপ ধর্ষণের শিকার হওয়ার লজ্জার চেয়ে আত্মহত্যা ভালোশীর্ষক বাগদাদ থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে আইএসআইএলএর হাতে ইজাদি নারী ও কন্যাদের দুর্দশা সম্পর্কে জানিয়েছেন: জিইলান ছিল ১৯ বছর বয়স্ক এক ইজাদি তরুণী। হাজার হাজার ইজাদি নারীর মত তাকেও যাতে ইজ্জত হারাতে না হয় সে জন্য সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইএসআইএলএর ৪০ জন সাবেক পণবন্দির সাক্ষাৎকার থেকে জানিয়েছে: এই গোষ্ঠীর যৌনদাসী হওয়ার শিকারদের উল্লেখযোগ্য এক অংশ ১৪ ও ১৫ বছরের কিংবা তার চেয়েও কম বয়সী বালিকা। এই মেয়েদের ওপর মানসিক ও দৈহিক নির্যাতনের প্রভাব খুবই দুঃখজনক বা ভয়াবহ। তাদের অনেকেই ভয়াবহ পাশবিকতার শিকার হয়েছে। এমনকি যারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারাও তীব্র মানসিক কষ্টের শিকার হয়। অন্য এক রিপোর্টে এসেছে যে, আইএসআইএলএর সেনা রিক্রুটকারী ব্যক্তিরা কোনো কোনো পুরুষ বন্দির সামনেই তাদের স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণ করে কিংবা তাদেরকে ওইসব ধর্ষণের দৃশ্য দেখতে বাধ্য করে। আর এ কারণে তারা আত্মহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে তাকফিরিওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল নারীদেরকেও সন্ত্রাসীসেনা হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা এক দল সরলমনা পশ্চিমা নারীকেও এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য করতে সক্ষম হয়েছে এবং স্থলযোদ্ধা হিসেবে তাদেরকে ব্যবহারও করছে।

তাকফিরিওয়াহাবি আইএসআইএল গোষ্ঠী পশ্চিমা মুসলিম নারীদের ধোঁকা দেয়ার জন্য এটা প্রচার করছে যে, তাদের গোষ্ঠীর সদস্য হলে বেহেশতে যাওয়াটা অবধারিত বা অনিবার্য । এইসব নারীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সিরিয়ার আলেপ্পো বা হালাবের কাছে একটি ঘাঁটিও গড়ে তুলেছে আইএসআইএল। প্রশিক্ষণশেষে নানা সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে এইসব নারী। এ ধরণের সরলমনা নারীদের দিয়ে একটি আত্মঘাতী হামলার টিম গড়ারও চেষ্টা করছে আইএসআইএল। এই নারীদের যেসব কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো, আইএসআইএলবিরোধীদের চিহ্নিত করা এবং এরপর খাবার ও পানিতে বিষ মিশিয়ে তাদেরকে হত্যা করা। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যপদ বর্জনকারী এক নারী জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার কিছু কাজ তুরস্কসহ আশপাশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আইএসআইএলএ যোগদেয়া সরলমনা সশস্ত্র নারীদের দিয়ে নিরপরাধ লোকদের জিজ্ঞাসাবাদের কাজও করানো হয়। দখলকৃত অঞ্চলের নানা তথ্য সংগ্রহ করা ও সেখানকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই তা করা হয়। এ ছাড়াও এই নারীদের দিয়ে আইএসআইএলএর কর্মীদের মধ্যে যৌন জিহাদ বা জিহাদুন নিকাহর নামে ব্যভিচারও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট মেন্ডিক গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন: বহু ব্রিটিশ নারী ও কন্যা আইএসআইএলএর সদস্য হিসেবে কাজ করছে। তারা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সেই ব্যক্তির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে যে ব্যক্তিটি দুজন মার্কিন সাংবাদিকের মাথা বিচ্ছিন্ন করেছে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে ওই ঘাতকের ছদ্মনামটি হলো জন। আইএসআইএলএ যোগ দেয়া এক নারীর নাম হলো আকসা মাহমুদ। ২০ বছরের এই তরুণী ব্রিটেনের গ্লাসগো থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় যায় ও সেখানে আইএসআইএলএর এক সদস্যকে বিয়ে করে। মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগে সে জানায়: তোমার সঙ্গে পরকালে দেখা হবে এবং সেখানে তোমাকে সাহায্য করবো যাতে একইসঙ্গে বেহেশতে যেতে পারি; কারণ, আমি শহীদ হব।

আকসা ছাড়াও ৬০ জন ব্রিটিশ নারী ও কন্যা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইস্কুলের পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে আইএসআইএলএ যোগ দিয়েছে। এদের বয়স ১৮ থেকে ২০। ব্রিটেন ও জার্মানিসহ ইউরোপের আরো অনেক দেশের সরলমনা মুসলিম মেয়ে ও নারীরা তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসআইএলএর সদস্য হয়েছে। অনেক মার্কিন নারী ও কন্যাও পালিয়ে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে এই ওয়াহাবিতাকফিরি গোষ্ঠীর সদস্য হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সোমালিয়ার কয়েকটি মেয়ে আমেরিকা থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় এসে এই গোষ্ঠীর সদস্য হয়। শনোন কনেলী নামের ১৯ বছর বয়স্ক এক মার্কিন তরুণী সালাফিপ্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে আমেরিকা থেকে পালানোর সময় বিমানবন্দরে ধরা পড়ে। পাশ্চাত্যের এইসব নারীর অনেকেই আইএসআইএলএর কর্মীদের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এরিমধ্যে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। ফলে ইউরোপের অনেক মা টেলিভিশনে হাজির হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে পালিয়ে যাওয়া তাদের সন্তানদেরকে দেশে ফিরে আসার অনুরোধ করছেন।

রাজতন্ত্র কি ইসলামে হারাম?

মার্চ 21, 2015 মন্তব্য দিন

সম্প্রতি সৌদী বাদশাহ আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করলে ব্লগে জামাতশিবির কর্মীসমর্থকদের আমরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে দেখলাম তাদের হলাহল উদগীরণের পরিমাণ এতো বেশী উৎকটভাবে প্রকটিত ছিলো যে, প্রথাগতভাবে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউনপড়তে তাদের দ্বিধান্বিত দেখা গেলো মুসলমান মারা গেলে বিরূপ মন্তব্য করার পরিবর্তে চুপ থাকা বিষয়ক হাদীসটিকে শিকেয় তুলে রাখা হলো এর মূল কারণমিশরে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত ইসলামপন্থী রাষ্ট্রপতি মুরসীকে উৎখাতের পর সেনা শাসক সিসিকে সমর্থন প্রদান এবং মুরসীকে সমর্থনকারী খুবই নগণ্য সংখ্যক সৌদী উলামাকে গ্রেফতার করে কারাবন্দী করে রাখার কারণে রাজতন্ত্র বহাল রাখার কারণে নয়

যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকাবলে একটি কথা আছে । সে কথার জের ধরে বাদশাহ নামজাদাকে ইহুদীদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্যও দায়ী করা হয় । তেমনিভাবে মৃদু বিদ্রূপ করা হয় ইরাকে আক্রমণের নিমিত্তে হাদীসের বাণী উপেক্ষা করে জাজিরাতুল আরবে বিধর্মী সৈন্যদের আস্তানা গড়ে দেবার জন্য । তাদের বিলাসী জীবনযাপনের জন্য কিঞ্চিত ভৎর্সনা অবশ্য তারা করে থাকে ।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো সৌদী আরবে রাজতন্ত্র প্রচলিত আছে ; আর তাদের দীক্ষাগুরু মওদূদীর ব্যাখ্যানুসারে তারা বুঝে নিয়েছে যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম । সুতরাং সৌদী বাদশাহ হচ্ছেন একজন হারামজাদা (?) । তাহলে তো সেই বাদশাহর অধীনে রিযিকের তালাশ করাও নিশ্চয়ই হারাম সুদী ব্যাংকে কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যেমন হারাম । মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব জেনেশুনেই জামাতশিবিরেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক বাহিনী খোদ হারাম রাজতন্ত্রের দেশ সৌদী আরবে আরামে হারাম হালুয়ারুটি ভক্ষণে (অর্থাৎ হারাম অর্থ উপার্জনে) ব্যস্ত সেদিকে অবশ্য তাদের বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই ।

তেমনিভাবে বিভিন্ন সময়ে সৌদী বাদশাহদের খুড়কুটো খাওয়া সত্ত্বেও তাদের নাফরমানিতে ব্যস্ত তারা । সৌদী বাদশাহ মওদূদীকে কিং ফায়সাল পুরষ্কারে ভূষিত করলে তাতে গর্ব বোধ করে মাওলানাও সেই হারামপুরষ্কার গ্রহণ করতে পিছপা হননি ! মাওলানা সাহেব মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচী নির্ধারণের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও ভুলেও কখনো তাদের নসিহত করতে যাননি ইসলামে রাজতন্ত্রের ব্যাপারে অবস্থান খোলাসা করার জন্য । সৌদী দূতাবাস থেকে কারাগারে থাকা অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে খেজুর পাঠানো হলে তা গ্রহণ করতে কুন্ঠিত হয় না তারা ।saudi-dates-for-golum-azam

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্নভাবে নানা রকম নজরনেওয়াজ তারা অতীতে গ্রহণ করেছে এবং এখনো করে চলেছে যার ফিরিস্তি দেয়া এই লেখার উদ্দেশ্য নয় । রাতদিন ইসলামে রাজতন্ত্র হারামবলে তারস্বরে চীৎকার করেও তাদের নেকনজরে থাকার একমাত্র কারণ (আমার ধারণা মতে) হচ্ছে বাংলাদেশে আব্দুল ওয়াহহাব নজদীর আক্বিদা গ্রহণ, প্রচার ও প্রসারে সহায়তা করার জন্য ।

এবার মূল কথায় ফিরে আসি । মাওলানা মওদূদীর অত্যন্ত বিতর্কিত রচনা খিলাফত ও মুলুকিয়াতবইএর বক্তব্যের রেশ ধরে জামাতশিবির অনেক দিন ধরেই গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছে যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম। বিশেষ একটা পড়াশোনা না করেই তাদের সাথে কোরাস গেয়ে চলেছেন আমাদের দেশের একটা উল্লেখযোগ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা । কিন্তু ইসলাম আসলে এ ব্যাপারে কি বলে সে সম্বন্ধে বেশীর ভাগ মানুষই অজ্ঞ রয়ে আছেন ।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত লিখবো । এখন শুধুমাত্র কিছু বইয়ের স্ক্রীণশট পেশ করে রাখলাম ।

কুরআন বা হাদীসের কোথাও সরাসরি খিলাফত বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা সরাসরিভাবে উল্লেখ করা হয়নি । আল্লাহ কুরআনে পৃথবীতে তাঁর খলিফা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন । সে কথা অনুসারে প্রতিটি মানুষই তাহলে খলিফা । তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজেকে কখনো খলিফা আ আমীরুল মুমিনিন হিসেবে ঘোষণা দেননি । এ কথার মাধ্যমে এটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে না যে, মুসলমানদের আল্লাহ নির্ধারিত শরীয়াহ অনুসারে জীবনযাপন করার দরকার নেই । আমার ব্যক্তিগত অবস্থান মুফতী ত্বাকী উসমানীর মতো যা আমি নীচে উপস্থাপন করেছি ।

মওদূদী বা জামাতশিবির সাহাবীদের সত্যের মানদন্ড হিসেবে গ্রহণ করতে রাজী নয় কিন্তু নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করার সময় ঠিকই পিছপা হয় । যেমন, রাজতন্ত্র হারাম ফতোয়া দেবার ক্ষেত্রে কুর’আন বা হাদীস বাদ দিয়ে সাহাবী আবু মুসা আশআরীর (রাঃ) ব্যক্তিগত মতামতকে সর্বসত্য হিসেবে গ্রহণ করেছে । ভন্ডামী আর কাকে বলে?

khilafat-maududi-86

মাওলানা হেমায়েত উদ্দীনের ইসলামী আক্বিদা ও ভ্রান্ত মতবাদবইএ রাজতন্ত্র যে হারাম না তা তুলে ধরা হয়েছেঃ

monarchy-hemayet-595

monarchy-hemayet-596

মুফতী ত্বাকী উসমানী তাঁর ইসলাম ও রাজনীতিগ্রন্থে রাজতন্ত্র যে হারাম না তা তুলে ধরেছেন । রাজতন্ত্র হারাম যে একটা প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় প্রোপাগান্ডা তা তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন ।

monarchy-taqi-52

monarchy-taqi-53

ওয়াহহাবী-সালাফীপন্থী দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত History of Islam নামক গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ভূমিকায় ইসলামী শাসন পদ্ধতি যে বিশুদ্ধ গণতন্ত্র ও বিশুদ্ধ স্বৈরতন্ত্রের মাঝামাঝি ব্যাপার তা অকপটে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে । ইসলামের এই রকম শাসন পদ্ধতি অনেকের কাছে মনোপুত না হতে পারে কিন্তু এটাই বাস্তবতা । এর মাধ্যমে আমি বলতে চাচ্ছি না যে, আমি রাজতন্ত্রের সমর্থক ।

autocratic_rule-phistory-of-islam-cover