আর্কাইভ

Archive for ফেব্রুয়ারি, 2016

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকায়নে ব্যয়ের আহবান

US nuclear arsena modernisation

Advertisements

গান শোনার ‌’অপরাধে’ কিশোরের শিরশ্ছেদ

beheading-isisগান শোনা হারাম, এমন ফতোয়াই দেয়া আছে জঙ্গিগোষ্ঠীর আইএসের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই বিধি নিষেধ না মেনে অবসর সময়ে বাবার দোকানে বসে গান শোনছিল ১৫ বছরের এক কিশোর আয়হাম হোসেন। তাও আবার পপ সঙ্গীত। আর সেই খবর চলে যায় আইএস জঙ্গিদের কাছে। পরে আয়হামকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিদের আস্তানায়। জনসমক্ষেই ঘার থেকে মুণ্ডু আলাদা করে দেয়া হয় ওই নাবালকের। ঘটনাটি ঘটেছে আইএস নিয়ন্ত্রিত ইরাকের শহর মসুলে। আইএসের ওয়েবসাইটে পাওয়া ওই ভিডিও ফুটেজটি শুক্রবার প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। এর আগে সমকামীদের হত্যা, পতিতাদের ধর্ষণ করে খুনসহ একাধিক নৃশংসতার নজির রেখেছে জঙ্গি সংগঠন আইএসের সদস্যরা। কিন্তু গান শোনার জন্য মানুষকে গলা কেটে হত্যা করা হল এই প্রথম। জানা গেছে, আয়হামের বাবার একটি মুদির দোকান আছে। সেখানে বসেই অবসর সময়ে সিডিতে গান চালিয়েছিল আয়হাম। খবর পেয়েই চলে আসে জঙ্গি সদস্যরা। তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিদের আস্তানায়। জনসমক্ষেই তার শিরশ্ছেদ করে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়।

দৈনিক যুগান্তর, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০১৬

হিলারি ক্লিনটন : মিথ্যার রানী যুদ্ধে যায়

Hillary-2016১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ। বিল ক্লিনটনকে নির্বাচিত করার পাশাপাশি জনগণ তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও নির্বাচিত করেছিল। অবশ্য বিল ক্লিনটন নিজেও এই কথা স্বীকার করেছিলেন ক্ষমতায় থাকাকালীন। ক্ষমতায় বসার পর বিল যখন স্বাস্থ্যবিল সংক্রান্ত গাড্ডায় আটকে যান তখন একমাত্র হিলারির রাজনৈতিক সফলতাই বিলকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। যোগ্য স্ত্রীর মতো তিনি দাড়িয়েছিলেন স্বামী প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাশে। তাই নিজের স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বলতে কার্পণ্য বোধ করেন না বিল। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত হিলারি কতটা যোগ্য সেটা কিন্তু প্রমাণ হয়নি। কারণ বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়ে যাওয়া এবং সেই যুদ্ধের পরামর্শক হিসেবে হিলারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার কোনো কাজ বলতে গেলে নেই।

২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারির সময় হিলারি তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আর্বিভূত হয়েছিলেন। নিজে ফার্স্ট লেডি থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৬ সালে বসনিয়ায় তার যুদ্ধবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং বারংবার ভ্রমনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ওই পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই বসনিয়া ভ্রমনের কথা স্মরণ করতে চাই। হোয়াইট হাউসে একটা কথা ছড়িয়ে আছে যে, জায়গাটি যদি ছোটো হয়, গরীব হয় অথবা বিপজ্জনক হয় তাহলে সেখানে প্রেসিডেন্ট যেতে পারেন না। আর তখনই সেখানে ফার্স্টলেডিকে পাঠানো হয়। স্নাইপারদের বন্দুকের সামনে দিয়ে বিমান থেকে নামার কথা আমার মনে আছে। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য নামকেওয়াস্তে কিছু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও কোনো মতে আমরা মাথানিচু করে গাড়িতে উঠে আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌছাই।’

হিলারি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বেশ আবেগ এবং তথ্য হাজির করে কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু হিলারির বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন অনেকেই যারা সেদিন ওই বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। এমনকি টেলিভিশন ফুটেজেও দেখা যায়, বিমানবন্দরে হিলারি ক্লিনটন ও তার মেয়ে চেলসিয়াকে স্থানীয় স্কুলের ছোটো শিশুরা ফুল হাতে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। ২০০৮ সালে ফিলাডেলফিয়ার ডেইলি নিউজের এডিটোরিয়াল বোর্ড এক সাক্ষাতকারে হিলারিকে বেশ চেপে ধরেছিল এবং সেসময় হিলারি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, ওই বিমানবন্দরে কোনো স্নাইপার ছিল না। সেসময় তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা একটা ছোটো কথা মাত্র। আপনি জানেন, আমি যদি এরকম কিছু বলি, আমি অনেক কথাই বলি। প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন শব্দ আমাকে বলতে হয়। সুতরাং আমি যদি কোনো ভুল বলে থাকি তবে সেটা স্রেফ একটা ভুল বিবৃতি।’

হিলারিকে কোনোদিন স্নাইপার রাইফেলের সামনে দাড়াতে হয়নি। কিন্তু তিনি জানেন কিভাবে বিব্রতকর প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে হয়। কথা হলো, তিনি প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন শব্দ বলেন। আর সেই অগুনতি শব্দের মধ্যে যাকে তিনি ভুল বিবৃতি বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন সেটা যতটা ভুল তার চেয়েও অধিক মিথ্যে। স্নাইপারদের কাছ থেকে বেঁচে ফেরার বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবেই কিম্ভুতকিমাকার এবং নৈতিকভাবে ঠিক নয়। হিলারির ভ্রমনের চার মাস আগে বসনিয়ার বৈরি পরিবেশ অনেকটাই শান্ত করা হয়েছিল ডেটন শান্তি চুক্তির ফলে। ১৯৯৫ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে ওই চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল। হিলারি ওই তথ্যগুলো বলতে ব্যর্থ হয়েছিলেন কিংবা তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন চাতুরি করে।

Hillary-morphedপ্রকৃতপক্ষে, যেসব স্থান বিপজ্জনক সেখানে প্রেসিডেন্ট যাওয়ার বদলে ফার্স্টলেডিকে পাঠানোর বিষয়টি তেমন নয়। বরংচ শান্তি চুক্তির পরেও বসনিয়ার উপর যে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ একটুও কমেনি সেটা প্রকাশেই ফার্স্টলেডি ও তার মেয়েকে পাঠানো হয়েছিল দেশটিতে। হিলারির মুখপাত্র হাওয়ার্ড উলফসন নিজেও হিলারির বক্তব্যকে ভুল বিবৃতি বলে দাবি করেছিলেন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি নিজেও ছিলেন বলে জানান। হিলারি বসনিয়ার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলেছিলেন, সেখানে হাওয়ার্ডের বক্তব্য হলো, যদি যুদ্ধই না থাকে তাহলে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকে কিভাবে? আর এটাও উল্লেখ্য যে, বসনিয়ার যে অঞ্চলে মার্কিন সেনাঘাটি অবস্থিত সেটা মূলত সবচেয়ে বড় মুসলিম অধ্যুষিত নিরাপদ অঞ্চল বসনিয়ার মধ্যে।

বসনিয়া নিয়ে মিথ্যে বলা নতুন কিছু নয়। কিন্তু হিলারির মিথ্যে কথাটি মূলত তার একান্তই মনগড়া ও উদ্দেশ্যে প্রনোদিত। অবশ্য হিলারি এই মিথ্যে বলার কৌশলটি রপ্ত করেছিলেন সাবেক রাজনৈতিক কর্মী সারা পালিনের কাছ থেকে। কারণ এই সারা পালিনও সুদূর আলাস্কা থেকে রাশিয়া সম্পর্কে নানান মিথ্যে কথা বলতেন। হিলারিও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ক্ষেত্রে সারা পালিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই একই ধরণের মিথ্যের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে চেয়েছিলেন এবং তখন থেকেই মূলত তিনি পররাষ্ট্র নীতিমালা প্রশ্নে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন মিথ্যের ভিত্তির উপর দাড়িয়ে।

হিলারির আত্মজীবনি নিয়ে লেখা বইয়ের লেখক গেইল শেলি লেখেন যে, ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ায় বোমা নিক্ষেপের ইন্ধনদাতাদের মধ্যে হিলারি ছিলেন অন্যতম। শেলির বই মতে, হিলারি তার প্রেসিডেন্ট স্বামীকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে, সার্বিয়ার উপর ন্যাটোর অভিযান যুক্তিযুক্ত হবে। সেসময় হিলারি যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ব্যাপক হত্যাকাণ্ড দেখার পরেও তুমি কোনো মতেই এই জাতিগত দাঙ্গাকে চলতে দিতে পারো না।’ কিন্তু বলকানদের ক্ষেত্রে হিলারি অবস্থান ছিল আরও ভয়ংকর। সেসময় কসভোতে কোনো জাতিগত দাঙ্গাই চলছিল না। উপরন্তু ন্যাটোর বিমান হামলায় মানুষ দিকবিদিক হারিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল। ওই ঘটনাকে প্রমাণ্য ধরে ন্যাটো নেতারা আরও বিমান হামলা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাক্রান্ত সবগুলো দেশই নাৎসীদের বন্দী শিবিরগুলো দেশে শিউরে উঠেছিল এবং নতুন করে আর কোনো যুদ্ধ না চাওয়ার শর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডগুলোকেই পুনরায় যুদ্ধের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবেই হয়তো অতীত ইতিহাস বর্তমানের মুখোমুখি হয়। হিলারির বক্তব্য ধরেই, ‘আমিও বলতাম য মিউনিখে হিটলারকে চাই না’ অথবা ‘আমিও অস্ট্রিচে বোমা হামলা চালাতাম’ দেখা যায় কিভাবে অতীতের হত্যাকাণ্ডগুলোকে কাজে লাগানো হয়েছে নতুন যুদ্ধের জন্য। গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপের নেতারা যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতো প্রমাণিত।

Huma-Abedin-and-Hillary-Clintonএটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, হিলারি নিজে ফোন করে বিল ক্লিনটনকে সার্বিয়াতে বোমা হামলা চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেসময় হিলারি মরক্কো, তিউনিশিয়া এবং মিসর হয়ে উত্তর আফ্রিকায় সফর করছিলেন। তৎকালীন সময়ে হিলারির গাইড ছিলেন মুসলিম বিশ্বের এক ধর্মীয় নেতার মেয়ে হুমা আবেদিন। অনেক সেকুল্যার আরবই তখন সার্বিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সার্বিয়ার সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের অতীত সম্পর্ক ভালো থাকার পরেও সেই সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পেরেছিলেন হিলারি।

সেই হিলারি ক্লিনটনই এবার দাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতে আশাব্যাঞ্জক ফলাফল না করতে পারলেও ক্যারোলিনায় জয়ের মধ্য দিয়ে হিলারি আগানোর চেষ্টা করছেন প্রার্থীতার দৌড়ে। কিন্তু একথা ভুললে চলবে না, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আজ অবধি কোনো নারী প্রেসিডেন্ট নেই। hillary-clinton-israelশুধু তাই নয়, আজ অবধি যেকজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউই ইহুদি লবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু বিল ক্লিনটনের আমল থেকেই ইসরায়েলি লবির সঙ্গে ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছেন হিলারি ক্লিনটন। তাই যদি হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের আগামীর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয় তাহলে বিশ্ব পাবে এক যুদ্ধবাজ রানী, যার ভুল বিবৃতিতে আগুন ধরে উঠতে পারে গোটা বিশ্বে।

সূত্রঃ বাংলামেইল, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে

জীবনটাকে বদলে ফেলার বেশ কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো শিখে নিন এবং নিজের মাঝে রূপান্তর ঘটিয়ে দিন।

. প্রতিদিন মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেহমন পরিষ্কার হবে।

. যে সব বিষয়ে কৃতজ্ঞ তার একটি তালিকা প্রস্তুত করুন।

. জীবনে ভালোবাসা গ্রহণের পথ প্রশস্ত রাখুন। অন্যদের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞাপনেও উদার হোন।

. রাতে ঘুমানোর আগে গোটা দিনের সফলতা ও ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে নিন। পরদিনের জন্যে প্রস্তুত হয়ে যান।

. যে কোনো পরিস্থিতি বা মানুষের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে ৫ সেকেন্ডের জন্যে ভেবে নিন।

. বই বা আর্টিকেল এমনভাবে পড়বেন যেন তা ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন আপনি।

. উদ্দেশ্য এবং জীবনের পছন্দের বিষয়গুলোর প্রতি আন্তরিক হয়ে উঠুন।

. জীবনের নানা বিষয়ের প্রতি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তুলুন।

. প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটিয়ে আসুন।

১০. নিজের মূল্যায়ন করুন এবং একে রক্ষা করুন। এ দুনিয়ায় অন্যের মতো আপনিও গুরুত্বপূর্ণ।

১১. দিনের প্রতিটা সময়কে নতুনভাবে শুরু বলে বিবেচনা করুন। কখনোই খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে বলে ভাববেন না।

১২. নিজের শিক্ষা ও জ্ঞানকে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিন।

১৩. শর্তহীনভাবে নিজেকে ভালোবাসুন। আপনি যেমনই হোন না কেন, মনে আক্ষেপ রাখবেন না।

১৪. নিজের পছন্দ, ভালোবাসা এবং আনন্দের বিষয়গুলো কি কি তা লিখে রাখুন।

১৫. অতীতের বিষয়ে নিজেকে এবং অন্যদের ক্ষমা করতে শিখুন।

১৬. বর্তমান সময়ে নিজের অনুভব করুন। সূর্যের রশ্মি ত্বকে পড়লে যে অনুভূতি হয় তাও অনুভব করুন।

১৭. যা বিশ্বাস করেন তার প্রতি প্রশ্ন রাখুন। এগুলোর সত্যমিথ্যা যাচাই করুন।

১৮. প্রতিদিন ভালোবাসা এবং দয়াশীলতা প্রদর্শন করুন।

১৯. লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করুন।

২০. কল্পনাশক্তির বিস্ময়কর শক্তিকে কাজে লাগান।

২১. নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেন কিছু না যায় তার প্রতি খেয়াল রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্যে শক্তি সঞ্চয় করে রাখুন।

২২. ভালোবাসা ও আনন্দের মাধ্যমে জীবনের সিদ্ধান্ত নিন।

২৩. এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন, নিখুঁত হতে নয়।

২৪. নিজের জীবনকে উপভোগ করতে সচেষ্ট থাকুন। কারণ এটা আপনারই জীবন।

২৫. মূল্যবোধগুলো আবিষ্কার করুন। এদের চর্চার মাধ্যমে জীবনযাপন করুন।

২৬. প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখার চেষ্টা করুন। নিজেকে আবিষ্কার করুন।

২৭. যে কোনো বিষয় উপভোগ করুন। সুখকর ঘটনাগুলো এড়িয়ে যাবেন না।

২৮. নিজের গুণগুলো খুঁজে করুন। আপনার মাঝে কোনো না কোনো গুণ অবশ্যই রয়েছে।

২৯. সব সময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন।

৩০. আপনার সর্বোৎকৃষ্ট গুণ সম্পর্কে মনে একটা ছবি তৈরি করুন। এটি নিয়ে কি করা যায় ভাবুন।

৩১. পানি, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন।

৩২. সমস্যার চেয়ে সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দিন।

৩৩. যা আছে তাই নিয়ে তুষ্ট থাকার চর্চা করুন।

৩৪. প্রতিদিন সকালে উঠে দ্রুত ঠিক করে ফেলুন দিনটা কিভাবে কাটাবেন।

৩৫. পরিবেশটাকে নানা ভাগে ভাগ করে নিন। যা কাজে লাগছে না তা থেকে মুক্ত হোন।

৩৬. সঙ্গীদের সঙ্গে সময় কাটান। এরা জীবনে বড় অংশ জুড়ে থাকে।

৩৭. দেহমন অপেক্ষা আপনা আত্মার সুখের কথা চিন্তা করুন। সেখানেই রয়েছে সত্যিকারের সুখ।

৩৮. আরো বেশি আনন্দ করার অনুমতি নিজেক দিয়ে দিন।

৩৯. সফলতাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করুন। মনে রাখবেন, পুরোটা ঢেলে দিলে চূড়ান্ত সফলতা আসবে।

৪০. ভালোবাসা, সমবেদনা, আবেগ, শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষমাশীলতা ইত্যাদির চর্চা চালিয়ে যান।

৪১. জীবনে কখন প্রভাববিস্তার করছে তা নিয়ে ভাবুন। কি কি সুষ্ঠু কাজ করছে না তা নিয়ে ভাবুন।

৪২. অস্বস্তি বোধ হয় এমন কিছু করার চেষ্টা করুন। ভয় দূর করতে ভয়ের মুখোমুখি হোন।

৪৩. লক্ষ্য স্থির করুন এবং সফলতার দিকে এগিয়ে যান।

৪৪. বেঁচে থাকার চিন্তা করুন। কাজ, খাওয়া, ঘুম, খেলা, ভালোবাস, সৃষ্টিশীলতা ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিন।

৪৫. আপনার ভয় এবং বিচারবুদ্ধি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারেন।

৪৬. আপনার এবং অন্যের মধ্যকার মিলঅমিল খুঁজে দেখুন। সবার মাঝেই কোনো না কোনো আলো আছে।

৪৭. সবকিছু ভালোবাসা ঢেলে সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন। এমনকি এক গ্লাস পানিও যত্নের সঙ্গে পান করুন।

৪৮. আরো বেশি উদার, সৎ এবং সহজ হোন। অন্যের কাছে নিজেকে মেলে ধরুন। তারা যেন আপনার সঙ্গ উপভোগ করেন।

সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

বিভাগ:জীবনযাপন

লিপ ইয়ারের মজার ইতিহাস জেনে নিন

leap-yearগ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করে আমরা তাকে অধিবর্ষ বা লিপইয়ার বলি। এর কারণ হিসেবে রয়েছে সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘোরার সময়কাল। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

আমরা হিসাব করি ৩৬৫ দিনে এক বছর অর্থাৎ পৃথিবী সূর্যের চার দিকে একবার ঘুরে আসে ৩৬৫ দিনে। কিন্তু বছরের প্রকৃত দৈর্ঘ্য হলো ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড, অর্থাৎ পৃথিবীর এই সময়টুকু লাগে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে। তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রতি বছর আমরা ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় পিছিয়ে যাচ্ছি হিসেবে না ধরার দরুন। ফলে চার বছর পরে এই বাদ যাওয়া সময়টুকু প্রায় ২৪ ঘণ্টায় পরিণত হয় আর সেই ২৪ ঘণ্টাকে সমন্বয় করার জন্যই লিপইয়ারের আবিষ্কার।

বছরের প্রকৃত দৈর্ঘ্য হলো ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু অতীতে এটি জানা ছিল না। এতে অতীতে ফসল তোলার সময়সহ নানা কার্যক্রম নির্ধারণে বছরের কোনো ধারাবাহিকতা থাকত না। এ সমস্যাটি প্রাচীন মিশরীয়রা ধরতে পারে। এ কারণে তারা বছরের শেষে কয়েক দিন উৎসব করা শুরু করে। যদিও এতে সমস্যা দূর হয়নি। রোমানরা এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিবছরই অনিয়মিতভাবে দিন যোগবিয়োগ করতে থাকে। ফলে মূল বিষয়টি সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার এবং তার সহকারী জ্যোতির্বিদ সোসিজেনিস ৩৬৫ দিনে এক বছর হবে বলে নতুন গণনা পদ্ধতি শুরু করেন। ৩৬৫ দিনে বছর গণনা করার ফলে বাদ যাওয়া ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময়কে হিসেবে ধরার জন্য ৪ বছর পর পর ৩৬৬ দিনে একটি বছর গণনা করা হবে বলে ঠিক করলেন, সেটাই আজকের এই লিপ ইয়ার।

প্রতি চার বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বাড়তি দিন যোগ করায় বছরের পর বছর প্রকৃতির একই ঋতুচক্র প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হয় এবং অন্যান্য হিসাবেও সামঞ্জস্য চলে আসে।

সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ, ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০১৬

ফেব্রুয়ারির আজকের দিনটি চার বছর পরপর আসে তাই সবার কাছেই ব্যতিক্রম। অনান্য বিশেষ দিনের মতই গুগল বরাবরের মতো এবারও ‘ব্যতিক্রম’ ঘটায়েছে।

leap-year-2016-google

গুগলের লিপইয়ার ডুডলে দেখা যায়, বনের নির্মল বাতাসে দু’টি খরগোশ মুখামুখি হয়ে শুয়ে আছে। একটি খরগোশের গায়ে লেখা ২৮, অন্যটির ১। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখের পরতো মার্চের ১।

cr-leap-year-1

cr-leap-year-2

বিদ্যুত সাশ্রয়ী ইলেক্ট্রনিক্সের খোঁজে সায়ীফ সালাউদ্দিন

saif salauddin 2মুনির হাসান : প্রেসিডেন্টস আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারের জন্য তোমাকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তোমাকে অনুরোধ করা হলো।’ মার্কিন রাষ্ট্রপতির ‘অফিস অব দ্য সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ থেকে এই ইমেইল সায়ীফ পেয়েছেন প্রায় বছর খানেক আগে। এই দপ্তরটির কাজ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নীতি, উদ্ভাবন ও উৎসাহমূলক কর্মকাণ্ডে দেশের রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করা। ইমেইল পাওয়ার পর থেকে সায়ীফ জানতেন তিনি এই পুরস্কারটি পাচ্ছেন। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। এ বছরের শুরুতে তাঁর একবার মনে হয়েছে, নভেম্বরেই তো বারাক ওবামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যদি না হয় তাহলে তো অপেক্ষার সময় আরও লম্বা হয়ে যাবে। তবে সেটা আর হয়নি। কয়েক দিন আগে সায়ীফের ছোট ছেলে সামি জামানের প্রথম জন্মদিনের আগেভাগেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ১০৬ জন বিজ্ঞানীগবেষককে আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাচিভমেন্টের জন্য নির্বাচিত করে নাম ঘোষণা করেছেন। তার মধ্যে সায়ীফ সালাউদ্দিন একমাত্র বাংলাদেশি।

কাজের স্বীকৃতি তো। ভালোই লাগছে। কারণ কাজটা করছি মনোযোগ দিয়ে আর এটাতেই তো লেগে আছি।’ টেলিফোনে আমাকে বলছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এই স্নাতক, বর্তমানে ইউনিভার্সিিট অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলির সহযোগী অধ্যাপক। সায়ীফ সম্পর্কে তাঁর শিক্ষক ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক আনিসুল হক বলেন, ‘বুয়েটে শুরু থেকেই সায়ীফের লক্ষ্য ছিল ইলেকট্রনিকসের ওপর গবেষণা। আর এ বিষয়ে তাঁর লেগে থাকার নিষ্ঠা অতুলনীয়। কিন্তু এর পাশাপাশি খেলাধুলা, রাজনীতি কিংবা সমাজ নিয়েও সায়ীফ সম্যকভাবে ওয়াকিবহাল থাকতেন।’
সায়ীফের কাজ সম্পর্কে প্রথম আলোর পাঠকেরা আগে থেকেই জানেন (‘আমিই বাংলাদেশ: বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইলেকট্রনিকস’, আগস্ট ২৬, ২০১৪, প্রথম আলো)। বিদ্যুতের ব্যবহার কম হবে এমন ইলেকট্রনিকসের সন্ধান করছেন তিনি। কেন, এই প্রশ্নের জবাবে সায়ীফ বললেন, ‘কম্পিউটার আর ইলেকট্রনিকসের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ২০১২ সালে পৃথিবীর সব ডেটা সেন্টার মিলে নরওয়ের সমান শক্তি খরচ করত। এখন এটা আরও বেড়ে গেছে! তো, ইলেকট্রনিকসের একেবারে মূলে যে ট্রানজিস্টর আর সুইচিং, সেখানে যদি কোনোভাবে শক্তির খরচ কমানো যায়, তাহলে এই ক্ষেত্রে আমরা অনেকখানি এগোতে পারব।’

এই চিন্তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা করার সময় সায়ীফ একটি নতুন তত্ত্ব দাঁড় করলেন। ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর মূল চালক মাইক্রোপ্রসেসরের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রানজিস্টর। সায়ীফ বললেন, ‘ট্রানজিস্টরের মধ্যে একসঙ্গে একই কাজে সম্পৃক্ত ইলেকট্রনগুচ্ছের একটিকে স্থানান্তর করা হলে বাকিগুলোও সেটিকে অনুসরণ করবে বাড়তি শক্তি ছাড়াই। আর এভাবে পাওয়া যাবে কম শক্তির ইলেকট্রনিকস।’ সায়ীফ এর নাম দিলেন ‘নেগেটিভ ক্যাপাসিটেন্স’। কিন্তু প্রচলিত ইলেকট্রনিকস সামগ্রীতে একটি একটি করে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়। ফলে একটি ইলেকট্রনকে পাঠাতে যত শক্তি লাগে, হাজারটা পাঠাতে তার চেয়ে হাজার গুণ শক্তি লাগে। এভাবে বিদ্যুৎশক্তি খরচও বেড়ে যায়। বিষয়টা হাতে হাত ধরা অনেক লোকের মিছিলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যদি সবাই হাতে হাত ধরে থাকে তাহলে প্রথমজনকে বাঁয়ে ঘুরিয়ে দিলে সবাই বাঁয়েই চলে যাবে। কিন্তু যদি মিছিলটা বিশৃঙ্খল থাকে তাহলে প্রত্যেকের কাছে কোনো না কোনোভাবে বাঁয়ে ঘোরার বার্তা পৌঁছাতে হবে।

নেগেটিভ ক্যাপাসিটেন্সের ধারণাটি এতই যুগান্তকারী ছিল যে অর্ধপরিবাহীর বিকাশের রোডম্যাপে এটি সঙ্গে সঙ্গে জায়গা করে নেয়। যদিও অন্যান্য আবিষ্কারের বেলায় ‘পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হওয়া’ পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করে! ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বের প্রায় সব বড় বড় ল্যাবরেটরিতে এই তত্ত্বকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণের চেষ্টা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ পরীক্ষাগারে সায়ীফই সেটা প্রথম প্রমাণ করে দেখান। এরপর তাঁর গবেষণাগারে ‘নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেও’ এটি নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। অবশেষে গত ডিসেম্বর মাসে ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রন ডিভাইস মিটিংয়ে (আইইডিএম) সায়ীফ দলবল নিয়ে প্রচলিত ৩০ ন্যানোমিটারের চ্যানেলে নেগেটিভ ক্যাপাসিটেন্সের সফল প্রয়োগ দেখালেন। গত বছর নেচার ম্যাটেরিয়ালস জার্নালেও এ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। সায়ীফের ধারণা, এখন বিদ্যুতাশ্রয়ী ইলেকট্রনিকসের নতুন যুগের সূচনা হওয়ার বাধাগুলো একে একে কেটে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে সায়ীফের পেশাদারি ঝুলিতে জমা হয়েছে নানা পুরস্কার ও স্বীকৃতি। এর মধ্যে মার্কোএফসিআরপি ইনভেন্টর রিকগনিশন পুরস্কার (২০০৭), যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ইয়ং ইনভেস্টিগেটর পুরস্কার (২০১০), এফোসর (এএফওএসআর) ইয়ং ইনভেস্টিগেটর পুরস্কার (২০১৩), এআরও ইয়ং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড (২০১৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আর এর সঙ্গে এখন যুক্ত হলো আর্লি ক্যারিয়ার এচিভমেন্ট পুরস্কার।

পুরস্কারের খবর দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পাচ্ছেন সায়ীফ। তবে দুঃখ পেয়েছেন দেশীয় বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে ‘কম্পিউটার বিজ্ঞানী’ হিসেবে অভিহিত করায়। ‘ছোটবেলা থেকে ইলেকট্রনিকসেই আমার আগ্রহ এবং ইলেকট্রনিকস নিয়েই কাজ করে যাব।’ জানালেন তিনি।

সায়ীফের বাবা এ এস সালাউদ্দীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। মা সায়েদা সালাউদ্দিন গৃহিণী। স্ত্রী তানভীন জামান, পাঁচ বছরের ছেলে সাফী মাহির সালাউদ্দিন ও এক বছর বয়সী সামি জামান সালাউদ্দিনকে নিয়ে তাঁর সংসার। কাজের ফাঁকে অবসরের সবটুকু পরিবারের সঙ্গেই কাটে আমাদের গৌরব সায়ীফ সালাউদ্দিনের।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৬

ভ্লাদিমির পুতিন আধাখেঁচড়া কাজ করেন না

putin-2015রবার্ট ফিস্ক: মরুভূমির ওপর দিয়ে রুশ নির্মিত ঝকঝকে টি৯০ ট্যাংকের সারি নিয়ে সিরিয়ার সেনাদের এগিয়ে চলা আপনার চোখ নিশ্চয়ই এড়ায়নি। ইসলামিক স্টেট (আইএস) সিরিয়ার রাক্কায় তাদের যে ‘রাজধানী’ গড়ে তুলেছে তার দূরত্ব এখান থেকে বড়জোর ১০০ মাইল হবে! ট্যাংকের পাশ ঘেঁষে সারবেঁধে চলছে যেসব ট্রাক কিংবা ভারী সাঁজোয়া যান, সেগুলোও রাশিয়ার তৈরি। রুশ সেনারাও আছে সঙ্গে। তাদের মাথায় শৌখিন ঢঙে চাপানো রোদটুপি। বিগত আশির দশকেও আমরা তাদের এমন দৃশ্য অনেক দেখেছি আফগানিস্তানে, গরমের দিনগুলোতে। টি৯০ ট্যাংকের ওপর সিরীয় আর্মিকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, তাই ইসরিয়া সামরিক ঘাঁটিতে, এমনকি একজন রুশ জেনারেলও অবস্থান করছেন।

না। রুশ পদাতিক বাহিনী ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে যাচ্ছে না। এমন ইচ্ছা তাদের কখনো ছিলও না। আইএসের ওপর হামলা চালানোর জন্য রুশ বিমানবাহিনী আছে, তারা আকাশ থেকে আঘাত হানে। স্থলযুদ্ধে আইএস কিংবা জাবাত আলনুসরার ওপর হামলার জন্য আছে সিরীয়রা, ইরানীয়রা, আছে আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে ও ইরাক থেকে আসা শিয়া মুসলমানরা। আছে কয়েক হাজার পাকিস্তানি শিয়াও।

মরুভূমির যে প্রান্তটি পূর্ব দিকে চলে গেছে, তার ওপারেই আলেপ্পোহামাহমসদামাস্কাসে জঙ্গিদের অবস্থান। তাই এই মরু অঞ্চলে রুশদের থাকতেই হবে। কারণ সিরীয় ট্যাংক ক্রুদের ট্রেনিং দিতে হবে। এ ছাড়া রুশ বোমারু বিমান সুখোইকে নৈশ অভিযানে শত্রুপক্ষের ওপর ঠিকঠাক আঘাত হানতে হবে। সে জন্যও এলাকাটি শত্রুমুক্ত রাখা চাই।

সিরিয়ায় সম্মুখ রণক্ষেত্রগুলোতে যান। সবাই আপনাকে বলবে সিরীয় বিমানবাহিনী শুধু তকতকে আবহাওয়াতেই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সিরিয়ায় শীতের মেঘ যখন ঘন হয়ে আসে এবং যখন বৃষ্টি নামে তখন হামলার দায়িত্বটি নেয় রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে রণক্ষেত্রে চাক্ষুষ লড়াই দেখছেন এমন একজন আমাকে বলছিলেন, ‘সিরীয়রা এত নিচু দিয়ে ওড়ে যে দেখা যায়। কিন্তু রুশরা যখন আসে আকাশে আপনি তাদের দেখবেনই না।’ এই সময়ে সিরীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বেও যে রুশরা জায়গা করে নিয়েছে, এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। ভ্লাদিমির পুতিন আধাখেঁচড়া কোনো কাজ করেন না।

রুশ ট্যাংকগুলোকে যতই চোখ ধাঁধানো দেখাক, এ পর্যন্ত সিরিয়ায় তারা সামান্যই ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধে বরং বেশি কাজে দিচ্ছে রুশদের সঙ্গে যাওয়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সিরীয় সেনা কর্মকর্তাদের শেখানো হয়েছে নতুন টি৯০ ক্ষেপণাস্ত্রবিরোধী ব্যবস্থাটিতে কিভাবে ছুটে আসা রকেটকে ট্যাংকের পাশেই আছড়ে ফেলতে হবে। আইএস ও নুসরার রণশক্তির অন্যতম হচ্ছে ব্যাপকসংখ্যক রকেট। তবে কি এই টি৯০ অ্যান্টিমিসাইল প্রযুক্তি দিয়েই তাদের যথেষ্ট শায়েস্তা করা যাবে! সম্ভবত। সিরিয়ার জন্য আরো বড় উপকারী হয়ে এসেছে অন্ধকারেও দেখার রুশ প্রযুক্তি নাইট ভিশন মোশন সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় গোয়েন্দা প্রযুক্তি। এরই ওপর ভর করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় নুসরার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং জঙ্গিদের তুরস্ক হয়ে আলেপ্পো আসার পথটি তছনছ করে দিতে সক্ষম হয়।

cr-putin_after_ISপ্রায় পাঁচ বছরে যে সরকারি বাহিনীটি ৬০ হাজারের মতো সেনা সদস্য রণাঙ্গনে হারিয়েছে, তারা হঠাৎ করেই আবিষ্কার করে প্রাণহানি আর আগের মতো নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না, রুশ প্রযুক্তিই তাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হয়ে এসেছে। ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ ছেড়ে সরকারি বাহিনীর পুরনো পদে যে অনেকে ফিরে আসছে এবং ডেভিড ক্যামেরনের ৭০ হাজার সদস্যের বাহিনীটি যে আরো দুর্বল হচ্ছে তারও কারণ এই রুশ প্রযুক্তি। মজার তথ্য হচ্ছে, ২০১১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার পুলিশ ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেয়ে সরকারবিরোধী বাহিনীতে যাওয়াই সিরিয়ার মানুষের বেশি পছন্দ ছিল। এই সময়টায় ২৮ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনী থেকে পাঁচ হাজার সদস্যই পক্ষ ত্যাগ করে।

স্থলযুদ্ধ সরাসরি না করলে কী, রুশ সেনারা সিরিয়ার পদাতিক বাহিনীতে ভালোই আছে। তারা ট্যাংক পরিচালনা প্রশিক্ষণ দিতে পারছে। রুশ টি৯০গুলো কেমন কাজ করছে তাও দেখা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিজেদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি নেই। আবার পাহাড় হোক, কি সমতল, দুই পরিবেশেই রুশরা প্রশিক্ষণ দিতে পারছে। এ জাতীয় পরিবেশে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে এ কাজে মরুভূমি তাদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ না। কারণ জামাল আবদেল নাসেরের ইয়েমেনে যুদ্ধের পর রুশ সেনাবাহিনীর মরু লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আর হয়নি।

গত মাসে নুবল ও জাহরার শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলো পুনর্দখল করার জন্য যে আক্রমণ চালানো হয়, তাতে রাশিয়ার ছিল ঢের আগ্রহ। কারণ এ অভিযানেই প্রথমবারের মতো সিরীয় সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেস, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলারা যৌথভাবে অংশ নেয়। সিরীয় সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও হেলিকপ্টারের সহযোগিতা নিয়ে তারা ২০ মাইল গভীরে ঢুকে পড়ে এবং মাত্র আট দিনে দেশের ওই অংশটিকে মুক্ত করে ফেলে।

তবে আসাদ সরকারের জন্য লড়াইকারী বিদেশি যোদ্ধাদের সংখ্যাটি পশ্চিমে অনেক অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে। যেমন লড়াইরত ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য পাঁচ হাজারেরও কম। ইরানি সেনাদের প্রথমবারের মতো সম্মুখসমরে ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে আলেপ্পোর কাছে। এর বাইরে বিদেশি যেসব যোদ্ধা রয়েছে তাদের সবাইও আফগান নাগরিক বা হিজবুল্লাহ সদস্য নয়, বেশ কিছু পাকিস্তানি শিয়া মুসলিমও আছে।

লেখক : বৈরুতে কর্মরত প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক, ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

ইনডিপেনডেন্ট থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর

দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬