Archive

Archive for the ‘Uncategorized’ Category

কার্টুন-রসঃ ব্যায়াম না করার পক্ষে সাফাই !

অক্টোবর 22, 2016 মন্তব্য দিন

reasons-for-not-exercising-1reasons-for-not-exercising-2reasons-for-not-exercising-3

বিভাগ:কৌতুক, Uncategorized

মানবতার কবি ফররুখ

অক্টোবর 21, 2016 মন্তব্য দিন

farrukh-ahmad-9শরীফ রুহুল আমীন :

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী!

এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?

সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?

তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে

অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?

এমন আহ্বান আর কে জানাতে পারেন ফররুখ আহমদ ছাড়া? কবি ফররুখই পারেন বলতে

এ কোন্ সভ্যতা আজ মানুষের চরম সত্তাকে করে পরিহাস?

কোন্ ইবলিস আজ মানুষেরে ফেলি মৃত্যুপাকে করে পরিহাস?

… … …

র হাতে হাত দিয়ে নারী চলে কাম সহচরী? কোন্ সভ্যতার?

কার হাত অনায়াসে শিশু কণ্ঠে হেনে যায় ছুরি? কোন্ সভ্যতার?

শ্রমিকের রক্তপাতে পানপাত্র রেঙে ওঠে কার? কোন সভ্যতার?

১৯১৮ সালের ১০ জুন কবি ফররুখ আহমদ বাংলাদেশের যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতাসৈয়দ হাতেম আলী, মাতাবেগম রওশন আখতার। পিতা ছিলেন পুলিশের ইন্সপেক্টর। বড় ভাই সৈয়দ সিদ্দিক আহমদ, বড় বোন সৈয়দা শরফুন আরা মোকাদ্দেসা খাতুন। ছোট ভাই সৈয়দ মুশীর আহমদ। ফররুখ আহমদের পুরো নাম সৈয়দ ফররুখ আহমদ। কিন্তু তিনি ফররুখ আহমদ নামেই সাহিত্য রচনা করেন।

গ্রামের পাঠশালাতে ফররুখের শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর তাকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় কলিকাতা মডেল স্কুলে। এরপর কলিকাতার বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে। বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে ফররুখ ছিলেন ক্লাসের ফার্স্ট বয়। এ সময় তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি গোলাম মোস্তফাকে। মেট্রিক পরীক্ষার আগে ফররুখ জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে খুলনা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। এখানে শিক্ষক হিসেবে পান সাহিত্যিক আবুল ফজল ও কবি আবুল হাশেমকে। ১৯৩৬ সালে ফররুখ খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলিকাতা এসে রিপন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩৯ সালে তিনি রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। আইএ পাসের পর তিনি স্কটিশ চার্চে প্রথমে দর্শন শাস্ত্রে ভর্তি হয়ে কিছুকাল পড়াশুনা করেন। তারপর সিটি কলেজে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে ভর্তি হন।

ছোট থেকে যদিও ফররুখের কাব্যপ্রীতি ছিল তবুও কলেজে পড়াকালেই তার সাহিত্যপ্রতিভার প্রকাশ ছড়িয়ে পড়ে। একদিন বৃষ্টি মাথায় করে কলেজে এসে ফররুখ ভেজা কাপড়ে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসেছেন। সে সময় ক্লাস নিচ্ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও অধ্যাপক প্রমথনাথ বিশী। পড়াতে পড়াতে তাঁর দৃষ্টি চলে যায় ফররুখের ওপর। দেখেন মাথা নিচু করে ফররুখ একমনে কি যেন লিখছেন। অধ্যাপক প্রমথনাথ বিশী ফররুখের কাছে এসে তার খাতাটি নিয়ে নিলেন। ফররুখের লেখা সনেট পড়ে তিনি এতই মুগ্ধ হলেন যে তিনি অন্যান্য অধ্যাপকদের আবৃত্তি করে শোনান এবং বলেন, “আমি একজন তরুণ শেক্সপিয়ারকে আবিষ্কার করেছি”। পরে এই খাতাটি থেকেই বুদ্ধদেব বসু ফররুখ আহমদের কয়েকটি কবিতা ছাপেন তাঁর বিখ্যাত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।

কবি ফররুখ আহমদ অনবরত লিখে গেছেন পরিকল্পিতভাবে। কাফেলা, ডাহুক, সাত সাগরের মাঝি, সিন্দাবাদ, হাতেম তায়ী, লাশ প্রভৃতি রচনায় তার মানবতাবাদী ও জাতীয় মুক্তির চেতনার উন্মেষ পাওয়া যায়। অনেক কবিতায় তিনি অপূর্বভাবে ইসলামী ঐতিহ্য ও গৌরব তুলে ধরেছেন প্রতীকী ব্যঞ্জনায় এবং আরবিফার্সি শব্দের সমারোহ ঘটিয়েছেন। এজন্য তাঁকে অনেকেই ইসলামী রেনেসাঁর কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন যদিও তার কবিতার মূল আদর্শ মানবতার মুক্তি।

ফররুখ ছিলেন প্রেমিক কবি, মানব দরদী কবি। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল সোচ্চার। ঊনিশ শ’ চুয়াল্লিশ সালের দুর্ভিক্ষে যখন মানুষ না খেয়ে ধুকে ধুকে মরেছে তিনি লিখেছেনজানি মানুষের লাশ মুখ বুঁজে পড়ে আছে জমিনের পর সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর। শোসক শ্রেণির বিরুদ্ধে তিনি লিখলেন

তারপর আসিলে সময় বিশ্বময়

তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিন্ডে পদাঘাত হানি’

নিয়ে যাব জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি’

আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যুদীর্ণ নিখিলের অভিশাপ

বও; ধ্বংস হওতুমি ধ্বংস হও।

এ সময় একটি ঘটনার কথা বলেছেন ফররুখের ভাগ্নে সুলতান আহমদ– “এরই মাঝে একদিন আমি আর মেজমামা কলকাতা স্টেশন থেকে ট্রেনে করে যাদবপুর স্টেশনে এসে নামলাম। কিছু দূরেই একটি লোক কাঁথা গায়ে শুয়ে আছে। মেজমামা এগিয়ে গেলেন। নাকের কাছে হাত দিয়ে বললেন, এখনো বেঁচে আছে, একটু গরম দুধ আনতে পারবি? আমার কাছে চার আনা পয়সা ছিল। তাই দিয়ে কাছের রেস্তোরাঁ থেকে একটু দুধ আনলাম। মেজ মামা খুব যত্নে লোকটাকে দুধটুকু খাওয়ালেন। তারপর দুজনে ধরে লোকটাকে জাদবপুরের এক লঙ্গরখানায় পৌঁছে দিয়ে এলাম। এরপর থেকে মেজ মামার খাওয়া কম হয়ে গেল। মেজ মামা আম্মা আর বড় মামানিকে বললেন, ‘আমার ভাতের অর্ধেক কোন লোককে দেবেন’। এরপর প্রায়ই দেখতাম মেজ মামা না খেয়ে বেরিয়ে যেতেন, যাওয়ার সময় বলে যেতেন, ‘ আমার ভাত কাউকে দেবেন’। মেজ মামার কাছে বেশি পয়সা থাকতো না। তিনি দিনের পর দিন এভাবে উপোস করে কাটিয়েছেন”।

রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক দিয়ে ফররুখ আহমদ প্রথম জীবনে ছিলেন কমরেড এমএন রায়ের অনুসারী। পরবর্তীতে পীর আব্দুল খালেকের সাহচর্যে ইসলামের অধ্যাত্মিক আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সুখ সম্পদের লোভ তাঁকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তাই তিনি নির্দ্বিধায় আইয়ুবী আমলে সরকারি খরচে হজব্রত পালন এবং মুসলিম বিশ্বভ্রমণের সুযোগ প্রত্যাখান করেন। একবার রেডিও অফিসে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে গোলযোগ হয়েছিল। দাবি দাওয়ার আন্দোলনে ফররুখ আহমদ ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে হেড অফিস করাচী থেকে ডাইরেক্টর জেনারেল এসে ফররুখ আহমদকে ডেকে বলেন, ‘শায়ের সাহাব, ম্যায় এ সোচ রাহা কে আপ এ কলমবন্দ স্ট্রাইক কে লীড দেতা হ্যায়। আপকা নোকরী টুট জায়েগা’। উত্তরে ফররুখ– ‘রিজিক কা মালিক আল্লাহ হ্যাঁয় আপ নেহী’ বলে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

যখন রাষ্ট্রভাষা নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তখন তিনি সওগাত পত্রিকায় এ বিষয়ে এক প্রবন্ধ লিখে বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবেমর্মে দৃঢ়ভাবে মতামত প্রদান করেন। ফররুখ আহমদ পাকিস্তান আন্দোলন সমর্থন করেছিলেন কিন্তু তিনি পাকিস্তানি শাসকচক্রের স্বৈরতন্ত্র ঘৃণা করেছেন। তাই ফররুখ আহমদ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সপক্ষে কথা বলেন। এ সময়, দৈনিক ইত্তেফাক অফিস পোড়ানো হলে ইত্তেফাকে কর্মরত সহায় সম্বলহীন আসফউদ্দৌলাহ ও সিরাজউদ্দিন হোসেনের কথা ভেবে দুটো খাম পাঠিয়েছিলেন। প্রতিটি খামের ভেতর ছিল একশ করে টাকা আর একটি করে চিঠি। চিঠিতে লেখা ছিল– ‘তোদের প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য এটা। আশা করি এই বিপদ মুহূর্তে প্রত্যাখ্যান করবি না’।

ফররুখ আহমদ কর্ম জীবন শুরু করেন ১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিসে। সিভিল সাপ্লাইতে ছিলেন ১৯৪৫ সালে। তারপর কিছুদিন মাসিক মোহামাদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। জলপাইগুড়িতে কিছুদিন একটি ফার্মেও কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি রেডিও পাকিস্তানে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী হন। ফররুখ আহমদ ১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অফ পারফরমেন্স পান। ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৬৬ সালে তিনি হাতেম তায়ী’র জন্য আদমজী পুরস্কার পান এবং ছোটদের কবিতা পাখির বাসার জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি একুশে পদক (মরণোত্তর) এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাঁকে সাহিত্যে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করে।

আজন্ম সংগ্রামী, মানবতার মুক্তি আন্দোলনের এই কবি ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় চির নিদ্রায় শায়িত হন।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ

অক্টোবর 21, 2016 মন্তব্য দিন

sona-mosqueমনোয়ার হোসেন জুয়েল : চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা গৌড়ের সোনা মসজিদ। মুসলিম শাসনামলে বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে ফিরোজপুর গ্রামে মসজিদটি তৈরি করা হয়। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি নির্মাণশৈলীর কারণে পর্যটকদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়।

১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহর শাসনামলে তার সভাসদ ওয়ালী মুহম্মদের তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলায় মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটির সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কবর। উঁচু মঞ্চের ওপর অবস্থিত বড় কবর দুটি কার তা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি ওয়ালী মুহম্মদের এবং অন্যটি তার স্ত্রীর। মতান্তরে এই দুটি কাল্পনিক কবর। বরং এতে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার গুপ্তধন রক্ষিত রয়েছে। এছাড়া অন্য কবরগুলো তত্কালীন মুসলিম যোদ্ধাদের। ঐতিহাসিকদের মতে, জনৈক খোঁজা (নপুংসক) কর্তৃক এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত। সেজন্য এর অপর নাম ‘খোঁজা কি মসজিদ’। প্রাচীন গৌড়ে আরেকটি মসজিদ রয়েছে, যা বড় সোনামসজিদ নামে পরিচিত।

এটি তৈরি করেছিলেন সুলতান নুসরত শাহ। বর্তমানে এটি ভারতের মালদহ জেলার মহোদিপুরে অবস্থিত। ছোট সোনামসজিদে মোট ১১টি দরজা বা প্রবেশপথ রয়েছে। উত্তর দিকের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় একটি কক্ষ রয়েছে। মসজিদের চারকোণে চারটি বুরুজ রয়েছে। এগুলোর ভূমি নকশা অষ্টকোণাকার। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে পাঁচটি খিলানযুক্ত দরজা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে দরজা। তবে উত্তর দেয়ালের পশ্চিমের দরজাটির জায়গায় রয়েছে সিঁড়ি। এই সিঁড়িটি উঠে গেছে মসজিদের অভ্যন্তরে উত্তরপশ্চিম দিকে দোতলায় অবস্থিত একটি বিশেষ কামরায়। কামরাটি পাথরের স্তম্ভের ওপর অবস্থিত। মসজিদের গঠন অনুসারে এটিকে ‘জেনানা মহল’ বলেই ধারণা করা হয়। তবে অনেকের মতে, এটি জেনানা মহল ছিল না, এটি ছিল সুলতান বা শাসনকর্তার নিরাপদে নামাজ আদায়ের জন্য আলাদাভাবে তৈরি একটি কক্ষ।

মসজিদের ছাদে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ১৫টি গুম্বুজ। এই মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বাইরের যে কোনো পাশ থেকে দেখলে কেবল পাঁচটি গম্বুজ দেখা যায়, পেছনের গম্বুজগুলো দৃষ্টিগোচর হয় না। মসজিদের বাইরের দিকে সোনালি রংয়ের আন্তরণ ছিল, সূর্যের আলো পড়লে এই রং সোনার মতো ঝলমল করত। তবে জনশ্রুতি রয়েছে গম্বুজগুলো সোনার পাতে মোড়ানো ছিল বলে এর নামকরণ করা হয় সোনা মসজিদ। মসজিদের দেয়ালের গায়ে কালো পাথরের ওপর খচিত রয়েছে বিভিন্ন গাছপালা ও ফুলের কারুকার্যময় নকশা। মসজিদের ভেতরে মেহরাবের ওপর ছিল শ্বেত পাথরের দুটি উজ্জ্বল শিলাখণ্ড। সূর্যালোকে শ্বেতপাথর দুটি উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করায় আলোকিত হয়ে উঠত পুরো মসজিদ ঘর।

১৮৯৭ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদটির একাংশ ও মেহরাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তা ইট দিয়ে মেরামত করা হয়। এ সময় মধ্যবর্তী মেহরাবের ওপর স্বতন্ত্র দুটি শ্বেত পাথরের উজ্জ্বল শিলাখণ্ড ও আরও কয়েক টুকরো মূল্যবান পাথরখণ্ড ইংরেজরা নিয়ে যায়। এমনকি পশ্চিম দেয়ালের কারুকার্যপূর্ণ কতকগুলো দুষ্প্রাপ্য ও বহু মূল্যবান শিল্প নিদর্শনও স্থানান্তরিত হয়ে বিলেতে চলে যায়।

বর্তমানে এর পাশ ঘেঁষেই রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জসোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়ক। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যকলার এই নিদর্শনটি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ বছরের পুরনো এই নিদর্শনটি এখন অযত্নঅবহেলায় জর্জরিত। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সুপরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি এখানে আসা দর্শনার্থীদের। ঐতিহাসিক এই মসজিদ প্রাঙ্গণে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি। তার পাশের কবরটি তত্কালীন সেক্টর কমান্ডারস মেজর নাজমুল হকের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তারা শহীদ হন।

ঐতিহাসিক জেনারেল ক্যানিংহামের মতে, কিছুসংখ্যক স্বর্ণশিল্পী এই মসজিদের সাজসজ্জার নকশা প্রস্তুত করেছিলেন। ভারতের বেনারস থেকে আগত শিল্পীদের মাধ্যমে এই মসজিদের কারুকার্য সম্পাদিত হয়েছিল। মূল মসজিদের উত্তর দিকে একটি দীঘি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, ‘এক প্রহর বেলা পর্যন্ত সোনা বর্ষিত হয়েছিল, মতান্তরে প্রচুর সোনা পাওয়া গেছেসেজন্য স্বর্ণপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক এখানে দীঘি খনন ও মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ‘সোনামসজিদ’ নামকরণ করা হয়েছে।’ এই দীঘিতে তামার বড় বড় হাঁড়িতে গুপ্তধন পাওয়া গিয়েছিল বলেও জনশ্রুতি আছে।

পিরোজপুরে হচ্ছে মালটা’র ভালো ফলন !

অক্টোবর 19, 2016 মন্তব্য দিন

malta-farmingmalta-farming

দেশে এখন প্যাসন ফলের ফলন হচ্ছে !

অক্টোবর 16, 2016 মন্তব্য দিন

passion-fruit-orange-1passion-fruit-orange-2

চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচি ও বাংলাদেশ

অক্টোবর 14, 2016 মন্তব্য দিন

map-silk_road-5. তারেক শামসুর রেহমান : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ ঢাকা আসছেন। বাংলাদেশচীন সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার ঢাকা আগমন। তবে বাংলাদেশে তিনি এসেছিলেন ২০১০ সালে, যখন তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরের গুরুত্ব অনেক। শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি কিংবা বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে একটি ‘মহাপরিকল্পনা’ নিয়েই তিনি যে বাংলাদেশে আসছেন, এটা ভাবা ঠিক নয়। বরং বাংলাদেশের ব্যাপারে চীনের আগ্রহের অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ মহাপরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন লাভ করা। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘ব্রেন চাইল্ড’ এই ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড মহাপরিকল্পনা। এ মহাপরিকল্পনার আওতায় রয়েছে ৬০টি দেশের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করা। মহাপরিকল্পনাটির মূলত দুটো অংশ। এক. সড়কপথে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। চীন সড়ক পথের সঙ্গে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইনও সংযুক্ত করছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথেও, বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। প্রাচীন সিল্ক রুটের আধুনিক সংস্করণ এটি। সরকারিভাবে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায় চীনের সিয়ান থেকে উরুমকি, তুরস্কের ইস্তান্বুল এবং ইউরোপের স্পেনের মাদ্রিদ পর্যন্ত সড়কপথ তৈরি হবে, যা কিনা মধ্য এশিয়ার কিরঘিজস্তান, কাজাখস্তান হয়ে মস্কো, পোল্যান্ড, জার্মানির হামবুর্গ, হল্যান্ডের রটারডাম হয়ে মাদ্রিদে গিয়ে শেষ হবে। দুই. একই সঙ্গে চীন একটি মেরিটাইম তথা সামুদ্রিক সিল্ক রোডের মহাপরিকল্পনাও প্রণয়ন করছে। এই সামুদ্রিক সিল্ক রোডের মাধ্যমে একদিকে আফ্রিকার জিবুতি, মোমবাসা (কেনিয়া) বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমারকেও চীনের একটি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চায় চীন।

কথা হচ্ছে, মধ্য এশিয়া, রাশিয়াসহ ‘মেরিটাইম সিল্ক রুট’ভুক্ত অনেক দেশ এই মহাপরিকল্পনায় সংযুক্ত হলেও ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থান এ ব্যাপারে স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা তাও জানা যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আদৌ চিন্তাভাবনা করছে কিনা জানি না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক্যাল স্টাডিজে’ (বিস) দু’একবার সেমিনার হয়েছে। বিস কর্মকর্তারা চীন সফরও করেছেন। কিন্তু খুব সিরিয়াস ধরনের কোনো গবেষণা সেখানে হয়নি। আমার কাছে কখনও মনে হয়নি বাংলাদেশ ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড, বিশেষ করে মেরিটাইম সিল্ক রুটের ব্যাপারে খুব আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ বিসিআইএম (বাংলদেশচীনভারতমিয়ানমার) উপআঞ্চলিক সহযোগিতার আলোকে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কপথ নির্মাণের যে প্রস্তাব রয়েছে, তাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

বস্তুত ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড এবং মেরিটাইম সিল্ক রোডের আওতায় চীন দুটো ‘ইকোনমিক করিডোর’ সৃষ্টি করছে। একটি কুনমিং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ। দ্বিতীয়টি, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের খাসগর থেকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের সমুদ্রবন্দর গাওদার পর্যন্ত রেল ও সড়ক পথ। এই অর্থনৈতিক করিডোরের ব্যাপারে ভারতের আপত্তি রয়েছে। কারণ এ সড়কপথটি বিতর্কিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ ও ইসলামাবাদ হয়ে বেলুচিস্তান প্রদেশের ভেতর দিয়ে গাওদার সমুদ্রবন্দরে গিয়ে মিশেছে। এই অর্থনৈতিক করিডোরের ব্যাপারে বেলুচ নেতাদের আপত্তি রয়েছে। বেলুচ নেতা ব্রাহামদাগ বুগতি চীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত ওই অর্থনৈতিক করিডোরের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে।

ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে চীনের বড় আগ্রহ রয়েছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এই মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও উপকৃত হতে পারে। ইতিমধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্য এশিয়া, রাশিয়া ও পাকিস্তান সফর করেছেন তার মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে জনমত সৃষ্টি করতে। ঢাকা সফরের পর তিনি ভারতে যাবেন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে। ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ব্রিকসবিম্সটেক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেবেন। ধারণা করছি, ব্রিকসবিম্সটেক যৌথ শীর্ষ বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট তার ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে বিম্সটেক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন।

বাংলাদেশ ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড মহাপরিকল্পনায় সংযুক্ত হলে অর্থনৈতিকভাবে কতটুকু লাভবান হবেএ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। তবে ভারত মহাপরিকল্পনাটি খুব সহজভাবে নিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ ভারত মহাসাগরে চীনভারত দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। ভারতচীন দ্বন্দ্বের বিষয়টি তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন দেখা যায় ভারত মহাসাগরীয় বিভিন্ন রাষ্ট্রে এই দুটো দেশ নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। জিবুতি, গাওদার, হামবানতোতা (শ্রীলংকা), মিয়ানমার, ইয়েমেন, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার, ওমান কিংবা কেনিয়ায় চীনের নৌঘাঁটি নির্মাণের আগ্রহের খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। জিবুতি ও মাদাগাস্কারে নৌঘাঁটি নির্মাণ শেষ হয়েছে। একইভাবে ভারত সিসিলি ও মৌরিতুসে নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। ২০১৫ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই দ্বীপরাষ্ট্র দুটো সফরের সময় এই নৌঘাঁটি নির্মাণের কথা প্রথমবারের মতো জানা যায়। ভারত এরই মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফলে এ অঞ্চলে ভারতযুক্তরাষ্ট্র অক্ষ গড়ে উঠছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করবে আগামীতে। কাজেই চীনের মেরিটাইম সিল্ক রুট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।

তবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করা যাবে না। চীনপাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে তেলের পাইপলাইন সংযুক্ত হবে। চীনে পারস্য মহাসাগর অঞ্চলের জ্বালানি তেল এ পথে খুব অল্প সময়ে এবং মধ্য এশিয়ার তেল চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এই জ্বালানি তেলের ওপর চীন নির্ভরশীল। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্য এশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর তাদের নির্ভরতা বাড়ছে। একই সঙ্গে চীন এই অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে তার ইউনান প্রদেশকেও সংযুক্ত করতে চায়। এটা করতে হলে কুনমিংকক্সবাজারকলকাতা সড়কপথ (যা কেটুকে নামে পরিচিত) নির্মাণ করতে হবে। ২০১৩ সালে চারটি দেশ এই সড়কপথ নির্মাণের ব্যাপারে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০১৪ সালে চীন সফরে যান, তখন তিনি কুনমিংয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশ কুনমিংকক্সবাজার সড়কপথ নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহী। সম্প্রতি জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও বলেছেন, চীনের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়আদৌ এই সড়ক পথটি নির্মিত হবে কিনা। নির্মিত হলে বাংলাদেশ সড়কপথে চীনা পণ্য আমদানি করতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে ও পণ্যের মূল্য কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, চীনপাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশ সংযুক্ত হতে পারে। এতে করে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই অর্থনৈতিক করিডোর ব্যবহার করে মধ্য এশিয়া থেকে জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) আমদানি করতে পারবে।

সুতরাং ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচি চীনের স্বার্থে প্রণীত ও বাস্তবায়িত হলেও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকেও একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। তবে এক্ষেত্রে ভারতের আপত্তির কারণে বাংলাদেশ তার স্বার্থ পূর্ণভাবে রক্ষা করতে পারবে না। চীন কক্সবাজারের অদূরে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। এতে করে আমরা লাভবান হতে পারতাম। কিন্তু ভারত কর্তৃক নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলা (শ্রীলংকার হামবানতোতায় নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দরের ব্যাপারেও চীন নিরাপত্তার প্রশ্নটি তুলেছিল), চীনপাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের ব্যাপারে ভারতের আপত্তি এবং সর্বশেষ চীনভারত সীমান্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে চীনের মেরিটাইম সিল্ক রুটের ব্যাপারে একটা প্রশ্ন রয়ে গেল।

পাঠকদের জানিয়ে রাখি, চীনের মেরিটাইম সিল্ক রুটের ধারণা অনেক পুরনো। প্রাচীন চীনের মিং সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে জেং হি (১৩৭১১৪৩৩), যিনি মা হি নামেও পরিচিত ছিলেন, তিনি বিশাল এক নৌবহর নিয়ে প্রায় ছয়শ’ বছর আগে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ঘুরে বেড়াতেন। এভাবেই তিনি এ অঞ্চলের সঙ্গে চীনের একটি সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। আজ চীন মূলত সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই তার মেরিটাইম সিল্ক রুটের ধারণা নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। জানা যায়, ওই সময় মা হি বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে এসেছিলেন। চীন ইতিমধ্যে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড মহাপরিকল্পনার আওতাধীন ৬০টি দেশের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন অব্দি ১২টি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে (যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, চিলি, পেরু, কোস্টারিকা, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হংকং ও তাইওয়ান)। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, নরওয়েসহ গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও শুল্কমুক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ ও ভারত এ তালিকায় নেই। শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি আমাদের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চীনবাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক। এর বাইরে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও চীন একটি সামরিক সহযোগিতামূলক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল। বাংলাদেশ চীনে যা রফতানি করে, আমদানি করে তার চেয়ে বেশি। শুধু ২০১২১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫,৮৬৫ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছেই। ধারণা করা হচ্ছে, চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় ২৫টি প্রজেক্টে ৪০ বিলিয়ন ডলারের সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিলেও নিকট প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখে একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বেশি। চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ কোনো নজির নেই। চীনের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির ধারাকে কোনো কোনো চীনা পর্যবেক্ষক ‘চীনা মার্শাল পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইউরোপকে পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল, যা ‘মার্শাল প্ল্যান’ নামে অভিহিত হয়েছিল। অনেকটা সেই পরিকল্পনার ধাঁচেই চীন এখন পুনর্গঠন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘চায়না মার্শাল প্ল্যান’ হিসেবে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই পরিকল্পনার তিনটি অংশের কথা উল্লেখ করেছেন : . অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, . অন্য কোনো দেশকে ‘প্রভাব বলয়ের’ আওতায় না নেয়া, . অন্য দেশে আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না করা। সাম্প্রতিক সময়ে চীন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক রক্ষা করছে, তাতে এই নীতি প্রতিফলিত হচ্ছে। তাই চীনবাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ‘আধিপত্য’ বা ‘কর্তৃত্ব’ করার প্রশ্নটি কখনও বড় হয়ে দেখা দেয়নি। আজ চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা আসছেন। আমরা তাকে স্বাগত জানাই।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ১৪ অক্টোবর ২০১৬

silk-road

আলবেনিয়ায় মুসলমানদের হাল-চাল

অক্টোবর 5, 2016 মন্তব্য দিন

albania-eid-sep24-2015তাইসির মাহমুদ, তিরানা (আলবেনিয়া) থেকে ফিরে : ভিয়েনা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে তিরানা পৌঁছতে সময় লাগলো প্রায় দেড় ঘণ্টা। এয়ারপোর্টে পৌঁছে হাতঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম স্থানীয় সময় রাত ১২টা। বৃটিশ পাসপোর্ট থাকায় ইমিগ্রেশনে বেশি সময় লাগলো না। আধ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাগেজসহ বেরিয়ে পড়লাম। বাইরে গিয়ে যাতে ঝামেলায় পড়তে না হয় তাই এয়ারপোর্টের ভেতরেই আমরা পাউন্ড চেঞ্জ করে নিলাম। এক পাউন্ডের বিপরীতে পাওয়া গেলো ১৬২ লেক। হিসাব কষে দেখলাম, বাংলাদেশি টাকা আলবেনিয়ান মুদ্রার চেয়ে অনেক বড়। ১ টাকায় ১.৫৫ লেক হয়। মুদ্রার হিসেবে আলবেনিয়ার লোকজনের বাংলাদেশে চাকরি করা লাভজনক। আলবেনিয়ার চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ও কিছুটা বেশি। বাংলাদেশে যেখানে একজন পুলিশ অফিসারের মাসিক বেতন কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা, সেখানে আলবেনিয়ায় ১০ হাজার টাকারও কম।

দুইদিন রাজধানী তিরানায় অবস্থানকালে কোনো বাঙালির দর্শন পাইনি। সম্ভবত মুদ্রামান বাংলাদেশের চেয়ে ছোটো হওয়াটাই মূল কারণ। আমাদের জন্য দুটো গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন আলবেনিয়ান দুজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। বাইরে বেরুতেই তাদের সাক্ষাৎ পেলাম। প্রথম সাক্ষাতে স্বভাবতই ইংরেজিতে কুশল বিনিময় করতে চাইলাম। কিন্তু দেখলাম, তাদের তরফ থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। একেবারে সাধারণ ইংরেজি ‘হাউ আর ইউ’ বা ‘থ্যানক ইউ’ও বুঝেন না। লক্ষ্য করলাম, সহযাত্রী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ খাঁটি সিলেটিতে কথা বলছেন। জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি সিলেটি বুঝেন। সহাস্যে বললেন, ইংরেজিতে কথা বলা আর সিলেটি ভাষায় কথা বলা দুটোই তো সমান। তারা তো কোনো ভাষাই বুঝে না। কী বললাম সেটা বিষয় নয়, ইশারাইঙ্গিতে নৈপুণ্য প্রদর্শনই মূল বিষয়। তাই দুই দিনের সফরের অধিকাংশ সময়ই আমাদেরকে ইশারার ওপর নির্ভর থাকতে হয়েছিলো।

albania_religion_2011_censusগাড়ি দু’টো ছুটলো রাজধানী তিরানা অভিমুখে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম তিনদিনের অস্থায়ী ঠিকানা মেরি গেস্ট হাউজে। হোটেল ম্যানেজার স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ রুম দেখিয়ে দিলেন। চোখে ঢুলুঢুলু ঘুম। ক্লান্তশ্রান্ত দেহ বিলিয়ে দিলাম বিছানায়। তবে ওয়াইফাই সার্ভিস ফিরে পাওয়ায় ওয়াটসআপ আর ফেসবুকের সর্বশেষ স্ট্যাটাসগুলো এক নজরে দেখে নিলাম। নিরাপদে আলবেনিয়া পৌঁছার খবর জানিয়ে দিলাম লন্ডনে পরিবারকে। পরদিন সকাল ১০টায় ট্যুর গাইডসহ একটি মিনিবাস আমাদের নিয়ে যেতে আসবে। হোটেল থেকে বের হবো এগারোটার আগে। তাই নাস্তা সেরে আগেভাগেই প্রস্তুত থাকতে বলা হলো।

সকালে সময়মতো গাড়ি এসে পৌঁছলো। গাড়িতে উঠতেই প্রথম সাক্ষাৎ ট্যুর গাইড ডোনালডএর সঙ্গে। হালকা পাতলা গড়নের যুবক। বয়স পঁচিশ কিংবা ছাব্বিশ হবে। তিরানা ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দ্বিতীয় মাস্টার্স করছেন। নম্র ভদ্র স্বভাবের প্রফেশনাল গাইড। তিরানা শহরের কোথায় কী আছে, সব কিছুই যেনো তার মুখস্থ। গাড়িতে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ফুটবল ম্যাচের ধারা ভাষ্যকারের মতো তিরানা শহরের কোথায় কী আছে, বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে পরিচিত হলাম। তিনি ধর্মে মুসলমান ও খ্রিষ্টানের মাঝামাঝি। বাবা মুসলমান, মা খ্রিষ্টান। তাই দুই ধর্মেই বিশ্বাস। ধর্মের প্রতি সম্মান আছে। কিন্তু এ নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই।

দ্যা মুসলিম কমিউনিটি অব আলবেনিয়ার চেয়ারম্যান মুফতি সিকান্দর ব্রেবসিকএর আমন্ত্রণে আমাদের আলবেনিয়া যাওয়া। দুপুর ১২টায় তার কার্যালয়ে বৈঠক। আধঘণ্টার মধ্যেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মুফতির কার্যালয়ে পৌঁছে গেলাম। মুফতির প্রধান সহকারী এসে আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। এরপর নিয়ে গেলেন কনফারেন্স হলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবেশ করলেন মুফতি। যেহেতু মুফতির সঙ্গে সাক্ষাৎ তাই ধারণা ছিল, মাথায় রঙিন পাগড়ি ও লম্বা জোববা পরিহিত কারো সাক্ষাতের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। কিন্তু তিনি যখন কনফারেন্স রুমে ঢুকলেন তখন বুঝতে অসুবিধা হলো, আমরা যার অপেক্ষা করছি আসলে তিনিই এই ব্যক্তি। শার্টট্রাউজার তো পরেছেন উপরন্তু ক্লিন সেভড। রুমে ঢুকে যখন করমর্দন ও কুশল বিনিময় শুরু করলেন তখনই বুঝতে পারলাম তাহলে তিনিই মুফতি। তবে পোশাক দেখে খুব একটা আশ্চর্য হইনি। কারণ এর আগে মরক্কো ও বসনিয়ায় ভ্রমণ করেছি। সে সব দেশেও অনেক দাড়িবিহীন আধুনিক মুফতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে।

এসব দেশে মসজিদের মেহরাবের কাছাকাছি একটি রুমে নামাজ পড়ার জন্য এক বিশেষ ধরনের জোববা ও টুপি থাকে। শার্টট্রাউজার পরিহিত ইমাম মসজিদে এসে প্রথমে ওই রুমে ঢুকেন। পরনের শার্ট ও ট্রাউজারের উপর জোব্বাটি পরে নেন। তারপর ইমামতি করেন। তাই আলবেনিয়ায় এসব নতুন মনে হলো না। সে যাক, বৈঠকে আলোচনায় স্থান পেলো নানা বিষয়। মুফতি সিকান্দার আলবেনিয়ায় কমিউনিজমের শাসনামল ও মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরলেন।

lead-mosque-in-shkoder-albania-6আলবেনিয়া ইউরোপে অবস্থিত মাত্র ১১ হাজার বর্গমাইলের ছোট একটি দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আর জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লাখ। এর মধ্যে চাকরির সুবাদে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। মুসলিম কমিউনিটি অব আলবেনিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালে। এই সংগঠনের কার্যক্রম চলে কমিউনিজম সরকার আসার পূর্ব পর্যন্ত। ১৯৬৭ সালে কমিউনিজম আসার পরেই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই সালেই কমিউনিজম আলবেনিয়াকে নাস্তিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে মসজিদ ও গির্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করে দেয়া হয়। অথচ ১১২৭ সাল থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত আলবেনিয়ায় মসজিদ ও মুসলমানদের সুদৃঢ় অবস্থান ছিল। কমিউনিজমের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মাত্র কয়েকটি মসজিদ রক্ষা পেয়েছিলো। তাও গুদাম, ওয়ারহাউজ ও পরিত্যক্ত ঘর হিসেবে। ওই সময়কার ইমাম ও মুফতিদের গ্রেপ্তার করে জেলে বন্দি রাখা হয়। শুধু ইসলামিক হওয়ার কারণে বারোজন সুখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদকে ফাঁসি দেয়া হয়। অনেকেই আবার জেলে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯০ সালে কমিউনিজম সরকার চলে যাওয়ার পর মুসলিম কমিউনিটি অব আলবেনিয়ার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। মুসলমানরা ধর্মকর্ম চর্চা শুরু করেন। গত ২৬ বছর সময়ে সারা দেশে ৭শ’ মসজিদ ও দশটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা ৫ হাজারেরও কম। মসজিদ ও মাদরাসাগুলো মুসলিম কমিউনিটি অব আলবেনিয়া পরিচালনা করে থাকে। এতে সরকারি তরফ থেকে ২৫ শতাংশ গ্রান্ট দেয়া হয়। ২৫ শতাংশ আসে ডোনেশন থেকে আর বাকি ৫০ শতাংশ পরিচালিত হয় সংগঠনের নিজস্ব ফান্ড থেকে।

১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর ধর্মহীন কমিউনিজমের শাসনের ফলে মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা নাজুক বলা চলে। মুসলমানদের সংখ্যা এখন প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু প্রাকটিসিং অর্থাৎ নিজেদের জীবনে ইসলামের নিয়মকানুন মেনে চলেন এমন মুসলমানের সংখ্যা ৫ শতাংশেরও কম। মুসলমানেরা হালালহারামের তেমন তোয়াক্কা করেন না। নারীপুরুষের অবাধ চলাফেরা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই। হিজাবের প্রচলন একেবারেই কম। মেয়েরা স্কার্ট পরে পুরুষের হাত ধরে ঘুরে বেড়ানোও খুব স্বাভাবিক।

বৈঠকে মুফতি সিকান্দার ব্রেবসিকএর বক্তব্য শেষ হলে আমাদের পক্ষ থেকে বৃটেনের মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী হলো বৈঠক। আলোচনা শেষে মুফতি সিকান্দর ব্রেবসিক তাদের অফিস ঘুরে দেখালেন। এরই মধ্যে খাবার চলে এলো। এরপর বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। শুক্রবার, জুমার নামাজ পড়তে হবে। ট্যুর গাইড ডোনালড আমাদেরকে নিয়ে গেলো রাজধানীর সবচেয়ে পুরনো মসজিদটিতে।

নামাজে গিয়ে কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন হলো। প্রথমত মসজিদে দাড়িওয়ালা মুসল্লি নেই বললেই চলে। ইমাম সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেখলাম তার অবস্থাও প্রায় একই। পরনে শার্ট ট্রাউজার। দাড়ি আছে খুবই সামান্য। তবে অন্যান্য মসজিদে অনেক ইমামের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের অধিকাংশেরই দাড়ি নেই। দাড়ি রাখা বা না রাখা তাদের দৃষ্টিতে কোনো বিষয় নয়। মসজিদের পৃথক হলে কিছু মহিলা মুসল্লির উপস্থিতি টের পেলাম। সাধারণত মহিলারা মসজিদে পর্দা করেই যান। কিন্তু সেখানকার মহিলাদের পর্দার প্রচলন নেই। আধুনিক পোশাকে যেভাবে শহরে ঘুরে বেড়ান, মসজিদেও তেমনই।

সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন, ৫ অক্টোবর ২০১৬