আর্কাইভ

Archive for the ‘স্বাস্থ্য’ Category

মানসিক চাপ থেকে রেহাই পেতে…

stress reduction infographics

Advertisements

নানামুখী চাপের মুখে ঢাকা শহর…

dhaka under pressure 1adhaka under pressure 1b

সতর্ক হোন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হবার আগেই

heart attack infographicshealthy heart advice

ঘুমাবার সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার

mobile phone during sleep

কানে শোঁ শোঁ শব্দ

কানে শোঁ শোঁ শব্দ, পিরপির করা—এ ধরনের সমস্যার কথা অনেকে বলেন। যে কোনো বয়সেই এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। শব্দ হঠাৎ করে আসে, আবার অনেক সময় চলেও যায়। তবে পাকাপাকিভাবে থেকেও যায় অনেকের কানে। তার সঙ্গে কানে কম শোনা, মাথা ঘোরা, কান বন্ধ লাগা ইত্যাদিও দেখা দিতে পারে।

এসব সমস্যার জন্য কিছু রোগ দায়ী, আবার বয়স বৃদ্ধি বা বার্ধক্যজনিত কারণেও হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এমন বিরক্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

প্রথমে দেখা যাক কী কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

* কানে খৈল জমা, বহিঃকর্ণে কোনো বস্তু আটকে যাওয়া

* মধ্যকর্ণে কফ জমা, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া

* কানে প্রদাহ, মধ্যকর্ণের অস্থির সমস্যা

* অন্তকর্ণের চাপ বৃদ্ধি, শ্রবণসংক্রান্ত স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কানের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ দীর্ঘদিন খাওয়া

আবার সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যা, যেমন-বার্ধক্যজনিত কারণে (৬০ বছরের বেশি বয়স), রক্তশূন্যতা, দীর্ঘদিনের উচ্চরক্তচাপ, মানসিক অস্থিরতা, কিছু ভাইরাস সংক্রমণও কানের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

প্রতিকার ও চিকিৎসা

* ময়লা কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার করা যাবে না

* প্রদাহ ও পর্দা ফেটে গেলে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে

* অনেক সময় শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে

* স্নায়ু সমস্যায় শ্রবণযন্ত্র বা টিনিটাস মাসকার ব্যবহার করলে শোঁ শোঁ শব্দ ভালো হয়ে যায়

* কিছু কিছু ওষুধ প্রয়োগেও কানের শোঁ শোঁ শব্দ কমে যায়

* রিলাক্সজেশন থেরাপি বা ইয়োগা থেরাপির মাধ্যমেও শোঁ শোঁ শব্দ কমে

অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান, পরিচালক, জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট

ডিমের দুর্নাম কতটা সত্য

ডা. শরদিন্দু শেখর রায় : ডিম খাওয়া বেশি ভালো নয়, ডিমের কুসুম খাওয়া যাবে না বা ডিমে কোলেস্টেরল আছে—এসব মিথ সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ডিম সম্পর্কে অনেক ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হতে শুরু করেছে বিগত দশকে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বলেছে,যদি সম্পৃক্ত চর্বি খাওয়া কমিয়ে দিতে পারেন, তবে সপ্তাহে ছয়টি ডিম খাওয়া খারাপ কিছু নয়।

একটা ডিমে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ ৫ গ্রামের মতো। কিন্তু তাতে সম্পৃক্ত চর্বি কম, মোটে দেড় গ্রাম। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, চর্বি একেবারে খাওয়া ভালো নয়, কথাটা সঠিক নয়। যা ভালো নয়, তা হলো সম্পৃক্ত চর্বি এবং ট্রান্সফ্যাট। গরু-খাসির মাংসের জমাট চর্বি, ঘি, মাখন, ক্রিম, পেস্ট্রি ও ডিপ ফ্রাই খাবারে আছে এ ধরনের ক্ষতিকর চর্বি। বাদ দিতে হলে এগুলো বাদ দিন। আর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে কেবল অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দেওয়া নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরং স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকায় ঢোকানো। ডিম হতে পারে এই তালিকার নতুন সদস্য। কেননা ডিমে আছে উপকারী ওমেগা ৩ চর্বি, যা উল্টো রক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য ভালো। তাই পুষ্টি উপাদানহীন খাবার বাদ দিয়ে বরং ডিম খাওয়া ভালো।

এছাড়া ডিমে প্রায় ১১ ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আছে, যা শরীরের জন্য দরকারি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিটামিন ডি, যা বেশির ভাগ খাবারে অনুপস্থিত। ডিমে বায়োটিন নামের পদার্থও আছে, যা আজকাল অনেকে চুল পড়া কমাতে ক্যাপসুল হিসেবে কিনে খান।

ডিম আমিষেরও চমৎকার উৎস। ডিমের আমিষ সহজে হজম ও শোষিত হয় অন্যান্য আমিষের তুলনায়। এটি প্রাণিজ আমিষ, তাই উচ্চমানের। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও গর্ভবতী নারীদের আমিষের চাহিদা পূরণে ডিম নিয়মিত খাওয়া উচিত।

হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

পেয়ারার নানা গুণ

guava nutritionপেয়ারা অতি সুস্বাদু ও উপকারী এক ফল। দেশি ফল হিসেবে পেয়ারার রয়েছে বেশ সুনাম। অনেকেই কাঁচা পেয়ারা মরিচ ও লবণ দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। গরমকালে ব্লেন্ডারে জুস করেও পেয়ারা খাওয়া যায়। অনেকে পেয়ারার জেলি ও মোরব্বা পছন্দ করেন।

ফলটির রয়েছে অবিশ্বাস্য সব উপকারিতা। জেনে অবাক হবেন, ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১৮০ মি. গ্রাম ভিটামিট সি থাকে; যা কমলার তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। আসুন জেনে নেওয়া যাক মজার এই ফলের নানা গুণ-

কর্মশক্তি বাড়ায় পেয়ারা

পেয়ারার ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মাংসপেশী ও স্নায়ু সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজ শেষে অথবা অনেক চাপ নেওয়ার পর একটি পেয়ারা খেলে কর্মশক্তি আবার বেড়ে যায়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

পেয়ারাতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে। এ কারণে এটি ওজন কমাতে বেশ ভালো প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে; যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমায় এই ফল।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি; যা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

পেয়ারাতে লাইকোপেন, কোয়ারকেটিন, ভিটামিন সি ও পলিফেনল আছে; যা শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে খুব সাহায্য করে পেয়ারা। ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও কমায় পেয়ারা।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

পেয়ারাতে ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বাড়ায়; যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

হার্টের সমস্যা কমায়

পেয়ারা ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল নামক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যার ফলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা অনেক কমে যায়। পেয়ারা এইচডিএল নামক কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে

পেয়ারাও ভিটামিন বি৩ ও ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল। এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

গর্ভবর্তীদের জন্য খুবই প্রয়োজন

এর ফলিক এসিড গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন। ফলিক এসিড গর্ভের বাচ্চার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। সেই সঙ্গে এটি বাচ্চাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দূরে রাখে।

কফ দূর করে

পেয়ারার ভিটামিন সি ও আয়রন কফ দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে। কারও যদি কফ জমে যায় গলায় তাহলে সেক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভালো ওষুধ যা মুহূর্তেই কফমুক্ত করে শরীরের ফুসফুস।

পেয়ারার পাতায় রোগ সংক্রমণ দূর

পেয়ারার পাতায় আছে এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ এবং খুব শক্তিশালি এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা; যা ইনফেকশনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। পেয়ারার পাতা দাঁত ব্যথার জন্য খুব ভালো একটি ওষুধ, যা ঘরে বসেই দূর করতে পারবেন।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় রয়েছে

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ০.২১ মি.গ্রাম ভিটামিন বি-১ ও ০.০৯ মি.গ্রাম বি-২, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন ও ১.১ গ্রাম স্নেহ, ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৬ গ্রাম মিনারেল, ০.০৩  মি.গ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ রিবোফ্লেভিন ১.৪ মি.গ্রাম আয়রন, ২৮ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ২০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

সূত্র: বোল্ড স্কাই