আর্কাইভ

Archive for the ‘শিল্প’ Category

শিল্পী ভ্যান গগের চিত্র-রাজ্য পরিভ্রমণ…

van gogh world

Advertisements
বিভাগ:জীবনী, শিল্প

বিনিয়োগ শিল্পায়নে কেইপিজেড

KEPZশফিউল আলম : দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত চট্টগ্রামে অবস্থিত কোরিয়ান রফতানি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প জোন- কেইপিজেড। ইতোমধ্যে এ বিশাল শিল্পাঞ্চলে আংশিক বিদেশী বিনিয়োগে শিল্পায়ন হয়েছে। কেইপিজেড হচ্ছে দেশের প্রথম ও একক কোন বিদেশী বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত শিল্প এলাকা। বন্দরনগরীর অদূরে কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ তীরে আনোয়ারা এলাকায় এটি গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নামীদামী প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের উদ্যোগে এটি বিনিয়োগ শিল্পায়নের বিপুল সম্ভাবনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে। ইয়াংওয়ানের কর্ণধার বয়োবৃদ্ধ কোরীয় শিল্পপতি কিহাক সানের উদ্যোগে কেইপিজেড ছাড়াও অনেক আগে থেকেই চট্টগ্রাম ও ঢাকা ইপিজেডে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানাসমূহ ঈর্ষণীয় সাফল্যের সাথেই পরিচালিত হয়ে আসছে। কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৯ সালে ২ হাজার ৪৯২ একর উঁচু-নিচু টিলাময় বিস্তীর্ণ ভূমি অধিগ্রহণ করে সরকার হস্তান্তর করে। পরিবেশ অধিদপ্তর কেইপিজেডকে ছাড়পত্র দেয় ২০০৯ সালে। সেখানকার অপরূপ পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নিটোল প্রকৃতিকে অটুট রেখেই দক্ষিণ এশিয়ায় নীরবে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে এই শিল্পাঞ্চলটি। কেইপিজেডের মূল কোরীয় কোম্পানি ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতে সর্বপ্রথম বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ইয়াংওয়ান ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানা স্থাপন করে। বর্তমানে দেশে কোরীয় কোম্পানিটির ১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিকের। বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশে ইয়াংওয়ানের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন রয়েছে।

কেইপিজেড শিল্প-কারখানা স্থাপনের সক্ষমতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করলে অন্তত ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ভাগ্য হবে সুনিশ্চিত। কেইপিজেডে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। এর প্রথম কারখানা কর্ণফুলী স্যুজ ফ্যাক্টরিতে এখন ১৮ হাজার শ্রমিক কর্মরত। তাদের মধ্যে ১৫ হাজারই আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা। পরিকল্পিত এই শিল্পাঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো উন্নয়নে ২০ কোটি ডলার এবং একশ’ শিল্প-কারখানা স্থাপনে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কেইপিজেড কোম্পানির। বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী রফতানি বাবদ বার্ষিক আয়ের টার্গেট রয়েছে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের। কেইপিজেড ছাড়াও আনোয়ারা এবং এর আশপাশ এলাকার পটিয়া, কর্ণফুলী, বাঁশখালীতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন হবে প্রসারিত। বিশ্বমানের এই রফতানি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পাঞ্চলটি গত প্রায় ১৬ বছরে ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হয়েছে। কেইপিজেড পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হলে সেখানে নিজস্ব জেটি-বার্থ, আইটি পার্ক, স্কুল-কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভাষা শিক্ষা ও রিসার্চ সেন্টার, টেকনিক্যাল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এরজন্য কারিগরি নকশা তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ, টেলিকম সুবিধা, ব্যাংক, কাস্টমস, সিএন্ডএফ, শিপিং এজেন্ট, ট্রাভেল এজেন্টসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ। বিদেশী বিনিয়োগকারী, নির্বাহী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা, ১৮ হোল গালফ কোর্সসহ অন্যান্য বিনোদন পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। সময়ের হাত ধরে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে আরও সেবা-সুবিধা প্রদান করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও কোরিয়া সরকারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ইপিজেড আইন ১৯৯৬ অনুসারে ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন কোরিয়া বাংলাদেশে একটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে রেজিস্ট্রেশন করে। ক্রয় ও মালিকানা সম্পর্কিত নিয়ম-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ১৯৯৯ সালের আগস্টে কোরিয়ান ইপিজেডকে ভূমি হস্তান্তর করে সরকার কোরিয়ান ইপিজেডকে একটি শিল্প জোন হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরআগে ১৯৯৮ সালে সরকার প্রায় আড়াই হাজার একর পাহাড়ি ভূমি কোরীয় কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দ প্রদান করে। পরিবেশ ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী মোট জমির ৫২ শতাংশ বনায়ন, জলাধার সৃজন ও উন্মুক্ত এলাকা হিসেবে থাকবে। এসব শর্তের নিরিখে ৮২২ একর ভূমিতে ২০ লাখ গাছপালা লাগানো হয়েছে। ৪৭০ একর জায়গায় ১৭টি জলাধার ও উন্মুক্ত এলাকায় ঘাস লাগিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনোদনের জন্য গলফ কোর্স তৈরি হয়েছে।

অবশিষ্ট ১ হাজার ২০০ একর ভূমিতে রাস্তাঘাট ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। সেখানে পাখ-পাখালী ও জীবজন্তুর বিচরণের মধ্যদিয়েই কল-কারখানার চাকা ঘুরছে। যা দেশে একটি ব্যতিক্রমী শিল্প এলাকা। কেইপিজেডে এখন পর্যন্ত ২৪টি কল-কারখানার উপযোগী ভবন নির্মিত হয়েছে। এর আয়তন প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট। মূল পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে একশ’ একর জমিতে তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প (আইটি), ১৪০ একর জমিতে টেক্সটাইল-শিল্প, ৫০ একর জমিতে ওষুধ শিল্প গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, মাঝারি শিল্প গড়ে উঠবে। এরজন্য অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ব্যয় হবে ২০ কোটি ডলার। এরফলে বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে ১২০ কোটি ডলারের। আর বার্ষিক পণ্য রফতানি আয়ের টার্গেট রাখা হয়েছে সোয়া একশ’ কোটি ডলার। কেইপিজেডে শিল্প স্থাপনে কোরীয় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্যামসাং আগ্রহ ব্যক্ত করেছে বলে শিল্পোদ্যোক্তারা জানান। তারা কেইপিজেডে ২শ’ একর ভূমি চায়। তাছাড়া আরও কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠান সেখানে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনে আগ্রহী।

পৃথিবীর ১০টি বিখ্যাত জাদুঘর

world's 10 best museums 1aworld's 10 best museums 1b

মোটর মেকানিক থেকে দেশ সেরা আবিষ্কারক

mizanur rahman inventorএকাডেমিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা এবং চেষ্টায় যে কেউ হতে পারে আলোকিত। যশোরের শার্শা উপজেলার মোটর সাইকেল মেকানিক মিজান তার দৃষ্টান্ত। কঠোর পরিশ্রম ও প্রবল আগ্রহে মিজান এখন দেশসেরা আবিস্কারক ও উদ্ভাবক হতে যাচ্ছেন। নতুন নতুন চিন্তা আর গবেষণায় এখন তার আবিস্কারের সংখ্যা ৮ টি।

১৯৭১ সালরে ৫ মে শার্শা উপজলোর নজিামপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ মিজানুর রহমান পিতা-মাতার ৬ সন্তানরে মধ্যে মিজান ৫ম। দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া শিখতে পারেননি মিজান। ৮/৯ বছর বয়সেই বেঁেচ থাকার তাগিদে নেমে পড়েন মজুরের কাজে। মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো এবং মেরামতের কাজ করেন মিজান। পরর্বতীতে নাভারন বাজারে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান তিনি। সেখান থেকেই তার মোটর মেকানিক হিসেবে র্কমজীবন শুরু হয় তার। র্বতমানে র্শাশা বাজারে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওর্য়াকসপ নামে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে তার। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল নতুন কিছু করা, নতুন কিছু জানা। তবে মেকানিক হেসেবে তার ইঞ্জিন তৈরি করতে প্রবল আগ্রহ ছিল।

মিজানের আবিষ্কার

মিজান প্রথমে উদ্ভাবন করনে হাফ ক্রানসেপ্ট দিয়ে একটি আলগা ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনের সকল যন্ত্রপাতি দেখা যেত বাইরে থেকে। এ ইঞ্জিনটি একবার জ্বালানি তেল দিয়ে চালু করলে পরর্বতীতে আর তেলে লাগতো না। ইঞ্জিনের সৃষ্ট ধোঁয়া থেকে জ্বালানি তৈরি করে নিজে নিজে চলতো ইঞ্জিনটি।

ঢাকার তাজরিন গার্মেন্টস এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির পর মিজান দ্বিতীয় গবষণা করে উদ্ভাবন করনে স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র, যা বাসা বাড়ি, কলকারখানা, অফিস-আদালতে আগুন লাগলে যান মালের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষার্থে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। এটি বিদ্যুত্ না থাকলেও চলবে। এই যন্ত্রটি অল্প জায়গায় রাখা যায়। কোনো জায়গায় আগুন লাগলে যন্ত্রটি তার তাপমাত্রা নির্ণয়ক যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন’র অবস্থান নিশ্চিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলার্ম ও লাইট অন করে দেয়। তারপর একইসাথে সংযুক্ত মোবাইল থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোন করে দেয়, পাশাপাশি যন্ত্রটি পানির পাম্পকে সুইচ অন করে দেয়। যা আগুনের অবস্থান নিশ্চিতের ৫/৭ সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভব হয়। অতঃপর পানির পাম্প’র সাথে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে আগুনের অবস্থান পৌঁছে দেয় এবং অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা বলয়ের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিভে যায়। এটি উদ্ভাবনির পর ২০১৫ সালে যশোর জেলা স্কুেলর একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় মিজান এটি প্রর্দশন করে প্রথমস্থান অধিকার করেন। পরর্বতীতে এটি বিভাগীয় এবং জাতীয় র্পযায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয়স্থান অধিকার করেন।

দেশে পেট্র্ল বোমায় যখন মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল ঠিক সে সময়ে মিজান উদ্বাবন করেন তার তৃতীয় উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ জ্যাকেট। এ জ্যাকেট পরে ড্রাইভার বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। এতে করে আগুনের মাঝে গিয়ে সম্পদ রক্ষা করার সময় তার শরীরে আগুন র্স্পশ করবে না।

তার চর্তুর্থ উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ হেলমেট। এটি ব্যবহার করলে র্দুঘটনার আগুনে গলার শ্বাসনালি পুড়বে না।

তার পঞ্চম উদ্ভাবন হলো প্রতিবন্ধীদের জীবন-মান উন্নয়নে মোটরকার। এটা বিদ্যুত্ বা পেট্র্ল চালিত।

কৃষকদরে জন্য স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন হলো তার ষষ্ঠ উদ্ভাবন। কৃষকরা দূর-দূরান্তরে মাঠে জমিতে পানি দিতে আর ক্ষেতে যেতে হবে না। বাড়ি বসেই সেচযন্ত্রটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তাছাড়া এ যন্ত্রটি জমিতে পানির প্রয়োজন হলে নিজে নিজেই চালু হয় এবং পানির প্রয়োজন না থাকলে এটি একা একাই বন্ধ হয়ে যায়।

দেশীয় প্রযুক্তিতে মিজান তার সপ্তম উদ্ভাবন করেছেন ফ্যামেলি মোটরযান। ব্যবহারযোগ্য এ কার এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মিজানরে অষ্টম উদ্ভাবনে রয়েছে পরিবেশ সেফটি যন্ত্র। এটি পরিবেশ রর্ক্ষাথে বহুমুখী কাজ করে থাকে। যন্ত্রটি বাড়ি, অফিস বা কলকারখানায় ময়লা পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। হাতের র্স্পশ ছাড়াই এ যন্ত্রটি পরিষ্কর করার কাজে ব্যবহার হয়। এ যন্ত্রটি উদ্ভাবনরে পর ২০১৬ সালের ৫ জুন জাতীয় পর্যায়ে মিজান পরিবেশ পদক লাভ করনে। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় র্পযায়ে মিজান এ র্পযšত মোট ১৭টি সাফল্য সনদ ছাড়াও পয়েছেনে অসংখ্যা ক্রেস্ট ও সাফল্য পুরস্কার।

এরই মধ্যে মিজানের আবিষ্কৃত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে ছোট ছোট অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষপেও নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আ : সামাদ জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে না পড়েও একজন অশিক্ষিত লোক বেশ কিছু নতুন জিনিস আবিস্কার করে রীতিমত সাড়া ফেলেছে। আমরা তাকে উৎসাহিত করেছি। সে ডিজিটাল মেলাসহ জাতীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছে।

২০১৭ সালে পরিবেশে বান্ধবযন্ত্র আবিষ্কারে বিশ্ব পরিবেশ পদক নির্ধারিত হওয়ায় আগামী ৫ জুন মিজানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক দেয় পরিবেশে অধিদপ্তর। মিজান জানান, তার স্বপ্ন দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করা। তার র্বতমান উদ্ভাবন গবষেণা চলছে দুষতি বায়ুশোধন যন্ত্র আবিস্কারের।

মস্কোর ব্যাগেল হাউস

moscow bagel house 1নাবীল অনুসূর্য : ডোনাটের মতো দেখতে এক রকম রুটি আছে। নাম ব্যাগেল। গোল রুটির মাঝখানে ফুটো। রাশিয়ায় দুটি বাড়ি আছে এমন আকৃতির। স্থানীয় লোকজন আদর করে বাড়ি দুটিকে বলে ‘ব্যাগেল হাউস’। অবশ্য ব্যাগেল হাউস শুধু এই আকৃতির জন্যই নয়, বরং বেশি বিখ্যাত এদের বিশালত্বের জন্য। ৯ তলা বাড়ি দুটির একেক তালায় আছে ৯ শর বেশি অ্যাপার্টমেন্ট। সেগুলোতে যাওয়ার জন্য গেট আছে ২০টি করে। অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের নানা সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সেবার ব্যবস্থাও আছে। আছে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের দোকান। আর ফার্মেসি, লন্ড্রি, স্টুডিও, পোস্ট অফিস ইত্যাদি আছে একটি করে। মাঝের বিশাল চত্বরজুড়ে খেলার মাঠ আর সবুজ উদ্যান। মানে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে এই বিল্ডিং কম্পাউন্ড থেকে বের হওয়ার দরকারই নেই।

এই স্বয়ম্ভূ বাড়ি বানানোর কৃতিত্ব দুই রাশান ভদ্রলোকের। স্থপতি এভগেনি স্তামো ও প্রকৌশলী আলেকজান্ডার মারকেলোভ। তাঁদের মাথায় এ ধরনের বাড়ি বানানোর ভাবনা আসে সত্তরের দশকের শুরুতে। ১৯৭২ সালেই প্রথম ব্যাগেল হাউসটা তাঁরা বানিয়ে ফেলেন। একেবারে রাজধানী মস্কোতেই। দেড় শ মিটার আয়তনের একদম আংটির মতো আকৃতির একটা বাড়ি। সেটি নগর কর্তৃপক্ষের ভীষণ পছন্দও হলো। বিশেষ করে তত দিনে ১৯৮০ সালের অলিম্পিক যে মস্কোতে হচ্ছে, তা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ তাই ঠিক করল, অলিম্পিক উপলক্ষে পাশাপাশি এমন পাঁচটা বাড়ি বানানো হবে। পাঁচটি বৃত্তাকার বাড়ি মিলে তৈরি হবে অলিম্পিক রিং।

সে উদ্দেশ্যে কাজও শুরু হলো। কিন্তু দোভজহিয়োনকা স্ট্রিটে দ্বিতীয় বাড়িটির কাজ শেষ হতে হতে ১৯৭৯ সাল হয়ে গেল। তত দিনে প্রজেক্টের কপালও ফুটো হয়ে গেছে। কারণ ইতিমধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। তাই এই ভীষণ খরুচে পরিকল্পনা থেকে কর্তৃপক্ষ সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। তা ছাড়া বাড়িগুলো বানাতে যেমন খরচ, দেখভাল করতেও তা-ই। আকারে বিশাল এবং সব সুযোগ-সুবিধা আছে বটে; কিন্তু বসবাস করার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার জন্য ২০টি গেটের কোনটি দিয়ে ঢুকতে হবে, তারপর কোন পথে গেলে সেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তা রীতিমতো এক ধাঁধাই বটে। আর সবচেয়ে বড় কথা, পাঁচটি বিল্ডিং একত্র করে যে অলিম্পিক রিংটা তৈরি হবে, সেটি এখানে ঘুরতে আসার মানুষরা তো দেখতে পারবেই না, এমনকি অনেক ওপর থেকে ছবি তোলা না হলে তা বোঝাই সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে তাই পাঁচটা নয়, দুটিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল ব্যাগেল হাউসের সংখ্যা।

তাজমহলের ভবিষ্যৎ

erasing tajmahalতসলিমা নাসরিন : তাজমহল বিশাল এক প্রেমের সৌধ। সম্রাট শাহজাহান বানিয়েছেন স্ত্রী মমতাজ মহলকে ভালোবেসে। যদি ভালোই বাসতেন তিনি, অনেকের প্রশ্ন, তাহলে মমতাজ মহলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হবে জেনেও কেন বিয়ে করেছিলেন অন্য কাউকে, কেন মমতাজ মহলকে বিয়ে করার পরও বিয়ে করার লোভ সামলাতে পারেননি, কেন মমতাজের মৃত্যুর পরও উপপত্নী রাখলেন? যদি ভালোই বাসতেন, ১৯ বছরে ১৪টি সন্তান জন্ম দিতে মমতাজকে বাধ্য করেছিলেন কেন, ১৪তম সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই তো মমতাজের মৃত্যু হলো। যদি মমতাজকে তিনি ভালোই বাসতেন, এত উপপত্নী বা রক্ষিতাই তিনি কী করে রাখতেন! এসবের উত্তর যাই হোক না কেন, আমি মনে করি, ভালো না বাসলে তাজমহলের মতো সৌধ গড়ে তোলা যায় না। তাঁর সব ত্রুটি নিয়েই তিনি মমতাজকে ভালোবাসতেন। মমতাজ ছাড়া আর কোনও পত্নী বা উপপত্নীর জন্য তিনি সৌধ গড়েননি।

এই তাজমহল পৃথিবীর অন্যতম এক আশ্চর্য। এই তাজমহল ভারতের গৌরব। ভারত সম্পর্কে কিছু না জানলেও মানুষ তাজমহল সম্পর্কে জানেন। লক্ষ লক্ষ দেশি-বিদেশি মানুষ প্রতিবছর এই তাজমহল দেখতে আসেন। আর এই তাজমহলের নামই কিনা উত্তর প্রদেশের নতুন পর্যটন প্রচার পুস্তিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তাজমহল তৈরি হয়েছে মুসলিম আমলে, সুতরাং হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্য, এই তাজমহল ভারতের গৌরব হতে পারে না। কারণ মোগল সম্রাটেরা হিন্দুদের নির্যাতন করেছে, হিন্দুদের হাজার হাজার মন্দির ভেঙে দিয়েছে। তাই তাজমহলের নাম বাদ দিয়ে পর্যটন পুস্তিকায় দেওয়া হয়েছে গোরক্ষপুর মঠের নাম। হিন্দুদের মঠ মন্দিরের নাম থাকবে পর্যটন পুস্তিকায়, মুসলমানদের সৌধ বা মসজিদের নাম থাকবে না, কারণ মুসলমানেরা হিন্দুদের নির্যাতন করেছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই বহিরাগত মুসলিমরা হিন্দুদের নির্যাতন করেছে। নির্যাতন তো ইংরেজরাও করেছে। কিন্তু যারা সম্রাট আকবরকে ঘৃণা করে, তারা কিন্তু লর্ড ক্লাইভের বিরুদ্ধে কিছু বলে না, যারা জাহাঙ্গীরকে ঘৃণা করছে, তারা হেস্টিংসের ব্যাপারে একেবারেই চুপ। এর মানে কি এই নয় যে অত্যাচারী ইংরেজকে যতটা অপছন্দ, অত্যাচারী মুসলিমকে তারও চেয়ে বেশি অপছন্দ!

হিন্দু মুসলমানের ঘৃণার ফলে ভারত ভাগ হয়েছে। এই ঘৃণার ফলে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। পাকিস্তানে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে। হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করে জোর জবরদস্তি ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। হিন্দুরা ভয়ে দেশ ছাড়ছে। বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের কট্টর মুসলমান যেমন ঘৃণা করে হিন্দুকে, ভারতের কট্টর হিন্দুও তেমন ঘৃণা করে মুসলমানকে। ভারতবর্ষে কট্টর হিন্দুরা আগে এত ক্ষমতা পায়নি, তাই তাদের ঘৃণার প্রকাশও খুব একটা দেখতে পাইনি। এইবার দেখছি গো-রক্ষকদের তাণ্ডব, গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তুলে মুসলমানদের খুন করা, হিন্দু মৌলবাদ, হিন্দুর কুসংস্কার ইত্যাদির নিন্দে করেছেন বলে কয়েকজন মুক্তচিন্তকের খুন হয়ে যাওয়া।

ভারতের কংগ্রেস আর সিপিএম নেতারা বলেছেন,‘পর্যটন পুস্তিকায় তাজমহলের নাম না থাকাটা একপ্রকার তামাশা, আর বাজেট তহবিল থেকে তাজমহল বাদ পড়ার ঘটনা দুঃখজনক। এই ঘটনা পুরোপুরি ধর্মীয় পক্ষপাতদুষ্ট। ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার। তাজমহলের সঙ্গে জাতপাত, সম্প্রদায়ের কোনও যোগ নেই। এ দেশে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বাস করে। এভাবে তাজমহলের নাম বাদ দেওয়া থেকে বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য বোঝা যায়। রাম দিয়ে শাহজাহানকে ঢাকতে চাইছে বিজেপি। তাই শাহজাহানের প্রেমের সৌধ তাজমহল এখন মেরুকরণের রাজনীতির মধ্যমণি। ’

উত্তরপ্রদেশ সরকার আগ্রার চেয়ে অযোধ্যা নিয়ে ভাবছেন বেশি। অযোধ্যায় রামরাজ্য বানানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন “ভারতীয় সংস্কৃতির অনুকূল নয় তাজমহল।” উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সংগীত সোম তো আরো ভয়ঙ্কর কথা বলে দিয়েছেন। বলেছেন তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতিতে কলঙ্ক চিহ্ন। এই কলঙ্ককে সমূলে উৎপাটন করা উচিত। শাহজাহান হিন্দুদের খতম করতে চেয়েছিলেন, সুতরাং তাজমহলের ইতিহাসই বদলে ফেলা দরকার। আরেক নেতা বিনয় কাটিয়া বলেছেন, শিবের মন্দির ভেঙে বানানো হয়েছে তাজমহল, এই মন্দিরের নাম ছিল তেজোমহল। মুসলমান নেতারা বসে নেই। সমাজবাদী পার্টির আজম খান বলেছেন,“শুধু তাজমহল কেন, গুঁড়িয়ে ফেলা হোক সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, লালকেল্লাও। সেগুলোও বহন করছে গোলামির ইতিহাস। সেগুলোও দাসত্বের প্রতীক। ”

মেরুকরণের এই রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আগ্রায় তাজমহল দেখতে যাবেন। তাজমহলের জন্য অর্থ বরাদ্দও করবেন। তবে জানিয়ে দিয়েছেন একটি কারণেই তিনি তাজমহলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা হলো, তাজমহল ভারতের শ্রমিকদের পরিশ্রমের ফসল। মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দিতে চান অযোধ্যাকে। সরযূ নদীর তীরে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু রামের মূর্তি স্থাপনের তোড়জোড় করছেন। ভবিষ্যতে রাম-মাহাত্ম্য এমন প্রচার করা হবে যে অযোধ্যার গুরুত্ব তাজমহলের চেয়ে বেড়ে যাবে। বিজেপির অনেকে বলছেন, এই মুহূর্তে গোটা দুনিয়ায় তাজমহলই পর্যটনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তাই রাতারাতি তাজমহলকে উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। কিন্তু ভারতের হিন্দু সংস্কৃতির ধারক হিসেবে অযোধ্যাকেই ভবিষ্যতে গড়ে তোলা হবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে।

হিন্দুত্ববাদীরা মনে করছেন, বাবরি মসজিদের মতো করে তাজমহলের নিষ্পত্তি যদি সহজ না হয়, তবে বরং হিন্দু মন্দির হিসেবে তাজমহলকে অধিকার করা জরুরি। ভারতের একটি মুসলিম স্থাপত্য নিয়ে পৃথিবীর এত উচ্ছ্বাস দেখতে তারা রাজি নন। তাজমহলকে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে তাঁরা কিছুতেই মানবেন না। তাজমহলকে ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হতে হবে, তাহলেই এই স্থাপত্য নিয়ে হিন্দুরা গর্ব করবেন। হিন্দুত্ববাদীরা বলেন, তাজমহল যেমন হিন্দু মন্দির ছিল, মক্কার কাবাও একসময় হিন্দু মন্দির ছিল। টুইটার ফেসবুকজুড়ে মুসলিম মৌলবাদীরা যেমন তাদের হিন্দু বিদ্বেষ ছড়িয়ে বেড়ান। হিন্দু মৌলবাদীরাও এখন তাই করছেন, মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। তাজমহলের ইতিহাস রচনা করছেন। সাধারণ হিন্দুরা বিশ্বাস করছেন এই ইতিহাস।

১৯৮৯ সালে পি এন ওক নামে এক লোক বলেছিলেন, তাজমহল আসলে তেজোমহল নামের একটি শিবমন্দির, ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেও একসময় একটি শিবমন্দির ছিল। এই পি এন ওককে কেউ তখন গুরুত্ব দেননি। আজ তাঁর সেই হাস্যকর দাবিগুলোকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাজমহলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খানিকটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। যে হারে মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে উঠছে হিন্দুরা, মনে হয় তাজমহল যত্নহীন পড়ে থাকবে, নয় একে শিবমন্দিরই বানিয়ে ফেলা হবে। শুনেছি কিছুদিন আগে তাজমহলে গিয়ে কয়েকজন হিন্দু মৌলবাদী শিবের মন্ত্র পড়ে পুজো টুজো দিয়ে এসেছেন। এটি যে আরো ঘটবে না তা হলফ করে বলা যায় না। হিন্দুত্ববাদী নেতারা সাধারণ হিন্দুর মাথা নষ্ট করছেন প্রতিদিন। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ যদি মুসলিম রাষ্ট্র হতে পারে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর দেশ কেন হিন্দু রাষ্ট্র হবে না! এই হলো তাদের কথা। মৌলবাদীরা কোনও দেশের মঙ্গল আনে না, না মুসলমানের দেশে, না হিন্দুর দেশে। আশা করি দুর্যোগ কাটবে।

বাঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরী করলেন মুসলমান শিল্পী

101 feet high durga statue 1a101 feet high durga statue 1b