আর্কাইভ

Archive for the ‘শিক্ষা’ Category

বিদেশী ডক্টরেট ডিগ্রী সংস্কৃতি’র নেপথ্যে…

foreign PhD culture

Advertisements

আলোকবর্তিকা অবলা বসু

abola basu 2তাহেরা বেগম জলি : মহান বিদ্যাসাগরের জন্মের ৪৫ বছর পর এবং মহীয়সী বেগম রোকেয়ার জন্মের ১৫ বছর আগে আমাদের দেশে জন্ম নিয়েছিলেন আর এক বিস্ময়নারী। তিনি বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর একান্ত সঙ্গী লেডি অবলা বসু। স্বামী মি. বসুর পাশাপাশি, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনিও নিজের কর্ম জগতে বিচরণ করেছেন এবং নিজের বলয়ে তিনি ছিলেন অবিশ্বাস্য উজ্জ্বল। ক্ষণজন্মা এই নারী নিজের সমস্ত জীবনীশক্তি দিয়েই বুঝেছিলেন, নারী এবং শিশুদের জীবনের অন্ধকার দূর করার মধ্যেই নিহিত আছে, আমাদের সমাজ এবং জীবনের প্রাণশক্তি। বিদ্যাসাগর, অবলা বসু এবং বেগম রোকেয়া প্রায় সমসাময়িক কালে জন্ম নেয়া এই তিনজন মহান মানুষ,ধারাবাহিকভাবে নারী এবং শিক্ষা সঙ্কট নিয়ে লড়াই করে গেছেন। তারা প্রত্যেকেই জন্মদায় হিসেবেই মনে হয় পেয়েছিলেন নারী লাঞ্ছনা দূর করার দায়ভার এবং নিজের নিজের ক্ষেত্রেও তারা ছিলেন সভ্যতার সফল কারিগর।

বিদ্যাসাগর কাল ১৮২০ সেপ্টেম্বর ২৬-১৮৯৬ জুলাই ২৯, অবলা বসু কাল-১৮৬৫ ( মতান্তরে ১৮৬৪) আগস্ট ৮-১৯৫১ আগস্ট ২৬, বেগম রোকেয়া কাল-১৮৮০ ডিসেম্বর ৯-১৯৩২ ডিসেম্বর ৯। তাদের আবির্ভাব এবং কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতা দেখলে মনে হবে, এ যেন সভ্যতা নির্মাণের রিলে রেস। যেন একজনের অসমাপ্ত কাজ অন্যজনের পরম মমতায় বহন করে নিয়ে চলা। স্মরণ করা যেতে পারে, এই তিনজনই নারীর অবরুদ্ধ জীবন এবং শিক্ষা সঙ্কটকে দেখেছিলেন সামাজিক সঙ্কটের কেন্দ্র হিসেবে। অবলা বসুর আগে এবং পরে যে দু’জন নারীবান্ধব সৈনিক দেখা দিয়েছিলেন আমাদের এই ধরা ধামে, তারা যে নারী জাতির জন্য কতখানি যুধ্যমান ছিলেন, সেই গৌরবময় অতীত প্রতি মুহূর্তে আমাদের আজও রোমাঞ্চিত করে।

তবে আজ আমাদের আলোচনার কেন্দ্র হবে শ্রীমতী বসু। কথাটা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক, বিদ্যাসাগরের পরে বাংলার নারী সমাজের মুক্তির দূত যদি অবলা বসুকেই বলা হয়, তবেই তাকে প্রকৃত সম্মান দেয়া হয়। কিন্তু কেন যে তাকে অতি যত্নে গ্রাম বাংলার নারী সমাজের কাছে অচেনা করে রাখা হয়েছে, তা ভেবে দেখবার বিষয় বা কেউ কেউ শুধু বিজ্ঞানী মি. বসুর সহধর্মিণী হিসেবেই তাকে দেখতে পছন্দ করেন। অথচ শ্রী বসু এবং তিনি ছিলেন পাশাপাশি চলমান দুই শক্তিধর মানুষ। বেগম রোকেয়া এবং অবলা বসুর মধ্যে বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছরের। প্রায় সমসাময়িক সময়েই এই দুই দিকপাল ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নারী সমাজকে অন্ধকার মুক্ত করতে, নারী সমাজের শৃঙ্খল মুক্তির মহাযজ্ঞে। যখন মহীয়সী বেগম রোকেয়া এক হাতে বই-কলম এবং অন্য হাতে আলোর মশাল নিয়ে ছুটে চলেছেন বিরামহীন। তখন আলোকময়ী অবলা বসুও এক হাতে বই-কলম এবং অন্য হাতে আলোর মশাল হাতে সমান গতিতে ছুটে চলেছেন বাংলার পথে প্রান্তরে। একের পর এক তিনি গড়ে তুলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার সংখ্যা হবে দু’শ’র ওপরে। অবলা বসুর অসাধারণ এই কীর্তি আজও আমাদের মনে বিস্ময় জাগায়। অবশ্য বিদ্যাসাগর থেকে রবীন্দ্রনাথ, এই সময় কাল পর্যন্ত আমাদের দেশে মহা জাগরণ উঠেছিল শিক্ষা এবং নারী মুক্তি আন্দোলনের। সে আজ আমাদের কাছে শুধুই সুখ স্মৃতি। বিশেষ করে নারী মুক্তি আন্দোলনের গৌরবময় সেই ধারাবাহিকতার আজ নির্মম ছন্দ পতন যে ঘটেছে, তা আমরা জীবন দিয়ে প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করছি।

আমাদের দেশের নারীদেহ আজ প্রায় শিয়াল শকুনের খাদ্য এবং শিক্ষাকে পরিণত হয়েছে ধনী সমাজে বিলাসী সামগ্রীতে। একবিংশ শতাব্দীর অধিকার সচেতন এই যুগেও আমাদের বাল্যবিবাহের কাছে করতে হচ্ছে আত্মসমর্পণ এবং তা আইনসম্মতভাবে! আজও আমাদের দেশের মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে পিতৃ সম্পত্তি থেকে। অথচ ঠিক এর দেড় শ’ বছর আগে বাংলার আকাশে উদয় হয়েছিল অবলা বসু নামের উজ্জ্বল নক্ষত্রের। যিনি জীবনের সন্ধানে ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। কিন্তু আমরা, সেই অবলা বসুর স্বপ্নের দেশেই আজও হামাগুড়ি দিচ্ছি নিকষ কালো অন্ধকারে! এই দুঃখজনক রহস্যের উৎস কোথায়? তা অনেকটা গবেষণারই বিষয়! যাই হোক ফিরে আসি অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর পথযাত্রী অবলা বসুর কাছে।

বিক্রমপুরের বিখ্যাত দাশ পরিবারের সন্তান, নারী সমাজের পথিকৃৎ লেডি অবলা বসুর জন্ম ৮ আগস্ট ১৮৬৫ (মতান্তরে ১৮৬৪) বরিশালে। বাংলা ১২৭১ সালে। পদ্মার গর্ভে হারিয়ে যাওয়া বিক্রমপুরের ছোট্ট গ্রাম তেলিরবাগের দুর্গামোহন দাশ, যিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের অন্ধকার সমাজের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোসহীন যোদ্ধা। বহু বিবাহ বন্ধ, বিধবা বিবাহ প্রবর্তন ও নারী শিক্ষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের যোগ্য উত্তরসূরি। ব্রাহ্ম সমাজের মুখপাত্র এই দুর্গাদাশেরই কন্যা লেডি অবলা বসু। অবলা বসুর মাতা শ্রীমতী ব্রহ্মময়ী দাশ অবরুদ্ধ নারী সমাজের অন্ধকার ঘুচাতে, নিজের স্বকীয়তা নিয়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে এবং বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ছিল তার আপোসহীন পদচারণা।

শ্রীমতী বসুর ভাই তৎকালীন প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট জেনারেল সতিশ রঞ্জন দাশ। বোন ‘গোখলে মেমোরিয়াল স্কুলের’ প্রতিষ্ঠাতা সরলা রায়।

গোপাল কৃষ্ণ গোখলে (গোখলে) এখানে কিছু আলোচনার দাবি রাখে। গোপাল কৃষ্ণ গোখলে ছিলেন ভারতীয় হিসেবে কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি। তবে তার থেকেও তার বড় পরিচয়, তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার দাবি নিয়ে ১৯১০ সালে প্রথম সরব হয়েছিলেন। নারী সমাজকে তখন ১০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হতো। মি. গোখলেই প্রথম নারীদের এই প্রাপ্ত বয়স নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন। সম্ভবত সেই কারণেই, বিদুষী দুই বোন, তাদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নারী এবং শিক্ষাবান্ধব মি. গোখলের নাম জড়িয়ে নেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং ভারতের পঞ্চম মুখ্য বিচারপতি সুধীরঞ্জন দাশ ছিলেন অবলা বসুদের নিকটাত্মীয়।

অবলা বসুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় বরিশালে। বরিশালেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন কলকাতার বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে বেথুন স্কুলে। বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় এবং বেথুন স্কুলের তিনি ছিলেন প্রথম ছাত্রীদের অন্যতম।

তিনি ১৮৮১ সালে ২০ টাকা বৃত্তি প্রাপ্ত হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এন্ট্রান্স পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাবা দুর্গামোহন দাশের ইচ্ছা, কন্যা অবলা ডাক্তার হবে। তৎকালীন সময়ে কলকাতায় নারীদের ডাক্তারি শিক্ষার সুযোগ না থাকায়, অবলা বসু ১৮৮২ সালে মাদ্রাজে যান ডাক্তারি পড়তে। অসুস্থতাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত ডাক্তারি পড়া তার আর হয়ে ওঠে না। ডাক্তারি পাঠ অসমাপ্ত রেখেই ফিরে আসতে হয় তাকে। তবে সেখানে তিনি ডাক্তারি বিদ্যার ওপর দুই বছরের একটি নির্দিষ্ট কোর্স শেষ করেছিলেন। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে তাকে একটি ‘সার্টিফিকেট অফ অনার’ দেয়া হয়েছিল।

অতঃপর ১৮৮৭ সালে বিজ্ঞানাচার্জ জগদীশচন্দ্র বসুর সঙ্গে অবলা বসু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯১০ সালে লেডি অবলা বসু ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি স্কুলটি পরিচালনা করেন। নতুন করে সাজিয়ে সেই স্কুলটিকে তিনি করে তুলেছিলেন আরও গতিশীল। একই সঙ্গে দিদি সরলা রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে, গোখলে মেমোরিয়াল স্কুলটি প্রতিষ্ঠার কাজে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে তিনি নিজেকে যুক্ত করেন ।

লেডি অবলা বসু ১৯১৯ সালে ‘নারী শিক্ষা সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সংগঠনের মাধ্যমে মুরলীধর মহাবিদ্যালয় এবং গ্রাম এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দু’শ’ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষিতে এই সকল দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তার সম্বন্ধ শুধু মসির সঙ্গেই নয়, অসি ধরার দুঃসাহসিক কাজেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তার সমসাময়িক কালে বিধবাদের দুর্বিষহ জীবন বড় ভাবিয়ে তুলেছিল মহীয়সী এই বঙ্গকন্যাকে। তাই শিক্ষা আন্দোলনের পাশাপাশি বিধবাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বিদ্যাসাগর বাণীভবন’ ‘মহিলা শিল্পভবন’ ও ‘ বাণীভবন ট্রেনিং স্কুল নামের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলেন তিনি। যেখানে বিধবাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলে, তার তৈরি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত বিধবাদের নিয়োগ দেয়া হতো। তাছাড়া ‘নারী শিক্ষা সমিতি’র মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও তিনি পরিচালনা করতেন। বসু বিজ্ঞান মন্দিরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, লেডি অবলা বসু স্বামীর মৃত্যুর পর, তার সঞ্চিত এক লাখ টাকা দিয়ে ‘অ্যাডালটস প্রাইমারি এডুকেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভগিনী নিবেদিতার নাম।

তৎকালীন বাংলার নারী মুক্তি এবং নারী শিক্ষা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে অবলা বসু ছিলেন একটি পরিচিত দুরন্ত মুখ। অথচ আজ তিনি আমাদের সমাজে প্রায় অচেনা হিসেবেই পড়ে আছেন! সে সময়কার জনপ্রিয় ইংরেজী পত্রিকা ‘মডার্ন রিভিউ’-এ নারী শিক্ষা এবং নারী স্বাধীনতার ওপর তার বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। বিভিন্ন বাংলা সাময়িক পত্রিকায় বেরিয়েছিল তার কিছু প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী। অবলা বসুর বিভিন্ন সময়ে লেখা কিছু প্রবন্ধ একটি সঙ্কলনেই পাওয়া যায়- শকুন্তলা শাস্ত্রি প্রকাশিত ‘বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র ও লেডি বসুর প্রবন্ধাবলী’ নামে। ১৩০২ থেকে ১৩৩২ এই সময়কালের মধ্যে ‘মুকুল এবং প্রবাসী পত্রিকায় নিজের ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিখে তিনি দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন, নারী যদি মানুষ হওয়ার সংগ্রাম করে, তবে সে কত উঁচুতে উঠতে পারে এবং জীবনকেও দেখতে পারে কতভাবে। ঠিক এইখানটাতেই তিনি প্রকৃতই নারী সমাজের অগ্রদূত। বাংলা ১৩০২ অগ্রহায়ণ ও পৌষ সংখ্যার মুকুল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তার কাশ্মীর ভ্রমণ কাহিনী। এই কাহিনী লিখতে গিয়ে, শুরুতে অবলা শিশুদের উদ্দেশে লিখেছিলেন,‘ইংলন্ড প্রভৃতি সুসভ্য দেশের বালক বালিকাগণ বাল্যকাল হইতেই ভ্রমণ বৃত্তান্ত পড়িতে ভালবাসে, তাহার সুফল হয় এই যে, বয়ঃপ্রাপ্ত হইয়া তাহারা নূতন দেশ আবিষ্কারের জন্য প্রাণ পর্যন্ত ত্যাগ করিতে প্রস্তুত হয়। …. আমাদের এই ভ্রমণ বৃত্তান্ত পাঠ করিয়া এতটা না হইলেও আশা করি তোমাদের মধ্যে অনেকের মনে নানা স্থান ভ্রমণ করিয়া প্রকৃতির শোভা দেখিবার আগ্রহ জন্মিবে।’

এখান থেকে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, অবলার চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাস করত আমাদের শিশুরা। কিভাবে শিশুদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা ছিল অবলার জীবনের ধ্যানজ্ঞান। ভ্রমণকেও জীবন গড়ে তোলার উপায় হিসেবে দেখতে পাওয়া, অবলার এই বিচক্ষণতার পরিচয়, তাকে চিনতে আমাদের সাহায্য করে। ভ্রমণ, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল তার জীবনের কর্মশক্তির অন্যতম উৎস।

পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরেছেন অবলা। বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু যখন তার বিজ্ঞানের বাণী পৌঁছে দেয়ার জন্য ছুটছেন বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে। প্রায় সব জায়গাতেই তার সঙ্গী ছিলেন অবলা এবং অবলার এই ভ্রমণ যে শুধুই স্বামীসঙ্গ ছিল না, তিনি জীবনভর তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন তার প্রতিটি পদক্ষেপে। তার ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, তিনি ১৯৩২ সালের প্রবাসীতে লিখিত আকারে প্রকাশ করেছিলেন ‘বাঙ্গালী মহিলার পৃথিবী ভ্রমণ’ নামে। তার এই লেখায় তাদের ইউরোপ ভ্রমণের কারণ এবং বিজ্ঞানী সমাজে তাদের গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘বহুদেশ ভ্রমণে দেশ সেবার নানা উপাদান সংগ্রহ করিতে পারিয়াছি। সে কথা বলিতে গেলে ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ হইতে আরম্ভ করিতে হয়। সেই বৎসর আচার্য বসু মহাশয় অদৃশ্য আলোক সম্বন্ধে তাহার নূতন আবিষ্ক্রিয়া বৈজ্ঞানিক সমাজে প্রদর্শন করিবার জন্য ব্রিটিশ এসোসিয়েশনে আহূত হন। তাহার সহিত আমিও যাই। এই আমার প্রথম ইউরোপ যাত্রা। ইহার পর ৫/৬ বার তাহার সহিত পৃথিবীব্যাপী ভ্রমণে বাহির হইয়াছি। আমার ভ্রমণকালের মধ্যে পৃথিবীর ইতিহাস নানাভাবে ভাঙ্গিয়াছে ও গড়িয়াছে, এক আমার বয়সেই ইউরোপে কত কত পরিবর্তন দেখিলাম।

ভারতীয় বিজ্ঞানের আধুনিক ধারাকে, অক্লান্ত পরিশ্রমে পশ্চিমি দুনিয়ায় পরিচিত করে তুলেছিলেন বাঙালী বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। এই উপলক্ষেই তাদের ইউরোপ ভ্রমণ এবং অবশ্যই এই ভ্রমণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা তবে এই ভ্রমণ আজও চেতনার গভীর থেকে আমরা দেখতে পেরেছি বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অবলা বসুর বয়ানে সেই দুঃখবোধ ফুটে ওঠার চিহ্ন আমরা দেখতে পাই। ‘এতকাল তো ভারতবাসী বিজ্ঞানে অক্ষম এই অপবাদ বহুকণ্ঠে বিঘোষিত হইয়াছে, আজ বাঙ্গালী এই প্রথম বিজ্ঞান সমরে বিশ্বের সম্মুখে যুঝিতে দণ্ডায়মান। ফল কী হইবে ভাবিয়া আশংকায় আমার হৃদয় কাঁপিতেছিল, হাত-পা ঠাণ্ডা হইয়া আসিতেছিল। তারপর যে কী হইল সে সম্বন্ধে আমার মনে স্পষ্ট কোন ছবি আজ আর নাই। তবে ঘন ঘন করতালি শুনিয়া বুঝিতে পারিলাম যে,পরাভব স্বীকার করিতে হয় নাই। বরং জয়ই হইয়াছে।’ এই ভ্রমণের এই সময় কালেই কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তাদের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিল।

বিদেশের কথা লিখতে গিয়ে প্রকৃতির নানা বর্ণনার পাশাপাশি ঘুরে ফিরে ছোটদের কথাই লিখেছেন অবলা। ‘ইতালির লুপ্তনগরী।’ তার সেরা বিদেশ ভ্রমণ কাহিনী।

জগদীশচন্দ্র এবং অবলার একমাত্র সন্তান জন্মের পরেই মারা যায়। পরবর্তী জীবনে আর কোন সন্তান তাদের জীবনে আসেনি। সমাজের হাজারো শিশুদের মধ্যে অবলা খুঁজে নিয়েছিলেন সন্তানের অপূর্ণতা। আমরা যে নৈর্ব্যক্তিক মাতৃত্ব-পিতৃত্বের কথা বইয়ে পড়েছি, সেই নৈর্ব্যক্তিক পিতৃত্ব-মাতৃত্বের মহান সৌন্দর্য ধরা দিয়েছিল বসু দম্পতির উচ্চতর মানবিক জীবনে।

ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর, পম্পেই নগরী অবলা বসুর মনে বলতে গেলে ঝড় তুলেছিল। একবার-সারাদিন সেই মৃত নগরী ঘুরে, সন্ধ্যায় শেষ বারের মতো শহরটার দিকে তাকিয়ে তার কল্পনায় ভেসে উঠলো ‘একটি গৃহ ক্রমে ক্রমে ভস্মে ঢাকিয়া যাইতেছিল। সেই গৃহে একটি নারী দু’হাতে তার শিশুটিকে উচ্চে ধরিয়া রহিয়াছিল। ভস্মস্তূপ ক্রমে ক্রমে উচ্চ হইয়া দুঃখিনী মাতাকে নিমজ্জিত করিতেছিল। কিন্তু সেই অগ্নির প্রসার হইতে শিশুকে রক্ষা করিতে হইবে। জ্বলন্ত ভস্মস্তূপ তিল তিল করিয়া দগ্ধ করিয়াও জননীকে একেবারে অবসন্ন করিতে পারে নাই। কী যেন এক মহাশক্তি, দুঃসহ যন্ত্রণা দমন করিয়া রাখিয়াছিল! মাতার হস্ত দুইটি মৃত্যু যন্ত্রণাতেও অবশ হইয়া পড়ে নাই। দুই সহস্র বৎসর পরে সেই ঊর্ধ্বত্থিত করপুটে সন্তানটি পাওয়া গিয়াছে। সেই মাতার স্নেহস্পর্শে যেন অতীত বর্তমানের সহিত মিলিয়া গেলো। একই দুঃখে, একই স্নেহে, একই মমতায় সেকাল ও একাল, পূর্ব ও পশ্চিম যেন বান্ধা পড়িলো! তখন পম্পেইর মৃত রাজ্য সঞ্জীবিত হইয়া উঠিলো এবং রাজপথ আমার চক্ষে অকস্মাৎ লোকজন পূর্ণ হইলো!

অবলা বসুর সৃষ্টিশীল জীবন আমাদের চেতনায় এই বলে প্রতিধ্বনি তোলে, ‘শ্রীমতী অবলা বসু হয়ে উঠেছিলেন প্রকৃতই বাংলার পরমাত্মীয়। একাধারে আমরা তাকে পেয়েছি নারী সমাজের যুধ্যমান পথিকৃৎ হিসেবে। অন্যদিকে তিনি ছিলেন শিশু জীবনের কাণ্ডারি। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছি, বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর সঙ্গে তিনি ক্লান্তিহীন ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর পথে পথে। আবার আমরা দেখি কি পরম মমতায় তার জীবনের পরতে পরতে মিশে ছিলো আমাদের সন্তানেরা। এ কথা না বললেই নয়, বাংলার নারী সমাজের বেদনা দূর করতে তিনি আত্মপ্রকাশ করেছিলেন প্রকৃত সৈনিকরূপেই। আজ এই ঘোর অন্ধকারে, আমাদের অবলা বসুর দিকে ফিরে তাকাতেই হবে। যে দেশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, লেডি অবলা বসু, মহীয়সী বেগম রোকেয়ার আবির্ভাব ঘটে, সেই দেশের নারী বা শিশুদের জীবনে অন্ধকার কিছুতেই স্থায়ীরূপ পেতে পারে না। আমাদের নারী এবং শিশুসমাজের জীবন, মানবিক অধিকারে উন্নীত করার লড়াইয়ে, শক্তিমান অবলা বসু আজ হয়ে উঠুন আমাদের আঁধারের আলো।

পরীক্ষায় নকলের আছর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও!

copying in IB -nd181117copying in IB -nd181117-2

পাঠ ও পাঠাগার

আতাউর রহমান :পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক শ্রীমণিশংকর চ্যাটার্জি (শংকর) একদা কৌতুকচ্ছলে লিখেছিলেন,‘আমাদের কলকাতায় প্রচুর মুখার্জি আছে, চ্যাটার্জি আছে, ব্যানার্জি আছে; কিন্তু কোনো এনার্জি নেই।’ তাঁর অনুসরণে বলা যেতে পারে—আমাদের ঢাকায় বনেদি-বেবনেদি এলাকানির্বিশেষে সেলুন আছে, বেলুন আছে, লন্ড্রি আছে, ফাউন্ড্রি (ঢালাইয়ের কারখানা) আছে; বিদ্যালয় আছে, চিকিৎসালয় আছে; বিফ-বার্গার আছে, ঔষধাগার আছে, কিন্তু (অতীব দুঃখের বিষয়) কোনো পাবলিক পাঠাগার নেই। সাম্প্রতিক মার্কিন মুলুক সফরকালে ব্যাপারটা প্রায়ই আমার মনের কোণে উঁকিঝুঁকি মারত।

তা আমি ‘পাঠাগার’ শব্দই–বা ব্যবহার করছি কেন? তৎপরিবর্তে লাইব্রেরি শব্দ তো অধিকতর সুপরিচিত আর শোনায়ও সুন্দর। আমাদের দেশের এক লোক কলকাতায় গিয়ে সবজির দোকানে ‘বাইগন দাও’ বলতেই ‘ঘটি’ দোকানদার বলে উঠল,‘বাইগন বলছ কেন? বেগুন বলো। সেটা সুন্দর শোনায়।’ বাঙাল তখন খেপে গিয়ে বলেছিল,‘সুন্দরই যখন শুনবার চাও তখন “প্রাণেশ্বরী” বললেই পারো, আরও বেশি সুন্দর শোনাইব।’ বাঙালির রসবোধের প্রশংসা করতেই হয়!

সে যা হোক। নিউইয়র্ক নগরী যে পাঁচটি ‘বরো’ তথা অঞ্চলে বিভক্ত, তার প্রতিটিতেই প্রায় হাঁটা দূরত্বে একাধিক পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত, যদিও ওখানে হেঁটে চলাফেরা করে খুব কম লোকই। তো ব্রঙ্কস বরোর বৃহৎ পাবলিক লাইব্রেরিতে পত্রিকা পড়তে গিয়ে বেশ খানিকটা হোঁচট খেতে হলো—পত্রিকাগুলো টেবিলের ওপর রাখা নেই, সহকারী লাইব্রেরিয়ানের ড্রয়ারে। ওঁর কাছ থেকে পাঠান্তে ফেরত প্রদানের নির্দেশনাসহ পত্রিকার প্রাপ্তি ঘটল। আমার উৎসুক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন,‘টেবিলে রাখলে না বলে নিয়ে চলে যায় যে।’ এবার আমার বিস্মিত হওয়ার পালা। আমেরিকার মতো জায়গায়, যেখানে একটা দৈনিকের দাম ৫০ সেন্ট থেকে বড়জোর ২ ডলার, সেখানে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, সেটা স্বকর্ণে ঘোড়ার মুখ থেকে না শুনলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো বৈকি।

কিন্তু আরও বিস্ময় বুঝিবা অপেক্ষায় ছিল। ওখানকার পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে স্বভাবতই শতকরা ৯০ ভাগ বই থাকে ইংরেজি ভাষার, অবশিষ্ট ১০ ভাগ থাকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রধান কয়েকটি ভাষার। বাংলা ভাষারও একটা সেকশন আছে। তো কুইন্স বরোর বৃহৎ পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখা গেল, বাংলা সেকশনে উভয় বাংলার শখানেক বইয়ের মাঝখানে এই ক্ষুদ্র লেখকের একখানা কেতাবও সগৌরবে বিরাজ করছে। ইংরেজি ভাষায় একটা কথা আছে,‘নো ম্যান ইজ আ হিরো টু হিজ ওয়াইফ’—কোনো পুরুষই তার স্ত্রীর কাছে হিরো নয়। জনৈক বিখ্যাত লেখকের স্ত্রীকে নাকি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁর স্বামীর কোন বইটি তাঁর সবচেয়ে ভালো লাগে; তদুত্তরে তিনি জানালেন,‘ওঁর চেক বইটি।’ আমি তাই অতঃপর সফরসঙ্গিনী সহধর্মিণীকে উপহাসচ্ছলে বললাম,‘দেখো গিন্নি, তুমি ও তোমার সরকার আমার তিন দশকের সাহিত্য-সাধনার প্রকৃত মূল্যায়ন না করলেও মার্কিন সরকার কিন্তু ঠিকই করেছে, ওদের লাইব্রেরিতে আমার বই রেখেছে।’ আসলে বন্যার তোড়ে বৃক্ষরাজির সঙ্গে খড়কুটোও ভেসে আসে।

ফিরে আসি ঢাকায় অঞ্চলভিত্তিক পাবলিক লাইব্রেরির ব্যাপারটায়। পাবলিক লাইব্রেরিটা হাঁটা দূরত্বে হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। আমাদের ঢাকায় শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে নিয়মিত যাতায়াত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। আর কষ্ট করে ওখানে পৌঁছালেও যে বসার জায়গা ও যথাস্থানে ঈপ্সিত বই পাবেন, সে ব্যাপারে আপনাকে কোনো গ্যারান্টি দিতে পারছি না। সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পিএসসিসহ প্রায় সব সরকারি দপ্তরে ছোট-বড় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত আছে। কিন্তু ওগুলোতে ম্যাঙ্গো-পাবলিক তথা আমজনতার প্রবেশাধিকার নেই; আর যাঁদের জন্য লাইব্রেরি, তাঁরা কদাচিৎ ওখানে পদধূলি দেন। আমার ইচ্ছে হয় বলি,ওগুলোকে বাইরে বের করে নিয়ে এলে প্রায় নিখরচায় অঞ্চলভিত্তিক পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা হয়ে যেত এবং বিমুক্ত জায়গাগুলো অফিসের অন্যান্য কাজে লাগত। কিন্তু জানি, এবংবিধ প্রস্তাব সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেবের ভাষায় বন্ধ্যাগমনের ন্যায় নিষ্ফল হবে।

বাকি রইল ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। পৃথিবীখ্যাত নাট্যকার হেনরিক ইবসেন যথার্থই বলেছেন,‘যাঁর বাড়িতে একটি লাইব্রেরি আছে, মানসিক ঐশ্বর্যের দিক দিয়ে সে অনেক বড়।’ স্রষ্টার কৃপায় বর্তমানে এ দেশে বিত্তশালী লোকের অভাব নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত লাইব্রেরির ব্যাপারে তাঁদের অধিকাংশের জীবনে বোধ করি মুজতবা আলী সাহেবের গল্পটিই প্রযোজ্য: নব্য ধনীর স্ত্রী বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে স্বামীর জন্য একটি উপহার কিনতে গেছেন। সেলসম্যান এটা দেখায়, ওটা দেখায়, কিছুই তাঁর পছন্দ হয় না, সবই তাঁর স্বামীর আছে। অবশেষে সেলসম্যান বইয়ের কথা বলতেই তিনি বলে উঠলেন, ‘বইও ওঁর একটা আছে।

তা কম্পিউটারের কল্যাণে আমেরিকায় বহু বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। চেইন বুকস শপ ‘বর্ডারস’ তো গেছেই, ‘বার্নস অ্যান্ড নোবল’ও যাওয়ার পথে। তবে যে শাখাগুলো আছে, সেগুলোর অধিকাংশেই গ্রাহক যতক্ষণ খুশি বসে থেকে বই পড়তে ও ভিডিও দেখতে পারেন, চাই তিনি বই প্রভৃতি কিনুন আর না কিনুন। বিলেতের বিখ্যাত বইয়ের দোকান ‘ফয়েলস’-এও দেখেছি অবস্থা তদ্রূপ। অথচ আমাদের এখানকার যত্রতত্র ‘লাইব্রেরি’ নামধারী বইয়ের দোকানগুলোতে তেমন ব্যবস্থা নেই। ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে কিছুদিন ‘এটসেটরা’ (etc) নামে এরূপ একটা দোকান চলেছিল,ওখানে মাঝেমধ্যে গিয়ে বই পড়া ও বই কেনা হতো। বোধ করি লাভজনক হয়নি বিধায় ওটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আমরা আর্থিক লাভটাকেই সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখি কিনা।

যাকগে। শেষ করছি লাইব্রেরি-সংশ্লিষ্ট একটি চুটকিলা দিয়ে গভীর রাতে একজন লাইব্রেরিয়ান যখন নিদ্রামগ্ন, তখন তাঁর কাছে একটা টেলিফোন এল। টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘লাইব্রেরি কখন খোলে?’ প্রত্যুত্তরে তিনি বিরক্তি সহকারে বললেন, ‘সকাল ১০টায়। কিন্তু এত গভীর রাতে আমাকে এই প্রশ্ন করার মানে কী?

‘১০টার আগে খুলবেন না?’ প্রশ্নকারী হতাশ কণ্ঠে পুনরায় প্রশ্ন করলেন। ‘কিছুতেই না,’ তিনি বললেন, ‘কিন্তু আপনি ১০টার আগে কেন লাইব্রেরির ভেতরে যেতে চান?

‘আমি ভেতরে যেতে চাই না,’ প্রশ্নকারী এবারে বললেন, ‘আমি বাহির হতে চাই।

পুনশ্চ: মরুভূমিতে মরূদ্যানের মতো আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সাহেবের ভ্রাম্যমাণ পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

আতাউর রহমান: রম্য লেখক ৷ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ৷

কর ফাঁকিতে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও

US uni tax evasionকর ফাঁকি দিয়ে মুনাফা বাড়াতে অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের লোভ সামলায়নি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ফাঁস হওয়া প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারির নথিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নথিতে দেখা যায়, বিশ্বের নামকরা ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সব্রিজ কলেজগুলোর প্রায় অর্ধেকই গোপনে অফশোর তহবিলে কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে তেল অনুসন্ধান ও গভীর সমুদ্রে খননকাজের উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগে নেওয়া একটি বিনিয়োগ প্রকল্পও রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম করস্বর্গ বলে পরিচিত কেম্যান আইল্যান্ডে কয়েক শ কোটি ডলারের প্রাইভেট ইকুইটি পার্টনারশিপ ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বিনিয়োগ রয়েছে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বিনিয়োগের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ‘ব্লকার’ বলে পরিচিত করপোরেশনগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারভিত্তিক একটি তহবিলের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে করা হয় এসব বিনিয়োগ।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০০৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফরাসি উপকূলের কাছের গার্নসে দ্বীপের ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি ‘কোলার ইন্টারন্যাশনালে’ ৩৪ লাখ ডলার খাটিয়েছে। দুটি পৃথক তহবিলে এ অর্থ বিনিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তহবিলগুলোতে অর্থ আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের ও এর অধীন কলেজগুলো থেকে। একই প্রকল্পে ১৭ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

বিভিন্ন অফশোর কোম্পানিতে এভাবে নামীদামি দুই বিশ্ববিদ্যালয় বিনিয়োগ করায় তাদের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের হিসাববিদ্যা বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রেম শিখা। তিনি বলেন, কেম্যানের সব প্রতিষ্ঠানই গোপনীয়তা ও কর ফাঁকির প্রস্তাব দেয়। এর বাইরে সেখানে কিছুই নেই। এটা এমন কোনো জায়গা না যেখানে বিজ্ঞান, গবেষণা বা জ্ঞান বাড়িয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্রিয় হওয়ার সুযোগ আছে।

দ্য গার্ডিয়ান, ১০ নভেম্বর ২০১৭

= = =

কর ফাঁকি ॥ তালিকায় হার্ভে শাকিরা ম্যাডোনাসহ বহু তারকা

প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি থেকে বাদ গেলেন না আলোচিত হলিউড তারকারাও। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পপ তারকা শাকিরা ও ম্যাডোনাসহ বহু তারকা এই তালিকায় জড়িয়ে পড়েছেন। আছেন সমপ্রতি যৌন কেলেঙ্কারির দায়ে আলোচিত হার্ভে ওয়েইস্টেইনও।হলিউড তারকারা কর ফাঁকি দিতে বারমুডার অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। ল ফার্ম অ্যাপেলবাই থেকে ফাঁস করা ৭০ লাখ নথির ৩৯ পৃষ্ঠার তথ্যে জানা যায়, পপ তারকা ম্যাডোনা ১৯৯৮ সালে বারমুডার সেইফগার্ড মেডিক্যাল লিমিটেডের দুই হাজার শেয়ার কিনেছিলেন।

নথিতে ম্যাডোনার সিক্কোনি দেওয়া আছে। তার পুরো নাম ম্যাডোনা লুইস সিক্কোনি। এই সম্পর্কে ম্যাডোনার লন্ডন ভিত্তিক প্রচারণা কোম্পানিকে জিজ্ঞাসা করা হলে কোনো মন্তব্য করেনি।

কলম্বিয়ার সংগীত শিল্পী ও গীতিকার শাকিরা মাল্টার কোম্পানি টার্নশিউল লিমিটেডে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছেন। ২০০৯ সালে সাকিরা সংগীতজগত, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ এবং ট্রেডমার্কস থেকে পাওয়া অর্থ টার্নশিউল লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছেন। হার্ভে ওয়েনস্টেইন বাহমা দ্বীপপুঞ্জের একটি মেডিক্যাল কোম্পানিতে ২০০১ সালে ২ হাজার শেয়ার কিনেছিলেন।

একই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন লাইফস্টাইল গুরু মার্থা স্টুয়ার্টও। এছাড়া তারকা নিকোল কিডম্যান ও জাস্টিন টিমবারলেকও অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন।

দ্য গার্ডিয়ান

কোচিং সেন্টার মালিকের সম্পদের খোঁজে দুদক

হকিকত জাহান হকি : এবার কোচিং সেন্টার মালিকদের সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা ১১০টি কোচিং সেন্টারের তালিকা সামনে রেখে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়। ভর্তি বাণিজ্য এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বন্ধে বিশেষ অভিযানের পর এবার কোচিং সেন্টারের ভিত ভেঙে দিতে কাজ শুরু করা।

দুদক সূত্র জানায়, ১১০ সেন্টারের বিরুদ্ধে অবৈধ কোচিং, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়া পরীক্ষার্থী সরবরাহ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। কোচিং সেন্টার মালিকরা কীভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন, তাদের নামে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকতে পারে- এসবই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা হবে। তাদের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হবে। পরে ওই হিসাব যাচাই করা হবে। এ সময় যাদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সারাদেশের কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে সিংহভাগই গড়ে উঠেছে ঢাকা মহানগর এলাকায়। যৌথ মালিকানাধীন কোচিং সেন্টারগুলো রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন ও একক মালিকানাধীন সেন্টারগুলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অবাধে ব্যবসা করছে।

এর মধ্যে সরাসরি কোচিং ব্যবসার কথা উল্লেখ করে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিয়েছে ১৯টি কোচিং সেন্টার। এই তালিকায় প্যাসিফিক, ভার্সিটি, বীকন, সানরাইজ, ক্ল্যাসিক, মেডিক্যাল, আইকনসহ  অন্যান্য কোচিং সেন্টারের নাম রয়েছে। আরও ৩১৭টি প্রতিষ্ঠান তাদের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্রে নানাভাবে কোচিং শব্দ উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কোচিং করাবে তা নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়নি।

দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন সমকালকে বলেন, কোচিং সেন্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকে এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে এটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদকের একটি সূত্র জানায়, অনুসন্ধান কার্যক্রম তদারক করবেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে বলেন, শিক্ষা মানুষের অধিকার। শিক্ষা নিয়ে যারা বাণিজ্য করে তারা এ দেশের শত্রু। যে কোনো আদলেই হোক না কেন কোচিং ব্যবসা সম্পূর্ণরৃপে অবৈধ। কোচিং সেন্টার খোলার জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। বিগত দিনে যেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলো বাতিল করা উচিত। যারা কোচিং ব্যবসার অনুমতি দিচ্ছেন তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। দেশের সর্বনাশ করছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের কোচিং ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয় না। তিনি আরও বলেন, যারা এই অবৈধ ব্যবসার অনুমতি চাইবে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

আরজেএসসি নিবন্ধক মো. মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিয়ে সরকারের সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবসা করার প্রয়োজন হলে সেটা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, যে কেউ যৌথ মূলধনি ব্যবসা করার জন্য আরজেএসসির নিবন্ধন নিতে পারে। তাদের ব্যবসা শুরু ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এই প্রতিষ্ঠান থেকে দেখা হয় না।

দুদকে পেশ করা অভিযোগে বলা হয়, সারাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে। অভিভাবকদের পকেট থেকে যাচ্ছে এই টাকা। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে কোচিং সেন্টারগুলো। শুধু শহরে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সেন্টারগুলো ঢাকার বাইরে একের পর এক শাখা খুলছে।

খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনামধন্য শিক্ষকরাও ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের বাসা-বাড়িতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাচে বাণিজ্যিকভাবে কোচিং করাচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা করে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করলেও ওইসব প্রতিষ্ঠান আরজেএসসি ও সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নিয়ে অবাধে কোচিং ব্যবসা চালাচ্ছে।

১১০টি কোচিং সেন্টারের নাম :অভিযোগে উল্লেখ করা মোট ১১০টি কোচিং সেন্টারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ৩৩টি, মেডিকেলে ভর্তির ১৫টি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ৫টি, মেরিন, টেক্সটাইল, ক্যাডেটের জন্য ৬টি, একাডেমিক কোচিং সেন্টার ১৮টি, বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির জন্য ১৪টি ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার ১৯টি কোচিং সেন্টারের নাম রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কোচিং সেন্টার একাধিক খাতে কোচিং করাচ্ছে। খাত ভিত্তিক হিসেবে ১১০টির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইউসিসি, ইউনিএইড (কিরণ, কবির, সুমন), ইউনিএইড (মনির, মল্লিক, জহির), ফোকাস, সানরাইজ, গার্ডিয়ান, ডিভাইন, এইউসিসি (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), সাইফুর, ইপিপি (শুধু ক-ইউনিট), ডিইউসিসি, ডি-হক স্যার, লিডস, হোপ, আইকন প্লাস, ভয়েজ, মেরিন, আইকন, কোয়ান্টা, দুর্বার, প্যারাগন, অ্যাডমিশন এইড, প্রাইমেট, প্লাজমা, এইউএপি, সংশপ্তক, এফ্লিক্স, এডমিশন প্লাস, এডমিয়ার, ইউএসি, ইউরেনাস, পিএসি ও ইঞ্জিনিয়ার্স কোচিং সেন্টারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির উদ্ভাস, রেটিনা, সানরাইজ, পিএসি, কর্ণিয়া, ডিএমসি, মেডিকো, দি রয়াল, গ্রীন অ্যাডমিশন এইড, থ্রি ডক্টরস, ফেইম, প্রাইমেট, প্লাজমা, এভিস ও মেডিকেয়ারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উদ্ভাস, সানরাইজ, পিএসি, ওমেকা ও মেরিনাথের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মেরিন-টেক্সটাইল-ক্যাডেটে ভর্তির জন্য ইম্যাক, ভয়েজ, মিরপুর ক্যাডেট কোচিং (ফার্মগেট শাখা), মেরিন গাইড, অ্যাডমিয়ার ও বর্ণ কোচিং সেন্টারের নাম রয়েছে। একাডেমিক কোচিং সেন্টার হিসেবে সানরাইজ, ডিভাইন, উদ্ভাস, ম্যাবস, অপরাজিতা, আইডিয়াল একাডেমি, রিয়াল, সেন্ট তেরেসা, অন্বেষা, ফেইম মবিডিক, ক্রিয়েটিভ, উদ্দীপন, ই-হক, বিইউপি, সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড, দুরন্ত, অভিযাত্রিকের নাম রয়েছে।

বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির জন্য কনফিডেন্স, বীকন, ওরাকল, ক্যারিয়ার এইড, এইউএপি, সাকসেস, সুগন্ধা, হোপ, প্রাইম একাডেমি, বিসিএস আপগ্রেড, ওয়ান ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, ইউনিট, গ্লোবাল প্রফেশনাল একাডেমি ও ডিফেন্স গাইড কোচিং সেন্টারের নাম উল্লেখ করা হয়। ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সাইফুর’স, এফএম মেথড, ইংলিশ ওয়ার্ড, ব্রিজ কাউন্সিল, সুগন্ধা, হোপ, টার্গেট, নজরুল, ওয়ান ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, হিলস, এজিসিসিসি, ওরি, গ্লোবাল, লিডার, ইংলিশ সেন্টার, এলফিক্স, বিজয়, সিডি মিডিয়া ও লিবার্টি ইংলিশ কোচিং সেন্টারের নাম রয়েছে।

বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়

আবদুল কাদের : বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আহরণের আঁতুড়ঘর। আর শিক্ষকরা নিঃসন্দেহে মানুষ গড়ার কারিগর। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ার স্বপ্ন মেধাবী শিক্ষার্থীদের তো থাকেই! অনেক অভিভাবকও চান তাদের সন্তানরা এসব বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করে খ্যাতির উচ্চশিখরে আরোহণ করুক। প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠগুলোকে নিয়ে জরিপ করে থাকে। বিভিন্ন বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন সূচকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণ করা হয়।

১ শীর্ষে এমআইটি

MIT campusসেরার তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। বিদ্যাপীঠটি মূলত শরীরবিদ্যা এবং প্রকৌশলী গবেষণার জন্য বিখ্যাত হলেও বর্তমানে জীববিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায়ও ব্যাপক সমাদৃত। ১৮৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ শহরে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিখ্যাত বিদ্যাপীঠটির সফলতার ঝুলিতে রয়েছে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিগত অবদানের ইতিহাস। পেনিসিলিনের প্রথম রাসায়নিক বিক্রিয়া গবেষণা, রাডারের বিকাশ, কোয়ের্ক আবিষ্কার এবং চৌম্বকীয় কোর মেমোরি উদ্ভাবন বিদ্যাপীঠটিকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে পাঁচটি আলাদা আলাদা স্কুল।

স্কুলগুলো হলো—স্থাপত্য ও পরিকল্পনা, প্রকৌশল, মানবিক, শিল্প ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও বিজ্ঞান। ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য এই বিদ্যাপীঠে রয়েছে এক হাজার ফ্যাকাল্টি। ‘এমআইটি’র শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, বিগ ডেটা, স্টেইনএবল এনার্জি, হিউম্যান হেলথসহ আরও অসংখ্য উন্নয়নমূলক গবেষণায় যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানসহ ৮৫ জন নোবেল বিজয়ী, ৫৮ জন বিজ্ঞানী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ জন নামজাদা গবেষক এবং উদ্ভাবকও রয়েছেন।

২ স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি

ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে একই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণার জন্য বিখ্যাত বিদ্যাপীঠটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮ হাজার ১৮০ একর জমির ওপর নির্মিত বিদ্যাপীঠটিতে রয়েছে ১৮টি গবেষণা ভবন এবং সাতটি বিশাল বড় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসগুলো হলো—গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব আর্থ, শক্তি ও পরিবেশ বিজ্ঞান স্কুল, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব অ্যাডুকেশন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, মানবিক ও বিজ্ঞান, আইন স্কুল ও মেডিসিন স্কুল। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২ হাজার ১৮০ ফ্যাকাল্টি এবং এক হাজার ৮০০ ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিলিকন ভ্যালি’র সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত বিদ্যাপীঠটিতে পড়াশোনা করেছেন ১৯ জন নোবেল বিজয়ী, দুজন প্রেসিডেন্ট, ১৭ জন মহাকাশচারীসহ অনেক নামজাদা খেলোয়াড়।

৩ পিছিয়ে নেই হার্ভার্ডও

Harvardবিশ্বের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠগুলোর একটি হার্ভার্ড। ১৬৩৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬৩৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান জন হার্ভার্ডের নামে এর নামকরণ করা হয়। বিশ্বসেরার তালিকায় এর অবস্থান তিন নম্বরে। আইভি লীগের বিশ্ববিদ্যালয়টি অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তি তৈরির আঁতুড়ঘর ছিল। বিখ্যাত এই বিদ্যাপীঠ থেকে ৪৫ জন নোবেল বিজয়ী, ৩০ জন রাষ্ট্রনায়ক এবং ৪৮ জন পুলিত্জার জয়ী পড়াশোনার সোনালি অধ্যায় শেষ করেন। হার্ভার্ডের ইতিহাসে তিন লাখ ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে এসেছিলেন ২০১টি দেশ থেকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন যাদের মধ্যে জন এফ কেনেডি অন্যতম। ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত বিদ্যাপীঠটির রয়েছে ১২টি স্কুল, দুটি থিয়েটার এবং ৫টি জাদুঘর।

৪ ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি

CalTechমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। নামই বলে দেয় বিদ্যাপীঠটি বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী গবেষণার জন্য স্বীকৃত। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডোনার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মেধাবীরা এই বিদ্যাপীঠকে ক্যালটেক নামেই চেনেন। শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে খোঁজে জটিল সব প্রশ্নের উত্তর। বিদ্যাপীঠটির শিক্ষার্থীরা এখানে আধুনিক সব আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা তো করেই, পাশাপাশি এসব গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপ দেওয়াটাও এখানকার শিক্ষার্থীদের নেশা। ক্যালটেকের রয়েছে ছয়টি একাডেমিক বিভাগ যেখানে সর্বদা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেয়। খুব কম সংখ্যক সৌভাগ্যবানই এ বিদ্যাপীঠে পড়াশোনার সুযোগ পান। বিদ্যাপীঠটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিখ্যাতদের সংখ্যাও কম নয়। ৩৫ জন নোবেল বিজয়ী এবং ৭১ জন মার্কিন মেডেল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখানে লেখাপড়া শেষ করেন। নাসার বেশির ভাগ মহাশূন্যযানের ডিজাইন ও কার্যকারিতা ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে দেখাশোনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নানা জাতীয় ক্ষেত্রেও বিদ্যাপীঠটির রয়েছে বড় অবদান।

৫ ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ

Cambridgeবিশ্ববিদ্যালয়টি গত বছরের সেরাদের তালিকায় ছিল চার নম্বরে। এ বছর নেমে এসেছে পাঁচ নম্বরে। ১২০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। ইংরেজি ভাষাভাষী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ক্যামব্রিজ পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। এমনকি পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও বিদ্যাপীঠটি চতুর্থ। ৮০০ বছরের পুরনো এ বিদ্যাপীঠ থেকে বিশ্বের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পাঠ নেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩১টি কলেজে বিভক্ত যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা ১৫০টি অনুষদে পাঠের সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ছয়টি প্রাচীন স্কুল রয়েছে। সেগুলো হলো-শিল্প ও মানবিক, জৈবিক বিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল মেডিসিন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান, শারীরিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিবিদ্যা। ক্যামব্রিজ জুড়ে আছে ১০০টিরও বেশি লাইব্রেরি যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ১৫ লাখেরও বেশি বই। রয়েছে শিল্পকলা, বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক জাদুঘরও যা সাধারণের জন্য খোলা থাকে সারা বছর। রয়েছে সবুজ বোটানিক্যাল গার্ডেনও। ব্রিটিশদের এই বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষাজীবন পার করেন ৯০ জন নোবেল বিজয়ী। স্যার আইজ্যাক নিউটন, স্টিফেন হকিং, চার্লস ডারউইন, জগদীশ চন্দ্র বসু, শ্রীনিবাস রামানুজন, জে থমসনসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন কাটিয়েছেন।

৬ মেধাবীদের স্বপ্ন অক্সফোর্ড

Oxford৯২১ বছরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বছরে ২২ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার পাঠ নেন। ১৪০ দেশের মেধাবীরা পড়াশোনা করতে আসেন এখানে। বিদ্যাপীঠটি ৪৪টি কলেজ ও হল নিয়ে গঠিত। রয়েছে ১০০টিরও বেশি লাইব্রেরি। ব্রিটিশ রাজ্যে এটি সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ। অক্সফোর্ডের অ্যালামনাইদের ‘অক্সনিয়ান’ বলা হয়। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার বিখ্যাত ব্যক্তির শিক্ষাজীবন কেটেছে এই বিদ্যাপীঠে। ৪ জন ইংরেজ রাজা, ৮ জন বিদেশি রাজা, ১২০ জন অলিম্পিকজয়ী, ২৬ জন নোবেল বিজয়ী, বিখ্যাত ৭ জন সাহিত্যিক, ৩০ জন বিশ্বনেতা (বিল ক্লিনটন, ইন্দিরা গান্ধীসহ আরও ২৬ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী), ৭ জন ধর্মযাজক, ১৮ জন ‘কার্ডিনাল’ এবং একজন পোপ পড়েছেন অক্সফোর্ডে। স্টিফেন হকিং, অস্কার ওয়াইল্ড, মার্গারেট থ্যাচারও উঠে এসেছেন এ বিদ্যাপীঠ থেকেই।

৭ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন

সেরা বিদ্যাপীঠের তালিকায় রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনও। প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চলে এই বিদ্যাপীঠটি। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিজ্ঞান ও গবেষণা, প্রকৌশলী, ওষুধ এবং ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর বেশি জোর দেয়। বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে কলেজের পাশাপাশি রয়েছে প্রাকৃতিক, ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট জাদুঘর। এমনকি, এখানকার শিক্ষার্থীরা একটি বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিনও প্রকাশনা করে থাকে। সান আলেকজান্দ্রার ফ্লেমিংসহ আরও ১৩ জন নোবেল বিজয়ীর শিক্ষাজীবন কেটেছে এখানে।

৮ ইতিহাস জড়ানো প্রিন্সটন

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৭৪৭ সালে নিউ জার্সিতে এ বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠিত হয়। খেলাধুলা আর নানা বিনোদনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয়। সেরা বিদ্যাপীঠের তালিকায় প্রিন্সটন আট নম্বরে। গবেষণার জন্যও বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪০ জন নোবেল বিজয়ী শিক্ষাজীবন শেষ করেন। বিখ্যাত এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে নোবেল অর্জন করেন এমন কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন রসায়নবিদ টমাস লিন্ডহাল ও ওসামু শিমোমুরা, অর্থনীতিবিদ পল কারগমান ও অ্যাঙ্গাস ডায়টন এবং পদার্থবিজ্ঞানী আর্থার ম্যাকডোনাল্ড ও ডেভিড গ্রস।

৯ ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো

Chicago১৮ শতকে জন ডি রকফিলারের আর্থিক সহায়তায় আমেরিকার শিকাগোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যাপীঠটি আধুনিক গবেষণা ও আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। মূলত আবিষ্কার ও গবেষণার ওপর এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বের মোট ৮০ জন নোবেল বিজয়ী এবং আমেরিকার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত ৩০ জন ব্যক্তি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক বছর ধরে বিদ্যাপীঠটির নোবেলজয়ী ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে রবার্ট ই লুকাস, জেমস জে হ্যাকম্যান, রজার মেয়রসন, লার্স পিটার হ্যানসন অন্যতম।

১০ ইয়েল ইউনিভার্সিটি

১৭০১ সালে কানেক্টিকাটে সেব্রুক কলিজিয়েট নামে প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর ১৫ বছর পর বিদ্যাপীঠটি নিউ হ্যাভেনের ২৬০ একর জমির ওপর স্থানান্তরিত হয়। ১৭১৮ সালে সেই নাম পরিবর্তন করে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করা হয়। সেই সময় অর্থাৎ ১৮৬১ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার জন্য এটিই ছিল একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪টি স্কুল এবং মানবিক, কলা, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পরিচালিত।

ধনী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় : পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

PennStateমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনী শিক্ষার্থী গড়ার কারখানা পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৫ জনই বিলেনিয়ার। বিদ্যাপীঠটি নাকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চতুর্থ। ১৭৪৯ সালে বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিদ্যাপীঠটি পিনসিলভানিয়ার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইভি লীগের সদস্যও। মূলত শিল্পকলা ও মানববিদ্যা, সামাজিক বিজ্ঞান, স্থাপত্য এবং যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যাপীঠটির জগতজোড়া খ্যাতি।