Archive

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

বিজয় দিবসে স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-শিবিরের ভন্ডামী !

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

masud-saydee-in-rallyউদিসা ইসলাম : মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সন্তানরা নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে নতুন রূপে সমাজে ঢুকতে রাস্তা করে করে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্টদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেই অভিযোগ এর সত্যতা মিললো আজীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসউদ সাঈদী পিরোজপুরের জিয়ানগরের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। এমনকি বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ প্যারেড পরিদর্শন করে ছবি তিনি নিজের ফেসবুকে আপলোড করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি, জামায়াতের মধ্যে চিহ্নিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তির পর তারা পরিশুদ্ধ দল হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা যেন নতুন রূপে সমাজে ঢুকে পড়তে না পারে, তার প্রতি সতর্ক থাকতে হবে। তৃণমূলেও সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির নজরিদারি বাড়াতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধী ও তাদের সন্তানদের সামাজিকভাবেই রুখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাসউদ সাঈদী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলের সমর্থন পাওয়া মাসুদ ২১ হাজার ৭৭ ভোট পেয়েছেন। মাসউদ তখনই নির্বাচনে জয়লাভ করেন, যখন গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরের বাধ্য করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এ মামলার প্রসিকিউটর শাহেদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের কাজ হচ্ছে, আরেকদিকে জামায়াত নিশ্চুপ বসে আছে, এটা ভাবার কিছু নেই। তারা দলীয় মানবতাবিরোধী অপরাধী নেতাদের ফাঁসির অপেক্ষায় আছে বলা যায়। কারণ এরপর সমাজে তারা নিজেদের পরিশুদ্ধ দল হিসেবে প্রচার করে ওই মওদুদীবাদকে ছড়ানোর কাজটি করতে পারবে বলে মনে করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা একই রকম মানসিকতা লালন করেই সেই আদর্শকে সঙ্গে নিয়েই বড় হয়েছেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের বিজয় উৎসবের মতো জায়গায় উপস্থিত থাকার স্পর্ধা সামাজিকভাবেই রুখতে হবে।’

masud-saydee-victory-dayআইসিডিডিআরবি, (আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ)-এর সমাজবিজ্ঞানী রাশেদা খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আবারও নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কেবল এভাবে মাসউদ সাঈদীর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা খবর পাই, বিন লাদেনের নামে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের নামে রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের নিয়ে এত কথা, এত সংগ্রাম হওয়ার পরও এ কার্যক্রমগুলো অব্যাহত থাকলে, ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে দেশ। এসব বন্ধ করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান তৌহিদ রেজা নূর সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) আয়োজিত সেমিনারে এই সামাজিকায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সন্তানরা তাদের কবরে ‘শহীদ’ শব্দ লিখে নামফলক বানায়। এতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা না পৌঁছায়। এ কারণে এসব ঠেকানো দরকার।’’

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পরিবার নতুন করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পথ বন্ধে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে তৌহিদ রেজা নূর বলেন, ‘সরকারের উচিত হবে পরিবারের কাছে লাশ না দিয়ে একটি জায়গা করা। সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের কবর দেওয়া হবে। জায়গাটি ঘৃণাস্তম্ভের মাধ্যমে তাদের কুকর্মের সব কথা লেখা থাকবে। মানুষ সেখানে ঘৃণা দেখাবে।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

jamaat-gathering-faridpur

shibir-gatherings

ছবিতে ১৬ ডিসেম্বর – মহান বিজয় দিবস উদযাপন

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

parliament-illuminatedআজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের ও গৌরবের দিন।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি তার বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল। সেই সঙ্গে বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল পুরো বাংলাদেশ। বাধাহীনভাবে লাল-সবুজের পতাকা উড়েছিল বাংলাদেশের আকাশে। উদ্দাম তারুণ্য ও বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বরণ করেছিল সেই ঐতিহাসিক বিজয়কে। এরপর সাড়ে চার দশক পেরিয়ে এসেছি আমরা। ৪৬তম বিজয় দিবসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা স্মরণ করছি সেই সব শহীদকে, যাঁরা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই লাল-সবুজের পতাকা দিয়েছেন। স্মরণ করছি ৩০ লাখ শহীদকে, যাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁরা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। স্মরণ করছি সেই সময়ের কোটি কোটি মানুষকে, যারা হানাদার বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন সইতে না পেরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পরবাসী হয়েছিল, বনে-জঙ্গলে রাত কাটিয়েছে, নিজে না খেয়েও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এক বেলা খাওয়ানোর জন্য ব্যাকুল থেকেছে। তাদের সবাই, আমাদের তথা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নমস্য।

victory-day-celebration-16বাঙালি জাতি যত দিন বেঁচে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গৌরব করবে, অহংকার করবে। আমাদের তথা উত্তর প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে, এ বিজয় এমনি এমনি আসেনি। তার জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সর্বশেষ যে পাকিস্তানি শোষকরা আমাদের পদানত করে রেখেছিল, তাদের সেই শৃঙ্খল ভাঙার কাজটি মোটেও কোনো সহজ কাজ ছিল না। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনসহ অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সেই মুক্তির ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছিল। আর সে ক্ষেত্রে আমরা ঋণী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। আমরা ঋণী মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, তাজউদ্দীন আহমদসহ সে সময়ের আরো অনেক নেতানেত্রীর কাছে। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম—অবশেষে বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যায় নামলে নিরস্ত্র বাঙালি বসে থাকেনি, তারাও হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। এক অসম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ৯ মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ভারত, তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ যেসব দেশ সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করেছিল এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিল, তাদের ঋণও আজ আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।

মহান বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাওয়া। একাত্তরের নরঘাতকদের যে বিচার চলছে তাকে এগিয়ে নেওয়া। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এখনো যেসব ষড়যন্ত্র চলছে তার মূলোৎপাটন করা। অসাম্প্রদায়িক বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করা এবং সুখী, সমৃদ্ধ ও রাজকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

motijheel-illuminated

du-assembly

victory-day-celebration-1victory-day-celebration-2victory-day-celebration-3victory-day-celebration-4victory-day-celebration-5victory-day-celebration-6victory-day-celebration-7victory-day-celebration-8victory-day-celebration-9victory-day-celebration-10victory-day-celebration-11victory-day-celebration-14victory-day-celebration-15victory-day-celebration-17khaleda-places-floral-wreathvictory-day-celebration-18women police parade.jpgvictory-day-celebration-19victory-day-celebration-20victory-day-celebration-21victory-day-celebration-25floral-wreath-at-savarfloral-wreath-1floral-wreath-2boat-racing-in-hatirjheel

‘৭১-এ নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণের কিছু স্থির-চিত্র

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

women-speak-out-4

women-fighters-1

women-fighters-2

women-fighters-3

women-fighters-4

women-fighters-5

7_r2_c1

 

পতাকার ফেরিওয়ালা মোবারক

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

victory-day-flagsএস এম এরশাদ : মো. মোবারক হোসেন। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা সদরের ডৌহাকলা গ্রামে। পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন। জন্ম দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক যুগ পরে। পেশায় সে দিন মজুর। কিন্তু বিজয়ের মাসে নতুন স্বপ্ন দেখে মোবারক। তাই এই মাসে দিন মজুরের কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা হাতে। এ পতাকা তুলে দেন স্বাধীন দেশের নতুন প্রজন্মের হাতে হাতে। বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করা তার পেশা। সারাদিন পায়ে হেটে বিভিন্ন শহর এলাকায় পতাকা বিক্রি করে সে। রাতে যে শহরে পতাকা বিক্রি করেন সে এলাকাতেই ভাড়ায় রাত্রি যাপন করেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা সদরের ডৌহাকলা গ্রামে। পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন।

রোববার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সামনে পতাকা হাতে তার সাথে কথা হলে জানায়, আটনয় বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। পেশায় সে ডেকোরেটর ও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রির ভরা মৌসুম হলেও ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে মাত্র ২দিন পতাকা বিক্রির সময় পায়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে পতাকা বিক্রি করে থাকেন। এ বছরও ১ ডিসেম্বর থেকে পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন এবং তা চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় বোন ময়মনসিংহ মহিলা কলেজে বিএ অনার্স, ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট বোন নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। তাদের লেখাপড়ার খরচ তাকেই বহন করতে হয়। তাছাড়া বাবামা সহ সংসারে ছয়জনের খাবারের খরচও তার উপার্জন করতে হয়। এ কারণে জীবনের ঝুকি নিয়ে বিপুল পরিমান পতাকা হাতে তার মির্জাপুরে আসা। আর এ পতাকার অধিকাংশ নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়ে ও গাড়িতে বিক্রি করে উপার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। আর সেই টাকা ভাইবোনের লেখাপড়া ও সংসারে খরচ করবে বলে জানায় মোবারক।

তার কাছে সাত রকমের পতাকা রয়েছে। এগুলো হলো স্টিকার, লাঠি পতাকা, মাথার ফিতা, জিরো পতাকা, ২ ফুট, সাড়ে তিন ফুট এবং ৫ ফুট পতাকা। পতাকার সাইজ অনুসারে এর ক্রেতাও আছে বলে জানায় সে। স্টিকার বিক্রি করেন ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের কাছে। লাঠি পতাকা বিক্রি করেন রিকসা ও সাইকেল চালকদের কাছে। জিরো পতাকা বিক্রি করেন মোটরসাইকেল এবং ছোট যানবাহনের চালকদের কাছে। মাথার ফিতা কেনেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের পতাকা বিক্রি করে বলে মোবারক জানায়।

এত ব্যবসা থাকতে এ ব্যবসা কেন এমন প্রশ্নে সে বলে, আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বড় হতে চাই। দেশে এখনও অনেক রাজাকার রয়েছে। পতাকা বিক্রি করতে এসে তাদের অনেক কথায় শুনতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন দেশ স্বাধীন হইনাই। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে ভরে গেছে। এসব কথা শুনতে খুবই কষ্ট লাগে। কিছুই বলতে পারিনা। ব্যবসার জন্য। জামায়াতশিবিরের মুক্তিযোদ্ধবিরোধী তাবে সেই চেতনা ভুলন্ঠিত হতে চলেছে। তারা পতাকা বিক্রি করে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মরণ করিয়ে দিতে চান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের কথা। আর স্বাধীনতার দীপ্ত চেতনা মানুষের মনে জাগ্রত করতে তার এ ব্যবসায় আসা। ব্যবসায় তার লাভ যাই হোক এই অর্জনকে সে বড় করে দেখছেন। মোবারক জানান, প্রাণের পতাকা কাঁদে নিয়ে শহরবন্দর ঘুরে বাড়ি ফিরে যাবেন। ১৬ ডিসম্বরের পর থেকে সে আবার তার পুরনো দিন মজুরের কাজে নেমে পড়বে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতার মাস মার্চ আসলে বেরিয়ে পড়বে পতাকা হাতে পথে প্রান্তরে।

victory-day-flags-making

bd-flags-comilla

একাত্তরে বাংলাদেশে নির্মম নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের চিত্র

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

massacre-1একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তার সার্ট উল্টিয়ে পেটে বেয়ানটের আঘাত দেখালেন। একটি ছোট্ট শিশুর কাণে রক্ত জমাট বেধেঁ আছে, কারণ তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়। একজন মহিলা মাঠে বসে কাঁদছেন কারণ তার স্বামীকে গত পরশু জীবন্ত মাটি দেয়া হয়।একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ ধরনের বর্বরতা তুলে ধরে রির্পোট করেছিলেন লন্ডনের দৈনিক মিরর পত্রিকার সাংবাদিক জন পিলগার। বাংলাদেশে নির্মম নিষ্ঠুরতা ও বুভুক্ষ মানুষের কাহিনী শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি ১৯৭১ সালের ১৬ জুন বুধবার দৈনিক মিররে প্রকাশিত হয়। জন পিলগার বাংলাদেশে অবস্থান করে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব রিপোর্ট করেছিলেন।

তিনি যেদিন এ সব পর্যবেক্ষন করছিলেন তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে, শুধু ধবংস স্তুপের ছায়া দেখা যায়। দুসপ্তাহ আগে একটি মসজিদ উড়িয়ে দেয়াসহ দোকান লুটপাট করে পুরিয়ে দেয়া হয়। মাটির ঘরের একটি দেয়াল আছে তা থেকে বাড়ির মালিক পালিয়ে যাননি। তার যুবতী মেয়েটিকে বলাৎকার করা হয়, তাই সে পাগলের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে।

রিপোর্টে পিলগার ঘটনা স্থলের স্থান উল্লেখ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি লিখেন আমি একটি বাজারে এসে দেখলাম যে, কয়জন গ্রামবাসী আছেন তারা প্রায় সকলেই এখানে জড়ো হয়েছে। আমি গ্রাম বা ডিস্ট্রিকের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না, কারণ উল্লেখ করলে হয়তো একদিন গ্রামটি ধবংস করে দিতে পারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ফটোগ্রাফার এরিক পাইপার ও আমাকে প্রথম বিদেশী দেখতে পায়।

ভারত সীমান্তের পাশে পিলগারের সাথে একজন গেরিলার দেখা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখান থেকে প্রায় সবাই চলে গেছে। তারপরেও পিলগার প্রায় একশ জনের মত লোকের সাথে কথা বলেন। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মেয়ে এবং তেরো থেকে বিষোর্ধ যুবক ছিল। প্রতিটি পরিবারের সদস্য যাদের সাথে তার কথা হয়েছে তাদের সকলেই বলেছে, কারো ছেলে, স্বামী বা ভাইকে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে এবং মেয়ে বা স্ত্রীর শালীনতাহানি করেছে।

কাসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ফোঁফাতে ফোফাতে পিলগারকে বলেন, গত ২৪ মে তার দুই ছেলেকে পাকিস্তানি সন্যরা নদীর কিনারে গর্তে পুতে কাদামাটিতে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। পিরালী নামে আর এবজন বলেন সৈন্যরা এখানে আসতে শুরু করলে তিনি তার বোন, ভাতিজাসহ নৌকা করে পালাতে চেষ্টা করেন কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের দিকে মেসিন গান তাক করলে তারা ফিরে আসেন। তবে পিরালী কোন প্রকারে প্রাণে রক্ষা পেলেও বোন ও ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশে যাওয়ার পথে দুজন জাতীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও দেখা হয় বলে পিলগার তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন। তাদের একজনের নাম ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোল্লা জালাল উদ্দিন।

মি: ইসলাম পিলগারকে জানান, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সংখ্যালঘু, হিন্দু ও খ্রিষ্টানসহ শিক্ষক, ডাক্তার, প্রফেসর ও যুবকদের প্রক্রিয়া গতভাবে নিধন করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, ষাটটি ছেলেকে পাকিস্তান সৈন্যরা জোর করে ধরে নিয়ে গেছে যার মধ্যে তার ১৬ বছর বয়সের ছেলেটিও রয়েছে। জালাল উদ্দিন বাংলাদেশে পাকিস্তানের এই বর্বরতা নিয়ে ব্রিটেন বাংলাদেশের জন্য কেন কিছু করছে না তা জানতে চান।

পিলগার তার রিপোর্টে আরো লিখেন, ভারত উপমহাদেশের বিভাগের পর যে দেশটি বাংলাদেশ নামে পরিচিত, যেখানে মানব জাতির দুই অংশ ৭৫ মিলিয়ন প্রতিনিধিত্বকারী বাঙালিদের জেনারেল ইয়াহিয়া খানের পশ্চিম পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে লিপ্ত। নিষ্ঠুরতার লক্ষণ প্রতিটি গ্রামে প্রায় একই রকম বলেও উল্লেখ করেন দৈনিক মিররের এই সাংবাদিক।

পাকি নর্দমার কীটদের কান্ড !

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে পাকিস্তানের ভিডিও প্রকাশ

ফেসবুকে একটি ভিডিও click hereতোলা হয়েছে পাকিস্তান ডিফেন্সের পেইজে। যেই ভিডিওর মূল বক্তব্য হলো মুক্তিযুদ্ধ ভারত এবং রাশিয়ার যোগ সাজসে একটা ষড়যন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ৩০ লাখ বাঙালি মারা যায়নি, যারা মারা গিয়েছিলো তাদের ৯০ শতাংশই বিহারি এবং পাকিস্তানি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ৪৬ তম বার্ষিকীতে যখন বাংলাদেশ আনন্দের বন্যা বইছে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের এই ভিডিওতে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। ভিডিওটি পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা সংস্থা স্পন্সর করে ব্যাপক প্রচারের চেষ্টা করছে এই অঞ্চলে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঙালিদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। খুনে মনোভাব নিয়ে তারা হামলে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ছারখার করে দেয়ার চেষ্টা করে বাঙালির নিজ দেশের স্বপ্ন।

অথচ পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, মার্চের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গিয়েছিল। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। মূলত ছাত্রের ছদ্মবেশ নিয়ে ভারতীয় সেনা সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল এবং তারাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ১৯৭১ সালে।

দি ফরগটেন চ্যাপ্টারস্টোরি অব ইস্ট পাকিস্তান’ শিরোনামের সাত মিনিটের ভিডিওটিতে ড. জুনাইদ আহমেদ নামের এক পাকিস্তানি লেখকের ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ: এক্সপ্লোডিং মিথস’ এর উপর ভিত্তি করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়। এই ভিডিওতে জুনাইদ আহমেদসহ কয়েকজন পাকিস্তানির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মূলত ভারত এবং রাশিয়ার ষড়যন্ত্রের ফলাফল। কয়েক লাখ নয়, মাত্র কয়েক হাজার লোক সেসময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের চালানো নির্মম গণহত্যার পুরোটাই অস্বীকার করা হয়েছে এই ভিডিওতে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। যুদ্ধের পর পরাজয়ের তদন্ত করতে গঠন করা হামিদুর রহমান তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সেনারা ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে এই সংখ্যাটা নগণ্য।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আসলে ছিলো ৫০ হাজার এবং তাদেরকে সামনে রেখে শুরু থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। জুনায়েদ আহমেদন নামের এই লেখক আরো দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধে যারা মারা গিয়েছিলো তারা আসলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং এরা সবাই ছিলো দুষ্কৃতিকারী। তারা পাকিস্তানি সেনাদের উপর গুলি চালায় বলেই পাকিস্তানি সেনারা তাদের মেরে ফেলেছিলো।

ভিডিওটিতে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তান বিরোধী হওয়ায় ১৯৭১ সময়ে যেসব রাজনৈতিক নেতারা পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো, তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতের হুকুমত কায়েমের চেষ্টায় আছেন বলেও দাবি করা হয় এই ভিডিওতে।

ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিবাদ করছেন। পাকিস্তান ডিফেন্সকে এ ধরনের একটি মিথ্যাচারে ভরা ভিডিও তৈরি এবং প্রচারের জন্য মন ভরে গালাগাল করছেন তারা। ভিডিওটির কমেন্টে আ ন ম রাসেল প্রশ্ন করেন, ‘আমি শুধু জানতে চাই অপারেশন সার্চ লাইট কি? আর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বাহিনী কি করেছিল?’

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন লেখেন,‘মগজহীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পয়সা খরচ করে মিথ্যা অপপ্রচারের সেই পুরোনো চেষ্টা।’

এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকরাও এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন ফেসবুকে। আব্দুল্লাহ সাইদ নামে একজন পাকিস্তানি লিখেছেন, ‘আমরা যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করেছি তাদের পাওনা অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি সেটা অস্বীকার করতে পারবো না। তাছাড়া পাকিস্তানের জন্মই হয়েছিলো বাঙালিদের কারণে।’

ইমরান উল্লাহ খাট্টাক নামের আরেক পাকিস্তানি লিখেছেন, ‘যদি সত্যিটা জানতে চান তাহলে ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিকের ‘ম্যায়নে ঢাকা ডুবতি দেখা’ বইটা পড়ুন। তাহলেই বুঝবেন বাঙালিদের ওপর কি পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছি সেসময়।’

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর পাকিস্তানের প্রতি নতুন করে তীব্র ক্ষোভ এবং তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে। এ রকম চক্ষুলজ্জাহীন মিথ্যাচারের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলেই মনে করেন তারা।

সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

‘৭১-এ বাঙালি মায়েরা লন্ডনে বের করেছিলেন প্রতিবাদ মিছিল

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

women-protest-in-london-03041971সাদাকালো একটা ছবি। কিছুটা বিবর্ণ। কিন্তু ৪৫ বছর ধরে সযত্নে এই ছবিটা সংরক্ষণ করে চলেছেন ফেরদৌস রহমান। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের এক অবিস্মরণীয় মূহুর্ত যেন ধরে রেখেছে ছবিটি।

৩রা এপ্রিল ১৯৭১। ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস অভিযান ও গণহত্যার খবর তখন আসতে শুরু করেছে। লন্ডন প্রবাসী বাঙালিরা হতবিহ্বল। সবাই উদ্বিগ্ন স্বদেশে ফেলে আসা স্বজনদের নিয়ে। কেউ বুঝতে পারছেন না কী ঘটছে, কী করা উচিৎ।

সেদিন লন্ডনের রাস্তায় দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। শাড়ি পরা প্রায় দুশো বাঙালি নারী রাস্তায় নেমে এসেছেন তাদের সন্তানদের নিয়ে। বাচ্চাদের পুশ চেয়ারে বসিয়ে মিছিল করে তারা চলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে। পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটছে, সে ব্যাপারে বিশ্ব গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সেটাই প্রথম চেষ্টা।

সেদিনের মিছিলে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের এক বিরাট অংশ ছিলেন একেবারে সাধারণ গৃহিণী। তাদের অনেকের জন্য জীবনে সেটাই প্রথম মিছিল। কিন্তু তাদের তেজোদীপ্ত মুখ আর সংকল্প দেখে সেটা মনে হচ্ছিল না।

মিছিলের সংগঠকদের একজন ছিলেন ফেরদৌস রহমান। তার স্বামী তখন লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশনের একজন কর্মকর্তা। ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকার গণহত্যার খবর পাওয়ার পর ৩১ মার্চ (১৯৭১) আমরা একটা মিটিং ডাকলাম। সেই মিটিং এ বসেই আমরা একটা সংগঠন করলাম, নাম দিলাম বাংলাদেশ উইমেন্স এসোসিয়েশন। মিসেস বকশ ছিলেন কমিটির কনভেনর আর মিসেস লুলু বিলকিস বানু ছিলেন উপদেষ্টা। আমি ছিলাম কমিটির জনসংযোগ সম্পাদক। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, তেসরা এপ্রিল আমরা মিছিল বের করব।’

ফেরদৌস রহমান আরও বলেন, ‘আমরা মহিলারাই যে প্রথম মিছিল বের করেছিলাম, তার একটা কারণ ছিল। আমরা ভেবেছিলাম, আমরা শাড়ি পরা মহিলারা মিছিল করে রাস্তায় নামলে যত সহজে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবো, অন্যরা তা পারবে না।’

সত্যি সত্যি তাদের এই কর্মসূচী সেদিন সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছিল। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ তখন এক তরুণ ছাত্র নেতা। তিনিও জানালেন, মহিলাদের আগে রাস্তায় নামানোর সিদ্ধান্তটি তারা সচেতনভাবেই নিয়েছিলেন। বললেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে মহিলাশিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, এরকম একটা বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাই আমরা সবাইকে বলেছিলাম, শনিবার তেসরা এপ্রিল যেন সবাই মহিলাদের নিয়ে আসেন এমব্যাংকমেন্টের কাছে। সেখান থেকে সবাই মিছিল করে রানির প্রতি আহ্বান জানাবেন, তিনি যেন হস্তক্ষেপ করেন এই গণহত্যা বন্ধে।’

women-lead-trafalgar-square-04041971পরদিন ৪ঠা এপ্রিল লন্ডনে বাঙালিদের আরও বড় সমাবেশ হলো ট্রাফালগার স্কোয়ারে। সেই সমাবেশের জন্য আগে থেকে অনুমতি নিয়ে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বদরুল হোসেন তালুকদার। সেই মিছিলে যোগ দিলেন কয়েক হাজার মানুষ।

লন্ডনভিত্তিক একটি সংগঠন স্বাধীনতা ট্রাস্টের আনসার আহমেদউল্লাহ বলেন, ‘সেসময় বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাজ্যেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই পুরো যুদ্ধের সময় ধরেই এভাবেই লন্ডন পরিণত হয় বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে।’

লন্ডনে বাংলাদেশের পক্ষে এই আন্দোলনে এবং বিশ্বজনমত গঠনে সেদিন বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরি। আবু সাঈদ চৌধুরি সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন।

একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ তখন তার অফিস এবং বাড়ি, দুটিই ছেড়ে দিয়েছিলেন বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের অফিস করার জন্য। তার স্ত্রী জাহানারা বেগম তখন একেবারেই তরুণী, বিয়ের পর সদ্য এদেশে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘১১, গোরিং স্ট্রিট ছিল আমার স্বামীর পাট ব্যবসার অফিস। তিনি পুরো অফিস ছেড়ে দিলেন বাংলাদেশ আন্দোলনের জন্য। সেখানে বসেই আবু সাঈদ চৌধুরি তার সব কার্যক্রম চালাতেন।’

ব্রিটেনে তখন কাজ করেন বহু বাঙালি চিকিৎসক। ডা. হালিমা বেগম আলম এবং তার স্বামী ডা. মুহাম্মদ শামসুল আলম, দুজনেই তখন লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসকের পেশায় নিয়োজিত। ঢাকায় গণহত্যার মর্মান্তিক খবরের ধাক্কা সামলে উঠার পর তাদের মনে হলো, কিছু একটা করতেই হবে।

সব ডাক্তারদের মিলে গঠন করা হলো একটি সংগঠন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, লন্ডন থেকে তারা ঔষধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করে পাঠাবেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য। হালিমা বেগম বলেন, ‘’আমি তখন সার্জন হিসেবে কাজ করি। নার্সদের বললাম তারা যেসব যন্ত্রপাতি ফেলে দেয়, সেগুলো যেন আমাদের দেয়, যাতে সেগুলো আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঠাতে পারি। একই ভাবে বিভিন্ন ফার্মেসিতে গিয়ে সংগ্রহ করতাম মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ। কিন্তু অনেকে ভালো ভালো অপারেশনের সাজ সরঞ্জাম, মেয়াদ ফুরিয়ে যায়নি এমন ঔষধও আমাদের দিতো। এদের কাছে আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা।’

হালিমা বেগম আলম আরও জানান, মহিলারা তখন এক বিরাট ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশে আন্দোলনে। লন্ডনের প্রত্যেকটি এলাকায়, ব্রিটেনের প্রতিটি শহরে বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির কার্যক্রমে মহিলারা অংশ নেন সক্রিয়ভাবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।