আর্কাইভ

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

ক্ষমতা প্রেমের চেয়েও অনেক বেশি আবেগের

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

ওরিয়ানা ফালাচি। ইতালীয় বংশোদ্ভূত একজন সাংবাদিক। ৭০ দশকে দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন সাক্ষাৎকারভিত্তিক সাংবাদিকতা করে। বরেণ্য, বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কদের সাক্ষাৎকার নিতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে বেড়িয়েছেন। প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন লৌহমানব ও লৌহমানবীদের। তার আক্রমণাত্মক প্রশ্ন অনেককে করেছে ক্ষীপ্ত। পরিণতিতে তাকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যেতে হয়েছে অনেক দেশ থেকে। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে সত্য বের করার কৌশল থেকে কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। উপমহাদেশের তিনজন রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাক্ষাৎকার নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। ইন্টারভিউ উইথ হিস্টরী গ্রন্থে তিনটি সাক্ষাৎকার স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে বইটির অনুবাদ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। বইটি ছেপেছে আহমদ পাবলিশিং হাউস। জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাক্ষাৎকার কিভাবে নিয়েছিলেন তার একটি চমকপ্রদ বয়ান রয়েছে বইতে।

জুলফিকার আলী ভুট্টো

bhutto 21চমকে দেয়ার মতো আমন্ত্রণ। এসেছিল জুলফিকার আলী ভুট্টোর তরফ হতে এবং বুঝে উঠার কোনো উপায় ছিল না। আমাকে বলা হলো যত শিগগির সম্ভব আমাকে রাওয়ালপিন্ডি যেতে হবে। অবাক হলাম, কেন? প্রত্যেকটা সাংবাদিক কমপক্ষে একবার তাদের দ্বারা আহূত হবার স্বপ্ন দেখে যাদেরকে তারা অনুসন্ধান করবে। সেই ব্যক্তিত্বগুলো হারিয়ে যায় বা নেতিবাচক সাড়া দেয়। কিন্তু স্বপ্ন যুক্তিহীন এবং সন্দেহে তার পরিসমাপ্তি। ভুট্টো কেন আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। ইন্দিরা গান্ধীর জন্যে কি আমার কাছে বার্তা দিতে চান? ইন্দিরা গান্ধীকে শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির সাথে চিত্রিত করার কারণে আমাকে শাস্তি দেবেন? প্রথম ধারণা দ্রুত নাকচ করলাম। শত্রুর সাথে যোগাযোগ করার জন্যে তার বাহকের প্রয়োজন নেই এ জন্যে সুইস বা রুশ কূটনীতিক আছেন। দ্বিতীয় ধারণাও বাতিল করে দিলাম। শিক্ষিত ও ভদ্রলোক বলে ভুট্টোর সুনাম আছে। এ ধরনের লোকেরা সাধারণত তাদের আমন্ত্রিত অতিথিকে হত্যা করে না। আমার তৃতীয় অনুমানটা হলো, তিনি হয়তো চান আমি তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। আমার হৃদয় চমৎকারিত্বে পূর্ণ হলো। বাংলাদেশের হতভাগ্য প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আমার নিবন্ধ পাঠের পরই ভুট্টোর মনে হয়তো বিষয়টা উদয় হয়েছিল। আমার সন্দেহের উপর বিজয়ী হলো আমার অনুসন্ধিৎসা এবং আমি আমন্ত্রণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলাম। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেও তাকে জানতে দিলাম যে, তার অতিথি হলেও আমি সবার ক্ষেত্রে যে স্বাধীন বিচার বিবেচনায় লিখি, এক্ষেত্রেও তার কোন হেরফের হবে না এবং যে কোন ধরনের সৌজন্য বা তোষামোদে আমাকে কিনে ফেলা সম্ভব হবে না। ভুট্টো জবাব দিলেন : অবশ্যই, তাই হবে। এবং মানুষটি সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা হলো তাতেই।

এ মানুষটি সম্পর্কে পূর্ব ধারণা করা যায় না। অসম্ভব গোছের। নিজের মর্জিতে এবং অদ্ভুত সিদ্ধান্তে পরিচালিত হন। তীক্ষè বুদ্ধিমান। ধূর্ত, শিয়ালের মতো বুদ্ধিমান। মানুষকে মুগ্ধ করতে, বিভ্রান্ত করতেই যেন তার জন্ম। সংস্কৃতি, স্মরণশক্তি ও ঔজ্জ্বল্য দ্বারা লালিত তিনি। শহুরে আভিজাত্য তার জন্মাবধি। রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দরে দু’জন সরকারি অফিসার আমাকে স্বাগত জানিয়ে অত্যন্ত আবেগের সাথে বললেন যে, প্রেসিডেন্ট আমাকে এক ঘণ্টার মধ্যে স্বাগত জানাবেন। তখন সকাল দশটা। গত আটচল্লিশ ঘণ্টা আমি বিনিদ্র কাটিয়েছি। আমি প্রতিবাদ করলাম; না এক ঘণ্টার মধ্যে নয়। আমার একটা ভালো গোসল এবং সুনিদ্রা প্রয়োজন। অন্য কারো কাছে এটা খুব অপমানজনক মনে হতো। তার কাছে নয়। তিনি সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সাক্ষাৎ মুলতবি রাখলেন এই বলে যে, রাতে আহারটা আমার সাথেই করবেন বলে আশা করছেন। বুদ্ধিমত্তার সাথে সৌজন্য যোগ হলে তা অবদমনের সেরা অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। এটা অনিবার্যই যে তার সাথে সাক্ষাৎ আন্তরিকতাপূর্ণ হবে।

ভুট্টো আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন হাসি ছড়িয়ে খোলা হাত বাড়িয়ে। তিনি দীর্ঘ, মেদবহুল। তাকে দেখতে একজন ব্যাংকারের মতো, যে কাউকে পেতে চায় তার ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্যে। চুয়াল্লিশ বছর বয়সের চেয়েও অধিক বয়স্ক মনে হয় তাকে। তার টাক পড়ছে এবং অবশিষ্ট চুল পাকা। ঘন ভুরুর নিচে তার মুখটা বিরাট। ভারি গাল, ভারি ঠোঁট, ভারি চোখের পাতা। তার দু’চোখে রহস্যজনক দুঃখময়তা। হাসিতে কিছু একটা লাজুকতা।

বহু ক্ষমতাধর নেতার মতো লাজুকতায় তিনি দুর্বল ও পঙ্গু। তিনি আরো অনেক কিছু, ইন্দিরা গান্ধীর মতো। সবারই নিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব। যতই তাকে পাঠ করা হোক, ততই অনিশ্চিত হতে হবে। দ্বিধায় পড়তে হবে। একটু ঘুরালে ফিরালে প্রিজমে যেমন একই বস্তু বিভিন্ন রূপে দেখা যায়, তিনি সে রকম। অতএব তাকে বহুভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। এবং তার প্রতিটিই যথার্থ উদার, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিস্ট, কমিউনিস্ট, নিষ্ঠাবান ও মিথ্যুক। নিঃসন্দেহে তিনি সমসাময়িককালের সবচেয়ে জটিল নেতাদের একজন এবং তার দেশে এ যাবৎ জন্মগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। শুধুই একজন। যে কেউ বলবে, ভুট্টোর কোনো বিকল্প নেই। ভুট্টো মরলে পাকিস্তান মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।

তার ব্যক্তিত্ব ইন্দিরা গান্ধীর চেয়ে বাদশাহ হোসেনকেই বেশি মনে করিয়ে দেবে। বাদশাহ হোসেনের মতো তিনি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট একটি দেশকে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠে। বাদশাহ হোসেনের মতো তিনি মাটির পাত্র হিসেবে লৌহপাত্র দ্বারা, অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ দ্বারা দলিত মথিত। বাদশাহ হোসেনের মতো তিনি আত্মসমর্পণ না করতে বা কোনো কিছু ছেড়ে না দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রতিরক্ষা ব্যুহ ছাড়াই বন্দি শিল্পীর মতো সাহসিকতার সাথে তিনি সবকিছু প্রতিরোধ করেন। অন্যভাবে তাকে দেখে জন কেনেডির কথা মনে পড়বে। কেনেডির মতো তিনি প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হয়েছেন, সে কারণে তার কাছে কিছুই অসম্ভব ছিল না। এমনকি রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বিজয় করাও নয়। এ জন্যে ব্যয় যাই হোক না কেন। কেনেডির মতো তার একটি স্বচ্ছন্দ, মধুর ও সুবিধা ভোগের শৈশব ছিল। কেনেডির মতো ক্ষমতার দিকে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল জীবনের প্রারম্ভেই।

অভিজাত জমিদার পরিবারে তার জন্ম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কেলিতে এবং পরে বৃটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ডিগ্রি নিয়েছেন আন্তর্জাতিক আইনে। ত্রিশ বছর বয়সের পরই তিনি আইয়ুব খানের একজন মন্ত্রী হন, যদিও পরে তাকে অপছন্দ করেন। যখন তার বয়স চল্লিশের কিছু কম তখন আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের মন্ত্রীদের একজন ছিলেন। বেদনাদায়ক ধৈর্যের সাথে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ পর্যন্ত পৌঁছেন। কিছু সহযোগীর দ্বারা এ পর্যন্ত আরোহণকে তিনি নিষ্কণ্টক রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ক্ষমতা প্রেমের চেয়েও অনেক বেশি আবেগের বস্তু। যারা ক্ষমতা ভালোবাসে তাদের পেট শক্ত, নাকটা আরো শক্ত। বদনামে তাদের কিছু আসে যায় না। ভুট্টো বদনামের তোয়াক্কা করতেন না। তিনি ক্ষমতা ভালোবাসেন। এ ধরনের ক্ষমতার প্রকৃতি আন্দাজ করা শক্ত। ক্ষমতা যে তার কাছে কি তা বুঝা যায় না। যারা সত্য বলে এবং বয়স্কাউটসুলভ নৈতিকতা প্রদর্শন করে এমন রাজনীতিবিদদের থেকে সতর্ক থাকার উপদেশ দেন তিনি। তার কথা শুনে এ বিশ্বাস হবে যে তার লক্ষ্য অত্যন্ত মহৎ এবং তিনি সত্যি সত্যি একনিষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। কিন্তু করাচিতে তার সমৃদ্ধ জাঁকজমকপূর্ণ লাইব্রেরি দেখলেই বুঝা যাবে যে, মুসোলিনি ও হিটলার সম্পর্কিত গ্রন্থাবলী সম্মানের সাথে রূপালী বাঁধাই এ সমৃদ্ধ। যে যতেœর সাথে এগুলো সংরক্ষিত তাতে উপলব্ধি করা সহজ যে এগুলোর উপস্থিতি শুধু গ্রন্থ সংগ্রাহকের আগ্রহের কারণেই নয়। সন্দেহ ও ক্রোধ দানা বেঁধে উঠবে। তাকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে, তার সত্যিকার বন্ধু ছিলেন সুকর্ণ ও নাসের এই দুই ব্যক্তিই সম্ভবত সদিচ্ছা দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা উদারনৈতিক ছিলেন না। ভুট্টোর গোপন স্বপ্ন একনায়ক হওয়া। রূপালী বাঁধাইয়ের গ্রন্থগুলো থেকেই তিনি কি একদিন তার জ্ঞান আহরণ করবেন? স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং বিরোধী দলের কোন রাজনৈতিক অর্থ কখনো ছিল না এমন একটি দেশ সম্পর্কে অজ্ঞ পাশ্চাত্যের লোকেরাই এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। এসবের বদলে সে দেশে বিরাজ করেছে দারিদ্র্য, অবিচার এবং নিপীড়ন।

ভুট্টোর সঙ্গে সাক্ষাৎকার সমাপ্ত হয়েছে ছয় দিনে পাঁচটি পৃথক বৈঠকে। তার অতিথি হিসেবে তার সাথে কয়েকটি প্রদেশও সফর করেছি এ সময়ে। পাঁচটি বৈঠকে আলাপের সূত্রও হয়েছে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। প্রথম সাক্ষাৎকার বৈঠক হয় রাওয়ালপি-িতে, আমার উপস্থিতির দিন সন্ধ্যায়। দ্বিতীয় আলোচনা লাহোরের পথে বিমানে। তৃতীয় বৈঠক সিন্ধুর হালা শহরে। চতুর্থ এবং পঞ্চম বৈঠক করাচিতে। আমি সব সময় তার পাশে বসেছি, টেবিলেই হোক আর যাত্রাপথেই হোক এবং চাইলে আমি তার একটা চিত্রও আঁকতে পারতাম। ভুট্টোকে অধিকাংশ সময়ই দেখেছি পাকিস্তানি পোশাকে, হালকা সবুজ জামা এবং স্যান্ডেল পায়ে। সমাবেশে বক্তৃতার সময় মাইক্রোফোনের সামনে তিনি কর্কশভাবে চিৎকার করেন, প্রথমে উর্দু পরে সিন্ধিতে। বক্তৃতার সময় দু’হাত আকাশে ছুড়তে থাকেন। সবকিছুর মাঝে প্রকাশ করেন তার কর্তৃত্ব। হালার জনসমাবেশে অসংখ্য লোক যখন তার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছে, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও সেখানে। কিন্তু তিনি কক্ষে বসে লিখছেন। যখন সভাস্থলে পৌঁছলেন তখন রাত। কার্পেটের উপর দিয়ে রাজপুত্রের মতো পা ফেলে তিনি এগিয়ে মঞ্চে উঠলেন। রাজপুত্রের মতোই আসন গ্রহণ করলেন এবং আমিও তার পাশে বসলাম- বেশ কিছু গোঁফওয়ালা লোকের পাশে আমিই একমাত্র মহিলা, যেন সুপরিকল্পিত একটা প্ররোচনা। আসনে বসে তিনি দলের নেতাদের অভ্যর্থনা জানালেন। সবশেষে একজন দরিদ্র লোক, তার সাথে নিয়ে এলো রঙ্গিন কাপড় ও মালায় সজ্জিত একটি বকরী। এটি তার সামনে কোরবানি করা হবে।

বিশ্বব্যাপী ইহুদী একাধিপত্যের একটি পরিসংখ্যান

অগাষ্ট 15, 2017 মন্তব্য দিন

greater israel project mapপৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত।

একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র – ইসরাইল।

ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।

এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে।

ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২% অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী!কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।

প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন।

বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে।

এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী, যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় আর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি – র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি।

এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকান রা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। আর আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমনঃ ওআইসি-র ৫৭টি দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাঁচ হাজারের মত, আর এক আমেরিকাতেই বিশ্ববিদ্যালয় আছে প্রায় ছয় হাজার এর কাছাকাছি।

ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও যেখানে The World University Ranking সাইট এর প্রথম ১০০টা বিশ্ববিদ্যালয়েরর মধ্যে স্থান পায়নি, সেখানে প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আমেরিকার ৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয়। (প্রথম দশটার মধ্যে সাতটা) যেখানে প্রথম ২০০ র মধ্যে ওআইসি-ভুক্ত ৫৭ টি মুসলিম দেশের একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তুরস্কের Bogazici University (১৯৯ তম)সেখানে আমেরিকার বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ২০% স্টুডেন্টস ইহুদী সম্প্রদায় থেকে আসা।

আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ইহুদী অর্থাৎ নোবেল বিজয়ী প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী।

আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী।

আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২ টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সাথে আইভি লীগ বলা হয়।

২০০৯ সালের ১টি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক’জন ভিসি-ই ইহুদী।

হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী। এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারে না, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে পারে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতখানি- আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – AIPAC – America Israel Public Affairs Committee. ::

আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন ইহুদী কমিউনিটির মানুষ।

এই কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের জন্যও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন।

মিডিয়া জগতে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন;

CNN, AOL, HBO, Cartoon Network, New line cinema, Warner Bross, Sports illustrated, People – Gerald Levin – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

ABC, Disney Channel, ESPN, Touchstone pictures – Michael Eisner – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

Fox Network, National Geographic, 20th century Fox Rupert Murdoch – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

Top 4 famous Newspapers of USA & their editors
New York Times – Arthur Sulzberger
New York Post – Rupert Murdoch
Washington Post – K.M. Graham
Wall street journal – Robert Thomson
সব কয়টি খবরের কাগজ ই ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

আপনার প্রিয় মিডিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা Mark Zuckerberg পর্যন্ত একজন ইহুদী।

ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার আগ্রাসনকে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বৈধ হিসেবে চিত্রায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফক্স নিউজ। বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া মুগলরুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণাধীন এরকম প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জুইশদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের ১৮৫ টি পত্রপত্রিকা ও অসংখ্য টিভি চ্যানেল। বলা হয় পৃথিবীর মোট তথ্য প্রবাহের ৬০% ই কোন ন কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রুপার্ট মারডকের The News Corporation.

টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এবিসি, স্পোর্টস চ্যানেল, ইএসপিএন, ইতিহাস বিষয়ক হিস্টৃ চ্যানেলসহ আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

আমেরিকায় দৈনিক পত্রিকা বিক্রি হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৮ মিলিয়ন কপি। জাতীয় ও স্থানীয় মিলিয়ে দেড় হাজার পত্রিকা সেখানে প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ পত্রিকা যে নিউজ সার্ভিসের সাহায্য নেয় তার নাম দি এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি (AP)। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন এর ইহুদি ম্যানেজিং এডিটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিলভারম্যান। তিনি প্রতিদিনের খবর কী যাবে, না-যাবে তা ঠিক করেন।

আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস্ , ওয়াল ষ্টৃট জার্ণাল এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে।

ওয়াটারগেট কেলেংকারীর জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ওয়াশিংটন পোষ্ট। এর বর্তমান সিইও ডোনাল্ড গ্রেহাম ইহুদি মালিকানার তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে কাজ করছেন। উগ্রবাদী ইহুদী হিসেবে তিনি পরিচিত। ওয়াশিংটন পোষ্ট আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্মিদের জন্যই করে ১১টি পত্রিকা। এই গ্রুপের আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। টাইম এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম নিউজউইক।

আমেরিকার রাজনৈতিক জগতে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস্-এর প্রকাশক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা হয়ে আসছেন। বর্তমান প্রকাশক ও চেয়ারম্যান আর্থার সালজবার্গার প্রসিডেন্ট ও সিইও রাসেল টি লুইস এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাইকেল গোলডেন সবাই ইহুদি।

বিশ্বের অর্থনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াল ষ্টৃট জার্নাল। আঠার লাখেরও বেশী কপি চলা এই পত্রিকার ইহুদি প্রকাশক ও চেয়ারম্যান পিটার আর কান তেত্রিশটিরও বেশী পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন।

জাতীয় শোক দিবস পালন ও কিছু পর্যবেক্ষণ

অগাষ্ট 15, 2017 মন্তব্য দিন

mujib day 2“জন্ম-ই আমার আজন্ম পাপ”-এর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিবস পালন করা নিয়ে এই দেশের জনগণ আজো পড়ে আছে এক গ্যাঁড়াকলে । এদিন অসম-বিপরীতধর্মী প্রান্তিক চিন্তাধারা ও কর্মকান্ডে অভ্যস্ত এক শ্রেণীর ভক্তরা যদি আতিশয্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তাহলে আরেক শ্রেণীর অভক্তরা শেখ সাহেবকে তুলোধূনো করার নানা ফন্দি আঁটে।আর অধিকাংশ ইসলামপন্থীরা (স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের ছিলো হয়আদর্শিক বা সশস্ত্র বিরোধিতা)আপাতঃ বাহ্যিক নির্মোহতার আড়ালে আসলে বিরোধিতা-ই করে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের দোহাই পেড়ে।

যে ব্যাপারটা “বাংলাদেশী জাতির পিতা” শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগষ্টের শোকদিবস পালনের বিরোধিতা করে তারা যে সত্যটি ভুলে থাকেন তা হচ্ছে, শেখ সাহেবের শাসনকালের নানা ধরণের দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও অপশাসনের প্রতিবাদ হিসেবে তাঁকে এবং তাঁর নিরাপরাধ সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের ঠান্ডা মাথায় নির্বিচারে হত্যা ও পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের বিচার না করাটা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না ।

কিছু মুজিব-ভক্তদের আতিশয্যকে ব্যঙ্গত্মকভাবে মিডিয়ায় উপস্থাপন করে শোকদিবস পালনকে হাস্যস্পদ করে তোলার অপচেষ্টা মুজিব-আওয়ামী বিরোধীদের অসহমর্মিতা ও কুরূচির পরিচায়ক । তেমনিভাবে আসলেই ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন হলেও সেটা জেদের বশবর্তী হয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে ঐদিন-ই তাঁর জন্য পালন করাটাও গর্হিত বলেই গণ্য হবে । ব্যাপারটা এমন নয় যে,খালেদা জিয়া বা অন্যান্য যাদের জন্ম হয়েছে ১৫ আগষ্ট তারা শোক দিবসের কারণে  ঘরোয়াভাবে হলেও জন্মদিন পালন করতে পারবেন না । “অবশ্য-ই মানুষের কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল” – বুখারীর এক নম্বর হাদীসটিতে অনেক সমস্যার সমাধান আছে । বিদেশে এখন অনেক সামাজিক অনুষ্ঠান (যেমন, জন্মদিন -এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন,ঈদ ফেস্টিভাল-ফেয়ার)ছুটির দিনে করা হয় মানুষের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে । অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইংল্যান্ডের রাণীর জন্মদিন পালন করা হয় বছরের বিভিন্ন মাসের বিভিন্ন দিনে!এতে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই – এমনকি রাণীমাতার-ও !

সবশেষে আমি অনাবশ্যক আবেগ-বিবর্জিত নির্মোহ দুটি উদ্ধৃতিমূলক মূল্যায়নঃ

১) ভাষাসৈনিক প্রফেসর আব্দুল গফুর-এর মূল্যায়নঃ

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মোহাম্মদ আবদুল গফুর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন প্রথম দেখি তখনও তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠেননি। তিনি ১৯৪৮ সালে তখন পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা। থাকেন কলকাতায়। পড়েন ইসলামিয়া কলেজে। আমি তখন ক্লাস এইটের ছাত্র। থাকি ফরিদপুরের স্টুডেন্টস হোমে। ফরিদপুরে এলে তিনি অন্তত একবার স্টুডেন্টস হোমে আসতেন। তাঁকে তখন দেখলেও তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়নি। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ভাষা আন্দোলন কালে ঢাকায়।…

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের এ অভ্যুদয়ের পেছনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের ছিল ঐতিহাসিক ভূমিকা।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালের পুরো নয় মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দী ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের জেলে আটক থাকলেও সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ তাঁর নামেই পরিচালিত হয়। তিনি তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে জীবন্ত ফিরে আসতে পারবেন,এ বিশ্বাস অনেকেরই ছিল না। এই ধারণার বশীভূত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দানকারী মুজিবনগর সরকারকে ভারতের জমিনে পেয়ে তাকে দিয়ে এমন এক সাত দফা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করে, যার মধ্যে ছিলঃ

(এক). মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারতীয় বাহিনীর নেতৃত্বাধীন থাকবে মুক্তিবাহিনী।
(দুই). স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনী অবস্থান করবে (কত দিনের জন্য তা নির্দিষ্ট থাকবে না)।
(তিন). বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না।
(চার). বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
(পাঁচ). বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি সংস্থা গঠন করা হবে।
(ছয়). মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি এসব সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হবে। প্রয়োজনে ভারতীয় কর্মকর্তাদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে।
(সাত). ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অবাধ সীমান্ত বাণিজ্য চলবে।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথমেই লন্ডন যান। সেখানে গিয়ে মুজিবনগর সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত ভারতের এই চুক্তির বিষয়ে অবহিত হন এবং এ বিষয়ে তাঁর ইতিকর্তব্যও স্থির করে ফেলেন।

লন্ডন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পথে নয়াদিল্লিতে স্বল্পকালীন যাত্রাবিরতিকালে তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রথম সুযোগেই প্রশ্ন করে বসেন, ম্যাডাম, আপনার সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে কবে ফিরিয়ে আনবেন? ইন্দিরা গান্ধী জবাব দেন, “আপনি যখন বলবেন, তখনই”। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীর দ্রুত অপসারণের পথ সহজ হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যে প্রথম ঘোষণাটি দেন, সেটা ছিল, বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। এটা যে শুধু তাঁর ঘোষণা মাত্র ছিল না তার প্রমাণ তিনি দেন, কিছুদিন পর লাহোরে যে ইসলামিক সামিট হয় তাতে। ভারতের বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে তিনি ঐ সামিটে যোগ দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য এতদিন ভারতীয় পত্রপত্রিকা তাঁর প্রশংসায় মুখর ছিল, লাহোর ইসলামিক সামিটে তিনি যেদিন যোগ দেন সেদিন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

২) সাবেক কূটনীতিক ও ইতিহাস গবেষক ড.মুহম্মদ সিদ্দিক বলেনঃ

বঙ্গবন্ধুর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন

ড.মুহাম্মাদ সিদ্দিক : ১৫ আগস্ট একটা দুঃখজনক দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলেন সেদিন। তিনি ছিলেন একজন ‘মিস আন্ডারস্টুড’ নেতা। না তাঁর বন্ধুরা, না তাঁর শত্রুরা তাঁকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।

তিনি একটা সামরিক ‘কু’র মাধ্যমে নিহত হলেন। আর এক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও তেমনিভাবে। জিয়ার সময়ে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে আঠার-ঊনিশবার ‘কু’ হয়েছে। পরবর্তীতে বিডিআরে ‘কু’ হলে ৫৭ জন চৌকস সামরিক অফিসার নিহত হলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ সবগুলোর একই উদ্দেশ্য। একটি গোষ্ঠী নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, অস্ত্রবলে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছতে চায়। এই ঘটনাগুলো শুধু ‘কু’ নয়- মস্ত বড় ধরনের সন্ত্রাস, যেখানে রাষ্ট্রেরই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।…

বাঙালি বা বাংলাদেশি জাতি খুবই অস্থির মতিসম্পন্ন। তারা জাতীয় নেতাদের একটা যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে কার্পণ্য করেছে। তারা বুঝল না যে, যদি শেখ সাহেব জীবিত দেশে না ফিরতেন তাহলে দেশের কি অবস্থা হতো। চিত্তরঞ্জন সুতারসহ অনেকে তো অখন্ড ভারত বাস্তবায়ন করতে অনুরোধ করেন ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। বুদ্ধিমতি ইন্দিরা বলেন,“ইয়ে না মুশকিল হায়”-এটা সম্ভবপর নয়। তবে শেখ জীবিত ফেরত না আসলে তাই হতো, ‘মুসকিল হতো’ অথবা আমাদের ভাগ্য হতো সিকিম-ভুটানের মতো। আসলে ইন্ডিয়ার নিকট বাংলাদেশ তো সিকিম-ভুটানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভুটানের ডুকলাম সীমান্ত চীন-ইন্ডিয়া প্রশ্নে তাই প্রমাণ করল। বাংলাদেশের সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশের করিডোর ছাড়া ভারত কোনোক্রমে পূর্ব-ভারত ধরে রাখতে পারবে না।…

শেখের অবর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষতি হয়েছে। তিনি বেঁচে থাকলে, কাউকে নাক গলাতে দিতেন না। কারণ তিনি ছিলেন স্বদেশপ্রেমিক।

শেষে বলতে হয়, শেখ নেলসন ম্যান্ডেলার মতো উদারমনা ছিলেন। তাঁর ছিল একটা ভিশন। তাঁর ভেতর ছিল ধর্ম। তিনি মধ্যপন্থী নেতা ছিলেন,উগ্রবাদে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। তবে কেউ কেউ তাঁকে ভুল বুঝে। এটা খুবই দুঃখজনক।

উপসাগরীয় যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রির ‘অনুপম সুযোগ’

অগাষ্ট 14, 2017 মন্তব্য দিন

UK arms sales to saudi 2গোপন নথিতে তথ্য : ব্রিটেনের তাজা গোলাবারুদের পাল্লার প্রদর্শনী ও সত্যিকার পরীক্ষার সুযোগ ছিল ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ * সেই যুদ্ধকে যুক্তরাজ্য মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লাভের সুযোগ হিসেবে দেখেছে ।

কুয়েতে ১৯৯০ সালে ইরাকি অভিযানকে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অস্ত্র বিক্রির ‘অুনপম সুযোগ’ হিসেবে দেখেছিল ব্রিটিশ সরকার। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের কিছু গোপন নথি জনসম্মুখে আসার পর এ কথা জানা গেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের আর্কাইভ (ন্যাশনাল আর্কাইভস) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত নথির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে।

ন্যাশনাল আর্কাইভের জনসম্মুখে আসা নথিগুলোয় দেখা যায়, ১৯৯০ সালে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেধে উঠলে ব্রিটেনের মন্ত্রী আর সরকারি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় ব্রিটেনের অস্ত্রের বাজার বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। তারা চেয়েছিল, এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ যেন ব্রিটিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারকরা নিতে পারে।

ওই নথিতে সেই সময়ের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচারকে দেয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী অ্যালান ক্লার্কের গোপন ব্রিফিং রয়েছে। যুদ্ধের প্রাক্কালে উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করে এসে সেই ব্রিফিং করেছিলেন তিনি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের ওইসব প্রচেষ্টার কারণে লাভই হয়েছিল ব্রিটেনের। ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র বিক্রির বিরাট সুযোগ পেয়ে যায়, যা আজ অবধি বহাল আছে।

UK judiciary OKays arms sale to Saudisব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে দেশটি ৬০০ কোটি পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রি করেছে, যা বিশ্বের মোট অস্ত্র ব্যবসার ৯ ভাগ। ব্রিটেনের অর্ধেক অস্ত্রই রফতানি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। ব্রিটেন এখন আমেরিকার পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা।

১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট ‘সিক্রেট’ নামে লেখা একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন ক্লার্ক। ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী কুয়েতে আক্রমণ করার কয়েক দিন পর মার্গারেট থেচারের কাছে ওই ব্যক্তিগত চিঠিটি জমা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ক্লার্ক লিখেছেন, এ যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া আসবে, তা ডিফেন্স এক্সপোর্ট সার্ভিসেস অর্গানাইজেশনের (এখন ড্রিইএসও নামে পরিচিত) জন্য ‘অনুপম সুযোগ’ তৈরি করবে। ক্লার্ক লিখেছিলেন,‘আমরা সেনা মোতায়েনের যে ধরনের সিদ্ধান্তই নিই না কেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এটা ডিইএসওর জন্য অনুপম সুযোগ- তাজা গোলাবারুদের পাল্লার প্রদর্শনী ও সত্যিকার পরীক্ষারও (সুযোগ)।’

সংকটের শুরুতেই কী ধরনের অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি হতে পারে, তার একটি তালিকাও যোগ করেন ক্লার্ক। তিনি লিখেছেন, আমাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলে এসব অস্ত্রের বিক্রি বাড়বে।’

অন্য নথিগুলোয় দেখা গেছে, সে সময়কার কাতারের আমির ও বাহরাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে অস্ত্র রফতানি বৃদ্ধি নিয়ে আলাপ করেছিলেন ক্লার্ক। পরে আরও কিছু ব্রিফিংয়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত,সৌদি আরব, মিসর এবং জর্ডানকে সম্ভাব্য ব্রিটিশ অস্ত্রের ক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। ক্যাম্পেইন এগেইন্সট আর্মস ট্রেডের গবেষক জো লো বলেছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি রফতানির জন্য এখনও এ দেশগুলোকে টার্গেট করে থাকে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, সময়টা হয়তো বদলে গেছে; কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি আজও একই রয়ে গেছে। ফাঁস তথ্য বলে দিচ্ছে, প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধকে যুক্তরাজ্য আসন্ন মানবিক বিপর্যয় হিসেবে না দেখে মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে অস্ত্র কোম্পানিগুলোর লাভের সুযোগ হিসেবে দেখেছে।

সে বছর ৭ আগস্টের এক গোপনীয় নথিতে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় তারা সম্ভাব্য যেসব অস্ত্র বিক্রি আদেশ পাবেন বলে জানান সেগুলো হল- আবুধাবির কাছ থেকে ৩৬টি ওয়েস্টল্যান্ড ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, যার অর্থমূল্য ৩২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। ওমান ওয়ারিয়র ডেজার্ট ফাইটিং যানবাহন কিনতে পারে, যার মূল্য সাড়ে পাঁচ কোটি পাউন্ড এবং চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংকেরও আদেশও দেবে বলে আশা করা হয়।

protesting arms sale to saudisবাহরাইন ব্রিটেনের কাছ থেকে হক জঙ্গিবিমান কিনতে পারে। সৌদি আরব ২০ কোটি পাউন্ডে সাতটি হোভারক্রাফট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ক্লার্ক জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধের আগেই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অস্ত্র বিক্রির একটি ভালো বিপণন কৌশল হতে পারে। এসব তথ্য ভাগাভাগি করতে প্রতি সপ্তাহে একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে উপসাগরীয় দেশগুলোয় পাঠানোর সুপারিশ করেন ক্লার্ক। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজাদের দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়ার কথাও লিখেছেন নথিতে। ক্লার্ক বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে বোঝাতে হবে, তারা ফ্রান্সের চেয়ে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম। অস্ত্র বিক্রির বাজারে ফ্রান্স ব্রিটেনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

“পথের দাবী” উপন্যাসটি কেন্দ্র করে শরৎবাবুর প্রতিবাদ লিপি

অগাষ্ট 14, 2017 মন্তব্য দিন

বিস্মিত হতে হয় শরৎ বাবু কতোটা সাহসী ছিলেন সেটা জেনে ; রবি ঠাকুর এই বিষয়ে তাঁর কাছে ছিলেন একেবারে নস্যি । তবে দেরীতে হলেও বিশ্বকবির বোধোদয় হয়েছিল – ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক জালিয়ানওয়ালাবাগের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করতে তিনি নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন…

“পথের দাবী” উপন্যাসটি লেখার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ভর্ৎসনা করেছিলেন একটি পত্র লিখে। তিনি বলেছিলেন শরৎ সাহিত্যে “রাজনীতি” করছেন। সাহিত্য রাজনীতির জায়গা নয়। পথের দাবী উপন্যাস ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ কিছু লিখতে অস্বীকৃত হয়েছিলেন।

শরৎচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের উক্ত পত্রের উত্তরে তাঁকে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিতে আমরা খুঁজে পাই একজন ভারতীয় ভলতেয়ারের মন।

“…..আপনি লিখেছেন ইংরাজ রাজের প্রতি পাঠকের মন অপ্রসন্ন হয়ে ওঠে। ওঠবারই কথা। কিন্তু এ যদি আমি অসত্য প্রচারের মধ্য দিয়ে করবার চেষ্টা করতাম লেখক হিসাবে তাতে আমার লজ্জা ও অপরাধ দুইই ছিল। কিন্তু জ্ঞানতঃ তা আমি করিনি। করলে politicianদের propaganda হতো, কিন্তু বই হতো না। নানা কারণে বাঙলা ভাষায় এ ধরনের বই কেউ লেখে না। আমি যখন লিখি এবং ছাপাই তার সমস্ত ফলাফল জেনেই করেছিলাম। সামান্য সামান্য অজুহাতে ভারতের সর্বত্রই যখন বিনা বিচারে অথবা বিচারের ভান করে কয়েদ নির্বাসন প্রভৃতি লেগেই আছে তখন আমি যে অব্যাহতি পাবো অর্থাৎ রাজপুরুষেরা আমাকেই ক্ষমা করে চলবেন এ দুরাশা আমার ছিলনা। আজও নেই। তাঁদের হাতে সময়ের টানাটানি নেই, সুতরাং আগে পিছের জন্য কিছুই যায় আসে না। এ আমি জানি এবং জানার হেতুও আছে। কিন্তু এ থাক। এ আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু বাঙলা দেশের গ্রন্থকার হিসাবে গ্রন্থের মধ্যে যদি মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে থাকি, এবং তৎ-সত্ত্বেও যদি রাজরোষে শাস্তিভোগ করতে হয় ত করতেই হবে– তা মুখ বুজেই করি বা অশ্রুপাত করেই করি, কিন্তু প্রতিবাদ করা কি প্রয়োজন নয়? প্রতিবাদেরও দন্ড আছে, এবং মনে করি তারও পুনরায় প্রতিবাদ হওয়া আবশ্যক। নইলে গায়ের জোরকেই প্রকারান্তরে ন্যায্য বলে স্বীকার করা হয়। এই জন্যই প্রতিবাদ চেয়েছিলাম। শাস্তির কথাও ভাবিনি এবং প্রতিবাদের জোরেই যে এ বই আবার ছাপা হবে কল্পনাও করিনি।

চুরি ডাকাতির অপরাধে যদি জেল হয় তার জন্যেও হাইকোর্টে আপিল করা চলে, কিন্তু আবেদন যদি অগ্রাহ্যই হয়, তখন দুই বছর না হয়ে তিন বছর হলো কেন এ নিয়ে বিলাপ করা সাজে না। রাজবন্দীরা জেলের মধ্যে দুধ-ছানা-মাখন পায়না বলে কিম্বা মুসলমান কয়েদীরা মোহরমের তাজিয়ার পয়সা পাচ্ছে আমরা দুর্গোৎসবে খরচ পাইনা কেন এই বলে চিঠি লিখে কাগজে কাগজে রোদন করায় আমি লজ্জা বোধ করি, কিন্তু মোটা ভাতের বদলে যদি jail authority ঘাসের ব্যবস্থা করে, তখন হয়ত তাদের লাঠির চোটে তা চিবোতে পারি, কিন্তু ঘাসের ডেলা কণ্ঠরোধ না করা পর্যন্ত অন্যায় বলে প্রতিবাদ করাও আমি কর্তব্য বলে মনে করি।

কিন্তু বইখানা আমার একার লেখা সুতরাং দায়িত্বও একার। যা বলা উচিত মনে করি, তা বলতে পেরেছি কিনা সেটাই আসল কথা। নইলে ইংরেজ সরকারের ক্ষমাশীলতার প্রতি আমার কোন নির্ভরতা ছিল না। আমার সমস্ত সাহিত্যসেবাটাই এই ধরনের। যা উচিত মনে করেছি তাই লিখে গেছি।

আপনি লিখেছেন আমাদের দেশের রাজারা এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের অন্যান্য রাজশক্তি কারও ইংরেজ গভর্ণমেন্টের মত সহিষ্ণুতা নেই। এ কথা অস্বীকার করার অভিজ্ঞতা আমার নেই। কিন্তু এ আমার প্রশ্নই নয়। আমার প্রশ্ন ইংরেজ রাজশক্তির এই বই বাজেয়াপ্ত করবার justification যদি থাকে, পরাধীন ভারতবাসীর পক্ষে প্রোটেস্ট করবার justification তেমনি আছে।

আমার মনে হয় আপনি এই অবিচার করেছেন যে, আমি যেন শাস্তি এড়ানোর ভয়েই প্রতিবাদের ঝড় তুলতে চেয়েছি এবং সেই ফাঁকে গা-ঢাকা দেবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তা বাস্তবিক নয়। দেশের লোক যদি প্রতিবাদ না করে, আমাকে করতে হবে। কিন্তু সে হৈ-চৈ করে নয়, আর একখানা বই লিখে।….”

শতবর্ষের আলোকে শরৎচন্দ্র / সম্পা : মিহির আচার্য ( শুকসারি প্রকাশন / ১৯৮২)

যত্তো সব “রাবিশ” !

অগাষ্ট 13, 2017 মন্তব্য দিন

muhit rubbish a

muhit rubbish b

ভারতে কেন কখনই সেনা অভ্যুত্থান হয়নি?

অগাষ্ট 13, 2017 মন্তব্য দিন

map -india cultureযে সব দেশের বেসামরিক প্রশাসন মারাত্মকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত থাকে, সেসব দেশের মানুষ অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় দেখতে আগ্রহী হয় । আর এই সীমাহীন দুর্নীতিপরায়ণতার কারণে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সেনাবাহিনীর উপর ভর করে অভ্যুত্থান ঘটাতে সব সময়-ই জোর ভূমিকা রেখেছে । ভারতীয় সেনাবাহিনীর চেইন অফ কমান্ডের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স’ ভারসাম্যমূলকভাবে বহাল থাকায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মানবোধ থাকায় সেখানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে যায়নি ।

= = =

আনভার আখিলান ঃ একটা সত্য গল্প। ১৯৫৭ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহারলাল নেহরু গিয়েছেন জেনারেল থিমায়ার কার্যালয়ে। থিমায়া তখন ভারতের সেনাপ্রধান। নেহরু দেখতে পান সেনাপ্রধানের ডেস্কের পেছনে একটি স্টিলের আলমারি। দেখেই থিমায়াকে নেহরু জিজ্ঞেস করলেন, এটার ভেতরে কী? জেনারেল উত্তর দিলেন, প্রথম ড্রয়ারে আছে দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা। দ্বিতীয় ড্রয়ারে আছে দেশের শীর্ষ জেনারেলদের ব্যাপারে গোপনীয় নথিপত্র। নেহরু জানতে চাইলেন, আর তৃতীয় ড্রয়ারে? অনেকটা হাসি চাপা দেওয়ার মতো মুখ করে সেনাপ্রধান বললেন, এই ড্রয়ারে আছে আপনার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাতে আমার গোপন পরিকল্পনা। উত্তর শুনে নেহরু হেসেছিলেন। কিন্তু তার হাসিতে সেদিন কিঞ্চিৎ দুশ্চিন্তাও ছিল।

উপনিবেশ পরবর্তী যুগে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে সামরিক স্বৈরতন্ত্র যেন একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ভারতে সেনাশাসনের সম্ভাবনা শূন্য ছিল না। এমনকি ১৯৬৭ সালের নির্বাচন কভার করতে এসে বৃটেনের টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক নেভাইল ম্যাক্সওয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন,এই নির্বাচনই হতে পারে ভারতের সর্বশেষ নির্বাচন। শুধু ম্যাক্সওয়েলই নন। তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন, আজ হোক কাল হোক ভারত সামরিক শাসনাধীন হয়ে পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি। কিন্তু কেন?

ভারতের সেনাবাহিনী কেন কখনও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেনি, এই প্রশ্নের উত্তরে এটাই বলা হতো যে, এই বাহিনী সুশৃঙ্খল, খুবই পেশাদার এবং বৃটিশদের কাছ থেকে পাওয়া আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য তাদের মধ্যে প্রোথিত। কিন্তু এই থিওরি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও একই ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত। কিন্তু তবুও তারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে কসুর করেনি। অনেকে এমন যুক্তিও দেখাতে পারেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীই বরং এত পেশাদার যে,তারা যখন মনে করলো দেশের অবস্থা এত বাজে যে,হাত গুঁটিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখার সময় আর নেই। হস্তক্ষেপ করাটাকে তখন তারা নিজেদের দায়িত্ব ভেবে নিল।

এ কারণে বলতে হয়,এটি এমন একটি প্রশ্ন, যেটি নিয়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করা উচিৎ। আর নিজের বই ‘আর্মি অ্যান্ড ন্যাশন’-এ ঠিক সেই কাজটিই করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিভেন উইলকিনসন।

ভারতে আসলে কী ঘটেনি, সেটি বুঝতে হলে সম্ভবত এটি বোঝা জরুরী যে, পাকিস্তানে আসলে কী ঘটেছিল। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরতান্ত্রিকদের ইতিহাস বেশ আগ্রহোদ্দীপক। অবিভক্ত ভারত থেকে এই ইতিহাসের শুরু। তখন অবিভক্ত পাঞ্জাব ছিল সেনাবাহিনীর সর্ববৃহৎ অঙ্গ। তাই দেশভাগের সময় পাকিস্তান উত্তরাধিকারসূত্রে বৃটিশদের কাছ থেকে যেসব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে,তার মধ্যে সবচেয়ে স্বতন্ত্র ও উল্লেখযোগ্য ছিল সেনাবাহিনী। অপরদিকে ভারতে যেখানে কংগ্রেস পার্টি ছিল বিকশিত হওয়া একটি টেকশই সংগঠন,পাকিস্তানে মুসলিম লীগ ‘জিন্নাহ ও তার ব্যক্তিগত সহকারী’র চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। এ কারণেই পাকিস্তানে একটি বিপজ্জনক কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা ছিল,বিশেষ করে ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর মৃত্যুর পর।

পাকিস্তানে সামরিক স্বৈরতন্ত্র-শূন্য উদিত হয়নি। যেমন, পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে,লাহোরে দাঙ্গা বাধল। এই দাঙ্গা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়লো, কারণ সেখানকার বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে তলব করা হলো। সেনারা খুব দ্রুত এই পরিস্থিতি দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনলো।

কিন্তু দাঙ্গা শেষ হলেও সেনাদের কমান্ডিং অফিসার একটি অস্বাভাবিক অনুরোধ জানালেন। তিনি বললেন ব্যারাকে সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার আগে তার বাহিনীকে কয়েকটা দিন থাকতে দেওয়া হোক। এই অল্প কয়েকদিনেই সেনাবাহিনী পুরো শহর পরিষ্কার করে ফেললো। সরকারী অফিসগুলোতে রং লাগানো থেকে শুরু করে, ভাঙ্গা সড়ক সংস্কার করা, অনুনোমোদিত স্থাপনা উৎখাত,এমনকি সড়কের ধারে গাছও লাগালো সেনাবাহিনী। বহুদিন ধরে নগর জুড়ে এই পৌর কাজগুলো ঝুলে ছিল। সব শেষ করে সেনাবাহিনী নীরবে ব্যারাকে ফিরে গেল। পেছনে রেখে গেল সেনানিবাসের মতো ঝকঝকে তকতকে লাহোর শহর।

এই ঘটনার পরের পরিস্থিতি অভূতপূর্ব। জনমানুষের কাছে সেনাবাহিনী ব্যাপক বাহবা আর শ্রদ্ধা কুড়ালো। কারণ,সেনারা কয়েকদিনের মধ্যে একটি শহরে এমন সব কাজ করে দিয়ে গেছে,যা বেসামরিক কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরেও করতে পারেনি। এ কারণেই ১৯৫৮ সালে যখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে সামরিক আইন (মার্শাল ল’) জারি করে সেনা তলব করলেন,তখন জনগণের একটি বড় অংশ খুশি হলো। এমনকি, মার্শাল ল’র সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে তখন মজা করে বলতো,‘পাকিস্তান মে আব তোহ মাশাল্লাহ হো গায়া’। পরের কয়েক বছর জেনারেল আইয়ুব খানের আমলে জাতীয়ভাবে অনেক উন্নয়ন হয়েছে পাকিস্তানে। কিন্তু এরপরই সামরিক সরকার নিজের এই প্রকান্ড ক্ষমতার কারণে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই ধরণের সিস্টেমে এই পরিণতি অলঙ্ঘনীয়।

পাকিস্তানের মতো ভারতের সেনাবাহিনীও একই ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত। বৃটিশ ভারতে সেনাবাহিনী ছিল বেশ প্রভাবশালী। এমনকি নীতিনির্ধারনী পর্যায়েও ভূমিকা ছিল তাদের। সেনাপ্রধান ছিলেন কার্যত প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ভাইসরয়ের পর তিনিই ছিলেন সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী নেহরু বিশ্বাস করতেন নতুন ভারতে সেনাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। তিনি এমন একটি নীতি শুরু করলেন যার দরুন সেনাবাহিনীকে স্থায়ীভাবে বেসামরিক কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের অধীনস্থ করা হলো। স্বাধীনতার পর প্রথম যেসব পরিবর্তন ঘটলো, তার একটি ছিল ‘তিন মুর্তি ভবন’কে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ঠিক করা। এর আগে ঐতিহ্যগতভাবেই এটি ছিল সেনাপ্রধানের বাসভবন। খুব ছোট একটি পরিবর্তন। কিন্তু হাওয়া কোনদিকে তখন বইছিল, তারই একটি স্পষ্ট নির্দেশক ছিল এটি। এরপরই নেওয়া হলো বাজেট কাটছাঁটের পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বৃটিশ আমল থেকে সেনা কর্মকর্তাদের পাওয়া বিশাল বেতন ভর্তুকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা হলো। ভারতের প্রথম সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা যখন প্রকাশ্যে সরকারের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের সমালোচনা করলেন, তাকে সঙ্গে সঙ্গে তলব করে তিরস্কার করা হলো। বলে দেওয়া হলো তার অধীনস্থ বিষয়-আশয় ছাড়া অন্য কিছুতে নাক না গলাতে।

পরের কয়েক বছর এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যার ফলে সশস্ত্রবাহিনী ও ভারতীয় সমাজে তাদের প্রভাব বেশ নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লো। ১৯৫৮ সালে প্রতিবেশী পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান দেখতে পেয়ে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এসব পদক্ষেপের ওপর অগ্রাধিকার দিলেন। তখন আবার কয়েকদিন আগেই সেনাপ্রধান হিসেবে অবসর নেওয়া ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা পাকিস্তানে সেনা অভ্যুত্থানের প্রশংসা করেছিলেন। এ নিয়েও উদ্বেগে ছিলেন রাজনীতিকরা। সেনাবাহিনীর মুখে লাগাম পরানোর এই পুরো প্রকল্পের অংশ হিসেবেই কৃষ্ণ মেননকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কৃষ্ণ মেনন ছিলেন একজন ক্ষমতাধর, কর্কষ ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী। স্পষ্টতই এই নিয়োগ ছিল সেনাবাহিনীকে হেয় করার চেষ্টা। তবে, এর একটি অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল ১৯৬২ সালে চীনের কাছে ভারতীয় বাহিনীর লজ্জাজনক পরাজয়। সেটি আরেক গল্প।

সত্তর দশকের মধ্যেই ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্সে’র এক বিস্তৃত কাঠামোর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অবশেষে ‘অভ্যুত্থান-রোধী’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা গেল। একে নেহরু আমলের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমেই ভারতীয় গণতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে যান নেহরু। এটি এমন এক অর্জন যেটিকে যথেষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এই অর্জনের গুরুত্ব টের পাওয়া যায় ভারতের প্রতিবেশীদের দিকে তাকালে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, বার্মা, শ্রীলংকা – সব দেশকেই সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।

স্টিভেন উইলকিনসন তার অসাধারণ বইটিতে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে যথেষ্ট চিন্তাভাবনার মাধ্যমে প্রণীত একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘ক্যু প্রতিরোধক’ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়। সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনা হয়। গড়ে তোলা হয় শ্রমসাধ্য কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল কাঠামো। পরিবর্তন আনা হয় বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের ‘অর্ডার অব প্রিসিডেন্স’ বা পূর্ববর্তীতার ক্রমে। সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হয়। সেনা কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য করাকে আস্কারা দেওয়া হয়নি। পাল্টা ভারসাম্য আনতে প্রতিষ্ঠা করা হয় আধা-সামরিক বাহিনী। এছাড়া ছিল আরও ছোট ছোট বিষয়ও। যেমন, নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানদের দেশে না রেখে দূরবর্তী কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

এই পুরো প্রক্রিয়ার ফল পাওয়া গেল ২০১২ সালে। সেনাপ্রধান জেনারেল ভি.কে.সিং-এর অবসর-কাণ্ডের প্রাক্বালে পত্রিকাগুলোতে শ্বাসরুদ্ধকর রিপোর্ট প্রকাশিত হলো যে, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানো হয়েছে। কয়েকটি সেনা ইউনিটকে কাউকে না জানিয়ে দিল্লি অভিমুখে রওনা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তখন আমার মতো অনেক ভারতীয়ই বিরক্ত হয়ে বলে উঠেছিলাম,‘হোয়্যাট ননসেন্স!’ আর নিমগ্ন থাকি পত্রিকার খেলার পাতায়। আমরা হয়তো বুঝতেও পারছি না, এই ধরণের নিরুদ্বেগ বা নির্ভাবনাময় পরিবেশ কতটা বিলাসবহুল।

(ভারতীয় কলামিস্ট আনভার আখিলানের এই লেখাটি ছাপা হয়েছে স্ক্রল.ইন ও কোয়ার্টয-এ। অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)