আর্কাইভ

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

উদার গণতন্ত্র ও মৌলবাদী ধর্মতন্ত্রের মহামিলন

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

শহিদুল ইসলাম : বাংলাদেশে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িকতার যে প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, তা বর্তমান সরকারের অনেক ভালো ভালো কাজের দাবিকে যেন ব্যঙ্গ করছে। জিয়া, এরশাদ ও খালেদার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সবাই আশায় বুক বেঁধেছিল এই ভেবে যে, এবারে সাম্প্রদায়িকতার রাহুর গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়া গেল। কিন্তু মানুষের সে আশা যেন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গত কয়েক মাসে এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলা চলছে তা নতুন করে দেশবাসীকে পাকিস্তানি নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান সরকার জিয়া, এরশাদ ও খালেদার সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানি ভাবাদর্শকে পরাস্ত করতে পারেনি। বরং আজকের পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, তাদের সেই রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সেসব আক্রমণে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমান সরকারের ওপর তাদের আস্থা স্থাপন করেছিলেন। সেই আস্থার ফলে তারা তাদের চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি আগলে নিজের দেশেই পড়ে ছিলেন। অনেকেই আজ তাদের জান-মাল-সম্মান বাঁচানোর জন্য দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এভাবে চললে বাংলাদেশের অবস্থা পাকিস্তানের মতো হবে। মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর মানুষ এখানে থাকতে পারবে না।

দুই. ইতিহাসে প্রমাণ আছে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা না করলে কোনো আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে না। সে রাষ্ট্রে মানবিক গুণাবলির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়। জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সভ্যতার সূচনালগ্নে একবার ও চৌদ্দশ খ্রিস্টাব্দের ইতালির রেনেসাঁর পর দ্বিতীয়বার জ্ঞানবিজ্ঞান-দর্শন চর্চার জোয়ার এসেছিল। দেখা যায় প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সূচনায় ধর্মীয় কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না। কারণ গ্রিকদের কোনো ধর্মগ্রন্থ ছিল না। সেটাই ছিল প্রথম যুগের গ্রিকদের স্বাধীনতার প্রধান শর্ত। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ বিউরি বলছেন,‘হোমারের কবিতা ছিল ইহজাগতিক, ধর্মীয় নয় এবং ধর্মগ্রন্থের তুলনায় সেগুলো নীতিহীনতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত। হোমারের কর্তৃত্ব ছিল অপরিসীম কিন্তু তা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের কর্তৃত্বের মতো বাধ্যতামূলক ছিল না। তাই বাইবেলের সমালোচনার মতো হোমারের সমালোচনা কখনো বাধার সম্মুখীন হয়নি।’ বিউরি আরো বলছেন,‘স্বাধীনতার আর একটি অভিব্যক্তি ও শর্ত হলো যাজকতন্ত্রের অনুপস্থিতি। সেদিন পুরোহিত শ্রেণি কখনো-ই এতটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। তাই তারা নিজেদের স্বার্থে সমাজের ওপর নির্যাতন চালাতে পারেনি কিংবা ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে উচ্চারিত কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দিতে পারেনি।’ তখন পুরোহিত শ্রেণি রাষ্ট্রের কর্মচারী। রাষ্ট্রের অধীন।

অবিকল একই ঘটনা ঘটে রেনেসাঁর পর। ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ও শিল্প-বিপ্লবের পর ইউরোপে প্রবল প্রতাপশালী পুরোহিত শ্রেণির শক্তি ধ্বংস করা হয় এবং ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয়। খ্রিস্টধর্ম টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার ফলে এটা সম্ভব হয়। তবে আদি সেই গ্রিক সমাজ মাত্র তিনশ বছর টিকেছিল। খ্রিস্টধর্ম উত্থানের পর পশ্চিমে দীর্ঘ এক হাজার বছরের অন্ধকার যুগের সৃষ্টি হয়। এদিকে উনিশ শতকে রেনেসাঁর জয় নিশ্চিত হয়। ধর্ম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ইউরোপ জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মাঝে ইসলামের আবির্ভাবের পর ৯ম থেকে ১১ শতকে ইসলামি বিশ্বে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় জোয়ার আসে। সে জোয়ারও তিনশ বছরেই শুকিয়ে যায়।

একটা বিষয় লক্ষণীয় তাহলো ইসলামি বিশ্বে যারা জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা কেউই সূক্ষ্ম বিচারে মুসলমান ছিলেন না। ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদের ওপর আক্রমণ তাই প্রমাণ করে। তারা সবাই ছিলেন যুক্তিবাদী যা ইসলামে কেবল নয় সব ধর্মে নিষিদ্ধ। আবার আধুনিক সভ্যতায় জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার সময়কালও দুই/তিনশ বছরের বেশি নয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পশ্চিমে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে পশ্চিমে মৌলিক কাজের পরিমাপ সাংঘাতিকভাবে কমে গেছে। কারণ আবার পশ্চিমে বিশেষ করে আমেরিকায় ধর্মীয় ভাবাদর্শের নতুন করে উত্থানের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকার সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর ট্রাম্পের ঘোষণায় সেটাই প্রমাণ করে। তিনি পুরোহিতদের দাবি পূরণে বিবাহ-বহির্ভূত যৌন সংসর্গ, সমলিঙ্গ-বিবাহ ও গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ দিতে যাচ্ছেন। সবার ধারণা আমেরিকান সাম্রাজ্যের দিন শেষ হতে চলেছে।

রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে বেগম রোকেয়াও ভেবেছিলেন। ১৩১১ সালে ‘নবনূর’ পত্রিকায় ‘আমাদের অবনতি’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন,‘যেখানে ধর্মের বন্ধন অতিশয় দৃঢ়, সেখানে নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক। যেখানে ধর্মবন্ধন শিথিল, সেখানে রমণী প্রায় পুরুষের ন্যায় উন্নত অবস্থায় আছেন।’ এটা কেবল নারীর ক্ষেত্রে সত্য নয়। জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা ও সৃজনশীল সাহিত্য রচনার জন্যও সত্য। নোবেল বিজয়ী একমাত্র মুসলিম বিজ্ঞানী প্রফেসর সালাম বলেছেন,‘ইসলামি বিশ্বে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার ধারা সবচেয়ে দুর্বল।’ চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ মুসলিম পণ্ডিত ইবনে খলদুন। তারপর ইসলামি বিশ্বে আর কোনো মনীষীর জন্ম হলো না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পদের কোনো অভাব নেই। তারা বিশ্বের উচ্চতম ভবন নির্মাণ করে গর্ব প্রকাশ করেন। আলোয় ঝলমল শহর তৈরি করে বিদেশিদের বেড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বিশ্বমানের একটা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করেননি। মোগল বাদশারা ‘তাজমহল’ তৈরি করেছেন, কিন্তু একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি। যুক্তিবাদ ও জ্ঞানবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে মুসলমান হুজুরদের সে মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই প্রফেসর সালামকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দিয়েছে আর মিসরের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক নাগিম মাহফুজকে মুসলমান বলে স্বীকারই করে না; বরং ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ গড়ে ইসলামের আদিযুগে ফিরে যেতে চাইছে মুসলমানরা।

তিন. বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিকের ঘামঝরা শ্রমে উৎপাদিত সম্পদে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছি। কিন্তু সে অর্জনে আমাদের মতো শহুরে অলস বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদদের অবদান কতটুকু? তাদের শ্রমের ওপরই আমরা জীবনযাপন করছি। অন্যের শ্রমের ফসল আত্মসাৎ করে আমরা বিশ্বের কাছে বাহবা কুড়াচ্ছি। এই আত্মসাতেরই আর এক নাম ‘গণতন্ত্র’। আরো সূক্ষ্মভাবে বললে বলতে হয় ‘উদার গণতন্ত্র’। ‘ইসলামের’ নামে হুজুররা যে রাজনীতি করছে, আমরা ‘উদার গণতন্ত্রের’ নামে সেই একই রাজনীতি করছি। এখানেই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘ধর্মতন্ত্র’ এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। তাদের মিলনই বাংলাদেশে আবার পাকিস্তানি কায়দায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে। তাদের উপাসনালয় ভাঙা হচ্ছে, দেব-দেবীর মূর্তি ভাঙা হচ্ছে। হুজুরদের দাবি মেনে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। হুজুরদের নির্দেশে শিশুদের পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে। এতে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা লাখ লাখ মূর্তি ভাঙলেও হবে না। তাই আজ প্রশ্ন উঠেছে, আমরা পাকিস্তান ভাঙলাম কেন? আমরা কি কেবল পাঞ্জাবি ধনীর জায়গায় বাঙালি ধনী তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আজ একজন হিন্দুকে তার বাড়ির মহিলাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, তাহলে দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম কেন? পাকিস্তানি হামলাকারীর বদলে বাঙালি হামলাকারীর অভয়ারণ্য তৈরির জন্য? কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন? চার লাখ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন?

চার. অষ্টাদশ শতাব্দীর ‘উদার গণতন্ত্র’ তার যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছে গেছে। এই গণতন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদ মাত্র আটজন মানুষ দখল করে নিয়েছে। তাই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির অধ্যাপক জন রালস্টোন সাওল একখানা বই লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘ভলতেয়ার্স বাস্টার্ডস’-ভলতেয়ারের জারজ সন্তান হলো আজকের গণতন্ত্র। ভলতেয়ারের সময় এই গণতন্ত্রের প্রভূত মূল্য ছিল। কিন্তু সম্পদের ওপর মানুষের অধিকার স্থাপনের আইন আজ সে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। আজ সারা বিশ্বে ‘উদার গণতন্ত্র’ ও মৌলবাদী ‘ধর্মতন্ত্রের’ মহামিলন ঘটে গেছে। তাই পৃথিবী আজ ক্রমান্বয়ে মানুষের বাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। যে দেশ ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে সরিয়ে তাকে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্থানে স্থাপন করতে পারবে, আগামী বিশ্বের পরিচালকের আসনে তারাই বসবে। ‘উদার গণতন্ত্র’ পৃথিবীতে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মানুষের বিলাসী জীবনের ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রয়োজন মেটাচ্ছে। মানুষ প্রকৃতিকে দখল করেছে। প্রতিটি দেশের সংখ্যাগুরু স¤প্রদায়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দখল করেছে। জলবায়ু বিষাক্ত করে তুলেছে। মনে হয় বর্তমান সভ্যতা তার যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধীরে অথচ স্থির পায়ে এগিয়ে চলেছে।

শহিদুল ইসলাম : সাবেক অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ইয়েমেনে সব পথ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে সৌদি

অগাষ্ট 20, 2017 মন্তব্য দিন

yemen attackমাথার ওপর পড়ছে বোমা। দুর্ভিক্ষে মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে কলেরা। এভাবেই ত্রিমুখী ট্র্যাজেডি মরণছোবল হেনেছে ইয়েমেনে। এই মহামারীর জন্য দায়ী একমাত্র সৌদি নেতৃত্বাধীন নয় দেশীয় জোটের সামরিক আগ্রাসন। তারা দেশটির জলস্থলআকাশপথ রুদ্ধ করে মারছে ইয়েমেনবাসীকে। গত দুই বছরে সৌদি জোটের হামলা এবং অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় মারা গেছে ১৪ হাজার মানুষ। যার বেশিরভাগই শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনিদের ওপর সৌদি বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব জনমতের কাছে তুলে ধরতে বাধ্য হলো জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের এক খসড়া প্রতিবেদনে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পেঁৗছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সৌদির প্রতি। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। খবর আলজাজিরা ও দি ইনডিপেন্ডে।

ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বু মানসুর হাদির পক্ষ নিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাত করতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি জোট। একই সঙ্গে রাজধানী সানার এয়ারপোর্টসহ ইয়েমেনের জল, স্থল ও আকাশপথ সব অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। জোটের বিমান হামলায় গত দুই বছরে মারা গেছেন ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ হাজার। অন্যদিকে, অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে দেশটিতে খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। সঙ্গে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা। এতে গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষ কলেরায় প্রাণ হারিয়েছেন। মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ বাসিন্দা।

জাতিসংঘের মতে, দেশটির আড়াই কোটি বাসিন্দার সবাই দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় প্রাণ হারাতে বসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ইয়েমেনে সংঘাতরত সব পক্ষকে দেশটির স্থলপথ, আকাশপথ ও বন্দর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল স্টেফেন ওব্রায়েন শুক্রবার বলেন, ইয়েমেনের বাসিন্দাদের বাঁচাতে হলে সব অঞ্চলে নিঃশর্তভাবে মানবিক ত্রাণ পেঁৗছানোর সুযোগ দিতে হবে। সানার বিমানবন্দর দ্রুত খুলে দিতে হবে। বাণিজ্যিক ও বেসামরিক যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে দেশটির শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে নিহত শিশুদের ৫১ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছে সৌদি জোটের আগ্রাসনে। রিপোর্টে বলা হয়, গত দুই বছরে ইয়েমেনে সাড়ে ৬ শতাধিক শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩৫০ শিশু মারা গেছে সৌদির বিমান হামলায়। তাই সৌদিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ও শিশুঘাতক সরকারগুলোর কালো তালিকায় স্থান দিতে হবে বলে বিশ্বজনমত জাতিসংঘের কাছে প্রত্যাশা করছে।

ইসলামের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক কী?

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

wahhabistsইব্রাহীম মল্লিক সুজন  : মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নগরী। এই দুটি শহরই সৌদি আরবে অবস্থিত। ইসলামের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যর নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বে অদ্বিতীয়। আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সৌদি রাজবংশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অনেকেরই জানার আগ্রহ: ইসলামের সঙ্গে এই রাজবংশের সম্পর্ক কী? বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের ইতিহাস হচ্ছে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।ইসলামের সঙ্গে সৌদি রাজবংশেরও সম্পর্ক রয়েছে। তবে,সৌদি রাজবংশের উপর ইসলামের যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল তা পালন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এই অর্থে যে তারা শুধু ওহাবিজমকেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।

‘ওহাবিজমের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের আরও যে মতধারা রয়েছে সেগুলোর সমন্বয় করে যদি এরকম হতো যে, বিশ্বের বিশিষ্ট ওলামায় ক্বেরাম যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে এগুলো গবেষণা করে তারা যদি আমাদের সত্যিকারের ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তাহলে তাদের প্রতি আমাদের যে অভিযোগগুলো আছে, তা থেকে তারা মুক্তি পেতেন।’

ড. আবদুল বাছির  বলেন: তারা (সৌদি রাজবংশ) শুধু চেয়েছেন তাদের একদেশ ভিত্তিক আদর্শকে (ওহাবিজম) সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে। সার্বিক অর্থে তাদের এই আদর্শ অনেকটা খণ্ডিত। তারা শুধু ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছে। তাদের রাষ্ট্রের যে নামকরণ তারা করেছে ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’ তা ইসলামের কোন নিয়ম বা বিধান মেনে করা হয়নি।এটি ইসলাম অনুসারে ঠিকও নয়। তারা যে সেখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, এটিও ইসলামের কোন বিধানের মধ্যে পড়ে না।’

সৌদি রাজবংশ ঐতিহাসিকভাবেই অমুসলিমদেরকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন: শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা অমুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছে। সৌদি আরবের বর্তমান যে পতাকা রয়েছে তাতে আড়াআড়িভাবে দুটি তলোয়ার রয়েছে, যার একটি হচ্ছে সৌদ পরিবারের অন্যটি হচ্ছে ওহাবি পরিবারের। এই দুটোর সিম্বল হচ্ছে সেটি। তার মানে বোঝা যায় ধর্মকে ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করেছে।

আবদুল বাছির  বলেন: রিয়াদের কাছে অবস্থিত দিরিয়া নামের একটি কৃষি বসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের (যিনি ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বেশি পরিচিত)সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে ‘দিরিয়া আমিরাত’ গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগ এনে এই দুইজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।

‘ওই দিরিয়া আমিরাতই বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদের মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।’

তিনি বলেন: হঠাৎ করে মোহাম্মদ বিন সৌদ এবং মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের কাছে মনে হল, বর্তমানে (তখন) যে ইসলাম চলছে তা সঠিক ইসলাম নয়। সেখানকার শেখের সাথে তাদের কথা হল। তারা এ বিষয়ে একমত হলেন যে বিষয়টির রাজনৈতিক দিক একজন এবং ধর্মীয় দিক অন্যজন দেখবেন। ফলে দু’জনের একজন ধর্মীয় এবং আরেকজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুক্ত হলেন। তাদের মতাদর্শ তারা মক্কা-মদিনায় সারা পৃথিবী থেকে যাওয়া মুসলিমদের মধ্যে যদি ছড়িয়ে দিতে কাজ করতে থাকলেন। এই দুইজনের বোঝাপড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে হয়েছিল।

‘একসময়ে তারা মক্কা-মদিনা আক্রমণ করে বসলেন। এরপর তারা রিয়াদ নামের স্থানটিকে তাদের রাজধানী করলেন। তুর্কিরা এতে ক্ষিপ্ত হল। তারা মিশরের মোহাম্মদ আলী পাশাকে বললেন যে তারা যে কাজগুলো করছে তা প্রতিহত করা দরকার।’

মোহাম্মদ আলী পাশা তার ছেলে ইসমাইলকে পাঠালেন উদীয়মান মতাদর্শকে বিতাড়িত করার জন্য। ইসমাইল এসে সেখান থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করলেন। নতুন মতাদর্শের (ওহাবিজম) ধারক ও বাহকরা যে জায়গা দখল করেছিলেন তা ছেড়ে তারা কুয়েতে পালিয়ে গেলেন।

১৯০১ সালে কুয়েত থেকে সৌদ পরিবারের সন্তান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ খুব সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় ১০০ জন যোদ্ধাসহ রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করে পুনরায় রিয়াদ দখল করে নিলেন। তার এই রিয়াদ দখল করার পেছনে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের ধর্মীয় যে মতাদর্শ ছিল সেটি যারা অনুসরণ করতেন, তাদেরকে বলা হতো মুসলিম ব্রাদারহুড। এরা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহায়তা করেছিলেন। দুই গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে সৌদের শক্তি বেশ বেড়ে যায়।

‘১৯১৬ সালে ব্রিটিশ সরকার দেখল, এটি তো একটি উদীয়মান শক্তি এবং এটি যেহেতু তুরস্কের বিরুদ্ধে আর ব্রিটিশদের শত্রু ছিল তুরস্ক সুতরাং এই শক্তিকে যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যায়, তাহলে ওরাই তুর্কিদের ধ্বংস করবে। তাহলে ব্রিটিশদেরকে নতুন করে কোন শক্তি প্রয়োগ করতে হবে না। বরং তাদের লাভই হবে। সেজন্য তারা রিয়াদ দখল করা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে মেনে নিয়ে সমর্থন দেয়।’

ওই বছরই তাদের গ্রহণ করা অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয় ব্রিটিশরা। নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে তুরস্কের আধিপত্য খর্ব হয়। কিন্তু হিজাজে (মক্কা-মদিনা) তখন তুরস্কের শাসক ছিলেন শহীদ ইবনে হোসেন ইবনে আলী ইতিহাসে তিনি শরীফ হোসেন নামে বেশি পরিচিত। তুর্কির সুলতান আবদুল হামিদ তাকে হেজাজের শাসক করেছিলেন এই কারণে যে মহানবী (স.)র পরিবারের সাথে তার যোগসূত্র ছিল এবং তাকে যদি হেজাজের গভর্নর করা হয় তাহলে পশ্চিম বিশ্ব ও সৌদি আরবের মানুষরা মহানবীর পরিবারের বলে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে । কিন্তু শরীফ হোসনের মনে মনে একটা উদ্দেশ্য ছিল যে তিনি তুরস্কের অধীনে এখানকার প্রশাসক না হয়ে তিনি বংশীয় যে প্রাধান্য সেটি অর্জন করবেন এবং এখানকার স্বাধীন শাসক হবেন।

ফলে তিনিও দেখলেন, এই মুহূর্তে স্বাধীন শাসক হওয়ার জন্য ব্রিটেনের সহযোগিতা বেশি দরকার।আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ এবং শরিফ হাসানের সঙ্গে ব্রিটিশদের যোগাযোগ হল। শরিফ হাসানের সঙ্গে হল প্রকাশ্যে দিনের বেলায়। আর আবদুল আজিজের সঙ্গে হল রাতের বেলায়।

ওহাবিজমের সমর্থনকারীরা কখনো চাইতো না কোন বিদেশি শক্তির সাথে আবদুল ইবনে আজিজের সঙ্গে কোন যোগাযোগ থাকুক। কারণ এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে মেনে নেয়া কষ্টকর ছিল। এজন্য সৌদ যোগাযোগ করতেন রাতে এবং শরিফ হোসেন যোগযোগ করতেন দিনের বেলায়।

শরিফ হোসেনের সাথে ব্রিটিশদের ১২টি পত্র বিনিময় হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার মাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তখন ওহাবিজমে বিশ্বাসীরা একটি সুযোগ পেয়ে যায় যে শরিফ হোসেন মুসলমানদের শাসক হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের সাথে যোগাযোগ করছে, সুতরাং তিনি সমগ্র মুসলানের শত্রু। তাকে প্রতিহত করতে হবে। তাকে যদি প্রতিহত করা যায় তাহলে মক্কা এবং মদিনায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে। যে ওহাবিজমকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্য তাদের ছিল, সেটি সফল হবে।

১৯২৪ সালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফ হোসেনকে আক্রমণ করে। তখন তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। কারণ ব্রিটেন তাকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেনি। ব্রিটিশরা তখন উদীয়মান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহযোগিতা করাই তাদের কাছে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেছিল। কারণ ইতোমধ্যে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান– এই রাষ্ট্রগুলো যে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বাধা ছিল আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ।

সুতরাং, তাদের কাছে মনে হল: সৌদকে যদি সহযোগিতা করা যায় তাহলে এই রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা তারা দিতে পারে। এজন্য তারা সৌদের পক্ষে চলে গেল এবং শরিফ হোসেনকে বলা হলো, ঠিক আছে আমরা যদি পরে কোন রাষ্ট্র তৈরি করতে পারি তাহলে আমরা সেখানে তোমাকে বা তোমার ছেলেদেরকে কর্তৃত্ব দিয়ে দেবো। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে তারা ইরাক দখল করে সেখানে শরিফ হোসেনের ছেলে হোসেনকে শাসক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। শরিফ হোসেনের পতন হল। তার পতনের মধ্য দিয়ে মক্কা মদিনায় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

মুহাম্মদ বিন সৌদের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক। অন্যদিকে আবদুল ওহাব ইবনে নজদীর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয়। এই ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্বার্থ এক হয় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৩২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ সৌদি আরব থেকে নিজের নামে শাসন পরিচালনা করতে থাকেন। এরপর ১৯৩৪ সালে রাষ্ট্রটির নাম দেয়া হয় ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’।

‘সিরিয়ায় কয়েক দশক থাকার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা’

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

american bases in syriaসিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতনের পর মার্কিন সেনাদেরকে সেখানে কয়েক দশক মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ার একটি গেরিলা গোষ্ঠী এ তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, সিরিয়াকে মুক্ত করার জন্য মার্কিন সেনারা দামেস্ক-বিরোধী যোদ্ধাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে না; তাদের ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স বা এসডিএফ’র মুখপাত্র তালাল সিলো গতকাল (বৃহস্পতিবার) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা মনে করি দায়েশের পতনের পর এখানে মার্কিন সেনাদের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।” সিলো বলেন, “সিরিয়ায় ঢোকার বিষয়ে আমেরিকার কয়েক দশক ধরে কৌশল ছিল। এখন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চুক্তি হবে।”

সিরিয়া ও তুরস্ক সীমান্তের ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় কুর্দি প্রভাবিত এসডিএফ’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ বিস্তীর্ণ সীমান্তের কয়েক জায়গায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি’র প্রধান জানিয়েছিলেন,  সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন সেনারা আটটি ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে।

US soldiers in Syria

সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

sikim 2হারুন রশীদ : ১৯৫৯ সাল। দার্জিলিংয়ের Windamere Hotel-এর আলো ঝলমল সান্ধ্য আসরে হিমালয় দেখতে আসা ১৯ বছর বয়সী হোপ কুক (Hope Cooke) নামের হাস্যোজ্জ্বল এক আমেরিকান তরুণী তার বান্ধবীকে নিয়ে পানভোজনে উচ্ছ্বসিত সময় কাটাচ্ছেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার বহু দিনের এক লালিত স্বপ্ন পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামীকাল ভোরে। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখার আয়োজন হয়েছে।

লবির অন্য পাশে বিষণ্ন এক রাজকুমার কাচের গ্গ্নাসে রঙিন সুধাপানে মগ্ন। সদ্য বিপত্নীক এই রাজকুমারের নাম পালডেন থনডুপ নামগিয়াল (Palden Thondup Namgyal) । রাজ্যের নাম সিকিম। গ্যাংটকের রাজপ্রাসাদে বসবাস। দেরাদুন থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া চৌকস তরুণ সিকিমের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। বয়স ৩৫ হলেও এখনও তারুণ্যে উজ্জ্বল।

আমেরিকান তরুণীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন রাজকুমার। একবার নয়, বারবার। ভাবছেন, অসাধারণ মায়াময় চোখের এই নারী কে?

আমেরিকান তরুণীও ফিরতি চাহনিতে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন। তারপর দু’জন নিজ নিজ ঘরে গিয়ে দরোজা বন্ধ করে দিলেন। একজন রোমান্টিক কবিতার বই খুলে বসলেন, অন্যজন রেকর্ড প্লেয়ারে পুরনো দিনের গান শুনতে লাগলেন উদাস হয়ে।

এর কয়েক দিন পরই হোটেল উইন্ডামেয়ারের বাসিন্দা এবং দার্জিলিংয়ের পাহাড় জেনে গেল পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুই বাসিন্দা একটি অভিন্ন স্বপ্নময় জগতে বাঁধা পড়ে গেছেন।

কুকের কাছে অবিলম্বে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন রাজকুমার। কিন্তু বাদ সাধল পশ্চিমের প্রতি রক্ষণশীল সিকিমের ভুটিয়া সমাজের চিরকালীন অবিশ্বাস। তা ছাড়া আমেরিকান নাগরিকত্ব নিয়ে সিকিমের রানী হওয়া অসম্ভব। কিন্তু প্রেমের কাছে কোনো বাধাই বড় নয়। হোপ কুক দেশে ফিরে গিয়ে চূড়ান্তভাবে আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিকিম ফিরে এলেন ১৯৬১ সালে। তারপর কোনো বাধা ছাড়াই আরেকটি রূপকথার প্রেমের মধুরতম পরিণতি পেল হিমালয়ের কোলে, গ্যাংটকের পাহাড়ে।

১৯৬৫ সালে সিকিমের তৎকালীন রাজা তাশি নামগিয়ালের (Tashi Namgyal) মৃত্যু হলে পালডেন নামগিয়েল সিংহাসনে বসলেন হোপ কুককে পাশে নিয়ে।

সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত

হিমালয় পর্বতের নিরিবিলি এই রাজ্যটি কখনও বিপদমুক্ত ছিল না। বিদেশি শক্তি বার বার লোভের থাবা বাড়িয়েছে। নিজের দেশকে নিজের মতো করে কখনোই শাসন করতে পারেননি এই দেশের রাজারা। প্রতিবেশী রাজ্যের আগ্রাসন এসেছে বারবার। ১৯৭০ সালের আগে সর্বশেষ আগ্রাসী শক্তি ছিল ইংরেজ, যাদের কাছে দার্জিলিং আপসে দিয়ে দিতে হয়েছিল ১৮৩৫ সালে। দার্জিলিং হাতছাড়া হলেও গ্যাংটকে সিকিমরাজ নিরাপদে ছিলেন প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে। কোনো খবরদারি ছাড়াই রাজ্য শাসন চলেছিল।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ইংরেজ কর্তৃক সিকিমকে স্বতন্ত্র একটি রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হলেও ভারত আর নেপালের নজর পড়ে বৌদ্ধ অধ্যুষিত দেশটির দিকে। বছরের পর বছর ধরে নেপাল থেকে প্রচুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছিল দীর্ঘদিন ধরে। সিকিমের দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা অসম্ভব ছিল। এসব অনুপ্রবেশের কুফল দেখা যেতে শুরু হলো ১৯৭০ সালের পর। একশ’ বছরের মধ্যে বৌদ্ধশাসিত রাজ্যটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়ে। সিকিমের মূল অধিবাসী ভুটিয়ারা ২০ ভাগ নিয়ে হয়ে গেল সংখ্যালঘু। তাতে নেপালের কোনো লাভ না হলেও ভারতের নজর ছিল বরাবর।

১৯৭৫ সালে ভারতের চাপে অদ্ভুত একটি গণভোটের আয়োজন হলো সিকিমে-সিকিম স্বাধীন থাকতে চায়, নাকি ভারতের রাজ্য হতে চায়। আশিভাগ বহিরাগত জনগোষ্ঠীর কারণে ফলাফল সিকিমবাসীর বিপক্ষে গেল। সিকিমের মূল অধিবাসীদের স্বাধীন থাকার স্বপ্ন চিরতরে নষ্ট হয়ে গেল। গণভোটের দিন দুই লাখ জনগোষ্ঠীর দেশটির চারপাশ ভারতের এক লাখ সৈন্য ঘিরে রেখেছিল। ঘটনার চাকা ঘুরতে থাকে। ১৪ এপ্রিল ১৯৭৫-এ রাজা পালডেনকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে গৃহবন্দি করা হয়। তারপর ১৫ মে ১৯৭৫ সালে এক নীরব অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলো তিনশ’ বছরের পুরনো শাসক এবং শাসন ব্যবস্থা। সিকিম ভারতের অধীনস্থ একটি রাজ্যে পরিণত হলো তথাকথিত গণতন্ত্রের অজুহাতে।

স্বপ্নের দিন অবসানে

গণভোটের পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করে তার আগেই হোপ কুক তাদের দুই সন্তান Prince Palden Gyurmed Namgyal এবং Prince Palden Gyurmed Namgyal Ges Princess Hope Leezum Namgyal Tobden কে নিয়ে আমেরিকায় চলে গিয়েছিলেন। তাদের আর ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। ওই বছরের জুন মাসে সিনেটে বিশেষ বিল পাসের মাধ্যমে হোপ কুকের আমেরিকান নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা হয়।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পালডেন আর হোপ কুকের বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবার-সংসার ইত্যাদি নিয়ে তৈরি হতে থাকে অনিবার্য দূরত্ব। অবশেষে ১৯৮০ সালে তাদের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনেরও অবসান ঘটে। দু’বছর পরে ১৯৮২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজা পালডেন নামগিয়েলও নিউইয়র্কের Memorial Sloan Kettering Cancer Center হাসপাতালে মারা যান।

শাসক হিসেবে নামগিয়েল কতটা সফল ছিলেন? উত্তরে একটা তথ্যই যথেষ্ট। তার আমলে সিকিমের শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। পালডেন নামগিয়েল সিকিমকে একটি আধুনিক এশিয়ান রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন রানী হোপ কুককে সঙ্গে নিয়ে। বলা বাহুল্য, স্বপ্নটা অকালে মৃত্যুবরণ করেছিল।

মার্কিন মিডিয়া মালিকদের একটি বিবরণ

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

us-media-controlবিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে আমেরিকায়,‘করপোরেট মিডিয়া’ বলে একটি কথা চালু আছে। করপোরেট মিডিয়া করপোরেশনের সিইও দ্বারা পরিচালিত এবং তারা মিডিয়াতে কনটেন্ট কী হবে, কাদের কাছে বিক্রি হবে এবং কত অর্থ সেখান থেকে আসবে তা নির্ধারণ করেন। করপোরেট মিডিয়া এবং মূলধারার মিডিয়ার সঙ্গে সংঘাত অনেকদিনের। মার্কিন মিডিয়া মালিকদের একটি বিবরণ দেখলেই বোঝা যাবে তাদের সংবাদমাধ্যমের অবস্থাটি আসলে কোথায়।

কমকাস্ট, এনবিসি, উনিভার্সাল পিকচার্স ও ফোকাস ফিচার্স’এর মালিক জেনারেল ইলেকট্রিক; নিউজকর্পের মালিকানাধীন আছে ফক্স, ওয়াল স্ট্রিট জর্নাল এবং নিউ ইয়র্ক পোস্ট; এবিসি, ইএসপিএন, মিরাম্যাক্স ও মার্ভেল স্টুডিওজের মালিক ডিজনি; এমটিভি, নিক জেআর, বিইটি, সিএমটি ও প্যারামাউন্ট পিকচার্সের মালিক ভিরাকম; টাইম ওয়ার্নারের মালিকানাধীন আছে সিএনএন, এইচবিও, টাইম ম্যাগাজিন ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স; এবং শেষে শো’টাইম, স্মিথসোনিয়ান চ্যানেল, এনএফএল ডট কম, জেওপার্ডি ও সিক্সটি মিনিট্’সের মালিক সিবিএস। এই ছয় করপোরেশন আমেরিকার নব্বই শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

আমেরিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি যে টিভি চ্যানেলটি দেখে তা হলো এনবিসি। এই এনবিসির মালিক হচ্ছে জেনারেল ইলেকট্রিক। জেনারেল ইলেকট্রিক হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা তাদের পারমাণবিক দিকটি কারো কাছে প্রকাশ করতে চায় না। পশ্চিমারা যতই তাদের সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন বলুক না কেন, এমন একটি পারমানবিক অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির টিভি চ্যানেল কতটা স্বাধীন হতে পারে তা আলোচনা সাপেক্ষ। অনেকে বলতে পারেন, হ্যাঁ তারা সরকারের হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীন। দেখা যায়, আমেরিকায় এবং সারা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মালিক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষেরা।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বর্বরতম পাঁচ নৃশংসতা

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদেরকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সত্যিকার গল্প বলেনি। বিশ্বব্যাপী লুটপাট চালিয়েই যে ব্রিটেন নিজ দেশের শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়েছিল এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল; এবং অন্যদিকে উপনিবেশগুলোকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিয়েছিল সে সম্পর্কে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো সচেতনতা সৃষ্টিরও চেষ্টা করা হয়নি।

এমনকি ইউগভ ডটকমের এক জরিপে দেখা গেছে ব্রিটিশরা সাধারণত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং নিজেদের ঔপনিবেশিক অতীত নিয়ে গর্ব বোধ করেন। জরিপে দেখা গেছে, ৪৪% ব্রিটিশ তাদের ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে গর্ব বোধ করেন। আর মাত্র ২১% ব্রিটিশ বিশ্বব্যাপী তাদের সাম্রাজ্য স্থাপনের বিষয়ে আক্ষেপ করেন।

একই জরিপে দেখা গেছে, ৪৩% ব্রিটিশ বিশ্বাস করেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য একটি ভালো ব্যাপার ছিল। যেখানে মাত্র ১৯% ব্রিটিশ মনে করেন তা খারাপ ছিল। আর ২৫% বলেছেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভালোও ছিল না আবার খারাপও ছিল না।

১৯২২ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন এর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির চূড়ায় ছিল তখন ব্রিটিশরা বিশ্ব জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশের ওপর কর্তৃত্ব করত এবং বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি তাদের দখলে ছিল।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সমর্থক ও অনুরাগীরা বলে আসছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্বব্যাপী দখলকৃত উপনিবেশগুলোতে নানা ধরনের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি ব্রিটিশরা তাদের উপনিবেশগুলোতে গণহত্যা, দুর্ভিক্ষ এবং নির্যাতন-নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য সব ঘটনা ঘটিয়েছে।

এখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পাঁচটি বর্বরতম নৃশংসতা তুলে ধরা হলো :

১. আফ্রিকায় বোয়ের বন্দিশালা

দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেয়াজিল্যান্ডে সংঘটিত দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধ (১৮৯৯-১৯০২) চলাকালে ব্রিটিশরা বোয়ের জনসংখ্যার প্রায় এক ষষ্ঠাংশকে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে। বন্দিদের বেশির ভাগই ছিল নারী ও শিশু। ওই বন্দিশালায় ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষকে বন্দি করা রাখা হয়েছিল এতে।

খাদ্যের অভাব ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণে প্রায় ২৭ হাজার ৯২৭ জন বোয়ের বন্দি মারা যায়। আর অজানা সংখ্যক কালো আফ্রিকানেরও মৃত্যু হয়।

২. অমৃতসর গণহত্যা

১৯১৯ সালের ১৩ এ্রপ্রিল ভারতের অমৃতসরে ব্রিটিশ সরকারের একটি আদেশ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হচ্ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদেরকে জালিয়ানওয়ালা বাগানের দেয়ালের ভেতরে আটকে ফেলা হয়। এবং ব্রিটিশদের অনুগত গুর্খা সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করে। মাত্র ১০ মিনিটের এই বর্বর হামলায় আহত হন আরও অন্তত ১১০০ মানুষ।

এই হামলার নেতৃত্ব দানকারী ব্রিগেডিয়ার ডায়ারকে ব্রিটিশ জনগণ একজন মহানায়ক বলে আখ্যায়িত করেছিল। এবং তার জন্য একটি পুরস্কার তহবিলে গঠন করে ২৬ হাজার পাউন্ড দান করেছিল।

৩. ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি

১৯৪৭ সালে মাত্র একবেলা দুপুরের খাবার খেতে যতক্ষণ সময় লাগে সেই সময়কালের মধ্যেই ব্রিটিশ কর্মকর্তা সিরিল রেডক্লিফ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানা ভাগ করেছিলেন। এর পর হিন্দু ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। আর ওই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

৪. মাউ মাউ বিদ্রোহ

১৯৫১-১৯৬০ সালে কেনিয়ার মাউ মাউ বিদ্রোহ দমনের সময় ব্রিটিশরা কেনিয়ার অন্তত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে হত্যা করে। এ সময় ধর্ষণ ও বন্দিশালায় নির্যাতন চালিয়েও অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে ব্রিটিশরা। কেনিয়া পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ওই ঘটনার ক্ষতিপূরণে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করেছিল।

৫. ভারতবর্ষে দুর্ভিক্ষ

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনে থাকাকালে ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ মারা যায় দুর্ভিক্ষে। অথচ একই সময়ে ভারত থেকে বছরে লাখ লাখ টন গম পাচার হতো ব্রিটেনে।

১৯৪৩ সালে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাতেই শুধু মারা যায় ৪০ লাখ মানুষ। অথচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সে সময় বাংলায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য ব্রিটিশ সেনা ও গ্রিকদের জন্য সরবরাহ করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

উইনস্টন চার্চিল বাংলার ওই দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমি ভারতীয়দের ঘৃণা করি। কারণ তারা মানুষ নয়, পশুর মতো। আর তাদের ধর্মও পাশবিক। এই দুর্ভিক্ষের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। কারণ খরগোশের মতো অসংখ্য সন্তান জন্ম দিয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানোর ফলেই খাদ্যের অভাবে এই দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।’