Archive

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

সালতামামি ২০১৬ – চিত্রে ১০ আলোচিত ব্যক্তিত্ব

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

10-talked-topics-110-talked-topics-2

সালতামামি ২০১৬ – প্রেক্ষিত সারা বিশ্ব

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

text-saltamami-%e0%a7%aa

2016-review-562016-review-57

সালতামামি ২০১৬ – প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

text-saltamami-%e0%a7%aa

2016-review-12016-review-22016-review-32016-review-4

কালের গর্ভে বিলীন আরেকটি বছর !

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

new-year-rhymeশাহ মতিন টিপু : ৩১ ডিসেম্বর। এই বছরের শেষদিন আজ। আজকের দিনটি পার হলেই হারিয়ে যাবে গত এক বছর ধরে দেয়ালে টানানো ক্যালেন্ডারটির গুরুত্ব। সেখানে ঝুলবে আরেকটি নতুন ক্যালেন্ডার।

আজকের দিনটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তিঅপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হবে নতুন বছর। অনেক ঘটনঅঘটন, প্রাপ্তিঅপ্রাপ্তি, চড়াইউৎরাই, উদ্বেগউৎকণ্ঠা ও আনন্দবেদনার সাক্ষী এই বিদায়ী বছর। নানা ঘটনা প্রবাহে আলোচিত ইংরেজি ২০১৬ সাল। সেইন্ট গ্রেগরি প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারের হিসাবে এখন সামনে সমাগত ২০১৭।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৬এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে?

বিদায়ী বছর প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখযাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চায় সবাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বিদায়ী বছরে ভাল খবর যেমন ছিল, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও কম ছিল না । দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রেই বিষ্ময়কর সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বেই বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ আসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দারিদ্র্য মুক্তির সাফল্য দেখতে বিশ্বব্যাংক প্রধানও বাংলাদেশ সফর করেছেন। মুগ্ধ হয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে। বেশ কয়েকজনের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কয়েকজনের মৃত্যুদন্ডও কার্যকর করা হয়েছে। এতে জাতি হিসেবে সারাবিশ্বে যেমন আমাদের মর্যাদা বেড়েছে, তেমনি শহীদ পরিবারগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছে। কিছুটা হলেও মোছন হয়েছে জাতির গ্লানি। সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে অবনতির চিত্র লক্ষণীয়।

দুর্নীতি, দলীয়করণ, আমলাতোষণ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অপকান্ড এখন পূর্বাপেক্ষা বেড়েছে। জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেই মতৈক্য। সংকুচিত হয়ে গেছে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রগুলোও। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানও অনেকের কাছে উপহাসের হয়েছে। তবে নাসিক নির্বাচন আশার আলো জ্বেলেছে। দেশস্বার্থে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ঐক্য দরকার। তা এমন যে, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ফিরে আসুক গণতন্ত্রের সুস্থ ধারা, সুসংবাদ বয়ে আনুক সবার জন্য।

২০১৬ সালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ছিল স্থানীয় সরকারের নানা পর্যায়ে এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন। উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচন ছাড়াও হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুটি দলেরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের শেষ দিকে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসেছে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো। যা দেশে গণতন্ত্রের চর্চার পথে নতুন আশার আলো।

বছর জুড়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল জঙ্গিবাদ। সারা বিশ্বে যখন জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেখানে এর বিষবাষ্প থেকে মুক্ত ছিল না বাংলাদেশও। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠীর বর্বরতা ও হত্যাকাণ্ড অবাক করেছে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বকে।

এ বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত ছিল, সেটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। সারা বিশ্বের আলোচিত এই নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নানা কারণে বিতর্কিত এই প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কী কী প্রভাব পড়বে তার হিসাবনিকাশ চলছে এখনও।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০১৫১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭.১১ শতাংশ হওয়ার ঘোষণা আসে ২০১৬ সালে। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও সরেনি আলোচনা থেকে। অর্থনীতিতে স্বস্তির পরশ যেমন ছিল, তেমনি ছিল দুশ্চিন্তার কারণও। মোটা দাগে বলতে গেলে বছরটিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেকগুলো সূচক স্থিতিশীল ছিল। অর্থনীতির যেসব সূচক সরাসরি সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে, সেসব সূচকের বেশ কয়েকটি স্বস্তিদায়কই ছিল । ২০১৬ সালটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্যও ছিল খুব ভালো বছর। রাজস্ব আদায় হয়েছে নিজস্ব কৌশলমতোই। ব্যবসাবাণিজ্য চলেছে স্বাভাবিকভাবে। এর ফলে সারা বছরই রাজস্ব আদায়ের গতি ভালো ছিল।

কূটনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীরা সেখানকার সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং দমননিপীড়নের মুখে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রেবেশ করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুপল্লীতে হামলার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সব শেষ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন তুলেছে মানবিকতার নতুন প্রশ্ন।

২০১৬ সালে দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ৫০০ স্কুলকলেজকে বেসরকারি থেকে সরকারিকরণ। সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও রয়েছে একটি বিশাল অর্জন। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে আমাদের পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ। এই উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। সেই মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

এত কিছুর পরও এ দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন নানা সমস্যার আবর্তে জর্জরিত। সমস্যা যেমন আছে গ্রামে, তেমনি আছে শহরতলি বা নাগরিক জীবনে। সব সমস্যাকে মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়, এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে কী ভুল ছিল তা শুধরে নিয়ে নতুন পথচলা শুরু হবে ২০১৭ সালে। নতুন বছর নিয়ে আসবে নতুন কিছুর বারতা। এই কামনা এ দেশের সব মানুষের।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি ডট কম

ছবিতে সেদিনের স্বাধীনতা লাভের পর উচ্ছ্বাস !

ডিসেম্বর 18, 2016 মন্তব্য দিন

liberation-war-1-artpost-victory-1post-victory-2

এক জামাত-শিবির কর্মীর মনোবেদনা ! আহা…

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

war-criminalsএকাত্তুরে আমরা ভুল করিনি” বলে গর্বোদ্ধত উচ্চারণকারী স্বাধীনতাবিরোধী নর্দমার কীট জামাতশিবিরের এক ছদ্মনামধারী কমরেড (আসল নাম দেবার সাহস নেই !) বিজয় দিবসে তাদের মানবতাবিরোধী নেতাদের কুশপুত্তলিকা ও ছবিতে জুতার মালা দিয়ে জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করায় গাত্রদাহ শুরু হয়েছে ; আর তাই খিস্তিখেউড় করে মনের ঝাল মেটাবার চেষ্টা করেছে এই পাকিপন্থী নাদান ।

এই নর্দমার কীট পাবলিককে বিভ্রান্ত করার জন্য ইসলাম অবমাননার বাহানা তুলে আনার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে ভাবখানা এমন যেন সে ছাড়া আর কেউ ইসলাম বোঝে না । “ইসলাম গেলো গেলো” রব তুলে এবং ভারতজুজু ভয় দেখিয়ে এই পাষন্ডগুলো একাত্তুরে পাকি হানাদার বাহিনীর সশস্ত্র সহযোগী হয়ে হত্যাগুমনির্যাতনধর্ষণে মেতে উঠেছিলো । বাঙালীর আত্মরক্ষার সংগ্রাম তাদের দৃষ্টিতে ছিলো দাঙাহাঙ্গামা । তাদের কাছে সেটা ছিলো জিহাদ” ; সুতরাং এদেশের নারীরা ছিলো তাদের জন্য গণিমতের মাল !

jamaat-misuses-islamস্বাধীনতা যুদ্ধে জামাতশিবিরের অপকর্ম তুলে ধরতে অনেক আগে থেকেই তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বিভিন্ন সময়ে (শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসে নয়) পত্রিকার পাতায় বা প্রতিবাদ মিছিলে পাকিস্তানী ষ্টাইলের দাঁড়িটুপি ও পায়জামাপাঞ্জাবী পরিহিত করে তুলে ধরা হয়ে থাকে ; টুপিতে অনেক সময় পাকিস্তানী পতাকা অংকন করে দেয়া হয় বা হাতে/মাথায় পাকিস্তানী পতাকা সেঁটে দেয়া কার্টুন আঁকা হয় তাদের পাকিস্তানপ্রীতি বোঝাবার জন্য ; এগুলো নতুন কিছু নয় । এখানে মূর্তি বা কুশপুত্তলিকা বানানো বা দাঁড়িটুপির ব্যবহারের উদ্দেশ্য ইসলাম অবমাননা নয় বরং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র এবং যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন। আল্লাহ মানুষের মনের খবর রাখেন । বুখারীর ১ং হাদীসে যেমন বলা হয়েছে, “অবশ্যই মানুষের কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল” । সুতরাং এখানে দাঁড়িটুপির ব্যবহার কোনক্রমেই ইসলাম অবমাননার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি । কিন্তু মতলববাজ এই নাদানের ঘিলুতে তা আসেনি । টুপিপাঞ্জাবী কবে থেকে সুন্নতি লেবাস হলো ? রাসুলুল্লাহ (রা) তো কোনদিন টুপিপাঞ্জাবী পড়েননি ! যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান সাধারণত যদি পাশ্চাত্য পোষাক পড়ে বাইরে যেতো তাহলে সুন্নতি লেবাসের প্রতি তার কতো দরদ ছিলো তা বোঝা যায় । না, আসলে এই নাদান মিথ্যাচার করে গেছে । কামারুজ্জামান সৌদী ষ্টাইলের আলখেল্লা (থোব বা দিসদাসা) পড়তো যা সুন্নতি পোষাক না !

সাহস নেই এই নর্দমার কীটের জনসমক্ষে এসে প্রতিবাদ করার ; তাই শুধু অনলাইনে রাগে ফোঁসফাঁস করা ; অন্যদের গালে থাপড়ানোর দুঃসাহস দেখানো । মুসলিমদের জন্য দরদ দেখানো । অথচ মওদূদীর এই নর্দমার কীটগুলো তো নিজেদের ছাড়া অন্যদের মুসলমান হিসেবেই গণ্য করে না ।

দাঁড়ি টুপি ও রাজাকার, ইসলামকে হেয় করার একটি চক্রান্ত

jamaat-war71বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস আসলেই ইসলামকে অপমানিত করার মহা সুযোগ পায় একটি চেতনাবাজ গোষ্ঠী। গতকালও তাঁর ব্যাতিক্রম হয়নি! প্রতিবারের মত এবারও ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দেশব্যাপী মনের স্বাদ মিটিয়ে দাঁড়ি টুপি আর পাঞ্জাবীকে জুতা দিয়ে সন্মানীত করলো চেতনাবাজেরা! মুসলিমদের বাপের ভাগ্য কোরআন শরীফ এনে এখানে যুক্ত করেনি!

প্রথম ছবিটায় মুর্তির সামনে ইসলামের লেবাসকে জুতার মালা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে! দেখে মনে হচ্ছে মুর্তির সামনে ইসলামকে পদদলিত করাই এদের মুল উদ্দেশ্য! এ যেন বিশেষ গোষ্ঠীর একটি মহা সুযোগের দিন। রাজাকারের ছুতো দিয়ে এমন বিশেষ কিছু দিনে তাঁরা ইসলামকে অপমানিত করার মহা সুযোগ হাতে পায়

পরের ছবি গুলো আপনাদের বহুল পরিচিত তথাকতিথ রাজাকার কমাণ্ডারের তিনটি ছবি। শুরুতে আছেন

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ক্লিনশেভ করা একজন ব্যাক্তি। এই যদি রাজাকারের চেহারা হয়ে থাকে তাহলে রাজাকারের চরিত্র দিতে দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবী বাধ্যতামুলক হয়ে দাঁড়ায় কেন? চেতনাবাজদের এদিন জুতানোর একটি কর্মসুচী মুসলিমদের রাখা দরকার..

দ্বিতীয় ছবিটি নাকি আঃ কাদের মোল্লা। এই ছবি দেখিয়ে জামায়াতের এই নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেনে নিলাম ইনিই কাদের মোল্লা! দেখুন ছবিটি কেমন! ক্লিনশেভ, ব্যাক ব্রাশ চুল, শার্টপ্যান্ট পরিহিত চোখে সানগ্রাস দিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন নিয়াজির সাথে! কতিথ কসাই কাদের যদি এমন হয় তাহলে এখন রাজাকারের চিত্র আনতে বিশাল দাঁড়ি টুপি আনো কোন পাশ দিয়া!!! শিশুদের মনে দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবীকে খারাপ জিনিস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে চাও! এদিন সকাল বিকাল কানের নিচে থাপড়ানির কিছু কর্মসূচী রাখা জরুরী

তৃতীয় ছবিটি কামারুজ্জামান। চিরদিন তিনি পাশ্চাত্য ড্রেসে চলাফেরা করেছেন। কোর্ট টাই ছাড়া তিনি সাধারনত বাহিরে যেতেন না! এই যদি হয়ে থাকে রাজাকারের ছবি তাহলে তুমি দাঁড়ি টুপি দিয়ে রাজাকার বানাও কিভাবে? তল পেটের কিছুটা নিচে কিছু লাথির ব্যবস্থা করলে এমন ভুল সাধারনত হতোনা চেতনাবাজদের

স্বাধীনতা যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না। পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে ছিল। যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছে মুসলিমরা। আহত হয়েছে মুসলিমরা, পঙ্গু হয়েছে মুসলিমরা, যুদ্ধ করেছে মুসলিমরা! যুদ্ধে বীর শ্রেষ্ঠের সন্মান পেয়েছে শুধুই মুসলিমরা। আবার এখন অপমানিত করা হয় মুসলিমদের! কি আজিব এক পরিস্থিতি!!!

সুন্নতি লেবাসে জুতার মালা দিয়ে দেশব্যাপী মুর্তির সামনে যে আকাম গুলা করতেছেন এগুলো বন্ধ করুন। অনেক হইছে চেতনার চাষ! এইবার খ্যামা দিতে হইবেক জনাব!

কমরেড মাহমুদ

http://www.bdnatun.net/newsdetail/detail/34/267139

এখনো ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান !

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

মির্জা মেহেদী তমাল : পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩২ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর থেকে এই পাওনার বিষয়ে বার বার পাকিস্তানের কাছে দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি দেশটির। অবশ্য শুধু টাকার এই অঙ্ক নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত তিন ইস্যুর বিষয়েই কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম দাবি গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দ্বিতীয়টি ক্ষতিপূরণ এবং তৃতীয় দাবি, এ দেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেওয়া। কিন্তু দেশটি কৌশলে এ তিন ইস্যু এড়িয়ে গেছে। উল্টো তারা বাংলাদেশের কাছে ৭০০ কোটি টাকা পায় বলে দাবি করেছে। বাংলাদেশের এই পাওনা আদায়ে কমিশন গঠনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, বাংলাদেশ তার পাওনা বুঝে নেওয়ার খবরে পাকিস্তান নতুন করে ফন্দি আঁটছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দাবির ন্যায্যতা তুলে ধরতে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়াতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, শিগগিরই কূটনৈতিক তত্পরতা শুরু করবে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালেও পাকিস্তান সরকারকে এ পাওনা পরিশোধ করতে বলেছিল। দ্বিতীয় দফা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায় নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচারকাজ নিয়ে তাদের অভিযোগের পর এ পাওনা আদায়ে আরও সক্রিয় হয়েছে সরকার। এদিকে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা আদায় না করতে পারায় সরকারের প্রতি বিভিন্ন মহলের চাপ বাড়ছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, একটি রাষ্ট্রের কাছে যদি আরেকটি রাষ্ট্র পাওনা থাকে তাহলে সে পাওনা দিতে ওই রাষ্ট্র বাধ্য। ফলে এ আইন ব্যবহার করেও দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাংলাদেশ পাওনা আদায় করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২৪ বছরের অর্থনৈতিক বঞ্চনা পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষ হলেও বাংলাদেশের বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস ফুরায়নি এখনো। বাংলাদেশের সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দেয়নি পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালের মধ্যেই দাতা দেশগুলোকে সমস্ত ঋণ দিয়ে দেয় এই শর্তে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্পদের হিস্যা পাবে। আমরা তখন জনসংখ্যার দিক দিয়ে ৫৪ শতাংশ ছিলাম। সেই হিসাবে আমরা ৫৪ শতাংশ সম্পত্তি দাবি করতে পারি। ’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে এটা উপস্থাপনের পর আজ পর্যন্ত এ দাবি আর কেউ তোলেনি। তবে নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা তোলার সুযোগ এখনো আছে। তিনি বলেন, সরকারকে এখনই এ উদ্যোগ নিতে হবে। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কমিশন গঠন করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করবে কমিশন। আর এটি নির্ধারণ করা হলে ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা সফরে এলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪ হাজার মিলিয়ন ডলার পাওনা দাবি করেন। তখন ডলারের মূল্য ছিল ৮ টাকা। ৪৪ বছরে যা দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। এর মানে, পাকিস্তানের কাছে আমাদের এখনকার পাওনা ৪০ হাজার মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৩২ হাজার কোটি। এ ছাড়া দেশিবিদেশি বেশকিছু গবেষণাপত্রের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে তৎকালীন হিসাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, জাতিসংঘের হিসাবে যা ১.২ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় গোর্কি নামের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। নষ্ট হয় শত কোটি টাকার সম্পদ। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তখন কোনো সহায়তা দেয়নি পূর্ব পাকিস্তানকে। ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আসে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিদেশি মুদ্রাগুলো তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকার শাখায় রক্ষিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রাগুলো স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়। এই অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোর দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পাকিস্তানের দাবি করা পাওনা টাকার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশকে তার দাবি উপস্থাপনে আরও তত্পর হতে হবে।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম ১৯৭৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি জানানো হয় বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের ঘোষিত ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সময়ে বেশি গণহত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ঢাকা সফরে এসে একাত্তরকে তৎকালীন সময়ের একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন। তবে ২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ঢাকায় এসে ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে গণহত্যার দায় স্বীকার করেননি তিনি। অবশ্য পাকিস্তানের সরকার ক্ষমা না চাইলেও ২০০২ সালে পাকিস্তানের নাগরিক সমাজের ৫১টি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চায়। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশের কাছে আরও আগেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। সূত্র জানায়, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের আরেকটি দাবি আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার। ২০০৬ সালে জাতিসংঘে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সমীক্ষা অনুযায়ী সে সময় বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। গত চার দশকের মধ্যে নওয়াজ শরিফের সরকার সৌদি আরবভিত্তিক জামাতুদদাওয়ার অর্থায়নের মাধ্যমে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের নিজ দেশে পুনর্বাসন করার জন্য নওয়াজ শরিফের সরকার একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, যেখানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আটটি জেলায় ১০ মিলিয়ন রুপি ব্যয়ে ৫ হাজার ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু জামাতুদদাওয়া অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়াও থেমে যায়। যদিও এর আগেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধুর জনগণ বিহারিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে লাহোর হাইকোর্ট এক ঘোষণায় বলে, বাংলাদেশে যেসব পাকিস্তানি বসবাস করছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক।

সূত্রমতে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশেষ করে সিমলা চুক্তির পর পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। অনেকটা গুছিয়েও এনেছিলেন। তার সময়েই পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতাতেই ১৯৭৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। কিন্তু ’৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার পর এগুলো আর তেমনভাবে এগিয়ে যায়নি। শুরুর দিকে পাকিস্তান এ বিষয়গুলো স্বীকার করলেও পরে আলোচনায় আর আগ্রহ দেখায়নি।

কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুসারে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে ক্ষমতা আরোহণের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত। ওই সময় জিয়া এম ইস্পাহানিকে বাংলাদেশের তিন দাবির কথা স্পষ্টই জানিয়ে দেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে বছর একই কথা জানানো হয় ঢাকার পাকিস্তানের হাইকমিশনার আলমগীর বাশার খান বাবরের কাছে। পরের বছর ২০১০ সালে ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র সচিবদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বাংলাদেশের দাবির কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়। আর সর্বশেষ ২০১১ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার আফরাসিয়াব মেহদি হাশমির কাছেও পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পরে ২০১২ সালে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ঢাকায় এলে বাংলাদেশের দাবির কথা জানানো হয়। তখন হিনা রাব্বানি একাত্তরকে ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আর তেমন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ শুরু করে পাকিস্তান। শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

pak-admission-of-war-crimes