আর্কাইভ

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

দিনে ৮ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন ট্রাম্প!

trump-watching-tvমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিন চার থেকে আট ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন। মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে টেলিভিশন দেখা শুরু করেন ট্রাম্প। আর এটা শুরু হয় সিএনএন অনুষ্ঠান দেখার মধ্য দিয়ে। অথচ বিভিন্ন সময় ট্রাম্প সিএনএনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এরপরই প্রেসিডেন্ট ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ দেখেন। ফক্স টেলিভিশনের সিন হ্যানিটি. লরা ইনগ্রাহাম ও জেনিন পিরোর উপস্থাপনার অনুষ্ঠানগুলোও রয়েছে প্রেসিডেন্টের পছন্দের তালিকায়।

গত মাসে এশিয়া সফরকালে ট্রাম্প তার টেলিভিশন দেখা নিয়ে সাক্ষাৎকারে যে কথা বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদটি অবশ্য তার বিপরীত তথ্যই জানাচ্ছে। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন,‘বিশ্বাস করুন আর নাই করুন,আমি যখন ওয়াশিংটন অথবা নিউ ইয়র্কে থাকি আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। যারা আমাকে জানে না তারাই ভুয়া সূত্রের বরাত দিয়ে বলে আমি টেলিভিশন দেখি। বুঝতেই পারছেন ভুয়া সাংবাদিক, ভুয়া সূত্র।’

ট্রাম্প বলেছিলেন,‘তবে আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। এর প্রাথমিক কারণ হচ্ছে নথিপত্র। আমি নথি পড়ি, প্রচুর পরিমাণে। আমি আসলে প্রচুর পড়ি।’

Advertisements

লেবানন খেলায় ধরা খেয়ে গেল সৌদি

সবার নজর জেরুজালেমের দিকে। লেবাননকে নিয়ে খেলতে গিয়ে সৌদি আরব যে বড় ধরনের ধরা খেয়েছে, তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

প্রায় এক মাস আগে সৌদি আরবে গিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। তাঁকে পদত্যাগে সৌদি আরব বাধ্য করেছিল বলে বহুল প্রচার রয়েছে।

সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে তার আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানকে দমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হয়। তবে এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে যা কিছু ঘটেছে, তা সৌদি আরবের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে।

লেবাননে ফিরে সাদ হারিরি তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। দেশের স্বার্থে লেবাননের বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে যায়। তারা সমঝোতায় আসে। সাদ হারিরিকে নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার ইতি ঘটে।

লেবাননের মন্ত্রিসভা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, বৈরুত কোনো আঞ্চলিক দলাদলি বা দ্বন্দ্বের মধ্যে নেই।

লেবাননের জাতীয় রাজনীতির এমন নাটকীয় মোড়ে রিয়াদের দাবার চাল পুরাই মাঠে মারা গেছে।

অনেক দিন ধরেই সাদ হারিরিকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব। রিয়াদ আশায় ছিল, সাদ হারিরি সৌদি আরবের হয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবেন; ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করবেন।

রিয়াদ হোঁচট খায়। ২০১৬ সালে লেবাননে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। সাদ হারিরি হন সরকারপ্রধান। তাঁর মন্ত্রিসভায় হিজবুল্লাহকেও রাখা হয়।

সাদ হারিরিকে দিয়ে হিজবুল্লাহকে বাগে আনার যে কৌশল সৌদি আরব নিয়েছিল, তা কাজে আসেনি। বরং ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েই চলছে। এতে স্পষ্টত রুষ্ট হয় রিয়াদ। এরই মধ্যে গত মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরব যান সাদ হারিরি। সেখানে গিয়ে সবাইকে অবাক করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সাদ হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে নেমে বোকা বনে যান। রিয়াদে অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে—এমনটাই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সামনে আসে অবরোধের তালিকা। লেবাননের ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মীকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয় সৌদি আরব। লেবানন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারে আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি।

পদত্যাগের ঘোষণার পর প্রায় দুই সপ্তাহ রিয়াদে ছিলেন সাদ হারিরি। সৌদি আরবে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। তাঁকে বন্দী বা জিম্মি করে রাখা হয়েছিল বলেও কথিত আছে। তবে এ প্রসঙ্গে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, সৌদি আরবে সাদ হারিরি আক্ষরিক অর্থে বন্দী ছিলেন না। কিন্তু সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তাঁকে (সাদ হারিরি) বলেছিল,‘তুমি যদি লেবাননে যাও, আমরা তোমাকে হিজবুল্লাহর লোক বলে ধরে নেব। আর তোমার সরকারকে আমাদের শত্রু ভেবে নেব।’

লেবাননকে কাতারের মতো শায়েস্তা করার হুমকিও রিয়াদ দিয়েছিল বলে সাদ হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ পর বৈরুতে ফিরে আসেন সাদ হারিরি। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগের ঘোষণা স্থগিত করেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। ৫ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের করিম বিতার মনে করেন, ইরানকে একটা শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু রিয়াদের পরিকল্পনা বুমেরাং হয়েছে।

সৌদি আরবে থাকাকালে সাদ হারিরি সংকট নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বক্তব্য আসে। সাদ হারিরি প্রশ্নে এই দুই দেশের বক্তব্যে চাপে পড়ে সৌদি আরব। রিয়াদ ভেবেছিল,‘তার তালেই ঘড়ির কাঁটা চলবে’। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি; বরং বিপরীতই হয়েছে।

সাদ হারিরির দেশে ফেরার ব্যাপারে রিয়াদ একেবারেই নারাজ ছিল বলে একটি পশ্চিমা সূত্র জানায়। পরের ঘটনাবলি সম্পর্কে এই সূত্রের মন্তব্য, সাদ হারিরি এখন ফের লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। আর তাঁর মন্ত্রিসভায় হিজবুল্লাহ বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে।

ফ্রান্সের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বুঝতে পেরেছেন, লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি একটু বেশিই খেলে ফেলেছেন। আর সেই সুবাদে সাদ হারিরি জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন।

সাদ হারিরির ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সৌদি আরব এখনো শেষ কথা বলেনি। লেবাননের ব্যাপারে সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি অবলম্বনে সাইফুল সামিন

২০ মিলিয়ন ডলারে ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণা!

sheldon-trump-netanyahu

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছিলো অনেক দিন ধরেই। রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও সিআইএ। সেই সূত্রে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য।

সাবেক ইসরাইলি ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো বিলিয়নার্স শেলডন জে অ্যাডেলসন ট্রাম্পের নির্বাচনি ফান্ডে দান করেন ২০ মিলিয়ন ডলার। তিনি ট্রাম্পকে এ অর্থ প্রদান করেন মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকারের বিনিময়ে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, অ্যাডেলসন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা জানতো ট্রাম্প অবশ্যই জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অ্যাডেলসনসহ অন্যান্য ইহুদি সহযোগিতাকারীরা ট্রাম্পকে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার জন্য চাপ দিতে থাকে। তবে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতা করা পর্যন্ত ইসরাইলকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

প্রবন্ধের ভাষ্য অনুযায়ী অ্যাডেলসন প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে চাপ দিতে থাকে। এমনটি ট্রাম্পের সঙ্গে এক কূটনৈতিক ভোজসভায় অ্যাডেলসন বিষয়টির অবতারণা করেন।

সাবেক এই ইসরাইলি ব্যবসায়ী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিন ইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জাতীয় নির্বাচনে সে তার ক্যাসিনিওকে নেতানিয়াহুর পক্ষে ব্যবহার করে।

অ্যাডেলসন ট্রাম্পকে মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু জামাতা কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের পরামর্শে ট্রাম্প এতোদিন বিলম্ব করেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষায় বেলফোর ঘোষণার পর ইসরাইল আরেক রাজনৈতিক বিজয় অর্থের বিনিময়ে কিনে নিলো।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

যে কারণে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা

প্রায় ৭০ বছরের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি লঙ্ঘন করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা বাতিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। অন্যদিকে প্রাচীন এই শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করার মার্কিন সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনা বেড়েই চলছে।  

ট্রাম্পের যে স্বীকৃতি দিয়েছে তার আসল কারণ বিশ্লেষন করেছেন অনেকে। তাদের মতে ট্রাম্পের আশঙ্কা, তিনি যদি এই স্বীকৃতি না দেন তাহলে মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ভোট ব্যাংক হারাবেন তিনি। ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও বলেছেন, গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়েছেন।  

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, সারা বিশ্বের নেতাদের হুশিয়ারি সত্ত্বেও বুধবার ট্রাম্প এ ব্যাপারে ঘোষণা দেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টানরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং ‘জেরুজালেম প্রেয়ার’ বলে এক প্রার্থনা কর্মসূচির ডাক দেয়।

এক পরিসংখ্যান মতে, আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর মানুষ রয়েছে। এরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে।

সাম্প্রতিক এক জরিপ মতে, ৮২ ভাগ শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান বিশ্বাস করে যে, ইসরাইলের ব্যাপারে প্রভু ইহুদিদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাত্র ৪০ ভাগ মার্কিন ইহুদি বাইবেলের এই বাণীকে বিশ্বাস করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে আরব লীগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করবে বলেও এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কায়রোতে সংস্থাটির এক জরুরি বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। অন্যদিকে জাতিসংঘও এর বিরোধিতা করছে।  

‘হিব্রুতে জেরুশা লাজিম। আরবিতে আল কুদ। ইহুদি ও ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান জেরুজালেম। দুই পৃথক জীবনযাত্রার আকড়বিন্দু এই প্রাচীন শহর। ফলে এর ‘হক’-এর দাবিদার একত্রে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি। ‘এভাবেই মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ।

জেরুজালেম ইস্যু মুসলিমদের সংহতি কতটা বাড়বে

IS retreat from iraq-syriaমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ হয়ত আরব ও মুসলিম দুনিয়াকে নতুন করে সচেতন করে তুলতে পারে যে ওই এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমেরিকার যে ধ্যানধারণা তাদের হয়ত সে ব্যাপারে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। এখন যখন তারা বুঝতে পারছে যে আমেরিকা ইসরোয়েলেরই পক্ষ নিচ্ছে, তখন তাদের মনে হতে পারে যে তাদের অনুভূতি বা আবেগের তোয়াক্কা যুক্তরাষ্ট্র করে না অথবা ওই এলাকার স্থিতিশীলতা নিয়ে আমেরিকার মাথাব্যথা নেই।

যে বিষয়টাতে মুসলিম বিশ্ব সবসময়েই অখণ্ড মনোভাব পোষণ করে এসেছে সেটা হল ফিলিস্তিনি ইস্যু। সিরিয়া নিয়ে তাদের মতভেদ থাকতে পারে, ইরাক নিয়ে তাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের বিষয় আসে এবং বিশেষ করে পবিত্র স্থান জেরুজালেম প্রসঙ্গে তারা অভিন্ন অবস্থান নেয়। সামনের দিকে তাকাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যেতে পারে, যেখানে এই ইস্যুতে অভিন্নতা প্রধান হয়ে উঠতে পারে এবং একটা প্রতীকী পর্যায়ে মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরালো করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, এবং তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে আমেরিকা দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

এটা অবশ্য নতুন কোন ইস্যু নয়। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে আরেকটা ইন্তিফাদা যে হবে এটা ভাবা অযৌক্তিক কিছু নয়। হামাস ইতিমধ্যেই অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে। মুসলিম দুনিয়ায় একটা বিশ্বাস দানা বেঁধেছিল যে একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে দিয়ে সমাধানের একটা পথ, একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ হয়ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসলো চুক্তির ২৩ বছর পর আসলে কিছুই হয়নি। পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে ৮ লক্ষ ইসরায়েলি বসতি তৈরি হয়েছে। কাজেই এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের বদলে তার যে পুরোপুরিই মৃত্যু ঘটেছে এ ব্যাপারে এখন কারো মনেই যে আর সন্দেহ নেই সেটা বলা যায়।

আমাদের এখন মধ্য প্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে থাকার কথা। এখন ট্রাম্প কীভাবে সেটা করবেন এবং একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে কীভাবে তিনি রক্ষা করবেন? এটা যে অসম্ভব এখন সে ধারণাটাই প্রকট হচ্ছে। জেরুজালেমের ভবিষ্যত রয়েছে এর মূলে। ইসরায়েলিদের কথা ভেবে যদি জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাপ করার জন্য কী বাকি থাকবে? অদূর ভবিষ্যতে এর একটা পরিণাম দেখা যাবে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে, সহিংসতার হুমকি রয়েছে, আরেকটি ইন্তিফাদা হতে যাচ্ছে।

এরপরেও কী ফল হবে তা স্পষ্ট নয়। শুধু যেটা স্পষ্ট সেটা হল মানুষ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভে সামিল হয়েছে ৫৬টি মুসলমান প্রধান দেশের ১৫০কোটি মানুষ, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বেশি। কারণ মক্কা আর মদিনার পর জেরুজালেম তাদের সবার জন্য পবিত্র একটি স্থান। এটা একটা অপমান এবং এর পেছনে কোন যুক্তি নেই।

আমেরিকা কেন তার দূতাবাস সরিয়ে নিতে চাইছে, আর সেটা এখন কেন চাইছে? আসলে একটা পরাশক্তি চাইছে ইসরায়েলের যুক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং সেই স্বীকৃতি তারা দিচ্ছে এমন একটা স্থানকে ঘিরে যেটা মুসলমানরা মনে করে পবিত্র এবং যেটা তাদের একান্ত নিজস্ব। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি অন্য মতানৈক্যকে জোড়া দেবে? ৫৬টি মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে বহু বড় ধরনের মতানৈক্য আছে। সেগুলো সূক্ষ্ম, ব্যাপক এবং জটিল। জেরুজালেম ইস্যুর থেকেও সেগুলো অনেক বড়। বেশির ভাগ মুসলমান প্রধান দেশ জেরুসালেম প্রশ্নে তাদের মতভেদ দেখাবে না কারণ ওই শহর মুসলমানদের জন্য অভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু এসব বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

অন্য যে বিষয়ে বড় ধরনের পরস্পর বিরোধিতা তৈরি হল, সেটা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। (না, এটা বিবিসি’র মিথ্যাচার; সবাই এখন জানে, ইসলামী জঙ্গীবাদ তৈরী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা-বিশ্ব ) কিন্তু ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিলেন তা হল আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং সবচেয়ে ভাল অস্ত্র। এই দলগুলো এখন ভাবতেই পারে যে “দেখ, যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা ইরাকে এবং সিরিয়ায় আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দেবার পর এখন ইসরায়েলিদের পুরস্কৃত করছে, আরবদের নয়।” এর ফলে আমাদের এলাকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তার ঢেউ ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়েও পৌঁছতে পারে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবার পরিণামে সেখানে “প্রতিশোধমূলক তৎপরতা” চালানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত জঙ্গীদের অনুকূলে কাজ করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যারা মিত্র আছে, যেমন মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমীরাত এই সিদ্ধান্ত তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তে হিতে বিপরীতই হতে পারে। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে এটা হয়ত মানুষকে মাঠের আন্দোলনে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবে। তবে একটা সংহতি গড়ে তোলার বদলে এর ফলে ওই অঞ্চল আরও অশান্ত হয়ে উঠবে। এর বিপরীতমুখী দিকটা হল:”এই পদক্ষেপ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষকে হয়ত একটা অভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে, কিন্তু একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ উগ্রবাদ এবং জঙ্গী আদর্শকে আরও উদ্বুদ্ধ করতেও সাহায্য করবে।”

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ

সমসাময়িক কালের বাণী-চিরন্তনী

bani-torontoni -artbani-torontoni

ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংস

ayodhya destruction rejoiceঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস আজ বুধবার। শুধু হিন্দুস্থান ভূখন্ডেরই নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর আরেকটি বেদনাবহ দিন। এই দিবসটি ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশধারী কট্টর হিন্দু মৌলবাদী ভারতের প্রকৃত চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। বিগত ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরী মসজিদের ভূমিকে দ্বিখন্ডিত করে এক ভাগ রামমন্দিরের বলে বিভক্ত রায় দিয়ে নিন্দার ঝড় তুলে। ভারতীয় আদালতের একতরফা রায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের মনে আঘাত দেয়। নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উগ্রবাদী হিন্দুদের আশকারা যেন বেড়ে যায়। নতুন করে হুংকার দেয়া হচ্ছে বাবরী মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ করার। এতে করে ক্ষোভ দানা বাঁধছে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে।

অথচ দেশটির লিবারহান কমিশন তার রিপোর্টে বলেছে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র ছিল নিখুঁত। এর জন্য তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা ও পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, আরেক বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী এবং সাবেক বিজেপি সভাপতি মুরলি মনোহর যোশীকে দায়ী করা হয়। ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকার নানা অজুহাতে ৪৮ বার লিবারহান কমিশনের কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি করে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৯২ সালের আজকের দিনে ভারতের কংগ্রেস ক্ষমতাসীন থাকাকালে উগ্রবাদী হিন্দুরা উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে অবস্থিত ষোড়শ শতকের এই অনুপম মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনটি ধ্বংস করে। হিন্দু শাস্ত্রীয় রামের জন্মস্থান ও মন্দিরের স্থলে স¤্রাট বাবর মসজিদ নির্মাণ করেছেন মর্মে হাস্যকর অভিযোগ এনে কংগ্রেস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই নিন্দিত ধ্বংসকান্ড সংঘটিত হয়। ভারতের প্রথম মোঘল স¤্রাট বাবর ১৫২৮ সালে অযোধ্যা শহরে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু ঊনিশ শতকের গোড়া থেকেই নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা তদস্থলে রামমন্দির ছিল বলে প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে। অব্যাহত প্রচারণার বদৌলতে অবস্থা এমন হয়, ১৯৪০ সালের পর থেকে সাধারণ হিন্দুরা বাবরী মসজিদের জায়গায় আগে রামের জন্মস্থানের স্মৃতিবাহী রামমন্দির ছিল বলে মনে করতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী হিন্দুরা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে চুরমার করতে উদ্যত হলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুবাদী কংগ্রেস সরকারের মদদে উগ্র হিন্দুরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই এই অমার্জনীয় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। সেদিন মুম্বাই, আহমেদাবাদ, বেনারস এবং জয়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুই সহস্রাধিক মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। এ ঘটনায় সরকারকে বিবাদী করে মামলা পর্যন্ত হয়। ভারত সরকার মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ ও সর্বকৌশল অবলম্বন করে।

প্রত্নবিশারদরা বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির থাকার দাবিকে বরাবরই ‘মনগড়া’ ও ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে। ঐতিহাসিক সত্যকে ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী সরকার কখনোই আমলে নেয়নি। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার দশ দিন পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ঘটনা তদন্তে লিবারহান কমিশন গঠন করলেও তাকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা অব্যাহত ছিল। লিবারহান কমিশনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার বিচারে পরিচালিত তদন্তে কার্যক্রমের রিপোর্ট ২০০৯ সালের ৩০ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে দাখিল করা হলেও সরকার তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। ঐ সময় লিবারহান কমিশনের রিপোর্টের বরাত দিয়ে ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সরকারি ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিলে সমগ্র ভারতে তুমুল হৈ চৈ পড়ে যায়। সেই লিবারহান কমিশনের রিপোর্টকে পায়ে দলে ও মুসলমানদের আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক হতবুদ্ধিকর রায় দেয়। ঐ রায়ে বাবরী মসজিদের জমি রাম জন্মভূমির দাবিদারদের দেয়া হয়েছে। উক্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানরা বাবরী মসজিদ এলাকার এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে পারে।

অযোধ্যায় যে বাবরী মসজিদ ছিল সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেন খোদ ভারতের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র। তিনি গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকায় এক নিবন্ধে স্পষ্টত বলেছেন, “১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর দিনেদুপুরে অযোধ্যা বা ফৈজাবাদে একটি মোগলাই মসজিদ শ্রীরামের নামে এক দল করসেবক ভেঙে ফেলল, ঠুঁটো জগন্নাথের মতো সরকার বসে দেখল, আদভানীর মতো জাতীয় নেতারা অকূস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকলেন, উমা ভারতীর মতো উঠতি নেতারা জিগির তুলে সরাসরি ধ্বংসে মদদ দিলেন। এই ইমারতি ধ্বংসকার্যের ছবিই তো ভারতীয় রাজনীতির একটি বহুল প্রচারিত পোস্টার। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছবিটি ফিরে ফিরে তুলে ধরা হয়। গুঁড়িয়ে দেয়া মসজিদের জায়গাটি ফাঁকা এখনও আছে, ওই রাম জন্মভূমিতে রামলালার মন্দির করতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলে দিয়েছেন যে, সামনের বছরের মধ্যেই মন্দির উঠে যাবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার হিন্দুত্বের সুপবন জোতদার, অতএব সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা মামলা মিটিয়ে ফেলে রাম মন্দির তোলাটা শুধু একটু সময়ের ওয়াস্তা। ২০১৮-র ডিসেম্বরের মধ্যেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজ রাম মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনেই উদ্যাপিত হবে, মোহন ভাগবত এ হেন আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদ ধ্বংস তো মন্দির নির্মাণের জন্যই। এক তœতœ-ইতিহাসের বস্তু সাক্ষ্যের পরিবর্তে কৌম ইতিহাসের বানিয়ে তোলা নিদর্শনকে বসানোর রাজনীতি ৬ ডিসেম্বর তারিখটিকে যেন স্মৃতির বুড়ি হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে।”

“৬ ডিসেম্বর তো রাজনৈতিক ব্যর্থতারই উদ্যাপন” শীর্ষক নিবন্ধে মি. ভদ্র আরো বলেন, “৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ আদৌ আকস্মিক নয়, প্রস্তুতি ছিল। আঠারো শতক থেকেই রামায়েতপন্থী সম্প্রদায়ের উত্থানে ফৈজাবাদকেই রাম জন্মভূমি বলে দাবি করা হয়। উনিশ শতকে হনুমানগড়ির সাধুদের সঙ্গে ফৈজাবাদের মৌলবীর সংঘর্ষ হয়, অযোধ্যার নবাব সৈন্য পাঠিয়ে হাঙ্গামা বন্ধ করেন। সতীনাথ ভাদুড়ির উপন্যাসেও রাম জন্মভূমির কথা উল্লেখিত হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতে মসজিদের মধ্যেই রামলালার বিগ্রহ হাজিরা দেন। প্রয়োজনে অল্পবিস্তর পুজোআচ্চাও চলে। আবার আদালতের নির্দেশে দরজায় তালাও পড়ে। ১৯৮০-র দশক থেকে রামজন্মভূমি আন্দোলন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ চাগিয়ে তোলে, প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আনুকূল্যে মসজিদের তালাও খোলা হয়, ওই প্রাঙ্গণেই রামপূজা চলতে থাকে। রাজনৈতিক দল হিসাবে এ বার বিজেপি আন্দোলনে নেমে পড়ে। এখন কেবল প্রাঙ্গণ নয়, মসজিদ দখল করে মন্দির তুলতে হবে। ১৯৯০-তে করসেবকদের উপর মুলায়ম সরকার গুলী চালায়। একাধিক করসেবক মারাও যায়। সমিধ সংগ্রহ তো শেষ, এ বার শুধু অরণি কাষ্ঠে অগ্নিসংযোগ অপেক্ষিত ছিল, বাবরী মসজিদ ধ্বংস তো সেই অগ্নিসংযোগ মাত্র।”

মামলার শুনানি পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে জানানো হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবেসর ঠিক আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার আবেদনকারীদের আর্জি মেনে পিছিয়ে গেল অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি। অযোধ্যার বিতর্কিত জমি কার? এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় এদিন বেলা ২টা থেকে। এই মামলায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১৩টি আবেদন খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ।

২০১০-এর ৩০ সেপ্টেম্বর রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলায় রায় দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই রায়ে আদালত বলে, অযোধ্যায় রামজন্মভূমি ও বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একরের বিতর্কিত জমি সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধিত্ব করা রামলালা এবং নির্মোহী আখড়া- এই তিন পক্ষের মধ্যে ওই জমি সমান ভাগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার নথিপত্র পেশ করার জন্য আবেদনকারীদের কাছে এটিই (৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ সুযোগ। এর পরে আর শুনানি পিছনো হবে না।

অবশ্য ওয়াকফ বোর্ড ও বাবরি অ্যাকশন কমিটির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বা সাত সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হোক। অন্যথায় এ দিনের শুনানি বয়কট করবে তারা। আর লোকসভা নির্বাচনের পর শীর্ষ আদালতে শুনানি করার আবেদন করল সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে ২০১১-র ৯ মে কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ইলাবাবাদ হাইকোর্টের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে বলে, উচ্চ আদালতের ওই রায় বিস্ময়কর, কারণ কোনও পক্ষই জমি ভাগ করে দিতে বলেনি। এর পরের ৬ বছরেও অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে মামলার শুনানি শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের মার্চে আদালতের বাইরে এই বিতর্কে নিষ্পত্তির কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু,তাতে কোনও পক্ষই রাজি হয়নি। এর পর আগস্টে শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, বিতর্কিত জায়গার থেকে দূরে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত স্থানে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হোক। তাতে আপত্তি জানায় সুন্নী বোর্ড।

গতকাল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি আব্দুল নাজিরের বিশেষ বেঞ্চে ওই মামলায় ১৩টি আবেদনের উপর শুনানি শুরু হয়। রামলালার পক্ষে কে পরাশরণ, সি এস বৈদ্যনাথন এবং সৌরভ শামশেরি, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানির সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য দিকে, অল ইন্ডিয়া সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়া-সহ অন্যদের পক্ষে থাকেন কপিল সিব্বল, অনুপ জর্জ চৌধুরি, রাজীব ধবন ও সুশীল জৈন।

‘শৌর্য দিবস’ পালনের হুংকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের : এদিকে, গুজরাটের ভোটের আগে, এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্তিকেও বড়সড় ভাবে পালন করতে চাইছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। তারা আজকের দিনটিকে (৬ ডিসেম্বর) ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে গতকাল হুঙ্কার দিয়েছে, “মন্দির-যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই”।

আনন্দবাজার পত্রিকা আরো জানায়, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই ওই দিনটি ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে পরিষদ। কিন্তু তা কখনই বড়সড় আকারে হতে পারেনি। তবে এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছরে অযোধ্যা ও লখনউয়ে বড় আকারে ‘শৌর্য দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গুজরাট ভোটকে সামনে রেখে কিছু দিন থেকেই রামমন্দির নিয়ে হাওয়া তুলতে চাইছে সঙ্ঘ পরিবার। সম্প্রতি সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত মন্তব্য করেন, “অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে রামমন্দিরই হবে”। এর পরেই ‘শৌর্য দিবস’-এর পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পরিষদ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অম্বুজ ওঝা উসকানিমূলকভাবে বলেন, আজ লখনউয়ে ‘শৌর্য সংকল্প সভা’-র আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, “অযোধ্যায় কেশবপূরমেও ওই দিন দুপুরে সাধুসন্তরা বৈঠকে বসতে চলেছেন।’’ এ জন্য পরিষদের দফতরে প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। ক’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যও অযোধ্যার বিতর্কিত এলাকায় রামমন্দির গড়ার জন্য সওয়াল করেছেন। তা পরিষদকে আরো উৎসাহিত করেছে।

তবে অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে রামমন্দিরই হবে বলে মোহন ভাগবত যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন হায়দরাবাদের সাংসদ ও এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, “কে মোহন ভাগবত? তিনি কি দেশের প্রধান বিচারপতি? কোর্টে অযোধ্যার বিচার যখন চলছে, তখন কোন অধিকারে ভাগবত বলছেন, বিতর্কিত জায়গাতে রামমন্দিরই হবে।” পরিষদের আর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা সুরেন্দ্র জৈন আগামী বছরের ১৮ অক্টোবর থেকে রামমন্দির নির্মাণের কথা কী ভাবে বললেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন ওয়েইসি।

রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি বলছে মানবিক সংহতি মিথ্যা

Tawakkol Karmanতাওয়াক্কুল কারমান : মিয়ানমারে কী ঘটছে, তা নিয়ে কেউ আর বিতর্ক করছে না। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিশ্বের বড় দেশগুলো- সবাই একমত যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জাতিগত নিধন ও গণহত্যার সুস্পষ্ট উদাহরণ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন মোতাবেক রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে কেবল অক্টোবর পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ। এ সংকট ক্রমাগতভাবে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মিয়ানমার সরকারের অসহিষ্ণুতা এবং বর্ণবাদী নীতিগুলো অটলভাবে চালিয়ে নেয়ার জোর অবস্থান আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে; অন্যদিকে বাস্তবতা হচ্ছে মিয়ানমারে কী ঘটছে তার প্রতি বিশ্বের আগ্রহ যথেষ্ট গভীর ও আন্তরিক নয়। সবচেয়ে মারাত্মক সত্য, যা রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি উন্মুক্ত করেছে তা হল- ‘মানবিক সংহতি’র আইডিয়া সম্ভবত বড় ধরনের একটি মিথ্যার চেয়ে বেশি কিছু নয়।

যারা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও আদর্শ বিবেচনা না করে (আমিও তাদের একজন) মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে, তারা কঠিন ধাঁধার মোকাবেলা করছে। কেন এটি ঘটছে? কেন আপনার চোখের সামনে ঘটতে থাকা মানবিক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি বন্ধ হচ্ছে না? নির্দিষ্ট একটি জাতির ভোগান্তি বন্ধে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয়া ও মানবিক সংহতি প্রকাশের জন্য কি অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন কোনো অদৃশ্য শর্ত আছে?

আমি ভয় করছি, এ প্রশ্নগুলোর উত্তর ভয়ংকর কিছু হবে। কেবল ধনী ও শক্তিশালীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থই কি

মানবিক সংহতি?

অনেকে বুঝতে শুরু করেছেন, মানবিক সংহতি মুসলিম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় না। এ মত কতটুকু সঠিক, তা বিবেচনা ছাড়াই বলা যায়, এটি সন্দেহের একটি নির্দেশক এবং এটি কোনো ভালো বিষয় নয়। এর বাইরেও মিয়ানমার প্রশাসন প্রতিদিন ভয়ংকর যে সহিংসতা সংঘটিত করার পরও এমন মিত্র খুঁজে পাচ্ছে। যারা তাদের কৃতকর্মকে সমর্থন ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, তা-ও একটি সমস্যা। রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য মিয়ানমার প্রশাসনের দায়িত্ব স্পষ্ট এবং যা কিছু ঘটছে তা অস্বীকার করে দেয়া মিয়ানমারের বিবৃতি সর্বৈব মিথ্যা।

অত্যাচারের মুখেও মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য নিজের অতীতকে উৎসর্গ করা যোদ্ধা, মিয়ানমার সরকারের নেতা ও সাবেক নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি- একজন মানুষ নিজেকে কত ক্ষয়িষ্ণু করে ফেলতে পারে তার বড় উদাহরণ যার বিষয়ে আমাদের ধারণা ছিল, যা কিছুই ঘটুক তিনি নিজের মূলনীতি সমুন্নত রাখবেন।

এটি সত্যিকারার্থেই বিয়োগান্ত, সু চি বাস্তবতার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সহিংসতা ও জাতিগত নিধনের বিষয়গুলো অস্বীকার করছেন। সু চি অন্তত মানবাধিকারের বা তার নিজের সম্মানের জন্য লড়াই ও বিজয় অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের জাতি ও এর সামরিক বাহিনীর জন্য লড়াই করাকেই বেছে নিলেন, যাদের একটি ভিশন হল বৈচিত্র্যকে বর্জন, প্রান্তিকীকরণ ও প্রত্যাখ্যান করা। অনেক বেশি মর্যাদা দেয়া হতো এমন একজন নারীর কী বিয়োগান্ত সমাপ্তি!

সারা বিশ্ব দেখেছে কীভাবে গোটা গ্রামগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের হত্যা বা বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে; গণহত্যা চালানো হয়েছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামে। কে এমন যুক্তি গ্রহণ করতে পারে? আমি মনে করি, কেউ সেটা পারে না।

সত্য হল, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিরোধী ও প্রতিপক্ষকে শোষণ এবং অত্যাচারী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘাঁটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য। এটি একটি পুরনো ধোঁকা, যা সবাই প্রকাশ্যে বুঝতে পারে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাহসী হতে হবে এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের দিকে।

নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা থেকে একনায়ক শাসকদের বিরত রাখতে হবে। কেবল তা-ই নয়, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ সংঘটন করছে, তাদের সত্যিকারের জবাবদিহিতার আওতায় অবশ্যই আনতে হবে। এখনই রোহিঙ্গাবিরোধী সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, এমন বহু আহ্বান জানানো হয়েছে। একে ইতিবাচক উন্নতি হিসেবে দেখা যায়, যদিও তা এসেছে অনেক পরে- একেবারে না হওয়া থেকে দেরিতে হওয়া তো ভালো।

এমন বাস্তবতা সত্ত্বেও মিয়ানমার প্রশাসন সম্ভবত এমন আহ্বানে সাড়া দেবে না, যতক্ষণ না সেখানে ঘটতে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করবে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এমন একটি বাহিনী, যারা এখনও সেখানে হামলা-গুলি করে যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা কোনো অপরাধ দেখতে পাচ্ছে না।

রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি আমাদের দেখিয়েছে জাতিসংঘের একটি সদস্য দেশ কীভাবে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে অভ্যন্তরীণ নীতি তৈরি করতে পারে আন্তর্জাতিক কোনো পারিপার্শ্বিকতা ছাড়াই। ফলে যদি সত্যিকারের শুদ্ধতার গতিপথ আমাদের দেখতে হয়, তবে মিয়ানমার প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অবশ্যই বাড়াতে হবে।

এটিই সঠিক সময় মিয়ানমার বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নেয়ার। যে দেশটি বর্ণবাদী নীতিমালার প্রসার ঘটাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে আমাদের শান্ত হয়ে থাকা কোনোভাবেই উচিত নয়। এটিই সঠিক সময় এমন একটি মানবিক ট্র্যাজেডি বন্ধ করার, যা কিনা কয়েক দশক ধরে চলছে অযৌক্তিকভাবে।

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের কথা বলা হয়েছে; যে শরণার্থীরা মাত্র দুই মাস আগে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নিপীড়নমূলক অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কিন্তু এ চুক্তি (যদি তা বাস্তবায়িত হয়ও) যথেষ্ট নয়, যাতে মনে হচ্ছে কোনোকিছুই ঘটেনি।

এটি সত্য, মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির বিরুদ্ধে চলমান ট্র্যাজেডি বন্ধ করতে হলে প্রত্যাবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু মিয়ানমার সরকার এমন কী নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, জাতিগত নিধন অভিযান তারা পুনরায় ঘটাবে না?

মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রকৃত অর্থ না জেনেই রোহিঙ্গারা যুগের পর যুগ বেঁচে আছে। এর কিছু অংশ যদি তারা এখনও খুঁজে না পায়, তবে কি তা আশ্চর্যজনক হবে না? এটি উপলব্ধি করতে নিজেদের সর্বশক্তি নিয়ে আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে, কেবল তাদের জন্য নয়, গোটা মানবজাতির জন্যই।

আল-জাজিরা থেকে অনুবাদ : সাইফুল ইসলাম

তাওয়াক্কুল কারমান : নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইয়েমেনের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী