আর্কাইভ

Archive for the ‘রাজনীতি’ Category

গর্ব ও গ্লানির আখ্যান স্পেনের আল হামরা

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ : মুসলিম জ্ঞানবিজ্ঞান সভ্যতার অনন্য অধ্যায় স্পেনের আন্দালুসিয়া। নগরীর গর্ব আল হামরা। আরবি কালাত আল হামরাঅর্থাৎ লাল কেল্লা বা বহুল প্রচলিত আল হামরা প্রাসাদ। পরম করুণাময়ের হাত যেন তাঁর সব সৌন্দর্যসুষমা এখানেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্ববাসীর কাছে আজও অপার বিস্ময় অনন্য সৃষ্টিসম্ভার আল হামরা।

১২৩৮ সালে মুহাম্মদ ইবনে নাসর (নাজার নামে পরিচিত, ১২৩৮১২৭৩ খ্রিস্টাব্দ) গ্রানাডা জয় করেন। তিনি তাঁর আবাসন প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রাসাদটি নির্মাণের সূচনা ঘটান। পরবর্তী ৩০০ বছরে বিভিন্ন মুসলিম শাসকের পরিকল্পনা পরিচর্যায় আল হামরার নান্দনিকতা পরিসর বৃদ্ধি পায় এবং এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়।

মাদ্রিদের ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে দারু নদীর তীরে সবুজশ্যামল এক পাহাড়ে অবস্থিত আল হামরা। মুহাম্মদ ইবনে নাসর (নাসরি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) প্রাসাদটির নাম দেন আল হামরাঅর্থাৎ একটি লাল প্রাসাদ। কেননা তিনি যখন ওই প্রাসাদে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর দাড়ির রং ছিল লাল।

মুহাম্মদ ইবনে নাসর যখন বিজয়ীর বেশে গ্রানাডায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানিয়ে সমবেত জনতার উল্লাসধ্বনি ছিল মারহাবান লিননাসরঅর্থাৎআল্লাহর কৃপায় বিজয়ীকে সুস্বাগত জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘লা গালিবা ইল্লাল্লাহ’—অর্থাৎঅন্য কেউ বিজয়ী নয়, যদি না আল্লাহ চান। পরবর্তী সময়েলা গালিবা ইল্লাল্লাহবাক্যটি নাসরি বংশের স্লোগান হয়ে যায়। আল হামরার অলংকরণে বাক্যটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে নাসরের বিজয় নিয়ে দেশে দেশে প্রচলিত হয় অসংখ্য গীতিকবিতা গল্পগাথা। আল হামরার দেয়ালে দেয়ালে স্বর্ণ পাথরে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফির অনুপম শিল্পনিদর্শন অত্যন্ত বিস্ময়কর দৃষ্টিনন্দন। পবিত্র কোরআন, হাদিস, আরবি কবিতা উপদেশাবলি আল হামরার কক্ষ, খুঁটি, মিনার ইত্যাদিকে সুশোভিত করেছে। কাজে ব্যবহৃত হয়েছে শত শত মণ স্বর্ণ, মূল্যবান হীরকখণ্ড মণিমুক্তা। যে মালভূমিতে আল হামরা অবস্থিত, তার দৈর্ঘ্য ৭৪০ মিটার (দুই হাজার ৪৩০ ফুট), প্রস্থ ২০৫ মিটার (৬৭০ ফুট) প্রাসাদটি পশ্চিমে উত্তরপশ্চিম থেকে পূর্বে দক্ষিণপূর্বে প্রসারিত এবং প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার (১৫ লাখ ৩০ হাজার ফুট) এলাকাজুড়ে অবস্থিত।

মধ্যযুগের আরব সাহিত্যসংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শাসনের সুদৃঢ় ভিত্তি সৌন্দর্যের স্মারক হিসেবে নভেম্বর ১৯৮৪ সালে আল হামরাকে ইউনেসকো মানবতার সাংস্কৃতিক বিশ্বঐতিহ্য ঘোষণা করেছে।

স্পেনে মুসলিম ঐতিহ্যের রয়েছে সোনালি অতীত। মহাকালের স্রোতে হারিয়ে গেছে ৭১১ থেকে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৮০ বছরের মুসলিম শাসনের গৌরবগাথা। ৩০ এপ্রিল ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি জিয়াদ আল তারিক তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে স্পেন উপকূলের এক পাহাড়ে ঘাঁটি গাড়েন। পরে ওই পাহাড়ই জাবাল তারিক বা তারিকের পাহাড় নামে বিখ্যাত হয়, যার শাব্দিক রূপান্তর জিব্রাল্টা। পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে সেনাপতি তাঁর নৌকা পুড়িয়ে দেন। এতে অবাক সৈন্যদের জিজ্ঞাসায় তারিক বলেছিলেন—‘আমরা ফিরে যাওয়ার জন্য আসিনি। হয় বিজয়, নতুবা ধ্বংস।প্রসংগত, সৈন্যদের উদ্দেশে তারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হলো—‘হে আমার যোদ্ধারা! কোথায় তোমরা পালাবে? তোমাদের পেছনে সাগর, সামনে শত্রু। তোমাদের আছে শুধু সাহস ধীশক্তি। মনে রেখো, দেশে তোমরা সেই এতিমদের চেয়েও হতভাগা, যাদের লোভী মালিকদের সঙ্গে টেবিলে বসতে হয়। তোমাদের সামনে শত্রু, যাদের সংখ্যা অগণ্য। কিন্তু তোমাদের তলোয়ার ছাড়া কিছুই নেই। তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে, যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবনকে ছিনিয়ে আনতে পারো। ভেবো না, আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব না। আমিই সবার সামনে থাকব এবং আমার বাঁচার সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীণ।

তারিকের এমন মর্মস্পর্শী বক্তব্য মুসলমানদের স্পেন বিজয় সহজতর করে। তারা স্পেনের নামকরণ করে আন্দালুসিয়া। স্পেনে মুসলিম শাসনে কর্ডোভা হয়ে ওঠে ইউরোপের সবচেয়ে মনোরম জনপদ। প্রায় পাঁচ হাজার মিল ছিল শুধু কর্ডোভায়ই; অথচ ইউরোপে একটিও ছিল না। তখন ইউরোপের ৯৯ শতাংশ লোক অশিক্ষিত ছিল। পক্ষান্তরে শুধু কর্ডোভায়ই ছিল ৮০০ পাবলিক স্কুল। তৎকালের ইউরোপে গোসলখানার ধারণাই ছিল না। অথচ তখন মুসলমানরা কর্ডোভায় ৯০০ হামামখানা বা গণগোসলখানা বানিয়েছিলেন। দশম শতকে কর্ডোভায় ছিল ৭০০ মসজিদ, ৬০ হাজার প্রাসাদতুল্য বাড়ি। ছিল ৭০টি লাইব্রেরি, যার সবচেয়ে বড়টিতে ছিল ছয় লাখ পুস্তক। সে সময় আন্দালুসিয়ায় বছরে ৬০ হাজার পুস্তকপুস্তিকা প্রকাশিত হতো। অথচ ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো, আজ স্পেনে মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকট বিদ্যমান।

জানুয়ারি ১৪৯২। মুসলমানদের পরাজয়ের ধারায় সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে এই দিন। আন্দালুসিয়া, কর্ডোভাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পতনের পর পতন ঘটে গ্রানাডার। জানুয়ারি ১৪৯২ তৎকালীন শাসক আবু আবদুল্লাহ (যিনি স্পেনে স্থানীয় পরিচয়ে ববদিল নামে পরিচিত ছিলেন) ফার্দিনান্দ ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। এতে স্পেনে ৭৮০ বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। আমেরিকা বিজয়ী ক্রিস্টোফার কলম্বাস আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। এর পরই নেমে আসে স্পেনে মুসলিম নিধনের কালো অধ্যায়। শর্ত দেওয়া হয়, ধর্মান্তর নয়তো মৃত্যু। ঘোষণা করা হয়, যারা মসজিদে আশ্রয় নেবে, যারা জাহাজে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। এতে সরল বিশ্বাসে নিরীহ মুসলমানরা মসজিদে জাহাজে আশ্রয় নেন। তখনই ফার্দিনান্দ ইসাবেলার সৈন্যরা মসজিদের চারপাশে আগুন লাগিয়ে এবং জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে এক পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে। আর শহীদ হন নিরপরাধ অসংখ্য মুসলিম নরনারী।

পরাজয়ের ধারায় মুসলিম শাসক আবু আবদুল্লাহ যখন বিজয়ীদের হাতে আল হামরার চাবি তুলে দেন, তখন তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন। কান্না দেখে আবদুল্লাহর মা বলেছিলেনপুরুষের মতো যা রক্ষা করতে পারোনি তুমি, তার জন্য নারীর মতো কাঁদতে পারো না তুমি।

আসলে আজকের স্পেন নীরব সাক্ষী স্পষ্ট প্রমাণ। শুধু আল হামরার দেয়াল মসজিদের গম্বুজে আল্লাহর নাম চিত্রিত করলেই তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় না। প্রায় ৮০০ বছরের শাসনাবসানে আজ স্পেনের বুকে জ্বলজ্বল করছে শুধু মুসলিম শাসকদের পরাজয় পরাধীনতার দুর্ভাগ্যরেখা কলঙ্কের ছাপ। হারিয়ে গেছে আল হামরার দ্যুতি সম্মান। নেই স্পেনের বুকে দাপিয়ে বেড়ানো মুসলমান। আছে শুধু স্মৃতিময় গ্রানাডা কর্ডোভা। বিশ্ব মানচিত্রে অঙ্কিত ইউরোপীয় দেশ স্পেন ছিল মুসলমানদের গর্বের আন্দালুসিয়া। এখন যা শুধুই এক স্মৃতিময় দীর্ঘশ্বাস।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

Advertisements

দুরবস্থার কবলে মুসলিম বিশ্ব

. মুহাম্মদ সিদ্দিক : মুসলিম বিশ্বের বর্তমানে চলছে দুরবস্থা। সর্বত্র তারা পরাজিত ও অপমানিত। তবু হুঁশ নেই। টনক নড়ছে না। জিন্দা লাশের অবস্থা। মুসলমানদের অপমান করার সঙ্গে সঙ্গে কুরআন, নবী (সা🙂 ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রæপ চলছে। কারণসমূহ কমই আমরা খুঁজে দেখি, অথচ কারণ না জানলে প্রতিকার কিভাবে হবে।

আমরা এখন প্রধান কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। এগুলো হলো

() যোগ্যতার অভাব, জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চা তথা গবেষণার প্রতি অবহেলা, প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা, শিক্ষার হার হতাশামূলক।
(
) বুদ্ধিবৃত্তিক (ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার) দৈন্যতা। ফলে দেখা যায়, পাশ্চাত্য জগত, এমনকি এশিয়ার কিছু উন্নত দেশের মতোও মুসলিম বিশ্বে উঁচুস্তরের বইপুস্তক বের হয় না। যাও হয় জনগণ তেমন কিনেও না, পড়েও না। এক লেখকের পাঁচশ’ কপি বই বের করলে, মনে করা হয় যে যথেষ্ট হয়েছে। পাশ্চাত্যে ফালতু বইও মিলিয়ন কপি চলে। অথচ মধ্যযুগে মুসলমানদের লেখা বইয়ের জন্য ইউরোপ হুমড়ি খেয়ে পড়ত। মুসলমান বিদ্বানগণ ছিলেন ইউরোপের শিক্ষক।

গত তিনশ’ বছর ধরেই মুসলমানগণ পেছনের কাতারে। কবি নজরুল পর্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখেছেন

আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ, অভেদ যাঁহার জীবনে মৃত্যুজ্ঞান।
যাঁর মুখে শুনি তৌহিদের কালাম
ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।’

মুসলমানদের অযোগ্যতার কারণে অন্য জাতিগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে মারণাস্ত্র তৈরি করে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

() লেজুুড়বৃত্তির নীতি পালন করছে মুসলমান রাষ্ট্রগুলো। তাই তাদের নেই ইজ্জতের আসন।

() মুসলমানদের অনেকেই ইসলামি আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই এসেছে লেজুড়বৃত্তি।

() মুসলিম উম্মাহতে নেই আর ঐক্য।

() নেতৃত্বের ব্যর্থতা আর এক কারণ। অনেকে নেতারই নেই যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা। কিছু নেতাকে হত্যা করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, যাদের অন্যতম সউদী আরবের বাদশাহ ফয়সাল।

() অমুসলমানদের যেমন বিশাল বিশাল রাষ্ট্র্র রয়েছে, মুসলমানদের নেই। বিশাল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া প্রভৃতির নিকট মুসলমান রাষ্ট্রগুলো ছোট। এদিকে তুরস্ক, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, এমনকি সউদী আরবকে পর্যন্ত টুকরা টুকরা করার নীলনকশা করা হচ্ছে।

() সিয়াসুন্নি বিরোধকে আরো উসকে দিয়ে শত্রæরা ফাঁয়দা হাসিল করছে।

() গণতন্ত্রহীনতা এর এক কারণ। বেশিরভাগ সরকারের উপর জনগণের আস্থা ও একাত্মতা নেই।

(১০) অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থপরতা ও শত্রুতা মুসলিম বিশ্বের জন্য হুমকি। তারা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোয়েন্দা টেকনিক ব্যবহার করছে, মালয়েশিয়রা পর্যন্ত মেধাবী ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি গোয়েন্দারা।

(১১) মুসলিম নেতৃবৃন্দের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয় সম্পর্কে অপ্রতুল ধারণা ও জ্ঞান। পলাশী যুদ্ধের আগেপরে এই অবস্থা ছিল।

(১২) ইসরাইলসহ কিছু রাষ্ট্রের ‘এগ্রেসিভ (আক্রমণাত্মক) ও প্রতিরক্ষা নীতি মুসলমান রাষ্ট্রগুলোকে মাথা তুলতেই দিচ্ছে না ।

(১৩) হালে সউদী, মিসর, আমিরাত, প্রভৃতি রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরাইল কর্তৃক বাগে আনা।

(১৪) পাশ্চত্য কর্তৃক ইসরাইলের মাধ্যমে সন্ত্রাস রফতানি করে এখন মুসলমানদেরই সন্ত্রাসী বলা ।

(১৫) মুসলিম বিশ্বের গণমাধ্যমের দুর্বল অবস্থা। অন্যদিকে বিপক্ষের গণমাধ্যম সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানাতে ওস্তাদ।
(
১৬) অনইসলামি আদর্শ, যেমনকম্যুনিজম, উগ্রজাতীয়তাবাদ ইত্যাদির প্রভাবপ্রতিপত্তি।

(১৭) খ্রিস্টানমিশনারীদের প্রচার ও ষড়যন্ত্র। ভ্যাটিকান ও তার বিশ্বব্যাপী কর্মচারী নেটওয়ার্ক, যা পররাষ্ট্রীয় কাঠামোতে হোক বা গির্জার আড়ালে হোক, একটা বড় বাঁধা ইসলামের প্রসারে। মুসলমানদের কেন্দ্র নেই, যা কামালপাশা আগেই খতম করেছেন। এই কার্যক্রম শুধু তুরস্ক নয়, সমগ্র উম্মাহকে দুর্বল করে দিয়েছে, অথচ একসময় ইউরোপ পর্যন্ত আরব ও তুর্কি খেলাফতের অধীন ছিল।

(১৮) পাশ্চাত্যের ক্রুসেডিয় মনোভাব এখনো রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে পাঠ করতে পারেন জার্মান নওমুসলিম ও সাবেক জার্মানি রাষ্ট্রদূত মুরাদ উইলফ্রেজ হফম্যানের বই ‘ইসলাম ২০০০’।

বর্তমান যুগে মুসলমানদের দুরবস্থার আরো কারণ খুঁঁজে বের করা যেতে পারে। পরিস্থিতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
বড় সমস্যাগুলো :

সবচেয়ে বড় সমস্যা এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গারাও মুসলমান আর যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে সেই বাংলাদেশও মুসলমান প্রধান। মুসলমান রাষ্ট্রগুলো যদি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্রগুলোর মতো শক্তিশালী হতো, তাহলে মিয়ানমার সোজা পথে আসত। কিন্তু বাস্তবতা হলো দুটি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্র তাদের পক্ষে। এমনকি তথ্যে প্রকাশ, উত্তর কোরিয়ার সাহায্যে মিয়ানমার পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

সমূহবিপদ বাংলাদেশের সামনে। এদিকে আসামের বাঙলাভাষী দেড় কোটি মুসলমানকে বিতাড়ন করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য।

সউদী আরব, মিসর ও আমিরাত এখন সরাসরি ইসরাইলের দালালে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একনায়ক নেতাদের গদিই মুখ্য দেশজাতিধর্মের চেয়ে। শেষ জামানায় ইহুদিরা নাকি মক্কামদীনা ছাড়া সমগ্র আরব ভ‚মিই দখলে নেবে। তারই কি এই আলামত?

ফিলিস্তিনের সমূহ বিপদ এখন। কারণ ইসরাইল নয়, একটা মুসলিম দেশ সউদী আরব এর কারণ। সউদী আরব ফিলিস্তিনিদের বলছে ইসরাইলের নিকট নতজানু হতে।

সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুসলিমবিরোধী প্রেসিডেন্ট গদিতে। তিনি ইসরাইল ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তিনি সর্বত্র ইসলামি টেররিস্ট দেখেন। তাঁর চোখে খ্রিস্টান, হিন্দু টেররিস্ট চোখে পড়ে না। ট্রাম্পের হঠাৎ করে নেয়া যে কোনো কঠিন পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের সমূহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের শিরায় জার্মান রক্ত।

এদিকে ট্রাম্প সউদী আরব ও ইসরাইল ইরান ধ্বংসের অ্যাজেন্ডা নিয়ে এগুচ্ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, কেন পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো ইরানকে হুমকি দিচ্ছে? ইসরাইলের সুস্পষ্ট রেফারেন্সে মধ্যপ্রাচ্যের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য, এই অঞ্চলে ইসরাইলকে একমাত্র পারমাণবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। (তথ্য রয়টার্স)

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মাইক পম্পেও প্রথম দফাতেই যান ইসরাইল, সউদী আরব ও জর্ডান। প্রত্যেক জায়গায় তিনি ইরানকে তীব্র ভাষায় দোষারোপ করে বলেছেন, বিশ্বে সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হলো ইরান। তিনি এ দাবিও করেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।

ইসরাইল ও ট্রাম্প গংয়ের এই নীতির তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এরদোগানকেই যে আবার দ্বিতীয়বার হত্যার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালাবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আমরা আগেই বলেছি, ইসরাইল তথা পাশ্চাত্য এখন গোয়েন্দা সন্ত্রাস ব্যবহার করে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে। এই কৌশল আমরা পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরেও দেখেছি।

পাশ্চাত্য মুসলমানদের ভেতর অনৈক্য সৃষ্টি করে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান প্রভৃতি মুসলিম দেশে দোজখের অবস্থা সৃষ্টি করেছে। আর হতভাগা মুসলমানরা পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র অনুধাবনেই ব্যর্থ। কি ব্যর্থ নেতৃত্ব চলছে এইসব দেশে। উত্তর কোরিয়াকে শিক্ষা দিতে লিবিয়া মডেল প্রয়োগ করা হবে, বলেন মার্কিন কট্টরপন্থ’ী নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন। এই বোল্টনই আফগানিস্তানের অন্যতম খুনি। লিবিয়া মডেলের উদাহরণ টানাই হলো মুসলমানদের কাটা ঘায়ে লবণের ছিঁটা দেয়া। এটা মুসলমানদের সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মাইন্ডসেট’ আর কি।

এদিকে চীনেও অশান্তি। মুসলমানেরা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে ইচ্ছুক। কিন্তু সে স্থানীয় মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে। তাদের রোজা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আর রোহিঙ্গাদের প্রতি চীন রাশিয়ার অনৈতিক অবস্থান হতাশাব্যঞ্জক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করে বলতে হয়, যদি মুসলমানেরা নিজেদের অনৈক্য ভুলে এক না হয়, তাহলে নবী (সা🙂 শেষ যুগের হতভাগা মুসলমানদের সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তাই অপেক্ষা করছে। ওআইসিকে এখনই শক্তিশালী না করলে আরো বড় বিপদ রয়েছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমন্বিত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি অবলম্বন করতে পারে, ওআইসি কেন পারবে না। অথচ আল্লাহ ও রাসূল (সা🙂 মুসলমানদের সিঁসাঢালা প্রাচীরসম ঐক্যের উপদেশ দিয়েছেন।

লেখক : ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

ট্রাম্পের আইনজীবী: ‘পর্নস্টারের আবার মান-ইজ্জত?’

trump women scandalপ্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকার দাবি তোলা এক প্রাক্তন পর্নো তারকার ব্যাপারে তির্যক মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী। রুডি জিলিয়ানি নামে ওই আইনজীবী বলেন, যৌনতা যার পেশা, তিনি কোনো শ্রদ্ধা পেতে পারেন না। তার ভাষ্য, ‘আমি নারীদেরকে শ্রদ্ধা করি। সুন্দরী নারী বা যেসব নারীর মূল্যবোধ আছে। কিন্তু যেই নারী তার দেহ বিক্রি করেন, তাকে আমি শ্রদ্ধা করি না। টাকার জন্য দেহ বিক্রি করেন যিনি তার কোনো সুনাম থাকতে পারে না।’ এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, জুলিয়ানির এই মন্তব্য ভীষণ ক্ষেপেছেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে ওই পর্নো তারকার আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি। অ্যাভেনাত্তি এমনকি জুলিয়ানিকে ‘পুরোদস্তর একজন শূকর’ হিসেবে আখ্যা দেন!

ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি রাজনীতিক হিসেবেই বেশি খ্যাত। তিনি এক সময় নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র ছিলেন।

বুধবার ইসরাইলের তেল আবিবে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জুলিয়ানি বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে আমি একজন পর্নো তারকাকে সেভাবে সম্মান করতে পারছি না, যেভাবে আমি একজন পেশাজীবী নারীকে করি। যেই নারীর মধ্যে কিছু একটা আছে, বা যার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে, বা যিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের দেহ বিক্রি করবেন না, তার প্রতি যেমন শ্রদ্ধা আমার, তেমন শ্রদ্ধা একজন পর্নো তারকাকে করতে পারি না।’

জুলিয়ানি এক পর্যায়ে বলেন, ‘আমি ডনাল্ডকে (ট্রাম্প) চিনি। তার তিনজন স্ত্রী ছিলেন। তাদের দিকে দেখুন। সুন্দরী, অভিজাত সব মহিলা। কিন্তু স্টর্মি ড্যানিয়েলস?’ এই কথা বলেই মাথা নাড়েন তিনি।

তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলীয় সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। ওয়ারেন বলেন, তিন বার বিয়ের পিড়িতে বসা জুলিয়ানির এই মন্তব্য নারীদের প্রতি তার করা নিকৃষ্ট অপমান।

ওয়ারেন বলেন, ‘তার বক্তব্য অনেকটা যেন এরকম যে, যেহেতু ট্রাম্পের স্ত্রীরা সুন্দরী ছিল, সেহেতু তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক করতে পারেন না! এমন বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল।’

স্টর্মি ড্যানিয়েলসের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি এক প্রতিক্রিয়ায় জুলিয়ানিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে জুলিয়ানির মক্কেল ট্রাম্পের তো এই ‘নৈতিকতাজনিত ইস্যু’ ছিল না!’ উল্লেখ্য, ২০০৬ সালেই ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছিল বলে দাবি স্টর্মি ড্যানিয়েলসের।

এই বছরের এপ্রিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। স্টর্মির অভিযোগ, তার বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে ট্রাম্প তার সুনাম ক্ষুণœ করার চেষ্টা করছেন।

অপরদিকে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আরেক আইনজীবী ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে তার ও ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কিছু না বলতে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তি ভঙ্গের বিরুদ্ধেই মামলা করছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের আইনজীবী: ‘পর্নস্টারের আবার মানইজ্জত?’

মানবজমিন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকার দাবি তোলা এক প্রাক্তন পর্নো তারকার ব্যাপারে তির্যক মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী। রুডি জিলিয়ানি নামে ওই আইনজীবী বলেন, যৌনতা যার পেশা, তিনি কোনো শ্রদ্ধা পেতে পারেন না। তার ভাষ্য, ‘আমি নারীদেরকে শ্রদ্ধা করি। সুন্দরী নারী বা যেসব নারীর মূল্যবোধ আছে। কিন্তু যেই নারী তার দেহ বিক্রি করেন, তাকে আমি শ্রদ্ধা করি না। টাকার জন্য দেহ বিক্রি করেন যিনি তার কোনো সুনাম থাকতে পারে না।’ এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, জুলিয়ানির এই মন্তব্য ভীষণ ক্ষেপেছেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে ওই পর্নো তারকার আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি। অ্যাভেনাত্তি এমনকি জুলিয়ানিকে ‘পুরোদস্তর একজন শূকর’ হিসেবে আখ্যা দেন!

ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি রাজনীতিক হিসেবেই বেশি খ্যাত। তিনি এক সময় নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র ছিলেন।

বুধবার ইসরাইলের তেল আবিবে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জুলিয়ানি বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে আমি একজন পর্নো তারকাকে সেভাবে সম্মান করতে পারছি না, যেভাবে আমি একজন পেশাজীবী নারীকে করি। যেই নারীর মধ্যে কিছু একটা আছে, বা যার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে, বা যিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের দেহ বিক্রি করবেন না, তার প্রতি যেমন শ্রদ্ধা আমার, তেমন শ্রদ্ধা একজন পর্নো তারকাকে করতে পারি না।’

জুলিয়ানি এক পর্যায়ে বলেন, ‘আমি ডনাল্ডকে (ট্রাম্প) চিনি। তার তিনজন স্ত্রী ছিলেন। তাদের দিকে দেখুন। সুন্দরী, অভিজাত সব মহিলা। কিন্তু স্টর্মি ড্যানিয়েলস?’ এই কথা বলেই মাথা নাড়েন তিনি।

তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলীয় সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। ওয়ারেন বলেন, তিন বার বিয়ের পিড়িতে বসা জুলিয়ানির এই মন্তব্য নারীদের প্রতি তার করা নিকৃষ্ট অপমান।

ওয়ারেন বলেন, ‘তার বক্তব্য অনেকটা যেন এরকম যে, যেহেতু ট্রাম্পের স্ত্রীরা সুন্দরী ছিল, সেহেতু তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক করতে পারেন না! এমন বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল।’

স্টর্মি ড্যানিয়েলসের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাত্তি এক প্রতিক্রিয়ায় জুলিয়ানিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে জুলিয়ানির মক্কেল ট্রাম্পের তো এই ‘নৈতিকতাজনিত ইস্যু’ ছিল না!’ উল্লেখ্য, ২০০৬ সালেই ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছিল বলে দাবি স্টর্মি ড্যানিয়েলসের।

এই বছরের এপ্রিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। স্টর্মির অভিযোগ, তার বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে ট্রাম্প তার সুনাম ক্ষুণœ করার চেষ্টা করছেন।

অপরদিকে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আরেক আইনজীবী ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে তার ও ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কিছু না বলতে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তি ভঙ্গের বিরুদ্ধেই মামলা করছেন ট্রাম্প।

হিলারির আইনজীবীরা ৩০ হাজার ই-মেইল মুছে ফেলেন

এফবিআইয়ের এক্স বস কোমির বই

comey bookসাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘‘অ্যা হায়ার লয়্যালটি, ট্রুথ, লাইজ এণ্ড লিডারশিপ’’এ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের আলোচিত ইমেইল তদন্ত বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের বহুল অালোচিত ইমেইল তদন্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দেশ দিয়েছিল, তখন তার ব্যক্তিগত সার্ভারে প্রায় ৬০ হাজার ইমেইল ছিল। হিলারির ব্যক্তিগত আইনজীবীরা সেগুলো খতিয়ে দেখছিলেন। তারা অর্ধেকটা জমা দিয়েছিলেন। আর বাকিটা (প্রায় ৩০ হাজার) তারা মুছে ফেলেন।

আমি এবং এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট টিম বিশ্বাস করেছিলাম যে, আমরা যদি মুছে ফেলা ইমেইলগুলোর বিষয়বস্তু না হাতরাতে পারি, তাহলে আমাদের তদন্ত বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

আমরা শুধু তাদেরও বক্তব্য শোনার জন্য যেতে পারি না। আমাদের এটা জানার দরকার ছিল, তার আইনজীবীরা কিসের ভিত্তিতে ইমেইলগুলো মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা তাদের ডিভাইসেসগুলো, যা তারা ইমেইল মুছে ফেলার কাজে ব্যবহার করেছিল , সেগুলো দেখতে চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের বিশেষজ্ঞগণ সেসব তাহলে পরীক্ষা করে মুছে ফেলা ইমেইলগুলোর হদিস পেতে পারেন।

বোধাগম্যকারণেই আমাদের প্রস্তাব জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবীদের অত্যন্ত নার্ভাস করেছিল। হিলারির আইনজীবীরা ইমেইল পরীক্ষা করার কাজে যে ল্যাপটপ ব্যবহার করেছেন, তাতে তাদের অন্যান্য ক্লায়েন্টদেরও ইমেইল ছিল। আমরা যদি ওইসব ল্যাপটপ পরীক্ষা করতাম, তাহলে হিলারির আইনজীবীদের অন্যান্য মক্কেলদের সঙ্গে তাদের যে পেশাদারি গোপনীয়তার সম্পর্ক ছিল, তার লংঘন ঘটত। হিলারির আইনজীবী বেথ উইলকিনসন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এবং তার আইনজীবী দলের যারাই হিলারির জন্য কাজে করেছেন, তারা তাদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ এফবিআইয়ের হাতে তুলে দেবেন না।

এ বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী উইলকিনসন এতটাই তেজস্বী বক্তব্য রাখেন যে, তিনি বলে বসেন এ নিয়ে তিনি চরম তিক্ততায় পৌছানো পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এফবিআই জেনারেল কাউন্সেল জিম বেকারের সঙ্গে উইলকিনসনের জানাশোনা ছিল। সুতরাং আমি বললাম আপনি তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। তাকে বলুন তার টিমের ব্যবহৃত ল্যাপটপ আমাদের দেখতে দেওয়া দরকার। তিনি তাই করেছিলেন। কিন্তু জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবীদের কাছে মিজ উইলকিনসন নালিশ করলেন যে, এফবিআই তাদের পিছু লেগেছে। এপর্যায়ে দেখা গেল এফবিআই এবং ডিপার্টমেন্টের অ্যাটর্নিদের মধ্যে এই ল্যাপটপ ব্যবহার করা নিয়ে একটা শিতল সম্পর্ক তৈরি হল।

আমরা একটি অচলাবস্থার মধ্যে পড়লাম। এফবিআই সরাসরি আমেরিকার জনগণকে এটা বলতে পারেনি যে, ইমেইল রিভিউ এবং তা মুছে ফেলার প্রক্রিয়াটা সম্যক উপলব্ধি করতে আমরা যদি স্বর্গ্যমর্ত তল্লাশি না চালাতে পারি তাহলে আমরা একটি দক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেছি, তা বলতে পারি না। আমাদের কাছে এটা ম্যাটার করেনি যে, এরসঙ্গে হিলারির আইনজীবীরা যুক্ত ছিলেন। আমি আসলে একমত হতে পারিনি যে, ল্যাপটপ দেখতে দেওয়া এবং আইনজীবী টিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেওয়া ছাড়া কোনো তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলাটা দাবি করা সম্ভব। যদি সেক্রেটারি হিলারি আগামী দুবছরের জন্য একটি ফৌজদারি তদন্তের অধীন থাকতে চান, সেটা তো ভালো। মধ্য মে পর্যন্ত এসব যুক্তিতর্কে জোর থাকলেও তখনও পর্যন্ত আমাদেরকে ল্যাপটপ দেখতে দেওয়া হয়নি। তবে গ্রীষ্মকাল ঘনিয়ে এলে এবং পলিটিক্যাল কনভেনশনের(যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতার মনোনায়ন দেওয়া হয়) পরেও আমরা হিলারির ইমেইল তদন্তের প্রকৃত সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলাম ।

মে মাসে আমি সেলি ইয়েটসের কাছে গিয়েছিলাম। এবং তাকে বলেছিলাম এটা কিন্তু দীর্ঘ পথ তাড়া করে ফিরছে। তখন কনভেনশন হতে আর মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ বাকি। এবং আমি আমার পরিকল্পনার স্থির ছিলাম এবং একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কাছাকাছি ছিলাম। আমার পূর্বসূরীরা এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যেমন পরিচালক লুইস ফ্রি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের তহবিল গঠনের বিষয়ে কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছিলেন। আমি বললাম জনগণের মধ্যে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাটি সম্পর্কে আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরার আগেই ইমেইল তদন্ত শুর’ করা দরকার।, এটা না করতে পারলে তা খুব বেশি দেরী হয়ে যাবে। এই তদন্তের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাবের বাইরে থাকা কোনো প্রসিকিউটরকে নিয়োগ করা দরকার। আমি এটা কবে কখন করব তা জানতাম না। কিন্তু ল্যাপটপগুলো পাওয়া সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলাম আমরা।

এক শতকের বিবর্তনে পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম সমাজ

. সা’দত হুসাইন : উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলায় শিক্ষিত মুসলমানদের সংখ্যা একেবারে নগণ্য ছিল না। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ইংরেজরা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। ভালো মাইনের চাকরিতে তাদের নিয়োগ কমিয়ে পর্যায়ক্রমে তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়। পূর্ববঙ্গীয় মুসলমান ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষা পেতে হলে কলকাতায় যেতে হতো। কলকাতায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। গুটিকয়েক সম্ভ্রান্তসচ্ছল পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব ছিল। তাদের যোগ্য ও আগ্রহী ছেলেমেয়েরাই শুধু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছিল। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ১৯২১ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তখন অতি নগণ্যসংখ্যক, কয়েকজন মাত্র মুসলমান ছাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রায় সবাই ছিলেন অমুসলিম। তাঁদের অনেককেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেকে আনা হয়েছিল। বাড়তি সুযোগসুবিধা দিয়ে তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা এবং সরকারি চাকরি থেকে প্রেষণে আসা কয়েকজন ইংরেজ মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো গড়ে তোলেন। শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে এসব শিক্ষকের নিষ্ঠা, উদ্যোগ ও নৈতিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। তাঁদের বেতন সেই বিশত্রিশের দশকেও অতিমাত্রায় লোভনীয় ছিল। যেমন একজন অধ্যাপকের মাইনা ছিল মাসিক এক হাজার টাকা। পক্ষান্তরে একই সময়ে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাইনা ছিল মাসিক আট টাকা মাত্র। মুসলমান শিক্ষক মাত্র কয়েকজন। তাঁরা মূলত ইসলামিক স্টাডিজকেন্দ্রিক বিষয়ে অধ্যাপনা করতেন। মুসলিম অধ্যাপকদের মধ্যে স্যার এফ রহমান ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁরা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। মাধ্যমিক স্কুলে অবশ্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলমান শিক্ষক ছিলেন। যেমন ঢাকা মুসলিম হাই স্কুলে মাত্র একজন হিন্দু শিক্ষক ছাড়া বাকি সব শিক্ষক ছিলেন মুসলমান।

বিশের দশকে একেবারে হাতে গোনা দুএকজন ছাত্র ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিল। ত্রিশের দশকে এসে এ সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া মুসলমান ছাত্ররা পরবর্তীকালে প্রায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে প্রসিদ্ধ হয়েছিল। যেমন বিশের দশকে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া ছাত্র হাফিজুর রহমান পাকিস্তান আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। আলতাফ হোসেন পাকিস্তানের বহুল প্রচারিত ডন পত্রিকার সম্পাদক হয়েছিলেন। বাচ্চু মিঞার (আবদুল ওহাব মিঞা) ছোট ভাই গেদু মিঞা কলকাতা পুলিশের বড় কর্মকর্তা হয়ে নামসুনাম অর্জন করেছিলেন। ইংরেজিতে আরো ফার্স্ট ক্লাস পান আবু মুসা শরফুদ্দিন, যিনি পরবর্তীকালে পুলিশপ্রধান এবং পূর্ব পাকিস্তানের অতিরিক্ত চিফ সেক্রেটারি হয়েছিলেন এবং ফজলুর রহমান, যিনি পূর্ব পাকিস্তানের ডিপিআই ও সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হয়েছিলেন। ইকোনমিকসে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন এম এন হুদা ও আতোয়ার হোসেন। এম এন হুদা স্বল্প সময়ের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কয়েক বছর তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। আতোয়ার হোসেন পূর্ব পাকিস্তান প্ল্যানিং বোর্ড ও সেন্ট্রাল প্ল্যানিং বোর্ডের সদস্য হয়েছিলেন।

উপমহাদেশ বিভক্তির আগ পর্যন্ত শিক্ষার স্তরে মুসলিম ছাত্রের সংখ্যানুপাতিক হারের বড় একটা পরিবর্তন হয়নি। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। পাকিস্তান ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মুসলমানদের উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাসকরা দেশ শাসন শুরু করেন। পাকিস্তানের দুটি অংশ, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান ছিল ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এক অংশ ভারতের পূর্ব সীমান্তে, অপর অংশ এক হাজার ২০০ মাইল দূরে, ভারতের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসী হলেও শাসনক্ষমতা ছিল সম্পূর্ণরূপে পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। দেশের রাজধানী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, প্রথমে করাচিতে, পরে ইসলামাবাদে। নানারূপ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ প্রথম দিকে প্রতিবাদ করে, পরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হয়। একসময় তাদের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। বর্বর আক্রমণের মুখে মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। সৃষ্টি হয় একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ।

এত বঞ্চনাবৈষম্য সত্ত্বেও বাস্তবতা তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়। ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা তীব্র বেগে বাড়তে থাকে। সারা পাকিস্তানে প্রতিযোগিতামূলক যে মর্যাদাবান সেন্ট্রাল সুপরিয়র সার্ভিস (সিএসএস) পরীক্ষার মাধ্যমে শীর্ষ ক্যাডারগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হতো, সেই পরীক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যুবকরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের অনেকেই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শীর্ষ ক্যাডারগুলোতে যোগদান করেন। মফস্বল শহরের খুদে চাকরিজীবী, গ্রামের সচ্ছল কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্কুল মাস্টার—তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে থাকেন। সচ্ছল হিন্দু পরিবারের বেশির ভাগ ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে চলে যায়। ফলে কলেজবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছুক মুসলমান ছাত্ররা সহজেই স্থান পেয়ে যায়। এ অঞ্চলের লোকেরা অনুকরণঅনুসরণ করতে পছন্দ করে। এক পরিবারের দেখাদেখি অন্য পরিবার তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার্থে কলেজবিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার মুসলমান ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। ১৯৫৩ সালে প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এতে উচ্চশিক্ষার পথ আরো প্রশস্ত হয়। পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম সমাজে শিক্ষার ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা হয়।

পূর্ববঙ্গীয় মুসলমানদের সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে East Bengal State Acquisition and Tenancy Act., hv EBSATA হিসেবে বেশি পরিচিত। রাজামহারাজার সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকলেও পূর্ববঙ্গেও জমিদারি প্রথা চালু ছিল। সে হিসেবে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি ছিল সামন্ততান্ত্রিক। এই প্রথায় নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির সামাজিক ও অর্থনৈতিক আরোহণের (Mobility) পথ থাকে অতীব সংকীর্ণ এবং বন্ধুর। এ পথ বেয়ে ওপরে ওঠা নিচের স্তরের মানুষের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব। জমিদার কর্তৃক তাদের জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এর ফলে তাদের উচ্চাশা ও উদ্যোগ, যা ওপরে ওঠার প্রধান শক্তি, অঙ্কুরে বিনষ্ট হতো। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদারদের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা শিথিল হতে হতে অবশেষে বিলীন হয়ে যায়। মুক্ত পরিবেশে পূর্ববঙ্গের প্রজারা, যাদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ছিল মুসলমান, নিজেদের মতো করে চলাফেরা ও ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ তাদের স্বপ্নের সীমারেখা টেনে দিলেও এই সীমারেখার মধ্যে তারা ধীরগতিতে এগোতে থাকে।

এ সময় কেন্দ্রীয় সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করে, যার লক্ষ্যবদ্ধ উপকারভোগী ছিল মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ। এতৎসত্ত্বেও স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে উপকারের ছিটেফোঁটা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর বর্ষিত হয়। উচ্চশিক্ষিত তরুণতরুণীরা কলম্বো প্ল্যান, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউএসএআইডির অনুদান ইত্যাদি নানা রকম কর্মসূচির অধীনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। তাঁরা বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি, মাস্টার্স, এমআরসিপি, এফআরসিএস, এলএলএম, বার এট, সিএ ইত্যাদি ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট নিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হিসেবে সমাজে স্থান করে নেন। কিশোর ছাত্রছাত্রীদের জন্য নানারূপ ছাত্রবৃত্তি প্রচলন করা হয়। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্ররা এসব বৃত্তির মাধ্যমে প্রভূত উপকার ভোগ করেন। পরিবারের সরাসরি আর্থিক সমর্থন ছাড়া তাঁরা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে সমর্থ হন। পাঁচদশ বছরের মধ্যে তাঁরা উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সমাজে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হন। সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে কর্মক্ষম অবস্থায় থেকে তাঁদের অনেকে এখনো দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সন্তানসন্ততি দেশবিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় ও স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বলা বাহুল্য, তাঁদের বেশির ভাগই মুসলমান।

স্বাধীনতা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সবচেয়ে বড় অর্জন। এর মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীনসার্বভৌম স্বতন্ত্র দেশ পেয়েছি। নিজস্ব পতাকা পেয়েছি। এ গৌরব বর্ণনার অতীত। কোনো গৌরবগাথা এর জন্য যথেষ্ট নয়। তবু এ কথা সত্য যে স্বাধীনতার প্রথম কয়েক বছরে নানারূপ সমস্যা ও কষ্টকর অবস্থার মধ্যে আমাদের দিন কাটাতে হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে।

প্রথম দিকে কিছুটা ঘোরের মধ্যে থাকলেও বাস্তবতার ঘাতপ্রতিঘাতে কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের জনগণ বুঝতে পারে যে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে শুধু দেশের সীমারেখায় সুযোগসুবিধা, সহায়সম্পদ খুঁজলে চলবে না। সম্পদের খোঁজে, ভাগ্যের অন্বেষণে তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে হবে। পাকিস্তান আমলে একটি বঞ্চিত ও নিষ্পেষিত এলাকার অধিবাসী হিসেবে এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসার কথা নয়। এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়উপার্জন দেশের সমৃদ্ধি বাড়াচ্ছে। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা আমদানি সামগ্রী, বৈদেশিক মুদ্রার স্ফীত রিজার্ভ ও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে আসা বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। মানুষের ভোগসম্ভার অনেক বেড়েছে।

দেশের ভেতরে অবস্থানকারী কৃষক, শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা গোষ্ঠী বুঝতে পেরেছে যে আদিকালের প্রযুক্তিপদ্ধতি ব্যবহার করে বেশি দূর এগোনো যাবে না। নতুন প্রযুক্তি চাই; উন্নত প্রযুক্তি চাই। নিষ্ঠা, শ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে চেষ্টা করলে তা পাওয়া যায়। বাংলাদেশিরাও তা পেয়ে গেল। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে অন্যান্য উৎপাদন গেল বেড়ে। সরকারকে বেশি না জড়িয়ে নিজেদের প্রচেষ্টায় তারা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করল। এখন তাদের মূল সংশয় হচ্ছে সরকারি প্রশাসন যেন আইনি প্যাঁচে ফেলে তাদের আহত না করে।

পূর্ববঙ্গীয় (বাংলাদেশি) মুসলিম সমাজ এখন অনেক বেশি সমৃদ্ধ, অনেক বেশি শিক্ষিত, অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী। দেশের জনসংখ্যায় মুসলমানদের অনুপাত প্রায় আগের মতোই। হতে পারে আনুপাতিক হার সামান্য বেড়েছে। স্বাধীনতার প্রথমভাগে চাকরিবাকরিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নগণ্য ছিল। এখন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মুসলমানদের অবস্থার বিশেষ হেরফের হয়নি। তবে এক শ্রেণির লোকের মধ্যে হালকা ক্ষোভ রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে বলা যায়, পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম সমাজ শিক্ষাদীক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে গত এক শতকে অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জীবনযাপন সুখকর এবং মসৃণ হয়েছে কি না সে সম্পর্কে সুনিশ্চিত ও অবিসংবাদিতভাবে কিছু বলা মুশকিল।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

সিরিয়া ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রকে আসাদের হুশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়া ছাড়তে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) দখল করা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করার অঙ্গীকার করেছেন। আসাদ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত এবং সিরিয়া থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা উচিত। রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

সাক্ষাৎকারে আসাদ জানান, এসডিএফের সঙ্গে আলোচনার নতুন দরজা খুলেছে সিরিয়া। তিনি বলেন, এটাই প্রথম সুযোগ। যদি এতে কাজ না হয় তাহলে শক্তি প্রয়োগ করে ওই অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে যেতে হবে, যেকোনো উপায়েই তাদের এ অঞ্চল ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, ‘তারা কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইরাক এসেছিল, দেখুন তাদের কী অবস্থা হয়েছে। তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। ইরাকের মতো সিরিয়াও ব্যতিক্রম নয়। এই অঞ্চলে বিদেশিদের গ্রহণ করবে না জনগণ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসাদকে পশু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হলে আসাদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের চরিত্রই তুলে ধরেছেন। পশু শব্দটি তারই প্রতিনিধিত্ব করে। আমি মনে করি এক্ষেত্রে একটি মূলতত্ত্ব রয়েছে। আপনি নিজে যে চরিত্রের অধিকারী সেটি দিয়েই অন্যকে যাচাই করবেন।’

ট্রাম্পকে এ রকম কোনো উপাধি দিতে চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদ বলেন, ‘আমি এ ধরনের ভাষায় কথা বলি না। এটি তার (ট্রাম্পের) ভাষা। এটি তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। আমি মনে করি এক্ষেত্রে একটি কথা রয়েছে। আপনি নিজে যে চরিত্রের অধিকারী সেটি দিয়েই অন্যকে যাচাই করবেন। কাজেই, তিনি নিজে যা তা দিয়েই তিনি আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন এবং এটা স্বাভাবিক। যাই হোক, এ ধরনের ভাষা ও বাক্য প্রয়োগ করে বাস্তবতাকে আড়াল করা যায় না।

সাক্ষাৎকারে সাত বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তা এড়ানো গেছে বলে দাবি করেন আসাদ।

শুধু উচ্চবিত্তদের জন্যই সৌদির রোবটিক মেগাসিটি!

saudi robotic city for the rich