আর্কাইভ

Archive for the ‘ভ্রমণ’ Category

কার্টুনঃ যানবাহন নিয়ে যতো যন্ত্রণা !

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

driving 1adriving 1b

ঘুরে আসুন বাংলার তাজমহল

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

banglar tajmahal 3বিশ্বের প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে অনুপমশৈলীর স্থাপত্যে বিশ্বের ২য় তাজমহল। বাংলার তাজমহল আগ্রার তাজমহলের মডেলেই গড়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলের মূল ভবন স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। এর অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লাহ মণি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমণি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমণি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি তুলতে পারবে। তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী। তাজমহলের কাছাকাছি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে পিরামিড। করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর। এখানে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও পাশেই রয়েছে, শুটিং স্পট সেখানে যে কোনো নাটক, সিনেমার সব ধরনের শুটিং করা সম্ভব। আরো রয়েছে, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ। সুইমিং পুলের কাজ চলছে, তার সঙ্গে পরিকল্পনা রয়েছে আইফেল টাওয়ার করার। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় করছেন তাজমহল দর্শনের জন্য। তাজমহলের স্থান সহজে চেনার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে নির্দেশনার সাইনবোর্ড। তাছাড়া তাজমহল দেখা শেষে মুড়াপাড়ার জমিদার বাড়ি, পানাম নগর, লোকশিল্প জাদুঘর, চৌদ্দার চর, জিন্দাপার্ক ঘুরে আসতে পারেন।

তাজমহল খোলার সময়সূচি ও টিকিট মূল্য: তাজমহল প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৫০ টাকা।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে বাংলার তাজমহলে খুব সহজেই যাওয়া যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লা, দাউদকান্দি অথবা সোনারগাঁগামী যে কোনো গাড়িতে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়। সেক্ষেত্রে ভাড়া লাগে ১৫ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি বা স্কুটারে জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়ায় সহজে যাওয়া যায় তাজমহলে।

অন্যভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জগামী যে কোনো গাড়িতে চড়ে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়, সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ২০ টাকা। এখান থেকে সিএনজি স্কুটারে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন তাজমহলে।

ভালোবাসার শহরে…

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

i love wallশান্তা তাওহিদা, প্যারিস থেকে : শহরজুড়ে যেন সারা বছরই প্রেমের মৌসুম চলে। সিন নদীর পার ধরে হেঁটে হেঁটে দেখার প্যারিস এ এক অন্য প্যারিস। সকালে সিন নদীর পানিতে সূর্যের স্পটিক হাসি আর রাতে আলো ঝলকানো হাজার হাজার তারা। এ রকম মুহূর্তটা অবশ্যই দাবি রাখে পরস্পরের হাতে হাত রেখে অতল চোখে হারিয়ে যাওয়ার। আমার যদিও সে সৌভাগ্য হয়নি। প্রায় সাত হাজার নয়শ কিলোমিটার দূরে ছিল আর একটা হাত। ভালোবাসার শহরে সে এক বেরসিক আমি!

দিন আর রাতের প্যারিসের মাঝে বিস্তর ফারাক। শুনে তা বুঝা যাবে না, এমনকি চোখে দেখেও না। এ কেবল অনুভবের। তবে প্যারিস শহর ঘুরে বেড়ানোটা ভোরে থেকে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে দুই রূপই দেখা যাবে। সিন নদীর কোল ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে শুরু হয় আমার প্যারিস সফর। পায়ে হাঁটার পথ থামে পন্ট দে আরটস সেতুতে। এটি পারিসের প্রথম ধাতব সেতু। নামকরণ করা হয়েছিল প্রথম ফরাস সম্রাটের নামানুসারে। এর এক পাশে ইনস্টিটিউট অফ ফ্রান্স আর অন্য পাশে ল্যুভর প্যালেসের কেন্দ্রীয় স্থাপনা। এ সেতুর আরেক নাম ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু। ভালোবাসাকে তালা-চাবি দিয়ে বন্দি করা যায় কিনা তা কেবল এখানকার প্রেমীরাই বলতে পারবেন। তালায় দুজনের নাম লিখে এ সেতুতে দুজনে মিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবিটা ছুড়ে ফেলে দেয় তারা ভালোবাসা নদীর জলে। কথিত আছে, এতে ভালোবাসা অমরতা পায়। সেতুর নিচের প্রবহমান ভালোবাসা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে চাবি খুঁজে নিয়ে সে তালা খুলে এমন সাধ্য কী আর কারো আছে বলুন? হতে পারে এটা ছেলেমানুষী। একদিন না হয় ভালোবেসে ছেলেমানুষ হলেন। ক্ষতি কি তাতে! বিষয়টা কিছুটা বুকের ঢিপঢিপানি নিয়ে ছোটবেলায় দেয়ালে যোগ চিহ্ন দিয়ে নামের আদ্যক্ষর লিখে রাখার মতো। এভাবেই হয়ত অবিনশ্বরতা পায় ভালোবাসা। মজার খবর হলো বেশ কিছু দিন আগে ভালোবাসার তালার ভারে সেতুটি প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা হয়েছিল। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই কিছু ভালোবাসার ঝালর কেটে কমিয়ে দিয়ে ছিলেন। সেতুতে টানিয়ে দিয়েছেন সতর্কবাণীও। তাতে কি আর বুঝে পাগলপ্রেমি মন! ভালোবাসার শহরে ভালোবাসার তালা রোজই ঝুলছে। কার সাধ্য বাধা দেয়।

পন্ট দে আরটস সেতু নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত ফরাসি সিনেমা ‘লে পন্ট দে আরটস’। ফরাসি এক তরুণ তরুণীর করুণ প্রেম কাহিনি নিয়ে এ সিনেমা। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে অভিমানি প্রেমিকা এ সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ভালোবাসা নদীতে আত্মহত্যা করে। সইতে না পেরে প্রেমিকও একি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয় প্রেমিকার সঙ্গে মিলনের আশায়। কেবল এই সেতু নয়, ভালোবাসা নদীর ওপর এরকম প্রায় ১১টি ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু রয়েছে পুরো পারিসে । যারা প্যারিসে আসেন তাদের কাছে মন্টেমারে নামটা আগে থেকেই শোনা থাকতে পারে। জায়গাটা পারিসের উত্তর পাশে সিন নদীর কোল ঘেঁষে। পাবলো পিকাসো, ভিনসেন্ট ভ্যানগগ, ক্লোদ মনে নিভৃতে ছবি আঁকার জন্য এ পাশটা বেছে নিয়েছিলেন। ফরাসি ভাসায় এ জায়গাটার নাম মো মার্তে। পাহাড়ের উপরে রয়েছে এক মনোরম ব্যাসিলিকা। দুই নম্বর মেট্রো ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। এখানে রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য আরো একটি আকর্ষণ। ফরাসি ভাষায় জায়গাটার নাম ‘লে মর ডেস যে তাইমে’। বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘আমি তোমাক ভালোবাসি দেয়াল’। মন্টেমারে রিকটুশ বাগানে এ দেয়াল।

প্রায় চল্লিশ স্কয়ার মিটার দেয়ালের পুরোটা জুড়ে ৫০টি ভাষায় ৩১১ বার লেখা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। প্রেমিক-প্রেমিকারা নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাওয়ার এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এখানে। যে আগে খুঁজে পায় ভালোবাসার বার্তা তার ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাবার আনন্দে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার মানুষকে। বাংলায় ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ লেখাটা দেয়ালের মাঝখানের অংশে রয়েছে দেখলাম। বিরহ ছাড়া ভালোবাসা অর্থহীন বলেই হয়ত কিছু লাল ভঙ্গুর হৃদয় ছড়িয়ে দেয়া রয়েছে পুরো দেয়ালের ৬১২টি টাইলস জুড়ে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল ভঙ্গুর হৃদয় দেখে। মনে মনে প্রার্থনা করলাম পৃথিবীর সকল যুগলের জন্য। অমর হোক তাদের বন্ধন। ভঙ্গুর হৃদয়ের যাতনা তাদের যেন কোনোদিন স্পর্শ না করে। আমার ধারণা ছিল কেবল তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসার দেয়ালের খুঁজে এখানে আসে। ভুল করলাম আবারও। এখানে আসেন প্রেমিক জুগল। আর প্রেমের যে কোনো বয়স নেই তা এখানে না আসলে আমার হয়ত কখন বুঝা হতো না। হাতে হাত রেখে ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক দিয়ে বহু প্রবীণ প্রেমিকাকে প্রেমিকের চোখে হারাতে দেখেছি সেখানে। এ যেন প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পড়া।

প্যারিসের যেবার ভালোবাসার দেয়াল দেখতে গিয়েছিলাম সেটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক দিনের সফর। টের পাচ্ছেন তো একাকি আমার দেবদাস অবস্থা! আমি ছাড়া প্যারিস শহরটা বড় বেশিই রোমান্টিক। হা হা হা- তবে যে আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসে তার সাথে দেখা করার গল্পটা বরং আমার কাছে বেশি রোমান্টিক। দ্য টাউয়ার অব লাভ-ভালোবাসার আইফেল টাউয়ার। ৩২৪ মিটার উঁচু লোহার তৈরি এ টাউয়ারে মানুষ আসে প্রেমকে অমর করতে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। উল্টো আমিই প্রেমে পড়ে গেলাম তার। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেম যাকে বলে। প্রথম তার সাথে যখন দেখা হয়, তখন সে কুয়াসার চাদরে ঢাকা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে তার সামনে মন্ত্রমুগ্ধ আমি। দ্বিতীয় বার যখন দেখা হলো তখন তিনি আকাশের নীলে রোদেলা আমার ফাগুন পুরুষ। আর তৃতীয় বার রাতের আকাশে জ্বলজ্বলে আমার ভিনদেশি তারা। তার বিশালতার কাছে নিজেকে বড়ই সামান্য মনে হয়েছে।

সিন নদী পেরিয়ে যতই তার কাছে গিয়েছি ততই বদলে যেতে শুরু করে অনুভূতিটা। ‘আমি দূর হতে কেবল তোমায় ভালোবেসেছি’ কিছুটা এরকম অনুভূতি। দূর থেকেই তাকে বড় আকর্ষণীয় লাগছিল। এ যেন চিরায়ত মানব চরিত্র! কাছে পেলে সোনার মোহর হয়ে যায় মাটির মোহর! ‘কাছে গেলে যদি ভালোবাসা কমে যায় তবে দুরত্বই ভালো-এই বলে সেদিন সন্ধ্যায় তার সাথে হলো ছাড়াছাড়ি।

পরের বার প্যারিস গিয়ে তার অন্য প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে আইফেল টাউয়ারের চূড়ায় উঠার সৌভাগ্য হল। চূড়া থেকে দেখলাম ভালোবাসার অন্য আরেক প্যারিসকে। পুরো প্যারিসটা ৩৬০ ডিগ্রিতে চোখে বন্দি করতে সময় লাগল আর ঘণ্টাখানেক। আইফেল এর চূড়ায় যুগল স্যাম্পেনের হাতে চুম্বনরত তরুণ-তরুণীকে দেখে মনে হয়েছে ‘প্রেম পবিত্র-প্রেম মধুর’! চূড়া থেকে দেখে মনে হলো পৃথিবী আসলেই গোল। কমলা লেবুর মতো প্যারিস শহরটা মিলিয়ে গেছে দিগন্তে। তবে মিলিয়ে যায়নি ভালোবাসা। কেবল সূর্যটা টুপ করে ডুব দিয়েছে সিন নদীতে আর সন্ধ্যা নেমেছে শন্ জিলেজের পথে পথে ভালোবাসার শহরের ভালোবাসারা এভাবেই বেঁচে থাকুক অনন্তকাল!

সোনাদিয়া দ্বীপ : অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি যেখানে

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

সোহেল মো. ফখরুদ-দীন : বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের সর্বশেষ জেলা কক্সবাজার। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। আমাদের পর্যটন নগরী এ কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। স্থানীয় ভাষায় সোনাদিয়ার চর বলে। এটি মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন সমৃদ্ধ শহর। রামু উপজেলা তার আদি নিদর্শন। রামুতে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের আগমনের অস্তিত্ব সংরক্ষিত আছে রামকোট বিহারে। প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় সভ্যতার স্মারক ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির, মহেশখালী সাগর দ্বীপ আদিনাথ পাহাড়ে অবস্থিত।

চট্টগ্রাম ও বাংলায় মুসলমান আগমন ও মুসলমান মিশনারী হিসেবে পরিচিত হযরত বদর আউলিয়া (বদর পীর) সমুদ্র পথে আগমনের চিহ্ন বদর মোকাম কক্সবাজারে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাচীন আরাকানী সভ্যতার স্মারকসহ পুরো কক্সবাজারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্মারক নিয়ে এই শহর পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। কক্সবাজারের আকর্ষনীয় স্থানসমূহের মধ্যে সোনাদিয়া দ্বীপ অন্যতম। এরপরেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ, মহেশখালী দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, মাতারবাড়ী দ্বীপ, ছেঁড়া দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। নয়নাভিরাম দ্বীপ কক্সবাজারের সোনাদিয়া পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কক্সবাজার যারাই আসেন তারা যদি সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ না করেন তাহলে পরিপূর্ণতা আসবে না। সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির অদ্ভুত সব সৌন্দর্য মানুষকে প্রতিনিয়ত কাছে টানছে। যেন স্রষ্টার সৃষ্টি সব কিছু দিয়ে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে জেগে ওঠা সোনাদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার মাত্র। কক্সবাজার থেকে উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটির অবস্থান। আর মহেশখালী থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন ৯ বর্গকিলোমিটার।

ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই সুন্দর দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সবমিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ সবসময় বিরাজ করে এই দ্বীপে। এ দ্বীপের পানি এতোটাই স্বচ্ছ ও টলটলে, দেখে মনে হবে যেনো কোনো কাঁচের ওপর দিয়ে নৌযানটি এগিয়ে চলেছে। যা দেখলে শত বছরের দুঃখ-কষ্ট এক নিমিষেই ভুলে যেতে বাধ্য। সমুদ্র থেকে সৃষ্টি হয়ে ভিতরের দিকে গিয়ে নদীটি কয়েকটি শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে সম্ভবত। দুপাশে সবুজ বন। এসব বনে রয়েছে কেওড়া, হারগোজা, উড়িঘাস এবং কালো ও সাদা বৃক্ষ। এই দ্বীপে তেমন জনবসতি এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে এই দ্বীপের বেশির ভাগ লোকই জেলে সম্প্রদায়ের। যাদের জীবিকা নির্বাহ হয় সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণের মাধ্যমে। আরো কিছু লোক দেখা যায় যারা লবণ চাষ করেও জীবিকা নির্বাহ করে। এই দ্বীপে নেই কোনো হাট-বাজার। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের একমাত্র ভরসা ছোট ছোট মুদি দোকানগুলো। দ্বীপটির পশ্চিম দিকে সবুজ ঘাসে মোড়ানো খোলা মাঠ, নির্জনতা ও অফুরন্ত বাতাস, সব মিলিয়ে মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। এই দ্বীপের খোলা মাঠে বসলে মনে হবে যেনো অজানা-অচেনা কোনো দ্বীপে আপনি একা। চারপাশে লাল কাঁকড়ার ছুটাছুটির দৃশ্যগুলো খুবই মনোরম।

সবকিছুই মনে হবে সিনেমার দৃশ্যের মতো। সোনাদিয়া দ্বীপের সূর্যাস্তও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেন দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে, তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ।

এখানে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি। তবে এখানে কোনো হোটেল-মোটেল এখনো গড়ে উঠেনি। এলাকাটি তেমন নিরাপদও নয়। স্থানীয় কোনো প্রশাসন চোখে পড়ার মতো পরিদর্শনে দেখা যায় না। পর্যটকদের ভয় ওখানে। তবে ছোটখাট বিচ্ছিন্ন চুরি ছাড়া তেমন কোনো বড় ঘটনার নজির নেই। এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য ঢাকা চট্টগ্রাম হয়ে দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী।

মহেশখালী গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত পথটুকু যেতে হবে বেবিট্যাক্সিতে করে। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে ছোট নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই নয়নাভিরাম দ্বীপ সোনাদিয়া । যেখানে সৌন্দর্যের হাতছানি আপনার মনকে দেবে প্রশান্তি। দল বেঁধে কিংবা পরিবা-পরিজন নিয়ে সোনাদিয়া দ্বীপে ঘুরে আসতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে গেলে ভ্রমণ হবে নিরাপদ ও আনন্দময়।

 লেখক : সভাপতি, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি), সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ, ঢাকা

মানুষ কি চন্দ্রে পদার্পণ করেছিলো?

অগাষ্ট 5, 2017 মন্তব্য দিন

১৯৬৯ সালের এই দিনটি (২০ জুলাই) মানবেতিহাসের আধুনিক অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংযোজিত হয় । এই মর্ত্যলোকের তিন মানব “আয় আয় চাঁদ মামা”র কপালে টিপ দিয়ে আসে – থুক্কু একেবারে চাঁদের বুকে পা ফেলে আসে তাবৎ বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে ।

সেদিন বা তারপর অনেক দিন মানুষের চাঁদে পদার্পণ করার সত্যতা নিয়ে কোনো রকম সন্দেহ প্রকাশ করা হয় নাই । কিন্তু বিশ্ব জুড়ে আমেরিকার নানা রকম কুকর্ম দেখে এবং বিশেষত ৯-১১ নিয়ে তাদের মিথ্যাচারের বহর দেখে মানুষ এখন তাদের সত্য বা ভালো কাজগুলোকে অবমূল্যায়ন করতে চাচ্ছে এক ধরণের প্রতিবাদ হিসেবে । তারা এখন দাবী করে বসছে যে, চাঁদে নামার ঘটনা ছিলো হলিউড ম্যুভি । নানা মানুষজন চাঁদের অবতরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা রকম সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করেছেন । কেউ কেউ আবার ঐসব সন্দেহের মূলোৎপাটন করে যুক্তি ও প্রমাণ সহযোগে তথ্য-উপাত্ত পেশ করেছেন ।

দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, চাঁদে মানুষের অবতরণের বিষয়টি সত্য । বিস্তারিত বাংলায় লেখার সময় এই মূহুর্তে আমার নেই । তবে উইকিপিডিয়ার এই লিংক দেখলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা ।

চাঁদে কোনো রকম বায়ুমন্ডল না থাকা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবী এক-ষষ্ঠমাংশ হওয়ায় চাঁদে অবতরণ করাটা অনেক সহজ ।

যারা যুক্তি দেখাতে চান, নাসা কেনো এখন চাঁদে আবার মানুষ পাঠিয়ে প্রমাণ করে না কেন – তাদের বুঝতে হবে যে, নাসা চাইলেই সেটা এখন করতে যাবে না । ঐ সময়কার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বিজ্ঞানীরা চন্দ্র অভিযানে যাবার সাহস করবে না । রকেটের আধুনিকায়ন করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার বাজেট নাসাকে আর দেয়া হবে না । কারণ, সেখানে এমন কিছু নেই যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা পৃথিবী উপকৃত হতে পারে । ঐ সময় চাঁদে প্রথম পদার্পণ করাটা ছিলো রাশিয়ার সাথে একটা স্নায়ু যুদ্ধে জয়লাভ করার ব্যাপার যা তারা সাফল্যজনকভাবে করতে পেরেছিলো । চাঁদে পদার্পণ করাটা যদি সত্য না হতো, তবে সর্বাগ্রে রাশিয়া সেটা অস্বীকার করতো । কিন্তু আজ অবধি রাশিয়া এ ব্যাপারে নিঃশ্চুপ । এতে কি বোঝা যায়?

চাঁদে বুকে প্রথম পদার্পণের সময় একটি লেজার রেট্রোরিফ্লেক্টোমিটার রেখে আসে হয় যার উপর পৃথিবী থেকে যে কেউ লেজার নিক্ষেপ করে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করতে পারে ।

চাঁদকে ঘিরে আমেরিকার একটি কৃত্রিম উপগ্রহ ঘুরে দেড়াচ্ছে । সেটা থেকে চাঁদে রেখে আসা রকেটের অংশের ছবি গ্রহণ করা হয়েছে । এমনকি জাপানীদের পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ-ও সেসবের ছবি তুলেছে । নীচের লিংকগুলো দেখুন বিস্তারিত জানতে চাইলেঃ

Moon landing conspiracy theories

https://en.wikipedia.org/wiki/Moon_landing_conspiracy_theories

Third-party evidence for Apollo Moon landings

https://en.wikipedia.org/wiki/Third-party_evidence_for_Apollo_Moon_landings

Lunar Flag Assembly

http://en.wikipedia.org/wiki/Lunar_Flag_Assembly

Lunar Reconnaissance Orbiter

https://en.wikipedia.org/wiki/Lunar_Reconnaissance_Orbiter

moon hoax p65

moon hoax p66

moon hoax p67

moon hoax p68

moon hoax p69

moon hoax p70

moon hoax p71moon hoax p72

moon hoax p73

moon hoax p74

moon hoax p75

moon hoax p76

moon hoax p77

এবার হাতিরঝিলে চালু হলো ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’

ডিসেম্বর 18, 2016 মন্তব্য দিন

water-taxi-in-hatirjheel-1water-taxi-in-hatirjheel-2water-taxi-in-hatirjheel

টিপু সুলতানের রাজ্যে

ডিসেম্বর 9, 2016 মন্তব্য দিন

touring-place-of-tipu-sultan-1

mysore-palace-1touring-place-of-tipu-sultan-2

mysore-palace-2mysore-palace-throne-of-king-wadiar