আর্কাইভ

Archive for the ‘ভ্রমণ’ Category

বিশ্বের দ্রুতগামী ট্রেনগুলো

fastest trains of the world

Advertisements

রামলাঃ মুসলিম শাসকদের গৌরবময় শাসনের স্বাক্ষর

ramala 3রুকাইয়া সাওম লীনা : দশম শতকে মুহাম্মদ ইবনে আহমেদ শামস আল-দীন আল-মুগাদ্দাসী তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীতে লিখেছিলেন, ‘এটি একটি সুন্দর ও সুনির্মিত শহর। এর আছে অপরিমিত সুমিষ্ট পানি ও ফলের প্রাচুর্যতা। এখানে বাণিজ্য সমৃদ্ধ ও বাজার চমৎকার।’ দশম শতকে কায়রো ও দামাস্কাসের পথে রামলা নগর পরিদর্শনের পর তিনি এ কথা লিখেছিলেন। তিনি এ শহরকে ‘শহুরে স্বর্গোদ্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তার নিজের শহর জেরুজালেমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

৭১৫ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিনের নতুন প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ শহরটি, এখানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রবর্তিত হয়েছিল। জাঁকজমকপূর্ণ অভিজাত মসজিদ, প্রশাসনিক ভবন, বাগানঘেরা প্রাসাদ, যা মোজাইক ও ঝর্ণা শোভিত। ১১০০ শতকে তার অধিকাংশই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও পরে এখানে নতুনভাবে শহর পত্তন করা হয়েছে। কিন্তু এ নতুন শহর তার হারানো ঐতিহ্যের কাছে-পিঠে যেতে পারেনি। ইসরায়েলি পুরাতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান গিডিয়ন আভনি বিবিসিকে বলেন, ‘রামলার ঐতিহ্যের কিছুই আর বর্তমানে অবশিষ্ট নেই। শুধু তোরণের জলাধারই আছে, যা দেখতে আপনাকে অবশ্যই ভূগর্ভে যেতে হবে।’

বর্তমানে রামলা, তেল আবিবের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে দেশের বেন গুরিয়ন এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত আরব ও ইহুদি অধ্যুষিত একটি ছোট শহর। অপরাধ ও মাদক পাচারের মতো দুর্নাম থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে। আর একটি গুপ্ত ভূগর্ভস্থ সজ্জিত জলাধার এখনও এ শহরের গৌরবমণ্ডিত অতীতের কথা স্মরণ দিচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ এ জগতে ঢোকার মুখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা চারটি সুসম্পন্ন জলাধার খুঁজে পান, যাতে পানি প্রবাহিত করার জন্য সুদীর্ঘ কৃত্রিম জলনালির অস্তিত্ব ছিল। পরে রামলার ‘রোড-৬’ তৈরির সময় ১৫০ মাইলের পাথরে নির্মিত ভূগর্ভস্থ কৃত্রিম খাল পাওয়া যায়; যা থেকে শহরে পানি সরবরাহ করা হতো।

প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই দেখা যায়, একটি ছোট ভবনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে, মুসলিম স্থাপত্য রীতিতে জোড় বাঁধা খিলান/তোরণের সমাবেশ। পানিতে নিবিষ্ট মনে দাঁড়িয়ে আছে তোরণগুলো। একে জল-উদ্যান বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। একটি পাথরের সিঁড়ি প্রশস্ত জলাধারে নেমে গেছে। একই ধরনের তোরণ দলবেঁধে ছাদকে মাথার ওপর ধরে রেখেছে। যার জন্য এর নাম হয়েছে ‘তোরণের জলাধার’।

ছাদে একটু পরপর আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এর পাশে শোভা পাচ্ছে লাল ও সবুজ বৈদ্যুতিক বাতি। খিলান ও দেয়ালের গায়ে জন্ম নেওয়া শেওলা আর বাহারি রঙিন বাতির আলোতে জলাধারকে স্বপ্নিল এক স্বর্গোদ্যানই মনে হয়।

দেয়ালের গায়ে খোদাই করা কুফিক আরবি হরফে হাতে লেখা ফলক আছে। তাতে লেখা আছে, ৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হারুন-আল-রশিদ কর্তৃক জলাধারটি চালু করার অনুমতি দেওয়া হলো, তিনি তখন বাগদাদের শাসক ছিলেন।

আভনি বিবিসিকে আরও বলেন, ‘রামলার মুসলিম শাসকদের তৈরি এ তোরণের জলাধারটি মহত্ত্বম অনুভূতি সৃষ্টি করে। দুটি সময়ের, দুটি সংস্কৃতির মিশ্রণের প্রতিনিধিত্ব করে এটা। প্রাচীন পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের সূচ্যগ্র তোরণ ও গ্রিক শহরের ভূগর্ভস্থ বক্র তোরণের জলাধারের ধারণার সমন্বয়ে এটা সৃষ্টি।’

একটি ছোট ঘাটে নৌকা ও বৈঠা সাজানো, এতে করেই ১২২৮ বছর বয়সের জলাধারে ঘোরা যায়। বিবিসির রিপোর্টার সারা তুথ স্টাব বলেন, ‘আমার বাবা তোরণের চারপাশে নৌকা চালাচ্ছিলেন। দেখে মনে হচ্ছিল, আমরা বুঝি জলাধারের তোরণগুলোর আড়ালে লুকোচুরি খেলছি।

১৮৬২ সালে ফ্রান্সের প্রত্নতত্ত্ববিদ মেলকিয়র দ্যু ভুগে শিলালিপিতে লেখা ফলক ও জলাধারটি আবিস্কার করেন। কিন্তু পরে তা সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণরূপে মাটি চাপা পড়ে যায়। ১৯৬০ পর্যন্ত এটা গুপ্তই ছিল। এরপর রামলার পৌরসভা এটাকে খনন করে উদ্ধার করে এবং পরিস্কার ও সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়। এটা তার প্রাচীন অনুভূতি এখনও ধরে রেখেছে, যা এক হাজার ২০০ বছরের বেশি সময় টিকে আছে। আর স্মরণ করিয়ে দেয় মুসলিম শাসকদের গৌরবময় সময়ের কথা।

পিরামিড দর্শনের অভিজ্ঞতা…

ancient egyptian life muiralমিলু শামস – লাউঞ্জে পা রাখতেই মুগ্ধতায় ভরে যায় মন। ছিমছাম সাজানো গোছানো, ছোট কিন্তু আন্তরিকতায় ভরা। অন্যান্য এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে যা থাকে ছোট পরিসরে তার সব থাকলেও বাজারি ভাবটা নেই। সরল সৌন্দর্যের ছোঁয়া সবখানে। আর কোন দেশের এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে বাহরাইনের মতো এমন সিগ্ধ রুচির ছোঁয়া দেখিনি। স্টারবাকস, গ্লোরিয়া জিন্সের মতো কফি শপগুলো ওয়েটিং এরিয়ার একেবারে নাগালে। তা দেখে ঢাকার কফি কালচারে অভ্যস্ত আমার তরুণ-কিশোর দুই সহযাত্রী আনন্দে আত্মহারা। ইস্তানবুল এয়ারপোর্টে অনেক খুঁজে স্টারবাকসের সন্ধান পেয়েছিল তারা। ঢাকায় ব্রেড এ্যান্ড বিয়ন্ড, নর্থ এন্ড, ক্রিমসন কাপ, তাবাক ইত্যাদিতে স্বাদ বদলাতে পারলেও স্টারবাকসের স্বাদ নেয়ার সুযোগ হয় তাদের দেশের বাইরে এলেই। সুতরাং যাত্রা বিরতির পুরো সময় মেজাজ খোশ। এক জনের ‘প্রাইড এ্যান্ড প্রিজুডিস’ অন্য জনের ‘হাউ টু রিড পেইন্টিংস’ ঢুকে যায় যার যার ডিভাইসে। কফির মগে চুমুক দিয়ে বাদশাহী মেজাজে বিশ্রম্ভালাপ শুরু হয় তাদের।

আমরা আছি ‘মিসর তত্ত্ব’ ঘোরে। একখানা ‘বেসাল্ট পাথর’ কি করে আধুনিক মানুষের সামনে পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করল তা ভেবে অবাক হয়েছি বার বার। মিথ মমি ফারাও পিরামিড প্যাপরাস আর হায়ারো গ্লাইফিক লিপির রহস্যময় মিসরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস পাঠের সূত্র তুলে ধরেছিল ‘রোজেটা পাথর’ নামে পরিচিত ওই বেসাল্ট শিলালিপি। নীল নদের ‘রোজেটা’ বাঁকে এটি পেয়েছিলেন এক ফরাসী সৈনিক। নেপোলিয়নের মিসর আক্রমণের সময়, সতেরো শ’ নিরানব্বই সালে। পাঠোদ্বার যিনি করেছিলেন তিনিও ফরাসী। সাঁপোলিয়ঁ নামে ওই ফরাসী ভাষাতাত্ত্বিক ‘টলেমি’ এবং ক্লিওপেট্রা’ এই দুটি মাত্র পরিচিত গ্রীক শব্দ সম্বল করে সম্পূর্ণ অপরিচিত, দুর্বোধ্য হায়রোগ্লাইফিক লিপির পাঠোদ্ধার করেছিলেন দীর্ঘ পরিশ্রমের পর।

ঢাকা থেকে বাহরাইনের পথে হলিউডের ‘ক্লিওপেট্রা’ দেখা হলো আরও একবার। টলেমি যুগের মিসরের রানীর খেতাব ছিল ক্লিওপেট্রা। জুলিয়াস সিজারের আলেক্সান্দ্রিয়া অভিযানের সময় মিসর চলছিল ক্লিওপেট্রার শাসনে। মুগ্ধ সিজার প্রেমে পড়েছিলেন তার। তাকে নিজের করে পেতেন কিনা সে প্রশ্ন পরের। তার আগেই খুন হয়েছিলেন গুপ্তঘাতকের হাতে। ক্লিওপেট্রার রাজত্বে এর পরের অধ্যায়ে প্রবেশ আরেক রোমান বীর মার্ক এ্যান্টেনির। যার সমস্ত বীরত্ব হার মেনেছিল রানীর সৌন্দর্যের কাছে। ভুলিয়ে দিয়েছিল তার ওপর আরোপিত দায়িত্বের গুরুভার। শেক্সপিয়ারের এ্যান্টোনি ও ক্লিওপেট্রা নাটকে। এরা অমর হয়ে আছেন। ক্লিওপেট্রার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সৌন্দর্য এবং ষড়যন্ত্রের জালে বিদ্ধ মার্ক এ্যান্টোনিকে দিয়ে শেক্সপিয়ার বলিয়েছেন।

I am dying, Egypt dying; only

I here importune death a whail until

Of maû thousand kisses the poor last

I lay upon thy lips I am dying, Egypt dying; only

I here importune death a whail until

Of maû thousand kisses the poor last

I lay upon thy lips

‘আমি মরে যাচ্ছি, মিসর মরে যাচ্ছে; শুধু চাই

মৃত্যু যেন ক্ষণিক স্তব্ধ হয় যতক্ষণে না আমি

হাজারো চুমুর শেষ চুমুটি

তোমার ঠোঁটে এঁকে দিচ্ছি।’

মৃত্যু স্তব্ধ হয়নি শেষ পর্যন্ত কর্তব্যে অবহেলার জন্য রোমের অধিপতি অক্টোভিওর বিচারে প্রাণদন্ড- হয় এ্যান্টোনির, ক্লিওপেট্রা নিজেই হনন করেন নিজেকে। আর রোমানদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সত্যিই মৃত্যু হয় প্রাচীন মিসরের। এ কাহিনী প্রাচীন মিসরের একেবারে শেষ অধ্যায়ের। আমরা চাই শুরু থেকে দেখতে। ইতিহাসের পাতায় পাতায় আলো ফেলে। বাইরাইনের রুচিস্নিগ্ধ লাউঞ্জে মনোরম একটি বিকেলের স্মৃতি পেরিয়ে কায়রোগামী দ্বিতীয় ফ্লাইটের দিকে এগোই।

॥ দুই ॥

বাইরের সিঁড়ির ল্যান্ডিং যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু ভেতরে যাওয়ার পথ। কয়েক পা এগিয়ে মূল দরজায় প্রহরী বসে। মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ব্যাগ ইত্যাদি রাখতে হবে তার জিম্মায়। ভেতরে প্রবেশ ঝাড়া হাত-পা। ঢুকেই টের পাই এসব রেখে যাওয়ার অপরিহার্যতা। হামাগুড়ি দেয়ার মতো কুঁজো হয়ে উঠতে হবে ওপরে। ছোট ছোট সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে। বিশাল বপুরা রণেভঙ্গ দেন শুরুতেই। দৈর্ঘ্যে যারা বেশি তাদেরও সমস্যা। শরীরকে এতটা ভাঁজ করে ওপরে ওঠানো কঠিন। অনেকের নাকি শ্বাস কষ্ট ধরনের সমস্যা হয়। গাইড বলেছে সমস্যা হলে ফিরে আসবে।

কত দুর্গম দর্শনীয় জয় করে এলাম! বাড়ির পাশের চেরাপুঞ্জি আর পোখারার পাহাড়ের প্রাচীন গুহাসুরঙ্গ থেকে শুরু করে রক্ত হিম করা আইফেল টাওয়ারের চূড়া, হিল ট্রেনে সুইজারল্যান্ডের পর্বতের খাড়া বেয়ে নামা, আন্দামানে উত্তাল ঢেউয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয়া। আর এত আজন্ম বিস্ময় প্রাচীন সপ্তার্যের অন্যতম মিসরের খুফুর পিরামিড। শ্বাসকষ্টের ভয় কি আমাদের ফেরাতে পারে!

॥ তিন ॥

ঢুকে পড়েছি খ্রিস্টপূর্ব দু’হাজার নয়শ’ সালে। কায়রো থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে গিজার গ্রেট পিরামিডে। এখানেই ছিল ফারাও খুফুর মমি। খুফু নির্মাণ করিয়েছিলেন বলে ‘খুফুর পিরামিড’ নামেও এর পরিচিতি রয়েছে। মানুষের অমরত্বের আকাক্সক্ষা চিরন্তন। তা যে কি তীব্র বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল প্রাচীন মিসরীয়দের কাছে তারই মূর্ত প্রকাশ পিরামিড। মিসরীয়রা বিশ্বাস করত নীল নদের পাড়ে যেমন এই পৃথিবী তেমনি নীল আকাশেও আছে এ রকম আরেকটি পৃথিবী। সেটি মৃত্যুর পরের। মৃত্যুর পরের ওই জীবন এ জীবনেরই সম্প্রসারণ। ওখানেও আছে খিদে-পিপাসা, ঘুম-জাগরণ, এখানকার মতো অন্যসব জরুরী বিষয়। ওই জীবনে পৌঁছতে হলে শরীর রাখা চাই অক্ষত। পচা-গলা শরীর ওখানে যাওয়ার অনুপযোগী। শরীর যতদিন অক্ষত অমরত্বও ততদিনের। পিরামিড যুগে ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল এমনই। মৃতদেহ মমি করে রাখা তাই সে সময় ছিল সাধারণ ধর্র্মীয় রেওয়াজ। সংরক্ষণের সঙ্গতি অনুযায়ী স্থায়িত্ব পেত মমি। সে অনুযায়ী অমরত্ব। শাসক এবং ক্ষমতার শীর্ষ ফারাওদের অমরত্বের আকাক্সক্ষাও ছিল শীর্ষ স্পর্শী। দেহ সংরক্ষণের জন্য তাই তারা বানিয়েছিল পিরামিড। এর নির্মাণশৈলীই এমন যে, এখানে রাখলে কোন দিন ক্ষয় হয় না শরীর। অসাধারণ জ্যামিতিক এবং গাণিতিক জ্ঞানের সমন্বিত রূপ পিরামিড। সেই প্রাচীনকালে এত জ্ঞান এরা অর্জন করেছিল কি করে ভাবলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হতে হয়। ইজিপ্সিয়ান মিউজিয়ামে এখনও সংরক্ষিত আছে ফারাও তুতেনখামেনের মমি।

সত্যিকারের চামড়া, সত্যিকারের দাঁত-মুখ, কপাল, চোখের কোটর দুটো কালো কাপড়ে বাঁধা। গা শিউরে ওঠে! কত হাজার বছর আগের একটি মানুষের শরীর! ভাস্কর্য নয়, আলোকচিত্র নয়, পেইন্টিং নয় একেবারে সত্যিকারের দেহ! অমরই তো হয়েছে আসলে। এত কাল পরের মানুষ আজকের আমরা দেখছি- এককালের ক্ষমতাবান, প্রতাপশালী সত্যিকারের ফারাওকে। এত অমরত্বই।

অপূর্ব কারুকাজের তিনটি বিশাল আকৃতির কফিন সাজানো রয়েছে মিউজিয়ামের তিনটি ঘরে। ওতে তুতেন খামেনের দেহ ছাড়াও মূল্যবান রত্ন সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস রাখা ছিল। একজন রাজার জীবনযাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই। একটি আলোকচিত্রও আছে সে সবের। কফিন উদ্ধার করেছে যারা তাদের তোলা।

॥ চার ॥

পিরামিডের ভেতরে এখন দেখার তেমন কিছু নেই। সিঁড়ি বেয়ে আমরা যেখানে উঠলাম সেটা টপ ফ্লোর। এর ওপর আর কিছু নেই। পাথরের তৈরি বুক সমান উঁচু খোলা আয়তাকার একটি কফিনের মতো জিনিস। হয়ত মমি বানানোর প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হতো। অথবা অন্য কিছু।

জাতিগত বৈশিষ্ট্যের সিল-ছাপ্পড় আমাদের চেহারায় এত প্রকট যে স্থানীয় লোকজন ধরেই নিয়েছে আমরা ভারতীয়। ‘ইন্ডিয়ান’ ‘এই ইন্ডিয়ান।’ ‘ইন্ডিয়া-শাহরুখ খান’, ‘ইন্ডিয়া-কারিনা কাপুর’। ‘ইন্ডিয়া-অমিতাভ বচ্চন’। এ শব্দগুলো শোনা ওই ক’দিনে আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। টিজ নয়, মজা পেত ওরা। মনে হয় খুশিই হতো। ভারতীয় হিন্দী সিনেমার নায়ক নায়িকারা এত প্রিয় যে সে দেশ থেকে আগতদের দেখলে ওদের ভাল লাগে। এমন কি গব্বর সিংয়ের নামও জানে। আমাদের দেশের অনেকেও যা জানে না। হিন্দী সিনেমার কারবারিরা মিসরেও ‘কামাল’ করে দিয়েছে। অবাক কান্ড ! তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি কায়রোর মার্কেটে গিয়ে। একটি আউটলেটের সামনে দাঁড়াতেই প্রায় মাঝ বয়সী এক ভদ্রলোক হেসে অভ্যর্থনা জানায় ‘ফ্রম ইন্ডিয়া, রাইট? আমরাও হেসে উত্তর দেই ‘নো, বাংলাদেশ। ‘ও, বাংলাদেশ! তসলিমা নাসরিন’! বিশাল আবিষ্কারে উল্লসিত সে। পিরামিড দেখার মতোই বিস্মিত হই অনেকটা। এখানে এভাবে তসলিমা নাসরিনের নাম শুনব কল্পনাও করিনি। কে যে কিভাবে দেশকে ব্র্যান্ডিং করে! ভদ্রলোকের সম্ভবত কবি-সাহিত্যিক মহলে যোগাযোগ আছে। অথবা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তসলিমাকে নিয়ে কোন ফিচার বা নিবন্ধ পড়েছেন। তাছাড়া কীভাবে তসলিমার নাম জানলেন ভেবে পেলাম না।

যা হোক, সিঁড়ি বেয়ে নেমে যেখানে দাঁড়ালাম সেখান থেকে আরেকটি সিঁড়ি সম্ভবত নেমে গেছে নিচের দিকে। পিরামিডের মাঝ বরাবর। ওখানেই রাজা খুফুর ঘর। রানীর ঘর। গ্র্যান্ড গ্যালারি বা বড় হলরুম। মাটির নিচে আছে আরেকটি ঘর। সবই এখন বন্ধ। পর্যটকদের জন্য খোলা শুধু ওপরেরটুকু।

প্রতিটি পিরামিডের সঙ্গে লাগোয়া একটি করে মন্দির। সেখানে রাজার জন্য পোশাক, মূল্যবান রত্ন অস্ত্র অলঙ্কার সোনা-রুপার পাত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস, খাবার পানীয় ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে রাখা হতো। মৃত্যুর পরেও যাতে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করতে পারেন। ভেতর থেকে একটি কৃত্রিম দরজাও ছিল। যাতে রাজা মন্দিরে বেরোতে পারেন। রানীর গায়ে থাকত মূল্যবান রত্নের অলঙ্কার। সামন্ত যুগের কোন এক রাজকন্যার মাথায় পরানো ছিল সোনার ফুলে গাঁথা রত্নের সিঁথিপাটি বা টায়রা। যা শুধু মূল্যবানই নয় মিসরীয় কারিগরি শিল্পের চরম উৎকর্ষেরও প্রমাণ। বলেছিল গাইড। সুমেরীয়রা মৃত রাজা-রানীর সঙ্গে তাদের দাস-দাসীদেরও জীবিত সমাধি দিত তাদের সেবা করার জন্য। মিসরে এ নির্মম প্রথার ঐতিহাসিক সাক্ষ্য নেই। তারা পিরামিডের ভেতরে দাস-দাসী ও অনুচরদের দেয়ালচিত্র এঁকে দিত। সেই সঙ্গে হায়রোগ্লাইফিক লিপিতে শিরোনামসহ রাজাদের জীবনবৃত্তান্ত ও সাফল্যের গুণগানের সার বাঁধা রঙিন চিত্র।

চিত্র বা প্রতীক ব্যবহার করে বক্তব্য প্রকাশের বিশেষ রীতির নাম হায়রোগ্লাইফিক। মিসরীয়রা যা আবিষ্কার করেছিল। যেমন হোটেল রেস্তরাঁয় আজকাল আমরা দেখি নারী-পুরুষের আলাদা টয়লেট বোঝাতে নারী এবং পুরুষের আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয় অনেকটা সে রকম। প্রতীকটির পোশাক, শারীরিক গঠন ইত্যাদি দেখেই আমরা বুঝি একটির মানে পুরুষ অন্যটির মানে নারী। ওড়া অর্থে হয়ত পাখি বোঝাত, ভাসা অর্থে হাঁস- এ রকম আর কি।

‘রোজেটা’ পাথরের এই হায়রোগ্লাইফিক লিপির পাঠোদ্ধারের পরই এ যুগের মানুষের কাছে উদ্ঘাটিত হয় প্রাচীন মিসরের ইতিহাস। বেরিয়ে আসে জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতির একটি আলোকিত ধারা। বিশেষজ্ঞরা যার নাম দিয়েছেন ‘ইজিপ্টোলজি’ বা ‘মিসরতত্ত্ব।’ ফরাসী ভাষা বিজ্ঞানী সাঁপোলীয় যার সন্ধান দিয়েছেন এই সেদিন- মাত্র দু’শ’ বছর আগে। এর আগে পিরামিড এবং অন্যান্য স্থাপত্য ও ভাস্কর্য একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসের ইঙ্গিত দিয়েছে কিন্তু এ সবের গায়ে লেখাগুলো পড়তে পারার পরই সে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা জানতে পেরেছে মানুষ। মিসরে তিন ধরনের ভাষার প্রচলন হয়েছিল। হায়রোগ্লাইফিক, হায়রেটিক ও ডিমোটিক। হায়রোগ্লাইফিক ছিল মূলত দেবভাষা। দেবতা বা রাজাকে খুঁশি করার জন্য এ ভাষায় প্রশস্তি লিখত পুরোহিতরা। বিভিন্ন মন্দিরের গায়ে দেবতার উপদেশ হিসেবে এখনও জ্বল জ্বল করছে হায়রোগ্লাইফিক লিপিমালা।

‘প্যাপিরাস’ থেকে যে পেপারের উৎপত্তি তারও জন্ম মিসরে। নলখাগড়ার মতো এ জলজ উদ্ভিদ। থেঁতলে রোদে শুকিয়ে কাগজ বানাতে শিখেছিল তারা। যাতে গোপন তথ্য, তন্ত্রমন্ত্র, ওষধের ফর্মুলা বা রাজকীয় দলিল, হিসাব-নিকাশ লিখে মুড়ে রাখা যায়। সাঙ্কেতিক চিহ্নে লেখা হতো এগুলো। যেন সবাই বুঝতে না পারে। প্যাপিরাস পেপার বানানোর প্রক্রিয়া দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে অনেক স্যুভেনির শপ বা গ্যালারিতে চমৎকার হলদেটে পুরু এক ধরনের কাগজ। পুরোটা প্রাকৃতিক। কাগজ ছাড়াও ও প্যাপিরাস দিয়ে পাটি, দড়ি, স্যান্ডেল ইত্যাদিও নাকি বানাত মিসরীয় কারিগররা। কারিগরি কাজ বা ব্যবসা ছিল বংশানুক্রমিক। সে অনুযায়ী সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস হয়েছিল। অনেকটা প্রাচীন ভারতের মতো।

পিরামিডের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার মুখে ইশরায় থামায় গার্ড। প্রথমে চমকে উঠি কোন ভুল হয়নি তো! না মুহূর্তে বুঝে যাই। হাত থেকে সেলফোন নিয়ে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় দাঁড়াতে বলে। আমাদের ছবি তুলে দেবে। ভিউপয়েন্ট ভালই জানা আছে তার। ছবিগুলো ভাল হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হয়ে এ কাজ করলেও দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতায় জেনেছি বখশিশ দিতে হবে তাকে। মিসরে এই এক বিরক্তিকর অনুক্ত আবদার-বখশিশ। ড্রাইভার গাইড থেকে শুরু করে কেউ কিছু করে দিলেই বখশিশ দিতে হবে। না হলে মুখ ভার। তবে একে খুশি মনে বখশিষ দেয়াই যায়। কেননা পিরামিডের ভেতরের ছবি তো আর প্রতিদিন তোলা হয় না। ড্রাইভার, গাইডকে তো দিয়েই যাচ্ছি, এ দুজনকে খুশি না রাখলে দেখাটাই হয়তো ঠিকঠাক হবে না।

তবে গাইড আবির হাম্মাদ পেশাটা ভালই রপ্ত করেছে। তার পড়াশোনা বিষয়ই ‘হোটেল ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ট্যুরিজম গাইডেন্স’। তিরিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে বয়স হবে। চটপটে। আকর্ষণীয়ভাবে তথ্য উপস্থাপনের আধুনিক শৈলিতে ঝলমলে। আবিরের তত্ত্বাবধানে এবার দেখবো পিরামিডের বাইরের দিক।

॥ পাঁচ ॥

মিসর বলতেই যে পিরামিডের চিত্র মনে আসে বা ‘গিজার’ পিরামিড বলে পরিচিত যে পিরামিড বিশ্বখ্যাত তা নির্মিত হয়েছে প্রাচীন মিসরের ইতিহাস শুরুর পাঁচ শ’ বছর পর। মিসরের সবচেয়ে পুরনো লিখিত বিবরণ পাওয়া খ্রিস্টজন্মের তিন হাজার চার শ’ বছর আগে। ইতিহাসের শুরু সেই থেকে। দজলা ফোরাত এবং সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতাও গড়ে উঠেছিল প্রায় একই সময়। বা কিছু পরে। কিন্তু কোথাও পিরামিডের মতো চির বিস্ময়কর নেই। যুগ যুগ ধরে কত কল্পকথা চালু হয়েছে প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের অক্ষত এ স্থাপনা নিয়ে! কিশোর বয়সে পড়া সেই ‘আন আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং সসা’র-এ করে ভিনগ্রহ থেকে মানুষ এসে পিরামিড নির্মাণের কল্পকাহিনী তো এখনও মনে গাঁথা। সত্যি এ বিশাল স্থাপনার সামনে দাঁড়ালে অনেক কল্পকাহিনী ডালপালা মেলা স্বাভাবিক।

গ্রেট পিরামিডই তেরো একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে। খুফুর বংশধর খুফরুর পিরামিডটি খুফুর চেয়ে আয়তনে ছোট হলেও বিখ্যাত সেই ‘স্ফিংস’-এর জন্য এর বিশেষ আকর্ষণ। পাহাড় কেটে তৈরি এক বিশাল সিংহ। মুখটি ফারাও খুফরুর। অপরূপ তার ভঙ্গি। অটোম্যান অভিযানের সময় কামানের আঘাতে নাক ভেঙ্গেছে। তাতে সৌন্দর্যহানি খানিক হলেও বিশালতা খর্ব হয়নি একটুও। অপূর্ব। অনবদ্য। বিস্ময়কর! এমনভাবে করা হয়েছে মনে হয়, পিরামিডের সামনে বসে আছে এক পরাক্রমশালী সিংহ-মানব। যেন পাহারা দিচ্ছে বিশাল এ স্থাপনা। ছোটটির নির্মাতা রাজা মেনকর কায়রো থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে ধু-ধু মরুভূমির মধ্যে এ পিরামিড চত্বর শুধু প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য নয়, যতদিন টিকে থাকবে ততদিনই পৃথিবীর মানুষের কাছে মহাবিস্ময় হয়ে থাকবে।

প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের কলোসিয়াম, পিসার হেলানো মন্দির, আর আগ্রার তাজমহল দেখা হয়েছে আমাদের। কিন্তু পিরামিডের সঙ্গে কোনটারই তুলনা হয় না। ধাতুর আবিষ্কার ও ব্যবহার মিশরীয়রা করলেও চাকার আবিষ্কার তখনও হয়নি। সে সময় আড়াই টন ওজনের একেকটি পাথরের টুকরোইবা কি করে দূর থেকে বয়ে আনা হয়েছিল আর অতো ওপরেই বা ওঠানো হয়েছিল কি করে সেও এক মহা বিস্ময়। চুয়ান্ন টন ওজনের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে খুফুর পিরামিডে, খুফুর ঘরের ছাদে। পাহাড় কেটে পাথর বয়ে এনে একটি একটি করে গেঁথে এ বিশাল কর্মযজ্ঞের পুরোটা সম্পন্ন হয়েছিল মানুষের শ্রমে। কোন মেশিনের সাহায্যে নয়। বিস্ময়! কেবলই বিস্ময়!

প্রায় একশ একর এলাকা জুড়ে এ সমাধি প্রান্তরের কাছেই ছিল রাজ প্রাসাদ, বাগানবাড়ি, শান বাধানো ঘাট ইত্যাদি। যা এখন কেবলই ধুলো। কিন্তু পাথরে নির্মিত পিরামিডগুলো ফারাওদের অমরতা লাভের আকাক্সক্ষার অক্ষয় কীর্তি হয়ে আজও টিকে আছে।

পৃথিবীর ১০টি বিখ্যাত জাদুঘর

world's 10 best museums 1aworld's 10 best museums 1b

অন্য রকম স্বাস্থ্যনিবাস

sanatoriumঅমর্ত্য গালিব চৌধুরী : সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে স্যানাটোরিয়াম বা স্বাস্থ্যনিবাসগুলো খুব জনপ্রিয় ছিল। এগুলোর বেশ কিছু মুখ থুবড়ে পড়লেও বেশির ভাগই এখনো স্বাস্থ্যনিবাসের কাজ চমত্কারভাবে পালন করছে। অনেকেই ছুটি কাটান এসব স্যানাটোরিয়ামে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে ছুটি কাটানো মানে এই নয় যে আপনি হেলে-দুলে ঘুরবেন কিংবা সাগরতীরে বসে রোদ গায়ে লাগাবেন। এখানকার অধিবাসীরা অলস বসে ছুটি কাটানোর চেয়ে এই সময়ে নিজের শরীরটা আরো পাকাপোক্ত করার ব্যাপারেই বেশি মনোযোগী।

এগুলো তাঁরা করেন নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্বাস্থ্যনিবাসে। এই স্বাস্থ্যনিবাসগুলো কিন্তু আধুনিক স্পা সেন্টারগুলোর মতোই জায়গা। এখানে আবার অত্যাধুনিক চিকিত্সার ব্যবস্থাও আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকার তথা কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বাস করত, সারা বছরের কাজের ধকল সামলানোর সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে স্বাস্থ্যনিবাসে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কিছুদিন অবকাশ যাপন করা। এতে দেহ-মন আরো চনমনে ও ফুরফুরে হয়ে উঠবে। এই ভেবেই এমন স্বাস্থ্যনিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে তা প্রায় ২৬ বছর হতে চলল। অনেক স্যানাটোরিয়াম এখনো চালু আছে, তবে বড় একটা অংশ বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হতে চলেছে। এগুলো শুধু রাশিয়ায়ই নয়, সারা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সব প্রজাতন্ত্রেই দেখা যায়। বিশেষ করে রাশিয়ার সোচি অঞ্চলে অনেক সুদৃশ্য স্বাস্থ্যনিবাস এখনো চালু আছে। এসব স্বাস্থ্যনিবাস পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন ডাক্তাররা। তাঁরাই ঠিক করেন দিনে কতটা ব্যায়াম করবে, কে কতটা দৌড়াবে বা কী ধরনের ওষুধ আর খাবার খাবে। এর সঙ্গে আছে ম্যাসাজ বা কর্দম স্নানের ব্যবস্থা। কিছু কিছু স্বাস্থ্যনিবাস আবার কয়েক কাঠি বেশি সরেস। কোথাও আছে হালকা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা, কোথাও আবার লবণের গুহায় গিয়ে বসে থাকা লাগে। কোথাও আলোর প্রভাবে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলা হয়। কয়েকটিতে তো স্রেফ খনিজ তেল দিয়ে গোসলের ব্যবস্থাও রাখা আছে। এই স্বাস্থ্যনিবাস থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘কুরোরটোলোজি’। এটা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের ওপর কী কী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সেসম্পর্কিত বিদ্যা। সোভিয়েত স্বাস্থ্যনিবাসে এগুলোর চর্চা হতো একসময়। অতিথিদের রুটিনও এই কুরোরটোলোজি অনুসারেই করা হতো।

কাজাখস্তানের স্তেপ বা ককেশাসের পাহাড় কিংবা রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের তীরে বালুকাবেলায় এমন স্বাস্থ্যনিবাসের উপস্থিতি সর্বত্র। বেছে বেছে এগুলো বানানো হয়েছে দারুণ সুন্দর সুন্দর জায়গায়, তার ওপর এদের অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক অঙ্গসজ্জায়ও চোখে পড়ে অত্যন্ত উঁচু মানের শিল্পের ছাপ। কোনো কোনোটি সুদৃশ্য বহুতল ভবন, কোনোটি  সায়েন্স ফিকশনের অত্যাধুনিক বিল্ডিংয়ের আদলে আবার কোনোটি স্রেফ চৌকো বিশাল ব্লকের আকারে বানানো। কিরগিজস্তানের অরোরা স্বাস্থ্যনিবাসটি দেখতে জাহাজের মতো। আবার ক্রিমিয়ার দ্রুজবা স্বাস্থ্যনিবাসের ভবনটা যেন অতিকায় এক ফ্লাইং সসার।

সোভিয়েত ইউনিয়নে এই স্বাস্থ্যনিবাস প্রথার শুরুটা হয় সেই ১৯২০ সালের দিকে। ১৯২২ সালের লেবার কোডে বার্ষিক দুই সপ্তাহ ছুটি কাটানোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৩৬ সালে জোসেফ স্তালিন সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের এই ছুটি কাটানোর অধিকার নিশ্চিত করেন। ১৯৩৯ সালে এসে দেখা গেল, গোটা দেশে স্যানাটোরিয়ামের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর ১৯৯০ সাল নাগাদ সোভিয়েত স্যানাটোরিয়ামগুলো বছরের যেকোনো সময়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষকে জায়গা দিতে পারত।

সোভিয়েত নীতিনির্ধারকদের কাছে ছুটিটা হৈ-হুল্লোড়, আমোদ-আহ্লাদে কাটানোটা বুর্জোয়া সংস্কৃতি ছিল। কাজেই সোভিয়েতরা ছুটির সময়টাতে নিজেদের শরীরটা আরো পোক্ত করার ব্যাপারেই বেশি মনোযোগ দিত। এই যেমন ১৯৬৬ সালে বিখ্যাত সোভিয়েত মডেল আন্তোনভ বলেছিলেন, ‘আমি বছরে একবারই ছুটি পাই, তাই ছুটির একটা দিনও অলস বসে নষ্ট করি না।

তা এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, পয়সা খরচ করে মানুষ কেন স্যানাটোরিয়ামে গিয়ে বসে থাকবে! মানুষের মনে তো ছুটি কাটানোর অন্য পরিকল্পনাও থাকতে পারে। সেখানেই হচ্ছে মজা। সোভিয়েত স্যানাটোরিয়ামে সরকারি কর্মীদের থাকা-খাওয়া ছিল নিখরচায়, সম্পূর্ণ ফ্রি। আর ছুটিও এক-দু দিনের না, পাক্কা ১৪ দিন পর্যন্ত এভাবে সরকারি খরচে অবকাশ কাটানো যেত। মানুষ যে ছুটির দিনগুলোর জন্য উন্মুখ হয়ে বসে থাকবে এতে আর আশ্চর্য কী! তবে এখন অবশ্য বেশির ভাগ স্বাস্থ্যনিবাসে সময় কাটাতে চাইলেই অর্থ খরচ করতে হবে আপনাকে। তবে কোথাও কোথাও আবার ব্যতিক্রমও আছে। যেমন বেলারুশে এখনো দুই সপ্তাহ করে বিনা মূল্যে ছুটি কাটানোর প্রথাটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধির এই অসাধারণ নিদর্শনগুলো দেখতে আসেন, ছুটি কাটিয়ে তরতাজা হয়ে ওঠেন। মারিয়াম ওমিদি নামের এক সাংবাদিক অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে আলোকচিত্রীদের এই সব স্বাস্থ্যনিবাসের ছবি তুলতে উত্সাহিত করেন। গত বছর এখনো টিকে আছে এমন স্যানাটোরিয়ামগুলোর মধ্যে ৪০টির অদ্ভুত চিকিত্সার ছবি তোলেন আলোকচিত্রীরা। ওই ছবিগুলো নিয়ে ‘হলিডেজ ইন সোভিয়েত স্যানাটোরিয়াম’ নামের একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।

মক্কা-মদিনায় হজ এজেন্সির কার্যক্রম যা দেখেছি

kaba tawaf 3মনজু আরা বেগম : চলতি বছর পবিত্র হজব্রত পালন শেষে মক্কা ও মদিনা শরিফ থেকে ফিরে আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা লেখার প্রয়োজন বোধ করছি এ জন্য যে, আগামী দিনে যারা হজে যাবেন, তারা এ থেকে কিছুটা হলেও পূর্ব ধারণা নিয়ে যেতে পারবেন এবং তাদের অনেকের জন্য পবিত্র হজ পালন সহজ হবে বলে বিশ্বাস করি।

আমাদের দেশে যেসব হজ এজেন্সি আছে তাদের অধিকাংশ নিজেদের দায়িত্ব সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে পালন করে না। অধিকাংশ এজেন্সি ধর্মপ্রাণ সহজ-সরল হজযাত্রীদের বিভিন্নভাবে ঠকিয়ে হজের নামে রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। সাধারণ মানুষ যারা প্রথমবার হজে যাবেন, তাদেরকে সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনের নিয়ম-কানুন জানানো বা যথাযথ গাইড করার পরিবর্তে মিথ্যা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ই এসব এজেন্সির মুখ্য চিন্তা বলে হজযাত্রীদের মনে হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে অন্তত একটিবারের জন্য হলেও জমিজমা বিক্রি করে পবিত্র হজ সম্পাদনের তথা আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করার নিয়ত করেন। এজেন্সিগুলো তাদের এলাকায় বা বিভিন্ন স্থানে দালাল নিয়োগ করে। শর্ত থাকে, যে দালাল দশজন হাজি সংগ্রহ করে দিতে পারবে সে বিনা খরচে মক্কা-মদিনা ঘুরে আসতে পারবে কিংবা পবিত্র হজ সম্পাদন করতে পারবে। গ্রামের অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, নিরীহ, সহজ-সরল এসব মানুষ দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে নিবন্ধন করেন। কিন্তু অধিকাংশ এজেন্সি সুষ্ঠুভাবে এ দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছানোর জন্য নিরীহ সহজ-সরল মানুষকে তাদের ব্যবসার অবলম্বন বানান। পবিত্র হজ সম্পাদনের যেসব নিয়ম-কানুন রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অনেকে যথাযথভাবে অবহিত না হয়ে এজেন্সিগুলো বা মোয়াল্লেমের ওপর ভরসা করেই হজে যান। কিন্তু অধিকাংশ এজেন্সি তাদের মক্কা বা মদিনাতে নিয়ে গিয়েই দায়িত্ব শেষ করে।

জীবনে প্রথমবার যারা মক্কা বা মদিনাতে যান, তারা অনেক কিছু জানেন না বা চেনেন না। এসব ব্যক্তির অবস্থা হয় অন্ধের হাতি দেখার মতো। এজেন্সিগুলো প্যাকেজ প্রোগ্রামের কথা বলে আগেই সেখানে থাকা-খাওয়ার টাকা বুঝে নেয়। কোনো হজযাত্রী পবিত্র মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালীন তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে, পবিত্র হারাম শরিফ থেকে কত দূরত্বে তাদের রাখা হবে, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় কেউ এসব বিষয়ে তেমনভাবে জানতে চান না।

ফলে সেখানে পৌঁছে দেখা যায় তাদের হারাম শরিফ থেকে দূরে কম ভাড়ায় পাহাড়ি এলাকায় বাড়ি ভাড়া কিংবা কম টাকায় হোটেল ভাড়া করে সেসব স্থানে থাকার জন্য রাখা হয়। সেখান থেকে হারাম শরিফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মতো অবস্থা থাকে না বা বলা যায়, দিনে পাঁচবার যাওয়া-আসা করা সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া পাহাড়ের উপর বাড়িতে বা হোটেলে অবস্থানের কারণে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের নিদারুণ কষ্ট সহ্য করে হারাম শরিফসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে ব্যাপারটা দাঁড়ায়, যে উদ্দেশ্য নিয়ে মক্কা বা মদিনাতে যাওয়া হয়, এজেন্সিগুলোর ব্যবসায়িক মনোভাবের কারণে সেই হজব্রত যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। খাওয়া-দাওয়ার কথা আর কী বলব, লঙ্গরখানার খাওয়াও মনে হয় এর চেয়ে ভালো! এজেন্সিগুলোর খেয়াল-খুশিমতো যা ইচ্ছা তাই দেয়া হয়। এসব খাবার হাজিরা খেতে পারেন কিনা সে খবর আর নেয়া হয় না। তারা দায়সারাভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে।

এজেন্সিগুলো মক্কা শরিফে যাওয়ার আগেই আল্লাহর ভয় দেখিয়ে এমন একটা ধারণা দিয়ে দেয় যে, হজ মানে কষ্ট, হজ মানে ধৈর্য। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য সবাই কষ্ট বা ধৈর্য ধরে তা পালন করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না বা কোনো বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না, তাদের অন্যায় কার্যক্রম দেখলেও রাগারাগি করা যাবে না- এটা তো হতে পারে না। এজেন্সিগুলো অধিকাংশ হাজির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। তারপরও তারা কেউ কিছু বলে না, নীরবে সহ্য করে। ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে তারা ব্যবসা পেতেছে। গ্রামের অধিকাংশ সহজ-সরল মানুষ আল্লাহর ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করেন না। সবকিছু মুখ বুজে মেনে নেন।

হজ এজেন্সিগুলোর এ অব্যবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। ফলে দিনের পর দিন তারা সহজ-সরল ধর্মভীরু মানুষদের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করে আসছে। যতটুকু জেনেছি- প্রতি বিশজন হজযাত্রীর জন্য একজন গাইড থাকার কথা- কিন্তু বাস্তবে দেখেছি একশজনের জন্যও একজন গাইড নেই। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যেসব মানুষ পবিত্র হজ পালনের জন্য আসেন, তাদের অনেকেই জানেন না কীভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে হয়, কোথায় কীভাবে ওঠাবসা করতে হয়। হজের নিয়মাবলী অর্থাৎ কোনটার পর কোনটা সম্পাদন করতে হবে তার কোনো সুষ্ঠু ধারণা তাদের দেয়া হয় না।

উল্লেখ্য, আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে মাগরিবের নামাজ আরাফাতে না পড়ে সূর্যাস্তের পর আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে মাগরিব ও এশা একসঙ্গে মুজদালিফায় গিয়ে পড়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও অনেক হাজিকে আরাফাতের ময়দানেই মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখেছি। নিয়ম-কানুন মেনে হজ সঠিকভাবে আদায় করার বিষয়টি মোয়াল্লেমের দেখার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের অনেকেই সে দায়িত্ব পালন করছেন না। পাশাপাশি আরেকটি হজ এজেন্সিকে দেখেছি, হজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের দায়িত্বাধীনে থাকা হাজিদের অতি যত্নসহকারে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে হজের প্রতিটি নিয়ম-কানুন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে সহায়তা করেছে। কখন কোন কাজটা করতে হবে তা তারা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে এবং যেসব জায়গায় যেতে হবে যানবাহনের ব্যবস্থাসহ সব ব্যবস্থাই তারা যথাসময়ে যথাযথভাবে করেছে। প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় মক্কা ও মদিনায় পাক-পবিত্র দর্শনীয় স্থানগুলো তারা সুন্দরভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছে। এ এজেন্সির অধীনে থাকা হাজিদের কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে এরকম এজেন্সির সংখ্যা হাতেগোনা। অধিকাংশ এজেন্সিই হাজিদের শুধু দায়সারাভাবে দেখানোর জন্য নিয়ে গেছে। ভালোভাবে কোনোকিছুই দেখায়নি। এসব বিষয়ে তাদের বলে বা এর প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। কারণ টাকা-পয়সা যা নেয়ার তা তো আগেই বুঝে নিয়েছে। ফলে তাদের দায়বদ্ধতাও শেষ!

এ পরিপ্রেক্ষিতে এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম তদারক করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে কষ্ট দিয়ে তারা তাদের আখের গোছাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজেন্সিগুলোর কার্যাদি তদারকির জন্য সরকারিভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এদের কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া এজেন্সিগুলো কর্তৃক থাকা-খাওয়াসহ কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে, সে সম্পর্কিত একটি চুক্তিপত্র উভয় পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত হওয়া প্রয়োজন। চুক্তিপত্রের ব্যত্যয় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন এদের দ্বারা নিগৃহীত হতে থাকবে।

বিভিন্ন দেশের বেশকিছু হাজির সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান, আফগানিস্তানসহ বেশকিছু দেশের হাজিদের কাছে শুনেছি তারা কীভাবে এসেছেন। অনেকে সরকারি উদ্যোগে আবার অনেকে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এসেছেন; কিন্তু তাদের অবস্থা আমাদের মতো হয়নি। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই- আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ বৃদ্ধ বয়সে হজ করতে যান, কিন্তু অন্যান্য দেশের বহু মানুষ অল্প বয়সে হজব্রত পালন করে থাকেন এবং এটাই হওয়া উচিত। দেহে শক্তি-সামর্থ্য থাকতে থাকতেই হজ পালন করা হলে তা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদন করা সহজ হয়।

জেদ্দা এয়ারপোর্টে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বসার জন্য ‘বাংলাদেশ প্লাজা’ রয়েছে। এ প্লাজায় হজযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেখানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাদের জন্য কোনো ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ প্লাজার পাশে রয়েছে ভারত, পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের প্লাজা। সেখানে বিশাল আকারের ফ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার কারণে অনেক সময় সারা রাত পর্যন্ত সেখানে হজযাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এসব দেখার কেউ আছে বলে আমার মনে হয়নি। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো কেন রয়েছে সে প্রশ্ন আমার মতো অনেকেরই।

আরেকটি বিষয়। পবিত্র মদিনা শরিফে মহিলা হাজিদের জন্য আলাদা মসজিদ, নবী করিম (সা.)-এর মাজার জিয়ারত করতে বা রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে, যা পবিত্র মক্কা শরিফে নেই। ফলে কাবাঘর তাওয়াফ, সাফা মারওয়া সাঁইসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করতে গিয়ে পুরুষ হাজিদের ভিড়ের কারণে মহিলা হাজিদের নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়। যত দিন যাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজির সংখ্যা ততই বাড়ছে। কাজেই মদিনা মনোয়ারার মতো পবিত্র মক্কা শরিফেও মহিলা হাজিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং আলাদাভাবে কাবাঘর তাওয়াফ করার সময় নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া এ সময় তাওয়াফের পুরো স্থানটি যাতে হাজিরা নামাজ আদায়ের নামে দখল করে তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও সৌদি সরকারের কাছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রস্তাব পেশ করতে পারে। উদ্যোগটা বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে গ্রহণ করা হলে তা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

হজ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থাপনা রোধ করে পবিত্র হজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনে হজযাত্রীদের সহায়তা করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

মনজু আরা বেগম : লেখক ও গবেষক, ৫ নভেম্বর, ২০১৭

নিজের শক্তিতেই ভরসা !

চীনের উইচ্যাটের আদলে আমাদের দেশে বাংলাচ্যাট বা বাংলাসংযোগ জাতীয় নাম দিয়ে বাংলা ভাষায় এমন অ্যাপ এবং পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় সাধনকারী ব্যবস্থা শীঘ্র চালু করা দরকার । এজন্য সরকার উদ্যোগ ও অর্থায়ন করে বেসরকারী খাতের উপর বিকাশের ভার তুলে দিতে পারে ।

lunjhou gansu province

২০১১-তে শুরু। এখন ২০১৭। ছয় বছরেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মাত করেছে দুনিয়াকে। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সুবিধা। যা এই অ্যাপসকে পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভাবনী অ্যাপস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অল্পদিনেই। বলছিলাম উইচাটের কথা। দুনিয়াজুড়ে যখন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল আর ইনস্টগ্রামের মাতামাতি তখন চীনে ভরসা একটাই। তা হচ্ছে উইচাট। নিজের শক্তিতে ভরসা চীনের নাগরিকদের। তোয়াক্কা নেই দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে? কান দিচ্ছে না কোনো কিছুতেই। তাইতো বিশাল এই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রমাণ করেছে তারা এগিয়ে নিতে চায় তাদের উদ্ভাবনী প্রতিভাকে। বলা হয় সব কিছুর চাইনিজ সংস্করণ আছে। তারা তাদের সৃষ্টিশীলতাকে শ্রদ্ধা করে। ভালোবাসে। শুধু ইলেক্টনিক্স সামগ্রী বা ইন্টেলিজেন্ট সার্চ ইঞ্জিন তা-ই নয় চাইনিজ বাজারে দেখেছি আপেল, কমলা, বেগুন, কাঁচামরিচ, আম, টমেটো, বড়ইসহ বেশকিছু খাদ্যদ্রব্যের চাইনিজ প্রজাতি। আর ডিজিটাল সব কিছুই চীনারা নিজস্ব প্রযুক্তিই ব্যবহার করে। প্রথমদিন থেকেই টের পেয়েছি উইচাট কতটা শক্তিশালী। ঢাকা থেকে লাওশিরা বলে দিয়েছে সবাইকে উইচাটের অ্যাকাউন্ট খুলতে। মোবাইলে উইচাটের অ্যাপস ইনস্টল করতে। চীন উইচাট ছাড়া অচল। অবশ্য ঢাকায় থেকেও টের পাচ্ছিলাম চাইনিজদের দেশপ্রেম। কারণ, ভ্রমণ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি বা কোনো তথ্য জানতে চেয়েছি লাওশিরা সব কিছু আদান-প্রদান করছেন উইচাটে। যাবতীয় কনফারমেশন ম্যাসেজ আসছে উইচাটেই। এ ছাড়া সবাই অন্ধ। চৌদ্দদিন কুনমিং অবস্থানকালে আর কিছু সঙ্গী হোক না হোক উইচাট ছিল আমাদের তথ্য ভা-ার। রাতে ঘুমাতে যাওয়া আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই উইচাট। নতুন ঘোষণা কি? আজকের অনুষ্ঠান কি? দিনের ছবি শেয়ার করা। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা। গাড়ি ছাড়ার সময় সবই দেয়া থাকতো উইচাটে। এমনকি আমাদের গাইড আমরা যেন হারিয়ে না যাই সেজন্য সবাইকে তার উইচাট নাম্বার শেয়ার করতেন। ঘোষণা দিয়ে দিতেন যখনই কোথাও আটকে যাবেন তখন উইচাটে কল করবেন। আমাদের যাদের কাছে উইচাট নাম্বার ছিল না অর্থাৎ পৃথক ফোন নিতে পারিনি তারাও ডায়েরিতে লিখে রাখতাম উইচাট নাম্বার। কারণ, বিপদে পড়লে ভরসা একটাই। উইচাটে নাম্বার কারো সাহায্য নিয়ে রক্ষা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকায় যার উইচাট নাম্বারে অ্যাকাউন্ট আছে তাকে খুব সহজেই ফ্রি কল করা যেত। মুহূর্তেই আদান-প্রদান করা যত ছবি কিংবা ভিডিও। কিন্তু চীনে অবস্থান আর চীন থেকে ফেরার পর পর্যন্ত যে ধরনের তথ্য পাচ্ছি উইচাট নিয়ে তাতে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় বা প্রযুক্তির সংযোজনে উইচাট হয়ে উঠেছে তাদের চালিকা শক্তি। উইচাটে কি নেই এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

উইচাটের শুরু অল্পদিন। কিন্তু বছর যাচ্ছে আর নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে এতে। পুরো চীন যেন এখন উইচাটে। ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, পড়াশুনা, শপিং, গাড়িভাড়া, যাবতীয় যোগাযোগ তথ্য আদান-প্রদান সবই হচ্ছে উইচাটে। উইচাটের সুবিধা অনেক। বিস্তারিত এক লেখায় বলে শেষ করা যাবে না। তবে আমাদের দেশে ফেইসবুক যেভাবে মহামারির মতো অন্দরমহলে প্রবেশ করেছে। চীনে উইচাটও তাই। বরং চীন উইচাটকে ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে তাদের চলার আলোকবর্তিকার জায়গায়। উইচাট নেইতো চীনে আপনি অচল। বাংলাদেশের বেশ ক’জন ছাত্র বর্তমানে পড়াশুনা করছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদেরই একজন মিশকাত শরীফ। এক মাস হলো ইউনানে আছে। সে জানায় তাদের ডরমেটরিতে প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে ১৪টি ওয়াশিং মেশিন। সাতটি-সাতটি করে দু’পাশে এই ১৪টি ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু এর টাকা পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে উইচাটের মাধ্যমে। থ্রি আরএমবি করে পরিশোধ করলেই হলো। তারপর মেশিনে একবার যতগুলো কাপড় দেয়া সম্ভব তা দিয়ে আপনি চলে আসুন রুমে। কাপড় ধোয়া আর শুকানোর পর উইচাট আপনার মোবাইল ম্যাসেজ পাঠাবেÑ কাপড় প্রস্তুত। সাইকেলের গল্পতো আপনাদের বলাই হয়েছে। বারকোড স্ক্যান করে যে কোনো স্থান থেকে আপনি সাইকেল নিয়ে চলে যেতে পারেন শহরের যে কোনো স্থানে। পুরো চীনে প্রায় ১ কোটি সাইকেল এভাবেই চলছে উইচাটের মাধ্যমে। উইচাটে আপনি যে কোনো স্থান থেকে ক্যাশ ট্রান্সফার করতে পারেন। এটা ১ আরএমবি থেকে একলাখ আরএমটি পর্যন্ত। আমাদের সহযাত্রী টিমমেট টিপু ভাই আরএমবি সঙ্কটে পড়লে ইউনানের বাইরে অন্য এক প্রদেশে বাসরত এক বন্ধুর কাছ থেকে উইচাটের মাধ্যমে আরএমবি আনে। যা করতে ডলার ভাঙানোর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছন্দ। আমরা সাধারণত ফেসবুককে ব্যবহার করি সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে। কিন্তু ইউচাট সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষেত্রে ব্যবহার করে চীনারা। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে ভয়েস ম্যাসেজ, ম্যাসেজ, ভিডিও কল, গ্রুপ চ্যাট, ছবি-ভিডিও শেয়ার, মোমেন্ট বা স্মরণীয় মুহূর্ত শেয়ার করা যায়। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে লোকেশান সেট করা যায় উইচাটে। আপনি কোথায় আছেন তা লোকেশন সেট করে দিলে আপনার বন্ধু সহজেই আপনাকে খুঁজে বের করতে পারবে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে উইচাট ব্যাংক কার্ডের ভূমিকায় ব্যবহৃত হচ্ছে চীনে। আপনি সব ধরনের টিকিট তা ট্রেন, বাস, বিমান যাই হোক তার টিকিট কাটতে পারবেন এর মাধ্যমে। সব ধরনের বিল পরিশোধ করবেন তাও উইচাটের মাধ্যমে। সিনেমা দেখবেন তা থ্রিডি বা ফোর ডি যাই হোক না কেন সবই কাটতে পারবেন উইচাটে। আপনি ডাক্তার দেখাতে চান তাও সম্ভব উইচাটেই। আপনি আপনার রোগ বুঝে সেই ডাক্তারের সিরিয়াল নিন। আপনার সমস্যা ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাঠিয়ে দিন। সিরিয়াল পেয়ে যাবেন। ডাক্তার আগ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে আপনার জন্য।

মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক শুরু করেছিলেন ২০০৩ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল ফেসম্যাস। আর প্রধান কার্যক্ষেত্র ছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রতি মুহূর্তে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এটাকে ডিজিটাল জাতিসংঘ বললে ভুল হবে না। কিন্তু এই ফেসবুক এখনো প্রবেশ করতে পারেনি চীনে। ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সহধর্মিণী চীনের। জাকারবার্গ শিখছেন চীনের ভাষাও। চীন সফর করেছেন বেশ ক’বার। দেখা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে। কিছুতেই মন গলেনি চীনা কর্তৃপক্ষের। অনুমতি মিলেনি। চীনের বাইরে যারা বিদেশি তারা ভিপিএন বা সুপার ভিপিএন-এর মাধ্যমে ফেসবুক দেখার সুযোগ পান। তবে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। চীনারা বিশ্বাস করে তাদের নিজস্বতায়। তাই অন্য কোনো মাধ্যম তাদের বাছাই করতে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। দেড়শ’ কোটি মানুষের এই দেশ এক সময় নিজস্ব গ-িতেই আটকে ছিল। বেড়ে ওঠছিল কেবলই তাদের সংস্কৃতি নিয়ে। তাদের শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু এখন বদলাচ্ছে। চীনেও আসছে বিদেশি বিনিয়োগ। তবে সবই চীনের নিজস্ব আদলে। কাজেই দুনিয়া যখন ফেসবুক, গুগল, জি-মেইল, ইনস্টাগ্রাম আর টুইটার ছাড়া অচল। চীন তখন তার নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে মশগুল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি উইচাট ব্যবহার অনেক বেশি সহজ। উইচাট দিয়ে সবই করা যায় মুহূর্তেই। আমাদের সঙ্গে যে সব গাইডরা থাকত যে কোনো তথ্য জানতে চাইলে শরণাপন্ন হতো উইচাটের। এ যেন আলাদীনের চেরাগের মতোই। ঘষা দিলেই প্রদীপ থেকে এক দৈত্য এসে সব মুশকিল আসান করে দেয়। চীনে উইচাটের বাইরে-আরো দুইটি সোশ্যাল সাইটের নাম শোনা যায় একটি বাইদু আর অন্যটি ওয়েইবো। ওয়েইবো হচ্ছে টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট আর বাইদো হচ্ছে জনপ্রিয় আলোচনা ও বিতর্কের ফোরাম। তবে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থায় চীন সরকার। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য কঠোরভাবে নজরদারি করে সরকারি কমিশন। আর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনীতিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাকে করা হয় কঠোর নজরদারি। দেশের বাইরে থেকেও এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব নয়। কারণ ইন্টেলিজেন্ট সার্চ অপটিমাইজেশন দিয়ে এসব তথ্য নজরদারি করে সরকার। সবার আগে দেশের স্বার্থ এই বিবেচনাতেই এই নজরদারি। ২০১০ সালে কোয়াংচুতে একটি রিসার্স প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয় উইচাট। এর মূল ভার্সন ছিল ‘উইচিন’। যার যৌথ আবিষ্কারক সিয়াওলং ছাং ও মা হুইয়েতাং। অফিসিয়ালি ইউচাটের যাত্রা ২০১১ সালে। মাত্র ছয় বছরে উইচাট পৌঁছে গেছে সারা পৃথিবীর শীর্ষ সোশ্যাল মিডিয়ার একটিতে। যাত্রার প্রথম বছর ১০০ মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হয়-এর সঙ্গে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৮৮৯ মিলিয়ন মানুষ উইচাটে যুক্ত থাকে যার মধ্যে ৯০ ভাগই চীনা নাগরিক। ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপের তুলনায় এটি ব্যবহারকারীর দিকে পিছিয়ে থাকলেও খুব দ্রুতই গতিশীল উইচাট। প্রতিনিয়ত এতে নতুন নতুন অ্যাপস বা অপশন যুক্ত হওয়ায় এতে অনেক বেশি ব্যবহারকারী সংযুক্ত হচ্ছে।

কাজল ঘোষ, চীন থেকে ফিরে | ২১ অক্টোবর ২০১৭