আর্কাইভ

Archive for the ‘বিনোদন’ Category

ভালোবাসার শহরে…

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

i love wallশান্তা তাওহিদা, প্যারিস থেকে : শহরজুড়ে যেন সারা বছরই প্রেমের মৌসুম চলে। সিন নদীর পার ধরে হেঁটে হেঁটে দেখার প্যারিস এ এক অন্য প্যারিস। সকালে সিন নদীর পানিতে সূর্যের স্পটিক হাসি আর রাতে আলো ঝলকানো হাজার হাজার তারা। এ রকম মুহূর্তটা অবশ্যই দাবি রাখে পরস্পরের হাতে হাত রেখে অতল চোখে হারিয়ে যাওয়ার। আমার যদিও সে সৌভাগ্য হয়নি। প্রায় সাত হাজার নয়শ কিলোমিটার দূরে ছিল আর একটা হাত। ভালোবাসার শহরে সে এক বেরসিক আমি!

দিন আর রাতের প্যারিসের মাঝে বিস্তর ফারাক। শুনে তা বুঝা যাবে না, এমনকি চোখে দেখেও না। এ কেবল অনুভবের। তবে প্যারিস শহর ঘুরে বেড়ানোটা ভোরে থেকে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে দুই রূপই দেখা যাবে। সিন নদীর কোল ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে শুরু হয় আমার প্যারিস সফর। পায়ে হাঁটার পথ থামে পন্ট দে আরটস সেতুতে। এটি পারিসের প্রথম ধাতব সেতু। নামকরণ করা হয়েছিল প্রথম ফরাস সম্রাটের নামানুসারে। এর এক পাশে ইনস্টিটিউট অফ ফ্রান্স আর অন্য পাশে ল্যুভর প্যালেসের কেন্দ্রীয় স্থাপনা। এ সেতুর আরেক নাম ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু। ভালোবাসাকে তালা-চাবি দিয়ে বন্দি করা যায় কিনা তা কেবল এখানকার প্রেমীরাই বলতে পারবেন। তালায় দুজনের নাম লিখে এ সেতুতে দুজনে মিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবিটা ছুড়ে ফেলে দেয় তারা ভালোবাসা নদীর জলে। কথিত আছে, এতে ভালোবাসা অমরতা পায়। সেতুর নিচের প্রবহমান ভালোবাসা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে চাবি খুঁজে নিয়ে সে তালা খুলে এমন সাধ্য কী আর কারো আছে বলুন? হতে পারে এটা ছেলেমানুষী। একদিন না হয় ভালোবেসে ছেলেমানুষ হলেন। ক্ষতি কি তাতে! বিষয়টা কিছুটা বুকের ঢিপঢিপানি নিয়ে ছোটবেলায় দেয়ালে যোগ চিহ্ন দিয়ে নামের আদ্যক্ষর লিখে রাখার মতো। এভাবেই হয়ত অবিনশ্বরতা পায় ভালোবাসা। মজার খবর হলো বেশ কিছু দিন আগে ভালোবাসার তালার ভারে সেতুটি প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা হয়েছিল। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই কিছু ভালোবাসার ঝালর কেটে কমিয়ে দিয়ে ছিলেন। সেতুতে টানিয়ে দিয়েছেন সতর্কবাণীও। তাতে কি আর বুঝে পাগলপ্রেমি মন! ভালোবাসার শহরে ভালোবাসার তালা রোজই ঝুলছে। কার সাধ্য বাধা দেয়।

পন্ট দে আরটস সেতু নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত ফরাসি সিনেমা ‘লে পন্ট দে আরটস’। ফরাসি এক তরুণ তরুণীর করুণ প্রেম কাহিনি নিয়ে এ সিনেমা। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে অভিমানি প্রেমিকা এ সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ভালোবাসা নদীতে আত্মহত্যা করে। সইতে না পেরে প্রেমিকও একি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয় প্রেমিকার সঙ্গে মিলনের আশায়। কেবল এই সেতু নয়, ভালোবাসা নদীর ওপর এরকম প্রায় ১১টি ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু রয়েছে পুরো পারিসে । যারা প্যারিসে আসেন তাদের কাছে মন্টেমারে নামটা আগে থেকেই শোনা থাকতে পারে। জায়গাটা পারিসের উত্তর পাশে সিন নদীর কোল ঘেঁষে। পাবলো পিকাসো, ভিনসেন্ট ভ্যানগগ, ক্লোদ মনে নিভৃতে ছবি আঁকার জন্য এ পাশটা বেছে নিয়েছিলেন। ফরাসি ভাসায় এ জায়গাটার নাম মো মার্তে। পাহাড়ের উপরে রয়েছে এক মনোরম ব্যাসিলিকা। দুই নম্বর মেট্রো ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। এখানে রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য আরো একটি আকর্ষণ। ফরাসি ভাষায় জায়গাটার নাম ‘লে মর ডেস যে তাইমে’। বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘আমি তোমাক ভালোবাসি দেয়াল’। মন্টেমারে রিকটুশ বাগানে এ দেয়াল।

প্রায় চল্লিশ স্কয়ার মিটার দেয়ালের পুরোটা জুড়ে ৫০টি ভাষায় ৩১১ বার লেখা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। প্রেমিক-প্রেমিকারা নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাওয়ার এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এখানে। যে আগে খুঁজে পায় ভালোবাসার বার্তা তার ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাবার আনন্দে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার মানুষকে। বাংলায় ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ লেখাটা দেয়ালের মাঝখানের অংশে রয়েছে দেখলাম। বিরহ ছাড়া ভালোবাসা অর্থহীন বলেই হয়ত কিছু লাল ভঙ্গুর হৃদয় ছড়িয়ে দেয়া রয়েছে পুরো দেয়ালের ৬১২টি টাইলস জুড়ে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল ভঙ্গুর হৃদয় দেখে। মনে মনে প্রার্থনা করলাম পৃথিবীর সকল যুগলের জন্য। অমর হোক তাদের বন্ধন। ভঙ্গুর হৃদয়ের যাতনা তাদের যেন কোনোদিন স্পর্শ না করে। আমার ধারণা ছিল কেবল তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসার দেয়ালের খুঁজে এখানে আসে। ভুল করলাম আবারও। এখানে আসেন প্রেমিক জুগল। আর প্রেমের যে কোনো বয়স নেই তা এখানে না আসলে আমার হয়ত কখন বুঝা হতো না। হাতে হাত রেখে ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক দিয়ে বহু প্রবীণ প্রেমিকাকে প্রেমিকের চোখে হারাতে দেখেছি সেখানে। এ যেন প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পড়া।

প্যারিসের যেবার ভালোবাসার দেয়াল দেখতে গিয়েছিলাম সেটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক দিনের সফর। টের পাচ্ছেন তো একাকি আমার দেবদাস অবস্থা! আমি ছাড়া প্যারিস শহরটা বড় বেশিই রোমান্টিক। হা হা হা- তবে যে আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসে তার সাথে দেখা করার গল্পটা বরং আমার কাছে বেশি রোমান্টিক। দ্য টাউয়ার অব লাভ-ভালোবাসার আইফেল টাউয়ার। ৩২৪ মিটার উঁচু লোহার তৈরি এ টাউয়ারে মানুষ আসে প্রেমকে অমর করতে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। উল্টো আমিই প্রেমে পড়ে গেলাম তার। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেম যাকে বলে। প্রথম তার সাথে যখন দেখা হয়, তখন সে কুয়াসার চাদরে ঢাকা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে তার সামনে মন্ত্রমুগ্ধ আমি। দ্বিতীয় বার যখন দেখা হলো তখন তিনি আকাশের নীলে রোদেলা আমার ফাগুন পুরুষ। আর তৃতীয় বার রাতের আকাশে জ্বলজ্বলে আমার ভিনদেশি তারা। তার বিশালতার কাছে নিজেকে বড়ই সামান্য মনে হয়েছে।

সিন নদী পেরিয়ে যতই তার কাছে গিয়েছি ততই বদলে যেতে শুরু করে অনুভূতিটা। ‘আমি দূর হতে কেবল তোমায় ভালোবেসেছি’ কিছুটা এরকম অনুভূতি। দূর থেকেই তাকে বড় আকর্ষণীয় লাগছিল। এ যেন চিরায়ত মানব চরিত্র! কাছে পেলে সোনার মোহর হয়ে যায় মাটির মোহর! ‘কাছে গেলে যদি ভালোবাসা কমে যায় তবে দুরত্বই ভালো-এই বলে সেদিন সন্ধ্যায় তার সাথে হলো ছাড়াছাড়ি।

পরের বার প্যারিস গিয়ে তার অন্য প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে আইফেল টাউয়ারের চূড়ায় উঠার সৌভাগ্য হল। চূড়া থেকে দেখলাম ভালোবাসার অন্য আরেক প্যারিসকে। পুরো প্যারিসটা ৩৬০ ডিগ্রিতে চোখে বন্দি করতে সময় লাগল আর ঘণ্টাখানেক। আইফেল এর চূড়ায় যুগল স্যাম্পেনের হাতে চুম্বনরত তরুণ-তরুণীকে দেখে মনে হয়েছে ‘প্রেম পবিত্র-প্রেম মধুর’! চূড়া থেকে দেখে মনে হলো পৃথিবী আসলেই গোল। কমলা লেবুর মতো প্যারিস শহরটা মিলিয়ে গেছে দিগন্তে। তবে মিলিয়ে যায়নি ভালোবাসা। কেবল সূর্যটা টুপ করে ডুব দিয়েছে সিন নদীতে আর সন্ধ্যা নেমেছে শন্ জিলেজের পথে পথে ভালোবাসার শহরের ভালোবাসারা এভাবেই বেঁচে থাকুক অনন্তকাল!

বিশ্বব্যাপী ইহুদী একাধিপত্যের একটি পরিসংখ্যান

অগাষ্ট 15, 2017 মন্তব্য দিন

greater israel project mapপৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত।

একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র – ইসরাইল।

ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।

এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে।

ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২% অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী!কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।

প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন।

বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে।

এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী, যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় আর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি – র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি।

এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকান রা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। আর আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমনঃ ওআইসি-র ৫৭টি দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাঁচ হাজারের মত, আর এক আমেরিকাতেই বিশ্ববিদ্যালয় আছে প্রায় ছয় হাজার এর কাছাকাছি।

ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও যেখানে The World University Ranking সাইট এর প্রথম ১০০টা বিশ্ববিদ্যালয়েরর মধ্যে স্থান পায়নি, সেখানে প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আমেরিকার ৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয়। (প্রথম দশটার মধ্যে সাতটা) যেখানে প্রথম ২০০ র মধ্যে ওআইসি-ভুক্ত ৫৭ টি মুসলিম দেশের একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তুরস্কের Bogazici University (১৯৯ তম)সেখানে আমেরিকার বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ২০% স্টুডেন্টস ইহুদী সম্প্রদায় থেকে আসা।

আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ইহুদী অর্থাৎ নোবেল বিজয়ী প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী।

আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী।

আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২ টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সাথে আইভি লীগ বলা হয়।

২০০৯ সালের ১টি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক’জন ভিসি-ই ইহুদী।

হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী। এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারে না, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে পারে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতখানি- আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – AIPAC – America Israel Public Affairs Committee. ::

আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন ইহুদী কমিউনিটির মানুষ।

এই কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের জন্যও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন।

মিডিয়া জগতে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন;

CNN, AOL, HBO, Cartoon Network, New line cinema, Warner Bross, Sports illustrated, People – Gerald Levin – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

ABC, Disney Channel, ESPN, Touchstone pictures – Michael Eisner – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

Fox Network, National Geographic, 20th century Fox Rupert Murdoch – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

Top 4 famous Newspapers of USA & their editors
New York Times – Arthur Sulzberger
New York Post – Rupert Murdoch
Washington Post – K.M. Graham
Wall street journal – Robert Thomson
সব কয়টি খবরের কাগজ ই ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।

আপনার প্রিয় মিডিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা Mark Zuckerberg পর্যন্ত একজন ইহুদী।

ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার আগ্রাসনকে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বৈধ হিসেবে চিত্রায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফক্স নিউজ। বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া মুগলরুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণাধীন এরকম প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জুইশদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের ১৮৫ টি পত্রপত্রিকা ও অসংখ্য টিভি চ্যানেল। বলা হয় পৃথিবীর মোট তথ্য প্রবাহের ৬০% ই কোন ন কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রুপার্ট মারডকের The News Corporation.

টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এবিসি, স্পোর্টস চ্যানেল, ইএসপিএন, ইতিহাস বিষয়ক হিস্টৃ চ্যানেলসহ আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

আমেরিকায় দৈনিক পত্রিকা বিক্রি হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৮ মিলিয়ন কপি। জাতীয় ও স্থানীয় মিলিয়ে দেড় হাজার পত্রিকা সেখানে প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ পত্রিকা যে নিউজ সার্ভিসের সাহায্য নেয় তার নাম দি এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি (AP)। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন এর ইহুদি ম্যানেজিং এডিটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিলভারম্যান। তিনি প্রতিদিনের খবর কী যাবে, না-যাবে তা ঠিক করেন।

আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস্ , ওয়াল ষ্টৃট জার্ণাল এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে।

ওয়াটারগেট কেলেংকারীর জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ওয়াশিংটন পোষ্ট। এর বর্তমান সিইও ডোনাল্ড গ্রেহাম ইহুদি মালিকানার তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে কাজ করছেন। উগ্রবাদী ইহুদী হিসেবে তিনি পরিচিত। ওয়াশিংটন পোষ্ট আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্মিদের জন্যই করে ১১টি পত্রিকা। এই গ্রুপের আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। টাইম এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম নিউজউইক।

আমেরিকার রাজনৈতিক জগতে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস্-এর প্রকাশক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা হয়ে আসছেন। বর্তমান প্রকাশক ও চেয়ারম্যান আর্থার সালজবার্গার প্রসিডেন্ট ও সিইও রাসেল টি লুইস এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাইকেল গোলডেন সবাই ইহুদি।

বিশ্বের অর্থনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াল ষ্টৃট জার্নাল। আঠার লাখেরও বেশী কপি চলা এই পত্রিকার ইহুদি প্রকাশক ও চেয়ারম্যান পিটার আর কান তেত্রিশটিরও বেশী পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন।

এবার হাতিরঝিলে চালু হলো ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’

ডিসেম্বর 18, 2016 মন্তব্য দিন

water-taxi-in-hatirjheel-1water-taxi-in-hatirjheel-2water-taxi-in-hatirjheel

‘সুলতান সুলেমান’ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন

ডিসেম্বর 12, 2016 মন্তব্য দিন

অবিলম্বে ‘সুলতান সুলেমান’র সম্প্রচার বন্ধের দাবি

দেশীয় সংস্কৃতিতে ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

sultan-suleman-bangla-dubbingশনিবার রাত দশটা। দীপ্ত টিভির পর্দায় শুরু হল বাংলায় ডাবিং করা তুর্কি সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’। শাহজাদা মুস্তফার জন্য হেরেমখানায় আনা হয়েছে এক দাসীকে। সাজিয়েগুছিয়ে তাকে রাত্রিযাপনের জন্য পাঠানো হয় শাহজাদার কাছে।

বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক ছাড়াই তারা একসঙ্গে রাত্রিযাপন করেন। সকালের দৃশ্যে দেখানো হয় সেই দাসী এবং শাহজাদা বিছানায় শুয়ে একই চাদরের নিচে অন্তরঙ্গ আলাপ করছেন। শাহজাদার গভবর্তী স্ত্রী কেঁদে কেঁদে যখন তার শাশুড়িকে দাসীর সঙ্গে এভাবে রাত্রিযাপন নিয়ে অনুযোগ করেন তখন শাশুড়ি উল্টো তার বউমাকে ভর্ৎসনা করেন।

আর এক দৃশ্যে দেখা যায়, সুলতান সুলেমানের এক স্ত্রী সুলতানা তার খাসবাঁদীকে হত্যার চেষ্টা করছেন। কারণ সুলেমান এখন এই খাসবাঁদীর প্রেমে পাগল এবং তার সঙ্গেই বেশি রাত্রিযাপন করেন। আর এটা সহ্য করতে পারছেন না সুলতানা।

এছাড়া সিরিয়ালটির শুরুর দিকে দেখানো হয়েছে, সুলতান সুলেমানের মাও এভাবে ছেলের ঘরে দাসীদের পাঠাতেন। তিনি নিজে এবং তার পিতাও বিয়ের আগে বহু দাসীকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করেন।

এভাবে প্রায় প্রতিদিনই হেরেম থেকে নারীদের (যারা দাসী নামে পরিচিত) শাহজাদা ও সুলতানের মনোরঞ্জনে রাত্রিযাপনের জন্য পাঠানো হয়। এই ধরনের নেতিবাচক কুরুচিকর কাহিনীতে ভরপুর দৃশ্যই দেখানো হচ্ছে দীপ্ত টিভির নিয়মিত সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’এ।

sultan-suleiman-episode-67তাই ইসলাম ধর্ম ও দেশের সংস্কৃতিবিরোধী এই সিরিয়াল বন্ধের দাবি উঠেছে দেশের বিশিষ্টজন, ইতিহাসবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন দর্শকদের মহল থেকে। তারা বলছেন, দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই সিরিয়াল। কেউ কেউ মনে করেন, এটিও দেশীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র।

শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে একজন মুসলমান শাসকের জীবনের এই ধরনের চরিত্র উপস্থাপন করা সিরিয়াল সম্প্র্রচারের যৌক্তিকতা নিয়েও। এছাড়া এর সত্যতা নিয়ে তো প্রশ্ন রয়েছেই।

দর্শকদের অনেকে অভিযোগ করেন, ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের অন্যতম দিকপাল সুলতান সুলেমানকে নিয়ে মেরাল ওকেয় ও ইয়িল্মায শাহিন রচিত সুলতান সুলেমান নির্মাণের সময় বিনোদন উপস্থাপন করতে গিয়ে শাসক সুলতান সুলেমানকে অনেকটাই আড়ালে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

বিপরীতে হেরেমের কূটচাল, যৌনতা, দাসদাসীদের দৈনন্দিন জীবনাচার এবং সুলতানাদের স্নায়ুযুদ্ধ দিয়ে বিনোদন জোগান দেয়ার স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে হেরেমের নানা বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে খোলামেলাভাবে।

সিরিজজুড়ে অন্দরমহলের প্রাধান্যের কারণে একজন সুশাসক সুলতানকে আড়াল করে রমণীকাতর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আর এসব দেখে শুরুর দিকে দর্শকের অনেকে এক ধরনের বিনোদন অনুভব করলেও এখন তা ক্ষোভঅসন্তোষে রূপ নিয়েছে।

বেসরকারি চ্যানেল দীপ্ত টিভিতে গত বছর নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই সিরিয়ালটি এবং পরে আরও কিছু ডাবিং করা সিরিয়াল দেশের অভিনয় শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকৌশলীদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের শিল্পী কলাকৌশলীদের যে আন্দোলন গণজাগরণ তৈরি করেছে তার পেছনে এসব সিরিয়াল অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া জানা গেছে, সিরিয়ালটি নিয়ে খোদ তুরস্কে নানা অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছে।

sultan-suleman-still-1সুলতান সুলেমান প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘তুর্কি শাসনের অন্তরালের জগৎ নৈতিকতার দিক থেকে নানাভাবে এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ। সেগুলোর প্রতিফলন সুলতান সুলেমান নামের এই সিরিয়ালে রয়েছে, আমি দেখেছি। কিন্তু এটা কোনো রুচিশীলতার পরিচয় বহন করে না। আমার কাছে অন্তত ভালো লাগেনি। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অনেক কিছুকেই বাণিজ্যিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে।’

বিশিষ্ট নাট্যজন ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ইসলামের নাম দিয়ে অশ্লীলতা প্রদর্শন করা হচ্ছে। মা আর মেয়ে একসঙ্গে হেরেমখানায় প্রবেশ করছে। এটা কি আমাদের সংস্কৃতি? এটা কোনোভাবেই আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। এসবের খুব বাজে প্রভাব পড়ছে সমাজে। ডিভোর্সের পরিমাণ বেড়ে গেছে। কিশোরতরুণরা এগুলো দেখে বিপথগামী হচ্ছে। অবিলম্বে সুলতান সুলেমানসহ ডাবিং করা সব সিরিয়ালের সম্প্র্রচার বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

নাট্যজন আতাউর রহমান বলেন, ‘সুলতান সুলেমানে আমাদের সংস্কৃতি শেকড়ের কিছু নেই। তবে সব ডাবিং সিরিয়াল বন্ধ করার কথা আমি বলছি না। ডাবিং করা ভালো, কিছুও তো আমরা দেখেছি। মনে রাখতে হবে আমাদের ভালো নাটক দিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমাদের নাটকের মান পড়েছে। সেখানেই ভালো করার ব্যাপারে আমাদের জোর দেয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর যুগান্তরকে বলেন, আমি একটি কথাই বলব, দেশে মানসম্মত প্রযোজনা থাকলে এই ধরনের ডাবিং করা সিরিয়াল দেখা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের কোয়ালিটি প্রডাকশনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এদিকে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ সুলতান সুলেমানের মতো সিরিয়াল কিভাবে সম্প্রচারের অনুমতি পেল সে ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানার চেষ্টা করলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে কেউ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

sultan-suleiman-meriem-uzeril-hurremতবে সিরিয়ালটি প্রচারে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার দিকনির্দেশনা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪এর তৃতীয় অধ্যায়ের সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার অধ্যায়ের ৩..১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, দেশীয় সংস্কৃতি, ঐহিত্য ও ভাবধারার প্রতিফলন এবং এর সঙ্গে জনসাধারণের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক ধারাকে দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে সংস্কৃতি বিকাশের প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

আরেক জায়গায় ৩..৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দেশীবিদেশী ছবি অনুষ্ঠানে অশ্লীল দৃশ্য, হিংসাত্মক, সন্ত্রাসমূলক এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। ৫..১২ এর অনুচ্ছেদে বলা হয়, অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন দেশের প্রচলিত আইন, রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কিন্তু সুলতান সুলেমানের ক্ষেত্রে এসবের অনেক কিছুই মানা হচ্ছে না

ধানমণ্ডি এলাকার বাসিন্দা সাবরিনা মিশু নামে একজন গৃহিণী যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরুতে সুলতান সুলেমান দেখতাম। কিন্তু পরে যখন দেখলাম এখানে নারীকে ভোগ্য পণ্যের মতো হেরেমের মধ্য দিয়ে দেখানো হচ্ছে তখন দেখা বন্ধ করে দিই। আরও ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে এই সিরিয়ালে একাধিক স্ত্রী রাখার বিষয়টিকে উৎসাহ দিয়ে দেখানো হয়েছে।’

এদিকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে দীপ্ত টিভির সিইও কাজী উরফি আহমদ বলেন, ‘আমরা দর্শকদের পছন্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই সিরিয়ালটি প্রচার করছি এবং মানুষ স্টার জলসা বা ভারতীয় অন্যান্য চ্যানেল না দেখে এটি দেখছে। তবে আমি স্বীকার করছি, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে কিছু কিছু বিষয় যায় না।’

তিনি দাবি করেন, বাস্তবতা হচ্ছে, ইতিহাসে এমন তথ্যই রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাটকীয়তা আনতে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা এসেছে, এটা ঠিক। তবে একটি সিরিয়াল সংস্কৃতিসহ সব ধ্বংস করছে আমি এমনটা মানতে নারাজ।’

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

‘সুলতান সুলেমান’ নিয়ে গোলাম মাওলা রনি’র ভাবোচ্ছ্বাস !

ডিসেম্বর 12, 2016 মন্তব্য দিন

sultan-suleman-still-4জামাতশিবিরের অর্থায়নে প্রকাশিত দৈনিক নয়াদিগন্তে গোলাম মাওলারা সুলতান সুলেমান টিভি সিরিয়ালে চৌম্বক শক্তি আবিষ্কার করেছেন তার ভাষায় – “নাটকটিতে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক উপাখ্যান, নীতিনৈতিকতার শিক্ষা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক আদবকায়দার প্রশংসনীয় ও শিক্ষণীয় বিষয়াদি। রয়েছে নির্মল বিনোদন, ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, কূটনীতি এবং জীবনধর্মী আরো অনেক বিষয়, যা দর্শকদের চৌম্বক শক্তির মতো টানতে থাকে। এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী মেগাসিরিয়াল থেকে আমাদের যেমন অনেক কিছু শেখার রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের টিভি মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত শিক্ষার উপকরণ।সুলতান সুলেমান নিয়ে মাওলা বাবার এহেন মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায় তার রুচি জ্ঞানের বহর ! আজ দৈনিক যুগান্তর সুলতান সুলেমান নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে যা পড়লে এই টিভি সিরিয়াল দেখা থেকে বিরত থাকা উত্তম বলে মনে হবে । আমার পরের পোষ্টে যুগান্তরের প্রতিবেদনটি হুবহু উপস্থাপন করলাম পাঠকদের সুবিধার্থে ।

তুরস্ক ও এরদোগানের অন্ধ সমর্থক জামাতশিবির কর্মীরা বাংলাদেশের মানুষের ভেতর তুরস্কপ্রীতি জাগৃতিকরণে এই টিভি সিরিয়াল দেখার জন্য উৎসাহ যোগাবে তাতে সন্দেহ নেই যদিও এদের নেতাকর্মীদের জন্য এই সিরিয়াল দেখা শরীয়াহসম্মত হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চুপতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে !

আহলান! ওয়া সাহলান! ইয়া সুলতান সুলেমান!

sultan-suleman-actressগোলাম মাওলা রনি : বাংলাদেশের সর্বস্তরের টেলিভিশন দর্শকদের পক্ষ থেকে তুর্কি সুলতান সুলেমানকে স্বাগত জানাচ্ছি। সুলতান যখন আরব মুল্লুকে যেতেন, তখন রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ তৎকালীন দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা শাসক সুলেমান দ্য গ্রেট বা সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টকে আহলান! ওয়া সাহলান অর্থাৎ আমাদের গৃহে স্বাগতম বলে অভ্যর্থনা জানাতেন। হাজার হাজার সৈন্যের কুচকাওয়াজ, নহবতের সুরলহরী এবং কৃতজ্ঞ জনগণের হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে এগোতে গিয়ে মহামতি সুলেমান তার সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের হৃদয়ে কতটুকু আনন্দ সঞ্চারিত করতে পারতেন তা বলা না গেলেও তার মৃত্যুর ৪৫০ বছর পর তাকে নিয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে যা হচ্ছে তা যদি তিনি জানতেন, তবে নিশ্চয়ই অতি মাত্রায় বিমুগ্ধ ও আনন্দিত হতেন।

তুর্কি অটোমান সালতানাতের গর্ব এবং ইসলামি তাহজিব তমদ্দুন ও কানুনের অন্যতম প্রধান রত্ন মহামতি সুলতান সুলেমানের রাজত্বকাল ছিল ৪৬ বছর। আধুনিক তুরস্ক, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, মিসরসহ উত্তর আফ্রিকার বৃহদংশ, পুরো মধ্যপ্রাচ্য, ইরানের কিয়দংশ, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, আলবেনিয়াসহ বলকান অঞ্চল এবং রোডসসহ পুরো ভূমধ্যসাগরে তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড তার অধীনতা মেনে মিত্রতার চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। অস্ট্রিয়া, ইতালি, এমনকি জার্মানি মূলত তার ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকত। পারস্য সম্রাট তাহমাউসপের সাথে সুলতানের বিরোধ ছিল বটে। কিন্তু সম্মুখ সমরে তিনি কোনো দিন সুলতানের মুখোমুখি হননি সব সময় পালিয়ে গেছেন নতুবা এড়িয়ে গেছেন। ফলে তৎকালীন দুনিয়ার একমাত্র সুপারপাওয়ার অটোমান সাম্রাজ্যের তলোয়ার, ঘোড়ার খুরের আওয়াজ এবং কামানের গোলার সামনে দাঁড়ানোর মতো কোনো বীর ধরাভূমে ছিলেন না।

সুলতান সুলেমানের জীবদ্দশায় সুবেবাংলা অথবা দিল্লি সালতানাত কেমন ছিল, তা ইতিহাসের পাঠকেরা খুব ভালো করেই জানেন। সুলতান যদি ভারতবর্ষে আসতেন তবে আমাদের রাজাবাদশাহ, নওয়াব এবং জঙ্গবাহাদুরেরা কী করতেন, জানি না। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে যারা সুলতান সুলেমানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তাদের কথাবার্তা, দাবিদাওয়া ও আবদারগুলো জনমনে ভারী কৌতূহলসংবলিত কৌতুকের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো নেতানেত্রী কিন্তু এই সুলতানের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি। তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন একদল অভিনেতাঅভিনেত্রী ও কলাকুশলী। তারা দলবেঁধে গলা ফাটিয়ে আপত্তি সংবলিত আবদার জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে কোনো বিদেশী সিরিয়ালের বাংলা ডাবিং, অর্থাৎ বাংলায় রূপান্তরিত সংলাপসহ সম্প্রচার করা যাবে না।

sultan-suleman-still-2বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের নাটকে রঙতামাশা, হাস্যরস ও কৌতুকাভিনয়ে বলতে গেলে দুর্ভিক্ষ লেগেছিল অথবা ওলাওঠা বিবির অভিশাপে মড়ক লেগেছিল। এক সময়ের খান জয়নুল, হাবা হাসমত, আলতাফ, টেলিসামাদ, রবিউল, আনিস প্রমুখের অনবদ্য অভিনয় এবং লোক হাসানোর প্রকৃতি প্রদত্ত গুণাবলির বদলে ইদানীংকালের জোর করে হাসানোর কাতুকুতু মার্কা সংলাপ ও অঙ্গভঙ্গি দেখে দর্শকদের রুচি যখন বিচ্যুতির প্রান্তসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল, তখন একশ্রেণীর দর্শক বেঁচে থাকার তাগিদে ভারতীয় চ্যানেলের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে পড়েন এবং অন্য শ্রেণীর দর্শকেরা টেলিভিশন দেখাই ছেড়ে দিলেন।

ভারতীয় চ্যানেলগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যে ও দৌরাত্ম্যে আমাদের সাহিত্যসংস্কৃতি, সমাজসংসার ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত চিন্তাচেতনা উচ্ছন্নে যেতে বসেছে। হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ব্যাংক লুট, লোক ঠকানো, মিথ্যাচার প্রভৃতি কবিরাহ গুনাহ রীতিমতো শৈল্পিক মর্যাদা পেয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে এমনভাবে প্রচারিত হচ্ছে, যার মরণনেশায় পড়ে স্ত্রী স্বামীকে ত্যাগ করছে, স্বামী স্ত্রীকে মেরে ফেলছে। মা তার শিশুসন্তানকে মেরে ফেলছে টিভি সিরিয়াল দেখার সময় কান্না করার অপরাধে। অথবা স্ত্রী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহনন করেছে এ কারণে যে, তার স্বামী তাকে টিভি সিরিয়াল দেখতে দেয়নি অথবা টিভি সিরিয়ালের এক নায়িকার মতো একটি জামা কিনে দেয়নি।

কতিপয় ভারতীয় চ্যানেলের কিছু অনুষ্ঠানের নেশা ভয়াল মাদক ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মারিজুয়ানা, গাঁজা ইত্যাদির চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্যভিচার, পতিতাবৃত্তি, সমকামিতা, ধর্ষণ, পরকীয়া, অবাধ যৌনাচার, অসম দৈহিক সম্পর্ক, অনৈতিক কিংবা অকল্পনীয় সম্পর্কগুলো প্রকাশ্যে এবং অবাধে এমনভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দেখে মানবিকতা আর অমানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও পশুত্ব একাকার হয়ে নারকীয় রূপ ধারণ করছে। বাবার ষাট বছর বয়সী বন্ধুর সাথে স্কুলপড়ুয়া কিশোরী কন্যার যৌনতা, সন্তানের চেয়েও কম বয়সী ছেলেদের সাথে ষাটোর্ধ্ব মহিলার ব্যভিচার হিন্দি চ্যানেলের দর্শকদের কাছে ভাতমাছ হয়ে গেছে। পূতপবিত্র পারিবারিক সম্পর্কের অনাদিকালের বিশুদ্ধতা ও নির্মলতাকে এক শ্রেণীর লম্পট কুলাঙ্গার এমনভাবে কলুষিত ও কলঙ্কিত করে তুলছে, যা প্রকাশ করার মতো রুচি এই নিবন্ধকারের নেই। আইয়ামে জাহেলিয়াতের জঘন্য যুগেও যেসব সম্পর্ককে পবিত্র ও বিশুদ্ধ মনে করা হতো, সেগুলোর মূলেও জ্ঞানপাপী নরাধমরা একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে।

ভারতীয় সিরিয়ালগুলো আমাদের নীতিনৈতিকতা এবং মনমানসিকতার স্তর কতটা নিচে নামিয়ে ফেলেছে তার একটি বাস্তব উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ঢাকার এক মধ্যবিত্ত দম্পতির ছয় বছরের ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের মতো আর স্ত্রী ত্রিশ। দুজনেই কথিত শিক্ষায় শিক্ষিত এবং দেখতে উভয়েই বেশ সুন্দর। তারা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন এবং বিবাহিত জীবনে মোটামুটি দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখেন। হঠাৎ তাদের মধ্যে অদ্ভুত এক সমস্যা দেখা দিলো। এক রাতে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে দেখলেন স্বামী বিছানায় নেই। তিনি চুপি চুপি ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখলেন স্বামী হিন্দি সিরিয়াল দেখছেন এবং অত্যন্ত গর্হিত একটি অপকর্ম করছেন। লজ্জায় স্ত্রী কিছু বলতে পারলেন না। তিনি শোয়ার ঘরে ফিরে শিশু সন্তানটিকে জড়িয়ে ধরে বহুক্ষণ কাঁদলেন। পরের দিন রাগ করে বাবার বাড়ি চলে এলেন। স্ত্রীর ধারণা, তার স্বামীর মানসিকতা এমন পর্যায়ে বিকৃত হয়েছে যে, তার পক্ষে শিশু সন্তানকেও ধর্ষণ করা অসম্ভব নয়। অতএব, বিচ্ছেদ।

নাটক, সিনেমা, রিয়েলিটি শো, গেম শোর পাশাপাশি নৃত্য প্রতিযোগিতার নামে যা দেখানো হয় তা অশ্লীলতা ও নোংরামির মাত্রা অতিক্রম করে চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সাতআট বছরের বালকবালিকা বা তেরোচৌদ্দ বছরের কিশোরকিশোরীদের নৃত্য প্রতিযোগিতায় যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখানো হয় তা শৈল্পিক বিচারে কোনোমতেই নৃত্য হতে পারে না। বিকৃত মানসিকতা সৃষ্টি এবং একটি প্রজন্মকে নষ্ট করার সুগভীর চক্রান্ত ছাড়া ওসব বেহায়াপনার অন্য কোনো মূল্য রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

sultan-suleman-still-5বাংলাদেশের সুলতান সুলেমানবিরোধীরা কোনো দিন কোনোকালে ভারতীয় অপসংস্কৃতির ভয়াবহ আগ্রাসন এবং বেলাগাম বিস্তার রোধে রাস্তায় নেমেছিলেন, এমন কথা কেউ কোনো দিন শোনেননি। বরং তাদের মধ্যে অনেকে ভারতীয় চ্যানেলের বিভিন্ন সিরিয়াল এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান নকল করে দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এমনভাবে প্রচার করছিলেন, যা দেখে সুস্থ সবল মানুষের দৈহিক ও মানসিক অবস্থা কোন পর্যায়ে নামতে পারে তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের টিভি অনুষ্ঠানের মানের অধোগতি এবং ভারতীয় চ্যানেলগুলোর নেশাময় বিকৃত অনুষ্ঠানমালার কারণে দর্শকেরা যখন হতাশার প্রান্তসীমায়, ঠিক সেই সময়ে দেশীয় একটি অটোমান সুলতান সুলেমানের জীবনের ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত কাহিনীনির্ভর মেগাসিরিয়াল বাংলায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করে যাচ্ছে।

সুলতান সুলেমান বাংলাদেশের টিভি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত দশ বছরে যারা টিভি দেখেননি তারাও কাজকর্ম ফেলে বাংলায় ভাষান্তরিত সিরিয়াল দেখার জন্য যথাসময়ে টিভির সামনে হাজির হয়ে যান। পুরো পরিবার নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে টিভি দেখার, বিশেষ করে মাসের পর মাস ধরে একই আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগের ঐতিহ্য এ সমাজে খুব কমই দেখা গেছে। ধারাবাহিক নাটকটির নির্মাণশৈলী, সাজসজ্জা, অভিনেতাঅভিনেত্রীদের অনবদ্য অভিনয়, কাহিনী, সংলাপ এবং মঞ্চায়নের নিখুঁত মুনশিয়ানার কারণে দর্শকেরা নাটকটির প্রতিটি পর্ব দেখার সময় মনোজগতের ডানায় ভর করে চলে যান মহামতি সুলেমানের শাসনামলে। তার হেরেমে, রাজপ্রাসাদে অথবা অটোমান যুগের পথপ্রান্তর, রাস্তাঘাট, হাটবাজার কিংবা দরবার ও আদালতে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তুরস্কে নির্মিত সুলতান সুলেমাননামক টিভি সিরিয়ালটি সারা দুনিয়ায় এযাবৎকালে নির্মিত মেগা সিরিয়ালগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয়তা যোগ করলে এটি এক নম্বরে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাটকটিতে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক উপাখ্যান, নীতিনৈতিকতার শিক্ষা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক আদবকায়দার প্রশংসনীয় ও শিক্ষণীয় বিষয়াদি। রয়েছে নির্মল বিনোদন, ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, কূটনীতি এবং জীবনধর্মী আরো অনেক বিষয়, যা দর্শকদের চৌম্বক শক্তির মতো টানতে থাকে। এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী মেগাসিরিয়াল থেকে আমাদের যেমন অনেক কিছু শেখার রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের টিভি মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত শিক্ষার উপকরণ।

বাংলাদেশের অভিনেতাঅভিনেত্রী, প্রযোজকপরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা কেন সুলতান সুলেমানের মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক বন্ধের জন্য রাজপথে নেমেছেন, তা বোধগম্য নয়। তবে দেশের জনগণ যে তাদের নিজ নিজ গৃহে সম্মানিত মেহমান হিসেবে সুলতান সুলেমান নাটকের পাত্রপাত্রীদের বরণ করে নিয়েছেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের অভিনেতাঅভিনেত্রীরা জনগণের সেই ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে যত তাড়াতাড়ি নিজেদের সংশোধন করে নেবেন, ততই সবার জন্য মঙ্গল।

টেলিভিশন নাটক নিয়ে পুরো মিডিয়াপাড়ায় যে তেলেসমাতি চলছে, তা বন্ধ না করে ডাবিং করা সিরিয়াল বন্ধের দাবির আওয়াজ ধোপে টিকবে না। অতীব নিম্নমানের নাটক নির্মিত হচ্ছে। অন্য দিকে পুরো মিডিয়া জগতের বিনোদন ক্ষেত্রটি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। মাত্র এক থেকে দেড় লাখ টাকা দেয়া হয় একটি নাটক নির্মাণের জন্য। ঈদের বিশেষ নাটকের বাজেট দুই লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে। এই স্বল্প বাজেটের সাথে সামাল দেয়ার জন্য পুরো নাটকপাড়া এবং শুটিং স্পটগুলোতে যে কী হয় তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারেন। নির্মিত নাটকগুলো কথিত সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া প্রচারিত হয় না। পরিস্থিতি এতটাই অবনতির দিকে গেছে যে, ওই সিন্ডিকেট নাটকের নায়কনায়িকাসহ প্রধান পাত্রপাত্রীদের পর্যন্ত মনোনীত করে দেয়।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবর ও টকশোর অনুষ্ঠানগুলোর মান এখন আর কোনো মানদণ্ডে নেই। একটু শিক্ষিত ও সজ্জনরা বিবিসি, আলজাজিরা, সিএনএন, ফক্স নিউজ, ভারতের এনডিটিভি দেখেন। অনেকে আবার বিটিভির খবরের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। করপোরেট হাউজের মালিকানাধীন চ্যানেলগুলো নিজ নিজ মালিকের ইচ্ছা অনুযায়ী সব কিছু পরিচালনা করে থাকে। নাটকের চেয়েও বিশ্রী অবস্থার মধ্যে পড়েছে টকশোর অনুষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও বহু অভিযোগ শোনা যায়। শত অভিযোগের বিপরীতে রূঢ় বাস্তবতা হলো, টকশোর নামে যা দেখানোর চেষ্টা করা হয় তা আসলে কেউ দেখে না। কারণ ওগুলো আসলে দেখা যায় নাএমনকি দেখা উচিতও নয়।

আমার ধারণা, কোনো টিভি চ্যানেল যদি বিখ্যাত ল্যারি কিং লাইভ, ক্রিস্টিনা আমানপোর, বিবিসি হার্ড টক, সিমি গাড়োয়াল, কফি উইথ করণ, রজত শর্মার আপ কি আদালত ইত্যাদি সাড়া জাগানো বিদেশী টকশোগুলোর বাংলা ডাব প্রচার আরম্ভ করে, সেগুলো সুলতান সুলেমানের তুলনায় কম জনপ্রিয়তা পাবে না। আমরা এর আগে সাড়া জাগানো কিছু ইরানি ছবি, অস্কারপ্রাপ্ত ইংরেজি ছবিসহ নামকরা বিদেশী ছবি বাংলা ডাব অথবা বাংলা সাব টাইটেলসহ বিভিন্ন টিভিতে প্রচার হতে দেখেছি। ছবিগুলোর মান, শৈল্পিক আবেদন এবং বিনোদন কোনো দর্শকই ভুলতে পারেননি। সাউন্ড অব মিউজিক, দি মেসেজ, দি মেসেঞ্জার, স্বর্গীয় শিশু, বৃদ্ধাশ্রম প্রভৃতি শিল্পসম্মত ছবি থেকে শিক্ষা না নিয়ে যদি ওগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হয় তাহলে আর যাই হোক, লাভ হবে না।

সূত্রঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৮ ডিসেম্বর ২০১৬

কী ভীষণ [সাংস্কৃতিক] আগ্রাসন!

ডিসেম্বর 12, 2016 মন্তব্য দিন

হানিফ সংকেত : বিশ্বায়ন বা মুক্ত অর্থনীতির যুগে আমরা অর্থনীতির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি যে আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি তা হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। বিশেষ করে এই আগ্রাসন ঘটছে পরিবারগুলোতে। কৃত্রিম মোহে ভেঙে যাচ্ছে অনেক সুখের সংসার। এসবের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে বিদেশি বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত চাকচিক্যময় এক অদ্ভুত সামাজিক চালচিত্র। গ্রাস করার ত্রাস সৃষ্টিতে উদ্যত এসব বিদেশি সিরিয়াল সিরিয়াল কিলারের চেয়েও ভয়ংকর। কারণ, এরা ধ্বংস করছে ঘরসংসারসামাজিকতা এবং আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য।

যৌথ পরিবারের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য আছে আমাদের। ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বিটিভিতে ইত্যাদি একটি পর্ব প্রচারিত হয়। ওই পর্বে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামের একটি যৌথ পরিবারের ওপর প্রতিবেদন দেখানো হয়। ওই পরিবারের গৃহকর্তা আবদুর রহমান। বয়স ১০৪ বছর। তাঁর পাঁচ সন্তান। সবাই বিবাহিত। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪০। ২৫ কক্ষবিশিষ্ট বিরাট বাড়ি। এই বাড়িতেই পরিবারের সবাই থাকেন। এই বিশাল কিন্তু সুখসচ্ছলতায় ভরা পরিবারটির প্রধান আয়ের উৎস মত্স্য খামার।

এই পরিবারের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, রহমান সাহেবের পুত্রবধূ এবং নাতিনাতনিরা সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে আনন্দিত চিত্তে রান্নাবান্নার কাজ করেন। প্রতিনিয়তই মনে হয় তাঁরা যেন বনভোজনের আমেজে আছেন। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এই পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বিদেশি চ্যানেলের প্রভাবে অনেক পরিবারেই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এই কুপ্রভাব থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? তাঁদের সোজাসাপটা জবাব ছিল, ওই চ্যানেলগুলো বন্ধ কইরা দেওয়া উচিত। এভাবে চলতে থাকলে ওই সব চ্যানেলের প্রভাবে একসময় যৌথ পরিবারই দেখা যাবে না। সে জন্য আমরা ওই সব চ্যানেল দেখি না।

এই উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির যুগে তাদের চ্যানেল বন্ধ করার দাবি পূরণ করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে আমাদের দেশে এসব চ্যানেল অবাধে প্রচারের ব্যাপারে যে উদার ও উন্মুক্ত নিয়মনীতি রয়েছে, সেগুলোকে বোধ করি রোধ করা সম্ভব। এসব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মিডিয়ায় অনেক আলাপআলোচনা, সভাসমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠক, টক শো, সংহতি সমাবেশ, শিল্পী সমাবেশ, মামলামোকদ্দমাসহ নানা ঘটনা ঘটে গেছে।

ত্রিশালের ওই একান্নবর্তী পরিবারের মতোভিনদেশি সিরিয়ালের আগ্রাসন আর ভীতি থেকেইঅনেকের দাবি, ভিনদেশি এসব চ্যানেল বন্ধ হোক গত কয়েক দিনের মিডিয়াসংশ্লিষ্ট আন্দোলনেও অনেকের মুখে এই কথা উচ্চারিত হয়েছে। চ্যানেলের ক্ষেত্রে যখনই এই বন্ধ শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখনই বলা হয় উন্মুক্ত আকাশ। বিশ্বায়নের যুগে এই বন্ধ সংস্কৃতি ঠিক নয়। স্বভাবতই তখন প্রশ্ন ওঠে, ভারতও একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে কেন বাংলাদেশের চ্যানেল দেখা যাবে না। আমরাই বা এত উদার কেন? ওরা না দেখালে আমাদের দেখাতে হবে কেন? বিষয়টি আরও জটিল হলো যখন জানা গেল, ভারতে আমাদের চ্যানেল চালাতে হলে পাঁচ কোটি রুপি দিতে হবে আর আমাদের এখানে ওই সব চ্যানেল চলছে মাত্র দেড় লাখ টাকায়। কী অসম বাণিজ্য! ডিসেম্বরের ৩ তারিখে হাঙ্গেরি থেকে ফিরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনেও এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। তিনি নিজেই এই অসম হার দেখে বিস্মিত হয়েছেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

আশা করি, আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে প্রদর্শন এবং ভারতীয় চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশের প্রদর্শনের ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ বৈষম্য রয়েছে, সেটা দূর হবে এবং আমাদের শিল্পীকলাকুশলী ও টিভি চ্যানেলের মালিকেরা এ ব্যাপারে একটি সুফল পাবেন। চ্যানেল প্রদর্শনের এই অসম বাণিজ্যের সঙ্গে আর একটি মারাত্মক অপরাধমূলক বেআইনি বাণিজ্য ছিল বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার। মিডিয়া ইউনিটির আন্দোলনের কারণে এদের কর্মকাণ্ড সরকারের নজরে আসে। ২০০৬ সালে এ সম্পর্কিত স্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও বিগত ১০টি বছরেও এই অপরাধ কারও নজরে এল না কেন, এই প্রশ্নটি অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। তাহলে প্রতিটি বিষয়ই কি আন্দোলন করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করতে হবে? তবে আশার কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপের ফলে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। এই দুটি বিষয়ই মিডিয়া জগতের জন্য আশার খবর ও সুখবর। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, বিশেষ করে দুদক ও এনবিআর এই চক্রের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। মিডিয়ার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে খুবই কষ্ট হয় যখন শুনি সরকারি পুরো বাজেটের মধ্যে মিডিয়ার জন্য বরাদ্দ মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এই বাজেট দিয়ে মিডিয়ার কী কল্যাণ হবে? অনেকেই বলেন, আমাদের কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু দুর্বল, বাইরের কনটেন্ট ভালো। এই কথাটিও পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয়। কনটেন্ট ভালো করার পেছনে বাজেটও একটি কনটেন্ট। সুলতান সুলেমানএর সুলতান সাহেবের পোশাকের যে বাজেট, আমাদের এখানে পুরো এক ঘণ্টার নাটকেরও সেই বাজেট নেই। অন্যান্য বিষয় তো রয়েছেই। তা ছাড়া, মিডিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান লাভ কিংবা উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের দেশে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানও নেই। ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল বন্ধের ব্যাপারে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্সের যৌক্তিক হার পুনর্নির্ধারণসহ শিল্পীকলাকুশলীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণেও কর্তৃপক্ষের আন্তরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আর এই সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন সুষ্ঠু নীতিমালা। যে নীতি মালায় আবদ্ধ না থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ২০০৬ সালের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের মতো ফাইলের জন্য আইন না করে এর যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি চ্যানেলগুলোরও বিজ্ঞাপননির্ভরতা কমাতে হবে। সে জন্য রয়েছে অনেক পথ। এ ব্যাপারে পেচ্যানেলের উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, শিল্প এবং শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আগে এই ক্ষেত্রটাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। আমরা সেই আশ্বাসও পেয়েছি মিডিয়া ইউনিটির তৃতীয় সংহতি সভায় মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সুতরাং এ কথা বলা যায়, মিডিয়ার সুদিন আসছে। কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি ও প্রতারণা মিডিয়ার এই অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিতে পারবে না। আমাদের শিল্পসংস্কৃতিইতিহাসঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা রাখে। তাই টেলিভিশনশিল্পকে রক্ষার জন্য ভিনদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। আকাশ সংস্কৃতির এই উন্মুক্ত আগ্রাসনে পরাজিত হয়ে গা ভাসিয়ে দেবে পরধন লোভী পরাশ্রয়ী দুর্বলেরা। কিন্তু আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অনন্ত অক্ষয় সম্পদ এবং সামাজিকতা আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়। এই আত্মপরিচয়ের অহংকার আমাদের বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন শিল্পীকলাকুশলীচ্যানেলের মালিকসবার সম্মিলিত উদ্যোগ ঐক্য। আসছে নতুন বছর। ভবিষ্যতে আমরা যাবতীয় অপসংস্কৃতির চর্চা, বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ভুলে লালন করব দেশীয় সংস্কৃতিকে। সব আগ্রাসনকে দূরে ঠেলে দিয়ে দেশকে ভালোবেসে, দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির ধারায় জেগে উঠব আমরা নিরন্তর।

হানিফ সংকেত: গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

ছবি-ব্লগঃ বিটিভি জাদুঘর

ডিসেম্বর 9, 2016 মন্তব্য দিন

btv-museum-1btv-museum-2btv-museum-3btv-museum-4btv-museum-5btv-museum-6btv-museum-7btv-museum-8