আর্কাইভ

Archive for the ‘বিজ্ঞান’ Category

পাটের বিকল্প সন্ধানে…

jute alternative

Advertisements

যাযাবর থেকে ভূগোলবিদ আল মাসুদি

al-masudi portraitসেলিম কামাল : হেরোডটাসের নাম সবার জানা। তাকে বলা হয় ইতিহাসের জনক। তবে ইতিহাসে আরও একজন আছেন যাকে বলা হয় ‘দ্য হেরোডটাস অব দ্য আরব’। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ইতিহাস এবং ভূগোল নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করেছেন। তাকে ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

জন্ম ও যাযাবর জীবন

আল মাসুদি ৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা- এসব বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যই পাওয়া যায় না। তবে তার ভ্রমণবিলাসিতার কথা প্রায় সব ইতিহাসবিদই লিখে গেছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই আল মাসুদি তার যাযাবর জীবনের শুরু করেন এবং মৃত্যুর কয়েক বছর আগ পর্যন্ত তার এ ভ্রমণ অব্যাহত থাকে। পারস্য, শাম (বর্তমান সিরিয়া), আর্মেনিয়া, আজারবাইজান হয়ে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ভলগা অঞ্চল, মধ্য এশিয়া, ভারত, কানবালু বা বর্তমান মাদাগাস্কার, ওমান, দক্ষিণ আরব, গ্রিক সাম্রাজ্য ও স্পেন ঘুরে মিসরে গিয়ে শেষ হয় তার এ দীর্ঘ ভ্রমণ। অনেক ইতিহাসবিদ তার ভ্রমণের তালিকায় চীন ও শ্রীলংকাও যোগ করেন। কেননা তার ইতিহাসবিষয়ক লেখায় চীন ও শ্রীলংকা সম্বন্ধে ব্যাপক পরিমাণে তথ্য ছিল।

পৃথিবী গোলাকার

আল মাসুদির শিক্ষা সম্বন্ধে কিছু জানা না গেলেও এটুকু জানা যায় যে তার জ্ঞানের প্রধান উৎস ছিল গ্রিক এবং রোমান ইতিহাস ও বিজ্ঞান এবং তার ভ্রমণ। তিনি সেই সময়ের সমাজে প্রচলিত অনেক কুসংস্কার থেকে নিজেকে সফলভাবে মুক্ত করতে পেরেছিলেন। প্রচলিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস স্থাপন না করে তিনি ভ্রমণের মাধ্যমে প্রামাণিক ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ করেন। তখন মুসলিমদের জন্য স্বর্ণযুগ হলেও খ্রিস্টানদের জন্য ছিল ‘ডার্ক এজ’ বা অন্ধকার যুগ। প্রভাবশালী চার্চই তখন খ্রিস্টানদের বিজ্ঞানচর্চা নিয়ন্ত্রণ করত।

মধ্যযুগে ইউরোপীয়দের বিজ্ঞানচর্চা ছিল সম্পূর্ণভাবে চার্চকেন্দ্রিক। তাদের বিশ্বাস ছিল যে পৃথিবী একটি বিশাল সমতল প্লেটের মতো যা চারদিক থেকেই জলবেষ্টিত। কিন্তু আল মাসুদি এ ধারণা উড়িয়ে দেন। তিনি পর্যবেক্ষণ মাধ্যমে পৃথিবী যে গোলাকার সে বিষয়ে নিশ্চিত হন। তার মতে পৃথিবী সমতল হলে ভূপৃষ্ঠ সব সময় পানিতে ডুবে থাকত। কিন্তু পৃথিবী গোলাকার বলেই সমুদ্রে জাহাজ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়।

সমুদ্র ও মহাদেশের সীমানা নির্ধারণ

আল মাসুদি পৃথিবীর সমুদ্র এবং মহাদেশগুলোর সীমানা নির্ধারণের প্রয়াস চালান। এক্ষেত্রে তিনি গ্রিক প্রথা অনুযায়ী জাপানকে পূর্ব সীমানা এবং পশ্চিমের সীমানা হিসেবে একটি দ্বীপপুঞ্জকে নির্ধারণ করেন। সমুদ্রের ব্যাপারে আল মাসুদির ধারণা কিছুটা প্রাচীন ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, পুরো পৃথিবীকে চক্রাকারে ঘিরে আছে একটি মহাসমুদ্র- যা অন্যান্য সাগরের সঙ্গে যুক্ত। তার মতে, আরব সাগর ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর। তবে আরব ও চীনের মধ্যবর্তী পারস্য সাগরসহ মোট সাতটি সাগরের সীমানা ও দিক নির্ণয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন আল মাসুদি- যা সেই সময়ের আরব ব্যবসায়ীদের ভীষণ কাজে দেয়।

পরিবেশবিজ্ঞানে আগ্রহ

আল মাসুদি পরিবেশ সম্পর্কে ভীষণ আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি প্রাণ প্রকৃতির সঙ্গে প্রাত্যহিক মানবজীবনের সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা করেন। নিজের চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি বলেন-‘প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের জীবনধারা তিনটি বিষয় দ্বারা প্রভাবিত করে। পানি, উদ্ভিদ এবং ভূসংস্থান।’ এ ব্যাপারে তিনি যুক্তি দেখান যে, কোনো অঞ্চলে পানির পরিমাণ বেশি হলে সেখানে আর্দ্রতা বেশি হয়- যা সেখানকার মানুষের মেজাজ হালকা রাখে। অন্যদিকে শুষ্ক অঞ্চলের মানুষ কিছুটা খিটখিটে হয়। আবার জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলের মানুষ কিছুটা হিংস্র প্রকৃতির হতে পারে। পক্ষান্তরে, মরুভূমির মানুষ বিপরীত প্রকৃতির। তবে মাসুদির মতে, মানুষের বাসস্থান নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় নির্ণায়ক হওয়া উচিত- পর্বতের নৈকট্য, সাগর বা নদীর উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত উদ্ভিদ।

যাযাবরদের পর্যবেক্ষণ

আরবের যাযাবর বেদুইনদের জীবন সম্পর্কে আল মাসুদির রয়েছে বিচিত্র পর্যবেক্ষণ। তার মতে, শহুরে জীবনের তুলনায় এ যাযাবর জীবনই শ্রেয়। কেননা শহর মানুষের ঘুরে বেড়ানো এবং মুক্ত পরিবেশে বসবাসের ইচ্ছাকে দমন করে ফেলে। আরবরা মুক্তভাবে বসবাস করে বলেই তারা শারীরিকভাবে বলবান হয়। তিনি মানুষের আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের ওপর আঞ্চলিক প্রভাব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেন। তিনি তার পর্যবেক্ষণ থেকে বলেন, উত্তরাঞ্চলে যেখানে সূর্যের তাপমাত্রা কম এবং শীতের আধিক্য বেশি- সেখানকার মানুষজন বদমেজাজি, ঝগড়াটে, ধীর বুদ্ধির, মোটা চামড়াবিশিষ্ট, অধিক মাংসপেশিবহুল, নীল চোখ এবং কোঁকড়ানো লাল চুলবিশিষ্ট হয়। আরও উত্তরে বরফে বসবাসকারী মানুষেরা নিষ্প্রভ এবং বর্বর স্বভাবের হয়। তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। তা হচ্ছে, এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে বসবাস করলে তার মধ্যে নতুন জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়। তিনি তুরস্ক থেকে ভারতে গিয়ে বসবাস করা মানুষের জীবন পর্যবেক্ষণ করে এ ধারণাটি দেন।

ভ্রমণ শেষে মৃত্যু

উনিশ বছর বয়সে আল মাসুদি যে ভ্রমণ শুরু করেন, তা শেষ করেন তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর আগে। নিজের শেষ গন্তব্য মিসরেই তিনি জীবনের শেষভাগ কাটান। সম্ভবত ৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে মিসরের কায়রোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ গুণী পণ্ডিত।

লেখক আল মাসুদি

আল মাসুদি কেবল একজন অসামান্য ভূগোলবিদই ছিলেন না, ছিলেন একজন চমৎকার লেখকও। আর তার লেখার আগ্রহও ছিল ভীষণ বৈচিত্র্যময়। বিশেষত বিজ্ঞানের ইতিহাসবিষয়ক লেখায় তিনি একজন পথিকৃৎ হয়ে আছেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখা ‘কিতাব আল মুরাজ আল ধাহাব’, যার ইংরেজি অনুবাদ ‘গোল্ডেন মিডোজ’ই একমাত্র অক্ষত অবস্থায় বর্তমানকাল পর্যন্ত টিকে আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে এ বইটি ছাড়া আল মাসুদির অধিকাংশ লেখাই হারিয়ে গেছে। ভূগোল আর ইতিহাসের বাইরেও তার জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছিল সৃষ্টিতত্ত্ব, আবহাওয়াবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইসলামিক শরিয়াহ আর আরব লোকজ সংস্কৃতি দিয়ে।

ওজোন দিবসের ওজন!

ozone day thoughts

বদলে গেছে কম্পিউটার প্রকৌশল

abdullah al-faruqueকম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে বহু শিক্ষার্থীর। অনেকে পড়ছেন, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন আগের চেয়েও উন্নত হচ্ছে কম্পিউটার। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা? এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক

কম্পিউটার যখন প্রথম তৈরি হয়, তার আকৃতি ছিল বিশাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ছোট হতে শুরু করল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন কম্পিউটারে আমরা যে ধরনের কাজ করতাম, এখন স্মার্টফোনেই তার চেয়েও জটিল কাজ করা যায়। এখন আস্ত একটা কম্পিউটার আপনার হাতঘড়ির মধ্যেই এঁটে যেতে পারে। এই যে কম্পিউটারের ছোট হয়ে আসা, এটা একটা বিরাট কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। আমরা যাকে বলছি ‘এম্বেডেড সিস্টেম’।

আমরা মানুষের চোখের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর ঢোকানোর চেষ্টা করছি। দেহের বিভিন্ন অংশে মাইক্রোপ্রসেসর বসানোর কাজ চলছে। গাড়ি এখন আর স্রেফ ‘ইলেকট্রো মেকানিক্যাল’ যন্ত্র নয়, গাড়ির মধ্যে প্রচুর মাইক্রোপ্রসেসর আছে। নতুন যে গাড়িগুলো বের হচ্ছে, এর বেশির ভাগই কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা এখন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের কথা বলছি। সমগ্র বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি। প্রকৌশলের সব শাখায় কম্পিউটার ঢুকে পড়েছে। এটাই হলো আগামী দিনের কম্পিউটার প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ আর সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র।

আমি যেমন কাজ করছি ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’ নিয়ে। কম্পিউটারকে সাধারণত বলা হয় ‘সাইবার সিস্টেম’। যেখানে হার্ডওয়্যার আছে, সফটওয়্যার আছে। কিন্তু এই কম্পিউটারই যখন অন্য কোনো যন্ত্র যেমন স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড কিংবা মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তাকে বলে ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’।

আমি মনে করি, কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের এখন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু প্রোগ্রামিং শিখে বা শুধু কম্পিউটার-বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে এগিয়ে থাকা যাবে না। স্বয়ংক্রিয় কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, বায়োমেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব শাখায় কম্পিউটার প্রকৌশলী প্রয়োজন। এখন কম্পিউটার প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়। আগে প্রকৌশলের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় প্রকৌশলীরা নিজেদের মতো করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। এখন তড়িৎকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল…সব শাখার প্রকৌশলীরা এক হয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। তাই এগিয়ে থাকতে হলে সব বিষয়েই জানতে হবে। অন্তত জানার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকতে হবে।

কাজটা কিন্তু খুব কঠিনও নয়। আমরা যখন বুয়েটে পড়তাম, আমরা জানতাম না, এমআইটির শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে কাজ করছে? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির একজন অধ্যাপক কী নিয়ে ভাবছেন? কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা নতুন কী নিয়ে গবেষণা করছেন? বিশ্বসেরা জার্নালগুলোতে কোন প্রবন্ধ নিয়ে কথা হচ্ছে?

এখন কিন্তু এসব জানা খুব সহজ। ইন্টারনেট সব সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে যে বিজ্ঞাননির্ভর জার্নালগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে ঢুঁ মারলেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন, এখনকার ‘ট্রেন্ড’ কী, প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ কী? জার্নালগুলোতে সব সময় আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়। শুধু এখনকার সময়ই নয়, ১০ বছর পরে টেকনোলজির ‘ট্রেন্ড’ কী হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা থাকে জার্নালে। ছাত্রাবস্থায়ই বিজ্ঞাননির্ভর জার্নাল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

একটা সময় দেখা যেত ভারতের আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) বা চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে ইউরোপ-আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেতেন। বিশ্বমানের গবেষণার পাশাপাশি ওরা কিন্তু এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ওদের লক্ষ্য এখন উদ্যোক্তা হওয়া। সিলিকন ভ্যালিতে দেখবেন অনেক ভারতীয়, চীনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফার্ম আছে। ওরা ভবিষ্যৎ মার্ক জাকারবার্গ হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও দৃষ্টি থাকতে হবে দূরে। বিজ্ঞান গবেষণায় ও উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিতে চাইলে, আগামী দিনের পৃথিবীতে কোন প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে, সেটা বুঝে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। কিন্তু এটা অসম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমি যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেখি, অনেকে ভালো করেন আবার অনেকে করেন না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় একটা ভয় কাজ করে। একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীকে হয়তো একজন জীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে। তাই বলে ভয় পেলে চলবে না। গবেষণার জন্য আমাকে যেমন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এখন যাঁরা কম্পিউটার প্রকৌশল পড়ছেন, একদিন হয়তো তাঁদেরও এমন কাজ করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। আমি আগে শিখিনি তো কী হয়েছে? শিখে নেব। যাদের সাহস থাকে, তারাই এগিয়ে যায়।

আমার অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, তারা কখনো বলে না, ‘আমি তো এটা করিনি। আমি তো এটা পারি না।’ হয়তো নতুন একটা সমস্যা নিয়ে আমরা আলাপ করছি। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মত জানায়, আলোচনায় অংশ নেয়।

আজকাল ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে। আইওটি হলো যেকোনো সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম নির্ভর প্রযুক্তিকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া। সব যন্ত্রের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর, সেন্সর, যোগাযোগের ক্ষমতা ঢুকে পড়ছে। এর ফলে যেটা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা’ নিয়েও এখন প্রকৌশলীদের ভাবতে হচ্ছে। ধরুন, একটা গাড়িতে যদি সফটওয়্যার থাকে, আমি কিন্তু আপনার গাড়ি হ্যাক করে ফেলতে পারব। মানবদেহের ভেতরে যদি কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বসানো হয়, আমি একটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমি একটা পুরো শহরের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তাই ‘নিরাপত্তা’ও গবেষণার একটা বড় ক্ষেত্র। পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ (ডেটা অ্যানালাইসিস)…এসব নিয়ে প্রচুর পড়তে হবে।

আমি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী। নিশ্চয়ই আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামী দিনের প্রযুক্তির দিকনির্দেশনায় একটা বড় ভূমিকা রাখবে। (অনুলিখিত)

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেছেন। কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর জার্মানির আকেন টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে এবং পিএইচডি করেছেন কার্লসরুয়ে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে। গবেষণার জন্য থমাস আলভা এডিসন পেটেন্ট অ্যাওয়ার্ড, আই ট্রিপলই সিইডিএ আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেমস ল্যাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন এই বাংলাদেশি গবেষক। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক সম্পর্কে বিস্তারিত: aicps.eng.uci.edu

মেক্সিকো ভূমিকম্প: উঁচু ভবন টিকে থাকার ৪ কারণ

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প যখন মেক্সিকো সিটিতে আঘাত হানে তখন সেখানকার উঁচু ভবনগুলো কেঁপে উঠে। এ ভূমিকম্পে কিছু ভবন ধসে পড়লেও অনেক ভবন অক্ষত ছিল।

দেখা গেছে, যে ভবনটি ধনে পড়েছে তার ঠিক পাশের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। এর কারণ কী?

প্রথম কারণ হচ্ছে, শহরের সব জায়গায় মাটি এক রকম নয়। শহরের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে প্রাচীন হ্রদ থেকে উঠে আসা মাটির গঠনের সাহায্যে। এর ফলে অনেক জায়গায় মাটি আলগা । এ ধরনের মাটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্প হলে এ ধরনের মাটি বেশি নড়াচড়া করে। ফলে এ ধরনের মাটির উপর তৈরি করা ভবন ভূমিকম্পের সময় বেশি দুলতে থাকে। যেসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মাটির গঠনের কারণে হয়েছে নাকি ভবন তৈরির দুর্বলতার কারণে হয়েছে – সেটি বলা মুশকিল।

দ্বিতীয়ত; ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পের পর মেক্সিকোতে ভবন তৈরির নীতিমালা বা বিল্ডিং কোড সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের সে ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। এছাড়া ৩০ হাজার বিল্ডিং ধসে পড়ে এবং আরো ৬৮ হাজার বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ভবন তৈরির নীতিমালা সংশোধন করা হয়।

সে নীতিমালায় বলা হয়েছিল ভবন তৈরির সময় মাটির গুনাগুণ বিবেচনা করতে হবে। শহরের কোন এলাকার মাটি কেমন সেটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির গুনাগুণ বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা সেটি যথাযথ তদারকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে নীতিমালায়। কিন্তু সে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা সেটি পরিষ্কার নয়।

তৃতীয়ত; মেক্সিকোতে বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই নিজেদের বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করে কিংবা সংস্কার করে। অনেক সময় দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ভেঙ্গে সেখানে নতুন জানালা বসানো হচ্ছে কিংবা অন্য কিছু করা হচ্ছে।

তারা নিজেদের পছন্দমতো ভবনের ভেতরে পরিবর্তন আনে। ফলে অনেক সময় সেটি ভবন তৈরির নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না।

চতুর্থ কারণ; মেক্সিকো শহরে কিছু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যেগুলো ভূমিকম্প সহনীয়। এবারের ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটির ৫৭ তলা ভবনটি অক্ষত আছে। ত্রিকোণ আকৃতির এ ভবনটি ভূমিকম্পে নড়াচড়া করলেও ভেঙ্গে পড়েনি। অর্থাৎ ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে সেটি নড়াচড়া করবে, কিন্তু ভেঙ্গে পড়বে না।

এমনকি ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে মেক্সিকো শহরের দুটি সুউচ্চ ভবন- একটি ৪৪ তলা এবং ৫৪ তলা- অক্ষত ছিল।

প্রকৌশলী এবং স্থপতিরা বলছেন, ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় করে ভবন তৈরি করলে সেখান থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তারা বলছেন, কোন ভবনের ভিত্তি যদি গভীর এবং বিস্তৃত হয়, তাহলে সেটি ভূমিকম্প সহনীয় উঠে। কিন্তু ভিত্তি শুধু গভীর হলেই চলবে না।

সেটি যদি শেষ পর্যন্ত শক্ত মাটি পর্যন্ত না পোঁছায় তাহলে সেটি তেমন কোন কাজে আসবে না। কোন ভবনের কাঠামোতে যদি পিলারের পাশাপাশি কংক্রিট দেয়াল থাকে তাহলে সেটি ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় হয়। শুধু পিলারের উপর তৈরি করা ভবন ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় নয়।

সূত্র: বিবিসি

গণিতের শূন্য (০) নিয়ে নতুন তথ্য

প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানীরা গণিত শাস্ত্রের শূন্যের (০) উদ্ভাবক- এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। তাই বলে ভয়ের কিছু নেই। অন্য কোনো দেশ শূন্যের মালিকানা দাবি করেনি। প্রাচীন ভারতেই হয় শূন্যের প্রথম ব্যবহার- সেটি আরো পাকাপোক্ত হলো।

যতটা বলা হয়, প্রাচীন ভারতে শূন্যের ব্যবহার হয় তারো বেশি সময় আগে থেকে। প্রচলিত ধারণার চেয়ে আরো ৫০০ বছর আগে থেকে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোদলিয়ান লাইব্রেবির বিজ্ঞানীরা কার্বন ডেটিং পদ্ধতির সাহায্যে জানতে পেরেছেন, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের একটি পান্ডুলিপিতে ব্যবহৃত কালো ভরাট বিন্দু-ই গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত প্রথম শূন্য। গণিতের হিসাব-নিকাষে এই বিন্দুই শূন্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছর আগে। প্রাচীন জিনিসের বয়স বের করা হয় কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অক্সফোর্ডের বোদলিয়ান লাইব্রেরির বিজ্ঞানীরা কার্বন ডেটিং ব্যবহার করে প্রাচীন ভারতের পান্ডুলিপিটির বয়স বের করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি বাখশিলা পান্ডুলিপি হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের কাছে বাখশিলা গ্রামের নামানুযায়ী এর নামকরণ করা হয়। ১৮৮১ সালে বাখশিলা গ্রামে মাটির নিচে চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পান্ডুলিপিটি। ১৯০২ সাল থেকে অক্সফোর্ডের বোদলিয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে এটি। বোদলিয়ান লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান রিচার্ড অভেনডেন বলেছেন, এই আবিষ্কার গণিতের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় জ্ঞানচর্চার নতুন ইতিহাস। এই অঞ্চলে জ্ঞানবিজ্ঞানের সংস্কৃতির স্মারক এটি।

রয়টার্স।

শনির বুকে মরণঝাঁপ ক্যাসিনি মহাকাশযানের

cassini last diveযেমনটি কথা ছিল, তেমনই হল। কথা ছিল, নিজে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাবে কিন্তু তার আগ পর্যন্ত পৃথিবীকে জানিয়ে যাবে শনির অজানা সব তথ্য। সেই মতোই নিজের নির্ধারিত ভাগ্য মেনে দীর্ঘ ২০ বছরের যাত্রা শেষে সূর্য থেকে ৬ নম্বর গ্রহটির বুকে ঝাঁপ দিয়ে ছাই হয়ে গেল মহাকাশযান ক্যাসিনি।

এই যান সর্বশেষ শনির ছবিটি তুলে পাঠিয়েছে সেটি শনিবার হিসেবে ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। রহস্যে মোড়া শনির এত কাছ থেকে ছবি তুলতে বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি আর কোনও মহাকাশযান। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ওই ছবি ও তথ্য থেকে অনেক অজানা খবর মিলতে পারে ওই গ্রহ সম্পর্কে। শনির বায়ুমণ্ডল ফুঁড়ে ধীরেসুস্থে নিরাপদে নামানোর মতো করে নয়, এই মরণ-ঝাঁপের জন্যেই তৈরি করা হয়েছিল ৩৯০ কোটি ডলারের ক্যাসিনিকে।

এ ছিল নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ এবং ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা এএসআই-এর যৌথ প্রয়াস। ক্যাসিনি তার লক্ষ্য পূরণ করায় উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। টুইটারে বার্তা ভেসে উঠেছে, ‘‘রাতের আকাশে যত বার শনিকে দেখব, প্রতি বার তোমার কথাই মনে পড়বে আরআইপি, শান্তিতে থেকো ক্যাসিনি। ’’

বিভাগ:বিজ্ঞান