আর্কাইভ

Archive for the ‘বিজ্ঞান’ Category

বদলে গেছে কম্পিউটার প্রকৌশল

abdullah al-faruqueকম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে বহু শিক্ষার্থীর। অনেকে পড়ছেন, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন আগের চেয়েও উন্নত হচ্ছে কম্পিউটার। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা? এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক

কম্পিউটার যখন প্রথম তৈরি হয়, তার আকৃতি ছিল বিশাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ছোট হতে শুরু করল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন কম্পিউটারে আমরা যে ধরনের কাজ করতাম, এখন স্মার্টফোনেই তার চেয়েও জটিল কাজ করা যায়। এখন আস্ত একটা কম্পিউটার আপনার হাতঘড়ির মধ্যেই এঁটে যেতে পারে। এই যে কম্পিউটারের ছোট হয়ে আসা, এটা একটা বিরাট কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। আমরা যাকে বলছি ‘এম্বেডেড সিস্টেম’।

আমরা মানুষের চোখের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর ঢোকানোর চেষ্টা করছি। দেহের বিভিন্ন অংশে মাইক্রোপ্রসেসর বসানোর কাজ চলছে। গাড়ি এখন আর স্রেফ ‘ইলেকট্রো মেকানিক্যাল’ যন্ত্র নয়, গাড়ির মধ্যে প্রচুর মাইক্রোপ্রসেসর আছে। নতুন যে গাড়িগুলো বের হচ্ছে, এর বেশির ভাগই কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা এখন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের কথা বলছি। সমগ্র বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি। প্রকৌশলের সব শাখায় কম্পিউটার ঢুকে পড়েছে। এটাই হলো আগামী দিনের কম্পিউটার প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ আর সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র।

আমি যেমন কাজ করছি ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’ নিয়ে। কম্পিউটারকে সাধারণত বলা হয় ‘সাইবার সিস্টেম’। যেখানে হার্ডওয়্যার আছে, সফটওয়্যার আছে। কিন্তু এই কম্পিউটারই যখন অন্য কোনো যন্ত্র যেমন স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড কিংবা মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তাকে বলে ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’।

আমি মনে করি, কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের এখন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু প্রোগ্রামিং শিখে বা শুধু কম্পিউটার-বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে এগিয়ে থাকা যাবে না। স্বয়ংক্রিয় কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, বায়োমেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব শাখায় কম্পিউটার প্রকৌশলী প্রয়োজন। এখন কম্পিউটার প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়। আগে প্রকৌশলের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় প্রকৌশলীরা নিজেদের মতো করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। এখন তড়িৎকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল…সব শাখার প্রকৌশলীরা এক হয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। তাই এগিয়ে থাকতে হলে সব বিষয়েই জানতে হবে। অন্তত জানার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকতে হবে।

কাজটা কিন্তু খুব কঠিনও নয়। আমরা যখন বুয়েটে পড়তাম, আমরা জানতাম না, এমআইটির শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে কাজ করছে? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির একজন অধ্যাপক কী নিয়ে ভাবছেন? কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা নতুন কী নিয়ে গবেষণা করছেন? বিশ্বসেরা জার্নালগুলোতে কোন প্রবন্ধ নিয়ে কথা হচ্ছে?

এখন কিন্তু এসব জানা খুব সহজ। ইন্টারনেট সব সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে যে বিজ্ঞাননির্ভর জার্নালগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে ঢুঁ মারলেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন, এখনকার ‘ট্রেন্ড’ কী, প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ কী? জার্নালগুলোতে সব সময় আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়। শুধু এখনকার সময়ই নয়, ১০ বছর পরে টেকনোলজির ‘ট্রেন্ড’ কী হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা থাকে জার্নালে। ছাত্রাবস্থায়ই বিজ্ঞাননির্ভর জার্নাল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

একটা সময় দেখা যেত ভারতের আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) বা চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে ইউরোপ-আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেতেন। বিশ্বমানের গবেষণার পাশাপাশি ওরা কিন্তু এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ওদের লক্ষ্য এখন উদ্যোক্তা হওয়া। সিলিকন ভ্যালিতে দেখবেন অনেক ভারতীয়, চীনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফার্ম আছে। ওরা ভবিষ্যৎ মার্ক জাকারবার্গ হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও দৃষ্টি থাকতে হবে দূরে। বিজ্ঞান গবেষণায় ও উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিতে চাইলে, আগামী দিনের পৃথিবীতে কোন প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে, সেটা বুঝে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। কিন্তু এটা অসম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমি যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেখি, অনেকে ভালো করেন আবার অনেকে করেন না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় একটা ভয় কাজ করে। একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীকে হয়তো একজন জীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে। তাই বলে ভয় পেলে চলবে না। গবেষণার জন্য আমাকে যেমন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এখন যাঁরা কম্পিউটার প্রকৌশল পড়ছেন, একদিন হয়তো তাঁদেরও এমন কাজ করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। আমি আগে শিখিনি তো কী হয়েছে? শিখে নেব। যাদের সাহস থাকে, তারাই এগিয়ে যায়।

আমার অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, তারা কখনো বলে না, ‘আমি তো এটা করিনি। আমি তো এটা পারি না।’ হয়তো নতুন একটা সমস্যা নিয়ে আমরা আলাপ করছি। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মত জানায়, আলোচনায় অংশ নেয়।

আজকাল ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে। আইওটি হলো যেকোনো সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম নির্ভর প্রযুক্তিকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া। সব যন্ত্রের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর, সেন্সর, যোগাযোগের ক্ষমতা ঢুকে পড়ছে। এর ফলে যেটা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা’ নিয়েও এখন প্রকৌশলীদের ভাবতে হচ্ছে। ধরুন, একটা গাড়িতে যদি সফটওয়্যার থাকে, আমি কিন্তু আপনার গাড়ি হ্যাক করে ফেলতে পারব। মানবদেহের ভেতরে যদি কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বসানো হয়, আমি একটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমি একটা পুরো শহরের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তাই ‘নিরাপত্তা’ও গবেষণার একটা বড় ক্ষেত্র। পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ (ডেটা অ্যানালাইসিস)…এসব নিয়ে প্রচুর পড়তে হবে।

আমি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী। নিশ্চয়ই আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামী দিনের প্রযুক্তির দিকনির্দেশনায় একটা বড় ভূমিকা রাখবে। (অনুলিখিত)

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেছেন। কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর জার্মানির আকেন টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে এবং পিএইচডি করেছেন কার্লসরুয়ে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে। গবেষণার জন্য থমাস আলভা এডিসন পেটেন্ট অ্যাওয়ার্ড, আই ট্রিপলই সিইডিএ আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেমস ল্যাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন এই বাংলাদেশি গবেষক। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক সম্পর্কে বিস্তারিত: aicps.eng.uci.edu

Advertisements

মেক্সিকো ভূমিকম্প: উঁচু ভবন টিকে থাকার ৪ কারণ

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প যখন মেক্সিকো সিটিতে আঘাত হানে তখন সেখানকার উঁচু ভবনগুলো কেঁপে উঠে। এ ভূমিকম্পে কিছু ভবন ধসে পড়লেও অনেক ভবন অক্ষত ছিল।

দেখা গেছে, যে ভবনটি ধনে পড়েছে তার ঠিক পাশের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। এর কারণ কী?

প্রথম কারণ হচ্ছে, শহরের সব জায়গায় মাটি এক রকম নয়। শহরের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে প্রাচীন হ্রদ থেকে উঠে আসা মাটির গঠনের সাহায্যে। এর ফলে অনেক জায়গায় মাটি আলগা । এ ধরনের মাটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্প হলে এ ধরনের মাটি বেশি নড়াচড়া করে। ফলে এ ধরনের মাটির উপর তৈরি করা ভবন ভূমিকম্পের সময় বেশি দুলতে থাকে। যেসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মাটির গঠনের কারণে হয়েছে নাকি ভবন তৈরির দুর্বলতার কারণে হয়েছে – সেটি বলা মুশকিল।

দ্বিতীয়ত; ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পের পর মেক্সিকোতে ভবন তৈরির নীতিমালা বা বিল্ডিং কোড সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের সে ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। এছাড়া ৩০ হাজার বিল্ডিং ধসে পড়ে এবং আরো ৬৮ হাজার বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ভবন তৈরির নীতিমালা সংশোধন করা হয়।

সে নীতিমালায় বলা হয়েছিল ভবন তৈরির সময় মাটির গুনাগুণ বিবেচনা করতে হবে। শহরের কোন এলাকার মাটি কেমন সেটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির গুনাগুণ বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা সেটি যথাযথ তদারকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে নীতিমালায়। কিন্তু সে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা সেটি পরিষ্কার নয়।

তৃতীয়ত; মেক্সিকোতে বেশিরভাগ মানুষ নিজেরাই নিজেদের বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করে কিংবা সংস্কার করে। অনেক সময় দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ভেঙ্গে সেখানে নতুন জানালা বসানো হচ্ছে কিংবা অন্য কিছু করা হচ্ছে।

তারা নিজেদের পছন্দমতো ভবনের ভেতরে পরিবর্তন আনে। ফলে অনেক সময় সেটি ভবন তৈরির নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না।

চতুর্থ কারণ; মেক্সিকো শহরে কিছু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যেগুলো ভূমিকম্প সহনীয়। এবারের ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটির ৫৭ তলা ভবনটি অক্ষত আছে। ত্রিকোণ আকৃতির এ ভবনটি ভূমিকম্পে নড়াচড়া করলেও ভেঙ্গে পড়েনি। অর্থাৎ ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে সেটি নড়াচড়া করবে, কিন্তু ভেঙ্গে পড়বে না।

এমনকি ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে মেক্সিকো শহরের দুটি সুউচ্চ ভবন- একটি ৪৪ তলা এবং ৫৪ তলা- অক্ষত ছিল।

প্রকৌশলী এবং স্থপতিরা বলছেন, ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় করে ভবন তৈরি করলে সেখান থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তারা বলছেন, কোন ভবনের ভিত্তি যদি গভীর এবং বিস্তৃত হয়, তাহলে সেটি ভূমিকম্প সহনীয় উঠে। কিন্তু ভিত্তি শুধু গভীর হলেই চলবে না।

সেটি যদি শেষ পর্যন্ত শক্ত মাটি পর্যন্ত না পোঁছায় তাহলে সেটি তেমন কোন কাজে আসবে না। কোন ভবনের কাঠামোতে যদি পিলারের পাশাপাশি কংক্রিট দেয়াল থাকে তাহলে সেটি ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় হয়। শুধু পিলারের উপর তৈরি করা ভবন ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় নয়।

সূত্র: বিবিসি

গণিতের শূন্য (০) নিয়ে নতুন তথ্য

প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানীরা গণিত শাস্ত্রের শূন্যের (০) উদ্ভাবক- এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। তাই বলে ভয়ের কিছু নেই। অন্য কোনো দেশ শূন্যের মালিকানা দাবি করেনি। প্রাচীন ভারতেই হয় শূন্যের প্রথম ব্যবহার- সেটি আরো পাকাপোক্ত হলো।

যতটা বলা হয়, প্রাচীন ভারতে শূন্যের ব্যবহার হয় তারো বেশি সময় আগে থেকে। প্রচলিত ধারণার চেয়ে আরো ৫০০ বছর আগে থেকে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোদলিয়ান লাইব্রেবির বিজ্ঞানীরা কার্বন ডেটিং পদ্ধতির সাহায্যে জানতে পেরেছেন, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের একটি পান্ডুলিপিতে ব্যবহৃত কালো ভরাট বিন্দু-ই গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত প্রথম শূন্য। গণিতের হিসাব-নিকাষে এই বিন্দুই শূন্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছর আগে। প্রাচীন জিনিসের বয়স বের করা হয় কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অক্সফোর্ডের বোদলিয়ান লাইব্রেরির বিজ্ঞানীরা কার্বন ডেটিং ব্যবহার করে প্রাচীন ভারতের পান্ডুলিপিটির বয়স বের করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি বাখশিলা পান্ডুলিপি হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের কাছে বাখশিলা গ্রামের নামানুযায়ী এর নামকরণ করা হয়। ১৮৮১ সালে বাখশিলা গ্রামে মাটির নিচে চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পান্ডুলিপিটি। ১৯০২ সাল থেকে অক্সফোর্ডের বোদলিয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে এটি। বোদলিয়ান লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান রিচার্ড অভেনডেন বলেছেন, এই আবিষ্কার গণিতের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় জ্ঞানচর্চার নতুন ইতিহাস। এই অঞ্চলে জ্ঞানবিজ্ঞানের সংস্কৃতির স্মারক এটি।

রয়টার্স।

শনির বুকে মরণঝাঁপ ক্যাসিনি মহাকাশযানের

cassini last diveযেমনটি কথা ছিল, তেমনই হল। কথা ছিল, নিজে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাবে কিন্তু তার আগ পর্যন্ত পৃথিবীকে জানিয়ে যাবে শনির অজানা সব তথ্য। সেই মতোই নিজের নির্ধারিত ভাগ্য মেনে দীর্ঘ ২০ বছরের যাত্রা শেষে সূর্য থেকে ৬ নম্বর গ্রহটির বুকে ঝাঁপ দিয়ে ছাই হয়ে গেল মহাকাশযান ক্যাসিনি।

এই যান সর্বশেষ শনির ছবিটি তুলে পাঠিয়েছে সেটি শনিবার হিসেবে ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। রহস্যে মোড়া শনির এত কাছ থেকে ছবি তুলতে বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি আর কোনও মহাকাশযান। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ওই ছবি ও তথ্য থেকে অনেক অজানা খবর মিলতে পারে ওই গ্রহ সম্পর্কে। শনির বায়ুমণ্ডল ফুঁড়ে ধীরেসুস্থে নিরাপদে নামানোর মতো করে নয়, এই মরণ-ঝাঁপের জন্যেই তৈরি করা হয়েছিল ৩৯০ কোটি ডলারের ক্যাসিনিকে।

এ ছিল নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ এবং ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা এএসআই-এর যৌথ প্রয়াস। ক্যাসিনি তার লক্ষ্য পূরণ করায় উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। টুইটারে বার্তা ভেসে উঠেছে, ‘‘রাতের আকাশে যত বার শনিকে দেখব, প্রতি বার তোমার কথাই মনে পড়বে আরআইপি, শান্তিতে থেকো ক্যাসিনি। ’’

বিভাগ:বিজ্ঞান

আরেক আইনষ্টাইনের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে!

einstein of this era -1einstein of this era -2

বৈজ্ঞানিক থিওরি বা তত্ত্ব বলতে কী বুঝায়?

scientific_theoryকোনো একটি বিষয়ে বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গড়ে ওঠা অনুমান বা ধারণা ও ধারনাসমষ্টির সারাংশই হল বৈজ্ঞানিক থিওরি বা তত্ত্ব।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের থিওরিই বৈজ্ঞানিক থিওরি। থিওরি বা তত্ত্ব কথাটি ভিন্ন কিছুও বুঝাতে পারে, কাকে আপনি জিজ্ঞেস করছেন সেই ভিত্তিতে।

সাধারণ মানুষ থিওরি বা তত্ত্ব শব্দটি দিয়ে যা বুঝায় তার চেয়ে একটু ভিন্নভাবেই শব্দটি ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীরা। বেশিরভাগ মানুষই থিওরি বা তত্ত্ব বলতে সাধারণত বিশেষ কোনো ধারণা বা অনুমানকে বুঝান যা কেউ ব্যক্তিগতভাবে মনে পোষণ করেন।

কিন্তু বিজ্ঞানে থিওরি বা তত্ত্ব বলতে বুঝায় বাস্তব কোনো কিছুকে ব্যাখ্যা করার পদ্ধতিকে।

বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া
প্রতিটি বৈজ্ঞানিক শুরু হয় একটি অনুমান হিসেবে। বর্তমান গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন অব্যাখ্যাত ঘটনার প্রস্তাবিত সমাধানকে বলা হয় সায়েন্টিফিক হাইপোথিসিস বা বৈজ্ঞানকি অনুমান। অর্থাৎ অনুমান হলো এমন একটি ধারণা যা এখনো প্রমাণিত হয়নি। যদি কোনো অনুমানের স্বপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগৃহীত হয় তাহলেই তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরের স্তরে প্রবেশ করে- বৈজ্ঞানিক থিওরি তা তত্ত্বে পরিণত হয়। এবং সেই তত্ত্বটিকে কোনো বাস্তব বিষয়ের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়।

বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হলো পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তব বিষয়ের ফ্রেমওয়ার্ক। তত্ত্ব বদলাতে পারে বা যে পদ্ধতিতে তা ব্যাখ্যা করে তাও বদলাতে পারে। কিন্তু চোখের দেখা বাস্তব কখনো বদলায় না।

তত্ত্বকে তুলনা করা যেতে পারে এমন একটি ঝুড়ির সঙ্গে যেখানে বিজ্ঞানীরা তাদের দেখা বাস্তব তথ্য এবং পর্যবেক্ষণ জমা করেন। এই ঝুড়ির আকার বদলে বিজ্ঞানীরা যখন আরো জানতে পারেন এবং আরো বাস্তব জড়ো করেন।

উদাহরণত মানুষের মধ্যে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য একটা সময়ে বেশি ছিল বা আবার একটা সময়ে কম ছিল বা নাই হয়ে গেছে এমনটা দেখা যায়। অর্থাৎ বিবর্তন ঘটেছে। এখানে বিবর্তনটা হলো বাস্তব। যা কখনোই উল্টে যাবে না। কিন্তু এই বাস্তবকে ব্যাখ্যা করার যেসব তত্ত্ব সেসব হয়তো নতুন কোনো পর্যক্ষেণের মাধ্যমে পাওয়া নতুন বাস্তব তথ্যের কারণে বদলে যেতে পারে।

তত্ত্বের মৌলিক বিষয়গুলো
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে এর মতে, তত্ত্ব হলো ‘ব্যাপক পরিসরের ঘটনাসমুহের বা বাস্তব বিষয়সমুহের বিস্তৃত বা স্পষ্ট ও প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা। ’ তত্ত্বগুলো হয় সংক্ষিপ্ত, সুসঙ্গত, পদ্ধতিগত, পূর্বানুমান বা ভবিষ্যদ্বানীমূলক এবং বিস্তৃতভাবে প্রয়োগযোগ্য। অনেক সময় তা অনেক অনুমানকে সমন্বয় এবং সাধারণীকরণ করে।
যে কোনো বৈজ্ঞানিক থিওরি বা তত্ত্বই বাস্তবের যত্নশীল এবং যুক্তিসঙ্গত পরীক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বাস্তব এবং তত্ত্ব দুটি ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাস্তব হলো তা যা পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায়। আর তত্ত্ব হলো বাস্তব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা ও ভাষ্য।

পর্যবেক্ষণমূলক ফলাফল থেকে গড়ে ওঠা কোনো বক্তব্য, বিবৃতি বা ভাষ্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো তত্ত্ব, যেমন নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব, এর আছে ঐক্য। অর্থাৎ এটি অল্প সীমিত সংখ্যক সমস্যা-সমাধান কৌশল নিয়ে গঠিত যা ব্যাপক পরিসরের বৈজ্ঞানিক পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যাবে। ভালো তত্ত্বের আরেকটি গুন হলো তা এমন কয়েকটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে যেগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা করা যায়।

বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের বিবর্তন
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চুড়ান্ত ফলাফল নয় কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। অনুমানের মতোই তত্ত্বও প্রমাণ করা যেতে পারে বা বাতিল হয়ে যেতে পারে। নতুন নতুন বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে তত্ত্ব উন্নত হতে বা বদলে যেতে পারে। যাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুমানের সঠিকতা আরো শক্তিশালী হয়।

তত্ত্ব হলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি। এবং সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তকে বাস্তব ব্যবহারে লাগানোর উপায়। বৈজ্ঞানিকরা তত্ত্ব ব্যবহার করে নতুন নতুন উদ্ভাবন করেন বা কোনো রোগের ওষুধ বানান।

অনেকে ভাবেন তত্ত্ব আইন বা নিয়মে পরিণত হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তত্ত্ব এবং নিয়মের ভিন্ন এবং আলাদা ভুমিকা আছে। আইন বা নিয়ম হলো প্রাকৃতিক জগতে পর্যবেক্ষণে ধরা পড়া কোনো কিছুর বর্ণনা। এটি ব্যাখ্যা করেনা কেন কোনো কিছু সত্য। অন্যদিকে, তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত পর্যবেক্ষণগুলোকে ব্যাখা করে তত্ত্ব। অর্থাৎ প্রকৃতিতে কোনো কিছু বাস্তবে যেভাবে আছে বা ঘটে সেটা হলো আইন বা নিয়ম (NATURAL LAW)। আর সেই আইন বা নিয়মকে ব্যাখ্যা করা হয় তত্ত্ব দিয়ে। অর্থাৎ তা কীভাবে ঘটে বা কেন ঘটে সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে যেসব অনুমাণ বা ধারণা গড়ে তোলা হয় তাকেই থিওরি বা তত্ত্ব বলে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

মানবতাবাদী বিজ্ঞানী আইনস্টাইন

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন :বিজ্ঞানের জগতে আইনস্টাইন ছিলেন রূপকথার সম্রাট। ছাত্র জীবনেই তাঁর মেধা ও প্রতিভার স্ফূরণ ঘটেছিল। তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত তত্ত¡ীয় পদার্থবিদ। আইনস্টাইন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে আপেক্ষিকতাবাদ উদ্ভাবন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার জনকও আইনস্টাইন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে তারই উদ্ভাবিত পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের মারাত্মক পরিণতি দেখে তিনি নিজেকে পরমাণুবিজ্ঞানী হিসেবে ভাবতে লজ্জাবোধ করতেন। আইনস্টাইন মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞানকে ব্যবহারের জন্যই কাজ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণের জন্য, মানবতাকে ধ্বংস করার জন্য নয়। তিনি সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি মানুষকে খুবই ভালোবাসতেন। হিরোসিমা-নাগাসাকির ঘটনায় তিনি একজন বিজ্ঞানীর পাশাপাশি হয়ে উঠেছিলেন মানবতাবাদী। জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন নিজেকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন তারই সূত্র এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োগ করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করে মানুষ ধ্বংস করার কাজে পারমাণবিক শক্তিকে ব্যবহার করলো তখন তিনি সিংহের মতো গর্জে উঠেন। এর বিরুদ্ধে তার কন্ঠ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তিনি নিজ চোখে দেখেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা ভাবতেই তিনি আতংকিত হয়ে উঠেন। আইনস্টাইনের চিন্তায় ছিল বিশ্বমানবতাবোধ। শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তারঁ মন ছিল মানবপ্রীতি ও বিশ্বমানবিকতায় ভরপুর। ব্যক্তি ও জাতির স্বাধীনতার প্রতি আইনস্টাইনের ছিল গভীর অনুরাগ। হিটলার-মুসোলিনীর মতো একনায়কতান্ত্রিক উগ্র স্বৈরশাসককে তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। তিনি তাদেরকে কখনো সহ্য করতে পারেননি। এসব জনধিকৃত ফ্যাসীবাদী শাসককে বার বার ধিক্কার জানিয়েছিলেন আইনস্টাইন।
১৯৩৯ সালে বেতার মারফত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের খবর শুনে আইনস্টাইনের মন বিপদের আশংকায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মানব জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্যে সৈনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ইউরোপে হিটলার দানবের আবির্ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবী ধ্বংস যেতে পারে, তা ভেবে খুবই বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার আশংকা ছিল, জার্মান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে ফেলে এবং তা যদি ব্যবহার করে তাহলে পৃথিবীতে মানব সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে।
১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ৬ আগস্ট মারানাক হ্রদে অবকাশ যাপন শেষে তিনি যখন নৌকাযোগে ফিরছিলেন তখন নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার একজন রিপোর্টার তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। নিউইয়র্ক পত্রিকার ওই সাংবাদিক আইনস্টাইনকে বলেন,‘আজ হিরোসিমা শহরের উপর প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের নির্দেশে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমার সম্পাদক এই সংবাদটা আপনাকে জানাতে বলেছেন।’ একটু থেমে রিপোর্টার আরো বলতে থাকেন,‘৬০ হাজারের বেশি লোক পারমাণবিক বোমায় মারা গেছে। বিকিরণজনিত অসুখে আরো অনেক লোক হয়তো মারা যাবে।’ সাংবাদিকের কাছে হিরোসিমা শহরের ধ্বংসের ভয়াবহতা শুনে আইনস্টাইন একেবারে স্তম্ভিত হয়ে যান। তাঁর দেহ-মন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি অসুস্থতাবোধ করেন। মনুষ্যত্বের অবমাননায় তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে যান। সে সময় তাঁর এক বন্ধুকে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে চিঠি লিখে জানান, ‘আমার আশংকা হয় এই পৃথিবী যত দিন মানুষ থাকবে, ততো দিনই চলতে থাকবে হিংসার বীভৎস কান্ড।’
হিরোসিমা-নাগাসাকির ঘটনায় বিজ্ঞানীর খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন আইনস্টাইন। তিনি হয়ে উঠেন মানবতাবাদী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শান্তির পতাকা নিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। জীবনের শেষ ১০ বছর তিনি বিশ্বশান্তির জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বিজ্ঞানের নতুন নতুন অবিষ্কার ও গবেষণার চেয়ে পারমাণবিক বোমার ধ্বংস ঠেকানোই প্রাধান্য পেয়েছিল তাঁর জীবনে।

হিরোসিমায় পারমাণবিক বোমা ফেলার ঘটনায় অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে তিনি বলেছিলেন,‘আমি নিজেকে পারমাণবিক বোমার জনক মনে করি না। এ ব্যাপারে আমার যেটুকু ভূমিকা ছিল তা ছিলো পরোক্ষ। আমার জীবিত কালেই এই বিস্ফোরণ ঘটবে এটা আমার চিন্তার বাইরে ছিল। তাত্তি¡কভাবে এটা সম্ভব, আমি শুধু এইটুকুই বিশ্বাস করেছিলাম।’

পারমাণবিক বোমার জনক হিসেবে আইনস্টাইনকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি এই সমালোচানাকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়েছিলেন। সমালোচনার জবাবে তিনি বলেছিলেন,‘পারমাণবিক বোমার জন্যে যদি কাউকে দায়ী করতে হয়,তাহলে তার জন্যে দায়ী বিজ্ঞান নয়,দায়ী আমাদের বিশ্ব রাজনীতি। বিজ্ঞানীরা রাজনীতি বোঝে না। কেননা রাজনীতি বিজ্ঞান থেকে অনেক বেশি জটিল এবং দুর্বোধ্যও বটে’। তিনি আরো বলেছিলেন,‘ইতিহাস প্রমাণ করে যুগে যুগে পৃথিবীতে যত অকল্যাণ ও অমঙ্গল দেখা দিয়েছে তার প্রত্যেকটির জন্য দায়ী হলো রাজনীতিবিদরা।’

লেখক: অধ্যাপক, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, তারাগঞ্জ কলেজ