আর্কাইভ

Archive for the ‘বিচিত্র’ Category

অনলাইন কেনাকাটার আচরণে নারী ও পুরুষ…

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

men vs women online buying

সম্রাট আকবর ও বীরবল-এর কাহিনী

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

akbar & birbol -first mtg

যেভাবে এলো বাঙালির বংশ পদবী!

অগাষ্ট 10, 2017 মন্তব্য দিন

খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী নামক পুচ্ছ যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।

বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি। আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস। যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

শিকদারঃ সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর সাথে ফারসি দার যুক্ত হয়ে শিকদার বা সিকদার শব্দের উদ্ভব হয়েছে। এরা ছিলেন রাজস্ব আদায়কারী রাজকর্মচারী। শব্দকোষে যাকে বলা হয়েছে শান্তিরক্ষক কর্মচারী। এরা শিক বন্দুক বা ছড়ি বন্দুক ব্যবহার করতো বলে শিকদার উপাধী পেয়েছিল; সেই থেকে বংশ পরমপরায় শিকদার পদবীর বিকাশ ঘটে।

সৈয়দঃ সৈয়দ পদবী মূলত এসেছে নবী নন্দিনী হযরত ফাতেমা ও হযরত আলীর বংশ ধর থেকে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগের এই বংশের সাথে কোনা যোগসূত্র না থাকলেও বাংলাদেশের অনেক মুসলমান পরিবার সৈয়দ বংশ পদবী ব্যবহার করে নিজেদের সম্ভ্রান্ত ও কুলীন মুসলমান বলে দাবি করে থাকেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে সৈয়দ পদবীর অপব্যবহার ও পক্ষেপণ ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। প্রকৃত পক্ষে সৈয়দ নন এবং পারিবারিক কোন কুলীন পদবীও নেই, অথবা পূর্ব পদবী ঐতিহ্য পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক বংশ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষে বাংলাদেশে সৈয়দ পদবী আরোপিতভাবে ব্যবহার শুরু করেছিলেন।

শেখঃ শেখ আরবি থেকে আগত পদবী। সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের সম্মানসূচক বংশ পদবী শেখ। যিনি সম্মানিত বৃদ্ধ অথবা যিনি গোত্র প্রধান, তাকেই বলা হতো শেখ। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) সরাসরি যাকে বা যাঁদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন, তিনি বা তার বংশ ধরও শেখ নামে অভিষিক্ত হতেন অথবা শেখ পদবী লাভ করতেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে যারা শেখ পদবী ধারণ করেন, তারা এ রকম ধারণা পোষণ করেন না যে, তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন সৌদী আরব থেকে। বাঙালি সৈয়দ পদবী ধারীদের থেকে শেখ পদবীধারীদের এখানে একটা মৌলিক তাৎপর্যগত পার্থক্য রয়েছে। শেখ পদবী গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে ঐ পূর্বোক্ত চেতনা। নবীর হাতে মুসলমান না হলেও বাংলায় ইসলাম ধর্ম আর্বিভাবের সাথে সাথে যারা নতুন ধর্মকে গ্রহণ করে নেন; নও মুসলমান’ হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে তারাই শেখ পদবী ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের বংশের উত্তর সূরীরাই শেখ পদবী ব্যবহার করে এসেছেন। এমনিতে অন্য ধর্মের লোকের কাছে মুসলমান মানেই শেখ বা সেক। কেউ কেই শেখ কেউ সেক কিংবা কেউ বা শেখ এর রূপান্তর শাইখও ব্যবহার করে থাকেন।

মীরঃ মির বা মীর শব্দটি এসেছে আরবি থেকে। আরবি শব্দ আমীর’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মীর। সেই অর্থে মীর অর্থ দলপতি বা নেতা, প্রধান ব্যক্তি, সরদার ইত্যাদি। জিতে নেয়া বা জয়ী হওয়া অর্থে মীর শব্দের ব্যবহার হতো। তবে মীর বংশীয় লোককে সম্ভ্রান্ত এবং সৈয়দ বংশীয় পদবীধারীর একটি শাখা বলে গাবেষকরা মনে করেন।

মিঞাঃ মিঞা মুসলিম উচ্চ পদস্থ সামাজিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করার জন্য ব্যবহৃত সম্ভ্রম সূচক শব্দ। এক অর্থে সকল মুসলমানের পদবীই হচ্ছে মিঞা। বাঙালি হিন্দুর মহাশয়’ এর পরিবর্তে বাঙালি মুসলমান মিয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকে। মিঞা’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। প্রভু বা প্রধান ব্যক্তি বুঝাতেও মিয়া শব্দের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে গ্রামীন প্রধান বা সর্দার অর্থের মিঞা পদবী হিসেবে বাঙালি মুসলমান সমাজে ঠাঁই পেয়েছে।

মোল্লাঃ মোল্লা এবং মুন্সী বাঙালির দুটো জনপ্রিয় পদবী। তাদের প্রসার প্রায় দেশব্যাপী। বঙ্গীয় শব্দকোষ এ মোল্লা শব্দের অর্থ করা হয়েছে মুসলমান পুরোহিত। বস্তুত এভাবে মসজিদে নামাজ পরিচালনার কারনেও অনেকে মোল্লা উপাধি পেয়েছিল। প্রকৃত পক্ষে, মোল্লা হচ্ছে তুর্কি ও আরবি ভাষার মোল্লা থেকে আগত একটি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিপূর্ণ জ্ঞান বিশিষ্ট মহাপন্ডিত ব্যক্তি। অন্য অর্থে মুসলিম পন্ডিত বা ব্যবস্থাপক বা অধ্যাপক হলেন মোল্লা। পরবর্তী কালে মসজিদে নামাজ পরিচারলনাকারী মাত্রই মোল্লা নামে অভিহিত হতে থাকে। এখান থেকেই সাধারণত বংশ পদবী হিসেবে তা ব্যবস্থার হওয়া শুরু হয়। তাঁরা সকল জ্ঞানের জ্ঞানী না হওয়া সত্ত্বেও মোল্লা পদবী ধারণ করে। যার ফলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত’ প্রবাদের উৎপত্তি হয়েছে।

দাসঃ বাঙালি হিন্দু সমাজে দাস বা দাশ বংশ পদবীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। যে সমস্ত হিন্দু সম্পদায়ের মানুষ পদবীতে দাশ লিখেন তাদের পেশা ধীবর থেকে এসেছে বলে গবেষকরা মনে করেন। আর যারা দাস লেখেন তাদের পদবী স্রষ্টার ভূত্য চেতনা থেকে এসেছেন।

খন্দকারঃ মুসলিম সমাজের ফারসি শিক্ষক হিসেবে খোন্দকার বা খন্দকারের পরিচয় পাওয়া যায় । অন্য দিকে খোন্দকারের ‘ পদবী এসেছে সামন্ত সমাজ থেকে পেশাজীবী হিসেবে। সাধারণ ভাবে খোন্দকার বা খন্দকার অর্থ হচ্ছে কৃষক বা চাষাবাদকারী । মনে করা হয় ফারসি কনদহ এর যার অর্থ কৃষি’সাথেকার যুক্ত হয়ে কনদহকার> খনদহকার>খন্দকার হয়েছে। ভিন্ন মতে, খন্দকারের মূল উৎপত্তি সংস্কৃত কন্দ> খন্দ যার অর্থ ফসল বলা হয়েছে। এই খন্দ এর সাথে কার যুক্ত হয়েও খন্দকার> খোন্দকার হতে পারে। এবং এতেও পূর্বের খন্দকার’ শব্দের উৎসের অর্থের তারতম্য ঘটছে না। আবার ফারসি ভাষায়, খোন্দকার বলে একটি শব্দ আছে যার অর্থ শিক্ষক। সেখান থেকেও খোন্দকার পদবী আসা বিচিত্র কিছু নয়। অথবা খোন্দকার শব্দের যে ভিন্নভিন্ন অর্থ তার সবগুলো মিলিত তাৎপর্য থেকেই বিভিন্নভাবে খন্দকার পদবীর উৎপত্তি হয়েছে।

আখন্দঃ খন্দকার ও আখন্দ বা আকন সমার্থক। আখন্দ ও আকন নামে যে সব পদবী তাও সম্ভবত খন্দকার পদবীরই রূপভেদ। খন্দকার>আখন্দ> আকন হয়ে থাকতে পারে। আবার ফারসি আখুন্দ থেকেও আখন্দ এসে থাকতে পারে। যার অর্থ শিক্ষক। তবে আকন্দ এসেছে আখন্দ থেকেই।

চৌধুরীঃ সংস্কৃত চতুধারী শব্দ থেকে এসেছে বাংলা চৌধুরী শব্দ। এর অর্থ চর্তুসীমানার অন্তগর্ত অঞ্চলের শাসক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জমিদারদের পদবী হচ্ছে চৌধুরী। আবার অনেকে মনে করেন চৌথহারী’ যার অর্থ এক চতুথাংশ রাজস্ব আদায়কারী, সেখান থেকে উচ্চারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে চৌধুরী’। সেদিক থেকে চৌথ আদায়কারী বা রাজস্ব আদায়কারী পদ সৃষ্টি হয়েছিল বাংলার রাষ্ট্র ব্যবস্থার। বঙ্গীয় শব্দকোষ বলছে, চতুর’ যার অর্থ তাকিয়া বা মসনদ, তার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর’ (অর্থ ধারক) এবং এই দুয়ে মিলে হয়েছে চৌধরী’ আর তার থেকেই চৌধুরী’। তবে তা মূলত হিন্দী ও মারাঠি শব্দ। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে চৌধুরী বংশ পদবী ব্যবহার করা হয় এদেশে। বৃটিশ-ভারতের প্রায় সর্বত্র এ পদবীর অস্তিত্ব ছিল। কারণ চৌধুরী ছিল সামন্ত রাজার পদবী।

ভূঁইয়াঃ এই বংশ পদবীটি এসেছে খোদ ভূমির মালিকানা অর্থ থেকে। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় এর মধ্যে এ পদবীর প্রচলন আছে। বাঙালি হিন্দু সমাজে যাঁরাই ভৌমিক’ বাঙালি মুসলমান সমাজে তারা ভূঁইয়া’ হিসেবে পদবী ধারণ করেছেন। মূল সংস্কৃত শব্দ ভৌমিক > (প্রাকৃত) ভূমিকা > (বাংলা) ভূঁইয়া > থেকে ভূঁইয়া বা ভূঁঞা এসেছে। প্রাচীন বড় জমিদার বা সামন্ত রাজার উপাধিও ছিল ভূঁইয়া। প্রকৃত পক্ষে কুলীন বংশ পদবীই ছিল তা। আবার যে সব মানুষ আগে স্থান বিশেষে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি ও চাষাবাদের পত্তন করেছে তারা স্থানীয় জমিদার রাজার কাছ থেকে ভূঁইয়া নামে অভিহিত হয়ে ঐসব জমি জমার স্বত্ব লাভ করেছে।

মজুমদারঃ মজুমদার’ পদবী মূল আসলে মজুনদার’। এর মূল ফারসি শব্দ হচ্ছে মজমু আনদার’। রাষ্ট্রের ও জমিদারির দলিল পত্রাদির রক্ষক রাজকর্মচারীর জন্যে এই পদবী সংরক্ষিত ছিল। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশে মজুমদার’ পদবীর ব্যবহার লক্ষনীয়।

তরফদারঃ আরবি তরফ’ এবং ফারসি দার’ মিলে তরফদার শব্দের সৃষ্টি। রাজ্যের খাজনা আদায়ের মহালে তদারককারী বা খাজনা আদায়কারীর উপাধী ছিল তরফদার। এই পদবী ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর পূর্ব পুরুষরা রাজকার্য পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন,সেখান থেকেই এই বংশ পদবী উৎপত্তি ও প্রচলন। অন্যমতে তরফদার তরফের রাজস্ব আদায়কারী লোক; তরফের মালিক; পদবী বিশেষ।

তালুকদারঃ আমাদের দেশে পরিচিত একটি বংশ পদবী। বাংলাদেশে জমিদারির পরই তালুক ভূ-সম্পত্তির একটি বিভাগ। মোগল ও বৃটিশ আমলে রাজস্ব ও ভুমি সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে যে সমস্ত পদবীর উৎপত্তি ও বিস্তার তার মধ্যে তালুকদার’ হচ্ছে অন্যতম পদবী। তালুক’ শব্দ থেকেও এই পদবীর মর্মাথ উপলব্ধি করা সম্ভব। আরবি শব্দ তা’ আল্লুক’ যার অর্থ ভূ-সম্পত্তি এবং এর সাথে ফারসি দার’ যুক্ত হয়ে (তা’আল্লুক+দার) তালুকদার’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, যিনি তালুকদার, তিনি জমি ও ক্ষুদ্র ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিতেন সরকারের কাছ থেকেও যেমন, তেমনি জমিদারের কাছে থেকেও। ফলে তিনি হতেন উপজমিদার সেই অর্থেই এসেছে তালুকদার’।

সরকারঃ সরকার’ শব্দটি ফারসি থেকে আগত। এর অর্থ প্রভূ, মালিক, ভূস্বামী, শাসনকর্তা, রাজা। অর্থ আদায় ও ব্যয় সংক্রান্ত কর্মচারি ও সরকার। মোগল আমলে এদেশের স্থানীয় রাজকর্মচারিদের এ পদবী দেয়া হতো। মোট কথা প্রধান কর্মচারি এবং সম্পত্তি দেখাশুনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সরকার বলা হতো। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই এ পদবীর ব্যবহার আছে।

মল্লিকঃ আরবি মালিক’ বা মলিক’ শব্দ থেকে এসেছে মল্লিক’ বংশ পদবী। ফারসি মালিক শব্দজাত মল্লিক ভূম্যাধিকারী বা জোতদারের উপাধি। গ্রাম প্রধান বা সমাজের প্রধান ব্যক্তি মালিক। আবার লিপিকুশল রাজকর্মচারিকে মোগল আমলে মল্লিক বা সুলেখক আখ্যা দেয়া হত বলেও আমরা জানতে পারি। হয়তোবা সেই থেকে মল্লিক বংশ পদবী এসেছে।

মন্ডলঃ বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সমাজে সমান ভাবে ব্যবহৃত হয় মন্ডল পদবী। বাংলাদেশে অতীত কাল থেকে গ্রামের অনানুষ্ঠানিক এবং সাধারণ ভাবে গ্রাম- প্রধানকে বলা হয় মন্ডল। বাংলা মন্ডলরা আগে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। মন্ডলীয় কাজ করে তারা অনেক অধিকার ভোগ করতেন। খাজনা আদায়কারী ও রায়তদের মধ্যস্থতা করা কিংবা গ্রামীন বিবাদ আপোস মীমাংসা করতে মন্ডলরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতেন। কোন কোন সময় তাদের অধীনে পাটোয়ারি, তহসিলদার, চৌকিদার ইত্যাদি কর্মচারী কাজ করতেন। সরকার ও রায়তদের মধ্যবর্তী মানুুষ হিসেবে মন্ডলরা অধিক পরিচিত ছিল।

ফকিরঃ মুসলমানদের মধ্যে সন্ন্যাসবৃত্তি’ থেকেই এসেছে ফকির’ পদবী। মরমী সাধকরা গ্রহণ করতেন ফকির’ পদবী। এটি আরবি শব্দ, যার মূল অর্থ নি:স্ব। আবার আরবি ফকর শব্দের অর্থ দারিদ্র। এ থেকে ফকির শব্দের উৎপত্তি। ফকির এবং পার্শি দরবেশ ব্যক্তিগণ সাধারণত এদেশে ফকির নামে পরিচিত। বিশেষ কোন ধর্ম মতের একান্ত অনুসারী না হয়ে যারা সকল ধর্মের মূলনীতি নিয়ে আত্মতত্ত্বের সন্ধান করেন তাদেরকেও ফকির বলা হয়। আবার সুফি বা বাউল তত্বের ধারকরাও ফকির।

ঠাকুরঃ বাংলা শব্দের বিশেষজ্ঞ হরিচরণ বন্দ্যোপধ্যায়ের মতে- ঠাকুর শব্দের মূল হচ্ছে (সংস্কৃত) ঠাক্কুর’ তার থেকে > (প্রকৃত) ঠকুর > (বাংলা) ঠাকুর এসেছে। পদবীগত দিক থেকে তা ব্রাক্ষণের পদবী বিশেষ, এমনকি ক্ষত্রিয়েরও উপাধি এটি। মধ্য যুগের কাব্য চৈতন্য ভাগবত’ উদ্ধৃত করে লেখক বলেছেন, তা বৈঞ্চবেরও উপাধি। যেমন, হরিদাস ঠাকুর। পাচক ব্রাক্ষণও এক প্রকার ঠাকুর বলে পরিচিত। তবে আহমদ শরীফ সম্পাদিত সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান’ বলছে, সংস্কৃত ঠক্কুর থেকে ঠাকুর আসলেও এর মূলে ছিল তুর্কী শব্দ। বাঙালি হিন্দু-মুসলমান উভয়েই এই পদবী ব্যবহার করে।

এরকম শতাধিক বংশ পদবী রয়েছে আমাদের দেশে। বাঙালির পদবীর ইতিহাস বৈচিত্র পথ ও মতের এক অসাধারণ স্মারক হিসেবে চিহিৃত। (তথ্য সুত্র somewhereinblog)

ভিন্নধর্মী কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান…

ডিসেম্বর 19, 2016 মন্তব্য দিন

different-type-schools

ছেলে গুগলের প্রকৌশলী, বাবা আজো দিনমজুর!

ডিসেম্বর 19, 2016 মন্তব্য দিন

ramchandraভারতের রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ২৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে সজাত শহরের রামচন্দ্র (২৬) গুগলে চাকরি করেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর তাঁর বাবা তেজারাম সংখলা (৫০) এখনো প্রতিদিন বস্তা টানেন। দিন শেষে ৪০০ রুপি আয় করেন!

তবে রামচন্দ্র তাঁর বাবা ও মাকে ভুলে যাননি। নিজে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। বাবা তেজারাম ঋণ করেছেন। গুগলে চাকরি হওয়ার পর সেই ঋণ শোধ করেছেন রাম, এলাকায় বাড়ি করেছেন। বাবা তেজারামকে বলেছেন বিশ্রাম নিতে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস ভুলতে পারছেন না তেজারাম। সকাল হলেই চলে যান মেহেদি পাতার বস্তা তুলতে। ট্রাকে মেহেদি পাতার বস্তা তুলে দেন। অর্থ উপার্জনের জন্য নয় আনন্দের জন্য কাজটা করেন তিনি।

২০১৩ সালে গুগলে চাকরি পান রামচন্দ্র। চলতি বছর এপ্রিলে সিয়াটল চলে যান তিনি। এরপর বাবাকে বিশ্রাম নেওয়ার কথাই বলছেন রাম। কিন্তু তেজারাম জানান, কাজ না করে তিনি থাকতে পারবেন না।

রামচন্দ্র বলেন, ‘আমি বাবাকে বলেছি কাজ না করতে। কিন্তু তিনি শোনেন না।’

সজাতে সরকারি একটি হিন্দি মাধ্যম স্কুলে পড়েন রামচন্দ্র। ২০০৯ সালে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি রোরকেতে ভর্তি হন। স্থানীয় এক আদালতের কর্মকর্তার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রামচন্দ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরে সেমিস্টার ফি দিয়েছেন ওই শহরেরই অন্য এক বাসিন্দা।

রামচন্দ্র বলেন, শহরের লোকজন আমাকে কিছু কাপড় ও একটি স্যুটকেস কিনে দেন। পরে সবাই চাঁদা তুলে ৩০ হাজার রুপি দিয়ে আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেন। দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই আমি শিক্ষা ঋণ পেয়ে যাই। যা দিয়ে আমার বাকি পড়াশোনাটা চলে যায়।

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে স্কলারশিপ থেকে আসা টাকা থেকে জমাতেও শুরু করেন রামচন্দ্র। সেই জমানো অর্থ দিয়ে ৭০ হাজার রুপি দিয়ে মা ও বাবাকে একটা রান্নাঘর করে দেন তিনি।

গুগলে চাকরি পাওয়ার পর বাবা তেজারামের সব ঋণ শোধ করেন রামচন্দ্র। তাঁর বাবা ঋণ করেন সাড়ে তিন লাখ রুপি এবং শিক্ষা ঋণ ছিল পাঁচ লাখ রুপি। সব অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছেন রামচন্দ্র। বাবা ও মায়ের জন্য একটা বাড়ি করে দিয়েছেন রাম। আর কিনেছেন দেড় একরের একটি কৃষি জমিও। মা রামি দেবী ওই জমি দেখাশোনা করেন।

রামের মা মারি দেবী ছেলের বেশ প্রশংসা করলেন। তিনি বলেন, ‘ও ছোটবেলা থেকেই বেশ ভালো ছাত্র ছিল। আমরা জানতাম ও আমাদের দিন বদলে দেবে।’

রামচন্দ্র জানালেন, তিনি যখন ঋণ পরিশোধ করতে যান, তখন অনেকেই এ টাকা নিতে চায়নি। তাঁরা পরামর্শ দেন, অন্য কোনো ভালো শিক্ষার্থীকে এভাবেই সাহায্য করতে।

উৎসঃ দ্য হিন্দুস্তান টাইমস

ট্রাম্প ও মার্কিন মিডিয়া – সেয়ানে সেয়ান !

ডিসেম্বর 9, 2016 মন্তব্য দিন

যে ট্রাম্প-কে মার্কিন মিডিয়া নির্বাচনের আগে তুলোধুনা করতে আদাজল খেয়ে নেমেছিলো, সেই মিডিয়া এখন ট্রাম-বন্দনায় আত্মনিয়োগ করেছে এবং নির্লজ্জ সর্মথন যোগাচ্ছে !

trump-best-by-timetrump-prefers-generals

ট্রাম্পপ্রশাসনে স্ত্রীনিপীড়কদের হিড়িক!

ধারাবাহিক যৌননিপীড়নের অভিযোগ আর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যৌন মন্তব্য সত্ত্বেও নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার আগে নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, আমার থেকে আর কেউ নারীদের বেশি সম্মান করেন না তবে কথা আর কাজের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার তিনি নিজ প্রশাসনে আবারও শ্রমিকস্বার্থবিরোধী ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু পুজডারকে শ্রমমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন, যিনি নারী নিপীড়নে অভিযুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা এবং মুখ্য কৌশলপ্রণয়নকারী স্টিভ ব্যাননও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। স্ত্রীনিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে স্বয়ং ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও। সবমিলে ট্রাম্প প্রশাসনে যেন স্ত্রীনির্যাতকদের হিড়িক।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্ত্রিসভায় বৃহস্পতিবার যুক্ত হয় আরেক বিতর্কিত নাম। শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধির বিরোধিতায় সরব ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু পুজডারকে শ্রমমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন ট্রাম্প। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সি কে ই রেস্টুরেন্টসএর প্রধান নির্বাহী পুজডার প্রায়ই দাবি করে থাকেন যে ন্যুনতম মজুরির হার বেশি হলে তা কাজের ক্ষেত্র কমাবে, চাকরি নষ্ট করবে। ৪০ লাখেরও বেশি মার্কিন শ্রমিকের ওভারটাইমএর টাকা বাড়ানোর লক্ষ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আরোপ করা একটি নতুন নিয়মেরও সমালোচনা করেন তিনি। ফাস্টফুড কর্মীদের মজুরি দ্বিগুণ করে ন্যুনতম ১৫ ডলার নির্ধারণ করার জন্য দেশব্যাপী যে ক্যাম্পেইন চলছে তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন অ্যান্ড্রু পুজডার। শনিবার হাফিংটন পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নিপীড়ন করার অভিযোগও রয়েছে।

হাফিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, মার্কিন সাপ্তাহিক পত্রিকা রিভারফ্রন্ট টাইমসএ প্রথমবারের মতো পুজডারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়। রিভারফ্রন্ট টাইমসএ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ৮০ দশকে তিনি স্ত্রীকে নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দুই দফায় পুলিশি হস্তক্ষেপ হয়েছিলো সেই ঘটনায়।

১৯৮৯ সালে পুজডারের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। ওই বছরের ২৬ জুলাই রিভারফ্রন্ট পত্রিকা এ নিয়ে প্রচ্ছদপ্রতিবেদন তৈরী করে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী হেনিংয়ে বিবাহবিচ্ছেদের নথিতে পুজডারের বিরুদ্ধে শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। হেনিং অভিযোগ করেন, পুজডার তাকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন এবং পুলিশকে ফোন করতে গেলে টেলিফোন ছিনিয়ে নিয়েছেন। পুজডার অবশ্য তার স্ত্রীর তোলা এইসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি তখন রিভারফ্রন্টকে বলেছিলেন, কোনও ধরনের শারীরিক নিপীড়নে আমি জড়িত নই।

পরে অবশ্য পুজডার একরকম স্বীকার করেন যে নিজেই নিজেকে আঘাত করতে যাওয়ায় স্ত্রীর কাধে আঘাত করে তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুজডারের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক এক ইমেইলে নিপীড়নের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন তার স্ত্রী। রিভারফ্রন্ট টাইমস এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করার কিছু সময়ের মধ্যে এক মুখপাত্রের মাধ্যমে সেই ইমেইলের অনুলিপি রিভারফ্রন্ট অফিসে পাঠান পুজডার।

৩০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখ দিয়ে লেখা সেই ইমেইলে দেখা যায়, পুজডার এবং তার সাবেক স্ত্রী হেনিং (যিনি আবারও বিয়ে করেছেন) তাদের সন্তান নিয়ে একত্রে সময় কাটিয়েছেন এবং হেনিং পুজডারকে অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি দিয়েছেন। তবে ৮৯ এ হেনিংএর আইনজীবী নিপীড়নের মেডিকেল প্রমাণ হাজিরে সক্ষম বলে জানিয়েছিলেন।

একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ট্রাম্পের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা এবং মুখ্য কৌশলপ্রণয়নকারী স্টিভ ব্যাননের বিরুদ্ধে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক পুলিশ প্রতিবেদনের সূত্রে ব্যননের স্ত্রীকে নিপীড়নের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। সেই পুলিশ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের বর্ষবরণের দিনে নাই্নওয়ানওয়ান নম্বরে (জরুরি আইনি সহায়তায় ব্যবহৃত মার্কিন টেলিফোন নম্বর) ফোন করে সহায়তা চান। পুলিশ ব্যাননের বাড়িতে হাজির হলে তার স্ত্রী ম্যারি লুইস অভিযোগ করেন, ব্যাননের কাছে বাজার করার টাকা চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে স্ত্রীর ঘাড় ও কব্জিতে আঘাত করেন তিনি। পুলিশকে ফোন করতে গেলে তা কেড়ে নেয় ছুঁড়ে ফেলে দেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসএর এক খবর অনুযায়ী, পুলিশ ম্যারি লুইসের শরীরে সেই ক্ষতচিহ্ন আবিষ্কার করে এবং ছবিও তুলে রাখে। ব্যাননের স্ত্রী লুইস অভিযোগ করেন, আদালতে গেলে তাকেই দোষী সাব্যস্ত করার ব্যবস্থা করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন ব্যানন।

কেবল পুজডার কিংবা ব্যাননই নন, খোদ নবনির্বাচিত প্রেুসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও রয়েছে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ। প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্পকে নিপীড়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ট্রাম্প পরে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। চেক বংশোদ্ভূত ইভানা ও ট্রাম্প ১৯৭৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে ইভানা ট্রাম্প তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে অবশ্য ইভানা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

১৯৯২ সালে ট্রাম্প ও ইভানার বিচ্ছেদের সময় এই জঘন্য অভিযোগ উঠে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে চ্যানেলএর একটি তথ্যচিত্রের বরাত দিয়ে সে সময় সান পত্রিকার খবরে বলা হয়, ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ হয় ১৯৮৯ সালে। ট্রাম্পের আত্মজীবনীকার হ্যারি হার্ট চ্যানেল৪ কে এই চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন।

হারি হার্ট ট্রাম্পের আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন, এক রাতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ঘরে এসে ইভানার চুল ধরে টানাটানি শুরু করেন। এদিনের পরই ইভানা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে। ইভানা তার জবানবন্দিতে শপথ করে বলেছিলেন, ট্রাম্প আমাকে ধর্ষণ করেছে। হ্যারি আরও বলেন, এ ঘটনায় ইভানা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে মায়ের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। সেখানে তিনি সারা রাত কাঁদেন। ইভানার বরাত দিয়ে হ্যারি বলেন, পরদিন সকালে ইভানা তার ঘরে এসে ট্রাম্পকে বসে থাকতে দেখেন। একটু পরই ট্রাম্প ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

ট্রাম্প এই দাবি অস্বীকার করেছেন বারবার। তিন সন্তানের মা ইভানা (৬৬) ১৯৯৩ সালে অবশ্য দাবি করেন, তিনি ব্যাপকার্থে ওই ঘটনাকে ধর্ষণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেছেন, আক্ষরিক অর্থে নয়। আর গত বছর ট্রাম্পের আইনজীবী বলেছিলেন, ট্রাম্প কাউকে ধর্ষণ করেননি। কেউ তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে পারে না বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্পের আইনজীবী। তিনি আরও দাবি করেন, ইভানা আবেগপ্রবণ হয়ে এটাকে ধর্ষণ বলেছেন। তবে সাবেক সংবাদ উপস্থাপিকা সেলিনা স্কট দাবি করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ডকুমেন্টরি তৈরির পর ইভানার পেছনে ছায়ার মতো লেগে থাকতেন। তার মতে, ইভানাকে মানসিকভাবে আঘাত করার জন্যই এমনটা করতেন। শুধু তাই নয়, ইভানাকে অপমান করে ১৩টি চিঠিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বর্জ্য দিয়ে ভাস্কর্য তৈরী !

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

sculpture-from-garbage-1sculpture-from-garbage-2sculpture-from-garbage-3