আর্কাইভ

Archive for the ‘বিচিত্র’ Category

ফলের আকারে বানানো বাস-ষ্টপ!

fruit-shaped bus stops 1afruit-shaped bus stops 1b

Advertisements
বিভাগ:বিচিত্র

মস্কোর ব্যাগেল হাউস

moscow bagel house 1নাবীল অনুসূর্য : ডোনাটের মতো দেখতে এক রকম রুটি আছে। নাম ব্যাগেল। গোল রুটির মাঝখানে ফুটো। রাশিয়ায় দুটি বাড়ি আছে এমন আকৃতির। স্থানীয় লোকজন আদর করে বাড়ি দুটিকে বলে ‘ব্যাগেল হাউস’। অবশ্য ব্যাগেল হাউস শুধু এই আকৃতির জন্যই নয়, বরং বেশি বিখ্যাত এদের বিশালত্বের জন্য। ৯ তলা বাড়ি দুটির একেক তালায় আছে ৯ শর বেশি অ্যাপার্টমেন্ট। সেগুলোতে যাওয়ার জন্য গেট আছে ২০টি করে। অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের নানা সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সেবার ব্যবস্থাও আছে। আছে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের দোকান। আর ফার্মেসি, লন্ড্রি, স্টুডিও, পোস্ট অফিস ইত্যাদি আছে একটি করে। মাঝের বিশাল চত্বরজুড়ে খেলার মাঠ আর সবুজ উদ্যান। মানে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে এই বিল্ডিং কম্পাউন্ড থেকে বের হওয়ার দরকারই নেই।

এই স্বয়ম্ভূ বাড়ি বানানোর কৃতিত্ব দুই রাশান ভদ্রলোকের। স্থপতি এভগেনি স্তামো ও প্রকৌশলী আলেকজান্ডার মারকেলোভ। তাঁদের মাথায় এ ধরনের বাড়ি বানানোর ভাবনা আসে সত্তরের দশকের শুরুতে। ১৯৭২ সালেই প্রথম ব্যাগেল হাউসটা তাঁরা বানিয়ে ফেলেন। একেবারে রাজধানী মস্কোতেই। দেড় শ মিটার আয়তনের একদম আংটির মতো আকৃতির একটা বাড়ি। সেটি নগর কর্তৃপক্ষের ভীষণ পছন্দও হলো। বিশেষ করে তত দিনে ১৯৮০ সালের অলিম্পিক যে মস্কোতে হচ্ছে, তা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ তাই ঠিক করল, অলিম্পিক উপলক্ষে পাশাপাশি এমন পাঁচটা বাড়ি বানানো হবে। পাঁচটি বৃত্তাকার বাড়ি মিলে তৈরি হবে অলিম্পিক রিং।

সে উদ্দেশ্যে কাজও শুরু হলো। কিন্তু দোভজহিয়োনকা স্ট্রিটে দ্বিতীয় বাড়িটির কাজ শেষ হতে হতে ১৯৭৯ সাল হয়ে গেল। তত দিনে প্রজেক্টের কপালও ফুটো হয়ে গেছে। কারণ ইতিমধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। তাই এই ভীষণ খরুচে পরিকল্পনা থেকে কর্তৃপক্ষ সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। তা ছাড়া বাড়িগুলো বানাতে যেমন খরচ, দেখভাল করতেও তা-ই। আকারে বিশাল এবং সব সুযোগ-সুবিধা আছে বটে; কিন্তু বসবাস করার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার জন্য ২০টি গেটের কোনটি দিয়ে ঢুকতে হবে, তারপর কোন পথে গেলে সেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তা রীতিমতো এক ধাঁধাই বটে। আর সবচেয়ে বড় কথা, পাঁচটি বিল্ডিং একত্র করে যে অলিম্পিক রিংটা তৈরি হবে, সেটি এখানে ঘুরতে আসার মানুষরা তো দেখতে পারবেই না, এমনকি অনেক ওপর থেকে ছবি তোলা না হলে তা বোঝাই সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে তাই পাঁচটা নয়, দুটিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল ব্যাগেল হাউসের সংখ্যা।

অন্য রকম স্বাস্থ্যনিবাস

sanatoriumঅমর্ত্য গালিব চৌধুরী : সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে স্যানাটোরিয়াম বা স্বাস্থ্যনিবাসগুলো খুব জনপ্রিয় ছিল। এগুলোর বেশ কিছু মুখ থুবড়ে পড়লেও বেশির ভাগই এখনো স্বাস্থ্যনিবাসের কাজ চমত্কারভাবে পালন করছে। অনেকেই ছুটি কাটান এসব স্যানাটোরিয়ামে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে ছুটি কাটানো মানে এই নয় যে আপনি হেলে-দুলে ঘুরবেন কিংবা সাগরতীরে বসে রোদ গায়ে লাগাবেন। এখানকার অধিবাসীরা অলস বসে ছুটি কাটানোর চেয়ে এই সময়ে নিজের শরীরটা আরো পাকাপোক্ত করার ব্যাপারেই বেশি মনোযোগী।

এগুলো তাঁরা করেন নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্বাস্থ্যনিবাসে। এই স্বাস্থ্যনিবাসগুলো কিন্তু আধুনিক স্পা সেন্টারগুলোর মতোই জায়গা। এখানে আবার অত্যাধুনিক চিকিত্সার ব্যবস্থাও আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকার তথা কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্বাস করত, সারা বছরের কাজের ধকল সামলানোর সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে স্বাস্থ্যনিবাসে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কিছুদিন অবকাশ যাপন করা। এতে দেহ-মন আরো চনমনে ও ফুরফুরে হয়ে উঠবে। এই ভেবেই এমন স্বাস্থ্যনিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে তা প্রায় ২৬ বছর হতে চলল। অনেক স্যানাটোরিয়াম এখনো চালু আছে, তবে বড় একটা অংশ বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হতে চলেছে। এগুলো শুধু রাশিয়ায়ই নয়, সারা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সব প্রজাতন্ত্রেই দেখা যায়। বিশেষ করে রাশিয়ার সোচি অঞ্চলে অনেক সুদৃশ্য স্বাস্থ্যনিবাস এখনো চালু আছে। এসব স্বাস্থ্যনিবাস পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন ডাক্তাররা। তাঁরাই ঠিক করেন দিনে কতটা ব্যায়াম করবে, কে কতটা দৌড়াবে বা কী ধরনের ওষুধ আর খাবার খাবে। এর সঙ্গে আছে ম্যাসাজ বা কর্দম স্নানের ব্যবস্থা। কিছু কিছু স্বাস্থ্যনিবাস আবার কয়েক কাঠি বেশি সরেস। কোথাও আছে হালকা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা, কোথাও আবার লবণের গুহায় গিয়ে বসে থাকা লাগে। কোথাও আলোর প্রভাবে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলা হয়। কয়েকটিতে তো স্রেফ খনিজ তেল দিয়ে গোসলের ব্যবস্থাও রাখা আছে। এই স্বাস্থ্যনিবাস থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘কুরোরটোলোজি’। এটা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের ওপর কী কী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সেসম্পর্কিত বিদ্যা। সোভিয়েত স্বাস্থ্যনিবাসে এগুলোর চর্চা হতো একসময়। অতিথিদের রুটিনও এই কুরোরটোলোজি অনুসারেই করা হতো।

কাজাখস্তানের স্তেপ বা ককেশাসের পাহাড় কিংবা রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের তীরে বালুকাবেলায় এমন স্বাস্থ্যনিবাসের উপস্থিতি সর্বত্র। বেছে বেছে এগুলো বানানো হয়েছে দারুণ সুন্দর সুন্দর জায়গায়, তার ওপর এদের অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক অঙ্গসজ্জায়ও চোখে পড়ে অত্যন্ত উঁচু মানের শিল্পের ছাপ। কোনো কোনোটি সুদৃশ্য বহুতল ভবন, কোনোটি  সায়েন্স ফিকশনের অত্যাধুনিক বিল্ডিংয়ের আদলে আবার কোনোটি স্রেফ চৌকো বিশাল ব্লকের আকারে বানানো। কিরগিজস্তানের অরোরা স্বাস্থ্যনিবাসটি দেখতে জাহাজের মতো। আবার ক্রিমিয়ার দ্রুজবা স্বাস্থ্যনিবাসের ভবনটা যেন অতিকায় এক ফ্লাইং সসার।

সোভিয়েত ইউনিয়নে এই স্বাস্থ্যনিবাস প্রথার শুরুটা হয় সেই ১৯২০ সালের দিকে। ১৯২২ সালের লেবার কোডে বার্ষিক দুই সপ্তাহ ছুটি কাটানোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৩৬ সালে জোসেফ স্তালিন সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের এই ছুটি কাটানোর অধিকার নিশ্চিত করেন। ১৯৩৯ সালে এসে দেখা গেল, গোটা দেশে স্যানাটোরিয়ামের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর ১৯৯০ সাল নাগাদ সোভিয়েত স্যানাটোরিয়ামগুলো বছরের যেকোনো সময়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষকে জায়গা দিতে পারত।

সোভিয়েত নীতিনির্ধারকদের কাছে ছুটিটা হৈ-হুল্লোড়, আমোদ-আহ্লাদে কাটানোটা বুর্জোয়া সংস্কৃতি ছিল। কাজেই সোভিয়েতরা ছুটির সময়টাতে নিজেদের শরীরটা আরো পোক্ত করার ব্যাপারেই বেশি মনোযোগ দিত। এই যেমন ১৯৬৬ সালে বিখ্যাত সোভিয়েত মডেল আন্তোনভ বলেছিলেন, ‘আমি বছরে একবারই ছুটি পাই, তাই ছুটির একটা দিনও অলস বসে নষ্ট করি না।

তা এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, পয়সা খরচ করে মানুষ কেন স্যানাটোরিয়ামে গিয়ে বসে থাকবে! মানুষের মনে তো ছুটি কাটানোর অন্য পরিকল্পনাও থাকতে পারে। সেখানেই হচ্ছে মজা। সোভিয়েত স্যানাটোরিয়ামে সরকারি কর্মীদের থাকা-খাওয়া ছিল নিখরচায়, সম্পূর্ণ ফ্রি। আর ছুটিও এক-দু দিনের না, পাক্কা ১৪ দিন পর্যন্ত এভাবে সরকারি খরচে অবকাশ কাটানো যেত। মানুষ যে ছুটির দিনগুলোর জন্য উন্মুখ হয়ে বসে থাকবে এতে আর আশ্চর্য কী! তবে এখন অবশ্য বেশির ভাগ স্বাস্থ্যনিবাসে সময় কাটাতে চাইলেই অর্থ খরচ করতে হবে আপনাকে। তবে কোথাও কোথাও আবার ব্যতিক্রমও আছে। যেমন বেলারুশে এখনো দুই সপ্তাহ করে বিনা মূল্যে ছুটি কাটানোর প্রথাটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধির এই অসাধারণ নিদর্শনগুলো দেখতে আসেন, ছুটি কাটিয়ে তরতাজা হয়ে ওঠেন। মারিয়াম ওমিদি নামের এক সাংবাদিক অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে আলোকচিত্রীদের এই সব স্বাস্থ্যনিবাসের ছবি তুলতে উত্সাহিত করেন। গত বছর এখনো টিকে আছে এমন স্যানাটোরিয়ামগুলোর মধ্যে ৪০টির অদ্ভুত চিকিত্সার ছবি তোলেন আলোকচিত্রীরা। ওই ছবিগুলো নিয়ে ‘হলিডেজ ইন সোভিয়েত স্যানাটোরিয়াম’ নামের একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।

কিছু বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের পুরোনো নাম

নামে আসলে কি থাকে? এক কথায় অনেক কিছু। এই নাম দিয়েই আমরা সবকিছুর পরিচয় চিহ্নিত করি। অনেক সময় নামেই মেলে জগৎজোড়া পরিচিতি। বিশ্বে বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শুরুর দিকে ছিল ভিন্ন নামে। এখন তাদের যে নামে মানুষে চেনে, আগের নাম শুনলে হয়তো নাক সিঁটকাবেন তাঁরা। আসুন জেনে নিই এমনই কিছু বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের পুরোনো নামের বৃত্তান্ত ।

১. ব্যাকরাব

ইন্টারনেটে এখন বিশ্বের ১ নম্বর সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি হলো গুগল। সেই গুগল একসময় ইন্টারনেটের ব্যাক লিংক নিয়ে কাজ করত। তাই কোম্পানির নাম দেওয়া হয়েছিল ব্যাকরাব। একটি ওয়েবসাইট আরেকটি ওয়েবসাইট থেকে যেসব লিংক পায়, সেগুলোকেই বলা হয় ব্যাক লিংক। একটি ওয়েবসাইটের এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজে ব্যাক লিংকের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর দিকে এ নিয়েই কাজ করত গুগল। তবে ব্যাকরাব নামটি বেশি দিন টেকেনি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি নাম বদলে গুগল রাখে। ১৯৯৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই নাম ট্রেডমার্ক হিসেবে গৃহীত হয়।

২. জেরি অ্যান্ড ডেভিডস গাইড টু দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব

এই কোম্পানির এখনকার নাম ইয়াহু। পুরোনো নামে যখন ছিল তখন কোম্পানিটি অন্যান্য ওয়েবসাইটের একটি তালিকা হিসেবে কাজ করত। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র জেরি ইয়ং ও ডেভিড ফিলো কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৯৫ সালের ২ মার্চ জেরি অ্যান্ড ডেভিডস গাইড টু দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের নাম বদল করে রাখা হয় ইয়াহু। গুগলের রাজ্য বিস্তারের আগে এটিই ছিল বিশ্বের ১ নম্বর সার্চ ইঞ্জিন। এখন অবশ্য কোম্পানিটির বাজার পড়তির দিকে। ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা জেরি ও ডেভিড ইয়াহু বিক্রিই করে দিয়েছেন। এটি কিনেছে ভেরাইজন কমিউনিকেশনস।

৩. ব্র্যাডস ড্রিংক

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনা রাজ্যের ওষুধ বিশেষজ্ঞ ক্যালেব ডেভিস ব্র্যাডহাম আবিষ্কার করলেন সুপেয় তরল পদার্থের এক নতুন মিশ্রণ। চিনি, পানি, ক্যারামেল, লেবুর রস, জায়ফল ও আরও কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় এই নতুন পানীয়। আবিষ্কারক প্রথমে এর নাম দিয়েছিলেন ব্র্যাডস ড্রিংক। দ্রুত এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৯৮ সালে ব্র্যাডহাম পানীয়টির নতুন নাম দেন ‘পেপসি-কোলা’। ব্র্যাডহাম মনে করতেন তাঁর তৈরি করা পানীয়টি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী এবং বদহজম প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. ব্লু রিবন স্পোর্টস

এই কোম্পানিটি এখন নাইকি নামে পরিচিত। এটি এখন খেলার জুতা তৈরির জন্য বিখ্যাত। ১৯৬৪ সালে ব্লু রিবন স্পোর্টস নামে যখন কোম্পানিটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন কিন্তু এটি জুতা তৈরি করত না। বরং একটি জাপানি কোম্পানির পণ্যের পরিবেশক হিসেবে কাজ করত। ১৯৭১ সালে ব্লু রিবন স্পোর্টস নিজেরা জুতা তৈরি করা শুরু করে। ওই সময় কোম্পানির নামও পরিবর্তন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইট ও বিল বাওয়ারম্যান নতুন নাম রাখেন নাইকি। প্রাচীন গ্রিসে জয়ের দেবী হলেন নাইকি। সেই নামেই পরিচিত হতে শুরু করে ব্লু রিবন স্পোর্টস।

৫. অ্যামাজিন সফটওয়্যার

অ্যাপল কোম্পানির কৌশল ও বিপণন বিভাগের সাবেক পরিচালক ছিলেন ট্রিপ হকিনস। ১৯৮২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কম্পিউটার গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজিন সফটওয়্যার। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই নাম আর পছন্দ হচ্ছিল না হকিনসের। নামের মাধ্যমে গেমসের বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝাতে প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম হয় ইএ গেমস। এখন এই নামেই গেমসের প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।

৬. স্ট্যাগ পার্টি

হিউ হেফনার ১৯৫৩ সালে পুরুষদের জন্য একটি ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম দেওয়া হয় স্ট্যাগ পার্টি। ১৯৩০-এর দশকে স্ট্যাগ অ্যাট ইভ নামের একটি কার্টুনের বই প্রকাশিত হয়েছিল। তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ম্যাগাজিনের নাম পছন্দ করেছিলেন হেফনার। কিন্তু ওই সময় পুরুষদের আরও একটি ম্যাগাজিনের নাম ছিল স্ট্যাগ। তাদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষে নাম বদলান হেফনার। কে জানত, ওই নামেই পুরুষদের অন্য সব ম্যাগাজিনকে পেছনে ফেলে দেবে এটি! নাম বদলে রাখা হয় প্লেবয়।

৭. পিসিজ লিমিটেড

বিখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হলো ডেল। প্রথমে এর নাম ছিল পিসিজ লিমিটেড। ১৯৮৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন মাইকেল ডেল। তবে বেশি দিন এই নাম পছন্দ হয়নি তাঁর। ওই বছরের শেষের দিকে পিসিজ লিমিটেড বদলে নিজের নামের শেষাংশ নির্বাচন করেন মাইকেল ডেল।

৮. রিলেন্টলেস

কম্পিউটারের ব্রাউজারে যদি আপনি রিলেন্টলেস ডট কম টাইপ করেন, তাহলে দেখবেন দ্রুত সেটি আমাজন ডট কমে চলে যাচ্ছে। এই রিলেন্টলেস হলো আমাজনের আগের নাম। প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এই নামটি পছন্দ করলেও তাঁর সহকর্মী বন্ধুদের কাছে নামটি ছিল অলক্ষুণে। এরপর নাম বদলে অ্যাবরাকাডেবরা রাখার ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষতক আমাজনের পেছনেই ভোট পড়ে বেশি। কারণ আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদী (পানির পরিমাণের দিক থেকে)। সুতরাং আমাজন নাম হলে তা প্রতিষ্ঠানটির কাজের বিশাল পরিধিকে বোঝাবে—এই ছিল যুক্তি।

মেন্টালফ্লস অবলম্বনে অর্ণব সান্যাল

২৪৫ জন একত্রে লাফ দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড!

Hortolandia, Brazilপানি থেকে ৩০ ফুট উঁচু ব্রিজ। সার বেঁধে সবাই দাঁড়িয়ে ব্রিজের ওপর। লাফিয়ে পড়তে প্রস্তুত সবাই। টান টান উত্তেজনা। যদিও গায়ে বাঁধা আছে নাইলনের দড়ি। তবুও যদি একটু ফসকে যায়, নির্ঘাত মৃত্যু। এমন ঝুঁকি আর উত্তেজনা নিয়ে একসঙ্গে লাফ দিলেন ২৪৫ নারী-পুরুষ। একই সেতু থেকে একই সঙ্গে লাফ দিয়ে তারা গড়লেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। ব্রাজিলের হর্টোল্যান্ডিয়া ব্রিজে সোমবার এ রেকর্ড গড়া হয়।

হর্টোল্যান্ডিয়া ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে গত বছর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছিল ১৪৯ জনের কীর্তি। এবার আগের রেকর্ডকে ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন ২৪৫ নারী-পুরুষ। একই ব্রিজ থেকে একসঙ্গে লাফ দিলেন তারা। লাফ দেওয়ার সেই ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গায়ে দড়ি বেঁধে সেতু থেকে এক সঙ্গে লাফিয়ে পড়ছেন অনেকেই। কিন্তু তারা সেতুর নিচে থাকা পানিতে পড়েননি। সেতু ও পানির মাঝে ফাঁকা স্থানে দোল খাচ্ছেন। এভাবে অনেকক্ষণ চলতে থাকে সেই মানবদোল। সমবেত দর্শকরাও উত্তেজনায় কেউ লাফাচ্ছেন, কেউ বা নিজের পরিচিত জনের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে ‘ফ্লাইং কিস’।

আয়োজকরা জানান,রেকর্ডের পাশাপাশি শরীরে দড়ি বেঁধে এই লাফ দেওয়া একটি আনন্দদায়ক খেলা। এই খেলার নিয়ম হচ্ছে,নাইলনের দড়ি শরীরের কোনো জায়গায় বেঁধে উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পড়া। এই খেলাটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বিখ্যাত লেখকদের অদ্ভূত পেশা…

weird habits 1aweird habits 1bweird habits 1c

বাঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরী করলেন মুসলমান শিল্পী

101 feet high durga statue 1a101 feet high durga statue 1b