আর্কাইভ

Archive for the ‘প্রযুক্তি’ Category

চাকরির বাজারে হুমকি রোবট!

robot serving 3৩০ বছরের মধ্যে তারাই সেরা সিইও হবে : জ্যাক মা

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন : মানব শ্রম আর অফুরন্ত কাঁচামালের কল্যাণে আঠার শতকের মাঝামাঝিতে বিশ্বজুড়ে যে শিল্প বিপ্লবের সূচনা একুশ শতকে এসে তা এখন পরিপূর্ণ ডিজিটাল রূপায়ণের দিকে যাচ্ছে। আর এতে মানুষ নয়, নির্ভরতার বড় উৎস হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবট।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে রোবট। এতে কম্পানিগুলোর একদিকে যেমন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে কাজের গতিও বাড়ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে অদক্ষ চাকরি থেকে শুরু করে এমনকি জ্ঞানভিত্তিক উচ্চ দক্ষতার চাকরিও এখন রোবটের কাছে হাতছাড়া হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, স্বচালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে অনেকটাই সফল কম্পানিগুলো। অদূর ভবিষ্যতে আর ট্যাক্সি ভাড়া করতে হবে না, কিংবা বাস, ট্রাক চালাতে চালকের প্রয়োজন হবে না। রেস্টুরেন্ট-শপিং মলে মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে রোবট, চিকিৎসাক্ষেত্রে রোবটিক সার্জারির অগ্রগতি এবং ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও হার্টের পরিস্থিতি বুঝতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ পেশার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে। চলতি বছর ম্যাককিনসে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রযুক্তির যে অগ্রগতি চলছে তাতে বিশ্বের অর্ধেক কাজই এক সময় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দ্বারা সম্পাদিত হবে। তবে ম্যাককিনসের গবেষকরা এখনো মনে করেন বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ চাকরি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হবে।

পিডাব্লিউসির আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ব্রিটেনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে শেষ হয়ে যাবে। বিশেষ করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাকরি বেশি লোপ পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিশ্বের শ্রমশক্তিতে কী পরিমাণ প্রভাব ফেলবে তা এসব প্রতিবেদনে এখনো পুরোপুরি উঠে আসেনি। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং সিলিকন ভ্যালিতে কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য ভিভেক ওয়াদওয়া বলেন, ‘এসব গবেষণায় কর্মসংস্থানে প্রযুক্তির প্রভাবকে এখনো ছোট করে দেখা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’

গত বছর ওয়ার্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) এক পূর্বাভাসে বলা হয়, রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জাগরণে শ্রমবাজার থেকে অন্তত ৫১ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে। আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ১৫ দেশ থেকে এ কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনা ঘটবে।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের রাস্তায় নেমেছে চালকবিহীন ট্রাক। সিঙ্গাপুরের জুরং আইল্যান্ডে কেমিক্যাল শিল্প এলাকায় ট্রাকটি পণ্য পরিবহন শুরু করেছে। ক্যাটোয়েন নাটি নামক শিল্প কম্পানিটি জানায়, তারা ছয় মাস পরে আরো ১১টি চালকবিহীন ট্রাক কাজে লাগাবেন পণ্য পরিবহনে। ১২টি ট্রাকের মাধ্যমে বছরে ৩০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। ক্যাটোয়েন নাটির সিইও কয়েন কারডন বলেন, চালকবিহীন ট্রাক নামানোর ফলে কম্পানির খরচ যেমন কমবে তেমনি সক্ষমতাও বাড়বে।

জাপানের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক মিজুহু ফিন্যানশিয়াল গ্রুপ তাদের বৈশ্বিক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কম্পানিটি দেশ ও বৈশ্বিক কার্যক্রম থেকে এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করবে আগামী এক দশকে। আর তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জাপানের স্থানীয় দৈনিক ইয়োমিউরি পত্রিকা জানায়, বর্তমানে থাকা ৬০ হাজার কর্মী থেকে ১৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে ব্যাংকটি। এ নিয়ে কম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ক্লারিক্যাল চাকরিগুলো আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে পূরণ করব।

যন্ত্রমানব নিয়ে মানুষ যখন উদ্বেগে। সে আশঙ্কার পক্ষে আরো এক ধাপ এগিয়ে মত দিয়েছেন চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। সম্প্রতি চীনের একটি বাণিজ্যিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে জ্যাক মা বলেন, ‘৩০ বছরের মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সেরা সিইও বিবেচনায় টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের দখল নিতে যাচ্ছে কোনো রোবট।’

এ সময় যারা প্রযুক্তির আসন্ন উত্থানকালের প্রস্তুতি নিয়ে রাখেনি তাদের সামনে অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আগামী তিন দশকের মধ্যেই পৃথিবীতে আনন্দের চেয়ে নিরানন্দ অনুভূতিই বেড়ে যাবে অনেকখানি।’

জ্যাক মা বলেন, ‘মানুষের তুলনায় রোবটরা অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ। তারা কখনো প্রতিযোগীদের ওপর রেগে গিয়ে আবেগতাড়িত কোনো কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত হবে না। মানুষের অসাধ্য কাজগুলোকে সহজসাধ্য করে তুলবে যন্ত্র। এসব যন্ত্র একই সঙ্গে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রুতে রূপান্তরিত হওয়ার বদলে মানুষের সহযোগীই হয়ে উঠবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বকে বদলে দেবে, যেমনিভাবে বিশ্বে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে যুগান্তকারী ইন্টারনেট। এ মন্তব্য করেছে এনভিআইডিআইএর অংশীদার সংস্থা ইএমইএর ভিপি রিচার্ড জ্যাকসন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে আধুনিক ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে এসেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায় এখন এটিকে কাজেও লাগাচ্ছে।

জ্যাকসন বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু নিজে একটি শিল্প হবে না, বরং প্রতিটি শিল্পের আবশ্যকীয় অংশে পরিণত হবে। প্রথম অবস্থায় এটিকে গ্রহণ করা নিয়ে অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাকিয়ে আছে অন্যরা কিভাবে এটিকে কাজে লাগাচ্ছে তা দেখতে। বিষয়টি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেট যখন প্রথমে আসে তখনো অনেকেই এর ব্যবহার ঠিকভাবে করে উঠতে পারেনি। আর এখন ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবসা কল্পনা করা যায়। তেমনিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও আমাদের কাছে ক্রমান্বয়ে অপরিহার্য হয়ে উঠছে। মানুষের কাজের ধরন বদলে দেবে এটি।

এএফপি, রয়টার্স। ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

মানুষকে বেকার করে দেওয়ার অধিকার নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঃ জাপানে প্রফেসর ইউনূস

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কোনোভাবেই মানুষকে বেকার করার অধিকার দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা আয়োজিত জাপান বিজ্ঞান কংগ্রেসে মূল বক্তার ভাষণে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠান জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচিতে দিকনির্দেশনা ও অর্থায়ন করে থাকে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মিশিনারি হামাগুচি বিভিন্ন সামাজিক লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞান গবেষণাকে কিভাবে জোরদার করা যায় সে বিষয়ে সংস্থাটিকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রফেসর ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানায়।

প্রফেসর ইউনূস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার লক্ষ্য ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভেবে দেখতে বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি যদি গণহারে বেকারত্ব সৃষ্টি করে তাহলে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না এমন প্রশ্ন তোলেন। কোন কোন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হবে তা নির্ধারণের জন্যও তিনি আহ্বান জানান। এছাড়া প্রফেসর ইউনূস বিজনেস ইউনিভার্সিটি অব জাপান এবং টেলিকম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জাপানে সম্ভাব্য সামাজিক ব্যবসা জয়েন্ট ভেঞ্চার পার্টনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জাপানে গ্রামীণ আমেরিকার আদলে একটি গ্রামীণ রেপ্লিকেশন প্রগ্রাম ‘গ্রামীণ নিপ্পন’ চালুর উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সভায়ও যোগ দেন।

Advertisements

বিশ্বের দ্রুতগামী ট্রেনগুলো

fastest trains of the world

মোটর মেকানিক থেকে দেশ সেরা আবিষ্কারক

mizanur rahman inventorএকাডেমিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা এবং চেষ্টায় যে কেউ হতে পারে আলোকিত। যশোরের শার্শা উপজেলার মোটর সাইকেল মেকানিক মিজান তার দৃষ্টান্ত। কঠোর পরিশ্রম ও প্রবল আগ্রহে মিজান এখন দেশসেরা আবিস্কারক ও উদ্ভাবক হতে যাচ্ছেন। নতুন নতুন চিন্তা আর গবেষণায় এখন তার আবিস্কারের সংখ্যা ৮ টি।

১৯৭১ সালরে ৫ মে শার্শা উপজলোর নজিামপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ মিজানুর রহমান পিতা-মাতার ৬ সন্তানরে মধ্যে মিজান ৫ম। দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া শিখতে পারেননি মিজান। ৮/৯ বছর বয়সেই বেঁেচ থাকার তাগিদে নেমে পড়েন মজুরের কাজে। মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো এবং মেরামতের কাজ করেন মিজান। পরর্বতীতে নাভারন বাজারে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান তিনি। সেখান থেকেই তার মোটর মেকানিক হিসেবে র্কমজীবন শুরু হয় তার। র্বতমানে র্শাশা বাজারে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওর্য়াকসপ নামে একটি মোটর সাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে তার। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল নতুন কিছু করা, নতুন কিছু জানা। তবে মেকানিক হেসেবে তার ইঞ্জিন তৈরি করতে প্রবল আগ্রহ ছিল।

মিজানের আবিষ্কার

মিজান প্রথমে উদ্ভাবন করনে হাফ ক্রানসেপ্ট দিয়ে একটি আলগা ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনের সকল যন্ত্রপাতি দেখা যেত বাইরে থেকে। এ ইঞ্জিনটি একবার জ্বালানি তেল দিয়ে চালু করলে পরর্বতীতে আর তেলে লাগতো না। ইঞ্জিনের সৃষ্ট ধোঁয়া থেকে জ্বালানি তৈরি করে নিজে নিজে চলতো ইঞ্জিনটি।

ঢাকার তাজরিন গার্মেন্টস এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির পর মিজান দ্বিতীয় গবষণা করে উদ্ভাবন করনে স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র, যা বাসা বাড়ি, কলকারখানা, অফিস-আদালতে আগুন লাগলে যান মালের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষার্থে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। এটি বিদ্যুত্ না থাকলেও চলবে। এই যন্ত্রটি অল্প জায়গায় রাখা যায়। কোনো জায়গায় আগুন লাগলে যন্ত্রটি তার তাপমাত্রা নির্ণয়ক যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন’র অবস্থান নিশ্চিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলার্ম ও লাইট অন করে দেয়। তারপর একইসাথে সংযুক্ত মোবাইল থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোন করে দেয়, পাশাপাশি যন্ত্রটি পানির পাম্পকে সুইচ অন করে দেয়। যা আগুনের অবস্থান নিশ্চিতের ৫/৭ সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভব হয়। অতঃপর পানির পাম্প’র সাথে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে আগুনের অবস্থান পৌঁছে দেয় এবং অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা বলয়ের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিভে যায়। এটি উদ্ভাবনির পর ২০১৫ সালে যশোর জেলা স্কুেলর একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় মিজান এটি প্রর্দশন করে প্রথমস্থান অধিকার করেন। পরর্বতীতে এটি বিভাগীয় এবং জাতীয় র্পযায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয়স্থান অধিকার করেন।

দেশে পেট্র্ল বোমায় যখন মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল ঠিক সে সময়ে মিজান উদ্বাবন করেন তার তৃতীয় উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ জ্যাকেট। এ জ্যাকেট পরে ড্রাইভার বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। এতে করে আগুনের মাঝে গিয়ে সম্পদ রক্ষা করার সময় তার শরীরে আগুন র্স্পশ করবে না।

তার চর্তুর্থ উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ হেলমেট। এটি ব্যবহার করলে র্দুঘটনার আগুনে গলার শ্বাসনালি পুড়বে না।

তার পঞ্চম উদ্ভাবন হলো প্রতিবন্ধীদের জীবন-মান উন্নয়নে মোটরকার। এটা বিদ্যুত্ বা পেট্র্ল চালিত।

কৃষকদরে জন্য স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন হলো তার ষষ্ঠ উদ্ভাবন। কৃষকরা দূর-দূরান্তরে মাঠে জমিতে পানি দিতে আর ক্ষেতে যেতে হবে না। বাড়ি বসেই সেচযন্ত্রটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তাছাড়া এ যন্ত্রটি জমিতে পানির প্রয়োজন হলে নিজে নিজেই চালু হয় এবং পানির প্রয়োজন না থাকলে এটি একা একাই বন্ধ হয়ে যায়।

দেশীয় প্রযুক্তিতে মিজান তার সপ্তম উদ্ভাবন করেছেন ফ্যামেলি মোটরযান। ব্যবহারযোগ্য এ কার এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মিজানরে অষ্টম উদ্ভাবনে রয়েছে পরিবেশ সেফটি যন্ত্র। এটি পরিবেশ রর্ক্ষাথে বহুমুখী কাজ করে থাকে। যন্ত্রটি বাড়ি, অফিস বা কলকারখানায় ময়লা পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। হাতের র্স্পশ ছাড়াই এ যন্ত্রটি পরিষ্কর করার কাজে ব্যবহার হয়। এ যন্ত্রটি উদ্ভাবনরে পর ২০১৬ সালের ৫ জুন জাতীয় পর্যায়ে মিজান পরিবেশ পদক লাভ করনে। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় র্পযায়ে মিজান এ র্পযšত মোট ১৭টি সাফল্য সনদ ছাড়াও পয়েছেনে অসংখ্যা ক্রেস্ট ও সাফল্য পুরস্কার।

এরই মধ্যে মিজানের আবিষ্কৃত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে ছোট ছোট অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষপেও নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আ : সামাদ জানান, বিশ^বিদ্যালয়ে না পড়েও একজন অশিক্ষিত লোক বেশ কিছু নতুন জিনিস আবিস্কার করে রীতিমত সাড়া ফেলেছে। আমরা তাকে উৎসাহিত করেছি। সে ডিজিটাল মেলাসহ জাতীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছে।

২০১৭ সালে পরিবেশে বান্ধবযন্ত্র আবিষ্কারে বিশ্ব পরিবেশ পদক নির্ধারিত হওয়ায় আগামী ৫ জুন মিজানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক দেয় পরিবেশে অধিদপ্তর। মিজান জানান, তার স্বপ্ন দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করা। তার র্বতমান উদ্ভাবন গবষেণা চলছে দুষতি বায়ুশোধন যন্ত্র আবিস্কারের।

নিজের শক্তিতেই ভরসা !

চীনের উইচ্যাটের আদলে আমাদের দেশে বাংলাচ্যাট বা বাংলাসংযোগ জাতীয় নাম দিয়ে বাংলা ভাষায় এমন অ্যাপ এবং পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় সাধনকারী ব্যবস্থা শীঘ্র চালু করা দরকার । এজন্য সরকার উদ্যোগ ও অর্থায়ন করে বেসরকারী খাতের উপর বিকাশের ভার তুলে দিতে পারে ।

lunjhou gansu province

২০১১-তে শুরু। এখন ২০১৭। ছয় বছরেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মাত করেছে দুনিয়াকে। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সুবিধা। যা এই অ্যাপসকে পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভাবনী অ্যাপস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অল্পদিনেই। বলছিলাম উইচাটের কথা। দুনিয়াজুড়ে যখন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল আর ইনস্টগ্রামের মাতামাতি তখন চীনে ভরসা একটাই। তা হচ্ছে উইচাট। নিজের শক্তিতে ভরসা চীনের নাগরিকদের। তোয়াক্কা নেই দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে? কান দিচ্ছে না কোনো কিছুতেই। তাইতো বিশাল এই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রমাণ করেছে তারা এগিয়ে নিতে চায় তাদের উদ্ভাবনী প্রতিভাকে। বলা হয় সব কিছুর চাইনিজ সংস্করণ আছে। তারা তাদের সৃষ্টিশীলতাকে শ্রদ্ধা করে। ভালোবাসে। শুধু ইলেক্টনিক্স সামগ্রী বা ইন্টেলিজেন্ট সার্চ ইঞ্জিন তা-ই নয় চাইনিজ বাজারে দেখেছি আপেল, কমলা, বেগুন, কাঁচামরিচ, আম, টমেটো, বড়ইসহ বেশকিছু খাদ্যদ্রব্যের চাইনিজ প্রজাতি। আর ডিজিটাল সব কিছুই চীনারা নিজস্ব প্রযুক্তিই ব্যবহার করে। প্রথমদিন থেকেই টের পেয়েছি উইচাট কতটা শক্তিশালী। ঢাকা থেকে লাওশিরা বলে দিয়েছে সবাইকে উইচাটের অ্যাকাউন্ট খুলতে। মোবাইলে উইচাটের অ্যাপস ইনস্টল করতে। চীন উইচাট ছাড়া অচল। অবশ্য ঢাকায় থেকেও টের পাচ্ছিলাম চাইনিজদের দেশপ্রেম। কারণ, ভ্রমণ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি বা কোনো তথ্য জানতে চেয়েছি লাওশিরা সব কিছু আদান-প্রদান করছেন উইচাটে। যাবতীয় কনফারমেশন ম্যাসেজ আসছে উইচাটেই। এ ছাড়া সবাই অন্ধ। চৌদ্দদিন কুনমিং অবস্থানকালে আর কিছু সঙ্গী হোক না হোক উইচাট ছিল আমাদের তথ্য ভা-ার। রাতে ঘুমাতে যাওয়া আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই উইচাট। নতুন ঘোষণা কি? আজকের অনুষ্ঠান কি? দিনের ছবি শেয়ার করা। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা। গাড়ি ছাড়ার সময় সবই দেয়া থাকতো উইচাটে। এমনকি আমাদের গাইড আমরা যেন হারিয়ে না যাই সেজন্য সবাইকে তার উইচাট নাম্বার শেয়ার করতেন। ঘোষণা দিয়ে দিতেন যখনই কোথাও আটকে যাবেন তখন উইচাটে কল করবেন। আমাদের যাদের কাছে উইচাট নাম্বার ছিল না অর্থাৎ পৃথক ফোন নিতে পারিনি তারাও ডায়েরিতে লিখে রাখতাম উইচাট নাম্বার। কারণ, বিপদে পড়লে ভরসা একটাই। উইচাটে নাম্বার কারো সাহায্য নিয়ে রক্ষা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকায় যার উইচাট নাম্বারে অ্যাকাউন্ট আছে তাকে খুব সহজেই ফ্রি কল করা যেত। মুহূর্তেই আদান-প্রদান করা যত ছবি কিংবা ভিডিও। কিন্তু চীনে অবস্থান আর চীন থেকে ফেরার পর পর্যন্ত যে ধরনের তথ্য পাচ্ছি উইচাট নিয়ে তাতে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় বা প্রযুক্তির সংযোজনে উইচাট হয়ে উঠেছে তাদের চালিকা শক্তি। উইচাটে কি নেই এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

উইচাটের শুরু অল্পদিন। কিন্তু বছর যাচ্ছে আর নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে এতে। পুরো চীন যেন এখন উইচাটে। ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, পড়াশুনা, শপিং, গাড়িভাড়া, যাবতীয় যোগাযোগ তথ্য আদান-প্রদান সবই হচ্ছে উইচাটে। উইচাটের সুবিধা অনেক। বিস্তারিত এক লেখায় বলে শেষ করা যাবে না। তবে আমাদের দেশে ফেইসবুক যেভাবে মহামারির মতো অন্দরমহলে প্রবেশ করেছে। চীনে উইচাটও তাই। বরং চীন উইচাটকে ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে তাদের চলার আলোকবর্তিকার জায়গায়। উইচাট নেইতো চীনে আপনি অচল। বাংলাদেশের বেশ ক’জন ছাত্র বর্তমানে পড়াশুনা করছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদেরই একজন মিশকাত শরীফ। এক মাস হলো ইউনানে আছে। সে জানায় তাদের ডরমেটরিতে প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে ১৪টি ওয়াশিং মেশিন। সাতটি-সাতটি করে দু’পাশে এই ১৪টি ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু এর টাকা পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে উইচাটের মাধ্যমে। থ্রি আরএমবি করে পরিশোধ করলেই হলো। তারপর মেশিনে একবার যতগুলো কাপড় দেয়া সম্ভব তা দিয়ে আপনি চলে আসুন রুমে। কাপড় ধোয়া আর শুকানোর পর উইচাট আপনার মোবাইল ম্যাসেজ পাঠাবেÑ কাপড় প্রস্তুত। সাইকেলের গল্পতো আপনাদের বলাই হয়েছে। বারকোড স্ক্যান করে যে কোনো স্থান থেকে আপনি সাইকেল নিয়ে চলে যেতে পারেন শহরের যে কোনো স্থানে। পুরো চীনে প্রায় ১ কোটি সাইকেল এভাবেই চলছে উইচাটের মাধ্যমে। উইচাটে আপনি যে কোনো স্থান থেকে ক্যাশ ট্রান্সফার করতে পারেন। এটা ১ আরএমবি থেকে একলাখ আরএমটি পর্যন্ত। আমাদের সহযাত্রী টিমমেট টিপু ভাই আরএমবি সঙ্কটে পড়লে ইউনানের বাইরে অন্য এক প্রদেশে বাসরত এক বন্ধুর কাছ থেকে উইচাটের মাধ্যমে আরএমবি আনে। যা করতে ডলার ভাঙানোর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছন্দ। আমরা সাধারণত ফেসবুককে ব্যবহার করি সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে। কিন্তু ইউচাট সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষেত্রে ব্যবহার করে চীনারা। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে ভয়েস ম্যাসেজ, ম্যাসেজ, ভিডিও কল, গ্রুপ চ্যাট, ছবি-ভিডিও শেয়ার, মোমেন্ট বা স্মরণীয় মুহূর্ত শেয়ার করা যায়। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে লোকেশান সেট করা যায় উইচাটে। আপনি কোথায় আছেন তা লোকেশন সেট করে দিলে আপনার বন্ধু সহজেই আপনাকে খুঁজে বের করতে পারবে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে উইচাট ব্যাংক কার্ডের ভূমিকায় ব্যবহৃত হচ্ছে চীনে। আপনি সব ধরনের টিকিট তা ট্রেন, বাস, বিমান যাই হোক তার টিকিট কাটতে পারবেন এর মাধ্যমে। সব ধরনের বিল পরিশোধ করবেন তাও উইচাটের মাধ্যমে। সিনেমা দেখবেন তা থ্রিডি বা ফোর ডি যাই হোক না কেন সবই কাটতে পারবেন উইচাটে। আপনি ডাক্তার দেখাতে চান তাও সম্ভব উইচাটেই। আপনি আপনার রোগ বুঝে সেই ডাক্তারের সিরিয়াল নিন। আপনার সমস্যা ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাঠিয়ে দিন। সিরিয়াল পেয়ে যাবেন। ডাক্তার আগ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে আপনার জন্য।

মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক শুরু করেছিলেন ২০০৩ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল ফেসম্যাস। আর প্রধান কার্যক্ষেত্র ছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রতি মুহূর্তে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এটাকে ডিজিটাল জাতিসংঘ বললে ভুল হবে না। কিন্তু এই ফেসবুক এখনো প্রবেশ করতে পারেনি চীনে। ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সহধর্মিণী চীনের। জাকারবার্গ শিখছেন চীনের ভাষাও। চীন সফর করেছেন বেশ ক’বার। দেখা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে। কিছুতেই মন গলেনি চীনা কর্তৃপক্ষের। অনুমতি মিলেনি। চীনের বাইরে যারা বিদেশি তারা ভিপিএন বা সুপার ভিপিএন-এর মাধ্যমে ফেসবুক দেখার সুযোগ পান। তবে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। চীনারা বিশ্বাস করে তাদের নিজস্বতায়। তাই অন্য কোনো মাধ্যম তাদের বাছাই করতে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। দেড়শ’ কোটি মানুষের এই দেশ এক সময় নিজস্ব গ-িতেই আটকে ছিল। বেড়ে ওঠছিল কেবলই তাদের সংস্কৃতি নিয়ে। তাদের শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু এখন বদলাচ্ছে। চীনেও আসছে বিদেশি বিনিয়োগ। তবে সবই চীনের নিজস্ব আদলে। কাজেই দুনিয়া যখন ফেসবুক, গুগল, জি-মেইল, ইনস্টাগ্রাম আর টুইটার ছাড়া অচল। চীন তখন তার নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে মশগুল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি উইচাট ব্যবহার অনেক বেশি সহজ। উইচাট দিয়ে সবই করা যায় মুহূর্তেই। আমাদের সঙ্গে যে সব গাইডরা থাকত যে কোনো তথ্য জানতে চাইলে শরণাপন্ন হতো উইচাটের। এ যেন আলাদীনের চেরাগের মতোই। ঘষা দিলেই প্রদীপ থেকে এক দৈত্য এসে সব মুশকিল আসান করে দেয়। চীনে উইচাটের বাইরে-আরো দুইটি সোশ্যাল সাইটের নাম শোনা যায় একটি বাইদু আর অন্যটি ওয়েইবো। ওয়েইবো হচ্ছে টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট আর বাইদো হচ্ছে জনপ্রিয় আলোচনা ও বিতর্কের ফোরাম। তবে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থায় চীন সরকার। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য কঠোরভাবে নজরদারি করে সরকারি কমিশন। আর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনীতিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাকে করা হয় কঠোর নজরদারি। দেশের বাইরে থেকেও এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব নয়। কারণ ইন্টেলিজেন্ট সার্চ অপটিমাইজেশন দিয়ে এসব তথ্য নজরদারি করে সরকার। সবার আগে দেশের স্বার্থ এই বিবেচনাতেই এই নজরদারি। ২০১০ সালে কোয়াংচুতে একটি রিসার্স প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয় উইচাট। এর মূল ভার্সন ছিল ‘উইচিন’। যার যৌথ আবিষ্কারক সিয়াওলং ছাং ও মা হুইয়েতাং। অফিসিয়ালি ইউচাটের যাত্রা ২০১১ সালে। মাত্র ছয় বছরে উইচাট পৌঁছে গেছে সারা পৃথিবীর শীর্ষ সোশ্যাল মিডিয়ার একটিতে। যাত্রার প্রথম বছর ১০০ মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হয়-এর সঙ্গে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৮৮৯ মিলিয়ন মানুষ উইচাটে যুক্ত থাকে যার মধ্যে ৯০ ভাগই চীনা নাগরিক। ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপের তুলনায় এটি ব্যবহারকারীর দিকে পিছিয়ে থাকলেও খুব দ্রুতই গতিশীল উইচাট। প্রতিনিয়ত এতে নতুন নতুন অ্যাপস বা অপশন যুক্ত হওয়ায় এতে অনেক বেশি ব্যবহারকারী সংযুক্ত হচ্ছে।

কাজল ঘোষ, চীন থেকে ফিরে | ২১ অক্টোবর ২০১৭

ইউরোপের চিঠি : রেলগাড়ি দিল পাড়ি

london tube trainসালেহা চৌধুরী : ছেলেবেলা বা মেয়েবেলায় রেলগাড়ির মতো মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ আর কিছু ছিল না। জানালার পাশে বসে চারপাশ দেখতে দেখতে তারপর ঈশ্বরদী ও সান্তাহারে মিষ্টি বা লুচি-তরকারি খাওয়ার স্ট্মৃতি এখনও আমার মনে স্পষ্ট। – যাব কতদূর/ পার্বতীপুর। যে কোনো একটা কিছু ভেবে নিলেই হয়; ট্রেন তা-ই বলতে থাকে। এর পর আছে ডাব, নকুলদানা, ছানার জিলাপি। কাচ দেওয়া বাক্সের ভেতর যে কত রহস্য, তা বলে শেষ করা যায়! স্টিম ট্রেন ছুটছে সশব্দে। যখন সাঁড়ার ব্রিজ বা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে ট্রেন চলত, তখন আমার আপা ফিসফিস করে বলতেন- জানিস, এখানে মানে এই ব্রিজের নিচে একশ’ ছোট বাচ্চার মৃতদেহ আছে। কেন? আমার প্রশ্ন। ব্রিজ করতে গেলে এমন শিশুবলি দিতেই হয়। সত্য, না মিথ্যা জানি না, বাকি পথ সেসব অচেনা-অদেখা শিশুর জন্য মন গভীরভাবে দুঃখ-ভারাক্রান্ত থাকত। আমার আব্বার নানা এই ব্রিজ দেখে তার নাতি রবি বা আমার বাবাকে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। কারণ তার নাতি কলকাতা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এসব মহৎ কাজ করবে, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে শত শত ব্রিজ বানাবে। সেটা হয়নি।

এই ট্রেন আমরা পেয়েছি ব্রিটেন থেকে। ১৮০৪ সালে ব্রিটেনে প্রথম ট্রেন চালু হয়। কর্নওয়ালের এক ইঞ্জিনিয়ার রিচার্ড ট্রেভিথিক প্রথম ট্রেন চালু করেন। ফ্রান্সে ট্রেন চালু হয় ১৮২৩ সালে। চায়নাতে উনিশ শতকের কোনো এক সময়ে। আর ভারতে প্রথম ট্রেন চালু হয় মাদ্রাজে; ১৮৩৭ সালে। জেমস ওয়াট নামে একজন স্কটিশ ইঞ্জিনিয়ার স্টিম ট্রেন তৈরি করেন। আমেরিকায় ১৮৩০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে সব স্টেটে ট্রেন চালু হয়।

ব্রিটেনে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হয় ১৯৬৮ সালে। তবে ন্যাশনাল হেরিটেজ হিসেবে এখনও কোনো কোনো জায়গায় স্টিম ট্রেন চলে।

ব্রিটেনে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন চালু হয় ১৮৬৩ সালে; ১০ জানুয়ারি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় অনেকে এই আন্ডারগ্রাউন্ডে স্টেশনে থাকত জার্মানদের বোমা থেকে রক্ষা পেতে।

বর্তমানে সবচেয়ে ব্যস্ত টিউব স্টেশন অক্সফোর্ড সার্কাস। ৯৮ মিলিয়ন যাত্রী সেখানে প্রতিদিন যাতায়াত করে।

টিউব ট্রেনের জন্মের পর তিনটি শিশু আজ পর্যন্ত এই ট্রেনে জন্মগ্রহণ করেছে; ১৯২৪, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে।

আনুমানিক ১৯ হাজার কর্মী টিউব ট্রেনের জন্য কাজ করে। টিউব ট্রেনের কারণে লন্ডনের রাস্তা জনবহুল নয়। প্রায় মানুষই মাটির তলা দিয়ে যাতায়াত করে।

ট্রেনে ধূমপান বন্ধ হয়েছে ১৯৮৭ সালে।

সবচেয়ে ভৌতিক কারবার হয় লন্ডনের ফারিংডন টিউব স্টেশনে। সবাই বলে, এই স্টেশন ‘হন্টেড’। কোনো এক নারী নাকি এখানে খুন হয়েছিলেন। তারপর থেকেই ভূতের রাজত্ব।

মস্কো ও প্যারিসের পর লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড সবচেয়ে ব্যস্ত।

মেট্রোপলিটন লাইন রানী ভিক্টোরিয়া ওপেন করেন ১৮৬৩ সালে।

জুলিয়ান লয়েড ওয়েবার ট্রেনে চেলো বাজিয়ে ভিক্ষা করতেন। তিনি হলেন বিলিয়নেয়ার আন্ড্রু লয়েড ওয়েবারের ভাই। কত রকম পাগল যে থাকে!

এখন টিউব স্টেশনের সংখ্যা ২৮৭।

জুবিলি লাইনের এমন নাম হওয়ার কারণ, বর্তমান রানীর সিংহাসনে বসার ৫০ বছর স্ট্মরণ করে।

লন্ডনে এক ধরনের খেলনা ট্রেন চালু হয়েছে। সেগুলো লন্ডনের ডকল্যান্ড এরিয়া নিয়ে। প্রতিদিন সেই ট্রেনে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। একবার এক ভদ্রলোক আমাকে বলেছিলেন, আমি আপনার জন্য ‘হিরণ কোয়া’তে অপেক্ষা করব। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে বুঝলাম, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন- হিরণ কী। তাদের লেখার জন্য অনেক সময় ভুল উচ্চারণ করা হয়। যেমন হলবর্ন নয়; হবর্ন। যদিও বানান যড়ষনড়ৎহ। এই এলের উচ্চারণ নেই। আমার বাড়ি গ্রিনিচের উলিচে। অনেকে বানানের কারণে বলেন- গ্রিন উইচ আর উল উইচ। কিংবা লেসেস্টার স্কয়ার নয়; লেসস্টার স্কয়ার। এমনি অসংখ্য টিউব স্টেশনের নাম। আস্তে আস্তে সবাই উচ্চারণ শিখে ফেলে।

আরেকটা বড় ট্রেন নেটওয়ার্ক আসছে, যার নাম ‘ক্রশ রেল’। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি চালু হবে। বড় বড় অক্ষরে লেখা সেখানে লিভারপুল স্ট্রিট স্টেশনে যাবেন ৮ মিনিটে এবং এয়ারপোর্টে যাবেন অনেক কম সময়ে। আমরা অপেক্ষা করে আছি।

শুনতে পাচ্ছি, জাপান থেকে বুলেট ট্রেন ব্রিটেনে আসছে। ভারত তো বুলেট ট্রেন চালু করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সে কারণে ১২ বিলিয়ন পাউন্ড লোন নিতে হয়েছে জাপানের কাছ থেকে। বুলেট ট্রেনে গুজরাট থেকে মুম্বাই যেতে লাগবে ৩ ঘণ্টা। আগে লাগত ৮ ঘণ্টা।

সবচেয়ে স্বপ্নের ট্রেন হলো ‘ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’। লন্ডন থেকে ভেনিস যায় ও আসে। তিন হাজার পাউন্ড ‘পার হেড’। খুব ইচ্ছা আছে, লটারি জিতলে এই ভ্রমণটা করতেই হবে। না হলে যদি কোনো ধনী বন্ধু ‘হেল্প’ করেন। ট্রেন নয়, যেন স্বপ্নপুরী। পৃথিবীর অনেক রোমান্টিক ঘটনার জন্ম হয়েছে এই ট্রেনের ভেতরে। অনেক সিনেমা, ছোট গল্প, নাটক ট্রেনকে কেন্দ্র করে। ‘ডেথ ইন ওরিয়েন্ট’ এক্সপ্রেস অবশ্য রহস্য গল্প; রোমান্টিক নয়। তবে সেই নাটক দেখতে দেখতে ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের ভেতরটা দেখা যায়। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের রুটটা বেশ বড় ছিল। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে এই ট্রেন কেবল লন্ডন-ভেনিস চলাচল করে। নাম ওরিয়েন্ট সিম্পলটন ট্রেন। আগে ইউরোপের আরও জায়গায় এই ট্রেন যেত; যেমন ইস্তাম্বুল। এখন যায় না। এইটুকু পথ যেতে-আসতে তিন হাজার পাউন্ড! কারও কাছে এটা কোনো ব্যাপারই না।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বার্মার জঙ্গলে রেললাইন পাততে গিয়ে কী ঘটনা ঘটেছিল, তা জানি। জাপানের মহারাজার আদেশে এই রেললাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছিল। থাইল্যান্ডের বাংগং থেকে বার্মার থানরাজবিরাটে এই লাইন পাতার কাজে কিছু সৈন্য বা শ্রমিকের অমানুষিক ও অক্লান্ত পরিশ্রম চলছিল। মনে আছে, ডেভিড লিনের ছবি ‘ব্রিজ অন দ্য রিভার কোয়াই’? দুই হাজার কিলোমিটার রেললাইন পাতার কাজ। আর এ কাজ করতে গিয়ে কী হয়েছে, সে গল্প আর নতুন করে বলার দরকার নেই। হাজার হাজার সৈন্য আমাশয়, আলসার, অনাহার, অত্যাচারে মারা যায়। সেখানে ভালো ডাক্তার ছিল না। তারা মারা যাওয়ার পর উদোম শরীরে তাদের পুঁতে রাখা হতো। এমন একজন শ্রমিক ছিলেন জ্যাক কিং। তিনি ছিলেন জাপানিদের ‘প্রিজনার অব ওয়ার’। তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হলে বেঁচে ফিরে এসেছিলেন বটে; তবে জীবন তখন তার কাছে কেবল বিবমিষা। ফিরে আসার পর তার শরীরের ওজন হয়েছিল মাত্র ৫০ কিলো। লম্বায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। তবে একদিন এই ট্রেন ভ্রমণ এনে দিয়েছিল এক আশ্চর্য উপহার। তিনি জীবনের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। একজন নারী। তিনি যে জীবনে আর কখনও কাউকে ভালোবাসবেন বা কোনো নারীর দিকে মুখ তুলে তাকাবেন, ভাবেননি। মেয়েটির কালো চোখ আর এক মাথা চুল দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। কথা শুরু হলো। জ্যাক আর অড্রি। কী সুখময় অনুভূতি! দু’জনের ট্রেন প্রায় এসে গেছে। দু’জনেই তখন যাওয়ার জন্য ব্যস্ত। নারী মুখ ফিরিয়ে হেসে বলেছিলেন- যদি তুমি বল, আমি তোমার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাব।

৫০ বছর সুখে জীবন কাটানোর পর স্ত্রী অড্রি মারা গেলে তিনি নিজেও মারা যেতে চান। তার পরও কোনোমতে বেঁচে ছিলেন। ছবি আঁকাই এখন তার সবচেয়ে বড় শখ। এই তো কিছুদিন আগে ৯৫ বছরের এই বুড়োকে চমৎকার একটি বাগান করে দিয়েছেন অ্যালান টিসমার্স। ‘লাভ ইওর গার্ডেন’ প্রোগ্রামে। তার কাজই এই। অনেককে তিনি এসব বাগান করে দিয়েছেন। জ্যাক বলেছিলেন- তুমি কী করে জানলে অ্যালান, এমন একখানা বাগানই আমি সেই ভয়ানক রেললাইন পাততে পাততে ভাবতাম! অন্ধকার রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবতাম। সেই ছিল আমার মনের পলায়ন। বড় বড় হিবিসকাস গাছ ঘেরা বড় একখানা অপূর্ব বাগান। যেখানে তিরতির ঝর্ণার জলে আমি আমার মুখের ছবি দেখতে পাব। গাছের ফিসফাস আর শুদ্ধ সৌন্দর্য। অড্রি নেই। রেল স্টেশনে খুঁজে পাওয়া সেই মেয়ে, আমার নতুন জীবন। থাকলে- বাকিটা ৯৫-এর বুড়ো বললেন চোখের জলে। অনেক রেলস্টেশনের গল্পের ভেতর এটি একটি অসাধারণ গল্প। গল্প নয়, সত্যি।

অসংখ্য ভূতের গল্প আছে রেলগাড়ি নিয়ে। আমারও আছে। একটা ট্রেন চলে গেল, কোনো ড্রাইভার নেই; একটা ট্রেন চলে গেল, কোনো যাত্রী নেই।

একটি ‘আলটিমেট’ ট্রেন তৈরি করেছিলেন অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবার। নাম ‘স্টারলাইট এক্সপ্রেস’। একটা সুপার ট্রেন। তারার রাজ্যে তার অভিসার। স্টেজে এমন জিনিসকে তুলে আনা কঠিন। কিন্তু অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের কাছে কঠিন বলে কিছু নেই। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম।

এসব ছাপিয়ে জেগে আছে সান্তাহার স্টেশনে লুচি-তরকারি আর কাচের বাক্সের মিষ্টি। আমার রেলগাড়ি আর সেই উৎসব। আমার মনে হয় না, ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের খাবার সে রকম হবে। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে রুপোর প্লেটে খেতে দেবে হয়তো, কিন্তু কলাপাতার প্লেটের সে খাবারের কথা কী করে ভুলে যাই! আব্বা সদয় হয়ে পার্স খুলছেন, আর আমরা ভাবছি ছানার জিলাপি যেন থাকে।

ব্রিটেন প্রবাসী কথাসাহিত্যিক

বদলে গেছে কম্পিউটার প্রকৌশল

abdullah al-faruqueকম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে বহু শিক্ষার্থীর। অনেকে পড়ছেন, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন আগের চেয়েও উন্নত হচ্ছে কম্পিউটার। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা? এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক

কম্পিউটার যখন প্রথম তৈরি হয়, তার আকৃতি ছিল বিশাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ছোট হতে শুরু করল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন কম্পিউটারে আমরা যে ধরনের কাজ করতাম, এখন স্মার্টফোনেই তার চেয়েও জটিল কাজ করা যায়। এখন আস্ত একটা কম্পিউটার আপনার হাতঘড়ির মধ্যেই এঁটে যেতে পারে। এই যে কম্পিউটারের ছোট হয়ে আসা, এটা একটা বিরাট কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। আমরা যাকে বলছি ‘এম্বেডেড সিস্টেম’।

আমরা মানুষের চোখের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর ঢোকানোর চেষ্টা করছি। দেহের বিভিন্ন অংশে মাইক্রোপ্রসেসর বসানোর কাজ চলছে। গাড়ি এখন আর স্রেফ ‘ইলেকট্রো মেকানিক্যাল’ যন্ত্র নয়, গাড়ির মধ্যে প্রচুর মাইক্রোপ্রসেসর আছে। নতুন যে গাড়িগুলো বের হচ্ছে, এর বেশির ভাগই কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা এখন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের কথা বলছি। সমগ্র বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি। প্রকৌশলের সব শাখায় কম্পিউটার ঢুকে পড়েছে। এটাই হলো আগামী দিনের কম্পিউটার প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ আর সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র।

আমি যেমন কাজ করছি ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’ নিয়ে। কম্পিউটারকে সাধারণত বলা হয় ‘সাইবার সিস্টেম’। যেখানে হার্ডওয়্যার আছে, সফটওয়্যার আছে। কিন্তু এই কম্পিউটারই যখন অন্য কোনো যন্ত্র যেমন স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড কিংবা মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তাকে বলে ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’।

আমি মনে করি, কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের এখন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু প্রোগ্রামিং শিখে বা শুধু কম্পিউটার-বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে এগিয়ে থাকা যাবে না। স্বয়ংক্রিয় কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, বায়োমেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব শাখায় কম্পিউটার প্রকৌশলী প্রয়োজন। এখন কম্পিউটার প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়। আগে প্রকৌশলের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় প্রকৌশলীরা নিজেদের মতো করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। এখন তড়িৎকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল…সব শাখার প্রকৌশলীরা এক হয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। তাই এগিয়ে থাকতে হলে সব বিষয়েই জানতে হবে। অন্তত জানার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকতে হবে।

কাজটা কিন্তু খুব কঠিনও নয়। আমরা যখন বুয়েটে পড়তাম, আমরা জানতাম না, এমআইটির শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে কাজ করছে? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির একজন অধ্যাপক কী নিয়ে ভাবছেন? কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা নতুন কী নিয়ে গবেষণা করছেন? বিশ্বসেরা জার্নালগুলোতে কোন প্রবন্ধ নিয়ে কথা হচ্ছে?

এখন কিন্তু এসব জানা খুব সহজ। ইন্টারনেট সব সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে যে বিজ্ঞাননির্ভর জার্নালগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে ঢুঁ মারলেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন, এখনকার ‘ট্রেন্ড’ কী, প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ কী? জার্নালগুলোতে সব সময় আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়। শুধু এখনকার সময়ই নয়, ১০ বছর পরে টেকনোলজির ‘ট্রেন্ড’ কী হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা থাকে জার্নালে। ছাত্রাবস্থায়ই বিজ্ঞাননির্ভর জার্নাল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

একটা সময় দেখা যেত ভারতের আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) বা চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে ইউরোপ-আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেতেন। বিশ্বমানের গবেষণার পাশাপাশি ওরা কিন্তু এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ওদের লক্ষ্য এখন উদ্যোক্তা হওয়া। সিলিকন ভ্যালিতে দেখবেন অনেক ভারতীয়, চীনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফার্ম আছে। ওরা ভবিষ্যৎ মার্ক জাকারবার্গ হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও দৃষ্টি থাকতে হবে দূরে। বিজ্ঞান গবেষণায় ও উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিতে চাইলে, আগামী দিনের পৃথিবীতে কোন প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে, সেটা বুঝে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। কিন্তু এটা অসম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমি যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেখি, অনেকে ভালো করেন আবার অনেকে করেন না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় একটা ভয় কাজ করে। একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীকে হয়তো একজন জীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে। তাই বলে ভয় পেলে চলবে না। গবেষণার জন্য আমাকে যেমন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এখন যাঁরা কম্পিউটার প্রকৌশল পড়ছেন, একদিন হয়তো তাঁদেরও এমন কাজ করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। আমি আগে শিখিনি তো কী হয়েছে? শিখে নেব। যাদের সাহস থাকে, তারাই এগিয়ে যায়।

আমার অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, তারা কখনো বলে না, ‘আমি তো এটা করিনি। আমি তো এটা পারি না।’ হয়তো নতুন একটা সমস্যা নিয়ে আমরা আলাপ করছি। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মত জানায়, আলোচনায় অংশ নেয়।

আজকাল ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে। আইওটি হলো যেকোনো সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম নির্ভর প্রযুক্তিকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া। সব যন্ত্রের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর, সেন্সর, যোগাযোগের ক্ষমতা ঢুকে পড়ছে। এর ফলে যেটা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা’ নিয়েও এখন প্রকৌশলীদের ভাবতে হচ্ছে। ধরুন, একটা গাড়িতে যদি সফটওয়্যার থাকে, আমি কিন্তু আপনার গাড়ি হ্যাক করে ফেলতে পারব। মানবদেহের ভেতরে যদি কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বসানো হয়, আমি একটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমি একটা পুরো শহরের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তাই ‘নিরাপত্তা’ও গবেষণার একটা বড় ক্ষেত্র। পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ (ডেটা অ্যানালাইসিস)…এসব নিয়ে প্রচুর পড়তে হবে।

আমি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী। নিশ্চয়ই আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামী দিনের প্রযুক্তির দিকনির্দেশনায় একটা বড় ভূমিকা রাখবে। (অনুলিখিত)

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেছেন। কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর জার্মানির আকেন টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে এবং পিএইচডি করেছেন কার্লসরুয়ে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে। গবেষণার জন্য থমাস আলভা এডিসন পেটেন্ট অ্যাওয়ার্ড, আই ট্রিপলই সিইডিএ আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেমস ল্যাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন এই বাংলাদেশি গবেষক। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক সম্পর্কে বিস্তারিত: aicps.eng.uci.edu

নাসায় প্রথম সৌদি নারী

মিশাল আশেমিমরি

প্রথম সৌদি নারী হিসেবে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজের সুযোগ পেয়েছেন মিশাল আশেমিমরি। এ জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। এক টুইট বার্তায় বলা হয় তিনি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণীয় মডেল।

নাসায় কাজের সুযোগ পাওয়ার পর মিশাল গণমাধ্যমকে জানান, ছয় বছর বয়সে মহাকাশের স্বপ্ন আমার চোখে বেঁধে যায়। জানতাম না মহাকাশ কী। কিন্তু ওনাইজা মরুভূমির রাতের আকাশে জ্বলা নক্ষত্রগুলো আমার চোখে স্বপ্ন এঁকে দেয়। আর সে স্বপ্ন এখন বাস্তব।

মিশাল আশহেমিমরি পেশায় মাহাকাশযান ইঞ্জিনিয়ার। এর আগে তিনি মিয়ামি ভিত্তিক মিশাল অ্যারো স্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মিশাল এরআগে রেইথিউন মিসাইল সিস্টেমের অ্যারোডাইনামিক্স ডিপার্টমেন্টের হয়ে কাজ করেছেন। ২২টি রকেট প্রোগ্রামে অবদানও রেখেছেন তিনি। তার পেশাদারি অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ক্ষেত্রগুলো হলো- অ্যারোডায়নামিক্স, বায়ু টানেল পরীক্ষা, গাড়ির ডিজাইন,ভবিষ্যদ্বাণী সিমুলেশন ও বিশ্লেষণ এবং রকেট স্টেজ-সেপারেশন বিশ্লেষণ। এ ছাড়া কম্পিউটেশনাল টুল ডেভলপমেন্টের কাজেও তার গভীর আগ্রহ রয়েছে।

আশেমিমরি ২০০৬ সালে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফলিত গণিতশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।