আর্কাইভ

Archive for the ‘প্রযুক্তি’ Category

আমেরিকা ও রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির চিত্র

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

আমেরিকার বার্ষিক সামরিক বাজেটঃ ৭০০ বিলিয়ন ডলার

রাশিয়ার বার্ষিক সামরিক বাজেটঃ ৭০ বিলিয়ন ডলার

US & RU military presence

US-Russia economic & military might

চীনের বিমানবাহী রণতরী’র ডিজাইন

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

chinese aircraft carrier

খুলনা শিপইয়ার্ডে কোস্ট গার্ডের জন্য সেলফ প্রপেলড ফ্লোটিং ক্রেন

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

self-propelled floating craneনাছিম উল আলম : খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের জন্য একটি সেলফ প্রপেলড ফ্লোটিং ক্রেন-এর নির্মাণ কাজের সূচনা হচ্ছে আজ। প্রায় ৫০কোটি টাকার সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে এ ক্রেন বাজটির কিল-লেয়িং করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড.কামাল উদ্দিন আহমেদ। খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর কে কামরুল হাসান-বিএন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকছেন কোষ্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী-বিএন। খুলনা শিপয়ার্ডে কোষ্ট গার্ডের জন্য ২৭০কোটি টাকা ব্যায়ে ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-এর নির্মান কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড দেশের সমৃদ্ধ সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় আমাদের নৌসীমা সহ উপকলীয় ও অভ্যন্তরীন এলাকায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। কোষ্ট গার্ড ইতোমধ্যে দেশের উপকলীয় এলাকা সহ বিভিন্ন নদী বন্দর ও নৌ পথে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিকে পরিনত হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী ভারত ও মায়ানমারের সাথে আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় কোষ্টগার্ডের দায়িত্ব ও ভূমিকা যথেষ্ঠ বেড়ে গেছে। প্রকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এ বিশাল সমুদ্র এলাকা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছেন সকলে। এ বিশাল সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষে কোষ্টগার্ড তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষে ২০১৫ থেকে ’৩০সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী তিনটি স্তরে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোপূর্বে ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-এর নির্মািন কাজ শুরু হয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ডে। এরই পরবর্তি কার্যক্রম হিসেবে একটি সেল্ফ প্রপেলড ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ করতে যাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড।

ফ্রান্সের ব্যুরো অব ভেরিটাস-এর তত্ববধানে দেড় শতাধীক ফুট লম্বা ও ৫০ফুট প্রস্থ এ ক্রেন বার্জটির গভীরতা প্রায় ১০ফুট। আমেরিকায় তৈরী ৩৭৫অশ্ব শক্তির দুটি মূল ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এ নৌযানটি ৫৮০টন পানি অপসারন করে ঘন্টায় প্রায় ৩০কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে। বার্জটিতে ৬৯ কিলোওয়াটের ২টি জেনারেটর সংজোযন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে প্রায় ৭৫টন উত্তলনক্ষম একটি সয়ংক্রীয় ক্রেন পরিচালন সম্ভব হবে। ২৫ জন জনবল সমৃদ্ধ এ নৌযানটিতে ইকো সাউন্ডার, নেভিগেশনাল রাডার ছাড়াও অত্যাধুনিক ভিএইচএফ ও এইচএফ বেতার যোগোযোগ ব্যবস্থাও সংযোজন করা হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড তার টহল নৌযানসমুহের সাহায্যে দেশের অভ্যন্তরীন ও উপকলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল প্রদানের মাধ্যমে চোরাচালান বিরোধী অভিযান এবং ইলিশ সহ মৎস সম্পদ রক্ষা ও আইন-শৃংখলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছ। নির্মিতব্য ক্রেন বার্জটি কোষ্ট গার্ডের যে কোন নৌযানের দূর্ঘটনা পরিবর্তি উদ্ধার অভিযান সহ দূর্যোগ পরবর্তি উদ্ধার তৎপড়তায়ও অংশ নেবে ।

বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর নিয়ন্ত্রনাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী ও কোষ্ট গার্ডের জন্য একাধীন নৌযান নির্মানকাজ সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য ৫টি পেটোল ক্রাফট-এর নির্মাণ কাজ সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করার পরে বর্তমানে বড় মাপের আরো দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করছে। এছাড়াও নৌ বাহিনীর চীন থেকে সংগ্রহ করা সাবমেরিন-এর জন্য দুটি সাবমেরিন টাগও তৈরী করছে খুলনা শিপইয়াড। প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থ বছরে এযাবতকালের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করে। শিপইয়ার্ডটি গত কয়েক বছর ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মানও অর্জন করে চলেছে।

১৯৯৯সালের ৩ অক্টোবর বর্তমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেড় শতাধীক কোটি টাকার দায় দেনা ও লোকসানের বোঝা নিয়ে মৃতপ্রায় খুলনা শিপইয়ার্ডকে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। সব লোকসানের বোঝা ও লোকসান কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত ১৬ বছরে আরো দু শতাধীক কোটি টাকা মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। নৌ নির্মান প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত ৭২০টি বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ ছাড়াও আরো দুই সহশ্রাধিক নৌযানের মেরামত সম্পন্ন হয়েছে।

অথঃ টুথব্রাশ সমাচার…

অগাষ্ট 12, 2017 মন্তব্য দিন

toothbrush origin

toothbrush facts

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম পাইলট মুস্তফা আনোয়ার

অগাষ্ট 10, 2017 মন্তব্য দিন

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম পাইলট ক্যাপ্টেন মুস্তফা আনোয়ারের জন্মশতবার্ষিকী ২৪ জুলাই উপলক্ষ্যে তাকে নিয়ে বিশেষ রচনা লিখেছেন তার স্ত্রী, খ্যাতিমান লেখিকা সুস্মিতা ইসলাম
= = =
pilot mustafa anwarক্যাপ্টেন মুস্তাফা আনোয়ারের জন্ম ১৯১৭ সালের ২৪ জুলাই যশোরের গড়াই নদীর তীরে তার নানাবাড়ি কমলাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম কবি গোলাম মোস্তফা আর মায়ের নাম জমিলা খাতুন। তিনি তার পিতা-মাতার প্রথম সন্তান। তিনি যেমন সুন্দর চেহারা, তেমনি সুস্বাস্থ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে তিনি গ্রামের সব রকম খেলাধুলা, যেমন-ফুটবল, সাঁতার, লাঠিখেলা, কুস্তি ইত্যাদি খেলাতে গ্রামের অন্য ছেলেদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তার সমকক্ষ গ্রামে অন্য কেউ ছিল না।

পিতা কলকাতায় শিক্ষকতা করতেন ও সপ্তাহের শেষে একবার গ্রামে এসে শিশু আনোয়ার ও তার মাকে দেখে যেতেন বলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত আনোয়ার তার নিজ গ্রাম মনোহরপুর ও শৈলকূপায় পড়েছিলেন।

বাল্যশিক্ষায় আনোয়ারের তেমন অগ্রগতি হচ্ছিল না। এটা বুঝতে পেরে আনোয়ারের ১১ বছর বয়স হলে পিতা তাকে সঙ্গে করে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার শ্রেষ্ঠতম স্কুল হেয়ার স্কুলে ক্লাস ফোরে ভর্তি করে দেন। কবি স্বয়ং তখন ওই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বাল্যকাল থেকেই আনোয়ারের অজানাকে জানার প্রবল আগ্রহ ছিল, কিন্তু স্কুলের প্রথাগত শিক্ষায় কখনও সেভাবে মনোসংযোগ করতে পারতেন না। সবসময়ই মনের মধ্যে একটা নতুন কিছু করার তাড়না তাকে অস্থির করে রাখত। কিন্তু সেই নতুন যে কী-সে সম্বন্ধে তার কোনো ধারণাই ছিল না। এই মন নিয়েই আনোয়ার ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়ে হেয়ার স্কুলে ক্লাস টেন অবধি প্রমোশন পান এবং এই ক’বছরে ক্লাসের সব ছেলের মধ্যে সব সময়ই প্রথম দশজনের মধ্যে নিজের স্থান বজায় রাখতে পেরেছিলেন।

এ সময়ে একদিন আমিনুল ইসলাম বলে একটি ছেলের I.M.M.T.S Duffrin -এর প্রবেশ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার রিপোর্ট ক্লাসে এলে আনোয়ার সেই প্রথম জানলেন I.M.M.T.S Duffrin একটি জাহাজ। যে জাহাজে ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য ছেলেদের উপযুক্ত বিশেষ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়। আর ওই জাহাজটি থাকে বম্বের সমুদ্রে-শহরের কাছাকাছি জায়গায়। প্রতি বছর শিক্ষার জন্য ৪০ জন ছাত্রকে বেছে নেওয়া হয় এবং তারা ভারতের সব প্রদেশ থেকেই এসে প্রবেশ পরীক্ষা দেয়। [প্রথম পৃষ্ঠার পর]

সেদিনকার এই খবর আনোয়ারের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দিল। তার মনে হয়েছিল, এতদিন ধরে তিনি এমনই একটি পথের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু ওই জাহাজ সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানার জন্য তার মন অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠল এবং সৌভাগ্যবশত সে সুযোগও এসে গেল। পিতার সঙ্গে পিতার কোনো এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন, ভদ্রলোক I.M.M.T.S Duffrin-এর Governing Body-এর একজন মেম্বার। তিনি স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ আনোয়ারকে দেখে কবিকে বললেন আনোয়ারকে Duffrin-এ পাঠাতে। কিন্তু কবি তার কথার কোনো জবাব না দিয়ে নিরুত্তর রইলেন। আর আনোয়ার প্রবল উৎসাহে তার কাছ থেকে Duffrin-এর Programme এবং ওখানকার লেখাপড়া সম্পর্কে যতদূর সম্ভব খবর নিয়ে উৎফুল্ল চিত্তে বাড়ি ফিরে এলেন। তারপর প্রবলভাবে জেদ ধরে বসলেন, (I.M.M.T.S Duffrin Indian Merchant Marine Trainig Ship. এটি একটি মার্চেন্ট মেরিন অফিসারদের স্কুল।) স্কুলের ওই প্রথাগত শিক্ষা বাদ দিয়ে Duffrin-এ ভর্তি হবেন। পিতার প্রচণ্ড শাসন এবং সেই সঙ্গে প্রহার-কোনো কিছুই আনোয়ারকে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে পারল না। শেষে একদিন পিতার প্রচণ্ড প্রহারের পর রাতের মধ্যখানে, যখন সবাই ঘুমে নিমগ্ন, তখন আনোয়ার ছোট একটি স্যুটকেসের মধ্যে নিজের ২-৪টি জামা-কাপড় ও জমিয়ে রাখা ২০টি টাকা সম্বল করে গৃহত্যাগী হন।

সেই রাতটা Sealdah স্টেশনের পুলিশের কাছে রাতটুকু কোনোমতে কাটাবার পারমিশন নিয়ে ভোর না হতেই কাছেই হ্যারিসন রোডে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে ও তার কাছ থেকে আরও কয়েকটি টাকা ধার নিয়ে সোজা রাঁচিতে চলে যান পিতার এক বন্ধুর কাছে। সেখানে গিয়ে তার গৃহত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বললে সেই ভদ্রলোক তৎক্ষণাৎ টেলিগ্রাম করে কবি সাহেবকে জানান যে, তার পুত্র তার কাছেই আছে এবং ভালো আছে।

এদিকে আনোয়ার নিখোঁজ হওয়ার পরে তখন বাড়িসুদ্ধ সবার পাগলের মতো অবস্থা। কবি গোলাম মোস্তফা সেই টেলিগ্রাম পেয়ে আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সোজা রাঁচিতে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আনোয়ারকে Duffrin-এ পাঠাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঙ্গে করে কলকাতায় নিয়ে আসেন।

Duffrin-এর Admission Test তখন কলকাতাতেই হলো প্রেসিডেন্সি কলেজে তিন দিন ধরে। কিন্তু আনোয়ার যেদিন রাঁচি থেকে কলকাতায় এসে পেঁৗছেছিলেন, তখন পরীক্ষার মাত্র ২৭ দিন বাকি ছিল। আনোয়ার তার স্বপ্ন সফল করার প্রবল ইচ্ছায় সেই অল্প দিনের মধ্যেই দিন-রাত এক করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেন ও একটানা তিন দিন পরীক্ষা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই Qualifying পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। তারপর পিতার সঙ্গে বম্বেতে গিয়ে Medical ও Interview-িতে পাস করে ১৯৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি I.M.M.T.S Duffrin-এর Cadet হিসেবে যোগ দেন। এর তিন বছর পরে ট্রেনিং শেষ হলে ‘Extra First Class Certificate’ ও Most Efficient Senior Cadet Captain হিসেবে Sawyer Prize পেয়ে Cadet হিসেবে জাহাজে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

সাগরের অভিজ্ঞতা

ডাফরিনের ট্রেনিং শেষ হলে আনোয়ার ১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি B.I.S.N. Co. (ব্রিটিশ ইন্ডিয়া স্টিম নেভিগেশন কো.)‘S.S. Chyebassa’ নামক জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। জাহাজে কর্মরত অবস্থায় ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট টেলিগ্রাম মারফত মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং জাহাজে খুব বেশি Sea Sickness হওয়ার দরুন ১৯৪০ সালের নভেম্বর মাসে এত কষ্টে অর্জিত জাহাজের চাকরিতে চিরজীবনের মতো ইস্তফা দেন।

তার এই আচরণ তার পিতাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করে এবং নিজের প্রবল অসম্মতি সত্ত্বেও পুত্রের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তাকে Duffrin-এ ভর্তি হতে যে শেষ পর্যন্ত সাহায্য করেছিলেন, এবার তার ধারেকাছেও গেলেন না। এই চঞ্চলমতি পুত্রকে কোনোভাবে সাহায্য করতে তিনি একেবারেই নারাজ রইলেন।

এ সময় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব ব্রিটিশ কলোনিতে যেমন Civil Air Reserve Corps গড়ে তোলা হচ্ছিল, ভারতেও তার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হলে আনোয়ার সেখানে দরখাস্ত দিয়ে মনোনীত হন ও ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে বিহার Flying Club-এ যোগদান করেন।

আনোয়ারের Air Force-এর অভিজ্ঞতা

১৯৪০ সালের ডিসেম্বর মাসে Civil Air Reserve Corps-এর জন্য মনোনীত হয়ে ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে বিহার ফ্লাইং ক্লাবে যোগদান করেন।

১৯৪১ সালের ৯ এপ্রিল সিভিল ফ্লাইং ক্লাবের ট্রেনিং সম্পন্ন করে ওই মাসেই Indian Air Force-এর nitial officers Training School-এ Officer Cadet হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৪১ সালের ২৩ মে I.T.S-এর ট্রেনিং শেষ করে যোধপুরের No 2 Elementary Flying Training School-এ যোগ দেন।

১৩ মে ১৯৪১ বিহার Flying Club থেকে Pilots ‘A’ লাইসেন্স পান।

১৯৪১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আম্বালার Intermediate Training Centre-এ কৃতিত্বের সঙ্গে ট্রেনিং সম্পন্ন করে Advanced Training-এ যোগ দেন ও ১৯৪১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ‘WING’ লাভ করেন।

১৯৪২ সালের ১০ জানুয়ারি Ormament Training-এর জন্য ‘KOHAT’-থ-এ যান ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। Flying ও Bombing উভয় বিভাগেই বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে পেশোয়ারে গিয়ে No 3 Squadron-এ যোগ দেন।

Kohat-এ থাকতে বিদ্রোহী আফ্রিদিদের ওপরে Bombing-ও করতে হয়েছিল তাকে। তার রুমমেট ওই Bombing করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। আফ্রিদিরা বন্দুক ছুড়ে তার প্লেন নামিয়ে নিয়েছিল।

১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে Instructor-এর কোর্সে যোগ দিয়ে ১৯৪২ সালের September মাসে সার্থকতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করে I.T.S.-এ Instructor নিযুক্ত হন।

১৯৪৩ সালের ৩০ অক্টোবর D.C.A.-এর রিজার্ভ পাইলট হিসেবে বিহার Flying Club-এ যোগ দেন।

১৯৪৫ সালের ২২ জুন Pilots ‘A’ লাইসেন্স পান।

১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল Pilots ‘B’ লাইসেন্স পান। নম্বর ৩১৪।

আনোয়ারের সিভিল এভিয়েশনের অভিজ্ঞতা : এই সময় যুদ্ধও শেষ হয়েছে। আর ভারতের উৎসাহী ব্যবসায়ীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত DAKOTA বিমানগুলো কিনে সেগুলোকে সম্পূর্ণ সারিয়ে নিয়ে ভেতরে প্যাসেঞ্জার বসার উপযোগী সিট বসিয়ে নিয়ে Airlines-এর জন্য শুরু করে দেন। এ ব্যাপারে সবার চেয়ে প্রথম ছিলেন বম্বের এক পার্সি তরুণ ব্যবসায়ী, যার নাম ছিল ‘Mistri’থ, তিনি নিজের নাম দিয়েই ভারতের সিভিল এভিয়েশনের প্রথম Airlines-এর সূচনা করেন। সেই প্রথম Mistri Airlines-এ আনোয়ার যোগ দিলেন Flying Officer হিসেবে ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর।

১৯৪৬ সালের ১৬ অক্টোবর Pilots লাইসেন্স পান আনোয়ার। (No : 77/314; Date of Issue : 8.10.46)

১৯৪৭ সালের জুন মাসে ডালমিয়া জৈন এয়ারওয়েজে জুনিয়র ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।

১৯৫০-এর আগস্ট মাসে Senior Capt. হিসেবে প্রমোশন পান।

১৯৫১ সালের জুন মাসে Airways India-তে Govt. Approved Check Pilot-এর পদ পান।

১৯৫৬ সালের আগস্ট মাসে DC-4-এর ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হোন। পরে VISCOUNT-এর Check Pilot হিসেবে কাজ করেন ১৯৫৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে কাজ করার সময় Capt. Anwar V.I.P পাইলট ছিলেন। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু যখন প্রথমবার চৌ এন লাইকে ইন্ডিয়াতে আমার নিমন্ত্রণ জানান, তখন Capt. Anwar-ই তাকে কুনমিং থেকে দিলি্লতে এনে আবার ফেরার পথে কুনমিংয়ে পেঁৗছিয়ে দিয়েছিলেন। Capt. Mustafa Anwar ‘Indian Airways’ নামে একটি বই লেখেন। ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Thalker & Spinls বইটি ছাপে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স সম্পর্কে সেটিই ছিল প্রথম বই।

এরপর ১৯৫৯ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের Pakistan International Airlines-এর Viscount বিমানের চেক পাইলট হিসেবে যোগদান করেন ও তখনকার কর্মরত আমেরিকান চেক পাইলট ক্যাপ্টেন বার্নলারের স্থানে নিজে কর্ম করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানে আসেন ১৯৫৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের পরের মডেলের VISCOUNT কিনেছিল বলে সেই নতুন মডেলের প্লেনে Training-এর জন্য P.I.A আনোয়ারের Emergency Passport করিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারিতেই লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়।

পরে Capt. Barnales-এর কাজের শেষ দিনে (১৪ আগস্ট ১৯৫৯) তিনি যখন একজন জুনিয়র পাইলটকে ট্রেনিং দিচ্ছিলেন, তখন Observer হিসেবে আনোয়ার সেই প্লেনে (City of Dhaka) গেলে জুনিয়র পাইলটটির ভুলে করাচি বিমানবন্দরের ওপরেই প্লেনে আগুন ধরে যায় এবং আনোয়ার ও ক্যাপ্টেন বার্নলার উভয়েই প্রাণ হারান। যে জুনিয়র পাইলটের ভুলে এই দুর্ঘটনা ঘটে, তার নাম এজাজ কোরেশী, তিনি প্রাণে বেঁচেছিলেন, কিন্তু জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। জীবনে মতো Flying থেকে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আনোয়ার যখন মারা যান, তখন তার Log Book-এ ১৪,৫০০ ঘণ্টার Flying-এর রেকর্ড ছিল। Civil ও Air Force মিলিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে তার মতো অভিজ্ঞ অন্য কোনো Pilot ছিলেন না। তার পরেই যার স্থান ছিল তার নাম আজগার খান। তিনি Air Foirce-এর পাইলট ছিলেন এবং তখন তার মাত্র ৭০০০ ঘণ্টা Flying hours ছিল। সে জন্য সেদিন মাত্র ৪১ বছর বয়সে আনোয়ারের এই অপঘাতে মৃত্যু সারা পাকিস্তানে জাতীয় শোকে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে এই শোকের ছায়া মিলাতে বহু দিন সময় লেগেছিল। ১৫ আগস্টের Pakistan Times-এ আনোয়ারের জীবনীসহ এই খবর বের হয়েছিল, তাতে লিখেছিল- Mustafa had about 14000 hours flying to his credit. A record which no Pakistani pilot had ever attained.’

কলকাতার Statesman পত্রিকায় ২৫ আগস্ট Capt. Anwar-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ খবর ছাপা হয়েছিল।

এ ছাড়া NewYork Times ও Spain-এর একটি পত্রিকায় এই দুঃসংবাদ ছাপা হয়েছিল দুঃখের সঙ্গে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দেশ তাকে মনে রাখেনি। আজকের প্রজন্মের বৈমানিকেরা তার নামও জানে না। এ দোষ হয়তো সম্পূর্ণ তাদের নয়, আমরাই জাতি হিসেবে কেমন যেন ইতিহাসবিমুখ হয়ে পড়েছি। তা ছাড়া মনে হয়, এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অগ্রজদের যোগ্য সম্মান দিতে বড়ই কুণ্ঠিত। তাই এই প্রজন্মের ছেলেমেয়ে ও তরুণ বৈমানিকদের জন্যই বিশেষ করে আমার এই লেখা।

আজ তার জন্মশতবার্ষিকীতে তার ‘সাগর ও আকাশ’-এর স্বর্ণোজ্জ্বল অভিজ্ঞতা যদি একটি ছেলেমেয়েকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাহলে আমার এ লেখা সার্থক হবে।

মানুষ কি চন্দ্রে পদার্পণ করেছিলো?

অগাষ্ট 5, 2017 মন্তব্য দিন

১৯৬৯ সালের এই দিনটি (২০ জুলাই) মানবেতিহাসের আধুনিক অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংযোজিত হয় । এই মর্ত্যলোকের তিন মানব “আয় আয় চাঁদ মামা”র কপালে টিপ দিয়ে আসে – থুক্কু একেবারে চাঁদের বুকে পা ফেলে আসে তাবৎ বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে ।

সেদিন বা তারপর অনেক দিন মানুষের চাঁদে পদার্পণ করার সত্যতা নিয়ে কোনো রকম সন্দেহ প্রকাশ করা হয় নাই । কিন্তু বিশ্ব জুড়ে আমেরিকার নানা রকম কুকর্ম দেখে এবং বিশেষত ৯-১১ নিয়ে তাদের মিথ্যাচারের বহর দেখে মানুষ এখন তাদের সত্য বা ভালো কাজগুলোকে অবমূল্যায়ন করতে চাচ্ছে এক ধরণের প্রতিবাদ হিসেবে । তারা এখন দাবী করে বসছে যে, চাঁদে নামার ঘটনা ছিলো হলিউড ম্যুভি । নানা মানুষজন চাঁদের অবতরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা রকম সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করেছেন । কেউ কেউ আবার ঐসব সন্দেহের মূলোৎপাটন করে যুক্তি ও প্রমাণ সহযোগে তথ্য-উপাত্ত পেশ করেছেন ।

দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, চাঁদে মানুষের অবতরণের বিষয়টি সত্য । বিস্তারিত বাংলায় লেখার সময় এই মূহুর্তে আমার নেই । তবে উইকিপিডিয়ার এই লিংক দেখলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা ।

চাঁদে কোনো রকম বায়ুমন্ডল না থাকা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবী এক-ষষ্ঠমাংশ হওয়ায় চাঁদে অবতরণ করাটা অনেক সহজ ।

যারা যুক্তি দেখাতে চান, নাসা কেনো এখন চাঁদে আবার মানুষ পাঠিয়ে প্রমাণ করে না কেন – তাদের বুঝতে হবে যে, নাসা চাইলেই সেটা এখন করতে যাবে না । ঐ সময়কার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বিজ্ঞানীরা চন্দ্র অভিযানে যাবার সাহস করবে না । রকেটের আধুনিকায়ন করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার বাজেট নাসাকে আর দেয়া হবে না । কারণ, সেখানে এমন কিছু নেই যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা পৃথিবী উপকৃত হতে পারে । ঐ সময় চাঁদে প্রথম পদার্পণ করাটা ছিলো রাশিয়ার সাথে একটা স্নায়ু যুদ্ধে জয়লাভ করার ব্যাপার যা তারা সাফল্যজনকভাবে করতে পেরেছিলো । চাঁদে পদার্পণ করাটা যদি সত্য না হতো, তবে সর্বাগ্রে রাশিয়া সেটা অস্বীকার করতো । কিন্তু আজ অবধি রাশিয়া এ ব্যাপারে নিঃশ্চুপ । এতে কি বোঝা যায়?

চাঁদে বুকে প্রথম পদার্পণের সময় একটি লেজার রেট্রোরিফ্লেক্টোমিটার রেখে আসে হয় যার উপর পৃথিবী থেকে যে কেউ লেজার নিক্ষেপ করে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করতে পারে ।

চাঁদকে ঘিরে আমেরিকার একটি কৃত্রিম উপগ্রহ ঘুরে দেড়াচ্ছে । সেটা থেকে চাঁদে রেখে আসা রকেটের অংশের ছবি গ্রহণ করা হয়েছে । এমনকি জাপানীদের পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ-ও সেসবের ছবি তুলেছে । নীচের লিংকগুলো দেখুন বিস্তারিত জানতে চাইলেঃ

Moon landing conspiracy theories

https://en.wikipedia.org/wiki/Moon_landing_conspiracy_theories

Third-party evidence for Apollo Moon landings

https://en.wikipedia.org/wiki/Third-party_evidence_for_Apollo_Moon_landings

Lunar Flag Assembly

http://en.wikipedia.org/wiki/Lunar_Flag_Assembly

Lunar Reconnaissance Orbiter

https://en.wikipedia.org/wiki/Lunar_Reconnaissance_Orbiter

moon hoax p65

moon hoax p66

moon hoax p67

moon hoax p68

moon hoax p69

moon hoax p70

moon hoax p71moon hoax p72

moon hoax p73

moon hoax p74

moon hoax p75

moon hoax p76

moon hoax p77

সালতামামি ২০১৬ – প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

text-saltamami-%e0%a7%aa

2016-review-12016-review-22016-review-32016-review-4