আর্কাইভ

Archive for the ‘পরিবেশ’ Category

ভালোবাসার শহরে…

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

i love wallশান্তা তাওহিদা, প্যারিস থেকে : শহরজুড়ে যেন সারা বছরই প্রেমের মৌসুম চলে। সিন নদীর পার ধরে হেঁটে হেঁটে দেখার প্যারিস এ এক অন্য প্যারিস। সকালে সিন নদীর পানিতে সূর্যের স্পটিক হাসি আর রাতে আলো ঝলকানো হাজার হাজার তারা। এ রকম মুহূর্তটা অবশ্যই দাবি রাখে পরস্পরের হাতে হাত রেখে অতল চোখে হারিয়ে যাওয়ার। আমার যদিও সে সৌভাগ্য হয়নি। প্রায় সাত হাজার নয়শ কিলোমিটার দূরে ছিল আর একটা হাত। ভালোবাসার শহরে সে এক বেরসিক আমি!

দিন আর রাতের প্যারিসের মাঝে বিস্তর ফারাক। শুনে তা বুঝা যাবে না, এমনকি চোখে দেখেও না। এ কেবল অনুভবের। তবে প্যারিস শহর ঘুরে বেড়ানোটা ভোরে থেকে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে দুই রূপই দেখা যাবে। সিন নদীর কোল ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে শুরু হয় আমার প্যারিস সফর। পায়ে হাঁটার পথ থামে পন্ট দে আরটস সেতুতে। এটি পারিসের প্রথম ধাতব সেতু। নামকরণ করা হয়েছিল প্রথম ফরাস সম্রাটের নামানুসারে। এর এক পাশে ইনস্টিটিউট অফ ফ্রান্স আর অন্য পাশে ল্যুভর প্যালেসের কেন্দ্রীয় স্থাপনা। এ সেতুর আরেক নাম ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু। ভালোবাসাকে তালা-চাবি দিয়ে বন্দি করা যায় কিনা তা কেবল এখানকার প্রেমীরাই বলতে পারবেন। তালায় দুজনের নাম লিখে এ সেতুতে দুজনে মিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবিটা ছুড়ে ফেলে দেয় তারা ভালোবাসা নদীর জলে। কথিত আছে, এতে ভালোবাসা অমরতা পায়। সেতুর নিচের প্রবহমান ভালোবাসা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে চাবি খুঁজে নিয়ে সে তালা খুলে এমন সাধ্য কী আর কারো আছে বলুন? হতে পারে এটা ছেলেমানুষী। একদিন না হয় ভালোবেসে ছেলেমানুষ হলেন। ক্ষতি কি তাতে! বিষয়টা কিছুটা বুকের ঢিপঢিপানি নিয়ে ছোটবেলায় দেয়ালে যোগ চিহ্ন দিয়ে নামের আদ্যক্ষর লিখে রাখার মতো। এভাবেই হয়ত অবিনশ্বরতা পায় ভালোবাসা। মজার খবর হলো বেশ কিছু দিন আগে ভালোবাসার তালার ভারে সেতুটি প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা হয়েছিল। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই কিছু ভালোবাসার ঝালর কেটে কমিয়ে দিয়ে ছিলেন। সেতুতে টানিয়ে দিয়েছেন সতর্কবাণীও। তাতে কি আর বুঝে পাগলপ্রেমি মন! ভালোবাসার শহরে ভালোবাসার তালা রোজই ঝুলছে। কার সাধ্য বাধা দেয়।

পন্ট দে আরটস সেতু নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত ফরাসি সিনেমা ‘লে পন্ট দে আরটস’। ফরাসি এক তরুণ তরুণীর করুণ প্রেম কাহিনি নিয়ে এ সিনেমা। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে অভিমানি প্রেমিকা এ সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ভালোবাসা নদীতে আত্মহত্যা করে। সইতে না পেরে প্রেমিকও একি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয় প্রেমিকার সঙ্গে মিলনের আশায়। কেবল এই সেতু নয়, ভালোবাসা নদীর ওপর এরকম প্রায় ১১টি ভালোবাসার তালাবন্দি সেতু রয়েছে পুরো পারিসে । যারা প্যারিসে আসেন তাদের কাছে মন্টেমারে নামটা আগে থেকেই শোনা থাকতে পারে। জায়গাটা পারিসের উত্তর পাশে সিন নদীর কোল ঘেঁষে। পাবলো পিকাসো, ভিনসেন্ট ভ্যানগগ, ক্লোদ মনে নিভৃতে ছবি আঁকার জন্য এ পাশটা বেছে নিয়েছিলেন। ফরাসি ভাসায় এ জায়গাটার নাম মো মার্তে। পাহাড়ের উপরে রয়েছে এক মনোরম ব্যাসিলিকা। দুই নম্বর মেট্রো ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। এখানে রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য আরো একটি আকর্ষণ। ফরাসি ভাষায় জায়গাটার নাম ‘লে মর ডেস যে তাইমে’। বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘আমি তোমাক ভালোবাসি দেয়াল’। মন্টেমারে রিকটুশ বাগানে এ দেয়াল।

প্রায় চল্লিশ স্কয়ার মিটার দেয়ালের পুরোটা জুড়ে ৫০টি ভাষায় ৩১১ বার লেখা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। প্রেমিক-প্রেমিকারা নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাওয়ার এক কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এখানে। যে আগে খুঁজে পায় ভালোবাসার বার্তা তার ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। নিজেদের ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা খুঁজে পাবার আনন্দে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার মানুষকে। বাংলায় ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ লেখাটা দেয়ালের মাঝখানের অংশে রয়েছে দেখলাম। বিরহ ছাড়া ভালোবাসা অর্থহীন বলেই হয়ত কিছু লাল ভঙ্গুর হৃদয় ছড়িয়ে দেয়া রয়েছে পুরো দেয়ালের ৬১২টি টাইলস জুড়ে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল ভঙ্গুর হৃদয় দেখে। মনে মনে প্রার্থনা করলাম পৃথিবীর সকল যুগলের জন্য। অমর হোক তাদের বন্ধন। ভঙ্গুর হৃদয়ের যাতনা তাদের যেন কোনোদিন স্পর্শ না করে। আমার ধারণা ছিল কেবল তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসার দেয়ালের খুঁজে এখানে আসে। ভুল করলাম আবারও। এখানে আসেন প্রেমিক জুগল। আর প্রেমের যে কোনো বয়স নেই তা এখানে না আসলে আমার হয়ত কখন বুঝা হতো না। হাতে হাত রেখে ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক দিয়ে বহু প্রবীণ প্রেমিকাকে প্রেমিকের চোখে হারাতে দেখেছি সেখানে। এ যেন প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পড়া।

প্যারিসের যেবার ভালোবাসার দেয়াল দেখতে গিয়েছিলাম সেটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক দিনের সফর। টের পাচ্ছেন তো একাকি আমার দেবদাস অবস্থা! আমি ছাড়া প্যারিস শহরটা বড় বেশিই রোমান্টিক। হা হা হা- তবে যে আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসে তার সাথে দেখা করার গল্পটা বরং আমার কাছে বেশি রোমান্টিক। দ্য টাউয়ার অব লাভ-ভালোবাসার আইফেল টাউয়ার। ৩২৪ মিটার উঁচু লোহার তৈরি এ টাউয়ারে মানুষ আসে প্রেমকে অমর করতে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। উল্টো আমিই প্রেমে পড়ে গেলাম তার। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেম যাকে বলে। প্রথম তার সাথে যখন দেখা হয়, তখন সে কুয়াসার চাদরে ঢাকা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে তার সামনে মন্ত্রমুগ্ধ আমি। দ্বিতীয় বার যখন দেখা হলো তখন তিনি আকাশের নীলে রোদেলা আমার ফাগুন পুরুষ। আর তৃতীয় বার রাতের আকাশে জ্বলজ্বলে আমার ভিনদেশি তারা। তার বিশালতার কাছে নিজেকে বড়ই সামান্য মনে হয়েছে।

সিন নদী পেরিয়ে যতই তার কাছে গিয়েছি ততই বদলে যেতে শুরু করে অনুভূতিটা। ‘আমি দূর হতে কেবল তোমায় ভালোবেসেছি’ কিছুটা এরকম অনুভূতি। দূর থেকেই তাকে বড় আকর্ষণীয় লাগছিল। এ যেন চিরায়ত মানব চরিত্র! কাছে পেলে সোনার মোহর হয়ে যায় মাটির মোহর! ‘কাছে গেলে যদি ভালোবাসা কমে যায় তবে দুরত্বই ভালো-এই বলে সেদিন সন্ধ্যায় তার সাথে হলো ছাড়াছাড়ি।

পরের বার প্যারিস গিয়ে তার অন্য প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে আইফেল টাউয়ারের চূড়ায় উঠার সৌভাগ্য হল। চূড়া থেকে দেখলাম ভালোবাসার অন্য আরেক প্যারিসকে। পুরো প্যারিসটা ৩৬০ ডিগ্রিতে চোখে বন্দি করতে সময় লাগল আর ঘণ্টাখানেক। আইফেল এর চূড়ায় যুগল স্যাম্পেনের হাতে চুম্বনরত তরুণ-তরুণীকে দেখে মনে হয়েছে ‘প্রেম পবিত্র-প্রেম মধুর’! চূড়া থেকে দেখে মনে হলো পৃথিবী আসলেই গোল। কমলা লেবুর মতো প্যারিস শহরটা মিলিয়ে গেছে দিগন্তে। তবে মিলিয়ে যায়নি ভালোবাসা। কেবল সূর্যটা টুপ করে ডুব দিয়েছে সিন নদীতে আর সন্ধ্যা নেমেছে শন্ জিলেজের পথে পথে ভালোবাসার শহরের ভালোবাসারা এভাবেই বেঁচে থাকুক অনন্তকাল!

সোনাদিয়া দ্বীপ : অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি যেখানে

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

সোহেল মো. ফখরুদ-দীন : বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের সর্বশেষ জেলা কক্সবাজার। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। আমাদের পর্যটন নগরী এ কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। স্থানীয় ভাষায় সোনাদিয়ার চর বলে। এটি মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন সমৃদ্ধ শহর। রামু উপজেলা তার আদি নিদর্শন। রামুতে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের আগমনের অস্তিত্ব সংরক্ষিত আছে রামকোট বিহারে। প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় সভ্যতার স্মারক ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির, মহেশখালী সাগর দ্বীপ আদিনাথ পাহাড়ে অবস্থিত।

চট্টগ্রাম ও বাংলায় মুসলমান আগমন ও মুসলমান মিশনারী হিসেবে পরিচিত হযরত বদর আউলিয়া (বদর পীর) সমুদ্র পথে আগমনের চিহ্ন বদর মোকাম কক্সবাজারে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাচীন আরাকানী সভ্যতার স্মারকসহ পুরো কক্সবাজারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্মারক নিয়ে এই শহর পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। কক্সবাজারের আকর্ষনীয় স্থানসমূহের মধ্যে সোনাদিয়া দ্বীপ অন্যতম। এরপরেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ, মহেশখালী দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, মাতারবাড়ী দ্বীপ, ছেঁড়া দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। নয়নাভিরাম দ্বীপ কক্সবাজারের সোনাদিয়া পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কক্সবাজার যারাই আসেন তারা যদি সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ না করেন তাহলে পরিপূর্ণতা আসবে না। সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির অদ্ভুত সব সৌন্দর্য মানুষকে প্রতিনিয়ত কাছে টানছে। যেন স্রষ্টার সৃষ্টি সব কিছু দিয়ে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে জেগে ওঠা সোনাদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার মাত্র। কক্সবাজার থেকে উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটির অবস্থান। আর মহেশখালী থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন ৯ বর্গকিলোমিটার।

ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই সুন্দর দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সবমিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ সবসময় বিরাজ করে এই দ্বীপে। এ দ্বীপের পানি এতোটাই স্বচ্ছ ও টলটলে, দেখে মনে হবে যেনো কোনো কাঁচের ওপর দিয়ে নৌযানটি এগিয়ে চলেছে। যা দেখলে শত বছরের দুঃখ-কষ্ট এক নিমিষেই ভুলে যেতে বাধ্য। সমুদ্র থেকে সৃষ্টি হয়ে ভিতরের দিকে গিয়ে নদীটি কয়েকটি শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে সম্ভবত। দুপাশে সবুজ বন। এসব বনে রয়েছে কেওড়া, হারগোজা, উড়িঘাস এবং কালো ও সাদা বৃক্ষ। এই দ্বীপে তেমন জনবসতি এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে এই দ্বীপের বেশির ভাগ লোকই জেলে সম্প্রদায়ের। যাদের জীবিকা নির্বাহ হয় সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণের মাধ্যমে। আরো কিছু লোক দেখা যায় যারা লবণ চাষ করেও জীবিকা নির্বাহ করে। এই দ্বীপে নেই কোনো হাট-বাজার। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের একমাত্র ভরসা ছোট ছোট মুদি দোকানগুলো। দ্বীপটির পশ্চিম দিকে সবুজ ঘাসে মোড়ানো খোলা মাঠ, নির্জনতা ও অফুরন্ত বাতাস, সব মিলিয়ে মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। এই দ্বীপের খোলা মাঠে বসলে মনে হবে যেনো অজানা-অচেনা কোনো দ্বীপে আপনি একা। চারপাশে লাল কাঁকড়ার ছুটাছুটির দৃশ্যগুলো খুবই মনোরম।

সবকিছুই মনে হবে সিনেমার দৃশ্যের মতো। সোনাদিয়া দ্বীপের সূর্যাস্তও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেন দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে, তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ।

এখানে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি। তবে এখানে কোনো হোটেল-মোটেল এখনো গড়ে উঠেনি। এলাকাটি তেমন নিরাপদও নয়। স্থানীয় কোনো প্রশাসন চোখে পড়ার মতো পরিদর্শনে দেখা যায় না। পর্যটকদের ভয় ওখানে। তবে ছোটখাট বিচ্ছিন্ন চুরি ছাড়া তেমন কোনো বড় ঘটনার নজির নেই। এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য ঢাকা চট্টগ্রাম হয়ে দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী।

মহেশখালী গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত পথটুকু যেতে হবে বেবিট্যাক্সিতে করে। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে ছোট নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই নয়নাভিরাম দ্বীপ সোনাদিয়া । যেখানে সৌন্দর্যের হাতছানি আপনার মনকে দেবে প্রশান্তি। দল বেঁধে কিংবা পরিবা-পরিজন নিয়ে সোনাদিয়া দ্বীপে ঘুরে আসতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে গেলে ভ্রমণ হবে নিরাপদ ও আনন্দময়।

 লেখক : সভাপতি, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি), সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ, ঢাকা

বাংলা সাহিত্যে বর্ষা বন্দনা

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

অলোক আচার্য্য :ঋতুচক্রে এখন বাংলায় বর্ষাকাল চলছে। বইয়ের হিসেবে আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য অন্যরকম। বর্ষা শুরুর আগে থেকেই প্রবল বর্ষণ এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। আবার বর্ষা বিদায় নেয়ার পরেও একই চিত্র দেখা যায়। তবু বর্ষা ঋতু বর্ষা। একেবারে ভিন্ন। প্রকৃতির অপার প্রতীক্ষায় জেগে ওঠা বৃষ্টির ফোঁটায় বর্ষা ঝরে। বর্ষায় জেগে ওঠে প্রাণ। দূর হয় জঞ্জাল। বর্ষার শুরুতেই করা হয় আবাহন। বর্ষার গানে বর্ষাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যেন এক রাজকীয় ব্যাপার। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের অঝর ধারায় ভেসে যাচ্ছে দেশ। মাঠের পর মাঠ বর্ষার জলে থৈ থৈ করছে। দিন পেরিয়ে গেলেও, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও বর্ষার সে রূপ এখনো তেমনি আছে। সেই কালো মেঘে ঢেকে থাকা, অঝর ধারায় বৃষ্টি এসব কিছুই বর্ষার বৈশিষ্ট্য। তপ্ত গ্রীষ্মের প্রহর শেষে ধরণী যখন উত্তপ্ত, এক ফোঁটা বৃষ্টির জলের জন্য হাহাকার করছে প্রতিটি ধূলিকণা তখন এক পসলা বৃষ্টি নামে বাংলার বুকে। সেই বৃষ্টির জলরাশি বেয়ে নাকে আসে সোদা মাটির গন্ধ। আমরা প্রাণ ভরে শ্বাস নিই। মাটিরও যে গন্ধ হয় তা তো এই বর্ষার বৃষ্টিতেই বোঝা যায়!

বর্ষার নতুন জল পেয়ে বৃক্ষরাশি জেগে উঠেছে নতুন করে। যেন তারা এতদিন ধরে আকাশের কাছে প্রার্থনায় ছিল। কখন বৃষ্টি নেমে তাদের প্রাণ ফেরাবে। নদ-নদী-পুকুর সব পানিতে ভরে যায় এসময়। কাগজে-কলমে আমাদের ছয়টি ঋতু থাকলেও শীত, বসন্ত আর বর্ষার বাইরে অন্যসব ঋতুর উপস্থিতি যেন অনেকটা ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে। নদী তার যৌবন ফিরে পায় এই বর্ষায়। শুধু নদী কেন বর্ষার অপেক্ষায় তাকে আরও কত সৃষ্টি। যদিও বসন্ত আমাদের ঋতুর রাজা কিন্তু বর্ষার আদর বাংলায় একেবারে অন্যরকম। লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গায়ক থেকে শুরু করে বর্ষা আর বৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে বর্ষাকে ভালোবাসে না সে নিতান্তই নিরস। বসন্ত ঋতুর রাজা হলেও বর্ষার ভালোবাসার সঙ্গে তুলনা হয় না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে প্রায় সবাই বর্ষা আর বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেছেন। কবিগুরুর বর্ষার দিনে কবিতায় লিখেছেন

এমন দিনে তারে বলা যায়,
এমন ঘনঘোর বরিষায়-
এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়
সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভৃত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অনিবার-
জগতে কেহ যেন নাহি আর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এবং পাঠ্যবইয়ে প্রচলিত সোনার তরী কবিতায়ও এঁকেছেন বর্ষার চিত্র। সেখানে লিখেছেন

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষরধারা
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

যদিও কবির এ কবিতাটিতে জীবনের কর্ম এবং ফসলের কথা বলা হয়েছে। তবে বর্ষার ব্যবহার করেই তা করা হয়েছে। তবে ছোটবেলায় পড়া একটা কবিতায় আষাঢ় এবং বর্ষাকে আরও বেশি পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্ষায় কখনো খুঁজেছেন গভীরতা, কখনো রোমান্টিকতা। কোথাও বা বর্ষার প্রকৃতির ছবি এঁকেছেন। যেমন তার আষাঢ় কবিতায়

নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর
নাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের
বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,
কালি মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিছে দেখ চাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের
বাহিরে।

আমাদের দেশে নাকি যে বৃষ্টি নামে তা বিশ্বে অন্য কোথাও হয় না। এই দেশের বৃষ্টি বর্ষার সাথে অন্য কোনো দেশের বৃষ্টির তুলনা হয় না। এই দেশে বৃষ্টি হয়েই তা শেষ হয়ে যায় না। বৃষ্টিতে বর্ষা আসে। বৃষ্টি ছাড়া বর্ষা যেন অসম্পূর্ণ এক ঋতু। আবার বর্ষা এলে বৃষ্টি চাই-ই চাই। বর্ষায় কবির কলমে কবিতা হয়, লেখকের গল্প হয় আবার গায়কের কণ্ঠে গানও হয়। এই হলো আমাদের বর্ষা। হাজার বছরের বাঙালির সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে বর্ষা।

ঊর্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও আরও অনেকেই বর্ষা বৃষ্টির গুণগান করেছেন। পল্লী কবি জসিমউদ্দীনও তার কবিতায় বর্ষার রূপ-বৈচিত্র্য বর্ণনা করেছেন। কবি তার পল্লী-বর্ষা নামক কবিতায় লিখেছেন

আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়েছে
ঘোলাটে মেঘের আড়ে,
কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে
ছল ছল জলধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়।

কবিতার সম্পূর্ণ অংশেই তিনি টেনেছেন বাংলার পল্লী গাঁয়ে বর্ষার সময়ে প্রকৃতির বর্ণনা। কদমফুল বর্ষার সময়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষা এলেই মানুষ এক অজানা ভালোবাসায় সাড়া দেয়। তাই তো ঋতুরাজ বসন্তের চেয়ে অনেকেই বর্ষাকে ভালোবাসার সমার্থক মনে করেন। চিত্রকরের পটে আঁকা চিত্রে, শিল্পীর গানে বা কবির কবিতায় বর্ষা তাই চির যৌবন রূপ পেয়েছে।

বর্ষা নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের উক্তিও কম নয়। মহাদেব সাহা বলেছেন কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ প্রেমের কবিতা লিখে রেখেছে আকাশে। সেই ভালোবাসার কবিতা এই বৃষ্টি এই ভর বর্ষা। আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও বর্ষার প্রশংসা করেছেন। সে দেশে যবে বাদল ঝরে কাঁদে না কি প্রাণ একেলা ঘরে, বিরহ ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে। যুগ যুগ ধরে বর্ষা আর বৃষ্টির বিলাসে গা ভাসিয়ে বাঙালি বরণ করে নিয়েছে বর্ষাকে।

বিশ্বব্যাপী বাঘের পরিসংখ্যান

অগাষ্ট 12, 2017 মন্তব্য দিন

tiger stat

বৃষ্টি নিয়ে ছোটমণিদের ছড়া কাটা…

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

rhyme - rain 2

তিন যুগে ঢাকার জলাভূমি গায়েব !

অগাষ্ট 10, 2017 মন্তব্য দিন

water retainers outএটা ঠিক যে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির জন্য আমাদের যত্রতত্র ময়লা ফেলে সিওয়ারেজ লাইনের মুখ বন্ধ রাখা অনেকাংশে দায়ী । তবে সেটাই একমাত্র কারণ নয় । নগর পরিকল্পনার সময় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা বিবেচনায় আনা হয়নি — প্রতিটি এলাকায় যে আয়তনের জলাধার ব্যবস্থা থাকা দরকার তা রাখা হয়নি যা উন্নত দেশগুলোতে আছে। যতোটুকু ছিলো তা ভরাট করে বাড়ী-ঘর বানানো হয়েছে । ময়লা ফেলার আধার (বিন) পর্যাপ্ত সংখ্যায় সঠিক স্থানে থাকতে হবে এবং সেগুলো নিয়মিত খালি রাখতে হবে । মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে গণ-সচেতনা বাড়াতে হবে – – প্রয়োজন হলে সিঙ্গাপুরের মতো জরিমানার প্রচলন করতে হবে ।
===
রাজীব আহাম্মদ : গত তিন যুগে রাজধানী ঢাকার জলাভূমির অর্ধেকেরও বেশি গায়েব হয়ে গেছে। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় নদী ও খালের আয়তন ছিল ২৯ বর্গকিলোমিটার। ২০১৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটারে। খাল ও নদীর মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশই ভরাট হয়ে গেছে। ১৯৭৮ সালে নিম্ন ও জলাভূমির আয়তন ছিল ১৩০ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। ২০১৪ সালে তা কমে হয়েছে ৮১ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার।

১৯৭৮ সালে ঢাকার মোট আয়তনের ৫২ ভাগই ছিল নদী, খাল ও নিম্নভূমি। ২০০৯ সালের তথ্যানুযায়ী, ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজধানীর মাত্র ২১ ভাগ ছিল জলাভূমি। ৬৫ শতাংশ জলাভূমি কমেছে তিন দশকে। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাস্তব চিত্র আরও খারাপ বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

২০০৯ সালে ‘প্রি অ্যান্ড পোস্ট আরবান ওয়েটল্যান্ড এরিয়া ইন ঢাকা সিটি : বাংলাদেশ, এ রিমোট সেনসিং অ্যান্ড জিআইএস অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. জিএম তরিকুল ইসলাম। তিনি গবেষণায় দেখান, ১৯৭৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৮ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার নদী ও খালের আয়তন কমেছে। জলাভূমি কমেছে ৭৬ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার। তিন দশকে ঢাকার নদী, খাল ও জলাভূমির ৬৫ শতাংশই ভরাট হয়ে গেছে।

অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা ‘জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম’ (জিআইএস) বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণা করেন। এতে ঢাকার যে চিত্র পাওয়া যায়, তাতে স্পষ্ট-তিন দশকে রাজধানীর জল ধারণের ক্ষমতা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। ঢাকার মানচিত্র থেকে ‘নীল’ রঙ হারিয়ে যাচ্ছে।

এ গবেষণায় ২০০৯ সাল নাগাদ তথ্য রয়েছে। গত আট বছরে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে,এ প্রশ্নে অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। যদি উন্নতি হতো, তাহলে ঢাকায় জলজট হতো না। জলজট প্রমাণ করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কতটা খারাপ হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর ঢাকার পূর্বাঞ্চলে নতুন আবাসিক এলাকার জন্য নিচু জমি ও জলাভূমি ভরাট হয়েছে। মিরপুর, কালশী এলাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা ভরাট করেছে আবাসন কোম্পানিগুলো।

সাতারকুল, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরের বছিলার নিম্নাঞ্চলও ভরাট করা হয়েছে অপরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য। অপরিকল্পিত উন্নয়নের উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বাঞ্চলে বন্যা ঠেকাতে ‘ইস্টার্ন বাইপাস’ নামে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রামপুরা, বাড্ডা এলাকার পানি নামার কোনো পথ থাকবে না। তিনি গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকার আয়তনের ২১ ভাগ জলাভূমি টিকে ছিল। এখন তা অনেক কম।

২০০৯ সালের পরও যে নদী, খাল, জলাভূমি কমেছে_ তা সরকারি গবেষণাতেই স্পষ্ট। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে ঢাকায় জলাভূমির আয়তন ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার। নিম্নভূমি ছিল ১৩৫ দশমিক ২৮ বর্গ কিলোমিটার। খাল ও নদী ছিল ২৯ বর্গকিলোমিটার। ২০১৪ সালে জলাভূমি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৩৫ বর্গকিলোমিটারে। নিম্নভূমি দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক বর্গকিলোমিটারে। ওই বছর নদী ও খালের আয়তন ছিল ১০ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার। এ হিসাবে ২০০৯ সালের পর পরবর্তী পাঁচ বছরে খালবিল ও জলাভূমি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। এ হার অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ঢাকায় জলাভূমি ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে সতর্ক করা হয়েছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের প্রতিবদনে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যপক ড. এম মনোয়ার হোসাইন সমকালকে বলেন, ঢাকায় যে প্রতিদিন জলাভূমি কমছে; খালবিল, নদী ভরাট হচ্ছে, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই, কোনো গবেষণারও দরকার নেই। খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সব খাল দখল হচ্ছে, নদী ভরাট হচ্ছে। নিচু ও জলাভূমি ভরাট করে ভবন তোলা হচ্ছে।

খাল ও নদী উদ্ধারে ২০১০ সালে ছয়টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। এরও আগে খাল ও নদী দখলকারীদের চিহ্নিত করা হয়। ১০ হাজারের বেশি দখলদারের তালিকা করা হয়। কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই দখল আগের রূপ নেয়। প্রতি বর্ষায় রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয় নগরবাসীকে। জলজট সৃষ্টি হলে সরকারের তরফ থেকে তাৎক্ষণিক আশ্বাস দেওয়া হয়-খাল, নদী দখলমুক্ত করা হবে। বর্ষার পর তা সবাই ভুলে যান। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাছের খান বলেন, এ দুষ্টচক্রে আটকা পড়েছে জলাভূমি উদ্ধার কার্যক্রম।

ঢাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, ঘণ্টায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় মাত্র ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে শহরের প্রায় সব প্রধান সড়ক কয়েক ঘণ্টার জন্য ডুবে যায়। যদিও ওয়াসার দাবি, ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হকের অভিমত, ওয়াসার সক্ষমতার দাবি কাগুজে। সংস্থাটির পানি নিষ্কাশনের ততটা ক্ষমতা নেই, যতটা তারা দাবি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব জানান, বৃষ্টির পানি তিনটি উপায়ে নিষ্কাশিত হয়। পানির একটি অংশ মাটি শুষে নেয়; আরেকটি অংশ জলাধারে জমা হয়। বাকি অংশ খালের মাধ্যমে নদীতে চলে যায়। কিন্তু রাজধানীতে খোলা মাটির পরিমাণ খুবই নগণ্য। টপ সয়েল (খোলা জমি) কংক্রিটে ঢাকা পড়ায় মাটি পানি শোষণ করতে পারছে না। বিল ও নিম্নাঞ্চল ভরাট হওয়ায় পানি ধারণের জায়গা নেই। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নদীতেও নামতে পারছে না।

উপকূলে ঝড়ঝঞ্ঝা ঠেকাতে তালগাছ !

ডিসেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

palm-tree-on-beach