আর্কাইভ

Archive for the ‘নারী’ Category

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যৌনদাসীদের প্রথম ভিডিও প্রকাশ

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

chinese comfort women for japaneseদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য বাধ্যতামুলকভাবে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল অসংখ্য নারীকে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মাঝ থেকে সেনারা শয্যাসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতো এদের কাউকে। এদেরকে বলা হতো ‘কমফোর্ট ওমেন’ বা স্বস্তি দেয়া নারী।

এমনই কিছু যৌনদাসীর প্রথম ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ওই ভিডিওটি ১৮ সেকেন্ডের। ফুটেজটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে কিছু গবেষক পেয়েছেন সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ইউএস আর্কাইভে। এটি চীনে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এতে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো বেশ কিছু নারীর সঙ্গে কথা বলছে এক চীনা সেনা সদস্য। তার উদ্দেশ্য কি তা বোঝা যায় নি। তবে ১৯৪৪ সালে মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল কোরিয়ার সাত জন নারীকে। তাদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তা কথা বলছেন তাকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর একজন চীনা ক্যাপ্টেন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মীদের দাবি, জাপানের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোরঞ্জন করতে দুই লাখ নারীকে জোর করে ঠেলে দেয়া হয়েছিল পতিতালয়ে। আর এতে যারা থাকতেন তাদেরকে বলা হতো কমফোর্ট ওমেন। এসব নারীর বেশির ভাগকে নেয়া হতো কোরিয়া থেকে। এছাড়াও ছিলেন চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের নারী, যুবতীরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সেনাবাহিনীর জন্য নারীদের জোরপূর্বক যৌনদাসী বানানো হয়েছিল এর স্বপক্ষে ফটোগ্রাফ রয়েছে। আছে জীবিতদের সাক্ষ্য। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে তার গবেষকরা বলেছেন, এই ফুটেজটি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সেনারা। ইউনান প্রদেশটি তখন ছিল জাপানের অধীনে।

নারীদের এভাবে জোর করে যৌনদাসী বানানোর বিষয়ে জাপানের ক্ষমা না চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে টান পড়েছে। ২০১৫ সালে দেশ দুটি একটি ঐকমত্যে আসে। তার অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষা চায় টোকিও। একই সঙ্গে নির্যাতিতদের ১০০ কোটি ইয়েন দিতে রাজি হয়। তারপরও এর উত্তাপ রয়েছে।

সম্প্রতি বুশানে জাপানের কনসুলেটের সামনে একটি ‘কমফোর্ট ওমেন’-এর মূতি বসায় জাপান। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়োজিত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

sikim 2হারুন রশীদ : ১৯৫৯ সাল। দার্জিলিংয়ের Windamere Hotel-এর আলো ঝলমল সান্ধ্য আসরে হিমালয় দেখতে আসা ১৯ বছর বয়সী হোপ কুক (Hope Cooke) নামের হাস্যোজ্জ্বল এক আমেরিকান তরুণী তার বান্ধবীকে নিয়ে পানভোজনে উচ্ছ্বসিত সময় কাটাচ্ছেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার বহু দিনের এক লালিত স্বপ্ন পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামীকাল ভোরে। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখার আয়োজন হয়েছে।

লবির অন্য পাশে বিষণ্ন এক রাজকুমার কাচের গ্গ্নাসে রঙিন সুধাপানে মগ্ন। সদ্য বিপত্নীক এই রাজকুমারের নাম পালডেন থনডুপ নামগিয়াল (Palden Thondup Namgyal) । রাজ্যের নাম সিকিম। গ্যাংটকের রাজপ্রাসাদে বসবাস। দেরাদুন থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া চৌকস তরুণ সিকিমের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। বয়স ৩৫ হলেও এখনও তারুণ্যে উজ্জ্বল।

আমেরিকান তরুণীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন রাজকুমার। একবার নয়, বারবার। ভাবছেন, অসাধারণ মায়াময় চোখের এই নারী কে?

আমেরিকান তরুণীও ফিরতি চাহনিতে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন। তারপর দু’জন নিজ নিজ ঘরে গিয়ে দরোজা বন্ধ করে দিলেন। একজন রোমান্টিক কবিতার বই খুলে বসলেন, অন্যজন রেকর্ড প্লেয়ারে পুরনো দিনের গান শুনতে লাগলেন উদাস হয়ে।

এর কয়েক দিন পরই হোটেল উইন্ডামেয়ারের বাসিন্দা এবং দার্জিলিংয়ের পাহাড় জেনে গেল পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুই বাসিন্দা একটি অভিন্ন স্বপ্নময় জগতে বাঁধা পড়ে গেছেন।

কুকের কাছে অবিলম্বে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন রাজকুমার। কিন্তু বাদ সাধল পশ্চিমের প্রতি রক্ষণশীল সিকিমের ভুটিয়া সমাজের চিরকালীন অবিশ্বাস। তা ছাড়া আমেরিকান নাগরিকত্ব নিয়ে সিকিমের রানী হওয়া অসম্ভব। কিন্তু প্রেমের কাছে কোনো বাধাই বড় নয়। হোপ কুক দেশে ফিরে গিয়ে চূড়ান্তভাবে আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিকিম ফিরে এলেন ১৯৬১ সালে। তারপর কোনো বাধা ছাড়াই আরেকটি রূপকথার প্রেমের মধুরতম পরিণতি পেল হিমালয়ের কোলে, গ্যাংটকের পাহাড়ে।

১৯৬৫ সালে সিকিমের তৎকালীন রাজা তাশি নামগিয়ালের (Tashi Namgyal) মৃত্যু হলে পালডেন নামগিয়েল সিংহাসনে বসলেন হোপ কুককে পাশে নিয়ে।

সিকিমের স্বাধীনতার সূর্যাস্ত

হিমালয় পর্বতের নিরিবিলি এই রাজ্যটি কখনও বিপদমুক্ত ছিল না। বিদেশি শক্তি বার বার লোভের থাবা বাড়িয়েছে। নিজের দেশকে নিজের মতো করে কখনোই শাসন করতে পারেননি এই দেশের রাজারা। প্রতিবেশী রাজ্যের আগ্রাসন এসেছে বারবার। ১৯৭০ সালের আগে সর্বশেষ আগ্রাসী শক্তি ছিল ইংরেজ, যাদের কাছে দার্জিলিং আপসে দিয়ে দিতে হয়েছিল ১৮৩৫ সালে। দার্জিলিং হাতছাড়া হলেও গ্যাংটকে সিকিমরাজ নিরাপদে ছিলেন প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে। কোনো খবরদারি ছাড়াই রাজ্য শাসন চলেছিল।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ইংরেজ কর্তৃক সিকিমকে স্বতন্ত্র একটি রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হলেও ভারত আর নেপালের নজর পড়ে বৌদ্ধ অধ্যুষিত দেশটির দিকে। বছরের পর বছর ধরে নেপাল থেকে প্রচুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছিল দীর্ঘদিন ধরে। সিকিমের দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা অসম্ভব ছিল। এসব অনুপ্রবেশের কুফল দেখা যেতে শুরু হলো ১৯৭০ সালের পর। একশ’ বছরের মধ্যে বৌদ্ধশাসিত রাজ্যটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়ে। সিকিমের মূল অধিবাসী ভুটিয়ারা ২০ ভাগ নিয়ে হয়ে গেল সংখ্যালঘু। তাতে নেপালের কোনো লাভ না হলেও ভারতের নজর ছিল বরাবর।

১৯৭৫ সালে ভারতের চাপে অদ্ভুত একটি গণভোটের আয়োজন হলো সিকিমে-সিকিম স্বাধীন থাকতে চায়, নাকি ভারতের রাজ্য হতে চায়। আশিভাগ বহিরাগত জনগোষ্ঠীর কারণে ফলাফল সিকিমবাসীর বিপক্ষে গেল। সিকিমের মূল অধিবাসীদের স্বাধীন থাকার স্বপ্ন চিরতরে নষ্ট হয়ে গেল। গণভোটের দিন দুই লাখ জনগোষ্ঠীর দেশটির চারপাশ ভারতের এক লাখ সৈন্য ঘিরে রেখেছিল। ঘটনার চাকা ঘুরতে থাকে। ১৪ এপ্রিল ১৯৭৫-এ রাজা পালডেনকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে গৃহবন্দি করা হয়। তারপর ১৫ মে ১৯৭৫ সালে এক নীরব অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলো তিনশ’ বছরের পুরনো শাসক এবং শাসন ব্যবস্থা। সিকিম ভারতের অধীনস্থ একটি রাজ্যে পরিণত হলো তথাকথিত গণতন্ত্রের অজুহাতে।

স্বপ্নের দিন অবসানে

গণভোটের পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করে তার আগেই হোপ কুক তাদের দুই সন্তান Prince Palden Gyurmed Namgyal এবং Prince Palden Gyurmed Namgyal Ges Princess Hope Leezum Namgyal Tobden কে নিয়ে আমেরিকায় চলে গিয়েছিলেন। তাদের আর ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। ওই বছরের জুন মাসে সিনেটে বিশেষ বিল পাসের মাধ্যমে হোপ কুকের আমেরিকান নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা হয়।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পালডেন আর হোপ কুকের বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবার-সংসার ইত্যাদি নিয়ে তৈরি হতে থাকে অনিবার্য দূরত্ব। অবশেষে ১৯৮০ সালে তাদের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনেরও অবসান ঘটে। দু’বছর পরে ১৯৮২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজা পালডেন নামগিয়েলও নিউইয়র্কের Memorial Sloan Kettering Cancer Center হাসপাতালে মারা যান।

শাসক হিসেবে নামগিয়েল কতটা সফল ছিলেন? উত্তরে একটা তথ্যই যথেষ্ট। তার আমলে সিকিমের শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। পালডেন নামগিয়েল সিকিমকে একটি আধুনিক এশিয়ান রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন রানী হোপ কুককে সঙ্গে নিয়ে। বলা বাহুল্য, স্বপ্নটা অকালে মৃত্যুবরণ করেছিল।

সৌদিতে নারীদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করা হয়

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

manal-al-shareefসৌদি আরবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাড়ি চালানোর জন্য কারাদণ্ড পাওয়া এক নারী তাঁর দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন।

মানাল আল-শরিফ নামের ওই নারী বলেছেন, এখনকার সময়েও সৌদি আরবে নারীদের সঙ্গে ঠিক ক্রীতদাসের মতো আচরণ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে গাড়ি চালানোয় মানালকে নয় দিন কারাভোগ করতে হয়েছিল। পরে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে পারছেন মানাল। এখন নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন মানাল। জানালেন, তিনি সৌদি আরবে প্রথম নারী আইটি নিরাপত্তা কনসালট্যান্ট হন। প্রায় এক দশক ধরে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোতে কাজ করেছেন।

ডেইলি মেইল অস্ট্রেলিয়াকে মানাল বলেছেন, একটি রক্ষণশীল সমাজ থেকে উঠে এসেছেন তিনি। তাদের ঘরের জানালা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হতো। বাড়ির চারদিক উঁচু দেয়ালে ঘেরা। নারীদের ঢেকে রাখা হতো। পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবে নারীদের জন্য কিছু করা খুবই কঠিন।

২০১১ সালে মানাল তাঁর গাড়ি চালানোর একটি ভিডিও ইউটিউবে তোলেন। ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এক দিনে সাত লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখে।

ভিডিও প্রকাশের পর জীবননাশের হুমকি পান মানাল। তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে অভিহিত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মুসলমানদের ভুল পথে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। যত ধরনের গালি আছে, তা তাঁকে শুনতে হয়।

কারাদণ্ড হওয়ার পর মানাল তাঁর বাড়ি, সন্তান ও চাকরি হারান। শেষে দেশত্যাগ করেন। দ্বিতীয় স্বামী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে সিডনিতে স্থায়ী হন। মানাল একটি স্মৃতিকথা লিখেছেন। নাম ‘ডারলিং টু ড্রাইভ’। এতে তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। নারী অধিকারকর্মী মানাল সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন। এতে তিনি ভীষণ খুশি। তিনি এখন মুক্তির স্বাদ উপভোগ করছেন।

বিখ্যাত টাইম সাময়িকীর বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন মানাল। নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ে তিনি সরব। ‘ওমেন টু ড্রাইভ’ আন্দোলনের মাধ্যমে নারীদের গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করতে আহ্বান জানাচ্ছেন মানাল।

উপযুক্ত শাস্তি বটে !

অগাষ্ট 12, 2017 মন্তব্য দিন

punishment for removing hizab

অনলাইন কেনাকাটার আচরণে নারী ও পুরুষ…

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

men vs women online buying

দেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

nazmun ara sultana 5বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা দেশের ইতিহাসে আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি। হাইকোর্টেও তিনি ছিলেন প্রথম নারী বিচারপতি।

১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের চৌধুরী আবুল কাশেম মঈনুদ্দীন ও বেগম রশীদা সুলতানা দীন দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুন আরা সুলতানা। তারা তিন বোন ও দুই ভাই। ভাইবোনের সঙ্গে শৈশব-কৈশোরের সময়টা কেটেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে।

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি, ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। বাবার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানদের কেউ একজন আইনজীবী হবে। বাবার স্বপ্নপূরণে বিএসসি পাসের পর তিনি মোমেনশাহী ল কলেজে ভর্তি হন। মা রশীদার উৎসাহে প্রতিকূলতা জয় করে বাবার স্বপ্ন পূরণে ১৯৭২ সালে এলএলবি পাস করেন তিনি।

১৯৭২ সালের জুলাইয়ে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীন দেশে নারীদের বিচারক হওয়ার বিধান ছিল না। ১৯৭৪ সালে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। নাজমুন বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ হন।

নিম্ন আদালতে দেশের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নাজমুন খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে সাবজজ হন। কয়েক দফা পদোন্নতির পর ১৯৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজ হন। কোনো নারীর জেলা জজ হওয়ার ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম।

২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর হাইকোর্টে স্থায়ী হন তিনি। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। দূরদর্শী এ বিচারপতি বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

হাইকোর্ট বিভাগে তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত বিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারক ছিলেন।

নারী বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডব্লিউজেএ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সংস্থায় দু’বার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা সুদীর্ঘ কর্মজীবনে ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, আমেরিকা, চীন, ইরান, ইরাক, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, পানামা ও হংকং সফর করেন।

ভুল বিচার করিনি কখনই

nazmun ara sultana 3বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতান :আল্লাহ আমাকে বিচারক বানিয়েছেন, এদেশের প্রথম নারী বিচারক। তবে আমার বিচারক হওয়ার পেছনে আমার মরহুম আব্বার ইচ্ছা ও আমার আম্মার প্রেরণা বড় ভূমিকা রেখেছে। আমার আব্বা আমাদের ৫ ভাই-বোনকে ছোট রেখেই মারা যান। আব্বার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানদের মধ্যে একজন ব্যারিষ্টার হবে। কিন্তু আমার মায়ের পক্ষে সম্ভব হয়নি তার কোন সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে ব্যারিষ্টারি পড়ানোর। আমার মনে হয়েছিল আমি আইন পড়লে আমার আব্বার ইচ্ছা খানিকটা পূরণ হবে। আমি ল’ কলেজে ভর্তি হলাম আম্মার উত্সাহে। মফস্বল শহরের ল’ কলেজ। রাত্রে ক্লাস হয়। ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরতে রাত ৯ টার বেশি হয়ে যায়। ঐ সময় মফস্বল শহরে অল্প বয়সের কোন অবিবাহিত মেয়ে রাত ৯ টায় একা রিক্সায় করে বাড়ি ফিরবে-এটা খুব একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। কিন্তু আমার মায়ের সাহস ও প্রেরনায় আমি আইন পড়া চালিয়ে যেতে পেরেছিলাম। ল’ পাশ করে ময়মনসিংহ জেলার প্রথম নারী আইনজীবি হিসেবে আমি আইন পেশায়ও যোগ দেই আমার অসীম সাহসী মায়ের প্রেরণায়।

ময়মনসিংহের জজ কোর্টে আমি প্রথম যেদিন আইনজীবি হিসাবে যোগদান করি সেদিনটির কথা আমার হূদয়ে গেঁথে আছে। ঐ দিনই বোধহয় আমার মনের কোণায় ইচ্ছাটা উঁকি দিয়েছিল -‘আমি কি জজ হতে পারি না?’ কিন্তু জানলাম আমি জজ হতে পারি না। বাংলাদেশে নারীরা জজ হতে পারে না। কিন্তু আমার মনের জজ হওয়ার প্রবল ইচ্ছাটা হয়তো জগত্কর্তাকে ছুঁয়েছিল। আমি ওকালতি শুরু করার বছর দেড়েকের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার নারীদের বিচারক না হওয়ার বিধানটি তুলে নেয়।

১৯৭৪ সালে সরকার বিচারক (মুন্সেফ) পদে নিয়োগের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে কাগজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো। আমি আবেদন করলাম। কিন্তু বেশ কিছুদিন হয়ে যায় কোন সাড়া পাইনা। ইতিমধ্যে আমার বিয়ে হয়ে যায়। আমি স্বামীর সাথে তাঁর কর্মস্থল খুলনায় চলে যাই। খুলনায় যাওয়ার ১৪ দিন পরেই খবর যায় আমার মা খুব অসুস্থ। মার অসুস্থতার খবর পেয়ে আমি সাথে সাথেই ময়মনসিংহ চলে আসি। আম্মা একটু সুস্থ হলে, আমি আম্মার বাসায় ঝুলানো লেটারবক্স  খুলে আমার অ্যাডমিট কার্ড পাই। কার্ডটি টি খুলে দেখলাম আর মাত্র ৬/৭ দিন পরেই আমার বি, সি, এস, লিখিত পরীক্ষা, ১০০০ মার্কস্ এর। ভয় পেলাম-এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া কি করে সম্ভব! আমার মা আমাকে সাহস জোগালেন। আমরা ঐ ব্যাচে মোট ১৮ জন নিয়োগ পেয়েছিলাম। আমি তৃতীয় হয়েছিলাম। তবে আমার ওপরের দুই জনের একজন চাকুরিতে যোগ না দেওয়ায় এবং অন্য জন অল্প কিছুদিন পরেই চাকুরি ছেড়ে দেওয়ায় আমি আমার ব্যাচের 1st man হিসাবেই ছিলাম। আমার আম্মা যদি ঐ সময় অসুস্থ হয়ে না পড়তেন তাহলে ঐ বিশেষ সময়টায়, বিয়ের মাত্র ১৫/২০ দিন পর, আমার খুলনা থেকে ঢাকায় আসা হতো না, বি, সি,এস, পরীক্ষাটা হয়তো দেওয়া হতো না-বিচারকও হওয়া হতো না। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ আমাকে বিচারক করবেন বলেই হয়তো আমার আম্মা ঐ সময়টায় অসুস্থ হয়েছিলেন।

দেশের প্রথম নারী বিচারক হয়ে আমি খুলনার জজশীপে মুন্সেফ হিসাবে যোগদান করি ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে। ঐ সময়টায় এটি একটি বেশ গুরুত্ব্বপূর্ণ খবর হিসাবে দেশের খবরের কাগজগুলোতে ছাপা হয়েছিল। প্রতিক্রিয়া দুরকমেরই হয়েছিল। কেউ কেউ স্বাগত জানিয়েছিলেন আবার অনেকে নাক সিঁটকেছিলেন-‘নারী আবার বিচারক হতে পারে না কি-নারী আবার কী বিচার করবে?’ কর্মক্ষেত্রেও আমি এই দুরকমের আচরণই পেয়েছিলাম। অনেকের  কাছ থেকে অবজ্ঞা পেলেও অনেকের কাছ থেকেই আমি খুবই ভাল আচরণ পেয়েছি, উত্সাহ পেয়েছি, সাহায্য পেয়েছি। ঐ উত্সাহ, সাহায্যটুকু না পেলে হয়তো আমার বিচারক হিসাবে টিকে থাকাই সম্ভব হতো না।

প্রথম নারী বিচারক হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যাইনি – আল্লাহর কাছে তাই আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রথম নারী বিচারক হিসেবে আমি ব্যর্থ হলে হয়তো আজ বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ নারী বিচারক হতো না। বাংলাদেশের নারী বিচারকরা অনেক সময় অনেক ক্ষেত্রে বেশ কিছু অসুবিধা-বিপদের সম্মুখীন হন যা দুর করার দায়িত্বে  উর্ধবতন যে পুরুষ বিচারকরা আছেন – তাঁরা অনেক সময়ই সে অসুবিধা, বিপদ বুঝতেই পারেন না বা বুঝতে চানই না। নারী বিচারকদের সুবিধা-অসুবিধা, বিপদ-সংকট ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার জন্যই মূলত আমি ১৯৯০ সনে আমার কিছু নারী সহকর্মীদের সহযোগিতায় গঠন করি বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন -যা এখন সারা বিশ্বের নারী বিচারকদের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ ও সুপরিচিত সংগঠন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারী বিচারকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে International Association of Women Judges (IAWJ) যার বর্তমান সদস্য সংখ্য প্রায় ৫০০০। বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন- International Association of Women Judges এর জন্মলগ্ন থেকেই এই সংগঠনটির সদস্য।

আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর পরেই ন্যায় বিচারকের স্থান-যা সহীহ্ হাদিসে বর্ণিত আছে। জেনে বুঝে অবিচার করা বা অমনোযোগী হয়ে বা অবহেলা করে ভুল বিচার করা আল্লাহ্ ক্ষমা করবেন না। পক্ষাশ্রিত হয়ে বা কোন কারণে বা কারো দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে বিচার করা মহাপাপ। আমার আত্মতৃপ্তি-আমি জেনেবুঝে বা অবহেলা করে বা অমনোযোগী হয়ে বা পক্ষাশ্রিত বা প্রভাবান্বিত হয়ে ভুল বিচার, অন্যায় বিচার করিনি কখনই।

বিচারকদের সঠিক বিচার করার কাজে সহায়তা করার দায়িত্ব আইনজীবিদের। আইনজীবিদের সহায়তা ছাড়া একজন বিচারকের পক্ষে সঠিক বিচার করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। একজন বিচারক তাঁর জ্ঞান সমৃদ্ধ করেন আইনজীবীদের জ্ঞান থেকেই। বিজ্ঞ আইনজীবিরাই গড়ে তোলেন একজন দক্ষ বিচারক। আমার যেটুকু অর্জন তার সবটাই আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞানের জন্যই।

(অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেয়া সংবর্ধনার জবাবে। সংক্ষেপিত)

আইএস জঙ্গীদের হাতে ইয়াজিদী নারীদের ইজ্জতহানি!

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

‘আমাকে যৌনদাসী হিসেবে সাতবার বিক্রি করা হয়’

yazidi woman sold 7 times 2ইরাকের উত্তরাঞ্চলের লালিশ গ্রামে কেউ জুতা পরেন না। গ্রামটিকে এত বেশি পবিত্র মনে করা হয় যে, এখানে ঘুরতে আসা সব পর্যটক খালি পায়ে রাস্তা হাঁটতে বাধ্য। একটি সংকীর্ণ উপত্যকার উপরে অবস্থিত কুর্দি সীমান্তের নিকটবর্তী উত্তর ইরাকের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গ্রামটির সারি সারি মাজার ইয়াজিদি মতাদর্শের অনুসারীদের কাছে একটি সম্মানিত স্থান।

লালিশের প্রাণকেন্দ্রে ছোট্ট একটি গুহার মধ্যে রয়েছে জলাধার। এটির প্রবেশমুখ তুঁত গাছের ছায়ায় আচ্ছন্ন। লাল পাগড়ি পরিহিত এক ব্যক্তি লালিশের ওই জলাধারের দেখাশোনা করেন। এটি হচ্ছে পবিত্র শ্বেত বসন্ত, যেখানে সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে আসা হয় ব্যাপ্টিস্ট খ্রিস্টানদের মতো ধর্মে দীতি করার জন্য। লালিশের মাটি মিশ্রিত এই জলাধারের পানি জন্ম, মৃত্যু, বিয়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এখানকার বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয় বসন্তকালে। আর এটি চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। কিন্তু দুই বছর আগে সচরাচর নীরব থাকেন এমন কিছু নারী তরুণ ও শিশুদের সঙ্গে গুহায় যাতায়াতকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগ দেয়।

সম্প্রতি এক বিকেলে এই নারীদের গম্ভীর এবং নীরব কয়েকটি গ্রুপ পবিত্র জলাধার থেকে উঠে সন্ধ্যার বাতাসে ভেজা শরীর শুকাচ্ছিলেন। এদের সকলেই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যৌনদাসী মার্কেট থেকে ফিরে এসেছেন; যেখানে নারীদের কেনা-বেচা করা হয়। লালিশ গ্রামের ওই গুহার ভেতরে তারা মাথা, মুখ ও শরীর ধুয়ে প্রার্থনা করছিলেন। এর মাধ্যমে তারা তাদের বাল্যকালে দীক্ষা নেয়া বিশ্বাসে ফিরে যান।

২৮ বছর বয়সী তরুণী নুর ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, লালিশে, আমরা মুক্তি পেয়েছি। নুর যখন এই কথা বলছিলেন তখন তার মুখে হালকা হাসির আভা ফুটে উঠলেও নিজের লুকায়িত দুঃখকে আড়াল করতে পারছিল না সেই হাসি। তার স্বামী এখনও নিখোঁজ। আইএস জঙ্গিদের হাতে ১৫ মাসের বন্দী জীবনের পর বর্তমানে তিন সন্তানসহ মানসিকভাবে অসুস্থ নুর।

লালিশের সাধারণ ও সামান্য ওই আনুষ্ঠানিকতা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে নুরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানানোয় ছদ্মনাম নুর ব্যবহার করা হয়েছে। নিজেকে শুদ্ধ করতে পবিত্র ওই জলাধারে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার তিনি এসেছেন। নিজের জীবন পুনর্গঠনে সহায়তা করতে মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন প্রায় তিনবার। অনুষ্ঠানে তাকে দেয়া সাদা রঙয়ের একটি স্কার্ফ দেখিয়ে নুর বলেন, এই সাদা কাপড়গুলো আমাকে আনন্দ দেয়। পবিত্র ওই জলাধারের পানি বাড়িতে নিয়ে যান। ইয়াজিদি ওই তরুণী বলেন, আমি অসংখ্যবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার সন্তানদের জন্য জীবন চালিয়ে যাচ্ছি এখনো।

ইয়াজিদি মতাদর্শের ঐতিহ্যগত এসব আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন ২০১৪ সালের গ্রীষ্মের আগেও অচিন্তনীয় ছিল। ওই বছরের আগস্টে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট সিরীয় সীমান্তে ইয়াজিদির আবাসভূমি সিনজারকে নতুন টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করে। সিনজারের পর্বত ও এর আশপাশের গ্রাম এবং শহরে অন্তত ৪০ হাজার ইয়াজিদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের অনেকেই জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অন্যান্য অঞ্চলেও বসবাস করছে। গোপন বিশ্বাসের কারণে আইএস যোদ্ধারা ‘শয়তানের পূজারী’ মনে করে ইয়াজিদিদেরকে।

পুরুষ এবং বয়স্ক নারীদেরকে গণহত্যা করা হয়। তাদের মরদেহ নিক্ষেপ করা হয় গণকবরে; যা পর্বতের ফাঁকা স্থান পূরণ করছে। আইএসের যোদ্ধারা এখনো এসব এলাকার বড় একটি অংশে কড়া নজর রাখছে। তরুণীদের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।

আইএস যোদ্ধারা সেখানে যৌন দাসত্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। আইএসের দাবি, অমুসলিমদেরকে ধর্ষণ ইবাদতের একটি অংশ। তারা বেশ কিছু শহরে যৌন বাজার প্রতিষ্ঠা করেছে; যেখানে তরুণী এমনকি ৯ বছরের শিশুদেরকেও নিলামে তোলা হয় যৌনদাসী হিসেবে। একবার কিনে নেয়ার পর আবারও তাদেরকে অনলাইনে বিক্রি করা হয়।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে নুর বলেন, ‘আমাকে সাতবার বিক্রি করা হয়েছিল। সেখানে আমার চেয়েও ভয়াবহ জীবন যাপন করছেন অসংখ্য নারী।’ তার তিন ও চার বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। তৃতীয় সন্তান পেটে আসার সময় পুরো পরিবারের সঙ্গে তাকেও তুলে নেয়া হয়েছিল। দুই দিন পর তার স্বামীকেও নিয়ে যায় আইএস যোদ্ধারা; যিনি এখনো নিখোঁজ আছেন।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নুর তার তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন একটি বদ্ধ ঘরে। আরো দুই বন্দী নারী ধাত্রী হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার দু’দিন পর জ্ঞান ফিরে পান তিনি। ‘তারা আমাকে গোসল করিয়েছিলেন। সেই সময় শীত থাকার কারণে তারা আমাকে কয়েকটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছিলেন।

দীর্ঘ সময় পর বয়স্ক এক নারী আমাকে বলেন, জেগে ওঠো, তুমি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছো। আমি কান্না করছিলাম; কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম না।’ গর্ভাবস্থা তাকে যৌন দাসত্ব থেকে রক্ষা করেছিল, কিন্তু মসুলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে তিন সন্তানসহ তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

‘প্রত্যেকদিন জঙ্গিরা এসে আমাদেরকে দাঁড়িয়ে মাথায় স্কার্ফ পড়তে বলে। তারা নারীদের দিকে তাকিয়ে দেখে কে বেশি সুন্দরী। এমনকি নববিবাহিত হলেও তাকে নিয়ে যায় তারা। (সংক্ষেপিত)

[দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে]

‘যৌনতার জন্য এক নারীকে ছয়বার পর্যন্ত তালাক আর বিয়ে দেওয়া হয়’

আইএস জঙ্গিরা জঙ্গি কার্যকলাপের থেকে যৌনতা এবং নারীদের নিয়ে বেশি মজে থাকে। এমন অভিযোগ আইএসের বিরুদ্ধে নতুন কিছু না। কোনও রকমে আইএসের আস্তানা থেকে পালিয়ে আসা একাধিক নারী এমন অভিযোগ করেছে। কিন্তু এবার আইএসের বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সেই নারী।

মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আইএসের গোপন আস্তানা থেকে ফিরে এসে সেই নারী জানান, নারীদের ইসলামের কথা বলে আইএসে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরেই জঙ্গিদের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায় তাদের কাছে। কেবল যৌনতার জন্য নারীদের ছয় বার পর্যন্ত তালাক আর বিয়ে দেওয়া হয়।

ফ্রান্সের এক নারী, সিরিয়ার ইংরেজির শিক্ষক ও ইন্দোনেশিয়ার তিন বোনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে মার্কিন এই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম। সেখানে সিরিয়ার ওই শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর তার হাত ধরেই রাক্কায় পৌঁছে যান তিনি। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার তিন বোনকেও নানাভাবে বুঝিয়ে রাক্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যেয়ে সব কিছু বদলে যায়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট রাক্কায় অভিযান চালানোর সময় সেখান থেকে পালিয়ে যান এরা। কিন্তু এর আগে দিনের পর দিন তাদের যৌনদাসী হিসেবে দিন পার করতে হয়েছিল। অনেক নারীর অভিযোগ, আইএস অর্থের জন্য তাদেরকে মাদক চোরাচালানেও বাধ্য করা হয়।

এক নারী বলেন,‘সব সময় মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, আমি পালিয়ে যাব। আমার ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে ফিরে যাব নিজের জন্মভূমিতে।’ বর্তমানে ১৪ মাসের শিশু নিয়ে সিরিয়ার জেলে আটক আছেন তিনি। তার স্বামীও জঙ্গি ছিলেন, নাম ইয়াসিন। মাদক পাচারের জন্য তারা ছয় হাজার ডলার পেতেন।

ইসলামের নামে বহু নারীকে আইএসের খপ্পরে পড়তে দেখেছেন এই মহিলা। অনেকেরই ধারণা ইসলামি মন-মানসিকতার কোনও মানুষের সঙ্গে তারা জীবন কাটাতে যাচ্ছেন। অথচ রাক্কায় পৌঁছার পর তাদের সবারই ধারণা বদলাতে থাকে। সেখানে পৌঁছার পর কোনও নারী নিজেকে যৌন বস্তু ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারবে না। নারীদের সঙ্গে একেবারে বিভৎস আচরণ করা হয় সেখানে।

আইএস জঙ্গী ৬ মাস ধরে আমাকে ধর্ষণ করে

yazidi captive iqlasইরাকের উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘু কুর্দি ইয়াজিদিরা ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। আইএস জঙ্গীরা নির্বিচারে ইয়াজিদি পুরুষদের হত্যা করতে থাকে। আর তারা নারী ও শিশুদের অপহরণ করে।

ওই ঘটনার সময় ইয়াজিদি ইকলাসের বয়স ছিল ১৪ বছর। অন্যদের মতো এই কিশোরীও আইএসের হাত থেকে রেহাই পায়নি। আইএসের খপ্পর থেকে নিজেকে রক্ষা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল ইকলাস। বিধি বাম তার। তার পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আইএস জঙ্গীদের হাতে ধরা পড়ে যায় সে।

তারপর কিশোরী ইকলাসের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। অপহরণের পর তাকে যৌনদাসী করে আইএস। টানা ছয় মাস ধরে তার ওপর যৌন নির্যাতন চলে। ভাগ্যের জোরে একপর্যায়ে আইএসের বন্দিশালা থেকে পালাতে সক্ষম হয় ইকলাস।

আইএসের হাতে জিম্মি থাকাকালে ইকলাসের ওপর যে যৌন নির্যাতন চলে, সম্প্রতি সে তার বর্ণনা বিবিসিকে দিয়েছে।

ধরা পড়ার পর নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইকলাস জানায়, ১৫০ জন নারী-কিশোরীর মধ্য থেকে তাঁকে বেছে নেয় আইএসের এক যোদ্ধা।

ইকলাস বলে,‘আইএসের ওই জঙ্গি খুবই বিশ্রী ছিল। অনেকটা জানোয়ারের মতো। লম্বা চুলের ওই ব্যক্তির গা থেকে গন্ধ আসছিল। আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। আমি তার দিকে তাকাতেই পারছিলাম না।’

ইকলাসকে ছয় মাস ধরে যৌনদাসী করে রেখেছিল আইএসের ওই জঙ্গী। ইকলাস বলে,‘ছয় মাস ধরে প্রতিদিন সে আমাকে ধর্ষণ করে।’

বন্দী অবস্থায় আইএস যোদ্ধার চালানো যৌন নির্যাতনের মুখে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল ইকলাস। সে বলে,‘নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

আত্মহত্যা করতে ব্যর্থ হলেও একপর্যায়ে আইএসের বন্দিশিবির থেকে পালাতে সক্ষম হয় ইকলাস। সে জানায়, আইএসের ওই জঙ্গী যুদ্ধ করতে বাইরে যায়। এই সুযোগে সে পালায়।

আইএসের বন্দিশালা থেকে পালানোর পর একটি শরণার্থী শিবিরে ইকলাসের ঠাঁই হয়। এখন সে জার্মানির একটি মানসিক হাসপাতালে আছে। সেখানে ইকলাস থেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি লেখাপড়াও শিখছে। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন তার।

আইএসের নির্যাতনের বিবরণ দেওয়ার সময় ইকলাসের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে ওঠে। কিন্তু তার চোখে পানি ছিল না। ইকলাস বলে,‘আমার চোখের পানি শেষ হয়ে গেছে।

ভয়াবহ অধ্যায়ের কথা জানালেন ‘আইএস বধূ’

পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। ফ্যাশন ব্লগিংয়েও উৎসাহ ছিল তাঁর। কিন্তু সুন্দর সম্ভাবনাময় এই জীবন হঠাৎ যেন অন্ধকারে ছেয়ে গেল ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সিরিয়ায় তথাকথিত খেলাফতের ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করার পর। মরক্কোর নাগরিক এই ‘আইএস বধূর’ নাম ইসলাম মিতাত (২৩)। সিরিয়ারই একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে দ্য সানডে টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে জীবনের ভয়াবহ এই অধ্যায়ের কথা জানান তিনি।

মিতাত বলেন, একটি মুসলিম ডেটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এক আইএস জঙ্গির সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সে সময় ওই জঙ্গি জানিয়েছিলেন, তুরস্কে কাজ করেন তিনি। কাজেই বিয়ের পর তাঁদের সেখানে যেতে হবে। কিন্তু তুরস্ক পৌঁছানোর পর জোর করে অবৈধভাবে মিতাতকে সিরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই কোবানের যুদ্ধে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর এক জার্মান-আফগান জঙ্গির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ওই জঙ্গি মিতাতের সব স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, যাতে তিনি পালাতে না পারেন। মিতাত বলেন, তাঁর চেয়েও খারাপ অবস্থায় ছিলেন ইয়াজিদি যৌনদাসীরা। তাঁদের নিয়মিতভাবে পেটাতো জঙ্গিরা।

মিতাত আরও বলেন, সেনাবাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ার পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। একবার এক বিমান হামলার পর তাঁর বাড়ির সামনের সড়কটা ক্ষতবিক্ষত মরদেহে ভরে ওঠে। ওই হামলার পর আইএস জঙ্গিরা তাঁদের দৃষ্টিতে ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

ইনডিপেনডেন্ট,১ আগস্ট ২০১৭

আইসিসের দখলী রাজ্যে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক সব কাহিনী

দীর্ঘ তিন বছর আইসিসের দখলে থাকার পর অবশেষে ইরাকী বাহিনীর হাতে মুক্ত হয়েছে মসুল নগরী। জীবন আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই সঙ্গে বেরিয়ে আসছে আইসিসের দখলদারির সময়কার তাদের নারকীয়তার ভয়াবহ ও লোমহর্ষক সব কাহিনী। বিশেষ করে ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের নারীরা যেভাবে ধর্ষিত হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। কোরআন শরীফ ও সুন্নার অপব্যাখ্যা করে তারা সেখানে চালু করেছিল দাস ব্যবসা ও সেক্স বাণিজ্য।

মসুল পুনর্দখলের লড়াই শুরুর পর থেকে আইসিসের হাতে ২০১৪ সালে বন্দী হওয়া প্রায় ১৮০ ইয়াজিদী মহিলা, বালিকা ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। মহিলাদের অনেকেই ভাঙ্গা হাত-পা, সংক্রমণ ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে ঘরে ফিরেছে। অনেকের মানসিক আঘাত এত ভয়াবহ যে, তা বর্ণনার অতীত। ডাঃ নাগাম নাওজাত হাসান নামে এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সহস্রাধিক ধর্ষিত ইয়াজিদী নারীর চিকিৎসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এদের অনেকে গুরুতর শক-এ চলে গেছে। তারা দিনের পর দিন টানা ঘুমিয়েই চলেছে। সহজে জাগছে না। উদ্ধার পাওয়া ৯০ শতাংশ মহিলার অবস্থা অন্তত একটা সময়ের জন্য এমন।

২০১৪ সালে মসুল দখল করার দু’মাস পর আইসিসের নজর পড়ে সিনজারের ওপর। উত্তরের ৬০ মাইল দীর্ঘ এই এলাকাটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এখানেই ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের বাস। এরা এক ক্ষুদে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যাদের সংখ্যা ইরাকের ৩ কোটি ৮০ লাখ লোকের মধ্যে ২ শতাংশেরও কম। ইয়াজিদীদের ধর্ম বলে যে, ঈশ্বর এক, তবে তিনি সাতটি দেবদূত সৃষ্টি করেছেন। এ থেকেই আইসিস ইয়াজিদীদের বহু ঈশ্বরবাদী শ্রেণীতে ফেলে এবং ধর্মের দোহাই পেরে দাবি করে যে, এদের দাস বানানো সমর্থনযোগ্য।

এই যুক্তিতেই ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আইসিস যোদ্ধাদের একটি কনভয় ইয়াজিদী এলাকায় হানা দেয়। উপত্যকার বুকে প্রথম যে শহরটি ছিল সেটি তিল কাসাব। ওখান থেকে মোট ৬৪৭০ জন ইয়াজিদীকে অপহরণ করা হয়। তিন বছর পর ৩৪১০ জন বন্দী অবস্থায় ছিল। বাকিদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। মেয়েদের যৌন দাসত্বে রাখা হয়। আইসিস যোদ্ধারা তাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে, ধর্ষণ করে। মসুল পুনর্দখলের পর উদ্ধারপ্রাপ্ত ধর্ষিত নারী ও বালিকাদের কাছ থেকে তাদের বন্দী জীবনের বিচিত্র সব কাহিনী পাওয়া গেছে।

সৌহাইলা নামে এক বালিকা যখন ধর্ষিত হয় তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। আইসিসের এক জঙ্গী ধর্ষণের আগে তাঁকে বোঝায় সে কি করতে যাচ্ছে। বলে, এটা কোন পাপ নয়। কারণ, ধর্মেই তাকে এই অধিকার দেয়া আছে। এরপর সে তার হাত বাঁধে। বিছানার পাশে হাঁটু গেড়ে নামাজ পড়ে নেয়। তারপর ধর্ষণে লিপ্ত হয়। কাজ শেষে আবার নামাজ আদায় করে। অর্থাৎ ব্যাপারটার মধ্যে এক ধরনের ধর্মীয় নিষ্ঠা সঞ্চার করে। সৌহাইলাকে সে বলে যে, সে যা করেছে সেটাও একটা ইবাদত। এর মধ্য দিয়ে সে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করছে।

মসুল দখল এবং ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের মহিলা ও বালিকাদের বন্দী করার পর আইসিস দাস প্রথার পুনরুজ্জীবন ঘটায়। এ ব্যাপারে তাদের কোন রাখঢাক ছিল না। কারণ, তাদের মৌলিক বিধিবিধানেই এই ব্যবস্থা রাখা ছিল। ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনা ও নীতি নির্ধারণী দলিলে দাসপ্রথার দিকনির্দেশনা দিয়েছিল আইএসের গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগ। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন ও হাদিসকে টেনে এনে এর অপব্যাখ্যা করা হয়। দাসপ্রথা এবং বিশেষ করে যৌন দাসত্বের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। সৃষ্টি করা হয় পণ্যাগারের মতো নেটওয়ার্ক যেখানে বন্দীদের রাখা হতো। থাকত আলাদা কক্ষ সেখানে খদ্দেররা এসে পণ্যের মতো মেয়েদের দেখে শুনে নিত। এরপর তাদের বাজারজাত করা হতো। পরিবহন করার জন্য সেখানে রাখা থাকত বাসের বহর।

আইসিসের সুপরিকল্পিত যৌন দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত হয় ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট। সেদিন তারা সিনজার এলাকায় ইয়াজিদী পল্লীতে হানা দিয়ে ৬ হাজার ৪৭০ জনকে বন্দী করে। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই নারী ও পুরুষদের আলাদা করা হয়। বয়সন্ধিতে পৌঁছান বালকদের শার্ট ওপরে তুলতে বলা হয়। বগলে কেশ দেখতে পেলেই তাদের বাবা ও বড় ভাইদের দলে ঠেলে দেয়া হয়। গ্রামের পর গ্রামে এভাবে নারী পুরুষদের ধরে ধরে বাছাই করা হয়। তারপর পুরুষদের লাইন ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া নিকটবর্তী কোন মাঠে। সেখানে তাদের বসে পড়তে বাধ্য করা হয়। অতঃপর চালিয়ে দেয়া হয় মেশিনগানের গুলি। অন্যদিকে মহিলা, বালিকা ও শিশুদের তুলে নেয়া হয় খোলা ট্রাকে।

পালাতে গিয়ে পরে ধরা পড়েছে এমন ঘটনাও আছে। যেমন ৯ সদস্যের একটি পরিবার পুরনো গাড়িতে গাদাগাদি করে বসে পালাচ্ছিল। সহসা অস্ত্রধারী আইসিস যোদ্ধারা তাদের ঘিরে ফেলে। এ ক্ষেত্রেও প্রথমে মহিলাদের পুরুষদের থেকে আলাদা করে ট্রাকে তুলে নিকটতম শহরে নেয়া হয়।

সেখানে অবিবাহিত তরুণী ও বালিকাদের বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলে নেয়া হয় বাসে। সাদা রঙের বাসগুলোর গায়ে আরবী ভাষায় ‘হজ’ শব্দটি লেখা ছিল। অর্থাৎ আইসিসের দখলে যাবার আগে ইরাক সরকার এই বাসগুলো হজযাত্রী বহনের কাজে ব্যবহার করত। অন্যান্য জায়গা থেকে বন্দী করে আনা আরও অনেক মেয়েকেও এসব বাসে তোলা হয়। বাসগুলোতে এসব মেয়েকে প্রায় ৬ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে মসুল শহরে নেয়া হয়। সেখানে তাদের দলবেঁধে গ্যালাক্সি ওয়েডিং হলে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যান্য মহিলাকে নেয়া হয় মসুলে অবস্থিত সাদ্দাম যুগের প্রাসাদ বাদুশ কারাগার প্রাঙ্গণে। মসুল ছাড়াও তাদের গাদাগাদি করে রাখা হয় ইরাকের তাল আফার, সোলাহ, বাজ ও সিনজার শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌর ভবনগুলোতে। সেখানেই তারা আটক থাকে। কেউ কেউ কয়েকদিন, কেউ কেউ কয়েক মাস। তারপর অনিবার্যভাবেই তাদের একই বাসের বহরে আবার তুলে নেয়া হয় এবং ছোট ছোট গ্রুপে করে সিরিয়ায় কিংবা ইরাকের ভেতরকার অন্যান্য জায়গায় পাঠানো হয়। সেখানে তাদের নিয়ে চলে বিকিকিনির পালা।

গোটা ব্যাপারটা শতভাগ পূর্বপরিকল্পিত এক দেহ ব্যবসার বাণিজ্য। প্রতিটি স্থানে আইসিস যোদ্ধারা প্রথমে নারী বন্দীদের গণনা করে। এই বাণিজ্যের পণ্য হয়েছে এমন এক মেয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ হলো-‘গ্যালাক্সি ব্যাঙ্কোসেট হলের বলরুমে প্রায় ১৩০০ ইয়াজিদী মেয়ে বসা ছিল। কেউ মেঝেতে গুটিসুঁটি মেরে, কেউ দেয়ালে হেলান দিয়ে। একসময় রেজিস্ট্রার হাতে তিন আইসিস যোদ্ধা এসে ঢুকে। মেয়েদের উঠে দাঁড়াতে বলে। প্রত্যেককে তার নামে প্রথম, মাঝের ও শেষের অংশ, বয়স, বাড়ির ঠিকানা, বিবাহিত কিনা এবং হয়ে থাকলে সন্তান আছে কিনা বলতে বলা হয়। গ্যালাক্সি হলে এদের দুমাস রাখা হয়েছিল। তারপর একদিন ওরা এল এবং তরুণীদের সরিয়ে নিতে লাগল। যারা যেতে চাইল না তাদের চুল ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো। পার্কিং লটে সেই একই হজযাত্রীবাহী বাসের বহর তাদের পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।

পার্কিং লটে সৌহাইলা প্রথমবারের মতো ‘সাবায়া’ শব্দটি শুনেছিল। জঙ্গীরা হাসছিল এবং মেয়েদের উপহাস করে বলছিল ‘তোমরা আমাদের সাবায়া।’ ইয়াজিদী মেয়েরা এই শব্দটির সঙ্গে পরিচিত ছিল না। স্থানীয় এক আইসিস নেতা তাদের বুঝিয়ে বলে এর অর্থ দাসী। সে বলে, ‘ইয়াজিদীরা সে ৭ দেবদূতের কাছে প্রার্থনা করে তার একজন তাউস মালিক। এই তাউস মালিক হচ্ছে শয়তান। আর যেহেতু তোমরা শয়তানের পূজা কর তাই তোমরা এখন আমাদের সম্পত্তি। আমরা তোমাদের বিক্রি করতে পারি, সেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারি।’ তবে আইসিসের সেক্স বাণিজ্যের একমাত্র টার্গেট হলো ইয়াজিদী সম্প্রদায়ের মেয়েরা। অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মেয়েদের দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ করতে এখনও ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু হয়নি বলে হিউম্যান বাইটস ওয়াচের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। কারণ, আইসিস ইয়াজিদীদের বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী হিসেবে দেখে এবং সেই হিসেবে খ্রীস্টান ও ইহুদীদের তুলনায় তারা এদের চোখে অধিক ঘৃণিত।

দাসের বাজার

সিনজারে হামলার কয়েক মাস পর আইএস তাদের অনলাইন ম্যাগাজিনে পরিষ্কার করে জানায় যে, ইয়াজিদী মেয়েদের দাস বাড়ানোর অভিযানটি তাদের বিশদভাবে পূর্বপরিকল্পিত। দাবিক ম্যাগাজিনের অক্টোবর সংখ্যায় ‘দি রিভাইভাল অব সেøভারি বিফোর দি আওয়ার’ শিরোনামে ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, ওই হামলার আগে আইএসের শরিয়া ছাত্রদের ইয়াজিদীদের নিয়ে গবেষণা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এতে আরও বলা হয় যে, খ্রীস্টান ও ইহুদীদের ক্ষেত্রে সুযোগ থাকলেও ইয়াজিদীদের জিজিয়া কর দিয়ে মুক্তি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, সিনজার অভিযানে দাস হিসেবে বন্দী করা ইয়াজিদী নারী ও শিশুদের এক-পঞ্চমাংশকে লুটের মাল হিসেবে ভাগবাটোয়ারা করার জন্য আইএস কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তরের পর বাকিদের ওই অভিযানে অংশ নেয়া আইএস যোদ্ধাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাস ব্যবসার সমর্থনে ব্যবসায়ীরা বাইবেলের কিছু কিছু অংশ ব্যবহার করত। আজ তাদের মতো আইসিসও কোরান শরীফের কিছু কিছু আয়াত এবং সুন্নায় বর্ণিত উক্তি বা কাহিনীর অপব্যাখ্যা করে তাদের দাস ব্যবসার যৌক্তিকতা ও সমর্থনযোগ্যতা প্রমাণ করতে চাইছে। কিন্তু ইসলামী ধর্মতত্ত্বের ওপর প-িত ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা বলেন যে, এসব আয়াত ও উক্তির সঠিক ব্যাখ্যা আইএস দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইসলাম সত্যিকার অর্থে দাসপ্রথা সমর্থন করে না।

যা হোক, দাস হিসেবে বন্দী হবার প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী ও কমবয়সী নারী এবং বালিকারা বিক্রি হয়ে যেত। অন্যদের বিশেষ করে একটু বেশি বয়সী ও বিবাহিত মহিলাদের বিক্রি হতে সময় লাগত। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের ক্রেতা জুটছে ততক্ষণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাদের অহরহ নিয়ে যাওয়া হতো এবং তার জন্য মাসের পর মাস কেটে যেত। অনেক মহিলাকে পাইকাররা কিনে নিত। তারপর তারা ওদের ছবি তুলে ও তাতে নম্বর দিয়ে বিজ্ঞাপন দিত যাতে উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যায়। নম্বর দেয়া ছবিগুলো এভাবে থাকত সাবায়া নম্বর ১, সাবায়া নম্বর ২ ইত্যাদি। যেসব ভবনে মেয়েদের এনে রাখা হতো সেগুলোকে ওরা বলত দাস বাজার। ভবনে আলাদা একটা কক্ষ থাকত যেখানে মেয়েদের এনে খদ্দেরদের দেখানো হতো। খদ্দেররা এলে মেয়েদের এক এক করে ওই রুমে নেয়া হতো। আমিররা দেয়ালে হেলান দিয়ে বসত আর মেয়েদের নাম ধরে ডাকত। মেয়েরা এক এক করে এসে চেয়ারে বসত। ওদের স্কার্ফ বা এই জাতীয় যা কিছু আছে খুলে নেয়া হতো। খদ্দেররা ওদের চারদিক দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতÑ গরু ছাগল কেনার আগে যেভাবে দেখা হয়। মেয়েদের উঠতে বসতে বলা হতো। ঘুরতে বলা হতো। একবার নয়, একাধিকবার। মেয়েদের এমন সব প্রশ্ন করা হতো সেটা একান্তভাবে মেয়েলি। যেমন তার শেষ কোন তারিখে মাসিক হয়েছে। সে প্রশ্নের উত্তর দিতেও বাধ্য করা হতো। যোদ্ধারা আসলে নিশ্চিত হতে চাইতও যে, মেয়েটি গর্ভবতী কিনা। কেননা দাসী গর্ভবতী থাকলে তার সঙ্গে সহবাস চলতে পারে না এমন বিধান আছে।

আইসিসের সম্পত্তি

আইসিসের যৌন দাসত্বের ব্যবহার গোড়াতে সংগঠনের অতি কট্টর সমর্থকদেরও বিস্মিত করেছিল। সুপরিকল্পিত ধর্ষণের খবর প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের অনেকে এটাকে অপপ্রচার ভেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়। ওদিকে আইসিস নেতৃত্ব সমর্থকদের কাছে এই রেওয়াজের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য বারবার চেষ্টা করতে থাকে।

প্রথমে ২০১৪ এর অক্টোবরে দাবিক-এ এই সংক্রান্ত নিবন্ধ বের হওয়ার পর, পরের বছর মে মাসে আবার ইস্যুটি তুলে ধরা হয়। এক সম্পাদকীয়তে এই মর্মে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করা হয় যে, সংগঠনের নিজস্ব সমর্থকরাও দাসপ্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সে বছরের ডিসেম্বরে অনলাইনে এক প্রচারপত্র ছাপা হয়। তাতে আইসিসের গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগ দাসপ্রথার বিশদ ব্যাখ্যা দেয়। বলা হয়, যে যোদ্ধা দাসীদের কিনেছেন দাসীরা সেই যোদ্ধার সম্পত্তির অন্তর্গত। কাজেই তার সেই সম্পত্তি তিনি আরেকজনকে দিতে পারেন, বিক্রিও করতে পারেন। তবে দাসী হিসেবে মেয়েদের নাম পরিচয় একটা চুক্তিপত্রে নিবন্ধিত থাকে। কোন মালিক তাদের আরেকজনের কাছে বিক্রিকরণে সম্পত্তির দলিল যেভাবে হস্তান্তরিত হয় সেভাবে এক নতুন চুক্তিপত্রের অধীনে করা হবে। একই সঙ্গে দাসীদের মুক্তি দেয়ারও বিধান আছে। বলা হয়, কেউ সেটা করলে তার জন্য রয়েছে বেহেস্তের পুরস্কার।

এ ধরনের মুক্তি বিরল হলেও ঘটেছে। এতে দাসত্বের শিকার নারীরা পালাবার পথ পেয়েছে। এক লিবীয় যোদ্ধা সুইসাইড বোম্বার হিসেবে ট্রেনিং শেষ করে মিশনে যাওয়ার আগে তার ২৫ বছরের এক দাসীকে মুক্তি দিয়ে গেছে। এর জন্য সে লেমিনেট করা একটা দলিল তুলে দিয়েছে মেয়েটির হাতে। ওটা ছিল মুক্তির সনদপত্র যা আইএসের এক বিচারকের স্বাক্ষরিত। ইয়াজিদী মহিলাটি সেটি চেকপয়েন্টে দেখিয়ে সিরিয়া থেকে ইরাকে চলে আসে।

২০১৫ সালের গ্রীষ্মে আইসিসের ৩৪ পৃষ্ঠার এক ম্যানুয়েলে সুস্পষ্টভাবে বলা হয় যে, যুদ্ধে বন্দী হওয়া খ্রীস্টান ও ইহুদী নারীদের সঙ্গে সেক্স করা অনুমোদনযোগ্য। শুধু একটাই নিষেধ আছে তা হলো গর্ভবতী দাসীর সঙ্গে সেক্স করা যাবে না। নতুন কোন দাসীর মাসিক না হওয়া পর্যন্ত মালিককে অপেক্ষা করতে হবে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তার গর্ভে কিছু নেই। এর বাইরে সেক্সের ব্যাপারে অনুমোদন যোগ্যতার কোন সীমা নেই। শিশু ধর্ষণ সমর্থন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে মেয়েটি বয়সন্ধিতে পৌঁছেনি সে যদি সহবাস করার উপযোগী হয় তাহলে তার সঙ্গে সহবাসে বাধা নেই।

সিরিয়ার শাদাদি শহরে জনৈক সৌদি যোদ্ধার কিনে নেয়া ও তার হাতে বার বার ধর্ষিত হওয়া ৩৪ বছরের এক ইয়াজিদী নারী জানায়, সেই বাড়িতে দ্বিতীয় দাসীটির চেয়ে তার অবস্থা ভাল ছিল। দ্বিতীয় দাসীটি ছিল ১২ বছরের এক বালিকা। দিনের পর দিন সে ধর্ষিতা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও রেহাই পায়নি। মহিলাটি সৌদি যোদ্ধাকে বোঝাতে চেয়েছিল ও বাচ্চা মেয়ে ওর যত করা উচিত। জবাবে সেই সৌদি বলেছে, ‘না ও বাচ্চা নয়। ও হলো দাসী। ওর সঙ্গে সেক্স করলে আল্লাহ খুশি হন।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস