আর্কাইভ

Archive for the ‘নামায’ Category

বাংলাদেশে ২০১ গম্বুজের মসজিদ !

অগাষ্ট 23, 2017 মন্তব্য দিন

201 domes mosque mk1201 domes mosque mk2

আযানের সময় সংযত হওয়া জরুরি

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

কে ঐ শোণালো মোরে

আযানের ধ্বনি

মর্মে মর্মে সুর

বাজিলো কি সুমধুর…

আজানের সময় মুসলমানদের করণীয়

মুফতি মাহমুদ হাসান : পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ধ্বনির নাম আজান—এটি মুসলিম-অমুসলিম-নির্বিশেষে কোটি মানুষের উপলব্ধি। তা হবে না কেন? এ আজান তো সৃষ্টির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। একজন মানুষকে যখন তার মহান মালিকের প্রতি আহ্বান করা হয়, তার উপলব্ধি তখন কেমন হতে পারে? তাই আজানের আওয়াজ শুধু মুসলমানের অন্তরেই নাড়া দেয় না, বরং তা অমুসলিমের অন্তরকেও আকর্ষণ করে। যুগে যুগে যার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। হ্যাঁ, হিংসুক ও নিন্দুকের কথা ভিন্ন। আল্লাহর ভাষায়,‘যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন, সে (হেদায়েতের) আলো থেকে বঞ্চিত হবেই। ’

তাই ইসলামে আজানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আজান শুনে আজানের জবাব দেওয়ারও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আজান শ্রবণকারীরও মৌখিকভাবে আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,‘যখন তোমরা আজান শুনবে, এর জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে। ’ (বুখারি, হাদিস :৬১১)

আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি

আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’ বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস :৩৮৫)

তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময়ও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তাবারানি, হাদিস : ৪৫৮)

আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাব

ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশুদ্ধ মতানুসারে এর জবাবেও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলাই উত্তম। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে। (তাকরিরাতে রাফেয়ি : ১/৪৭ আহসানুল ফাতাওয়া :১০/২০৬)

প্রচলিত কিছু ভুল

এক. কেউ কেউ আজানে ‘আল্লাহু আকবার’-এর জবাবে ‘কাল্লা জালালুহু’ পড়ে থাকে। এটি সুন্নাহপরিপন্থী। (ইমদাদুল আহকাম :১/৪১৬)

দুই. অনেকেই আজানের সময় জবাব দিতে গিয়ে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’-এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলে থাকে। এটিও উচিত নয়। কেননা এ সময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই। বরং তখনো মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলাই সুন্নাত। (আলবাহরুর রায়েক :১/২৭৩, আহসানুল ফাতাওয়া :২/২৭৮)

এই দরুদ পাঠ করবে আজান শেষ হওয়ার পর।

তিন. আমাদের দেশে আজানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় অনেকেই বৃদ্ধাঙুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছে থাকে। কেউ কেউ আবার সঙ্গে ‘কুররাত আইনি’—এ দোয়াও পড়ে থাকে। অথচ ইসলামী শরিয়তে এর কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং এটি বর্জনীয়। (আল মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা-৬০৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৫/২৫৯)

চার. প্রসিদ্ধ আছে, আজানের জবাব না দিলে বা আজানের সময় কথা বললে বেঈমান হয়ে যায় কিংবা বেঈমান অবস্থায় মারা যাওয়ার ভয় আছে—এরূপ কোনো বর্ণনা হাদিসের কিতাবে নেই। সুতরাং এটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :৫/৪৩০)

যারা আজানের জবাব দেবে না

নামাজ আদায়কারী, পানাহার অবস্থায়, ইস্তিনজাকারী, স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত, মহিলাদের ঋতুকালীন ইত্যাদি সময়। তবে অনেক আলেমের মতে, আজানের পরক্ষণেই যদি উল্লিখিত কাজ থেকে অবসর হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জবাব দিয়ে দেওয়া উত্তম। কোরআন তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৩৯৭)

জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব

জুমার দ্বিতীয় আজানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফেকাহবিদদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্ত্বেও কেউ দিতে চাইলে মনে মনে জবাব দিতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/২৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :২/৫৮)

আজানের সময় দুনিয়াবি কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা

আজানের সময় চুপ থাকা সুন্নত। একান্ত প্রয়োজন না হলে সাধারণ দ্বিনি ও দুনিয়াবি কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিত। বক্তৃতা বা সেমিনার চলাকালে আজান হলে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। ওয়াজ বা কোনো দ্বিনি মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সবাইকে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। মনে রাখতে হবে, একজন আজানের জবাব দিলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায় না। কেননা আজানের জবাব দেওয়া শ্রবণকারী সব মুসলমানের জন্য সুন্নত। আর আজানের জবাব দেওয়া সুন্নতে কেফায়া নয়। (ফাতহুল কাদির : ১/২৪৮, রদ্দুল মুহতার : ১/৩৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :৫/৪২৭)

রেডিও-টেলিভিশনের আজানের জবাব

মুয়াজ্জিনের আজান রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত। রেকর্ড করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত নয়। (বাদায়েউস সানয়ে : ১/৬৪৬, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল :১/১৭০)

আজানের পর দোয়া

আজানের পর দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নাত। হাদিস শরিফে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,‘যে ব্যক্তি আজানের পর আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ…’ এ দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৪) অন্য বর্ণনায় রয়েছে,‘তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরূপ শব্দে আজানের জবাব দাও, অতঃপর দরুদ পাঠ করো, এরপর আমার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দোয়া করো, আশা করি, আল্লাহ তাআলা আমাকেই সে স্থান দান করবেন। যে ব্যক্তি এ দোয়া করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৪)

আজানের পর হাত তুলে মুনাজাত

আজানের পর দরুদ শরিফ পড়ে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথা হাদিস শরিফে রয়েছে, তবে আজানের পর হাত তুলে দোয়া পড়া ও মুনাজাত করার কথা হাদিসে নেই। (ফয়জুল বারি : ২/১৬৭, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :১৬/২০৮)

একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব

আজানের মতো মুসল্লিদের একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫৭) একামতের জবাবও আজানের অনুরূপ। শুধু একামতের মধ্যে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’-এর জবাবে’ ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত,‘একবার হজরত বেলাল (রা.) একামত দিচ্ছিলেন, তখন নবী করিম (সা.)-ও তাঁর সঙ্গে আজানের অনুরূপ উত্তর দিয়েছেন, তবে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বলার সময় বলেন,‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। (আবু দাউদ, হাদিস :৫২৮)

লেখক : ফতোয়া গবেষক,ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

এসআর শানু খান : যুগের পরিক্রমায় বিদেশি কালচারের সংস্পর্শে আমাদের সমাজের যে আজ কি হাল হয়েছে সেটা ভাবতে গেলে চোখ কপালে উঠে। আজ আমরা টেলিভিশন ছাড়া যেন কোনো কিছু চিন্তাই করতে পারি না। বাড়িতে একটা টেলিভিশন সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি চ্যানেল সংযোজিত ক্যাবল নেটওয়ার্ক না থাকলে সেই বাড়িটাকে এখন ভুতুড়ে বাড়ি বলে মনে হয়। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। দিনের পর দিন বাজারে যেমন বিভিন্ন চ্যানেল সংবলিত ক্যাবল নেটওয়ার্কেও অভাব হচ্ছে না ঠিক তেমনিভাবে দিন যাচ্ছে আর বাজারে নিরঙ্কুশভাবে বেড়ে চলছে বিভিন্ন নামের ডেকোরেশন।

ডেকোরেশনের মানে এখন আর শুধু চেয়ার টেবিল নয় এখন ডেকোরেশনের দোকান মানেই বড় বড় বিল্ডিং-এর মতো কোম্পানি বক্স। হাতির সূরের মতো লম্বা লম্বা সব মাইক ছেলের গালে ভাত, মেয়ের কান ফুটানো, ছেলের সুন্নাতে খুৎনা, মেয়ের গায়ে হলুদ, মেয়ের বিয়ে এমন সব অনুষ্ঠান মানেই তিন চার সপ্তাহব্যাপী বড় বড় সাউন্ড বক্স বাড়ি এনে ফুল গিয়ারে গান-বাজনা করা। গান-বাজনা করাটা এখন এতটাই জরুরি কালচার হয়ে পড়েছে যে বাড়িতে পোষা মুরগিটা প্রথম ডিম পাড়লেও মন চাই মাইক ভাড়া করে এনে কয়েকদিন গান বাজায়।

একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন আছে। এটা অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই বিনোদনেরও যে একটা সীমা থাকার দরকার আছে। শখের বশে বিনোদন করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে ভুলে গেলে। নিজের ধর্মকে অমান্য করলে তো আর হবে না। অন্য সব যেমন তেমন ধর্মীয় ব্যাপারে মানুষের সিরিয়াস হয়ে যাবার বিষয়টা কিন্তু একটা সহজাত প্রবৃত্তি। এই পৃথীবির সব মানুষই কি নাস্তিক নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়লেও কোনো মানুষই ধর্মের অবমাননা মেনে নিতে চাইবেন না।

বনের পশুরা বনের বিভিন্ন অংশে তার শিকার খোঁজার জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও তার কিন্তু একটা নিজস্ব ধর্ম আছে। নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো কোনোভাবেই ডিঙ্গিয়ে চলেন না। সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত পদবি ঘাড়ে নিয়ে মানুষ কেমন করে যে নিজের ভীতটা ভুলে যায় ভুলে থাকে বা থাকতে পারে সেটা কিন্তু একটু ভাবার বিষয়।

আশপাশে লক্ষ্য করুন গান-বাজনার উৎপাতে আযান শোনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিনোদনের জগতে মানুষ নিজেকে এমনভাবে ডুবিয়ে নিয়েছেন যে কখন আযান হয় সেই জ্ঞানটাও আজ হারিয়ে ফেলেছেন। গান-বাজনা আরামছে চালিয়ে যাচ্ছেন বিরতিহীনভাবে। দেশীয় যে চ্যানেলগুলো আছে এগুলোর বেশির ভাগই আযানমুক্ত অবিরত ধায়ায় বিজ্ঞাপনযুক্ত। চ্যানেলগুলোর সারাদিনের সিডিউলে শত শত প্রোগ্রাম স্থান পেলেও দিনের পাঁচ ওয়াক্ত আযানের জন্য পাঁচ মিনিট করে বরাদ্দ করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। দেশীয় চ্যানেলগুলো বেশির ভাগই ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলোকে ফলো করবার চেষ্টা করে থাকেন। যেহেতু ইন্ডিয়ান চ্যালেনগুলোতে আযান বলে কোনো শব্দ নাই। যেহেতু বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে টিভি বন্ধ হওয়ার কোনো লাইন নাই।

মসজিদে মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছেন আর এ পাশে চায়ের দোকানগুলো ফুল ভলিউমে চলছে টিভি। আযানের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র যে সম্মান নাই সেটার প্রমাণ দিতেই কিন্তু এতসব আয়োজন। হায় আফসোস অন্য ধর্মাবলম্বী লোকদের কথা নাই বা বললাম একজন মুসলমানের সন্তান, আযান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জানা লোকগুলো কেমনে পারে এই আযানকে অসম্মান করতে। ক্যামনে পারে নিজের ধর্মের সম্মানে আঘাত আনতে।

আযানের সময় মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আযান পাঠ করবার ফযীলত জানা থাকতেও কেন আমরা সেটা করিনা। কেন আমার নিজেদেরকে নিজের প্রভুর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে এতটা মরিয়া হয়ে পড়েছি।

তাই কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন যথাবিহিত সম্মানপূর্বক যথাযথ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আযানের সময় টিভি-সিডি গান-বাজনা বন্ধ রাখার জন্য কড়া আইন জারি করুন। এবং পুলিশিং তত্তাবধানের মাধ্যমে হলেও গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলোর টিভির দোকানসহ বাড়ির উপর গান-বাজনা করার উপর জরুরি আইন চালু করে ধর্মের আবমাননা হ্রাস করুন।

শাহদেরগাঁও জামে মসজিদ

ডিসেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

shahdergaon-mosque-1shahdergaon-mosque-2

বালিয়ার চৌধুরীদের মসজিদ পরিচিতি

ডিসেম্বর 5, 2016 মন্তব্য দিন

baliar-mosque-1baliar-mosque-2baliar-mosque-3

মসজিদ মিশনের আড়ালে জামায়াত মিশন !

নভেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

প্রতিষ্ঠাতা বাচ্চু রাজাকার পলাতক

মসজিদ মিশন স্কুলকলেজের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

bd-masjid-missionমুসতাক আহমদ: মসজিদ মিশনের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জামায়াতে ইসলামীর ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছে কিনা, কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হচ্ছে কিনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের উৎস কি এবং অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছেএসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের নেতৃত্বে এনজিও সংস্থা হিসেবে প্রায় ৩ যুগ আগে মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘মসজিদ মিশনের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ের অধীন অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, মসজিদ মিশনের অধীন ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা পায়। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও হাইস্কুল এবং কলেজ আছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা মসজিদ মিশন এবং এর অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

মসজিদ মিশনের অধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে তার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বড়। গুগলে সার্চ করে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে মসজিদ মিশন একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে কিন্ডারগার্টেন, প্রাইমারি, হাইস্কুল ও কলেজ শাখা আছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিওভুক্ত। এর শিক্ষককর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনভাতা পেয়ে থাকেন।

তিন পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে মসজিদ মিশন সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহীসহ সারা দেশে যেসব একাডেমিক আছে, সেগুলোতে সরকারি কারিকুলাম ছাড়াও শ্রেণীভিত্তিক ১০০৩০০ নম্বরের আরবি সিলেবাস পড়ানো হয়। সেসব সিলেবাস বা বই কেন্দ্রীয় জামায়াত নির্ধারণ করে দেয়। রাজশাহীর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শহরের তিনটি স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব শাখায় নিয়োগ দেয়া শিক্ষককর্মচারী জামায়াতের রাজশাহী মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী। শিক্ষকদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান, হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমাদুল হক, মনোবিজ্ঞানের এনামুল হক, ইসলামিক স্টাডিজের সিরাজুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞানের শাহাদত হোসাইন, স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মাইনুল ইসলাম জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম জামায়াতের বোয়ালিয়া থানার আমীর। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। শাহাদত হোসাইন মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক। আমিনুল ইসলাম বোয়ালিয়া থানার সাবেক আমীর এবং মাইনুল ইসলাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। এদের মধ্যে কয়েকজন মে মাসে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এমনকি সরকারবিরোধী স্লোগানও তারা দেন।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আকবর আলী শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারীদের মধ্যে কে কী করে তা আমরা জানি না। কেউ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জামায়াতের রাজনীতি করেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মসজিদ মিশনের আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের অন্যত্র আছে কিনা আমি জানি না। আদার বেপারি জাহাজের খবর রাখতে যাই না। আমি শুধু এখানে চাকরি করি।’

রাজশাহীর এ প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একটি টিম রাজশাহী যাচ্ছে। একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেভাবে তদন্ত ও নিরীক্ষা করা হয়, এটিও সেভাবেই করা হবে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবনে সিনা ট্রাস্টের মতোই মসজিদ মিশন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকার কাঁটাবন মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়। তবে রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত। এর আয়ের অর্থ জামায়াতের কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ড থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। অন্যান্য শিক্ষককর্মচারীও জামায়াতশিবির থেকে নিয়োগ করা। অধিকাংশ জনবল জামায়াতশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলমসজিদ মিশনের একাডেমিগুলোতে জামায়াতশিবির মতাদর্শে নিয়োগকৃতদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষককর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। জামায়াতশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ব্যয়ের নিরীক্ষা চালাতে হবে এবং কাঁটাবনে মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

ফরজের পর সবচেয়ে উত্তম তাহাজ্জুদের নামাজ

নভেম্বর 6, 2016 মন্তব্য দিন

মাওলানা আবদুল জাব্বার : ফরজ নামাজের বাইরে রয়েছে আরও অনেক ধরনের নামাজ। যেমনসুন্নত, ওয়াজিব, মোস্তাহাব, সুন্নতে মোয়াক্কাদা, সুন্নতে জায়েদা, চাশতের নামাজ, ইশরাকের নামাজ, সালাতুত তাসবিহ, সালাতুত তওবা, তাহাজ্জুদের নামাজ ও ইসতেখারার নামাজ ইত্যাদি। এসব নামাজের বিভিন্ন মর্যাদা রয়েছে। তবে এর মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট নামাজ হচ্ছেতাহাজ্জুদের নামাজ। তাহাজ্জুদের নামাজ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ফরজ ছিল। উম্মতে মুহাম্মদির ওপর এটি ফরজ না হলেও সব সুন্নত নামাজের মধ্যে এটিই উত্তম।

তাহাজ্জুদ অর্থ ঘুম থেকে জাগা আর তাহাজ্জুদের সময় হলোএশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে তারপর অর্ধেক রাতের পর নামাজ আদায় করা। সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত থাকে। গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগে নামাজ আদায়ে সাওয়াব বেশি।

পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হারামাইন শরিফাইনে তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় এবং অতি গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা হয়। তাহাজ্জুদের নামাজ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, যারা শেষ রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা করেন তাদের প্রশংসাস্বরূপ কিয়ামত দিবসে বলবেন– ‘তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ সূরা আয যারিয়াত: ১৭১৮‍

হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) সম্বোধন করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘এবং রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ পড়তে থাকুন। এ আপনার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রভু আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন।’ সূরা আল ঈসরা: ৭৯

কোরআনে কারিমের সূরা আল ফোরকানের ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুফর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজিত হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল যে, তারা রাতের শেষভাগে আল্লাহতায়ালার মহান দরবারে চোখের পানি ফেলতেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ‘তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটলঅবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধনসম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী।’ সূরা আল ইমরান: ১৭

হাদিস শরিফেও তাহাজ্জুদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার সুনানে আহমদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি। ‘আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি’ অর্থাৎ ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। হাদিস নম্বর: ১১৬৭/

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ন হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন, কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছে যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

শহরে সুন্নাহর বরাত দিয়ে মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত এক হাদিস উল্লেখ করেন। ওই হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ খুশি হন (হাসেন) এক. যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের জন্য ওঠেন এবং নামাজ পড়েন। দুই. জনতা, যারা নামাজের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। তিন. মুজাহিদ যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। হাদিস নম্বর ১১৬০/

তাহাজ্জুদের নামাজ বিষয়ে কোরআনহাদিসে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে। ওই সব বর্ণনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদের নামাজ মর্যাদাকর। এই নামাজ প্রত্যেক মুসলিম নরনারীরই পালন করা উচিত। এর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জন সহজ হয়। আর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যখন দূরত্ব কমে যায়তখন সৃষ্টিকর্তা বান্দার দাবি সহজেই পূরণ করেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে বেশি বেশি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের তওফিক দান করুন। আমিন।

স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নামাজ পড়ার বিধান

নভেম্বর 4, 2016 মন্তব্য দিন

মুফতি মাহমুদ হাসান : পুরুষের জন্য যেমন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করা জরুরি, তেমনি মহিলাদের জন্য ঘরে একা নামাজ পড়াই শরিয়তের বিধান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মহিলাদের পর্দার প্রতি অত্যধিক তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ঘরের জামাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ : ফরজ নামাজের জন্য জামাতের নির্দেশ কেবল পুরুষদের জন্য। নারীদের ওপর জামাতের কোনো নির্দেশ নেই। তাই নারীরা ঘরে একত্রিত হয়ে পুরুষ বা মহিলা ইমাম বানিয়ে জামাত করাও শরিয়ত নির্দেশিত নয়। এর প্রতি উৎসাহিতও করা হয়নি। হ্যাঁ, যদি তারা পুরুষ ইমামের পেছনে নামাজ পড়ে নেয়, তাহলে ওই নামাজ শুদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদের পর্দার বিধান লঙ্ঘন না হলে ঘরে এ ধরনের জামাত বৈধ। (তাবঈনুল হাকায়েক : /১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : /৪৩)

মাহরাম নারীদের নিয়ে ঘরে জামাত করা : যদি কোনো পুরুষ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো ওজরবশত মসজিদে যেতে না পারে, তাহলে তার জন্য ঘরের মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া বৈধ। এ ক্ষেত্রে সবাই জামাতের সাওয়াব পাবে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া সমীচীন নয়। তা সত্ত্বেও গায়রে মাহরাম নারীরা তাতে শরিক হতে চাইলে অবশ্যই পর্দার আড়ালে থাকবে। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে জামাত করা বৈধ নয়। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : /২২৮, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : /২২৭)

এক্ষেত্রে জামাতে দাঁড়ানোর পদ্ধতি হলো—এক বা একাধিক নারী পেছনের সারিতে দাঁড়াবে। (রদ্দুল মুহতার : /৫৬৬, আহসানুল ফাতাওয়া : /২৯৯)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে ঘরে জামাতে নামাজ পড়েছি, একবার আমি নবী করিম (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছি, আর আয়েশা (রা.) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে জামাতে শরিক হয়েছিলেন। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ৮০৩)

নারীপুরুষ একাকী ও ভিন্ন ভিন্ন নামাজ পড়ার সময় বরাবর বা আগেপেছনে দাঁড়াতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নারীপুরুষের অগ্রপশ্চাৎ বা সমানভাবে দাঁড়ানোর উপরোক্ত বিধান প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ একে অপরের অগ্রপশ্চাৎ হওয়ায় নামাজের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা ওই বিধান উভয়ে একই সঙ্গে জামাতে অংশগ্রহণের বেলায় প্রযোজ্য। (মাবসুতে সারাখসি : /১৮৫)

স্বামীস্ত্রীর জামাতের বিধান ও পদ্ধতি : স্বামীস্ত্রী উভয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে সংলগ্ন না দাঁড়িয়ে পেছনের সারিতে একা দাঁড়াবে। অপারগতায় ডান পাশে একটু পেছনে সরে দাঁড়ালেও নামাজ হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে সমান হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ এতে উভয়ের নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৫৭২)

নাবালেগ ও নারীদের কাতারের অবস্থান : সাধারণত নামাজের কাতার করার সুন্নাত পদ্ধতি হলো, প্রথমে বালেগ পুরুষ, তারপর নাবালেগ ছেলে দাঁড়াবে। আর নারীরা জামাতে অংশগ্রহণ করলে তারা সবার পেছনে দাঁড়াবে। (সুনানুল বাইহাকি, হাদিস : ৫১৬৬; হেদায়া : /২৩৯)

শুধু নারীদের জামাত বৈধ নয় : ঘরে বা অন্য কোথাও নারীরা একত্রিত হয়ে নারী ইমাম বানিয়ে নামাজের জামাত করা মাকরূহে তাহরিমি তথা নাজায়েজ। যদিও জামাতে আদায়কৃত ওই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে, তবে তারা সবাই গোনাহগার হবে। তা সত্ত্বেও নারীরা আলাদা জামাত করলে ইমাম সাহেবা কাতারে সবার সামনে দাঁড়াবেন না, বরং প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন। (তাবঈনুল হাকায়েক : /১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : /৪৩) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জামানায় তাঁর স্ত্রীগণ একত্রিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করার কোনো প্রমাণ হাদিস শরিফে পাওয়া যায় না।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোনো নারী জামাতের ইমামতি করতে পারবে না।’ অনুরূপ তাবেঈ হজরত ইবরাহিম নাখয়ি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, রবিআ ও ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.) প্রমুখ থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। (আল মুদাওয়ানাতুল কোবরা : /১৭৮) শিব্বির আহমদ উসমানি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্র বিশুদ্ধ। (ইলাউস সুনান : /১৩০১)

নারীদের জামাতে আজানএকামত : নারীদের জামাত যেহেতু মাকরুহ, তাই তাতে আজানএকামত দেওয়াও মাকরুহ।(মাবসুতে সারাখসি : /১৩৩)

লেখক : ফতোয়া সংকলন প্রকল্পের গবেষক