আর্কাইভ

Archive for the ‘নামায’ Category

৫৫০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ

shahi mosque 1a

shahi mosque 1b

Advertisements

প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা

baitul mukaddas 1ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা ‘মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস’ সুপ্রাচীন শহর পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত। আল-আকসা মসজিদের অর্থ হচ্ছে ‘দূরবর্তী মসজিদ’। এ পবিত্র মসজিদ থেকেই রাসূল (সা.)উর্ধাকাশে তথা মেরাজ গমন করেছিলেন।

মহানবী (সা) মক্কার মসজিদুল হারাম,মদিনার মসজিদুন্নববী ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা)বলেছেন,ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ,মসজিদে ২৫ গুণ,মসজিদে নববী ও আকসায় ৫০ হাজার গুণ,মসজিদে হারামে এক লাখ গুণ সাওয়াব।’ (ইবনে মাজাহ)।

হজরত ইব্রাহিম (আ)কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ)জেরুসালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান আ:জিনদের মাধ্যমে এই পবিত্র মসজিদের পুনর্নির্মাণ করেন। ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধীনে আসে। ১০৯৯ সালের ১৫ জুলাই খ্রিষ্টান ক্রুসেডারেরা নামধারী মুসলিম শাসকদের সহায়তায় সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে। এরপর তারা ১০৯৯ সালের ৭ জুন বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে। তারা মসজিদের গম্বুজের উপরে ক্রুশ স্থাপন করে এর নাম রাখে ‘সুলাইমানি উপাসনালয়’।

১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ। ফাতেমি খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলিফার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র) গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসরে আগমন করেন। এরপর ১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র)জেরুসালেম শহর অধিকার করার পর পূর্বের নকশা অনুযায়ী আল আকসা মসজিদের পুননির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির আয়তন সাড়ে তিন হাজার বর্গমিটার। আর এ মসজিদে পাঁচ হাজার মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র)বিজয়ী বেশে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হওয়ার পর সেখানকার মুসলিমরা প্রায় ৯০ বছর পর ক্রুসেডারদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছিল।

বস্তুত ইসলামী শরীয়াহর দৃষ্টিতে বায়তুল মোকাদ্দাস হল চার দেয়াল ঘেরা ১ লাখ ৪০ হাজার ৯ শত বর্গমিটার সবটাই। এরই মধ্যে মসজিদে গম্বুজে সাখরা,মূল আকসা মসজিদ,মসজিদে নিসা ও মাদরাসাসহ প্রকান্ড ময়দান। এর ঠিক মধ্যখানে আট ভাঁজে গোলাকৃতির মসজিদে গম্বুজে সাখরা। সাখরা অর্থ পাথর। এটা বিশ্বের বুকে তিনটি বরকতময় পাথরের মধ্যে একটি। অপর দুটি পবিত্র মক্কায় হাজরে আছওয়াদ ও মকামে ইব্রাহীম। জেরুজালেমে এ পাথরের সৌজন্যে ওমাইয়া খলিফা আবদুল মালেক বিন মারওয়ান মসজিদে গম্বুজে সাখরা নির্মাণ করেন যার ঠিক মধ্যখানে রয়েছে এ সাখরা তথা বরকতময় পাথরটি।

এ সাখরা তথা পাথরের রয়েছে তাৎপর্যময় ইতিহাস। বর্ণিত আছে যে,প্রথমে মানব পিতা হযরত আদম (আ)-এর ওপর আগুনের স্তম্ভ দেখে সেখানে একটা মসজিদ নির্মাণ করেন। নবী হযরত ইউশা (আ)-এর ওপর গম্বুজ নির্মাণ করেন। নবী হযরত দাউদ (আ)-এর কাছে মেহরাব এবং নবী হযরত সোলাইমান (আ)প্রসিদ্ধ ইবাদত গাহ্ “হাইকালে সোলাইমানী” তৈরি করেছিলেন। আর এ পাথরের ওপর রাসুলুল্লাহ (স.)বসেন ও আল্লাহর সান্নিধ্যে যাত্রা করেন।aqsa vs dome

বায়তুল মোকাদ্দেস এলাকার ঠিক মাঝখানে এ গম্বুজে সাখরার অবস্থান। এখানে এক আযান দুই জামাত হয়। এক জামাত মসজিদে আকসায় অন্য জামাত মসজিদে গম্বুজে সাখরায়। উভয় জামাতে একপাশে মহিলারাও জামাতে শরীক হয়। তবে শুক্রবার জুমার নামাজ ব্যতিক্রম। জুমায় প্রায় লক্ষাধিক মুসলিম নর-নারীর সমাগম ঘটে। মূল আকসা মসজিদ যেহেতু পবিত্র কাবার দিকে একপাশে ফলে এখান থেকে সম্মানিত ইমাম সাহেব খোৎবা দেন জুমার নামাজ পড়ান। এ সময় মসজিদে গম্বুজে সাখরা সম্পূর্ণটাই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এখানে সাখরা বা পাথরের নিচেও নামাজের ব্যবস্থা আছে। তথায় ৩০-৪০ জন নর-নারী নামাজ পড়তে পারেন। এ সাখরার চতুর্পাশে মসজিদে গম্বুজে সাখরার অভ্যন্তরে ২/৩ শত নর-নারী নামাজ পড়তে পারে। অপরদিকে মূল মসজিদে আকসায় ৪/৫ শত জন নর-নারী নামাজ পড়তে পারেন। এ সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর বিশাল এরিয়ায় অসংখ্য তীন ও জয়তুন গাছ রয়েছে। জুমার সময় এসব গাছের নিচে হাজার হাজার নামাজি এসে জমায়েত হন।

বস্তুত ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জবরদখলী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বায়তুল মোকাদ্দেসের সীমানা ঘেঁষে পশ্চিম জেরুজালেম ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে আসে। বায়তুল মোকাদ্দেসহ পূর্ব জেরুজালেম ছিল জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমও দখল করে তাদের জবরদখলী সীমানা আরও পূর্ব দিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের নিকটে নিয়ে আসে। ফলে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে আজ অবধি বায়তুল মোকাদ্দেস ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ মসজিদে গম্বুজে সাখরার মাত্র ২/৩ শত মিটার দূরত্বে মূল মসজিদে আকসা। যার দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার প্রস্থ ৫৫ মিটার।

হিজরতের এক বছর আগে ২৭ রজব মিরাজের রাতে মহানবী (সা) প্রথমে তারা বায়তুল আকসায় উপনীত হন। বোরাককে বাইরে বেঁধে মহানবী সা:মসজিদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে,পবিত্র ও মহিমাময় তিনি,যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়,তাঁকে আমার নিদর্শন দেখাবার জন্য।’ (সূরা বনি ইসরাইল,১৭:১)। মহানবী (সা) মিরাজ শেষে পুনরায় মসজিদুল আকসায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ইমাম হয়ে নবী-রাসূলদের নিয়ে নামাজ আদায় করেন।

মসজিদুল কিবলাতাইন ও মসজিদুল আকসা :

মসজিদে কিবলাতাইন’ ইসলামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী। হজরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হজরত ঈসা (আ) পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী-রাসূলের একমাত্র কেবলা ছিল মসজিদুল আকসা। কিন্তু মহানবী (সা) ও তাঁর কিছু সৌভাগ্যবান উম্মতের ভাগ্যে মসজিদুল আকসা ও পৃথিবীর প্রথম ঘর পবিত্র কাবা-এই উভয় কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল।

মহানবী (সা) মদিনায় হিজরত করার পর প্রায় ১৬ মাস মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হিজরি দ্বিতীয় সালের শাবান মাসে মতান্তরে রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে মহানবী (সা) কিছুসংখ্যক সাহাবায়ে কেরামসহ মদিনার অদূরে মসজিদে বনু সালামায় জোহর মতান্তরে আসর নামাজ আদায় করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের দুই রাকাত কাবা শরিফের দিকে ফিরে আদায় করেছিলেন বিধায় ইসলামের ইতিহাসে মসজিদটি মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলা হিসেবে সুপরিচিত ও সমাদৃত।

আল কুদ্স দিবস :

অভিশপ্ত ইহুদিদের হীন ষড়যন্ত্রে মসজিদুল আকসা ও জেরুসালেম নগরীতে মুসলমানদের পদচারণা আজ নিষিদ্ধ। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাফল্যের পর ১৯৭০ সালের আগস্টে পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব আল কুদ্স দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলমানেরা প্রতি বছর এ দিনটি বিশ্ব আল কুদ্স দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

আব্দুর রউফ মসজিদ – আধুনিক স্থাপত্যশৈলী

baitur rauf mosque

বাংলাদেশে ২০১ গম্বুজের মসজিদ !

201 domes mosque mk1201 domes mosque mk2

আযানের সময় সংযত হওয়া জরুরি

কে ঐ শোণালো মোরে

আযানের ধ্বনি

মর্মে মর্মে সুর

বাজিলো কি সুমধুর…

আজানের সময় মুসলমানদের করণীয়

মুফতি মাহমুদ হাসান : পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ধ্বনির নাম আজান—এটি মুসলিম-অমুসলিম-নির্বিশেষে কোটি মানুষের উপলব্ধি। তা হবে না কেন? এ আজান তো সৃষ্টির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। একজন মানুষকে যখন তার মহান মালিকের প্রতি আহ্বান করা হয়, তার উপলব্ধি তখন কেমন হতে পারে? তাই আজানের আওয়াজ শুধু মুসলমানের অন্তরেই নাড়া দেয় না, বরং তা অমুসলিমের অন্তরকেও আকর্ষণ করে। যুগে যুগে যার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। হ্যাঁ, হিংসুক ও নিন্দুকের কথা ভিন্ন। আল্লাহর ভাষায়,‘যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন, সে (হেদায়েতের) আলো থেকে বঞ্চিত হবেই। ’

তাই ইসলামে আজানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আজান শুনে আজানের জবাব দেওয়ারও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আজান শ্রবণকারীরও মৌখিকভাবে আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,‘যখন তোমরা আজান শুনবে, এর জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে। ’ (বুখারি, হাদিস :৬১১)

আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি

আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’ বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস :৩৮৫)

তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময়ও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তাবারানি, হাদিস : ৪৫৮)

আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাব

ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশুদ্ধ মতানুসারে এর জবাবেও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলাই উত্তম। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে। (তাকরিরাতে রাফেয়ি : ১/৪৭ আহসানুল ফাতাওয়া :১০/২০৬)

প্রচলিত কিছু ভুল

এক. কেউ কেউ আজানে ‘আল্লাহু আকবার’-এর জবাবে ‘কাল্লা জালালুহু’ পড়ে থাকে। এটি সুন্নাহপরিপন্থী। (ইমদাদুল আহকাম :১/৪১৬)

দুই. অনেকেই আজানের সময় জবাব দিতে গিয়ে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’-এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলে থাকে। এটিও উচিত নয়। কেননা এ সময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই। বরং তখনো মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলাই সুন্নাত। (আলবাহরুর রায়েক :১/২৭৩, আহসানুল ফাতাওয়া :২/২৭৮)

এই দরুদ পাঠ করবে আজান শেষ হওয়ার পর।

তিন. আমাদের দেশে আজানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় অনেকেই বৃদ্ধাঙুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছে থাকে। কেউ কেউ আবার সঙ্গে ‘কুররাত আইনি’—এ দোয়াও পড়ে থাকে। অথচ ইসলামী শরিয়তে এর কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং এটি বর্জনীয়। (আল মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা-৬০৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৫/২৫৯)

চার. প্রসিদ্ধ আছে, আজানের জবাব না দিলে বা আজানের সময় কথা বললে বেঈমান হয়ে যায় কিংবা বেঈমান অবস্থায় মারা যাওয়ার ভয় আছে—এরূপ কোনো বর্ণনা হাদিসের কিতাবে নেই। সুতরাং এটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :৫/৪৩০)

যারা আজানের জবাব দেবে না

নামাজ আদায়কারী, পানাহার অবস্থায়, ইস্তিনজাকারী, স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত, মহিলাদের ঋতুকালীন ইত্যাদি সময়। তবে অনেক আলেমের মতে, আজানের পরক্ষণেই যদি উল্লিখিত কাজ থেকে অবসর হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জবাব দিয়ে দেওয়া উত্তম। কোরআন তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৩৯৭)

জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব

জুমার দ্বিতীয় আজানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফেকাহবিদদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্ত্বেও কেউ দিতে চাইলে মনে মনে জবাব দিতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/২৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :২/৫৮)

আজানের সময় দুনিয়াবি কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা

আজানের সময় চুপ থাকা সুন্নত। একান্ত প্রয়োজন না হলে সাধারণ দ্বিনি ও দুনিয়াবি কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিত। বক্তৃতা বা সেমিনার চলাকালে আজান হলে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। ওয়াজ বা কোনো দ্বিনি মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সবাইকে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। মনে রাখতে হবে, একজন আজানের জবাব দিলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায় না। কেননা আজানের জবাব দেওয়া শ্রবণকারী সব মুসলমানের জন্য সুন্নত। আর আজানের জবাব দেওয়া সুন্নতে কেফায়া নয়। (ফাতহুল কাদির : ১/২৪৮, রদ্দুল মুহতার : ১/৩৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :৫/৪২৭)

রেডিও-টেলিভিশনের আজানের জবাব

মুয়াজ্জিনের আজান রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত। রেকর্ড করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত নয়। (বাদায়েউস সানয়ে : ১/৬৪৬, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল :১/১৭০)

আজানের পর দোয়া

আজানের পর দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নাত। হাদিস শরিফে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,‘যে ব্যক্তি আজানের পর আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ…’ এ দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৪) অন্য বর্ণনায় রয়েছে,‘তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরূপ শব্দে আজানের জবাব দাও, অতঃপর দরুদ পাঠ করো, এরপর আমার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দোয়া করো, আশা করি, আল্লাহ তাআলা আমাকেই সে স্থান দান করবেন। যে ব্যক্তি এ দোয়া করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৪)

আজানের পর হাত তুলে মুনাজাত

আজানের পর দরুদ শরিফ পড়ে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথা হাদিস শরিফে রয়েছে, তবে আজানের পর হাত তুলে দোয়া পড়া ও মুনাজাত করার কথা হাদিসে নেই। (ফয়জুল বারি : ২/১৬৭, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া :১৬/২০৮)

একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব

আজানের মতো মুসল্লিদের একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫৭) একামতের জবাবও আজানের অনুরূপ। শুধু একামতের মধ্যে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’-এর জবাবে’ ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত,‘একবার হজরত বেলাল (রা.) একামত দিচ্ছিলেন, তখন নবী করিম (সা.)-ও তাঁর সঙ্গে আজানের অনুরূপ উত্তর দিয়েছেন, তবে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বলার সময় বলেন,‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। (আবু দাউদ, হাদিস :৫২৮)

লেখক : ফতোয়া গবেষক,ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

এসআর শানু খান : যুগের পরিক্রমায় বিদেশি কালচারের সংস্পর্শে আমাদের সমাজের যে আজ কি হাল হয়েছে সেটা ভাবতে গেলে চোখ কপালে উঠে। আজ আমরা টেলিভিশন ছাড়া যেন কোনো কিছু চিন্তাই করতে পারি না। বাড়িতে একটা টেলিভিশন সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি চ্যানেল সংযোজিত ক্যাবল নেটওয়ার্ক না থাকলে সেই বাড়িটাকে এখন ভুতুড়ে বাড়ি বলে মনে হয়। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। দিনের পর দিন বাজারে যেমন বিভিন্ন চ্যানেল সংবলিত ক্যাবল নেটওয়ার্কেও অভাব হচ্ছে না ঠিক তেমনিভাবে দিন যাচ্ছে আর বাজারে নিরঙ্কুশভাবে বেড়ে চলছে বিভিন্ন নামের ডেকোরেশন।

ডেকোরেশনের মানে এখন আর শুধু চেয়ার টেবিল নয় এখন ডেকোরেশনের দোকান মানেই বড় বড় বিল্ডিং-এর মতো কোম্পানি বক্স। হাতির সূরের মতো লম্বা লম্বা সব মাইক ছেলের গালে ভাত, মেয়ের কান ফুটানো, ছেলের সুন্নাতে খুৎনা, মেয়ের গায়ে হলুদ, মেয়ের বিয়ে এমন সব অনুষ্ঠান মানেই তিন চার সপ্তাহব্যাপী বড় বড় সাউন্ড বক্স বাড়ি এনে ফুল গিয়ারে গান-বাজনা করা। গান-বাজনা করাটা এখন এতটাই জরুরি কালচার হয়ে পড়েছে যে বাড়িতে পোষা মুরগিটা প্রথম ডিম পাড়লেও মন চাই মাইক ভাড়া করে এনে কয়েকদিন গান বাজায়।

একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন আছে। এটা অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই বিনোদনেরও যে একটা সীমা থাকার দরকার আছে। শখের বশে বিনোদন করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে ভুলে গেলে। নিজের ধর্মকে অমান্য করলে তো আর হবে না। অন্য সব যেমন তেমন ধর্মীয় ব্যাপারে মানুষের সিরিয়াস হয়ে যাবার বিষয়টা কিন্তু একটা সহজাত প্রবৃত্তি। এই পৃথীবির সব মানুষই কি নাস্তিক নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়লেও কোনো মানুষই ধর্মের অবমাননা মেনে নিতে চাইবেন না।

বনের পশুরা বনের বিভিন্ন অংশে তার শিকার খোঁজার জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও তার কিন্তু একটা নিজস্ব ধর্ম আছে। নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো কোনোভাবেই ডিঙ্গিয়ে চলেন না। সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত পদবি ঘাড়ে নিয়ে মানুষ কেমন করে যে নিজের ভীতটা ভুলে যায় ভুলে থাকে বা থাকতে পারে সেটা কিন্তু একটু ভাবার বিষয়।

আশপাশে লক্ষ্য করুন গান-বাজনার উৎপাতে আযান শোনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিনোদনের জগতে মানুষ নিজেকে এমনভাবে ডুবিয়ে নিয়েছেন যে কখন আযান হয় সেই জ্ঞানটাও আজ হারিয়ে ফেলেছেন। গান-বাজনা আরামছে চালিয়ে যাচ্ছেন বিরতিহীনভাবে। দেশীয় যে চ্যানেলগুলো আছে এগুলোর বেশির ভাগই আযানমুক্ত অবিরত ধায়ায় বিজ্ঞাপনযুক্ত। চ্যানেলগুলোর সারাদিনের সিডিউলে শত শত প্রোগ্রাম স্থান পেলেও দিনের পাঁচ ওয়াক্ত আযানের জন্য পাঁচ মিনিট করে বরাদ্দ করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। দেশীয় চ্যানেলগুলো বেশির ভাগই ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলোকে ফলো করবার চেষ্টা করে থাকেন। যেহেতু ইন্ডিয়ান চ্যালেনগুলোতে আযান বলে কোনো শব্দ নাই। যেহেতু বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে টিভি বন্ধ হওয়ার কোনো লাইন নাই।

মসজিদে মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছেন আর এ পাশে চায়ের দোকানগুলো ফুল ভলিউমে চলছে টিভি। আযানের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র যে সম্মান নাই সেটার প্রমাণ দিতেই কিন্তু এতসব আয়োজন। হায় আফসোস অন্য ধর্মাবলম্বী লোকদের কথা নাই বা বললাম একজন মুসলমানের সন্তান, আযান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জানা লোকগুলো কেমনে পারে এই আযানকে অসম্মান করতে। ক্যামনে পারে নিজের ধর্মের সম্মানে আঘাত আনতে।

আযানের সময় মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আযান পাঠ করবার ফযীলত জানা থাকতেও কেন আমরা সেটা করিনা। কেন আমার নিজেদেরকে নিজের প্রভুর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে এতটা মরিয়া হয়ে পড়েছি।

তাই কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন যথাবিহিত সম্মানপূর্বক যথাযথ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আযানের সময় টিভি-সিডি গান-বাজনা বন্ধ রাখার জন্য কড়া আইন জারি করুন। এবং পুলিশিং তত্তাবধানের মাধ্যমে হলেও গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলোর টিভির দোকানসহ বাড়ির উপর গান-বাজনা করার উপর জরুরি আইন চালু করে ধর্মের আবমাননা হ্রাস করুন।

শাহদেরগাঁও জামে মসজিদ

shahdergaon-mosque-1shahdergaon-mosque-2

বালিয়ার চৌধুরীদের মসজিদ পরিচিতি

baliar-mosque-1baliar-mosque-2baliar-mosque-3