আর্কাইভ

Archive for the ‘নামায’ Category

বদর আউলিয়ার মাজার, চট্ট্রগ্রাম

Advertisements

নামাজের সুন্নত

salah_calligraphyমাওলানা ইসমাঈল : নামাজ পড়া ফরজ; কিন্তু যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে নামাজ পড়ার এখতিয়ার কারো নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার মতো নামাজ পড়ো।’ নামাজের প্রকৃত ফজিলত পেতে হলে অবশ্যই রাসুল (সা.)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী নামাজ পড়তে হবে।

নামাজে দাঁড়ানোর সময়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুন্নত

(১) উভয় পায়ের আঙুল কিবলামুখী করে রাখা এবং উভয় পায়ের মাঝখানে চার আঙুল, ঊর্ধ্বে এক বিঘত পরিমাণ ফাঁক রাখা। (২) তাকবিরে তাহরিমার সময় চেহারা কিবলার দিকে রেখে নজর সিজদার জায়গায় রাখা এবং হাত ওঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো। (৩) উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত ওঠানো। (৪) হাত ওঠানোর সময় আঙুলগুলো ও হাতের তালু কিবলামুখী রাখা। (৫) আঙুলগুলো স্বাভাবিক রাখা। অর্থাৎ একেবারে মিলিয়ে না রাখা, আবার বেশি ফাঁক ফাঁক করেও না রাখা। (৬) ইমামের তাকবিরে তাহরিমা বলার সঙ্গে সঙ্গে মোক্তাদির তাকবিরে তাহরিমা বলা। তবে লক্ষ রাখতে হবে, যেন ইমামের তাকবিরে তাহরিমার আগে মোক্তাদির তাকবিরে তাহরিমা বলা শেষ না হয়।

এরূপ হলে মোক্তাদির নামাজ হবে না। (৭) হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাঁ হাতের পিঠের (পাতার) ওপর রাখা। (৮) ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাঁ হাতের কবজি ধরা। (৯) অবশিষ্ট তিন আঙুল বাঁ হাতের ওপর স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখা। (১০) নাভির নিচে হাত বাঁধা। (১১) ছানা পড়া।

(বুখারি, হাদিস : ৭৩৪, ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/৭৩, তিরমিজি, হাদিস : ৩০৪, ২৫২ নাসায়ি, হাদিস : ৮৯২, মুস্তাদরাক : ১৭৬১, ৮৫৬, মুসলিম, হাদিস : ৩৯১, আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৬, ৭৫৬, ৭৭৫, ফাতহুল কাদির : ১/২৫০)

নামাজের কেরাতের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুন্নত

(১) প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর পূর্ণ আউজুবিল্লাহ পড়া। (২) প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা ও সুরা মেলানোর আগে পূর্ণ বিসমিল্লাহ পড়া। (৩) সুরা ফাতিহার পর সবার জন্য নীরবে ‘আমিন’ বলা। (৪) ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া।

(বুখারি, হাদিস : ৭৭৬, ৭৮০, মুসলিম, হাদিস : ৭৩৩, আবু দাউদ, হাদিস : ৭৬৪)

রুকুর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুন্নত

(১) তাকবির বলা অবস্থায় রুকুতে যাওয়া। (২) উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা। (৩) হাতের আঙুলগুলো ফাঁক করে ছড়িয়ে রাখা। (৪) উভয় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখা, কনুই বাঁকা না করা। (৫) পায়ের গোছা, হাঁটু ও ঊরু সম্পূর্ণ সোজা রাখা। হাঁটু সামনের দিকে বাঁকা না করা। (৬) মাথা, পিঠ ও কোমর সমান রাখা এবং পায়ের দিকে নজর রাখা। (৭) রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবিহ পড়া। (৮) রুকু থেকে ওঠার সময় ইমামের ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’, মোক্তাদির ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর উভয়টি বলা। (বুখারি, হাদিস : ৭৮৯, ৭৯০, ৮২৮, আবু দাউদ, হাদিস : ৭৩১, ৭৩৪, ৮৬৩, ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/১২)

সিজদার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুন্নত

(১) তাকবির বলা অবস্থায় সিজদায় যাওয়া। (২) হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাত দূরে উভয় হাত রাখা এবং হাতের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে রাখা। (৩) উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বরাবর নাক রাখা। (৪) দুই হাতের মাঝে সিজদা করা এবং দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগের দিকে রাখা। (৫) সিজদায় পেট ঊরু থেকে এবং উভয় বাহু পাঁজর থেকে পৃথক রাখা। (৬) কনুই মাটি ও হাঁটু থেকে পৃথক রাখা। (৭) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবিহ পড়া। (৮) তাকবির বলা অবস্থায় সিজদা থেকে ওঠা।

(বুখারি, হাদিস : ৮০৩, ৮০৭, ৮২২, ৮২৫, মুসলিম, হাদিস : ৪০১, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৬৬২, ১৮৮৮২, ১৮৮৮০)

নামাজে বসার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুন্নত

(১) বাঁ পা বিছিয়ে তার ওপর বসা। ডান পা সোজাভাবে খাড়া রাখা। উভয় পায়ের আঙুলগুলো সাধ্যমতো কিবলার দিকে মুড়িয়ে রাখা। (২) উভয় হাত রানের ওপর হাঁটু বরাবর রাখা এবং দৃষ্টি দুই হাঁটুর মাঝ বরাবর রাখা। (৩) ‘আশহাদু’ বলার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা একসঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত বানানো এবং অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুলিদ্বয় মুড়িয়ে রাখা এবং ‘লা ইলাহা’ বলার সময় শাহাদাত আঙুল সামান্য উঁচু করে ইশারা করা। অতঃপর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুলের মাথা সামান্য ঝুঁকানো। হাঁটুর সঙ্গে না লাগানো। (৪) আখেরি বৈঠকে আত্তাহিয়াতু পড়ার পর দরুদ শরিফ ও দোয়া মাছুরা পড়া। (৫) উভয় সালাম কিবলার দিক থেকে শুরু করা এবং সালামের সময় দৃষ্টি কাঁধের দিকে রাখা। (৬) ইমামের উভয় সালামে মোক্তাদি, ফেরেশতা ও নামাজি জিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (৭) মোক্তাদিদের উভয় সালামে ইমাম, অন্যান্য মুসল্লি, ফেরেশতা ও নামাজি জিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (৮) একাকী নামাজি ব্যক্তি শুধু ফেরেশতাদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (৯) মোক্তাদিদের ইমামের সালাম ফেরানোর পরপরই সালাম ফেরানো। (১০) ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফেরানো শেষ হলে মাসবুকের ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়ানো। (বুখারি, হাদিস : ৮৩৪, ৮৩৮, মুসলিম, হাদিস : ৫৮২, ৪৩১, নাসায়ি, হাদিস : ১১৫৮, আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৬, তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৭, মুসান্নাফ, হাদিস : ৩১৪৯, ৩১৪০, ৩১৫৬)

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

ফিলিপাইনের মসজিদগুলো মুসলমানদের গর্বের পরিচায়ক

Philippine-mosjid-1মুসলিম সংখ্যাগুরু না হলেও ফিলিপাইনের মসজিদগুলো মুসলমানদের গর্বের পরিচায়ক। কারণ, এই মসজিদগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে কিছু পর্যটন কেন্দ্র।

ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম ম্যানিলা। ৭ হাজার ১০৭টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি আয়তন হচ্ছে- ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭ শ’ ৬৪ বর্গকিলোমিটার।

ফিলিপাইনের জনসংখ্যা ১০ কোটির ওপরে। ফিলিপাইনের দ্য ন্যাশনাল মুসলিম অব কমিশনের হিসাব মতে, বর্তমানে মুসলিম জনসংখ্যার হার প্রায় ১৪ ভাগ। পর্যটকদের কাছে ফিলিপাইন বেশ প্রিয় জায়গা।

অর্থনৈতিকভাবে ফিলিপাইন বেশ সমৃদ্ধ। এশিয়ায় যে দু’টি দেশে ক্যাথলিকেরা সংখ্যাগুরু ফিলিপাইন তার অন্যতম।

ভ্যাটিকান ছাড়া ফিলিপাইনই এখন পর্যন্ত বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিপাইন স্বাধীন হয়। ফিলিপাইনে ইসলামের প্রচার-প্রসার হয়েছে আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তাদের ইসলামি জীবনযাত্রা ও আখলাক-চরিত্র দেখে ফিলিপাইনের আধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়।

ফিলিপাইনে অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। শেখ করিম আল মাখদুম মসজিদটি ফিলিপাইনের প্রথম মসজিদ। যা মিন্দানাওয়ের সিমুনুল প্রদেশের তুবিগ ইন্দানগানে অবস্থিত।

শেখ মখদুম করিম নামে একজন আরব ব্যবসায়ী ১৩৮০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পুরোনো মসজিদের স্তম্ভ এখনও নতুন ভবনের ভেতরে পাওয়া যায়। 

শেখ করিম আল মাখদুম মসজিদকে ফিলিপাইনের জাতীয় ঐতিহাসিক কমিশন ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর সেদেশের জাতীয় জাদুঘর মসজিদটিকে জাতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ফিলিপাইনের আরেকটি বিখ্যাত মসজিদের নাম- পিঙ্ক মসজিদ। মসজিদটিকে শান্তি এবং ভালোবাসার রঙে সাজানো হয়েছে। ফিলিপাইনের মগুইন্দানো প্রদেশের দাতুসৌদি আম্পাতাউন শহরে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের বর্ণিল রঙ একে অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে, দিয়েছে আলাদা বৈচিত্র্যময়তা।

ম্যানিলার গোল্ডেন মসজিদও ঐতিহাসিক একটি মসজিদ। ফিলিপাইনের মসজিদগুলোর সঙ্গে রয়েছে ইসলামিক সেন্টার ও অতিথিশালা।

কয়েক বছর ধরে ফিলিপাইনে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি দেওয়া হয়। রয়েছে প্রচুর পরিমাণের হালাল খাবারের দোকান। মুসলমানরা তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে রমজানও পালন করতে পারেন। তারাবির নামাজে খতমে কোরআনের ব্যবস্থা হয় অনেক মসজিদে।

সম্প্রতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ফিলিপাইনের বেশ কয়েকটি প্রাচীন মসজিদ সংস্কারের জন্য সরকার ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, মসজিদগুলো সংস্কারের পর পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে এসব এলাকা। 

ফিলিপাইনে আড়াই হাজারের মতো মসজিদ রয়েছে। মসজিদ ছাড়াও প্রায় ১২০টির মতো ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র, প্রচুর দাতব্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফিলিপাইনের মুসলমানরা দাওয়াতে তাবলিগের কাজে সক্রিয়। ফিলিপাইনের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল ওয়াহেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। ফিলিপাইনের মুসলমানদের অধিকাংশ মিন্দানাও, পালাউন ও মোরোতে বসবাস করেন।

৫৫০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ

shahi mosque 1a

shahi mosque 1b

প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা

baitul mukaddas 1ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা ‘মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস’ সুপ্রাচীন শহর পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত। আল-আকসা মসজিদের অর্থ হচ্ছে ‘দূরবর্তী মসজিদ’। এ পবিত্র মসজিদ থেকেই রাসূল (সা.)উর্ধাকাশে তথা মেরাজ গমন করেছিলেন।

মহানবী (সা) মক্কার মসজিদুল হারাম,মদিনার মসজিদুন্নববী ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা)বলেছেন,ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ,মসজিদে ২৫ গুণ,মসজিদে নববী ও আকসায় ৫০ হাজার গুণ,মসজিদে হারামে এক লাখ গুণ সাওয়াব।’ (ইবনে মাজাহ)।

হজরত ইব্রাহিম (আ)কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ)জেরুসালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান আ:জিনদের মাধ্যমে এই পবিত্র মসজিদের পুনর্নির্মাণ করেন। ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধীনে আসে। ১০৯৯ সালের ১৫ জুলাই খ্রিষ্টান ক্রুসেডারেরা নামধারী মুসলিম শাসকদের সহায়তায় সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে। এরপর তারা ১০৯৯ সালের ৭ জুন বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে। তারা মসজিদের গম্বুজের উপরে ক্রুশ স্থাপন করে এর নাম রাখে ‘সুলাইমানি উপাসনালয়’।

১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ। ফাতেমি খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলিফার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র) গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসরে আগমন করেন। এরপর ১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র)জেরুসালেম শহর অধিকার করার পর পূর্বের নকশা অনুযায়ী আল আকসা মসজিদের পুননির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির আয়তন সাড়ে তিন হাজার বর্গমিটার। আর এ মসজিদে পাঁচ হাজার মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (র)বিজয়ী বেশে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হওয়ার পর সেখানকার মুসলিমরা প্রায় ৯০ বছর পর ক্রুসেডারদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছিল।

বস্তুত ইসলামী শরীয়াহর দৃষ্টিতে বায়তুল মোকাদ্দাস হল চার দেয়াল ঘেরা ১ লাখ ৪০ হাজার ৯ শত বর্গমিটার সবটাই। এরই মধ্যে মসজিদে গম্বুজে সাখরা,মূল আকসা মসজিদ,মসজিদে নিসা ও মাদরাসাসহ প্রকান্ড ময়দান। এর ঠিক মধ্যখানে আট ভাঁজে গোলাকৃতির মসজিদে গম্বুজে সাখরা। সাখরা অর্থ পাথর। এটা বিশ্বের বুকে তিনটি বরকতময় পাথরের মধ্যে একটি। অপর দুটি পবিত্র মক্কায় হাজরে আছওয়াদ ও মকামে ইব্রাহীম। জেরুজালেমে এ পাথরের সৌজন্যে ওমাইয়া খলিফা আবদুল মালেক বিন মারওয়ান মসজিদে গম্বুজে সাখরা নির্মাণ করেন যার ঠিক মধ্যখানে রয়েছে এ সাখরা তথা বরকতময় পাথরটি।

এ সাখরা তথা পাথরের রয়েছে তাৎপর্যময় ইতিহাস। বর্ণিত আছে যে,প্রথমে মানব পিতা হযরত আদম (আ)-এর ওপর আগুনের স্তম্ভ দেখে সেখানে একটা মসজিদ নির্মাণ করেন। নবী হযরত ইউশা (আ)-এর ওপর গম্বুজ নির্মাণ করেন। নবী হযরত দাউদ (আ)-এর কাছে মেহরাব এবং নবী হযরত সোলাইমান (আ)প্রসিদ্ধ ইবাদত গাহ্ “হাইকালে সোলাইমানী” তৈরি করেছিলেন। আর এ পাথরের ওপর রাসুলুল্লাহ (স.)বসেন ও আল্লাহর সান্নিধ্যে যাত্রা করেন।aqsa vs dome

বায়তুল মোকাদ্দেস এলাকার ঠিক মাঝখানে এ গম্বুজে সাখরার অবস্থান। এখানে এক আযান দুই জামাত হয়। এক জামাত মসজিদে আকসায় অন্য জামাত মসজিদে গম্বুজে সাখরায়। উভয় জামাতে একপাশে মহিলারাও জামাতে শরীক হয়। তবে শুক্রবার জুমার নামাজ ব্যতিক্রম। জুমায় প্রায় লক্ষাধিক মুসলিম নর-নারীর সমাগম ঘটে। মূল আকসা মসজিদ যেহেতু পবিত্র কাবার দিকে একপাশে ফলে এখান থেকে সম্মানিত ইমাম সাহেব খোৎবা দেন জুমার নামাজ পড়ান। এ সময় মসজিদে গম্বুজে সাখরা সম্পূর্ণটাই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এখানে সাখরা বা পাথরের নিচেও নামাজের ব্যবস্থা আছে। তথায় ৩০-৪০ জন নর-নারী নামাজ পড়তে পারেন। এ সাখরার চতুর্পাশে মসজিদে গম্বুজে সাখরার অভ্যন্তরে ২/৩ শত নর-নারী নামাজ পড়তে পারে। অপরদিকে মূল মসজিদে আকসায় ৪/৫ শত জন নর-নারী নামাজ পড়তে পারেন। এ সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর বিশাল এরিয়ায় অসংখ্য তীন ও জয়তুন গাছ রয়েছে। জুমার সময় এসব গাছের নিচে হাজার হাজার নামাজি এসে জমায়েত হন।

বস্তুত ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জবরদখলী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বায়তুল মোকাদ্দেসের সীমানা ঘেঁষে পশ্চিম জেরুজালেম ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে আসে। বায়তুল মোকাদ্দেসহ পূর্ব জেরুজালেম ছিল জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমও দখল করে তাদের জবরদখলী সীমানা আরও পূর্ব দিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের নিকটে নিয়ে আসে। ফলে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে আজ অবধি বায়তুল মোকাদ্দেস ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ মসজিদে গম্বুজে সাখরার মাত্র ২/৩ শত মিটার দূরত্বে মূল মসজিদে আকসা। যার দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার প্রস্থ ৫৫ মিটার।

হিজরতের এক বছর আগে ২৭ রজব মিরাজের রাতে মহানবী (সা) প্রথমে তারা বায়তুল আকসায় উপনীত হন। বোরাককে বাইরে বেঁধে মহানবী সা:মসজিদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে,পবিত্র ও মহিমাময় তিনি,যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়,তাঁকে আমার নিদর্শন দেখাবার জন্য।’ (সূরা বনি ইসরাইল,১৭:১)। মহানবী (সা) মিরাজ শেষে পুনরায় মসজিদুল আকসায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ইমাম হয়ে নবী-রাসূলদের নিয়ে নামাজ আদায় করেন।

মসজিদুল কিবলাতাইন ও মসজিদুল আকসা :

মসজিদে কিবলাতাইন’ ইসলামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী। হজরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হজরত ঈসা (আ) পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী-রাসূলের একমাত্র কেবলা ছিল মসজিদুল আকসা। কিন্তু মহানবী (সা) ও তাঁর কিছু সৌভাগ্যবান উম্মতের ভাগ্যে মসজিদুল আকসা ও পৃথিবীর প্রথম ঘর পবিত্র কাবা-এই উভয় কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল।

মহানবী (সা) মদিনায় হিজরত করার পর প্রায় ১৬ মাস মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হিজরি দ্বিতীয় সালের শাবান মাসে মতান্তরে রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে মহানবী (সা) কিছুসংখ্যক সাহাবায়ে কেরামসহ মদিনার অদূরে মসজিদে বনু সালামায় জোহর মতান্তরে আসর নামাজ আদায় করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের দুই রাকাত কাবা শরিফের দিকে ফিরে আদায় করেছিলেন বিধায় ইসলামের ইতিহাসে মসজিদটি মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলা হিসেবে সুপরিচিত ও সমাদৃত।

আল কুদ্স দিবস :

অভিশপ্ত ইহুদিদের হীন ষড়যন্ত্রে মসজিদুল আকসা ও জেরুসালেম নগরীতে মুসলমানদের পদচারণা আজ নিষিদ্ধ। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাফল্যের পর ১৯৭০ সালের আগস্টে পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব আল কুদ্স দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলমানেরা প্রতি বছর এ দিনটি বিশ্ব আল কুদ্স দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

আব্দুর রউফ মসজিদ – আধুনিক স্থাপত্যশৈলী

baitur rauf mosque

বাংলাদেশে ২০১ গম্বুজের মসজিদ !

201 domes mosque mk1201 domes mosque mk2