আর্কাইভ

Archive for the ‘নামায’ Category

শবে বরাত হোক বাড়াবাড়িমুক্ত

sab-e-baraat by albaaniজহির উদ্দিন বাবর : চন্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস শাবান।  পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে এই মাসের একটি বিশেষ ফজিলত আছে।  তবে এই মাসের মাঝামাঝি তথা ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।  পবিত্র হাদিসে ‘লাইলাতু নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত হিসেবে এটাকে উল্লেখ করা হয়েছে।  বছরে যে পাঁচটি রাত ফজিলতপূর্ণ এর মধ্যে এই রাতটি অন্যতম।  এই উপমহাদেশে রাতটি ‘শবে বরাত’ ও ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে পরিচিত।  অনেক গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাতটি পালিত হয়। আমাদের মসজিদগুলো এই রাতে কানায় কানায় ভরে যায়।  বছরের অন্যান্য সময় ধর্মকর্ম তেমন না করলেও অনেকে এই রাতে ইবাদতে নিমগ্ন হন।  আবহমান কাল থেকে আমরা পবিত্র আবহে, উৎসবের আমেজে শবে বরাত পালন করতে দেখে এসেছি।

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় শবে বরাতকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্ক লক্ষ্য করা যায়।  এক পক্ষ মনে করেন, এই রাতের বিশেষ কোনও গুরুত্ব নেই। এই রাতে উৎসব করে নফল ইবাদতের কোনও মানে হয় না।  বরং কেউ কেউ এটাকে ‘ইসলামে নতুন আবিষ্কার’ বা বিদাত হিসেবে মনে করেন।  বিশেষত যারা সহিহ হাদিসকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে অনুসরণ করেন তারা এই রাতের ঘোর বিরোধী।  তাদের বক্তব্য হলো, কোরআনের কোথাও এই রাতের কথা উল্লেখ নেই।  সহিহ হাদিস সূত্রেও এই রাতের ফজিলতের কথা জানা যায়নি।  যে হাদিস দ্বারা এই রাতকে ফজিলতপূর্ণ মনে করা হয় সেই হাদিসের সূত্র খুবই দুর্বল।

lylatul baraat saudi calender

আবার আমাদের সমাজে আরেকটি শ্রেণি আছে যারা এই শবে বরাতকে ‘মুক্তির মহা উপলক্ষ্য’ হিসেবে মনে করে থাকেন। সারা বছর ধর্মকর্মের কোনও ধার না ধারলেও এই রাতে পাক্কা মুসল্লি হয়ে যান, নফল ইবাদতে সারা রাত কাটান। আবার এই রাতের পরও তাদের মধ্যে থাকে না ধর্মের কোনও ছাপ।  এই রাতকে তারা ‘বরাত’ বা মুক্তির রাত হিসেবে জানে।  তাদের ধারণা, এই রাতে আল্লাহ ভাগ্য লিখেন।  এই রাতে ইবাদত করলে সব গুনাহ থেকে মুক্তি মিলবে, খুলে যাবে ভাগ্যের দুয়ার।  এজন্য সারা বছর যাই করুক এই রাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে সাধারণ মুসলমানরা।  অনেকে এই রাতের নাম দিয়েছে ‘নামাজের রাত’।  প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হলেও সেগুলো পালনে তাদের মধ্যে তেমন আন্তরিকতা চোখে পড়ে না।  অথচ এই রাতের নফল ইবাদত নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়।  

মূলত আমাদের সমাজে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি উভয়টাই হচ্ছে।  যারা বলছেন ইসলামে শবে বরাতের অস্তিত্ব নেই তারা হাদিসের সূত্রের দুর্বলতার দোহাই দিচ্ছেন।  অথচ হাদিসের মূলনীতি হলো, হাদিস দুর্বল হলেও তা ফজিলত সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রহণযোগ্য।  দুর্বল হাদিস দ্বারা শুধু কোনও বিধান আরোপ করা যায় না।  শবে বরাতে যারা ইবাদত বন্দেগি করেন তারা তা ফরজ-ওয়াজিব হিসেবে করেন না, নফল হিসেবেই করেন। তিরমিজি শরিফ ও ইবনে মাজাহ শরিফসহ যেসব কিতাবে এই রাতের ফজিলত সংক্রান্ত একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর সূত্র দুর্বল হতে পারে, তা অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই।  ফজিলতের ক্ষেত্রে হাদিসের সূত্রটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।  এজন্য শবে বরাতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হঠকারিতা ও ইসলাম সম্পর্কে অযাচিত বাড়াবাড়ি বৈ কিছু নয়।  এ রাতের প্রতি মুসলমানদের যে আবেগ ও বিশ্বাস তার মূল্য দেওয়া উচিত।  অন্তত এই রাতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ কাজ করে।  এই রাতের উছিলায় অনেকে সঠিক পথের দিশা লাভ করেন।

তবে এ কথা সত্য, আমাদের সমাজে শবে বরাত উপলক্ষে অতিরিক্ত ও ইসলামবিবর্জিত যে মাতামাতি করা হয় তা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য না। যে আমলের গুরুত্ব যতটুকু সেটা সেই পর্যায়েই রাখা উচিত।  আমাদের সমাজের অবস্থা হলো কেউ ফরজ নামাজ পড়ছে না, প্রকাশ্যে ইসলামবিরোধী কোনও কাজ করছে তাকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয় না।  অথচ কেউ শবে বরাতে মসজিদে গেলো না, নফল রোজা রাখল না তাকে অনেক খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়।  এটা নিঃসন্দেহে বাড়াবাড়ি।  এই রাতের ইবাদত ঐচ্ছিক বিষয়।  কেউ পারলে করবে না পারলে করবে না।  নফল কোনও ইবাদতকে বাধ্যবাধকতা মনে করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।  আর নফল ইবাদত হবে ব্যক্তিগতভাবে। আনুষ্ঠানিকতা ও হাঁকডাক করে নফল ইবাদতের কোনও মানে হয় না।  এর দ্বারা উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু অযাচিত কর্মকাণ্ডও আমাদের সমাজে ঘটে থাকে। এই রাতে অহেতুক আলোকসজ্জা করা, তারাবাতি জ্বালানো, আতশবাজি পোড়ানো, পটকা ফোটানো প্রভৃতি গর্হিত কাজ।  এতে অপসংস্কৃতির সঙ্গে যেমন সাদৃশ্য তৈরি হয়, তেমনি ইবাদতেও যথেষ্ট বিঘ্ন ঘটে।  শবে বরাতের আতশবাজি ও অসংলগ্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বড় দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।  কয়েক বছর আগে রাজধানীর উপকণ্ঠে আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা এবং মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে আগুন দিয়ে দশজনকে পুড়ে মারার ঘটনা এর জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আতশবাজিসহ সবধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা নিষিদ্ধ হলেও প্রতি বছরই কিছু না কিছু ঘটে।  এ ব্যাপারে সবার সতর্ক থাকা উচিত।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে হালুয়া-রুটির একটি প্রচলন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে চলে আসছে।  এর সঙ্গে ইসলামের কোনও যোগসূত্র নেই।  আপনি চাইলে যে কোনও সময় হালুয়া-রুটি খেতে পারেন, গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করতে পারেন।  কিন্তু এটা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে হলে সওয়াব তো হবেই না বরং গোনাহ হবে।  কারণ ইসলাম যা সমর্থন করে না এমন কোনও কাজ সওয়াবের নিয়তে করা গোনাহ।  সওয়াবের নামে নতুন কিছুর প্রচলন করাকে ইসলামের পরিভাষায় বিদাত ও রুসুমাত বলা হয়।  এটা জঘন্য গোনাহের কাজ।  অনেকে না বুঝেই এসব করে গোনাহের ভাগীদার হচ্ছেন।

ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম।  এখানে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি কোনোটাই কাম্য নয়।  শরিয়তে ইসলামের যাবতীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা রয়েছে। ইসলামি পন্ডিতরা সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।  স্বাভাবিকভাবেই ইসলামি পন্ডিতদের পরস্পরের মধ্যে মতপার্থক্য ও ভাবনার অমিল থাকতেই পারে।  এটা ইসলামের অন্যতম বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্য।  ইসলামে এটাকে দুষণীয় কোনও বিষয় মনে করা হয় না।  এজন্য চার মাজহাবের অনুসারী পাওয়া যায়।  এমনকি এই চার মাজহাবের বাইরে অসংখ্য মুসলমান আছেন।  প্রকৃত অর্থে সবাই উম্মতে মোহাম্মদির অনুসারী।

মূলত ইসলামের মৌলিক কোনও বিষয়ে আলেম-উলামা এবং ইসলামি পন্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য নেই।  সবাই এক আল্লাহ’য় বিশ্বাসী, মোহাম্মদ (সা.)-কে সবাই নবি হিসেবে মানেন; সবার আদর্শ কোরআন ও হাদিস। ইসলামের মৌলিক বিধানের ব্যাপারেও কোনও দ্বিমত নেই।  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা, হজ-জাকাত এসব ফরজ হওয়ার ব্যাপারে কারও কোনও ভিন্নমত নেই।  তবে এসব বিধান পালনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ছোটখাট মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।  কারণ সবার ভাবনা একরকম নয়।  সবার জ্ঞানের পরিধিও সমান না।  সুতরাং এই মতপার্থক্যকে বড় করে উপস্থাপন করা, নিজের মতকেই একমাত্র সঠিক আর অন্যের মতকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। 

আমাদের সমাজে বহুকাল ধরে শবে বরাত পালিত হয়ে আসছে।  এটা মুসলিম সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এতকাল পরে এসে এখানে হাদিসের বিশুদ্ধতার মাত্রা খোঁজা অযাচিত বিতর্কের সৃষ্টি করবে।  যারা এটাকে ফজিলতপূর্ণ মনে করবে তারা তাদের মতো করে পালন করবেন।  তবে অবশ্যই শরিয়তের গন্ডির ভেতরে থেকে করতে হবে। আর যারা মনে করছেন এটা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত নয় তারা এটা পালন থেকে বিরত থাকতে পারেন।  নফল এই ইবাদত কেউ না করলে কোনও ক্ষতি নেই। তবে এটাকে ইস্যু করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা, অনৈক্য ও দলাদলি উসকে দেওয়া কোনও প্রকৃত মুসলমানের কাজ নয়।  কারণ পবিত্র কোরআনে ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ঘৃণা করা হয়েছে। এটা জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

Advertisements

বাংলাদেশের এক নান্দনিক মসজিদ

haji mosque 1a

haji mosque 1b

ছুটি খাঁ মসজিদ

chhuti kha mosque

কাঁচ দিয়ে গড়া মসজিদ

glass mosque

সাইবেরিয়ার উত্তরাংশে স্থাপিত হলো মসজিদ

mosque-ru-arkhanglesk 3

ধর্মীয় কাজেও মাইক ব্যবহারে সংযম খুবই জরুরি

sound pollution -artউবায়দুর রহমান খান নদভী : ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি অর্থ ‘আসসালাম’। মুমিনদের বিশ্বজনীন অভিবাদন ‘আসসালামু আলাইকুম’। আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম এটি। জান্নাতের পরিচিতিও ‘দারুসসালাম’ বা শান্তির ঠিকানা। আওলিয়ায়ে কেরাম বলেছেন, ‘জান্নাত আঁ বাশাদ কে আযারে না বাশাদ’। যেখানে কোনো কষ্ট নেই, সেটিই জান্নাত। ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে কেবল শান্তিই শান্তি। দোয়ায় যেমন বলা হয় ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ও মিনকাস সালাম’। হে আল্লাহ, আপনি শান্তির আধার, শান্তি আপনার কাছ থেকেই আসে।

নবী করিম (সা.)-এর রওজা পাকে প্রথম প্রবেশের নিয়ম হলো ‘বাবুস সালাম’ দিয়ে প্রবেশ করা। শান্তির নবী, রহমতের নবী নামায পড়াচ্ছিলেন, শুনলেন, মসজিদ সংলগ্ন কোনো বাড়িতে ছোট্টশিশুর কান্না। তিনি নামায সংক্ষিপ্ত করে ফেললেন। বললেন, আমার ধারণা হলো এই শিশুটির মা হয়তো আমাদের জামাতে শরীক হয়েছে। (নামায দীর্ঘ হলে শিশুর কান্নাও থামবে না আর তার মা নামাযে মন বসাতে পারবে না।) এই ছিল আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজির মানবিক অনুভূতি।

আল্লাহর ইবাদত মানুষকে অস্বীকার করে নয়। আধ্যাত্মিক সাধনা নারী শিশু সমাজ ও প্রতিবেশকে না দেখে নয়। এক গ্রাম্য ব্যক্তি মদীনা শরীফে এসে মসজিদে নববীর এরিয়ায় পেশাব করতে বসে পড়লো। উপস্থিত সাহাবীরা সশব্দে তাকে নিবৃত করতে ছুটলেন। নবীজি (সা.) তাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘লোকটি যখন না বুঝে বসেই পড়েছে তখন তাকে শান্তিতে তার কাজটি সারতে দাও। পরে বুঝিয়ে বলো যেন সে ভবিষ্যতে আর এমন না করে।’ নবী করিম (সা.) লোকটিকে বিব্রত করা কষ্ট দেওয়া বা লজ্জায় ফেলে দেওয়া পছন্দ করেন নি। এই ছিল মহানবী (সা.)-এর আখলাক ও আচরণ। হাজার ঘটনা এমন আছে।

ইসলামে এমন বিধান রয়েছে, নামাযের জামাতে ইমাম সাহেব সবচেয়ে বয়স্ক ও দুর্বল ব্যক্তিটির প্রতি লক্ষ্য করে নামায আদায় করবেন। ইসলামে জোরে মাইক লাগিয়ে কোরআন শরীফ শবিনা পড়া আলেমগণ সমর্থন করেন না। কারণ, কোরআন পড়ার সময় নীরবে মন লাগিয়ে তা শোনা শ্রোতাদের ওপর ওয়াজিব। নির্দিষ্ট জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে সমবেত মুসলমান ছাড়া দুনিয়ার নানা কাজে ব্যস্ত মুসলিমদের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। তাছাড়া সারারাত উচ্চশব্দে কোরআন পাঠ করলে তা কোনো রোগী, পরীক্ষার্থী, গবেষক, বৈধ যৌনসম্পর্কে লিপ্ত, বিষণœ, নিদ্রামগ্ন, বৃদ্ধ, শিশু বা পাপকার্যে লিপ্ত মানুষের জন্য ‘বিরক্তি বা বিব্রতকর’ হওয়া অসম্ভব নয়। ফলে তারা কেউ যদি কোরআনের বিরুদ্ধে কোনো অসতর্ক উক্তি করে বসে তাহলে তাদের যেমন গুণাহ হবে, ক্ষেত্র বিশেষে ইমানও নষ্ট হতে পারে। এমনিভাবে শরীয়তবিরোধী এমন উপস্থাপনার জন্য এর উদ্যোক্তারাও গুনাহের ভাগি হবেন।

স্বয়ং কোরআনের ক্ষেত্রেই যদি শব্দ নিয়ন্ত্রণের মাসআলা থাকে তাহলে ওয়াজ ও জিকিরের জন্য থাকবে না কেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘মনে মনে তুমি আল্লাহর জিকির করো, গোপনে ও ভীতকম্পিত হয়ে, উচ্চকণ্ঠে নয়’। হযরত আবু বকর রা. বলতেন, তাহাজ্জুদে কোরআন তেলাওয়াত খুব নিম্নস্বরে করো। যাতে অন্য কারো ঘুম না ভাঙ্গে। হযরত ওমর রা. বলতেন, আমি চাই তেলাওয়াত হালকা উচ্চস্বরে হোক। যাতে নিদ্রিত ব্যক্তির ঘুম না ভাঙ্গে কিন্তু কিছুটা সজাগ ব্যক্তি পূর্ণ জাগ্রত হয়ে যায়। যেন তার পক্ষে কিছু নামায ও তেলাওয়াত করা সম্ভব হয়। এই ছিল মহান খলিফাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

মাইক বা শব্দযন্ত্র আবিষ্কারের আগে মানুষ আযান নামায ওয়াজ জিকির ইত্যাদি নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করেই করতো। বর্তমানে মাইক ছাড়া এর কোনোটাই চলে না। মোবাইল নিয়েও একই কথা। দেশে-বিদেশে বহু আলেম এখন মোবাইল ব্যবহারের মাসআলা মাসায়েল নিয়ে কিতাব লিখছেন। বাংলাদেশেও বহু বই লেখা হয়েছে। মাইকের ব্যবহার নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হয়ে থাকে। তারপরও বহু লোক এলেম না থাকার কারণে মাইক ব্যবহারের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা পালন করতে পারে না।

যেখানে অল্প মানুষ, তারা সেখানেও বেশি মানুষের সমান শব্দ তৈরি করে। যে আলোচনা মসজিদ বা হল রুমে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, তা দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত ও অমনোযোগী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য খামাখাই পাড়ায়-মহল্লায় মার্কেট ও রাজপথে লাউডস্পিকার দিয়ে বিকট শব্দের সৃষ্টি করে। যার একটি কথাও কেউ কোথাও বসে মনোযোগ দিয়ে শুনে কিনা সন্দেহ। তবে হাজারো মানুষ শব্দদূষণের শিকার হয়। ধর্মীয় বিষয় বলে কেউ কিছু বলে না। মনে করে এটাই নিয়ম। কিছু বললে গুনাহ হয় কি না। তাছাড়া সামাজিকভাবেও নিগৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অথচ ইসলাম এসব সমর্থন করে না।

মানুষের কষ্ট হয় এমন কোনো আয়োজন শরীয়ত কোনোদিন সমর্থন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। নবী (সা.)-এর সুন্নত ও শরীয়তের জনকল্যাণমূলক নীতি এসব বিষয়ে পরিমিতি সংযম ও শান্তির পক্ষে। একজন হৃদরোগীর কষ্ট বিবেচনা করে, কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অসুবিধা বিবেচনা করে মাইক বন্ধ রাখা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে। যেখানে কোরআন তেলাওয়াতরত ব্যক্তিকে সালাম না দেয়া, জরুরি আলোচনায়রত মানুষদের সালাম না দেয়া, খানা খাওয়া অবস্থায় কাউকে সালাম না দেয়া, গভীর চিন্তামগ্ন মানুষকে সালাম না দেয়া, জিকির বা অযিফা পাঠরত মানুষকে সালাম না দেয়া, জুমার দিনে নামায ও খুতবা চলাকালে মুসল্লীদের সালাম না দেয়া শরীয়তের বিধান। সেখানে ব্যক্তিগত হাজারো কাজে নিমগ্ন মানুষের কানের কাছে ১০টি ২০টি মাইক বেঁধে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়াজ শুনতে বাধ্য করা কতটুকু যৌক্তিক তা উদ্যোক্তাদের ভেবে দেখতে হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাহফিল হয় দিনব্যাপী। এতে মানুষের ঘুম নষ্ট হয় না। বৃহত্তর মোমেনশাহীর পথিকৃত আলেম মাওলানা আহমাদ আলী খান রহ. রাত ১১টার পর কোনো মাহফিল সমর্থন করতেন না। বলতেন, এতো সব মানুষের কষ্ট হয়। আর ফজর কাযা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। বি. বাড়ীয়ার বড় হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রহ. নিয়ম জারী করে গেছেন, তার অঞ্চলে ১২টার পর কোনো মাহফিল থাকে না। অথচ দেশব্যাপী এখন দুপুর থেকে সারারাতব্যাপী এমনকি পরদিন বেলা ৮টা পর্যন্ত একটানা সারা এলাকা মাইকের আওয়াজে গমগম করে। কেউ কষ্ট পাচ্ছে কি না তা ভেবে দেখারও যেন কারও সময় বা সাহস নেই।

দেশের শীর্ষ আলেমদের প্রায় সবাই আমার সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ‘সারা রাত মাহফিল’ ও ‘অতিরিক্ত মাইক’ নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মসজিদ হেফজখানা মাদরাসা স্কুল হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা বিবেচনা না করে গায়ের জোরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা, বিভিন্ন দিবস পালন করা এদেশে রেওয়াজ আছে বটে তবে ধর্মের ব্যাপারে যেন এমন অসাবধানতা কেউ না করতে পারে, এ ব্যাপারে সমাজের সচেতন ব্যক্তি, মুরব্বীগণ, ওলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিব সাহেবান সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

কিছু লোক বিয়েশাদী, মুসলমানি, গায়ে হলুদ, জন্মদিন ইত্যাদিতে উচ্চশব্দে গান-বাজনা করে মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছে তা একটি সভ্য সমাজে চলে না। কিন্তু এদেশের ‘জনঅশান্তি’ বিষয়টি খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব মানসিক অত্যাচার জনগণকে সহ্য করতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে বিয়ে অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে ড্রাম-বিট পেটানোর ব্যাপারে অভিযোগ করায় বিয়ে বাড়ির নারী পুরুষেরা মিলে একজন হৃদরোগী প্রতিবেশীকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। একই ভবনের বাসিন্দা অথচ একজন কঠিন রোগীর প্রতি এতটুকু মায়া বা দয়া অন্যদের অন্তরে কেন পাওয়া গেল না, এ প্রশ্ন গোটা জাতির। আসলে সমাজের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত নানা পাপাচারে আমাদের উপলব্ধি ও মনুষ্যত্ব লোপ পেয়ে যাচ্ছে। যা আল্লাহর একটি বড় গজব।

কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও ছদ্মবেশী বেঈমান বুদ্ধিজীবী এসব নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিন মিন সুরে ইসলামবিরোধী কথা বলার সুযোগ নেয়। তারা বলে, মাইকে আযান বন্ধ করা হোক। ওয়াজ মাহফিল যেন এতো বেশি না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, যদি ইসলামের পাবলিক অধিকার আমরা না দেই। যদি আমরা নাগরিকদের শান্তির দিকে খেয়াল না রেখে ধর্মের নামে যাচ্ছে-তাই করে বেড়াই। যদি বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ না শুনে এলেমহীন লোকজন গায়ের জোরে মসজিদ মাদরাসা খানকাহ ও মাহফিল চালায়। তাহলে দূষমনরা তাদের শয়তানি দাবির পক্ষে কিছু হলেও জনসমর্থন পেয়ে যাবে। যারা জাহেল উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফলে বিরক্ত তারা ওইসব ইসলামবিদ্বেষীর কথায় সমর্থন দিবে।

একটি মসজিদ যত দূর এলাকার মুসল্লিকে কভার করে, এর চেয়ে দূরে এই মসজিদের মাইকের আওয়াজ পৌঁছানো কতটুকু জরুরি তা মসজিদ কমিটিকে ভাবতে হবে। মিনার বা ছাদে কিংবা পাশের ভবনে মসজিদ কমিটি যখন লাউড স্পিকার লাগান, তখন তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, এ যন্ত্রটির সবচেয়ে কাছে যে ঘর বা বাড়িটি তাদের কাছে এর শব্দটি কতটুকু সহনীয়। দূরে যা সুমধুর খুব কাছে তা কষ্টদায়কও হতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক, ছোট্টশিশু, বৃদ্ধ, হৃদরোগী, অন্যান্য রোগী, শ্রমক্লান্ত মানুষ বা ইবাদতরত ব্যক্তি এ আওয়াজটি কিভাবে নিচ্ছে।

সারা শহরের বা দূর পল্লীর সব মসজিদ যদি নিজ প্রয়োজন পরিমাণ আওয়াজে দ্বীনি কাজ সারে। যদি ওয়াজ মাহফিলগুলো দুনিয়াবী অন্যান্য প্রোগ্রামের সাথে পাল্লা না দিয়ে নিজের নীতি-নিয়ম মেনে সংযত উপায়ে মাইকের ব্যবহার করে, তাহলে এসবের রহমত বরকত ও ফলাফল আশানুরূপ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ বছর দেশের অনেকগুলো জেলা শহর ও ছোট বড় নগরীতে এমনও দেখা গেছে যে, শুকনো মৌসুমের প্রায় ৪/৫ মাস প্রতিদিন একাধিক ওয়াজ মাহফিল সামান্য দূরত্বে সংঘটিত হয়েছে। চারপাশ থেকে দুর্বোধ্য আওয়াজ দুপুর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শহরবাসীকে শুনতে হয়েছে। তাদের পছন্দের, মহব্বতের ও সওয়াবের এসব মাহফিল তারাই প্রমোট করেছেন। প্রয়োজনে টাকা-পয়সা দিয়েছেন। যারা পেরেছেন সভাস্থলে গিয়ে বয়ান শুনেছেন। মহিলারা পর্দাবৃত প্যান্ডেল বা নির্দিষ্ট বাড়িতে বসে ওয়াজ নসীহত শুনেছেন কিন্তু যারা এভাবে শামিল হতে পারেননি, তাদের নিতান্ত অনিচ্ছাসত্তেও প্রায় প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শব্দের এ তুফান সইতে হয়েছে। তারা অনেকে বোঝেনওনি যে, এটি ধর্মের বিধান নয়। তাদের কষ্ট হওয়া মানে তারা ইসলামবিরোধী নন। তাদের বিরক্ত বা পেরেশান হওয়া গুনাহের কাজ নয়। এসবই হাক্কানী বিজ্ঞ আলেম মুফতি মুরব্বী ও মাশায়েখের ইচ্ছার বাইরে। অবুঝ যুবাতরুণ বা বে-এলেম আয়োজকদের অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। ইসলাম যা সমর্থন করে না।

শরীয়তে স্পষ্ট বলা আছে, ‘মানুষকে কষ্ট দেয়া হারাম’। শরীয়ত যে নির্দেশ চাপিয়ে দেয়নি, নিজ সিদ্ধান্তে এমন কঠোর পরিবেশ বা পাবলিক নুইসেন্স তৈরি করা শরীয়তে পরিষ্কার নিষিদ্ধ। যে জন্য হযরত ওমর রা. একবার এক ব্যক্তিকে এজন্য শাস্তি দিয়েছিলেন যে, সে লোকটি নামাযের পর মসজিদে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘কিছু খেজুর পাওয়া গেছে, যার হয় নিয়ে যাবেন’। সাজা দেয়ার সময় বলেছিলেন, ‘মদীনায় কি এখন দূর্ভিক্ষ চলছে যে, কয়েকটি খেজুরের জন্য গোটা মসজিদের মুসল্লীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো। এমন ফালতু একটি কাজের জন্য সব মুসল্লীকে বিরক্ত করায় তোমাকে এই শাস্তি দিলাম।’

পাঠক ভেবে দেখুন, আমাদের দেশে নামাযে আসা মানুষকে কতকিছু বলেই না মসজিদে বিরক্ত করা হয়। নেহায়েত অশিক্ষিত ও অযোগ্য লোকজন ধর্মীয় প্রয়োজন ছাড়া নানা বাজে কথা মসজিদে দাঁড়িয়ে অবলীলায় বলতে থাকে। আর আল্লাহর ইবাদতের জন্য মন তৈরি করে মসজিদে আসা মানুষ কষ্ট করে এসব শুনতে বাধ্য হন। শরীয়তে বিধান আছে, মসজিদের বাইরে সংঘটিত কোনো বিষয়ের এ’লান মসজিদে করা যাবে না। কিন্তু এখন দেখা যায়, দুনিয়ার সব ছোট বড় মরা বাঁচা ভালো মন্দ সব ঘোষণা, এ’লান, দোয়া, দাওয়াত নির্দ্বিধায় মসজিদে বসে করা হচ্ছে। শরয়ীত প্রয়োজন ছাড়া যখন তখন মসজিদের মাইক ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদরা সুযোগ বুঝে এ নিয়ে উল্টাপাল্টা কথাও বলছে। আল্লাহর রহমতে নামাযী বৃদ্ধি পাওয়া ও মসজিদের দ্রত বিকাশ একটি ইতিবাচক বাস্তবতা। তবে এসবের মাসআলা মাসায়েল সুন্নত ও আদব শিক্ষা সেই গতিতে হচ্ছে না। আমরা বাস্তবতা তুলে ধরে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আবেদন করছি, দ্বীনি বিষয়েও শরীয়তের নির্দেশনা না জেনে কেউ কোনো কাজ করবেন না। জেনে নিন, আপনার এই নেক কাজটির ব্যাপারে ওলামায়ে-কেরাম কী বলেন। কোরআন সুন্নাহ কী বলে।

নারী-পুরুষের নামাজে পার্থক্য আছে!

নামাজে নারী-পুরুষের পার্থক্য এবং সম্পূর্ণ হাদিসের উপর আমল

আমাদের তথাকথিত আহলে হাদিস ভাইদের গোড়ামীর অন্যতম একটি বিষয় হল- “পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে কোন পার্থক্য নাই।”

প্রথমেই বলে নেই, উনারা আমিন বিল জেহের বা “জোরে আমিন” বলার প্রবক্তা। কিন্তু এক্ষেত্রে উনারা উনাদের মাস’লা থেকে সরে এসে নারী পুরুষের পার্থক্য করে দিয়ে বলে পুরুষেরা জোরে বলবে আর মহিলারা আস্তে বলবে। যাই হোক উনাদের সবচেয়ে বড় দলিল হল সহীহ বোখারীর হাদিস। অথচ উনারা নিজেরাও জানেন না, এই হাদিস বরং উনাদের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় দলিল।

হাদিসটি কি?

উনারা হয়তো অন্য প্রকাশনীর অনুবাদ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন তাই আসুন আমরা আমাদের তথাকথিত আহলে হাদীস ভাইদের প্রকাশনী (মিথ্যা তথ্য ও হাদীস নিয়ে জালিয়াতীতে ভরপুর প্রকাশনী) “তাওহীদ প্রকাশনী”র অনুবাদই দেখি . . .

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না (র.)……… মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সমবয়সী একদল #যুবক রাসূলুল্লাহ্(সা.) এর কাছে হাযির হলাম। বিশ দিন ও বিশ রাত আমরা তাঁর নিকট অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ্(সা.) অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র স্বভাবের লোক ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিজনের কাছে ফিরে যেতে চাই বা ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে পড়েছি। যখন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম।তারপর তিনি বল্লেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দীন) শিক্ষা দাও এবং (সৎ কাজের) নির্দেশ দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) মালিক (রাঃ) আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যা আমার মনে আছে বা মনে নেই। তারপর রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছিলেনঃ

==> তোমরা_আমাকে_যেভাবে_সালাত_আদায়_করতে_দেখেছ_সেভাবে_সালাত_আদায়_করবে।

==> সালাতের_সময়_উপস্থিত_হলে_তোমাদের_একজন_যেন_আযান_দেয় এবং

==> তোমাদের_মধ্যে_যে_ব্যক্তি_বয়সে_বড়_সে_যেন_তোমাদের_ইমামতি_করে।

সহীহুল বোখারী, ১ম খন্ড, হাদিস নং- ৬৩১ (তাওহীদ প্রকাশনী)।

———————————————————————

এখন আমরা দেখি,

(১) হাদিসের একদম শুরুর দিকেই নির্দেশনা আছে, যে জমায়েতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম কথা বলছিলেন তা কিছু সফরকারী যুবকদের মজলিস ছিল। কোন মহিলা সে জমায়েতে থাকার উল্লেখ নেই, এবং না থাকাটাই স্বাভাবিক। সুতরাং যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা পুরুষদের জন্য-ই খাস (নির্দিষ্ট) হওয়াটাই স্বাভাবিক।

(২) এরপর-ও যদি গায়ের জোরে কেউ বলে- না, নারী পুরুষ ২ জনের-ই পদ্ধতি এক-ই, তাহলে প্রশ্ন থাকবে জোরে কিরাতের জামাতে নামাযে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই কি আমিন জোরে বলবে না আস্তে বলবে!

এর উত্তরেই মাস’আলা অনেক খালি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

(৩) আচ্ছা, এরপর-ও যদি আমাদের আহলে হাদিস ভাইরা জিদ ধরে বসে থাকে যে, এই হাদিসের হুকুম পুরুষদের জন্য খাস (নির্দিষ্ট) নয়, বরং নারী-পুরুষ সকলের জন্য আম (সাধারণভাবে প্রযোজ্য), তাহলে মামলা আরো সহজ হল। তখন প্রশ্ন থাকবে, হাদিসে উল্লেখিত অংশ- “#সালাতের_সময়_উপস্থিত_হলে_তোমাদের_একজন_যেন_আযান_দেয়” এটি কি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নাকি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য?

অর্থাৎ, সফরে থাকলে, আমাদের মা-বোন-দাদি-নানী এরা আযান দিবে কিনা?

(৪) আমি জানি, এরপর-ও কেউ কেউ মানতে চাইবে না। এবার আরো একটা প্রশ্ন থাকবে, হাদিসে বলা আছে-
#তোমাদের_মধ্যে_যে_ব্যক্তি_বয়সে_বড়_সে_যেন_তোমাদের_ইমামতি_করে

তাহলে বয়সে বড় হওয়ার কারণে, আমাদের দাদী বা নানী, আম্মা বা বড় বোন কি ইমামতি করবে সফরে থাকাকালীন?

উপরোক্ত ৪টি ক্ষেত্রের ৪টিতেই দিবালকের মত পরিষ্কার হচ্ছে যে হুকুমগুলো আসলে পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট, মহিলাদের উপর সাধারণ নির্দেশনার হুকুম এই হাদিসে দেয়া হয় নি।

কিন্তু আমাদের জেদী এবং গোড়ামী স্বভাবের আহলে হাদিস বা সালাফী ভাইয়েরা কখনোই সেটা মানবেন না। বরং সারা হাদিসে যতগুলো হুকুমের বর্ণনা আছে সবগুলোকে নিজেরাই পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট করবেন, আর কেবল একটি হুকুমকেই সাধারণ বলবেন।

এ কেমন দ্বিমূখী আচরণ?

পুরো হাদিসের সকল হুকুমকে বলা হবে, পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট আর কেবল নিজের চাহিদার সাথে যে অংশ মিলে যাবে কেবল ঐ অংশটিকে নারী-পুরুষ সকলের জন্য বলা হবে, এ কেমন নীতি?

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দেয়ার তৌফিক দান করুন।

https://asksumon.wordpress.com/2014/09/10/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d/#more-637

প্রসঙ্গ পুরুষ ও নারীর নামায পদ্ধতির ভিন্নতাঃ শায়েখ আলবানীর অসার বক্তব্য

নারী পুরুষের শারীরিক গঠন, সক্ষমতা, নিরাপত্তা ইত্যাদী নানা বিষয়ে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি পার্থক্য রয়েছে ইবাদতসহ শরীয়তের অনেক বিষয়ে। যেমন-

১-পুরুষ ও মহিলা উভয়ের উপরই হজ্ব ফরয। কিন্তু মহিলাদের জন্য পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি শর্ত।

২-ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ। অথচ মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢেকে রাখা ফরয।
৩-ইহরাম খোলার সময় পুরুষ মাথা মুন্ডায়। কিন্তু মহিলাদের মাথা মুন্ডানো নিষেধ।
৪-হজ্ব পালনকালে পুরুষ উচ্চ আওয়াজে তালবীয়া পাঠ করে, পক্ষান্তরে মহিলাদের জন্য নিম্ন আওয়াজে পড়া জরুরী।
৫-পুরুষের উপর জুমআ পড়া ফরয, মহিলাদের উপর নয়।
৬-নামাযে সতর্ক করার মত কোন ঘটনা ঘটলে সতর্ক করার জন্য পুরুষের তাসবীহ পড়ার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের তাসফীক করা তথা হাতে শব্দ করার বিধান।
৭-ইমাম ও খতীব শুধু পুরুষই হতে পারে, কোন নারী হতে পারে না।
৮-আজান শুধু পুরুষই দিবে, কোন নারীকে মুয়াজ্জিন বানানো জায়েজ নয়।
৯-পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামায পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর মহিলাদের ঘরে নামায পড়াই উত্তম বলা হয়েছে।
১০-সতর। পুরুষের সতর হল নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত। আর পরপুরুষের সামনে নারীদের সতর হল প্রায় পুরো শারীরই ঢেকে রাখা ফরয।
নারী-পুরুষের মাঝে এ রকম পার্থক্য সম্বলিত ইবাদত সমূহের অন্যতম হল নামায। তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো, হাত বাঁধা, রুকু, সেজদা, প্রথম ও শেষ বৈঠক ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সাথে নারীর পার্থক্য রয়েছে। তাদের সতরের পরিমাণ যেহেতু বেশি তাই যেভাবে তাদের সতর বেশী রক্ষা হয় সেদিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে ক্ষেত্রগুলিতে। মুসলিম উম্মাহর প্রায় দেড় হাজার বছরের অবিচ্ছন্ন আমলের ধারা তাই প্রমাণ করে। বিষয়টি প্রমাণিত রাসূলে কারীম সাঃ এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের ফতোয়া ও আছারের মাধ্যমে।

প্রথমে আমরা সহীহ হাদিস, তারপর পর্যায়ক্রমে সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীদের ফতোয়া ও আছার উল্লেখ করছি।

হাদিস

3016 –أخبرناهأبوبكرمحمدبنمحمدأنبأأبوالحسينالفسويثناأبوعلياللؤلؤيثناأبوداودثناسليمانبنداودأنبأبنوهبأنبأحيوةبنشريحعنسالمبنغيلانعنيزيدبنأبيحبيب : أنرسولاللهصلىاللهعليهوسلممرعلىامرأتينتصليانفقالإذاسجدتمافضمابعضاللحمإلىالأرضفإنالمرأةليستفيذلككالرجل (سننالكبرىللبيهقى،كتابالحيض،بابمايستحبللمرأةمنتركالتجافيفيالركوعوالسجود،رقمالحديث-3016)
তাবেয়ী ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব রহ. বলেন-একবার রাসূল সা. দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশ্য) বললেন-“যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষদের মত নয়। (সুনানুল বায়হাকী, হাদিস নং-৩০১৬, কিতাবুল মারাসিল লি ইমাম আবু দাউদ-৫৫, হাদিস নং-৮০)
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আওনুল বারী” (১/৫২০) তে লিখেছেন- “উল্লেখিত হাদিসটি সকল ইমামদের উসুল অনুযায়ী দলীল হিসেবে পেশ করায় যোগ্য”।
মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী “সুবুলুস সালাম” শরহু বুলুগিল মারাম” গ্রন্থে (১/৩৫১-৩৫২) এই হাদিসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে পুরুষ ও মহিলার সেজদার পার্থক্য করেছেন।

وَالآخَرُحَدِيثُأَبِىمُطِيعٍ : الْحَكَمِبْنِعَبْدِاللَّهِالْبَلْخِىِّعَنْعُمَرَبْنِذَرٍّعَنْمُجَاهِدٍعَنْعَبْدِاللَّهِبْنِعُمَرَقَالَقَالَرَسُولُاللَّهِ -صلىاللهعليهوسلم- :« إِذَاجَلَسْتِالْمَرْأَةُفِىالصَّلاَةِوَضَعَتْفَخِذَهَاعَلَىفَخِذِهَاالأُخْرَى،وَإِذَاسَجَدْتْأَلْصَقَتْبَطْنَهَافِىفَخِذَيْهَاكَأَسْتَرِمَايَكُونُلَهَا،وَإِنَّاللَّهَتَعَالَىيَنْظُرُإِلَيْهَاوَيَقُولُ : يَامَلاَئِكَتِىأُشْهِدُكُمْأَنِّىقَدْغَفَرْتُلَهَا (السننالكبرى،كتابالصلاة،بابمَايُسْتَحَبُّلِلْمَرْأَةِمِنْتَرْكِالتَّجَافِىفِىالرُّكُوعِوَالسُّجُودِ،رقمالحديث-3324)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছন- “মহিলা যখন নামাযের মধ্যে বসবে তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সেজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তায়ালা তাকে দেখে বলেন- ওহে আমার ফেরেস্তারা! তোমরা সাক্ষী থাক। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। (সুনানে বায়হাকী-২/২২৩, হাদিস নং-৩৩২৪)
এই হাদিসটি হাসান।

حدثنامحمدبنعبداللهالحضرميقالحدثتنيميمونةبنتعبدالجباربنوائلبنحجرعنأبيهاعبدالجبارعنعلقمةعمهاعنوائلبنحجرقال : جئتالنبيصلىاللهعليهوسلم………….فقالليرسولاللهصلىاللهعليهوسلم : ياوائلبنحجرإذاصليتفاجعليديكحذاءأذنيكوالمرأةتجعليديهاحذاءثدييها (المعجمالكبير،بابالواو،وائلبنحجرالحضرميالقيل،رقمالحديث-28)
হযরত ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন। আমি নবীজী সা. এর দরবারে হাজির হলাম। তখন তিনি আমাকে (অনেক কথার সাথে একথাও) বলেছিলেন যে, হে ওয়াইল বিন হুজর! যখন তুমি নামায শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে। আর মহিলা হাত উঠাবে বুক বরাবর। (আল মুজামুল কাবীর, হাদিস নং-২৮) এই হাদিসটিও হাসান।

উল্লেখিত হাদিসগুলি থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিছু কিছু হুকুমের ক্ষেত্রে মহিলার নামায আদায়ের পদ্ধতি পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। বিশেষত ২ নং হাদিসটি দ্বারা একথাও বুঝা গেল যে, মহিলার নামায আদায়ের শরীয়ত নির্ধারিত ভিন্ন এই পদ্ধতির মধ্যে ওই দিকটিই বিবেচনায় রাখা হয়েছে যা তার সতরও পর্দার পক্ষে সর্বাধিক উপপোযী।
উল্লেখ্য যে, এই সব হাদিসের সমর্থনে মহিলাদের নামায আদায়ের পদ্ধতির পার্থক্য ও ভিন্নতাকে নির্দেশ করে এমন আরো কিছু হাদিস আছে। পক্ষান্তরে এগুলির সাথে বিরোধপূর্ণ একটি হাদীসও কোথাও পাওয়া যাবে না যাতে বলা হয়েছে যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিতে কোন পার্থক্য নেই। বরং উভয়ের নামাযই এক ও অভিন্ন। একথার পক্ষে একটি হাদীসও নেই।

সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া

5072 –عبدالرزاقعنإسرائيلعنأبيإسحاقعنالحارثعنعليقالإذاسجدتالمرأةفلتحتفزولتلصقفخذيهاببطنها (مصنفعبدالرزاق،كتابالصلاة،بابتكبيرالمرأةبيديهاوقيامالمرأةوركوعهاوسجودها،رقمالحيث-5072)
হযরত আলী রা. বলেছেন-মহিলা যখন সেজদা করে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা করে এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৮, হাদিস নং-৫০৭২, মুসান্নাফে ইবনে শাইবা-২/৩০৮, হাদিস নং-২৭৯৩, সুনানে কুবরা বায়হাকী-২/২২২)

حَدَّثَنَاأَبُوعَبْدِالرَّحْمَنِالْمُقْرِئ،عَنْسَعِيدِبْنِأَبِيأَيُّوبَ،عَنْيَزِيدَبْنِأَبِيحَبِيبٍ،عَنْبُكَيْرِبْنِعَبْدِاللهِبْنِالأَشَجِّ،عَنِابْنِعَبَّاسٍ؛أَنَّهُسُئِلَعَنْصَلاَةِالْمَرْأَةِ؟فَقَالَ : تَجْتَمِعُوَتَحْتَفِزُ. (مصنفابنابىشيبة،كتابالصلاة،فيالمرأةكَيْفَتَجْلِسُفِيالصَّلاَةِ،رقمالحديث-2794)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞেস করা হল-মহিলারা কিভাবে নামায আদায় করবে? তিনি বললেন-“খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৪)
উপরে মহিলাদের নামায সম্পর্কে দু’জন সাহাবীর যে মত বর্ণিত হল, আমাদের জানা মতে কোন হাদীসগন্থের কোথাও একজন সাহাবী থেকেও এর বিপরীত কিছু বিদ্যমান নেই।
রাসূল সা. থেকে সাহাবায়ে কিরাম যে, দ্বীন শিখেছেন তাদের কাছ থেকে তা শিখেছেন তাবেয়ীগণ। তাঁদের ফাতওয়া থেকেও এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, মহিলাদের নামায পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। নিম্নে তাঁদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের ফাতওয়া উল্লেখ করা হয়।

তাবেয়ীদের ফাতওয়া

2486- حدثناهشيم،قال : أخبرناشيخلنا،قال : سمعتعطاء؛سئلعنالمرأةكيفترفعيديهافيالصلاة؟قال : حذوثدييها(مصنفابنابىشيبه،كتابالصلاة،بابمنكانيتمالتكبيرولاينقصهفيكلرفعوخفض،)
হযরত আতা বিন আবী রাবাহ কে জিজ্ঞেস করা হল- “নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে?” তিনি বললেন- “বুক বরাবর”। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৬)

2489- حدثنامحمدبنبكر،عنابنجريج،قال : قلتلعطاء : تشيرالمرأةبيديهابالتكبيركالرجل؟قال : لاترفعبذلكيديهاكالرجل،وأشارفخفضيديهجدا،وجمعهماإليهجدا،وقال : إنللمرأةهيئةليستللرجل،وإنتركتذلكفلاحرج.
হযরত ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন- “আমি আতা বিন আবী রাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম- “মহিলা তাকবীরের সময় পুরুষের সমান হাত তুলবে?” তিনি বললেন- “মহিলা পুরুষের মত হাত তুলবে না। এরপর তিনি তার উভয় হাত (পুরুষ অপেক্ষা) অনেক নিচুতে রেখে শরীরের সাথ খুব মিলিয়ে রাখলেন এবং বললেন- “মহিলাদের পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন। তবে এমন না করলেও অসুবিধা নেই।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৯, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদিস নং-৫০৬৬,৬২৫১)

2796- حدثناجرير،عنليث،عنمجاهد؛أنهكانيكرهأنيضعالرجلبطنهعلىفخذيهإذاسجدكماتصنعالمرأة.
হযরত মুজাহিদ বিন জাবর রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি পুরুষের জন্য মহিলার মত উরুর সাথে পেট লাগিয়ে সেজদা করাকে অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৮৯৬)

2487- حدثناروادبنجراح،عنالأوزاعي،عنالزهري،قال : ترفعيديهاحذومنكبيها.
হযরত যুহরী রহ. বলেন- “মহিলা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীস নং-২৪৮৭)

5068 –عبدالرزاقعنمعمرعنالحسنوقتادةقالاإذاسجدتالمرأةفإنهاتنضممااستطاعتولاتتجافىلكيلاترفععجيزتها
হযরত হাসান বসরী ও কাতাদা রহ. বলেন- “মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে থাকবে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফাঁকা রেখে সেজদা দিবেনা যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৬৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩)

2795- حَدَّثَنَاأَبُوالأَحْوَصِِ،عَنْمُغِيرَةَ،عَنْإبْرَاهِيمَ،قَالَ : إذَاسَجَدَتِالْمَرْأَةُفَلْتَضُمَّفَخِذَيْهَا،وَلْتَضَعْبَطْنَهَاعَلَيْهِمَا.(مصنفابنابىشيبة،كتابالصلاة،فيالمرأةكَيْفَتَجْلِسُفِيالصَّلاَةِ،رقمالحديث-2795)
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেন- “মহিলা যখন সেজদা করবে তখন যেন সে উভয় উরু মিলিয়ে রাখে এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৫)

5071 –عبدالرزاقعنمعمروالثوريعنمنصورعنإبراهيمقالكانتتؤمرالمرأةأنتضعذراعهاوبطنهاعلىفخذيهاإذاسجدتولاتتجافىكمايتجافىالرجللكيلاترفععجيزتها
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. আরো বলেন- “মহিলাদের আদেশ করা হত তারা যেন সেজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। পুরুষের মত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখে। যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৭১)

2799- حَدَّثَنَاإسْمَاعِيلُابْنُعُلَيَّةَ،عَنْمُحَمَّدِبْنِإِسْحَاقَ،عَنْزُرْعَةَبْنْإِبْرَاهِيمَ،عَنخَالِدِبْنِاللَّجْلاَجِ،قَالَ : كُنَّالنِّسَاءُيُؤْمَرْنَأَنْيَتَرَبَّعْنَإذَاجَلَسْنَفِيالصَّلاَةِ،وَلاَيَجْلِسْنَجُلُوسَالرِّجَالِعَلَىأَوْرَاكِهِنَّ،يُتَّقيذَلِكَعَلَىالْمَرْأَةِ،مَخَافَةَأَنْيَكُونَمِنْهَاالشَّيءُ.
হযরত খালেদ বিন লাজ্জাজ রহ. বলেন- “মহিলাদেরকে আদেশ করা হত যেন নামাযে দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের উপর বসে। পুরুষদের মত না বসে। আবরণযোগ্য কোন কিছু প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশংকায় মহিলাদেরকে এমনি করতে হয়।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩, হাদিস নং-২৭৯৯)

উল্লেখিত বর্ণনাগুলি ছাড়াও আয়িম্মায়ে তাবেয়ীনের আরো কিছু বর্ণনা এমন আছে যা মহিলা-পুরুষের নামাযের পার্থক্য নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে একজন তাবেয়ী থেকেও এর বিপরীত বক্তব্য প্রমাণিত নয়।

চার ইমামের ফিক্বহের আলোকেঃ

ফিক্বহে ইসলামীর চারটি সংকলন মুসলিম উম্মাহর মাঝে প্রচলিত। যথা-

১-ফিক্বহে হানাফী
২-ফিক্বহে শাফেয়ী
৩-ফিক্বহে মালেকী
৪-ফিক্বহে হাম্বলী

এবার দেখুন এই চার ফিক্বহের ইমামদের মতামত।

১-ফ্বিকহে হানাফী

احباليناانتجمعرجليهامنجانبولاتنتصبانتصابالرجل، (كتابالآثار-1/609)
ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর অন্যতম সাগরীদ ইমাম মুহাম্মদ রহঃ বলেন- “আমাদের নিকট পছন্দনীয় হল, মহিলারা নামাযে উভয় পা একপাশে মিলিয়ে রাখবে। পুরুষের মত এক পা দাঁড় করিয়ে রাখবে না।” {কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ-১/৬০৯}

روىامامناالأعظمعننافععنابنعمررضىاللهعنهماأنهسئلكيفكانالنساءيصلينعلىعهدرسولاللهصلىاللهعليهوسلم؟قالكنيتربعنأمرنأنيحتفزن،
أخرجهأبومحمدالحارثىوالأشنانىوابنخسرومنطريقهعنسفيانالثورىعنه،راجعجامعالماسانيد-1/400،وهذاأقوىواحسنماروىفىهذاالباب،ولذااحتجبهامامناوجعلهمذهبهوأخذبه،
আমাদের ইমামে আজম আবু হানীফা রঃ নাফে রহঃ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- “হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ কে জিজ্ঞেস করা হল- “রাসূল সাঃ এর যুগে মহিলারা কিভাবে নামায পড়তেন?” তিনি বললেন- “আগে তারা চার জানু হয়ে বসতেন, পরে তাদেরকে জড়সড় হয়ে বসতে বলা হয়েছে।” {জামেউল মাসানিদ-১/৪০০}
উক্ত হাদিসটি এ বিষয়ে বর্ণিত সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণেই আমাদের ইমাম এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। এ অনুযায়ী আমল করেছেন। এবং এটিকে নিজের মাযহাব বানিয়েছেন। {কিতাবুল আসার এর টিকা-১/৬০৭}

মহিলাদের ক্ষেত্রে পার্থক্যের বর্ণনা হানাফী ফিক্বহের কিতাবে দেখুন-

১-বাদায়িউস সানায়ে-১/৪৬৬
২-হেদায়া-১/১০০-১১০
৩-আল মাবসূত লিস সারাখসী-১/৪৬৬
৪-ফাতওয়ায়ে শামী-১/৫০৪
৫-ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৭৩-৭৫

২-ফিক্বহে শাফেয়ী

( قالالشافعي ) وقدأدباللهتعالىالنساءبالاستتاروأدبهنبذلكرسولهصلىاللهعليهوسلموأحبللمرأةفيالسجودأنتضمبعضهاإلىبعضوتلصقبطنهابفخذيهاوتسجدكأسترمايكونلهاوهكذاأحبلهافيالركوعوالجلوسوجميعالصلاةأنتكونفيهاكأسترمايكونلها (كتابالأم،بابالذكرفيالسجود)
ইমাম শাফেয়ী রহঃ বলেন-“আল্লাহ পাক মহিলাদেরকে পুরোপুরি আবৃত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তার রাসূল সাঃ ও অনুরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার নিকট পছন্দীয় হল- সেজদা অবস্থায় মহিলারা এক অঙ্গের সাথে অপর অঙ্গ মিলিয়ে রাখবে। পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে। আর সেজদা এমনভাবে করবে যাতে সতরের চূড়ান্ত হেফাযত হয়। অনুরূপ রুকু, বৈঠক ও গোটা নামাযে এমনভাবে থাকবে যাতে সতরের পুরোপুরি হেফাযত হয়।” {কিতাবুল উম্ম-১/১৩৮)

৩-ফিক্বহে মালেকী

মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফক্বীহ ইমাম আবুল আব্বাস আল কারাফী রঃ ইমাম মালিক রহঃ এর মত উল্লেখ করেন-
وأمامساواةالنساءللرجالففيالنوادرعنمالكتضعفخذهااليمنىعلىاليسرىوتنضمقدرطاقتهاولاتفرجفيركوعولاسجودولاجلوسبخلافالرجل
নামাযে মহিলা পুরুষের মত কিনা? এ বিষয়ে ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণিত। “মহিলা ডান উরু বাম উরুর উপর রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে বসবে। রুকু সেজদা ও বৈঠকে কোন সময়ই ফাঁক ফাঁক হয়ে বসবেনা। পক্ষান্তরে পুরুষের পদ্ধতি হল ভিন্ন।” {আয যাখীরা-২/১৯৩}

৪-ফিক্বহে হাম্বলী

ইমাম আহমদ রহঃ এর ফাতওয়া উল্লেখ আছে ইমাম ইবনে কুদামা রহঃ এর আল মুগীনী কিতাবে।
فأماالمرأةفذكرالقاضيفيهاروايتينعنأحمدإحداهماترفعلماروىالخلالبإسنادهعنأمالدرداءوحفصةبنتسيرينأنهماكانتاترفعانأيديهماوهوقولطاوسولأنمنشرعفيحقهالتكبيرشرعفيحقهالرفعكالرجلفعلىهذاترفعقليلاقالأحمدرفعدونالرفعوالثانيةلايشرعلأنهفيمعنىالتجافيولايشرعذلكلهابلتجعنفسهافيالركوعوالسجودوسائرصلاتها

তাকবীরের সময় মহিলারা হাত উঠাবে কি উঠাবে না? এ বিষয়ে কাজী [আবু ইয়াজ] ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ থেকে দু’টি মত উল্লেখ করেছেন। প্রথম মত হল হাত উঠাবে। কেননা খাল্লাল হযরত উম্মে দারদা এবং হযরত হাফসা বিন সীরীন থেকে সনদসহ বর্ণনা করেন যে, তারা হাত উঠাতেন। ইমাম তাউসের বক্তব্যও তাই। উপরন্তু যার ব্যাপারে তাকবীর বলার নির্দেশ রয়েছে তার ব্যাপারে হাত উঠানোরও নির্দেশ রয়েছে। যেমন পুরুষ করে থাকে। এ হিসেবে মহিলারাও হাত উঠাবে। তবে সামান্য। আহমাদ রহঃ বলেন- “তুলনামূলক কম উঠাবে”।

দ্বিতীয় মত হল- “মহিলাদের জন্য হাত উঠানোরই হুকুম নাই। কেননা হাত উঠালে কোন অঙ্গকে ফাঁক করতেই হয় অথচ মহিলাদের জন্য এর বিধান দেওয়া হয়নি। বরং তাদের জন্য নিয়ম হল রুকু সেজদাসহ পুরো নামাযে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখবে।” {আল মুগনী-২/১৩৯}

আলোচনার এই পর্যায়ে হাদীস, আসারে সাহাবা, তাবেয়ীন ও চার মাযহাবের ইমামদের ঐক্যমত্যের প্রমাণ পেশ করার পর আমরা দেখব আমাদের যে গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা মহিলাদের নামাযের ভিন্ন বিষয়টিকে উপেক্ষা করেন এবং পুরুষ ও মহিলার নামাযের অভিন্ন পদ্ধতির পক্ষে কথা বলেন, তাদের আলেমগণ এ বিষয়ে কি বলেন? তারা কি ফাতওয়া দিয়েছেন?

গায়রে মুকাল্লিদ আলেমগণের ফাতওয়া

মহিলাদের নামাযের পদ্ধতিতে ইতোপূর্বে যা কিছু উল্লেখ করা হল তথা হাদিস, আসারে সাহাবা, তাবেয়ীনদের ইজমা, এবং চার ইমামের ঐক্যমত্বের আলোকে যুগ যুগ ধরে অবিচ্ছন্ন সূত্র পরম্পরায় যেই পার্থক্যের আমল চলে আসছে, সেটাকে গায়রে মুকাল্লিদদের নেতৃস্থানীয় আলেমগণও স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সেই আলোকে ফাতওয়া দিয়েছেন।
# মাওলানা মুহাম্মদ দাউদ গযনবী রঃ এর পিতা আল্লামা আব্দুল জাব্বার গযনবী রহঃ কে যখন জিজ্ঞেস করা হল- “মহিলাদের নামাযে জড়সড় হয়ে থাকা কি উচিত?” জবাবে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করার পর লেখেন-“এর উপরই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের চার মাযহাব ও অন্যান্যের মাঝে আমল চলে আসছে।”
এরপর তিনি চার মাযহাবের কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদান করার পর লিখেন- “মোটকথা মহিলাদের জড়সড় হয়ে নামায পড়ার বিষয়টি হাদীস ও চার মাযহাবের ইমামগণ ও অন্যান্যের সর্বসম্মত আমলের আলোকে প্রমাণিত। এর অস্বিকারকারী হাদীসের কিতাবসমূহ ও উম্মতে মুসলিমার সর্বসম্মত আমল সম্পর্কে বেখবর ও অজ্ঞ”। (ফাতওয়ায়ে গযনবীয়্যা-২৭-২৮, ফাতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস— ৩/১৪৮-১৪৯, মাযমুয়ায়ে রাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর-১-৩১০-৩১১)

মাওলানা আলী মুহাম্মদ সাঈদ সাহেব “ফাতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস” এ এই পার্থক্যের কথা স্বীকার করেছেন। (মাজমুয়ায়ে রাসায়েল-১/৩০৫)

একটি যুক্তি ও তার খন্ডন

কথিত আহলে হাদীস নামধারীরা রাসূল সাঃ এর একটি হাদীস দিয়ে সব সময় দলীল দিয়ে থাকে। যে হাদীসে রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায পড়।”

যেহেতু এ হাদীসে পুরুষ নারীর কোন পার্থক্য করা হয়নি। তাই নারী পুরুষের নামাযের অবস্থা একই।

অথচ এ হাদীসটির দিকে আমরা তাকালেই তাদের এ দলীলের অসারত স্পষ্ট হয়ে উঠে। কারণ হাদীসটি রাসূল সাঃ বলেছিলেন একদল পুরুষ সাহাবীদের। আর রাসূল সাঃ এর উক্তি আমাকে যেভাবে দেখ, এ উক্তি দ্বারাও স্পষ্ট যে এ হুকুম পুরুষদের জন্য। কারণ মহিলা সাহাবীরা রাসূল সাঃ কে নামাযরত অবস্থায় দেখে না। তাই তাদের রাসূল সাঃ এর নামায দেখে নামায শিক্ষা করা সম্ভব নয়।

আলবানী সাহেবের অসার বক্তব্য

আশ্চর্যের কথা হল, উপরোল্লিখিত দলীলসমূহ এবং উম্মতের মাঝে নববী যুগ থেকে পর্যায়ক্রমে চলে আসা এই সর্বসম্মত আমলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আলবানী সাহেব তাঁর “সিফাতুস সালাতে” ঘোষণা দিয়ে দিলেন যে, “পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতি এক।”

কিন্তু এই দাবির পক্ষে তিনি না কোন আয়াত পেশ করেছেন, না কোন হাদিস। আর কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর ফাতওয়া। এহেন বক্তব্যের ভিত্তি তিনি শুধু এটাকেই বানিয়েছেন যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিগত পার্থক্যের ব্যাপারে কোন সহীহ হাদিস নাই। অথচ তার এই দাবি প্রমাণ করার জন্য উচিত ছিল উপরোল্লিখিত দলিল সমূহ বিশ্লেষণ করা। কিন্তু তিনি তা না করে কেবল পার্থক্য সম্বলিত একটি হাদীসকে {যা বক্ষ্যমান নিবন্ধে উল্লেখিত হয়েছে} শুধু এ কথা বলে যয়ীফ বলে আখ্যা দিয়েছেন যে, হাদীসটি ‘মুরসাল’. আর মুরসাল হওয়ায় এটি দুর্বল। এছাড়া অন্য কোন আলোচনাই তিনি দলীল সম্পর্কে করেননি।

কিন্তু তার এই কথাটি এক গুয়েমি ছাড়া কিছু নয়। কারণ মুহাদ্দীসীনে কিরামের নিকট হাদিস মুরসাল হলেই তা অগ্রহণীয় হয়ে যায় না। কেননা প্রথমত আয়িম্মায়ে দ্বীনের অধিকাংশের মতে বিশেষত স্বর্ণযুগের ইমামগণের নিকট যদি প্রয়োজনীয় শর্তাবলী উপস্থিত থাকে। তাহলে মুরসাল হাদিসও সহীহ হাদিসের মত গ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয়ত: যে ইমামগণের নিকট ‘মুরসাল” হাদীসকে সহীহ বলার ব্যাপারে দ্বিধা রয়েছে তারাও মূলত কিছু শর্তের সাথে মুরসাল হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করার উপযোগী মনে করেন। প্রবন্ধের শুরুতে বর্ণিত মুরসাল বর্ণনাটিতেও সেসব শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। যার কারণে গায়রে মুকাল্লিদদের বিখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান “আউনুল বারী”-(১/৫২০ দারুর রাশীদ, হালাব সিরিয়া) তে লিখেছেন-“এই মুরসাল হাদীসটি সকল ইমামের উসূল ও মূলনীতি অনুযায়ী দলীল হওয়ার যোগ্য”। তার পূর্ণ বক্তব্যটি দেখুন আওনুল বারী-২/১৫৯,

পুরুষ মহিলার নামাযের পার্থক্য নেই প্রমাণ করতে আলবানী দ্বিতীয় যে কাজটি করেছেন তা খুবই গর্হিত। সেটা হল তিনি ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ নাকি বলেছেন-“মহিলা পুরুষের মতই নামায আদায় করবে”। এই কথাটি নাকি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে আছে, অথচ সেই কিতাবের কোথাও এই উক্তিটি নাই। আল্লাহই ভাল জানেন তিনি কি করে এই কথা বলতে পারলেন!!

অথচ ইতোপূর্বে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার একাধিক বর্ণনা সহীহ সনদে ইবরাহীম নাখয়ী থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। যেখানে ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ স্পষ্টই মহিলা পুরুষের নামাযের পার্থক্যের কথা বলেছেন।

আলবানী সাহেব তার নিজের দাবী প্রমাণ করার জন্য তৃতীয় আরেকটি কাজ করেছেন। সেটা হল-ইমাম বুখারী রহঃ এর রিজাল শাস্ত্রের একটি কিতাব “তারীখে সগীর” থেকে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি পেশ করেছেন-
عنامالدرداءانهاكانتتجلسفىالصلاةجلسةالرجل-
“উম্মে দারদা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নামাযে পুরুষের মত বসতেন”।

আলবানী সাহেব খেয়াল করতে পারেননি যে, এই বর্ণনাটি দ্বারা নামাযে পুরুষ ও মহিলার বসার ভিন্নতাই প্রমাণ হয়। এক হওয়া নয়। যদি উভয় বসার পদ্ধতি এক হত, তাহলে “পুরুষের মত বসা” কথাটির কোন অর্থ থাকে না। তাই এই কথা থেকে এটি বুঝা যায় যে, সেই যমানায় পুরুষদের মত মহিলারা বসতো না। কিন্তু তিনি যেহেতু ভিন্নভাবে বসতেন তাই এটি ইতিহাসের বর্ণনায় চলে এসেছে।

আরেকটি মজার ব্যাপার হল। উম্মে দারদা হলেন একজন তাবেয়ী। তিনি ৮০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাবেয়ীর বক্তব্য দ্বারা আলবানী সাহেব দলীল পেশ করলেন। অথচ তিনিই আমাদের বর্ণিত প্রথম হাদিসটি মুরসাল বলে প্রত্যাখ্যান করলেন। আশ্চর্য ব্যাপার!!

সুতরাং যদি নামাযের পদ্ধতি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাবেয়ীর আমল দলীল হয়ে থাকে (আসলে কথা এটাই, অর্থাৎ তাবেয়ীর কথা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য) তাহলে ইতোপূর্বে বিখ্যাত একাধিক তাবেয়ী ইমামগণের উদ্ধৃতিতে মহিলাদের নামাযের পদ্ধতির ভিন্নতার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা গেছে। এবং একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, আয়িম্মায়ে তাবেয়ীদের তালীম ও শিক্ষা অনুযায়ী রুকু সেজদা, ও বৈঠকসহ অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের নামায পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন ছিল। এক্ষেত্রে শুধু একজন তাবেয়ী মহিলার ব্যক্তিগত আমলকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করাটা কিছুতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। বিশেষ করে যখন যখন ঠিক এই বর্ণনাটির মাঝেই সুষ্পষ্ট একথার ইংগিত রয়েছে যে, এ ক্ষেত্রে এ মহিলা অন্য সাহাবী ও তাবেয়ী মহিলা থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।

মাসয়ালার ব্যাপারে অনেকে একটি হাদীস থেকে দলীল দিয়ে থাকেন যে, রাসূল সাঃ বলেছেনঃ “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবেই নামায পড়।” (বুখারী)

এর জবাব হল- হাদিসটি ব্যাপক, মহিলা পুরুষ কে আলাদা করে নাই। হাদিসের ব্যাপকতা দাবি করে: পুরুষ এবং মহিলার নামাজের আকৃতি একই রকম হবে।

আল্লাহ তা্য়ালা কোরানে বলেন। (সুরা আলে এমরান ৩৬)
যার অর্থ- পুরুষ মহিলাম মত নয়। আয়াতের ব্যাপকতায় দাবি করে পুরুষ মহিলা কোন ক্ষেত্রেই একরকম হতে পারে না।

মূল মাছয়ালা হল: কোরান হাদিস যত ব্যাপক হক না কেন যদি মোহকাম না হয় তা হলে তা থেকে খাছ করা জায়েজ। তাই অমুক হাদিস ব্যাপক তা বলে দলিল দেয়া যাবে না।
সুতরাং বুঝা গেল নামাযের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে আলাদা এটাই দলীল দ্বারা প্রমাণিত। গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের বক্তব্যটির কোন দলিল নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে মেনে নেবার তৌফিক দান করুন। আমীন।

https://asksumon.wordpress.com/2014/05/25/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b7-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/