Archive

Archive for the ‘নামায’ Category

শাহদেরগাঁও জামে মসজিদ

ডিসেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

shahdergaon-mosque-1shahdergaon-mosque-2

বালিয়ার চৌধুরীদের মসজিদ পরিচিতি

ডিসেম্বর 5, 2016 মন্তব্য দিন

baliar-mosque-1baliar-mosque-2baliar-mosque-3

মসজিদ মিশনের আড়ালে জামায়াত মিশন !

নভেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

প্রতিষ্ঠাতা বাচ্চু রাজাকার পলাতক

মসজিদ মিশন স্কুলকলেজের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

bd-masjid-missionমুসতাক আহমদ: মসজিদ মিশনের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জামায়াতে ইসলামীর ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছে কিনা, কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হচ্ছে কিনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের উৎস কি এবং অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছেএসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের নেতৃত্বে এনজিও সংস্থা হিসেবে প্রায় ৩ যুগ আগে মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘মসজিদ মিশনের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ের অধীন অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, মসজিদ মিশনের অধীন ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা পায়। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও হাইস্কুল এবং কলেজ আছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা মসজিদ মিশন এবং এর অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

মসজিদ মিশনের অধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে তার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বড়। গুগলে সার্চ করে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে মসজিদ মিশন একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে কিন্ডারগার্টেন, প্রাইমারি, হাইস্কুল ও কলেজ শাখা আছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিওভুক্ত। এর শিক্ষককর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনভাতা পেয়ে থাকেন।

তিন পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে মসজিদ মিশন সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহীসহ সারা দেশে যেসব একাডেমিক আছে, সেগুলোতে সরকারি কারিকুলাম ছাড়াও শ্রেণীভিত্তিক ১০০৩০০ নম্বরের আরবি সিলেবাস পড়ানো হয়। সেসব সিলেবাস বা বই কেন্দ্রীয় জামায়াত নির্ধারণ করে দেয়। রাজশাহীর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শহরের তিনটি স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব শাখায় নিয়োগ দেয়া শিক্ষককর্মচারী জামায়াতের রাজশাহী মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী। শিক্ষকদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান, হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমাদুল হক, মনোবিজ্ঞানের এনামুল হক, ইসলামিক স্টাডিজের সিরাজুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞানের শাহাদত হোসাইন, স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মাইনুল ইসলাম জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম জামায়াতের বোয়ালিয়া থানার আমীর। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। শাহাদত হোসাইন মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক। আমিনুল ইসলাম বোয়ালিয়া থানার সাবেক আমীর এবং মাইনুল ইসলাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। এদের মধ্যে কয়েকজন মে মাসে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এমনকি সরকারবিরোধী স্লোগানও তারা দেন।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আকবর আলী শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারীদের মধ্যে কে কী করে তা আমরা জানি না। কেউ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জামায়াতের রাজনীতি করেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মসজিদ মিশনের আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের অন্যত্র আছে কিনা আমি জানি না। আদার বেপারি জাহাজের খবর রাখতে যাই না। আমি শুধু এখানে চাকরি করি।’

রাজশাহীর এ প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একটি টিম রাজশাহী যাচ্ছে। একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেভাবে তদন্ত ও নিরীক্ষা করা হয়, এটিও সেভাবেই করা হবে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবনে সিনা ট্রাস্টের মতোই মসজিদ মিশন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকার কাঁটাবন মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়। তবে রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত। এর আয়ের অর্থ জামায়াতের কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ড থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। অন্যান্য শিক্ষককর্মচারীও জামায়াতশিবির থেকে নিয়োগ করা। অধিকাংশ জনবল জামায়াতশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলমসজিদ মিশনের একাডেমিগুলোতে জামায়াতশিবির মতাদর্শে নিয়োগকৃতদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষককর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। জামায়াতশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ব্যয়ের নিরীক্ষা চালাতে হবে এবং কাঁটাবনে মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

ফরজের পর সবচেয়ে উত্তম তাহাজ্জুদের নামাজ

নভেম্বর 6, 2016 মন্তব্য দিন

মাওলানা আবদুল জাব্বার : ফরজ নামাজের বাইরে রয়েছে আরও অনেক ধরনের নামাজ। যেমনসুন্নত, ওয়াজিব, মোস্তাহাব, সুন্নতে মোয়াক্কাদা, সুন্নতে জায়েদা, চাশতের নামাজ, ইশরাকের নামাজ, সালাতুত তাসবিহ, সালাতুত তওবা, তাহাজ্জুদের নামাজ ও ইসতেখারার নামাজ ইত্যাদি। এসব নামাজের বিভিন্ন মর্যাদা রয়েছে। তবে এর মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট নামাজ হচ্ছেতাহাজ্জুদের নামাজ। তাহাজ্জুদের নামাজ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ফরজ ছিল। উম্মতে মুহাম্মদির ওপর এটি ফরজ না হলেও সব সুন্নত নামাজের মধ্যে এটিই উত্তম।

তাহাজ্জুদ অর্থ ঘুম থেকে জাগা আর তাহাজ্জুদের সময় হলোএশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে তারপর অর্ধেক রাতের পর নামাজ আদায় করা। সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত থাকে। গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগে নামাজ আদায়ে সাওয়াব বেশি।

পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হারামাইন শরিফাইনে তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় এবং অতি গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা হয়। তাহাজ্জুদের নামাজ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, যারা শেষ রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা করেন তাদের প্রশংসাস্বরূপ কিয়ামত দিবসে বলবেন– ‘তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ সূরা আয যারিয়াত: ১৭১৮‍

হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) সম্বোধন করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘এবং রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ পড়তে থাকুন। এ আপনার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রভু আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন।’ সূরা আল ঈসরা: ৭৯

কোরআনে কারিমের সূরা আল ফোরকানের ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুফর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজিত হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল যে, তারা রাতের শেষভাগে আল্লাহতায়ালার মহান দরবারে চোখের পানি ফেলতেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ‘তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটলঅবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধনসম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী।’ সূরা আল ইমরান: ১৭

হাদিস শরিফেও তাহাজ্জুদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার সুনানে আহমদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি। ‘আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি’ অর্থাৎ ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। হাদিস নম্বর: ১১৬৭/

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ন হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন, কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছে যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

শহরে সুন্নাহর বরাত দিয়ে মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত এক হাদিস উল্লেখ করেন। ওই হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ খুশি হন (হাসেন) এক. যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের জন্য ওঠেন এবং নামাজ পড়েন। দুই. জনতা, যারা নামাজের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। তিন. মুজাহিদ যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। হাদিস নম্বর ১১৬০/

তাহাজ্জুদের নামাজ বিষয়ে কোরআনহাদিসে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে। ওই সব বর্ণনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদের নামাজ মর্যাদাকর। এই নামাজ প্রত্যেক মুসলিম নরনারীরই পালন করা উচিত। এর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জন সহজ হয়। আর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যখন দূরত্ব কমে যায়তখন সৃষ্টিকর্তা বান্দার দাবি সহজেই পূরণ করেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে বেশি বেশি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের তওফিক দান করুন। আমিন।

স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নামাজ পড়ার বিধান

নভেম্বর 4, 2016 মন্তব্য দিন

মুফতি মাহমুদ হাসান : পুরুষের জন্য যেমন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করা জরুরি, তেমনি মহিলাদের জন্য ঘরে একা নামাজ পড়াই শরিয়তের বিধান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মহিলাদের পর্দার প্রতি অত্যধিক তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ঘরের জামাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ : ফরজ নামাজের জন্য জামাতের নির্দেশ কেবল পুরুষদের জন্য। নারীদের ওপর জামাতের কোনো নির্দেশ নেই। তাই নারীরা ঘরে একত্রিত হয়ে পুরুষ বা মহিলা ইমাম বানিয়ে জামাত করাও শরিয়ত নির্দেশিত নয়। এর প্রতি উৎসাহিতও করা হয়নি। হ্যাঁ, যদি তারা পুরুষ ইমামের পেছনে নামাজ পড়ে নেয়, তাহলে ওই নামাজ শুদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদের পর্দার বিধান লঙ্ঘন না হলে ঘরে এ ধরনের জামাত বৈধ। (তাবঈনুল হাকায়েক : /১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : /৪৩)

মাহরাম নারীদের নিয়ে ঘরে জামাত করা : যদি কোনো পুরুষ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো ওজরবশত মসজিদে যেতে না পারে, তাহলে তার জন্য ঘরের মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া বৈধ। এ ক্ষেত্রে সবাই জামাতের সাওয়াব পাবে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া সমীচীন নয়। তা সত্ত্বেও গায়রে মাহরাম নারীরা তাতে শরিক হতে চাইলে অবশ্যই পর্দার আড়ালে থাকবে। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে জামাত করা বৈধ নয়। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : /২২৮, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : /২২৭)

এক্ষেত্রে জামাতে দাঁড়ানোর পদ্ধতি হলো—এক বা একাধিক নারী পেছনের সারিতে দাঁড়াবে। (রদ্দুল মুহতার : /৫৬৬, আহসানুল ফাতাওয়া : /২৯৯)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে ঘরে জামাতে নামাজ পড়েছি, একবার আমি নবী করিম (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছি, আর আয়েশা (রা.) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে জামাতে শরিক হয়েছিলেন। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ৮০৩)

নারীপুরুষ একাকী ও ভিন্ন ভিন্ন নামাজ পড়ার সময় বরাবর বা আগেপেছনে দাঁড়াতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নারীপুরুষের অগ্রপশ্চাৎ বা সমানভাবে দাঁড়ানোর উপরোক্ত বিধান প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ একে অপরের অগ্রপশ্চাৎ হওয়ায় নামাজের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা ওই বিধান উভয়ে একই সঙ্গে জামাতে অংশগ্রহণের বেলায় প্রযোজ্য। (মাবসুতে সারাখসি : /১৮৫)

স্বামীস্ত্রীর জামাতের বিধান ও পদ্ধতি : স্বামীস্ত্রী উভয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে সংলগ্ন না দাঁড়িয়ে পেছনের সারিতে একা দাঁড়াবে। অপারগতায় ডান পাশে একটু পেছনে সরে দাঁড়ালেও নামাজ হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে সমান হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ এতে উভয়ের নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৫৭২)

নাবালেগ ও নারীদের কাতারের অবস্থান : সাধারণত নামাজের কাতার করার সুন্নাত পদ্ধতি হলো, প্রথমে বালেগ পুরুষ, তারপর নাবালেগ ছেলে দাঁড়াবে। আর নারীরা জামাতে অংশগ্রহণ করলে তারা সবার পেছনে দাঁড়াবে। (সুনানুল বাইহাকি, হাদিস : ৫১৬৬; হেদায়া : /২৩৯)

শুধু নারীদের জামাত বৈধ নয় : ঘরে বা অন্য কোথাও নারীরা একত্রিত হয়ে নারী ইমাম বানিয়ে নামাজের জামাত করা মাকরূহে তাহরিমি তথা নাজায়েজ। যদিও জামাতে আদায়কৃত ওই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে, তবে তারা সবাই গোনাহগার হবে। তা সত্ত্বেও নারীরা আলাদা জামাত করলে ইমাম সাহেবা কাতারে সবার সামনে দাঁড়াবেন না, বরং প্রথম কাতারের মাঝখানে দাঁড়াবেন। (তাবঈনুল হাকায়েক : /১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : /৪৩) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জামানায় তাঁর স্ত্রীগণ একত্রিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করার কোনো প্রমাণ হাদিস শরিফে পাওয়া যায় না।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোনো নারী জামাতের ইমামতি করতে পারবে না।’ অনুরূপ তাবেঈ হজরত ইবরাহিম নাখয়ি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, রবিআ ও ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.) প্রমুখ থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। (আল মুদাওয়ানাতুল কোবরা : /১৭৮) শিব্বির আহমদ উসমানি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্র বিশুদ্ধ। (ইলাউস সুনান : /১৩০১)

নারীদের জামাতে আজানএকামত : নারীদের জামাত যেহেতু মাকরুহ, তাই তাতে আজানএকামত দেওয়াও মাকরুহ।(মাবসুতে সারাখসি : /১৩৩)

লেখক : ফতোয়া সংকলন প্রকল্পের গবেষক

নজরুলের কবিতায় আজান

নভেম্বর 4, 2016 মন্তব্য দিন

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ : আজানের আবেদন শাশ্বত। প্রতিদিন সময়ের ক্রমবিবর্তনে সকালসন্ধ্যা পৃথিবীর সর্বত্র সব সময় মসজিদের মিনারে মিনারে বাজে আজানের সুমধুর সুর। আজান বাংলা, বাঙালির চেতনা ও অনুভূতিতে অসামান্য অভিব্যক্তির স্ফুরণরূপে অন্তরের অতলান্ত গভীরতায় স্থান করে নিয়েছে। সাহিত্যের নানা অঙ্গনে আজানের প্রাসঙ্গিক ব্যবহার লক্ষণীয়। হাদিসের বিবরণে পাওয়া যায়, যত দূর আজানের শব্দ পৌঁছে, ততটুকু এলাকা ছেড়ে শয়তান দৌড়ে পালায়। তাই তো কাজী নজরুল আজানের মধ্যে মানসিক প্রশান্তির ঠিকানা আবিষ্কার করেছেন—

মসজিদে ঐ শোন রে আজান, চল নামাজে চল।

দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই বক্ষে পাবি বল।’

নজরুল প্রতিভা’ হলো চিরসবুজ, চিরনতুন, চিরজাগ্রত, চিরউন্নত শির। প্রেমপ্রাণ ও সুর সৃষ্টির জয়গাথায় নজরুল বাঙালির ধ্বনিতে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকল্প এঁকেছেন। আমাদের সংস্কৃতির পূর্ণতাদানে নজরুলের ঋণ অপরিশোধ্য। তাঁর কাছে ফিরে আসতে হয় বারবার। বাঙালি মননে মুসলিম আবহ তিনিই জাগিয়েছেন। ভূগোল ও রাজনীতির বাইরে তাঁর অনুভব :

দূর আরবের স্বপন দেখি বাংলাদেশের কুটির হতে

বেহুঁশ হয়ে চলেছি যেন কেঁদে কেঁদে কাবার পথে।’

মানবপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে তিনি ধারণ করেন ‘বাঁশের বাঁশরী’ ও ‘রণতূর্য’। তিনি সবার ও সারা বিশ্বের। কিন্তু তিনি ইসলাম ও মুসলমান—এই বৃত্তের বাইরের কেউ নন। তাই তো তাঁর অনুভবে আজান বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে—

আমার মনের মসজিদে দেয়

আজান হাজার মোয়াজ্জিন

প্রাণের ‘লওহে’ কোরআন লেখা

রুহ পড়ে তা রাত্রিদিন।”

আজান মুসলিম সংস্কৃতি ও ইসলামী সমাজব্যবস্থার পরিচায়ক। ‘আজান’ মহাকবি কায়কোবাদের নিবেদনে বাঙালির হৃদয়ে এক অমীয় সুধা, অপূর্ব সুরধ্বনি। তাঁর ভাষায়—

কে ওই শোনাল মোরে আজানের ধ্বনি

মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কী সুমধুর

আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।

কী মধুর আজানের ধ্বনি!’

অন্যদিকে নজরুল মনন আজানের মধ্যে খুঁজে ফেরে জাতীয় ও আত্মিক বিশ্লেষণ আর জাগরণী আহ্বান। তাঁর অনুভূতির সার্থক প্রকাশ হলো—‘আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান।’

ভণ্ড, বর্ণচোরা, আবেগতাড়িত সর্বসাধারণের কাছে তাঁর নিবেদন—

ইসলামের ওই সওদা লয়ে এলেন নবী সওদাগর

বদ নসিব আয়, আয় গুনাহগার নতুন করে সওদা কর….।’

শুধু তাই নয়, তিনি মহান আল্লাহর প্রতি চরম ভক্তিতে ১৯৩৩ সালে চট্টগ্রামে কোনো এক সুন্দর সকালে আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে তাঁর অভিব্যক্তির সুরলহরি ঢেলে দেন—

কোথা পেলি এ পাপিয়া কণ্ঠ মধুর

কহে কোকিল পাপিয়া আল্লাহ গফুর

তারই নাম গাহি কুহু কুহু

আল্লাহু! আল্লাহু।’

এমনই যাঁর অনুভব, তাঁর কাছে আজান কত বড় আবেদন রাখতে পারে, তা তো বলাই বাহুল্য। নজরুলের বিবেচনায় আজানের শক্তি মানুষকে পৌঁছে দেয় এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি আজানের মধ্যে শোনেন আত্মবিশ্লেষণের তাগিদ—

ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর

তখনো জাগিনি যখন জোহর

হেলায়ফেলায় কেটেছে আসর

মাগরেবের ঐ শুনি আজান….।’

নজরুলের গানগুলোর শ্রেণিবিন্যাসে দেখা যায়, মৌলিকত্বের বিচারে তা ৪৯ রকমের বা আরো ভিন্নমাত্রিক। ভজন, কীর্তন, ভক্তিমূলক, ভাটিয়ালি, কাওয়ালি, গজল এমনকি ফসলকাটা ও ছাদপেটানো গানেও নজরুলকে খুঁজে পাওয়া যায়। শব্দ চয়নে তিনি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সিদ্ধহস্ত। বাংলা ভাষায় কাজী নজরুল ইসলামের কৃতিত্ব আরবি, ফারসি, হিন্দিসহ নানা শব্দের সার্থক রূপায়ণ। সুরের ক্ষেত্রে ইরানি ও আরব মরুময়তার ঝঙ্কার এবং তুরস্ক, খোরাসান, তাসখন্দ, আফগানি আবার আদি ভারতীয় সুরের সঙ্গে উপজাতীয় ধারার সার্থক সমন্বয়ের প্রতিফলন লক্ষণীয় একমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিসম্ভারে। খাম্বাজ, কাহারবা, ভৈরবী—কোনো সুরই তিনি বাদ দেননি। ইসলামের পরিভাষায় বিশেষ শব্দমালায় উচ্চ স্বরে নামাজের জন্য আহ্বান ধ্বনি আজানের মধ্যেও কাজী নজরুল শোনেন অসাধারণ সুধাময় সুর মূর্ছনা—

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে মসজিদেরই মিনারে।

এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠল জেগে প্রাণের কিনারে।’

আবার ‘উমর ফারুক’ কবিতার মাধ্যমে তিনি আমাদের শুনিয়েছেন এক মানবিক হাহাকারের চিরায়ত প্রতিধ্বনি ও পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির কান্না—

তিমির রাত্রি এশার আজান শুনি দূর মসজিদে।

প্রিয় হারা কার কান্নার মতো এ বুকে আসিয়ে বিঁধে।’

নজরুলপ্রতিভা ও শক্তি যে প্রাণময় ও চিরজাগ্রত, তা বোঝা যায় তাঁর স্বভাবজাত প্রবণতায়। একদিন শিল্পী আব্বাসউদ্দীন যখন মসজিদের আজান শুনে নামাজে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, তখন তাত্ক্ষণিকভাবে কবি গেয়ে উঠলেন—

হে নামাজি

আমার ঘরে নামাজ পড়ো আজ

দিলেম তোমার চরণ তলে হৃদয় জায়নামাজ।’

পরিশেষে ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও পাঠকের বিরক্তি চরমে পৌঁছার আগেই হৃদয়গ্রাহী অনুরণনে লেখাটির পরিসমাপ্তি ঘটানো শ্রেয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অন্তিম আকাঙ্ক্ষার সার্থক বাস্তবায়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তাঁর সমাধিসৌধ। তাঁর আবেগঘন আকুতি—

মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই।

যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর

সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ, ৪ নভেম্বর ২০১৬

হিন্দা শাহী মসজিদের পরিচিতি

অক্টোবর 23, 2016 মন্তব্য দিন

hinda-shahi-mosquehinda-shahi-mosque-2