আর্কাইভ

Archive for the ‘ধর্মীয়’ Category

ভারতে মুসলিমদের গরুপালনও দোষের !

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী : ভারতে সরকারিভাবে গরুজবাই নিষিদ্ধ। আগেও এনিয়ে ঝামেলা ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ আইন চূড়ান্ত করা হয়। তবে লুকিয়ে ছাপিয়ে কোথাও না কোথাও গরুজবাই হয়েই থাকে। ঝামেলা বাঁধে এ নিয়েই। গরুর গোশত যে কেবল মুসলিম আর খৃস্টানদেরই প্রিয় এমন নয়। হিন্দু ব্রাহ্মণরা আগেও গরুমাংস খেতেন। এখনও খান। দক্ষিণ ভারতীয় ও কাশ্মিরী ব্রাহ্মণদের কাছে গোমাংস এখনও দারুণ জনপ্রিয় খাবার।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েকŸার ভারত গিয়েছি। কোলকাতাসহ ভুপাল, দিল্লি, নাগপুর, লক্ষেè, এলাহাবাদ, জৌনপুর প্রভৃতি শহর ঘুরেছি। সবখানেই গরুর গোশত পাওয়া যেতো। হোটেলে বিফ রান্না হতো। কোলকাতায় দারুণ স্বাদের গরুভুনা আর ক্ষিরিগুর্দা পাওয়া যেতো। ক্ষিরিগুর্দা মানে গাইগরুর দুধের থলেটা খুব চমৎকার করে রান্না হতো কোলকাতার দক্ষিণ ভারতীয় হোটেলগুলোতে। কোলকাতায় মাসের পর মাস অবস্থানকালে আমি প্রায়ই ক্ষিরিগুর্দার লোভে সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা সেরে নিতাম। বাঙালরাও গরুভুনা করতো। শুকনো করে। বেশ পোড়া পোড়া। অনেকটা কাবাবের মতো। সস্তায় পাওয়া যেতো। আমি দারুণ উপভোগ করেছি কোলকাতায় সেসময় বিফভুনা। এখন সেদিন নেই। ভয়াবহ সংকটে এখন গরু নিয়ে ভারতীয় মুসলিমরা।

আজকাল ভারতে মুসলিমরা গরুপালনও করতে পারেন না। জবাই তো দূরের কথা। কোনও মুসলিম গরু লালনপালন বা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আনানেয়া করলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এমনকি অনেককে হত্যার শিকারও হতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক এটাই। তবে আসামসহ ভারতের বেশ কয়েক জায়গায় এ অমানবিক আইনের প্রতিবাদে হিন্দুরাই গোহত্যার মাধ্যমে উৎসব করে মদসহযোগে গরুর গোশত ভক্ষণ করেছেন। তাহলে গরু জবাইয়ের অপরাধে মুসলিমদের হত্যা কেন? অথচ ভারতীয় শাস্ত্রাদিতে গরু জবাই কিংবা গোমাংস ভক্ষণ আদৌ নিষিদ্ধ নয়।

দেখুন, ভারতীয় শাস্ত্রে এ প্রসঙ্গে কী রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন: “এই ভারতবর্ষেই এমন একদিন ছিল যখন কোনও ব্রাহ্মণ গরুর মাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না। যখন কোনও সন্ন্যাসী, রাজা, কিংবা বড় মানুষ বাড়িতে আসতেন, তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে হত্যা করা হতো।” (Collected works of Swami Vivekananda, Advaita Asharama,1963, Vol III, page 172)

ঋগবেদের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে সায়নাচার্যের নাম বিখ্যাত। তাঁর আগেও বিভিন্ন ভাষ্যকার, যেমন স্কন্দস্বামী, নারায়ণ, প্রমুখ ঋগবেদের ভাষ্য রচনা করেছেন।

ভাষ্যকার আচার্য সায়ন লিখেছেন তার অনুবাদে, “You (O Indra), eat the cattle offered as oblations belonging to the worshippers who cook them for you. (Atharvaveda 9/4/1)”

হে ইন্দ্র গ্রহণ কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উৎসর্গ করেছে।”

ঋগবেদ ১০/৮৬/১৩ তে গরুর মাংস রান্না করবার কথা পাওয়া যায়।

ঋগবেদের ১০/৮৬/১৪ শ্লোকে আছে, ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে।

Rig Veda 10.86.14 [Indra speaks :] The worshippers dress for me fifteen (and) twenty bulls : I eat them and (become) fat, they fill both sides of my belly; Indra is above all (the world).

উপনিষদেও গরু খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভালো সন্তান পাবার জন্য ষাঁড়ের মাংস খাওয়া উচিত।

Brihadaranyak Upanishad 6/4/18 suggests a ‘super-scientific’ way of giving birth to a super intelligent child.

এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট বিধান দিয়েছে মনুসংহিতা। মনুসংহিতা ৫/৪৪ শ্লোকে বলা হয়েছে, “শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে।”

অগ্নির কাছে নিবেদনে বলদ, ষাঁড় এবং দুগ্ধহীনা গাভী বলিদানের উল্লেখ আছে। (ঋগবেদ সংহিতা, /১৬২/১১১৩, /১৭/১১,১০/৯১/১৪)
মহাভারতেও গরু খাওয়ার কথা আছে, মহাভারত বন পর্ব, খণ্ড ২০৭, অনুবাদ করেছেন কিশোরীমোহন গাঙ্গুলী।

বিষ্ণুপুরাণ বলছে, ব্রাহ্মণদের গোমাংস খাইয়ে হবিষ্য করালে পিতৃগণ ১১ মাস পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। আর এ স্থায়িত্ব কালই সবচেয়ে দীর্ঘ (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬)। বৃষের মাংস [বেদ:/১৬৪/৪৩], মহিষের মাংস [বেদ: /২৯/], অজের মাংস [বেদ:/১৬২/] খাওয়া হতো। তবে বেদে এও আছে যে, পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় অর্থাৎ পূজনীয় [বেদ://]। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন ভিন্ন কথা: “You will be astonished if I tell you that, according to the old ceremonials, he is not a good Hindu who does not eat beef. On certain occasions he must sacrifice a bull and eat it. [The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Pg 536]”

জগতগুরু আদি শংকরাচার্য, যিনি ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা। শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিতমহলে অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি ব্রাহ্মসূত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এ লিখেছেন, “যজ্ঞে পশুহত্যা পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে না, কারণ শাস্ত্রই এর অনুমোদন দিয়েছে।”

বেদে স্পষ্টভাবে গরুর মাংস খাওয়ার কথা থাকলেও হিন্দুরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

হিন্দুরা হাজির করে ঋগ্বেদ (/৫৬/১৭) এই শ্লোক। ঋগবেদের ঐ শ্লোকে নাকি গোহত্যাকে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে।

নীচে তুলসীরামের উক্ত শ্লোকের অনুবাদ দেখুন তো এ রকম কিছু আছে কিনা।

এরপর আবার হিন্দুরা, অথর্ববেদের (//১৫) এই শ্লোক দেখায়, যেখানে বলা হয়েছে: গোহত্যা ও ঘোড়া হত্যা উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে সত্য লুকিয়ে রেখে ঘোড়াসহ যে কোনও প্রাণির মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো ঐ শ্লোকে বলা হয়েছে:
যারা বহিঃশত্রু (দেশকে আক্রমণ করবে) এবং প্রাণির মাংস তথা ঘোড়ার মাংস ও মানুষের মাংস খায় তাদের হত্যা কর।

ধারাবাহিকভাবে এই মন্ত্রগুলো যেমন ৭, , ৯ পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।

অথর্ববেদের (//১৫) এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে গরুর দুধগ্রহণকারীরও একই শাস্তি দেয়ার কথা আছে। তার মানে কি গরুর দুধ খাওয়াও বেদের নিষেধ ? এটি আরও স্পষ্ট আছে ১৭ নাম্বার মন্ত্রে, এখানে বলা গরুর দুধ যে খায় তার বুকে বর্শা মারার কথা।
এখন এই মন্ত্রগুলোর অর্থ সর্বজনীনভাবে নিলে হিন্দুরা কি বলবেন যে বেদ অনুসারে দুধ খাওয়াও মানা? এরপর হিন্দুরা ঋগবেদের ১/১৬৪/৮০ এবং অথর্ববেদের ৯/১০/২০ ও ৭/৭৩/১১ এইসব শ্লোক দেখিয়ে বলেন এইসব শ্লোকে গরুকে (আঘ্ন্যা) বলা হয়েছে। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অথচ এসব শ্লোকে শুধুমাত্র মা গরুকে অর্থাৎ যে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় সেই গরুর প্রসঙ্গে (আঘ্ন্যা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ যে গরু দুধ দেয় সেই গরু হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। দেখুন (ঋগবেদ ১/১৬৪/৮০) শ্লোকের তুলসীরামের অনুবাদ। তুলসীরাম লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow.
তুলসীরাম অথর্ববেদ ৯/১০/২০ শ্লোকেও একই কথা লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow. হাজির করা হয় ঋগবেদের ৮/১০১/১৫ এই শ্লোক…. (Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi– that ought not to be cut into pieces).
মহাত্মা গান্ধী বলেছেন: “I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old (period) used to eat beef. ( M.K.Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120).”

অর্থাৎ, “আমি জানি (কিছুসংখ্যক পন্ডিত আমাদের বলেছেন) বেদে গোউৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে। আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে, পূর্বে ব্রাহ্মণরা গোমাংস ভক্ষণ করতেন। (হিন্দুধর্ম, এম.কে. গান্ধী, নিউ দিল্লি, ১৯৯১, পৃ. ১২০)
অতএব এবার নিশ্চয়ই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় গরুর গোশত খাওয়া ধর্মসম্মত।

অবশ্য বৌদ্ধযুগের আগ পর্যন্ত হিন্দুরা প্রচুর গোমাংস ভক্ষণ করতেন এ তথ্যও অনেকেই জানেন। ব্যাসঋষী স্বয়ং বলেছেন, ‘রন্তিদেবীর যজ্ঞে একদিন পাচক ব্রাক্ষ্মণগণ চিৎকার করে ভোজনকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘মহাশয়গণ! অদ্য অধিক মাংসভক্ষণ করবেন না, কারণ অদ্য অতি অল্পই গোহত্যা করা হয়েছে; কেবলমাত্র একুশ হাজার গোহত্যা করা হয়েছে।’ (সাহিত্য সংহিতা৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা৪৭৬)

বৌদ্ধযুগের পূর্বপর্যন্ত হিন্দুরা যে প্রচুর গরুর গোশত খেতেন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত ‘সোহংগীত’, ‘সোহং সংহিতা, ‘সোহং স্বামী’ গ্রন্থগুলোতে, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে। এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে পর্যন্ত গোহত্যা, গোভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গোমাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো।

ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত অনেক গ্রন্থে, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে গোহত্যা, গোভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গোমাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো। তাই অতিথির আরেক নাম ‘গোঘ্ন’।

বৌদ্ধসম্রাট অশোকের সময় থেকে গোহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গোহত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছে কেন?

এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল। বৌদ্ধধর্ম এতোই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রচুর লোক, বিশেষ করে তথাকথিত “নীচ জাতি” আকৃষ্ট হয়েছিল, এই ধর্মের প্রতি । ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুণলেন। তারাও পুরোপুরি মাছমাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ভেকধারী হয়ে গেলেন।

মূলত এটা উত্তর ভারতেই হয়েছিল । তাই এখনও ওটা “গোবলয়” নামে খ্যাত।

বেশিদিনের কথা নয়, আলীবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ একটা বই লেখেন। নাম ‘বৃহৎ তন্ত্রসার’।

এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋগবেদে ফিরে আসি। কি দেখছি? প্রথম মন্ডলের ১৬৪ সূক্তের ৪৩ নং শ্লোকে বৃষমাংস খাওয়ার কথা আছে। মহিষমাংসের উল্লেখ আছে পঞ্চমমলের ২৯ নং সূক্তের ৮ নং শ্লোকে।

মোষ বলি আজও হয় । নেপালে যারা মোষের মাংস খায়, তাদের ছেত্রী বলা হয়।

এছাড়া বনবাসকালে রামচন্দ্রের লাঞ্চের মেনু কী ছিল, অনেকেরই জানা নেই।

তিন রকমের মদ বা আসব হয়। যথা: গৌড়ি (গুড় থেকে তৈরি), পৌষ্টি (পিঠে পচিয়ে তৈরি) এবং মাধ্বি (মধু থেকে তৈরি)। এর সঙ্গে প্রিয় ছিলশূলপক্ব বা গোবৎসের মাংস।

উল্লেখ্য, কারুর বিশ্বাস বা অনূভুতিতে আঘাত দেবার জন্য নয়, শুধুমাত্র সত্য অবগতির জন্যই ভারতীয় শাস্ত্রাদির বাণী উদ্ধৃত করা হলো। যাদের ঘরে শাস্ত্রসমূহ আছে, তাঁরা অনুগ্রহ করে সেগুলোর পাতা উলটে দেখতে পারেন। এছাড়া আজকাল ইন্টারনেট বা গুগল সার্চ দিয়েও পরখ করে দেখতে পারেন। আসলে সত্য চিরদিন চেপে রাখা যায় না। এর আগুন বিলম্বে হলেও সর্বভুক হয়ে প্রকাশ পায়। প্রকটাকার ধারণ করে। এই হলো বাস্তবতা এবং সত্যের ধর্ম। এ আগুন ঠেকায় কার সাধ্য?

যাই হোক, ভারতের যে ক’জন গোমাংসের বড় ব্যবসায়ী আছেন, তাঁরা সবাই হিন্দু মাড়ওয়ারি। বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত গোমাংস রফতানি করে হাজার হাজার কোটি রুপি উপার্জন করেন প্রতি বছর। এতে তাঁদের জাত যায় না। ধর্মেরও অবমাননা ঘটে না। দোষ শুধু মুসলিমরা গরু জবাই করলে। এখন ভারতে গরুপালন করলেও মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে নির্মমভাবে। আগে এসব খবর মিডিয়ায় স্থান পেতো। এখন তাও প্রায় বন্ধ।

উল্লেখ্য, গরুর গোশতের ক্রাইসিস সব দেশেই। আমাদের দেশেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। এমতাবস্থায় ভারতে যদি গরুর গোশত খাওয়া সত্য সত্যই বন্ধ করে তা আমাদের দেশে পাঠানো হয়, তবে কিছুটা হলেও কম দামে পাওয়া যেতো বৈকি।

Advertisements

ফক্বীহ-এর গুরুত্ব ও আহলে হাদীসদের ভ্রষ্টতা

[رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيه (মুসনাদে হুমাইদি; হা.নং ৮৮)]

হাদীসটি থেকে বোঝা যায় যে, সমাজে একজন ফক্বীহের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ আহলুল হাদীসরা বলছে, এর কোনো প্রয়োজনই নেই। এ থেকেই বুঝা যায়, তারা একদিকে বুখারী শরীফ বোগলে রাখে; অপরদিকে সুযোগ পেলেই সহীহ হাদীসকেও অস্বীকার করে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হিফাযত করুন। আমিন।

মোটকথা, ফক্বীহ লাগবেই। অন্যথায় পুরা সমাজব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। আপনারা সুলাইমান আল আ’মাশ রহ.-এর ঘটনা জানেন। তার কাছে একলোক এসে ফাতাওয়া চাইলে আ’মাশ রহ. আবু হানীফা রহ.-এর বিশিষ্ট শাগরেদ আবু ইউসুফকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে জিজ্ঞেস করো। আবু ইউসূফ রহ. তৎক্ষণাৎ উত্তর দিয়ে দিলেন। আ’মাশ রহ. জিজ্ঞেস করলেন, বাবা! তুমি কোন হাদীসের ভিত্তিতে উত্তর দিলে? আবু ইউসূফ রহ. বললেন, উস্তাদজী! আপনি গতকাল যে হাদীসটি বলেছিলেন, ঐ হাদীসেইতো এ বিষয়টির সমাধান রয়ে গেছে। আ’মাশ রহ. দেখলেন যে, আসলেই বিষয়টি তাই। তিনি স্বীকার করে নিলেন এবং সাথে এ স্বীকৃতিও দিলেন যে, أنتم الأطباء ونحن الصيادلة ‘তোমরা ফক্বীহগণ হলে ডাক্তার, আর আমরা মুহাদ্দিসরা হলাম ঔষধ বিক্রেতা। হাদীসের মধ্যে কী মাস’আলা আছে আমরা সেগুলো বের করতে পারি না।’ (মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা,ইমাম যাহাবী ১/৩৫)

আরেকজন মুহাদ্দিসের ঘটনা। তিনি ইমাম বুখারী রহ.-এর উস্তাদ। নাম ইয়াযিদ ইবনে হারুন। তিনি এক মাজলিসে বসা। সেখানে আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ‘আলী ইবনুল মাদীনী রহ.-এর মতো বড়ো বড়ো আলিমও উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যে একব্যক্তি এসে ফাতাওয়া জিজ্ঞাসা করলে ইয়াযিদ ইবনে হারুন রহ. ধমক দিয়ে বললেন, আমাদের কাছে কেনো এসেছো? আহলুল ‘ইলমের কাছে যাও। তারা তোমাদেরকে এর সমাধান বলে দিবে।

আমরাতো আহলুল হাদীস। তখন ‘আলী ইবনুল মাদীনী বললেন, হুযূর!! আপনার কাছে বসা এ সকল বড়ো বড়ো আলেমরা কি আহলে ‘ইলম নয়? তিনি বললেন, তোমরা কোথায় আহলে ‘ইলম, তোমরা হলে আহলুল হাদীস; হাদীস বিশারদ। মনে রাখবেন! এটা ঢাকার বংশালের আহলে হাদীস না যে, হাদীসের কিছুই জানে না, কিন্তু দাবী করে আমরা হাদীস বিশারদ। আরে ভাই! আহলুল হাদীস তো ঐ ব্যক্তি যে লক্ষ লক্ষ হাদীস জানে; হাদীসের জরাহতাদীল ও সহীহযঈফ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে। ইমাম বুখারী রহ. আহলুল হাদীস। তাই বলে বংশালের সুইপার, ঝাড়ুদার, রিকশাওয়ালা সবাই কি আহলুল হাদীস হয়ে যাবে?

যাহোক, ইয়াযীদ ইবনে হারূন বললেন, তুমি আবু হানীফা রহ.-এর শাগরেদদের কাছে যাও। তারাই আহলুল ‘ইলম, তারাই ফাতাওয়া দিবে। কারণ তারা ফক্বীহ ও মুজতাহিদ। যিনি এতো বড়ো মুহাদ্দিস, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মতো জগৎবিখ্যাত আলেমদ্বয়ের উস্তাদ; তিনি ফাতাওয়া দিচ্ছেন না। ফাতাওয়া দেয়ার জন্য পাঠাচ্ছেন আবু ইউসুফ রহ.-এর কাছে। তাহলে মুফতীর দরকার আছে কিনা? স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সব মুহাদ্দিস ফক্বীহ হয় না, ফক্বীহ আলাদাভাবে তৈরি করো। কিন্তু আহলে হাদীসরা বলছে যে, মুফতীর দরকার নেই। তাহলে তারা কি হাদীস মানে, না হাদীস অস্বীকার করে? আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, প্রত্যেক ফক্বীহ মুহাদ্দিস, কিন্তু প্রত্যেক মুহাদ্দিস ফক্বীহ নহে।

উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেলো যে, ফক্বীহ ও মুহাদ্দিসের মাঝে পার্থক্য আছে এবং এটিও প্রমাণিত হলো যে, ফক্বীহের মাকাম অনেক উপরে। হাজার মুহাদ্দিসীনের মধ্যে ২/৪ জন ফক্বীহ হয়। বিশেষ করে যারা উলূমুল হাদীসের ছাত্র তারা পড়েছে যে, যদি দুই রাবীর রিওয়ায়াতের মাঝে মতভেদ হয়, আর তাদের একজন ফক্বীহ এবং অপরজন শুধু মুহাদ্দিস; তাহলে ফক্বীহের রিওয়ায়াত প্রাধান্য পাবে। কারণ মুহাদ্দিসগণ কখনো কখনো মতনের মধ্যে বেশিকম করে ফেলেন। যে কারণে রিওয়ায়াতের মধ্যে ইখতিলাফ হয়ে যায়।

হাদীসের কিতাবসমূহে যতো রাবী রয়েছেন তারা সবাই কী ফক্বীহ? কখনোই না। এজন্যই তাদের বর্ণনায় এতো গরমিল। খোদ বুখারী শরীফের মতনের মধ্যেও অনেক ভুল আছে। যদিও সনদ সহীহ। আমি যখন বুখারী শরীফ পড়াই তখন ছাত্রদেরকে ভুলগুলো ধরিয়ে দেই। বুখারীর এক রিওয়ায়াতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কূফাতে ১৪ দিন ছিলেন। কিন্তু এটা ভুল। আসলে তিনি ২৬ দিন ছিলেন। এখানে সনদ সহীহ, মতন ভুল। আরেক রিওয়ায়াতে আছে, যখন ‘শাম দেশ’ থেকে আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর খবর এলোএটা ভুল। আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর খবর আসেনি, বরং তার ছেলের মৃত্যুর খবর এসেছে। এরপর যুল ইয়াদাইনের হাদীস বুখারীর এক জায়গাতে আছে إحدى صلاة العشاء যার অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মাগরিব বা ইশার নামাযে ভুল করলেন। এটা সঠিক নয়, বরং হবে إحدى صلاة العشي যার অর্থ যুহর বা আসর। এরকম বহু জায়গাতে মতনে ভুল আছে। এমনকি বুখারী রহ. নিজেও এক জায়গায় সনদ বয়ান করতে গিয়ে ভুল করেছেন। লিখেছেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহাইনা। অথচ বুহাইনা তার মায়ের নাম। তিনি ভুল করে দাদা বানিয়ে দিয়েছেন। তাই বুখারীকে তারা যেভাবে বড়ো করে দেখায় সেটা ঠিক না। হ্যাঁ! এটা ঠিক আছে যে, সব হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটা তুলনামূলক বেশী সহীহ। এর অর্থ এই নয় যে, বুখারীর মধ্যে কোনো ভুলই নেই। এছাড়া, বুখারীতে প্রচুর পরিমাণে মানসূখ হাদীস রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ‘কিতাবুল গোসল’এ একটি হাদীস নিয়ে এসেছেন, যেখানে বর্ণিত হয়েছে : সহবাস হয়েছে, কিন্তু বীর্যপাত হয়নি; এমন অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু উযূ করতে বলেছেন (হা.নং ২৯২)। অথচ অন্য হাদীসে আছে, إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ হযরত আয়িশা রাযি. বলেন,فَعَلْتُهُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاغْتَسَلْنَا (সুনানে ইবনে মাজাহ; হা.নং ৬০৮) তাহলে এ হাদীস বুখারীতে আসলো কোত্থেকে? সহীহ বুখারীর আরেক স্থানে আছে, وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا، فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُون (হা.নং ৬৮৮) ‘কোনো কারণে যদি তোমাদের ইমাম বসে বসে নামায পড়ে, তাহলে তোমরাও বসে ইক্তিদা করো।’ অথচ এটা কি এখন জায়েয আছে? ইমাম বুখারী রহ. এ হাদীসটি ছয়বার এনেছেন, অথচ সব মানসূখ। কারণ, মরযে ওয়াফাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার যোহরের নামায বসে পড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাহাবী বসে ইক্তিদা করেননি। এতে বুঝা যায়, এ হাদীস মানসূখ হয়ে গেছে। এরপর কিতাবুল জানায়িযেও বুখারী রহ. ৬টি স্থানে একটি মানসূখ হাদীস এনেছেন, তোমরা যদি কোনো লাশ যেতে দেখো, দাঁড়িয়ে যাও। (হা.নং ‎১৩০৭১৩১২)

অথচ অন্য রিওয়ায়েত এসেছে,

أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْقِيَامِ فِي الْجِنَازَةِ, ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ ذَلِكَ, وَأَمَرَنَا بِالْجُلُوسِ

ইসলামের শুরুর যামানাতে আমাদেরকে দাঁড়াতে বলা হয়েছিলো, কিন্তু পরে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে’। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে আগের হাদীসটি মানসূখ।

এখন আমরা আহলে হাদীসদেরকে বলবো, যে কেউ আহলে হাদীস দাবী করবে তাকে ১১টি বিয়ে করতে হবে। আর যতো মানসূখ হাদীস আছে, সবগুলোর উপর আমল করতে হবে। একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সমস্যার কারণে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। (সহীহ বুখারী; হা.নং ২২৪) তাই বলে দাঁড়িয়ে পেশাব করা কি সুন্নাত? আহলে হাদীসরা বলবে সুন্নাত। এক আহলে হাদীস এ কথা বলেছেও! অতঃএর তার এ ফাতাওয়া শুনে একজন মুসল্লী প্রশ্ন করেছে, হুযূর!! এটা পুরুষদের জন্য না মহিলাদের জন্য! একথা শুনে আহলে হাদীস আলেম লাজওয়াব!!

একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাতনী (হযরত যয়নাবের মেয়ে) কে কাঁধে করে নামায পড়েছেন (সহীহ বুখারী; হা.নং ৫১৬)। তারা কি নাতনী কাঁধে করে নামায পড়ে? হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোহর ছাড়া বিবাহ করেছেন। কিন্তু তারা কি মোহর ছাড়া বিবাহ করে? কোথায় তারা হাদীস মানে? আসলে এসবই তাদের ধোঁকাবাজী।

হাদীস ও সুন্নাহবিভ্রান্ত আহলে হাদীস সম্প্রদায়

একইভাবে হাদীস ও সুন্নাতের মাঝেও পার্থক্য রয়েছে। হাদীসের কিতাবে যা আছে সব হাদীস। কিন্তু সবগুলো সুন্নাত না। এখান থেকে বাছাই করে দেখতে হবে, যেগুলোর মধ্যে সুন্নাত হওয়ার ৪ শর্ত পাওয়া যায় সেগুলো সুন্নাত এবং হাদীস। আর যেগুলোর মধ্যে শর্তসমূহ পাওয়া যায় না সেগুলো হাদীস বটে, কিন্তু সুন্নাত না। শর্ত চারটি হলো

. যেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে লক্ষ্য করে বলেছেন ।

. যা মানসূখ বা রহিত হয়নি।

. যেটা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা জায়গার সাথে খাস না ।

বি.দ্র. ব্যক্তির সাথে খাস। যেমন

مَنْ شَهِدَ لَهُ خُزَيْمَةُ أَوْ شَهِدَ عَلَيْهِ فَحَسْبُهُ

(আলমুজামুল কাবীর, তাবা

তথাকথিত আহলে হাদিসদের কিছু ভ্রান্ত আকিদা নিচে প্রমাণ সহ তুলে ধরলাম যাতে আহলুস সুন্নাহ’র বিরুদ্ধে ও শীয়াদের পক্ষে গোপনে এদের ভয়ংকর নীল নকশা আর বেশি দূর এগুতে না পারে। যাতে স্বাধারণ মানুষদের এদের সহিহ’র মোড়কে সহিহ ধোকায় নিপতিত হতে না হয়, সেজন্য আমি তাদের গুটিকতক মেকি ভন্ডামির জারিজুরি প্রকাশ করে দিলাম।

আহলে হাদিসদের রচিত ‘হাদয়িতুল মাহদি’ পুস্তকের ১১০ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “জুমার খুতবায় খোলাফায়ে রাশেদার নাম নেয়া বিদয়াত।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘তানবীরুল আফাক’ পুস্তকের ১০৭ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “খোলাফায়ে রাশেদা অর্থাৎ হযরত আবু বকর, হযরত উমর, হযরত উসমান এবং হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) উনারা শরীয়তের খেলাফ হুকুম জারি করতেন। (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘কাশফুল হিজাব’ পুস্তকের ২১ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “হযরত আয়েশা (রা) আলীর সাথে যুদ্ধ করে মুরতাদ হয়ে গেছেন।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘হাদয়িতুল মাহদি’ পুস্তকের ১০৩ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “আয়িম্মায়ে ইছনা আশারা যারা শীয়াদের ইমাম, আমরা তাদের অনুসারী।”

উল্লেখ্য, এ কথা দ্বারা পুরোপুরিভাবে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মাযহাবের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাকারী ও আহলে হক্বের সাথে আলোচনার টেবিলে যোগদানে অস্বীকারকারী ক্রমাগত পালিয়ে বেড়ানো আহলে হাদিস নামধারি কথিত ছহি হাদিসের অনুসারীরা মূলত শীয়াদেরই একটি অঙ্গ সংগঠন। যাদের কাজই হল আহলুস সুন্নাহ’র অনুসারী মুসলিমের বিভ্রান্ত করে মাযহাবের বন্ধন থেকে সরিয়ে দেয়া ও ধীরেধীরে সাহাবী বিদ্বেষী করে তুলা। পর্যায়ক্রমে শীয়াদের পাল্লাই ভারি করা। যা দেরিতে হলেও আজ দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার।

আহলে হাদিসদের রচিত ‘তানবীরুল আফাক’ পুস্তকের ৪৯৮৪৯৯ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “হযরত উমর কুরআনের হুকুম পরিবর্তন করে ফেলেছেন।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘দলীলুত ত্বলিব’ পুস্তকের ৫২ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা জায়েজ।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘বদূরুল আহিল্লাহ’ পুস্তকের ১৪১৫ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “সমস্ত জানোয়ার তথা জন্তুর পেশাব পবিত্র।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘দলীলুত ত্বালিব’ পুস্তকের ২৬৪ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “নামাযের জন্য কাপড় পাক হওয়া জুরুরি নয়।” (নাউযুবিল্লাহ)

আহলে হাদিসদের রচিত ‘হাদয়িতুল মাহদি’ পুস্তকের ২৩ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “মহিলাও মুয়াজ্জিন হতে পারবে।” (নাউযুবিল্লাহ)

১০আহলে হাদিসদের রচিত ‘বদূরুল আহিল্লাহ’ পুস্তকের ৩৯১ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “এক বকরীতে ১০০ মানুষের পক্ষ থেকে কুরবানি হতে পারে।” (নাউযুবিল্লাহ)

১১আহলে হাদিসদের রচিত ‘যফরুল কাযী’ পুস্তকের ১৪১, ‘উরুফুল জাবী’ পুস্তকের ১১৫ নং পৃষ্ঠায় লেখা আছে “পুরুষ একই সময় যত ইচ্ছে বিয়ে করতে পারবে।” (নাউযুবিল্লাহ)

সুপ্রিয় পাঠক পাঠিকা! সহিহ হাদিসের মোড়কে শীয়া এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কথিত আহলে হাদিসদের এরকম হাজারো উল্টাপাল্টা ফতুয়াবাজির ডকুমেন্ট আমাদের নিকট রয়েছে। যা সুস্পষ্টভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ফেরকা শীয়া কুফফারদের সাথে মিল।

এখন প্রশ্ন হল, মাযহাব বিদ্বেষী এ নতুন ফেরকার অনুসারীরা এবং যারা এদের দলে যোগ দেবে তাদের সকলের ঈমান আকিদার কী হাশর হবে? আল্লাহ তায়ালা এ আখেরি যামানায় এ জাতীয় নতুন ফেরকাগুলো হতে আমাদের রক্ষা করুন , আমীন।

=

আমাদের দেশে যারা সহীহ হাদীসের ধোঁয়া তুলে উম্মতকে বিভক্ত করে চলেছেন। যারা সহীহ হাদীসের আলোকে তাদের মনগড়া নামায উপস্থাপন করে যাচ্ছেন, তাদের কয়েকটি নামাযের বইয়ে উদ্ধৃত নামাযের মাসআলায় মতভেদ লক্ষ্য করুন

১–কিরাত পড়া প্রসঙ্গে:

) আলবানীর মতে জোরে জেহরী নামাযে কিরাত পড়া রহিত। {শায়েখ আলবানীর “নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছলাত সম্পদনের পদ্ধতি৮৩}

) আসাদুল্লাহ গালিব বলে ফরজ। {আসাদুল্লাহ গালিব সাহেব রচিত ছালাতুর রাসূল সাঃ৮৮}

২–বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে:

) বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ হবার পক্ষে কোন ছহীহ দলীল নেই। {আসাদুল্লাহ গালিব সাহেব রচিত ছালাতুর রাসূল সাঃ ৮৬}

) সূরা ফাতিহা কুরআনের অংশ। {অধ্যাপক হাফিজ আইনুল বারী রচিত “আইনী তুহফা সলাতে মুস্তাফা”১০৫}

৩–বিসমিল্লাহ জোরে পড়া:

) গালিব সাহেবের মতে এর কোন ভিত্তি নেই। [আসাদুল্লাহ গালিব সাহেব রচিত ছালাতুর রাসূল সাঃ ৮৬}

) জোরে আস্তে উভয়ভাবে পড়া ছহীহ সনদে বর্ণিত। {আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম সম্পাদিত “ছালাত আদায় পদ্ধতি”২৮}

রুকু:

) রুকু পেলে রাকাআত পাওয়া যায়। {আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম সম্পাদিত “ছালাত আদায় পদ্ধতি”৩৩}

) রুকু পেলে উক্ত রাকাত পায়নি। {আসাদুল্লাহ গালিব সাহেব রচিত ছালাতুর রাসূল সাঃ ৯৬}

সালাম:

) ডান দিকে ফিরে ওয়াবারাকাতুহু বলতে হবে {আকরামুজ্জামান সম্পাদিত ছালাত আদায় পদ্ধতি৬২}

) উভয় দিকেই ওয়াবারাকাতুহু বলতে হবে। {ইবনে ফজলের সহীহ নামায ও দুআ শিক্ষা১০৩}

জনাযায় ফাতিহা:

) আসাদুল্লাহ গালিব বলেন পড়া ওয়াজিব। {ছালাতুর রাসূল২১৩}

) আলবানী বলে সুন্নত। {সিফাতু সালাতিন্নবী১১১}

এরকম অসখ্য মতবিরোধ শুধু নামাযের মাসআলার ক্ষেত্রে দেখানো যাবে। যা কথিত আহলে হাদীস বা লামাযহাবী/শব্দধারী মুসলিম জামাতের ভাইদের রচিত সহীহ হাদীসের আলোকে রচিত নামাযের বইয়ে রয়েছে।

প্রশ্ন হল, যদি সহীহ হাদীস মানলে মতভেদ না থাকে, তাহলে এসব মতভেদ কেন তাদের প্রকাশিত এসব বাংলা নামাযের বইয়ে?

কেন তারা সহীহ হাদীসের অনুসারীরাই শুধু নামাযের মাসআলায়ই এক হতে পারছেন না?

তাহলে কি বুঝা যাচ্ছে?

পরিস্কার ভাষায় বুঝা যাচ্ছে, আসলে সহীহ হাদীসের নামে একতাবদ্ধ হবার স্লোগান কেবলি একটি মুখরোচক ও ধোঁকাবাজীমূলক স্লোগান। যা কেবলি অন্তসারশূণ্য। মানুষকে প্রতারণায় ফেলার জন্য এ ধোঁকাবাজীমূলক বক্তব্যটি প্রদান করা হয়ে থাকে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এ ভ্রান্ত ফিরকার ধোঁকা থেকে উম্মতে মুসলিমাকে হিফাযত করুন । আমীন।

= = =

লা মাযহাবিদের সাথে বাহাস করা আর ট্রেনের চাক্কায় হাওয়া দেওয়া একই কথা।।। জুতা বাড়ি খাইলে বলবে, শাফেয়ী মাজহাব অনুসারে অপমান হই নাই।। দুই গালে কষে চড় দিলে বলবে হাম্বলী অনুযায়ী কিছু মনে করি নাই।পাছায় লাত্তি দিলে বলবে মালেকী অনুসারে ইজ্জৎ যায় নাই। ফ্যাক্ট : সুবিধাবাদজিন্দাবাদ

আহলে হাদিস ফেকরা (আহাফে) এর ফতুয়া দ্বীন ধর্মকে হাসি ঠাট্টা তামাশার পাত্র বানিয়েছে লামাযহাবী শায়েখরা, তারা দিন দিন দ্বীনকে কঠিন করে তুলেও শান্ত হয়নি বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিতনা নিয়ে আসছে….
) কুরআনে জাকির নায়কের টাই পাওয়া গেছে (কাজী ইব্রাহীম)
) স্ত্রীর তরল দুধ খেলে কোন গুনাহ হয় না (: রাজ্জাক)
) হাগু করার সময়ও সালাম দিতে বাধ্য, এটাই শরিয়ত,(: রাজ্জাক)
) ঈদের নামাজের ছয় তাকবীর কিয়ামত পর্যন্ত প্রমান করা যাবে না (: রাজ্জাক)
) হায়াতুন্নবী ও গায়েব জানা নবী কে তালাক দিলাম, ( আকরামুজ্জান তিনি সমালোচনার আর কোন ভাষা খুঁজে পায়নি)
) তারাবীর নামাজ শুধুমাত্র আট রাকাত (জাকির নায়েক, মতি, মুজাফ্ফর গং)
) বেলাল (রা) শুদ্ধ করে আরবী বলতে পারতেন না( আমানুল্লাহ মাদানী)
) টুপি গান্ধীর পোশাক, পাগড়ী শিখদের পোশাক। (আমানুল্লাহ মাদানী)
১০) গরুর পেসাব পাক, তাতে কাপড় ভিজিয়ে নামাজ পড়া যাবে।(: রাজ্জাক)
১১) শুধুমাত্র আহলেহাদিস আন্দোলনই নাজাত প্রাপ্ত দল (:রাজ্জাক ইউসুফ)

আরো কত কি তা বলে শেষ করা যাবে না।

আমরা প্রতিদিনই এমন কিছু কথা ব্যবহার করে থাকি যাহা কিছুতেই সত্য নয়। কিন্তু রুপক অর্থে গ্রহন করার কারনে কেউ তাতে আপত্বি করি না। মিথ্যা মনে করি না।
যেমন কোন অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকের ভিড় হওয়ার কারনে বলে থাকি,, বাপরে বাপ, মানুষের মাথা মানুষে খায়। আচ্ছা, আজ পর্যন্ত কি এমন ঘটনা ঘটেছে যে মানুষের মাথা মানুষে খেয়েছে ? কখনো ঘটে নাই। তারপরেও কথাটাকে রুপক অর্থে সত্য মেনে নেই। কথাটার অর্থ অনেক মানুষ। কাজেই এই কথাটা বলনেওয়ালা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে না।
ঠিক তদ্রুপ রাসুল সঃ স্বামীর হক সম্পর্কে বুঝাতে যাইয়া বলেছেন যে, স্বামীর শরীরে যদি পুজ হয় এবং কোন স্ত্রী যদি জিহ্বা দিয়া চেটে চেটে খেয়ে পরিস্কার করে তারপরেও স্বামীর হক আদায় হবে না। আমরা জানি শরিরের পুজ পান করা হারাম। তাহলে কি আল্লাহর রাসুল সঃ হারাম খাইতে আদেশ করেছেন ? নাউযুবিল্লাহ। কখনো নয়। বরং স্বামীর হকের গুরুত্ব বুঝাতে যাই উপমা দিয়াছেন।
আল্লাহপাক আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

قل النبي صلى الله عليه وسلم من كذب على متعمدا فااليتبوء مقعد ه منا النار .
হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ করবে তার ঠিকানা যাহান্নাম, কথিত আহলে হাদীশ সম্প্রদায় কে আহলে ধোঁকাবাজ বলি কেন ??

| মক্কা মদিনায় যে আমল চালু রয়েছে তার আনুষরন আনুকরন করতে হবে, ধোঁকাবাজদের দাবি, যখন মক্কা মদিনার ইমামগনের নাভির নীচে হাত বাঁধার ছবি দেখানো হবে, তখন বলবে ছবি ইডিট করা হয়েছে,

| যখন ভিডিও দেখানো হবে, তখন বলবে মক্কা মদিনা আমাদের দলিল না,

/ যখন বিশ রাকাত তারাবির কথা বলা হবে, তখন বলবে তুর্কিদের আক্রমণের ভয়ে বিশ রাকাত পড়ানো ময়,

/ যখন সবে বরাতের হাদীশ দেখানো হবে, তখন বলবে হাদীশ জাল জয়ীফ,

/ যখন তাদের কথিত ধোঁকাবাজ শাইখদের গোমরাহীর জবাব দেওয়া হবে, তখন বলবে গিবাত করছেন কেন,

/ যখন ধোঁকাবাজদের ইমান বিধংশী বিডিও প্রকাশ করা হবে, তখন বলবে ফুল বিডিও না দিয়ে কি বুঝাইতে চাও, আর শুরু করে গালাগালি , নাউজুবিল্লাহ মিন আস শাইতান আর রযিম।

ইয়া আল্লাহ আহলে ধোঁকাবাজ দাজ্জালদের থেকে আপনার বান্দাদেরকে হেফাজত করুন, আমিন ।

দুরবস্থার কবলে মুসলিম বিশ্ব

. মুহাম্মদ সিদ্দিক : মুসলিম বিশ্বের বর্তমানে চলছে দুরবস্থা। সর্বত্র তারা পরাজিত ও অপমানিত। তবু হুঁশ নেই। টনক নড়ছে না। জিন্দা লাশের অবস্থা। মুসলমানদের অপমান করার সঙ্গে সঙ্গে কুরআন, নবী (সা🙂 ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রæপ চলছে। কারণসমূহ কমই আমরা খুঁজে দেখি, অথচ কারণ না জানলে প্রতিকার কিভাবে হবে।

আমরা এখন প্রধান কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। এগুলো হলো

() যোগ্যতার অভাব, জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চা তথা গবেষণার প্রতি অবহেলা, প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা, শিক্ষার হার হতাশামূলক।
(
) বুদ্ধিবৃত্তিক (ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার) দৈন্যতা। ফলে দেখা যায়, পাশ্চাত্য জগত, এমনকি এশিয়ার কিছু উন্নত দেশের মতোও মুসলিম বিশ্বে উঁচুস্তরের বইপুস্তক বের হয় না। যাও হয় জনগণ তেমন কিনেও না, পড়েও না। এক লেখকের পাঁচশ’ কপি বই বের করলে, মনে করা হয় যে যথেষ্ট হয়েছে। পাশ্চাত্যে ফালতু বইও মিলিয়ন কপি চলে। অথচ মধ্যযুগে মুসলমানদের লেখা বইয়ের জন্য ইউরোপ হুমড়ি খেয়ে পড়ত। মুসলমান বিদ্বানগণ ছিলেন ইউরোপের শিক্ষক।

গত তিনশ’ বছর ধরেই মুসলমানগণ পেছনের কাতারে। কবি নজরুল পর্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখেছেন

আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ, অভেদ যাঁহার জীবনে মৃত্যুজ্ঞান।
যাঁর মুখে শুনি তৌহিদের কালাম
ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।’

মুসলমানদের অযোগ্যতার কারণে অন্য জাতিগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে মারণাস্ত্র তৈরি করে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

() লেজুুড়বৃত্তির নীতি পালন করছে মুসলমান রাষ্ট্রগুলো। তাই তাদের নেই ইজ্জতের আসন।

() মুসলমানদের অনেকেই ইসলামি আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই এসেছে লেজুড়বৃত্তি।

() মুসলিম উম্মাহতে নেই আর ঐক্য।

() নেতৃত্বের ব্যর্থতা আর এক কারণ। অনেকে নেতারই নেই যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা। কিছু নেতাকে হত্যা করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, যাদের অন্যতম সউদী আরবের বাদশাহ ফয়সাল।

() অমুসলমানদের যেমন বিশাল বিশাল রাষ্ট্র্র রয়েছে, মুসলমানদের নেই। বিশাল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া প্রভৃতির নিকট মুসলমান রাষ্ট্রগুলো ছোট। এদিকে তুরস্ক, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, এমনকি সউদী আরবকে পর্যন্ত টুকরা টুকরা করার নীলনকশা করা হচ্ছে।

() সিয়াসুন্নি বিরোধকে আরো উসকে দিয়ে শত্রæরা ফাঁয়দা হাসিল করছে।

() গণতন্ত্রহীনতা এর এক কারণ। বেশিরভাগ সরকারের উপর জনগণের আস্থা ও একাত্মতা নেই।

(১০) অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থপরতা ও শত্রুতা মুসলিম বিশ্বের জন্য হুমকি। তারা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোয়েন্দা টেকনিক ব্যবহার করছে, মালয়েশিয়রা পর্যন্ত মেধাবী ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি গোয়েন্দারা।

(১১) মুসলিম নেতৃবৃন্দের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয় সম্পর্কে অপ্রতুল ধারণা ও জ্ঞান। পলাশী যুদ্ধের আগেপরে এই অবস্থা ছিল।

(১২) ইসরাইলসহ কিছু রাষ্ট্রের ‘এগ্রেসিভ (আক্রমণাত্মক) ও প্রতিরক্ষা নীতি মুসলমান রাষ্ট্রগুলোকে মাথা তুলতেই দিচ্ছে না ।

(১৩) হালে সউদী, মিসর, আমিরাত, প্রভৃতি রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরাইল কর্তৃক বাগে আনা।

(১৪) পাশ্চত্য কর্তৃক ইসরাইলের মাধ্যমে সন্ত্রাস রফতানি করে এখন মুসলমানদেরই সন্ত্রাসী বলা ।

(১৫) মুসলিম বিশ্বের গণমাধ্যমের দুর্বল অবস্থা। অন্যদিকে বিপক্ষের গণমাধ্যম সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানাতে ওস্তাদ।
(
১৬) অনইসলামি আদর্শ, যেমনকম্যুনিজম, উগ্রজাতীয়তাবাদ ইত্যাদির প্রভাবপ্রতিপত্তি।

(১৭) খ্রিস্টানমিশনারীদের প্রচার ও ষড়যন্ত্র। ভ্যাটিকান ও তার বিশ্বব্যাপী কর্মচারী নেটওয়ার্ক, যা পররাষ্ট্রীয় কাঠামোতে হোক বা গির্জার আড়ালে হোক, একটা বড় বাঁধা ইসলামের প্রসারে। মুসলমানদের কেন্দ্র নেই, যা কামালপাশা আগেই খতম করেছেন। এই কার্যক্রম শুধু তুরস্ক নয়, সমগ্র উম্মাহকে দুর্বল করে দিয়েছে, অথচ একসময় ইউরোপ পর্যন্ত আরব ও তুর্কি খেলাফতের অধীন ছিল।

(১৮) পাশ্চাত্যের ক্রুসেডিয় মনোভাব এখনো রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে পাঠ করতে পারেন জার্মান নওমুসলিম ও সাবেক জার্মানি রাষ্ট্রদূত মুরাদ উইলফ্রেজ হফম্যানের বই ‘ইসলাম ২০০০’।

বর্তমান যুগে মুসলমানদের দুরবস্থার আরো কারণ খুঁঁজে বের করা যেতে পারে। পরিস্থিতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
বড় সমস্যাগুলো :

সবচেয়ে বড় সমস্যা এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গারাও মুসলমান আর যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে সেই বাংলাদেশও মুসলমান প্রধান। মুসলমান রাষ্ট্রগুলো যদি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্রগুলোর মতো শক্তিশালী হতো, তাহলে মিয়ানমার সোজা পথে আসত। কিন্তু বাস্তবতা হলো দুটি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্র তাদের পক্ষে। এমনকি তথ্যে প্রকাশ, উত্তর কোরিয়ার সাহায্যে মিয়ানমার পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

সমূহবিপদ বাংলাদেশের সামনে। এদিকে আসামের বাঙলাভাষী দেড় কোটি মুসলমানকে বিতাড়ন করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য।

সউদী আরব, মিসর ও আমিরাত এখন সরাসরি ইসরাইলের দালালে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একনায়ক নেতাদের গদিই মুখ্য দেশজাতিধর্মের চেয়ে। শেষ জামানায় ইহুদিরা নাকি মক্কামদীনা ছাড়া সমগ্র আরব ভ‚মিই দখলে নেবে। তারই কি এই আলামত?

ফিলিস্তিনের সমূহ বিপদ এখন। কারণ ইসরাইল নয়, একটা মুসলিম দেশ সউদী আরব এর কারণ। সউদী আরব ফিলিস্তিনিদের বলছে ইসরাইলের নিকট নতজানু হতে।

সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুসলিমবিরোধী প্রেসিডেন্ট গদিতে। তিনি ইসরাইল ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তিনি সর্বত্র ইসলামি টেররিস্ট দেখেন। তাঁর চোখে খ্রিস্টান, হিন্দু টেররিস্ট চোখে পড়ে না। ট্রাম্পের হঠাৎ করে নেয়া যে কোনো কঠিন পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের সমূহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের শিরায় জার্মান রক্ত।

এদিকে ট্রাম্প সউদী আরব ও ইসরাইল ইরান ধ্বংসের অ্যাজেন্ডা নিয়ে এগুচ্ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, কেন পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো ইরানকে হুমকি দিচ্ছে? ইসরাইলের সুস্পষ্ট রেফারেন্সে মধ্যপ্রাচ্যের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য, এই অঞ্চলে ইসরাইলকে একমাত্র পারমাণবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। (তথ্য রয়টার্স)

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মাইক পম্পেও প্রথম দফাতেই যান ইসরাইল, সউদী আরব ও জর্ডান। প্রত্যেক জায়গায় তিনি ইরানকে তীব্র ভাষায় দোষারোপ করে বলেছেন, বিশ্বে সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হলো ইরান। তিনি এ দাবিও করেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।

ইসরাইল ও ট্রাম্প গংয়ের এই নীতির তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এরদোগানকেই যে আবার দ্বিতীয়বার হত্যার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালাবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আমরা আগেই বলেছি, ইসরাইল তথা পাশ্চাত্য এখন গোয়েন্দা সন্ত্রাস ব্যবহার করে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে। এই কৌশল আমরা পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরেও দেখেছি।

পাশ্চাত্য মুসলমানদের ভেতর অনৈক্য সৃষ্টি করে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান প্রভৃতি মুসলিম দেশে দোজখের অবস্থা সৃষ্টি করেছে। আর হতভাগা মুসলমানরা পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র অনুধাবনেই ব্যর্থ। কি ব্যর্থ নেতৃত্ব চলছে এইসব দেশে। উত্তর কোরিয়াকে শিক্ষা দিতে লিবিয়া মডেল প্রয়োগ করা হবে, বলেন মার্কিন কট্টরপন্থ’ী নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন। এই বোল্টনই আফগানিস্তানের অন্যতম খুনি। লিবিয়া মডেলের উদাহরণ টানাই হলো মুসলমানদের কাটা ঘায়ে লবণের ছিঁটা দেয়া। এটা মুসলমানদের সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মাইন্ডসেট’ আর কি।

এদিকে চীনেও অশান্তি। মুসলমানেরা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে ইচ্ছুক। কিন্তু সে স্থানীয় মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে। তাদের রোজা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আর রোহিঙ্গাদের প্রতি চীন রাশিয়ার অনৈতিক অবস্থান হতাশাব্যঞ্জক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করে বলতে হয়, যদি মুসলমানেরা নিজেদের অনৈক্য ভুলে এক না হয়, তাহলে নবী (সা🙂 শেষ যুগের হতভাগা মুসলমানদের সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তাই অপেক্ষা করছে। ওআইসিকে এখনই শক্তিশালী না করলে আরো বড় বিপদ রয়েছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমন্বিত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি অবলম্বন করতে পারে, ওআইসি কেন পারবে না। অথচ আল্লাহ ও রাসূল (সা🙂 মুসলমানদের সিঁসাঢালা প্রাচীরসম ঐক্যের উপদেশ দিয়েছেন।

লেখক : ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

নারী ও পুরুষের নামায পদ্ধতি ভিন্ন

মুহাম্মাদ ফজলুর রহমান : নারী ও পুরুষের গঠনের মধ্যে সৃষ্টিগত দিক দিয়ে আল্লাহ তাআলা কিছুটা ভিন্নতা করেছেন। তাই মেয়ে ও পুরুষের আব্রু এক রকম নয়। যেমন নারীদের মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরয। অথচ পুরুষের নাভীর উপর থেকে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ঢাকা ফরয বা অপরিহার্য। শারীরিক ইবাদত যেমন নামায, হজ্জ ইত্যাদি পালনেও বিভিন্নতা রয়েছে। এবং এটাই স্বাভাবিক। অথচ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের প্রায় দেড় হাজার বছর পর এসে আজকাল কেঊ কেঊ নারী ও পুরুষের নামায একই রকম বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা মহিলাদেরকে পুরুষদের মত নামায পড়তে বলেন। তারা আরও বলেন যে, নারী ও পুরুষরগণ ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে নামায পড়বে এমন কোন সহীহ হাদীস নেই। তারা বুখারী শরীফের একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এরা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমানঃ আমাকে যে ভাবে নামায পড়তে দেখ, সে ভাবে তোমরাও নামায পড়। বুখারী শরীফের এ হাদীসটি হল তাদের মূল দলিল। অথচ নারীপুরুষের নামাযের পার্থক্য রেখেই হুযুর সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবী আযমাঈনের যুগ পার হয়েছে। তারপর তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, মুজতাহিদীন ইমামগণ তাদের জীবন পার করেছেন। নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত মহাপুরুষগণ সারা জীবন তাদের মাবোনদের ভুলভাবে নামায আদায় করা শিখান নি?

বুখারী শরীফের যে হাদীসটি ভ্রান্ত মতবাদীরা দলীল হিসাবে পেশ করেন, সে হাদীসটি মূলত হযরত মালেক বিন হুয়াইরেস (রাঃ) এর সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর বিশ দিনের মত রসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন। নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণের সময় তিনি কিছু নসিহতের জন্য হুযুর সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুরোধ করেন। তখন হুযুরেপাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমাকে যে ভাবে নামায পড়তে দেখেছ, সে ভাবে নামায পড়বে। এই হাদীসে নারীদের নামায পড়া প্রসঙ্গে কোন বিষয়ই ছিল না।

বিভিন্ন ইবাদতে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন পুরুষ ও মহিলাদের হজ্জের মধ্যে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। হজ্জ সম্পর্কে রসূলে করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমাকে যে ভাবে হজ্জ করতে দেখ, তোমরাও সেভাবে হজ্জ কর। অথচ আমরা সবাই জানি, পুরুষনারীদের হজ্জের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। হজ্জের সময় পুরুষদের মাথা খোলা রাখতে হয় এবং নারীদের মাথা ঢেকে রাখতে হয়। নারীরা এহরাম বাঁধার সময় পুরুষদের মত দু’খানা কাপড় পরিধান করে না। তাওয়াফের সময় মহিলারা পুরুষদের মত রমল করেনা। সা’ঈ শেষে নারীরা পুরুষদের মত মাথা মুণ্ডন করে না। এরূপ নারীপুরুষের হজ্জের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমরা সবাই জানি এবং মেনে নেই যে, নারীগণ পুরুষদের মত হজ্জের ক্রিয়াকর্ম করবেনা।

পুরুষমহিলার হজ্জের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে তদ্রুপ নামাযের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ হতেই মুসলমান পুরুষ ও নারীগণ কিছুটা আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে নামায আদায় করে আসছেন। একজন নারী যদি পুরুষের মত কেবল মাত্র লুঙ্গী পরিধান করে অর্থাৎ নাভীর উপর থেকে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত ঢেকে নামায পড়ে, তাহলে আপনি কি তা মেনে নিবেন? কক্ষণই না। তদ্রুপ নারীগণ যদি তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষের মত হাত কান পর্যন্ত উঠায়, দাঁড়ান অবস্থায় দু’হাত সীনার পরিবর্তে পুরুষের ন্যায় নাভীর নীচে বাঁধে, সেজদায় গিয়ে পুরুষের মত নিতম্ব উঁচু করে রাখে তাতে কি আব্রু ঠিক থাকবে? রসূলে করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাহাবী আজমাঈনগণ, সাহাবী আজমাইনগণ থেকে তাবেঈগণ, তাবেঈগণ থেকে তাবে তাবেঈগণ ধারাবাহিকভাবে একের পর এক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম নামায শিখেছে এবং পড়ে আসছে। এভাবেই রসূলেপাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন স্ত্রীদের নামায শিখিয়েছেন। তাদের থেকে অন্যান্য মহিলা সাহাবীগণ শিখেছেন। এভাবে ধারাবাহিকভাবে নামায আদায়ের পদ্ধতি আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীসের কেতাবে পুরুষমহিলার নামায আদায়ের পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে। মু’জামে তবরানী কাবীর কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, হযরত ওয়ায়েল (রাঃ) বলেন, আমাকে রসূলে করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ হে ওয়ায়েল! যখন তুমি নামায আরম্ভ করবে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবে এবং মহিলারা উভয় হাত সীনা পর্যন্ত উঠাবে। মু’জামে তবরানী কাবীরঃ খ. ২২, পৃ. ১২/১৯, হা.১৭৪৯৮। ইমাম বাইহাকী (রঃ) উল্লেখিত হাদীসের বর্ণনাকারীদেরকে “সেক্বাহ” অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

মারাসিলে আবু দাউদ এবং বাইহাকীর সুনানে কুবরাতে উল্লেখ আছে, হযরত ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’জন মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশ্যে) বলেনঃ তোমরা যখন সেজদা করবে, শরীরের কিছু অংশ যমিনের সাথে মিলিয়ে নিবে। কেননা, মহিলারা সেজদারত অবস্থায় পুরুষের মত নয়।

প্রকৃত পক্ষে পুরুষ ও স্ত্রীলোকের নামায প্রায় একই রকম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন হাদীসের আলোকে নারী ও পুরুষের নামাযের পার্থক্য নিন্মে বর্ণনা করা হলোঃ

১। তকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষ চাদর ইত্যাদি হতে হাত বের করে কান পর্যন্ত উঠাবে, যদি শীত বা অন্যকোন কারণে হাত চাদরের ভিতরে রাখার প্রয়োজন না হয়। স্ত্রীলোক চাদরের ভিতর থেকে হাত বের করবে না; চাদর বা কাপড়ের ভিতর রেখেই কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে। তাহতাবী

২। তকবীরে তাহরীমা বলে পুরুষ নাভীর নীচে হাত বাঁধবে। কিন্তু স্ত্রীলোক সীনার উপর হাত বাঁধবে। তাহতাবী।

৩। পুরুষ হাত বাঁধার সময় ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠ আঙ্গুলী দ্বারা হালকা বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরবে এবং ডান হাতের অন্য তিনটি আঙ্গুল অর্থাৎ অনামিকা, মধ্যমা এবং শাহাদাত আঙ্গুল বাম হাতের কলাইর উপর বিছিয়ে রাখবে। আর স্ত্রীলোক শুধু ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠের উপর রাখবে, হাতের কব্জি বা কলাই ধরবে না। দুররুল মুখতার।

৪। রুকু করার সময় পুরুষ এমনভাবে ঝুঁকবে যেন মাথা, পিঠ এবং চুতর এক বরাবর হয়। কিন্তু স্ত্রীলোক এ পরিমাণ ঝুঁকবে যাতে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে।

৫। রুকুর সময় পুরুষ হাতের আঙ্গুলগুলি ফাঁক ফাঁক করে হাঁটু ধরবে। আর স্ত্রীলোক আঙ্গুলগুলি বিস্তার করবে না বরং মিলিয়ে হাত হাঁটুর উপর রাখবে।

৬। রুকু অবস্থায় পুরুষ কনুই পাঁজর হতে ফাঁক রাখবে। আর স্ত্রীলোক কনুই পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখবে। মারাকী।

৭। সিজদায় পুরুষ পেট উরু হতে এবং বাজু বগল হতে পৃথক রাখবে। পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক পেট রানের সাথে এবং বাজু বগলের সাথে মিলিয়ে রাখবে।

৮। সিজদায় পুরুষ কনুই মাটি হতে উপরে রাখবে। পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক কনুই মাটির সাথে মিলিয়ে রাখবে। মারাকী।

৯। সিজদার মধ্যে পুরুষ পায়ের আঙ্গুলগুলি কেবলার দিকে মুড়িয়ে রেখে উহার উপর ভর দিয়ে পায়ের পাতা দু’খানা খাড়া রাখবে। অপরদিকে মহিলারা উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে। মারাকী।

১০। বসার সময় পুরুষ ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি কেবলার দিকে মুড়িয়ে রেখে উহার উপর ভর দিয়ে ডান পায়ের পাতাটি খাড়া রাখবে এবং বাম পায়ের পাতা ডান দিকে বিছিয়ে উহার উপর বসবে। পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক পায়ের উপর বসবে না; বরং চুতর অর্থাৎ নিতম্ব মাটিতে লাগিয়ে বসবে এবং উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে দিবে এবং ডান রান বাম রানের উপর ও ডান নলা বাম নলার উপর রাখবে। মারাকী।

১১। স্ত্রীলোকের জন্য উচ্চ স্বরে কেরাআত পড়বার বা তকবীর বলারও এজাযত নেই। মহিলারা সবসময় সব নামাযে কেরাআত ( তকবীর, তাসমী ও তাহমীদ) চুপে চুপে পড়বে। শামী।

আশা করি উপরোক্ত আলোচনায় আমাদের নিকট এটা স্পষ্ট বা পরিষ্কার হয়েছে যে, পুরুষ ও নারীর নামায আদায়ের পদ্ধতি এক নয়; কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহুতাআলা আমাদের সকলকে জেনে বুঝে সঠিক ভাবে আমল করার তৌফিক দান করুণ। আমীন!

চলাফেরা ও উঠা-বসায় ২০টি সুন্নতি পদ্ধতি

. কোনো কিছু আরম্ভ করার পূর্বে = বিসমিল্লাহ

. কোনো কিছু করার উদ্দেশ্য = ইনশাআল্লাহ্

. কোনো বিস্ময়কর বিষয় দেখলে = সুবহানাল্লাহ

. কষ্টে ও যন্ত্রণায় = ইয়া আল্লাহ

. প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ = মাশাআল্লাহ

.ধন্যবাদ জ্ঞাপনে = যাজাকাল্লাহ

. ঘুম থেকে জাগ্রত হবার পর = লাইলাহাইল্লাল্লাহ

. শপথ নেয়ার সময় = ওয়াল্লাহি বিল্লাহি

. হাঁচি দেয়ার পর = আলহামদু লিল্লাহ

১০. অন্য কেউ হাঁচি দিলে = ইয়ার হামুকাল্লাহ

১১. জিজ্ঞাসার জবাবে = আলহামদু লিল্লাহ

১২. পাপের অনুশোচনায় = আসতাগফিরুল্লাহ

১৩. পরপোকার করার সময় = ফি সাবিলিল্লাহ

১৪. কাউকে ভালোবাসলে = লিহুব্বিল্লাহ

১৫. বিদায়ের সময় = ফিআমানিল্লাহ

১৬. সমস্যা দেখা দিলে = তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ

১৭. অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে = নাওযুবিল্লাহ

১৮. আনন্দদায়ক কিছু দেখল = ফাতাবারাকাল্লাহ

১৯. প্রার্থনায় অংশগ্রহণ শেষে = আমীন

২০. মৃত্যু সংবাদ শুনলে = ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন

[আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সুন্নাত মুতাবিক চলার তৌফিক দান করুক] আমিন

মহিলাদের ঈদের বা মসজিদে এসে নামায পড়ার বিধান

মহিলাদের জন্য ঈদগাহে বা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায পড়া মাকরূহ। তবে যদি নামায পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে।

নারীদের আসল স্থান হল তাদের বসবাসের ঘর। নারীদের মসজিদে এসে নামায পড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পছন্দ করতেন না। তবে যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার নবী। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে ওহী নাজিল হতো। তাই নারীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জমানায় ওহীর বানী শুনার জন্য মসজিদে আসতো। এটি ছিল শুধুই প্রয়োজনের তাগিতে।

যে প্রয়োজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওয়েসাল শরীফ দ্বারা বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রয়োজনীয় দ্বীন শিখা প্রতিটি নরনারীর জন্য আবশ্যক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সেই দ্বীনের বাহক। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ে যেহেতু সময়ে সময়ে দ্বীনের বিধান অবতীর্ণ হতো, তাই পুরুষ সাহাবীদের সাথে মহিলা সাহাবীরাও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে এসে সেই দ্বীন শিখতে চেষ্টা করতেন। সেখানে পুরুষ নারী এক সাথে হওয়ার কারনে কোন ফিতনার আশংকা ছিল না।

কিন্তু বর্তমানে সেই আশংকা ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করেছে। তাই ফুক্বাহায়ে কেরাম নারীদের ঈদগাহে ও মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে নিষেধ করেন। এটা না জায়েজ নয়, তবে মাকরূহ। সেই সাথে ইসলামের মূল স্পিরিটের বিপরীত পদ্ধতি। কারণ ইসলামের মূল থিউরী হল নারীরা থাকবে বাড়িকে সৌন্দর্য মন্ডিত করে। রাস্তাঘাটে অবাধে বিচরণ এটা তাদের কাজ নয়। নিম্নের হাদীসগুলো দেখুন

عن عبد الله بن سويد الأنصاري عن عمته امرأة أبي حميد الساعدي : أنها جاءت النبي صلى الله عليه و سلم فقالت : يا رسول الله صلى الله عليه و سلم إني أحب الصلاة معك فقال : قد علمت أنك تحبين الصلاة معي و صلاتك في بيتك خير من صلاتك في حجرتك و صلاتك في حجرتك خير من صلاتك في دارك و صلاتك في دارك خير من صلاتك في مسجد قومك و صلاتك في مسجد قومك خير من صلاتك في مسجدي فأمرت فبني لها مسجد في أقصى شيء من بيتها و أظلمه فكانت تصلي فيه حتى لقيت الله عز و جل

হযরত আব্দুল্লাহ বিন সুয়াইদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু হুমাইদ আস সায়িদী এর স্ত্রী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমি আপনার সাথে নামায পড়তে পছন্দ করি। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনআমি জেনেছি যে, তুমি আমার সাথে নামায পড়তে পছন্দ কর। অথচ তোমার একান্ত রুমে নামায পড়া উত্তম তোমার জন্য তোমার বসবাসের গৃহে নামায পড়ার চেয়ে। আর তোমার বসবাসের গৃহে নামায পড়া উত্তম তোমার বাড়িতে নামায পড়ার চেয়ে। আর তোমার বাড়িতে নামায পড়া উত্তম তোমার এলাকার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে। আর তোমার এলাকার মসজিদে নামায পড়া উত্তম আমার মসজিদে [মসজিদে নববীতে] নামায পড়ার চেয়ে। তারপর তিনি আদেশ দিলেন তার গৃহের কোণে একটি রুম বানাতে। আর সেটিকে অন্ধকারচ্ছন্ন করে ফেললেন। তারপর সেখানেই তিনি নামায পড়তেন মৃত্যু পর্যন্ত। (সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং১৬৮৯, ইলাউস সুনান/২৬)

এ হাদীস কি প্রমাণ করছে? মহিলারা মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামায পড়বে এ নির্দেশ কার? যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের মসজিদে আসাকে অপছন্দ করে থাকেন, তাহলে সেখানে আমি কে যে, তাদের মসজিদে আসা/ঈদগাহে আসা পছন্দ করবো?

অন্য আরেকটি হাদীস দেখুন

عن أبي عمرو الشيباني أنه رأى بن مسعود يخرج النساء من المسجد ويقول أخرجن إلى بيوتكن خير لكن

হযরত আবু আমর বিন শায়বানী থেকে বর্ণিত। তিনি দেখেছেনহযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মহিলাদের মসজিদে থেকে বের করে দিতেন। আর বলতেন যে, মসজিদের চেয়ে তোমাদের জন্য ঘরই উত্তম।

মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং৫২০১,

মুসান্নাফে ইবনুল জি’দ, হাদীস নং৪২৯

সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং৫৪৪১

আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং৯৪৭৫।

ভাল করে খেয়াল করুন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অপছন্দ করেন, আমরাও তা অপছন্দ করি। যে বঞ্চনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রিয় সাহাবীর আমল। সেটি আমাদের গলার মালা। যদিও সেটি সাহাবা বিদ্বেষীদের অপছন্দ হয়ে থাকে।

عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلمقَالَتْ لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم– مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ. قَالَ يَحْيَى فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَمُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ قَالَتْ نَعَمْ.

হযরত আমরাতা বিনতে আবদির রহমান বলেনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মীনী হযরত আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেনযদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের এখনকার অবস্থা জানতেন, তারা কি করে? তাহলে তাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন যেভাবে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছে ।

ইয়াহইয়া বলেনআমি আমরাতাকে বললামবনী ইসরাঈলের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে? তিনি বললেনহ্যাঁ।

মুসলিম শরীফ/১৮৩, হাদীস নং১০২৭

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং৫৬৯

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং২৫৯৮২

মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং২৫৯

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং৫৪০

আপনি কি বলতে চান যে, ইবনে মাসঊদ মসজিদে মহিলাদের কে আসতে নিষেধ করে, পাথর মেরে মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে রাসূলের বিরোধীতা করেছেন? বহু আমল আছে, যেগুলো সাহাবাগণের আমলের দ্বারা পরিবর্তন হয়ে গেছে যুগের প্রয়োজনে।

আম্মাজান আয়েশা রাঃ বলেছেন, রাসূল সাঃ যদি এ যুগের অবস্হা দেখতেন তাহলে বনী ইসরাইলের নারীদের মত মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। পর্দার ব্যাপার আছে। নামায যেমন ফরজ পর্দাও তেমনি ফরজ। কিন্তু মসজিদে যাওয়া অন্তত ফরজ ওয়াজিব কিচ্ছু না। মুস্তাহাব পালন করতে গিয়ে পর্দা লঙ্ঘনের কোন সুযোগ নাই।

আপনি নিশ্চয় দাড়ি একমুষ্ঠি রাখার পক্ষে। এখন বলুন এটা কোথায় পেলেন? একটি হাদীসেও দাড়ি একমুষ্ঠি রাখার কথা পাবেন না। এটা সাহাবাগণের থেকে প্রমাণীত। এখানে তো হাদীস খুঁজেন না। হাদীস খুঁজেন মহিলাদেরকে মসজিদে আনার। কুরআন ত্রিশ পারা এটা কোন হাদীসে নাই।এটা সাহাবাগণের গড়া। এটাকি মানেন না। রাসূল সব সময় লুঙ্গি পরতেন। তাও ফাড়া। পায়জামা পরেন নি। আপনি কি করেন?

এবার ভেবে দেখুনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওয়েসাল শরীফের পর মুসলিম নারীরা এমন কি পোশাক পড়তেন, যার কারনে আম্মাজান হযরত আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা একথা বলেছেন? আর বর্তমান নারীদের পোশাকের দৃশ্য দেখলে আম্মাজান আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কী বলতেন?

নবী স.এর যুগে প্রথমত ফিতনার সম্ভবনা ছিলো কম, দ্বিতীয়ত; মহিলারা বাইরে বের হতেন সাজসজ্জাবিহীন ৷ তাই নামাজের জামাতে তাদের উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিলো ৷ তবে নবী স.এর পর তারা সাজসজ্জার পদ্ধতি অবলম্বন করেছে ৷ তাছাড়া ফিতনার সুযোগও বেড়ে গেছে ৷

এরপরও যে সকল বন্ধুগণ মহিলাদেরকে মসজিদে নিয়ে নামাজ পড়ানোর জন্য কঠোর অবস্থানেতাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলি, মহিলাগণ মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার স্বপক্ষে যে সকল হাদীস রয়েছে, সে সকল হাদীসের উপর আমল করার বিধান মানসখতথা রহিত হয়ে গেছে ৷ তথাকথিত আহলে হাদীস, সালাফী দাবিদার লামাযহাবীদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, “সুরা আহযাবের 33 নং আয়াতে রব্বে কারীম মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, وقرن في بيوتكن الخ তথা তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো ৷ কেননা, ঘর হতে তাদের বের হওয়া ফিতনার কারণ ৷

উল্লেখিত সুরা আহযাবের 33 নং আয়াত নাযিল হওয়ার পর থেকে নিয়ে একজন সাহাবী মহিলামসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারবে না ? আর যে সকল হাদীস দ্বারা সাহাবী মহিলারামসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়েছেন বলে প্রমাণিত,তার বিধান রহিত হয়ে গেছে, উল্লেখিত আয়াত নাযিল হওয়ার দ্বারা ৷যা আয়াতের শানে নুযুল জানা মাত্র ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট হওয়ার অবকাশ রাখে না ৷ এছাড়াও খুলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাহঃ 11 হিযরীতে রাসুলের ওফাতের পর 30 হিযরী পর্যন্ত খুলাফায়ে রাশেদীন বহু সাহাবীদের উপস্থিতে ঈদ ও জুমআর নামাজ পড়িয়েছেন , সেই 30 বৎসরের মধ্যে কেউ মহিলাদেরকে মসজিদে নিয়ে জামাতে নামায পড়ানোর জন্য আন্দোলন করেন নাই ৷বলাবাহুল্য , তারাই ছিলেন রাসুল স.এর যোগ্য ও স্বার্থক উত্তরসূরী, যাদের ব্যাপারে রাসুলেই ইরশাদ করেছেনعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي تمسكوا بها وعضوا بالنواجذ তোমরা আমার সুন্নাহ ও আমার পরে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অবলম্বন করবে এবং মজবুতভাবে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে রাখবে ৷

আলোচ্য বিষয়ে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ ও তাই যারাসুল স.এর সুন্নাহ ৷ সুতরাং এর ব্যতিক্রমের কোনো সুযোগ নেই ৷

3/ ইজমায়ে সাহাবাঃ রাসুল স.এর ইন্তেকালের পরে সর্বশেষ এ পৃথিবী থেকে যে সাহাবা ইন্তেকাল করেন,তিনি হলেন হযরত আবু তোফায়েল আমর ইবনে ওয়াসেলা লাইসী রা.৷ তার জীবনেও এমন একটি জুমআ ও ঈদ পাওয়া যায়নি যে, তিনি মহিলাদের ঘরে নামাজ পরিবর্তনের পক্ষপাতি ছিলেন ৷

4/ ইজমায়ে উম্মাতঃ চার ইমাম তথা ইসলামি আইনজ্ঞ মনীষীগণ এ ব্যাপারে একমত যে,বর্তমান ফিতনার কাবলে জুমআ ও ঈদে মহিলাদের কোনো অবস্থাতেই মসজিদে নেওয়া কাম্য নয় ৷ রাসুল স.এর মৃত্যুর পর থেকে নিয়ে এদেশে বৃটিশ শাসনামলের পূর্ব পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহে ফাটল সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় অযৌক্তিক আন্দোলন কোন লোকেই করেন নাই ৷

উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে জমহুর উলামাদের ফতুয়া হলো, বর্তমান যুগে মহিলাদের ঈদগাহে ও মসজিদে আসা মাকরূহ – – তা জুমআ হোক কিংবা দুই ঈদের নামাজ হোক ৷

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা ঐ ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কোনো হাদীস শুনেছে। অতঃপর অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সুনানে আবু দাউদ ২/৫১৫

ইসলামের শাশ্বত বাণী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সকল মুসলমানের দায়িত্ব । সুতরাং শেয়ার ও ট্যাগ করতে ভুলবেন না।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সহীহ আক্বিদা বুঝার এবং বাতিল আক্বিদাকে প্রত্যাখান করার তাওফিক দান করুন । আমীন

মসজিদে না যাওয়া সম্পর্কিত হাদীসসমূহ

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ، كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ، ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلاَةَ، لاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْغَلَسِ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) তিনি বলেন; মুসলিম মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে ফজরের জামা’আতে হাযির হতেন। অতঃপর সালাত আদায় করে তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন। আবছা আঁধারে কেউ তাঁদের চিনতে পারতো না। [] সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৮ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস এ ব্যাপারে আর কোনো অভিমত থাকার কথা নয়।

. আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

لو أدرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أحدث النساء لمنعهن كما منعت نساء بني إسرائيل

যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্তমানকালের মহিলাদের অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। যেমন নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাইলের মহিলাদেরকে।’ (সহীহ বুখারী ১/২৯৬)

. আবু আমর শাইবানি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি.কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন, আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম। (আলমুজামুল কাবির ৯৪৭৫, মজমাউযযাওয়াইদ ২/৩৫) আল্লামা হাইছামি বলেন, এই রেওয়ায়তের সকল বর্ণনা কারী সিকাহনির্ভরযোগ্য।

. জবাইর ইবন আওয়াম রাযি. তাঁর পরিবারের কোন নারিকে ঈদের জামাতে যেতে দিতেন না । ( মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ ৫৮৪৬)

হাদিস ১

হযরত উম্মে হুমাইদ (রাযিঃ) একবার রাসূলে মাকবুল (সাঃ) –এর খিদমতে হাজির হয়ে আরয করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সাথে নামায পড়ার আমার খুবই ইচ্ছে হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন আমি জানি, তুমি আমার সাথে নামায পড়তে ভালবাস। কিন্তু মনে রেখ, বন্ধ ঘরে তোমার নামায পড়া খোলা ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর খোলা কামরার নামায বারান্দার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর বারান্দার নামায মহল্লার মসজিদে নামাযের চেয়ে উত্তম। আর মহল্লার মসজিদের নামায আমার মসজিদের (মসজিদে নববী) নামাযের চেয়ে উত্তম। এই এরশাদ শ্রবণের পর হযরত উম্মে হুমাইদ (রাযিঃ) স্বীয় ঘরের সবচেয়ে নির্জন কোণে বিশেষভাবে নামাযের জায়গা তৈরী করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই নামায পড়তে থাকেন । (মুসনাদে আহমাদ, ছহীহ ইবনে খুযাইমা, ছহীহ ইবনে হিব্বান, সূত্র, তারগীবঃ ১১৩৫)

ইবনে খুযাইমা এই হাদীস বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন, মহিলাদের স্বীয় ঘরে নামায পড়া মসজিদে নববীতে নামায পড়ার তুলনায় হাজার গুণে উত্তম। যদিও মসজিদে নববীতে নামায পড়া অন্য মসজিদে নামায পড়ার তুলনায় হাজার গুণে উত্তম। কিন্তু এই ফযীলত শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য, মহিলাদের জন্য নয়।

হাদিস ২

হযরত উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, মহিলাদের বদ্ধ কামরার মধ্যে নামায পড়া খোলা কামরায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর খোলা কামরার নামায বারান্দার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর ঘরের বারান্দার নামায মহল্লার মসজিদের নামাযের চেয়ে উত্তম। (তাবারানী শরীফসূত্রকানযুল উম্মালঃ ৮২৬৮)

হাদিস ৩

হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ) রাসূলে কারীম (সাঃ)- এর ইরশাদ নকল করেন যে, নারী জাতি গোপন থাকার জিনিস। তারা যখন বারী থেকে বের হয় তখন শয়তান তাদেরকে মানুষের দৃষ্টিতে তুলে ধরে। পক্ষান্তরে মহিলারা স্বীয় বাড়ীর সবচেয়ে গোপন স্থানে আল্লাহ পাকের অধিক নৈকট্য লাভ করে থাকে। (তাবারানী ফিল আওসাত সূত্রতারগীবঃ ১১৩৬)

হাদিস ৪

হযরত ইবনে সালামা (রাযিঃ) রাসূলে কারীম (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম মসজিদ হলো তাদের বারীর গোপন কক্ষ। (ছহীহ ইবনে খুযাইমা, মুসতাদরাকে হাকেম সূত্রতারগীব)

রমজানের ঐ রোজার শেষে গেল খুশির ঈদ

মোহাম্মদ আবদুল গফুর : এক মাস রমজানের রোজার শেষে ভালয় ভালয় আমাদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে গেছে। ঈদুল ফিতর শুধু আমাদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব নয়, দেশের সর্বপ্রধান জাতীয় উৎসবও বটে। তাই গ্রামের আপনজনদের সাথে এ উপলক্ষে কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য শত কষ্ট মেনে নিয়ে রাজধানীর লোকেরা গ্রামে ছুটে গিয়েছিল, যাদের অনেকেই এখন ঢাকায় ফিরে এসেছে। যারা এখনও আসতে পারেনি তারাও গ্রামের আপনজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে বাংলাদেশের জনগণের আসল নিবাস এখনও গ্রামে। সুযোগ পেলেই তারা ছুটে যায় গ্রামের আপনজনদের সাথে ক’টা দিন কাটাতে। সম্ভবত এ কারণেই ইংরেজিতে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে : বাংলাদেশ লিভস ইন ভিলেজেস। যারা গ্রামে থাকে তারা তো বটেই, তবে যারা চাকরি, ব্যবসাবাণিজ্য বা জরুরি কারণে রাজধানীতে থাকতে বাধ্য হয়, তাদেরও মন পড়ে থাকে গ্রামে। সামান্যতম সুযোগ পেলেই তারা সংক্ষিপ্ততম সময়ের জন্য হলেও গ্রামে গিয়ে হাজির হয়।

ঈদুল ফিতর নানা কারণেই আমাদের দেশে প্রধান জাতীয় উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়। একটা বড় কারণ তো এই যে, এই ঈদুল ফিতর আসে পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার পর। রমজান মাস তা সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল বয়স্ক সুস্থ মুসলমান শুধু পানাহার নয়, বৈধ যৌনাচার থেকেও বিরত থেকে আল্লাহর নির্দেশ পালনের এই অনন্য কঠোর সাধনার পরীক্ষা দিয়ে থাকে। তাদের এই বিরত থাকার মেয়াদ মৌসুম ভেদে ১৪১৫ ঘণ্টা থেকে ১৭১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এই দীর্ঘ সময় পানাহার বর্জন করে থাকা এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু সায়েম বা রোজাদাররা এই কঠোর সাধনায় অংশগ্রহণ করে শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে।

এই দীর্ঘ ১৭১৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের এমন অনেক সুযোগ আসে তারা কিছু পানাহার করতে পাবে তাদের ক্ষুধা বা পিপাসা নিবারণের লক্ষ্যে। কিন্তু এ ধরনের সুযোগ পাওয়া সত্তে¡ও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করে না এই ভেবে যে, কোনো মানুষ তাদের এই পানাহার না দেখলেও আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা, তিনি তো দেখছেন। এই যে শুধু আল্লাহর ভয়ে তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধনের জন্য রোজাদার সিয়াম সাধনা করে, এ কারণে আল্লাহ বলেন, রোজাদার রোজা রাখে শুধু আমার জন্য, তাই তার ছওয়াব বা পুরস্কার আমি নিজে দেবো।

এ তো গেল সিয়াম সাধনার সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার সম্পর্কের কথা। সিয়াম সাধনার সামাজিক দিকও রয়েছে এবং তাও মোটেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রোজা পালনের মাধ্যমে ধনীরা দরিদ্রদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করতে সক্ষম হয়। এর ফলে তারা সমাজের অভাবী মানুষের দুঃখ অনুভব করে অভাবীদের অভাব মোচনের লক্ষ্যে তাদের মধ্যে বিবেকের দংশন অনুভব করতে সক্ষম হয়। ফলে তার মধ্যে মানবিকতা বোধ জাগ্রত ও জোরদার হয়। এর ফলে রোজাদারদের মধ্যে ভালো মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা হয় প্রবলতর।

মানুষের দৈহিক অস্তিত্ব ও সুস্থতার জন্য নিয়মিত ব্যবধানে তার পানাহারের ব্যবস্থা অত্যাবশ্যক। এটা প্রাকৃতিক দাবিও বটে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ একটা নির্দিষ্ট সময় স্বেচ্ছায় এই প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে। প্রতিদিন সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্তÍ সময়কালের পর প্রকৃতিসম্মত ব্যবস্থায় ফিরে যায়। এই সময়টায় যে কাজের মাধ্যমে মাহে রমজানে প্রতিদিন তারা এই কাজটা সম্পন্ন করে তাকে বলা হয় ইফতার, তথা প্রাকৃতিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন। মাহে রমজানে প্রতিদিন যে কাজের মাধ্যমে মানুষ প্রাকৃতিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করে তাকে ই বলা যায় ইফতার বা প্রাত্যহিক প্রত্যাবর্তন, তেমনি যে সেদিতানেটায় মানুষ সারা বছরের জন্য রমজানের রোজান্ধ করার জন্য উৎসব পালন করে, তার নাম ফিতরের উৎসব তথা ঈদুল ফিতর।

ইসলামে উৎসব পালনের নামে লাগামহীন আনন্দ বা ভোগবিলাসের অবকাশ নেই। সেখানেও ধর্মের মূল মর্মবাণীর আলোকে উৎসব পালনের বিধান রয়েছে। পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার সুযোগদানের জন্য আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশে শোকরিয়া জ্ঞাপনের লক্ষ্যে এলাকার সকল মুসলমান এক স্থানে জমায়েত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। শুধু তাই নয়, সেখানে তারা ধনীদরিদ্র, দেশীবিদেশী এ এলাকাসে এলাকারা সকল মুসলমান সকল ভেদাভেদ ভুলে পাশাপাশি দু’রাকাত নামাজ আদায় করে এবং নামাজের পরপর সকল বিভেদসাম্য ভুলে গিয়ে পরস্পর কোলাকুলি করে ইসলামের সামাজিক আদর্শের মূল মর্মবাণী সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও আমরা গত ১৬ জুন শনিবার মাহে রমজান শেষে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত পালন করেছি। কিন্তু আমরা কি আমাদের বুকে হাত দিয়ে জোর করে বলতে পারি আমাদের রোজা আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে কি না? পারি না। কারণ রোজা রেখে মিথ্যা, পরনিন্দা, গীবত প্রভৃতি থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছি, তা জোর করে বলতে পারি না। রোজা রেখে রাসূলুল্লাহর (সা.)-এর সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি পরনিন্দারত থাকাকালে সময়কালে তিনি বলেছিলেন, তার ক্ষুৎ পিপাসায় কষ্ট পাওয়া ছাড়া কোনো লাভ হচ্ছে না।

এই হাদিসের আলোকে যদি বিগত রমজান মাসের আমাদের সামগ্রিক কাজকর্র্মের বিচার করি, তাহলে প্রমাণিত হবে, আমাদের অনেকেরই রোজা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। শুধু তাই নয়, সিয়াম সাধনার অন্যতম লক্ষ্য এমন সমাজ গড়ে তোলার সাধনা করা, যে সমাজেরা ধনসম্পদ যেন শুধু গুটি কয়েক ধনীর হাতে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সিয়াম সাধনা ফরজ হত্তয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে। কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামো কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিনা কাবলিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। সে নিরিখে সিয়াম সাধনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। তাকওয়ার অর্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে কণ্টকপূর্ণ পথ দিয়ে চলার সময় যেমন প্রতি মুহূর্তে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, যাতে আমরা কণ্টকের আঘাত থেকে রক্ষা যেতে পারি।

জীবনকে উচ্চস্তরে পৌঁছে দেয়াই জন্যই সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য। জীবনকে মহত্বের উচ্চস্তরে পৌঁছে দেয়া যে সিয়াম সাধনার লক্ষ্য, তাকে আমরা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে পানাহার অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখে প্রমাণ করেছি যে, আমরা সিয়াম সাধনার মূল মর্মবাণীই বুঝতে সক্ষম হইনি। সিয়াম সাধনাকে দিনের বেলা পানহার থেকে বিরত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে আমরা সিয়াম সাধনার গভীর মর্মবাণী বুঝতে শুধু ব্যর্থতারই পরিচয় দেইনি, প্রকৃত সিয়াম সাধনা মানুষের জীবনে যে সর্বাঙ্গীণ ও সামগ্রিক পরিবর্তন আনতে তাকিদ দেয় সেটা অনুুধাবন করতেও ব্যর্থ হয়েছি। ফলে আমাদের সিয়াম সাধনা মধ্যে শুধু রমজানের এক মাস পানাহার বর্জনে মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অথচ সিয়াম সাধনা এমন এক সাধনা যার সুপ্রভাব রমজানপরবর্তী বাকি এগারো মাসেও পড়তে বাধ্য। যে ব্যক্তি সিয়াম সাধনায় পূর্ণ সফলতা অর্জন করে সে প্রকৃত অর্থেই তাকওয়া অর্জন করে বলে তার এই তাকওয়া অর্জনের সুপ্রভাব বছরের বাকি এগারো মাসও পড়তে বাধ্য। এ কারণেই সিয়াম সাধনা সম্পর্কে হাদিসে কুদসীতে আল্লাহর জবানীতে বলা হয়েছে : সিয়াম শুধু আমার (আল্লাহর) জন্য, তাই আমি নিজে সিয়ামের প্রতিদান দেবো। সিয়াম সাধনার সুপ্রভাব কোনোক্রমেই শুধু মাহে রমজানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সিয়ামের সুপ্রভাব সারা বছরই পড়তে বাধ্য। রমজান মাস শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা পানাহার ও অন্যান্য অচরণে যেমন লামামছাড়া হয়ে উঠি, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায়, আমাদের সিয়াম অনেকটাই ব্যর্থ হয়ে গেছে। বিশ্বনবীর আমলের বিখ্যাত ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে বলতে হয়, এক মাস আমাদের ক্ষুৎ পিপাসায় কষ্ট পাওয়াই সার হয়েছে।

সিয়াম সাধনাকে সার্থক করতে হলে তাই যেমন মাহে রমজানের পূর্ব থেকেই এ জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করতে হবে, তেমনি রমজানপরবর্তী মাসসমূহেও আমাদের সচেতন সাধনা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সিয়াম ও সাধনা সার্থক করতে হলে আমাদের গোটা বছরই এবং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র জীবনভরই সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।