আর্কাইভ

Archive for the ‘তথ্যপ্রযুক্তি’ Category

মোবাইল কি আপনার পেছনে গোয়েন্দাগিরি করছে?

xiaomi-mi5s-plusযখন আমরা বিনামূল্যের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করি আর সেটিতে নানা শর্তে সম্মতি দেই, তখন কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি যে, এসব অ্যাপ আমাদের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানতে পারছে? কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেক শর্ত আসে বা সম্মতি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো না পড়েই সবাই ‘ওকে’ করে দেন। তার মানে সেই অ্যাপটিকে ফোনের অনেক তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হলো। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আমরা কি কথা বলি বা কি বার্তা পাঠাই,পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর,মোবাইলের ছবি বা ভিডিও এমনকি আমাদের আর্থিক তথ্যও।

মূলত বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকে। হয়তো কোনো সামপ্রতিক মেডিকেল টেস্টের তথ্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়,যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে। অথবা সামপ্রতিক কোনো বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে যাবে বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে।

তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন,এরকম একজন ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলছেন,“এখন বিশ্বে কোনো কিছুই ফ্রি নেই। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের,পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন।”

ভাকুল শর্মা বলছেন,“ফোনের এসব তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করছে। যার ফলে তার পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য প্রস্তাব করা যায়।” বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কোম্পানি থেকে তথ্য কেনে। তারপর গ্রাহক অনুযায়ী,তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অফার করা হয়।

ধরা যাক আপনি হয়তো ইলেকট্রনিক পণ্য পছন্দ করেন,তখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনার কাছে অফার আসবে। অথবা আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন,তখন বিভিন্ন ট্রাভেল কোম্পানি বা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নানা আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেতে থাকবেন। ভাকুল শর্মা বলছেন,যখন আমরা মোবাইলে একা কাজ করি,ফেসবুক বা টুইটারে লিখি,তখন আসলে আমরা নিজেদের মতো করেই সেখানে কাজ করি। ফলে সেখানে প্রত্যেকের একেবারে নিজস্ব চরিত্রের ছাপ থেকে যায়। আর এর ফলে আমাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়ে যায় এসব অ্যাপস। আর ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এলগরিদমও ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভারতের মতো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখনো এসব ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষার জন্য আইন তৈরি হয়নি। কেউ জানেনও না এসব তথ্য কোথায়,কার কাছে,কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতে এখন এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইন করার দাবি উঠছে। অনেকে বলছেন,যেহেতু এসব কোম্পানি সাধারণ নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে,এসব টাকার ভাগ এই নাগরিকদেরও পাওয়া উচিত। তবে এর সবচেয়ে বড় সমাধান হলো,যখনই কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা হবে,তখনই খুব ভালো করে দেখে নেয়া যে,সেটি ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কতটা নাক গলাতে চায়। আপনি এসব অ্যাপকে আপনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কতটা অনুমতি দিতে চান,সেটাও আপনার ওপরই নির্ভর করছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রীতরাজ সিং বলছেন,“মোবাইল, অ্যাপ বা ইন্টারনেটে আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যত কম তথ্য দেবেন,তত নিরাপদ থাকবেন। কারণ আমাদের কারো জানা নেই,আজ থেকে ১০/২০ বছর পরে এসব তথ্যের কি হবে।”

সূত্র: বিবিসি

Advertisements

৫৭ বিলিয়ন তথ্য পাচার করেছিল ফেসবুক !

facebook-1আলেক্সান্ডার কোগানকে অব্যাহতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিবিড়ভাবে তার সঙ্গে কাজ করেছে ফেসবুক। কোগানের বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষককে ৫৭ বিলিয়ন ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের তথ্য দিয়েছিল ফেসবুক। সেখান থেকেই গ্রাহকদের তথ্য নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ফেসবুকের দুজন কর্মীও যুক্ত ছিলেন গবেষণার কাজে। কেমব্রিজ, হার্ভাড, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও ছিলেন দলে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

ফেসবুক তথ্য বেহাত নিয়ে যে আলোচনার মূলে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. কোগানের একটি অ্যাপ, যার নাম ছিল ‘দিস ইজ ইওর ডিজিটাল লাইফ’। সরাসরি ২ লাখ ৭০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হলেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের বন্ধুতালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

এভাবে সংগৃহীত প্রায় ৫ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য থেকে তাদের মানসিক অবস্থার চিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ভুয়া খবর ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করতে ওইসব তথ্য ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকার ক্রিস্টোফার উইলি প্রতিষ্ঠানটির এই তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সবকিছু ফাঁস করে দেন।

কেমব্রিজের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,‘এটা ক্রেমব্রিজের স্পেকট্রের ল্যাব ও ফেসবুকের মাধ্যমে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।’ ফেসবুক অবশ্য এই নিয়ে মন্তব্য করেনি।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টো সেন্টার ফর ডিজিটাল জার্নালিজম এর গবেষণা পরিচালক জোনাথন আলব্রাইট বলন, ফেসবুকের এমন তথ্য প্রকাশ করাটা স্বাভাবিক নয়। এটা অবশ্যই আলক্সজান্ডার কোগানের সঙ্গে ফেসবুকের একটি সমঝোতা ছিল।

তবে ফেসবুকের মুখপাত্র ক্রিস্টিন চেনের দাবি,তারা এই তথ্যের গুরুত্ব ‍বুঝতে ভুল করেছে। ২০১৩ সালে কোগানের সঙ্গে তথ্য শেয়ারের ব্যাপারে তিনি বলেন,তাদেরকে শুধু সংখ্যা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কতজন এই সময়ে বন্ধুত্ব করেছে শুধু সেই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছিল।কোনও ব্যক্তিগত তথ্য সেখানে ছিল না।’

একটা সময় কোগানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ফেসবুকের। কোগান চেন বলেন,‘আমরা যখন জানতে পারি তিনি ফেসবুকের শর্ত ভেঙে অ্যাড ডেভেলপ করছেন তখন তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ইতি টানি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম এই তথ্য বেহাতের কথা জানতে পারে ফেসবুক।’

সেসময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে এই বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে কোগানের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানে ফেসবুক।

১৬ মার্চ শুক্রবার অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়,কোগান ওই ৫ কোটি মার্কিনির তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন। ফেসবুক এক বিবৃতি দিয়ে কোগানের ব্যাপারে জানায়,‘তিনি ফেসবুকের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছেন।’

মঙ্গলবার আরেকটি বিবৃতিতে ফেসবুক জানায়,পুরো প্রতিষ্ঠান প্রতারিত বোধ করছে এবং তারা ক্ষুব্ধ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও কোগানের এই কাজকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে কোগানের সঙ্গে কিভাবে তাদের এত ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো। এবং এতদিন পর্যন্ত তাদের দূরত্বের কথা চাপা থাকলো সেই বিষয়ে কোনও ব্যাখা দেয়নি ফেসবুক।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে কোগান আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন,‘ফেসবুক ও কেমব্রিজ অ্যানালিটিকিয়া দুই পক্ষই আমাকে বলির পাঠা বানাচ্ছে।’

ফেসবুকের এই কাজটি শুরু করে কোগানের প্রতিষ্ঠা করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সাইন্স রিসার্চ  কেমব্রিজের আরেকজন গবেষক জোসেফ চ্যান্সেলরকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন তিনি। চ্যান্সেলর বর্তমানে ফেসবুকে কর্মরত। ২০১৫ সালের জুন থেকে আগস্ট মাসে জিএসআর ফেসবুকের ২ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহককে প্রশ্ন করে। তাদের বন্ধুদের কাছ থকেও তথ্য নেয়। সবমিলে পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকেরও তথ্য চলে আসে তাদের কাছে। ফেসবুকের দাবি এখানেই কোগান শর্তভঙ্গ করেছেন। তাদের বলা হয়েছিল যে,শুধুমাত্র গবেষণার কাজে তথ্যগুলো ব্যবহার করার কথা ছিল।

এক ইমেইল বার্তায় কোগান বলেন,২০১৩ সালে তিনি গবেষণার কাজেই ফেসবুক অ্যাপটি তৈরি করেছিলেন। সেবছরই জিএসআর প্রতিষ্ঠার পর তিনি বেশ কয়েকটি গবেষণা করেন। জিএসআর প্রতিষ্ঠার পর অ্যাপসটি এর আওতায় এনে নাম ও লোগো পরিবর্তন করেন তিনি। তখন আর সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হিসেবে থাকে না। তিনি বলেন,‘আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে এটা বাণিজ্যিক কাজেই ব্যবহৃত হবে। শুধু শিক্ষা বা গবেষণার কথা আমরা কখনও বলিনি। আমরা গ্রাহকদের কাছে স্পষ্ট করে অনুমতি চেয়েছি যে তাদের তথ্যগুলো আমরা ব্যবহার করবো। প্রয়োজনে বিক্রি ও লাইসেন্সও করে রাখবো। কিন্তু ফেসবুক এই বিষয়ে কিছুই বলছে না।’

শুধু কোগানই ফেসবুকের সমালোচনা করছেন না। আলব্রাইটও বলেন,‘আমার কাছে মনে হয় ফেসবুকই বেশি তথ্য জানিয়েছে। তারা এমন ব্যবস্থা কেন করলো যার মাধ্যম গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য জানা যায়।’ 

তথ্য ফাঁসকারী ক্রিস্টোফার উইলি অবজারভারকে বলেন,‘ফেসবুক জানতো যে কোগানের অ্যাপে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই এটা জানান দেয়। কোগান তখন দাবি করেছিল এটা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে। ফেসবুক তখন তাতে সায় দেয়।’

তবে কেমব্রিজ থেকে পাঠানো ইমেইলে কোগান এসব দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলেছেন। তিনি বলেন,‘এই বিষয়ে ফেসবুকের সঙ্গে কোনও আলাপ হয়নি। আমরা কখনোই দাবি করিনি যে এটা শিক্ষা বা গবেষণা কাজে ব্যবহৃত হবে। কারণ আমাদের তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনও সংযোগ নেই।’

২০১৫ সালের কোগান ও ফেসবুকের গবেষকদের ওই রিপোর্টের তথ্যগুলোও ফেষবুক অ্যাপের মাধ্যমে নেওয়া হছিল। ফেসবুক ৫৭ বিলিয়ন বন্ধুত্বের তথ্য দিয়েছিল আর সেখান থেকে ছোট ছোট তথ্য খুঁজে বের করেছিল কেমব্রিজের গবেষকরা। তাদের তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে জড়িত ছিল না ফেসবুক। গবেষকদের দাবি,অনুমতি নিয়েই গ্রাহকদের তথ্য নেওয়া হয় এখাবে কোনও প্রতারণা করা হয়নি। ২০১৫ সালে আগস্টে সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেপ্টেম্বরেই জিএসআর ছেড়ে চলে যান চ্যান্সেলর। নভেম্বরে যোগ দেন ফেসবুকে। ফেসবুক বা চ্যান্সেলর কেউই এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

ফেসবুক নিরাপদ রাখতে করণীয়

Facebook 5 -artসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। দিন যত যাচ্ছে ততই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আপনার ফেসবুক কতটা নিরাপদ? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হচ্ছে। ফলে বিপদে পড়ছেন অনেকেই। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে ফেসবুক নিরাপদ রাখার কিছু সহজ উপায়।

বিনামূল্যে নোটিফিকেশন সুবিধা

ব্যবহারকারীদের বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ নোটিফিকেশন সুবিধা প্রদান করছে ফেসবুক। যখন কোনো কম্পিউটার অথবা মোবাইল থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢোকা হবে তখন টেক্সট মেসেজ নোটিফিকেশন আপনার কাছে যাবে। এরপর বুঝতে পারবেন কে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করছে।

তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা

ফেসবুকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ্লিকেশনের অভাব নেই। কিন্তু হ্যাকাররা অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আইডির নিয়ন্ত্রণ কব্জা করে থাকে। অনেক অ্যাপ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো ব্যবহার করে থাকি কিন্তু ব্যবহার শেষে সেগুলো মুছে ফেলতে কিংবা নিষ্ক্রিয় করতে ভুলে যাই। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপটি কতটুকু নিরাপদ তা ব্যবহারের আগে ভালো করে যাচাই করে নিন।

ফেসবুকের মেইল থেকে সতর্ক

ফেসবুক থেকে কোন মেইল এলে সতর্ক থাকুন। ইনবক্সে ঢুকেই যদি মেলে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করে বসেন, বিপদে পড়বেন। কারণ ওই মেইল হয়তো ফেসবুক থেকে আসেইনি। ইদানীং কিছু অত্যাধুনিক কৌশল কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ওঁত পেতে রয়েছে আপনার সর্বস্ব হাতানোর জন্য। নেটওয়ার্কিং সাইটে আপনার গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে তারা। ফেসবুক প্রোফাইলে আপনার উপস্থিতি কিছুদিন টের না পেলেই একটি বিশেষ ধরনের মেইল ও তার সঙ্গে লিঙ্ক পাঠাচ্ছে আপনার ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মেইল আইডিতে। সেই মেইলে লেখা থাকছে, ‘আপনি বেশ কিছুদিন ফেসবুকে ছিলেন না। আপনার মেসেজগুলো শিগগিরই ডিলিট হতে চলেছে। এর সঙ্গেই আপনাকে দুটো অপশন দেওয়া হবে। ‘ভিউ মেসেজ’ এবং ‘গো টু ফেসবুক’। এর কোন একটিতে ক্লিক করলেই আপনার যাবতীয় তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে।

একাধিক অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ

একই ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা আগেও নিষিদ্ধ ছিল। তবে খুব একটা কড়াকড়ি ছিল না। এখন এ বিষয়ে ফেসবুক খুব কঠোর নিয়ম মেনে চলছে। ফলে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

দ্বিস্তর ভেরিফিকেশন

বিপদের হাত থেকে কিছুটা নিরাপদ রাখতে ফেসবুক ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ সুবিধা চালু করেছে। এটি ব্যবহার করলে প্রতিবার নতুন ডিভাইস/ব্রাউজারে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেবায় (উদাহরণস্বরূপ ফেসবুকে) সাইন-ইন করার সময় ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড ইনপুট করার পরেও সেখানে আরেকটি পিন কোড দিতে হবে। এই কোডটি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আসে। এগুলোকে সিকিউরিটি কোডও বলা হয়, যা প্রতিবারই সার্ভার থেকে পাঠানো হয়।

ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড এবং সেলফোন নম্বর

দ্বিস্তর ভেরিফিকেশন সক্রিয় থাকা যে কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে চাইলে কমপক্ষে তিনটি বিষয় দখলে থাকতে হবে। সেগুলো হচ্ছে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড এবং যে মোবাইল নম্বরে সেবাটি রেজিস্ট্রেশন করা আছে। ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড নিয়ে নিলেও একই সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটি হ্যাকারের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই ফেসবুকে সাইন-ইন করার সময় সিস্টেম যখন মোবাইলে এসএমএসে আসা পিন চাইবে তখন সেটি তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না। আর এই যাত্রায় আপনার অ্যাকাউন্টটিও হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। লগইন অ্যাপ্রুভাল চালু করতে চাইলে প্রথমে আপনার ফেসবুকে সাইন-ইন করুন।

এরপর ফেসবুক Account Settings > Security সেকশনে থাকা Login Approvals-এর Require me to enter a security code each time an unrecognized computer or device tries to access my account-এ চেক মার্ক করুন। এবার Next ক্লিক করে মোবাইলে SMS এ প্রাপ্ত কোড লিখে Next চাপুন এবং Save বাটনে ক্লিক করুন।

এন্টিভাইরাস ব্যবহার

আপনার পিসির জন্য কিলগার অথবা রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান [RAT] খুবই বিপজ্জনক। এগুলোর হাত থেকে বাঁচার জন্য সঠিক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

বিজ্ঞাপনে সতর্কতা

বিজ্ঞাপনে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখ করে কিছু লিখতে পারবেন না। মনে করুন, আপনি শার্ট বিক্রি করেন। বিজ্ঞাপনে এই ‘শার্টটি ভালো’ বলার সুযোগ থাকলেও ‘শার্টটি ভালো গ্রেগ’ লেখার সুযোগ নেই।

এছাড়াও কোনো লিঙ্কে ক্লিক করলে কোনো শপিং ওয়েবসাইট বা বিজ্ঞাপনের পাতায় পৌঁছে যেতে পারেন। আপনাকে সেখানে নিয়ে ফেলতে পারলে তাতেও সাইবার দুর্বৃত্তদের যথেষ্ট লাভ। কারণ কোনো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা ওয়েবসাইটে ক্লিক বাড়াতে পারলেই প্রতি ক্লিকের জন্য অর্থ পায় তারা। সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে সেই ওয়েবপেজের হাতে চলে আসতে পারে আপনার গোপন নথিও।

ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক কি ?

4G

4G -3

4G-2

কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে বাংলায় লেখা

bangla writing

ফেসবুকীয় শব্দের দৈনন্দিন ব্যবহার !

fb chat

 

FB- events

 

FB- fake account

FB- friend request

fb notification

FB- searching

FB-group

FB-settings

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কীবোর্ড ‘একুশে বাংলা’

kb1

kb2