আর্কাইভ

Archive for the ‘তথ্যপ্রযুক্তি’ Category

বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার

মোস্তাফা জব্বার :এই সে দিনও কেউ জানত না বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার কে? কার হাত ধরে ৫৩ বছর আগে আমরা কম্পিউটারের যুগে পা ফেলেছিলাম- সেটি বিস্তৃতপ্রায় অতীত। অতি সম্প্রতি বিষয়টি আমাদের মিডিয়ার নজরে পড়েছে। সেটিও একটি সম্মাননা পাওয়ার পর। এই বিষয়টি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় এভাবে বলা হয়েছে-‘দেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হানিফ উদ্দিন মিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননা জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৫ শীর্ষক মেলার সমাপনী আয়োজনে হানিফ উদ্দিন মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। …বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৫ শীর্ষক মেলার সমাপনী আয়োজনে হানিফ উদ্দিন মিয়ার সন্তান এবং স্ত্রীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত’।

অনেকটা পাদপ্রদীপের আলোয় না থাকা প্রয়াত এই প্রোগ্রামার এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। পত্রিকাটি আরো লিখেছে-জানা গেছে, মূলত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারের প্রচেষ্টাতেই তাকে পুরস্কৃত করেছে আইসিটি বিভাগ ও বিসিএস। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী দেশের এই প্রথম প্রোগ্রামার সম্পর্কে কেন অজ্ঞাত ছিল দেশবাসীর এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফা জব্বার জানান, তিনি আসলে অনেকটা অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন। তবে দেশের প্রতি তার টান ছিল অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটারটি আসে ১৯৬৪ সালে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে)। সেটি ছিল আইবিএম মেইন ফ্রেম ১৬২০ কম্পিউটার। বৃহদাকৃতির ওই কম্পিউটারটি স্থাপন করতে দুটি বড় রুম ব্যবহার করতে হয়েছিল। ঢাউস আকারের সেই কম্পিউটারটিকে ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনে স্থাপন করা হয়। এটি ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ডিজিটাল মেইন ফ্রেম কম্পিউটার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম কম্পিউটার আইবিএম ১৬২০ তার হাত ধরেই। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে (টিএসসি সংলগ্ন) সেটি স্থাপিত হয়। পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা এবং দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রোগ্রাম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং নানামুখী গবেষণা কাজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম কম্পিউটারটি কেন স্থাপিত হয়েছিল, তা জানা প্রয়োজন। মোস্তাফা জব্বার জানান, পাকিস্তান সরকার তখন কম্পিউটারটি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের পরমাণু শক্তি কমিশনে স্থাপনের পরিকল্পনা করে। তবে হানিফ উদ্দিন মিয়া ছাড়া অন্য কেউ এ কম্পিউটার তদারকি এবং পরিচালনার যোগ্য ছিলেন না। এজন্য সরকার হানিফ উদ্দিন মিয়াকে পশ্চিম পাকিস্তানে যাওয়ার আহ্বান জানালো। ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন হানিফ উদ্দিন। ফলে কম্পিউটারটি ঢাকার আণবিক কমিশনে স্থাপনে অনেকটা বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

সমকাল হানিফ উদ্দিন মিয়ার শিক্ষা ও পেশা নিয়ে আরো লিখেছে,‘কম্পিউটারের সঙ্গে সখ্য হলো কীভাবে হানিফ উদ্দিন মিয়ার- এটি জানতে হলে ফিরে যেতে হবে তার তারুণ্যে। বাংলাদেশের গৌরব, নাটোরের এই কৃতীসন্তান পরমাণু বিজ্ঞানী হানিফ উদ্দিন মিয়া ১৯২৯ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের সিংড়ার হুলহুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলশিক্ষক বাবা রজব আলী তালুকদারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি। সংসারে অভাব না থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য জায়গির থাকতে হয় তাকে। ১৯৪৬ সালে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৮ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসিতেও প্রথম বিভাগ লাভ করেন।

এরপর ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এমএসসি পরীক্ষায় ফলিত গণিতে প্রথম শ্রেণিতে স্বর্ণপদকসহ প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর ১৯৬০ সালে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন থিওরি এন্ড অটোমেশন, চেকোস্লোভাক একাডেমি অব সায়েন্স, প্রাগ থেকে অ্যানালগ কম্পিউটার টেকনিক এবং ডিজিটাল কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে সিস্টেম অ্যানালিসিস, নিউমেরাল ম্যাথমেটিকস, অ্যাডভান্স কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, অপারেশন রিসার্চে এমআইটি (যুক্তরাষ্ট্র) কম্পিউটার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে আইবিএম রিসার্চ সেন্টার লন্ডন থেকে অপারেটিং সিস্টেম ও সিস্টেম প্রোগ্রামিংয়ে ট্রেনিং করেন। তারপর তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় প্রোগ্রামার অ্যানালিস্ট হিসেবে অ্যানালাইসিস, ডিজাইন, সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশন অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি অঙ্কশাস্ত্র ও কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামের এই কৃতীসন্তান বাংলাদেশ এটোমিক এনার্জি কমিশনের কম্পিউটার সার্ভিস ডিভিশনের ডিরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স ও নিউমেরাল ম্যাথমেটিকস থাকা সত্তে¡ও শিল্প-সাহিত্যসহ আরো নানাবিধ বিষয়ে জ্ঞানার্জনের প্রতি তার ছিল অপরিসীম আগ্রহ। তিনি বাংলা ও ইংলিশ ছাড়াও উর্দু, আরবি, হিন্দি, জার্মান ও রাশিয়ান ভাষা জানতেন।

পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ফরিদা বেগম ও এক ছেলে এবং দুই মেয়ে সন্তানের জনক দেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. হানিফ উদ্দিন মিয়া। ছেলে শরীফ হাসান দীর্ঘ ২৩ বছর সিমেন্স বাংলাদেশে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি হাউসিং কোম্পানিতে কাজ করছেন। অন্যদিকে তার মেয়ে ডোরা শিরিন পেশায় একজন ডাক্তার। আর অপর মেয়ে নিতা শাহীন গৃহিণী।

এদিকে ২০০১ সালে দেশে ব্যবহৃত প্রথম কম্পিউটারটিকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। এর এক বছর আগে ২০০০ সালে নিজ গ্রাম হুলহুলিয়া হাইস্কুলে দুটি আইবিএম ডেস্কটপ কম্পিউটার উপহার দেন তিনি। এরপর থেকেই এই গ্রাম থেকে ডাক্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কম্পিউটার প্রকৌশলীর সংখ্যা। ছোট্ট এই গ্রাম থেকে বেড়ে উঠেছেন শতাধিক প্রকৌশলী। ২০০৭ সালের ১১ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি বিভিন্ন সময়ে গণিতশাস্ত্র ও কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলাদেশ গণিত সমিতিরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বাংলাদেশ কম্পিউটার বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সঙ্গে মো. হানিফ উদ্দিন মিয়ার নাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

Advertisements

ইন্টারনেটে এক মিনিটে যা ঘটে…

1 minute in internet

বিটকয়েন এক ধরণের বিশেষায়িত মুদ্রা!

bitcoin

নিজের শক্তিতেই ভরসা !

চীনের উইচ্যাটের আদলে আমাদের দেশে বাংলাচ্যাট বা বাংলাসংযোগ জাতীয় নাম দিয়ে বাংলা ভাষায় এমন অ্যাপ এবং পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় সাধনকারী ব্যবস্থা শীঘ্র চালু করা দরকার । এজন্য সরকার উদ্যোগ ও অর্থায়ন করে বেসরকারী খাতের উপর বিকাশের ভার তুলে দিতে পারে ।

lunjhou gansu province

২০১১-তে শুরু। এখন ২০১৭। ছয় বছরেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মাত করেছে দুনিয়াকে। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক সুবিধা। যা এই অ্যাপসকে পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভাবনী অ্যাপস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অল্পদিনেই। বলছিলাম উইচাটের কথা। দুনিয়াজুড়ে যখন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল আর ইনস্টগ্রামের মাতামাতি তখন চীনে ভরসা একটাই। তা হচ্ছে উইচাট। নিজের শক্তিতে ভরসা চীনের নাগরিকদের। তোয়াক্কা নেই দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে? কান দিচ্ছে না কোনো কিছুতেই। তাইতো বিশাল এই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রমাণ করেছে তারা এগিয়ে নিতে চায় তাদের উদ্ভাবনী প্রতিভাকে। বলা হয় সব কিছুর চাইনিজ সংস্করণ আছে। তারা তাদের সৃষ্টিশীলতাকে শ্রদ্ধা করে। ভালোবাসে। শুধু ইলেক্টনিক্স সামগ্রী বা ইন্টেলিজেন্ট সার্চ ইঞ্জিন তা-ই নয় চাইনিজ বাজারে দেখেছি আপেল, কমলা, বেগুন, কাঁচামরিচ, আম, টমেটো, বড়ইসহ বেশকিছু খাদ্যদ্রব্যের চাইনিজ প্রজাতি। আর ডিজিটাল সব কিছুই চীনারা নিজস্ব প্রযুক্তিই ব্যবহার করে। প্রথমদিন থেকেই টের পেয়েছি উইচাট কতটা শক্তিশালী। ঢাকা থেকে লাওশিরা বলে দিয়েছে সবাইকে উইচাটের অ্যাকাউন্ট খুলতে। মোবাইলে উইচাটের অ্যাপস ইনস্টল করতে। চীন উইচাট ছাড়া অচল। অবশ্য ঢাকায় থেকেও টের পাচ্ছিলাম চাইনিজদের দেশপ্রেম। কারণ, ভ্রমণ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি বা কোনো তথ্য জানতে চেয়েছি লাওশিরা সব কিছু আদান-প্রদান করছেন উইচাটে। যাবতীয় কনফারমেশন ম্যাসেজ আসছে উইচাটেই। এ ছাড়া সবাই অন্ধ। চৌদ্দদিন কুনমিং অবস্থানকালে আর কিছু সঙ্গী হোক না হোক উইচাট ছিল আমাদের তথ্য ভা-ার। রাতে ঘুমাতে যাওয়া আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই উইচাট। নতুন ঘোষণা কি? আজকের অনুষ্ঠান কি? দিনের ছবি শেয়ার করা। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা। গাড়ি ছাড়ার সময় সবই দেয়া থাকতো উইচাটে। এমনকি আমাদের গাইড আমরা যেন হারিয়ে না যাই সেজন্য সবাইকে তার উইচাট নাম্বার শেয়ার করতেন। ঘোষণা দিয়ে দিতেন যখনই কোথাও আটকে যাবেন তখন উইচাটে কল করবেন। আমাদের যাদের কাছে উইচাট নাম্বার ছিল না অর্থাৎ পৃথক ফোন নিতে পারিনি তারাও ডায়েরিতে লিখে রাখতাম উইচাট নাম্বার। কারণ, বিপদে পড়লে ভরসা একটাই। উইচাটে নাম্বার কারো সাহায্য নিয়ে রক্ষা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকায় যার উইচাট নাম্বারে অ্যাকাউন্ট আছে তাকে খুব সহজেই ফ্রি কল করা যেত। মুহূর্তেই আদান-প্রদান করা যত ছবি কিংবা ভিডিও। কিন্তু চীনে অবস্থান আর চীন থেকে ফেরার পর পর্যন্ত যে ধরনের তথ্য পাচ্ছি উইচাট নিয়ে তাতে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় বা প্রযুক্তির সংযোজনে উইচাট হয়ে উঠেছে তাদের চালিকা শক্তি। উইচাটে কি নেই এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

উইচাটের শুরু অল্পদিন। কিন্তু বছর যাচ্ছে আর নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে এতে। পুরো চীন যেন এখন উইচাটে। ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, পড়াশুনা, শপিং, গাড়িভাড়া, যাবতীয় যোগাযোগ তথ্য আদান-প্রদান সবই হচ্ছে উইচাটে। উইচাটের সুবিধা অনেক। বিস্তারিত এক লেখায় বলে শেষ করা যাবে না। তবে আমাদের দেশে ফেইসবুক যেভাবে মহামারির মতো অন্দরমহলে প্রবেশ করেছে। চীনে উইচাটও তাই। বরং চীন উইচাটকে ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে তাদের চলার আলোকবর্তিকার জায়গায়। উইচাট নেইতো চীনে আপনি অচল। বাংলাদেশের বেশ ক’জন ছাত্র বর্তমানে পড়াশুনা করছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদেরই একজন মিশকাত শরীফ। এক মাস হলো ইউনানে আছে। সে জানায় তাদের ডরমেটরিতে প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে ১৪টি ওয়াশিং মেশিন। সাতটি-সাতটি করে দু’পাশে এই ১৪টি ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু এর টাকা পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে উইচাটের মাধ্যমে। থ্রি আরএমবি করে পরিশোধ করলেই হলো। তারপর মেশিনে একবার যতগুলো কাপড় দেয়া সম্ভব তা দিয়ে আপনি চলে আসুন রুমে। কাপড় ধোয়া আর শুকানোর পর উইচাট আপনার মোবাইল ম্যাসেজ পাঠাবেÑ কাপড় প্রস্তুত। সাইকেলের গল্পতো আপনাদের বলাই হয়েছে। বারকোড স্ক্যান করে যে কোনো স্থান থেকে আপনি সাইকেল নিয়ে চলে যেতে পারেন শহরের যে কোনো স্থানে। পুরো চীনে প্রায় ১ কোটি সাইকেল এভাবেই চলছে উইচাটের মাধ্যমে। উইচাটে আপনি যে কোনো স্থান থেকে ক্যাশ ট্রান্সফার করতে পারেন। এটা ১ আরএমবি থেকে একলাখ আরএমটি পর্যন্ত। আমাদের সহযাত্রী টিমমেট টিপু ভাই আরএমবি সঙ্কটে পড়লে ইউনানের বাইরে অন্য এক প্রদেশে বাসরত এক বন্ধুর কাছ থেকে উইচাটের মাধ্যমে আরএমবি আনে। যা করতে ডলার ভাঙানোর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছন্দ। আমরা সাধারণত ফেসবুককে ব্যবহার করি সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে। কিন্তু ইউচাট সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষেত্রে ব্যবহার করে চীনারা। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে ভয়েস ম্যাসেজ, ম্যাসেজ, ভিডিও কল, গ্রুপ চ্যাট, ছবি-ভিডিও শেয়ার, মোমেন্ট বা স্মরণীয় মুহূর্ত শেয়ার করা যায়। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে লোকেশান সেট করা যায় উইচাটে। আপনি কোথায় আছেন তা লোকেশন সেট করে দিলে আপনার বন্ধু সহজেই আপনাকে খুঁজে বের করতে পারবে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে উইচাট ব্যাংক কার্ডের ভূমিকায় ব্যবহৃত হচ্ছে চীনে। আপনি সব ধরনের টিকিট তা ট্রেন, বাস, বিমান যাই হোক তার টিকিট কাটতে পারবেন এর মাধ্যমে। সব ধরনের বিল পরিশোধ করবেন তাও উইচাটের মাধ্যমে। সিনেমা দেখবেন তা থ্রিডি বা ফোর ডি যাই হোক না কেন সবই কাটতে পারবেন উইচাটে। আপনি ডাক্তার দেখাতে চান তাও সম্ভব উইচাটেই। আপনি আপনার রোগ বুঝে সেই ডাক্তারের সিরিয়াল নিন। আপনার সমস্যা ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাঠিয়ে দিন। সিরিয়াল পেয়ে যাবেন। ডাক্তার আগ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে আপনার জন্য।

মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক শুরু করেছিলেন ২০০৩ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল ফেসম্যাস। আর প্রধান কার্যক্ষেত্র ছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রতি মুহূর্তে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এটাকে ডিজিটাল জাতিসংঘ বললে ভুল হবে না। কিন্তু এই ফেসবুক এখনো প্রবেশ করতে পারেনি চীনে। ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সহধর্মিণী চীনের। জাকারবার্গ শিখছেন চীনের ভাষাও। চীন সফর করেছেন বেশ ক’বার। দেখা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে। কিছুতেই মন গলেনি চীনা কর্তৃপক্ষের। অনুমতি মিলেনি। চীনের বাইরে যারা বিদেশি তারা ভিপিএন বা সুপার ভিপিএন-এর মাধ্যমে ফেসবুক দেখার সুযোগ পান। তবে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। চীনারা বিশ্বাস করে তাদের নিজস্বতায়। তাই অন্য কোনো মাধ্যম তাদের বাছাই করতে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। দেড়শ’ কোটি মানুষের এই দেশ এক সময় নিজস্ব গ-িতেই আটকে ছিল। বেড়ে ওঠছিল কেবলই তাদের সংস্কৃতি নিয়ে। তাদের শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু এখন বদলাচ্ছে। চীনেও আসছে বিদেশি বিনিয়োগ। তবে সবই চীনের নিজস্ব আদলে। কাজেই দুনিয়া যখন ফেসবুক, গুগল, জি-মেইল, ইনস্টাগ্রাম আর টুইটার ছাড়া অচল। চীন তখন তার নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে মশগুল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি উইচাট ব্যবহার অনেক বেশি সহজ। উইচাট দিয়ে সবই করা যায় মুহূর্তেই। আমাদের সঙ্গে যে সব গাইডরা থাকত যে কোনো তথ্য জানতে চাইলে শরণাপন্ন হতো উইচাটের। এ যেন আলাদীনের চেরাগের মতোই। ঘষা দিলেই প্রদীপ থেকে এক দৈত্য এসে সব মুশকিল আসান করে দেয়। চীনে উইচাটের বাইরে-আরো দুইটি সোশ্যাল সাইটের নাম শোনা যায় একটি বাইদু আর অন্যটি ওয়েইবো। ওয়েইবো হচ্ছে টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট আর বাইদো হচ্ছে জনপ্রিয় আলোচনা ও বিতর্কের ফোরাম। তবে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থায় চীন সরকার। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য কঠোরভাবে নজরদারি করে সরকারি কমিশন। আর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনীতিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাকে করা হয় কঠোর নজরদারি। দেশের বাইরে থেকেও এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব নয়। কারণ ইন্টেলিজেন্ট সার্চ অপটিমাইজেশন দিয়ে এসব তথ্য নজরদারি করে সরকার। সবার আগে দেশের স্বার্থ এই বিবেচনাতেই এই নজরদারি। ২০১০ সালে কোয়াংচুতে একটি রিসার্স প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয় উইচাট। এর মূল ভার্সন ছিল ‘উইচিন’। যার যৌথ আবিষ্কারক সিয়াওলং ছাং ও মা হুইয়েতাং। অফিসিয়ালি ইউচাটের যাত্রা ২০১১ সালে। মাত্র ছয় বছরে উইচাট পৌঁছে গেছে সারা পৃথিবীর শীর্ষ সোশ্যাল মিডিয়ার একটিতে। যাত্রার প্রথম বছর ১০০ মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হয়-এর সঙ্গে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৮৮৯ মিলিয়ন মানুষ উইচাটে যুক্ত থাকে যার মধ্যে ৯০ ভাগই চীনা নাগরিক। ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপের তুলনায় এটি ব্যবহারকারীর দিকে পিছিয়ে থাকলেও খুব দ্রুতই গতিশীল উইচাট। প্রতিনিয়ত এতে নতুন নতুন অ্যাপস বা অপশন যুক্ত হওয়ায় এতে অনেক বেশি ব্যবহারকারী সংযুক্ত হচ্ছে।

কাজল ঘোষ, চীন থেকে ফিরে | ২১ অক্টোবর ২০১৭

স্মার্টফোন যেসব যন্ত্রপাতিকে অপ্রয়োজনীয় করে দিয়েছে !

smartphone made them extinct

প্রোগ্রামারের দৃষ্টিকোণ থেকে…

Forma-2.qxdForma-2.qxdForma-2.qxd

বদলে গেছে কম্পিউটার প্রকৌশল

abdullah al-faruqueকম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে বহু শিক্ষার্থীর। অনেকে পড়ছেন, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন আগের চেয়েও উন্নত হচ্ছে কম্পিউটার। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা? এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক

কম্পিউটার যখন প্রথম তৈরি হয়, তার আকৃতি ছিল বিশাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ছোট হতে শুরু করল। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন কম্পিউটারে আমরা যে ধরনের কাজ করতাম, এখন স্মার্টফোনেই তার চেয়েও জটিল কাজ করা যায়। এখন আস্ত একটা কম্পিউটার আপনার হাতঘড়ির মধ্যেই এঁটে যেতে পারে। এই যে কম্পিউটারের ছোট হয়ে আসা, এটা একটা বিরাট কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। আমরা যাকে বলছি ‘এম্বেডেড সিস্টেম’।

আমরা মানুষের চোখের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর ঢোকানোর চেষ্টা করছি। দেহের বিভিন্ন অংশে মাইক্রোপ্রসেসর বসানোর কাজ চলছে। গাড়ি এখন আর স্রেফ ‘ইলেকট্রো মেকানিক্যাল’ যন্ত্র নয়, গাড়ির মধ্যে প্রচুর মাইক্রোপ্রসেসর আছে। নতুন যে গাড়িগুলো বের হচ্ছে, এর বেশির ভাগই কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা এখন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের কথা বলছি। সমগ্র বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি। প্রকৌশলের সব শাখায় কম্পিউটার ঢুকে পড়েছে। এটাই হলো আগামী দিনের কম্পিউটার প্রকৌশলের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ আর সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র।

আমি যেমন কাজ করছি ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’ নিয়ে। কম্পিউটারকে সাধারণত বলা হয় ‘সাইবার সিস্টেম’। যেখানে হার্ডওয়্যার আছে, সফটওয়্যার আছে। কিন্তু এই কম্পিউটারই যখন অন্য কোনো যন্ত্র যেমন স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড কিংবা মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তাকে বলে ‘সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম’।

আমি মনে করি, কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের এখন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু প্রোগ্রামিং শিখে বা শুধু কম্পিউটার-বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে এগিয়ে থাকা যাবে না। স্বয়ংক্রিয় কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, বায়োমেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব শাখায় কম্পিউটার প্রকৌশলী প্রয়োজন। এখন কম্পিউটার প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়। আগে প্রকৌশলের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় প্রকৌশলীরা নিজেদের মতো করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। এখন তড়িৎকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল…সব শাখার প্রকৌশলীরা এক হয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। তাই এগিয়ে থাকতে হলে সব বিষয়েই জানতে হবে। অন্তত জানার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকতে হবে।

কাজটা কিন্তু খুব কঠিনও নয়। আমরা যখন বুয়েটে পড়তাম, আমরা জানতাম না, এমআইটির শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে কাজ করছে? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির একজন অধ্যাপক কী নিয়ে ভাবছেন? কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা নতুন কী নিয়ে গবেষণা করছেন? বিশ্বসেরা জার্নালগুলোতে কোন প্রবন্ধ নিয়ে কথা হচ্ছে?

এখন কিন্তু এসব জানা খুব সহজ। ইন্টারনেট সব সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে যে বিজ্ঞাননির্ভর জার্নালগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে ঢুঁ মারলেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন, এখনকার ‘ট্রেন্ড’ কী, প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ কী? জার্নালগুলোতে সব সময় আগামী দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়। শুধু এখনকার সময়ই নয়, ১০ বছর পরে টেকনোলজির ‘ট্রেন্ড’ কী হবে, সেসব নিয়েও আলোচনা থাকে জার্নালে। ছাত্রাবস্থায়ই বিজ্ঞাননির্ভর জার্নাল পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

একটা সময় দেখা যেত ভারতের আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) বা চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে ইউরোপ-আমেরিকার স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেতেন। বিশ্বমানের গবেষণার পাশাপাশি ওরা কিন্তু এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ওদের লক্ষ্য এখন উদ্যোক্তা হওয়া। সিলিকন ভ্যালিতে দেখবেন অনেক ভারতীয়, চীনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফার্ম আছে। ওরা ভবিষ্যৎ মার্ক জাকারবার্গ হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও দৃষ্টি থাকতে হবে দূরে। বিজ্ঞান গবেষণায় ও উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিতে চাইলে, আগামী দিনের পৃথিবীতে কোন প্রযুক্তির প্রভাব থাকবে, সেটা বুঝে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। কিন্তু এটা অসম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমি যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেখি, অনেকে ভালো করেন আবার অনেকে করেন না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় একটা ভয় কাজ করে। একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীকে হয়তো একজন জীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে। তাই বলে ভয় পেলে চলবে না। গবেষণার জন্য আমাকে যেমন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এখন যাঁরা কম্পিউটার প্রকৌশল পড়ছেন, একদিন হয়তো তাঁদেরও এমন কাজ করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। আমি আগে শিখিনি তো কী হয়েছে? শিখে নেব। যাদের সাহস থাকে, তারাই এগিয়ে যায়।

আমার অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, তারা কখনো বলে না, ‘আমি তো এটা করিনি। আমি তো এটা পারি না।’ হয়তো নতুন একটা সমস্যা নিয়ে আমরা আলাপ করছি। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মত জানায়, আলোচনায় অংশ নেয়।

আজকাল ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে। আইওটি হলো যেকোনো সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম নির্ভর প্রযুক্তিকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া। সব যন্ত্রের ভেতর মাইক্রোপ্রসেসর, সেন্সর, যোগাযোগের ক্ষমতা ঢুকে পড়ছে। এর ফলে যেটা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা’ নিয়েও এখন প্রকৌশলীদের ভাবতে হচ্ছে। ধরুন, একটা গাড়িতে যদি সফটওয়্যার থাকে, আমি কিন্তু আপনার গাড়ি হ্যাক করে ফেলতে পারব। মানবদেহের ভেতরে যদি কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বসানো হয়, আমি একটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আমি একটা পুরো শহরের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তাই ‘নিরাপত্তা’ও গবেষণার একটা বড় ক্ষেত্র। পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ (ডেটা অ্যানালাইসিস)…এসব নিয়ে প্রচুর পড়তে হবে।

আমি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী। নিশ্চয়ই আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামী দিনের প্রযুক্তির দিকনির্দেশনায় একটা বড় ভূমিকা রাখবে। (অনুলিখিত)

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেছেন। কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর জার্মানির আকেন টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে এবং পিএইচডি করেছেন কার্লসরুয়ে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে। গবেষণার জন্য থমাস আলভা এডিসন পেটেন্ট অ্যাওয়ার্ড, আই ট্রিপলই সিইডিএ আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেমস ল্যাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন এই বাংলাদেশি গবেষক। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক সম্পর্কে বিস্তারিত: aicps.eng.uci.edu