আর্কাইভ

Archive for the ‘তথ্যপ্রযুক্তি’ Category

স্মার্টফোনে আসক্তি হ্রাস করার কিছু কৌশল…

ডিসেম্বর 14, 2016 মন্তব্য দিন

smartphone-addiction

চোরের মা’র বড় গলাঃ মার্কিন নির্বাচনে রাশান ‘সাইবার হামলা’?

ডিসেম্বর 10, 2016 মন্তব্য দিন

সাইবার হামলায় ওস্তাদ মার্কিনীরা (সিআইএ) বানোয়াট ‘সাইবার হামলা’র অভিযোগ তুলেছে রাশানদের বিরুদ্ধে ! উদ্দেশ্য, সিরিয়ায় রাশানদের কাছে নাকানি-চুবানি খেয়ে ভিন্নভাবে প্রতিশোধ নেয়া ।

রাশিয়াকে কেন শিক্ষা দিতে চাইছেন ওবামা?

আরশাদ আলী : সাইবার হামলা কিংবা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাশিয়া মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে; এই অভিযোগ নতুন নয়। তবে শুক্রবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সাইবার আক্রমণে রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফের বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন। আগের মতোই নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বা প্রভাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের অন্তবর্তী দলের পক্ষ থেকে সিআইএকে ইঙ্গিত করে দাবি করা হয়েছে, সেই গোয়েন্দা সংস্থা এই অভিযোগ তুলছে যারা ইরাকে মানবধ্বংসী অস্ত্র থাকার মিথ্যে দাবি করেছিল। এর বিপরীতে ডোমোক্র্যাটদের চাপে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তার মেয়াদকালেই সিআইএএর তদন্তের পুরো প্রতিবেদন গভীরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা মনে করছেন, ক্ষমতা ছাড়ার আগে রাশিয়াকে শিক্ষা দিতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবেন ওবামা।

তবে কেন ওবামা রাশিয়াকে শিক্ষা দিতে চাইছেন, এই প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। কেউ বলছেন, তিনি চাপে পড়ে এটা করছেন। কেউ বলছেন, তিনি দেরিতে হলেও একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউবা আবার বলছেন, নিতান্তই রাজনৈতিক কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ওঠা অভিযোগ পুনরায় মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে শুক্রবার। ওই দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতানোর জন্য রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি উইকিলিকসের হাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যদের হাজার হাজার নথি তুলে দিয়েছিলেন, তাদেরও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা শনাক্ত করতে পেরেছে। ওই কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব ব্যক্তি ওই কথিত হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তারা নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির সমালোচনা সামনে এনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের জয়ের পথ সুগম করার কাজ করছিলেন।

এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, মার্কিন গোয়েন্দারা ধারণা করছে, এখানে রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল, এক প্রার্থীকে ঘায়েল করে অপরজনকে সমর্থন করা, ট্রাম্পের জয়ে সাহায্য করা।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এ সম্পর্কিত সিআইএর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশিষ্ট সিনেটরদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তখন ওই সিআইএ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিনেটরদের এ সম্পর্কে অবহিত করেন।

একই দিন হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিটের পরিচালক লিসা মোনাকো ক্রিশ্চিয়ান জানিয়েছেন, রাশিয়ার সাইবার হামলার অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন বারাক ওবামা। আর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এরিক শুলজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। সেজন্য তিনি এর তদন্ত করতে বলেছেন। যদিও হোয়াইট হাউস মুখপাত্রের দাবি, এর মধ্য দিয়ে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে না। কারণ আমেরিকা তাদের নির্বাচন পদ্ধতির স্বচ্ছতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

প্রশাসনিক নেতৃত্ব গ্রহণের অল্প কিছুদিন বাকি থাকতে সিআইএএর সমালোচনা ও রুশ সাইবার হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।শুক্রবার ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তবর্তী টিমের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে ও ফল প্রভাবিত করেছে যে অভিযোগ ওঠেছে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বাক্ষরবিহীন এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ যারা তুলছেন তারাই বলেছিলেন সাদ্দাম হোসেনের কাছে মানববিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। নির্বাচন শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। যা ছিলো ইতিহাসের অন্যতম বড় ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের ব্যবধানের জয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান করে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি প্রচারের সময়ও অভিযোগ করা হয়েছিল, দলটির ন্যাশনাল কনভেনশন ও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার ইমেইল হ্যাক করেছে রাশিয়ার হ্যাকাররা এবং তা উইকিলিকসের মাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। নির্বাচিন প্রচারণার সময় হিলারির প্রচারণা টিমের চেয়ারম্যান জন পডেস্টার ইমেইলও ফাঁস হয়। পদত্যাগ করেন দলটির চেয়ারম্যান। অবশ্য টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারেও রুশ হ্যাকারদের জড়িত থাকার অভিযোগ খারিজ করেছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, আমি এটা মনে করি না। আমি বিশ্বাস করি না তারা হস্তক্ষেপ করেছে। অভিযোগকে ডেমোক্র্যাটদের সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানাচ্ছে, বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে রুশ সাইবার প্রভাবের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, যা ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ওবামা দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। ফলে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগ মুহূর্তেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

তবে বিস্তারিত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের কতটুকু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। যদিও হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জানিয়েছেন, যতটুকু সম্ভব প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, অবশ্যই ধারণা করতে পারেন এ ধরনের তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকাতর ও রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয় থাকতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ করে কংগ্রেসকে অবহিত করা হবে।তিনি জানিয়েছেন, এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে সাইবার হামলার অভিযোগ নতুন নয়। ২০০৮ সালে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর জন ম্যাককেইন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওবামা চীনা হ্যাকারদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন বলে মনে করেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ওই সময় চীনা হ্যাকাররা দুই প্রার্থীর পলিসি পেপার ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের ইমেইল হ্যাক করেছিল। ২০১২ সালেও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনির ব্যক্তিগত হটমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে ওবামা প্রশাসন মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, ডেমোক্র্যাটিক দলের ন্যাশনাল কমিটি, ডেমোক্রেটিক দলের কংগ্রেস প্রচারণা ও অপর রাজনৈতিক সংস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে মস্কো নিয়ন্ত্রিত হ্যাকাররা। হ্যাক করা গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্যগুলো উইকিলিকস ও অপর সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফাঁস করা হয়। হিলারির প্রচারণা টিমের প্রধান জন পডেস্টা ও বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ইমেইল হ্যাক করারও অভিযোগ ওঠে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানায়, সাইবার হামলায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ট্রাম্প বার বার প্রত্যাখ্যান করায় ওবামা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, ওবামা শঙ্কিত কারণ তিনি যদি কোনও উদ্যোগ না নেন তাহলে রাশিয়া বিনা বিচারে পার পেয়ে যাবে। এছাড়া ক্যাপিটাল হিলের দীর্ঘ একমাস ধরে চলে আসা চাপও ছিলো।

সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ও সিনেট গোয়েন্দা কমিটির সদস্য ডিয়ানে ফেইনস্টেইন এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবার হামলার মাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। গত কয়েক মাস ধরেই যা নিয়ে ছিলো মার্কিন রাজনীতিতে উত্তেজনা। তবে নির্বাচনের ডামাঢোলে তা প্রচারের আলোয় আসেনি খুব একটা। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক দলের হাউস কমিটির শীর্ষ পদধারী হুইপ স্টেনি হয়ার ওবামার কাছে একটি চিঠি লিখলে তা পুনরায় আলোচনায় চলে আসে। চিঠিতে তিনি কংগ্রেসকে নির্বাচনে রাশিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে জানানোর আহ্বান করবেন।

হোয়াইট হাউসের পুনঃতদন্তের বিষয়ে শুক্রবার কংগ্রেসে সংখ্যালঘিষ্ঠদের নেতার পক্ষে তার মুখপাত্র বলেছেনআমেরিকান জনগণের জানার অধিকার রয়েছে তাদের নির্বাচন নিয়ে কারা ছেলেখেলা করেছেন। নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আলাদা কমিশন গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।

এছাড়া ওবামা প্রশাসনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটি ও সাবকমিটির চেয়ারম্যানও সাইবার হামলা নিয়ে শুনানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সব রিপাবলিকানরা তা মনে করছেন না। অনেকে মনে করছেন, ওবামার হঠাৎ করে মস্কোর ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান ওয়ে ওঠার পেছনে রাজনীতি রয়েছে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান ডেভিন নুনেস বলেনে, আগেও বহুবার বলেছি, গোয়েন্দারা পুতিনের পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা করতেই ব্যর্থ হয়েছেন।

নুয়ানেসের মতে, রাশিয়ার সাইবার হামলায় হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।কারণ বহু বছর ধরেই নিবিড়ভাবে রাশিয়ার পদক্ষেপগুলো নজরদারি করছে তারা। ওবামা প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইন্টেলিজেন্স কমিটির পরামর্শ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে মশগুল ছিলো। হঠাৎ করে নিশ্চই তাদের ভ্রম কাটেনি।

রাশিয়া বিশেষজ্ঞ রবার্ট আমস্টারডাম যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পররাষ্ট্রনীতিতে নিদারুণ ব্যর্থ ওবামা প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে রাশিয়ার দিকে আঙুল তুলছে। কারণ ওবামা প্রশাসনের ব্যর্থ নীতির কারণেই ট্রাম্পের উত্থান ঘটেছে।

কন্ডোলিসা রাইসের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করা এলিয়ট কোহেন মনে করেন, ওবামার পদক্ষেপটি অবশ্যই ভালো। তবে তা অনেক পরে নেওয়া হলো।

অ্যামেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইসপ্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল প্লেটকা বলেন, এ পদক্ষেপটা চূড়ান্ত অর্থে রাজনৈতিক। রাশিয়া নতুন করে কোনও কিছুতে হস্তক্ষেপ করেনি। এটা তারা করেই আসছে। ইউরোপ ও সিরিয়ায় রাশিয়া যা করছে সেক্ষেত্রে ওবামার সিদ্ধান্ত ভিন্ন।পুতিন ও লাভরভের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে তারা (ওবামা প্রশাসন) এখন হতাশ।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, ডেইলি বিস্ট, এক্সপ্রেস, পলিটিকো, এনবিসি নিউজ।

Russia’s Involvement in the Email Leaks: The CIA’s Absence of Conviction

I have watched incredulous as the CIA’s blatant lie has grown and grown as a media story – blatant because the CIA has made no attempt whatsoever to substantiate it. There is no Russian involvement in the leaks of emails showing Clinton’s corruption. Yes this rubbish has been the lead today in the Washington Post in the US and the Guardian here, and was the lead item on the BBC main news. I suspect it is leading the American broadcasts also.

A little simple logic demolishes the CIA’s claims. The CIA claim they “know the individuals” involved. Yet under Obama the USA has been absolutely ruthless in its persecution of whistleblowers, and its pursuit of foreign hackers through extradition. We are supposed to believe that in the most vital instance imaginable, an attempt by a foreign power to destabilise a US election, even though the CIA knows who the individuals are, nobody is going to be arrested or extradited, or (if in Russia) made subject to yet more banking and other restrictions against Russian individuals? Plainly it stinks. The anonymous source claims of “We know who it was, it was the Russians” are beneath contempt.

As Julian Assange has made crystal clear, the leaks did not come from the Russians. As I have explained countless times, they are not hacks, they are insider leaks – there is a major difference between the two. And it should be said again and again, that if Hillary Clinton had not connived with the DNC to fix the primary schedule to disadvantage Bernie, if she had not received advance notice of live debate questions to use against Bernie, if she had not accepted massive donations to the Clinton foundation and family members in return for foreign policy influence, if she had not failed to distance herself from some very weird and troubling people, then none of this would have happened.

The continued ability of the mainstream media to claim the leaks lost Clinton the election because of “Russia”, while still never acknowledging the truths the leaks reveal, is Kafkaesque.

I had a call from a Guardian journalist this afternoon. The astonishing result was that for three hours, an articlewas accessible through the Guardian front page which actually included the truth among the CIA hype:

The Kremlin has rejected the hacking accusations, while the WikiLeaks founder Julian Assange has previously said the DNC leaks were not linked to Russia. A second senior official cited by the Washington Post conceded that intelligence agencies did not have specific proof that the Kremlin was “directing” the hackers, who were said to be one step removed from the Russian government.
Craig Murray, the former UK ambassador to Uzbekistan, who is a close associate of Assange, called the CIA claims “bullshit”, adding: “They are absolutely making it up.”
“I know who leaked them,” Murray said. “I’ve met the person who leaked them, and they are certainly not Russian and it’s an insider. It’s a leak, not a hack; the two are different things.
“If what the CIA are saying is true, and the CIA’s statement refers to people who are known to be linked to the Russian state, they would have arrested someone if it was someone inside the United States.
“America has not been shy about arresting whistleblowers and it’s not been shy about extraditing hackers. They plainly have no knowledge whatsoever.”

বাকী অংশের জন্য এখানে দেখুনঃ

http://www.globalresearch.ca/russias-involvement-in-the-email-leaks-the-cias-absence-of-conviction/5561721

More Russia Bashing Over Nonexistent Cyberattacks

On October 7, a joint Department of Homeland Security/Director of National Intelligence (DHS/DNI) statement charged Russia with cyberattacks “intended to interfere with the US election process.”

It was a Big Lie. No evidence was cited because none exists. Accusations without proof are baseless. It had nothing to do with hacking DNC emails or interfering in America’s presidential election in any other way – nor meddling in the internal affairs of any country, longstanding US practice.

The DHS/DNI joint statement, claiming “confiden(ce)” about Russia cyberattacking “US political organizations” was politically motivated lying.

No matter. Obama ordered US intelligence agencies to review nonexistent Russian interference in the 2016 election process, completing a report before he leaves office on January 20.

It’s likely already written – a fictional account of what never happened. Interviewed by Time magazine after being named its person of the year, Trump said “I don’t believe it. I don’t believe (Russia) interfered…(S)ome guy in New Jersey” may have done it. He called charges politically motivated, adding they “became a laughing point, not a talking point…Any time I do something, they say ‘Oh, Russia interfered.’ “ Putin and other Russian officials categorically debunked the false charges.

Obama administration homeland security advisor Lisa Monaco claimed “a new threshold” was likely crossed, calling it necessary “to conduct some after-action…”

Deputy White House press secretary Eric Schultz said Obama considers completing the report on his watch “a major priority.” He’s got nothing better to do than bash Russia.

Last month, the White House declared the November election “free and fair from a cybersecurity perspective.” If so, why investigate nonexistent Russian hacking? Why conduct a recount scam in three states? Why accuse Moscow of election interference when it’s known none occurred? It’s all about Russia bashing, longstanding plans calling for regime change, installing pro-Western puppet governance, etc.

It also points to powerful interests backing Hillary “remain(ing) intent upon undermining Trump’s accession to the White House (because he’s) not entirely in the pocket of the lobby groups,” according to Michel Chossudovsky.

Wanting to get along with Vladimir Putin, including cooperating with him in combating terrorism, conflicts with powerful interests wanting adversarial relations maintained, along with supporting ISIS and other terrorist groups, using them as imperial foot soldiers.

On Friday, Trump’s transition team released a statement, debunking notions of Russia interfering in America’s political process, saying “(t)hese are the same people (who) said Saddam Hussein had weapons of mass destruction. The election ended (weeks ago). It’s now time to move on and ‘Make America Great Again.’ “

Stephen Lendman lives in Chicago. He can be reached at lendmanstephen@sbcglobal.net

কী হচ্ছে টেলিভিশনে

ডিসেম্বর 6, 2016 মন্তব্য দিন

samia-rahmanসামিয়া রহমান : জীবনের সব ক্ষেত্রে পরাজিত এক লোক হতাশায় ভেঙে পড়ে মন খারাপ করে একা ঘরে বসেছিল। তার মনে হতে লাগল, সে এতই বোকা যে পৃথিবীতে তার বেঁচে থেকে আসলে কোনো লাভ নেই। এতটা বোকামি সে সারা জীবন করেছে যে পুরো পৃথিবীর মানুষ তাকে হেয় করে, ঘৃণা করে। মনে হতে লাগল, বেঁচে থেকে তার আর কী লাভ! কেউ তো নেই তার জীবনে— ভালোবাসার, ঝগড়া করার। লোকটি ভাবল সে আত্মহত্যা করবে। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হলো, মরেই যখন যাবে তার আগে পৃথিবীকে শেষবারের মতো দেখে নেওয়া দরকার। তার এ অবস্থার জন্য পৃথিবীও তো দায়ী। মনে মনে অনেক হম্বিতম্বি করে শেষ পর্যন্ত আর কিছু করতে না পেরে লোকটি টিভি অন করল। টেলিভিশনে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনপরবর্তী বক্তৃতা দেখাচ্ছিল। সেই সঙ্গে ছিল সিএনএনের নির্বাচনপূর্ববর্তী ট্রাম্পের হেরে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণীর জরিপের তুলোধোনা করে চরম উত্তেজিত টকশো। ট্রাম্পের অহংকারী চিৎকার আর সিএনএনের অজস্র প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার আর টকশো দেখে জীবনে প্রথমবারের মতো লোকটির মনে হলো, আরে এই পৃথিবী তো বোকাদেরই আস্তানা। সবাই ট্রাম্পকে ঘৃণা করেও তাকেই তো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে, তাহলে ভবিষ্যতে সেও তো যে কোনো সময় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তার মধুর উপলব্ধি, এই পৃথিবী বোকাদের স্বর্গ, বোকাদের বাস, হোক না তাতে বিশ্বের সর্বনাশ। নেহায়েতই কথার কথা। কিন্তু ঝাঁপি যখন খুললাম তখন আরও কিছু গুরুত্বহীন কথা শুনিয়ে দিই।

এনবিসি টেলিভিশন একবার প্লেন ক্রাশের ওপর একটি ভুল রিপোর্ট প্রচার করে চরম বিপদে পড়ে। রিপোর্টটি ছিল অনেকটা এ রকম— ৪৯ যাত্রীর সবাই প্লেন ক্রাশে সমুদ্রে ডুবে নিহত। চারদিক সমালোচনায় মুখর হলে এনবিসি দুঃখ প্রকাশ করে। ক্ষমা প্রকাশে তারা জানায়, আমরা জানতাম না আমাদের এখনো এত দর্শক আছে।

গল্প শেষ হয়নি, এক পরিবারের মা এবং ছোট কন্যা টেলিভিশন দেখছে। টেলিভিশনে চলছিল টকশো। যেনতেন টকশো নয়। তুমুল গরম উত্তেজিত আলোচনা। ট্রাম্প আর হিলারির পক্ষেবিপক্ষে। এক আলোচক বলেন, ‘আমেরিকার এখন চেঞ্জ দরকার। আর কতকাল ডেমোক্রেট শাসন চলবে!’ আর এক আলোচক আরও তড়পে বললেন, ‘অবশ্যই চেঞ্জ দরকার, তবে ট্রাম্পের মতো মানুষ যাতে আর বর্ণবাদী বিদ্বেষ না ছড়ায় তার জন্য চেঞ্জ দরকার।’ আর এক আলোচক কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘আমি সব সময় চেঞ্জের পক্ষে সে যে বা যাই হোক না কেন।’ ক্লান্ত শিশুটি বলে উঠে, ‘মা ওদের মতো আমারও তো চেঞ্জ দরকার। আমার ন্যাপিটা চেঞ্জ করে দাও না।’

বিখ্যাত আমেরিকান স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান হেনরি ইয়াংম্যান একবার টেলিভিশন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘টেলিভিশন নিয়ে আমরা এত কথা বলি, কিন্তু আমরা কি কখনো খেয়াল করেছি টেলিভিশনের এমনই দুর্দশা যে এমনকি টেলিভিশনের নাটক বা গল্পের চরিত্রগুলো পর্যন্ত নিজেরা টেলিভিশন দেখে না।’

গণমাধ্যমের বোকা বাক্স টেলিভিশন নিয়ে মাতামাতি, উত্তেজনা, বিরাগ বা সমালোচনা নতুন নয়। এক সময়ের উত্তেজনা আজ অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে। এমনকি শুধু দর্শক নয়, এ হতাশা কাজ করছে গণমাধ্যম কলাকুশলীদের মধ্যেও। কী হলো যে এত জনপ্রিয় মাধ্যম নিয়ে এত সমালোচনা বা একঘেয়েমির অভিযোগ?

আর এক আমেরিকান কমেডিয়ান ফ্রেড অ্যালেন বলেছিলেন, ‘টেলিভিশন হলো এমন এক মাধ্যম যেখানে কোনো ভালো কিছু দুর্লভ।’ তাই কি? ফ্রেড অ্যালেনের মতে, মজার বিষয় হলো টেলিভিশন এমন মাধ্যম যা সেলিব্রিটি বানায়। এমনই সেলিব্রিটি যে তার সারা জীবন পরিশ্রম করে পরিচিত হওয়ার জন্য। তারপর? তারা সানগ্লাসে মুখ ঢাকে যাতে তাদের চেহারা কেউ চিনতে না পারে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে সেখানেই। টেলিভিশনের চরিত্র কি এমনই দ্বান্দ্বিক, এমনই বিভ্রান্তিকর! তাহলে আর একটি গল্প বলি।

এক মহিলা অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে তার অফিসে দীর্ঘদিনের ছুটির আবেদন করল। বস ছুটি মঞ্জুর করায় সে মহাখুশি। বাসায় এসে ছুটির আনন্দে মহিলা তার বন্ধুদের সঙ্গে বাণিজ্য মেলায় গেল। দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানে তখন টেলিভিশনের লাইভ কাভারেজ হচ্ছিল। যথারীতি মহিলার ইন্টারভিউসহ লাইভ কাভারেজ হলো। ফলাফলপরদিন তার ছুটি ক্যান্সেল।

টেলিভিশনের একঘেয়েমি, বৈচিত্র্যহীনতা, বিষয়বস্তুর দুর্বলতা নিয়ে হাজারো অভিযোগ থাকলেও টেলিভিশন কিন্তু মানুষ দেখছে। সেটি নিউ মিডিয়ার বদৌলতে মাধ্যম পরিবর্তন করে অন্যখানে হলেও, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান তারা কোথাও না কোথাও দেখছে। অনলাইনের হিট বা শেয়ারের সংখ্যাই তার প্রমাণ। কিন্তু বিখ্যাত মার্কিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, লেখক, মিউজিশিয়ান উডি অ্যালেন টেলিভিশনের ওপর এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে বলতে দ্বিধা করেননি, ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষেরা তাদের বাড়ির ময়লা বাইরে কোথাও ফেলে না বরং তা দিয়ে টিভি শো তৈরি করে।

গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সমালোচনা বরাবরই ছিল। আমেরিকান টিভি অ্যাংকর, প্রযোজক, অভিনেতা, লেখক, গণমাধ্যম সমালোচক, কমেডিয়ান স্টিফেন কোলবার্ট পক্ষপাতিত্বের উদাহরণ দিতে গিয়ে ফক্স নিউজ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘ফক্স নিউজ প্রত্যেক স্টোরির দুটি দিকই তুলে ধরে, এক হচ্ছে প্রেসিডেন্টের দিক এবং দ্বিতীয় হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্টর দিক।’ হয়তো তিনি সিবিএস এ ছিলেন বলেই ফক্স নিউজের সমালোচনায় তার সমস্যা হয়নি।

কিন্তু সমস্যা কি শুধু পক্ষপাতিত্ব না কি বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যের দুর্বলতায়! সৃজনশীলতায় সংকট! প্রযুক্তিগত দুর্বলতা! নাকি দক্ষ সৃষ্টিশীল কর্মীর অভাব! এক সময় মনে করা হতো আধুনিক প্রযুক্তি টেলিভিশনে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবে। কিন্তু দেখা গেছে খুব উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করেও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সফলতার মুখ দেখছে না। তাহলে সমস্যাটি কোথায়? আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যা অদ্ভুত সব সমস্যার চারণক্ষেত্র। পৃথিবী যত এগিয়ে যাচ্ছে, প্রযুক্তি যত বিকশিত হচ্ছে সমস্যার ধরনও তত বদলে যাচ্ছে। অনেকেই বলে থাকেন এত চ্যানেল, এত অনুষ্ঠান— কারা দেখবে বা কেন দেখবে? আমরা যারা গণমাধ্যমে কাজ করি তারা অনেকটা ‘দিন আনি দিন খাই’এর মতো কাজ করি। আমরা সংবাদ সাজাই, অনুষ্ঠান বানাই, কিন্তু চিন্তা করি না কেন আমরা এটা করছি। আমরা কীভাবে তৈরি করব তা নিয়ে যতটা চিন্তা করি, কিন্তু কেন এগুলো তৈরি করা হবে বা অডিয়েন্স কোন তাগিদে এগুলো দেখবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাই না। আমরা আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগি। ধরেই নিই কিছু সংবাদ, কিছু টকশো, কিছু নাটক, চলতি ট্রেঅনুযায়ী গানের অনুষ্ঠান করলেই দর্শক হুমড়ি খাবে আমার চ্যানেলে। কিন্তু বোকা বাক্সের বোকামিতে দর্শকদের বোকা বানানোর দিন শেষ। বরং দর্শকরাই এখন বলা যায় বিভ্রান্ত করে টেলিভিশনকে। স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানে টেলিভিশন থেকে তারা মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

অনেকেই বলেন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে বড় ধরনের বিপ্লব আনতে হবে, নইলে দর্শক তা দেখবে না। ঘুরেফিরে সেই একই তো অনুষ্ঠান, একই সংবাদ। এর মধ্যে বিপ্লব আসবে কোথা থেকে বা কেমন করে আসবে! কিন্তু সমস্যা যত বড় বা গূঢ় হবে তার সমাধানও তত অদ্ভুত বা সৃজনশীল হওয়া উচিত। তাই নয় কি? বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু খরচ কমানো বা কিছু সাধারণ প্রচলিত দক্ষতা এখন আর একমাত্র প্রযোজ্য শর্ত নয়। বরং প্রয়োজন সৃষ্টিশীল চিন্তা আর তার বাস্তবায়ন যাকে আমরা বলি ক্রিয়েটিভ রেভোল্যুশন। আমাদের টেলিভিশনগুলো কতটা ভারতীয় বা পশ্চিমা গণমাধ্যমের বাইরে গিয়ে নতুন চিন্তাকে উৎসাহিত করতে পারছে? সৃজনশীল ভাবনা কি আসছে না? নাকি সৃজনশীল ভাবনাকে উৎসাহিত করার মতো বিপ্লবী ব্যবস্থাপনা আর নেই। কোনো রকমে সংবাদ বা অনুষ্ঠান প্রচারই কি আমাদের লক্ষ্য? যে কোনোভাবে ব্যবসা করাই কি সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি? নাকি জনগণের মধ্যে থেকে জনগণের ভাবনাকে তুলে আনায় অনাগ্রহ? আমরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কি এখন আর নতুন চিন্তাকে উৎসাহিত করছি না! পৃষ্ঠপোষকতার দুর্বলতা?

স্যার আন্থনি জে কে উদ্ধৃত করে মার্কিন লেখক জন ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন, ‘অসৃজনশীল চিন্তাও খুব সহজে ভুল উত্তর খুঁজে বের করতে পারে। কিন্তু ভুল প্রশ্নটি খুঁজে বের করা অনেক জরুরি কারণ সেই ভুল প্রশ্নটিই হচ্ছে নতুনত্বের, সৃজনশীলতার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা’। ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন, ‘আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক উত্তরটি পাব না, যতক্ষণ না সঠিক প্রশ্নটি জানব।’ নতুন আইডিয়া তৈরি তাই কোনো দুর্ঘটনা নয়, ম্যাজিকও নয়। এটা ঘটতে হলে পরিবর্তন দরকার। স্বপ্ন শুধু দেখলেই হবে না। প্রয়োজন অন্তর্চক্ষুর উন্মোচন। সত্যের সঙ্গে, বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্মেলন। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসনের কথাটি যদি বাংলায় ভেঙে বলি, এই গুরু বলে গিয়েছিলেন, ‘জিনিয়াস হলো এক পার্সেন্ট ঈশ্বর প্রদত্ত আর নিরানব্বই ভাগই ঘাম অর্থাৎ শ্রম।’ সেই ঘাম বা শ্রম আমরা কতটুকু দিচ্ছি বা এর সঙ্গে চিন্তার জোগান দিচ্ছি তো!

এবার আসি আমাদের টেলিভিশন প্রসঙ্গে। এত অনুষ্ঠান, চব্বিশ ঘণ্টা সংবাদ সম্প্রচার কিন্তু আদতে কি ঘটেছে বাংলাদেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে? কতজন মনোযোগী দর্শককে পাই আমরা আমাদের সঙ্গে? যদিও আমি আমার সহকর্মীদের মতো নিরাশাবাদী কণ্ঠে বলতে চাই না, যে কিছুই ঘটছে না বা কিছুই ঘটবে না। এখনো বিশাল সম্ভাবনা আছে এই গণমাধ্যমের। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যম নীতিনির্ধারক/ব্যবস্থাপক বা আমরা কলাকুশলীরা একটা সেফ জোনে নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন প্রযুক্তির সীমাহীন সম্ভাবনাকে পুরোদস্তুর কাজে না লাগিয়ে বরং সীমিত প্রাপ্তিতেই আত্মসন্তুষ্টিতে আছি। সম্ভবত সীমানা ভাঙার সীমাবদ্ধতার আতঙ্কে ভীত আমরা। সে কারণেই হয়তো দর্শকরা ছেড়ে যাচ্ছে আমাদের। হয়তো ভিন দেশে, হয়তো ভিন্ন মাধ্যমে। নতুন প্রযুক্তির বিপুল প্রভাব ও প্রসারে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র পরিণত হয়েছে সনাতন গণমাধ্যমে। আমরা দর্শক হারানোর আতঙ্কে আছি অথচ এই সনাতন গণমাধ্যম যে অপার সম্ভাবনা নিয়ে মানসজগতে বিচরণ করে এসেছে তার ক্ষেত্র কিন্তু সত্যিকার অর্থে একটুও কমেনি। বরং নতুন প্রযুক্তি আমাদের আরও সুবিধা করে দিয়েছে ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করার। কিন্তু সে সম্ভাবনাকে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছি আমরা? চিন্তাকে আমরা বাক্সবন্দী করে ফেলছি। বাক্সের বাইরের দুনিয়া নিয়ে আমরা ব্যস্ত বা চিন্তিত নই বলেই ‘আউট অব দ্য বক্স’ কিছু করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।

সাইমন সিনেক তার বহুল বিক্রীত ‘দ্য গোল্ডেন সার্কেল’ বইটিতে লিখেছিলেন, যে কোনো কাজে আমরা কাজটি ‘কেন’ করছি জানার চেয়ে ব্যস্ত থাকি ‘কীভাবে’ কাজটি করব। অথচ ‘কেন’ এর মধ্যেই সব প্রশ্নের উত্তর নিহিত। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা কি আদতেই কোনো পরিকল্পনার পেছনে ‘কেন’ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বা ‘কেন’ সেটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হবে এবং ‘কীভাবে’ এর বিষয়বস্তু সব প্রযুক্তি, ইন্ডাস্ট্রি ও অডিয়েন্সের ওপর প্রভাব ফেলবেতা কি কখনো ভেবে দেখি? ওই যে ম্যাক্সওয়েলের কথায় আবার ফিরে আসতে হয়। ভুল উত্তর তো গৎবাঁধা সব মানুষই বুঝতে পারে। কিন্তু ভুল প্রশ্নটি কি ধরতে পারি? আর সঠিক পথের সন্ধানে না গেলে যে বিদিশা হয়েই পথে পথে ঘুরতে হয়। সেই ঘেরাটোপেই বোধহয় আবদ্ধ আজ আমাদের প্রায় ২৯টি চ্যানেল। দর্শকদের অভিযোগ একই বিষয়বস্তু, একই অনুষ্ঠান, একই গল্প, ঘুরে ফিরে সেই একই মানুষের মুখ। কখনো সখনো দর্শক ফেরানোর চেষ্টায় চ্যানেলের চরিত্র বদলে ফেলে ভারতীয় অনুকরণে নাটক নির্মাণ। অথচ আমাদের টেলিভিশনে এখনো অসাধারণ সব মৌলিক নাটক বা অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং হচ্ছে যে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ইউটিউবে তার হাজার হাজার হিট বা লাইক বা শেয়ার। তাহলে দর্শক কি মাধ্যম বদলে ফেলছে?

আজ ইন্টারনেটেও টেলিভিশন দেখা যায়। মোবাইলের মুঠোয় চলে এসেছে এখন টেলিভিশন। প্রচলিত ড্রইংরুম মিডিয়ার ধারণা থেকে বের হয়ে এসে প্রযুক্তির সহায়তায় টেলিভিশনকে মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়ার সময় এখন এসেছে। সময় এসেছে এই নীরব কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা ভাবার, যারা হয়তো সময় নিয়ে টেলিভিশনের সামনে এসে বসে না, কিন্তু এই টেলিভিশনের সংবাদ, নাটক বা অনুষ্ঠানের তারা ভক্ত। এখানেই সুযোগ আছে আমাদের গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়বস্তুর উন্নয়নের। নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থেই এই উন্নয়ন। বৈপ্লবিক ভাবনা, অসাধারণ চিন্তা, সৃজনশীল আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানই পারবে এই জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত দর্শকের আসনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। প্রযুক্তি আর সৃষ্টিশীলতার মিলন এখানে জরুরি। আর তখনই টেলিভিশনকে আবারও জনপ্রিয়তার কাতারে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে এই টেলিভিশনের অস্তিত্বহীনতার শোরগোলের বিনাশ করা।

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস চলে এসেছে প্রতি বছরের মতো। আবারও সমালোচনা, আবারও আত্মজিজ্ঞাসা। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেই প্রত্যয় নিয়ে দর্শকদের প্রতি গভীর ভালোবাসায় আমরা ক’জনা আছি টেলিভিশনের বৈপ্লবিক উন্নয়নে! শেষ করছি একটি জোকস দিয়ে। দুই বন্ধু কিঞ্চিৎ তরল অবস্থায় মদ্যপান করছিল আর টিভি দেখছিল। টিভিতে সে সময় সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। এক ব্যক্তি ২০ তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। দুই বন্ধুর একজন বলল, আমি বাজি ধরে বলতে পারি এই লোক আত্মহত্যা করবে। দ্বিতীয় বন্ধু বলল, না এই লোক আত্মহত্যা করবে না। টিভিতে দেখা গেল ব্যক্তিটি চোখ বন্ধ করে ছাদের কিনারায় দাঁড়াল আর ঝাঁপ দিল। দ্বিতীয় বন্ধু টাকা বের করে প্রথম বন্ধুকে দিয়ে বলল, আমি বাজিতে হেরে গেছি। প্রথম বন্ধু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর বলল, না এই টাকা আমি নিতে পারি না। আমি আসলে সংবাদটি দুপুরেই টিভিতে দেখে ফেলেছিলাম। দ্বিতীয় বন্ধু বলল, আরে তাতে কী হয়েছে আমিও তো সকালের বুলেটিনে সংবাদটি দেখেছিলাম, কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি লোকটি একই ভুল দুবার করবে! আমরা গণমাধ্যম কর্মী, নীতিনির্ধারক, ব্যবস্থাপকরা কি একই ভুল বারবার করছি! কোন পথে হাঁটছি, জানি কি আমরা?

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

উঠতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম – স্ন্যাপচ্যাট

ডিসেম্বর 5, 2016 মন্তব্য দিন

snapchat-facts

২০৪৫ সালে যেমন হতে পারে জীবন ও জগৎ !

ডিসেম্বর 1, 2016 মন্তব্য দিন

world-2045

কার্টুন-রঙ্গঃ কম্পিউটারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে…

নভেম্বর 30, 2016 মন্তব্য দিন

computer-security-1computer-security-2computer-security-3

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোড লাইনের সংখ্যা কতো?

নভেম্বর 30, 2016 মন্তব্য দিন

codelines-in-google