আর্কাইভ

Archive for the ‘তথ্যপ্রযুক্তি’ Category

তথ্য-প্রযুক্তির যুগে শব্দার্থ বদল!

word meaning changing 1aword meaning changing 1b

Advertisements

রম্যঃ ফেসবুকে বাংলা প্রবাদের ব্যবহার

FB & proverbs

স্মার্টফোনের জন্য ১০টি প্রয়োজনীয় অ্যাপ

10 essential apps

কার্টুন-রসঃ মোবাইল ফোন আসক্তি

mobile addiction -cr

mobile addiction 1a

mobile addiction 1b

mobile addiction 1c

mobile addiction 1d

mobile addiction 1e

mobile addiction 1f

mobile addiction 1g

mobile addiction 1h

 

জাকারবার্গের ফেসবুক শুনানি ছিল একটি ধোঁকা !

FB securityজেফার টিচাউট : ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ হটসিটে বসে আছেন। তাকে ঘিরে রয়েছে অনেক ক্যামেরা। জাকারবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার সেশনে সাক্ষ্য দিয়েছেন চলমান ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার তথ্যের গোপনীয়তা সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছুক ফেসবুক নির্বাহীকে কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। অন্যথায় শুনানিটি ছিল ব্যর্থ। এটিকে সাজানোই হয়েছে ব্যর্থ করার জন্য। এটি এমন একটি শো ছিল, যা সাজানো হয়েছে ফেসবুক প্রধানকে কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াশিংটন ডিসিতে শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য। এটি ছিল এমন একটি শো যেখানে প্রকৃত শুনানির আগে শুনানির ভান করানো হয়েছে। এটি সাজানো হয়েছে পরিবর্তন ঘটানো ও বিভ্রান্তি তৈরির জন্য।

প্রত্যেক সিনেটরকে প্রশ্ন করার জন্য পাঁচ মিনিটের চেয়ে কম সময় দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, সেখানে ফলোআপের কোনো সুযোগ ছিল না। এমনকি বড় কিছু উদ্ঘাটনেরও সুযোগ ছিল না এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে অর্ধেক তুলে ধরার কিছু ধারণা এখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটাকে তুলনা করা যেতে পারে বিল গেটসের মাইক্রোসফট শুনানি যাতে তিনি কয়েক দিনের জন্য আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং দ্য কেফাউভার শুনানি যা এক বছর ধরে চলেছে, তার সঙ্গে। পরিকল্পনা মোতাবেক এ মাত্রার একটি শুনানি আপনি একদিনে করতে পারেন না।

নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য এ শুনানির সবচেয়ে বাজে মুহূর্ত ছিল যখন সিনেটররা প্রশ্ন করেন, ফেসবুককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন আইনকে জাকারবার্গ সমর্থন করবেন কিনা? জাকারবার্গ ‘সৎ’ বিজ্ঞাপন, গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইন বা সাধারণভাবে তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ (জিডিপিআর) ইত্যাদিকে সমর্থন করেন কিনা, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আইন তৈরিকে তিনি সমর্থন করেন কিনা, সিনেটররা জাকারবার্গকে এটি জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে তাকে এমন এক ধরনের দার্শনিক সম্রাটের স্তরে উপনীত করেছেন, ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যার মতামত বিশেষ মর্যাদা বহন করে। এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ফেসবুক একচেটিয়া একটি কর্পোরেট জলহস্তী হিসেবে পরিচিত। এটি অন্তত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছে, বিদেশি প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে এবং বৈষম্যকে চিরস্থায়ী করেছে। আমাদের উচিত নয় আইনের ক্ষেত্রে ফেসবুকের অনুমোদন চাওয়া অথবা জাকারবার্গের আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্র“তি কামনা করা। আমাদের উচিত তাকে গণতন্ত্রের প্রতি একটি বিপদ হিসেবে গণ্য করা এবং একটি প্রকৃত শুনানি পাওয়ার জন্য আমাদের সিনেটরদের কাছে দাবি করা।

সেরা সিনেটররা বুঝতে পেরেছেন যে, এটি একটি শো ছিল এবং তারা একে সেভাবেই দেখেছেন। সিনেটর জন কেনেডি বলেছেন, আপনার ইউসার অ্যাগ্রিমেন্ট ভঙ্গ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রশ্ন করেছেন, আপনি কি একচেটিয়া কারবারি? জাকারবার্গ হাস্যরসাত্মকভাবে উত্তর দিয়েছেন, তিনি এমনটি ‘অনুভব’ করেন না। সিনেটর রিচার্ড ব্ল–মেনথাল বলেছেন, আমাদের আইন প্রয়োজন, প্রতিশ্রুতি বা ক্ষমা প্রার্থনা নয়।

যেহেতু প্রত্যেক সিনেটরের সময় ছিল পাঁচ মিনিটের নিচে, জাকারবার্গ চেষ্টা করে গেছেন নিজের মিশন, দর্শন বা যা কিছু তিনি বিশ্বাস করেন সেগুলো বলে ঘড়ির কাঁটা সচল রাখতে। শুনানির ক্ষেত্রে কিছু ভালো প্রশ্ন ছিল; কিন্তু ফলোআপ করার সুযোগ একেবারে ছিল না বললেই চলে। আপনি জাকারবার্গকে ভালোমতো মাপতে পারেন সময় গণনার ক্ষেত্রে ভালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিসেবে। যখন কম উত্তেজিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা হচ্ছিল, তখন তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

উদাহরণস্বরূপ, সিনেটর হিরোনি ও বুকার উভয়ে ‘প্রোপ্রবলিকা’য় জুলিয়া অ্যাংউইনের করা জঘন্য রিপোর্ট তুলে ধরেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে চাকরিদাতা ও বাড়ির মালিকরা বৈষম্যমূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছেন। জাকারবার্গ কোম্পানির পক্ষ নিয়ে বলেছেন, তারা এগুলোর ব্যাপারে কঠোর ছিলেন এবং সেগুলো বন্ধ করতে তারা কমিউনিটিভিত্তিক বাধ্যবাধকতার ওপর নির্ভর করেছেন।

ফেসবুক যেসব টুল ব্যবহার করছে, তা বৈষম্যকে সহজ করে দিচ্ছে। ফেসবুকের মুনাফার সীমা বেঁধে দেয়া আছে। তাই চাইলে এটি সহজেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়ার কাজটি করতে পারে। কিন্তু ফেসবুক সেটা করতে চায় না।

হিরোনি ও বুকার এটি দেখাতে পারতেন শুনানিতে; কিন্তু অন্য সিনেটরদের মতো প্রশ্ন করার জন্য তাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল। জাকারবার্গ প্রশ্নগুলোর অস্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। তাদের মন্তব্যগুলো কেমন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘কৌতূহলোদ্দীপক’ ছিল অথবা ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা যায়’- এমনসব জবাব দেয়ার মাধ্যমে তিনি সময় নষ্ট করেছেন।

কিছু শুনানি তো মনে হয় এভাবে সাজানো হয়েছে যে, জাকারবার্গ কতটুকু ভালো বা খারাপ মানুষ অথবা তার রাজনৈতিক দর্শন ভালো, খারাপ, এমনকি উদ্ভট কিনা, তা বের করে আনাই উদ্দেশ্য। জাকারবার্গ আমাকে আঘাত করেছেন আত্মসেবার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে। এটি অবশ্য তাকে একটি একচেটিয়া কর্পোরেট হাউসের সিইও বানায়নি; বরং তাকে গতানুগতিক একজন শিল্প-ডাকাতই বানিয়েছে।

ঘৃণা ছড়ানো প্রশ্নগুলোকে আমরা কীভাবে মোকাবেলা করতে পারি, এ ক্ষেত্রে তার মতামত কী- জাকারবার্গকে এমন দার্শনিক প্রশ্ন করার অর্থ হল তাকে একজন গ্রহণযোগ্য দার্শনিক সম্রাট ও চিন্তাবিদ শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত করা। গৃহ সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতাগুলো মেনে নেয়ার অর্থ হল শত কোটি ডলার মুনাফা কামানো একচেটিয়া ব্যবসায়ীর পরিবর্তে তাকে সীমিতসম্পদের একজন ভালো মনের অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা।

আমার দৃষ্টিতে, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী যেগুলোকে ফেসবুক কিনে নিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ফেসবুকের সম্পর্ক আমাদের ভেঙে দেয়া দরকার। অন্তত সামান্য পরিমাণে হলেও কিছু পদক্ষেপ আমাদের গ্রহণ করা দরকার। আমাদের উচিত বৈষম্যের পথ খুলে দেয়ার জন্য ফেসবুককে দায়ী করা। আমাদের প্রয়োজন তথ্য পরিবর্তন ও ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করা।

কিন্তু এটিই যথেষ্ট নয়। ফেসবুকের এমন অনেক বিষয় আছে যা আমরা জানি না। আমরা জানি, আমাদের একচেটিয়া একটি কর্পোরেট হাউস আছে যা কিনা একাধিকবার নিয়মনীতির মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটিয়েছে, যার ফলে করে আমাদের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা জানি না তাদের চিন্তাভাবনা কীভাবে সংবাদ সংস্থাগুলো বা বিভিন্ন বিষয়বস্তু নির্মাতাদের বিবেচনা করে। কীভাবে ফেসবুক তার নিজস্ব ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করে অথবা কীভাবে প্লাটফর্ম জুড়ে কেবল কয়েকটি উদাহরণ দেয়ার মাধ্যমে তাদের ট্র্যাকিং করে, তাও আমরা জানি না।

এখন প্রাথমিক লোক দেখানো শুনানি শেষ হয়েছে। আমাদের আসল শুনানি দরকার, যেখানে কোনো সিনেটরকে কয়েক মিনিট পর থেমে যেতে হবে না। আসল শুনানিতে আমাদের প্রত্যেক সিনেটরকে (যারা লাখ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে) সীমাহীন প্রশ্নের সুযোগ দেয়া হবে। যদি এটি করতে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই মাস সময় কাটাতে হয়, তবে দুই মাসই কাটাতে দিন।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনুবাদ : সাইফুল ইসলাম

জেফার টিচাউট : মার্কিন একাডেমিশিয়ান ও রাজনৈতিক কর্মী

‘মার্কিন নির্বাচন, ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা, ফেসবুক

aggregateiQ২০১৪ সালে একটি পারসোনালিটি কুইজের মাধ্যমে পাঁচ কোটি ফেইসবুক গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে ট্রাম্পের প্রচারণায় কাজে লাগায় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। এই ফেইসবুক গ্রাহকদের অধিকাংশই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে তৈরি করা ‘রিপন’ নামে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে ভোটার ডেটাবেইজ, নির্দিষ্ট ভোটারদের টানতে কর্মকৌশল, প্রচার কার্যক্রম, তহবিল সংগ্রহ এবং সমীক্ষা পরিচালনার কাজ করে ট্রাম্প শিবির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন তৎপরতায় কানাডার সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এগ্রিগেটআইকিউ (এআইকিউ) জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার সাবেক কর্মী ক্রিস্টোফার উইলি। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানদের ভোট দিতে পারে এমন ভোটারদের খুঁজে বের করতে ‘রিপন’ নামে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। এতে বেহাত হওয়া ফেসবুকের তথ্যকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের তালিকা করা, বিশেষ ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো, অর্থ সংগ্রহের কাজ  ও জরিপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এআইকিউ ও কেমব্রিজ অ্যানালেটিকা উভয় প্রতিষ্ঠানই উইলির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের ডিজিটাল, কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্ট কমিটির কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে ক্রিস্টোফার উইলি বলেছেন, ‘‘রিপন’ সফটওয়্যারটি যে এআইকিউ বানিয়েছে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাদের তৈরি অ্যালগোরিদম ব্যবহার করেই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বেহাত হওয়া তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।’ খবরে আরও বলা হয়, ১৮৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিপন শহরে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক শহরটির নামের সঙ্গে মিলিয়ে ভোটার প্রভাবিত করার সফটওয়্যারের নাম রাখা হয়েছিল ‘রিপন’। ওই সফটওয়ারটি ভোটারদের তালিকা করা, বিশেষ ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো, অর্থ সংগ্রহের কাজ  ও জরিপ করার জন্য ব্যবহৃত হত।

ফেসবুক স্ক্যান্ডাল কী বার্তা দিলো?

Facebook-2

ওসামা আল-শরীফ : ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশ তথ্যবিষয়ক একটি কোম্পানিকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার বিষয় ফাঁস হওয়ার পরই এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, এসব তথ্য পরবর্তীকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট-বিষয়ক গণভোটে সাধারণ মানুষের মতামতকে প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে হস্তক্ষেপই শুধু নয়, বরং বিরক্তিকরভাবে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা। এমন প্রক্রিয়ায় তথ্য ফাঁস বন্ধ করা না গেলে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

উইকিলিকস-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ একসময় ফেসবুককে বলেছিলেন ইতিহাসের ‘সবচেয়ে মনোযোগ আকর্ষণকারী নজরদারি যন্ত্র’। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে ২.২ বিলিয়ন ব্যবহারকারী ফেসবুকে সক্রিয় থাকেন, এ তথ্য জানার পর যে-কেউ অ্যাসাঞ্জের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানাতে পারেন।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এর ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে, ফোনকল পর্যবেক্ষণ করে এবং অতীত ফোনকলের বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে। স্পষ্টভাবেই বলা যায়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এমন নজির শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্যান্য প্ল্যাটফরমও ব্যবহারকারীর তথ্য অন্যায়ভাবে সংগ্রহ করে, অনুসরণ করে এবং বিক্রিও করে। এমন তথ্য এখন প্রকাশ্য গোপনীয় ব্যাপার। তবে এটা প্রমাণিত যে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামে একটি প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করেছে এবং ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় তা ব্যবহার করা হয়েছে।

নতুন এই তথ্য আসলে হিমবাহের চূড়া। বিগত বছরজুড়েই বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে যাচ্ছিলেন যে, গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- এই কোম্পানিগুলো ইন্টারনেটে সংবাদ, মতামত বা যেকোনো ঘটনাকেন্দ্রিক প্রচারণার তথ্য একান্ত নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার মতো বিষয় বিবেচনায় নিলেই বোঝা যায়, এসব প্ল্যাটফরম কিভাবে মানুষের মতামতকে প্রভাবিত করে চলেছে। আমরা কেবল ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মিথ্যা সংবাদ বা তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার ভূমিকার বিষয়টি জানা শুরু করেছি। ব্রেক্সিট-বিষয়ক গণভোটে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা মানুষকে কতটা প্রভাবিত করেছে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, সরকারই সম্ভবত নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যে হস্তক্ষেপের অনুমোদন দিচ্ছে এবং এটি এক ধরনের ‘বড়ভাই’সুলভ আচরণ যা সব জায়গায় সব সময়ই দেখা যায়। আমাদের ডিজিটাল-ব্যবস্থার যে অগ্রযাত্রা ভঙ্গ করা সম্ভব নয় এবং প্রযুক্তিই সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য করছে। কিন্তু বিশ্বজুড়েই গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য চিন্তার বিষয় হলো- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার এমন লঙ্ঘন গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত হানতে পারে।

একটি বিষয় লক্ষণীয়, ভার্চুয়াল জগতে ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হয় এমন ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মধ্যে ফেসবুকের বিষয়টি সর্বশেষ। সরকার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরাও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ও অন্যান্য স্পর্শকাতর তথ্য নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকির মধ্যে আছে। এমন আশা করাটাই সঙ্গত হবে যে, এ ক্ষেত্রে হ্যাকার বা শত্রুদেশ থেকে নিজেদের বাঁচাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোই একটা পরিকল্পনা বা নীতি গ্রহণ করবে।

আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ঘটনাই ডিজিটাল মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। তাহলে ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে নিরাপদে সংরক্ষিত হবে, তা নিয়ে যে-কেউ ভেবে অবাক হতেই পারে। ফেসবুকের তথ্য নিতে যেখানে অনুমোদন দেয়া হয় কিংবা অন্য তথ্য যেখানে চুরি হয়ে যায়, সেখানে এ বিষয় তো অবশ্যই দুশ্চিন্তারই যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে।

একইভাবে মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুক স্ক্যান্ডালের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া আরব অঞ্চলে নেই বললেই চলে। ঝুঁকি থাকলেও ব্যবহারকারীরা ফেসবুক ছাড়তে চান না বলেই মনে হয়। সহজেই অনুমেয়, বেশির ভাগ আরব দেশেই এমন আসক্তিকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় উল্লেখ করা যায় এভাবে- ‘যেখানে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সবচেয়ে কম, সেখানেই ফেসবুক টুইটারে আসক্তি তত বেশি’।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসব প্ল্যাটফর্ম জনগণকে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে। যেহেতু গতানুগতিক গণমাধ্যমগুলো তাদের জন্য সীমাবদ্ধ, তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। এখানে তারা তাদের মতো প্রকাশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এর মানে এই নয় যে, মানুষ অনলাইনে তাদের মতামত প্রকাশের জন্য দায়ী হবেন না। বরং আমরা দেখি, বিভিন্ন দেশের সরকার ইন্টারনেটে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ ও কার্যক্রম চালানো সীমাবদ্ধ করতে সাইবার অপরাধ আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ফেসবুকের এ ঘটনা থেকে ব্যক্তি, সরকার ও সংস্থাগুলোকে শিক্ষা নিতে হবে, ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে নানাভাবে। কিন্তু এই বিষয়টি আমাদের কাছে বিলাসিতাই মনে হয়, এমনকি এখানে মানুষের অধিকারকেই জবাবদিহিতা আর চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

 

ফেইসবুক পেইজ রাখার কিছু সুবিধা

FB benefits