আর্কাইভ

Archive for the ‘তথ্যপ্রযুক্তি’ Category

ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের নেপথ্যে…

অগাষ্ট 13, 2017 মন্তব্য দিন

FB users graphএখানে দাবী করা হয়েছে যে, ফেসবুকের “লাইক” (এবং ইতিবাচক কমেন্ট) অনেকের মনের নানা রকম অনুভূতিকে পুরস্কৃত করে এবং সেজন্য আত্মতৃপ্তি আসে । তবে এটা অনেক সময় স্কুলে “উপস্থিতি জানান” দেয়ার মতো কাজ করে । তাই লাইক অনেক সময় আসলেই “লাইক” না করেও কেউ কেউ দিতে পারে ।

বেশী স্ট্যাটাস দেয়ার সাথে একাকিত্বে কম ভোগার যোগসূত্র টানার চেষ্টা হাস্যকর মনে হয়েছে ! একজন বিদ্বান ব্যক্তি বেশী স্ট্যাটাস দিতে উৎসাহী হতে পারে ।

মানুষের মন অনেক জটিল ব্যাপার । সবার মন-মানসিকতা এক পাল্লায় এনে সব সময় বিচার করা সম্ভব নয়।

= = =

মানব সভ্যতা প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, আধুনিক যুগ পেরিয়ে পদার্পণ করেছে ফেসবুকে যুগে! তথ্যপ্রযুক্তির মোড়কবন্দী চলতি যুগটাই তো লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও লগ-ইনের। চিরস্থায়ী লগ-আউট বলে কিছু নেই। মানুষ ফেসবুকে ফিরে আসে, কী এক অজানা সম্মোহনী শক্তির শিকার হয়ে, বারবার। কিন্তু কেন?

একবার এক মিনিটের জন্য ফেসবুকে ঢুকে হঠাৎ খেয়াল করেন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে! কেন এমন হয়? এমনি এমনি নিশ্চয়ই নয়। ফেসবুকে আঠার মতো লেগে থাকার নেপথ্যে রয়েছে নিখাদ বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মারপ্যাঁচ।

ফেসবুকে লাইক, পোস্ট, কমেন্ট, শেয়ার এমনকি শুধু বাকিদের পোস্ট দেখে যাওয়ার ব্যক্তির মানসিকতা নিয়েও গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বেশির ভাগই নির্দিষ্ট কিছু ধারা মেনে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও পোস্ট করে থাকেন বলে ধারণা গবেষকদের। এ ছাড়া ফেসবুক যে আমাদের চুম্বকের মতো টানে, তার নেপথ্যেও রয়েছে নানা ধরনের মানসিকতা।

মস্তিষ্কের রসায়ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে থাকার সময় আমাদের মস্তিষ্কে ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে — গবেষকেরা অনেক দিন ধরেই এ প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন। সাম্প্রতিক এ গবেষণায় জানা গেছে, ফেসবুক এবং মানুষের মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’-এর মধ্যে আসলে নিবিড় এক সম্পর্ক রয়েছে। মস্তিষ্কের এ ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’-এর নাম ‘নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেনস’,যা আসলে আমাদের মনের নানা রকম অনুভূতিকে পুরস্কার দিয়ে থাকে। যেমন:আমরা অর্থ, যৌনতা, খাদ্য ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পছন্দ করি — আমাদের ‘নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেনস’ এসব অনুভূতিকে ছাড়পত্র দিয়ে থাকে।

ঠিক একই রকমভাবে, ফেসবুকে আমরা ইতিবাচক ফিডব্যাক পেলে ‘নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেনস’ সাড়া দেয়। ইতিবাচক ফিডব্যাক যত বেশি হবে, মস্তিষ্কের পুরস্কার বিতরণী কেন্দ্রের প্রভাবে আমরা তত বেশি সময় আঠার মতো লেগে থাকব ফেসবুকে। আসলে ‘নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেনসে-এর জন্যই আমরা ফেসবুককে এতটা ভালোবেসে থাকি।

আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবন নিয়ে গবেষণা করেছে ওয়াশিংটন ডিসির পিউ রিসার্চ সেন্টার। তাদের মতে, ৪৪ শতাংশ মানুষই দিনে অন্তত একবার তার পরিচিতদের পোস্টে ‘লাইক’ দিয়ে থাকে। ২৯ শতাংশ মানুষ এ কাজটা দিনে কয়েকবার করে থাকে। আসলে ফেসবুকে মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ‘লাইক’ অপশন। এ বস্তুতে ‘ক্লিক’ করলেই তার সঙ্গে আপনার মতামত কিংবা ইচ্ছা মিলে গেল।

‘সাইকোলজি টুডে’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকদের অভিমত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে যারা অধিক সময় কাটায়, ভার্চ্যুয়াল জগতে মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে তাদের একাত্মতা প্রকাশের শক্তি অনেক বেশি। ভার্চ্যুয়াল জগতের এ সামর্থ্যটুকু প্রভাব ফেলে তাদের বাস্তব জীবনেও। তবে ফেসবুকের ‘লাইক’ হলো খুচরো পয়সার মতো। যত খুশি খরচ করতে পারো, কিন্তু বিনিময়ে খুব বেশি প্রত্যাশা না থাকাই ভালো।

মন্তব্য করি কেন?

ফেসবুকে কোনো বিষয়ে কিছু বলার থাকলে আমরা মন্তব্য করে থাকি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, লাইকের চেয়ে মন্তব্য কিংবা টেক্সটের যোগাযোগ ক্ষমতা বেশি। অর্থাৎ দশটা লাইকের চেয়ে একটি ভালো মন্তব্য আপনাকে ফেসবুক কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মইরা বার্ক সম্প্রতি এক গবেষণায় জানিয়েছেন, ফেসবুকে ‘লাইক’ হলো ‘ওয়ান ক্লিক কমিউনিকেশন’ এবং কমেন্ট বা চ্যাট হলো ‘কম্পোজড কমিউনিকেশন’। তাঁর মতে,‘ওয়ান ক্লিক কমিউনিকেশনে’ মানুষের একাকিত্ব দূর হয় না। সে তুলনায় ‘কম্পোজড কমিউনিকেশন’ অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়া ফেসবুকে কোনো বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও ‘লাইকে’-এর চেয়ে মন্তব্যের কার্যক্ষমতা বেশি।

স্ট্যাটাস দেওয়ার নেপথ্যে…

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফেসবুকে যে কোনো ধরনের স্ট্যাটাস আমাদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। স্ট্যাটাস দিয়ে আমরা ভার্চ্যুয়াল জগতে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করে থাকি। গবেষকদের মতে, ফেসবুকে যারা বেশি বেশি স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে, তারা কম একাকিত্বে ভুগে থাকে। সেটা স্ট্যাটাসে কোনো লাইক কিংবা মন্তব্য না পেলেও! তবে যারা কম কম স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। স্ট্যাটাসে লাইক কিংবা মন্তব্য না পড়লে তারা ভেবে নেন যে সমাজে হয়তো তাদের কোনো অবস্থান কিংবা গ্রহণযোগ্যতা নেই।

শেয়ার দিই কেন?

নিউইয়র্ক টাইমসের গবেষণা অনুযায়ী, মজাদার কিংবা শিক্ষামূলক কোনো কিছু আমরা ভাগ নেওয়ার স্বার্থেই শেয়ার দিয়ে থাকি। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশই নিজেদের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব বোঝাতে শেয়ার দিয়ে থাকেন। কারণ,আপনি কী ধরনের পোস্ট শেয়ার দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে যাচাই করেন বাকিরা। এছাড়া যোগাযোগ ধরে রাখা কিংবা আত্মতৃপ্তির জন্যও আমরা শেয়ার দিয়ে থাকি। এছাড়া কোনো সামাজিক ইস্যুতে সচেতনতা গড়ে তুলতে আমরা শেয়ার দিয়ে থাকি নানা রকম পোস্ট — দৈনিকটির গবেষণা অনুযায়ী এ ধরনের লোকের সংখ্যা ৮৪ শতাংশ।

ফেসবুক চর্চা নিয়ে কিছু প্রতিক্রিয়া

অগাষ্ট 11, 2017 মন্তব্য দিন

facebook-3আবু তাহের খান : কথিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এবং একে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক—দুই-ই দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার ক্রমবর্ধমানতা এতটাই তুঙ্গে যে দেশে রাতে ঘুমানো মানুষের সংখ্যা বেশি, নাকি ফেসবুকে কাটানো রাতজাগা মানুষের সংখ্যা বেশি—সে নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক হতে পারে। সেই সূত্রে এটাও এখন বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে অবাধ সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টির সুবাদে ফেসবুক থেকে সমাজ যতটা উপকৃত হচ্ছে, এর হুজুগে অপব্যবহারের কারণে এ ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে কি না। আর এ ধরনের দ্বিবিধ বিতর্ক সামনে রেখে সাম্প্রতিক ঈদের ছুটিতে পাওয়া সময়ের সামান্য ফুরসতকে কাজে লাগিয়ে ফেসবুকে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে এর চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, প্রবণতা, প্রভাব, প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় যতটা সম্ভব নির্মোহভাবে বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি।

ফেসবুক নিঃসন্দেহে একটি ভালো যোগাযোগ মাধ্যম এবং এখানে মান-মানহীন নির্বিশেষে সব তথ্য ও মত অবাধে প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। অতএব, ধারণাগতভাবে এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক গণতান্ত্রিক চেতনার অনুগামী বিধায় এর বিস্তার অবশ্যই উৎসাহ দানযোগ্য। তা ছাড়া আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির উত্কর্ষপূর্ণ ব্যবহারেরও এটি একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। কিন্তু পাশাপাশি আবার এটাও মানতে হচ্ছে যে তথাকথিত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাস্তব সামাজিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় যতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বা রাখতে পারছে, সে তুলনায় একদল মানুষকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে অনেক বেশি। ফেসবুকে অংশগ্রহণকারী মানুষদের কাছে ওই বলয়টিই তাদের পৃথিবী, তাদের সমাজ। বস্তুত সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বলতে সেখানে প্রায় কিছুই নেই। বাস্তবের সমাজ মানুষের চিন্তা ও আচরণকে বিকশিত হতে সহায়তা করে। ফলে ফেসবুকে নিমগ্ন মানুষদের চিন্তা ও আচরণের প্রায় পুরোটাই এক ধরনের আড়ষ্টতা ও আবদ্ধতার দ্বারা আচ্ছন্ন। সেখানে চিন্তা ও আচরণের বিকাশ তো নেই-ই, বরং এ ক্ষেত্রে ক্ষয়িষ্ণুতার ধারাটিই অধিক প্রবল। অতএব, মর্গানের (লুইস হ্যানরি মর্গান) সংজ্ঞায়িত বিকাশমান সমাজের সঙ্গে তথাকথিত ফেসবুক সমাজের কোনো সামঞ্জস্যই নেই এবং সে কারণে এটি আসলে কোনো সমাজই নয়—সমাজবিচ্ছিন্ন একটি ক্ষুদ্র-সংকীর্ণ-গোপনীয় সামাজিক জীবনধারা মাত্র!

ফেসবুক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগটি হচ্ছে এই যে একে ঘিরে সৃষ্ট জীবনধারা সংশ্লিষ্টদের, বিশেষত তরুণদের একটি সংকীর্ণ আবদ্ধ চক্রের মধ্যে মোহাবিষ্ট করে রাখছে। এ আবদ্ধ চক্রে পড়ে উদ্দেশ্যহীন নিরর্থক কাজে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করছে, যা তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজের সময়কেই শুধু ছেঁটে ফেলছে না, নিজেদের মেধা, চিন্তা ও মননশীলতার বোধও নষ্ট করে দিচ্ছে। কারণ ফেসবুক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার অনুগামী নয়, গতানুগতিক আড়ষ্ট জীবনের মানহীন প্রদর্শনী মাত্র। আর মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে বিষয়টি দাঁড়ায় এই যে আড়ষ্ট জীবন মানুষের আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার জায়গাটিও ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে দেয়। যে তরুণ দিনের বেশির ভাগ সময় বাস্তব সমাজে বিচরণ না করে ফেসবুকে কাটায়, তার পক্ষে চাক্ষুষ সমাজের সমস্যা, ক্ষত ও অপূর্ণতাকে বোঝা কিছুতেই সম্ভব নয়। আর তা সে বুঝতে না পারলে তার মধ্যে সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। এবং একজন আকাঙ্ক্ষাবিহীন মানুষের মধ্যে স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার বোধ কোনো দিনই গড়ে উঠবে না। উঠতে পারে না। অতএব, ফেসবুকের নানা উপকারিতার কথা মনে রেখেও স্বীকার করতে হবে, এ আচ্ছন্ন জীবন বৃহত্তর জীবনের সম্ভাবনাকে ক্রমেই সংকুচিত করে ফেলছে।

ফেসবুক সমাজের সদস্যদের মধ্যে যেসব তথ্য, মতামত ও চিন্তা-ভাবনার লেনদেন হয়, সেসবের মান নিয়েও সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলি, এসব লেনদেনে যাঁরা অংশগ্রহণ করেন, তাঁদের বেশির ভাগের অপরিপক্ব ও অতি মামুলি চিন্তা-ভাবনার মান বাস্তব জীবনের গড়পড়তা জীবনমানের চেয়ে অনেক বেশি নিম্নবর্তী। ফলে এখান থেকে তরুণদের পক্ষে শেখার বা শিখে অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো প্রায় তেমন কোনো সুযোগই নেই। বরং এ ধরনের মানহীন চিন্তা-ভাবনার লেনদেনের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসবাসের ফলে এটাকেই তারা জীবনের জন্য গ্রহণীয় মান বলে ধরে নেয়, যাকে পুঁজি করে আদর্শ মানের প্রতিযোগিতায় তারা আর নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় না। এটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে তো বটেই, জাতীয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

ফেসবুক সদস্যদের দৈনন্দিন প্রদর্শনীর প্রধান উপকরণগুলোর মধ্যে থাকছে নিজেদের পোশাক-আশাক, খাওয়াদাওয়া, কেনাকাটা, সাজগোজ, ভ্রমণ ইত্যাদির ছবি ও এসব নিয়ে মন্তব্য। আর কখনো কখনো থাকছে অতীতচারণ। যুক্তি ও বিজ্ঞান বলে যে এসবই হচ্ছে নতুন চিন্তা-ভাবনা ও সৃষ্টিশীলতায় অক্ষম মানুষের আলস্য ও অসহায়ত্বের ফসল। মানুষ যখন আর নতুন কিছু ভাবতে পারে না বা তার ভাবনায় সে রকম আর কিছু আসে না, তখনই সে ছবি বা আত্মকথনের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। আর যখন সে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, তখনই সে স্মৃতিবিধূরতার মধ্যে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। আর এ উভয় ধরনের স্থবিরতার মধ্যে আটকে আছে ফেসবুক গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ মন্তব্যের বিপরীতে ভিন্নতর কোনো দৃষ্টান্ত থাকলে সংশ্লিষ্টরা সপ্রমাণ এগিয়ে আসবেন বলে আশা রাখি।

তবে হ্যাঁ, সচেতন ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ হিসেবে ফেসবুকের ইতিবাচক দিকগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও ব্যবহার করতে হবে। আর তা করার জন্যই সর্বাগ্রে উপরোল্লিখিত নেতিবাচক অনুষঙ্গগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতি বয়সী মানুষ নিজেদের শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে ও নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য ফেসবুকের আশ্রয় নিতে পারেন। বস্তুত ফেসবুকের মতো মাধ্যম হওয়া উচিত অতি বয়সীদেরই আশ্রয়স্থল। কিন্তু তরুণরা তাদের জীবনের মূল্যবান সময় প্রায় অযথা এর পেছনে ব্যয় করে নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা এভাবে বিসর্জন দেবে কেন? এটি তাদের জন্য আত্মাহুতির শামিল। অতএব, তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ফেসবুকে বয়সীরা যত খুশি সময় ব্যয় করে করুক, তারা (তরুণরা) যেন তা না করে। কারণ তরুণরাই হচ্ছে স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার প্রতীক।

খ্রিস্টীয় আঠারো, উনিশ ও বিশ শতকের একটি বড় অংশজুড়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বৃহৎ অংশকে উপনিবেশ বানিয়ে রেখেছিল ইংরেজ, ওলন্দাজ ও ফরাসি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তাদের সে জৌলুস আজ আর বর্তমান পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। কিন্তু পুঁজিবাদী শক্তি তার নয়া সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের অংশ হিসেবে আমাদের মতো ভোক্তাপ্রধান দেশের মানুষকে ফেসবুকের মতো ভোগ্য উপকরণে বুঁদ করে রেখে (ফেসবুকের প্রান্তিক উপযোগের কথা অস্বীকার করা হচ্ছে না) নিজেদের দেশে উচ্চতর গবেষণা, উদ্ভাবন ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মতো সৃজনশীল কাজে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে ও সফল হচ্ছে। আর তারই ফলে আমরা শুধু তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উপকরণের ভোক্তা হচ্ছি মাত্র, আবিষ্কারক হতে পারছি না কিছুতেই। অতএব, সে অবস্থা থেকে বেরোতে হলে শুধু ফেসবুক নয়, ফেসবুকের মতো অন্যান্য বুঁদ হয়ে থাকা অনুষঙ্গের ব্যাপারেও আমাদের অবিলম্বে বিশেষত রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সচেতন হতে হবে।

তরুণরা যে ফেসবুকে এত অর্থহীন সময় ব্যয় করছে, তার জন্য তাদের মোটেও দোষ দেওয়া যায় না। সমপরিমাণ সময় এর চেয়ে আনন্দের সঙ্গে ব্যয় করার উন্নততর বিকল্প আমরা তাদের সামনে তুলে ধরতে পারছি না বলেই তারা এটি করছে এবং তারা তা করছে অনেকটাই হুজুগের বশে, তার সমবয়সী অন্যদের সঙ্গে তাল মেলানোর লক্ষ্যে। অতএব, রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের নীতিনির্ধারণী ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারী পর্যায়ের মানুষদের আশু কর্তব্য হবে আমাদের তরুণদের সামনে ফেসবুকের চেয়েও আনন্দদায়ক কিন্তু চিন্তা ও মননের বিকাশের জন্য সহায়ক উত্তম কোনো বিকল্প তুলে ধরা। কাজটি কঠিন, তবে মোটেও অসম্ভব নয়। আর এটাও স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে এ লেখা কোনোভাবেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে নয়, এর উপযোগ ও অনুপযোগের কার্যকারিতা নিয়ে মাত্র।

লেখক : পরিচালক, সিডিসি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ফেইসবুক যখন শঙ্কার নাম!

facebook-1শাহরীয়া : বিশ্বজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ২০০ কোটি। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের খুঁটিনাটি তথ্যের অনেক কিছুই আছে ফেইসবুকের কাছে। তাই ফেইসবুক শুধু আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, আদতে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানও। ব্যবহারকারীর গতিবিধির সবটাই নজরে থাকে ফেইসবুকের।

ফেইসবুক কিভাবে আমাদের কাছ থেকে তথ্য সংরক্ষণ করে তার একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে যুগোস্লাভিয়ার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান শেয়ার ল্যাব। বেশ কয়েক বছর ধরেই এখানে কাজ করছেন সার্বিয়ার নোভি সাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ভ্লাদান জোলের। বনলু ও সহকর্মী বেলগ্রেডকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে গবেষণা করছেন ফেইসবুক নিয়ে। সহকারী হিসেবে দলে আছেন সাইবার ফরেনসিক বিষয়ে আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। ফেইসবুকের তথ্যভান্ডারের বিশালতার ব্যাপারে আগেভাগেই কিছুটা ধারণা করতে পেরেছিলেন জোলের। কিন্তু আসল তথ্য হাতে পেয়ে হতভম্ব হয়েছেন তিনি। সদ্য এক যুগ পেরোনো সিলিকন ভ্যালির ফেইসবুক কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে ৩০০ পেটাবাইট (এক হাজার গিগাবাইটে এক পেটাবাইট) ডাটা।

জোলের বলেন, ফেইসবুককে এত লাভবান করার পেছনে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ব্যবহারকারীদের। ফোনের অ্যাপস, ওয়াই-ফাই সংযোগ ও অডিও রেকর্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের লাইক, শেয়ার, কমেন্ট, সার্চ, স্ট্যাটাস, ছবি, বন্ধুসহ বিভিন্ন তালিকা আমরা তুলে দিচ্ছি ফেইসবুকের হাতে। এ কারণে ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ নির্ভুলভাবে ধরতে পারে ফেইসবুক। কোরিয়ান খাবার পছন্দ না চায়নিজ, কাজের পরিধি কিংবা বাচ্চার বয়স কত তা নির্ণয় করার ক্ষমতাও রাখে ফেইসবুক। কোনো কিছু আপলোড, ট্যাগ ও কমেন্ট পোস্ট করা মানেই আমরা ফেইসবুককে সাহায্য করছি। আমাদের পছন্দ আর অপছন্দের তথ্য তুলে দিচ্ছি সাইটটির হাতে। এ তথ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জটিল অ্যালগরিদমকে (কম্পিউটারসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়) আরো শক্তিশালী করে। জোলেরের মতে, এটা আমাদের আচরণকে একটি পণ্যে রূপান্তরিত করছে। ফেইবুকের হাতে কী কী তথ্য আছে তার একটি চিত্র আঁকতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যে নথি পাওয়া গেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।

যৌনতাবিষয়ক আগ্রহ, রাজনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক অবস্থান, ভ্রমণসূচিসহ আরো অনেক বিষয়ে বিশ্লেষণ করে ফেইসবুক আমাদের জাতিগত মিল খুঁজে বের করে। কোনো কিছু পোস্ট করা থেকে শুরু করে পেইজে লাইক দেওয়া এবং অনলাইনে আমাদের গতিবিধি কী রকম তাও লক্ষ্য করছে ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ফেইসবুকে লগইন করতে বলা সাইটগুলো। আর এ তথ্যগুলোই প্রবেশ করছে অ্যালগরিদম প্রক্রিয়ায়।

এখানেই শেষ নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপগুলোকে ‘অনুমতি’ দেওয়ার মাধ্যমেও  ফেইসবুককে তথ্য দেয়। যেগুলো দিয়ে ফোনের এসএমএস, অনুমোদনবিহীনভাবে ডাউনলোড করা ফাইল এবং আমাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থানও জেনে যায় ফেইসবুক।

কয়েক বছর ধরেই ফেইসবুক বলে আসছে, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের দাবি, ফেইসবুকের ডাটা ডেভেলপাররা ব্যবহার করতে পারে না। কারণ প্রতিটি দেশেই তাদের ‘প্রাইভেসি প্রটেকশন আইন’ মেনে চলতে হয়। বিষয়বস্তুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেইসবুকে হাজার হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জোলের বলেন, তথ্যের যে ভান্ডার গড়া হয়েছে তাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কী হবে, সেটা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তথ্যগুলো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকবে। ফেইসবুকের বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ববান ও আস্থাভাজন; কিন্তু আগামী ২০ বছর পর যখন নতুন নেতৃত্ব আসবে, তখন কী হবে?

প্রযুক্তি আইন ও পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ জুলিয়া পাওয়েল বলেছেন, টেক জায়ান্টগুলো ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি বা স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাশালী। অনেকেই ভাবতে পারেন, মার্ক জাকারবার্গের রাজত্বে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু সব সময়ই ব্যাপারটি একই রকম থাকবে সে নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছে না। সব কিছুর আগে জনপ্রিয়তাকে বেশি প্রাধান্য দিতে ফেইসবুক আমাদের মানসিকভাবে প্ররোচিত করে। ফলে নিয়ম-কানুনের গুরুত্ব, অনীহা ও পছন্দগুলোর বিকল্প কমে যাচ্ছে। শেয়ার ল্যাব টেক জায়ান্টগুলোর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যে গবেষণা করছে, তা আসলেই কৃতিত্বপূর্ণ। কিন্তু জোলের এটি স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, এ সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টগুলোর বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ভেদ করে কোনো অ্যালগরিদম প্রক্রিয়া চালছে কি না তাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ফেসবুক কৌতুক

Facebook-2আনিসুল হক :বাংলাদেশের তরুণেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করে। সম্প্রতি প্রথম আলো পরিচালিত এক জরিপে এটা জানা গেছে। তথ্য হিসেবে এটা নতুন নয়। শুধু প্রথম আলো ফেসবুক পেজেরই লাইক প্রায় সোয়া কোটি। বাংলাদেশে তাহলে কত কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে? শুধু ঢাকা শহরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে সোয়া দুই কোটি মানুষ।

ফেসবুক ব্যবহার করা ভালো না খারাপ? এই প্রশ্নের উত্তর দুই কোটি বছর আগে থেকেই প্রাণীদের জানা। যেকোনো জিনিস তুমি ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারো, খারাপ কাজেও ব্যবহার করতে পারো। নির্ভর করছে তোমার ওপর। যেমন…কী ভাবছেন, ছুরির কথা বলব? না, ওটা বেশি পুরোনো। ধরা যাক, অক্সিজেন খুব ভালো। কিন্তু বাতাসে যদি ২০ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন থাকে, আমরা মারা যাব। বা ধরুন, পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু কাউকে যদি ২০ জগ পানি খাওয়ানো যায়, সে মারা যাবে।

ফেসবুক ভালো। এটা দিয়ে পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া যায়, নতুন বন্ধুত্ব হয়; সত্য, সুন্দর, চমৎকার কথা, ছবি, ভিডিও প্রচার করা যায়; রক্তদানের নেটওয়ার্ক গড়া যায়, বন্যার্ত মানুষের সাহায্য করা যায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়। ফেসবুক নিঃসঙ্গের সঙ্গী, বন্ধুহীনের বন্ধু, কর্মহীনের কাজ।

আবার ফেসবুক এই দেশে রামুতে সাম্প্রদায়িক হামলার কারণ হয়েছে, সিলেট অঞ্চলে অশান্তি ডেকে এনেছে। ফেসবুকের কারণে ঘর ভেঙেছে, সেলফি তুলতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে, ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা বের করে লোক মারা গেছে।

রবীন্দ্রনাথ যেমনটা বলেন, কাজের কথা দিয়ে জীবন সুন্দর হয় না, বাজে কথা দিয়েই শিল্প ও সৌন্দর্য তৈরি হয়, তেমনি অপ্রয়োজনেই যদি কেউ একটা সুন্দর ছবি বা ফটো বা কথা প্রকাশ করে, সেটাও তো মূল্যবান। তবে তাই হোক। বাজে কথা হোক। হাসি-তামাশা হোক। কৌতুক বলি। ফেসবুক নিয়ে এই কৌতুকগুলো ইন্টারনেটে পেয়েছি।

১. আমি একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলব। এর নাম হবে ‘নোবডি’। কেউ যখন বিরক্তিকর কিছু পোস্ট করবে, আমি তাতে সবার আগে লাইক দেব। তখন তার দেয়ালে উঠবে, নোবডি লাইকস ইট।

২. প্রতিটা সফল ছাত্রের পেছনে আছে একটা ডি-অ্যাক্টিভেটেড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

৩. ফেসবুক একটা কারাগারের মতো। কারণ, তোমার একটা ফটো আইডি আছে, তুমি সারাক্ষণ লিখে থাকো দেয়ালে আর তোমাকে যারা পোক করে, তাদের কাউকেই তুমি চেনো না।

৪. গুগল+ হলো জিমের মতো। আমরা সবাই এতে যোগ দিয়েছি, কিন্তু কেউ এটা ব্যবহার করি না। (হা হা হা। এইটা পড়ে আমি তিন মিনিট হেসেছি। আজকের গদ্যকার্টুন আমি লিখছি জিম ফাঁকি দিয়ে। আর আমারও গুগল+ আছে, যাতে আমি বহুদিন ঢুকি না।)

৫. দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকেরা খুবই চিন্তিত। অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকেরা আশান্বিত। কারণ, কাগজ উঠে যাবে। এক টিসু্য পেপার মিলের মালিক হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন, খোকা, তুমি মোবাইল ফোন নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছ কেন?

৬. আচ্ছা, আপনি না হয় এখন অফিসে বসে এই লেখাটা পড়ছেন ফেসবুক পোস্ট থেকে। আপনার কি দুশ্চিন্তা হয় না, ফেসবুকের কর্মচারীরা অফিস টাইমে ফাঁকি দেওয়ার জন্য কী করবেন?

এবার কতগুলো সমস্যার সমাধান দিই।

সমস্যা: আমার ঘাড়ে ব্যথা করে।

ফেসবুক ডি-অ্যাক্টিভেট করুন।

সমস্যা: আমার মা ফেসবুক খুলেছেন।

তাঁকে ব্লক করুন।

সমস্যা: আমার বস ফেসবুক খুলেছেন।

তাঁকে লাইক দিতে থাকুন। ইন ফ্যাক্ট, লাভ দিতে থাকুন।

আজকের স্লোগান: ত্যাগের আনন্দ তুলনাহীন। ট্যাগ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

পুনশ্চ: জাকারবার্গকে ধন্যবাদ। তিনি ফেসবুক আবিষ্কার করেছেন। তা না হলে আজকে ৬৬৭ জনকে ফোন করে জানাতে হতো যে আজকে আমি কচুর লতি দিয়ে চিংড়ি মাছ রেঁধেছি।

আমি এই লেখাটা লিখতে পারলাম, কারণ আমি আমার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেটেড করে রেখেছি। তবে পেজ চালু আছে।

এবার একটা ধাঁধা। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা দেড় কোটি। ফেসবুক ব্যবহারকারী কেন সোয়া দুই কোটি?

যাঁরা উত্তরটা পেরেছেন, তাঁরা এই লেখাটার নিচে লাইক দিন:)

সালতামামি ২০১৬ – প্রেক্ষিত তথ্যপ্রযুক্তি

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

text-saltamami-%e0%a7%aa

2016-it-review-2

2016-mobile-phone-sets2016-mobile-games-apps2016-apps-1

ফেসবুকে ধর্ম প্রচারের নামে প্রতারণা

ডিসেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন

যুবায়ের আহমাদ : কালের আবর্তনে ফেসবুক একটি বড় যোগাযোগমাধ্যম হয়ে গেছে। দেশবিদেশের লাখো মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে ফেসবুক। বিশ্বের ১৬০ কোটি (প্রায়) মানুষ সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে। ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাঁচ কোটি সাত লাখেরও বেশি। ফেসবুক ব্যবহারকারীর পরিমাণ এক কোটি ৭০ লাখ। (দৈনিক যুগান্তর : ১১১১২০১৫) এ তো এক বছর আগের হিসাব। এক বছরে আরো অনেক বেড়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

ফেসবুকের উন্মুক্ত এই বিশাল মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে সুযোগসন্ধানী মহল। অপরাধকারীরা যেমন তাদের অপরাধ বাস্তবায়নে জাল বিস্তার করছে, তেমনি বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাবলম্বীও তাদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক। সরলপ্রাণ মানুষকে বোকা বানিয়ে মিথ্যা প্রচার করার জন্য গুজব এবং ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে তারা। কখনো দেখা যায় যে ‘ইসলাম প্রচারের’ দোহাই দিয়ে করা হচ্ছে এসব কাজ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুয়া আইডি কিংবা পেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ফেসবুক উন্মাদনা এখন চরমে।

আমিন না লিখে যাবেন না’; ‘মুসলমান হলে আমিন না লিখে যাবেন না’ ‘ছুবহানাল্লাহ, আল্লাহর কী কুদরত!’ ‘এটা নবীজির পাত্র, আমিন না লিখে যাবেন না’—এমন লেখার সঙ্গে আল্লাহ কিংবা রাসুল (সা.)-এর নাম কিংবা কালিমা খচিত ছবি হয়তো ফেসবুক ইউজারমাত্রই দেখেছেন। এসব ভুয়া পোস্ট দিয়েই অনেকে ফেসবুকে ‘ইসলাম প্রচার’ করছেন। অনেকেই সরলপ্রাণে লাইককমেন্টও করেছেন। অসুস্থ বা রুগ্ণ শিশুর ছবি দিয়ে লিখে দেয়, ‘আমিন না লিখে যাবেন না। ’ ভাবখানা এমন যে, এখানে লাইক দিলেই জান্নাত। প্রশ্ন হলো, এখানে রুগ্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আমিন বলার কী সম্পর্ক? নবীজি (সা.)-এর পাত্রের সঙ্গে আমিন বলার কী সম্পর্ক?

পাশাপাশি কয়েকটি ধর্মীয় গ্রন্থের ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘আপনি কোনটির সাপোর্টার?’ কখনো দেখা যায় এমসিকিউয়ের মতো প্রশ্ন। আপনার রব কে? এক. আল্লাহ। দুই. ভগবান। তিন. গড। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, হৃদয়ে ঝাঁকুনি দেওয়ার মতো প্রশ্ন, ‘আপনি কি মুসলমান?’ মুসলমান হলে লাইক না দিয়ে যাবেন না। আবেগী ফেসবুকাররা এখানে ধুমছে লাইক দিচ্ছেন। এগুলো ইসলাম নিয়ে ইসলামের পরিভাষা ‘আমিনকে’ নিয়ে উপহাস করা ছাড়া কিছুই নয়। কখনো দেখা যায়, অশুদ্ধ বা জাল হাদিস তুলে ধরে বলা হয়, ‘লাইক দিন, যদি জান্নাতে যেতে চান। ’ অথচ মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করা যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। ’ (সহিহ বুখারি)

পোস্টটি শেয়ার করলে, ‘আমিন লিখলে অমঙ্গল থেকে বাঁচা যাবে; মনোবাসনা পূর্ণ হবে, শেয়ার না করলে, আমিন না লিখলে ব্যবসায় লোকসান হবে, সন্তান মারা যাবে’—এমন শিরকপূর্ণ কথাবার্তাও থাকে কথিত ইসলাম প্রচারে। আমিন লিখলেই মনোবাসনা পূর্ণ হবে, না লিখলে ক্ষতি—এটা কোরআনসুন্নাহর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কেননা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ছাড়া তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবুও তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৭)

মূলত এসব পোস্টের মাধ্যমে মানুষকে শিরকে লিপ্ত করা হচ্ছে। একটি আমিন বলা বা শেয়ারই মানুষকে অমঙ্গল থেকে বাঁচাতে পারে—এমন ধারণা তো সম্পূর্ণ শিরক। অনেকেই সরল মনে অযাচিতভাবেই লিপ্ত হচ্ছে শিরকের মতো ক্ষমার অযোগ্য মারাত্মক অন্যায়ে। শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (শিরকের মতো) অত্যাচারকারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৭২)

ভুয়া সংবাদের অন্যতম উৎস হয়ে গেছে ফেসবুক। এখানে সবাই যেন সাংবাদিক। ফেসবুকের উন্মুক্ত মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই পোস্ট করা যায় বলে একে সুযোগ হিসেবে নিয়ে ভুয়া সংবাদ পোস্ট করেন। প্রায়ই দেখা যায়, ‘মক্কা শরিফের খাদেম স্বপ্নে দেখেছেনশেয়ার করলে এই পুরস্কার। ’ কয়েক দিন আগে দেখা গেল অং সান সু চির হিজাব পরা ছবি। নিচে লেখা—‘ইসলাম গ্রহণ করেছেন অং সান সু চি। ’ সারা পৃথিবীর কেউ জানে না। কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পেল না সেই খবর, কিন্তু বাঙালির ফেসবুক দখল করে নিল সু চির হিজাবি ছবি! একজন কমেন্টে প্রশ্ন করলেন, ‘এই খবর পৃথিবীর কোনো মিডিয়া পেল না, আপনি কোত্থেকে পেলেন?’ জবাব দেওয়া হলো, ইহুদিনাসারারা কি ইসলাম গ্রহণের খবর প্রচার করবে? কথায় কিন্তু যুক্তি আছে।

আরেকবার দেখা গেল, ‘এবার সনাতন ধর্ম গ্রহণ করলেন নওয়াজ শরিফের ভাতিজি। সবাই আশীর্বাদ করুন। ’ ‘যজ্ঞ করে ইসলাম ছেড়ে রফিক এখন হিন্দু রাজু। দেখামাত্রই পোস্টটি শেয়ার ও দাদাকে আশীর্বাদ করুন। ’ এসব ছবি নিছক ফটোশপের কারসাজি। ছবিটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যাবে যে কাজটা এত নিপুণভাবে করা যে তা কোনো আনাড়ি ধর্মপ্রিয় ফেসবুকারের কাজ নয়। বরং খুব ঝানু কেউ মুসলমানদের হাসির পাত্র বানানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজটা করেছে। প্রথমত, যাঁরা এ ধরনের পোস্ট দিয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলা করছেন, তাঁরা মারাত্মক অন্যায় করছেন। মিথ্যা বলা, লেখা, প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহই একজন মানুষকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহর কথা বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা, মাতাপিতার অবাধ্যতা, এরপর তিনি ঠেস দিয়ে বসে বললেন এবং শোনো! মিথ্যা কথা। তিনি (মিথ্যা কথা) বারবার বলতে লাগলেন। ’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

অনেক সময় লাইক বা কমেন্ট পাওয়ার জন্য এ ধরনের মিথ্যা বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। লাইককমেন্ট পাওয়ার লোভ এক ধরনের মানসিক অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা যেন লাইককমেন্টের কাঙাল। ফলে বেশি লাইক পেতে ধর্মীয় অনুভূতি আর গুজবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, লাইক বা কমেন্ট কী মহামূল্যবান জিনিস যে মিথ্যা প্রচার করে লাইক বা কমেন্ট পেতেই হবে! কী উপকার হবে এতে? মিথ্যা কথা বলা বা মিথ্যা প্রচারের মধ্য দিয়ে অতি সাময়িক ফায়দা লাভ হলেও মূলত এর দীর্ঘকালীন ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। কারণ মিথ্যা ফাঁস হয়ে গেলে মিথ্যাবাদীর জন্য বয়ে আনে মারাত্মক লাঞ্ছনা ও দুর্ভোগ। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপীর জন্য। ’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : )

কখনো দেখা য়ায়, মিথ্যা দিয়ে কেউ কাউকে হাসাতে চায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কঠিন দুর্ভোগ তার জন্য, যে মিথ্যা ও অলীক কথা বলে লোককে হাসাতে চায়। তার জন্য কঠিন দুর্ভোগ, তার জন্য কঠিন দুর্ভোগ। ’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)

এ ধরনের মিথ্যাচার মুনাফেকির আলামত। যিনি এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট দেবেন, তিনি যতই ইসলামের দরদি সেজে নিজেকে একজন একনিষ্ঠ মুসলমান হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করুন না কেন, তার কাজটি প্রমাণ করছে যে তিনি একজন মুনাফিক। রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি (অর্থাৎ কোনো মুমিনের দ্বারা এ কাজগুলো সংঘটিত হবে না। যদি কেউ এ কাজগুলো করে সে আর মুমিন নয়, বরং সে হলো মুনাফিক) . কথা বললে মিথ্যা বলে। ২. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। ৩. তার কাছে আমানত রাখা হলে সে এর খিয়ানত করে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

যুগে যুগে মিথ্যা বলে, মিথ্যা প্রচার করে মুনাফিকরাই ইসলামের বেশি ক্ষতি করেছে। ইসলামকে হাসির পাত্র বানিয়েছে। মহানবী (সা.)-কেও তারাই বেশি কষ্ট দিয়েছে।

এ বিষয়ে আমাদের করণীয় হলো, কোনো সংবাদভিত্তিক পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করার আগে সংবাদটির উৎস জানতে হবে যে তা কোনো সঠিক উৎস থেকে এসেছে কি না। অনেক আবেগপ্রবণ ফেসবুকারই লাইক বা কমেন্ট শেষে এসব মিথ্যা পোস্ট শেয়ারও করে যাচ্ছেন। অথচ একজন মুসলমানের জন্য কারো নিয়ে আসা এ ধরনের কোনো খবর যাচাই না করে বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। মুমিন তো কোনো গুজবে কান দিতে পারে না। পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : )

একটি মেয়ের ছবি দিয়ে লিখে দেওয়া হলো, ‘এই হিজাবি বোনটির জন্য কত লাইক? সবাই লিখুন মাশাআল্লাহ। সেই ছবিতে ‘মাশাআল্লাহ’ লেখা কমেন্টের ধুম পড়ে গেল। শেয়ারের ঝড়ে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক কমিউনিটিজুড়ে। এ নিয়ে ধর্মবিরাগী অনলাইন এক্টিভিস্টরা হাসাহাসি করে মজাও নিচ্ছেন বেশ। উপহাসের পাত্র বানিয়ে দেওয়া হলো হিজাবকে। এ জন্য যারা এসব কথার সত্যতা না জেনেই প্রচার করবেন, তাঁরাও নবীজি (সা.)-এর ভাষায় মিথ্যাবাদী বলে প্রতীয়মান হবেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যাই শুনবে (সত্যতা যাচাই না করে) তাই বর্ণনা করবে। ’ (সহিহ মুসলিম)

সত্যতা যাচাই না করেই ‘ইসলাম প্রচার’ করতে গিয়ে কত বড় গুনাহর ভাগী হয়ে যাচ্ছেন—ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

লেখক : খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, বোর্ড বাজার (. গনি রোড), গাজীপুর

সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬

ইউটিউব-এর টুকিটাকি

ডিসেম্বর 21, 2016 মন্তব্য দিন

youtube-spread

বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপন

ডিসেম্বর 20, 2016 মন্তব্য দিন

bangla-blog-day

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

ডিসেম্বর 19, 2016 মন্তব্য দিন

sea-me-we-5-cableবহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের মার্সেলি থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সাউথ ইস্ট এশিয়ামিডল ইস্টওয়েস্টার্ন ইউরোপফাইভ (সিমিউই) কেবলে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় এই সাবমেরিন কেবল সংযোগের গ্রাউন্ড লোকেশন ঠিক করা হয়েছে। নতুন সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আরো ১ হাজার ৩০০ জিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়া যাবে। আর এসএমডব্লিউএর চেয়ে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী এসইএএমইডব্লিউই৫। তবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী মার্চ মাসে আসতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ক্যাপাসিটি মিডিয়াএক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কনসোর্টিয়ামে বাংলাদেশ (বিএসসিসিএল) ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছে, মালয়েশিয়া (টেলিকম মালয়েশিয়া), সিঙ্গাপুর (সিংটেল), ইন্দোনেশিয়া (টেলিন), মিয়ানমার (এমপিটি), শ্রীলংকা (শ্রীলংকা টেলিকম), পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ডিইউ), সৌদি আরব (এসটিসি), ওমান, মিসর, জিবুতি (জিবুতি টেলিকম), তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালি (টিআইএস), চীন (চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম এবং চায়না টেলিকম) ও ইয়েমেন (টেলি ইয়েমেন)। ১৮টি দেশের ১৯টি ল্যান্ডিং স্টেশনে যুক্ত হবে এ কেবল।

গভীর সমুদ্রে স্থাপন করা মূল কেবল থেকে একটি সংযোগ কেবলের মাধ্যমে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এটির ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে কুয়াকাটায়। এছাড়া মিসরের আবু তালাত, ইয়েমেনের আল হুদাইদাহ, ওমানের বারকা, ইতালির কাতানিয়া, জিবুতির জিবুতি সিটি, ইন্দোনেশিয়ার দুমাই ও মেদান, আরব আমিরাতের ফুজেইরাহ, পাকিস্তানের করাচি, তুরস্কের মারমারিস, শ্রীলংকার মাতারা, মালয়েশিয়ার মেলাকা, মিয়ানমারের নগওয়ি সাউঙ্গ, থাইল্যান্ডের সাতুন, ফ্রান্সের তৌলন, সিঙ্গাপুরের তুয়াস, সৌদি আরবের ইয়ানবু ও মিসরের জাফারানাতে ল্যান্ডিং স্টেশন থাকবে এ কেবলের।

১০০ গিগাবাইটস পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) ডিডব্লিইডিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা এসইএএমইডব্লিউই৫ সাবমেরিন কেবলটির ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা ২৪ টেরাবিটস পার সেকেন্ড (টিবিপিএস)। এসইএএমইডব্লিউই৫ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে স্থাপন করা নতুন এ কেবল যাবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম ইউরোপে। এর মধ্যেমধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও সংযুক্ত হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ লক্ষে প্রায় ৬৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারের ১৬৬ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) ১৪২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে। বাকি ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)

প্রসঙ্গত, বিকল্প সাবমেরিন কেবল সংযোগ স্থাপন, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সংখ্যা ও ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশও এ কনসোর্টিয়ামের অন্যতম সদস্য হিসেবে কেবলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে সরকার রিজিওনাল সাবমেরিন কেবল টেলিকমিউনিকেশন্স প্রজেক্ট, বাংলাদেশ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিএসসিসিএলকে এসইএএমইডব্লিউই৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে অনুমতি দেওয়া হয়। এসইএএমইডব্লিউই৫ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০১৪ সালের ৭ মার্চ চুক্তি করে বিএসসিসিএল। এর আগে ২০০৫ সালে একই কনসোর্টিয়ামের অধীনে এসইএএমইডব্লিউই৪ নামে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

সূত্রঃ প্রিয়.কম