আর্কাইভ

Archive for the ‘জীবনযাপন’ Category

মার্কিন সাংসদদের ভন্ডামী!

US parliament members can't rent

Advertisements

হাসি নিয়ে মনিষীদের কিছু বচন…

great men on laughing

laugh to stay healthy

পাড়া মহল্লায় আইপিএল জুয়া !

IPL betting 1a

IPL betting 1b

রানা প্লাজা ধসে ২০ এতিম কন্যার মা ইয়াসমিন

এতো অভাব-অভিযোগ-অনুযোগের মধ্যেও সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা একেবারে উবে যায়নি । এর জ্বাজল্যকর প্রমাণ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মতো জনসেবা প্রাদানকারী সংস্থা যে কাজের আঞ্জাম দেয়ার কথা খোদ রানা প্লাজার । এতিমদের তত্ত্বাবধান করতে ইসলামে বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে ।

rana plaza yasmin haque

পাথালিয়া (সাভার) ঘুরে: এতিম শিশু শাহানা আক্তার (১০)। জন্মস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা গ্রামে। শাহানার পিতা ছিলেন রিকশাচালক শাহিন আলম।

শাহানাকে মায়ের গর্ভে রেখেই না মারা যান তিনি। এরপরেই সুখের সন্ধানে শাহানাকে নিয়ে মা আছমা খাতুন ঢাকায় আসেন। চাকরি নেন রানা প্লাজায়।

ভাগ্যেরে নির্মম পরিহাস। রানা প্লাজা ধসে নিহন হন আছমা। পৃথিবীতে মা-বাবা দুজনকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে শিশু শাহানা। এরপরে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহায়তায় সাভার পাথালিয়ায় আঞ্জুমান আজিজুল ইসলাম বালিকা হোমে (এতিমখানা) ভর্তি হয় শাহানা।

২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই এতিমখানার উদ্বোধন করা হয়। এতিমখানাটিতে বর্তমানে শাহানার মতো বিভিন্ন বয়সের ২০টি এতিম মেয়েশিশু বড় হচ্ছে। ২০টি শিশু হোম সুপার নুরুন্নাহার ইয়াসমিনকে ‘মামনি’ বলে ডাকে। নিজের সন্তানের মতো করে প্রায় চারটি বছর আগলে রেখেছেন ইয়াসমিন। সকালে ঘুম থেকে ওঠানো, লেখা-পড়া করানো থেকে শুরু করে সব বিষয়ে দেখভাল করেন ইয়াসমিন।

ইয়াসমিনের নিজের একটি সন্তান আছে। শুদ্ধ হক ওর নাম। বর্তমানে ইয়াসমিন মনে করেন তার মোট সন্তান ২১টি। এর মধ্যে ২০টি মেয়ে ও একটি ছেলে। সবাই এতিমখানার পাশের নবীন গ্রিন ভিউ মডেল হাইস্কুলে পড়ালেখা করছে। নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছে এই এতিমখানায়।

সকালে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, স্কুল, পড়ালেখা সব কিছুই চলে নিয়ম অনুযায়ী। এসব এতিম কন্যার কোনো টাকা পয়সা খরচ হয় না। বিজিএমইএ এবং আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম সব খরচ বহন করে। আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামেরই একজন সদস্য ইয়াসমিন।

rana plaza orphans 1

হোম সুপার ইয়াসমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের এই এতিমখানায় মোট ২০ জন ছাত্রী আছে। নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করানো হয়। রানা প্লাজায় আহত, নিহত ও নিখোঁজ তিন ধরনের শ্রমিকদের বাচ্চা আছে। ওরা সবাই আমাকে মামনি বলে ডাকে। ওরা আমার নিজের সন্তানের মতো। এই এতিমখানার শুরু থেকেই আমি আছি। আমি মনে করি আমার ২০টা মেয়ে একটা ছেলে। রোযা ও কোরবানির ঈদে সব সময় ওদের সঙ্গে থাকি। আজকে চারটি বছর কখনও চোখের আড়াল হতে দেইনি। দেশবাসীকে বলবো আপনারা আমাদের ২০ কন্যা ও এক ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’

এতিমখানাটি নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠেছে। সব সময় পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকে শিক্ষার্থীরা। তবে অনেক সময় পিতা-মাতার কথা মনে করে কান্নায় ভেঙেও পড়ে ওরা। আর এমন সময় পিতা-মাতার ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসেন হোম সুপার ইয়াসমিন। এতিম বাচ্চাদের জন্মদিনে উৎসবের ব্যবস্থা করেন।

সবাই উৎসব আনন্দে এখানে দিন কাটায়। পিতা-মাতাকে ভুলিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেন ইয়াসমিন। এই এতিমখানার অন্যতম মেধাবী পাপিয়া আক্তার(১৩)। জন্মস্থান বরিশালের হিজলায়। সে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মা আনোয়ারা বেগম রানা প্লাজা ধসে নিহত হন। দিনমজুর বাবা ইউনুস মুন্সি গ্রামে থাকেন। এখন এতিমখানায় বেড়ে উঠছে পাপিয়া। তবু মা হারানো পাপিয়ার আকাশছোঁয়া স্বপ্ন।

পাপিয়া বলে, আমি বড় হয়ে পাইলট হবো। আঞ্জুমান আজিজুল ইসলাম বালিকা হোম আমাকে সহায়তা করলে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।’

এই এতিমখানা থেকে ওদের অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করবে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। এরপরে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করবে সংস্থাটি। এই বালিকাদের উচ্চশিক্ষার পর বিয়ের ব্যবস্থাও করবে সংস্থাটি।

সংস্থাটির আহ্বায়ক এমআই চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ২০ কন্যার উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করবো। আল্লাহর রহমতে আমাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই। এই কন্যাদের বিয়ের সময় সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ব্যয় করবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। কোনো কন্যা পথে থাকবে না। ২০ কন্যার স্থায়ী ঠিকানা করে দিয়েই আমরা দায়িত্ব শেষ করবো।’

হোমটি পরিচালনায়  আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা দিচ্ছে বিজিএমইএ। এছাড়া খাওয়া বাবদ দৈনিক প্রতিটি শিশুর জন্য ১৬৬ টাকা করে ব্যয় করা হচ্ছে। এর পুরোটাই বহন করছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম।আঞ্জুমান কর্তৃপক্ষ কন্যাশিশুদের থাকা-খাওয়া চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। সবাই মিলে-মিশে ২০ কন্যার দায়িত্ব নিয়েছে।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের তথ্যমতে, প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের পরিবারে ৭০০ শিশু ছিল, যারা বর্তমানে হয় মা বা বাবা অথবা দাদি-নানির কাছে বেড়ে উঠছে। এ সংখ্যা আরও বেশি বলে তাদের ধারণা। এর মধ্যে নানা পর্যায়ে ৩শ শিশুর পড়ালেখার ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব হলেও বাকিদের খোঁজ কেউ রাখেননি।

তবে বিজিএমইএ বলছে, এই  শিশুরা বিজিএমইএর সঙ্গে যোগাযোগ করলে একটা ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি রানা প্লাজা ধসে যেসব শিশু এতিম হয়েছে তাদের চাকরির জন্য বিজিএমইইএ’র দরজা খোলা।

এতিম শিশুদের প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন,রানা প্লাজা ধসে  এতিম হওয়া শিশুদের আমরা চাকরি দিয়ে দেবো। যার যে ধরণেরযোগ্যতা সেই অনুযায়ী চাকরি দিতে আমরা সহায়তা করবো।’

‘এখনও তো অনেক এতিম শিশু সহায়তার আওতায় আসেনি’ –এই কথার জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর এসব কথা ভুয়া। আমরা নানাভাবে সকল এতিম শিশুর দায়িত্ব নিয়েছি।তবে এখনও কেউ বাদ পড়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’

জাপানীদের রুচি বদলে যাচ্ছে !

টোকিওর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইয়োশিওয়ারা নামে এক এলাকা আছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে এলাকাটির নাম ছিল এডো। সে সময় ওটা ছিল জাপানের নাম করা বেশ্যাপল্লীগুলোর একটি। নারী ও পুরুষ দুই ধরনের বেশ্যা রাস্তায় হেঁটে বেড়াত খদ্দের জোটানোর জন্য। সব ধরনের সার্ভিস বা সেবাই দিত তারা। চার শ’ বছর পর এখনও ইয়োশিওয়ারা যৌন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। তবে খদ্দেরদের রুচি, আকাক্সক্ষা, কামনা-বাসনার ধারা বদলেছে। সেগুলো আগের মতো অত স্পষ্ট ও স্থূল নয়। এখন ‘ফিমেল এম্পারার’-এর মতো অসংখ্য ‘সোপল্যান্ড’ গজিয়ে উঠেছে, যেখানে খদ্দেররা তাদের পরিবর্তিত ইচ্ছা এবং কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার সুযোগ পান। সোপল্যান্ড হচ্ছে বিশেষ ধরনের স্লানাগার। সেখানে শুধুমাত্র অন্তর্বাস পড়া মেয়েরা পুরুষদের সারা শরীর ঘষে মেজে স্নান করিয়ে দেয় এবং এ সময় চাইলে পুরুষরা নানাভাবেই নিজেদের যৌন কামনা পূরণ করতে পারে ৯৪ ডলারের বিনিময়ে যা ১০ হাজার ইয়েনের সমান।

ইয়োশিওয়ারার এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে জাপানের যৌনশিল্পের বৃহত্তর পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত পাওয়া কঠিন। তবে ভ্যাজাইনাল সেক্সের মতো উগ্র ধরনের সার্ভিসের পরিবর্তে অনুগ্র ও লঘুমাত্রিক যৌন সার্ভিসগুলো অধিকতর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, জাপানে পতিতাবৃত্তি অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে নারী পুরুষের যৌনসঙ্গম বেআইনী, যদিও তা ব্যাপক পরিসরে লভ্য। অন্যদিকে ওরালসেক্স বৈধ। মাসাহিরো ইয়ামাদা নামে এক সমাজবিজ্ঞানী বলেন, জাপানে যৌন ব্যবসায় শুধুমাত্র সঙ্গম নয়, উপরন্তু অন্তরঙ্গতা ও রোমাঞ্চের জন্য আকুল আকাক্সক্ষাও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। তাই এ ধরনের সেক্স সার্ভিসের বিকাশ ঘটে চলেছে। যেমন ধরুন কায়াবাকুরার সংখ্যা বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে এমন স্থান সেখানে পুরুষরা যায় নারীদের দ্বারা মদ্য পরিবেশিত হওয়ার ও আদর-যতœ লাভের আশায়। তেমনি বাড়ছে ইমেজ ক্লাবের সংখ্যা, যেখানে পুরুষরা নানা ধরনের ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ করে। ওনাকুরা শপগুলো পুরুষদের নারী কর্মচারীদের দৃষ্টির সামনে হস্তমৈথুন করার সুযোগ দেয়। পর্নোগ্রাফি শিল্পের অবস্থাও রমরমা।

অপেক্ষাকৃত কম ইন্দ্রীয়পরায়ণ সার্ভিসের দিকে জাপানীদের ঝুঁকে পড়ার কাজ শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। এ সময় মার্কিন দখলদারদের মধ্যকার অতি শালীন লোকজন জাপানী কর্তৃপক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ভ্যাজাইনাল সেক্স করার ব্যবস্থাটি বেআইনী ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষাবধি দেয়া হয় ১৯৫৮ সালে। সাম্প্রতিকালে অবশ্য জনমিতিগত ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও পরিবর্তন ত্বরান্বিত করেছে। জাপানী জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৮ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। এই অনুপাতটি বিশ্বের সর্বোচ্চ। বুড়োরা দীর্ঘদিন সুস্থ থাকছে তবে সেটা অনুগ্র ধরনের লঘুতর যৌনসেবা লাভের পর। এমন মন্তব্যটি করেছেন টোকিওর ইয়ানো রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাটসুহিতো মাতসুশিমা।

শুকান পোস্ট নামে একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক সংস্করণে কিভাবে বয়স্ক লোকেরা ¯্রফে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সোপল্যান্ডে যায়, তার বর্ণনা দেয়া আছে। ‘ডেলিভারি হেলথ’ ব্যবসার এক মালিক, যার প্রতিষ্ঠানটির কাজ হচ্ছে হিরোশিমায় বাড়িতে ও হোটেলে মেয়েদের আনা-নেয়া করা, তিনি জানিয়েছেন যে, আগে তার প্রধান খদ্দের ছিল ২০ বছরের কোটার যুবকরা। এখন তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে বুড়োরা। যৌন সঙ্গম করার চাইতে তারা বরং তরুণীদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করেন।

‘মাই জার্নি’ নামে একটি যৌন ম্যাগাজিনের সম্পাদক আকিরো ইকোমা জানিয়েছেন, আজ তার প্রকাশনার লক্ষ্য হলো প্রধানত ৫০ ও ৬০-এর কোটার পুরুষরা। ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া ছবিগুলো অপেক্ষাকৃত শালীন। জননেন্দ্রীয়ের ছবি নেই। স্তনের ছবি থাকলেও খুব বেশি নেই। এক ছবিতে দেখানো হয়েছে ছড়ি হাতে এক বয়স্ক লোক ‘এমস পপ লাইফ’ নামে এক প্রাপ্তবয়স্ক চেনশপের একটি আউটলেটে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তাকে আকৃষ্ট করার জন্য ওখানে অনেক কিছুই আছে। তার একটি দৃষ্টান্ত হলো ‘সিলবার পর্নো’, যেখানে অভিনয় করেছেন মাওরি তেজুকা। নয় বছরের ক্যারিয়ার শেষে গত বছর তিনি ৮০ বছর বয়সে অবসরে যান।

একই সময় যৌনশিল্প দৈহিক পরিতৃপ্তি মেটাতে কম আগ্রহী জাপানী তরুণদের চাহিদার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। এক সময় ইয়োশিওয়ারার গণিকাদের কাছে নিজেদের কৌমার্য হারানো তরুণ জাপানীদের কাছে অতি সাধারণ ঘটনা ছিল। জাপানী ভাষায় এটাকে বলা হয় ফুদেওরশি, যার অর্থ নতুন তুলির টানে শেখা। এখন তরুণরা প্রায়শই অনির্দিষ্টকাল ধরে কৌমার্য বজায় রেখে চলে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, ৪২ শতাংশ অবিবাহিত পুরুষ ও ৪৪ শতাংশ অবিবাহিতা নারী ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত কখনই কারও সঙ্গে সেক্স করেনি। ৫০ শতাংশেরও বেশি জাপানী পুুরুষ ও ৬০ শতাংশেরও বেশি জাপানী মহিলা ৩০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে বিয়ে করে থাকে। অনেক তরুণ সেক্সকে ‘মেন্দোকুসাই’ বা ক্লান্তিকর বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তরুণদের জন্য যেসব সেক্স সার্ভিস রয়েছে, সেগুলো প্রায়শই হচ্ছে নিজেদের দ্বারাই সেক্স করা। মাতসুশিমা এর নাম দিয়েছেন ‘কোয়াসি সেক্স’। স্বমেহন বা হস্তমৈথুন আরও উপভোগ্য করে তোলার সার্ভিসগুলোর ব্যাপক প্রসার ঘটছে। যেমন কিছু কিছু ওয়েসবাইট আছে সেখানে নগ্ন মেয়েদের সঙ্গে চ্যাট করা যায়। আবার কিছু ভিডিও পার্লার আছে যেখানে পুরুষরা প্রাইভেট বুথে বসে এডাল্ট ডিভিডি দেখতে পারে।

কেউ কেউ অবশ্য এসব কিছুকে সেক্সের ব্যাপারে জাপানী পুরুষদের আস্থা কমে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখেন। স্থানীয় মিডিয়ায় এমন পুরুষদের ‘হার্ভিডোর’ (তৃণভোজী প্রাণী) আখ্যা দেয়া হয়েছে, যারা স্বাধীনচেতা মেয়েদের ভয়ের চোখে দেখে। জাপানে ‘মেইড কাফে’ গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পুরুষদের কাছে। এসব কাফেতে ফ্রিল লাগানো এপ্রোন পড়া মেয়েরা খদ্দেরদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। তারা যতœ করে মুখে খাবার তুলে খাইয়ে দেয়। কাফেগুলোতে তাই পুরুষদের ভিড় লেগেই থাকে। বাড়তি পয়সা দিলে তারা খদ্দেরের শরীরজুড়ে হাতও বুলিয়ে দেয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, যৌনশিল্পে আরেক প্রবণতাও পুরুষদের আস্থাবোধের অভাবের জন্য দায়ী হতে পারে। সেটা হলো তরুণীদের ফেটিশিজম। অর্থাৎ অপ্রাণীবাচক বস্তুর সান্নিধ্য বা স্পর্শ পেলে তাদের যৌনাকাক্সক্ষা জাগ্রত হয়। সেটা হতে পারে পোশাক বা পায়ের মোজা কিংবা হাতের দস্তানা। এর ফলে কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরুষদের স্কুলগার্লের পোশাক পরা কারো সঙ্গে হেঁটে বেড়ানো কিংবা শুয়ে থাকার সুযোগ দেয়। ব্যাপারটা বৈধ, যদি সেই যৌনকর্মী বাস্তবে স্কুলগামী বয়সের মেয়ে না হয়।

সেক্স শিল্পের এই বিবর্তনে অর্থনীতিবিদদেরও হয়ত একটা ভূমিকা আছে। সেই দিনগুলো গত হয়েছে, যখন ইচ্ছামাফিক খরচ করার মতো প্রচুর অর্থ জাপানীদের হাতে ছিল। ডেলিভারি-হেলথ সার্ভিসের মালিক বলেছেন, সেক্স এখন ব্যয়বহুল। ‘মেইড কাফেতে’ একবার গেলেই খরচ হয়ে যায় এক হাজার ইয়েন। তথাপি প্রচলিত সেক্স শিল্পে ভাটা পড়ার অর্থ এই নয় যে, সামগ্রিক প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পে ভাটা চলছে। ইয়ানো রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সেক্স সংক্রান্ত স্থাপনা ও সার্ভিসগুলো ২০১৪ সালে ২.১ শতাংশ বেড়েছে এবং সেক্স শপগুলোয় বিক্রি বেড়েছে ১ শতাংশের কিছু কম। যদিও জাপানের জনসংখ্যা কমছে এবং লোকের বয়স বাড়ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ পর্নোসাইট পর্নোহার জানিয়েছে যে, জাপান হলো এই সাইটের ট্রাফিকের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস।

পর্নোহারের সম্পাদক ইকোমা মনে করেন এর কারণ অংশত হলো এই যে, এই ব্যবসাটি অন্য যে কোন দেশের চাইতে জাপানে সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। অনেক কোম্পানি এখনও স্ট্রিপ ক্লাবের সমপর্যায়ের ক্লাবগুলোতে খদ্দেরদের মনোরঞ্জন করে চলেছে। আর অনেক দোকানেই বিক্রি হচ্ছে পর্নো ম্যাগাজিন। জাপানী পুরুষরা সরাসরি যৌন সঙ্গমের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলুক আর নাই ফেলুক, সৃজনশীল বিকল্প ব্যবস্থার অভাব তাদের নেই।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

পহেলা বৈশাখ প্রসঙ্গে

boisakh celebration 2018 10বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী এই পহেলা বৈশাখ দিনটিকে বরণ করা হয় সর্বজনীন উৎসবের মধ্য দিয়ে। মানুষ মেতে ওঠে আনন্দে। এ বছরও উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। প্রস্তুতি নিয়েছে এক শ্রেণীর মানুষ, যাদের মধ্যে শহুরে অবস্থাপন্নদের কথা উঠেছে বিশেষ কিছু কারণে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার বিলাসিতা। এর জন্য নগদ অর্থে মূল্যও তারা যথেষ্টই গুনছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে। 

যেমন গতকাল প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা পারের মাওয়ায় মৎস্য আড়তগুলোতে এরই মধ্যে প্রচুর ইলিশের মজুত তৈরি করেছে ব্যবসায়ীরা। এসব ইলিশ বিক্রিও করছে তারা যথেচ্ছ দামে। একজন ব্যবসায়ী দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের এক হালি অর্থাৎ চারটি ইলিশ বিক্রি করেছে ২৭ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতিটি ইলিশের দাম পড়েছে ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। মাছগুলো কিনে নিয়ে গেছেন ঢাকা থেকে আগত একজন, যার পরিচিতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলার অপেক্ষা রাখে না। 

অথচ পহেলা বৈশাখের ইতিহাস কিন্তু এই শ্রেণীর মানুষের বিলাসিতা ও অপসংস্কৃতি কর্মকান্ডকে সমর্থন করে না। প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গাব্দ তথা বাংলা বর্ষের ইতিহাস স্মরণ করা দরকার। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, বাংলা এই সালের সূচনা করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। উদ্দেশ্য ছিল ফসলের ঋতুর ভিত্তিতে খাজনা আদায় করা। এর ফলে কৃষকের পক্ষে খাজনা দেয়ার সময় অর্থাৎ কখন খাজনা দিতে হবে তা মনে রাখা সহজ হতো। সরকারও বছরের বিশেষ সময়ে সহজে খাজনা আদায় করতে পারতো। নববর্ষের উৎসবও শুরু হয়েছিল তখন থেকেই। এই তথ্যের আলোকে বলা যায়,নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ সম্পূর্ণরূপেই কৃষিভিত্তিক একটি দিন। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল সেটাও ছিল কৃষিভিত্তিক। 

এদেশের মানুষের জীবনেও এর রয়েছে নানামুখী প্রভাব। দিনটিকে শুভ মনে করা হয় বলে অনেক কৃষক পহেলা বৈশাখে জমিতে হাল দেয়। অনেকে ফসলের বীজ বোনে, রোপণ করে শস্যের চারা। দোকানদার, মহাজন ও ব্যবসায়ীরা হালখাতার মাধ্যমে পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন হিসাবের সূচনা করে। সমাজের অন্যান্য শ্রেণী ও পেশার মানুষও দিনটিকে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে। গ্রাম থেকে শহর-নগর-বন্দর পর্যন্ত সর্বত্র আয়োজিত হয় বৈশাখী মেলা। এসব মেলায় হরেক রকমের পণ্য নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে কামার-কুমার ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। মেলায় থাকে মাটির পুতুলসহ খেলনা এবং দই ও মুড়ি-মুড়কির মতো উপাদেয় নানা খাবার। মেলা পরিণত হয় সাধারণ মানুষের মিলন মেলায়। 

অর্থাৎ পান্তা এবং ২৭ হাজার টাকা হালির ইলিশ খাওয়া কখনো গ্রাম বাংলার তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ছিল না। এটা চালু করেছেন ফিলদি রিচেরা। বিষয়টিকে বাংলা নববর্ষের মূল চেতনার সঙ্গেও মেলানোর উপায় নেই। কারণ, গ্রাম বাংলার কোনো অঞ্চলেই বছরের এ সময়ে ইলিশ পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ নিষিদ্ধ সে ইলিশকে নিয়েই মেতে ওঠেন। সঙ্গে আবার খান পান্তা ভাত! অথচ গ্রাম বাংলার মানুষ কখনো ইলিশ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার কথা কল্পনা করতে পারে না। তারা পান্তা খায় নুন-পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচ দিয়ে। সেটাও খায় বাধ্য হয়ে ভালো কিছু খাওয়ার উপায় নেই বলে। কেউই অন্তত ইলিশ খায় না, পায় না বলে খেতেও পারে না। অর্থাৎ পান্তা-ইলিশের সঙ্গে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের চিন্তা-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। 

আমরা মনে করি, নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের চিন্তা-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী কর্মকান্ডের অবসান ঘটানো দরকার। একই দেশে নববর্ষ উদযাপনের এই বৈষম্য ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার এবং নববর্ষ উদযাপনের মূল অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।

নববর্ষ,পহেলা বৈশাখ ও ইসলাম

boisakh parade statues 1.jpgমো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ : বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। অথচ বর্তমানে অস্বীকৃতি, অস্পষ্টতা ও অসংলগ্নতার ঘূর্ণাবর্তে পহেলা বৈশাখ হয়ে যাচ্ছে একপক্ষীয়। তাই আনুষ্ঠানিক বর্ষবরণে কারো অংশগ্রহণ বা কারো বিরত থাকার মধ্যে বিভক্তি রেখা আবিষ্কার কাম্য নয়। জাতিগতভাবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক বা নিষিদ্ধকরণের পরিবর্তে এটিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকৃতি দেওয়াই যৌক্তিক। কেননা সংস্কৃতি কখনোই আরোপিত বিষয় নয়, বরং মানুষের সুকোমল প্রবৃত্তির বহুল চর্চা ও অনুশীলনের স্বাভাবিক প্রকাশ হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতির বিকাশ একটি নিরপেক্ষ কালোত্তীর্ণ-মানোত্তীর্ণ ধারণা ও সময়সাপেক্ষ অর্জন।

নববর্ষ, হোক তা বঙ্গাব্দ বা ইংরেজি বর্ষবরণ। নববর্ষ ঘিরে থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় সারা দেশ। ভুবুজেলা ও মুখোশ ব্যবহার, মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী, সব ধরনের ব্যাগ বহন, বিকেল ৫টার পর উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশসহ অনেক কিছুই থাকে নিষিদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখতে থাকে বিশেষ সতর্কতা ও সিসি ক্যামেরার নজরদারি। তার পরও বৈশাখী উৎসবে থাকে প্রাণের ছোঁয়া, থাকে উচ্ছ্বাসের বাঁধভাঙা জোয়ার।

সংস্কৃত প্রবাদে আছে ‘আনন্দে নিয়ম নাস্তি’। তবে বৈশাখী উৎসবে যা যা করা হয়, তা নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার অবকাশ প্রসঙ্গে কেউ বলেন, উৎসবের সঙ্গে ধর্মের সংশ্লেষ নেই। কেউ বলেন, এটা স্রেফ বাঙালির সর্বজনীন চেতনা। অথচ নিরেট সত্য কথা হচ্ছে যে আমরা একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলমান। বাঙালিত্ব ও ঈমানি বিষয়ে দ্বন্দ্ব নেই বলেই তো ধমকের যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি আপসেরও দরকার হয় না। কেননা,ধর্মীয় চেতনা কখনোই এক দিনের বিশেষ বিষয় নয়। ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গে শৈথিল্যের অবকাশ রাখা হয়নি,এক দিনের জন্যও নয়।

mongol parade 2018

ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব উৎসব-আয়োজন ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের জীবন-সম্ভ্রমের নিরাপত্তা ঝুঁকি, নামাজ-ইবাদতের জন্য প্রতিবন্ধক, বিধর্মীদের অনুসরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-লটারি, রং খেলা, উদ্দাম নৃত্য-গীত, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কি আঁকা, অবৈধ পণ্যের বিপণন ইত্যাদির বাহুল্য থাকে, তা একজন ঈমানদারের জন্য অশোভন। কেননা শরীর ও মনের বিকাশে যে সব কাজকর্মের ফলে ফরজ লঙ্ঘন অথবা হারামের অনুষঙ্গ তৈরি হয়, সে সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে যথেষ্ট। কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না।

সুস্থ সংস্কৃতি হলো মানব মননের সুকোমল অভিব্যক্তি, যা ভূগোল ও বিশ্বাসের সীমা ছাড়িয়ে পরিশীলিত ঐক্য ও বিবেকের জাগরণ ঘটায়। অথচ প্রিয়নবী (সা.)-এর নবুয়ত-পূর্ব জাহেলিয়াত বা ‘মূর্খতার যুগে’ উৎসব, আনন্দ-বিনোদনের মধ্যে ছিল না মানবতা-নৈতিকতার ছোঁয়া। উৎসবের বেলেল্লাপনার শিকার হয়ে বিশিষ্ট ও বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সাহাবি গুরুতর আহত হওয়ার পটভূমিতেই সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। এ আয়াতের মাধ্যমে মদ, মূর্তি, জুয়া, লটারিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি একে ‘ঘৃণিত শয়তানের কাজ’ বলা হয়েছে।

জাহেলিয়াত বা ‘মূর্খতার যুগে’ আরবরা যুদ্ধবিদ্যা, অতিথি সেবা, পশুপালন, দেশভ্রমণ, আন্তর্দেশীয় ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদিতে ছিল বিখ্যাত। শিল্প-সাহিত্যেও তারা কম যায়নি। ইতিহাসখ্যাত ছিল সে সময়ের ‘উকাজের মেলা’। কবিতা উৎসবের সর্বশ্রেষ্ট সাতটি কবিতা স্থান পেয়ে ছিল পবিত্র কাবার দেয়ালে। যাকে বলা হয় ‘সাবউল মুয়াল্লাকাত’। ইরানে ছিল নববর্ষ পালন ও ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে প্রচলিত দুটি উৎসব ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’। অথচ এত সব কিছুর কোথাও ছিল না সুস্থ বিবেকবোধের চর্চা; বরং সংস্কৃতির নামে ছিল অপসংস্কৃতির অবাধ্যতা। খাদ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চুল, কাঁকড়জাতীয় বস্তু যেমন অখাদ্য, তেমনি সংস্কৃতির মধ্যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশই বা কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা জরুরি।

boisakh 445

প্রাণ ও প্রকৃতির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। আমরা ভাগ্যবান, আমাদের বর্ষপঞ্জি আছে, ইংরেজদের নেই। তারা ব্যবহার করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। ‘সন’ ও ‘তারিখ’ আরবি শব্দ। ‘সাল’ ফারসি শব্দ। এগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা সনের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পৃক্ততার কথা। বর্ষ পরিক্রমা প্রসঙ্গে আল কোরআনের বাণী : ‘তিনি সূর্যকে প্রচণ্ড দীপ্তি দিয়ে/চাঁদ বানিয়ে দিলেন স্নিগ্ধতা ভরে/বছর গণনা ও হিসাবের তরে।’ (কাব্যানুবাদ, ইউনুস : ০৫)

পবিত্র কোরআনে ১২ মাসে এক বছর প্রসঙ্গে আছে ‘নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডল সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই আল্লাহ ১২টি মাস নির্ধারণ করেছেন…।’ (সুরা তাওবা,আয়াত : ৩৬)।

আয়াতটি নাজিলের পটভূমিতে জানা যায়, জানাদা ইবনে আউফ (রা.) প্রকৃতির স্বাভাবিক রীতিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে বছরের শুরুতে ঘোষণা করত—‘এ বছর ১৩ মাসে’, ‘ওই বছর ১৪ মাসে’ বা ‘১১ মাসে’ ইত্যাদি। উদ্দেশ্য, যুদ্ধবিরতি পালনে বিঘোষিত ‘সম্মানিত মাস চারটি’কে এড়িয়ে যাওয়া।

আমাদের দেশেও ‘আঠারো মাসে বছর’—এমন কথা প্রচলিত আছে। কথিত আছে ‘শের-ই-মৈশুর’খ্যাত টিপু সুলতান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সৈন্যদের বেতন দিতেন ৩৫ দিনে মাস হিসাব করে।

মানুষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্মরণ করে সময়-তারিখ বলে, যেমন সংগ্রামের বছর, বন্যার বছর, আকালের বছর, আবিসিনিয়ায় আবরাহার হস্তিবাহিনী ধ্বংস হওয়ার ফলে চালু হয় ‘হস্তিবর্ষ’। ইতিহাসে দেখা যায়, বিশেষ ঘটনাকেন্দ্রিক সন ব্যবস্থার প্রচলন। যেমন—হজরত ঈসা (আ.) স্মরণে খ্রিস্টাব্দ বা ঈসায়ী সন। প্রিয়নবী (সা.)-এর হিজরতের বছর ৬২২ খ্রিস্টাব্দকে প্রথম বছর ধরে ঘটনার ১৭ বছর পর হজরত ওমর (রা.) হিজরি সন প্রবর্তন করেন।

১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা বিজয়ের ফলে হিজরি সন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। তবে চান্দ্র ও সৌরবর্ষের গণনা রীতিতে পার্থক্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। আবার চন্দ্রকলার হ্রাস-বৃদ্ধিতে সময় লাগে প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা। যে কারণে এক চান্দ্র বছর হতে সময় লাগে প্রায় ৩৫৪ দিন ৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। চান্দ্র মাসভিত্তিক বছরে ১০ থেকে ১১ দিনের তারতম্যে প্রতিবছর সন-তারিখের হিসাব মেলাতে সমস্যা হয়। তখন রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্রাট আকবরের সভাসদ আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজি একটি নতুন সৌরসন উদ্ভাবন করেন। তিনি হিজরির ৩৫৪ দিনের পরিবর্তে ৩৬৫ দিন ধরে যে নতুন সন উদ্ভাবন করেন, তা-ই ‘বাংলা সন’। সম্রাট আকবর ফরমান জারির মাধ্যমে এই নতুন সন গণনা করেন, যার সূচনা ধরা হয় তাঁরই মসনদে আরোহণের বছর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯৯২ মতান্তরে ৯৯৩ হিজরিকে। আকবরের ‘ফসলি সন’ যখন চালু হয়, তখন সুবে বাংলায় মহররম ছিল বৈশাখ মাস। সে জন্যই নতুন সনের প্রথম মাস হয়ে যায় বৈশাখ। ১৯৫৪ খ্রি. ‘যুক্তফ্রন্ট’ সরকার গঠিত হলে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলা নববর্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

boisakhi mongol parade 3

ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণে সন-তারিখের প্রচলন মুসলিম শাসকদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহীশুরের শাসক টিপু সুলতান প্রিয়নবী (সা.)-এর নবুয়ত লাভের বর্ষকে সূচনায় এনে বিশেষ রীতিতে ‘মুহাম্মদী সন’ প্রবর্তন করেন। আকবরের ‘ফসলি সন’ গণনা রীতিতে চট্টগ্রাম ও আরাকানে প্রচলিত হয় ‘মগি সন’। পার্বত্য জনপদে ‘বৈসাবি’ নামে বর্ষবরণের রীতি প্রচলিত। পার্বত্য তিনটি উৎসবের আদ্যাক্ষর দিয়ে গঠিত শব্দ ‘বৈসাবি’। ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, বৈসু বা বাইসু ও মারমাদের কাছে সাংগ্রাই, অন্যদিকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত উৎসব হলো বাংলা নববর্ষ বা ‘বৈসাবি’। হিজরি সনের আদলে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত হয়েছিল ‘বিলায়তি সন’, ‘আসলি সন’, ‘ইলাহি সন’ ও ‘জালালি সন’ ইত্যাদি। এসব সন গণনারীতির সঙ্গে প্রিয়নবী (সা.)-এর স্মৃতি ও ইসলাম-মুসলিম ঐতিহ্যের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত স্পস্ট।

আমরা মুসলমান। মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। ইসলামী সংস্কৃতি মহান আল্লাহর আদেশ ও প্রিয়নবী (সা.)-এর আদর্শিক চেতনায় উজ্জীবিত এবং ইহ ও পারলৌকিক শান্তি-মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত। অন্যদিকে বৈশাখী উৎসব নিছক এক দিনের সস্তা বিনোদনের বিষয় নয়, বৈশাখী উৎসব আমাদের জাতীয় পরিচিতি সংরক্ষণের ডাক দেয়। বাংলা নববর্ষের ক্রমবিবর্তনে রয়েছে মুসলিম ঐতিহ্য ও পুরনোকে মুছে ফেলে নতুন শপথে পথ চলার অঙ্গীকার। মুসলিম লোকভাবনাসমৃদ্ধ ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’য় নববর্ষের আবাহন ধ্বনিত হয়েছে—‘আইল নতুন বছর লইয়া নব সাজ,/কুঞ্জে ডাকে কোকিল-কেকা বনে গন্ধরাজ।’

অথবা ‘বৈশাখ মাসেতে গাছে আমের কড়ি/পুষ্প ফুটে পুষ্প ডালে ভ্রমর গুঞ্জরি।’ (কমলা পালা)

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর