আর্কাইভ

Archive for the ‘জীবনযাপন’ Category

দিনে ৮ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন ট্রাম্প!

trump-watching-tvমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিন চার থেকে আট ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন। মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে টেলিভিশন দেখা শুরু করেন ট্রাম্প। আর এটা শুরু হয় সিএনএন অনুষ্ঠান দেখার মধ্য দিয়ে। অথচ বিভিন্ন সময় ট্রাম্প সিএনএনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এরপরই প্রেসিডেন্ট ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ দেখেন। ফক্স টেলিভিশনের সিন হ্যানিটি. লরা ইনগ্রাহাম ও জেনিন পিরোর উপস্থাপনার অনুষ্ঠানগুলোও রয়েছে প্রেসিডেন্টের পছন্দের তালিকায়।

গত মাসে এশিয়া সফরকালে ট্রাম্প তার টেলিভিশন দেখা নিয়ে সাক্ষাৎকারে যে কথা বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদটি অবশ্য তার বিপরীত তথ্যই জানাচ্ছে। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন,‘বিশ্বাস করুন আর নাই করুন,আমি যখন ওয়াশিংটন অথবা নিউ ইয়র্কে থাকি আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। যারা আমাকে জানে না তারাই ভুয়া সূত্রের বরাত দিয়ে বলে আমি টেলিভিশন দেখি। বুঝতেই পারছেন ভুয়া সাংবাদিক, ভুয়া সূত্র।’

ট্রাম্প বলেছিলেন,‘তবে আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। এর প্রাথমিক কারণ হচ্ছে নথিপত্র। আমি নথি পড়ি, প্রচুর পরিমাণে। আমি আসলে প্রচুর পড়ি।’

Advertisements

রম্য-কথনঃ ঢাকা শহর আইস্যা আমার পরান জুড়াইছে…

10 unknown facts about dhaka

কার্টুন-রসঃ জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে চাইলে…

Forma-2.qxdForma-2.qxdForma-2.qxd

ব্যয়ের লিস্টে গায়েবি থাবা

শামীমুল হক :গৃহবধূ মিনারা ইসলাম দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ঢাকায়। তার সংসারে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সুখেই ছিলেন। হঠাৎ তার সংসারে নেমে আসে কালো মেঘ। অন্ধকারে ঢাকা পড়ে ভবিষ্যৎ। তার স্বামী ব্যাংকার রফিকুল ইসলামের কর্মস্থল ছিল মতিঝিল সোনালী ব্যাংক। একদিন অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে সায়েদাবাদে দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়েন তিনি। এতে মারাত্মক আহত হন। সংজ্ঞা হারানোর আগে মিনারা ইসলামকে ফোনে এতটুকু বলতে পেরেছিলেন ‘আমি এক্সিডেন্ট করেছি।’ আহত রফিকুলকে আশেপাশের লোকজন দ্রুত নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মিনারা ছুটে যান সেখানে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মিনারা জানান, ওই ঘটনা আমার সংসার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুটি সন্তানকে নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ি। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধপত্র কিনতে খরচ হয় মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু তাই নয়, অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে করতে হয়েছে পোস্টমর্টেম। সেখানে দিতে হয়েছে ৭০০০ টাকা। তিনি বলেন, এমনিতেই সারা বছর একজনের না একজনের রোগ বালাই লেগেই থাকে। সীমিত উপার্জনের এ সংসারে আমার স্বামীর এক্সিডেন্ট গায়েবি থাবা হিসেবেই আমি দেখি। স্বামীকেও হারালাম। বিশাল অর্থও গেল। এখন শুধু হাহাকার নিয়ে বেঁচে আছি। মিনারা বলেন, তিন জনের সংসারে মাসে নির্দিষ্ট একটা অঙ্কের অর্থ রাখতে হয় চিকিৎসার জন্য। দেশে ৪/৫শ’ টাকার নিচে ডাক্তার ফি নেই। আর ভালো কোনো প্রফেসর দেখাতে গেলে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা ফি দিতে হয়। এরপর তো রয়েছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেখানেও বিশাল অর্থ খরচ হয়। ডাক্তার তো আর ধনী-গরিব দেখে রোগী দেখেন না। তিনি গোনেন সংখ্যা। আর অর্থ। এভাবেই নিম্ন মধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্তরা সংসার খরচে চিকিৎসা বাবদ বরাদ্দ না রাখলেও প্রতি মাসেই এর পেছনে অর্থ খরচ করতে হয়। ফলে সংসার খরচে টান পড়ে। সেই কষ্টেই চালাতে হয় দিন। শখ বলতে তাদের জীবনে নেই।

দুই মাস আগে প্রবাসী আহাদ মিয়ার সংসারে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার মেয়ের সন্তান হয় তিন দিন আগে। রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় তার স্ত্রী হারিকেন ধরাতে যান। হঠাৎ করে হারিকেন বিস্ফোরণ হয়ে তার স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরে যায়। এরপর বাড়ির অন্যরা শরীরের আগুন নিভিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিওতে রাখা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি মারা যান। আহাদ মিয়ার বড় মেয়ে শেফালি জানান, এমন ঘটনার জন্য কেউই প্রস্তুত থাকে না। তারপরও পরিস্থিতি সামলে নিতে হলে টাকার দরকার। সেই টাকা যাদের থাকে না তারা বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

দুই মাস ধরে মগবাজার তাকওয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালে কানের চিকিৎসা করাচ্ছেন আবদুল আলীম। সেখানে প্রফেসর তরফদার তার চিকিৎসা করান। এক পর্যায়ে তার কানের অপারেশনের কথা বলেন চিকিৎসক। সে অনুযায়ী অপারেশন করান। তিনি বলেন, অপারেশন খরচ নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। আর ওষুধপত্র আর গ্রামের বাড়ি নরসিংদী থেকে আসা-যাওয়া সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে লাখ টাকার উপরে। এটা তো আমাদের জন্য বিশাল খরচ। এছাড়াও মাসের প্রায় দিনই সংসারের কারো না কারো জ্বর, সর্দি, ঠাণ্ডা লেগেই থাকে। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ালে ডাক্তার ফি দিতে হয় ৪/৫শ’ টাকা। আর ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়ালে ডাক্তার খরচ বেঁচে যায়।

রাজধানীর মিরপুর-২ নাম্বারে বসবাস করেন একটি প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমার প্রতি মাসে ওষুধ খরচ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এটা একেবারে বান্ধা। আমার সঙ্গে মা থাকেন। ওনার ডায়াবেটিস। ইনসুলিন দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য ওষুধ তো আছেই। সংসার চালাতে গিয়ে অনেক সময় ফার্মেসি থেকে ওষুধ বাকি আনতে হয়। কি করবো বলুন। ফার্মেসিতে কোনো মাসে কম টাকা দিলে কথা শুনতে হয়। আবার ওষুধ না এনেও পারি না। মাঝখানে রাগ করে এক সপ্তাহ ইনসুলিন আনিনি। মাকে ইনসুলিন দেইনি। পরে দেখি মা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে এক সপ্তাহ থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি আনি। একটি ইনসুলিন না কেনায় আমার কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা চিকিৎসার পেছনে দিতে হয়েছে। এমনিতেই টানাটানির সংসারে কষ্ট করে চলতে হয়। এর উপর চিকিৎসা ব্যয় আমাদের দিশাহারা করে তুলছে। তিনি বলেন, এক বছর আগে যে ক্যাপসুল ১০ টাকায় কিনতাম। এখন সে ক্যাপসুল কিনতে হয় ২৫ টাকা করে। এমনকি নাপা ট্যাবলেটের দামও বেড়ে গেছে।

গত এক বছরে ওষুধের বাজারে এমন কোনো ওষুধ নেই যে, তার দাম বাড়েনি। ফলে এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে প্রতিটি সংসারে। আর নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সংসারের বাজেটে কুলাতে পারছেন না। কেউ কেউ ধারকর্জ করেন। কেউবা খরচ কমিয়ে সংসার চালান। আবার এমনও দেখা গেছে, সংসার খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে গোটা পরিবার।

এমনই একটি পরিবার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের রহমত আলী। তার কী হয়েছে কোনো ডাক্তারই ধরতে পারছে না। কৃষক রহমত ঢাকার এক স্বজনের দ্বারস্থ হন। তিনি একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার মেডিসিন বিভাগের এক অধ্যাপককে দেখান। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরতে পারেন তার ক্যানসার হয়েছে। এরপর তাকে ক্যামো থেরাপি দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত আসতে তার জমি বিক্রি করতে হয়েছে। কিন্তু ক্যামো ক’টি দিতে হবে? কত টাকা লাগবে এসব হিসাব করে তার পরিবার পিছিয়ে যায়। ডাক্তার বলে দেন ক্যামো দিলে হয়তো কিছুদিন বাঁচতে পারে। আর না দিলে যে কোনো সময় মরে যেতে পারেন। এ অবস্থায়ই নিঃস্ব হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। মাস দুয়েক বিছানায় গড়িয়ে তিনি মারা যান।

খাওয়ার পর চিকিৎসা ব্যয় এখন প্রতিটি পরিবারের প্রধান খাত। আর এ খাতে কোনো নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ জানা থাকে না কারোরই। কতবার ডাক্তার দেখাতে হবে। কতদিন ওষুধ খাওয়াতে হবে এরও কোনোদিন তারিখ জানা থাকে না কারো। আর এখন আগের দিন ডাক্তার দেখিয়েছে কেউ আবার পরদিন গেলেও ফি দিতে হয়। এভাবে আয়ের একটা বৃহৎ অংশ খরচ হয়ে যায় চিকিৎসা খাতে। দেশের খুব কম সংখ্যক পরিবারই আছে যে পরিবারে ওষুধ লাগে না। যে পরিবারে রোগ বালাই নেই। এ অবস্থায় কষ্টের বোঝা বাড়তে থাকে। সংসার খরচে টান পড়ে। অভাব থেকে বের হতে পারে না কেউ। আবার হঠাৎ কোনো বড় রোগ হলে বিক্রি করতে হয় সহায় সম্পদ। কেউ কেউ হয়ে যান নিঃস্ব। এভাবেই চলছে কষ্টের জীবন।

অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা

rohingya women prostitutionশান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির আরকান রাজ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা করে দেশত্যাগে বাধ্য করছে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

মানবিক কারণে এসকল সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশও আশ্রয় দিয়েছে। আগস্ট থেকে এখনো অনুপ্রবেশ করা ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অধিকাংশই নারী ও শিশু। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় অবস্থান করছেন তারা। তবে বিপত্তিও ঘটেছে। সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্মে।

পুরুষদের পাশাপাশি টাকা আয় করে উন্নত জীবনের আশায় রোহিঙ্গা তরুণীরা নানা ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা তরুণীরা নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসনের। বিশেষ করে উন্নত জীবনের আশায় তারা আশ্রয় শিবির ত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।

গত কয়েকদিনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা তরুণীকে ‘উদ্ধার’ এবং অন্তত ৫০ জন দালালকে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ধরনের সামাজিক অপরাধ দমনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস, হেপাটাইস ‘বি’র মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতি রোগের প্রকোপ রয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬৫ জনকে এইডস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

জঙ্গি কার্যক্রমে রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইয়াবা চালানেও ব্যবহৃত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এদিকে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি সিম তুলে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় কোনও ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই এসব সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর নিবন্ধন না থাকায় এসব সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ। রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য দালালদের দারস্ত হয়। এ দালালরাই তাদের বন, জঙ্গল, পাহাড় ও নদী পাড় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশে ব্যবহৃত সিম ও মোবাইলের ব্যবস্থাও তারা টাকার বিনিময়ে করে দেন। তাই কখনও কখনও বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই এদেশের সিম পান তারা। এছাড়া মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

তরুণীদের অনৈতিক কাজে জড়ানোর ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরাজুল হক টটুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা তরুণীরা বলছেন, মিয়ানমারে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন উন্নত জীবনের আশায় এ অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছেন। রোহিঙ্গা তরুণীদের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার হার ক্রমশ বাড়তে থাকায় গেল এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এরইমধ্যে বিভিন্ন হোটেল থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ৫০ জন দালালকে’।

ইয়েমেনে ‘যুদ্ধাপরাধে’ সৌদিকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র

40K children dead in yemenশুক্রবার সম্প্রচারিত আলজাজিরার আপফ্রান্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন কংগ্রেসের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা খান্না বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা হামলায় সাহায্য করে ভুল করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, ‘এখন আমার মনে হচ্ছে, সৌদি আরবের যুদ্ধাপরাধ সংঘঠনে আমরা সৌদি আরবকে সাহায্য করছি।’ আইনপ্রণেতা খান্না এমন সময় এ কথা বললেন, যখন চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ইয়েমেনে সৌদি আরবের বোমা হামলার অভিযান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সব ধরনের অননুমোদিত সংযুক্তি প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে একটি প্রস্তাব হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা।

যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এসব মৃত্যুর পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায়ও বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সবশেষ সম্প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট স্থল, আকাশ ও নৌপথে ইয়েমেনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ জারি করেছে। এর ফলে দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করেছে, অবরোধ প্রত্যাহার করা না হলে ইয়েমেনে কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, মারা যাবে কয়েক লাখ মানুষ। অবরোধের কারণে জাতিসংঘের ত্রাণসামগ্রী এমন কি ওষুধ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া ও কলেরা। এতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে।

saudi bombed yemen

ইয়েমেনে হামলায় সৌদি আরবকে সহযোগিতা না করার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্য আকাশে তাদের যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সুবিধা দিচ্ছে। প্রস্তাবটি কংগ্রেসে ৩৬৬-৩০ ভোটে গৃহীত হয়।

রো খান্না মনে করেন, এই প্রস্তাবের ফলে চাপে পড়ে সৌদি আরবের অবরোধ শিথিল হবে এবং ইয়েমেনে জরুরি ত্রাণসহায়তা পৌঁছাতে সুযোগ দিতে বাধ্য হবে তারা।

উল্লেখ্য, ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে শিয়া হুতি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সুন্নিপন্থি সরকারের পক্ষ নিয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব দেশগুলোর সামরিক জোট বিমান হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরবকে সামারিক সহয়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

yemen cholera breakoutprevent yemen famine

আইএস জঙ্গির সঙ্গে বিয়ে বাংলাদেশি তানিয়া’র

Taniaজিহাদি জীবন থেকে পালিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ তানিয়া জর্জেলাস। বিয়ে করেছিলেন এক আইএস জঙ্গিকে। জন জর্জেলাস নামের শীর্ষ ওই মার্কিন জঙ্গিকে পরে ডিভোর্স দেন তানিয়া। ২০১৩ সালে জিহাদি জীবনধারা ত্যাগ করেন। তার স্বামী এখনও আইএস’র সঙ্গেই আছে। আর তানিয়া বর্তমানে বসবাস করছেন মার্কিন শহর ডালাসে।

ইয়াহু লাইফস্টাইলের এক প্রতিবেদনে তানিয়ার গল্প উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, তানিয়া ও জন জর্জেলাসের সাক্ষাৎ ও বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। জন জর্জেলাস ইয়াহিয়া  আল বাহরুমি বা ইয়াহিয়া দ্য আমেরিকান নামেও পরিচিত। বলা হচ্ছে সে আমেরিকায় আইএসের শীর্ষ নেতা। আর তানিয়া হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক। তিনি মুসলিম ভাবধারায় বেড়ে ওঠেন। টেক্সাস থেকে আসা জর্জেলাসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জর্জেলাসের বাবা মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন ডাক্তার। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। কাকতালীয়ভাবে, ইতিহাসের এই সংকটকালীন সময়ে তানিয়াও মৌলবাদে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

তানিয়া ও জনের এই গল্প বেশ দীর্ঘ। তবে কার্যকরভাবে তারা একটি দম্পতি হয়েছিলেন এবং দ্রুতই তিন সন্তান বিশিষ্ট একটি পরিবারে পরিণত হয়েছিলেন, যারা জেহাদ ও সন্ত্রাসবাদের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৩ সালে তারা আইএসে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেন এবং একই বছরের আগস্টে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। অবশেষে জন তিন সন্তান ও সন্তানসম্ভবা তানিয়াকে নিয়ে সিরিয়া পৌঁছায়। কিন্তু পৌঁছানোর পর তানিয়ার মনোভাব পরিবর্তন হয়। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। স্বামীর পিতা-মাতার সহায়তায় তানিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তিনি আইএসের সঙ্গে থাকা স্বামীকে ডিভোর্স দেন।

দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে সম্প্রতি তানিয়ার ওপর একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। পুরো ফিচারজুড়ে একটি জিজ্ঞাসাই ফুটে উঠেছে, তা হলো- আসলেই কি তানিয়ার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী,‘একসময় তিনি একটি পরিবারকে দেখাশোনা করতেন ও তাদের গুপ্তহত্যার প্রশিক্ষণ দিতেন। লেখক গ্রায়েম উডের পর্যবেক্ষণ হলো- এখনো তার মধ্যে লক্ষণ আছে, সহিংসতার না, তবে জেহাদের বিষয়ে তাকে যেভাবে ভুল বোঝানো হয়েছে তার স্থায়ী একটি প্রভাবের লক্ষণ রয়েছে। এক সময় তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি মনে করেন, শিয়ারা প্রকৃত মুসলিম না। আইএস একটি সুন্নি মৌলবাদী দল, শিয়াদের ঘৃণা করাই যাদের মূল তত্ত্ব। সে কখনোই বলেনি যে, সে সিরিয়ায় ফিরে যেতে চায়। কিন্তু সে শোকাহত হয়েছে যে, অনেক আইএস অনুসারীদের বোমা মেরে ধ্বংস করা হচ্ছে। শুধু এই জন্য যে, তারা একজন খলিফার অধীনে বাঁচতে চেয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা সাধারণ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করার পর তার এ ধরনের মন্তব্য পাওয়া যেতো।’

তার চাপা স্বভাব ও ওইখানকার স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে বেড়ানো সত্ত্বেও তিনি একটি শহরে বাস করছেন। নতুন একজন পুরুষের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। ম্যাচ ডটকমে তারা একে অপরের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তারা এখন চার্চে, কনসার্টে ও পানশালায় যান। লেখক উড এ বিষয়টিকে বলেন, তার পরিধেয় পোশাক দেখে মনে হতে পারে যে, তিনি গত কয়েক দশক ইতালির ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন পড়ে কাটিয়েছেন, কোরান নয়।

এখনো তিনি তার জেহাদি স্বামীর জন্য টান অনুভব করেন। তিনি বলেন, আমি তাকে না ভালোবেসে থাকতে পারি না। এই ভালোবাসা কিভাবে যাবে তা আমি জানি না। এই পর্যায়ে এসে জর্জেলাস দম্পতির অবস্থা হলো, জন তার আমেরিকান, খ্রিস্টান, শহরতলীর ধনী জীবন ত্যাগ করে আইএসের একজন সদস্য হিসেবে একজন জিহাদির জীবন বেছে নিয়েছে। আর তানিয়া করেছেন তার উল্টোটা- এখন তিনি ডালাসের শহরতলিজুড়ে নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ান। কিন্তু তাদের গল্প শেষ হবে কিভাবে?