আর্কাইভ

Archive for the ‘গ্রামবাংলা’ Category

কৃষিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য !

গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ এবং ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা

farmer at work 1মিজানুর রহমান তোতা : উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার ক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক কৃষিকে আরো এগিয়ে নিতে দরকার অল্প জমিতে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো
কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য এখন রীতিমতো ঈর্ষণীয়। বিশ্ব অর্থনীতির পরিসংখ্যানে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। ধান, সবজি, আলু ও ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। শুধু তাই নয়, সবজিতে ৩য় ও আলুতে ৭ম অবস্থানে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪%। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কৃষি যেভাবে অগ্রসারমান তাতে আগামীতে আরো উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে শুধুমাত্র চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। ধান, গম. ভুট্রাসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলার কৃষি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মাটি অধিক উর্বর এবং বিরাট সম্ভাবনার। কৃষিসমৃদ্ধ আবহাওয়া ও জলবায়ুর এত সুন্দর দেশ বিশ্বে খুব কমই আছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৫০লাখ মেট্রিক টন। সুত্রানুযায়ী বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। সেখানে উৎপাদন হয় ৫৫ কোটি ১১লাখ মেট্রিক টন। ৪৩ কোটি ৬৫লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২য় অবস্থানে। ভারতের অবস্থান ৩য়। উৎপাদন হয় ২৯ কোটি ৩৯লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কৃষির বিস্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষে বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কৃষিজমির বিপরীতমুখী চাপ সত্তে¡ও বাংলাদেশের বর্তমান খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে কৃষিই হচ্ছে প্রধান সহায়ক। সে কারণে জরুরিভাবে কৃষিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে যেসব প্রতিবন্ধকতা তা দুর করতে হবে। একইসঙ্গে অল্পজমিতে বেশি শস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো, সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ, ফুড ম্যাজেমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, কৃষিই হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আবহাওয়ার খামখেয়ালীর কারনে এলাকাভিত্তিক উপযোগী ‘ক্রপ জোন’ করতে হবে। একই জমিতে ৩এর অধিক ফসল উৎপাদনে স্বল্পজীবনকালের জাত উদ্ভাবন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘লিগুমিনাস’ বা ডালসহ সিম্ব জাতীয় ফসল বছরে অন্তত একবার চাষ করার উপর জোর দিতে হবে। তাতে মাটির ক্ষয়রোধসহ নাইট্রোজেন সংযোজন হয়ে মাটি সমৃদ্ধ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মহসীন আলী দৈনিক ইনকিলাবকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে কৃষিতে অভুতপুর্ব উন্নতি হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আরো উন্নতি ঘটানোর জন্য পুরোপুরি যান্ত্রিকীকরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই হাইব্রিড প্রোডাকশনে ২০% থেকে ৪০% উন্নীত হবে ইনশাআল্লাহ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমে যাওয়া, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বত্বেও কর্মবীর কৃষকদের কারনে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন।

কৃৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৮০ একর। এর মধ্যে মোট আবদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫শ’৫৬ হেক্টর। চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। স্বাধীনতার পর দেশে আবাদযোগ্য জমি ছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ হেক্টর এবং মোট খাদ্য উৎপাদন হতো ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ হেক্টর। কৃষি জমিতে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প গড়ে তোলার ফলে আবাদী জমি উদ্বেগজনকহারে কমছে। প্রতিবছর আবাদী জমি কমছে গড়ে ৮২ হাজার হেক্টর জমি। যা মোট জমির এক ভাগ। বছরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এক হাজার হেক্টর জমি। সয়েল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর গত ৪০বছরে নদী ভাঙনে কৃষি জমির বিনাশ হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ হেক্টর। আর এর বিপরীতে চর জেগেছে ৫৮ হাজার হেক্টর। ৮০ শতাংশ সরকারী খাস জমিসহ আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৯শ’৭৭ হেক্টর। যা আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না।

সুত্র জানায়, গত ৪০ বছরে শুধুমাত্র আবাদী জমিতে বাড়িঘর নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬৭হাজার একরে। অনাবাদি আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। জাতিসংঘের কৃষি ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে চাল উৎপাদনে বিশ্বে চর্তুর্থ আর সবজি উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে। সবজিতে চীন এবং ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। সবজি উৎপাদন বেড়েছে ৫গুণ। চেষ্টা করলে অনায়াসেই দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে মাত্র ২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হতো, সেটা এখন ৬ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি আর বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটিতে। তা সত্বেও বাংলাদেশের কৃষি মুখ থুবড়ে পড়েনি বরং মাথা উচুঁ করে সগৌরবে চলমান রয়েছে। দেশি জাতকে উন্নত করে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবনে স্ফাল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৬৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) করেছে ১৪টি ধানের জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) ৪শ’১৭টি কমোডিটি ভ্যারাইটি অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য ৩৫, তেলজাতীয় ফসল ৪৩, ডালজাতীয় ফসল ৩১, সবজি ৮৯, ফল ৬৪, ফুল ১৬, মসলা ২৪টি জাত রয়েছে।

কৃষিতে সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি আছে বহুবিধ সমস্যা। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের কৃষি এখন অনেক উন্নত। সেখানকার চাষ পদ্ধতি ও ফসল উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থা পুরোটাই সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে আশানুরূপ উন্নতি হলেও ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। যার জন্য কর্মবীর কৃষকরা প্রায়ই উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য পান না। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ যেখানে সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিশাল এই সেক্টরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও উল্লেখযোগ্য নজর নেই বলে বিস্তর অভিযোগ। মাঝেমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ পরিকল্পনা নেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয় না, উপরন্তু দারুণভাবে অবহেলিত থাকছে সেক্টরটি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেছেন, মাঠের যেসব সমস্যা আছে তা নিরসন করে কৃষক ও সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাংলার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ঠাকুরগাঁওয়ের একই জমিতে চার ফসল

প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্প

farmer at work 2রফিকুল ইসলাম : প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের মাধ্যমে একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। এ কারনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে খাদ্য খাটতি পুরণে আরো বেশি সফলতা আসবে।
একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে কৃষককে উদ্ভুদ্ধ করতে ২০১৬ সালে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর মাধ্যমে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৯০ হেক্টরে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষন, উঠান বৈঠক, বিনামুল্যে উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হয়। আর কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে সফলতা অর্জন করে এলাকার কৃষকরা।
এক সময় ফসল আবাদ করে জমি ফেলে রাখলেও এখন বছরে তারা একই জমিতে সরিষা, মুগডাল, আউশ ও আমন ধানসহ চারটি ফসল উৎপাদন করছেন। ফলে এখানকার কৃষকরা দিন দিন চার ফসলি জমি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
রুহিয়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, বাচ্চু, আলাউদ্দিনসহ অনেকে জানান, আমরা আগে বুঝতাম না কোন সময়, কোন ফসল আবাদ করতে হয়। আরডিআরএস এর মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিক সময় চাষাবাদ করায় এখন একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছি। সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামুল্যে বীজ ও কীটনাশক দেয়ায় আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা মনে করি সকল কৃষক যদি এভাবে ফসল আবাদ করে তাহলে কখনো লোকসান গুনতে হবে না।
এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মসূচী ব্যবস্থাপক (মাঠ সমন্বয়) জিয়াউল হক জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে ৩ শতাধিক কৃষক তার জমিতে ৪ ফসল উৎপাদন করছে। দিন দিন কৃষকরা আরো আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে সদস্য হয়েছে আরো প্রায় ২ হাজার কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, অন্যান্য সংস্থাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে জেলার কৃষকরা উপকৃত হবে। তার কারন সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারি উদ্যোগও অনেক কাজে আসে। আজকে প্রকল্পটির কারনে এ জেলার কৃষকরা অনেক এগিয়ে।
Advertisements

পহেলা বৈশাখ প্রসঙ্গে

boisakh celebration 2018 10বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী এই পহেলা বৈশাখ দিনটিকে বরণ করা হয় সর্বজনীন উৎসবের মধ্য দিয়ে। মানুষ মেতে ওঠে আনন্দে। এ বছরও উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। প্রস্তুতি নিয়েছে এক শ্রেণীর মানুষ, যাদের মধ্যে শহুরে অবস্থাপন্নদের কথা উঠেছে বিশেষ কিছু কারণে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার বিলাসিতা। এর জন্য নগদ অর্থে মূল্যও তারা যথেষ্টই গুনছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে। 

যেমন গতকাল প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা পারের মাওয়ায় মৎস্য আড়তগুলোতে এরই মধ্যে প্রচুর ইলিশের মজুত তৈরি করেছে ব্যবসায়ীরা। এসব ইলিশ বিক্রিও করছে তারা যথেচ্ছ দামে। একজন ব্যবসায়ী দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের এক হালি অর্থাৎ চারটি ইলিশ বিক্রি করেছে ২৭ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতিটি ইলিশের দাম পড়েছে ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। মাছগুলো কিনে নিয়ে গেছেন ঢাকা থেকে আগত একজন, যার পরিচিতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলার অপেক্ষা রাখে না। 

অথচ পহেলা বৈশাখের ইতিহাস কিন্তু এই শ্রেণীর মানুষের বিলাসিতা ও অপসংস্কৃতি কর্মকান্ডকে সমর্থন করে না। প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গাব্দ তথা বাংলা বর্ষের ইতিহাস স্মরণ করা দরকার। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, বাংলা এই সালের সূচনা করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। উদ্দেশ্য ছিল ফসলের ঋতুর ভিত্তিতে খাজনা আদায় করা। এর ফলে কৃষকের পক্ষে খাজনা দেয়ার সময় অর্থাৎ কখন খাজনা দিতে হবে তা মনে রাখা সহজ হতো। সরকারও বছরের বিশেষ সময়ে সহজে খাজনা আদায় করতে পারতো। নববর্ষের উৎসবও শুরু হয়েছিল তখন থেকেই। এই তথ্যের আলোকে বলা যায়,নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ সম্পূর্ণরূপেই কৃষিভিত্তিক একটি দিন। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল সেটাও ছিল কৃষিভিত্তিক। 

এদেশের মানুষের জীবনেও এর রয়েছে নানামুখী প্রভাব। দিনটিকে শুভ মনে করা হয় বলে অনেক কৃষক পহেলা বৈশাখে জমিতে হাল দেয়। অনেকে ফসলের বীজ বোনে, রোপণ করে শস্যের চারা। দোকানদার, মহাজন ও ব্যবসায়ীরা হালখাতার মাধ্যমে পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন হিসাবের সূচনা করে। সমাজের অন্যান্য শ্রেণী ও পেশার মানুষও দিনটিকে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে। গ্রাম থেকে শহর-নগর-বন্দর পর্যন্ত সর্বত্র আয়োজিত হয় বৈশাখী মেলা। এসব মেলায় হরেক রকমের পণ্য নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে কামার-কুমার ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। মেলায় থাকে মাটির পুতুলসহ খেলনা এবং দই ও মুড়ি-মুড়কির মতো উপাদেয় নানা খাবার। মেলা পরিণত হয় সাধারণ মানুষের মিলন মেলায়। 

অর্থাৎ পান্তা এবং ২৭ হাজার টাকা হালির ইলিশ খাওয়া কখনো গ্রাম বাংলার তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ছিল না। এটা চালু করেছেন ফিলদি রিচেরা। বিষয়টিকে বাংলা নববর্ষের মূল চেতনার সঙ্গেও মেলানোর উপায় নেই। কারণ, গ্রাম বাংলার কোনো অঞ্চলেই বছরের এ সময়ে ইলিশ পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ নিষিদ্ধ সে ইলিশকে নিয়েই মেতে ওঠেন। সঙ্গে আবার খান পান্তা ভাত! অথচ গ্রাম বাংলার মানুষ কখনো ইলিশ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার কথা কল্পনা করতে পারে না। তারা পান্তা খায় নুন-পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচ দিয়ে। সেটাও খায় বাধ্য হয়ে ভালো কিছু খাওয়ার উপায় নেই বলে। কেউই অন্তত ইলিশ খায় না, পায় না বলে খেতেও পারে না। অর্থাৎ পান্তা-ইলিশের সঙ্গে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের চিন্তা-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। 

আমরা মনে করি, নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের চিন্তা-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী কর্মকান্ডের অবসান ঘটানো দরকার। একই দেশে নববর্ষ উদযাপনের এই বৈষম্য ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার এবং নববর্ষ উদযাপনের মূল অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।

নববর্ষ,পহেলা বৈশাখ ও ইসলাম

boisakh parade statues 1.jpgমো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ : বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। অথচ বর্তমানে অস্বীকৃতি, অস্পষ্টতা ও অসংলগ্নতার ঘূর্ণাবর্তে পহেলা বৈশাখ হয়ে যাচ্ছে একপক্ষীয়। তাই আনুষ্ঠানিক বর্ষবরণে কারো অংশগ্রহণ বা কারো বিরত থাকার মধ্যে বিভক্তি রেখা আবিষ্কার কাম্য নয়। জাতিগতভাবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক বা নিষিদ্ধকরণের পরিবর্তে এটিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকৃতি দেওয়াই যৌক্তিক। কেননা সংস্কৃতি কখনোই আরোপিত বিষয় নয়, বরং মানুষের সুকোমল প্রবৃত্তির বহুল চর্চা ও অনুশীলনের স্বাভাবিক প্রকাশ হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতির বিকাশ একটি নিরপেক্ষ কালোত্তীর্ণ-মানোত্তীর্ণ ধারণা ও সময়সাপেক্ষ অর্জন।

নববর্ষ, হোক তা বঙ্গাব্দ বা ইংরেজি বর্ষবরণ। নববর্ষ ঘিরে থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় সারা দেশ। ভুবুজেলা ও মুখোশ ব্যবহার, মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী, সব ধরনের ব্যাগ বহন, বিকেল ৫টার পর উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশসহ অনেক কিছুই থাকে নিষিদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখতে থাকে বিশেষ সতর্কতা ও সিসি ক্যামেরার নজরদারি। তার পরও বৈশাখী উৎসবে থাকে প্রাণের ছোঁয়া, থাকে উচ্ছ্বাসের বাঁধভাঙা জোয়ার।

সংস্কৃত প্রবাদে আছে ‘আনন্দে নিয়ম নাস্তি’। তবে বৈশাখী উৎসবে যা যা করা হয়, তা নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার অবকাশ প্রসঙ্গে কেউ বলেন, উৎসবের সঙ্গে ধর্মের সংশ্লেষ নেই। কেউ বলেন, এটা স্রেফ বাঙালির সর্বজনীন চেতনা। অথচ নিরেট সত্য কথা হচ্ছে যে আমরা একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলমান। বাঙালিত্ব ও ঈমানি বিষয়ে দ্বন্দ্ব নেই বলেই তো ধমকের যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি আপসেরও দরকার হয় না। কেননা,ধর্মীয় চেতনা কখনোই এক দিনের বিশেষ বিষয় নয়। ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গে শৈথিল্যের অবকাশ রাখা হয়নি,এক দিনের জন্যও নয়।

mongol parade 2018

ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব উৎসব-আয়োজন ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের জীবন-সম্ভ্রমের নিরাপত্তা ঝুঁকি, নামাজ-ইবাদতের জন্য প্রতিবন্ধক, বিধর্মীদের অনুসরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-লটারি, রং খেলা, উদ্দাম নৃত্য-গীত, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কি আঁকা, অবৈধ পণ্যের বিপণন ইত্যাদির বাহুল্য থাকে, তা একজন ঈমানদারের জন্য অশোভন। কেননা শরীর ও মনের বিকাশে যে সব কাজকর্মের ফলে ফরজ লঙ্ঘন অথবা হারামের অনুষঙ্গ তৈরি হয়, সে সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে যথেষ্ট। কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না।

সুস্থ সংস্কৃতি হলো মানব মননের সুকোমল অভিব্যক্তি, যা ভূগোল ও বিশ্বাসের সীমা ছাড়িয়ে পরিশীলিত ঐক্য ও বিবেকের জাগরণ ঘটায়। অথচ প্রিয়নবী (সা.)-এর নবুয়ত-পূর্ব জাহেলিয়াত বা ‘মূর্খতার যুগে’ উৎসব, আনন্দ-বিনোদনের মধ্যে ছিল না মানবতা-নৈতিকতার ছোঁয়া। উৎসবের বেলেল্লাপনার শিকার হয়ে বিশিষ্ট ও বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সাহাবি গুরুতর আহত হওয়ার পটভূমিতেই সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। এ আয়াতের মাধ্যমে মদ, মূর্তি, জুয়া, লটারিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি একে ‘ঘৃণিত শয়তানের কাজ’ বলা হয়েছে।

জাহেলিয়াত বা ‘মূর্খতার যুগে’ আরবরা যুদ্ধবিদ্যা, অতিথি সেবা, পশুপালন, দেশভ্রমণ, আন্তর্দেশীয় ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদিতে ছিল বিখ্যাত। শিল্প-সাহিত্যেও তারা কম যায়নি। ইতিহাসখ্যাত ছিল সে সময়ের ‘উকাজের মেলা’। কবিতা উৎসবের সর্বশ্রেষ্ট সাতটি কবিতা স্থান পেয়ে ছিল পবিত্র কাবার দেয়ালে। যাকে বলা হয় ‘সাবউল মুয়াল্লাকাত’। ইরানে ছিল নববর্ষ পালন ও ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে প্রচলিত দুটি উৎসব ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’। অথচ এত সব কিছুর কোথাও ছিল না সুস্থ বিবেকবোধের চর্চা; বরং সংস্কৃতির নামে ছিল অপসংস্কৃতির অবাধ্যতা। খাদ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চুল, কাঁকড়জাতীয় বস্তু যেমন অখাদ্য, তেমনি সংস্কৃতির মধ্যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশই বা কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা জরুরি।

boisakh 445

প্রাণ ও প্রকৃতির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। আমরা ভাগ্যবান, আমাদের বর্ষপঞ্জি আছে, ইংরেজদের নেই। তারা ব্যবহার করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। ‘সন’ ও ‘তারিখ’ আরবি শব্দ। ‘সাল’ ফারসি শব্দ। এগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা সনের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পৃক্ততার কথা। বর্ষ পরিক্রমা প্রসঙ্গে আল কোরআনের বাণী : ‘তিনি সূর্যকে প্রচণ্ড দীপ্তি দিয়ে/চাঁদ বানিয়ে দিলেন স্নিগ্ধতা ভরে/বছর গণনা ও হিসাবের তরে।’ (কাব্যানুবাদ, ইউনুস : ০৫)

পবিত্র কোরআনে ১২ মাসে এক বছর প্রসঙ্গে আছে ‘নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডল সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই আল্লাহ ১২টি মাস নির্ধারণ করেছেন…।’ (সুরা তাওবা,আয়াত : ৩৬)।

আয়াতটি নাজিলের পটভূমিতে জানা যায়, জানাদা ইবনে আউফ (রা.) প্রকৃতির স্বাভাবিক রীতিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে বছরের শুরুতে ঘোষণা করত—‘এ বছর ১৩ মাসে’, ‘ওই বছর ১৪ মাসে’ বা ‘১১ মাসে’ ইত্যাদি। উদ্দেশ্য, যুদ্ধবিরতি পালনে বিঘোষিত ‘সম্মানিত মাস চারটি’কে এড়িয়ে যাওয়া।

আমাদের দেশেও ‘আঠারো মাসে বছর’—এমন কথা প্রচলিত আছে। কথিত আছে ‘শের-ই-মৈশুর’খ্যাত টিপু সুলতান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সৈন্যদের বেতন দিতেন ৩৫ দিনে মাস হিসাব করে।

মানুষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্মরণ করে সময়-তারিখ বলে, যেমন সংগ্রামের বছর, বন্যার বছর, আকালের বছর, আবিসিনিয়ায় আবরাহার হস্তিবাহিনী ধ্বংস হওয়ার ফলে চালু হয় ‘হস্তিবর্ষ’। ইতিহাসে দেখা যায়, বিশেষ ঘটনাকেন্দ্রিক সন ব্যবস্থার প্রচলন। যেমন—হজরত ঈসা (আ.) স্মরণে খ্রিস্টাব্দ বা ঈসায়ী সন। প্রিয়নবী (সা.)-এর হিজরতের বছর ৬২২ খ্রিস্টাব্দকে প্রথম বছর ধরে ঘটনার ১৭ বছর পর হজরত ওমর (রা.) হিজরি সন প্রবর্তন করেন।

১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা বিজয়ের ফলে হিজরি সন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। তবে চান্দ্র ও সৌরবর্ষের গণনা রীতিতে পার্থক্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। আবার চন্দ্রকলার হ্রাস-বৃদ্ধিতে সময় লাগে প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা। যে কারণে এক চান্দ্র বছর হতে সময় লাগে প্রায় ৩৫৪ দিন ৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। চান্দ্র মাসভিত্তিক বছরে ১০ থেকে ১১ দিনের তারতম্যে প্রতিবছর সন-তারিখের হিসাব মেলাতে সমস্যা হয়। তখন রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্রাট আকবরের সভাসদ আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজি একটি নতুন সৌরসন উদ্ভাবন করেন। তিনি হিজরির ৩৫৪ দিনের পরিবর্তে ৩৬৫ দিন ধরে যে নতুন সন উদ্ভাবন করেন, তা-ই ‘বাংলা সন’। সম্রাট আকবর ফরমান জারির মাধ্যমে এই নতুন সন গণনা করেন, যার সূচনা ধরা হয় তাঁরই মসনদে আরোহণের বছর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯৯২ মতান্তরে ৯৯৩ হিজরিকে। আকবরের ‘ফসলি সন’ যখন চালু হয়, তখন সুবে বাংলায় মহররম ছিল বৈশাখ মাস। সে জন্যই নতুন সনের প্রথম মাস হয়ে যায় বৈশাখ। ১৯৫৪ খ্রি. ‘যুক্তফ্রন্ট’ সরকার গঠিত হলে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলা নববর্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

boisakhi mongol parade 3

ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণে সন-তারিখের প্রচলন মুসলিম শাসকদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহীশুরের শাসক টিপু সুলতান প্রিয়নবী (সা.)-এর নবুয়ত লাভের বর্ষকে সূচনায় এনে বিশেষ রীতিতে ‘মুহাম্মদী সন’ প্রবর্তন করেন। আকবরের ‘ফসলি সন’ গণনা রীতিতে চট্টগ্রাম ও আরাকানে প্রচলিত হয় ‘মগি সন’। পার্বত্য জনপদে ‘বৈসাবি’ নামে বর্ষবরণের রীতি প্রচলিত। পার্বত্য তিনটি উৎসবের আদ্যাক্ষর দিয়ে গঠিত শব্দ ‘বৈসাবি’। ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, বৈসু বা বাইসু ও মারমাদের কাছে সাংগ্রাই, অন্যদিকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত উৎসব হলো বাংলা নববর্ষ বা ‘বৈসাবি’। হিজরি সনের আদলে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত হয়েছিল ‘বিলায়তি সন’, ‘আসলি সন’, ‘ইলাহি সন’ ও ‘জালালি সন’ ইত্যাদি। এসব সন গণনারীতির সঙ্গে প্রিয়নবী (সা.)-এর স্মৃতি ও ইসলাম-মুসলিম ঐতিহ্যের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত স্পস্ট।

আমরা মুসলমান। মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। ইসলামী সংস্কৃতি মহান আল্লাহর আদেশ ও প্রিয়নবী (সা.)-এর আদর্শিক চেতনায় উজ্জীবিত এবং ইহ ও পারলৌকিক শান্তি-মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত। অন্যদিকে বৈশাখী উৎসব নিছক এক দিনের সস্তা বিনোদনের বিষয় নয়, বৈশাখী উৎসব আমাদের জাতীয় পরিচিতি সংরক্ষণের ডাক দেয়। বাংলা নববর্ষের ক্রমবিবর্তনে রয়েছে মুসলিম ঐতিহ্য ও পুরনোকে মুছে ফেলে নতুন শপথে পথ চলার অঙ্গীকার। মুসলিম লোকভাবনাসমৃদ্ধ ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’য় নববর্ষের আবাহন ধ্বনিত হয়েছে—‘আইল নতুন বছর লইয়া নব সাজ,/কুঞ্জে ডাকে কোকিল-কেকা বনে গন্ধরাজ।’

অথবা ‘বৈশাখ মাসেতে গাছে আমের কড়ি/পুষ্প ফুটে পুষ্প ডালে ভ্রমর গুঞ্জরি।’ (কমলা পালা)

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর

কাদা মেখে পুকুরে মাছ ধরা !

fishing in mud 1a

fishing in mud 1b

 

একটু না হয় কষ্ট ই সই!

বুয়েট থেকে পাশ করে কিছু কারনে আমার দেশে থাকতে হলো। আমার মা বাবা কে ছেড়ে যাওয়া টা সম্ভব ছিলো না ওই সময়। অনেকে হায়ার স্টাডিজ এর জন্য বিদেশ চলে গেলো। আবার আমরা বন্ধু রা কেউ কেউ বাংলাদেশে রয়ে গেলাম। আমি পাশ করার সাথে সাথেই একটা চাকরী পেয়ে গেলাম। যদি ও ঢাকার বাইরে। আমার যথেষ্ট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বাবা একপ্রকার জোর করেই পাঠালেন। বাবা একটা কথা ই বল্লেন, মিল কারখানায় কিছু দিন কাটিয়ে আসো, অনেক এক্সপেরিয়েন্স হবে। মানুষ ঠেকে শেখে, তুমি ও ঠেকে শিখবা। বাবার আদেশ শিরোধার্য, চলে গেলাম টাঙ্গাইলের এক স্পিনিং মিলে।

প্রথম প্রথম আমার কান্না চলে আসতো। অসহ্য কষ্ট। প্রচন্ড গরমে টানা আট ঘন্টা ডিউটি। তাও আবার শিফটের চাকুরী। নাইট শিফট মানে রাত ১০ টা থেকে ভোর ৬ টা। আমি ছিলাম প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার। স্পিনিং মিলে তুলা থেকে ইয়ার্ন তৈরী হয়। এর প্রোসেস বেশ লম্বা। আমি ছিলাম রিং স্পিনিং সেকশনে। সবচেয়ে যন্ত্রণাময় সেকশন। আকাশে বাতাসে তুলার আশ উড়ছে। নাক মুখ বন্ধ হয়ে আসে। আর কাজ ছিলো শ্রমিক দের সাথে। তাও আবার আমার সেকশনে ৪৫ জন শ্রমিক। এর মধ্যে বেশীর ভাগই মেয়ে। সবচেয়ে যন্ত্রণা ছিলো এদের ঝাড়ি মারা যেতো না। বকা দিলে ই ঘাড়ত্যাড়া করে গ্যাট ধরে থাকবে। আর যেহেতু কন্টিনিউয়াস প্রসেস, কাজে একটু ঢিলা দিলে পুরা প্রসেসে বারোটা বেজে যায়। আমি কূল কিনারা না পেয়ে চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলাম। আমার দুঃস্বপ্ন ছিলো রিং স্পিনিং সেকশনের মহিলা শ্রমিক গুলা। মাঝে মাঝে সিনিয়র কলিগ দের সাথে কথা বলতাম। উনারা বিভিন্ন টিপস দিতেন। প্রথমত টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক রা বান্দরের মতো। বেশী আস্কারা দিলে মাথায় উঠে উকুন বাছা শুরু করবে, উকুন না পেলে চুল টেনে ছিড়বে। সো আস্কারা দেয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত এরা জন্মই হইসে কথা না শুনার জন্য। এদের শায়েস্তার উপায় একটা ই। কাজ থেকে বের করে দুই তিন দিন ঘুরানো। মিল কারখানায় এল,ডব্লিউ,পি নামক শাস্তি আছে। যার মানে লিভ উইথআউট পে। সহজ বাংলায় ছুটি নিয়া বাতাস খা, বেতন পাবি না। এই পদ্ধতি তে এরা ঘায়েল।

আমি চালু করলাম এই পদ্ধতি, ম্যাজিকের মতো কাজ হলো। মাস দুয়েক পর আমার জব ভালো লাগা শুরু করলো। এদের সাথে দা-কুমড়া সম্পর্কের অবসান ঘটলো। আমি একটা জিনিস বের করলাম, এদের আই,ডি নাম্বার ধরে না ডেকে নাম ধরে ডাকলে খুব সন্মানিত বোধ করে। আমি ধীরে ধীরে ৪৫ জনের নাম মুখস্ত করে ফেল্লাম। আসমা, জমিরন, রাহেলা, হনুফা, তসলিমা, ঝর্না, শিরিন, লাভলী… এক সময় এদের সাথে গল্প করে এমন এক অবস্থা হলো, আমি কোনো অর্ডার দিলে এরা এক সাথে তিন জন ছুটে আসে, কে কাজ টা করবে। এক দিন আমার শিফটে প্রোডাকশন টার্গেট ছিলো ৭ টন। মোটামুটি অনেক বেশী। টার্গেট ফিল আপ না হলে ঝামেলা লেগে যাবে। কারন কাল এম,ডি নিজে প্রোডাকশনের সাথে মিটিং এ বসবে। আমি নতুন মানুষ, এই অবস্থায় আমি যদি টার্গেট অ্যাচিভ করতে না পারি, আমার ব্যাপারে সবাই প্রশ্ন তুলবে। আর টেক্সটাইল মিল মানে ই অনেক রকম পলিটিক্স, যাতে বলি হয় আমার মতো নতুন ইঞ্জিনিয়ার গুলো।

সেই দিন টা আমার মনে আছে। প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। এর উপর নাইট শিফট। আমি ফ্লোরে গিয়ে দেখি আগের শিফট অনেক কাজ বাকী রেখে চলে গেছে। আর আমার শিফটে ৪৫ জনের যায়গায় ৩২ জন ওয়ার্কার এসেছে। আমার হাত পা অসাড়। বৃষ্টির কারনে অনেক ওয়ার্কার আসে নাই, এই ব্যাপারে কিছু বলার নাই। আমি আগের শিফটের বাকী কাজ শেষ করতেই ১ ঘন্টা খেয়ে ফেল্লাম। এরপর ডাক দিলাম আসমা কে। অনেক করুণ কন্ঠে বল্লাম, “আজ সাত টন প্রোডাকশন দিতে হবে। এমন এক দিনে তোমাদের অনুরোধ করলাম, যেই দিনে লোক নাই, সময় ও নাই। কাজ না করতে পারলে তোমাদের কোনো সমস্য নাই, কারন কাজ টা এই কয় জন মিলে করা সম্ভব না আমি জানি। শুধু মনে কইরো, আজ ৩২ না, ৩৩ জন ওয়ার্কার, আমি সহ।”

আমার কথা শুনে আসমা বল্লো, “স্যার, আইজ সাড়ে সাত টন নামামু, আপনে আমাগোর উপ্রে ছাইড়া দেন, এক এক জন দুই টা কইরা লাইন দেখুম। (সাধারনত এক ওয়ার্কার এক লাইন করে দেখে, মোট ছিলো ৪০ লাইন)

সেই রাতে আমি ও নিজের হাতে ববিনের ট্রলি ঠেলেছি। নিজের হাতে রোভিং (ইয়ার্ন যা থেকে তৈরী হয়) লোড করেছি। আর আমার সেই ৩২ জন ওয়ার্কার? মাঝে টিফিন ব্রেকে ওরা খেতেও যায় নি কেউ! ভোর পাচ টা চল্লিশে আমাদের পৌনে আট টন সুতা রেডী।

আমি বাক্য হারা। হনুফা আমাকে বলে, “স্যার আপনের অসন্মান হইবো, এই টা কহনো হইবো না।”

আমার চাকুরী জীবনের টিম মেম্বার এই পঁয়তাল্লিশ জন অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত শ্রমিক। যারা মাঝে মাঝে আমার জন্য পিঠা, পায়েস রান্না করে নিয়ে আসতো। কেউ কেউ গাছের আম, নারিকেল অথবা কামরাঙ্গা ব্যাগ ভরে নিয়ে আসতো। বিনিময়ে তাদের প্রত্যাশা ছিলো একটু মমতা, একটু কোমল গলায় কথা। টেক্সটাইল মিলের ওয়ার্কারদের যে কী পরিমান কষ্ট করতে হয়, তা কেউ না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবে না। এদের কেউ কেউ নিজের প্রচন্ড জ্বর, বাচ্চার অসুখ রেখে কাজ করতে আসে। কেউ কেউ না খেয়ে আসে। কেউ কেউ একটু পয়সা বাচানোর জন্য টিফিন খায় না। কারো কারো এতো বেশী কষ্ট যে নিজের কষ্ট কে হাস্যকর মনে হয়।

আমি এর হয়তো কিছুই জানতাম না। জেনেছি এদের সাথে মিশে।

রাশেদা, ও পাচ নম্বর মেশিনে কাজ করতো। চুপচাপ মেয়ে। কাজে খুব দক্ষ। জানলাম ও খুব ভালো ছাত্রী। এস,এস,সি দেবে কিছু দিন পর। আমার কাছে খুব ভয়ে ভয়ে মাথা নিচু করে এলো। “স্যার আমি পরীক্ষা দিমু, মাঝে পরীক্ষার দিন গুলান ছুটি লাগবো।”

আমি হেসে ফেল্লাম। ওকে পাচশ টাকা দিয়ে বল্লাম, “দোয়া করি, ভালো মতো পরীক্ষা দাও, আর এই টাকা টা দিয়ে পছন্দ মতো কিছু কিনে খেও, তোমার ছুটি পাশ”

বোকা মেয়ে টা কেঁদে ফেল্লো। আমি চুরান্ত পর্যায়ের অপ্রস্তুত। হয়তো এতো সামান্য স্নেহ টুকু ও কারো কাছ থেকে পায়নি।

তিন দিন পরই রাশেদা কাজে এলো। আমি তো খুব ই অবাক। আমাকে দেখে ও আড়ালে চলে গেলো। যা জানলাম তা হলো, রাশেদার স্বামী ওকে এস,এস,সি পরীক্ষা দিতে দেবে না। কারন বেশী শিক্ষিত বউ থাকা অশান্তির কারন। কিন্তু রাশেদা জেদ করেছিলো। আর এই কারনে ওর শ্বাশুরী ওর পিঠে জ্বলন্ত চ্যালাকাঠ চেপে ধরেছিলো। রাশেদার পরীক্ষা দেয়া হয় নি। এরপর থেকে রাশেদা পড়াশুনা বাদ দিয়েছিলো। ও এক বার আমাকে বলেছিলো ও নার্স হয়ে সবার সেবা করতে চায়।

হনুফা ছিলো খুব ই চঞ্চল একটা মেয়ে। ঠাশ ঠাশ কথা বলতো। কাজে ছিলো অসাধারন। ও মেটারনিটি লিভে যাবে। আমি ই সব পাশ করিয়ে জি,এম স্যার কে বলে অ্যাডভান্স টাকার ব্যবস্থা করে ওর হাতে তুলে দিলাম। যাবার সময় আমাকে সালাম করে গেলো। আমি যথারীতি অপ্রস্তুত! সে আমাকে বল্লো, “স্যার আমার বাচ্চা রে দেখবার আইবেন! আমার বাড়ি এই থন এক কিলো। না আইলে আমি রাগ করুম। আপনের আইতেই হইবো”

আমি বুক টা কেমন করে উঠলো। আমি এতো ভালোবাসার যোগ্য না। খুব সাধারন একটা ছেলে। এরা আমাকে অনেক বেশী উপরে স্থান দিয়েছে।

ঠিক সময় মতো ও এলো। ওর বাচ্চা টা কে দেখতে যাওয়া হয়নি। হনুফা কে দেখে আমি বেশ একটা ভয় ই পেলাম। না জানি কি বলে!

নাহ! ও কিছুই বল্লো না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওর বাচ্চার খবর। ক্লান্ত দৃষ্টি তে তাকালো। বাচ্চা টা কে নিয়ে ও বাবার বাড়ি চলে এসেছে। ছেলে বাচ্চা হয় নাই বলে ওর শ্বশুর বাড়ির মানুষ ওকে লাথি মেরে ওই রাতেই বাচ্চা সহ বের করে দিয়েছিলো যে রাতে ওর কোল জুড়ে বাচ্চা টা এসেছিলো। ওর বাচ্চাকে বুকে নিয়ে তিন চার কিলো হেটে ওর বাবার বাড়ি গিয়েছিলো। ঠিক তার তিন দিন পর হনুফার স্বামী আরেক টা বিয়ে করে। হনুফার স্বপ্ন ছিলো টাকা জমিয়ে স্বামীর জন্য একটা সাইকেল কিনবে। স্বামীর অফিস যেতে খুব ই সমস্যা হয়। সে ঐ চিন্তায় প্রায় ই বিচলিত থাকতো।

ঝর্ণা তিন দিন ধরে কাজে আসে না। নাইট শিফটে মাঝে মাঝে ই ওয়ার্কার রা হুট হাট আসে না। তিন দিন পর বিধ্বস্ত ঝর্ণা কাজে এলো। অন্যদের কাছ থেকে যা শুনলাম তাতে আমার গা টা গুলিয়ে গেলো। তিন দিন আগে ও ফ্যাক্টরি তে আসছিলো, পথে এক যুবক তার দুই বন্ধু মিলে তাকে জোড় করে টেনে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালায়।

সে কাউ কে ঘটনা বলে নাই ভয়ে, কিন্তু ঘটনা সবাই জেনে যায়। এরপর পুলিশের কাছে তো বিচার যায় ই নাই বরং “অসভ্য” চালচলনের জন্য ঝর্নাকে সবার সামনে মাফ চাইতে হলো। ঝর্ণা এখন পাথর হয়ে গেছে। ফড়িং এর মতো উড়ে উড়ে যে কাজ করতো, সে হঠাৎ করেই যেনো বুড়িয়ে গেছে।

ঝর্নার কিছুদিন পর বিয়ে হবার কথা ছিলো। সংসার করার কথা ছিলো। যে যুবক তার বন্ধু দের নিয়ে পশুর মতো কাজ টা করেছিলো, সেই পশু টার সাথেই তার বিয়ে হবার কথা ছিলো।

এই প্রতি টা ঘটনা দিনের মতো সত্য আর প্রতি টা ঘটনার পর এরা সবাই পেটের দায়ে আবার কাজে ফিরে এসেছে। আবার এরা পরম মমতায় সুতা বানিয়েছে, মেশিনে ববিন লাগিয়েছে। ওদের চোখের জল মিলে মিশে গেছে প্রতিটা সুতার সাথে। যে সুতা রপ্তানি হয়েছে এইচ,এন,এম, ভার্সাচে, পিয়েরে কার্ডিন, টমি হিল্ফিগারের মতো নামীদামী ব্র‍্যান্ডে।

সেই ব্র‍্যান্ডের শার্ট পড়ে আমরা আমাদের স্ত্রীর সাথে, প্রেমিকার সাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করি। আর রাশেদা, হনুফা ঝর্না রা সুতা বানিয়ে যায়।

আমার আজ অনেক কষ্টেও কষ্ট লাগে না। অনেক দুঃখেও চোখে পানি আসেনা। কারন আমাদের দুঃখ বিলাস ওদের হাসায়। আর ওদের কষ্ট আমাদের অবাক করে।

(c) Sabbir Emon, Mohammadpur, 2015

বিয়ার পরে জামাই-বৌয়ের রসের আলাফ

বৌঃ আফনে বিড়ি কাইন?

জামাইঃ বিড়ি না, সিগারেট কাই। ক্যারে?

বৌঃ দিনে কয়ডা কাইন?

জামাইঃ ৫ ডা…

বৌঃ ফত্যেক্টার দাম কত?

জামাইঃ নয় টেহা

বৌঃ কতদিন যাবত কাইতাসুইন?

জামাইঃ ১৫ বসর

বৌঃ তাইলে দেহুইন, আফনে দিনে ৫ডা খাইন, মাসে ১৫০ডা, ফত্যেক মাসে খরচ লাগে ১ হাজার ৩৫০ টেহা, আর বসরে ১৬ হাজার ২০০ টেহা, টিক কইসি?

জামাইঃহ, কতা সইত্য।

বৌঃ এক বসরে যদি ১৬ হাজার ২০০ খরস করুইন তাইলে গত ১৫ বসরে গ্যাসে ২ লাক ৪৩ হাজার টেহা, টিক কইলাম?

জামাইঃ হ…

বৌঃ তাইলে আফনে ছিন্তা হইরা দেহুইন যে, গত ১৫ বছরে যদি এই টেহাডি ব্যাংকও জমাইতাইন

তাইলে সুদ সহ যে টেকা পাইতাইন হেইডা দিয়া অতদিনে একটা গাড়ি না অওক, মডর সাইকেল অইলেও তো কিন্তাইন ফারতাইন, নাহি!

 

জামাই বেডা অতক্কনে মতিগতি সুবিদার না বুইজ্জা জিগাইলো…

জামাইঃ বৌ, তুমি বিড়ি কাওনি?

বৌঃ কিতা যে কইন, আমি এইতা কাইতাম ক্যারে?

স্বামীঃ তাইলে তো বালাই, তোমার গাড়িডা তাইলে আমারে দেও, আমি ছালায়া দেহি!

ভাটিয়ালি গানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

bhatiali