Archive

Archive for the ‘কৃষি’ Category

কৃষিতে নীরব বিপ্লব ঘটেছে বাংলাদেশে !

ডিসেম্বর 5, 2016 মন্তব্য দিন

চাল, মাছ ও ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়

paddy-harvesting-sunamganjতানভীর আহমেদ : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যত অর্জন আছে, তার মধ্যে কৃষিতে অর্জন উল্লেখ করার মতো। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সঙ্গে দিন দিন কমছে আবাদযোগ্য জমি। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আর তা সম্ভব হয়েছে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের নীতি ও বিনিয়োগের কারণে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের সুপ্রসারিত কৃষিনীতিতে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাণিজ্যিক কৃষি উন্নয়ন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং উন্নয়নসহ কৃষির আধুনিকীকরণ, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও স¤প্রসারণে গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া। অপরদিকে কৃষি জমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম।

বর্তমান সরকারের পরপর দুই মেয়াদে চার দফায় সারের দাম কমানো হয়। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেচের পানির ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয় এবং সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষকের মাঝে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। যুগান্তকারী এসব পদক্ষেপের ফলে কৃষিতে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুনেরও বেশি, গম দ্বিগুন, সবজি পাঁচ গুন এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুন। দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। সরকারের যুগোপোযোগী পরিকল্পনা, পরিশ্রমী কৃষক এবং মেধাবী কৃষি বিজ্ঞানী ও স¤প্রসারণবিদদের যৌথ প্রয়াসেই এ সাফল্য।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. সেকেন্দার আলী ভোরের কাগজকে বলেন, কৃষক, কৃষিবিদ, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সরকারের বাস্তব পদক্ষেপের ফলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটেছে। নতুন নতুন জাতের কৃষিবীজ উৎপাদনের ফলে পরনির্ভরশীলতা কমেছে আমাদের। আধুনিক পদ্ধতি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারও দেশের কৃষি বিপ্লবের অন্যতম কারণ। কৃষিক্ষেত্রে বর্তমানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লব বিশ্বের মডেল হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশারক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ জন্য কৃষি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় বর্তমান সরকার। এরই অংশ হিসেবে সরকার কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নেয় এবং তা স্বল্পসময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করে। এছাড়া উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করে কীভাবে বেশি উৎপাদন করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে বাংলাদেশ : আমন, আউশ ও বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কায় চাল রপ্তানি শুরু করে সরকার। দুই দফায় প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করা হয়। এছাড়া গত বছর ভয়াবহ ভূমিকম্পকবলিত নেপালে ১০ হাজার টন চাল সাহায্য হিসেবে পাঠানো হয়। এটা দেশের চাল উৎপাদনের সামর্থ্যরেই বহিঃপ্রকাশ।

সবজি উৎপাদনে তৃতীয় : দেশে রীতিমতো সবজি বিপ্লব ঘটে গেছে গত এক যুগে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য মতে, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। এক সময় দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের যশোরেই কেবল সবজির চাষ হতো। এখন দেশের প্রায় সব এলাকায় সারা বছরই সবজির চাষ হচ্ছে। এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০টি জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে, এ কৃষক পরিবারগুলোর প্রায় সবাই কমবেশি সবজি চাষ করেন।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার স্ট্যাটিসটিক্যাল ইয়ারবুকতথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে সবজির আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে বাংলাদেশে, বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ। পাশাপাশি একই সময়ে সবজির মোট উৎপাদন বৃদ্ধির বার্ষিক হারের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে ২০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে দেশে মাথাপিছু দৈনিক সবজি খাওয়া বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৪২ গ্রাম।

মাছ ও ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ বাংলাদেশ : মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মাছের উৎপাদন ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। জাটকা সংরক্ষণসহ নানা উদ্যোগের ফলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ৫২ হাজার টন বেড়ে সাড়ে তিন লাখ টন হয়েছে। মাছের দাম সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যরে মধ্যে থাকায় গত ১০ বছরে দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ শতভাগ বেড়েছে। অপরদিকে ছাগল উৎপাদনেও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ আর ছাগলের মাংস উৎপাদনে পঞ্চম। বাংলাদেশের ব্লুাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বিশ্বের সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ফল উৎপাদন : বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০০৬০৭ অর্থবছরে দেশে আমের উৎপাদন ছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার টন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে ৫০ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্যই কেবল নয়, আলু এখন দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসলও। এফএওর স¤প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৮২ লাখ ১০ হাজার টন আলু উৎপাদন নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে অষ্টম স্থানে। কিছুদিন আগেও যেখানে বিশ্বের ২০টি দেশ থেকে বাংলাদেশকে আলু আমদানি করতে হতো। গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের আলু রপ্তানি হয়েছে।

ফসলের জাত উদ্ভাবন : ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বেশ কয়েকটি জাত ছাড়াও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা মোট ১৩টি প্রতিক‚ল পরিবেশে সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম জেনেটিকেলি মোডিফাইড ফসল বিটি বেগুনের চারটি জাত অবমুক্ত করে। যার মধ্যে বেগুনের প্রধান শত্রু ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী জিন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং মাধ্যমে আলুর নাবি ধসা রোগের প্রতিরোধী জিন প্রতিস্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ইকৃষি : গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ইকৃষি খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার জানালা। কৃষি তথ্য সার্ভিস দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন করেছে। এছাড়া ২৫৪টি উপজেলার ২৫৪টি আইপিএম/ আইসিএম কৃষক ক্লাবকে এআইসিসিতে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষি তথ্যকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনলাইনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে মুঠোফোনের জোয়ারে ভাসছে এদেশ। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের ১৬১২৩ নম্বরে যে কোনো মোবাইল থেকে ফোন করে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট অফলাইন/অনলাইনে সার সুপারিশ নির্দেশিকা প্রদান করছে। আখ চাষিরা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ইপুঁজিসেবা গ্রহণ করছেন। এমনকি ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেশবিদেশের কৃষি তথ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে।

পুষ্টিতে বাঙালি : এক সময় বলা হতো ‘দুধে ভাতে বাঙালি’ কিংবা বলা হতো ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। বর্তমান সরকার তার সুপ্রসারিত কৃষি নীতিতে শুধু দুধে ভাতে বা মাছে ভাতে সীমিত নয়, পুষ্টিতে বাঙালি হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত হতে চায়। সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ অনুয়ায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও বর্তমান জনগণবান্ধব সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

এফএও স্বীকৃতি : দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বিশ্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে। এফএওর জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষির অভিযোজনবিষয়ক প্রতিবেদন বলেছে, আগামী দিনগুলোয় বিশ্বের যে দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদন বাড়তে পারে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বেশ কয়েকটি জাত ছাড়াও এরই মধ্যে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে।

একটি বাড়ি একটি খামার : অর্থনৈতিক উন্নয়নে পল্লী অঞ্চলে নতুন ধারা চালু করার লক্ষ্যে এক হাজার একশ ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শুরু করে সরকার। প্রকল্পটি চালু থাকবে আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত। সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যাবলীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে এই প্রকল্পের লক্ষ্য। দেশের ৬৪ জেলার চারশ ৯০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্রঃ দৈনিক ভোরের কাগজ, ৫ ডিসেম্বর ২০১৬

মাকাল ফলেরও কিন্তু গুণ আছে!

ডিসেম্বর 3, 2016 মন্তব্য দিন

makal-fruitমাকাল ফল। এই নামটির সঙ্গে হয়তো কমবেশি সবার পরিচয় আছে। কিন্তু মাকাল ফল দেখেনি এমন মানুষেরও সংখ্যাও একেবারে কম হবে না। বাংলা বাগধারায় মাকাল ফল একটি বিশেষ উপমা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বাইরে সুন্দর, ভিতরে কিছুই নেই। যে মানুষগুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু তাদেরকে দিয়ে কোনো কাজের কাজ হয় না, তাদেরকেই মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষ উপমা হিসেবে ব্যবহার হলেও এই ফলটি কিন্তু একেবারে অপ্রয়োজনীয় নয়। মাকাল ফল ও গাছের রয়েছে ঔষধি গুণ। তাছাড়া পাখিদের অন্যতম প্রিয় খাবার মাকাল ফল। পাকা মাকাল ফলের সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করে।

মাকাল ফলের ইংরেজিতে নাম Colocynth, Cucumber-এর দ্বিপদী নাম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Citrullus colocynthis। পৃথিবীতে এই পরিবারের ৪২টি প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ১২টি প্রজাতি। এ গাছের জন্মস্থান তুর্কি। তুর্কি থেকে এশিয়া মহাদেশ ও আফ্রিকা মহাদেশে এ গাছটির বিস্তার ঘটে। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। মাকাল ফলের গাছ লতানো আকৃতির হয়। জঙ্গল বা বাড়ির বড় বড় গাছকে অাঁকরে ধরে মাকাল গাছ বেড়ে ওঠে। একটি পরিপূর্ণ গাছ ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। চৈত্রবৈশাখ মাসে মাকাল গাছে সাদা ধবধবে ফুল ধরে। শ্রাবণভাদ্র মাসে ফল সম্পূর্ণ পরিপক্ব হয়। মাকাল ফল দেখতে গোলাকৃতির। কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ, কিছুদিন পর হলুদ ও ফলটি পাকার পড়ে লাল রং ধারণ করে। এক সময় গ্রাম বাংলার রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ে অনেক মাকাল গাছ দেখা যেত। কিন্তু এখন নগরায়ণের ফলে শিল্পকারখানার প্রসার ঘটায় গ্রামের রাস্তার পাশে ঝোপঝাড় কমে গেছে যে কারণে এই ফলটি আজ বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

মাকাল ফল পাখিদের অন্যতম প্রিয় খাবার। তাছাড়া এটি একটি পরিবেশবান্ধব গাছ। এই ফল ও গাছের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ।

মাকাল গাছের শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে।

কফ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে, নাক ও কানের ক্ষত উপশমে মাকাল গাছ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জন্ডিস, দেহে পানি জমা (শোথ রোগে), স্তনের প্রদাহ, প্রস্রাবের সমস্যা, বাত ব্যথা, পেট ফুলা এবং শিশুদের অ্যাজমা নিরাময়ে মাকাল গাছের ফলমূলকাণ্ড বিশেষ ভূমিকা আছে।

মাকাল ফলের বীজের তেল সাপের কামড়, বিছার কামড়, পেটের সমস্যা (আমাশয়, ডায়রিয়া), মৃগীরোগ এবং সাবান উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যায়।

মাকাল ফলের বীজের তেল চুলের বৃদ্ধি ও চুল কালো করতে কার্যকর।

মাকাল ফলের বিচি ও অাঁশ শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানিতে দ্রবীভূত করে ফসলে প্রয়োগ করলে পোকামাকড়, ইঁদুর ও রোগবালাই দমনে বিষ হিসেবে কাজ করে থাকে।

কমলায় রঙিন নানিয়ারচর

নভেম্বর 28, 2016 মন্তব্য দিন

orange farming.jpgহিমেল চাকমা : কমলা বাগান করে এখন লাখপতি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষং এলাকার নম কার্বারীপাড়া গ্রামের মধুসূদন তালুকদার। এখন তার বাগানের গাছে ঝুলছে বড় বড় রঙিন কমলা। দুর্গম পাহাড়ে কমলার এ ফলনে অবাক কৃষি বিভাগও। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে এমন কমলা রাঙ্গামাটি জেলায় দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার নম কার্বারীপাড়ায় মধুসূদনের কমলা বাগানে গিয়ে দেখা যায় গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রঙিন কমলা। কমলা বাগানের যেদিকে চোখ যায় সেদিকে রঙিন কমলা। কমলার ভারে নূয়ে পড়েছে ডালপালা। ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে কমলার ডালপালাগুলো। এক একটি কমলার ওজন ২শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ গ্রাম। স্বাদেও মিষ্টি।
মধুসূদন তালুকদার বলেন, এ বছর তিনি ঘরে বসে ৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিক্রি করেছেন ১৪ লাখ টাকার কমলা। ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে কমলা পেড়ে নিয়ে যায়।

মধুসূদন বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা আর বাজারে দাম না থাকায় বাগানে নষ্ট হয়ে যেত আম, কাঁঠাল ও কলা। কিন্তু বাজারে একটি কমলার দাম ১৫২০ টাকা। পরিবহনও সহজ। এটি মাথায় রেখে ২০০৭ সালে ২ একর পাহাড়ে ৭শ’ কমলার চারা লাগাই। ২০১৩ সালে কিছু গাছে কমলা ধরে। ২০১৪ সাল থেকে বাগানের অর্ধেক গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। কমলা বিক্রির জন্য তার আর চিন্তা করতে হয় না। সময় আসলে ব্যবসায়ীরা চলে আসেন। অগ্রিম টাকা দিয়ে তারাই বাগানটি দেখাশোনা করে দিচ্ছেন।

কমলায় রঙিন নানিয়ারচরমধুসূদন বলেন, সেপ্টেম্বরঅক্টোবরের দিকে রাতের বেলায় এক ধরনের পোকা কমলার ক্ষতি করে। ফলে কমলাগুলো ঝরে পড়ে। কোনো কীটনাশকে এগুলো মরে না। তাই এই পোকা দমনে তিনি রাত জেগে পাহারা দিতেন এবং পোকাগুলো মেরে ফেলতেন। এ পোকার আক্রমণ না হলে আরো কিছু টাকা পেতেন।

কমলা ব্যবসায়ী জ্যোতিরঞ্জন চাকমা বলেন, এখন গাছ থেকে কমলা ঝরে পড়ার সম্ভবনা নেই। তাই পরিপক্ব কমলা ছিড়ে তারা বাজারে তুলছেন। মধুসূদনের বাগানের কমলা বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরে পিস প্রতি বিক্রি করছেন ২৫৩০ টাকা। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় মানুষ সহজে এ কমলা কিনে নিচ্ছেন।

এদিকে মধুসূদনের সফলতা দেখে অন্যরা ঝুঁকছেন কমলা বাগানের প্রতি। নম কার্বারীপাড়ার উজ্জ্বল চাকমা (৪৪) ও শান্তি রঞ্জন চাকমা (৪৫) বলেন, মধুসূদনকে দেখে এলাকায় এখন কমলা বাগান করছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রমনী কান্তি চাকমা বলেন, জেলায় কমলা বাগানের এলাকা ৭৬০ হেক্টর। এর মধ্যে কমলা উৎপাদনে বর্তমানে রাঙ্গামাটির শীর্ষস্থান দখল করেছে নানিয়াচরের সাবেক্ষং। স্বাদে মিষ্টি আকারে বড় হওয়ায় কমলার বাজার দখল করেছে নানিয়াচরের কমলা। নানিয়াচরের মাটি কমলা চাষের জন্য উপযোগী বলছে কৃষি অফিস। এক সময় সাজেকের কমলা বিখ্যাত হলেও এখন নানিয়াচরের কমলা সেই স্থান দখল করে নিয়েছে।

পোকা দমন ও সার প্রয়োগ বিষয়ে কমলা বাগানিরা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আরো লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগ বাগানিদের পরামর্শ দিতে সব সময় প্রস্তুত আছে।

সূত্রঃ দৈনিক মানবকন্ঠ, ২৮ নভেম্বর ২০১৬

পাটজাত পণ্য যেভাবে ভাগ্য বদলে দিচ্ছে মনসুরাদের !

নভেম্বর 24, 2016 মন্তব্য দিন

jute-products-life-changer

নার্সারি ব্যবসা করে স্বাবলম্বী জাহানারা !

নভেম্বর 20, 2016 মন্তব্য দিন

nursery-success

কাকতাড়ুয়াদের তাড়িয়েছে কে ?

নভেম্বর 10, 2016 মন্তব্য দিন

scarecrow-1scarecrow-2

বাংলার ফুল, ফল ও চা !

নভেম্বর 6, 2016 মন্তব্য দিন

bangla flower.jpgdaliabangla-fruitkoromchafrom-chi-to-chatea production record.jpg