আর্কাইভ

Archive for the ‘কৃষি’ Category

কৃষিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য !

গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ এবং ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা

farmer at work 1মিজানুর রহমান তোতা : উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার ক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক কৃষিকে আরো এগিয়ে নিতে দরকার অল্প জমিতে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো
কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য এখন রীতিমতো ঈর্ষণীয়। বিশ্ব অর্থনীতির পরিসংখ্যানে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। ধান, সবজি, আলু ও ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। শুধু তাই নয়, সবজিতে ৩য় ও আলুতে ৭ম অবস্থানে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪%। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কৃষি যেভাবে অগ্রসারমান তাতে আগামীতে আরো উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে শুধুমাত্র চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। ধান, গম. ভুট্রাসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলার কৃষি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মাটি অধিক উর্বর এবং বিরাট সম্ভাবনার। কৃষিসমৃদ্ধ আবহাওয়া ও জলবায়ুর এত সুন্দর দেশ বিশ্বে খুব কমই আছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৫০লাখ মেট্রিক টন। সুত্রানুযায়ী বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। সেখানে উৎপাদন হয় ৫৫ কোটি ১১লাখ মেট্রিক টন। ৪৩ কোটি ৬৫লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২য় অবস্থানে। ভারতের অবস্থান ৩য়। উৎপাদন হয় ২৯ কোটি ৩৯লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কৃষির বিস্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষে বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কৃষিজমির বিপরীতমুখী চাপ সত্তে¡ও বাংলাদেশের বর্তমান খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে কৃষিই হচ্ছে প্রধান সহায়ক। সে কারণে জরুরিভাবে কৃষিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে যেসব প্রতিবন্ধকতা তা দুর করতে হবে। একইসঙ্গে অল্পজমিতে বেশি শস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো, সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ, ফুড ম্যাজেমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, কৃষিই হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আবহাওয়ার খামখেয়ালীর কারনে এলাকাভিত্তিক উপযোগী ‘ক্রপ জোন’ করতে হবে। একই জমিতে ৩এর অধিক ফসল উৎপাদনে স্বল্পজীবনকালের জাত উদ্ভাবন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘লিগুমিনাস’ বা ডালসহ সিম্ব জাতীয় ফসল বছরে অন্তত একবার চাষ করার উপর জোর দিতে হবে। তাতে মাটির ক্ষয়রোধসহ নাইট্রোজেন সংযোজন হয়ে মাটি সমৃদ্ধ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মহসীন আলী দৈনিক ইনকিলাবকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে কৃষিতে অভুতপুর্ব উন্নতি হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আরো উন্নতি ঘটানোর জন্য পুরোপুরি যান্ত্রিকীকরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই হাইব্রিড প্রোডাকশনে ২০% থেকে ৪০% উন্নীত হবে ইনশাআল্লাহ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমে যাওয়া, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বত্বেও কর্মবীর কৃষকদের কারনে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন।

কৃৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৮০ একর। এর মধ্যে মোট আবদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫শ’৫৬ হেক্টর। চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। স্বাধীনতার পর দেশে আবাদযোগ্য জমি ছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ হেক্টর এবং মোট খাদ্য উৎপাদন হতো ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ হেক্টর। কৃষি জমিতে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প গড়ে তোলার ফলে আবাদী জমি উদ্বেগজনকহারে কমছে। প্রতিবছর আবাদী জমি কমছে গড়ে ৮২ হাজার হেক্টর জমি। যা মোট জমির এক ভাগ। বছরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এক হাজার হেক্টর জমি। সয়েল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর গত ৪০বছরে নদী ভাঙনে কৃষি জমির বিনাশ হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ হেক্টর। আর এর বিপরীতে চর জেগেছে ৫৮ হাজার হেক্টর। ৮০ শতাংশ সরকারী খাস জমিসহ আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৯শ’৭৭ হেক্টর। যা আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না।

সুত্র জানায়, গত ৪০ বছরে শুধুমাত্র আবাদী জমিতে বাড়িঘর নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬৭হাজার একরে। অনাবাদি আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। জাতিসংঘের কৃষি ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে চাল উৎপাদনে বিশ্বে চর্তুর্থ আর সবজি উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে। সবজিতে চীন এবং ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। সবজি উৎপাদন বেড়েছে ৫গুণ। চেষ্টা করলে অনায়াসেই দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে মাত্র ২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হতো, সেটা এখন ৬ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি আর বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটিতে। তা সত্বেও বাংলাদেশের কৃষি মুখ থুবড়ে পড়েনি বরং মাথা উচুঁ করে সগৌরবে চলমান রয়েছে। দেশি জাতকে উন্নত করে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবনে স্ফাল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৬৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) করেছে ১৪টি ধানের জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) ৪শ’১৭টি কমোডিটি ভ্যারাইটি অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য ৩৫, তেলজাতীয় ফসল ৪৩, ডালজাতীয় ফসল ৩১, সবজি ৮৯, ফল ৬৪, ফুল ১৬, মসলা ২৪টি জাত রয়েছে।

কৃষিতে সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি আছে বহুবিধ সমস্যা। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের কৃষি এখন অনেক উন্নত। সেখানকার চাষ পদ্ধতি ও ফসল উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থা পুরোটাই সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে আশানুরূপ উন্নতি হলেও ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। যার জন্য কর্মবীর কৃষকরা প্রায়ই উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য পান না। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ যেখানে সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিশাল এই সেক্টরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও উল্লেখযোগ্য নজর নেই বলে বিস্তর অভিযোগ। মাঝেমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ পরিকল্পনা নেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয় না, উপরন্তু দারুণভাবে অবহেলিত থাকছে সেক্টরটি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেছেন, মাঠের যেসব সমস্যা আছে তা নিরসন করে কৃষক ও সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাংলার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ঠাকুরগাঁওয়ের একই জমিতে চার ফসল

প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্প

farmer at work 2রফিকুল ইসলাম : প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের মাধ্যমে একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। এ কারনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে খাদ্য খাটতি পুরণে আরো বেশি সফলতা আসবে।
একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে কৃষককে উদ্ভুদ্ধ করতে ২০১৬ সালে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর মাধ্যমে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৯০ হেক্টরে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষন, উঠান বৈঠক, বিনামুল্যে উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হয়। আর কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে সফলতা অর্জন করে এলাকার কৃষকরা।
এক সময় ফসল আবাদ করে জমি ফেলে রাখলেও এখন বছরে তারা একই জমিতে সরিষা, মুগডাল, আউশ ও আমন ধানসহ চারটি ফসল উৎপাদন করছেন। ফলে এখানকার কৃষকরা দিন দিন চার ফসলি জমি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
রুহিয়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, বাচ্চু, আলাউদ্দিনসহ অনেকে জানান, আমরা আগে বুঝতাম না কোন সময়, কোন ফসল আবাদ করতে হয়। আরডিআরএস এর মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিক সময় চাষাবাদ করায় এখন একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছি। সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামুল্যে বীজ ও কীটনাশক দেয়ায় আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা মনে করি সকল কৃষক যদি এভাবে ফসল আবাদ করে তাহলে কখনো লোকসান গুনতে হবে না।
এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মসূচী ব্যবস্থাপক (মাঠ সমন্বয়) জিয়াউল হক জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে ৩ শতাধিক কৃষক তার জমিতে ৪ ফসল উৎপাদন করছে। দিন দিন কৃষকরা আরো আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে সদস্য হয়েছে আরো প্রায় ২ হাজার কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, অন্যান্য সংস্থাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে জেলার কৃষকরা উপকৃত হবে। তার কারন সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারি উদ্যোগও অনেক কাজে আসে। আজকে প্রকল্পটির কারনে এ জেলার কৃষকরা অনেক এগিয়ে।
Advertisements

মার্কিন মদদে বাড়ছে আফিম চাষ

আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ফলে দেশটিতে যে কেবল সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যাই বেড়েছে তা নয়, একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য উৎপাদনও বেড়েছে বিপুল মাত্রায়। বলা হচ্ছে আফগানিস্তানে আফিমের ক্ষেতগুলো আমেরিকার কাছে জ্বালানী তেলের কুপগুলোর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সরকার এখন পরাজিত আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের মোতায়েন ও পুনর্বাসন করার জন্য নতুন নতুন অঞ্চল প্রস্তুত করছে যাতে এ অঞ্চলে সন্ত্রাস আরও বেশি ছড়িয়ে দেয়া যায়। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমন ও মাদক নির্মূলের অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন সরকার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু দেখা গেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারাই সেখানে আফিম চাষ বিস্তারের সবচেয়ে বড় হোতায় পরিণত হয়েছে। অবৈধ আফিম চাষ থেকে যে বিপুল মুনাফা আসে তার লোভ সামলাতে না পেরে পশ্চিমা সরকারগুলো আফগানিস্তানকে পরিণত করেছে অবৈধ মাদক ব্যবসার সবচেয়ে বড় কেন্দ্রে। এভাবে মানুষের মৃত্যুর পণ্য তৈরি করে অবৈধ ব্যবসা করছে মানবাধিকারের কথিত দাবিদার পশ্চিমা শক্তিগুলো।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চোরাই পথে পাঠানো হয় আফিম থেকে তৈরি মাদকদ্রব্য হেরোইন। প্রতি এক কেজি খাঁটি বা শতভাগ বিশুদ্ধ হেরোইন বিক্রি করা হয় তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্যে। আর ইউরোপে যেসব হেরোইন পাচার করা হয় তার মাত্র ত্রিশ শতাংশ খাঁটি। সেখানে এই হেরোইনের মূল্য গ্রাম-প্রতি ৭০ মার্কিন ডলার।

ব্রিটেনের দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে: আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসা থেকে যে অর্থ আসে তা মাদক চোরাকারবারে জড়িত আশপাশের কয়েকটি দেশের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্যে দেখা যায়,২০০৮ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপন্ন হয়েছিল ২০০টন। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ নয় হাজার টন।

মাদক ও অপরাধ মোকাবেলা বিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,২০১৭ সালে আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে মাদক উৎপাদন বৃদ্ধি সারা বিশ্বের জন্য বিপদ-ঘণ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানকেও মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাদক চোরাচালান দমন অভিযান চালাতে গিয়ে ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার নিরাপত্তা কর্মী এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার।

মাদক বিষয়ে গত ডিসেম্বরে মস্কোয় বিশ্বের সাংসদদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি জানান,আফগানিস্তানে হেরোইন উৎপাদনে জড়িত রয়েছে ৪০০টি ল্যাবরেটরি। তিনি প্রশ্ন করেন: ন্যাটো জোট কি এইসব চিহ্নিত ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানার ল্যাবরেটরিতে বোমা ফেলতে পারে না? অথচ এই জোট কিভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে বোমা বর্ষণ করে?

পার্সটুডে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

জনপ্রিয় হচ্ছে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী

seedling growing

পাটের বিকল্প সন্ধানে…

jute alternative

আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনে রেকর্ড; বাড়ছে তালিবানের রাজস্ব আয়

afghan poppy farm destruction২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনের রেকর্ড হতে চলেছে। অপরিবর্তিত থাকছে তার বিশ্বে সর্বোচ্চ আফিম উৎপাদক দেশের স্থান। আফিম উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি তাতে তালিবানের বৃহত্তর ভূমিকাও বজায় থাকছে। তাদের আয়ের সিংহভাগই আসে মাদক ব্যবসা থেকে। তালিবান যতই মাদক ব্যবসার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, ততই তাদের বেশির ভাগ যোদ্ধাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় আসার ব্যাপারে কম আগ্রহ প্রকাশ করছে।

দীর্ঘদিন থেকেই আফগানিস্তান বিশ্বের বৃহত্তম আফিম উৎপাদক দেশ। হেরোইন তৈরিতে আফিম ব্যবহৃত হয়। তালিবান এ অঞ্চলের আফিম উৎপাদক ও পাচারকারীদের উপর কাছ থেকে কর আদায় ও তাদের নিরাপত্তা দেয়ার লাভজনক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জঙ্গি গ্রুপটি এমন এক সময়ে লাভের পরিমাণ বাড়াতে মাদক ব্যবসায়ে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে যখন তারা আফগান সরকার ও মার্কিন সমর্থকদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক সাফল্য অর্জন করছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট মতে, তালিবান মাদক ব্যবসার প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে পড়েছে। আফগান পুলিশ ও তাদের মার্কিন উপদেষ্টারা ক্রমেই বেশি সংখ্যায় হেরোইন পরিশোধন ল্যাব দেখতে পাচ্ছেন যেগুলো সহজেই অপসারণ করা যায়। আফগানিস্তানে ১৬ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা সত্ত্বেও আফগানিস্তান কিছুকালের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণ আফিম উৎপাদন করে। আফগান ও পাশ্চাত্য কর্মকর্তারা এখন বলছেন, আফিম সিরাপের আকারে আফগানিস্তানের বাইরে যাওয়ার আগে আফিমের কমপক্ষে অর্ধেকাংশ মরফিন বা হেরোইন আকারে দেশেই প্রক্রিয়াকৃত হয়। পাচারের জন্য আফিমের এ সব রূপ সহজ । তালিবানের কাছে তা অনেক বেশি মূল্যবান। জানা যায়, মাদক ব্যবসা থেকে তালিবানের আয়ের ৬০ শতাংশ আসে। মাদক পাচারের দিকে অধিক নজর দেয়ায় তালিবান এখন মাদক পাচার চক্রের স্থানে নিজেকে স্থাপিত করেছে।

ড্রাগস অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক সাবেক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছরের গোড়ার দিকে কাবুলে সাংবাদিকদের বলেন, তারা এ থেকে বেশি রাজস্ব পাবে যদি তা বিদেশে পাঠানোর আগেই প্রক্রিয়া করে। আমরা অল্প পরিমাণ মাদক নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের মাদক পাচার হচ্ছে যা থেকে তালিবান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে।

কালো স্যুপের ন্যায় এক কেজি অপরিশোধিত আফিমের জন্য একজন আফগান আফিম চাষী ১৬৩ ডলার পেয়ে থাকে। তা যখন পরিশোধিত হয়ে হেরোইন হয় তখন আঞ্চলিক বাজারে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ ডলারে বিক্রি হয়। ইউরোপে প্রতি কেজি হেরোইনের পাইকারি মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ডলার।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে আফিম-পপি চাষ বেড়েছে। ২০১৬ সালে পপি চাষের এলাকা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তিন বছরের মধ্যে সে বছর বেশি জমিতে চাষ হয়। দি টাইমস জানায়, প্রাথমিক উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সাল আরেকটি উৎপাদন রেকর্ডের বছর যদিও সরকার দেশব্যাপী আফিম উৎপাদন হ্রাসের ব্যাপক চেষ্টা চালায়। আফিম প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আটকের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে আফিম থেকে উৎপাদিত মরফিন ও হেরোইনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি বলেছেন, মাদক না থাকলে অনেক আগেই আফগান যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত। একজন জ্যেষ্ঠ আফগান কর্মকর্তা দি টাইমসকে বলেন, এখন হেলমন্দের একজন তালিবান কমান্ডার মাসে দশ লাখ ডলার আয় করে। শান্তির সময়ে সে কি তা পারত?

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আফগানিস্তানে তাদের নতুন কৌশলের লক্ষ্য হচ্ছে তালিবানদের এটা বোঝানো যে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভের কোনো উপায় নেই। তবে মাদক ব্যবসায় তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা কাবুলের সাথে তাদের কিছু নেতাকে আলোচনায় অনুৎসাহী করেছে বলে মনে হচ্ছে।

জাতিসংঘ বলেছে, আফগানিস্তানের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ প্রবণতার আসল ভূমিকা রয়েছে। কারণ, মাদক থেকে পাওয়া অর্থ সরকারের সাথে সমঝোতার আলোচনায় বসতে তালিবানের কিছু নেতাকে নিরুৎসাহিত করছে।

তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য লাভের পর হেরোইন প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে। ২০০১ সালের পর ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ এলাকা দখল করে তালিবান। এ বছর সরকার আরো ৫ শতাংশ এলাকা হারিয়েছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী উপদেষ্টাদের সাথে কয়েকশ’ আফগান কমান্ডো মাদক প্রবাহ হ্রাসের জন্য কাজ করছে। কিন্তু মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত আফগান কর্মকর্তাদের জন্য অথবা নিরাপত্তা সমস্যার কারণে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

আফগানিস্তানের উপ মাদক মন্ত্রী জাভিদ কায়েম বলেন, হেলমন্দে আমরা ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমির মাদক ধ্বংসের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি। কিন্তু আমরা সেখানে কিছু করতে পারব না। কারণ হেলমন্দ একটি যুদ্ধ এলাকা।

হেলমন্দে আফগানিস্তানের ৮০ শতাংশ আফিম পপি উৎপন্ন হয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, এটা এক বিরাট মাদক কারখানা। হেলমন্দ বলতে বোঝায় মাদক, পপি ও তালিবান।

মার্কিন ড্রাগ এনফোস্যমেন্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আটককৃত হেরোইনের খুব সামান্য মাত্র অংশ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। অন্যদিকে ইউরোপের স্ট্রিটগুলোতে পাওয়া হেরোইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে আফগানিস্তান থেকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, কানাডায় পাওয়া হেরোইনের ৯০ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যের ৮৫ শতাংশ পরিমাণ হেরোইনের উৎস আফগানিস্তান। ২০১৭ সালের ইউরোপীয় মাদক রিপোর্ট মতে,ইউরোপে পাওয়া হেরোইনের অধিকাংশই আফগানিস্তান অথবা প্রতিবেশী ইরান ও পাকিস্তানে উৎপাদিত।

হেরোইন হচ্ছে ইউরোপের সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত মাদক। ইউরোপীয় মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ইউরোপে বছরে ৬শ’ কোটি থেকে ৭৮০ কোটি ইউরো মূল্যের খুচরা মাদক বিক্রি হয়।

সূত্রঃ বিজনেস ইনসাইডার

ইরানের কৃষিতে অবাক করা উন্নতি

agri field in iranসিরাজুল ইসলাম, তেহরান থেকে | ইরান বিশাল  দেশ। আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১৩/১৪ গুণ বড়। তবে বিরাট অংশজুড়ে মরুভূমি। বাংলাদেশের মতো অতটা পলিযুক্ত উর্বর মাটি নেই এখানে। ইরানের দু’পাশে রয়েছে দুটো সাগর- দক্ষিণে পারস্য উপসাগর আর উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর। বেশির ভাগ জায়গায় পাহাড়। রাজধানী  তেহরান তো পুরোটাই পাহাড়ের ওপর। ধুলোমাটি পাওয়াই দুষ্কর। পাথুরে মাটি। ফলে বিশাল দেশ হলেও কৃষিকাজের জন্য ভূমির পরিমাণ সে তুলনায় অনেক কম। যা আছে তাও সব চাষের আওতায় নেই। যে জমি আছে তাতে কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়  বেশ। এরমধ্যে আপেল, আঙ্গুর, খোরমা, পেস্তা, বেদানা, নাশপাতি, কমলা, তরমুজসহ নানা রকমের ফল উৎপাদিত হয় প্রচুর পরিমাণে। নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি সবই ইরান নিজে উৎপাদন করে। প্রধান খাদ্য হচ্ছে রুটি। সে কারণে প্রয়োজনীয় গম নিজেরা উৎপাদনের চেষ্টা করে আসছে। গত বিশ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি গম হয়েছে এবং এবার ইরান গম আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। আমদানি না করে বরং কয়েক লাখ টন গম রপ্তানি করা যাবে এবার।

ইরানের উত্তরাঞ্চলে কিছু ধান উৎপাদিত হয়। উত্তরাঞ্চলকে ফার্সিতে শোমাল বলে। এবার ইরানি সরকার ও কৃষকদের আপ্রাণ চেষ্টায় সেই শোমালে ধানের ফলনও বাম্পার হয়েছে। অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ধান হয়েছে। বাজারে ইরানি চালের দাম বেশ কমেছে। সবচেয়ে ভালোমানের যে চাল কিছুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি টাকার মানে প্রায় ৪০০ টাকায় সেই চালের দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। প্রতিবছর ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি করে ইরান। এবার বাম্পার ফলনের কারণে চাল আমদানিও কমে যাবে।

এ দেশের নিজস্ব খাদ্য ও কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে ডিম, দুধ, গোশত (গরু, ছাগল ও দুম্বার গোশত)। বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ব্রয়লার মুরগি, টার্কি ও কোয়েল পাখির গোশত। পাওয়া যায় উট পাখির গোশত; এমনকি উটের গোশতও। উটের  গোশতের দাম গরুর গোশতের মতোই। তবে গরু, ছাগল, দুম্বা ও উটের গোশতের দাম বাংলাদেশের  চেয়ে এখানে অনেক বেশি; অন্তত দ্বিগুণ। অবশ্য, তেহরানে ডিম ও দুধ বাংলাদেশের চেয়ে সস্তা। প্রচুর পরিমাণে পনির, মাখন, দই ও ঘোল (মাঠা) পাওয়া যায় ইরানে। এর সবই ইরানের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য। এছাড়া, আরো নানা রকমের ফল, সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয় চা এবং জাফরান। মাছ পাওয়া যায় মিঠা পানির ও লোনা পানির। মজার কথা হচ্ছে- পারস্য উপসাগরে কিছু ইলিশ মাছও পাওয়া যায়!

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম খোমেনী দেশের সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেছিলেন- আমেরিকা ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে ইরানকে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। কারণ ওরা সব সময় অবরোধ/নিষেধাজ্ঞা দিয়েই রাখবে। এর মোকাবিলায় নিজেদের পণ্য থাকলে ওরা কিছুই করতে পারবে না। সর্বোপরি, পেটে না থাকলে কেউ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইবে না।

মহান ইমামের সেই কথা অনুসরণে ইরান এখন কৃষিতে বিশাল উন্নতি করেছে। যে পণ্য ইরানের মাটিতে উৎপাদন সম্ভব তার সবই হচ্ছে এখানে। এ কারণেই কাতারের ওপর অবরোধ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির পাশে খাদ্যের ভাণ্ডার নিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে ইরান। নিজের জনগণের চাহিদা পূরণ করেই এসব বাড়তি খাদ্যপণ্য কাতারে রপ্তানি করছে ইরান। প্রতিদিন সেখানে যাচ্ছে খাদ্যপণ্য কিন্তু ইরানের বাজারে ঘাটতি নেই। দেখেশুনে বলা যায়- সত্যিই কৃষিতে ইরানের উন্নতি অবাক করার মতো।

সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিভাগ:কৃষি, খাদ্য

থাইল্যান্ডের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল রামবুটান

rambutan fruit 2

কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে লাল। দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মতো। খোসা ছাড়ালে ভেতরের অংশটা লিচুর মতো। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। থাইল্যান্ডের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এ ফলের নাম রামবুটান।

বিদেশি এ ফল চাষে সফলতা পেয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের কৃষক জামাল উদ্দিন। তাঁর এ সফলতা আশা জাগিয়েছে এলাকার অন্য কৃষকদের মনে। অধিক লাভজনক আর নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর দৃষ্টিনন্দন এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয় কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পেলে আগামী দিনে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুনত্ব যোগ করতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় এ ফল রামবুটান।

কৃষি বিভাগ বলছে, নরসিংদীর উঁচু বা টিলা এলাকার মাটি রামবুটান চাষের জন্য উপযোগী। এখানে রামবুটান চাষে নতুন দুয়ার খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কামারটেক বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে কৃষক জামাল উদ্দিনের বাড়ি অষ্টাআনী গ্রামের দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। জামাল উদ্দিন একজন আদর্শ কৃষক। তিনি লটকন, মাল্টা, কলম্বো লেবু, থাইল্যান্ডের পেয়ারা, কাঁঠাল, আমসহ বিভিন্ন প্রকারের ফলের পাশাপাশি সবজি, মাছ ও ধান চাষ করেন। এর সঙ্গে যোগ করেছেন রামবুটান। তাঁর আধা পাকা বাড়ির সামনে বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান। তিনি শোনান বিদেশি ফল রামবুটান চাষের গল্প।

কাজের সন্ধানে প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে ব্রুনাই যান জামাল উদ্দিন। ২০০৬ সালে দেশে ফেরার সময় অন্য জিনিসের সঙ্গে এক কেজি রামবুটান ফল নিয়ে আসেন। সে ফলের বীজগুলো তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে রোপণ করেন। পরে এ থেকে চারাও জন্মায়। প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তাঁর লটকন বাগানের ভেতরেই ১৭টি রামবুটানের চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে ১০টি চারা মারা যায়। বাকি সাতটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে।

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো এর মধ্য থেকে একটি গাছে ফুল আসে। আনন্দে মন ভরে যায় তাঁর। সেই গাছে অল্প পরিমাণে ফল ধরে। কিন্তু পরের বছরই ওই গাছটি থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকার রামবুটান বিক্রি করেন। তৃতীয় বছর ফলন ধরে তিনটি গাছে। আর এ থেকে তিনি বিক্রি করেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল। পরের বছর বিক্রি হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকার রামবুটান। আর চলতি বছর পাঁচটি গাছ থেকে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

জামাল উদ্দিন বলেন, প্রথম প্রথম স্থানীয় বাজারে এ অপরিচিত ফলের কদর ছিল না। ধীরে ধীরে এর পরিচিতি বাড়ায় ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে ফলটির। ঢাকা থেকে পাইকাররাও রামবুটান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিদেশি ফলটি স্থানীয় বাজারে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি এবং প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নরসিংদীর শিবপুর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম আরিফুল হক জানান, রামবুটান ফলটি লিচু পরিবারের। আদি নিবাস মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ফলটির ওপরে হালকা চুলের মতো রয়েছে। যা দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মতো। মালয় ভাষায় ‘রামবুট’ শব্দের অর্থ চুল। তাই অনেকে একে হেয়ারি লিচু, কেউ কেউ ফলের রানিও বলেন। ফলটির ভেতরে লিচুর মতো শাঁস থাকে। খেতে সুস্বাদু ও মুখরোচক। রয়েছে ওষধি গুণ।

রামবুটান ফলের শত্রু বাদুড়, ইঁদুর ও পাখি। এ জন্য গাছে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হয়। আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। গাছভেদে ৫০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়।

জামাল উদ্দিনের এ অভিনব প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে উৎসাহ। অনেকে এ ফলের গাছ দেখতে জামালের বাড়িতে আসে। এলাকার অনেক চাষি এ ফল চাষে আগ্রহী। স্থানীয় নার্সারিগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে রামবুটানের চারা।

জামাল উদ্দিনের প্রতিবেশী মজনু মিয়া বলেন, ‘রামবুটান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জামাল উদ্দিন। তাঁর সফলতা দেখে আমারও রামবুটানের বাগান করার ইচ্ছা জেগেছে। এরই মধ্যে বেশকিছু সংখ্যক চারা লাগিয়েছি। এ বছর একটি গাছে ফল এসেছে। সেই গাছ থেকে ১০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। ’

আরেক কৃষক আবু সিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘খরচের তুলনায় রামবুটান চাষ লাভজনক হবে বলে আশা করছি। ’

শিবপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তেজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘জামাল উদ্দিনের সফলতা দেখে এলাকার কৃষকরা রামবুটান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাচ্ছি এটা যাতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং সবাই যেন জামাল উদ্দিনের মতো সফলতা অর্জন করতে পারে। ’

নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লতাফত হোসেন বলেন, ‘এখানকার উঁচু বা টিলা জমিতে রামবুটান চাষ বেশ সম্ভাবনাময়। এখানে রামবুটান চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। আশা করি, শিগগিরই লটকনের পর নরসিংদীর রামবুটান রাঙাবে দেশবাসীকে। ’