আর্কাইভ

Archive for the ‘কবিতা’ Category

এনহেদুয়ান্না : পৃথিবীর প্রথম কবি

enhenduannaকাজী জহিরুল ইসলাম : চন্দ্রদেবী সুয়েনের মন্দিরে ধ্যানমগ্ন এক যুবতী, পদ্মাসনে উপবিষ্ট। দুই হাতের করতল সংযুক্ত, ঈষৎ উত্তোলিত। বুকের দুপাশে নগ্ন স্তনের ওপর দুগাছি কালো চুল। সুডৌল বাহুযুগল, উন্মুক্ত পিঠ এবং ঊরুসন্ধির সঙ্গমস্থলে স্ফীত নিতম্ব, যা শ্বেতপাথরের ওপর ছড়ানো এক তাল মসৃণ মাংসপিণ্ডের মতো পড়ে আছে। ধু ধু প্রান্তরে মৌন সন্ন্যাসীর মতো দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি ন্যাড়া বৃক্ষ। গোধূলিলগ্ন। সূর্যাস্তের এক চিলতে লাল আভা এসে পড়েছে দেবী সুয়েনের কপালে শোভিত মুকুটের ওপর। প্রার্থনামগ্ন আক্কাদিয়ান যুবতীর নগ্ন অবয়ব থেকে এক অলৌকিক আলোর উজ্জ্বল আভা বিকীর্ণ হচ্ছে। পেছনে সম্রাট সারগনের নেতৃত্বে আক্কাদ সাম্রাজ্যের গণ্যমান্য লোকজন। চন্দ্র দেবীর কাছে আজ ওদের একটিই প্রার্থনা—তিনি যেন এই সাম্রাজ্যকে অসুর লুগাল এনের হাত থেকে রক্ষা করেন।

ওপরে বর্ণিত দৃশ্যটি আজ থেকে ৪ হাজার ২৭৪ বছর আগের, অর্থাৎ যিশুর জন্মের ২২৫৮ বছর আগের। এই প্রার্থনাসভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে নারী, তাঁর নাম এনহেদুয়ান্না। তখন তিনি ২৭ বছরের পূর্ণ যুবতী। এনহেদুয়ান্না শব্দের অর্থ অন্তরীক্ষ দেবী। তিনি আক্কাদের সম্রাট সারগন ও তাঁর স্ত্রী রানি তাশলুলতুমের মেয়ে। অন্য এক মতে, এনহেদুয়ান্না সম্রাট সারগনের (যাঁকে পৃথিবীর সম্রাট বলে অভিবাদন জানানো হতো) মেয়ে নন, তবে রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয়া।

এনহেদুয়ান্না ছিলেন অসম্ভব মেধাবী মানুষ; এক নারী, যিনি প্রার্থনাসংগীত ও কবিতা লিখতে পারতেন বলে তৎকালীন সমাজ তাঁকে দেবী হিসেবে পূজা করত। তাঁর পিতা সম্রাট সারগন কন্যা এনহেদুয়ান্নাকে রাজ্যের প্রধান পুরোহিতের সম্মানে ভূষিত করেন। এই পদটি মর্যাদা পেত রাজ্যের সবচেয়ে সম্মানিত পদ হিসেবে।

সারগনের মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র রামিস সম্রাট হলেও এনহেদুয়ান্না তাঁর স্বপদে বহাল থাকেন। ২২৮৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণকারী এই নারীই এযাবৎকালের আবিষ্কৃত প্রথম লেখক বা কবি। তিনি ৪২টি স্তবগান রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে ৩৭টি প্রস্তরখণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তিনি দেবী ইনানার স্তুতি করে আরও বেশ কিছু শ্লোক রচনা করেন।

সুমেরু ভাষার ইনানাই আক্কাদিয়ান ভাষার ইস্তার, পরবর্তীকালে গ্রিকরা যাঁকে আফ্রোদিতি বলে শনাক্ত করে এবং রোমানরা তাঁকে ডাকে ভেনাস বলে, তিনি ছিলেন প্রেমের দেবী। দেবী ইনানার স্তুতি স্তাবকে সমৃদ্ধ এনহেদুয়ান্নার কবিতাগুলোই প্রার্থনাসভা-সংগীতের ভিত্তি নির্মাণ করে। সেই দিক থেকে তিনি ধর্মাবতারের কাজ করেছেন। তাঁর ওপর রাজা সারগনের ছিল পূর্ণ আস্থা। এনহেদুয়ান্নার মাধ্যমেই তিনি সুমেরু দেব-দেবীদের স্থলে আক্কাদিয়ান দেব-দেবীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কাজটি করেছিলেন, রাজ্য নিষ্কণ্টক রাখার জন্য এর প্রয়োজন হয়েছিল। এনহেদুয়ান্নার কাব্যপ্রতিভা তৎকালীন মেসিপটেমিয়ার নারীদের শিক্ষা গ্রহণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে এবং রাজবংশের নারীদের কবিতা লিখতে উৎসাহিত করে। একসময় এটা প্রায় অবধারিতই হয়ে ওঠে যে রাজকন্যা ও রাজবধূরা অবশ্যই কবিতা লিখতে জানবেন। যদিও তাঁর সমসাময়িককালে আর তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো নারী কবির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে এটাও প্রতীয়মান হয় যে পার্শি বি শেলির কথাই ঠিক, কবিতা একটি ঐশ্বরিক বা স্বর্গীয় ব্যাপার। তিনি অবশ্য স্বর্গীয় বলতে বুঝিয়েছেন মানুষের স্বর্গীয় অনুভূতির কথা।

এনহেদুয়ান্না সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পল ক্রিওয়াসজেক বলেন,‘তাঁর কম্পোজিশন, যদিও এই আধুনিককালেই কেবল পুনরুদ্ধার করা হলো, সর্বকালের অনুনয়মূলক প্রার্থনার মডেল। ব্যাবিলনীয়দের মাধ্যমে এর প্রভাব হিব্রু বাইবেলে এবং প্রাচীন গ্রিক প্রার্থনাসংগীতেও এসে পড়েছে। ইতিহাসের প্রথম কবি এনহেদুয়ান্নার ভীরু শ্লোকগুলোর প্রভাব প্রথম দিকের খ্রিষ্টান চার্চেও শোনা যেত।’

তখনকার প্রেক্ষাপটে নিয়মতান্ত্রিক প্রার্থনা মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ তৈরিতে সহায়ক ছিল। রাজ্যে ও সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। যদিও দেব-দেবীরা যাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকতেন, অর্থাৎ রাজা বা গোত্রপ্রধানগণ ধর্মের নামে জনগণকে প্রতারিতও করতেন। তা সত্ত্বেও ধর্মই মানুষের অস্থির চিত্তকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র উপায় ছিল। সেই দিক থেকে পৃথিবীর প্রথম কবি এনহেদুয়ান্না প্রার্থনা শ্লোক বা দেব-দেবীর স্তুতিবাক্য রচনা করে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন মানব সভ্যতার জন্য।

২২৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন পৃথিবীর প্রথম কবি এই মহীয়সী নারী। তিনি কোনো পুরুষ সঙ্গী গ্রহণ করেছিলেন কি না বা কোনো সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন কি না—এ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা না গেলেও এটা অনুমিত যে রাজ্যের প্রধান পুরোহিত হওয়ার কারণে হয়তো সংসারের মতো জাগতিক মায়ার বাঁধনে তিনি জড়াননি।

এই লেখায় পৃথিবীর প্রথম কবি এনহেদুয়ান্নার কিছু শ্লোকের বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। অনুবাদগুলো আমি করেছি ইংরেজি থেকে। এনহেদুয়ান্না যে পদ্ধতিতে লিখেছিলেন, সেই পদ্ধতিকে বলা হতো কিউনিফর্ম পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ৩৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে লিখতে শুরু করে মেসিপটেমিয়ার অধিবাসীরা।

এনহেদুয়ান্নার শ্লোক

১.

আমি তোমার এবং সব সময় তোমারই থাকব

তোমার হৃদয় আমার জন্যে শীতল হোক,

তোমার চেতনা, সমবেদনা আমার প্রতি

                        করুণার্দ্র হোক

তোমার কঠিন শাস্তির স্বাদ আমি উপলব্ধি করেছি।

(তৃতীয় লাইনের কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি। ‘করুণার্দ্র’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে চরণকে অর্থবহ করার জন্য। এনহেদুয়ান্নার শ্লোক: ১২)

২.

আমার দেবী, আমি ভূমণ্ডলে তোমার মহানুভবতা ও মহিমা ঘোষণা করছি

আমি চিরকাল তোমার মহানুভবতার

                        গুণগান করে যাব।

(শ্লোক: ১৩)

৩.

রানি যে বড় কাজগুলো করেন তা নিজের জন্য

তিনি জড়ো করেন নিজের স্বর্গ-মর্ত্য

তিনি মহান দেবীর প্রতিদ্বন্দ্বী।

(শ্লোক: ১৬)

৪.

দেবরাজ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং বাতাসের দেবী এই মহাবিশ্বকে করেছে তোমার দিকে ধাবমান

হে দেবীদের দেবী ইনানা, তোমার পদতলে

                        অর্পিত মহাবিশ্ব

তুমিই নির্ধারণ করো রাজকন্যাদের ভাগ্য।

(শ্লোক: ১৮)

৫.

মহীয়সী, তুমি সুমহান, তুমি গুরুত্বপূর্ণ

ইনানা তুমি মহান, তুমি গুরুত্বপূর্ণ

আমার দেবী, তোমার মহানুভবতা উদ্ভিন্ন

আমার দোহাই তোমার হৃদয় ফিরে যাক যথাস্থানে।

(শ্লোক: ১৯)

Advertisements

চয়নিকাঃ মসনবী শরীফ

masnavi poem

কবি, গীতিকার ও সুরকার রজনীকান্ত সেন

rajonikanto sen

দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুল

6d্রণক ইকরাম : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম,গণমানুষের কবি, বিদ্রোহী কবি, সাম্যবাদী কবি। ১৮৯৯ থেকে ১৯৭৬,বর্ণাঢ্য জীবন গড়েন তিনি। যার পুরোটাই ছিল হাজারো বৈচিত্র্যে ভরা। রুটির দোকানের কর্মচারী, সেনাবাহিনীর হাবিলদার এবং পরবর্তীতে তার সৃষ্টিশীল লেখক জীবন। বৈচিত্র্যময় তার জীবন। জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে আছে বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর গণমানুষের অধিকার আদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। নজরুলের প্রয়াণ উপলক্ষে আজকের বিশেষ আয়োজন।

তিনি উচ্চকণ্ঠ, দ্রোহে ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের রূপকার। জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাবা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা।

নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ১৯০৮ সালে পিতার মৃত্যু হলে পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়ভার আসে তার ওপর। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও কবি কখনো আপস করেননি। মাথা নত করেননি লোভ-লালসা, খ্যাতি, অর্থ, বিত্ত-বৈভবের কাছে। এদিকে ছেলেবেলা থেকেই গান বাজনায় ঝোঁক ছিল নজরুলের। তাই নামমাত্র লেখাপড়া করে স্থানীয় ‘লেটো’ গানের দলে যোগ দেন। কিছুদিন গান করার পর তার মনে হলো, এরকম গান তো তিনি নিজেও বানাতে পারেন। তাই গান লেখা শুরু করলেন। অত অল্প বয়সে লেখা গানের কথা ও ভঙ্গি অনেকের নজর কেড়েছিল, তাদের মধ্যে বেশ একটা কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল। মুশকিল হলো তার থেকে তেমন কোনো আয় হচ্ছিল না। আর আয়ে কুলাচ্ছিল না বলে ওই বয়সেই তিনি গ্রামের হাজী পাহালওয়ান শাহের মসজিদে খাদেমগিরি শুরু করে দেন। তিনি গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মক্তবে পড়াশোনা আর মসজিদে মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে নজরুল শৈশবেই ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এই শিক্ষাই নজরুলের পরবর্তী জীবনে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে ইসলামী ঐতিহ্যের রূপায়ণে তা বেশ সহায়ক হয়েছিল।

নজরুল আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষিত-বঞ্চিত-লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য। মানবতার মুক্তির পাশাপাশি তিনি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। তার রচিত ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি আমাদের রণসংগীত। তিনি যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনি জীবনেও।

নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। এ কারণে ইংরেজ সরকার তার একাধিক গ্রন্থ ও পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করেছিল। এমনকি  তাকে কারাদণ্ডে দণ্ডিতও করেছিল ব্রিটিশরা। নজরুলও আদালতে লিখিত রাজবন্দীর জবানবন্দি দেন। এরপর প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। একবার কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে নজরুল বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেছিলেন। সময়টা তখন ছিল ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাস। সাহিত্য দুটি হলো, ‘বিদ্রোহী’ ও ‘ভাঙ্গার গান’। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছিলেন। শুধু কবিতাতেই নয়, গান রচনায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন নজরুল। প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি। নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন ধ্রুপদী ধারার সঙ্গে। রাগনির্ভর গানকে ভেঙেচুরে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য ও শ্রুতিমধুর করে তুলেছেন। এক রাগের সঙ্গে অন্য রাগের মিলন ঘটিয়ে সংগীতযজ্ঞে নিয়ে এসেছিলেন এক নতুন ধারা। তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, উপন্যাস, গান, নাটক লিখলেও কবি হিসেবেই পরিচিতি পান বেশি। নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ ভূষিত করা হয়। তিনি তার কবিতার পঙিক্তমালায় তুলে ধরেন নিপীড়িত অবহেলিত মানুষের কথা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুলকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে দেওয়া হয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো ভালো কাটেনি। অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, রবিবার ঢাকার পিজি হাসপাতালে নজরুল ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। নজরুল তার এক কবিতায় লিখেছিলেন,মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই। তাই তো নজরুলের মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের জাতীয় জাগরণে নজরুলের ভূমিকা অনবদ্য। ক্রান্তিকালে তাই বার বার নজরুল ফিরে ফিরে আসেন। এ কারণেই তিনি চিরঞ্জীব।

প্রেমিক নজরুল

তোমাকে লেখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক। যেখানেই থাকি, বিশ্বাস করো, আমার অক্ষয় আশীর্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে। তুমি সুখী হও, শান্তি পাও এই প্রার্থনা। আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস করো, আমি তত মন্দ নই এই আমার শেষ কৈফিয়ত। ’’

কাজী নজরুল ইসলামের যৌবনের কিছু সময় কাটে কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরে। প্রায় ১১ মাসেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন কবি। নজরুল ১৯২১ সালের এপ্রিলে কুমিল্লার দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে অতিথি হয়ে আসেন। সেখানে বাড়ির পাশের কামরাঙাতলায় বাঁশিতে সুর তুলে, আর পুকুরঘাটে বসে কবিতা লিখে লিখে সময় কেটেছে তার। নজরুলের প্রথম প্রেম সৈয়দা খানম (নজরুল তাকে নাম দেন নার্গিস, ফারসি ভাষায় যার অর্থ গুল্ম)। তিনিও দৌলতপুর গ্রামের মেয়ে ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকালে নার্গিসের মামা ক্যাপ্টেন আলী আকবর খানের সঙ্গে পরিচয় হয় নজরুলের। ১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষ হয়। কবি তখন মুসলিম সাহিত্য সমিতির (কলকাতা) অফিসে আফজাল-উল হকের সঙ্গে থাকতেন। তখন আলী আকবর খানের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। আকবর খান নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে কুমিল্লায় নিজের গ্রামের বাড়ি ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। আলী আকবর খানের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে কলকাতা থেকে ১৯২১ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেইলে নজরুল কুমিল্লা এসে পৌঁছান। যাওয়ার পথে তিনি ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ কবিতাটি লেখেন। ট্রেনে কুমিল্লা পৌঁছে নজরুলকে নিয়ে আলী আকবর তার স্কুলের বন্ধু বীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাসায় ওঠেন। চার-পাঁচ দিন সেখানে কাটিয়ে কবি রওনা দেন দৌলতপুরের উদ্দেশে। সেই চার-পাঁচ দিনেই সেনবাড়ির সবাই বিশেষ করে বিরজা দেবীর সঙ্গে নজরুলের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। নজরুল তাকে ‘মা’ সম্বোধন করতেন।

দৌলতপুরে নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বাড়ির জ্যেষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে খুব গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। কবিতা শুনিয়ে, গান গেয়ে তাদের তো বটেই দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন ছুটে আসত কবির নৈকট্য লাভের আশায়। আলী আকবর খানের বোন আসমাতুন্নেসার বিয়ে হয়েছিল খাঁ বাড়ির পাশেই। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় আসমাতুন্নেসা তার ভাইয়ের বাড়িতে তেমন সমাদর পেতেন না। আসমাতুন্নেসা স্বামী মুনশি আবদুল খালেক ও একটি মেয়ে রেখেই মৃত্যুবরণ করেন। আর সেই মেয়েটিই কবি নজরুলের প্রথম প্রেম নার্গিস। তার সঙ্গে কবির আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছিল কবির বাঁশি বাজানো নিয়ে। এক রাতে কবি খাঁ বাড়ির দিঘির ঘাটে বসে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, সেই বাঁশির সুরে মুগ্ধ হন নার্গিস। খাঁ বাড়ির মুরব্বিরা নার্গিসের বর হিসেবে নজরুলকে পছন্দ করতেন না। নজরুলকে তারা বাউণ্ডুলে হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু গ্র্যাজুয়েট আলী আকবরের জন্য প্রতিবাদ করতেন না। এক পর্যায়ে খোদ নজরুলই বিয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একদিন নার্গিস নজরুলের কাছে এসে বললেন,‘গত রাতে আপনি বাঁশি বাজিয়েছিলেন? আমি শুনেছি।’ এভাবেই প্রেমের সূত্রপাত। আলী আকবর খান নজরুল-নার্গিসের বিয়ের আয়োজন করলেন জাঁকজমকের সঙ্গে। তার অতি আগ্রহ ও নার্গিসের কিছু আচরণ নজরুলকে এই বিয়ের প্রতি বিতৃষ্ণা করে তোলে। সম্পর্কের অবনতি হয় যখন কাবিননামায় আলী আকবর একটি শর্ত রাখতে চাইলেন — ‘বিয়ের পরে নজরুল নার্গিসকে অন্য কোথাও নিয়ে যাবেন না, দৌলতপুরেই তার সঙ্গে বাস করবে।’ এ অপমানজনক শর্ত মেনে না নিয়ে কবি বিয়ের মজলিশ থেকে উঠে গিয়েছিলেন। তার মানে, নার্গিস বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের ‘আকদ’ বা বিয়ে একেবারেই হয়নি।

১৩২৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ আষাঢ় বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এরপর শুরু হয় নাটকীয়তা। আলী আকবর তার গ্রাম্য ভগিনীকে বিখ্যাত কবি নজরুলের জন্য গড়তে নেমে পড়লেন। অশিক্ষিত নার্গিসকে খুব কম সময়ে শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব ছিল না। কিন্তু তিনি শরত্চন্দ্র ও অন্যান্য সাহিত্যিকের উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলো থেকে নার্গিসকে জ্ঞান দিতে থাকলেন। নার্গিস কবির প্রথম স্ত্রী নন, তিনি নজরুলের বাগদত্তা। প্রমীলাই কাজী নজরুলের প্রথম ও একমাত্র স্ত্রী।

১৩২৮ বঙ্গাব্দের ৩ আষাঢ় নার্গিস-নজরুলের আকদ হওয়ার কথা ছিল। কাজী নজরুল ৩ আষাঢ় রাতে দৌলতপুর ছেড়ে ৪ আষাঢ় সকালে কুমিল্লায় এসে পৌঁছান। নার্গিস পরবর্তীতে তাদের ভুলগুলো বুঝতে পেরে প্রায় ১৫ বছর পর নজরুলকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির উত্তরে নজরুল একটি চিঠি ও গান পাঠিয়েছিলেন, যাতে চিঠির উত্তরটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছিল। নজরুল বিয়েতে তার পক্ষের অতিথি হিসেবে বিরজাসুন্দরী দেবী ও তার পরিবারকে মনোনীত করেন। বিয়ের আগের দিন সবাই দৌলতপুরে এসে উপস্থিত হন। কলকাতায় নজরুলের বন্ধুদের এমন সময় দাওয়াত দেওয়া হয় যেন কেউ আসতে না পারে। কবির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু কমরেড মোজাফফর আহমেদ নিমন্ত্রণপত্র পান বিয়ের পরে। যতদূর জানা যায়, ৩ আষাঢ় আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাবিনের শর্ত উল্লেখ করার সময়ই ঝামেলা বাধে। আকদ হয়ে যাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অন্যান্য কাজে যখন সবাই ব্যস্ত তখন নজরুল অন্তর্দ্বন্দ্বে বিক্ষুব্ধ। তিনি ছুটে যান বিরজাসুন্দরী দেবীর কাছে। তাকে বলেন, ‘মা, আমি এখনই চলে যাচ্ছি। ’ বিরজাসুন্দরী দেবী বুঝতে পারেন এ অবস্থায় নজরুলকে ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি তার ছেলে বীরেন্দ্রকুমারকে নজরুলের সঙ্গে দিয়ে দেন। সেই রাতে দৌলতপুর থেকে কর্দমাক্ত রাস্তা পায়ে হেঁটে নজরুল ও বীরেন্দ্রকুমার কুমিল্লা পৌঁছান।

পরিশ্রম ও মানসিক চাপে নজরুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। নজরুলের জীবনে নার্গিস অধ্যায় সেখানেই শেষ হয়। শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে সংগীতচর্চা এবং একটা সুসম্পর্ক ছিল কবির। সেই সূত্রে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের ইন্দ্রকুমার সেনের বাড়িতে ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করেন কবি। সেখানেই ইন্দ্রকুমারের ভাইয়ের মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলা দেবীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যা পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।

হাবিলদার নজরুল

শাহের মসজিদে খাদেমগিরিতে কবির সুবিধা হচ্ছিল না দেখে তিনি মিলিটারিতে যোগ দেন। ওই ইউনিটের নাম ছিল ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক করপোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। স্কুলের পড়াশোনার সুযোগ না হলেও জ্ঞান আহরণের অদম্য ইচ্ছা ছিল তার। তাই কাজের ফাঁকে খোঁজাখুঁজি করে সেখানে একজন জ্ঞানী পাঞ্জাবি মৌলভী সাহেবের সন্ধান পান। তার কাছ থেকে দেওয়ান-ই-হাফিজ ও ফারসি ভাষার আরও নানা মূল্যবান কাব্যগন্থের সংস্পর্শে আসেন। বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষা লাভ করার বিরল সৌভাগ্য তিনি অর্জন করেন। এভাবেই তিনি পৃথিবীর অন্যতম প্রথম সারির মহৎ সাহিত্যের সংস্পর্শে আসেন। এ ছাড়া সহ- সৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সংগীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন, আর গদ্য-পদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সঙ্গে। করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে— বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প : হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। সেনানিবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি চলে করাচি সেনানিবাসেই। সৈনিক থাকা অবস্থায় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।

ছোট্টমণিদের জন্য নজরুল ইসলামের একটি ছড়া

uH6c

বিদ্রোহী নজরুলের মৌলবাদ বিরোধিতা

6d্আহসানুল কবির:অনগ্রসর সমাজে অগ্রসরমান চিন্তার বিকাশ প্রক্রিয়ায় নানা রকমের বাধা বিঘ্ন আসে। এ বিঘ্ন অবস্থার কারণ এবং সূত্র অবশ্য সমাজগত। আর এ সমাজ সৃষ্ট নয়, নির্মিত। নির্মিত সমাজের নির্মিততে মানুষের শিক্ষা এবং উদারনীতি কাজ না করলে সেই সমাজগর্ভে স্বাধীন চিন্তা ও রাষ্ট্রচিন্তার বীজ উপ্ত হয়ে উঠে না। তবে এই না ওঠা অবস্থা কিন্তু ধর্মীয় কুসংস্কার আচ্ছন্ন সমাজের একটি আলাদা রূপ। এই রূপ ভারতীয় হিন্দু-মুসলিম সমাজের ওপর একটি প্রভাব রেখেই চলেছে। অথচ এদেশে ইংরেজদের শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে এর উচ্ছেদ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। না হওয়ার কারণ অবশ্য গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং নগর জীবনে মধ্যবিত্তের বিকাশ। এই মধ্যবিত্তের সুবিধাবাদী চেতনার সঙ্গে ধর্মীয় রাজনীতির সূত্রপাত ঘটেছে নগরে। এ শ্রেণীই ধর্মীয় কুসংস্কারের সঙ্গে রাজনীতিযুক্ত বিশ্বাসকে যুগ থেকে যুগে বহন করেই চলেছে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ ধর্মীয় বিশ্বাসে অশিক্ষাজনিত কুসংস্কার থাকলেও তা রাজনীতিমুক্ত ছিল। তাই নজরুল এ সময় অর্থাৎ বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে যখন কলকাতায় চলে আসেন তখন তার চিন্তা-চেতনায় হিন্দু-মুসলিমের দ্বন্দ্ব ছিল না- ছিল স্বাধীনতার সঙ্গে পরাধীনতার এবং গ্রাম-শহরের বৈষ্যম্যের দ্বন্দ্ব। ‘অন্নের উৎপাদন হয় পল্লীতে আর অর্থের সংগ্রহ চলে নগরে।’ (মেট্রোপলিটন মন ও মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ : বিনয় ঘোষ)। নগর বলতে তখন কলকাতাকেই বোঝানো হতো। তাই নগরের আকর্ষণ ধরে নজরুলের কলকাতা আগমন। ‘নজরুল ইসলাম কলকাতায় এসে প্রথমে রামকান্ত ঘোষ স্ট্রিটে শ্রী শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের বোর্ড হাউসে এসে উঠেছিল।… বাগবাজারের রামকান্ত বোস স্ট্রিট হয়ে এলেও কাজী নজরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে এসে আস্তানা গেড়ে বসল।’ (কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা : মুজাফফর আহমদ)। নজরুলের কলকাতা আগমনের খবরে কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে এক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। এ উৎসাহ-উদ্দীপনার কারণটি পরে দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি দেশপ্রেমের (স্বাধীনতার) অপরটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারা (অসাম্প্রদায়িক)। এ দু’টি ধারায় নজরুল ক্রমেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেন। প্রথম ধারাটির ক্রমবিকাশ ধরেই নজরুল স্বাধীনতার বাস্তবায়নে যেমন সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জোগান তেমনি দ্বিতীয় ধারাটির ক্রমবিকাশে তিনি হয়ে ওঠেন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানবতাবাদী ও মানুষের কবি।

‘গাহি সাম্যের গান

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ অভেদ ধর্মজাতি

সব দেশে সব কালে ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।’

(মানুষ : কাজী নজরুল ইসলাম)।

মানবতাবাদী কবি হয়ে উঠার অভিজ্ঞতা কবি কলকাতাতে এসে লাভ করেন। এখানে এসেই তিনি উপলব্ধি করেন যে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মৌলবাদী ধারা দু’টি সম্প্রদায়ের মানুষকে বিভক্ত করে রেখেছে। তার চেতনায় ছিল; ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। এ সত্য ধরে নজরুল সামাজিকভাবে না হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য হিন্দু-মুসলমানের বিভেদ ভুলতে ডাক দেন। তার এ ডাকে সাড়া দেয় সমসাময়িক কালের প্রগতিশীল লেখকরা। দুই ধর্মের মানুষের মধ্যেই প্রগতিশীল ধারা বিদ্যমান ছিল (যা এখনকার বাংলাদেশেও রয়েছে)। নজরুল একাই একশ হয়ে সমাজে মোল্লা পুরুতদের পথের কাঁটা হয়ে উঠেন। কারণ তার লেখার মধ্যে ছিল সমসাময়িকতা বিশেষত : সমস্যা। এ সমস্যা এবং বৈষম্য ধরে নজরুল হয়ে উঠেন আদর্শবাদী লেখক। ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি তাই যাহা আসে কই মুখে।’ (আমার কৈফিয়ৎ : কাজী নজরুল ইসলাম)। নজরুলের জনপ্রিয়তা এসব কারণে অর্থাৎ সমসাময়িকতার জন্যই বেড়ে উঠতে থাকে। নজরুলের জনপ্রিয়তা যত বাড়তে থাকে মৌলবাদের সংকটও তত তীব্র হতে থাকে। তাই নজরুল এবং প্রগতিশীল লেখকদের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের আক্রমণ, ‘হিন্দু সমাজের বাহবার লোভেই কাজী নজরুল ইসলাম, কাজী আবদুল ওদুদ, জসীমউদ্দীন, বন্দে আলী মিয়া, হুমায়ুন কবীর প্রমুখ সাহিত্যিকরা বিশেষ নীতিতে সাহিত্যচর্চা করে থাকেন। (দৈনিক তকবীরে উল্লিখিত সূত্র, নেপাল মজুমদার : যুক্তবঙ্গে মাতৃভাষা ও সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে মুসলমান বুদ্ধিজীবী সমাজ)। মৌলবাদীদের মূল আক্রমণ ছিল নজরুলের ওপর। সেই আক্রমণের নানা উক্তি এবং প্রমাণ লেখকদের লেখা থেকে পাওয়া যায়। ‘মৌ-লোভী যত মৌলবী আর মোল্লারা’ দেব-দেবী নাম মুখে আনার অপরাধে পাজিটার জাত মারবার ফতোয়া দিয়েছিলেন, বলেছিলেন কাফের কাজী।’ (কাজী নজরুল : পবিত্র মুখোপাধ্যায়)। নজরুল প্রথম প্রথম এসব মৌলবাদীদের সরাসরি বিরোধিতা করেননি। এক্ষেত্রে তার আর্থিক অসচ্ছলতা এবং কলকাতাকে বুঝে না উঠার বিষয় দু’টি মুখ্য ছিল। এরপর একটু সময় করে নিয়ে আস্তে আস্তে তিনি দেশপ্রেমের ধারাটিকে আত্মস্থ করে ফেলেন। এ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তার লেখনী হয়ে উঠে হিন্দু-মুসলিম মিলনের সেতুবন্ধ। ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কাণ্ডারি! বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার…’। (কাণ্ডারি হুঁশিয়ার : নজরুল)।

এ পর্যায়ে নজরুল সহজে উপলব্ধি করেন যে, ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের বড় অন্তরায় হিন্দু-মুসলমানের মৌলবাদিতা। তাই তার বিদ্রোহ সমাজ, রাষ্ট্র এবং ধর্ম এই ত্রি-ধারায় বিস্তার লাভ করে। সমাজের শ্রেণী বৈষম্য, রাষ্ট্রের পরাধীনতা এবং ধর্মের মৌলবাদিতা তার লেখার মূল উপজীব্য হয়ে উঠে। ব্যক্তি জীবন এবং পারিবারিক জীবনের অভাব থেকেই তিনি দেশের কথা বেশি করে ভাববার সুযোগ পান কলকাতার জীবনে এসে। তাই এখানে এসেই তিনি হয়ে উঠেন প্রকৃত বিদ্রোহী। তার বিদ্রোহের মূল শক্তি হচ্ছে স্বদেশপ্রেম এবং হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যচিন্তা। আর এই ঐক্যের দ্বারা নির্মিত ভারতই হবে সব ধর্মের সব মানুষের আবাসভূমি (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যাকে হিন্দুস্থান নয়, নতুন নাম, শান্তিভূমি বলে আখ্যায়িত করতে চেয়েছেন)। তাই এক পর্যায়ে নজরুল কংগ্রেস এবং গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সমর্থন করেন। তবে কংগ্রেসের রাজনীতিতে একটি শ্রেণীর গন্ধ পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকেই সমর্থন করেন। ‘শ্রী নিবারণচন্দ্র ঘটক ওই স্কুলে নজরুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়িও ছিল শিয়ারশোলেই। তিনি সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের পশ্চিমবঙ্গীয় দলের অর্থাৎ যুগান্তর দলের সহিত সংযুক্ত ছিলেন। পল্টন হতে ফেরার পরে নজরুল নিজেই আমার কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, সে শ্রী ঘটকের দ্বারা তার মতবাদের দিকে আকর্ষিত হয়েছিল।’ (কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা : মজাফফর আহমদ)। প্রকৃত অর্থে নজরুল এসব আদর্শেও বেশি দিন বিশ্বাসী ছিলেন না। তার অস্থির চিত্তের ভেতর মানবতাবাদের মুক্তির সুতীক্ষ্ণ অনুভূতি বেশি সবল হয়ে ওঠে বলে তিনি পরাধীন ভারতের মুক্তির কথাই বড় করে ভেবেছেন। তার এ ভাবনার শক্তি বৃদ্ধিতে ওইসব আদর্শ সহায়ক হয়েছিল। যার ফলে তার সাহস, সময়োচিত কথা এবং বিদ্রোহ মানুষের মনকে স্পর্শ করেছিল। এভাবে দেখতে দেখতে মানুষের কাছে নজরুল হয়ে উঠেন এক অদম্য শক্তি। এ শক্তির প্রতি দুর্বলতাবশত : গোঁড়ামুসলিম সমাজ যারা চিন্তা-চেতনায় হিন্দুবিদ্বেষী তারা নজরুলকে নানা প্রলোভনের মধ্যে শুধু মুসলমান কবি বানাবার চেষ্টাও করেছিলেন। তথাপি নজরুল প্রতিভার গতিশীল ধারা তার সৃষ্ট পথ থেকে একচুলও বিচ্যুত হয়নি। এছাড়াও কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ লেখক-সাহিত্যিক নজরুলকে নানাভাবে আক্রমণ এবং সমালোচনা করে। নজরুল তাদের জবাব দিতে বলে উঠেন-“‘বর্তমানের কবি আমি ভাই ভবিষ্যতের নই নবী/কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুজে তাই সই সবি’। (আমার কৈফিয়ত : নজরুল)।

নবী হবার কামনা তার ছিল না। তিনি মানুষ। মানুষের জীবনের একটি অর্থও আছে। সেই অর্থ খুঁজবার তাগিদ তিনি উপলব্ধি করেছেন বর্তমানের প্রেক্ষাপটে মানুষের সমস্যার ভেতর। এই সমস্যা দূর করার জন্য আর নবীর দরকার নেই- দরকার মানুষের। নবীদের প্রতি শুধুই ঐতিহ্যগত বিশ্বাস তার নেই- তার বিশ্বাস আদর্শে। তাই খলিফা উমরের সেবা এবং সাম্যবাদী আদর্শকে ধরে তিনি স্বার্থপর মৌলবাদীদের সমালোচনা করেছেন।

হায়রে দুনিয়া দেখি মৌলানা মৌলবীতে একাকার

আমি একা হেথা কাফেররে দাদা আমি এক গুনাগার।

(হুল ও ফুল : নজরুল)।

ভেদ বিভেদের কথা বলে যারা তারা শয়তানী চেলা

আর বেশি দিন নাই, শেষ হয়ে এসেছে তাদের খেলা।

(নজরুল)।

ভ্রান্তি আর স্বার্থ নিয়ে যারা সমাজ জীবনে ধর্ম প্রচারে নেমেছে তাদের ভেতর মনুষ্যত্ববোধের অভাব থেকেই যায়। প্রকৃতপক্ষে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বলার যে কারণ তা হচ্ছে মানুষের বিবেক এবং কল্যাণবোধ। এ দুটি জিনিসের কারণেই মানুষ, উঠে আসে সব ধর্মের ঊর্ধ্বে। বিবেক দ্বারা চালিত মানুষই ধার্মিক মানুষ। ধর্মের মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ হওয়া। তাই মানুষ যখন উপলব্ধি করেছে যে, সে মানুষ, তখন থেকেই ধর্মের সার্থকতা স্বীকার্য। এ মানুষের জয়গানের মধ্যে নতুন নবীর আবির্ভাব রহিত হয়ে গেছে অর্থাৎ হজরত মুহাম্মদই (সা.) শেষ নবী। এ কারণে নজরুল তার মানুষ কবিতায় সাম্যের গান গেয়ে বলেছেন-“‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান।’ তথাপি মানুষের এই স্বাভাবিক স্বীকৃতিকে খাটো করে যারা ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে প্রথাসর্বস্ব করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চারণ করেছেন;

আশিটা বছর কেটে গেল আমি ডাকিনি তোমায় কভু

আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করেনি প্রভু!

তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী

মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী!

(মানুষ : নজরুল)।

এ কবিতাটির ভেতরেই নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা এবং মৌলবাদ বিরোধিতা সমানভাবে কাজ করেছে। এছাড়া কবিতাটিতে নজরুলের দুঃসাহসী উচ্চারণও রয়েছে।

পুঁজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল! মূর্খরা সব শোনো

মানুষ এনেছে গ্রন্থ; গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।

মৌলবাদের মূল বিশ্বাসের ওপর নজরুলের এ আঘাতটি ছিল বেশ তীব্র। তবে তখনকার সময়ে ধর্মীয় কুসংস্কার আর ধর্মীয় ব্যবসার সঙ্গে ধর্মীয় রাজনীতির সংযোগ গড়ে না ওঠার প্রেক্ষিতে নজরুলের ফাঁসির দাবি উঠতে পারেনি। অথচ ভাবতে অবাক লাগে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে এসেও ব্লাসফ্লেমি আইনের দাবি উঠেছে। বিদ্রোহী কবি নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি স্বাধীন বাংলার সবুজ মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন। তবে নজরুল এ ঘুমের প্রত্যাশী ছিলেন না তার প্রত্যাশা ছিল শান্তির।

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না

অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রনিবে না

বিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত।

(বিদ্রোহী : নজরুল)।

এ শান্ত হওয়া নিশ্চয়তা বিধানের যে প্রত্যয় তা-ই কবিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই প্রত্যয়দীপ্ত মানুষের অন্তরে যখন প্রতিবাদ ওঠে তখনই নজরুল যেন প্রাণ পায় যুগের কাছে, মানুষের কাছে।

এ মানুষ কেবলই পুরুষ নয়, নারীও। ধর্মীয় সমাজে গোঁড়া ধার্মিকরা নারীদের স্বাধীনতার ওপর নানা ফতোয়া জারি করে তাদের দাসী-বান্দির মর্যাদা দিয়েই আত্মসুখ অনুভব করেছে। তাই হিন্দু নারীদের শরৎচন্দ্র সাহিত্যে যে কারণে স্থান করে দিয়েছেন ঠিক একই কারণে নজরুল বাঙালি নারীদের প্রতি দরদি হয়ে ওঠেন।

আঁধার হেরেমে বন্দিনী হলো সহসা আলোর মেয়ে

সেইদিন হতে ইসলাম গেল গ্লানির কালিতে ছেয়ে।

(নারী : নজরুল)।

মূলত সমাজের ভেতরকার অবস্থা দ্রুত সামলে নেয়ার জন্যই নজরুল নারীদের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে পুরুষের অর্ধেক শক্তি হিসেবে তাদের গণ্য করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মৌলবাদ সৃষ্ট ধর্মীয় বেষ্টনী ভেঙে নারীদের বিদ্রোহ ঘোষণার উৎসাহ দিয়েছেন।

হাতে রুলি পায়ে মল

মাথায় ঘোমটা ছিঁড়ে ফেল নারী ভেঙ্গে ফেল ও শিকল।

(নারী : নজরুল)।

এসব বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে নজরুলের উদার ও প্রগতিশীল মানসিকতার বড় পরিচয় পাওয়া যায়। এ উদার ও মানবতাবাদী কবির কাছ থেকে আমরা সমাজ জীবনে জাগরণের আভাস পেয়েছিলাম যার ভেতর রেনেসাঁর সম্ভাবনা ছিল। এ জাগরণবাদী কবির লেখায় নানাভাবে মৌলবাদবিরোধী চেতনার যে প্রকাশ ঘটেছে তার দু’একটি উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে।

খোদার সৃষ্ট মানুষেরে ভালোবাসিতে পারে না যারা

জানি না কেমনে জনগণ নেতা হতে চায় হায় তারা।

(মোহররম : নজরুল)।

ভোগের নওয়াব আমীর ইহারা ত্যাগের আমীর কই?

(নজরুল)।

যারা ভুলে গিয়ে তব উদারতা

সার করিয়াছি ধর্মান্ধতা।

(নজরুল)।

‘সেই রুদ্র আসিতেছেন যিনি ধর্ম মাতালদের আড্ডা ঐ মন্দির মসজিদ গির্জা ভাঙ্গিয়া সকল মানুষকে এক আকাশের গম্বুজ তলে লইয়া আসিবেন। জানি স্রষ্টার আপনি মোড়ল প্রাইভেট সেক্রেটারি হ্যাট খুলিয়া টুপি তুলিয়া টিকি নাচাইয়া আমায় তাড়না করিবে; তবু ইহাদের পতন হইবে। ইহারা ধর্ম মাতাল। ইহারা সত্যের আলো পান করে নাই, শাস্ত্রের এলকোহল পান করিয়াছে।’ (মন্দির ও মসজিদ : নজরুল)।

এভাবেই নজরুল বুকে সাহস নিয়ে লেখার মাধ্যমে মৌলবাদবিরোধী চেতনায় প্রচারণা চালিয়ে গেছেন যুগের কাছে, মানুষের কাছে। ‘গোঁড়ামি ধর্ম নয়’ কবিতায় নজরুল মৌলবাদীদের বিষাক্ত সাপ বলে এদের মেরে শেষ করার সাহসী উচ্চারণ করেছেন। এই সাহসই পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধুকে দুর্বল করার জন্য পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তার বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের লেলিয়ে দেয়। মৌলবাদীরা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইলেও ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা রাজনৈতিকভাবে পরাজিতই হয়েছে। তাই নজরুলের সমসাময়িক কালে যেমন মৌলবাদ নজরুলকে ছাপিয়ে উঠতে পারেনি তেমনি বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায়ও মৌলবাদীরা পরাস্ত হয়েছে। বাঙালির এই দুই সাহসী বিদ্রোহী পুরুষের মৌলবাদবিরোধী চেতনার দ্বারাই আজ গড়ে উঠুক মানুষের সত্তার শক্তি।

কবিতাঃ শিক্ষকের মর্যাদা

status of a teacher