আর্কাইভ

Archive for the ‘আন্তর্জাতিক’ Category

উদার গণতন্ত্র ও মৌলবাদী ধর্মতন্ত্রের মহামিলন

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

শহিদুল ইসলাম : বাংলাদেশে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িকতার যে প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, তা বর্তমান সরকারের অনেক ভালো ভালো কাজের দাবিকে যেন ব্যঙ্গ করছে। জিয়া, এরশাদ ও খালেদার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সবাই আশায় বুক বেঁধেছিল এই ভেবে যে, এবারে সাম্প্রদায়িকতার রাহুর গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়া গেল। কিন্তু মানুষের সে আশা যেন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গত কয়েক মাসে এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলা চলছে তা নতুন করে দেশবাসীকে পাকিস্তানি নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান সরকার জিয়া, এরশাদ ও খালেদার সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানি ভাবাদর্শকে পরাস্ত করতে পারেনি। বরং আজকের পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, তাদের সেই রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সেসব আক্রমণে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমান সরকারের ওপর তাদের আস্থা স্থাপন করেছিলেন। সেই আস্থার ফলে তারা তাদের চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি আগলে নিজের দেশেই পড়ে ছিলেন। অনেকেই আজ তাদের জান-মাল-সম্মান বাঁচানোর জন্য দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এভাবে চললে বাংলাদেশের অবস্থা পাকিস্তানের মতো হবে। মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর মানুষ এখানে থাকতে পারবে না।

দুই. ইতিহাসে প্রমাণ আছে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা না করলে কোনো আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে না। সে রাষ্ট্রে মানবিক গুণাবলির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়। জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সভ্যতার সূচনালগ্নে একবার ও চৌদ্দশ খ্রিস্টাব্দের ইতালির রেনেসাঁর পর দ্বিতীয়বার জ্ঞানবিজ্ঞান-দর্শন চর্চার জোয়ার এসেছিল। দেখা যায় প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সূচনায় ধর্মীয় কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না। কারণ গ্রিকদের কোনো ধর্মগ্রন্থ ছিল না। সেটাই ছিল প্রথম যুগের গ্রিকদের স্বাধীনতার প্রধান শর্ত। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ বিউরি বলছেন,‘হোমারের কবিতা ছিল ইহজাগতিক, ধর্মীয় নয় এবং ধর্মগ্রন্থের তুলনায় সেগুলো নীতিহীনতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত। হোমারের কর্তৃত্ব ছিল অপরিসীম কিন্তু তা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের কর্তৃত্বের মতো বাধ্যতামূলক ছিল না। তাই বাইবেলের সমালোচনার মতো হোমারের সমালোচনা কখনো বাধার সম্মুখীন হয়নি।’ বিউরি আরো বলছেন,‘স্বাধীনতার আর একটি অভিব্যক্তি ও শর্ত হলো যাজকতন্ত্রের অনুপস্থিতি। সেদিন পুরোহিত শ্রেণি কখনো-ই এতটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। তাই তারা নিজেদের স্বার্থে সমাজের ওপর নির্যাতন চালাতে পারেনি কিংবা ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে উচ্চারিত কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দিতে পারেনি।’ তখন পুরোহিত শ্রেণি রাষ্ট্রের কর্মচারী। রাষ্ট্রের অধীন।

অবিকল একই ঘটনা ঘটে রেনেসাঁর পর। ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ও শিল্প-বিপ্লবের পর ইউরোপে প্রবল প্রতাপশালী পুরোহিত শ্রেণির শক্তি ধ্বংস করা হয় এবং ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয়। খ্রিস্টধর্ম টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার ফলে এটা সম্ভব হয়। তবে আদি সেই গ্রিক সমাজ মাত্র তিনশ বছর টিকেছিল। খ্রিস্টধর্ম উত্থানের পর পশ্চিমে দীর্ঘ এক হাজার বছরের অন্ধকার যুগের সৃষ্টি হয়। এদিকে উনিশ শতকে রেনেসাঁর জয় নিশ্চিত হয়। ধর্ম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ইউরোপ জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মাঝে ইসলামের আবির্ভাবের পর ৯ম থেকে ১১ শতকে ইসলামি বিশ্বে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় জোয়ার আসে। সে জোয়ারও তিনশ বছরেই শুকিয়ে যায়।

একটা বিষয় লক্ষণীয় তাহলো ইসলামি বিশ্বে যারা জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা কেউই সূক্ষ্ম বিচারে মুসলমান ছিলেন না। ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদের ওপর আক্রমণ তাই প্রমাণ করে। তারা সবাই ছিলেন যুক্তিবাদী যা ইসলামে কেবল নয় সব ধর্মে নিষিদ্ধ। আবার আধুনিক সভ্যতায় জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার সময়কালও দুই/তিনশ বছরের বেশি নয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পশ্চিমে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে পশ্চিমে মৌলিক কাজের পরিমাপ সাংঘাতিকভাবে কমে গেছে। কারণ আবার পশ্চিমে বিশেষ করে আমেরিকায় ধর্মীয় ভাবাদর্শের নতুন করে উত্থানের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকার সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর ট্রাম্পের ঘোষণায় সেটাই প্রমাণ করে। তিনি পুরোহিতদের দাবি পূরণে বিবাহ-বহির্ভূত যৌন সংসর্গ, সমলিঙ্গ-বিবাহ ও গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ দিতে যাচ্ছেন। সবার ধারণা আমেরিকান সাম্রাজ্যের দিন শেষ হতে চলেছে।

রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে বেগম রোকেয়াও ভেবেছিলেন। ১৩১১ সালে ‘নবনূর’ পত্রিকায় ‘আমাদের অবনতি’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন,‘যেখানে ধর্মের বন্ধন অতিশয় দৃঢ়, সেখানে নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক। যেখানে ধর্মবন্ধন শিথিল, সেখানে রমণী প্রায় পুরুষের ন্যায় উন্নত অবস্থায় আছেন।’ এটা কেবল নারীর ক্ষেত্রে সত্য নয়। জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা ও সৃজনশীল সাহিত্য রচনার জন্যও সত্য। নোবেল বিজয়ী একমাত্র মুসলিম বিজ্ঞানী প্রফেসর সালাম বলেছেন,‘ইসলামি বিশ্বে জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার ধারা সবচেয়ে দুর্বল।’ চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ মুসলিম পণ্ডিত ইবনে খলদুন। তারপর ইসলামি বিশ্বে আর কোনো মনীষীর জন্ম হলো না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পদের কোনো অভাব নেই। তারা বিশ্বের উচ্চতম ভবন নির্মাণ করে গর্ব প্রকাশ করেন। আলোয় ঝলমল শহর তৈরি করে বিদেশিদের বেড়ানোর সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বিশ্বমানের একটা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করেননি। মোগল বাদশারা ‘তাজমহল’ তৈরি করেছেন, কিন্তু একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি। যুক্তিবাদ ও জ্ঞানবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে মুসলমান হুজুরদের সে মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই প্রফেসর সালামকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দিয়েছে আর মিসরের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক নাগিম মাহফুজকে মুসলমান বলে স্বীকারই করে না; বরং ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ গড়ে ইসলামের আদিযুগে ফিরে যেতে চাইছে মুসলমানরা।

তিন. বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিকের ঘামঝরা শ্রমে উৎপাদিত সম্পদে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছি। কিন্তু সে অর্জনে আমাদের মতো শহুরে অলস বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদদের অবদান কতটুকু? তাদের শ্রমের ওপরই আমরা জীবনযাপন করছি। অন্যের শ্রমের ফসল আত্মসাৎ করে আমরা বিশ্বের কাছে বাহবা কুড়াচ্ছি। এই আত্মসাতেরই আর এক নাম ‘গণতন্ত্র’। আরো সূক্ষ্মভাবে বললে বলতে হয় ‘উদার গণতন্ত্র’। ‘ইসলামের’ নামে হুজুররা যে রাজনীতি করছে, আমরা ‘উদার গণতন্ত্রের’ নামে সেই একই রাজনীতি করছি। এখানেই ‘গণতন্ত্র’ ও ‘ধর্মতন্ত্র’ এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। তাদের মিলনই বাংলাদেশে আবার পাকিস্তানি কায়দায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে। তাদের উপাসনালয় ভাঙা হচ্ছে, দেব-দেবীর মূর্তি ভাঙা হচ্ছে। হুজুরদের দাবি মেনে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। হুজুরদের নির্দেশে শিশুদের পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে। এতে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা লাখ লাখ মূর্তি ভাঙলেও হবে না। তাই আজ প্রশ্ন উঠেছে, আমরা পাকিস্তান ভাঙলাম কেন? আমরা কি কেবল পাঞ্জাবি ধনীর জায়গায় বাঙালি ধনী তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আজ একজন হিন্দুকে তার বাড়ির মহিলাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, তাহলে দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম কেন? পাকিস্তানি হামলাকারীর বদলে বাঙালি হামলাকারীর অভয়ারণ্য তৈরির জন্য? কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন? চার লাখ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন?

চার. অষ্টাদশ শতাব্দীর ‘উদার গণতন্ত্র’ তার যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছে গেছে। এই গণতন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদ মাত্র আটজন মানুষ দখল করে নিয়েছে। তাই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির অধ্যাপক জন রালস্টোন সাওল একখানা বই লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘ভলতেয়ার্স বাস্টার্ডস’-ভলতেয়ারের জারজ সন্তান হলো আজকের গণতন্ত্র। ভলতেয়ারের সময় এই গণতন্ত্রের প্রভূত মূল্য ছিল। কিন্তু সম্পদের ওপর মানুষের অধিকার স্থাপনের আইন আজ সে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। আজ সারা বিশ্বে ‘উদার গণতন্ত্র’ ও মৌলবাদী ‘ধর্মতন্ত্রের’ মহামিলন ঘটে গেছে। তাই পৃথিবী আজ ক্রমান্বয়ে মানুষের বাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। যে দেশ ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে সরিয়ে তাকে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্থানে স্থাপন করতে পারবে, আগামী বিশ্বের পরিচালকের আসনে তারাই বসবে। ‘উদার গণতন্ত্র’ পৃথিবীতে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মানুষের বিলাসী জীবনের ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রয়োজন মেটাচ্ছে। মানুষ প্রকৃতিকে দখল করেছে। প্রতিটি দেশের সংখ্যাগুরু স¤প্রদায়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দখল করেছে। জলবায়ু বিষাক্ত করে তুলেছে। মনে হয় বর্তমান সভ্যতা তার যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধীরে অথচ স্থির পায়ে এগিয়ে চলেছে।

শহিদুল ইসলাম : সাবেক অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রসঙ্গঃ কর্পোরেট কালচার

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

জহিরুল মোঃ ইমরুল কায়েস : বেসরকারী কোম্পানী পরিবেশে ‘কর্পোরেট কালচার’ একটি জনপ্রিয় টার্ম। কোন বেসরকারী কোম্পানীতে কর্পোরেট কালচার আছে কী – নেই তার সুস্পষ্ট মানদন্ডের বিধান না থাকলেও শুধু ইশারা আঙ্গিকে এক চাকুরীজীবী আরেক চাকুরীজীবীকে বুঝাতে চান তাঁদের নিজ নিজ কোম্পানীর কর্পোরেট কালচারের বর্তমান অবস্থা বা তার আনুসঙ্গিক বাতাবরণের নমুনা। যে কোন কোম্পানীর কর্পোরেট কালচার ইতিবাচক হলে সে কোম্পানীর ব্যবসায়িক সুনাম দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর তরতর করে কোম্পানীর ডালাপালাও মেলে। কোম্পানীর পুঁজি ও পরিশোধিত মূলধন যত জাঁকালো হোক না কোন সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর কাজের যথাযথ পরিবেশ না থাকলে সে কোম্পানী বেশী দূর এগোতে পারে না। কালের পরিক্রমায় সে কোম্পানী হোঁচট খাবেই খাবে। আর, একটি ছোট বা মাঝারী মাপের কোম্পানীতে কাজের পর্যাপ্ত পরিবেশ থাকলে কোম্পানীর কর্মচারীরাই অনুবন্ধী কোম্পানীর দ্রুত উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিবে। আর সে ছোট কোম্পানীগুলো বড় মাপের হতে চাইলে বাধারও সম্মুখীন হয় না। অর্থাৎ একটি কোম্পানীর উন্নতি অবনতি হওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বা আধুনিক পরিভাষায় ‘কর্পোরেট কালচার’ বিরাট ভূমিকা পালন করে। আসুন, একটু জেনে নেওয়া যাক কর্পোরেট কালচার আসলে কী এবং কেন?

১৯৬০ এর দশকে প্রাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অনুসন্ধান মূলক কাজে সহায়তার জন্য নানাবিধ সংস্থার জন্ম হয়। ব্যবসার মধ্যে পেশাদারিত্বমূলক সাংস্কৃতিক সচেতনতা বাড়ানোই ছিল মূলত এ সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য। কালক্রমে ১৯৮০ দশকের শুরুতে ‘কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি আত্মপ্রকাশ করে। আর ৯০ এ দশকে এসে কর্পোরেট কালচারটি পশ্চিমা বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীর কর্মপরিবেশে পরিচিতি লাভ করে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি আমাদের দেশেও ’কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে কর্পোরেট সেক্টরে স্থান করে নেয়। কোম্পানীর প্রকৃত চরিত্র বুঝানোর জন্য এবং তা সবার নিকট বোধগম্য করার জন্য কোম্পানীর পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সমাজতত্ত্ববিদ ও শিক্ষাবিদ দ্বারা এই ’কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহৃত ও প্রচারিত হয়।

প্রথম থেকেই ’কর্পোরেট কালচার’ শুধুমাত্র সচরাচর সাধারণ বিশ্বাস বা আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কোম্পানীর ভিত্তি, পণ্যের মানদন্ডের পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা কৌশল, কর্মচারীদের যোগাযোগের ক্ষেত্র বা পরিবেশ, মালিক-কর্মচারী সম্পর্ক, কাজের পরিবেশ, কোম্পানীর মনোভাব,কোম্পানীর দৃষ্টিলব্ধ লোগো বা চিহ্ন, কোম্পানীর ট্রেডমার্ক, মিশন স্টেটম্যান, কোম্পানীর নীতিমালা, কর্মীদের জন্য প্রণোদনা ও পুরস্কার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, কর্মচারীদের টিমবিল্ডিং গঠনে সহায়তা প্রদান, এমনকি কোম্পানীর সিইও’র সামগ্রিক আচরণ বিধিও কর্পোরেট কালচারের অর্ন্তভূক্ত হয়। আর,২০১৭ সালে এসে কর্পোরেট কালচার শুধূমাত্র কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পর্ষদ বা কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকেনি। মূলত এখন কর্পোরেট কালচার বলতে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব, আর্ন্তজাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য, কোম্পানীর আকার বা পণ্যের গতি-প্রকৃতিসহ ইত্যাদিকে বুঝায়।

কর্পোরেট কালচার হলো,কোম্পানীর কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এমন নৈতিক আচরণ ও বিশ্বাসকে বোঝায় যে আচরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর ব্যবসায়িক লেনদেন ও যোগাযোগ পরিচালিত হয়। কর্পোরেট কালচার আসলে পুরোপুরি সজ্ঞায়িত কোন বিষয় নয়, সে হিসেবে এটি এমনই হতে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কর্পোরেট কালচার বলতে এমন এক সংস্কৃতিকে বুঝায় যে পরিবেশের মাধ্যমে কোম্পানী এমন লোকদেরকে নিয়োগ দেয় যাঁদের সংমিশ্রীয় বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের সাথে সাথে সাংগঠনিকভাবে কোম্পানীর কল্যাণার্থে বিকশিত হয়।

মূলতঃ কর্পোরেট কালচার হল “একটি কোম্পানীর ব্যাপক মূল্যবোধ,বিশ্বাস ও মনোভাবের প্রতিফলন। যে অনুচিন্তার মাধ্যমে কোম্পানীর বৈশিষ্ট্যকে চরিত্রাঙ্কণ করে আর সেভাবে চর্চার নির্দেশনা দেয়।” এ সংমিশ্রীয় এবং সমন্বিত বৈশিষ্ট্যগুলিই একটি ফার্ম বা কোম্পানীর কর্পোরেট কালচারে পরিণত হয়। অনেক কোম্পানীতে কর্পোরেট কালচার বলতে ড্রেস কোড, দৈনন্দিন কর্মঘন্টা, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি, বার্ষিক টার্নওভার, অফিস সেটআপ, মক্কেলগণের সন্তুষ্টি, অপারেশনসহ নানান দিক বিবেচিত হয়।

কর্পোরেট কালচারের জন্য গুগল বেশ সুপরিচিত। গুগল কর্মচারীদের জন্য টেলিকমিউটিং (বাসা বা যেকোন জায়গা থেকে কাজ করার সুবিধা),ফ্লেক্স টাইম (নিজের মতো করে কর্মঘন্টা ঠিক করে কাজ করা), পরিবারের সদস্যদের টিউশন ফি পরিশোধ, কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে লাঞ্চ, অন সাইট ডাক্তারের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের জন্য মটর ওয়েল ও গাড়ীর ফিটনেস সুবিধা প্রদান, ম্যাসাজ ও হেয়ার স্টাইল সুবিধাসহ ন্যূনতম ১০০টি সেবা প্রদান করে। কর্পোরেট কালচারের জন্য টুইটার, এডেলম্যান, ফেসবুক, সাউথ্ওয়েষ্ট এয়ারলাইন্স, সেভরণ, এ্যাপেল কিংবা নাইকির মতো বড় বড় কোম্পানীগুলোর নাম একদম প্রথম দিকে। ফোর্বসের অনুসন্ধানকারীরা উপরোক্ত কোম্পানীগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনা সাপেক্ষে কর্পোরেট কালচারের এ তালিকা বিন্যস্ত করেছেন। কর্পোরেট কালচারের জন্য উপরোক্ত নামগুলি যেমনি বিখ্যাত তেমনিভাবে খারাপ দাপ্তরিক পরিবেশের জন্য ওয়াশিংটনের সিয়াটলে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের খ্যাতিও বিশ্বব্যাপী।

আমাজনের নিজস্ব কাজের পরিবেশ খুব অগোছালো। যেমন তারা ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের (৩৮ ডিগ্রী সে.) মধ্যে কর্মচারীদের কাজ করান, মালামার চুরি হওয়ার ভয়ে ওয়্যারহাউজের দরজা গুলো বন্ধ করে রাখেন। আলো বাতাসহীন এ অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে আমাজনের কর্মচারীরা প্রায় সময়ই পানিশূন্যতা ও অবসন্নতা রোগে ভোগেন। কিছু কিছু ওয়ার্কারদেরকে তারা ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ডেলিভারী পণ্যের ট্রলি সমেত ক্লায়েন্টদের নিকট পাঠান,সময়মত পণ্য ডেলিভারী করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তারা লাঞ্ছিত ও ভর্ৎসনা করতে পিছপা হন না। এছাড়া সহযোগিদের মধ্যে অকল্যাণকর কাজের প্রতিযোগিতা সৃষ্টিকরণ, ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিকতা, অবসর সময় কিংবা মধ্যরাত্রেও কর্মবন্টন, উদ্দীপনামূলক কর্ম পরিকল্পনার পরিবর্তে সমালোচনা মূখর কর্পোরেট কালচার এ কোম্পানীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আরো অনেক অনেক বদ কালচার আছে বিশ্বখ্যাত এ জায়ান্ট ই-কমার্স কোম্পানীটির। সেজন্য উক্ত কোম্পানীতে যারা অতীতে কাজ করেছিলেন এবং বর্তমানেও যারা কাজ করেন প্রায় কর্মচারীই আমাজনকে তাঁদের নিজের কোম্পানী বলে মনে করেন না। প্রভুত্ববাদী আচরণের জন্য আমাজনের খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। কর্মচারীদের প্রতি এহেন আচরণ আমাজনকে সাফল্য বা ব্যর্থতার কোন পথে নিয়ে যায় তা সময়েই বলে দিবে। এজন্য কর্মচারীরা সুযোগ পেলেই এ কোম্পানী ত্যাগ করেন।

সুতরাং আপনি যদি আপনার কর্মীদের অনুপ্রাণিত ও সেবা প্রদান করতে চান তাহলে আপনার কর্মক্ষেত্রের কর্পোরেট কালচার সমৃদ্ধি করুন। কর্পোরেট কালচারের সমৃদ্ধি ঘটলে কর্মচারীদের মনে অধিকার জন্মায়। যে অধিকারের বলে কোম্পানীর প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং কোম্পানী পরিবর্তনের মানসিকতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যৌনদাসীদের প্রথম ভিডিও প্রকাশ

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

chinese comfort women for japaneseদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য বাধ্যতামুলকভাবে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল অসংখ্য নারীকে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মাঝ থেকে সেনারা শয্যাসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতো এদের কাউকে। এদেরকে বলা হতো ‘কমফোর্ট ওমেন’ বা স্বস্তি দেয়া নারী।

এমনই কিছু যৌনদাসীর প্রথম ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ওই ভিডিওটি ১৮ সেকেন্ডের। ফুটেজটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে কিছু গবেষক পেয়েছেন সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ইউএস আর্কাইভে। এটি চীনে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এতে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো বেশ কিছু নারীর সঙ্গে কথা বলছে এক চীনা সেনা সদস্য। তার উদ্দেশ্য কি তা বোঝা যায় নি। তবে ১৯৪৪ সালে মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল কোরিয়ার সাত জন নারীকে। তাদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তা কথা বলছেন তাকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর একজন চীনা ক্যাপ্টেন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মীদের দাবি, জাপানের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোরঞ্জন করতে দুই লাখ নারীকে জোর করে ঠেলে দেয়া হয়েছিল পতিতালয়ে। আর এতে যারা থাকতেন তাদেরকে বলা হতো কমফোর্ট ওমেন। এসব নারীর বেশির ভাগকে নেয়া হতো কোরিয়া থেকে। এছাড়াও ছিলেন চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের নারী, যুবতীরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সেনাবাহিনীর জন্য নারীদের জোরপূর্বক যৌনদাসী বানানো হয়েছিল এর স্বপক্ষে ফটোগ্রাফ রয়েছে। আছে জীবিতদের সাক্ষ্য। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে তার গবেষকরা বলেছেন, এই ফুটেজটি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সেনারা। ইউনান প্রদেশটি তখন ছিল জাপানের অধীনে।

নারীদের এভাবে জোর করে যৌনদাসী বানানোর বিষয়ে জাপানের ক্ষমা না চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে টান পড়েছে। ২০১৫ সালে দেশ দুটি একটি ঐকমত্যে আসে। তার অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষা চায় টোকিও। একই সঙ্গে নির্যাতিতদের ১০০ কোটি ইয়েন দিতে রাজি হয়। তারপরও এর উত্তাপ রয়েছে।

সম্প্রতি বুশানে জাপানের কনসুলেটের সামনে একটি ‘কমফোর্ট ওমেন’-এর মূতি বসায় জাপান। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়োজিত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

থাইল্যান্ডের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল রামবুটান

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

rambutan fruit 2

কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে লাল। দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মতো। খোসা ছাড়ালে ভেতরের অংশটা লিচুর মতো। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। থাইল্যান্ডের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এ ফলের নাম রামবুটান।

বিদেশি এ ফল চাষে সফলতা পেয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের কৃষক জামাল উদ্দিন। তাঁর এ সফলতা আশা জাগিয়েছে এলাকার অন্য কৃষকদের মনে। অধিক লাভজনক আর নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর দৃষ্টিনন্দন এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয় কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পেলে আগামী দিনে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুনত্ব যোগ করতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় এ ফল রামবুটান।

কৃষি বিভাগ বলছে, নরসিংদীর উঁচু বা টিলা এলাকার মাটি রামবুটান চাষের জন্য উপযোগী। এখানে রামবুটান চাষে নতুন দুয়ার খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কামারটেক বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে কৃষক জামাল উদ্দিনের বাড়ি অষ্টাআনী গ্রামের দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। জামাল উদ্দিন একজন আদর্শ কৃষক। তিনি লটকন, মাল্টা, কলম্বো লেবু, থাইল্যান্ডের পেয়ারা, কাঁঠাল, আমসহ বিভিন্ন প্রকারের ফলের পাশাপাশি সবজি, মাছ ও ধান চাষ করেন। এর সঙ্গে যোগ করেছেন রামবুটান। তাঁর আধা পাকা বাড়ির সামনে বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান। তিনি শোনান বিদেশি ফল রামবুটান চাষের গল্প।

কাজের সন্ধানে প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে ব্রুনাই যান জামাল উদ্দিন। ২০০৬ সালে দেশে ফেরার সময় অন্য জিনিসের সঙ্গে এক কেজি রামবুটান ফল নিয়ে আসেন। সে ফলের বীজগুলো তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে রোপণ করেন। পরে এ থেকে চারাও জন্মায়। প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তাঁর লটকন বাগানের ভেতরেই ১৭টি রামবুটানের চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে ১০টি চারা মারা যায়। বাকি সাতটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে।

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো এর মধ্য থেকে একটি গাছে ফুল আসে। আনন্দে মন ভরে যায় তাঁর। সেই গাছে অল্প পরিমাণে ফল ধরে। কিন্তু পরের বছরই ওই গাছটি থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকার রামবুটান বিক্রি করেন। তৃতীয় বছর ফলন ধরে তিনটি গাছে। আর এ থেকে তিনি বিক্রি করেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল। পরের বছর বিক্রি হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকার রামবুটান। আর চলতি বছর পাঁচটি গাছ থেকে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

জামাল উদ্দিন বলেন, প্রথম প্রথম স্থানীয় বাজারে এ অপরিচিত ফলের কদর ছিল না। ধীরে ধীরে এর পরিচিতি বাড়ায় ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে ফলটির। ঢাকা থেকে পাইকাররাও রামবুটান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিদেশি ফলটি স্থানীয় বাজারে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি এবং প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নরসিংদীর শিবপুর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম আরিফুল হক জানান, রামবুটান ফলটি লিচু পরিবারের। আদি নিবাস মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ফলটির ওপরে হালকা চুলের মতো রয়েছে। যা দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মতো। মালয় ভাষায় ‘রামবুট’ শব্দের অর্থ চুল। তাই অনেকে একে হেয়ারি লিচু, কেউ কেউ ফলের রানিও বলেন। ফলটির ভেতরে লিচুর মতো শাঁস থাকে। খেতে সুস্বাদু ও মুখরোচক। রয়েছে ওষধি গুণ।

রামবুটান ফলের শত্রু বাদুড়, ইঁদুর ও পাখি। এ জন্য গাছে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হয়। আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। গাছভেদে ৫০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়।

জামাল উদ্দিনের এ অভিনব প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে উৎসাহ। অনেকে এ ফলের গাছ দেখতে জামালের বাড়িতে আসে। এলাকার অনেক চাষি এ ফল চাষে আগ্রহী। স্থানীয় নার্সারিগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে রামবুটানের চারা।

জামাল উদ্দিনের প্রতিবেশী মজনু মিয়া বলেন, ‘রামবুটান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জামাল উদ্দিন। তাঁর সফলতা দেখে আমারও রামবুটানের বাগান করার ইচ্ছা জেগেছে। এরই মধ্যে বেশকিছু সংখ্যক চারা লাগিয়েছি। এ বছর একটি গাছে ফল এসেছে। সেই গাছ থেকে ১০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। ’

আরেক কৃষক আবু সিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘খরচের তুলনায় রামবুটান চাষ লাভজনক হবে বলে আশা করছি। ’

শিবপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তেজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ‘জামাল উদ্দিনের সফলতা দেখে এলাকার কৃষকরা রামবুটান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাচ্ছি এটা যাতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং সবাই যেন জামাল উদ্দিনের মতো সফলতা অর্জন করতে পারে। ’

নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লতাফত হোসেন বলেন, ‘এখানকার উঁচু বা টিলা জমিতে রামবুটান চাষ বেশ সম্ভাবনাময়। এখানে রামবুটান চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। আশা করি, শিগগিরই লটকনের পর নরসিংদীর রামবুটান রাঙাবে দেশবাসীকে। ’

ইয়েমেনে সব পথ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে সৌদি

অগাষ্ট 20, 2017 মন্তব্য দিন

yemen attackমাথার ওপর পড়ছে বোমা। দুর্ভিক্ষে মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে কলেরা। এভাবেই ত্রিমুখী ট্র্যাজেডি মরণছোবল হেনেছে ইয়েমেনে। এই মহামারীর জন্য দায়ী একমাত্র সৌদি নেতৃত্বাধীন নয় দেশীয় জোটের সামরিক আগ্রাসন। তারা দেশটির জলস্থলআকাশপথ রুদ্ধ করে মারছে ইয়েমেনবাসীকে। গত দুই বছরে সৌদি জোটের হামলা এবং অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় মারা গেছে ১৪ হাজার মানুষ। যার বেশিরভাগই শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনিদের ওপর সৌদি বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব জনমতের কাছে তুলে ধরতে বাধ্য হলো জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের এক খসড়া প্রতিবেদনে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পেঁৗছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সৌদির প্রতি। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। খবর আলজাজিরা ও দি ইনডিপেন্ডে।

ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বু মানসুর হাদির পক্ষ নিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাত করতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি জোট। একই সঙ্গে রাজধানী সানার এয়ারপোর্টসহ ইয়েমেনের জল, স্থল ও আকাশপথ সব অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। জোটের বিমান হামলায় গত দুই বছরে মারা গেছেন ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ হাজার। অন্যদিকে, অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে দেশটিতে খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। সঙ্গে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা। এতে গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষ কলেরায় প্রাণ হারিয়েছেন। মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ বাসিন্দা।

জাতিসংঘের মতে, দেশটির আড়াই কোটি বাসিন্দার সবাই দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় প্রাণ হারাতে বসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ইয়েমেনে সংঘাতরত সব পক্ষকে দেশটির স্থলপথ, আকাশপথ ও বন্দর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল স্টেফেন ওব্রায়েন শুক্রবার বলেন, ইয়েমেনের বাসিন্দাদের বাঁচাতে হলে সব অঞ্চলে নিঃশর্তভাবে মানবিক ত্রাণ পেঁৗছানোর সুযোগ দিতে হবে। সানার বিমানবন্দর দ্রুত খুলে দিতে হবে। বাণিজ্যিক ও বেসামরিক যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে দেশটির শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে নিহত শিশুদের ৫১ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছে সৌদি জোটের আগ্রাসনে। রিপোর্টে বলা হয়, গত দুই বছরে ইয়েমেনে সাড়ে ৬ শতাধিক শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩৫০ শিশু মারা গেছে সৌদির বিমান হামলায়। তাই সৌদিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ও শিশুঘাতক সরকারগুলোর কালো তালিকায় স্থান দিতে হবে বলে বিশ্বজনমত জাতিসংঘের কাছে প্রত্যাশা করছে।

ইসলামের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক কী?

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

wahhabistsইব্রাহীম মল্লিক সুজন  : মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নগরী। এই দুটি শহরই সৌদি আরবে অবস্থিত। ইসলামের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যর নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বে অদ্বিতীয়। আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সৌদি রাজবংশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অনেকেরই জানার আগ্রহ: ইসলামের সঙ্গে এই রাজবংশের সম্পর্ক কী? বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের ইতিহাস হচ্ছে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।ইসলামের সঙ্গে সৌদি রাজবংশেরও সম্পর্ক রয়েছে। তবে,সৌদি রাজবংশের উপর ইসলামের যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল তা পালন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এই অর্থে যে তারা শুধু ওহাবিজমকেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।

‘ওহাবিজমের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের আরও যে মতধারা রয়েছে সেগুলোর সমন্বয় করে যদি এরকম হতো যে, বিশ্বের বিশিষ্ট ওলামায় ক্বেরাম যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে এগুলো গবেষণা করে তারা যদি আমাদের সত্যিকারের ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তাহলে তাদের প্রতি আমাদের যে অভিযোগগুলো আছে, তা থেকে তারা মুক্তি পেতেন।’

ড. আবদুল বাছির  বলেন: তারা (সৌদি রাজবংশ) শুধু চেয়েছেন তাদের একদেশ ভিত্তিক আদর্শকে (ওহাবিজম) সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে। সার্বিক অর্থে তাদের এই আদর্শ অনেকটা খণ্ডিত। তারা শুধু ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছে। তাদের রাষ্ট্রের যে নামকরণ তারা করেছে ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’ তা ইসলামের কোন নিয়ম বা বিধান মেনে করা হয়নি।এটি ইসলাম অনুসারে ঠিকও নয়। তারা যে সেখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, এটিও ইসলামের কোন বিধানের মধ্যে পড়ে না।’

সৌদি রাজবংশ ঐতিহাসিকভাবেই অমুসলিমদেরকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন: শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা অমুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছে। সৌদি আরবের বর্তমান যে পতাকা রয়েছে তাতে আড়াআড়িভাবে দুটি তলোয়ার রয়েছে, যার একটি হচ্ছে সৌদ পরিবারের অন্যটি হচ্ছে ওহাবি পরিবারের। এই দুটোর সিম্বল হচ্ছে সেটি। তার মানে বোঝা যায় ধর্মকে ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করেছে।

আবদুল বাছির  বলেন: রিয়াদের কাছে অবস্থিত দিরিয়া নামের একটি কৃষি বসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের (যিনি ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বেশি পরিচিত)সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে ‘দিরিয়া আমিরাত’ গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগ এনে এই দুইজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।

‘ওই দিরিয়া আমিরাতই বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদের মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।’

তিনি বলেন: হঠাৎ করে মোহাম্মদ বিন সৌদ এবং মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের কাছে মনে হল, বর্তমানে (তখন) যে ইসলাম চলছে তা সঠিক ইসলাম নয়। সেখানকার শেখের সাথে তাদের কথা হল। তারা এ বিষয়ে একমত হলেন যে বিষয়টির রাজনৈতিক দিক একজন এবং ধর্মীয় দিক অন্যজন দেখবেন। ফলে দু’জনের একজন ধর্মীয় এবং আরেকজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুক্ত হলেন। তাদের মতাদর্শ তারা মক্কা-মদিনায় সারা পৃথিবী থেকে যাওয়া মুসলিমদের মধ্যে যদি ছড়িয়ে দিতে কাজ করতে থাকলেন। এই দুইজনের বোঝাপড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে হয়েছিল।

‘একসময়ে তারা মক্কা-মদিনা আক্রমণ করে বসলেন। এরপর তারা রিয়াদ নামের স্থানটিকে তাদের রাজধানী করলেন। তুর্কিরা এতে ক্ষিপ্ত হল। তারা মিশরের মোহাম্মদ আলী পাশাকে বললেন যে তারা যে কাজগুলো করছে তা প্রতিহত করা দরকার।’

মোহাম্মদ আলী পাশা তার ছেলে ইসমাইলকে পাঠালেন উদীয়মান মতাদর্শকে বিতাড়িত করার জন্য। ইসমাইল এসে সেখান থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করলেন। নতুন মতাদর্শের (ওহাবিজম) ধারক ও বাহকরা যে জায়গা দখল করেছিলেন তা ছেড়ে তারা কুয়েতে পালিয়ে গেলেন।

১৯০১ সালে কুয়েত থেকে সৌদ পরিবারের সন্তান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ খুব সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় ১০০ জন যোদ্ধাসহ রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করে পুনরায় রিয়াদ দখল করে নিলেন। তার এই রিয়াদ দখল করার পেছনে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের ধর্মীয় যে মতাদর্শ ছিল সেটি যারা অনুসরণ করতেন, তাদেরকে বলা হতো মুসলিম ব্রাদারহুড। এরা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহায়তা করেছিলেন। দুই গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে সৌদের শক্তি বেশ বেড়ে যায়।

‘১৯১৬ সালে ব্রিটিশ সরকার দেখল, এটি তো একটি উদীয়মান শক্তি এবং এটি যেহেতু তুরস্কের বিরুদ্ধে আর ব্রিটিশদের শত্রু ছিল তুরস্ক সুতরাং এই শক্তিকে যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যায়, তাহলে ওরাই তুর্কিদের ধ্বংস করবে। তাহলে ব্রিটিশদেরকে নতুন করে কোন শক্তি প্রয়োগ করতে হবে না। বরং তাদের লাভই হবে। সেজন্য তারা রিয়াদ দখল করা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে মেনে নিয়ে সমর্থন দেয়।’

ওই বছরই তাদের গ্রহণ করা অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয় ব্রিটিশরা। নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে তুরস্কের আধিপত্য খর্ব হয়। কিন্তু হিজাজে (মক্কা-মদিনা) তখন তুরস্কের শাসক ছিলেন শহীদ ইবনে হোসেন ইবনে আলী ইতিহাসে তিনি শরীফ হোসেন নামে বেশি পরিচিত। তুর্কির সুলতান আবদুল হামিদ তাকে হেজাজের শাসক করেছিলেন এই কারণে যে মহানবী (স.)র পরিবারের সাথে তার যোগসূত্র ছিল এবং তাকে যদি হেজাজের গভর্নর করা হয় তাহলে পশ্চিম বিশ্ব ও সৌদি আরবের মানুষরা মহানবীর পরিবারের বলে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে । কিন্তু শরীফ হোসনের মনে মনে একটা উদ্দেশ্য ছিল যে তিনি তুরস্কের অধীনে এখানকার প্রশাসক না হয়ে তিনি বংশীয় যে প্রাধান্য সেটি অর্জন করবেন এবং এখানকার স্বাধীন শাসক হবেন।

ফলে তিনিও দেখলেন, এই মুহূর্তে স্বাধীন শাসক হওয়ার জন্য ব্রিটেনের সহযোগিতা বেশি দরকার।আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ এবং শরিফ হাসানের সঙ্গে ব্রিটিশদের যোগাযোগ হল। শরিফ হাসানের সঙ্গে হল প্রকাশ্যে দিনের বেলায়। আর আবদুল আজিজের সঙ্গে হল রাতের বেলায়।

ওহাবিজমের সমর্থনকারীরা কখনো চাইতো না কোন বিদেশি শক্তির সাথে আবদুল ইবনে আজিজের সঙ্গে কোন যোগাযোগ থাকুক। কারণ এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে মেনে নেয়া কষ্টকর ছিল। এজন্য সৌদ যোগাযোগ করতেন রাতে এবং শরিফ হোসেন যোগযোগ করতেন দিনের বেলায়।

শরিফ হোসেনের সাথে ব্রিটিশদের ১২টি পত্র বিনিময় হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার মাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তখন ওহাবিজমে বিশ্বাসীরা একটি সুযোগ পেয়ে যায় যে শরিফ হোসেন মুসলমানদের শাসক হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের সাথে যোগাযোগ করছে, সুতরাং তিনি সমগ্র মুসলানের শত্রু। তাকে প্রতিহত করতে হবে। তাকে যদি প্রতিহত করা যায় তাহলে মক্কা এবং মদিনায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে। যে ওহাবিজমকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্য তাদের ছিল, সেটি সফল হবে।

১৯২৪ সালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফ হোসেনকে আক্রমণ করে। তখন তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। কারণ ব্রিটেন তাকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেনি। ব্রিটিশরা তখন উদীয়মান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহযোগিতা করাই তাদের কাছে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেছিল। কারণ ইতোমধ্যে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান– এই রাষ্ট্রগুলো যে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বাধা ছিল আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ।

সুতরাং, তাদের কাছে মনে হল: সৌদকে যদি সহযোগিতা করা যায় তাহলে এই রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা তারা দিতে পারে। এজন্য তারা সৌদের পক্ষে চলে গেল এবং শরিফ হোসেনকে বলা হলো, ঠিক আছে আমরা যদি পরে কোন রাষ্ট্র তৈরি করতে পারি তাহলে আমরা সেখানে তোমাকে বা তোমার ছেলেদেরকে কর্তৃত্ব দিয়ে দেবো। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে তারা ইরাক দখল করে সেখানে শরিফ হোসেনের ছেলে হোসেনকে শাসক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। শরিফ হোসেনের পতন হল। তার পতনের মধ্য দিয়ে মক্কা মদিনায় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

মুহাম্মদ বিন সৌদের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক। অন্যদিকে আবদুল ওহাব ইবনে নজদীর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয়। এই ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্বার্থ এক হয় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৩২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ সৌদি আরব থেকে নিজের নামে শাসন পরিচালনা করতে থাকেন। এরপর ১৯৩৪ সালে রাষ্ট্রটির নাম দেয়া হয় ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’।

‘সিরিয়ায় কয়েক দশক থাকার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা’

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

american bases in syriaসিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতনের পর মার্কিন সেনাদেরকে সেখানে কয়েক দশক মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ার একটি গেরিলা গোষ্ঠী এ তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, সিরিয়াকে মুক্ত করার জন্য মার্কিন সেনারা দামেস্ক-বিরোধী যোদ্ধাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে না; তাদের ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স বা এসডিএফ’র মুখপাত্র তালাল সিলো গতকাল (বৃহস্পতিবার) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা মনে করি দায়েশের পতনের পর এখানে মার্কিন সেনাদের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।” সিলো বলেন, “সিরিয়ায় ঢোকার বিষয়ে আমেরিকার কয়েক দশক ধরে কৌশল ছিল। এখন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চুক্তি হবে।”

সিরিয়া ও তুরস্ক সীমান্তের ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় কুর্দি প্রভাবিত এসডিএফ’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ বিস্তীর্ণ সীমান্তের কয়েক জায়গায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি’র প্রধান জানিয়েছিলেন,  সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন সেনারা আটটি ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে।

US soldiers in Syria