আর্কাইভ

Archive for the ‘আন্তর্জাতিক’ Category

দিনে ৮ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন ট্রাম্প!

trump-watching-tvমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিন চার থেকে আট ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন। মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে টেলিভিশন দেখা শুরু করেন ট্রাম্প। আর এটা শুরু হয় সিএনএন অনুষ্ঠান দেখার মধ্য দিয়ে। অথচ বিভিন্ন সময় ট্রাম্প সিএনএনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এরপরই প্রেসিডেন্ট ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ দেখেন। ফক্স টেলিভিশনের সিন হ্যানিটি. লরা ইনগ্রাহাম ও জেনিন পিরোর উপস্থাপনার অনুষ্ঠানগুলোও রয়েছে প্রেসিডেন্টের পছন্দের তালিকায়।

গত মাসে এশিয়া সফরকালে ট্রাম্প তার টেলিভিশন দেখা নিয়ে সাক্ষাৎকারে যে কথা বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদটি অবশ্য তার বিপরীত তথ্যই জানাচ্ছে। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন,‘বিশ্বাস করুন আর নাই করুন,আমি যখন ওয়াশিংটন অথবা নিউ ইয়র্কে থাকি আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। যারা আমাকে জানে না তারাই ভুয়া সূত্রের বরাত দিয়ে বলে আমি টেলিভিশন দেখি। বুঝতেই পারছেন ভুয়া সাংবাদিক, ভুয়া সূত্র।’

ট্রাম্প বলেছিলেন,‘তবে আমি খুব বেশি টেলিভিশন দেখি না। এর প্রাথমিক কারণ হচ্ছে নথিপত্র। আমি নথি পড়ি, প্রচুর পরিমাণে। আমি আসলে প্রচুর পড়ি।’

Advertisements

লেবানন খেলায় ধরা খেয়ে গেল সৌদি

সবার নজর জেরুজালেমের দিকে। লেবাননকে নিয়ে খেলতে গিয়ে সৌদি আরব যে বড় ধরনের ধরা খেয়েছে, তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

প্রায় এক মাস আগে সৌদি আরবে গিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। তাঁকে পদত্যাগে সৌদি আরব বাধ্য করেছিল বলে বহুল প্রচার রয়েছে।

সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে তার আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানকে দমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হয়। তবে এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে যা কিছু ঘটেছে, তা সৌদি আরবের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে।

লেবাননে ফিরে সাদ হারিরি তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। দেশের স্বার্থে লেবাননের বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে যায়। তারা সমঝোতায় আসে। সাদ হারিরিকে নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার ইতি ঘটে।

লেবাননের মন্ত্রিসভা বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, বৈরুত কোনো আঞ্চলিক দলাদলি বা দ্বন্দ্বের মধ্যে নেই।

লেবাননের জাতীয় রাজনীতির এমন নাটকীয় মোড়ে রিয়াদের দাবার চাল পুরাই মাঠে মারা গেছে।

অনেক দিন ধরেই সাদ হারিরিকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব। রিয়াদ আশায় ছিল, সাদ হারিরি সৌদি আরবের হয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবেন; ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করবেন।

রিয়াদ হোঁচট খায়। ২০১৬ সালে লেবাননে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। সাদ হারিরি হন সরকারপ্রধান। তাঁর মন্ত্রিসভায় হিজবুল্লাহকেও রাখা হয়।

সাদ হারিরিকে দিয়ে হিজবুল্লাহকে বাগে আনার যে কৌশল সৌদি আরব নিয়েছিল, তা কাজে আসেনি। বরং ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েই চলছে। এতে স্পষ্টত রুষ্ট হয় রিয়াদ। এরই মধ্যে গত মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরব যান সাদ হারিরি। সেখানে গিয়ে সবাইকে অবাক করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সাদ হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে নেমে বোকা বনে যান। রিয়াদে অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে—এমনটাই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সামনে আসে অবরোধের তালিকা। লেবাননের ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মীকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয় সৌদি আরব। লেবানন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারে আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি।

পদত্যাগের ঘোষণার পর প্রায় দুই সপ্তাহ রিয়াদে ছিলেন সাদ হারিরি। সৌদি আরবে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। তাঁকে বন্দী বা জিম্মি করে রাখা হয়েছিল বলেও কথিত আছে। তবে এ প্রসঙ্গে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, সৌদি আরবে সাদ হারিরি আক্ষরিক অর্থে বন্দী ছিলেন না। কিন্তু সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তাঁকে (সাদ হারিরি) বলেছিল,‘তুমি যদি লেবাননে যাও, আমরা তোমাকে হিজবুল্লাহর লোক বলে ধরে নেব। আর তোমার সরকারকে আমাদের শত্রু ভেবে নেব।’

লেবাননকে কাতারের মতো শায়েস্তা করার হুমকিও রিয়াদ দিয়েছিল বলে সাদ হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ পর বৈরুতে ফিরে আসেন সাদ হারিরি। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগের ঘোষণা স্থগিত করেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। ৫ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের করিম বিতার মনে করেন, ইরানকে একটা শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু রিয়াদের পরিকল্পনা বুমেরাং হয়েছে।

সৌদি আরবে থাকাকালে সাদ হারিরি সংকট নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বক্তব্য আসে। সাদ হারিরি প্রশ্নে এই দুই দেশের বক্তব্যে চাপে পড়ে সৌদি আরব। রিয়াদ ভেবেছিল,‘তার তালেই ঘড়ির কাঁটা চলবে’। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি; বরং বিপরীতই হয়েছে।

সাদ হারিরির দেশে ফেরার ব্যাপারে রিয়াদ একেবারেই নারাজ ছিল বলে একটি পশ্চিমা সূত্র জানায়। পরের ঘটনাবলি সম্পর্কে এই সূত্রের মন্তব্য, সাদ হারিরি এখন ফের লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। আর তাঁর মন্ত্রিসভায় হিজবুল্লাহ বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে।

ফ্রান্সের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বুঝতে পেরেছেন, লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি একটু বেশিই খেলে ফেলেছেন। আর সেই সুবাদে সাদ হারিরি জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন।

সাদ হারিরির ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সৌদি আরব এখনো শেষ কথা বলেনি। লেবাননের ব্যাপারে সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি অবলম্বনে সাইফুল সামিন

২০ মিলিয়ন ডলারে ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণা!

sheldon-trump-netanyahu

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা হচ্ছিলো অনেক দিন ধরেই। রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও সিআইএ। সেই সূত্রে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য।

সাবেক ইসরাইলি ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো বিলিয়নার্স শেলডন জে অ্যাডেলসন ট্রাম্পের নির্বাচনি ফান্ডে দান করেন ২০ মিলিয়ন ডলার। তিনি ট্রাম্পকে এ অর্থ প্রদান করেন মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকারের বিনিময়ে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, অ্যাডেলসন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা জানতো ট্রাম্প অবশ্যই জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অ্যাডেলসনসহ অন্যান্য ইহুদি সহযোগিতাকারীরা ট্রাম্পকে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার জন্য চাপ দিতে থাকে। তবে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতা করা পর্যন্ত ইসরাইলকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

প্রবন্ধের ভাষ্য অনুযায়ী অ্যাডেলসন প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে চাপ দিতে থাকে। এমনটি ট্রাম্পের সঙ্গে এক কূটনৈতিক ভোজসভায় অ্যাডেলসন বিষয়টির অবতারণা করেন।

সাবেক এই ইসরাইলি ব্যবসায়ী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিন ইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জাতীয় নির্বাচনে সে তার ক্যাসিনিওকে নেতানিয়াহুর পক্ষে ব্যবহার করে।

অ্যাডেলসন ট্রাম্পকে মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু জামাতা কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের পরামর্শে ট্রাম্প এতোদিন বিলম্ব করেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষায় বেলফোর ঘোষণার পর ইসরাইল আরেক রাজনৈতিক বিজয় অর্থের বিনিময়ে কিনে নিলো।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

যে কারণে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা

প্রায় ৭০ বছরের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি লঙ্ঘন করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির ঘোষণা বাতিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। অন্যদিকে প্রাচীন এই শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করার মার্কিন সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনা বেড়েই চলছে।  

ট্রাম্পের যে স্বীকৃতি দিয়েছে তার আসল কারণ বিশ্লেষন করেছেন অনেকে। তাদের মতে ট্রাম্পের আশঙ্কা, তিনি যদি এই স্বীকৃতি না দেন তাহলে মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ভোট ব্যাংক হারাবেন তিনি। ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও বলেছেন, গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়েছেন।  

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, সারা বিশ্বের নেতাদের হুশিয়ারি সত্ত্বেও বুধবার ট্রাম্প এ ব্যাপারে ঘোষণা দেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টানরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং ‘জেরুজালেম প্রেয়ার’ বলে এক প্রার্থনা কর্মসূচির ডাক দেয়।

এক পরিসংখ্যান মতে, আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর মানুষ রয়েছে। এরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে।

সাম্প্রতিক এক জরিপ মতে, ৮২ ভাগ শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান বিশ্বাস করে যে, ইসরাইলের ব্যাপারে প্রভু ইহুদিদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাত্র ৪০ ভাগ মার্কিন ইহুদি বাইবেলের এই বাণীকে বিশ্বাস করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে আরব লীগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করবে বলেও এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কায়রোতে সংস্থাটির এক জরুরি বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। অন্যদিকে জাতিসংঘও এর বিরোধিতা করছে।  

‘হিব্রুতে জেরুশা লাজিম। আরবিতে আল কুদ। ইহুদি ও ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান জেরুজালেম। দুই পৃথক জীবনযাত্রার আকড়বিন্দু এই প্রাচীন শহর। ফলে এর ‘হক’-এর দাবিদার একত্রে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি। ‘এভাবেই মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ।

জেরুজালেম ইস্যু মুসলিমদের সংহতি কতটা বাড়বে

IS retreat from iraq-syriaমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ হয়ত আরব ও মুসলিম দুনিয়াকে নতুন করে সচেতন করে তুলতে পারে যে ওই এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমেরিকার যে ধ্যানধারণা তাদের হয়ত সে ব্যাপারে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। এখন যখন তারা বুঝতে পারছে যে আমেরিকা ইসরোয়েলেরই পক্ষ নিচ্ছে, তখন তাদের মনে হতে পারে যে তাদের অনুভূতি বা আবেগের তোয়াক্কা যুক্তরাষ্ট্র করে না অথবা ওই এলাকার স্থিতিশীলতা নিয়ে আমেরিকার মাথাব্যথা নেই।

যে বিষয়টাতে মুসলিম বিশ্ব সবসময়েই অখণ্ড মনোভাব পোষণ করে এসেছে সেটা হল ফিলিস্তিনি ইস্যু। সিরিয়া নিয়ে তাদের মতভেদ থাকতে পারে, ইরাক নিয়ে তাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের বিষয় আসে এবং বিশেষ করে পবিত্র স্থান জেরুজালেম প্রসঙ্গে তারা অভিন্ন অবস্থান নেয়। সামনের দিকে তাকাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যেতে পারে, যেখানে এই ইস্যুতে অভিন্নতা প্রধান হয়ে উঠতে পারে এবং একটা প্রতীকী পর্যায়ে মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরালো করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, এবং তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে আমেরিকা দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

এটা অবশ্য নতুন কোন ইস্যু নয়। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে আরেকটা ইন্তিফাদা যে হবে এটা ভাবা অযৌক্তিক কিছু নয়। হামাস ইতিমধ্যেই অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে। মুসলিম দুনিয়ায় একটা বিশ্বাস দানা বেঁধেছিল যে একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে দিয়ে সমাধানের একটা পথ, একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ হয়ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসলো চুক্তির ২৩ বছর পর আসলে কিছুই হয়নি। পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে ৮ লক্ষ ইসরায়েলি বসতি তৈরি হয়েছে। কাজেই এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের বদলে তার যে পুরোপুরিই মৃত্যু ঘটেছে এ ব্যাপারে এখন কারো মনেই যে আর সন্দেহ নেই সেটা বলা যায়।

আমাদের এখন মধ্য প্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে থাকার কথা। এখন ট্রাম্প কীভাবে সেটা করবেন এবং একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে কীভাবে তিনি রক্ষা করবেন? এটা যে অসম্ভব এখন সে ধারণাটাই প্রকট হচ্ছে। জেরুজালেমের ভবিষ্যত রয়েছে এর মূলে। ইসরায়েলিদের কথা ভেবে যদি জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাপ করার জন্য কী বাকি থাকবে? অদূর ভবিষ্যতে এর একটা পরিণাম দেখা যাবে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে, সহিংসতার হুমকি রয়েছে, আরেকটি ইন্তিফাদা হতে যাচ্ছে।

এরপরেও কী ফল হবে তা স্পষ্ট নয়। শুধু যেটা স্পষ্ট সেটা হল মানুষ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভে সামিল হয়েছে ৫৬টি মুসলমান প্রধান দেশের ১৫০কোটি মানুষ, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বেশি। কারণ মক্কা আর মদিনার পর জেরুজালেম তাদের সবার জন্য পবিত্র একটি স্থান। এটা একটা অপমান এবং এর পেছনে কোন যুক্তি নেই।

আমেরিকা কেন তার দূতাবাস সরিয়ে নিতে চাইছে, আর সেটা এখন কেন চাইছে? আসলে একটা পরাশক্তি চাইছে ইসরায়েলের যুক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং সেই স্বীকৃতি তারা দিচ্ছে এমন একটা স্থানকে ঘিরে যেটা মুসলমানরা মনে করে পবিত্র এবং যেটা তাদের একান্ত নিজস্ব। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি অন্য মতানৈক্যকে জোড়া দেবে? ৫৬টি মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে বহু বড় ধরনের মতানৈক্য আছে। সেগুলো সূক্ষ্ম, ব্যাপক এবং জটিল। জেরুজালেম ইস্যুর থেকেও সেগুলো অনেক বড়। বেশির ভাগ মুসলমান প্রধান দেশ জেরুসালেম প্রশ্নে তাদের মতভেদ দেখাবে না কারণ ওই শহর মুসলমানদের জন্য অভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু এসব বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

অন্য যে বিষয়ে বড় ধরনের পরস্পর বিরোধিতা তৈরি হল, সেটা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। (না, এটা বিবিসি’র মিথ্যাচার; সবাই এখন জানে, ইসলামী জঙ্গীবাদ তৈরী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা-বিশ্ব ) কিন্তু ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিলেন তা হল আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং সবচেয়ে ভাল অস্ত্র। এই দলগুলো এখন ভাবতেই পারে যে “দেখ, যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা ইরাকে এবং সিরিয়ায় আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দেবার পর এখন ইসরায়েলিদের পুরস্কৃত করছে, আরবদের নয়।” এর ফলে আমাদের এলাকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তার ঢেউ ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়েও পৌঁছতে পারে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবার পরিণামে সেখানে “প্রতিশোধমূলক তৎপরতা” চালানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত জঙ্গীদের অনুকূলে কাজ করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যারা মিত্র আছে, যেমন মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমীরাত এই সিদ্ধান্ত তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তে হিতে বিপরীতই হতে পারে। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে এটা হয়ত মানুষকে মাঠের আন্দোলনে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবে। তবে একটা সংহতি গড়ে তোলার বদলে এর ফলে ওই অঞ্চল আরও অশান্ত হয়ে উঠবে। এর বিপরীতমুখী দিকটা হল:”এই পদক্ষেপ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষকে হয়ত একটা অভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে, কিন্তু একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ উগ্রবাদ এবং জঙ্গী আদর্শকে আরও উদ্বুদ্ধ করতেও সাহায্য করবে।”

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধররা…

এনামুল হক : প্রতিভাধর হওয়া আর অতি বুদ্ধিমান হওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার। অতি বুদ্ধিমান ভূরি ভূরি আছে। তাতে খুব একটা যায় আসে না। আসল বিষয় হলো সৃজনশীলতা থাকা। কল্পনাকে যে কোন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার ক্ষমতা থাকা। প্রতিভাধর ব্যক্তিদের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে। এখানেই প্রতিভাধরদের সঙ্গে অতি বুদ্ধিমানদের পার্থক্য।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের কথাই ধরা যাক। তার অত বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতা ও দার্শনিক গভীরতা ছিল না। তথাপি আমেরিকার আলোকায়নের যুগে তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারক কূটনীতিক, বিজ্ঞানী, লেখক ও ব্যবসা স্ট্র্যাটেজিস্টে পরিণত করেছিলেন। ঘুড়ি উড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, আকাশের বজ্র হলো বিদ্যুত। সেই বজ্রকে বশে আনার জন্য তিনি একটা বড় উদ্ভাবন করেছিলেন। বের করেছিলেন বিশুদ্ধ জ্বালানি স্টোভ, উপসাগরীয় স্রোতের গতিপথ, বাইফোকাল গ্লাস, মনোমুগ্ধকর বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি।

এলবার্ট আইনস্টাইনও একই পথ অনুসরণ করেছিলেন। ছোটবেলায় কথা বলা শিখতে দেরি করেছিলেন। এতই দেরি যে বাবা-মা তাকে ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। বাড়ির পরিচারিকা তাকে বলত হাবাগোবা। এক আত্মীয় বলত নির্বোধ। কর্তৃত্বের প্রতি তার এক বিদ্রোহীভাব কাজ করত যার জন্য এক স্কুলশিক্ষক তাকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃত্বের প্রতি অবজ্ঞা থেকেই তিনি প্রচলিত জ্ঞান ও ধারণা সম্পর্কে এমন সব প্রশ্ন তুলতেন যা শিক্ষাঙ্গনের অতি শিক্ষিত লোকেরাও কখনও চিন্তা করেনি। কথা বলতে শেখার কারণে ধীরগতির জন্যই প্রতিটি ঘটনাকে তিনি অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেতেন, যেগুলো অন্যরা ধ্রুব বলে মেনে নিত।

আইনস্টাইন একদা বলেছিলেন : ‘সাধারণ প্রাপ্তবয়স্করা স্থান ও কালের সমস্যা নিয়ে কখনও মাথা ঘামাত না। কিন্তু আমার বিকাশ এত ধীরে ধীরে হয়েছিল যে, আমি যখন ইতোমধ্যে বড় হয়ে উঠেছি সে সময়ই আমি স্থান ও কাল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেছিলাম।’ সে কারণেই জুরিখ পলিটেকনিকে তার ক্লাসের ৫ জন ছাত্রের মধ্যে তিনি চতুর্থ হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সুইস পেটেন্ট অফিসে একজন তৃতীয় শ্রেণীর পরীক্ষক হিসেবে খেটে মরার সময়ই আইনস্টাইন সমকালীন পদার্থ বিজ্ঞানের দুটি মৌলিক তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়ে বিশ্বজগত সম্পর্কে আমাদের ধ্যান-ধারণার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। সে দুটি হলো আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব। আর তা করতে গিয়ে তিনি ‘দি প্রিশ্মিপিয়া’ গ্রন্থে আইজ্যাক নিউটনের বর্ণিত অত্যতম মৌলিক একটি ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। আর সেটা হলো আমরা যেভাবেই দেখি না কেন সময় সেকেন্ডে সেকেন্ডে এগিয়ে চলে। আজ আইনস্টাইনের নাম তাই অসাধারণ প্রতিভার সমার্থক।

ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃজনশীল প্রতিভাধর বলা যেতে পারে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে। তার মানে অবশ্যই এই নয় যে। তিনি সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন। না, নিউটন বা আইনস্টাইনের মতো অতি মানবিক তাত্ত্বিক মেধাশক্তি তার ছিল না কিংবা তার বন্ধু লুকা প্যাসিওলির মতো গাণিতিক ক্ষমতাও তার ছিল না। কিন্তু ভিঞ্চির রোম্বিকুবোক টেহিড্রোনস এবং কয়েক ডজন আরও অন্যান্য বহুমুখী জ্যামিতিক আকারের ছবি বাস্তব রূপ লাভ করে যেগুলো ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কালক্রমে তিনি ভূগোল, এনাটমি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই কাজ করেন। তার ‘ভাইট্রুবিয়ান ‘ম্যান’ ড্রয়িংটি ছিল স্মরণীয় যার জঠরে ছিল ভ্রণ। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করে গেছেন।

বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে জন্ম হওয়ায় ভিঞ্চি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তিনি বহুলাংশেই ছিলেন স্বশিক্ষিত। আইনস্টাইনের মতো কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তার একটা সমস্যা ছিল। তিনি প্রচলিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং মধ্যযুগীয় গোঁড়ামিকে অগ্রাহ্য করতে শিখেছিলেন। তিনি মনে করতেন যে অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা যায়। সমস্যা-সমাধান বের করার এই পদ্ধতিটা কোন অংশেই কম বিপ্লবাত্মক ছিল না। এক শতাব্দী পর ফ্রান্সিস বেকন ও গ্যালিলিও গ্যালিলি এই একই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এই পদ্ধতি অনুশীলনের কারণে দ্য ভিঞ্চির স্থান সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের ওপরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মেধাবীরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছে থাকে, যে কারণে অন্য আর কেউ পৌঁছতে পারে না। প্রতিভাবানরা সেই লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে থাকে, যা অন্য আর কেউ দেখতে পারে না।

ভিঞ্চির সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক বৈশিষ্ট্য ছিল তার কৌতূহল। নিজের নোটবইতে তিনি উত্তর খুঁজে বের করতে হবে, এমনি হাজারো প্রশ্ন লিখে রেখেছিলেন। যেমন একটা বৃত্তকে কিভাবে চতুষ্কোণ দিয়ে আকৃত করা যায়। এয়োর্টিক ভাল্ব কেন বন্ধ হয়ে যায়, আলো কিভাবে চোখে প্রক্রিয়াজাত হয় এমনি অসংখ্য প্রশ্ন। তার মহৎ লক্ষ্য ছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব এবং সেখানে আমরা কিভাবে আছি সেই বিষয়সহ সবকিছুই জানার চেষ্টা করা। আকাশের রং কেন নীল এই প্রশ্ন ছোটবেলা থেকেই আমাদের জাগে। এক পর্যায়ে আমরা এ নিয়ে চিন্তা করা ছেড়ে দেই। দ্য ভিঞ্চি এ নিয়ে তার নোট বইয়ে পাতার পর পাতা লিখে গেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে পানির বাষ্পে আলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে নীল রঙের এক কুহেলী শেড তৈরি হয়। আইনস্টাইনও এই প্রশ্ন নিয়ে ধাঁধায় পড়েছিলেন। তিনি আলোর বর্ণালীর বিক্ষিপ্তরূপে ছড়িয়ে পড়ার এক গাণিতিক সূত্র দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

দ্য ভিঞ্চি কখনই পর্যবেক্ষণ থেকে ক্ষান্ত হননি। অনেক ছোটখাটো ব্যাপারও তিনি লক্ষ্য করতেন যা আমরা সাধারণ মানুষরা খেয়াল করি না। যেমন পাত্রে পানি ঢালার সময় তিনি দেখতেন কেমন করে ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়। ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানোর সময় তিনি বায়ুর ঘূর্ণি পরীক্ষা করতেন। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি তুলির টানে অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছিলেন, ব্যাপ্টিজম অব ক্রাইস্ট ছবিতে যিশুর পায়ের গোড়ালিতে জর্দান নদীর জলরাশির লহরীর স্পর্শ কিংবা ডিলিউজ বা মহাপ্লাবন হলো তার এমনি ধরনের কিছু শিল্পকর্ম। তিনিই প্রথম ব্যাখ্যা করেছিলেন কিভাবে হৃদপিন্ডের রক্তের আবর্তের কারণে এয়োর্টিক ভাল্ব বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর অঙ্কিত ‘ভাইট্রবিয়ান ম্যান’ হচ্ছে শরীরবৃত্তীয় সূক্ষ্মতার সঙ্গে বিস্ময়কর সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ। বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মধ্যে যে যোগসূত্র এটাই তার এক চমৎকার নজির।

কিছু কিছু মানুষ একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। যেমন গণিতে লিওনহার্ড ইউলার কিংবা সঙ্গীতে মোজার্ট। তবে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রতিভাধর হলেন তারাই যারা প্রকৃতি জুড়ে অনন্ত সৌন্দর্যের মধ্যে একটা ধারা বা ছন্দ দেখতে পান। দ্য ভিঞ্চির প্রতিভা নানা ক্ষেত্র জুড়ে ব্যপ্ত। তিনি বিশীর্ণ দেহগুলোর মুখমন্ডল থেকে মাংস ছড়িয়ে নিয়ে যে পেশীর সাহায্যে ঠোঁট দুটো নড়ে সেটি অঙ্কন করে তারপর বিশ্বের সবচেয়ে স্মরণীয় হাসি সৃষ্টি করেন। এটাই বিখ্যাত মোনালিসার হাসি। তিনি মানব করোটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, হাড়গোর ও দন্তবাজি স্তরে স্তরে আঁকেন এবং এভাবে সেন্ট জেরোম এই ওয়াইল্ডারনেস ছবিতে সেন্ট জেরোমের দুঃখ-বেদনা-যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলেন। তিনি অপটিক্সের গণিত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে কিভাবে আলোক রশ্মী কর্ণিয়ার গায়ে আঘাত হেনে ঐন্দ্রজালিক ইলিউশন তৈরি করে সেটা তিনি দেখিয়েছেন ‘দি লাস্ট সাপার’ চিত্রকর্মে।

প্রতিভাধর হিসেবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কার্ল বঞ্চ। জিন বিজ্ঞানী এবং জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ক্রিসপারের পথিকৃৎ জর্জ চার্চ অন্তত তাই মনে করেন। বড় বড় অনেক রসায়নবিদ যার হিসেবে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোজেন গ্যাসকে এ্যামোনিয়ায় রূপান্তরের ব্যবহারিক প্রক্রিয়া খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্ল বঞ্চ পেরেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন মানবজাতির খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতিতে বিপ্লব এনে দিয়েছে। আজ বিশ্বের ৭৫০ কোটি মানুষের মুখে পর্যাপ্ত খাদ্য যোগাতে বিপুল ফসল উৎপাদনে এ্যামোনিয়া যে কি বিশাল ভূমিকা রাখছে তা হয়ত আমরা কেউ ভেবেও দেখছি না।

আরেক অসাধারণ প্রতিভাধর মাদাম কুরি। ১৯০৩ সালে ড. কুরি ও তার স্বামী পিয়েরে এটমের অদৃশ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করেন। কুরিই প্রথম এটমের এই বৈশিষ্ট্যর নাম রাখেন রেডিওএ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয়। ১৯১১ সালে কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়ামের উপাদানাবলী আবিষ্কারের জন্য দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার জেতেন এবং পারমাণবিক রসায়নের যুগের দুয়ার খুলে দেন। তার কন্যা ইরিন জুলিও কুরিও ১৯৩৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরদের তালিকায় স্টিভ জবসকে অন্তর্ভুক্ত না করলেই নয়। এই মার্কিন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবককে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। অনেকটা আইস্টাইনের মতো তিনিও কোন সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে হিমশিম খেলে ভায়োলিন বের করে সুর বাজাতেন। জবস বিশ্বাস করতেন, সৌন্দর্যের গুরুত্ব আছে এবং শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয় সবার মধ্যে, সম্পর্কযুক্ত থাকা উচিত। জবস ভারতে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ লাভের জন্য এসেছিলেন। এর ফলে ম্যাকিনটোস থেকে শুরু করে আইফোন পর্যন্ত তার তৈরি প্রতিটি পণ্যের মধ্যে এমন সৌন্দর্য ছিল যা ছিল চরিত্রগতভাবে প্রায় আধ্যাত্মিক।

সূত্র : টাইম

চাকরির বাজারে হুমকি রোবট!

robot serving 3৩০ বছরের মধ্যে তারাই সেরা সিইও হবে : জ্যাক মা

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন : মানব শ্রম আর অফুরন্ত কাঁচামালের কল্যাণে আঠার শতকের মাঝামাঝিতে বিশ্বজুড়ে যে শিল্প বিপ্লবের সূচনা একুশ শতকে এসে তা এখন পরিপূর্ণ ডিজিটাল রূপায়ণের দিকে যাচ্ছে। আর এতে মানুষ নয়, নির্ভরতার বড় উৎস হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবট।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে রোবট। এতে কম্পানিগুলোর একদিকে যেমন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে কাজের গতিও বাড়ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে অদক্ষ চাকরি থেকে শুরু করে এমনকি জ্ঞানভিত্তিক উচ্চ দক্ষতার চাকরিও এখন রোবটের কাছে হাতছাড়া হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, স্বচালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে অনেকটাই সফল কম্পানিগুলো। অদূর ভবিষ্যতে আর ট্যাক্সি ভাড়া করতে হবে না, কিংবা বাস, ট্রাক চালাতে চালকের প্রয়োজন হবে না। রেস্টুরেন্ট-শপিং মলে মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে রোবট, চিকিৎসাক্ষেত্রে রোবটিক সার্জারির অগ্রগতি এবং ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও হার্টের পরিস্থিতি বুঝতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ পেশার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে। চলতি বছর ম্যাককিনসে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রযুক্তির যে অগ্রগতি চলছে তাতে বিশ্বের অর্ধেক কাজই এক সময় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দ্বারা সম্পাদিত হবে। তবে ম্যাককিনসের গবেষকরা এখনো মনে করেন বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ চাকরি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হবে।

পিডাব্লিউসির আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ব্রিটেনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে শেষ হয়ে যাবে। বিশেষ করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাকরি বেশি লোপ পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিশ্বের শ্রমশক্তিতে কী পরিমাণ প্রভাব ফেলবে তা এসব প্রতিবেদনে এখনো পুরোপুরি উঠে আসেনি। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং সিলিকন ভ্যালিতে কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য ভিভেক ওয়াদওয়া বলেন, ‘এসব গবেষণায় কর্মসংস্থানে প্রযুক্তির প্রভাবকে এখনো ছোট করে দেখা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’

গত বছর ওয়ার্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) এক পূর্বাভাসে বলা হয়, রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জাগরণে শ্রমবাজার থেকে অন্তত ৫১ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে। আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ১৫ দেশ থেকে এ কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনা ঘটবে।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের রাস্তায় নেমেছে চালকবিহীন ট্রাক। সিঙ্গাপুরের জুরং আইল্যান্ডে কেমিক্যাল শিল্প এলাকায় ট্রাকটি পণ্য পরিবহন শুরু করেছে। ক্যাটোয়েন নাটি নামক শিল্প কম্পানিটি জানায়, তারা ছয় মাস পরে আরো ১১টি চালকবিহীন ট্রাক কাজে লাগাবেন পণ্য পরিবহনে। ১২টি ট্রাকের মাধ্যমে বছরে ৩০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। ক্যাটোয়েন নাটির সিইও কয়েন কারডন বলেন, চালকবিহীন ট্রাক নামানোর ফলে কম্পানির খরচ যেমন কমবে তেমনি সক্ষমতাও বাড়বে।

জাপানের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক মিজুহু ফিন্যানশিয়াল গ্রুপ তাদের বৈশ্বিক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কম্পানিটি দেশ ও বৈশ্বিক কার্যক্রম থেকে এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করবে আগামী এক দশকে। আর তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জাপানের স্থানীয় দৈনিক ইয়োমিউরি পত্রিকা জানায়, বর্তমানে থাকা ৬০ হাজার কর্মী থেকে ১৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে ব্যাংকটি। এ নিয়ে কম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ক্লারিক্যাল চাকরিগুলো আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে পূরণ করব।

যন্ত্রমানব নিয়ে মানুষ যখন উদ্বেগে। সে আশঙ্কার পক্ষে আরো এক ধাপ এগিয়ে মত দিয়েছেন চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। সম্প্রতি চীনের একটি বাণিজ্যিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে জ্যাক মা বলেন, ‘৩০ বছরের মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সেরা সিইও বিবেচনায় টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের দখল নিতে যাচ্ছে কোনো রোবট।’

এ সময় যারা প্রযুক্তির আসন্ন উত্থানকালের প্রস্তুতি নিয়ে রাখেনি তাদের সামনে অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আগামী তিন দশকের মধ্যেই পৃথিবীতে আনন্দের চেয়ে নিরানন্দ অনুভূতিই বেড়ে যাবে অনেকখানি।’

জ্যাক মা বলেন, ‘মানুষের তুলনায় রোবটরা অনেক দ্রুতগতিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ। তারা কখনো প্রতিযোগীদের ওপর রেগে গিয়ে আবেগতাড়িত কোনো কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত হবে না। মানুষের অসাধ্য কাজগুলোকে সহজসাধ্য করে তুলবে যন্ত্র। এসব যন্ত্র একই সঙ্গে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রুতে রূপান্তরিত হওয়ার বদলে মানুষের সহযোগীই হয়ে উঠবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বকে বদলে দেবে, যেমনিভাবে বিশ্বে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে যুগান্তকারী ইন্টারনেট। এ মন্তব্য করেছে এনভিআইডিআইএর অংশীদার সংস্থা ইএমইএর ভিপি রিচার্ড জ্যাকসন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে আধুনিক ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে এসেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায় এখন এটিকে কাজেও লাগাচ্ছে।

জ্যাকসন বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু নিজে একটি শিল্প হবে না, বরং প্রতিটি শিল্পের আবশ্যকীয় অংশে পরিণত হবে। প্রথম অবস্থায় এটিকে গ্রহণ করা নিয়ে অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাকিয়ে আছে অন্যরা কিভাবে এটিকে কাজে লাগাচ্ছে তা দেখতে। বিষয়টি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেট যখন প্রথমে আসে তখনো অনেকেই এর ব্যবহার ঠিকভাবে করে উঠতে পারেনি। আর এখন ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবসা কল্পনা করা যায়। তেমনিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও আমাদের কাছে ক্রমান্বয়ে অপরিহার্য হয়ে উঠছে। মানুষের কাজের ধরন বদলে দেবে এটি।

এএফপি, রয়টার্স। ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

মানুষকে বেকার করে দেওয়ার অধিকার নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঃ জাপানে প্রফেসর ইউনূস

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কোনোভাবেই মানুষকে বেকার করার অধিকার দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা আয়োজিত জাপান বিজ্ঞান কংগ্রেসে মূল বক্তার ভাষণে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠান জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচিতে দিকনির্দেশনা ও অর্থায়ন করে থাকে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মিশিনারি হামাগুচি বিভিন্ন সামাজিক লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞান গবেষণাকে কিভাবে জোরদার করা যায় সে বিষয়ে সংস্থাটিকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রফেসর ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানায়।

প্রফেসর ইউনূস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার লক্ষ্য ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভেবে দেখতে বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি যদি গণহারে বেকারত্ব সৃষ্টি করে তাহলে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না এমন প্রশ্ন তোলেন। কোন কোন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হবে তা নির্ধারণের জন্যও তিনি আহ্বান জানান। এছাড়া প্রফেসর ইউনূস বিজনেস ইউনিভার্সিটি অব জাপান এবং টেলিকম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জাপানে সম্ভাব্য সামাজিক ব্যবসা জয়েন্ট ভেঞ্চার পার্টনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জাপানে গ্রামীণ আমেরিকার আদলে একটি গ্রামীণ রেপ্লিকেশন প্রগ্রাম ‘গ্রামীণ নিপ্পন’ চালুর উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সভায়ও যোগ দেন।

ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংস

ayodhya destruction rejoiceঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস আজ বুধবার। শুধু হিন্দুস্থান ভূখন্ডেরই নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর আরেকটি বেদনাবহ দিন। এই দিবসটি ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশধারী কট্টর হিন্দু মৌলবাদী ভারতের প্রকৃত চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। বিগত ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরী মসজিদের ভূমিকে দ্বিখন্ডিত করে এক ভাগ রামমন্দিরের বলে বিভক্ত রায় দিয়ে নিন্দার ঝড় তুলে। ভারতীয় আদালতের একতরফা রায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের মনে আঘাত দেয়। নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উগ্রবাদী হিন্দুদের আশকারা যেন বেড়ে যায়। নতুন করে হুংকার দেয়া হচ্ছে বাবরী মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ করার। এতে করে ক্ষোভ দানা বাঁধছে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে।

অথচ দেশটির লিবারহান কমিশন তার রিপোর্টে বলেছে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র ছিল নিখুঁত। এর জন্য তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা ও পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, আরেক বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী এবং সাবেক বিজেপি সভাপতি মুরলি মনোহর যোশীকে দায়ী করা হয়। ১৭ বছরে বিভিন্ন সরকার নানা অজুহাতে ৪৮ বার লিবারহান কমিশনের কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি করে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৯২ সালের আজকের দিনে ভারতের কংগ্রেস ক্ষমতাসীন থাকাকালে উগ্রবাদী হিন্দুরা উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে অবস্থিত ষোড়শ শতকের এই অনুপম মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনটি ধ্বংস করে। হিন্দু শাস্ত্রীয় রামের জন্মস্থান ও মন্দিরের স্থলে স¤্রাট বাবর মসজিদ নির্মাণ করেছেন মর্মে হাস্যকর অভিযোগ এনে কংগ্রেস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই নিন্দিত ধ্বংসকান্ড সংঘটিত হয়। ভারতের প্রথম মোঘল স¤্রাট বাবর ১৫২৮ সালে অযোধ্যা শহরে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু ঊনিশ শতকের গোড়া থেকেই নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা তদস্থলে রামমন্দির ছিল বলে প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে। অব্যাহত প্রচারণার বদৌলতে অবস্থা এমন হয়, ১৯৪০ সালের পর থেকে সাধারণ হিন্দুরা বাবরী মসজিদের জায়গায় আগে রামের জন্মস্থানের স্মৃতিবাহী রামমন্দির ছিল বলে মনে করতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী হিন্দুরা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে চুরমার করতে উদ্যত হলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুবাদী কংগ্রেস সরকারের মদদে উগ্র হিন্দুরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই এই অমার্জনীয় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। সেদিন মুম্বাই, আহমেদাবাদ, বেনারস এবং জয়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুই সহস্রাধিক মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। এ ঘটনায় সরকারকে বিবাদী করে মামলা পর্যন্ত হয়। ভারত সরকার মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ ও সর্বকৌশল অবলম্বন করে।

প্রত্নবিশারদরা বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির থাকার দাবিকে বরাবরই ‘মনগড়া’ ও ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে। ঐতিহাসিক সত্যকে ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী সরকার কখনোই আমলে নেয়নি। বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার দশ দিন পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ঘটনা তদন্তে লিবারহান কমিশন গঠন করলেও তাকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা অব্যাহত ছিল। লিবারহান কমিশনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার বিচারে পরিচালিত তদন্তে কার্যক্রমের রিপোর্ট ২০০৯ সালের ৩০ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে দাখিল করা হলেও সরকার তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। ঐ সময় লিবারহান কমিশনের রিপোর্টের বরাত দিয়ে ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সরকারি ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিলে সমগ্র ভারতে তুমুল হৈ চৈ পড়ে যায়। সেই লিবারহান কমিশনের রিপোর্টকে পায়ে দলে ও মুসলমানদের আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক হতবুদ্ধিকর রায় দেয়। ঐ রায়ে বাবরী মসজিদের জমি রাম জন্মভূমির দাবিদারদের দেয়া হয়েছে। উক্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানরা বাবরী মসজিদ এলাকার এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে পারে।

অযোধ্যায় যে বাবরী মসজিদ ছিল সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেন খোদ ভারতের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র। তিনি গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকায় এক নিবন্ধে স্পষ্টত বলেছেন, “১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর দিনেদুপুরে অযোধ্যা বা ফৈজাবাদে একটি মোগলাই মসজিদ শ্রীরামের নামে এক দল করসেবক ভেঙে ফেলল, ঠুঁটো জগন্নাথের মতো সরকার বসে দেখল, আদভানীর মতো জাতীয় নেতারা অকূস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকলেন, উমা ভারতীর মতো উঠতি নেতারা জিগির তুলে সরাসরি ধ্বংসে মদদ দিলেন। এই ইমারতি ধ্বংসকার্যের ছবিই তো ভারতীয় রাজনীতির একটি বহুল প্রচারিত পোস্টার। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছবিটি ফিরে ফিরে তুলে ধরা হয়। গুঁড়িয়ে দেয়া মসজিদের জায়গাটি ফাঁকা এখনও আছে, ওই রাম জন্মভূমিতে রামলালার মন্দির করতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলে দিয়েছেন যে, সামনের বছরের মধ্যেই মন্দির উঠে যাবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার হিন্দুত্বের সুপবন জোতদার, অতএব সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা মামলা মিটিয়ে ফেলে রাম মন্দির তোলাটা শুধু একটু সময়ের ওয়াস্তা। ২০১৮-র ডিসেম্বরের মধ্যেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজ রাম মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনেই উদ্যাপিত হবে, মোহন ভাগবত এ হেন আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদ ধ্বংস তো মন্দির নির্মাণের জন্যই। এক তœতœ-ইতিহাসের বস্তু সাক্ষ্যের পরিবর্তে কৌম ইতিহাসের বানিয়ে তোলা নিদর্শনকে বসানোর রাজনীতি ৬ ডিসেম্বর তারিখটিকে যেন স্মৃতির বুড়ি হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে।”

“৬ ডিসেম্বর তো রাজনৈতিক ব্যর্থতারই উদ্যাপন” শীর্ষক নিবন্ধে মি. ভদ্র আরো বলেন, “৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ আদৌ আকস্মিক নয়, প্রস্তুতি ছিল। আঠারো শতক থেকেই রামায়েতপন্থী সম্প্রদায়ের উত্থানে ফৈজাবাদকেই রাম জন্মভূমি বলে দাবি করা হয়। উনিশ শতকে হনুমানগড়ির সাধুদের সঙ্গে ফৈজাবাদের মৌলবীর সংঘর্ষ হয়, অযোধ্যার নবাব সৈন্য পাঠিয়ে হাঙ্গামা বন্ধ করেন। সতীনাথ ভাদুড়ির উপন্যাসেও রাম জন্মভূমির কথা উল্লেখিত হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতে মসজিদের মধ্যেই রামলালার বিগ্রহ হাজিরা দেন। প্রয়োজনে অল্পবিস্তর পুজোআচ্চাও চলে। আবার আদালতের নির্দেশে দরজায় তালাও পড়ে। ১৯৮০-র দশক থেকে রামজন্মভূমি আন্দোলন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ চাগিয়ে তোলে, প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আনুকূল্যে মসজিদের তালাও খোলা হয়, ওই প্রাঙ্গণেই রামপূজা চলতে থাকে। রাজনৈতিক দল হিসাবে এ বার বিজেপি আন্দোলনে নেমে পড়ে। এখন কেবল প্রাঙ্গণ নয়, মসজিদ দখল করে মন্দির তুলতে হবে। ১৯৯০-তে করসেবকদের উপর মুলায়ম সরকার গুলী চালায়। একাধিক করসেবক মারাও যায়। সমিধ সংগ্রহ তো শেষ, এ বার শুধু অরণি কাষ্ঠে অগ্নিসংযোগ অপেক্ষিত ছিল, বাবরী মসজিদ ধ্বংস তো সেই অগ্নিসংযোগ মাত্র।”

মামলার শুনানি পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে জানানো হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবেসর ঠিক আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার আবেদনকারীদের আর্জি মেনে পিছিয়ে গেল অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি। অযোধ্যার বিতর্কিত জমি কার? এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় এদিন বেলা ২টা থেকে। এই মামলায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১৩টি আবেদন খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ।

২০১০-এর ৩০ সেপ্টেম্বর রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলায় রায় দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই রায়ে আদালত বলে, অযোধ্যায় রামজন্মভূমি ও বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একরের বিতর্কিত জমি সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধিত্ব করা রামলালা এবং নির্মোহী আখড়া- এই তিন পক্ষের মধ্যে ওই জমি সমান ভাগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার নথিপত্র পেশ করার জন্য আবেদনকারীদের কাছে এটিই (৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ সুযোগ। এর পরে আর শুনানি পিছনো হবে না।

অবশ্য ওয়াকফ বোর্ড ও বাবরি অ্যাকশন কমিটির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বা সাত সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হোক। অন্যথায় এ দিনের শুনানি বয়কট করবে তারা। আর লোকসভা নির্বাচনের পর শীর্ষ আদালতে শুনানি করার আবেদন করল সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে ২০১১-র ৯ মে কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ইলাবাবাদ হাইকোর্টের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে বলে, উচ্চ আদালতের ওই রায় বিস্ময়কর, কারণ কোনও পক্ষই জমি ভাগ করে দিতে বলেনি। এর পরের ৬ বছরেও অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে মামলার শুনানি শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের মার্চে আদালতের বাইরে এই বিতর্কে নিষ্পত্তির কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু,তাতে কোনও পক্ষই রাজি হয়নি। এর পর আগস্টে শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, বিতর্কিত জায়গার থেকে দূরে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত স্থানে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হোক। তাতে আপত্তি জানায় সুন্নী বোর্ড।

গতকাল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি আব্দুল নাজিরের বিশেষ বেঞ্চে ওই মামলায় ১৩টি আবেদনের উপর শুনানি শুরু হয়। রামলালার পক্ষে কে পরাশরণ, সি এস বৈদ্যনাথন এবং সৌরভ শামশেরি, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানির সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য দিকে, অল ইন্ডিয়া সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়া-সহ অন্যদের পক্ষে থাকেন কপিল সিব্বল, অনুপ জর্জ চৌধুরি, রাজীব ধবন ও সুশীল জৈন।

‘শৌর্য দিবস’ পালনের হুংকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের : এদিকে, গুজরাটের ভোটের আগে, এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্তিকেও বড়সড় ভাবে পালন করতে চাইছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। তারা আজকের দিনটিকে (৬ ডিসেম্বর) ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে গতকাল হুঙ্কার দিয়েছে, “মন্দির-যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই”।

আনন্দবাজার পত্রিকা আরো জানায়, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই ওই দিনটি ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে পরিষদ। কিন্তু তা কখনই বড়সড় আকারে হতে পারেনি। তবে এ বার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছরে অযোধ্যা ও লখনউয়ে বড় আকারে ‘শৌর্য দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গুজরাট ভোটকে সামনে রেখে কিছু দিন থেকেই রামমন্দির নিয়ে হাওয়া তুলতে চাইছে সঙ্ঘ পরিবার। সম্প্রতি সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত মন্তব্য করেন, “অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে রামমন্দিরই হবে”। এর পরেই ‘শৌর্য দিবস’-এর পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পরিষদ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অম্বুজ ওঝা উসকানিমূলকভাবে বলেন, আজ লখনউয়ে ‘শৌর্য সংকল্প সভা’-র আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, “অযোধ্যায় কেশবপূরমেও ওই দিন দুপুরে সাধুসন্তরা বৈঠকে বসতে চলেছেন।’’ এ জন্য পরিষদের দফতরে প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। ক’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যও অযোধ্যার বিতর্কিত এলাকায় রামমন্দির গড়ার জন্য সওয়াল করেছেন। তা পরিষদকে আরো উৎসাহিত করেছে।

তবে অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে রামমন্দিরই হবে বলে মোহন ভাগবত যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন হায়দরাবাদের সাংসদ ও এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, “কে মোহন ভাগবত? তিনি কি দেশের প্রধান বিচারপতি? কোর্টে অযোধ্যার বিচার যখন চলছে, তখন কোন অধিকারে ভাগবত বলছেন, বিতর্কিত জায়গাতে রামমন্দিরই হবে।” পরিষদের আর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা সুরেন্দ্র জৈন আগামী বছরের ১৮ অক্টোবর থেকে রামমন্দির নির্মাণের কথা কী ভাবে বললেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন ওয়েইসি।