আর্কাইভ

Archive for the ‘আন্তর্জাতিক’ Category

বিশ্ব কাপে বিশ্ব কাঁপে

ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বজুড়ে তীব্র উন্মাদনা সৃষ্টির কল্যাণে তার পদবি গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ। ১৯৩০ সালে শুরু হয়ে ২০১৮ পর্যন্ত কেটে গিয়েছে ৮৮ বছর। অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ২০টি আসর। এ বছর লেভ ইয়াসিনের দেশ রাশিয়ায় বসেছে ২১তম আসরটি। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর সেই দিনগুলো আর আজকের আধুনিক সময়ের মধ্যে হয়তো শুধু রঙ আর আয়োজনের পার্থক্য; বাকি সব কিছু আছে আদি ও অকৃত্রিম।

ফুটবল ম্যাচ জয় করার জন্য রসিকরাজ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আছে একটি সহজ রেসিপি। তার প্রয়োজন একজন চোখ ট্যারা স্ট্রাইকার আর গোলকিপার! তাতে যা হবেতার স্ট্রাইকার যখন বল নিয়ে আক্রমণে যাবে, বিপক্ষ দলের গোলকিপার ভাববে সে বুঝি ডানে মারবে বল, কিন্তু বল তো মারবে বামে, ব্যাস তাতেই গোল! আবার বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকার যখন বল নিয়ে তার গোলকিপারের সামনে আসবে, গোলকিপার বামে তাকিয়ে আছে ভেবে মারবে ডানে কিন্তু গোলকিপার মশাই তো আসলে ডানেই তাকিয়ে ছিল, বল ধরে ফেলবে সে। গোল আর হবে না, ম্যাচ জিতে যাও সহজে! (স্রেফ মজা করার জন্যই এই কৌতুকের অবতারণা। কাউকে আহত করার মনোবাসনা নেই এই লেখকের।)

ফুটবল ম্যাচ তো জিতে গেলেন সহজে; কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের এমন কোনো সহজ রেসিপি কি কেউ আজ পর্যন্ত দিতে পেরেছেন? এক কথায় উত্তরনা। বিশ্বকাপ জয়ের যে কোনো সহজ পথ নেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসের দিকে তাকালেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে দিনের আলোর মতো। কালো মানিক পেলে হয়তো তিনবার জয় করেছেন বিশ্বকাপ। ম্যারাডোনা একবার হাত দিয়ে আরেকবার পুরো মাঠের প্রায় সব খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করেছেন শতাব্দীর সেরা গোল, বিশ্বকাপও জয় করেছেনতাতেও বা কী আসে যায়। বিশ্বকাপ নিজেই তো হিমালয়। যাকে দেখা যাবে, যার কাছে যাওয়া যাবে, ছোঁয়াও যাবে কখনও কখনও; কিন্তু জয় করা সে তো জীবনের সেরা লড়াইটি লড়ার পরেই হয়তো ঘটতে পারে।

বিশ্বকাপ এলেই কেমন যেন হয়ে যায় সব। সবখানেই একটি বিষয়, ফুটবল বিশ্বকাপ। পুরো বিশ্ব আনন্দ আর উত্তেজনায় ভরা একটি মাস আর কখন কাটাতে পারে। প্রতিদিনের যুদ্ধ, মৃত্যু আর হাজারো শোকের খবরে ঢাকা পড়ে যাওয়া আমাদের সবার জীবনে একসঙ্গেই আসে কিছুটা সময়ের আনন্দ।

আনন্দের পাশাপাশি ফুটবল নিয়ে পাগলামিরও কি শেষ আছে? সেটারও উত্তরনা। ২০১০ সালের আফ্রিকা বিশ্বকাপে পল নামের জ্যোতিষ অক্টোপাসের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। স্পেন যে চ্যাম্পিয়ন হবে তার ভবিষ্যদ্বাণী তো পলই করেছে; এবং হয়েছেও তাই। এবারের বিশ্বকাপেও হাতি, বাঘ, ঘোড়া, বিড়াল অনেক কিছু দিয়েই চেষ্টা করা হচ্ছে। দেখা যাক, কতদূর কী হয়।

বিশ্বকাপের চরম সময় কাটছে এখন। বলা যায়, প্রায় মাঝামাঝি চলে এসেছে বিশ্বকাপ। কে জিতবে বিশ্বকাপ? এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই প্রিয় দলের নামই বলছেন। কখনও ঝগড়ায় মেতে উঠছেন, কখনও প্রিয় দলের পতাকা দিয়ে ভরে ফেলছেন ঘরদোররাস্তাঘাট। রাত জেগে, কাজ ফেলে টিভির সামনে বসে খেলা দেখে আর কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেআমার দলটাই যেন পায় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। কাদের বাসনা পূর্ণ হবে সেটা জানা যাবে কয়েকদিন পরে।

ফুটবল দলীয় খেলা। ফুটবলের শৈল্পিকতা আর অন্য কোনো খেলায় দেখা যায় না। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে খেলাটি খেলার মন্ত্রণা দেয় সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। কখনও সেটা হয় আবার কখনও সেটা হয় না। কিন্তু ফুটবল তো আমাদের ভালোবাসার কথা শেখায়। দেশকালসীমানা ভুলে গিয়ে কয়েকদিনের জন্য হলেও আমরা বিশ্ব নাগরিক হয়ে যাই। বিশ্বমানবের জন্য মানবতা আর সম্প্রতির বন্ধন ঘটুক ফুটবলের কল্যাণে, বিশ্ব কাঁপানো বিশ্বকাপের কাছে আর কিছু চাইবার নেই।

Advertisements

পেনাল্টি কিকের বিজ্ঞান

ফয়সল আবদুল্লাহ : ফুটবল মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে এ উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপটি দেখা যায় পেনাল্টি কিকের সময়। তবে এর পেছনেও কাজ করে বিজ্ঞান। এ পর্যন্ত হয়েছে ঢের গবেষণাও।

পেনাল্টি শুটআউট মানে ফিফটি ফিফটি। আসলেই কি তাই? এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে ঢের। তবে সবচেয়ে বেশি বলা হয় ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষণাটির কথা। তারা অবশ্য বিজ্ঞানের চেয়ে পরিসংখ্যান ও খেলোয়াড়দের মানসিক গতিবিধির দিকেই বেশি নজর দিয়েছিল। ২০১৪ সালে করা তাদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, পেনাল্টিতে আপাতদৃষ্টিতে গোল হওয়া বা হওয়ার চান্স সমান সমান মনে হলেও গোলটিই বেশি হয়। এর কারণ হলো, গোলরক্ষকদের বেশির ভাগই অবচেতনে একটি বিশেষ সূত্র মেনে চলেন। গোলপোস্টের এক পাশে পরপর দুটি কিক হলে তারা ধরেই নেন যে তৃতীয় কিকটি তার বিপরীত পাশে পড়বে। এ ভুল ধারণা অবচেতনেই গোলরক্ষকদের মনে গেঁথে যায়। তবে এও ঠিক যে গোলরক্ষকদের ওই ভুল ধারণাকে পুঁজি করে গোল দেওয়ার বিষয়টিও বেশির ভাগ স্ট্রাইকারের মাথায় থাকে না। ১৯৭৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপ ও ইউরো কাপের মোট ৩৬১টি পেনাল্টি কিকের ভিডিও পর্যালোচনা করে এ বিষয়গুলো ধরতে পারেন গবেষকরা।

ব্রিটিশ কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান কুইন্টিকও এ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছে খুব। প্রতিষ্ঠানটির কাজ হলো, বিভিন্ন খেলার স্লো মোশন ভিডিও করে সেটি নিয়ে গবেষণা করা। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার পল হারিওন নিজে একজন বায়োমেকানিক্যাল বিশ্লেষক। তিনি পর্তুগালের তারকা ফুটবলার রোনালদোর কিক নেওয়ার ভিডিও নিয়েও গবেষণা করেছেন। তাঁর মতে, দক্ষ ও শক্তিশালী স্ট্রাইকাররা যখন পেনাল্টির কিক নেন, তখন বলটি জালে পৌঁছতে সময় নেয় মাত্র দশমিক চার সেকেন্ড। অন্যদিকে গোলকিপার যতই শক্তসমর্থ হোন না কেন, গোলপোস্টের যেকোনো এক পাশ আটকাতে তাঁর সময় লাগবে দশমিক ৬ সেকেন্ড। আর মাটি পর্যন্ত পড়তে লাগবে পাক্কা এক সেকেন্ড। অর্থাত্ স্ট্রাইকার যদি মাপমতো গোলপোস্টের যেকোনো এক কোণে সজোরে কিক ছুড়তে পারেন, তবে গোলরক্ষকের করার কিছুই থাকবে না। কারণ বলে পা ছোঁয়ানোর আগে গোলকিপার নড়তে পারবেন না একেবারেই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গোলরক্ষকের দক্ষতা দেখানোর জায়গাটা হলো, স্ট্রাইকারের গতিবিধি আগেই আঁচ করতে পারা। কুইন্টিকের গবেষণার সারকথাটি ছিল—গোলরক্ষকের কাজ শুধু যে কিকারের মতিগতি বোঝা তা নয়, কিক যিনি করবেন, তিনি কিন্তু গোলরক্ষককে বিভ্রান্তিতে ফেলতে কিছু ‘ভুল তথ্য’ দেবেন। হতে পারে সেটি আড়চোখে গোলপোস্টের কোনো এক দিকে তাকানো বা কোনো একদিকে পা ঘুরিয়ে কিকের প্রস্তুতির ভান করা। গোলরক্ষকের কাজ হবে, আগের ৯০ মিনিট ওই স্ট্রাইকারের ঝোঁক বুঝতে পারা এবং ইচ্ছাকৃত দেওয়া ভুল তথ্য থেকে সঠিক তথ্যটি আলাদা করা। এর জন্য গোলরক্ষকদের পড়াশোনাও করতে হবে ঢের। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের অতীতের স্লোমোশন ভিডিও দেখে তাকে বুঝতে হবে—বারবার গোলপোস্টের ডান পাশে তাকানোর মানে হলো, স্ট্রাইকার বাঁয়েই কিকটি নেবেন।

বিশ্বকাপের নায়কেরা

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া : ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একুশতম ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রতিটি বিশ্বকাপেই দেখা গেছে আলাদা আলাদা একেকজন নায়ক। যাদের কীর্তির বদৌলতে দলগুলো জিতে নিয়েছে চির আরাধ্য বিশ্বকাপ।

১৯৩০ বিশ্বকাপ

উরুগুয়েআর্জেন্টিনা ফাইনাল। তার আগে অলিম্পিকে এ দুদলই মুখোমুখি হয়েছিল। উরুগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রতিশোধের আগুন তখন আর্জেন্টাইনদের মধ্যে। শুরু হয় প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল। উরুগুয়ের অধিনায়ক হোসে নাসাজি তখন বিশ্বসেরা ফুলব্যাক। আর্জেন্টিনার মন্তি তখন জনপ্রিয় তারকা খেলোয়াড়। ১৭ মিনিটে প্রথম গোল আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ে ম্যাচটি জিতে নেয় ৪২ গোলে। এভাবেই ইতিহাসে সাক্ষী থেকে যায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরটি।

১৯৩৪ বিশ্বকাপ

১৯৩৪ বিশ্বকাপ হয় ইতালিতে। আগেরবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মন্তি ফাইনাল খেলেছিলেন, তিনিই কিনা পরের বার ইতালির হয়ে ফাইনালে অংশ নেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ মন্তিই হলেন একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি কিনা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আসে চেকস্লোভাকিয়া। ইতালির নেতৃত্বে কেম্বি, চেকদের প্ল্যানিকো। ফাইনালে ২১ গোলে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ হাতে পায় ইতালি।

১৯৩৮ বিশ্বকাপ

১৯৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক ফ্রান্স। সেবারও ফেভারিট ছিল পেজোর দল ইতালি। সেবার ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন লিওনিদাস। প্যারিসের সেই ফাইনালে মুখোমুখি চ্যাম্পিয়ন ইতালি আর হটফেভারিট হাঙ্গেরি। ফাইনালের শুরুর ৬ মিনিটের মধ্যেই গোল খেয়ে যায় হাঙ্গেরি। শেষ পর্যন্ত ৪২ গোলে জিতে যায় ইতালি। আনন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েন ইতালির কোচ পেজো। কোচ হিসেবে পরপর দুবার বিশ্বকাপ জয়।

১৯৫০ বিশ্বকাপ

১২ বছরের বিরতি। ১৯৫০ বিশ্বকাপের আয়োজক ব্রাজিল। উরুগুয়ের বিপক্ষে ফাইনালে ব্রাজিল। ব্রাজিল দলে তখন আদেমির, জিজিনিও আর জেয়ার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রিকিয়ার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। মাঝে সিয়াফিনোর গোল পরিশোধ। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগে ঘিগিয়ার গোলে উরুগুয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

১৯৫৪ বিশ্বকাপ

১৯৫৪ সালে লাতিন থেকে ফের ইউরোপে ফিরে আসে বিশ্বকাপ। হাঙ্গেরির সেরা ফুটবলার ফেরেঞ্চ পুসকাস, জোল্টান জিবর, স্যান্ডর ককনিসরা। বিশ্ব ফুটবলে রক্ষণাত্মক খেলার নতুন এক কৌশল। হাঙ্গেরির রক্ষণাত্মক ফুটবল বনাম পশ্চিম জার্মানির আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেবারের ফাইনালে। ৩২ গোলে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পশ্চিম জার্মানি। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে গোল করে জার্মান নায়ক হয়ে যান হেলমুট রাহন।

১৯৫৮ বিশ্বকাপ

১৯৫৮ বিশ্বকাপের দুজন নায়কের নাম পেলে ও গারিঞ্চা। একজনের বয়স ১৭, আরেকজনের ২১। এই দুজনের পায়ের জাদুতেই ব্রাজিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পেরেছিল। ব্রাজিলের সেই দলেনিলতন সান্তোস, দিদি, ভাভা, জাগালো, জিতো, গারিঞ্চা এবং অবশ্যই পেলে। স্কিলের চূড়ান্ত প্রদর্শন। বিশ্বকাপে কমবয়সী হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি যা আজও অক্ষত পেলের কাছে। ফাইনালে মুখোমুখি হয় তারা স্বাগতিক সুইডেনের। ফাইনালেও পেলের দুই গোল। ফাইনালের রেজাল্ট ব্রাজিল ৫, সুইডেন ২।

১৯৬২ বিশ্বকাপ

১৯৬২ বিশ্বকাপ হয় চিলিতে। সবকিছু ছাপিয়ে এই বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে আছে একজন কিংবদন্তির হয়ে। ব্রাজিলের গারিঞ্চা হয়ে আছেন চিলি বিশ্বকাপের আলোচিত চরিত্র হয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সামনে ইংল্যান্ড এবং ওই ম্যাচেই গারিঞ্চা তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রদর্শন করে বিখ্যাত হয়ে যান। সেমিফাইনালেও তুঙ্গে গারিঞ্চা। ফাইনালে আমারলিদো, জিতো আর ভাভার গোলে চেকদের ৩১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ

পর্তুগালের ইউসেবিও, ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ববি মুর, পশ্চিম জার্মানির বেকেনবাওয়ারের বিশ্বকাপ। ইংলিশ দলে ফরোয়ার্ডে জিওফ হার্স্ট তখন সেরা ফর্মে। ফাইনালে হার্স্টের ইংল্যান্ড আর বেকেনবাওয়ারের পশ্চিম জার্মানি। দুদলের জমাট রক্ষণে নির্ধারিত নব্বই মিনিটে ২২। অতিরিক্ত সময়ের খেলা। এরই মধ্যে বিতর্কিত গোলে হার্স্টের হ্যাটট্রিক। ইংল্যান্ডের প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ জয়।

১৯৭০ বিশ্বকাপ

সেবার লাতিন আর ইউরোপের বাইরে প্রথম মেক্সিকো উত্তর আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছিল। তোস্তাও, রিভেলিনো, জেয়ারজিনিও, জেরসন আর পেলের দুর্দান্ত দল ছিল ব্রাজিলের। ফিফা আগেই বলে দিয়েছিল যে, যারা তিনবার জিতে ফেলবে, জুলে রিমে চিরতরে চলে যাবে তাদের কাছে। দুবার করে সেই ট্রফি জেতার পর ব্রাজিল আর ইতালির সামনে ফাইনালের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় কারা দেশে নিয়ে যাবে ট্রফিটি। পেলে না ফাচেত্তি? ফাইনালে পেলে নিজের গোল একটি, আরও দুটি গোল তৈরি করে দিয়েছিলেন। পুসকাসের হাঙ্গেরি বা ক্রুয়েফের হল্যান্ড চূড়ান্ত ফেভারিট হয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

১৯৭৪ বিশ্বকাপ

ক্রুইফের হল্যান্ড তখন দুর্দান্ত। আর্জেন্টিনাকে হারাল ৪, পূর্ব জার্মানিকে ২০ ও শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে ২০। ফাইনালে তাই তখনকার দুই ফেভারিট দল পশ্চিম জার্মানি আর হল্যান্ড, বেকেনবাওয়ার বনাম ক্রুইফ। ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটেই গোল পেয়ে যায় হল্যান্ড। ম্যাচের ২৫ মিনিটে জার্মানির গোল শোধ। ৪৩ মিনিটে জার্মান স্ট্রাইকার মুলারের গোল। ২, বিশ্বকাপ জিতে নেয় জার্মানি। কিন্তু ক্রুইফ এবং মিশেলের তৈরি করা সেই প্রেসিং ফুটবল, পরে যা টোটাল ফুটবলবলে স্বীকৃত, তা আজও বিশ্বজয় করে চলেছে।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ

১৯৭৮ বিশ্বকাপ আয়োজক আর্জেন্টিনা। ফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ হল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১১। পরে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে কেম্পেস আর বার্তোনির গোল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে একদিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল জান্তা।

১৯৮২ বিশ্বকাপ

সেমিফাইনালে বিতর্কিত হয় জার্মানির ম্যাচটি। প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ১১ থাকে ম্যাচটি। অতিরিক্ত সময়ে গিয়েও ৩৩। পেনাল্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয় পশ্চিম জার্মানি। কিন্তু ওই ম্যাচে জার্মান গোলরক্ষক টোনি শুমাখার। ফরাসি স্ট্রাইকার বাতিস্তার ওপর রাগে অন্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন শুমাখার। আহত বাতিস্তা অজ্ঞান হয়ে তিন মিনিট ওখানেই পড়ে ছিলেন। পরিস্কার লাল কার্ড; কিন্তু ডাচ রেফারি কিছুই দেখেননি। ১১ জুলাই বার্নাব্যুতে ইতালিপশ্চিম জার্মানি ফাইনাল। ফাইনালে ৩১ গোলে হেরে যায় জার্মানরা। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইতালি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ

সেই বিশ্বকাপের রাজপুত্র ছিলেন ম্যারাডোনা। ২২ জুন ১৯৮৬, মেক্সিকো সিটির এস্তেদিও আজতেকায় ইংল্যান্ডআর্জেন্টিনা ম্যাচ। ৫১ মিনিটে লেখা হয়ে যায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সিগনেচার গোল। ইংলিশ মিডফিল্ডার গ্লোন হডল নিজেদের পেনাল্টি বক্সের দিকে বল তুলে দেন, ম্যারাডোনা আর ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটন দুজনই লাফিয়ে উঠে সেই বল রিসিভ করতে যান। মুহূর্তেই বল জালে, মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে নিজেদের দর্শকদের দিকে গিয়ে ম্যারাডোনা তখন নাচছেন, আর শিলটনহডেল রেফারির কাছে হ্যান্ডবলের নালিশ জানাচ্ছেন। এত দ্রুত ঘটেছিল যে, শিলটন আর হডল ছাড়া আর কেউ বুঝতেই পারেননি। এই গোল হ্যান্ড অব গডনামে ঢুকে পড়ে ইতিহাসে। তার চার মিনিট পরের গোলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসাধারণ। গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা, নিজেদের অর্ধ থেকে বল ধরে ইংল্যান্ডের চার ডিফেন্ডার (বিয়ার্ডসলে, রিড, বুচার আর ফেনউইক) পেরিয়ে শিলটনকে কাটিয়ে জালে বল। ম্যারাডোনার ওই জোড়া গোলেই আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় সেমিতে। যেখানে প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং সেই ম্যাচেও ম্যারাডোনার জোড়া গোল! ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানি। ওই ম্যাচে সেদিন আর ম্যারাডোনার ঝলক দেখতে পারেনি কেউ। তারপরও ৩২ গোলে ম্যাচটি জিতে আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন তিনি।

১৯৯০ বিশ্বকাপ

ফন বাস্তেন, রুড গুলিত আর ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের শাসন চলছে তখন বিশ্ব ফুটবলে। ইতালির রয়েছে মালদিনি, দোনাদানি, জিয়ানিনি, ভিয়ালি, সিলাচি আর রবার্তো ব্যাজ্জিওর মতো খেলোয়াড়। বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচেই ১০ গোলে ভূপাতিত করেছিল ক্যামেরুন। ফাইনালে ওঠে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা আর পশ্চিম জার্মানি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ক্লিন্সম্যানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন পেদ্রো মোনজোন। দশজনের আর্জেন্টিনা তারপরও লড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডিবক্সের মধ্যে রুডি ফোলারকে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার রবার্তো সেনসিনি। একই সঙ্গে লাল কার্ড ও পেনাল্টি। নয়জনের আর্জেন্টিনা হেরে যায় ১০ গোলে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ

পারফরম্যান্সবর্ধক ওষুধের কারণে ম্যারাডোনার বিদায়েই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সমাধি হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে উড়ছে তখন দুঙ্গার ব্রাজিল। বেবেতোরোমারিওরা নেদারল্যান্ডস, সুইডেনকে হারিয়ে ফাইনালে। সেরা ফর্মে ব্যাজ্জিওর ইতালি। গোলশূন্য ম্যাচে বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকার। রবার্তো ব্যাজ্জিও শেষ শট নিতে যাওয়ার আগে ব্রাজিল এগিয়ে ৩২। ব্যাজ্জিও বল ওড়ালেন বারের ওপর দিয়ে। ইতালির ওই হারে বিশ্বকাপ ফুটবলে আবারও সূর্য উঠল ব্রাজিলের।

১৯৯৮ বিশ্বকাপ

যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে এবারের আসর বসল ফ্রান্সে। জিদানের ফুটবল শৈলী আর রোনালদোর ড্রিবলিংয়ে সারাবিশ্ব তখন মেতে আছে। ফাইনালে জিনেদিন জিদানের দুরন্ত পারফর্মে ফ্রান্স ৩০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০২ বিশ্বকাপ

সাম্বার ছন্দে মোহিত ফুটবল বিশ্ব। রোনালদো, কার্লোস, কাফু, রিভালদো আর তরুণ রোনালদিনহোর জাদুতে ফাইনালে অলিভার কানের জার্মানি পর্যুদস্ত। ২০ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চম বারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরল ব্রাজিল। ফাইনালের নায়ক রোনালদো।

২০০৬ বিশ্বকাপ

ফাবিয়া ক্যানভারো আর জিদানের বিশ্বকাপ। সব পর্বের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে ইতালি ও ফ্রান্স। সব রোমাঞ্চ ছাপিয়ে জিদানের ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতালির ক্যানভারোর হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি।

২০১০ বিশ্বকাপ

ফুটবল বিশ্বে নতুন সূর্যোদয় স্পেন। তিকিতাকার মন্ত্রে উজ্জীবিত স্পেন দুর্দান্ত। জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল, পিকে, রামোস আর ভিয়াদের নিয়ে গড়া স্পেন ফাইনালে কমলা জার্সিধারী রোবেনদের নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন। ফাইনালের নায়ক ইনিয়েস্তা।

২০১৪ বিশ্বকাপ

ফুটবল বিশ্ব মেসি ম্যাজিকে ডুবে আছে। মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ফাইনালে। কিন্তু অলটাইম ফেভারিট জার্মানির কাছে ১০ গোলে পরাজয়। তরুণ গোৎজের গোলে জার্মানি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ যা কিছু

বিশ্বকাপ ফুটবলের গত বিশটি আসরে হয়েছে অজস্র রেকর্ড। সর্বোচ্চ যা কিছুর রেকর্ড তৈরি হয়েছে সেগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক

ইতালীয় গোলরক্ষক এবং অধিনায়ক দিনো জফ হচ্ছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপে নিজ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিশ্বকাপ জয় করেছেন।

এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড হয়েছে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। ১২ গোলের ওই ম্যাচে অস্ট্রিয়া সুইজারল্যান্ডকে পরাজিত করে ৭৫ গোলের ব্যবধানে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ড্র করা দলটির নাম ইতালি। মোট ২১টি ম্যাচে ড্র করেছে তারা।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরাজয়ের রেকর্ড হচ্ছে মেক্সিকোর। ২৫টি ম্যাচ হেরেছে তারা।

সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করতে না পারা দলটির নামও মেক্সিকো। মোট ১৬ বার তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে।

বিশ্বকাপের বিশটি আসরে সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। মোট পাঁচবার তারা বিশ্বকাপ জয় করেছে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দলটির নামও ব্রাজিল। মোট ১১ বার লাল কার্ড পেয়ে বহিস্কৃত হয়েছে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা। ১০ বার লাল কার্ড পেয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে কিন্তু আর্জেন্টিনা!

সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন মেক্সিকোর অ্যান্তোনিও কারবাজাল ও জার্মানির লোথার ম্যাথুস। তারা দুজনেই ৫টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। মেক্সিকোর রাফায়েল মার্কেয়ুজ এই তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে। এটাও তার পঞ্চম বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়টির নাম জার্মানির লোথার ম্যাথুস। তিনি মোট ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন।

সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মাঠে ছিলেন ইতালির পাওলো মালদিনি। তিনি মোট ২ হাজার ২১৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলা খেলোয়াড়টি হচ্ছেন ব্রাজিলের কাফু। তিনি মোট তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশ নিয়েছেন।

সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ খেলেছেন দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের নরমান হোয়াটসাইড। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ৪১ দিন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী ক্যাপ্টেন যুক্তরাষ্ট্রের টনি মোয়েলা। ১৯৯০ বিশ্বকাপে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন হচ্ছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক। ১৯৯০ বিশ্বকাপে খেলার সময় তার বয়স ছিল ৪০ বছর ২৯২ দিন।

জার্মান কোচ হেলমুট স্কন ২৫টি ম্যাচ পরিচালনা করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি দায়িত্বে থাকা কোচ।

সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করেছেন ক্যামেরুনের রজার মিলার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে তিনি রাশিয়ার বিপক্ষে গোলটি করেন।

সবচেয়ে বেশি দর্শক টিভিতে খেলা দেখেছে ২০১৪ বিশ্বকাপে। তিন দশমিক দুই বিলিয়ন অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষই সেবার টিভিতে খেলা দেখেছেন।

২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মিসরের গোলকিপার এসাম এল হাদারি হয়েছেন সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়। ৪৫ বছর বয়সী হাদারি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়।

বিশ্বকাপের চূড়ান্তত পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তিনি মোট ১৬টি গোল করেছেন।

১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করার রেকর্ড গড়েন।

রাশিয়ার ওলেগ সালেংকো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ এক ম্যাচে ৫ গোল করার নজির স্থাপন করেছেন। ১৯৯৪ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামগুলোতে সাড়ে সাত লাখ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে! এ সময়ে হটডগ বিক্রির সংখ্যাও প্রায় চার লাখ।

বিশ্বকাপ যা কিছু প্রথম

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমের অনেক কিছুর সাক্ষী হয়ে আছে কিছু মানুষ, কিছু ঘটনা। বিশ্বকাপের প্রথম এমন একুশটি তথ্য

প্রথম বিশ্বকাপ

প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে। প্রথম স্বাগতিক দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করে উরুগুয়ে। মোট ১৩টি দেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয়।

প্রথম খেলা

বিশ্বকাপের প্রথম খেলা হয় ফ্রান্স ও মেক্সিকোর মধ্যে। মেক্সিকোকে ৪১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয় পায় ফ্রান্স।

প্রথম গোল

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলদাতার নাম লুসিয়েন লরেন্ট। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন এই ফরাসি ফুটবলার।

প্রথম রেফারি

প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায় রেফারি ছিলেন বেলজিয়ামের জ্যাঁ ল্যাভেগনাস। ওই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিও তিনি পরিচালনা করেন।

প্রথম লাল কার্ড

পেরুর মালিও ভেলা ক্যাসাও, ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে পেরু ও রোমানিয়ার মধ্যকার ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলেয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখে বহিস্কৃত হন।

প্রথম হ্যাটট্রিক

প্রথম বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাট পেটেনাউদ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন।

প্রথম পেনাল্টি

১৯৩০ সালের একই বিশ্বকাপে চিলির কার্লোস ভিদাল প্রথম পেনাল্টি শট নেন। ওই শটটি ঠেকিয়ে দিয়ে প্রথম পেনাল্টি সেভ করা গোলকিপারের তালিকায় নাম ওঠে ফ্রান্সের অ্যালিক্সেস অ্যালিক্স থিওপট।

পেনাল্টিতে প্রথম গোল

১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ম্যানুয়েল রোসাস পেনাল্টিতে প্রথম গোল করেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।

প্রথম চ্যাম্পিয়ন

প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ে। আর্জেন্টিনাকে ৪২ গোলে হারিয়ে এই গৌরব অর্জন করে তারা।

প্রথম জার্সি নম্বর

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়ের জার্সিতে নম্বর লেখার প্রচলন শুরু হয়। ১৯৩০ ও ১৯৩৪ বিশ্বকাপে জার্সির প্রচলন থাকলেও জার্সিতে কোনো নম্বর ছিল না।

প্রথম আত্মঘাতী গোল

১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ম্যানুয়েল রোসাস বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আত্মঘাতী গোল করে নিজেদের জালেই বল জড়ান।

প্রথম মাসকট

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম মাসকট প্রচলন শুরু হয়।

প্রথম থিম সং

প্রথম থিম সংয়ের প্রবর্তন চালু হয় ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ থেকে।

প্রথম যমজ দুই ভাইয়ের অংশগ্রহণ

১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে পশ্চিম জার্মানি দলের দুই ভাই ফ্রিংস ভাল্টার ও ওটমার ভাল্টার অংশগ্রহণ করেন। তারা দুজন ছিলেন যমজ। আলাদা করে তাদের পার্থক্য বোঝা যেত না। প্রথম যমজ দুই ভাই হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করেন।

প্রথম এশীয় দল

বিশ্বকাপের চূড়ান্তত পর্বে প্রথম অংশগ্রহণকারী এশীয় দল হচ্ছে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া)। ১৯৩৮ সালে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে।

প্রথম আফ্রিকান দেশ

আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথম খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মিসর। ১৯৩৮ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল দলটি।

প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার

বিশ্বকাপের খেলা প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার হয় ১৯৫৪ সালে। এ সময় সারা বিশ্বে এটি ছিল সর্বাধিক প্রচারিত ক্রীড়া ইভেন্ট।

প্রথম গোল্ডেন বল ও বুটের প্রচলন

১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে প্রথম সেরা খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বুট ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে গোল্ডেন বল দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়।

প্রথম ড্র ম্যাচ

বিশ্বকাপে প্রথম ড্র ম্যাচ হয় ইতালি ও স্পেনের মধ্যকার ১৯৩৪ সালের ম্যাচটি।

ড্রাগ টেস্ট

বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে ড্রাগ টেস্টের প্রথা প্রথম শুরু হয় ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে।

দুরবস্থার কবলে মুসলিম বিশ্ব

. মুহাম্মদ সিদ্দিক : মুসলিম বিশ্বের বর্তমানে চলছে দুরবস্থা। সর্বত্র তারা পরাজিত ও অপমানিত। তবু হুঁশ নেই। টনক নড়ছে না। জিন্দা লাশের অবস্থা। মুসলমানদের অপমান করার সঙ্গে সঙ্গে কুরআন, নবী (সা🙂 ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রæপ চলছে। কারণসমূহ কমই আমরা খুঁজে দেখি, অথচ কারণ না জানলে প্রতিকার কিভাবে হবে।

আমরা এখন প্রধান কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। এগুলো হলো

() যোগ্যতার অভাব, জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চা তথা গবেষণার প্রতি অবহেলা, প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা, শিক্ষার হার হতাশামূলক।
(
) বুদ্ধিবৃত্তিক (ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার) দৈন্যতা। ফলে দেখা যায়, পাশ্চাত্য জগত, এমনকি এশিয়ার কিছু উন্নত দেশের মতোও মুসলিম বিশ্বে উঁচুস্তরের বইপুস্তক বের হয় না। যাও হয় জনগণ তেমন কিনেও না, পড়েও না। এক লেখকের পাঁচশ’ কপি বই বের করলে, মনে করা হয় যে যথেষ্ট হয়েছে। পাশ্চাত্যে ফালতু বইও মিলিয়ন কপি চলে। অথচ মধ্যযুগে মুসলমানদের লেখা বইয়ের জন্য ইউরোপ হুমড়ি খেয়ে পড়ত। মুসলমান বিদ্বানগণ ছিলেন ইউরোপের শিক্ষক।

গত তিনশ’ বছর ধরেই মুসলমানগণ পেছনের কাতারে। কবি নজরুল পর্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখেছেন

আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ, অভেদ যাঁহার জীবনে মৃত্যুজ্ঞান।
যাঁর মুখে শুনি তৌহিদের কালাম
ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।’

মুসলমানদের অযোগ্যতার কারণে অন্য জাতিগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে মারণাস্ত্র তৈরি করে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

() লেজুুড়বৃত্তির নীতি পালন করছে মুসলমান রাষ্ট্রগুলো। তাই তাদের নেই ইজ্জতের আসন।

() মুসলমানদের অনেকেই ইসলামি আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই এসেছে লেজুড়বৃত্তি।

() মুসলিম উম্মাহতে নেই আর ঐক্য।

() নেতৃত্বের ব্যর্থতা আর এক কারণ। অনেকে নেতারই নেই যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা। কিছু নেতাকে হত্যা করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, যাদের অন্যতম সউদী আরবের বাদশাহ ফয়সাল।

() অমুসলমানদের যেমন বিশাল বিশাল রাষ্ট্র্র রয়েছে, মুসলমানদের নেই। বিশাল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া প্রভৃতির নিকট মুসলমান রাষ্ট্রগুলো ছোট। এদিকে তুরস্ক, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, এমনকি সউদী আরবকে পর্যন্ত টুকরা টুকরা করার নীলনকশা করা হচ্ছে।

() সিয়াসুন্নি বিরোধকে আরো উসকে দিয়ে শত্রæরা ফাঁয়দা হাসিল করছে।

() গণতন্ত্রহীনতা এর এক কারণ। বেশিরভাগ সরকারের উপর জনগণের আস্থা ও একাত্মতা নেই।

(১০) অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থপরতা ও শত্রুতা মুসলিম বিশ্বের জন্য হুমকি। তারা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোয়েন্দা টেকনিক ব্যবহার করছে, মালয়েশিয়রা পর্যন্ত মেধাবী ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি গোয়েন্দারা।

(১১) মুসলিম নেতৃবৃন্দের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয় সম্পর্কে অপ্রতুল ধারণা ও জ্ঞান। পলাশী যুদ্ধের আগেপরে এই অবস্থা ছিল।

(১২) ইসরাইলসহ কিছু রাষ্ট্রের ‘এগ্রেসিভ (আক্রমণাত্মক) ও প্রতিরক্ষা নীতি মুসলমান রাষ্ট্রগুলোকে মাথা তুলতেই দিচ্ছে না ।

(১৩) হালে সউদী, মিসর, আমিরাত, প্রভৃতি রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরাইল কর্তৃক বাগে আনা।

(১৪) পাশ্চত্য কর্তৃক ইসরাইলের মাধ্যমে সন্ত্রাস রফতানি করে এখন মুসলমানদেরই সন্ত্রাসী বলা ।

(১৫) মুসলিম বিশ্বের গণমাধ্যমের দুর্বল অবস্থা। অন্যদিকে বিপক্ষের গণমাধ্যম সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানাতে ওস্তাদ।
(
১৬) অনইসলামি আদর্শ, যেমনকম্যুনিজম, উগ্রজাতীয়তাবাদ ইত্যাদির প্রভাবপ্রতিপত্তি।

(১৭) খ্রিস্টানমিশনারীদের প্রচার ও ষড়যন্ত্র। ভ্যাটিকান ও তার বিশ্বব্যাপী কর্মচারী নেটওয়ার্ক, যা পররাষ্ট্রীয় কাঠামোতে হোক বা গির্জার আড়ালে হোক, একটা বড় বাঁধা ইসলামের প্রসারে। মুসলমানদের কেন্দ্র নেই, যা কামালপাশা আগেই খতম করেছেন। এই কার্যক্রম শুধু তুরস্ক নয়, সমগ্র উম্মাহকে দুর্বল করে দিয়েছে, অথচ একসময় ইউরোপ পর্যন্ত আরব ও তুর্কি খেলাফতের অধীন ছিল।

(১৮) পাশ্চাত্যের ক্রুসেডিয় মনোভাব এখনো রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে পাঠ করতে পারেন জার্মান নওমুসলিম ও সাবেক জার্মানি রাষ্ট্রদূত মুরাদ উইলফ্রেজ হফম্যানের বই ‘ইসলাম ২০০০’।

বর্তমান যুগে মুসলমানদের দুরবস্থার আরো কারণ খুঁঁজে বের করা যেতে পারে। পরিস্থিতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
বড় সমস্যাগুলো :

সবচেয়ে বড় সমস্যা এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গারাও মুসলমান আর যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে সেই বাংলাদেশও মুসলমান প্রধান। মুসলমান রাষ্ট্রগুলো যদি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্রগুলোর মতো শক্তিশালী হতো, তাহলে মিয়ানমার সোজা পথে আসত। কিন্তু বাস্তবতা হলো দুটি পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত রাষ্ট্র তাদের পক্ষে। এমনকি তথ্যে প্রকাশ, উত্তর কোরিয়ার সাহায্যে মিয়ানমার পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

সমূহবিপদ বাংলাদেশের সামনে। এদিকে আসামের বাঙলাভাষী দেড় কোটি মুসলমানকে বিতাড়ন করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য।

সউদী আরব, মিসর ও আমিরাত এখন সরাসরি ইসরাইলের দালালে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একনায়ক নেতাদের গদিই মুখ্য দেশজাতিধর্মের চেয়ে। শেষ জামানায় ইহুদিরা নাকি মক্কামদীনা ছাড়া সমগ্র আরব ভ‚মিই দখলে নেবে। তারই কি এই আলামত?

ফিলিস্তিনের সমূহ বিপদ এখন। কারণ ইসরাইল নয়, একটা মুসলিম দেশ সউদী আরব এর কারণ। সউদী আরব ফিলিস্তিনিদের বলছে ইসরাইলের নিকট নতজানু হতে।

সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুসলিমবিরোধী প্রেসিডেন্ট গদিতে। তিনি ইসরাইল ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তিনি সর্বত্র ইসলামি টেররিস্ট দেখেন। তাঁর চোখে খ্রিস্টান, হিন্দু টেররিস্ট চোখে পড়ে না। ট্রাম্পের হঠাৎ করে নেয়া যে কোনো কঠিন পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের সমূহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের শিরায় জার্মান রক্ত।

এদিকে ট্রাম্প সউদী আরব ও ইসরাইল ইরান ধ্বংসের অ্যাজেন্ডা নিয়ে এগুচ্ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, কেন পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো ইরানকে হুমকি দিচ্ছে? ইসরাইলের সুস্পষ্ট রেফারেন্সে মধ্যপ্রাচ্যের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য, এই অঞ্চলে ইসরাইলকে একমাত্র পারমাণবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। (তথ্য রয়টার্স)

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মাইক পম্পেও প্রথম দফাতেই যান ইসরাইল, সউদী আরব ও জর্ডান। প্রত্যেক জায়গায় তিনি ইরানকে তীব্র ভাষায় দোষারোপ করে বলেছেন, বিশ্বে সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হলো ইরান। তিনি এ দাবিও করেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।

ইসরাইল ও ট্রাম্প গংয়ের এই নীতির তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এরদোগানকেই যে আবার দ্বিতীয়বার হত্যার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র চালাবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আমরা আগেই বলেছি, ইসরাইল তথা পাশ্চাত্য এখন গোয়েন্দা সন্ত্রাস ব্যবহার করে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে। এই কৌশল আমরা পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরেও দেখেছি।

পাশ্চাত্য মুসলমানদের ভেতর অনৈক্য সৃষ্টি করে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান প্রভৃতি মুসলিম দেশে দোজখের অবস্থা সৃষ্টি করেছে। আর হতভাগা মুসলমানরা পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র অনুধাবনেই ব্যর্থ। কি ব্যর্থ নেতৃত্ব চলছে এইসব দেশে। উত্তর কোরিয়াকে শিক্ষা দিতে লিবিয়া মডেল প্রয়োগ করা হবে, বলেন মার্কিন কট্টরপন্থ’ী নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন। এই বোল্টনই আফগানিস্তানের অন্যতম খুনি। লিবিয়া মডেলের উদাহরণ টানাই হলো মুসলমানদের কাটা ঘায়ে লবণের ছিঁটা দেয়া। এটা মুসলমানদের সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মাইন্ডসেট’ আর কি।

এদিকে চীনেও অশান্তি। মুসলমানেরা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে ইচ্ছুক। কিন্তু সে স্থানীয় মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে। তাদের রোজা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আর রোহিঙ্গাদের প্রতি চীন রাশিয়ার অনৈতিক অবস্থান হতাশাব্যঞ্জক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করে বলতে হয়, যদি মুসলমানেরা নিজেদের অনৈক্য ভুলে এক না হয়, তাহলে নবী (সা🙂 শেষ যুগের হতভাগা মুসলমানদের সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তাই অপেক্ষা করছে। ওআইসিকে এখনই শক্তিশালী না করলে আরো বড় বিপদ রয়েছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমন্বিত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি অবলম্বন করতে পারে, ওআইসি কেন পারবে না। অথচ আল্লাহ ও রাসূল (সা🙂 মুসলমানদের সিঁসাঢালা প্রাচীরসম ঐক্যের উপদেশ দিয়েছেন।

লেখক : ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

বিশ্বসেরা সুপার কম্পিউটার এখন যুক্তরাষ্ট্রের

summit supercomputerবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই কম্পিউটারের নাম সামিট। এটা প্রতি সেকেন্ডে ২ লাখ ট্রিলিয়ন হিসাবনিকাশ করতে সক্ষম। সামিটের আগে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটার ছিল সানওয়ে টাইহুলাইট। চীনের তৈরি এ কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ট্রিলিয়ন হিসাবনিকাশ করতে পারতো।

অর্থাৎ সানওয়ে টাইহুলাইটের চেয়ে সামিট প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুর দিকে সামিটকে জটিল গবেষণা কাজে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে মহাকাশ, ক্যান্সার, ও জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণায় ব্যবহার হবে সামিট। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির এই কম্পিউটারটি রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওয়াক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে।

আইবিএম ও এনভিডিয়ার সহায়তায় এখানেই এটা তৈরি করা হয়েছিল। সাধারণত সুপারকম্পিউটার আকারে বেশ বড় হয়। এর পরিচলন ব্যয়ও অনেক বেশি। এছাড়া জটিল সব কাজ করার জন্য এতে হাজার হাজার প্রসেসর সংযুক্ত থাকে। এদিক থেকে সামিটের রয়েছে ৪ হাজার ৬০৮টি কম্পিউটার সার্ভার এবং ১০ পেটাবাইট মেমরি। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারের মালিক হওয়া প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব এনার্জি রিক পেরি বলেন, আমরা একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি। এই প্রতিযোগিতায় কে জেতে সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, আমরা প্রতিযোগিতায় দারুণভাবে ফিরে এসেছি।

প্রসঙ্গত, শীর্ষ সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ তালিকা প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। সেই তালিকায় দেখা যায় শীর্ষ ৫০০টি সুপার কম্পিউটারের মধ্যে ২০২টি চীনের এবং ১৪৩টি যুক্তরাষ্ট্রের।

সূত্র: বিবিসি