আর্কাইভ

Archive for the ‘অর্থনীতি’ Category

মার্কিন সাংসদদের ভন্ডামী!

US parliament members can't rent

Advertisements

মুক্ত বাণিজ্য : বিচার মানি, তবে তাল গাছটি আমার

Free-Trade-Areasআর এম দেবনাথ : ছোট বেলায় একটি আপ্তবাক্য ঠাকুরমার কাছে বহুবার শুনেছি। তবে অর্থ বুঝিনি। আপ্তবাক্যটি হচ্ছে- বিচার মানি তবে তাল গাছটি আমার। এর অর্থ এখন বুঝি। বিচার-আচার যাই হোক না কেন, বিচারের রায় আমার পক্ষে থাকতে হবে। নইলে এই বিচার মানি না। কারণ তা বিচারের নামে অবিচার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাবার্তা শুনে তাই মনে হয়।

কথাবার্তা মানে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্পর্কিত কথাবার্তা। তার কথায় মনে হয় অবাধ বাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) মানি, তবে এর ফল আমার পক্ষে থাকতে হবে। বাণিজ্য ঘাটতি (ট্রেড ডেফিসিট) হলে চলবে না। বাণিজ্য ঘাটতি হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেই। মজার বিষয় হচ্ছে অবাধ, উন্মুক্ত বাণিজ্যের ধারণা কিন্তু তাদেরই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রেসক্রিপশন হচ্ছে অবাধ বাণিজ্য। মুক্ত বাণিজ্য। বাধাহীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এক দেশের মাল অন্য দেশে বিনা বাধায় ঢুকবে, বেরোবে। কোন শুল্ক নেই। এসব নিয়মকানুন বেশি দিন আগের নয়।

মুক্ত বাণিজ্যের পূর্বেও দেশে দেশে বাণিজ্য হতো। নানা রকম বাধা-নিষেধের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হতো। ঔপনিবেশিক আমলের কথা বলছি না। তখন শক্তিধর দেশগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দখল করে নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য পরিচালনা করত। নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ সেখানে বিবেচ্য ছিল না। এরপর অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একের পর এক দেশ স্বাধীন হতে শুরু করলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নিজেদের স্বার্থ দেখে বাধা-নিষেধের মধ্যে বাণিজ্য করত। তারা স্ব স্ব দেশের শিল্পের স্বার্থ দেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি ঠিক করত। বলা যায় এমন একটা অবস্থা হয়েছিল যখন আমরা মনে করতাম আমদানি নয়, সব জিনিস নিজ দেশেই তৈরি করে চলব। স্বয়ংসম্পূর্ণতা (সেলফ সাফিসিয়েন্সি) আর কী! ‘স্বয়ংসম্পূর্ণতা’ অর্থ মানে এই নয় যে, আক্ষরিক অর্থেই সব দ্রব্য উৎপাদন এবং ভোগ করব। তবে লক্ষ্য হবে যত পারা যায় তত নিজ উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করা।

তারপর দেখলাম শুরু হয়েছে ‘বাটার’, বিনিময় বাণিজ্য। বিশেষত সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে। স্বাধীনতার পর সমাজতান্ত্রিক দেশে আমাদের পণ্য রফতানি হতো। সমপরিমাণ টাকার মাল ওই সব দেশ থেকে আসত। প্রথম ধরনের বাণিজ্যের অসুবিধা দেখে ‘বার্টার ট্রেড’ শুরু হয়। এতেও আমাদের শান্তি হয়নি। ‘বার্টার ট্রেডের’ও নানা অসুবিধা। সবাই এই ধরনের বাণিজ্য করে না, পছন্দ করে না। তারপর চলল নিয়ন্ত্রিত আমদানি, যার জন্য নিয়ন্ত্রকের নামই ছিল ‘কন্ট্রোলার অব ইম্পোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট।’ অর্থাৎ বাণিজ্য হবে নিয়ন্ত্রণের অধীন। যা ইচ্ছা আমদানি, যা ইচ্ছা রফতানি- চলবে না। রাষ্ট্রের সুবিধা-অসুবিধা, শিল্পের সুবিধা-অসুবিধা দেখে আমদানি এবং রফতানি। এভাবে চলল অনেকদিন।

বিশ-ত্রিশ বছর পর শুরু হলো অবাধ বাণিজ্যের কথা। ফ্রি ট্রেড। মালামাল গমনাগমনে বর্ডার (সীমান্ত) থাকবে না। মানুষের জন্য নয়, মালের জন্য। বিনা বাধায় মাল এশিয়া থেকে ইউরোপে যাবে, ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে। এই বাণিজ্যকে সহায়তা করার জন্য শুরু হলো ‘রিফর্ম’, সংস্কার। সংস্কার আর সংস্কার। ব্যাংক, বীমা সংস্কার। বেসরকারীকরণ। গমনাগমনের বাধা দূরীকরণ। রাস্তঘাট, রেল, বিমান, নৌ ও জাহাজ পথ একীভূতকরণের কাজ। ‘লিবারেলাইজেশন’। সর্বত্র একই আওয়াজ-‘বিশ্বায়ন’। সকল দেশে ব্যাংক চলবে এক নীতিতে, বীমা চলবে এক নীতিতে। তুরস্ক থেকে ট্রেন ছাড়বে সকল দেশ ‘টাচ’ করে মাল যাবে জাপানে-চীনে। বিশাল কান্ড ।

‘গ্যাট’ বাদ দিয়ে তৈরি হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এরা নিয়ম-বিধি করবে বাণিজ্যের ওপর। ব্যাংক চালানোর নিয়মনীতি করবে ‘ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস’ (বিআইস)। সব কিছু উন্মুক্ত। ‘সাবালক’, ‘নাবালক’ দেশ নেই সবার জন্য এক আইন। কিছুটা ছাড় সাময়িকভাবে দেয়া হলো গরিব দেশগুলোকে। সারা বিশ্ব ভাগ হতে শুরু করল ‘ট্রেডিং ব্লকে’ ‘ফ্রি ট্রেড এ্যারেজমেন্ট’ হতে থাকল দেশে দেশে। ‘ব্লকে’ ‘ব্লকে’। ‘সার্ক’, ‘নাফটা’ ইত্যাদি গড়ে উঠতে লাগল। অভূতপূর্ব পরিবেশ- ব্যবসায়িক পরিবেশ। দেখা গেল ‘উন্নয়ন’ হচ্ছে দ্রুত গতিতে। উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলো উপকৃত হতে লাগল।

বাংলাদেশ পেয়ে গেল রোজগারের দুটো পথ- একদম নতুন পথ। গার্মেন্টস এবং জনশক্তি রফতানি। এশিয়ার অনেক দেশই এই সুযোগ পেয়ে গেল। বিলিয়ন (শত কোটি) বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হতে শুরু করল। দেশগুলো সামনে এগিয়ে যেতে থাকল। বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল এশিয়া। রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু হয়ে পড়ল এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও ভারত। বিশাল বাজার তাদের। জাপান পেছনে পড়ে গেল। কিন্তু সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশও হতে লাগল উপকৃত। মধ্যবিত্ত তৈরি হলো যাদের ভোগ্যপণ্য দরকার, আরাম-আয়েশের পণ্য দরকার। লাখো কোটি মানুষ এসব দেশে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠল। চিকিৎসার সুযোগ বাড়ল। মানুষের ‘মুভমেন্ট’ বাড়ল। ‘জিডিপি’ প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে থাকল। চারদিকে রমরমা একটা অবস্থা। বৈষম্যের প্রশ্ন বাদ দিয়ে বোঝা গেল বিশ্বে সম্পদ তৈরি হচ্ছে। প্রচুর সম্পদ। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু চলে এসেছে এশিয়াতে। প্রবৃদ্ধিও এখানে। এই অবস্থা চলতে থাকল। কিন্তু তড় সইল না। হঠাৎ বজ্রাঘাত।

বজ্রাঘাতটি আসল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যারা ফ্রি ট্রেডের প্রবক্তা, বিশ্বায়নের গুরু। তারা হঠাৎ করে বলে বসল না, আমরা এতে নেই। বিশ্বায়নের ফলে, অবাধ বাণিজ্যের ফলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের শিল্প বন্ধ হচ্ছে, আমাদের লোক বেকার হচ্ছে। আমাদের দেশ ভরে যাচ্ছে অবৈধ অভিবাসী দ্বারা। আমাদের প্রযুক্তি চুরি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কৃষকদের না খেয়ে মরার মতো অবস্থা হয়েছে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছি। অতএব ‘বিশ্বায়ন’ মানি না। অবাধ বাণিজ্য মানি না। ‘বিচার মেনেছিলাম, কিন্তু তাল গাছটা আমরা পাইনি’।

ট্রাম্প এসব কথা বলে সারা দুনিয়ার বিরোধিতা, মার্কিনীদের প্রবল বিরোধিতা, মিডিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। প্রথমেই আঘাত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তা বাতিল হলো। বিশ্ব জলবায়ু রক্ষণে টাকা দেয়া তারা বন্ধ করে দিল। এতেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এবার করলেন কী? চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলেন। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি বেশি। চীনে তাদের রফতানি কম। এক হিসাব দিয়ে বলা হলো, এই বাণিজ্য ঘাটতি ৮০০ বিলিয়ন ডলার। বিলাশ অঙ্কের ঘাটতি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারে কমাতে হবে। কারেন্সি ম্যানিপুলেশন চলবে না। প্রযুক্তি জোর করে ‘চুরি’ করা যাবে না। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা যাবে না টেকনোলজি ট্রান্সফার করতে। শুধু দাবি নয়, কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়ামের আমদানির ওপর ২৫ ও ১০ শতাংশ ‘ট্যারিফ’ বসিয়েছে। এসব মাল চীন থেকে আমদানি কমানোর জন্যই এই ব্যবস্থা।

এর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। বিশ্ব বলছে এটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’। চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এমনিতেই হ্রাস পেয়েছে অনেক আগেই। তারা তাদের বাজার সম্প্রসারণ করার জন্য ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নীতি গ্রহণ করেছে। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার ইত্যাদি দেশে তারা প্রচুর ঋণ দিয়ে তৈরি করছে অবকাঠামো। আফ্রিকাতেও তারা অনেক ঋণ ছড়াচ্ছে।

এসব ভারত পছন্দ করছে না। ভারতের সঙ্গে চীনের ঠোকাঠুকি শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগে। ‘ডুকলাম’ তার উদাহরণ। চীনের এই সম্প্রসারণবাদী নীতিতে জল ঢেলে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বাণিজ্য সংরক্ষণবাদী নীতি চীনকে টার্গেট করে তৈরি হয়েছে। চীন হঠাৎ করে ভারতকে টানতে চাইছে। এ সপ্তাহেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনে যাচ্ছেন অনানুষ্ঠানিক ‘সামিট’ করার জন্য। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এখন (২৪ এপ্রিল) চীনে। দেশরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন চীনে যাচ্ছেন। সীমান্ত বিরোধ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি আলোচনার জন্য। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য এক নম্বরে। চীনের সঙ্গে ভারতের বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি। ভারত এর নিরসন চায়। দেখা যাচ্ছে চীন-ভারত সম্পর্কেও বাণিজ্য ঘাটতি একটি বড় বিষয়।

এর অর্থ কী? উদার বাণিজ্যে যে যার মতো পণ্য আমদানি-রফতানি করবে। বাধা নেই। যার শক্তি আছে সেই জিতবে। দেখা যাচ্ছে অন্য ঘটনা। উদার বাণিজ্যেও ‘বাণিজ্য ঘাটতি’র বিষয়টি বড় হয়ে উঠছে। মুশকিল হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক দেশেরই আছে। আমাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে। আবার আমাদের ঘাটতি চীন ও ভারতের সঙ্গে। এটাও আমাদের কাছে আলোচনার বিষয়। অন্যান্য দেশেরও তাই। তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? অবাধ বাণিজ্যের নীতি কী প্রচ- বিরোধিতার মুখে? বিশ্ব কী ট্রেড ওয়ারের মুখোমুখি? যদি তাই হয় তাহলে আমাদের করণীয় কী? এর মধ্যে কী আমাদের মতো দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে? বিচার মানি, তাল গাছটি আমার- এই যদি হয় নীতি, তাহলে অবাধ বাণিজ্যের ভবিষ্যত কী? দেশে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি কী শেষ পর্যন্ত অবাধ বাণিজ্যের পরিবেশকে ভন্ডুল করে দেবে?

লেখক : সাবেক শিক্ষক, ঢাবি

বিশ্বে অস্ত্র ছড়ানোর ফন্দি ট্রাম্পের !

অস্ত্র বিক্রী বাড়ানোর জন্য শুধু ট্রাম্পের উপর দোষারোপ করে লাভ নেই । অন্যান্য প্রেসিডেন্টরা একই কাজ করে গেছেন । তবে ট্রাম্পের মতো এতো খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করে নয় । ট্রাম্প জানে অস্ত্র বিক্রীর মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব কমিয়ে আনা যাবে এবং আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যাবে; তাঁর নির্বাচনী স্লোগান Make America Great Again বাস্তবায়িত করা যাবে; ২০২০ সালের নির্বাচনে পুনর্নিবাচিত হয়েও যেতে পারেন কারণ মার্কিনীরা ভোট দেবার সময় এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় করে দেখবে । আমেরিকান মিডিয়া বা সিনেট সদস্যরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাৎসরিক ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট বা সরকারের ২৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে মাথায় ঘামায় না !

USA largest arms exporterবিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটি তাদের মিত্র ও অংশীদারদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র। বিশ্বজুড়ে মার্কিন সমরাস্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার এ পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবও দিচ্ছেন ট্রাম্প।

বিশ্বের অস্ত্র বাজারে অন্য দেশের তুলনায় মার্কিন অস্ত্রের এমনিতেই প্রাধান্য রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ব্যাপক মাত্রায় এর মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছে যেন সহজেই পৌঁছে দেয়া যায়। বর্তমানে মার্কিন সমরাস্ত্র হস্তান্তর বা বিক্রির যে প্রক্রিয়া রয়েছে তাতে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা থাকায় অন্য দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হয়।

ট্রাম্প এই নীতিকে আরও সহজ করতে চাইছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কনভেনশনাল আর্মস ট্রান্সফার (সিএটি) এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (ইউএএস) রফতানি নীতিতে বেসরকারি মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে কিছু কনভেনশনাল অস্ত্র ও ড্রোন বিক্রির জন্য কংগ্রেসের অনুমতি না নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয় এবং অন্য দেশের কাছে সরাসরি এসব অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে।

প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতির সহকারী প্রধান এবং হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য ও উৎপাদন নীতির পরিচালক ড. পিটার নাভারো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতি হল ‘আমেরিকাকে কিনুন, আমেরিকাকে ভাড়া নিন’। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাভারো বলেন, নতুন এ অস্ত্র বিক্রি নীতি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও জোরালো করবে। আমেরিকার মিত্র ও অংশীদাররা অস্ত্রে আরও সক্ষম হবে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্ষম হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের এ অস্ত্র বিক্রি নীতির সমালোচনা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির আর্মস অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রকল্পের পরিচালক উইলিয়াম হার্টাং ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির সমালোচনা করে বলেছন, এর মাধ্যমে মানবাধিকার ও অন্য বিষয়গুলোর তুলনায় চাকরির ওপর অনেক জোর দেয়া হচ্ছে। স্টিমসন সেন্টারের পরিচালক রাচেল স্টোল বলেন, ‘সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলা হলেও অস্ত্র পরিবহনের ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথা এ নীতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদির কাছে ৮ এপ্রিল এক দশমিক ৩১ বিলয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২২ মার্চও ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ট্যাংক বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সেই অনুমোদনে ছয়শ ৭০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৮ জানুয়ারি পাঁচশ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র সামগ্রী সৌদির কাছে বিক্রির অনুমোদন দেয় মার্কিন প্রশাসন। সব মিলিয়ে এ বছর অন্তত তিন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে সৌদি।

বিশ্বের অস্ত্রবাজারের অন্যতম বড় চুক্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। মার্কিন মুলুক থেকে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ১৮০ স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি সিস্টেম কিনছে রিয়াদের নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) এ চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রিয়াদ সফরকালে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ‘মোড়ল’ সৌদি ১১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে আমেরিকান অস্ত্র-সরঞ্জামের পেছনে। এই চুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণেরই প্রথম ধাপ। 

চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদনের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সৌদির বড় অবদান রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতি অনুসারে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ১৮০ স্বয়ংক্রিয় এম১০৯এ৫/এ৬ মাঝারি পাল্লার আর্টিলারি ও এগুলোকে এম১০৯এ৬ পালাডিন আর্টিলারি সিস্টেমে পরিণত করার সরঞ্জাম পাবে। সাধারণত সাড়ে ২৭ টন ওজনের এম১০৯ আর্টিলারি থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে ৫৬ কিলোমিটার বেগে গোলাবর্ষণ করা যায়। সেই ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে উপসাগরীয় ও ইরাক যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে এই আর্টিলারি।

চলতি বছরের ৮ মার্চ কাতারের কাছে একশ ৯৭ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তির ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। পরদিন ৯ মার্চ আরো তিনশ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইনের কাছেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কৃষিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য !

গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ এবং ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা

farmer at work 1মিজানুর রহমান তোতা : উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার ক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক কৃষিকে আরো এগিয়ে নিতে দরকার অল্প জমিতে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো
কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য এখন রীতিমতো ঈর্ষণীয়। বিশ্ব অর্থনীতির পরিসংখ্যানে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। ধান, সবজি, আলু ও ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। শুধু তাই নয়, সবজিতে ৩য় ও আলুতে ৭ম অবস্থানে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪%। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কৃষি যেভাবে অগ্রসারমান তাতে আগামীতে আরো উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে শুধুমাত্র চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। ধান, গম. ভুট্রাসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলার কৃষি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মাটি অধিক উর্বর এবং বিরাট সম্ভাবনার। কৃষিসমৃদ্ধ আবহাওয়া ও জলবায়ুর এত সুন্দর দেশ বিশ্বে খুব কমই আছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৫০লাখ মেট্রিক টন। সুত্রানুযায়ী বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। সেখানে উৎপাদন হয় ৫৫ কোটি ১১লাখ মেট্রিক টন। ৪৩ কোটি ৬৫লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২য় অবস্থানে। ভারতের অবস্থান ৩য়। উৎপাদন হয় ২৯ কোটি ৩৯লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কৃষির বিস্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষে বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কৃষিজমির বিপরীতমুখী চাপ সত্তে¡ও বাংলাদেশের বর্তমান খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে কৃষিই হচ্ছে প্রধান সহায়ক। সে কারণে জরুরিভাবে কৃষিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে যেসব প্রতিবন্ধকতা তা দুর করতে হবে। একইসঙ্গে অল্পজমিতে বেশি শস্য উৎপাদনের গবেষণা, কৃষির সমস্যাদি সমাধান, লাগসই ও টেকসই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো, সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ, ফুড ম্যাজেমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, কৃষিই হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আবহাওয়ার খামখেয়ালীর কারনে এলাকাভিত্তিক উপযোগী ‘ক্রপ জোন’ করতে হবে। একই জমিতে ৩এর অধিক ফসল উৎপাদনে স্বল্পজীবনকালের জাত উদ্ভাবন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘লিগুমিনাস’ বা ডালসহ সিম্ব জাতীয় ফসল বছরে অন্তত একবার চাষ করার উপর জোর দিতে হবে। তাতে মাটির ক্ষয়রোধসহ নাইট্রোজেন সংযোজন হয়ে মাটি সমৃদ্ধ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মহসীন আলী দৈনিক ইনকিলাবকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে কৃষিতে অভুতপুর্ব উন্নতি হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আরো উন্নতি ঘটানোর জন্য পুরোপুরি যান্ত্রিকীকরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই হাইব্রিড প্রোডাকশনে ২০% থেকে ৪০% উন্নীত হবে ইনশাআল্লাহ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমে যাওয়া, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বত্বেও কর্মবীর কৃষকদের কারনে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন।

কৃৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৮০ একর। এর মধ্যে মোট আবদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫শ’৫৬ হেক্টর। চাল উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার মেট্রিক টন। স্বাধীনতার পর দেশে আবাদযোগ্য জমি ছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ হেক্টর এবং মোট খাদ্য উৎপাদন হতো ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ লাখ হেক্টর। কৃষি জমিতে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প গড়ে তোলার ফলে আবাদী জমি উদ্বেগজনকহারে কমছে। প্রতিবছর আবাদী জমি কমছে গড়ে ৮২ হাজার হেক্টর জমি। যা মোট জমির এক ভাগ। বছরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এক হাজার হেক্টর জমি। সয়েল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর গত ৪০বছরে নদী ভাঙনে কৃষি জমির বিনাশ হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ হেক্টর। আর এর বিপরীতে চর জেগেছে ৫৮ হাজার হেক্টর। ৮০ শতাংশ সরকারী খাস জমিসহ আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৯শ’৭৭ হেক্টর। যা আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না।

সুত্র জানায়, গত ৪০ বছরে শুধুমাত্র আবাদী জমিতে বাড়িঘর নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬৭হাজার একরে। অনাবাদি আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। জাতিসংঘের কৃষি ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে চাল উৎপাদনে বিশ্বে চর্তুর্থ আর সবজি উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে। সবজিতে চীন এবং ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। সবজি উৎপাদন বেড়েছে ৫গুণ। চেষ্টা করলে অনায়াসেই দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে মাত্র ২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হতো, সেটা এখন ৬ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি আর বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটিতে। তা সত্বেও বাংলাদেশের কৃষি মুখ থুবড়ে পড়েনি বরং মাথা উচুঁ করে সগৌরবে চলমান রয়েছে। দেশি জাতকে উন্নত করে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবনে স্ফাল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৬৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) করেছে ১৪টি ধানের জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) ৪শ’১৭টি কমোডিটি ভ্যারাইটি অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য ৩৫, তেলজাতীয় ফসল ৪৩, ডালজাতীয় ফসল ৩১, সবজি ৮৯, ফল ৬৪, ফুল ১৬, মসলা ২৪টি জাত রয়েছে।

কৃষিতে সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি আছে বহুবিধ সমস্যা। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের কৃষি এখন অনেক উন্নত। সেখানকার চাষ পদ্ধতি ও ফসল উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থা পুরোটাই সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে আশানুরূপ উন্নতি হলেও ফুড ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। যার জন্য কর্মবীর কৃষকরা প্রায়ই উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য পান না। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ যেখানে সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিশাল এই সেক্টরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও উল্লেখযোগ্য নজর নেই বলে বিস্তর অভিযোগ। মাঝেমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ পরিকল্পনা নেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয় না, উপরন্তু দারুণভাবে অবহেলিত থাকছে সেক্টরটি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেছেন, মাঠের যেসব সমস্যা আছে তা নিরসন করে কৃষক ও সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাংলার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

ঠাকুরগাঁওয়ের একই জমিতে চার ফসল

প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্প

farmer at work 2রফিকুল ইসলাম : প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের মাধ্যমে একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে ভুমিকা রাখছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। এ কারনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে খাদ্য খাটতি পুরণে আরো বেশি সফলতা আসবে।
একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদনে কৃষককে উদ্ভুদ্ধ করতে ২০১৬ সালে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর মাধ্যমে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৯০ হেক্টরে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষন, উঠান বৈঠক, বিনামুল্যে উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হয়। আর কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে সফলতা অর্জন করে এলাকার কৃষকরা।
এক সময় ফসল আবাদ করে জমি ফেলে রাখলেও এখন বছরে তারা একই জমিতে সরিষা, মুগডাল, আউশ ও আমন ধানসহ চারটি ফসল উৎপাদন করছেন। ফলে এখানকার কৃষকরা দিন দিন চার ফসলি জমি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
রুহিয়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, বাচ্চু, আলাউদ্দিনসহ অনেকে জানান, আমরা আগে বুঝতাম না কোন সময়, কোন ফসল আবাদ করতে হয়। আরডিআরএস এর মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিক সময় চাষাবাদ করায় এখন একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছি। সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামুল্যে বীজ ও কীটনাশক দেয়ায় আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা মনে করি সকল কৃষক যদি এভাবে ফসল আবাদ করে তাহলে কখনো লোকসান গুনতে হবে না।
এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মসূচী ব্যবস্থাপক (মাঠ সমন্বয়) জিয়াউল হক জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে ৩ শতাধিক কৃষক তার জমিতে ৪ ফসল উৎপাদন করছে। দিন দিন কৃষকরা আরো আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে সদস্য হয়েছে আরো প্রায় ২ হাজার কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, অন্যান্য সংস্থাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে জেলার কৃষকরা উপকৃত হবে। তার কারন সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারি উদ্যোগও অনেক কাজে আসে। আজকে প্রকল্পটির কারনে এ জেলার কৃষকরা অনেক এগিয়ে।

হদিস নেই বিভিন্ন ব্যাংকের ২২ হাজার ২২১ কোটি টাকার !

* টাকা আদায়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি

* চিঠি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ ১০ খেলাপির বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে জেলে পাঠাতে হবে -ড. মইনুল ইসলাম

* গত এক বছরে এবি, আইসিবি ইসলামিক, স্ট্যান্ডার্ড ও এনসিসি ব্যাংক এক টাকাও আদায় করতে পারেনি

হামিদ বিশ্বাস : বিভিন্ন ব্যাংকের ২২ হাজার ২২১ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। বছরের পর বছর ধরে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের মোটা অঙ্কের এ অর্থ নির্বিঘ্নে পকেটস্থ করেছে শীর্ষ ২০ খেলাপি। এ অর্থের পুরোটাই এখন অবলোপন। বিধান অনুযায়ী অবলোপন করার পর থেকেই এ টাকা আদায়ের কথা ছিল। কিন্তু গত এক বছরে অবলোপনকৃত অর্থের এক টাকাও আদায় করতে পারেনি এবি, আইসিবি ইসলামিক, স্ট্যান্ডার্ড এবং এনসিসি ব্যাংক। এছাড়া প্রায় একই চিত্র বিরাজ করছে অন্য ব্যাংকগুলোতেও।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবলোপনের টাকা আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৫ মার্চ বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘শীর্ষ ২০ অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় সন্তোষজনক নয়। যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও ফলপ্রসূ নয়। বিশেষ করে উল্লিখিত চার ব্যাংকের আদায় শূন্য। এ বিষয়ে আদায় নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আপনাদের সতর্ক করা যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, খেলাপি অবস্থায় পাঁচ বছর পর্যন্ত কোনো ঋণ আদায় করতে না পারলে তা ব্যাংকের মূল হিসাব থেকে বাদ দিয়ে ভিন্ন খাতায় হিসাব রাখা হয়। তখন এই ঋণকে অবলোপন বলা হয়। তবে অবলোপন করার আগে অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা করতে হয়। পাশাপাশি ওই খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হয়।

জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব মহাদেব সরকার বুধবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন খেলাপি থাকার পর ইলিয়ার্স ব্রাদার্স, মোস্তাফা গ্র“পসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। কিন্তু এরা টাকা দিচ্ছে না। ছলে-বলে-কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারছি না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে আটকা পড়েছে ৩২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এ অর্থের ২২ হাজার ২২১ কোটি টাকাই অবলোপন করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) সর্বশেষ প্রতিবেদন (গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) অনুযায়ী, একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানি ইলিয়াস ব্রাদার্সের। ১৩টি ব্যাংকে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি এই প্রতিষ্ঠান, যা অন্তত দুটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান। এ ঋণের বিপরীতে কোনো ধরনের যথাযথভাবে জামানতও রাখা হয়নি। যার কারণে খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব নয়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমেই এ ধরনের ঋণ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। ঋণের টাকা উদ্ধারে এখন প্রয়োজন আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। শীর্ষ ১০ খেলাপিকে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে জেলে পাঠাতে হবে। তা না হলে খেলাপিদের ধরা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, এদের বেশির ভাগই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। এরা অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা জানে ঋণ নিলে ফেরত দিতে হবে না। তারা কালো টাকা এবং শক্তি দিয়ে বছরের পর বছর আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে সক্ষম। অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে খেলাপিদের ধরা সম্ভব নয়,এটা এক ধরনের প্রতারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন,ঋণদাতা ও গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অবসরে যাওয়া এমডিদের কার আমলে কত ঋণ, কিভাবে গেছে, কার কাছে গেছে- তা খতিয়ে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ওইসব এমডিও ঋণের নামে অর্থ লুণ্ঠন করেছেন। এজন্য বর্তমান এমডিরা দায়ী নন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন,ঋণের টাকা আদায়ে মনিটরিং বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে হয়তো বা সতর্ক করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় করে থাকে। এর থেকে বেশি কিছু করার নেই।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। আর খেলাপি ঋণের জন্যই শিল্পঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। কারণ এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) করতে হয়। তিনি বলেন,খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মির্জ্জা আজিজ বলেন,জামানত ছাড়া যে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে,ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তার মতে,কোন বিবেচনায় এত বড় ঋণ দেয়া হল তা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারলে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন- অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, প্রায় সব শীর্ষ খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা বারবার রিট করে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছেন। তার মতে,গরিব কখনও রিট করে না। যত রিট সব ধনীদের। তিনি বলেন, প্রতি জেলায় একটা করে অর্থঋণ আদালত আছে। আদালতের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বছরের কারণে শীর্ষ ঋণখেলাপিরা কিছুটা দুর্বল থাকবে। এদের অনেকেই কোথাও না কোথাও নির্বাচন করবে। এখনই তাদের ধরার সময়। সব খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। এককভাবে এটি করা সম্ভব নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বেসরকারি উদ্যোগে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের জুন মাসে ‘দি পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস কর্পোরেশন (পিডিএসসি) লিমিটেড’ জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত হয়। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি ঋণ আদায়ে জটিলতা নিরসনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর একটি চিঠি দেয়। পিডিএসসির চেয়ারম্যান এমএ রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, খেলাপি ঋণ আদায়ে এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু এজেন্টকে ক্ষমতা দেয়া হয় না। ঋণ আদায়ে যে মামলার করা হয়, সেখানে থাকে অনেক ফাঁকফোকর। মামলা পরিচালনার দায়িত্ব ব্যাংকের হাতেই থাকে। তাই চুক্তিবদ্ধ এজেন্ট চাইলেই মামলায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। অন্যদিকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিয়োজিত আইনজীবীরা খেলাপিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলা দীর্ঘায়িত বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কাজ করে থাকেন। ফলে খেলাপি বা অবলোপনের ঋণ আদায় স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। আর এসব অপকৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্যানেল আইনজীবীরা জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয় ওই চিঠিতে।

দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গ-বাণিজ্য !

organ selling business 1

organ selling business 2

মার্কিন মদদে বাড়ছে আফিম চাষ

আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ফলে দেশটিতে যে কেবল সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যাই বেড়েছে তা নয়, একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য উৎপাদনও বেড়েছে বিপুল মাত্রায়। বলা হচ্ছে আফগানিস্তানে আফিমের ক্ষেতগুলো আমেরিকার কাছে জ্বালানী তেলের কুপগুলোর চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সরকার এখন পরাজিত আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের মোতায়েন ও পুনর্বাসন করার জন্য নতুন নতুন অঞ্চল প্রস্তুত করছে যাতে এ অঞ্চলে সন্ত্রাস আরও বেশি ছড়িয়ে দেয়া যায়। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমন ও মাদক নির্মূলের অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন সরকার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু দেখা গেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারাই সেখানে আফিম চাষ বিস্তারের সবচেয়ে বড় হোতায় পরিণত হয়েছে। অবৈধ আফিম চাষ থেকে যে বিপুল মুনাফা আসে তার লোভ সামলাতে না পেরে পশ্চিমা সরকারগুলো আফগানিস্তানকে পরিণত করেছে অবৈধ মাদক ব্যবসার সবচেয়ে বড় কেন্দ্রে। এভাবে মানুষের মৃত্যুর পণ্য তৈরি করে অবৈধ ব্যবসা করছে মানবাধিকারের কথিত দাবিদার পশ্চিমা শক্তিগুলো।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চোরাই পথে পাঠানো হয় আফিম থেকে তৈরি মাদকদ্রব্য হেরোইন। প্রতি এক কেজি খাঁটি বা শতভাগ বিশুদ্ধ হেরোইন বিক্রি করা হয় তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্যে। আর ইউরোপে যেসব হেরোইন পাচার করা হয় তার মাত্র ত্রিশ শতাংশ খাঁটি। সেখানে এই হেরোইনের মূল্য গ্রাম-প্রতি ৭০ মার্কিন ডলার।

ব্রিটেনের দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে: আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসা থেকে যে অর্থ আসে তা মাদক চোরাকারবারে জড়িত আশপাশের কয়েকটি দেশের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্যে দেখা যায়,২০০৮ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপন্ন হয়েছিল ২০০টন। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ নয় হাজার টন।

মাদক ও অপরাধ মোকাবেলা বিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,২০১৭ সালে আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে মাদক উৎপাদন বৃদ্ধি সারা বিশ্বের জন্য বিপদ-ঘণ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানকেও মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাদক চোরাচালান দমন অভিযান চালাতে গিয়ে ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার নিরাপত্তা কর্মী এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার।

মাদক বিষয়ে গত ডিসেম্বরে মস্কোয় বিশ্বের সাংসদদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি জানান,আফগানিস্তানে হেরোইন উৎপাদনে জড়িত রয়েছে ৪০০টি ল্যাবরেটরি। তিনি প্রশ্ন করেন: ন্যাটো জোট কি এইসব চিহ্নিত ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানার ল্যাবরেটরিতে বোমা ফেলতে পারে না? অথচ এই জোট কিভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে বোমা বর্ষণ করে?

পার্সটুডে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট।