আর্কাইভ

Archive for the ‘অর্থনীতি’ Category

প্রসঙ্গঃ কর্পোরেট কালচার

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

জহিরুল মোঃ ইমরুল কায়েস : বেসরকারী কোম্পানী পরিবেশে ‘কর্পোরেট কালচার’ একটি জনপ্রিয় টার্ম। কোন বেসরকারী কোম্পানীতে কর্পোরেট কালচার আছে কী – নেই তার সুস্পষ্ট মানদন্ডের বিধান না থাকলেও শুধু ইশারা আঙ্গিকে এক চাকুরীজীবী আরেক চাকুরীজীবীকে বুঝাতে চান তাঁদের নিজ নিজ কোম্পানীর কর্পোরেট কালচারের বর্তমান অবস্থা বা তার আনুসঙ্গিক বাতাবরণের নমুনা। যে কোন কোম্পানীর কর্পোরেট কালচার ইতিবাচক হলে সে কোম্পানীর ব্যবসায়িক সুনাম দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর তরতর করে কোম্পানীর ডালাপালাও মেলে। কোম্পানীর পুঁজি ও পরিশোধিত মূলধন যত জাঁকালো হোক না কোন সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর কাজের যথাযথ পরিবেশ না থাকলে সে কোম্পানী বেশী দূর এগোতে পারে না। কালের পরিক্রমায় সে কোম্পানী হোঁচট খাবেই খাবে। আর, একটি ছোট বা মাঝারী মাপের কোম্পানীতে কাজের পর্যাপ্ত পরিবেশ থাকলে কোম্পানীর কর্মচারীরাই অনুবন্ধী কোম্পানীর দ্রুত উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিবে। আর সে ছোট কোম্পানীগুলো বড় মাপের হতে চাইলে বাধারও সম্মুখীন হয় না। অর্থাৎ একটি কোম্পানীর উন্নতি অবনতি হওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বা আধুনিক পরিভাষায় ‘কর্পোরেট কালচার’ বিরাট ভূমিকা পালন করে। আসুন, একটু জেনে নেওয়া যাক কর্পোরেট কালচার আসলে কী এবং কেন?

১৯৬০ এর দশকে প্রাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অনুসন্ধান মূলক কাজে সহায়তার জন্য নানাবিধ সংস্থার জন্ম হয়। ব্যবসার মধ্যে পেশাদারিত্বমূলক সাংস্কৃতিক সচেতনতা বাড়ানোই ছিল মূলত এ সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য। কালক্রমে ১৯৮০ দশকের শুরুতে ‘কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি আত্মপ্রকাশ করে। আর ৯০ এ দশকে এসে কর্পোরেট কালচারটি পশ্চিমা বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীর কর্মপরিবেশে পরিচিতি লাভ করে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি আমাদের দেশেও ’কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে কর্পোরেট সেক্টরে স্থান করে নেয়। কোম্পানীর প্রকৃত চরিত্র বুঝানোর জন্য এবং তা সবার নিকট বোধগম্য করার জন্য কোম্পানীর পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সমাজতত্ত্ববিদ ও শিক্ষাবিদ দ্বারা এই ’কর্পোরেট কালচার’ শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহৃত ও প্রচারিত হয়।

প্রথম থেকেই ’কর্পোরেট কালচার’ শুধুমাত্র সচরাচর সাধারণ বিশ্বাস বা আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কোম্পানীর ভিত্তি, পণ্যের মানদন্ডের পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা কৌশল, কর্মচারীদের যোগাযোগের ক্ষেত্র বা পরিবেশ, মালিক-কর্মচারী সম্পর্ক, কাজের পরিবেশ, কোম্পানীর মনোভাব,কোম্পানীর দৃষ্টিলব্ধ লোগো বা চিহ্ন, কোম্পানীর ট্রেডমার্ক, মিশন স্টেটম্যান, কোম্পানীর নীতিমালা, কর্মীদের জন্য প্রণোদনা ও পুরস্কার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, কর্মচারীদের টিমবিল্ডিং গঠনে সহায়তা প্রদান, এমনকি কোম্পানীর সিইও’র সামগ্রিক আচরণ বিধিও কর্পোরেট কালচারের অর্ন্তভূক্ত হয়। আর,২০১৭ সালে এসে কর্পোরেট কালচার শুধূমাত্র কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পর্ষদ বা কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকেনি। মূলত এখন কর্পোরেট কালচার বলতে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব, আর্ন্তজাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য, কোম্পানীর আকার বা পণ্যের গতি-প্রকৃতিসহ ইত্যাদিকে বুঝায়।

কর্পোরেট কালচার হলো,কোম্পানীর কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এমন নৈতিক আচরণ ও বিশ্বাসকে বোঝায় যে আচরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর ব্যবসায়িক লেনদেন ও যোগাযোগ পরিচালিত হয়। কর্পোরেট কালচার আসলে পুরোপুরি সজ্ঞায়িত কোন বিষয় নয়, সে হিসেবে এটি এমনই হতে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কর্পোরেট কালচার বলতে এমন এক সংস্কৃতিকে বুঝায় যে পরিবেশের মাধ্যমে কোম্পানী এমন লোকদেরকে নিয়োগ দেয় যাঁদের সংমিশ্রীয় বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের সাথে সাথে সাংগঠনিকভাবে কোম্পানীর কল্যাণার্থে বিকশিত হয়।

মূলতঃ কর্পোরেট কালচার হল “একটি কোম্পানীর ব্যাপক মূল্যবোধ,বিশ্বাস ও মনোভাবের প্রতিফলন। যে অনুচিন্তার মাধ্যমে কোম্পানীর বৈশিষ্ট্যকে চরিত্রাঙ্কণ করে আর সেভাবে চর্চার নির্দেশনা দেয়।” এ সংমিশ্রীয় এবং সমন্বিত বৈশিষ্ট্যগুলিই একটি ফার্ম বা কোম্পানীর কর্পোরেট কালচারে পরিণত হয়। অনেক কোম্পানীতে কর্পোরেট কালচার বলতে ড্রেস কোড, দৈনন্দিন কর্মঘন্টা, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি, বার্ষিক টার্নওভার, অফিস সেটআপ, মক্কেলগণের সন্তুষ্টি, অপারেশনসহ নানান দিক বিবেচিত হয়।

কর্পোরেট কালচারের জন্য গুগল বেশ সুপরিচিত। গুগল কর্মচারীদের জন্য টেলিকমিউটিং (বাসা বা যেকোন জায়গা থেকে কাজ করার সুবিধা),ফ্লেক্স টাইম (নিজের মতো করে কর্মঘন্টা ঠিক করে কাজ করা), পরিবারের সদস্যদের টিউশন ফি পরিশোধ, কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে লাঞ্চ, অন সাইট ডাক্তারের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের জন্য মটর ওয়েল ও গাড়ীর ফিটনেস সুবিধা প্রদান, ম্যাসাজ ও হেয়ার স্টাইল সুবিধাসহ ন্যূনতম ১০০টি সেবা প্রদান করে। কর্পোরেট কালচারের জন্য টুইটার, এডেলম্যান, ফেসবুক, সাউথ্ওয়েষ্ট এয়ারলাইন্স, সেভরণ, এ্যাপেল কিংবা নাইকির মতো বড় বড় কোম্পানীগুলোর নাম একদম প্রথম দিকে। ফোর্বসের অনুসন্ধানকারীরা উপরোক্ত কোম্পানীগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনা সাপেক্ষে কর্পোরেট কালচারের এ তালিকা বিন্যস্ত করেছেন। কর্পোরেট কালচারের জন্য উপরোক্ত নামগুলি যেমনি বিখ্যাত তেমনিভাবে খারাপ দাপ্তরিক পরিবেশের জন্য ওয়াশিংটনের সিয়াটলে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের খ্যাতিও বিশ্বব্যাপী।

আমাজনের নিজস্ব কাজের পরিবেশ খুব অগোছালো। যেমন তারা ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের (৩৮ ডিগ্রী সে.) মধ্যে কর্মচারীদের কাজ করান, মালামার চুরি হওয়ার ভয়ে ওয়্যারহাউজের দরজা গুলো বন্ধ করে রাখেন। আলো বাতাসহীন এ অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে আমাজনের কর্মচারীরা প্রায় সময়ই পানিশূন্যতা ও অবসন্নতা রোগে ভোগেন। কিছু কিছু ওয়ার্কারদেরকে তারা ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ডেলিভারী পণ্যের ট্রলি সমেত ক্লায়েন্টদের নিকট পাঠান,সময়মত পণ্য ডেলিভারী করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তারা লাঞ্ছিত ও ভর্ৎসনা করতে পিছপা হন না। এছাড়া সহযোগিদের মধ্যে অকল্যাণকর কাজের প্রতিযোগিতা সৃষ্টিকরণ, ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিকতা, অবসর সময় কিংবা মধ্যরাত্রেও কর্মবন্টন, উদ্দীপনামূলক কর্ম পরিকল্পনার পরিবর্তে সমালোচনা মূখর কর্পোরেট কালচার এ কোম্পানীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আরো অনেক অনেক বদ কালচার আছে বিশ্বখ্যাত এ জায়ান্ট ই-কমার্স কোম্পানীটির। সেজন্য উক্ত কোম্পানীতে যারা অতীতে কাজ করেছিলেন এবং বর্তমানেও যারা কাজ করেন প্রায় কর্মচারীই আমাজনকে তাঁদের নিজের কোম্পানী বলে মনে করেন না। প্রভুত্ববাদী আচরণের জন্য আমাজনের খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। কর্মচারীদের প্রতি এহেন আচরণ আমাজনকে সাফল্য বা ব্যর্থতার কোন পথে নিয়ে যায় তা সময়েই বলে দিবে। এজন্য কর্মচারীরা সুযোগ পেলেই এ কোম্পানী ত্যাগ করেন।

সুতরাং আপনি যদি আপনার কর্মীদের অনুপ্রাণিত ও সেবা প্রদান করতে চান তাহলে আপনার কর্মক্ষেত্রের কর্পোরেট কালচার সমৃদ্ধি করুন। কর্পোরেট কালচারের সমৃদ্ধি ঘটলে কর্মচারীদের মনে অধিকার জন্মায়। যে অধিকারের বলে কোম্পানীর প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং কোম্পানী পরিবর্তনের মানসিকতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পায়।

উপসাগরীয় যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রির ‘অনুপম সুযোগ’

অগাষ্ট 14, 2017 মন্তব্য দিন

UK arms sales to saudi 2গোপন নথিতে তথ্য : ব্রিটেনের তাজা গোলাবারুদের পাল্লার প্রদর্শনী ও সত্যিকার পরীক্ষার সুযোগ ছিল ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ * সেই যুদ্ধকে যুক্তরাজ্য মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লাভের সুযোগ হিসেবে দেখেছে ।

কুয়েতে ১৯৯০ সালে ইরাকি অভিযানকে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অস্ত্র বিক্রির ‘অুনপম সুযোগ’ হিসেবে দেখেছিল ব্রিটিশ সরকার। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের কিছু গোপন নথি জনসম্মুখে আসার পর এ কথা জানা গেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের আর্কাইভ (ন্যাশনাল আর্কাইভস) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত নথির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে।

ন্যাশনাল আর্কাইভের জনসম্মুখে আসা নথিগুলোয় দেখা যায়, ১৯৯০ সালে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেধে উঠলে ব্রিটেনের মন্ত্রী আর সরকারি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় ব্রিটেনের অস্ত্রের বাজার বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। তারা চেয়েছিল, এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ যেন ব্রিটিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারকরা নিতে পারে।

ওই নথিতে সেই সময়ের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচারকে দেয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী অ্যালান ক্লার্কের গোপন ব্রিফিং রয়েছে। যুদ্ধের প্রাক্কালে উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করে এসে সেই ব্রিফিং করেছিলেন তিনি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের ওইসব প্রচেষ্টার কারণে লাভই হয়েছিল ব্রিটেনের। ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র বিক্রির বিরাট সুযোগ পেয়ে যায়, যা আজ অবধি বহাল আছে।

UK judiciary OKays arms sale to Saudisব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে দেশটি ৬০০ কোটি পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রি করেছে, যা বিশ্বের মোট অস্ত্র ব্যবসার ৯ ভাগ। ব্রিটেনের অর্ধেক অস্ত্রই রফতানি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। ব্রিটেন এখন আমেরিকার পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা।

১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট ‘সিক্রেট’ নামে লেখা একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন ক্লার্ক। ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী কুয়েতে আক্রমণ করার কয়েক দিন পর মার্গারেট থেচারের কাছে ওই ব্যক্তিগত চিঠিটি জমা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ক্লার্ক লিখেছেন, এ যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া আসবে, তা ডিফেন্স এক্সপোর্ট সার্ভিসেস অর্গানাইজেশনের (এখন ড্রিইএসও নামে পরিচিত) জন্য ‘অনুপম সুযোগ’ তৈরি করবে। ক্লার্ক লিখেছিলেন,‘আমরা সেনা মোতায়েনের যে ধরনের সিদ্ধান্তই নিই না কেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এটা ডিইএসওর জন্য অনুপম সুযোগ- তাজা গোলাবারুদের পাল্লার প্রদর্শনী ও সত্যিকার পরীক্ষারও (সুযোগ)।’

সংকটের শুরুতেই কী ধরনের অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি হতে পারে, তার একটি তালিকাও যোগ করেন ক্লার্ক। তিনি লিখেছেন, আমাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলে এসব অস্ত্রের বিক্রি বাড়বে।’

অন্য নথিগুলোয় দেখা গেছে, সে সময়কার কাতারের আমির ও বাহরাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে অস্ত্র রফতানি বৃদ্ধি নিয়ে আলাপ করেছিলেন ক্লার্ক। পরে আরও কিছু ব্রিফিংয়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত,সৌদি আরব, মিসর এবং জর্ডানকে সম্ভাব্য ব্রিটিশ অস্ত্রের ক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। ক্যাম্পেইন এগেইন্সট আর্মস ট্রেডের গবেষক জো লো বলেছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি রফতানির জন্য এখনও এ দেশগুলোকে টার্গেট করে থাকে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, সময়টা হয়তো বদলে গেছে; কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি আজও একই রয়ে গেছে। ফাঁস তথ্য বলে দিচ্ছে, প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধকে যুক্তরাজ্য আসন্ন মানবিক বিপর্যয় হিসেবে না দেখে মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে অস্ত্র কোম্পানিগুলোর লাভের সুযোগ হিসেবে দেখেছে।

সে বছর ৭ আগস্টের এক গোপনীয় নথিতে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় তারা সম্ভাব্য যেসব অস্ত্র বিক্রি আদেশ পাবেন বলে জানান সেগুলো হল- আবুধাবির কাছ থেকে ৩৬টি ওয়েস্টল্যান্ড ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, যার অর্থমূল্য ৩২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। ওমান ওয়ারিয়র ডেজার্ট ফাইটিং যানবাহন কিনতে পারে, যার মূল্য সাড়ে পাঁচ কোটি পাউন্ড এবং চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংকেরও আদেশও দেবে বলে আশা করা হয়।

protesting arms sale to saudisবাহরাইন ব্রিটেনের কাছ থেকে হক জঙ্গিবিমান কিনতে পারে। সৌদি আরব ২০ কোটি পাউন্ডে সাতটি হোভারক্রাফট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ক্লার্ক জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধের আগেই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অস্ত্র বিক্রির একটি ভালো বিপণন কৌশল হতে পারে। এসব তথ্য ভাগাভাগি করতে প্রতি সপ্তাহে একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে উপসাগরীয় দেশগুলোয় পাঠানোর সুপারিশ করেন ক্লার্ক। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজাদের দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়ার কথাও লিখেছেন নথিতে। ক্লার্ক বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে বোঝাতে হবে, তারা ফ্রান্সের চেয়ে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম। অস্ত্র বিক্রির বাজারে ফ্রান্স ব্রিটেনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ’ থেকে ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’!

অগাষ্ট 14, 2017 মন্তব্য দিন

mahindra muhammad logoভারতের গাড়ি কোম্পানিগুলির মধ্যে এক অতি পরিচিত নাম ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’। বিশ্বের সব থেকে বড় ট্রাক্টর প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’। কয়েকশো কোটি ডলার সম্পত্তির অধিকারী এই কোম্পানি। এদের তৈরি ট্রাক্টর ভারতের কৃষকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

কিন্তু জানেন কি এই কোম্পানির নাম এক সময়ে ছিল ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ’? আর সেখান থেকে দেশভাগ, ভারত – পাকিস্তানের স্বাধীনতা – এসব কারণে তা আজ হয়ে উঠেছে ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’।

কোম্পানিটি চালু হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতে কে.সি মাহিন্দ্রা, জে.সি মাহিন্দ্রা আর মালিক গুলাম মুহাম্মদ ইস্পাত কারখানা হিসেবে এই কোম্পানির পত্তন করেন।

‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’র চেয়ারম্যান কেশব মাহিন্দ্রা বিবিসিকে বলছিলেন, “কে.সি মাহিন্দ্রা আর জে.সি মাহিন্দ্রা মি: গুলাম মুহাম্মদকে কোম্পানির অংশীদার বানিয়েছিলেন, কারণ তারা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের একটা বার্তা পৌঁছে দেবে সবার কাছে। সংস্থায় মি: মুহাম্মদের অংশীদারিত্ব কমই ছিল, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও তাঁর নামটা কোম্পানিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।”

দেশ ভাগের একদম ঠিক আগে যখন পাকিস্তানের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখনও গুলাম মুহাম্মদ আর মাহিন্দ্রা পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ব্যবসাও ভালোই চলছে তখন।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরে মালিক গুলাম মুহাম্মদ পাকিস্তানে চলে গেলেন। তিনি সে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন।

দেশ যখন ভাগ হল, তখন ব্যবসাও ভাগ হয়ে গেল। ১৯৪৮ সালে ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ’ নাম পাল্টে করা হলো ‘মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা’।

গুলাম মুহাম্মদ নিজের অংশীদারিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন। তবে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক দেশভাগের পরেও অটুট ছিল। শুধু ব্যবসাই আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

কেশব মাহিন্দ্রার কথায়, “মালিক গুলাম মুহাম্মদ যখন পাকিস্তানে চলে গেলেন, তখন আমাদের পরিবারের সবাই খুব অবাক হয়েছিলাম। এটাও খারাপ লেগেছিল যে উনি আগে থেকে আমাদের পরিবারকে কিছু জানাননি যে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।”

১৯৫১ সালে মালিক গুলাম মুহাম্মদ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হয়েছিলেন। ব্যবসা আলাদা হয়ে গেলেও মাহিন্দ্রা পরিবারের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কটা তিনি ভোলেননি।

১৯৫৫ সালে দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রথম সামরিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন।

“গুলাম মুহাম্মদ দিল্লিতে এসে প্রথম ফোনটা করেছিলেন আমার ঠাকুমাকে। দুই পরিবারের বন্ধুত্বটা আগের মতোই রয়ে গেছে,” বলছিলেন কেশব মাহিন্দ্রা।

বিবিসি বাংলা

যত্তো সব “রাবিশ” !

অগাষ্ট 13, 2017 মন্তব্য দিন

muhit rubbish a

muhit rubbish b

পশুর চর্বিযুক্ত নোট ছাপানো বন্ধ করবে না ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

অগাষ্ট 12, 2017 মন্তব্য দিন

uk bank notes

নিরামিষভোজী কয়েকটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর আপত্তির পরও পশুর চর্বিযুক্ত পলিমার নোট ছাপানো অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটি এ ঘোষণা দেয়।

পশুর চর্বিযুক্ত ওই ব্যাংক নোটের বিরুদ্ধে গত বছর যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে নিরামিষভোজীদের একটি গ্রুপ। কয়েকটি ধর্মীয় গোষ্ঠীও এ নোটের প্রতিবাদ জানায়। ওই দাবিতে অনলাইনে এক লাখেরও বেশি স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ইস্যুতে একটি পাবলিক কনসালটেশনের উদ্যোগ নেয়। এই মতামত গ্রহণ শেষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, পলিমার নোটে পশুর চর্বির বিকল্প হিসেবে পাম ওয়েলের মতো কিছু ব্যবহার করা হলে তা টেকসই হবে না। তাছাড়া এটি ব্যয়বহুলও হবে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, পাম ওয়েলের (নোটে ব্যবহারের ক্ষেত্রে) পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া, ব্যাংকের সাপ্ল্য়াাররা এ মুহূর্তে যথেষ্ট পরিমাণ পাম ওয়েল সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের পেছনে মুদ্রার মূল্যমানও বিবেচ্য ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন পদ্ধতিতে মুদ্রা ছাপাতে গেলে আগামী ১০ বছরে বাড়তি এক কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড ব্যয় হবে। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে চলতি বছর ৫ ও ১০ পাউন্ডের এবং ২০২০ সালে ২০ পাউন্ডের যে নোট ছাপা হবে তাতে পশুর চর্বিযুক্ত পলিমার ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

ব্যাংকের এ ঘোষণার পর পিপল ফর দ্য ইথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস (পেটা) এর পরিচালক এলিসা অ্যালেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মাংস ও চর্বির জন্য প্রতি বছর কয়েক লাখ গরু জবাই করা হয়।’ তিনি এর বিরুদ্ধে জনগণকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ওই গণমতামত গ্রহণ কর্মসূচিতে অংশ নেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ। তাদের ৮৮ শতাংশই পশুর চর্বি ব্যবহারের বিপক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, পাম ওয়েল উপজাতের বিপক্ষে ছিলেন ৪৮ শতাংশ।

বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে পলিমার ব্যাংক নোটের প্রচলন রয়েছে। কাগজের চেয়ে বেশি টেকসই বলেই পলিমার নোট ব্যবহার করা হয়।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ব্যাংক নোটই নয়, পশুর চর্বিযুক্ত প্লাস্টিক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফোন, কসমেটিকস, সাবান, গৃহস্থালি বিভিন্ন দ্রব্য ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া

অগাষ্ট 10, 2017 মন্তব্য দিন

আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রাশিয়া মার্কিন পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার পদক্ষেপ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ আজ সোমবার জানিয়েছেন। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ’র বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

রিয়াবকভ জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগ নিচ্ছে রাশিয়া। তিনি বলেন,‘মুদ্রা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আমরা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি আমদানি কমানোর প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছি। আমরা আমদানী পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে নিজস্ব পণ্য উৎপাদনের ওপর জোর দিতে যাচ্ছি।’

রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এসব পদক্ষেপ নেওয়া রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, রাশিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকোমিনিকেশন সিস্টেম বা সুইফ্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন সুইফ্ট সিস্টেমের মাধ্যমে অতি দ্রুততার সঙ্গে করা হয়ে থাকে।

সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিলের আওতায় রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপরও আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্প্রসারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়াকে কেন্দ্র করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ আইন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পাস হয়। তবে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আশা পোষণ করা ট্রাম্প এ আইনে সই করবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল।

সুখে থাকতে ভুতে কিলায় !

অগাষ্ট 5, 2017 মন্তব্য দিন

ভুল-ভ্রুটির উর্ধ্বে ছিলো না গাদ্দাফী কিন্তু পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়ে নির্বোধ মুসলমানরা তাকে হত্যা করে এখন কি পেয়েছে?

017_n