Archive

Archive for the ‘অপরাধ’ Category

সালতামামি ২০১৬ – প্রেক্ষিত সারা বিশ্ব

ডিসেম্বর 31, 2016 মন্তব্য দিন

text-saltamami-%e0%a7%aa

2016-review-562016-review-57

এক জামাত-শিবির কর্মীর মনোবেদনা ! আহা…

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

war-criminalsএকাত্তুরে আমরা ভুল করিনি” বলে গর্বোদ্ধত উচ্চারণকারী স্বাধীনতাবিরোধী নর্দমার কীট জামাতশিবিরের এক ছদ্মনামধারী কমরেড (আসল নাম দেবার সাহস নেই !) বিজয় দিবসে তাদের মানবতাবিরোধী নেতাদের কুশপুত্তলিকা ও ছবিতে জুতার মালা দিয়ে জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করায় গাত্রদাহ শুরু হয়েছে ; আর তাই খিস্তিখেউড় করে মনের ঝাল মেটাবার চেষ্টা করেছে এই পাকিপন্থী নাদান ।

এই নর্দমার কীট পাবলিককে বিভ্রান্ত করার জন্য ইসলাম অবমাননার বাহানা তুলে আনার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে ভাবখানা এমন যেন সে ছাড়া আর কেউ ইসলাম বোঝে না । “ইসলাম গেলো গেলো” রব তুলে এবং ভারতজুজু ভয় দেখিয়ে এই পাষন্ডগুলো একাত্তুরে পাকি হানাদার বাহিনীর সশস্ত্র সহযোগী হয়ে হত্যাগুমনির্যাতনধর্ষণে মেতে উঠেছিলো । বাঙালীর আত্মরক্ষার সংগ্রাম তাদের দৃষ্টিতে ছিলো দাঙাহাঙ্গামা । তাদের কাছে সেটা ছিলো জিহাদ” ; সুতরাং এদেশের নারীরা ছিলো তাদের জন্য গণিমতের মাল !

jamaat-misuses-islamস্বাধীনতা যুদ্ধে জামাতশিবিরের অপকর্ম তুলে ধরতে অনেক আগে থেকেই তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বিভিন্ন সময়ে (শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসে নয়) পত্রিকার পাতায় বা প্রতিবাদ মিছিলে পাকিস্তানী ষ্টাইলের দাঁড়িটুপি ও পায়জামাপাঞ্জাবী পরিহিত করে তুলে ধরা হয়ে থাকে ; টুপিতে অনেক সময় পাকিস্তানী পতাকা অংকন করে দেয়া হয় বা হাতে/মাথায় পাকিস্তানী পতাকা সেঁটে দেয়া কার্টুন আঁকা হয় তাদের পাকিস্তানপ্রীতি বোঝাবার জন্য ; এগুলো নতুন কিছু নয় । এখানে মূর্তি বা কুশপুত্তলিকা বানানো বা দাঁড়িটুপির ব্যবহারের উদ্দেশ্য ইসলাম অবমাননা নয় বরং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র এবং যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন। আল্লাহ মানুষের মনের খবর রাখেন । বুখারীর ১ং হাদীসে যেমন বলা হয়েছে, “অবশ্যই মানুষের কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল” । সুতরাং এখানে দাঁড়িটুপির ব্যবহার কোনক্রমেই ইসলাম অবমাননার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি । কিন্তু মতলববাজ এই নাদানের ঘিলুতে তা আসেনি । টুপিপাঞ্জাবী কবে থেকে সুন্নতি লেবাস হলো ? রাসুলুল্লাহ (রা) তো কোনদিন টুপিপাঞ্জাবী পড়েননি ! যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান সাধারণত যদি পাশ্চাত্য পোষাক পড়ে বাইরে যেতো তাহলে সুন্নতি লেবাসের প্রতি তার কতো দরদ ছিলো তা বোঝা যায় । না, আসলে এই নাদান মিথ্যাচার করে গেছে । কামারুজ্জামান সৌদী ষ্টাইলের আলখেল্লা (থোব বা দিসদাসা) পড়তো যা সুন্নতি পোষাক না !

সাহস নেই এই নর্দমার কীটের জনসমক্ষে এসে প্রতিবাদ করার ; তাই শুধু অনলাইনে রাগে ফোঁসফাঁস করা ; অন্যদের গালে থাপড়ানোর দুঃসাহস দেখানো । মুসলিমদের জন্য দরদ দেখানো । অথচ মওদূদীর এই নর্দমার কীটগুলো তো নিজেদের ছাড়া অন্যদের মুসলমান হিসেবেই গণ্য করে না ।

দাঁড়ি টুপি ও রাজাকার, ইসলামকে হেয় করার একটি চক্রান্ত

jamaat-war71বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস আসলেই ইসলামকে অপমানিত করার মহা সুযোগ পায় একটি চেতনাবাজ গোষ্ঠী। গতকালও তাঁর ব্যাতিক্রম হয়নি! প্রতিবারের মত এবারও ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দেশব্যাপী মনের স্বাদ মিটিয়ে দাঁড়ি টুপি আর পাঞ্জাবীকে জুতা দিয়ে সন্মানীত করলো চেতনাবাজেরা! মুসলিমদের বাপের ভাগ্য কোরআন শরীফ এনে এখানে যুক্ত করেনি!

প্রথম ছবিটায় মুর্তির সামনে ইসলামের লেবাসকে জুতার মালা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে! দেখে মনে হচ্ছে মুর্তির সামনে ইসলামকে পদদলিত করাই এদের মুল উদ্দেশ্য! এ যেন বিশেষ গোষ্ঠীর একটি মহা সুযোগের দিন। রাজাকারের ছুতো দিয়ে এমন বিশেষ কিছু দিনে তাঁরা ইসলামকে অপমানিত করার মহা সুযোগ হাতে পায়

পরের ছবি গুলো আপনাদের বহুল পরিচিত তথাকতিথ রাজাকার কমাণ্ডারের তিনটি ছবি। শুরুতে আছেন

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ক্লিনশেভ করা একজন ব্যাক্তি। এই যদি রাজাকারের চেহারা হয়ে থাকে তাহলে রাজাকারের চরিত্র দিতে দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবী বাধ্যতামুলক হয়ে দাঁড়ায় কেন? চেতনাবাজদের এদিন জুতানোর একটি কর্মসুচী মুসলিমদের রাখা দরকার..

দ্বিতীয় ছবিটি নাকি আঃ কাদের মোল্লা। এই ছবি দেখিয়ে জামায়াতের এই নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেনে নিলাম ইনিই কাদের মোল্লা! দেখুন ছবিটি কেমন! ক্লিনশেভ, ব্যাক ব্রাশ চুল, শার্টপ্যান্ট পরিহিত চোখে সানগ্রাস দিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন নিয়াজির সাথে! কতিথ কসাই কাদের যদি এমন হয় তাহলে এখন রাজাকারের চিত্র আনতে বিশাল দাঁড়ি টুপি আনো কোন পাশ দিয়া!!! শিশুদের মনে দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবীকে খারাপ জিনিস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে চাও! এদিন সকাল বিকাল কানের নিচে থাপড়ানির কিছু কর্মসূচী রাখা জরুরী

তৃতীয় ছবিটি কামারুজ্জামান। চিরদিন তিনি পাশ্চাত্য ড্রেসে চলাফেরা করেছেন। কোর্ট টাই ছাড়া তিনি সাধারনত বাহিরে যেতেন না! এই যদি হয়ে থাকে রাজাকারের ছবি তাহলে তুমি দাঁড়ি টুপি দিয়ে রাজাকার বানাও কিভাবে? তল পেটের কিছুটা নিচে কিছু লাথির ব্যবস্থা করলে এমন ভুল সাধারনত হতোনা চেতনাবাজদের

স্বাধীনতা যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না। পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে ছিল। যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছে মুসলিমরা। আহত হয়েছে মুসলিমরা, পঙ্গু হয়েছে মুসলিমরা, যুদ্ধ করেছে মুসলিমরা! যুদ্ধে বীর শ্রেষ্ঠের সন্মান পেয়েছে শুধুই মুসলিমরা। আবার এখন অপমানিত করা হয় মুসলিমদের! কি আজিব এক পরিস্থিতি!!!

সুন্নতি লেবাসে জুতার মালা দিয়ে দেশব্যাপী মুর্তির সামনে যে আকাম গুলা করতেছেন এগুলো বন্ধ করুন। অনেক হইছে চেতনার চাষ! এইবার খ্যামা দিতে হইবেক জনাব!

কমরেড মাহমুদ

http://www.bdnatun.net/newsdetail/detail/34/267139

এখনো ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান !

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

মির্জা মেহেদী তমাল : পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩২ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর থেকে এই পাওনার বিষয়ে বার বার পাকিস্তানের কাছে দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি দেশটির। অবশ্য শুধু টাকার এই অঙ্ক নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত তিন ইস্যুর বিষয়েই কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম দাবি গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দ্বিতীয়টি ক্ষতিপূরণ এবং তৃতীয় দাবি, এ দেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেওয়া। কিন্তু দেশটি কৌশলে এ তিন ইস্যু এড়িয়ে গেছে। উল্টো তারা বাংলাদেশের কাছে ৭০০ কোটি টাকা পায় বলে দাবি করেছে। বাংলাদেশের এই পাওনা আদায়ে কমিশন গঠনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, বাংলাদেশ তার পাওনা বুঝে নেওয়ার খবরে পাকিস্তান নতুন করে ফন্দি আঁটছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দাবির ন্যায্যতা তুলে ধরতে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়াতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, শিগগিরই কূটনৈতিক তত্পরতা শুরু করবে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালেও পাকিস্তান সরকারকে এ পাওনা পরিশোধ করতে বলেছিল। দ্বিতীয় দফা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায় নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচারকাজ নিয়ে তাদের অভিযোগের পর এ পাওনা আদায়ে আরও সক্রিয় হয়েছে সরকার। এদিকে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা আদায় না করতে পারায় সরকারের প্রতি বিভিন্ন মহলের চাপ বাড়ছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, একটি রাষ্ট্রের কাছে যদি আরেকটি রাষ্ট্র পাওনা থাকে তাহলে সে পাওনা দিতে ওই রাষ্ট্র বাধ্য। ফলে এ আইন ব্যবহার করেও দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাংলাদেশ পাওনা আদায় করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২৪ বছরের অর্থনৈতিক বঞ্চনা পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষ হলেও বাংলাদেশের বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস ফুরায়নি এখনো। বাংলাদেশের সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দেয়নি পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালের মধ্যেই দাতা দেশগুলোকে সমস্ত ঋণ দিয়ে দেয় এই শর্তে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্পদের হিস্যা পাবে। আমরা তখন জনসংখ্যার দিক দিয়ে ৫৪ শতাংশ ছিলাম। সেই হিসাবে আমরা ৫৪ শতাংশ সম্পত্তি দাবি করতে পারি। ’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে এটা উপস্থাপনের পর আজ পর্যন্ত এ দাবি আর কেউ তোলেনি। তবে নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা তোলার সুযোগ এখনো আছে। তিনি বলেন, সরকারকে এখনই এ উদ্যোগ নিতে হবে। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কমিশন গঠন করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করবে কমিশন। আর এটি নির্ধারণ করা হলে ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা সফরে এলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪ হাজার মিলিয়ন ডলার পাওনা দাবি করেন। তখন ডলারের মূল্য ছিল ৮ টাকা। ৪৪ বছরে যা দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। এর মানে, পাকিস্তানের কাছে আমাদের এখনকার পাওনা ৪০ হাজার মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৩২ হাজার কোটি। এ ছাড়া দেশিবিদেশি বেশকিছু গবেষণাপত্রের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে তৎকালীন হিসাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, জাতিসংঘের হিসাবে যা ১.২ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় গোর্কি নামের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। নষ্ট হয় শত কোটি টাকার সম্পদ। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তখন কোনো সহায়তা দেয়নি পূর্ব পাকিস্তানকে। ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আসে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিদেশি মুদ্রাগুলো তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকার শাখায় রক্ষিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রাগুলো স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়। এই অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোর দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পাকিস্তানের দাবি করা পাওনা টাকার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশকে তার দাবি উপস্থাপনে আরও তত্পর হতে হবে।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম ১৯৭৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি জানানো হয় বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের ঘোষিত ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সময়ে বেশি গণহত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ঢাকা সফরে এসে একাত্তরকে তৎকালীন সময়ের একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন। তবে ২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ঢাকায় এসে ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে গণহত্যার দায় স্বীকার করেননি তিনি। অবশ্য পাকিস্তানের সরকার ক্ষমা না চাইলেও ২০০২ সালে পাকিস্তানের নাগরিক সমাজের ৫১টি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চায়। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশের কাছে আরও আগেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। সূত্র জানায়, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের আরেকটি দাবি আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার। ২০০৬ সালে জাতিসংঘে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সমীক্ষা অনুযায়ী সে সময় বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। গত চার দশকের মধ্যে নওয়াজ শরিফের সরকার সৌদি আরবভিত্তিক জামাতুদদাওয়ার অর্থায়নের মাধ্যমে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের নিজ দেশে পুনর্বাসন করার জন্য নওয়াজ শরিফের সরকার একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, যেখানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আটটি জেলায় ১০ মিলিয়ন রুপি ব্যয়ে ৫ হাজার ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু জামাতুদদাওয়া অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়াও থেমে যায়। যদিও এর আগেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধুর জনগণ বিহারিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে লাহোর হাইকোর্ট এক ঘোষণায় বলে, বাংলাদেশে যেসব পাকিস্তানি বসবাস করছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক।

সূত্রমতে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশেষ করে সিমলা চুক্তির পর পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। অনেকটা গুছিয়েও এনেছিলেন। তার সময়েই পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতাতেই ১৯৭৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। কিন্তু ’৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার পর এগুলো আর তেমনভাবে এগিয়ে যায়নি। শুরুর দিকে পাকিস্তান এ বিষয়গুলো স্বীকার করলেও পরে আলোচনায় আর আগ্রহ দেখায়নি।

কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুসারে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে ক্ষমতা আরোহণের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত। ওই সময় জিয়া এম ইস্পাহানিকে বাংলাদেশের তিন দাবির কথা স্পষ্টই জানিয়ে দেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে বছর একই কথা জানানো হয় ঢাকার পাকিস্তানের হাইকমিশনার আলমগীর বাশার খান বাবরের কাছে। পরের বছর ২০১০ সালে ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র সচিবদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বাংলাদেশের দাবির কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়। আর সর্বশেষ ২০১১ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার আফরাসিয়াব মেহদি হাশমির কাছেও পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পরে ২০১২ সালে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ঢাকায় এলে বাংলাদেশের দাবির কথা জানানো হয়। তখন হিনা রাব্বানি একাত্তরকে ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আর তেমন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ শুরু করে পাকিস্তান। শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

pak-admission-of-war-crimes

বিজয় দিবসে স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-শিবিরের ভন্ডামী !

ডিসেম্বর 17, 2016 মন্তব্য দিন

masud-saydee-in-rallyউদিসা ইসলাম : মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সন্তানরা নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে নতুন রূপে সমাজে ঢুকতে রাস্তা করে করে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্টদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেই অভিযোগ এর সত্যতা মিললো আজীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসউদ সাঈদী পিরোজপুরের জিয়ানগরের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। এমনকি বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ প্যারেড পরিদর্শন করে ছবি তিনি নিজের ফেসবুকে আপলোড করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি, জামায়াতের মধ্যে চিহ্নিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তির পর তারা পরিশুদ্ধ দল হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা যেন নতুন রূপে সমাজে ঢুকে পড়তে না পারে, তার প্রতি সতর্ক থাকতে হবে। তৃণমূলেও সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির নজরিদারি বাড়াতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধী ও তাদের সন্তানদের সামাজিকভাবেই রুখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাসউদ সাঈদী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলের সমর্থন পাওয়া মাসুদ ২১ হাজার ৭৭ ভোট পেয়েছেন। মাসউদ তখনই নির্বাচনে জয়লাভ করেন, যখন গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরের বাধ্য করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এ মামলার প্রসিকিউটর শাহেদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের কাজ হচ্ছে, আরেকদিকে জামায়াত নিশ্চুপ বসে আছে, এটা ভাবার কিছু নেই। তারা দলীয় মানবতাবিরোধী অপরাধী নেতাদের ফাঁসির অপেক্ষায় আছে বলা যায়। কারণ এরপর সমাজে তারা নিজেদের পরিশুদ্ধ দল হিসেবে প্রচার করে ওই মওদুদীবাদকে ছড়ানোর কাজটি করতে পারবে বলে মনে করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা একই রকম মানসিকতা লালন করেই সেই আদর্শকে সঙ্গে নিয়েই বড় হয়েছেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের বিজয় উৎসবের মতো জায়গায় উপস্থিত থাকার স্পর্ধা সামাজিকভাবেই রুখতে হবে।’

masud-saydee-victory-dayআইসিডিডিআরবি, (আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ)-এর সমাজবিজ্ঞানী রাশেদা খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আবারও নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কেবল এভাবে মাসউদ সাঈদীর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা খবর পাই, বিন লাদেনের নামে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের নামে রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের নিয়ে এত কথা, এত সংগ্রাম হওয়ার পরও এ কার্যক্রমগুলো অব্যাহত থাকলে, ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে দেশ। এসব বন্ধ করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান তৌহিদ রেজা নূর সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) আয়োজিত সেমিনারে এই সামাজিকায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সন্তানরা তাদের কবরে ‘শহীদ’ শব্দ লিখে নামফলক বানায়। এতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা না পৌঁছায়। এ কারণে এসব ঠেকানো দরকার।’’

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পরিবার নতুন করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পথ বন্ধে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে তৌহিদ রেজা নূর বলেন, ‘সরকারের উচিত হবে পরিবারের কাছে লাশ না দিয়ে একটি জায়গা করা। সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের কবর দেওয়া হবে। জায়গাটি ঘৃণাস্তম্ভের মাধ্যমে তাদের কুকর্মের সব কথা লেখা থাকবে। মানুষ সেখানে ঘৃণা দেখাবে।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

jamaat-gathering-faridpur

shibir-gatherings

একাত্তরে বাংলাদেশে নির্মম নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের চিত্র

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

massacre-1একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি তার সার্ট উল্টিয়ে পেটে বেয়ানটের আঘাত দেখালেন। একটি ছোট্ট শিশুর কাণে রক্ত জমাট বেধেঁ আছে, কারণ তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়। একজন মহিলা মাঠে বসে কাঁদছেন কারণ তার স্বামীকে গত পরশু জীবন্ত মাটি দেয়া হয়।একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ ধরনের বর্বরতা তুলে ধরে রির্পোট করেছিলেন লন্ডনের দৈনিক মিরর পত্রিকার সাংবাদিক জন পিলগার। বাংলাদেশে নির্মম নিষ্ঠুরতা ও বুভুক্ষ মানুষের কাহিনী শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি ১৯৭১ সালের ১৬ জুন বুধবার দৈনিক মিররে প্রকাশিত হয়। জন পিলগার বাংলাদেশে অবস্থান করে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব রিপোর্ট করেছিলেন।

তিনি যেদিন এ সব পর্যবেক্ষন করছিলেন তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে, শুধু ধবংস স্তুপের ছায়া দেখা যায়। দুসপ্তাহ আগে একটি মসজিদ উড়িয়ে দেয়াসহ দোকান লুটপাট করে পুরিয়ে দেয়া হয়। মাটির ঘরের একটি দেয়াল আছে তা থেকে বাড়ির মালিক পালিয়ে যাননি। তার যুবতী মেয়েটিকে বলাৎকার করা হয়, তাই সে পাগলের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে।

রিপোর্টে পিলগার ঘটনা স্থলের স্থান উল্লেখ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি লিখেন আমি একটি বাজারে এসে দেখলাম যে, কয়জন গ্রামবাসী আছেন তারা প্রায় সকলেই এখানে জড়ো হয়েছে। আমি গ্রাম বা ডিস্ট্রিকের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না, কারণ উল্লেখ করলে হয়তো একদিন গ্রামটি ধবংস করে দিতে পারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ফটোগ্রাফার এরিক পাইপার ও আমাকে প্রথম বিদেশী দেখতে পায়।

ভারত সীমান্তের পাশে পিলগারের সাথে একজন গেরিলার দেখা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখান থেকে প্রায় সবাই চলে গেছে। তারপরেও পিলগার প্রায় একশ জনের মত লোকের সাথে কথা বলেন। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মেয়ে এবং তেরো থেকে বিষোর্ধ যুবক ছিল। প্রতিটি পরিবারের সদস্য যাদের সাথে তার কথা হয়েছে তাদের সকলেই বলেছে, কারো ছেলে, স্বামী বা ভাইকে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে এবং মেয়ে বা স্ত্রীর শালীনতাহানি করেছে।

কাসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ফোঁফাতে ফোফাতে পিলগারকে বলেন, গত ২৪ মে তার দুই ছেলেকে পাকিস্তানি সন্যরা নদীর কিনারে গর্তে পুতে কাদামাটিতে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। পিরালী নামে আর এবজন বলেন সৈন্যরা এখানে আসতে শুরু করলে তিনি তার বোন, ভাতিজাসহ নৌকা করে পালাতে চেষ্টা করেন কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের দিকে মেসিন গান তাক করলে তারা ফিরে আসেন। তবে পিরালী কোন প্রকারে প্রাণে রক্ষা পেলেও বোন ও ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশে যাওয়ার পথে দুজন জাতীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও দেখা হয় বলে পিলগার তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন। তাদের একজনের নাম ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোল্লা জালাল উদ্দিন।

মি: ইসলাম পিলগারকে জানান, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সংখ্যালঘু, হিন্দু ও খ্রিষ্টানসহ শিক্ষক, ডাক্তার, প্রফেসর ও যুবকদের প্রক্রিয়া গতভাবে নিধন করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, ষাটটি ছেলেকে পাকিস্তান সৈন্যরা জোর করে ধরে নিয়ে গেছে যার মধ্যে তার ১৬ বছর বয়সের ছেলেটিও রয়েছে। জালাল উদ্দিন বাংলাদেশে পাকিস্তানের এই বর্বরতা নিয়ে ব্রিটেন বাংলাদেশের জন্য কেন কিছু করছে না তা জানতে চান।

পিলগার তার রিপোর্টে আরো লিখেন, ভারত উপমহাদেশের বিভাগের পর যে দেশটি বাংলাদেশ নামে পরিচিত, যেখানে মানব জাতির দুই অংশ ৭৫ মিলিয়ন প্রতিনিধিত্বকারী বাঙালিদের জেনারেল ইয়াহিয়া খানের পশ্চিম পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে লিপ্ত। নিষ্ঠুরতার লক্ষণ প্রতিটি গ্রামে প্রায় একই রকম বলেও উল্লেখ করেন দৈনিক মিররের এই সাংবাদিক।

পাকি নর্দমার কীটদের কান্ড !

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে পাকিস্তানের ভিডিও প্রকাশ

ফেসবুকে একটি ভিডিও click hereতোলা হয়েছে পাকিস্তান ডিফেন্সের পেইজে। যেই ভিডিওর মূল বক্তব্য হলো মুক্তিযুদ্ধ ভারত এবং রাশিয়ার যোগ সাজসে একটা ষড়যন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ৩০ লাখ বাঙালি মারা যায়নি, যারা মারা গিয়েছিলো তাদের ৯০ শতাংশই বিহারি এবং পাকিস্তানি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ৪৬ তম বার্ষিকীতে যখন বাংলাদেশ আনন্দের বন্যা বইছে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের এই ভিডিওতে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। ভিডিওটি পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা সংস্থা স্পন্সর করে ব্যাপক প্রচারের চেষ্টা করছে এই অঞ্চলে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঙালিদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। খুনে মনোভাব নিয়ে তারা হামলে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ছারখার করে দেয়ার চেষ্টা করে বাঙালির নিজ দেশের স্বপ্ন।

অথচ পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, মার্চের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গিয়েছিল। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। মূলত ছাত্রের ছদ্মবেশ নিয়ে ভারতীয় সেনা সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল এবং তারাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ১৯৭১ সালে।

দি ফরগটেন চ্যাপ্টারস্টোরি অব ইস্ট পাকিস্তান’ শিরোনামের সাত মিনিটের ভিডিওটিতে ড. জুনাইদ আহমেদ নামের এক পাকিস্তানি লেখকের ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ: এক্সপ্লোডিং মিথস’ এর উপর ভিত্তি করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়। এই ভিডিওতে জুনাইদ আহমেদসহ কয়েকজন পাকিস্তানির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মূলত ভারত এবং রাশিয়ার ষড়যন্ত্রের ফলাফল। কয়েক লাখ নয়, মাত্র কয়েক হাজার লোক সেসময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের চালানো নির্মম গণহত্যার পুরোটাই অস্বীকার করা হয়েছে এই ভিডিওতে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। যুদ্ধের পর পরাজয়ের তদন্ত করতে গঠন করা হামিদুর রহমান তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সেনারা ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে এই সংখ্যাটা নগণ্য।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আসলে ছিলো ৫০ হাজার এবং তাদেরকে সামনে রেখে শুরু থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। জুনায়েদ আহমেদন নামের এই লেখক আরো দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধে যারা মারা গিয়েছিলো তারা আসলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং এরা সবাই ছিলো দুষ্কৃতিকারী। তারা পাকিস্তানি সেনাদের উপর গুলি চালায় বলেই পাকিস্তানি সেনারা তাদের মেরে ফেলেছিলো।

ভিডিওটিতে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তান বিরোধী হওয়ায় ১৯৭১ সময়ে যেসব রাজনৈতিক নেতারা পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো, তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতের হুকুমত কায়েমের চেষ্টায় আছেন বলেও দাবি করা হয় এই ভিডিওতে।

ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিবাদ করছেন। পাকিস্তান ডিফেন্সকে এ ধরনের একটি মিথ্যাচারে ভরা ভিডিও তৈরি এবং প্রচারের জন্য মন ভরে গালাগাল করছেন তারা। ভিডিওটির কমেন্টে আ ন ম রাসেল প্রশ্ন করেন, ‘আমি শুধু জানতে চাই অপারেশন সার্চ লাইট কি? আর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বাহিনী কি করেছিল?’

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন লেখেন,‘মগজহীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পয়সা খরচ করে মিথ্যা অপপ্রচারের সেই পুরোনো চেষ্টা।’

এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকরাও এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন ফেসবুকে। আব্দুল্লাহ সাইদ নামে একজন পাকিস্তানি লিখেছেন, ‘আমরা যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করেছি তাদের পাওনা অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি সেটা অস্বীকার করতে পারবো না। তাছাড়া পাকিস্তানের জন্মই হয়েছিলো বাঙালিদের কারণে।’

ইমরান উল্লাহ খাট্টাক নামের আরেক পাকিস্তানি লিখেছেন, ‘যদি সত্যিটা জানতে চান তাহলে ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিকের ‘ম্যায়নে ঢাকা ডুবতি দেখা’ বইটা পড়ুন। তাহলেই বুঝবেন বাঙালিদের ওপর কি পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছি সেসময়।’

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর পাকিস্তানের প্রতি নতুন করে তীব্র ক্ষোভ এবং তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে। এ রকম চক্ষুলজ্জাহীন মিথ্যাচারের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলেই মনে করেন তারা।

সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

সৌদির বিরুদ্ধে জার্মানিতে সালাফিদের সহযোগিতার অভিযোগ

ডিসেম্বর 15, 2016 মন্তব্য দিন
salafist-demo-solingen-germany-010512

A Salafist demo in Solingen, Germany dated May 1, 2012

সরাফ আহমেদ : জার্মানিতে উগ্রপন্থী সালাফি আদর্শের অনুসারী ইসলামি সংগঠন বা দ্য ট্রু রিলিজিয়নকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর ওই ধর্মীয় সংগঠনটিকে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। চার সপ্তাহ আগে জার্মানিতে এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর জার্মানি সরকার সৌদি আরবকে এই ধরনের সন্ত্রাসী ইসলামি সংগঠনগুলোকে আর্থিক অনুদান বা সহযোগিতা না করতে অনুরোধ করেছে।

জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছেন, দেশটিতে সালাফি আদর্শের ন্যূনতম ১০ হাজার অনুসারী রয়েছে। এরা মসজিদ নির্মাণ, ধর্মীয় প্রশিক্ষণ, ধর্মীয় প্রচার ও গবেষণা কাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দীর্ঘদিন থেকে আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থা আরও জানিয়েছে, সালাফি অনুসারীদের দ্বারা যেন জার্মানিতে অবস্থানরত শরণার্থীরা সেদিকে ঝুঁকে না পড়ে সেদিকে তাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।

জার্মানির দুটি গোয়েন্দা সংস্থা সালাফিদের আর্থিক সহযোগিতার ব্যাপারে কুয়েতের রিভাইভাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি, কাতারের শেখ ঈদ চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও সৌদি আরবের মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ নামের সংগঠনগুলোকে শনাক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে। সালাফি আন্দোলন বা দ্য ট্রু রিলিজিয়ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জার্মানির ছোটবড় শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে ধর্মীয় বইপুস্তক বিতরণ এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিলেন।

সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোথার ডা ম্যাজেয়ার গত মাসে বলেছিলেন, জার্মানির মতো গণতান্ত্রিক দেশে মৌলবাদী কোনো আন্দোলনকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্য ট্রু রিলিজিয়ন সংগঠনটির বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসের পক্ষে লড়াই করতে ১৪০ জন জার্মান তরুণকে প্ররোচিত করার অভিযোগ রয়েছে।

german-salafists

দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬