আর্কাইভ

Archive for the ‘অপরাধ’ Category

রোগী জিম্মি করে অর্থ আদায় বকশিশ

আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ফ্রি সার্ভিস কর্মী ও দালালদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি, বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার নামে অর্থ আদায়, হাপাতালের সামনে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করা এবং বকশিশ আতঙ্কে রোগীর আত্মীয়স্বজনরা। এসব হয়রানি বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত সেবা নিশ্চিত এবং রোগীদের সহযোগিতার জন্য হাসপাতালে ফ্রি সার্ভিস কর্মী রাখে কর্তৃপক্ষ। এসব কর্মীর একটি বড় অংশ আউটডোর ডাক্তারদের এটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করলেও এদের বেশির ভাগই হাসপাতালের বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল। রোগীরা ডাক্তার দেখিয়ে বের হলেই তাদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকে। দিন শেষে ওই সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পায় তারা। যেহেতু হাসপাতাল থেকে তারা কোনো সম্মানী পায় নাএ জন্য এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাদের নিষেধ করেন না। এসব কর্মীর ড্রেসিং করা ও ওয়ার্ড পরিষ্কার করার কথা থাকলেও কোনো কাজই তারা ফ্রিতে করেন না। রীতিমতো জুলুম করে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বলে রোগী ও তাদের আত্মীয়রা অভিযোগ করেছেন। এদের বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে ট্রলি নিয়ে রোগী ওঠানামা করতে টাকা আদায় ও রান্নাঘর থেকে খাবার চুরির অভিযোগ হচ্ছে হরহামেশা। এছাড়াও হাসপাতালের স্টোর থেকে চুরি করে ওষুধ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি রোগী জাহানারার স্বজন মনিরুল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলিতে করে প্রসূতি বিভাগে নিতে ১শ’ টাকা নিয়েছেন দু’জন। ৫০ টাকা দিতে চাইলে দুর্ব্যবহার শুরু করেন রোগীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এ রকম ছোটখাটো কাজেও টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। এর থেকে বেসরকারি হাসপাতালই ভালো। হাসপাতালে ভর্তি এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক আবদুল মালেক বলেন, এখানে কেবিন পরিষ্কার এবং ঝাড়ামোছার জন্যও পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে অর্থ দিতে হয়। তিনি ওঠার আগে একজনকে ১০০ টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দিতে না চাইলে ওই সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে বাধ্য হয়ে ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা দেন। এ ধরনের অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের প্রায় অর্ধশত রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ বহির্বিভাগেও প্রতিদিন এ ধরনের হয়রানি আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এদের নির্ধারিত কোনো পোশাক বা পরিচয়পত্র নেই। অফিসের তালিকায় কোনো নামপরিচয় নেই। নির্দিষ্ট কোনো নিয়োগদাতাও নেই। অথচ ওয়ার্ড মাস্টারকে টাকা দিলেই সে হাসপাতালের কর্মচারী। ফ্রি সার্ভিস হিসেবে রোগীদের পাশাপাশি পুরো হাসপাতালকেই জিম্মি করে ফেলেছে এরা।

সূত্রটি জানিয়েছে, এসব বহিরাগতকে প্রশ্রয় দিয়ে হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন ওয়ার্ড মাস্টার আতাউর। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় ফ্রি সার্ভিস কর্মী নিয়োগ দেন তিনি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে না জানিয়েই কর্মীদের কাজে লাগিয়ে দেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তিনি সবার আগে গিয়ে ওই কর্মীকে উদ্ধার করে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলি করেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার আতাউর রহমান। তিনি বলেন, প্রায় ৮০ জনকে ফ্রি সার্ভিস কর্মী হিসেবে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই। যখন যেখানে প্রয়োজন হয় তখন সেখানে কর্র্মীদের কাজে লাগানো হয়। ওয়ার্ডের ডাক্তারদের প্রয়োজন হয় বলেই তাদের কাজে লাগানো হয়। এসব বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এটিএম মোর্শেদ বলেন, ফ্রি সার্ভিস কর্মীদের দিয়ে রোগীরাই সেবা পায় বেশি। তবে তাদের রূঢ় আচরণ এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। তবে কতজন ফ্রি সার্ভিস কর্মী রয়েছে হাসপাতালে সে বিষয়ে বলতে পারেননি তিনি।

Advertisements

হিলারির আইনজীবীরা ৩০ হাজার ই-মেইল মুছে ফেলেন

এফবিআইয়ের এক্স বস কোমির বই

comey bookসাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘‘অ্যা হায়ার লয়্যালটি, ট্রুথ, লাইজ এণ্ড লিডারশিপ’’এ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের আলোচিত ইমেইল তদন্ত বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের বহুল অালোচিত ইমেইল তদন্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দেশ দিয়েছিল, তখন তার ব্যক্তিগত সার্ভারে প্রায় ৬০ হাজার ইমেইল ছিল। হিলারির ব্যক্তিগত আইনজীবীরা সেগুলো খতিয়ে দেখছিলেন। তারা অর্ধেকটা জমা দিয়েছিলেন। আর বাকিটা (প্রায় ৩০ হাজার) তারা মুছে ফেলেন।

আমি এবং এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট টিম বিশ্বাস করেছিলাম যে, আমরা যদি মুছে ফেলা ইমেইলগুলোর বিষয়বস্তু না হাতরাতে পারি, তাহলে আমাদের তদন্ত বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

আমরা শুধু তাদেরও বক্তব্য শোনার জন্য যেতে পারি না। আমাদের এটা জানার দরকার ছিল, তার আইনজীবীরা কিসের ভিত্তিতে ইমেইলগুলো মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা তাদের ডিভাইসেসগুলো, যা তারা ইমেইল মুছে ফেলার কাজে ব্যবহার করেছিল , সেগুলো দেখতে চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের বিশেষজ্ঞগণ সেসব তাহলে পরীক্ষা করে মুছে ফেলা ইমেইলগুলোর হদিস পেতে পারেন।

বোধাগম্যকারণেই আমাদের প্রস্তাব জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবীদের অত্যন্ত নার্ভাস করেছিল। হিলারির আইনজীবীরা ইমেইল পরীক্ষা করার কাজে যে ল্যাপটপ ব্যবহার করেছেন, তাতে তাদের অন্যান্য ক্লায়েন্টদেরও ইমেইল ছিল। আমরা যদি ওইসব ল্যাপটপ পরীক্ষা করতাম, তাহলে হিলারির আইনজীবীদের অন্যান্য মক্কেলদের সঙ্গে তাদের যে পেশাদারি গোপনীয়তার সম্পর্ক ছিল, তার লংঘন ঘটত। হিলারির আইনজীবী বেথ উইলকিনসন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এবং তার আইনজীবী দলের যারাই হিলারির জন্য কাজে করেছেন, তারা তাদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ এফবিআইয়ের হাতে তুলে দেবেন না।

এ বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী উইলকিনসন এতটাই তেজস্বী বক্তব্য রাখেন যে, তিনি বলে বসেন এ নিয়ে তিনি চরম তিক্ততায় পৌছানো পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এফবিআই জেনারেল কাউন্সেল জিম বেকারের সঙ্গে উইলকিনসনের জানাশোনা ছিল। সুতরাং আমি বললাম আপনি তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। তাকে বলুন তার টিমের ব্যবহৃত ল্যাপটপ আমাদের দেখতে দেওয়া দরকার। তিনি তাই করেছিলেন। কিন্তু জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবীদের কাছে মিজ উইলকিনসন নালিশ করলেন যে, এফবিআই তাদের পিছু লেগেছে। এপর্যায়ে দেখা গেল এফবিআই এবং ডিপার্টমেন্টের অ্যাটর্নিদের মধ্যে এই ল্যাপটপ ব্যবহার করা নিয়ে একটা শিতল সম্পর্ক তৈরি হল।

আমরা একটি অচলাবস্থার মধ্যে পড়লাম। এফবিআই সরাসরি আমেরিকার জনগণকে এটা বলতে পারেনি যে, ইমেইল রিভিউ এবং তা মুছে ফেলার প্রক্রিয়াটা সম্যক উপলব্ধি করতে আমরা যদি স্বর্গ্যমর্ত তল্লাশি না চালাতে পারি তাহলে আমরা একটি দক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেছি, তা বলতে পারি না। আমাদের কাছে এটা ম্যাটার করেনি যে, এরসঙ্গে হিলারির আইনজীবীরা যুক্ত ছিলেন। আমি আসলে একমত হতে পারিনি যে, ল্যাপটপ দেখতে দেওয়া এবং আইনজীবী টিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেওয়া ছাড়া কোনো তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলাটা দাবি করা সম্ভব। যদি সেক্রেটারি হিলারি আগামী দুবছরের জন্য একটি ফৌজদারি তদন্তের অধীন থাকতে চান, সেটা তো ভালো। মধ্য মে পর্যন্ত এসব যুক্তিতর্কে জোর থাকলেও তখনও পর্যন্ত আমাদেরকে ল্যাপটপ দেখতে দেওয়া হয়নি। তবে গ্রীষ্মকাল ঘনিয়ে এলে এবং পলিটিক্যাল কনভেনশনের(যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতার মনোনায়ন দেওয়া হয়) পরেও আমরা হিলারির ইমেইল তদন্তের প্রকৃত সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলাম ।

মে মাসে আমি সেলি ইয়েটসের কাছে গিয়েছিলাম। এবং তাকে বলেছিলাম এটা কিন্তু দীর্ঘ পথ তাড়া করে ফিরছে। তখন কনভেনশন হতে আর মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ বাকি। এবং আমি আমার পরিকল্পনার স্থির ছিলাম এবং একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কাছাকাছি ছিলাম। আমার পূর্বসূরীরা এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যেমন পরিচালক লুইস ফ্রি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের তহবিল গঠনের বিষয়ে কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছিলেন। আমি বললাম জনগণের মধ্যে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাটি সম্পর্কে আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরার আগেই ইমেইল তদন্ত শুর’ করা দরকার।, এটা না করতে পারলে তা খুব বেশি দেরী হয়ে যাবে। এই তদন্তের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাবের বাইরে থাকা কোনো প্রসিকিউটরকে নিয়োগ করা দরকার। আমি এটা কবে কখন করব তা জানতাম না। কিন্তু ল্যাপটপগুলো পাওয়া সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলাম আমরা।

বর্বর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাকা

মার্কিনব্রিটিশফরাসি যুদ্ধাপরাধ : অসংখ্য মানুষকে হত্যা

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট

raqqa ruins 2আইএসআইএসের দখলে থাকা রাকা শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মর্টার ও বিমান হামলায় অসংখ্য বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। তারা শহরটিতে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে।

গত বছরের ৬ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া অবরোধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিমান ও গোলা হামলায় রাকায় অগণিত মানুষ নিহত হয়েছে। কত মানুষ মারা গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, কারণ বহু লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী দাবি করছে, যেসব ভবনে বেসামরিক লোক ছিল সেখানে তারা হামলা চালায়নি; কিন্তু ওইসব হামলায় বেঁচে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদের ভবনে এমনকি ভবনের আশপাশেও আইএসআইএসের কোনো সদস্য না থাকার পরও তাদের ঘরবাড়িতে বারংবার হামলা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে পশ্চিমা বাহিনীগুলো। যারা সেখানে অবস্থান করছিল, তারা মারা গেছে। আবার যারা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, তারাও মারা গেছে।

রাকার বেশির ভাগ পরিবারই একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি স্থান পরিবর্তনের পরও তারা রক্ষা পায়নি। অনেকেই নিজেদের বাঁচাতে হামলার জায়গা থেকে সরে এসেছিলেন। কিন্তু হামলার স্থানও পরিবর্তন হওয়ায় তারা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। রাকার বাদরান পরিবারের ৩৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এসব হামলায়। তারা চারবার তাদের স্থান পরিবর্তন করেছিলেন। রাশা বাদরান বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, মার্কিন জোট তাদের ব্যাপারে জানে। তাই তাদেরকেই লক্ষ্য বানাবে এবং বেসামরিক লোকদের ছেড়ে দেবে; কিন্তু আমরা ছিলাম বোকা।
রাকার একজন বাসিন্দা মুনিরা হাশিশ বলেন, তিনি তার পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারিয়েছেন। এদের মধ্যে নয়জন মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায়। সাতজন মারা গেছে সেখান থেকে পালাতে গিয়ে আইএসআইএসের মাইনের আঘাতে। আর দুইজন মারা যায় সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস ইউনিটের গোলাগুলিতে। তিনি বলেন, আমি ও আমার সন্তানেরা স্রেফ রক্তের ওপর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে এসেছি।

এ পরিস্থিতিতে ১১২ জনের সাক্ষাৎকার এবং হামলার ৪২টি স্থান পরিদর্শনের পর অ্যামনেস্টি War of Annihilation : Devastating Toll on Civilians, Raqqa– Syria. নামের ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে। অ্যামনেস্টির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ডোনাতেলা রোভেরা বলেন, রাকায় যে পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা কয়েক দশকের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিকে ম্লøান করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দাবি করছে, তারা খুবই সতর্কতার সাথে সঠিকভাবে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এক মার্কিন সেনাকর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আর সব জায়গা মিলে যত হামলা হয়েছে, রাকায় তার চেয়ে বেশি গোলা বর্ষণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ রিপোর্ট অস্বীকার করে বলেছে, তারা সঠিকভাবে আইএসআইএস যোদ্ধা এবং তাদের অবস্থান টার্গেট করে হামলা করেছে।

২০১১ সাল থেকে যুদ্ধে ইরাক ও সিরিয়ায় অনেক শহর ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু রাকার ধ্বংসযজ্ঞ ছিল সেসব থেকে অনেক বেশি। পুরো শহরে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কয়েক মাস আগে আইএসআইসের হাত থেকে রাকাকে উদ্ধার করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। যারাই রাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন, তারা বলছেন, যুদ্ধে মসুল, দামেস্ক, আলেপ্পোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু রাকা শহরটি পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু ভবন একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে, আবার কিছু ভবন কেবল কংক্রিটের কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যুদ্ধাপরাধ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী রাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল মঙ্গলবার তারা এ দাবি করে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েসের ছায়া রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাকাতে এ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। কিন্তু অ্যামনেস্টির এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এ ধ্বংসযজ্ঞের জন্য তারা আইএসআইএসকে দায়ী করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা বরং রাকাকে মুক্ত করেছে।

অ্যামনেস্টি জানায়, তারা একের পর এক বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি কেবল বেসামরিক লোকভর্তি ভবনেও বিমান হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী। রাকাতে একসময় দুই লাখ লোক বাস করত; কিন্তু ২০১৭ সালের সেই চার মাসের হামলায় পুরো রাকা শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এ সময় মার্কিন জোটের পাশাপাশি রাকাতে হামলা চালায় সিরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ), পিকেকে, ওয়াইপিজি প্রমুখ দল।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ডেইলি সাবাহ

তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন ফরাসি আদালত। মঙ্গলবার তার আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে দুটি ধর্ষণের অভিযোগে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

আইনজীবী ইমানুয়েল মারসিগনি বলেন, রামাদানের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা ও তথ্যউপাত্ত পাওয়ার পর তৃতীয় অভিযোগটি তদন্তের দরকার নেই বলে মনে করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট।

রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লিয়েনের হোটেলে এক দুপুরে একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু লন্ডন থেকে রামাদানকে বহনকারী বিমান ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের আগে লিয়নে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিলেন রামাদান। কিন্তু সেই নথি মামলার ফাইল থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি পুলিশ।

এর পর ফরাসি আইন লঙ্ঘন করে তাকে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়েছে। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর রামাদানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেয়া হয়নি।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছেঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের এ অধ্যাপক তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে ফরাসি কর্তৃপক্ষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন কিনা।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৯ সালে ফ্রান্সের লিয়নে ও ২০১২ সালে প্যারিসে দুই নারী তার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে একটি অপরাধ তদন্ত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট ফর এ জাস্ট ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ড. চন্দ্র মুজাফফর বলেন, অধ্যাপক তারিক রামাদান ফ্রান্সে প্রহসনের বিচারের শিকার হচ্ছেন। তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে দুই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ জন্যই ৩১ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় প্যারিসে পুলিশের কাছে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তার জবাব দিতেই তিনি সেদিন পুলিশের কাছে যান।

নিজের অভিযোগের তদন্তে কর্তৃপক্ষকে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এর পরও তাকে বিচারবহির্ভূত নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান চন্দ্র মুজাফফর।

সিরিয়া ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রকে আসাদের হুশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়া ছাড়তে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) দখল করা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করার অঙ্গীকার করেছেন। আসাদ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত এবং সিরিয়া থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা উচিত। রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

সাক্ষাৎকারে আসাদ জানান, এসডিএফের সঙ্গে আলোচনার নতুন দরজা খুলেছে সিরিয়া। তিনি বলেন, এটাই প্রথম সুযোগ। যদি এতে কাজ না হয় তাহলে শক্তি প্রয়োগ করে ওই অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে যেতে হবে, যেকোনো উপায়েই তাদের এ অঞ্চল ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, ‘তারা কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইরাক এসেছিল, দেখুন তাদের কী অবস্থা হয়েছে। তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। ইরাকের মতো সিরিয়াও ব্যতিক্রম নয়। এই অঞ্চলে বিদেশিদের গ্রহণ করবে না জনগণ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসাদকে পশু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হলে আসাদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের চরিত্রই তুলে ধরেছেন। পশু শব্দটি তারই প্রতিনিধিত্ব করে। আমি মনে করি এক্ষেত্রে একটি মূলতত্ত্ব রয়েছে। আপনি নিজে যে চরিত্রের অধিকারী সেটি দিয়েই অন্যকে যাচাই করবেন।’

ট্রাম্পকে এ রকম কোনো উপাধি দিতে চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদ বলেন, ‘আমি এ ধরনের ভাষায় কথা বলি না। এটি তার (ট্রাম্পের) ভাষা। এটি তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। আমি মনে করি এক্ষেত্রে একটি কথা রয়েছে। আপনি নিজে যে চরিত্রের অধিকারী সেটি দিয়েই অন্যকে যাচাই করবেন। কাজেই, তিনি নিজে যা তা দিয়েই তিনি আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন এবং এটা স্বাভাবিক। যাই হোক, এ ধরনের ভাষা ও বাক্য প্রয়োগ করে বাস্তবতাকে আড়াল করা যায় না।

সাক্ষাৎকারে সাত বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তা এড়ানো গেছে বলে দাবি করেন আসাদ।

এই সব অসভ্যতা বন্ধ হবে কবে?

woman heckled in busমরিয়ম চম্পা : চলন্ত বাসে উঠার জন্য লড়াই চলছে। কেউ উঠতে পারছেন। কেউ পারছেন না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে নারীরা। ভিড় ঠেলে বাসের কাছে পৌঁছানোই দায়। ধাক্কাধাক্কির ভোগান্তি। বাসের হেলপারের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রায় একইরকম দৃশ্যের দেখা মেলে রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামোটর, ধানমন্ডি ও শাহ্‌বাগে।

অবশ্য এ চিত্র রোজকার দেখা যায়। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। এই হয়রানি। খোদ রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে নারীদের রাস্তায় বের হতে হয়। কেউ কর্মজীবী, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা নিজের আদরের সন্তানটিকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত এসব নারীর বড় অংশকেই কোনো না কোনো হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এসব অঘটনগুলো ভেঙেচুরে দেয় নারীর মনোজগৎ। তছনছ করে দেয় নারীর আত্মবিশ্বাসকে। নানা মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন অনেকে।

নারীদের রাস্তাঘাটে চলাচল যেন এক ধরনের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের কথা অনেকটা আক্ষেপ করে শোনালেন একাধিক নারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মিথিলা। মোহাম্মদপুর থেকে নিয়মিত ধানমন্ডি আসা-যাওয়া করেন তিনি। মিথিলা বলেন, বাসে উঠতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। ভিড় ঠেলে বাসে উঠা খুবই কষ্টকর। হেলপারদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণতো আছেই। ওরা বাসে উঠতে সাহায্য করার নামে পিঠে হাত দেয়। নিষেধ করলেও শোনে না। বলে না ধরলে পইরা গেলেতো দোষ দিবেন হেলপার আর ড্রাইভারের।

বাসে উঠার পর বসার আসন পাওয়া যায় না বেশির ভাগ দিন। মিনিবাসে তিন চারটি এবং বড় বাসে নয়টি সংরক্ষিত আসন থাকলেও পুরুষ যাত্রীরা ওইসব আসনে বসে থাকেন। আর উঠতে বললে বলেন, সমান অধিকার চাইলে দাঁড়িয়ে চলাফেরা করতে শিখুন। তিনি বলেন, কখনোও কখনোও বাসে ভিড় থাকলে হেলপাররা সিট খালি নেই বলে তুলতে চায় না। তাদের ধারণা নারী যাত্রীরা বাসে উঠতে-নামতে সময় বেশি নেয়। দাঁড়িয়ে যেতে বেশি জায়গা লাগে। সন্ধ্যার পর বাসে উঠা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

ফার্মগেট তেজতুরী বাজারের একটি ছাত্রী হোস্টেলে বাস করা নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি কোচিং উপলক্ষে প্রথম হোস্টেলে উঠি। প্রথমদিকে কোচিং ক্লাস করতে যাওয়ার সময় হোস্টেলের গেটে ৫-৬ জন কম বয়সী ছেলে পথ আটকে বসে থাকতো। অনেক কষ্টে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে কোচিং এর গেট পর্যন্ত পৌঁছতে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হতো ফুটপাতের হকার ও পথচারীদের দ্বারা। প্রথম একবছর ফার্মগেটের ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে কেটেছে অপরিচিত ব্যক্তিদের ধাক্কা ও কটূক্তি শুনে। কখন যে শরীরে ধাক্কা দিয়ে অবুঝের মতো চলে যেতেন বুঝতেই পারতাম না। প্রায়সই হোস্টেলে ফিরে অনেক কান্না করতাম। মনে হতো পুরো শরীরটাই যেন নোংরা হয়ে গেছে। যেখানে ধাক্কা খেতাম সেই স্থানটা পানি দিয়ে বারবার ধুয়েও যেন স্বস্তি পেতাম না। এরপরই স্থির করতাম এই শহরেই থাকবো না। রাগে দুঃখে বাবাকে ফোন দিয়ে বলতাম বাবা আমি এখানে থাকতে চাই না। আমাকে এসে নিয়ে যাও। আমি ঢাকাতে আর পড়বো না। বাবা বলতেন মামনি, পরিবেশ পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনাটাও একধরনের পরীক্ষা। একপর্যায়ে মোটা ও শক্ত মলাটের একধরনের ব্যাংকের ডায়রি ব্যবহার করা শুরু করি। ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় যেভাবে বুকের সামনে বই আগলে রাখতাম ঠিক একই ভাবে ডায়রি ব্যবহার শুরু করি। যেন কোনো অপরিচিত পথচারী ধাক্কা দিলে বরং সে নিজেই ব্যথা পায়। এভাবে আরও কতোদিন শক্ত মলাটের ডায়রি ব্যবহার করতে হবে জানি না।

নারী অধিকারকর্মী কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, ২০১৪ সালে একটি ‘বেইজ লাইন সার্ভে’ করা হয়। ২০১৭ সালে ‘নারীর সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা’- শিরোনামে বেসরকারি সংস্থা একশন এইড-এর প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায় হয়রানির নানা চিত্র। নগর উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যাস্বল্পতার কারণে নারীবান্ধব নগর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এর ফলে রাস্তাঘাট, ফুটপাত, মার্কেট, পরিবহন ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, পার্ক ইত্যাদি গণপরিসরে নারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি ও বিচরণ যথেষ্ট সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। আরো হতাশার দিক হলো- একজন নারী কিন্তু একাধিকবার একাধিক ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। যেমন গড়ে একজন নারী তিন মাসে ৪ থেকে ৫ বার অশোভন আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন, একইভাবে ৪ থেকে ৫ বার অপরিচিতের কাছ থেকে কুপ্রস্তাব পেয়েছেন। এবং ২ থেকে ৩ বার অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের মতো হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। যৌন হয়রানি বা নির্যাতন কোনো বিশেষ বয়সের নারীর ক্ষেত্রেই ঘটে না। কিশোরী বা প্রাপ্ত বয়স্ক সব বয়সের নারীর ক্ষেত্রেই এটা ঘটতে পারে।

সুমাইয়া খাতুন সুমী। পেশায় একজন ব্যাংকার। থাকেন পল্টনে। চাকরি করেন গাবতলীর একটি ব্যাংকে। পল্টন বাসস্ট্যান্ড থেকে ওয়েলকাম নইলে অন্য বাসে চড়ে গাবতলী যান। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নেমে নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য তিনি গাবতলীর আন্ডারপাস ব্যবহার করতেন। কিন্তু অপর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি তা ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।

সুমাইয়া খাতুন বলেন, পর্যাপ্ত আলো না থাকায় গাবতলী আন্ডারপাসের ভেতরে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেশি। একদিন আন্ডারপাস দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি সেখানে বসে নেশা করছিল। তারা তাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ কথা বলে। আন্ডারপাসের ভেতরে পরিবেশ ভালো না হওয়ার কারণে মেয়েরা এই আন্ডারপাস ব্যবহারও কম করে। এরপর থেকে তিনিও আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাবতলীর আন্ডারপাস ব্যবহার করেন না। ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নে নারীর চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আসে না। এর কারণ নগর উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়নে নারীর অংশগ্রহণ কম। ফলে নারীবান্ধব নগর কাঠামো তৈরি হয়নি।

ঢাকা শহরে নারীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া দরকার এ প্রসঙ্গে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবীর বলেন, দেশে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ এখনও গড়ে ওঠেনি। স্কুল-কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ার জন্য কোনো পাবলিক গাড়ি নেই। স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য বাথরুমের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বাথরুম নোংরা হওয়ার কারণে মেয়েরা তা ব্যবহার করা এড়িয়ে যায়। গার্মেন্টস কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফুটপাতে যে সব নারী, মেয়ে, শিশু অবস্থান করেন তাদের পাবলিক টয়লেট নেই। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশনে  ভোগেন তারা।

সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঘরে নারী যেমন সুরক্ষা পাবে, তেমনি নারী ঘরের বাইরে সুরক্ষা পাবে। তাদের কেন্দ্রে রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। যেমন- কর্মস্থল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নারী যাবেন তার যাতায়াতের নিরাপত্তার জন্য রাস্তাঘাট, ফুটপাত, পরিবহন কতখানি নিরাপদ। এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর চলাচলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট- রিকশা, বাস, টেম্পো, সিএনজি। সিএনজি, বেবিট্যাক্সি মেয়েদের চলাচলের জন্য কতটা নিরাপদ তা ট্রাফিক পুলিশকে দেখতে হবে। বাসে ড্রাইভার, হেলপার মেয়ে যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে কিনা তাও ট্রাফিক পুলিশেরই দেখার দায়িত্ব। এ ছাড়া মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। নইলে সাধারণ বাসে মেয়েদের আগে ওঠার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ কমানোর দায়িত্ব পরিবহন ম্যানেজমেন্টের।

ব্র্যাক-এর জেন্ডার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিশাত সুলতানা বলেন, সম্প্রতি আমরা ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনা মুক্ত সড়ক’- শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। যেখানে দেখা গেছে গণপরিবহনে শতকরা ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।

ব্র্যাক’র সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার অংশ হিসেবে আমরা গাজীপুর, টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেপাশের ১০০ টি স্কুলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এসব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানি সম্পর্কে তথ্য জানানো ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।  ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাস গবেষণাকর্মটি পরিচালিত হয়। ৪১৫ জন নারী এই জরিপে অংশগ্রহণ করেন। মূলত ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় নগর, উপনগর এবং গ্রামাঞ্চল এই তিন অঞ্চলের নিম্ন ও নিম্ন মধ্য আয়ের পরিবারের নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মৌখিক, শারীরিক এবং অন্যান্য যৌন হয়রানির শিকার হন। এরমধ্যে ৬৬ শতাংশ নারী জানায়, ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারাই নারীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ৩৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা ১৯-২৫ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহনে নারী নির্যাতনে কারণ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলো না থাকা, তদারকির (সিসিটিভি ফুটেজ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা) অভাবে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপরিবহন ব্যবহারকারী উত্তরদাতারা বলেন, শারীরিক যৌন হায়রানির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করা, চিমটি কাটা, কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেয়া, নারীদের চুল স্পর্শ করা, কাঁধে হাত রাখা, হাত, বুক বা শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে নারীর শরীর স্পর্শ করা ইত্যাদি। এসব ঘটনায় ৮১ শতাংশ নারী চুপ থাকেন। ৭৯ শতাংশ আক্রান্ত হওয়ার স্থান থেকে সরে আসেন।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ভন্ডামি’র অভিযোগ চীনের

নিজ দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ ক্রমাবনতির খবর নাই ; আছে শুধু প্রতিদ্বন্দী দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অতিরঞ্জিত বাগাড়াম্বর কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্ত্র ক্রেতা দেশগুলোর করুণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মুখে কুলুপ । যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র মুসলিম জনগোষ্ঠী কি পরিমাণ হেনস্তার শিকার সে পরিসংখ্যান সামনে আনলেই লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না । পুলিশ, বিমান-বন্দরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের (ICE) বর্বরতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তার কোনো বালাই নেই ! আমেরিকা শুধু নিজ দেশের মানুষদের-ই মানবাধিকার লংঘনকরছে না;অধিকিন্তু তারা ভিন্ন দেশের মানুষদের-ও মানবাধিকার ক্ষুন্ন করে চলেছে !

= = =

নিজ দেশে বর্ণবাদ ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মতো সমস্যা থাকার পরও চীনের মানবাধিকার বিষয়ে সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রকে ভন্ডামি দায়ে অভিযুক্ত করেছে চীন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার প্রতিবাদের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করে দেশটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সরকারকে ‘নৈতিকভাবে নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব দেশে প্রতিদিনই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মঙ্গলবার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে চীন। দেশটির মন্ত্রিপরিষদের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচারের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে ঘৃণা ছড়াচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মনে হয় বিশ্বে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই মানবাধিকার পরিস্থিতি নিখুঁত।’ এতে আরও বলা হয়, ‘২০১৭ সালের দিকে ফিরে তাকালে সামান্য বিচার-বুদ্ধিতেই বিষয়টি বোঝা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজের মানবাধিকার রেকর্ড বরাবরের মতোই ভয়ংকর আর তা অব্যাহতভাবে খারাপ হচ্ছে’।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ঝিনহুয়ায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকাদের খুনের অভিযোগে ভুল করে জেলে পাঠানোর ঘটনা আগের চেয়ে সাত গুণ বেড়েছে। এছাড়া দেশটিতে সহিংস অপরাধের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ওই প্রতিবেদনে বিবিসি ও সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যসূত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ধরন নিয়েও সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থের রাজনীতি এখনও বাড়ছে আর ধনীরা রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দিচ্ছে। দুর্বল ব্যক্তিদের ভোটদানের ক্ষেত্রে কঠিন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে আর রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির ঘটনা বাড়ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়ানানমেন চত্বরে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভে চীনের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

চীন নিয়মিতভাবে তার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে করা সমালোচনা অস্বীকার করে আসছে। পরিবর্তে দেশের কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তোলনের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে চীন। কিন্তু চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি কোনও ভিন্নমত সহ্য করে না। আর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশাসনকে বিভিন্ন সময় মানবাধিকার আইনজীবী ও আন্দোলন কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাতে দেখা গেছে।