আর্কাইভ

Archive for the ‘অপরাধ’ Category

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যৌনদাসীদের প্রথম ভিডিও প্রকাশ

অগাষ্ট 21, 2017 মন্তব্য দিন

chinese comfort women for japaneseদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য বাধ্যতামুলকভাবে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল অসংখ্য নারীকে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের মাঝ থেকে সেনারা শয্যাসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতো এদের কাউকে। এদেরকে বলা হতো ‘কমফোর্ট ওমেন’ বা স্বস্তি দেয়া নারী।

এমনই কিছু যৌনদাসীর প্রথম ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ওই ভিডিওটি ১৮ সেকেন্ডের। ফুটেজটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে কিছু গবেষক পেয়েছেন সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ইউএস আর্কাইভে। এটি চীনে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এতে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো বেশ কিছু নারীর সঙ্গে কথা বলছে এক চীনা সেনা সদস্য। তার উদ্দেশ্য কি তা বোঝা যায় নি। তবে ১৯৪৪ সালে মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল কোরিয়ার সাত জন নারীকে। তাদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তা কথা বলছেন তাকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর একজন চীনা ক্যাপ্টেন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মীদের দাবি, জাপানের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোরঞ্জন করতে দুই লাখ নারীকে জোর করে ঠেলে দেয়া হয়েছিল পতিতালয়ে। আর এতে যারা থাকতেন তাদেরকে বলা হতো কমফোর্ট ওমেন। এসব নারীর বেশির ভাগকে নেয়া হতো কোরিয়া থেকে। এছাড়াও ছিলেন চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের নারী, যুবতীরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সেনাবাহিনীর জন্য নারীদের জোরপূর্বক যৌনদাসী বানানো হয়েছিল এর স্বপক্ষে ফটোগ্রাফ রয়েছে। আছে জীবিতদের সাক্ষ্য। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে তার গবেষকরা বলেছেন, এই ফুটেজটি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সেনারা। ইউনান প্রদেশটি তখন ছিল জাপানের অধীনে।

নারীদের এভাবে জোর করে যৌনদাসী বানানোর বিষয়ে জাপানের ক্ষমা না চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে টান পড়েছে। ২০১৫ সালে দেশ দুটি একটি ঐকমত্যে আসে। তার অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষা চায় টোকিও। একই সঙ্গে নির্যাতিতদের ১০০ কোটি ইয়েন দিতে রাজি হয়। তারপরও এর উত্তাপ রয়েছে।

সম্প্রতি বুশানে জাপানের কনসুলেটের সামনে একটি ‘কমফোর্ট ওমেন’-এর মূতি বসায় জাপান। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়োজিত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

জহির রায়হানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে যত প্রোপাগান্ডা

অগাষ্ট 20, 2017 মন্তব্য দিন

http://egiye-cholo.com/zahir-raihan/

রাহমান রাদ : ”জহির রায়হান তো এক বিখ্যাত সাংবাদিক আছিল, বুঝলা? ফিল্মও ভি বানাইত। একাত্তর সালে গণ্ডগোলের সময় আওয়ামিলিগ নেতারা যখন পলায়া গিয়া কলকাতায় খারাপ পাড়ায় আকামকুকাম করতেছিল, তখন এই ব্যাটা হেইডি ভিডু কইরা একটা ফিল্মই বানায়া ফেললো। হের কাছে আরও তথ্য আছিল, ফাঁস কইরা দিতে চাইছিল। হ্যাঁর লাইগাই তো শেখ মুজিবে দেশে ফিরাই তারে গুম কইরা ফেললো। আহারে, বড় ভালো লোক আছিল!”

”এই যে আজ কিছু লোক গোলাম আজম সাহেব, নিজামী সাহেবদের বিরুদ্ধে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো জঘন্যতম অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালায়, আসল সত্যটা জানলে তো এদের পেট খারাপ হয়ে যাবে। আসল সত্যটা হচ্ছে, একাত্তরের গণ্ডগোলের সময় আসলে ভারতীয় সেনারা মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মবেশে খুন, ধর্ষন করে পাকিস্তানী সেনাদের উপর দোষ চাপিয়েছিল। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের পর দেশে ফিরে যাবার সময় তারা সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। জহির রায়হান এসব জানতেন। তার কাছে সব প্রমান ছিল। আর সেগুলো ফাঁস করে দিতে চেয়েছিলেন বলেই শেখ মুজিবের নির্দেশে “র” এর এজেন্টরা তাকে গুম করে ফেলে। নইলে স্বাধীন দেশে একটা জলজ্যান্ত মানুষ কিভাবে গুম হয়ে যাবেন?”

প্রথম প্যারাটা ক্লাস নাইনে পড়ার সময় হামিদ স্যার “সময়ের প্রয়োজনে” পড়াতে গিয়ে বলেছিলেন। আর দ্বিতীয় প্যারাটা ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় “কিশোর কণ্ঠ” পাঠচক্রে শিবিরের এক সফেদসৌম্য চেহারার এক আদিম বর্বর পাষণ্ডের মুখে শোনা। অনেক দিন পর্যন্ত কথাগুলো আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছিল। তারপর একদিন “সময়ের প্রয়োজনে” গল্পটা পড়লাম। অনেকক্ষন চুপচাপ বইটা জড়িয়ে ধরে বসেছিলাম সেদিন। চোখের পানিতে পাতাগুলো ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে যে কত অসংখ্যবার গল্পটা পড়েছি, ইয়ত্তা নেই। মুসলিম বাজার বধ্যভূমিটার উপর বিশালকায় মসজিদটা কিংবা পাশেই ওই শাদা পানির পাম্পটা- কত দিন গিয়ে পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকেছি, নিজেও জানি না। জহিরের কথা মনে পড়তো- ওই যে হালকা গড়নের সদা হাস্যোজ্জল মানুষটা, পকেটে মাত্র ছয় আনা নিয়ে একটা রঙিন সিনেমা বানিয়ে ফেলার সাহস করতো যেই বিস্ময়কর জাদুকর… সেই জহির রায়হানের কথা…

হাতের কাছে যা আছে, তাই দিয়েই সিনেমা বানাবো- এই ছিল মানুষটার মন্ত্র। অসম্ভব প্রতিভাধর ছিল, যা চাইতেন, নিখুঁত দক্ষতায় সেটা নামিয়েও আনতেন তিনি। ১৯৫৭ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে “জাগো হুয়া সাভেরা” দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা সেই ছেলেটা তার পরের ১৩ বছর উপহার দিয়ে যান ‘সোনার কাজল’ (১৯৬২), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সঙ্গম’ (উর্দু : ১৯৬৪), ‘বাহানা’ (১৯৬৫), ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৭) আর ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)’র মতো অসামান্য সব চলচ্চিত্র। অমিত প্রতিভার স্বাক্ষর হয়ে এই সময়টাতেই একে একে প্রকাশিত হয় শেষ বিকেলের মেয়ে, আরেক ফাগুন, বরফ গলা নদী, আর কত দিন-এর মতো কালজয়ী সব উপন্যাস আর সূর্যগ্রহন (১৩৬২ বাংলা), তৃষ্ণা (১৯৬২), একুশে ফেব্রুয়ারি (১৯৭০) কয়েকটি মৃত্য এর মত অভূতপূর্ব সব গল্পগ্রন্থ। ৭০’রের শেষদিকে তার উপন্যাস “আর কত দিন” এর ইংরেজি ভাষান্তরিত চলচ্চিত্র “লেট দেয়ার বি লাইট”-এর কাজে হাত দেন জহির। কিন্তু একাত্তরের সেই অভূতপূর্ব বিভীষিকা থামিয়ে দেয় সব!

একাত্তর জহিরের জীবনকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল এক বিচিত্র সমীকরণের সামনে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের ১৪৪ ধারা ভাঙ্গা প্রথম ১০ জনের একজন ক্র্যাক জহির রায়হান একাত্তরের পুরো সময়টা প্রাণ হাতে করে ছুটে বেড়িয়েছেন রক্তাক্ত বাঙলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি আর আদ্দিকালের একটা ক্যামেরা সম্বল করে বানিয়েছেন গণহত্যার উপর নির্মিত পৃথিবীর ইতিহাসের অবিসংবাদী সেরা পাঁচটি ডকুমেন্টরির একটি “স্টপ জেনসাইড” (নিজস্ব মতামত)। তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানীদের বর্বরতা আর নৃশংসতার এক অনবদ্য উপাখ্যান। “বার্থ অফ আ নেশন” ছিল তার সৃষ্টি, বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়ন’ আর আলমগীর কবীরের ‘লিবারেশন ফাইটারস’ এর পেছনের কুশীলবও ছিলেন তিনি। একাত্তরের রক্তাক্ত জন্মইতিহাসের অসংখ্য অধ্যায়ের খবর জানা ছিল তার, তাই দেশে ফেরার পর যখন বুদ্ধিজীবি হত্যা ও গণহত্যার তথ্য অনুসন্ধান এবং ঘাতকদের ধরার জন্য একটি কমিশন গঠন করলেন, তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে একটুও দেরি করেনি আলবদরের ঘাতকবাহিনী।

এ বি এম খালেক মজুমদার ছিল ৭১-এর কুখ্যাত আল বদর কমান্ডার। জহির রায়হানের বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে কালো কাপড়ে চোখ বেধে তুলে নিয়ে যাবার সময় তাকে চিনে ফেলেছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সারের স্ত্রী পান্না কায়সার। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে পান্না বলেছিলেন,

যখন ওকে (শহীদুল্লাহ কায়সার) অন্ধকার ঘর থেকে টান দিয়ে আমার সঙ্গে বারান্দায় নিয়ে এলো, পেছন থেকে ওর হাতটা ধরে আমিও বারান্দায় গেলাম। গিয়ে তাড়াতাড়ি সুইচটা অন করে দিলাম। সব আলো হয়ে গেল। সবার মুখে মুখোশ। আমার ননদ পাশ থেকে দৌড়ে এলো। ও তখন সন্তানসম্ভবা। উপায়ান্তর না পেয়ে একজনের মুখের কাপড়টা টান দিয়ে খুলে ফেলল। সে-ই ছিল খালেক মজুমদার (এ বি এম খালেক মজুমদার)

দেশে ফিরে দাদার নিখোঁজ হবার খবর পেয়ে একেবারে ভেঙ্গে পড়েন পাথরকঠিন মানুষ। দাদাই যে ছিল তার সবচেয়ে বড় আপনজন! দাদা আর নেই এটা তাকে কোনভাবেই বিশ্বাস করানো যায়নি। উদ্ভ্রান্তের মত খুঁজতে শুরু করেন দাদাকে। কয়েক দিনের মাথায় বুদ্ধিজীবি হত্যা ও গণহত্যার তথ্য অনুসন্ধান এবং ঘাতকদের ধরার জন্য একটি কমিশন গঠন করেন তিনি। জহির ছিলেন এই কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের বাশারত আলী। প্রতিদিন শত শত স্বজনহারা মানুষ আসতেন এই কমিটির অফিসে। জহিরের এই ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিশন প্রথমেই খালেককে গ্রেফতার করাতে সক্ষম হয়। খালেককে গ্রেফতার করাবার পর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ শক্তির ব্যাপারে প্রায় সব তথ্যগুলো তিনি গুছিয়ে এনেছেন। এখন শুধু জাতির সামনে উন্মোচনের অপেক্ষা। এরপর আর জহিরকে বাঁচিয়ে রাখার ঝুকি নিয়ে চায়নি নিজামি-মুজাহিদের আলবদর কিলিং স্কোয়াড…

হঠাৎ একদিন সকালে একটা ফোন পেলেন জহির রায়হান। সেদিন ছিল ৩০ জানুয়ারী। এর কয়েকদিন আগ থেকেই রফিক নামের এক ব্যক্তি জহিরকে আশ্বাস দিয়ে আসছিল যে, শহিদুল্লাহ কায়সার বেঁচে আছেন। তাকে জীবিত পাওয়া যাবে। জহিরের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার কবির বহু বার এই রফিককে ফ্রড এবং ধাপ্পাবাজ বলে জহিরকে বোঝাতে চাইলেও দাদার শোকে পাগল প্রায় জহির তাতে কর্ণপাত করেননি। এটাই তার কাল হয়েছিল। দাদাকে শুধু একটাবারের জন্য ফিরে পেতে পৃথিবীর সবকিছু দিতে রাজি ছিলেন জহির। সেই সুযোগটাই নিয়েছিল ঘাতকেরা! রফিককে ৩০শে জানুয়ারির পর আর খুঁজেও পাওয়া যায়নি।

সেদিন সকালে ‘মাস্তানা’ নামে এক বিহারী নৃত্যপরিচালক তাকে ফোন দিয়ে জানায়, তার বড় ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারসহ আরও কিছু বুদ্ধিজীবীকে মিরপুরে বিহারীরা আটকে রেখেছে। যদি সেই দিনের মধ্যে তিনি নিজে উপস্থিত না হন, তবে তার ভাইকে আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু মিরপুর তো বিহারীদের দখলে। কীভাবে তিনি সেই মৃত্যুপুরীতে যাবেন? কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেইদিনই বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব মইনুল হোসেন চৌধুরী সশরীরে এসে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন মিরপুরের বিহারীদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করে মিরপুর স্বাধীন করতে। সে উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্ট অভিযান চালাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী পুরো মিরপুর ঘিরে রেখেছিল। জহির ফোনটা রেখে বেরিয়ে গেলেন। সকালের নাস্তাটা ওভাবেই পড়ে রইল, ওই তার বেরিয়ে যাওয়া…

মিরপুর বিহারী এবং পাকিস্তানী সেনাদের দখলে থাকায় সেখানে সিভিলিয়ানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তাই চাচাত ভাই শাহরিয়ার কবিরসহ বাকিরা আর জহিরের সাথে মিরপুরে ঢুকতে পারেননি, সেনাদের কন্টিনজেন্টে একমাত্র সিভিলিয়ান ছিলেন জহির। সেনারা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো মিরপুর। এর মধ্যে মিরপুর সাড়ে এগারো নম্বর ধরে ১২ নম্বর সেকশনের দিকে যে দলটি গিয়েছিল তাতে ছিলেন জহির। দলটিতে ছিল প্রায় ৪৫-৫০ জন সেনা। গাড়িগুলো মিরপুর সাড়ে এগারো হতে ধীরে ধীরে মিরপুর ১২-এর দিকে অগ্রসর হতে হতে শাদা পানির ট্যাংকটার সামনে এসে থামে। হঠাৎই সকাল এগারোটার দিকে আচমকা কয়েকশো বিহারী এবং সাদা পোশাকের ছদ্মবেশে থাকা পাকিস্তান সেনারা ভারী অস্ত্র এবং ড্যাগার কিরিচ নিয়ে আল্লাহু আকবর স্লোগান দিতে দিতে এই দলটির উপর হামলা করে। প্রথমে ব্রাশফায়ারেই লুটিয়ে পড়েন জহির, একটু পর বিহারিগুলো প্রচণ্ড আক্রোশে জানোয়ারের হিংস্রতায় কুপিয়ে, খুঁচিয়ে, গুলি করে হত্যা করে প্রায় সবাইকে। তারপর কোপাতে কোপাতে লাশগুলো টেনে নিয়ে যায় মুসলিম বাজারের নুরী মসজিদের পেছনের ডোবার দিকে। বাঙলা ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকারের খন্ডবিখন্ড দেহ পড়ে থাকে এক কচুরিপানা ভরা ডোবায়…

*

২৮ টা বছর ওরা জহিরের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। একটা মিথ্যা একশবার বললে ধ্রুব সত্যের মতো শোনায়। ২৮টা বছর ধরে ওরা সত্যপুত্র যুধিষ্ঠির হয়ে শুনিয়েছে,

”একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর রাজাকার, আল-বদরেরা কোন গণহত্যা চালায়নি, সব করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা নাম ধারন করে। আওয়ামীলীগ নেতারা কলকাতার বেশ্যালয়ে ফুর্তি করেছে একাত্তরের নয়মাস, এই সকল তথ্য আর প্রমান জহির রায়হানের কাছে ছিল, তাই শেখ মুজিবের নির্দেশে “র” তাকে গুম করে ফেলে…”; ২৮টা বছর নিজামি-মুজাহিদ আর গোলাম আজমের মতো নিকৃষ্ট কীট এই জঘন্যতম মিথ্যাচার করে গেছে বিরামহীন, একটা দেশের জন্মপরিচয়কে মুছে ফেলতে চেয়েছে নিকৃষ্টতম ষড়যন্ত্রে…

তারপরই ১৯৯৯ সাল এলো…

১৯৯৯ সালে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে আবিষ্কৃত নূরী মসজিদ সম্প্রসারণ কাজ চলবার সময় শ্রমিকেরা মাটির সামান্য নিচে কংক্রিটের স্লাব দিয়ে মুড়ে দেওয়া একটা কুয়োর সন্ধান পায়। নির্মাণশ্রমিকরা কৌতূহলবশত স্লাবটা ভেঙ্গে ফেলার সাথে সাথে বেরিয়ে আসে ২৮ বছরের পুরনো নির্মম ইতিহাস। তিনটি মাথার খুলি এবং বেশকিছু হাড়সহ কাপড়চোপড় বেরিয়ে এলে শ্রমিকেরা ভয় পেয়ে যায়। আবিষ্কৃত হয় ৭১-এর এক অকল্পনীয় নির্মমতার ইতিহাস, কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫০০০ শহীদের শেষ ঠিকানা, মুসলিম বাজার নূরী মসজিদ বধ্যভূমি…

পরের দিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপারটা হাইলাইট হলে সাড়া পড়ে যায় শহীদদের স্বজনদের মাঝে। খবরটা পৌঁছে যায় বাবার খোঁজে পাগলপ্রায় পুত্র অনল রায়হানের কাছেও। তৎকালীন ভোরের কাগজের রিপোর্টার জুলফিকার আলি মানিক এই খবরটি কাভার করছিলেন। অনলের সাথে কথা বলবার পর তিনি জোরে সোরে অনুসন্ধান শুরু করলেন। সম্মিলিত অনুসন্ধানে পাওয়া গেল ৩০ শে জানুয়ারির সেই যুদ্ধে উপস্থিত থাকা এক সেনাসদস্যের। আমির হোসেন নামের এই সৈন্য সেইদিনের সেই দুঃস্বপ্নের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন…

আমাদের সাথে যে সাংবাদিক ছিলেন, তিনি কালো মতো একটা প্যান্ট পরেছিলেন। সাদা জামা এবং তার ওপর হলুদ রঙের সোয়েটার ছিল তার গায়ে। আমাদের উপর যখন হামলা হয়, তখন দেখলাম বুকে হাত চেপে ধরে-ওখানে একটা দেয়াল ছিল, তার গায়ে পড়ে গেলেন। দেখলাম, ওনার কাপড় রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তারপর আমি কিছুদূরে একটা গাছের পেছনে আশ্রয় নিয়ে দেখি কয়েকশো বিহারী ড্যাগার আর কিরিচ নিয়ে আল্লাহু আকবর স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসল। তারপর তারা মাটিতে পড়ে থাকা দেহগুলো কোপাতে কোপাতে টেনে পানির ট্যাংকের পশ্চিম দিকে টেনে নিয়ে গেল। তারপর আর আমি সেই লাশগুলোকে খুঁজে পাইনি।

১৯৯৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জুলফিকার আলি মানিকের প্রতিবেদন ‘নিখোঁজ নন, গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন জহির রায়হান’’ হইচই ফেলে দেয় সর্বত্র। এদিকে একই বছরের ১৩ আগস্ট সাপ্তাহিক ২০০০ এ (বর্ষ ২ সংখ্যা ১৪) বাবার নিখোঁজরহস্য উন্মোচন করে প্রকাশিত হয় জহির রায়হানের পুত্র অনল রায়হানের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন পিতার অস্থি’র সন্ধানে

অস্কার পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ। উপস্থাপকের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ, টানটান উত্তেজনায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। উপস্থাপকের ঠোঁটে রহস্যের হাসি। শেষ পর্যন্ত সেরা চলচ্চিত্রের নাম ঘোষিত হল, মনোনয়ন পাওয়া গুণী পরিচালকদের বিশ্বসেরা সব চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে সকলের বিস্ফোরিত দৃষ্টির সামনে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ঘোষিত হল Mirpur-The Last Battlefield এর নাম। সেরা স্ক্রিপ্ট, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি,সেরা সঙ্গীত সহ আরো ছয়টি বিভাগে অস্কার জিতলো মুভিটা, এর মধ্যে সেরা পরিচালকও ছিল। সেরা স্ক্রিপ্টরাইটারের অস্কারে ঘোষিত হল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লাহ কায়সারের নাম, সেরা সঙ্গীত পরিচালকের ক্যাটাগরিতে অস্কার পেলেন প্রথিতজশা সুরকার ও সঙ্গীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদ, আর সেরা পরিচালকের নামটা উচ্চারন করতে গিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেলেন উপস্থাপক… তারপর হঠাৎ গমগমে গলায় উচ্চারন করলেন, অ্যান্ড দ্যা অস্কার গোজ টু দ্যা ওয়ান অ্যান্ড অনলি, জহির রায়হান…

অপেক্ষায় হাস্যোজ্জ্বল উপস্থাপক, অপেক্ষায় অস্কারের ঝলমলে মঞ্চ, অপেক্ষায় পৃথিবী। শহীদুল্লাহ কায়সার, আলতাফ মাহমুদ, জহির রায়হানদের অপেক্ষায় মহাকাল। কোথায় ওঁরা? কোথায়?

তথ্যসুত্র-

  1. ডেথ অফ আ জিনিয়াস
  2. জামাতে মওদুদীর খালেক মজুমদারঃ এ ঘাতককে চিনে রাখুন
  3. জহির রায়হানঃ হারিয়ে যাওয়া এক সুর্যসন্তান
  4. জহির রায়হান : অন্তর্ধান বিষয়ে ১৯৭২ সালের একটি লেখা
  5. লেট দেয়ার বি লাইট
  6. জহির রায়হানের ছেলে অনিল রায়হানের প্রতিবেদন- পিতার অস্থি’র সন্ধানে 

ইয়েমেনে সব পথ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে সৌদি

অগাষ্ট 20, 2017 মন্তব্য দিন

yemen attackমাথার ওপর পড়ছে বোমা। দুর্ভিক্ষে মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে কলেরা। এভাবেই ত্রিমুখী ট্র্যাজেডি মরণছোবল হেনেছে ইয়েমেনে। এই মহামারীর জন্য দায়ী একমাত্র সৌদি নেতৃত্বাধীন নয় দেশীয় জোটের সামরিক আগ্রাসন। তারা দেশটির জলস্থলআকাশপথ রুদ্ধ করে মারছে ইয়েমেনবাসীকে। গত দুই বছরে সৌদি জোটের হামলা এবং অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় মারা গেছে ১৪ হাজার মানুষ। যার বেশিরভাগই শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনিদের ওপর সৌদি বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব জনমতের কাছে তুলে ধরতে বাধ্য হলো জাতিসংঘ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের এক খসড়া প্রতিবেদনে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পেঁৗছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সৌদির প্রতি। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। খবর আলজাজিরা ও দি ইনডিপেন্ডে।

ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বু মানসুর হাদির পক্ষ নিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাত করতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি জোট। একই সঙ্গে রাজধানী সানার এয়ারপোর্টসহ ইয়েমেনের জল, স্থল ও আকাশপথ সব অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। জোটের বিমান হামলায় গত দুই বছরে মারা গেছেন ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ হাজার। অন্যদিকে, অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে দেশটিতে খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। সঙ্গে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা। এতে গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষ কলেরায় প্রাণ হারিয়েছেন। মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ বাসিন্দা।

জাতিসংঘের মতে, দেশটির আড়াই কোটি বাসিন্দার সবাই দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় প্রাণ হারাতে বসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ইয়েমেনে সংঘাতরত সব পক্ষকে দেশটির স্থলপথ, আকাশপথ ও বন্দর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল স্টেফেন ওব্রায়েন শুক্রবার বলেন, ইয়েমেনের বাসিন্দাদের বাঁচাতে হলে সব অঞ্চলে নিঃশর্তভাবে মানবিক ত্রাণ পেঁৗছানোর সুযোগ দিতে হবে। সানার বিমানবন্দর দ্রুত খুলে দিতে হবে। বাণিজ্যিক ও বেসামরিক যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে দেশটির শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে নিহত শিশুদের ৫১ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছে সৌদি জোটের আগ্রাসনে। রিপোর্টে বলা হয়, গত দুই বছরে ইয়েমেনে সাড়ে ৬ শতাধিক শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩৫০ শিশু মারা গেছে সৌদির বিমান হামলায়। তাই সৌদিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ও শিশুঘাতক সরকারগুলোর কালো তালিকায় স্থান দিতে হবে বলে বিশ্বজনমত জাতিসংঘের কাছে প্রত্যাশা করছে।

‘সিরিয়ায় কয়েক দশক থাকার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা’

অগাষ্ট 19, 2017 মন্তব্য দিন

american bases in syriaসিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতনের পর মার্কিন সেনাদেরকে সেখানে কয়েক দশক মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ার একটি গেরিলা গোষ্ঠী এ তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, সিরিয়াকে মুক্ত করার জন্য মার্কিন সেনারা দামেস্ক-বিরোধী যোদ্ধাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে না; তাদের ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স বা এসডিএফ’র মুখপাত্র তালাল সিলো গতকাল (বৃহস্পতিবার) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা মনে করি দায়েশের পতনের পর এখানে মার্কিন সেনাদের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।” সিলো বলেন, “সিরিয়ায় ঢোকার বিষয়ে আমেরিকার কয়েক দশক ধরে কৌশল ছিল। এখন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চুক্তি হবে।”

সিরিয়া ও তুরস্ক সীমান্তের ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় কুর্দি প্রভাবিত এসডিএফ’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ বিস্তীর্ণ সীমান্তের কয়েক জায়গায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি’র প্রধান জানিয়েছিলেন,  সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন সেনারা আটটি ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে।

US soldiers in Syria

মার্কিন মিডিয়া মালিকদের একটি বিবরণ

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

us-media-controlবিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে আমেরিকায়,‘করপোরেট মিডিয়া’ বলে একটি কথা চালু আছে। করপোরেট মিডিয়া করপোরেশনের সিইও দ্বারা পরিচালিত এবং তারা মিডিয়াতে কনটেন্ট কী হবে, কাদের কাছে বিক্রি হবে এবং কত অর্থ সেখান থেকে আসবে তা নির্ধারণ করেন। করপোরেট মিডিয়া এবং মূলধারার মিডিয়ার সঙ্গে সংঘাত অনেকদিনের। মার্কিন মিডিয়া মালিকদের একটি বিবরণ দেখলেই বোঝা যাবে তাদের সংবাদমাধ্যমের অবস্থাটি আসলে কোথায়।

কমকাস্ট, এনবিসি, উনিভার্সাল পিকচার্স ও ফোকাস ফিচার্স’এর মালিক জেনারেল ইলেকট্রিক; নিউজকর্পের মালিকানাধীন আছে ফক্স, ওয়াল স্ট্রিট জর্নাল এবং নিউ ইয়র্ক পোস্ট; এবিসি, ইএসপিএন, মিরাম্যাক্স ও মার্ভেল স্টুডিওজের মালিক ডিজনি; এমটিভি, নিক জেআর, বিইটি, সিএমটি ও প্যারামাউন্ট পিকচার্সের মালিক ভিরাকম; টাইম ওয়ার্নারের মালিকানাধীন আছে সিএনএন, এইচবিও, টাইম ম্যাগাজিন ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স; এবং শেষে শো’টাইম, স্মিথসোনিয়ান চ্যানেল, এনএফএল ডট কম, জেওপার্ডি ও সিক্সটি মিনিট্’সের মালিক সিবিএস। এই ছয় করপোরেশন আমেরিকার নব্বই শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

আমেরিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি যে টিভি চ্যানেলটি দেখে তা হলো এনবিসি। এই এনবিসির মালিক হচ্ছে জেনারেল ইলেকট্রিক। জেনারেল ইলেকট্রিক হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা তাদের পারমাণবিক দিকটি কারো কাছে প্রকাশ করতে চায় না। পশ্চিমারা যতই তাদের সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন বলুক না কেন, এমন একটি পারমানবিক অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির টিভি চ্যানেল কতটা স্বাধীন হতে পারে তা আলোচনা সাপেক্ষ। অনেকে বলতে পারেন, হ্যাঁ তারা সরকারের হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীন। দেখা যায়, আমেরিকায় এবং সারা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মালিক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষেরা।

হত্যার ষড়যন্ত্রে সিআইএ’র লম্বা ইতিহাস

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

CIA waterboardingউত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ দেশটির। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবু নানা দেশে বিরোধী মতাবলম্বী নেতাদের গুপ্তহত্যা-উচ্ছেদের মার্কিন ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন বার্তাই দেয়।

ভিন্নমতাবলম্বী-রাশিয়া ঘনিষ্ঠ, এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন নেতাকে উচ্ছেদের ইতিহাস বা হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কিউবার সাবেক নেতা প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রো। যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র বারবার নস্যাৎ করে দেয়ার বিষয়ে এই মহান নেতা একবার বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, ‘গুপ্তহত্যা থেকে বাঁচার কোনো প্রতিযোগিতা অলিম্পিকে থাকলে আমি স্বর্ণপদক জিততাম।’

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দপ্তর এক বিবৃতিতে সম্প্রতি জানায়, সিআইএ তার পুরনো এই (গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র) পন্থা ছাড়েনি। কিম জং-উনকে হত্যার এই ষড়যন্ত্রে হাত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একজন উত্তর কোরীয় এই হত্যার প্রচেষ্টায় সরাসরি জড়িত বলেও জানিয়েছে দেশটি। পিয়ং-ইয়ংয়ের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টকে হত্যায় ব্যবহার করা হতো এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যাতে তেজস্ক্রিয় ও বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। এই বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশের পর ছয় থেকে ১২ মাস পর কাজ করে।

অভিযোগটি উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়, কারণ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে হত্যা এবং উচ্ছেদে সিআইএ’র তৎপরতা সর্বজনবিদিতই। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি হত্যাপ্রচেষ্টা চালিয়েছিল ফিদেল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে। যিনি ৯০ বছর বয়সে গত বছর মৃত্যুবরণ করেন। কিউবার সমাজতান্ত্রিক এই নেতাকে হত্যার প্রচেষ্টাগুলোও ছিল বেশ অভিনব, গোয়েন্দা চলচ্চিত্রগুলোকেও যেন তা হার মানিয়ে দেয়। এর মধ্যে ছিল ক্যাস্ত্রোর প্রিয় চুরুটে বিস্ফোরক গুঁজে দেয়া, স্কুবা ডাইভিং স্যুটে বিষ মাখিয়ে দেয়ার মতো চমৎকৃত পন্থা। খোদ যুক্তরাষ্ট্রই তাকে আটবার হত্যা চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে, তবে কিউবার দাবি তা শত শত।

বহু বিদ্রোহের পর ১৯৫৯ সালে কিউবার নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়া কাস্ত্রোকে ৬৩৮ বার হত্যার চেষ্টা করে সিআইএ! এমন দাবি কাস্ত্রোর ৪৯ বছরের শাসনামলের পুরো সময় তার নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফেবিয়ান এসকালান্তের। কাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা বেশির ভাগই হয় ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক “চ্যানেল ফোর” কাস্ত্রোকে হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে ‘৬৩৮ ওয়েজ টু কিল কাস্ত্রো’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ করে, যা ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে সম্প্রচার করা হয়।

তবে কাস্ত্রোর ক্ষেত্রে বিফল হলেও ১৯৪৫ সাল থেকে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে হত্যা ও উচ্ছেদে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সফল হয়েছে। কখনো এই তৎপরতা সরাসরি আবার অধিকাংশ সময়ই তা পরিচালিত হয় স্থানীয় সেনা, স্থানীয় ভাড়াটে অপরাধী বা বিদ্রোহীদের দিয়ে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে সিনেট পরিচালিত এক তদন্তের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই কার্যক্রম অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তদন্তে সিআইএ’র অভিযানের মাত্রা প্রকাশ করা হয়। ওই তদন্তের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ১৯৭৬ সালে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। যেখানে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো কর্মচারী রাজনৈতিক গুপ্তহত্যা বা এর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত হবে না।’

ওই নির্বাহী আদেশের ফলে সিআইএ’র কর্মকান্ড অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যা সংস্থাটির জন্য নিঃসন্দেহে ছিল অস্বস্তিকর। এছাড়াও তা কেন্দ্রীয় সরকারের একধরনের স্বীকারোক্তি যে, যুক্তরাষ্ট্র অনুপ্রাণিত অভ্যুত্থান বা গুপ্তহত্যা অনেক সময় ভিন্ন ফল দেয়।

তবুও যুক্তরাষ্ট্র কখনো এই নীতি থেকে সরে আসেনি। শুধু তাদের এই তৎপরতার নামকরণ ‘গুপ্তহত্যা’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে ‘পরিকল্পিত হত্যা’। তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিল অভিযুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ নেতাদের ওপর বোমা বা ড্রোন হামলা চালানো। যেমন,২০১১ সালে নিহত হয়েছিলেন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ার স্লোবোদান মিলোসেভিচ এবং ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেইন।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের এমন তৎপরতার যেসব ইতিহাস বেশ তথ্যসমৃদ্ধ তার মধ্যে রয়েছে, কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিক লুমুম্বা। যাকে অত্যন্ত রাশিয়া-ঘনিষ্ঠ বলে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৬০ সালে সিআইএ তাকে হত্যার জন্য প্রাণঘাতী ভাইরাসসহ একজন বিজ্ঞানীকে পাঠায়, যদিও তা ছিল নিষপ্রয়োজন। কেননা ১৯৬০ সালেই তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন।

এছাড়াও ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন গুপ্তহত্যার টার্গেট হন ডোমিনিকান রিপাবলিকের শাসক রাফায়েল তুজিলো (১৯৬১ সালের মে মাসে গুপ্তহত্যার শিকার), ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ (১৯৬৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত এবং ১৯৭০ সালের জুনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গৃহবন্দি) এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগো দিন দিয়েম (১৯৬৩ সালের নভেম্বরে গুপ্তহত্যার শিকার)। ১৯৭৩ সালে সিআইএ চিলির বামপন্থি প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দেকে উৎখাত-প্রচেষ্টা সংগঠনে সহযোগিতা করেছিল, অভ্যুত্থানের দিনই নিহত হন আলেন্দে।

চা-পাত্রে পোলোনিয়াম রাখার চেয়ে আরও অনেক অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র; বিশেষ করে এই ইলেকট্রনিক ও সাইবার যুগে। চলতি বছরের শুরুতে উইকিলিকসের ফাঁস করা এক নথিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে সিআইএ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল। এক্ষেত্রে সফল হলে তারা অনায়াসেই গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে মূল প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও তাদের কম্পিউটার সিস্টেমের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বর্বরতম পাঁচ নৃশংসতা

অগাষ্ট 18, 2017 মন্তব্য দিন

ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদেরকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সত্যিকার গল্প বলেনি। বিশ্বব্যাপী লুটপাট চালিয়েই যে ব্রিটেন নিজ দেশের শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়েছিল এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল; এবং অন্যদিকে উপনিবেশগুলোকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিয়েছিল সে সম্পর্কে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো সচেতনতা সৃষ্টিরও চেষ্টা করা হয়নি।

এমনকি ইউগভ ডটকমের এক জরিপে দেখা গেছে ব্রিটিশরা সাধারণত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং নিজেদের ঔপনিবেশিক অতীত নিয়ে গর্ব বোধ করেন। জরিপে দেখা গেছে, ৪৪% ব্রিটিশ তাদের ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে গর্ব বোধ করেন। আর মাত্র ২১% ব্রিটিশ বিশ্বব্যাপী তাদের সাম্রাজ্য স্থাপনের বিষয়ে আক্ষেপ করেন।

একই জরিপে দেখা গেছে, ৪৩% ব্রিটিশ বিশ্বাস করেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য একটি ভালো ব্যাপার ছিল। যেখানে মাত্র ১৯% ব্রিটিশ মনে করেন তা খারাপ ছিল। আর ২৫% বলেছেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভালোও ছিল না আবার খারাপও ছিল না।

১৯২২ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন এর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির চূড়ায় ছিল তখন ব্রিটিশরা বিশ্ব জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশের ওপর কর্তৃত্ব করত এবং বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি তাদের দখলে ছিল।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সমর্থক ও অনুরাগীরা বলে আসছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্বব্যাপী দখলকৃত উপনিবেশগুলোতে নানা ধরনের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি ব্রিটিশরা তাদের উপনিবেশগুলোতে গণহত্যা, দুর্ভিক্ষ এবং নির্যাতন-নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য সব ঘটনা ঘটিয়েছে।

এখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পাঁচটি বর্বরতম নৃশংসতা তুলে ধরা হলো :

১. আফ্রিকায় বোয়ের বন্দিশালা

দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেয়াজিল্যান্ডে সংঘটিত দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধ (১৮৯৯-১৯০২) চলাকালে ব্রিটিশরা বোয়ের জনসংখ্যার প্রায় এক ষষ্ঠাংশকে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে। বন্দিদের বেশির ভাগই ছিল নারী ও শিশু। ওই বন্দিশালায় ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষকে বন্দি করা রাখা হয়েছিল এতে।

খাদ্যের অভাব ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণে প্রায় ২৭ হাজার ৯২৭ জন বোয়ের বন্দি মারা যায়। আর অজানা সংখ্যক কালো আফ্রিকানেরও মৃত্যু হয়।

২. অমৃতসর গণহত্যা

১৯১৯ সালের ১৩ এ্রপ্রিল ভারতের অমৃতসরে ব্রিটিশ সরকারের একটি আদেশ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হচ্ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদেরকে জালিয়ানওয়ালা বাগানের দেয়ালের ভেতরে আটকে ফেলা হয়। এবং ব্রিটিশদের অনুগত গুর্খা সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করে। মাত্র ১০ মিনিটের এই বর্বর হামলায় আহত হন আরও অন্তত ১১০০ মানুষ।

এই হামলার নেতৃত্ব দানকারী ব্রিগেডিয়ার ডায়ারকে ব্রিটিশ জনগণ একজন মহানায়ক বলে আখ্যায়িত করেছিল। এবং তার জন্য একটি পুরস্কার তহবিলে গঠন করে ২৬ হাজার পাউন্ড দান করেছিল।

৩. ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি

১৯৪৭ সালে মাত্র একবেলা দুপুরের খাবার খেতে যতক্ষণ সময় লাগে সেই সময়কালের মধ্যেই ব্রিটিশ কর্মকর্তা সিরিল রেডক্লিফ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানা ভাগ করেছিলেন। এর পর হিন্দু ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। আর ওই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

৪. মাউ মাউ বিদ্রোহ

১৯৫১-১৯৬০ সালে কেনিয়ার মাউ মাউ বিদ্রোহ দমনের সময় ব্রিটিশরা কেনিয়ার অন্তত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে হত্যা করে। এ সময় ধর্ষণ ও বন্দিশালায় নির্যাতন চালিয়েও অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে ব্রিটিশরা। কেনিয়া পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ওই ঘটনার ক্ষতিপূরণে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করেছিল।

৫. ভারতবর্ষে দুর্ভিক্ষ

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনে থাকাকালে ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ মারা যায় দুর্ভিক্ষে। অথচ একই সময়ে ভারত থেকে বছরে লাখ লাখ টন গম পাচার হতো ব্রিটেনে।

১৯৪৩ সালে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাতেই শুধু মারা যায় ৪০ লাখ মানুষ। অথচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সে সময় বাংলায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য ব্রিটিশ সেনা ও গ্রিকদের জন্য সরবরাহ করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

উইনস্টন চার্চিল বাংলার ওই দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমি ভারতীয়দের ঘৃণা করি। কারণ তারা মানুষ নয়, পশুর মতো। আর তাদের ধর্মও পাশবিক। এই দুর্ভিক্ষের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। কারণ খরগোশের মতো অসংখ্য সন্তান জন্ম দিয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানোর ফলেই খাদ্যের অভাবে এই দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।’