প্রথম পাতা > অপরাধ, আন্তর্জাতিক, ইসলাম, ধর্মীয়, রাজনীতি, সমাজ > শিয়া হত্যার মচ্ছব ; সৌদীতে শিয়া দমন অভিযান !

শিয়া হত্যার মচ্ছব ; সৌদীতে শিয়া দমন অভিযান !

kabul shia mosque bombedমধ্যপ্রাচ্য বিশেষত সৌদী আরব থেকে পেট্রো ডলারের বদৌলতে কট্টর সুন্নী ওয়াহহাবীবাদ / সালাফিজম দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ায় সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে শিয়াদের সম্পর্কে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে যা এক দশক আগেও পরিলক্ষিত হতো না । আফগানিস্তান থেকে রাশিয়ানদের হটাতে সিআইএ-এর পরিকল্পনায়, সৌদী অর্থায়নে ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এক বিরাট জনগোষ্ঠীকে ওয়াহহাবীবাদে দীক্ষিত করে তোলা হয় । জন্ম হয় তালেবানদের যারা মূলত ওয়াহহাবীদের বিশ্বাসী । শুরু হয় প্রায় প্রতি শুক্রবার পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বোমাবাজি করে শিয়া নিধনের মচ্ছব।

হাল-আমলে পাকিস্তানে শিয়া হত্যা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসলে-ও আবার আইএস-এর প্ররোচনায় নতুন করে শিয়া নিধনের মচ্ছব শুরু হয়েছে । আইএস কট্টর ওয়াহহাবীবাদে দীক্ষিত এবং ইরাক ও সিরিয়াতে প্রচুর শিয়া নিধন করে যাচ্ছে । সৌদী গ্রান্ড মুফতি’র মুখে আমরা শিয়ারা অমুসলিম ফতোয়া শুনেছি । এতে শিয়া হত্যা আরো বেগবান হয়েছে । এখন তারা আফগানিস্তানে তাদের হত্যাযজ্ঞের প্রসার ঘটাতে শুরু করেছে । তাদের এই শিয়া-বিদ্বেষ এতোটাই তীব্র যে কাফির-মুশরিকরা তাদের কাছে শিয়াদের চেয়ে শ্রেয় মনে হয় ।

বাংলাদেশে শিয়া বিদ্বেষ ছিলো প্রায় শূণ্যের কোঠায় । কিন্তু সৌদী ফেরত বাংলাদেশী আলেমদের টিভি মিডিয়াতে প্রচারণা, আহলে হাদীস আন্দোলন, জাকির নায়েকের পিস টিভি, জামাত-শিবির ও বিডি সালাফী গ্রুপের কারণে এখন বাংলাদেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী প্রচন্ড শিয়া বিদ্বেষে আক্রান্ত ! শিয়া হত্যায় এখন তাদের অনেকের মধ্যে কোনো চিন্তাক্লিষ্টতা দেখা যায় না।

= = =

আফগানিস্তানে শিয়া মসজিদে হামলায় নিহত ৫০

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে একটি শিয়া মসজিদে নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮০ জন। আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাদেশিক গভর্ননের মুখপাত্র জালানি ফরহাদ জানান মৃতের সংখ্যা ৫০ এ পৌঁছেছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এশার নামাজের সময় মসজিদটিতে হামলা চালায় আত্মঘাতী হামলাকারীরা। এ সময় মসজিদে আনুমানিক ৩০০ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। খবর আল জারিরার।

হেরাত পুলিশের মুখপাত্র আবদুলহাই ওয়ালিজাদা বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন একজন আত্মঘাতী সুইসাইড ভেস্ট পরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এবং আর একজন অস্ত্রধারী মুসল্লিদের ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছেন। তারা দু’জনই নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় আহত মোহাম্মদ হাদিদ নামে একজন বলেন, প্রথম হামলাকারী মসজিদের বাইরে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর দু’জন হামলাকারী একসঙ্গে মসজিদে ঢোকে এবং লোকজনের দিকে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করে।’
===
সৌদি শহর কাতিফ থেকে পালাচ্ছে শিয়ারা

আল-জাজিরা : কাতিফ শহরে বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই অভিযানের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন শত শত শিয়া বাসিন্দা। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাতিফ। শহরটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শিয়া মতালম্বী। স্থানীয় শিয়াদের অভিযোগ, তারা সরকারের বৈষম্যের শিকার।

তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সৌদি কর্তৃপক্ষ । ২০১১ সালে আরব বসন্তের কাল থেকেই কাতিফে সঙ্ঘাত চলছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে সরকারি বাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। শিয়া বিদ্রোহীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পুলিশসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছে। কাতিফের আওয়ামিয়া অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায়ই তাদের বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ থাকতো না। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠে যেত। স্থানীয় আন্দোলনকারীরা দাবি করে, ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করতে সেখানকার শিয়া পরিবারগুলোর বাড়ির সামনে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনীর ভূমিকার কারণেই স্থানীয়রা পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি তাদের। পালিয়ে যাওয়া শিয়া পরিবারগুলোর একাংশ নিকটবর্তী শহরে সাময়িকভাবে আশ্রয় নিয়েছে।

===

শিয়া অধ্যুষিত আওয়ামিয়া শহর গুড়িয়ে দিয়েছে সৌদি বাহিনী
আরটিএনএন, ৪ আগস্ট,২০১৭

রিয়াদ: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিয়া মুসলমান অধ্যুষিত আওয়ামিয়া শহরটি গুড়িয়ে দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শহরটিকে অবরুদ্ধ করে সেখানে নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সরকারি সেনারা। এ শহরের শত শত অধিবাসী পালাতে সক্ষম হয়েছেন এবং তারা পার্শ্ববর্তী দাম্মাম শহরে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।

মিডল ইস্ট আই নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ আওয়ামিয়া শহরের আল-মোসারা এলাকাকে বাধ্যতামূলকভাবে খালি করার কর্মসূচি হাতে নিয়ে এগুচ্ছে।

শহরের মানবাধিকার কর্মীরা জানাচ্ছেন, লোকজনকে ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং তাদের অর্থ-সম্পদ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। সৌদি বাহিনী শহরের ওপর নির্দ্বিধায় গুলি চালাচ্ছে এবং তাতে ঘর-বাড়ি ও গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, বেশকিছু ঘর-বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে- আওয়ামিয়া শহরকে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ভাঙা ঘর-বাড়িতে এখনো যারা রয়েছেন তারা বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি থেকে আবর্জনা সরানো হচ্ছে না এমনকি ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও আগুন নেভাতে আসছে না।

আমিন নেমের নামে এক মানবাধিকার কর্মী বলেন,‘জোর করে শহর থেকে লোকজনকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব মানুষ কোথায় যাবেন তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

আওয়ামিয়া শহরটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ এলাকায় অবস্থিত। শহরটিকে গত মে মাস থেকে সৌদি সামরিক বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ওই সময় থেকে আল-মোসারা ধ্বংস করা শুরু করেছে তারা।

সৌদি সরকার দাবি করছে, মোসারা এলাকাকে সন্ত্রাসীরা তাদের আস্তানা বানিয়েছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সেখান থেকে তারা হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা ও জাতিসংঘ বলছে, শিয়া মুসলমান অধ্যুষিত মোসারা শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করার চেষ্টা করছে সৌদি সরকার। গত কয়েকদিনে শহরটিতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন, শিয়া মুসলমান অধ্যুষিত শহরটিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: