প্রথম পাতা > ইতিহাস, জীবনী, প্রযুক্তি, বাংলাদেশ > উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম পাইলট মুস্তফা আনোয়ার

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম পাইলট মুস্তফা আনোয়ার

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম পাইলট ক্যাপ্টেন মুস্তফা আনোয়ারের জন্মশতবার্ষিকী ২৪ জুলাই উপলক্ষ্যে তাকে নিয়ে বিশেষ রচনা লিখেছেন তার স্ত্রী, খ্যাতিমান লেখিকা সুস্মিতা ইসলাম
= = =
pilot mustafa anwarক্যাপ্টেন মুস্তাফা আনোয়ারের জন্ম ১৯১৭ সালের ২৪ জুলাই যশোরের গড়াই নদীর তীরে তার নানাবাড়ি কমলাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম কবি গোলাম মোস্তফা আর মায়ের নাম জমিলা খাতুন। তিনি তার পিতা-মাতার প্রথম সন্তান। তিনি যেমন সুন্দর চেহারা, তেমনি সুস্বাস্থ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে তিনি গ্রামের সব রকম খেলাধুলা, যেমন-ফুটবল, সাঁতার, লাঠিখেলা, কুস্তি ইত্যাদি খেলাতে গ্রামের অন্য ছেলেদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তার সমকক্ষ গ্রামে অন্য কেউ ছিল না।

পিতা কলকাতায় শিক্ষকতা করতেন ও সপ্তাহের শেষে একবার গ্রামে এসে শিশু আনোয়ার ও তার মাকে দেখে যেতেন বলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত আনোয়ার তার নিজ গ্রাম মনোহরপুর ও শৈলকূপায় পড়েছিলেন।

বাল্যশিক্ষায় আনোয়ারের তেমন অগ্রগতি হচ্ছিল না। এটা বুঝতে পেরে আনোয়ারের ১১ বছর বয়স হলে পিতা তাকে সঙ্গে করে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার শ্রেষ্ঠতম স্কুল হেয়ার স্কুলে ক্লাস ফোরে ভর্তি করে দেন। কবি স্বয়ং তখন ওই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বাল্যকাল থেকেই আনোয়ারের অজানাকে জানার প্রবল আগ্রহ ছিল, কিন্তু স্কুলের প্রথাগত শিক্ষায় কখনও সেভাবে মনোসংযোগ করতে পারতেন না। সবসময়ই মনের মধ্যে একটা নতুন কিছু করার তাড়না তাকে অস্থির করে রাখত। কিন্তু সেই নতুন যে কী-সে সম্বন্ধে তার কোনো ধারণাই ছিল না। এই মন নিয়েই আনোয়ার ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়ে হেয়ার স্কুলে ক্লাস টেন অবধি প্রমোশন পান এবং এই ক’বছরে ক্লাসের সব ছেলের মধ্যে সব সময়ই প্রথম দশজনের মধ্যে নিজের স্থান বজায় রাখতে পেরেছিলেন।

এ সময়ে একদিন আমিনুল ইসলাম বলে একটি ছেলের I.M.M.T.S Duffrin -এর প্রবেশ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার রিপোর্ট ক্লাসে এলে আনোয়ার সেই প্রথম জানলেন I.M.M.T.S Duffrin একটি জাহাজ। যে জাহাজে ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য ছেলেদের উপযুক্ত বিশেষ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়। আর ওই জাহাজটি থাকে বম্বের সমুদ্রে-শহরের কাছাকাছি জায়গায়। প্রতি বছর শিক্ষার জন্য ৪০ জন ছাত্রকে বেছে নেওয়া হয় এবং তারা ভারতের সব প্রদেশ থেকেই এসে প্রবেশ পরীক্ষা দেয়। [প্রথম পৃষ্ঠার পর]

সেদিনকার এই খবর আনোয়ারের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দিল। তার মনে হয়েছিল, এতদিন ধরে তিনি এমনই একটি পথের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু ওই জাহাজ সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানার জন্য তার মন অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠল এবং সৌভাগ্যবশত সে সুযোগও এসে গেল। পিতার সঙ্গে পিতার কোনো এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন, ভদ্রলোক I.M.M.T.S Duffrin-এর Governing Body-এর একজন মেম্বার। তিনি স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ আনোয়ারকে দেখে কবিকে বললেন আনোয়ারকে Duffrin-এ পাঠাতে। কিন্তু কবি তার কথার কোনো জবাব না দিয়ে নিরুত্তর রইলেন। আর আনোয়ার প্রবল উৎসাহে তার কাছ থেকে Duffrin-এর Programme এবং ওখানকার লেখাপড়া সম্পর্কে যতদূর সম্ভব খবর নিয়ে উৎফুল্ল চিত্তে বাড়ি ফিরে এলেন। তারপর প্রবলভাবে জেদ ধরে বসলেন, (I.M.M.T.S Duffrin Indian Merchant Marine Trainig Ship. এটি একটি মার্চেন্ট মেরিন অফিসারদের স্কুল।) স্কুলের ওই প্রথাগত শিক্ষা বাদ দিয়ে Duffrin-এ ভর্তি হবেন। পিতার প্রচণ্ড শাসন এবং সেই সঙ্গে প্রহার-কোনো কিছুই আনোয়ারকে তার সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে পারল না। শেষে একদিন পিতার প্রচণ্ড প্রহারের পর রাতের মধ্যখানে, যখন সবাই ঘুমে নিমগ্ন, তখন আনোয়ার ছোট একটি স্যুটকেসের মধ্যে নিজের ২-৪টি জামা-কাপড় ও জমিয়ে রাখা ২০টি টাকা সম্বল করে গৃহত্যাগী হন।

সেই রাতটা Sealdah স্টেশনের পুলিশের কাছে রাতটুকু কোনোমতে কাটাবার পারমিশন নিয়ে ভোর না হতেই কাছেই হ্যারিসন রোডে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে ও তার কাছ থেকে আরও কয়েকটি টাকা ধার নিয়ে সোজা রাঁচিতে চলে যান পিতার এক বন্ধুর কাছে। সেখানে গিয়ে তার গৃহত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বললে সেই ভদ্রলোক তৎক্ষণাৎ টেলিগ্রাম করে কবি সাহেবকে জানান যে, তার পুত্র তার কাছেই আছে এবং ভালো আছে।

এদিকে আনোয়ার নিখোঁজ হওয়ার পরে তখন বাড়িসুদ্ধ সবার পাগলের মতো অবস্থা। কবি গোলাম মোস্তফা সেই টেলিগ্রাম পেয়ে আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সোজা রাঁচিতে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আনোয়ারকে Duffrin-এ পাঠাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঙ্গে করে কলকাতায় নিয়ে আসেন।

Duffrin-এর Admission Test তখন কলকাতাতেই হলো প্রেসিডেন্সি কলেজে তিন দিন ধরে। কিন্তু আনোয়ার যেদিন রাঁচি থেকে কলকাতায় এসে পেঁৗছেছিলেন, তখন পরীক্ষার মাত্র ২৭ দিন বাকি ছিল। আনোয়ার তার স্বপ্ন সফল করার প্রবল ইচ্ছায় সেই অল্প দিনের মধ্যেই দিন-রাত এক করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেন ও একটানা তিন দিন পরীক্ষা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই Qualifying পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। তারপর পিতার সঙ্গে বম্বেতে গিয়ে Medical ও Interview-িতে পাস করে ১৯৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি I.M.M.T.S Duffrin-এর Cadet হিসেবে যোগ দেন। এর তিন বছর পরে ট্রেনিং শেষ হলে ‘Extra First Class Certificate’ ও Most Efficient Senior Cadet Captain হিসেবে Sawyer Prize পেয়ে Cadet হিসেবে জাহাজে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

সাগরের অভিজ্ঞতা

ডাফরিনের ট্রেনিং শেষ হলে আনোয়ার ১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি B.I.S.N. Co. (ব্রিটিশ ইন্ডিয়া স্টিম নেভিগেশন কো.)‘S.S. Chyebassa’ নামক জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। জাহাজে কর্মরত অবস্থায় ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট টেলিগ্রাম মারফত মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং জাহাজে খুব বেশি Sea Sickness হওয়ার দরুন ১৯৪০ সালের নভেম্বর মাসে এত কষ্টে অর্জিত জাহাজের চাকরিতে চিরজীবনের মতো ইস্তফা দেন।

তার এই আচরণ তার পিতাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করে এবং নিজের প্রবল অসম্মতি সত্ত্বেও পুত্রের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তাকে Duffrin-এ ভর্তি হতে যে শেষ পর্যন্ত সাহায্য করেছিলেন, এবার তার ধারেকাছেও গেলেন না। এই চঞ্চলমতি পুত্রকে কোনোভাবে সাহায্য করতে তিনি একেবারেই নারাজ রইলেন।

এ সময় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব ব্রিটিশ কলোনিতে যেমন Civil Air Reserve Corps গড়ে তোলা হচ্ছিল, ভারতেও তার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হলে আনোয়ার সেখানে দরখাস্ত দিয়ে মনোনীত হন ও ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে বিহার Flying Club-এ যোগদান করেন।

আনোয়ারের Air Force-এর অভিজ্ঞতা

১৯৪০ সালের ডিসেম্বর মাসে Civil Air Reserve Corps-এর জন্য মনোনীত হয়ে ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে বিহার ফ্লাইং ক্লাবে যোগদান করেন।

১৯৪১ সালের ৯ এপ্রিল সিভিল ফ্লাইং ক্লাবের ট্রেনিং সম্পন্ন করে ওই মাসেই Indian Air Force-এর nitial officers Training School-এ Officer Cadet হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৪১ সালের ২৩ মে I.T.S-এর ট্রেনিং শেষ করে যোধপুরের No 2 Elementary Flying Training School-এ যোগ দেন।

১৩ মে ১৯৪১ বিহার Flying Club থেকে Pilots ‘A’ লাইসেন্স পান।

১৯৪১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আম্বালার Intermediate Training Centre-এ কৃতিত্বের সঙ্গে ট্রেনিং সম্পন্ন করে Advanced Training-এ যোগ দেন ও ১৯৪১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ‘WING’ লাভ করেন।

১৯৪২ সালের ১০ জানুয়ারি Ormament Training-এর জন্য ‘KOHAT’-থ-এ যান ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। Flying ও Bombing উভয় বিভাগেই বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে পেশোয়ারে গিয়ে No 3 Squadron-এ যোগ দেন।

Kohat-এ থাকতে বিদ্রোহী আফ্রিদিদের ওপরে Bombing-ও করতে হয়েছিল তাকে। তার রুমমেট ওই Bombing করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। আফ্রিদিরা বন্দুক ছুড়ে তার প্লেন নামিয়ে নিয়েছিল।

১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে Instructor-এর কোর্সে যোগ দিয়ে ১৯৪২ সালের September মাসে সার্থকতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করে I.T.S.-এ Instructor নিযুক্ত হন।

১৯৪৩ সালের ৩০ অক্টোবর D.C.A.-এর রিজার্ভ পাইলট হিসেবে বিহার Flying Club-এ যোগ দেন।

১৯৪৫ সালের ২২ জুন Pilots ‘A’ লাইসেন্স পান।

১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল Pilots ‘B’ লাইসেন্স পান। নম্বর ৩১৪।

আনোয়ারের সিভিল এভিয়েশনের অভিজ্ঞতা : এই সময় যুদ্ধও শেষ হয়েছে। আর ভারতের উৎসাহী ব্যবসায়ীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত DAKOTA বিমানগুলো কিনে সেগুলোকে সম্পূর্ণ সারিয়ে নিয়ে ভেতরে প্যাসেঞ্জার বসার উপযোগী সিট বসিয়ে নিয়ে Airlines-এর জন্য শুরু করে দেন। এ ব্যাপারে সবার চেয়ে প্রথম ছিলেন বম্বের এক পার্সি তরুণ ব্যবসায়ী, যার নাম ছিল ‘Mistri’থ, তিনি নিজের নাম দিয়েই ভারতের সিভিল এভিয়েশনের প্রথম Airlines-এর সূচনা করেন। সেই প্রথম Mistri Airlines-এ আনোয়ার যোগ দিলেন Flying Officer হিসেবে ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর।

১৯৪৬ সালের ১৬ অক্টোবর Pilots লাইসেন্স পান আনোয়ার। (No : 77/314; Date of Issue : 8.10.46)

১৯৪৭ সালের জুন মাসে ডালমিয়া জৈন এয়ারওয়েজে জুনিয়র ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।

১৯৫০-এর আগস্ট মাসে Senior Capt. হিসেবে প্রমোশন পান।

১৯৫১ সালের জুন মাসে Airways India-তে Govt. Approved Check Pilot-এর পদ পান।

১৯৫৬ সালের আগস্ট মাসে DC-4-এর ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হোন। পরে VISCOUNT-এর Check Pilot হিসেবে কাজ করেন ১৯৫৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে কাজ করার সময় Capt. Anwar V.I.P পাইলট ছিলেন। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু যখন প্রথমবার চৌ এন লাইকে ইন্ডিয়াতে আমার নিমন্ত্রণ জানান, তখন Capt. Anwar-ই তাকে কুনমিং থেকে দিলি্লতে এনে আবার ফেরার পথে কুনমিংয়ে পেঁৗছিয়ে দিয়েছিলেন। Capt. Mustafa Anwar ‘Indian Airways’ নামে একটি বই লেখেন। ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Thalker & Spinls বইটি ছাপে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স সম্পর্কে সেটিই ছিল প্রথম বই।

এরপর ১৯৫৯ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের Pakistan International Airlines-এর Viscount বিমানের চেক পাইলট হিসেবে যোগদান করেন ও তখনকার কর্মরত আমেরিকান চেক পাইলট ক্যাপ্টেন বার্নলারের স্থানে নিজে কর্ম করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানে আসেন ১৯৫৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের পরের মডেলের VISCOUNT কিনেছিল বলে সেই নতুন মডেলের প্লেনে Training-এর জন্য P.I.A আনোয়ারের Emergency Passport করিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারিতেই লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়।

পরে Capt. Barnales-এর কাজের শেষ দিনে (১৪ আগস্ট ১৯৫৯) তিনি যখন একজন জুনিয়র পাইলটকে ট্রেনিং দিচ্ছিলেন, তখন Observer হিসেবে আনোয়ার সেই প্লেনে (City of Dhaka) গেলে জুনিয়র পাইলটটির ভুলে করাচি বিমানবন্দরের ওপরেই প্লেনে আগুন ধরে যায় এবং আনোয়ার ও ক্যাপ্টেন বার্নলার উভয়েই প্রাণ হারান। যে জুনিয়র পাইলটের ভুলে এই দুর্ঘটনা ঘটে, তার নাম এজাজ কোরেশী, তিনি প্রাণে বেঁচেছিলেন, কিন্তু জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। জীবনে মতো Flying থেকে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আনোয়ার যখন মারা যান, তখন তার Log Book-এ ১৪,৫০০ ঘণ্টার Flying-এর রেকর্ড ছিল। Civil ও Air Force মিলিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে তার মতো অভিজ্ঞ অন্য কোনো Pilot ছিলেন না। তার পরেই যার স্থান ছিল তার নাম আজগার খান। তিনি Air Foirce-এর পাইলট ছিলেন এবং তখন তার মাত্র ৭০০০ ঘণ্টা Flying hours ছিল। সে জন্য সেদিন মাত্র ৪১ বছর বয়সে আনোয়ারের এই অপঘাতে মৃত্যু সারা পাকিস্তানে জাতীয় শোকে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে এই শোকের ছায়া মিলাতে বহু দিন সময় লেগেছিল। ১৫ আগস্টের Pakistan Times-এ আনোয়ারের জীবনীসহ এই খবর বের হয়েছিল, তাতে লিখেছিল- Mustafa had about 14000 hours flying to his credit. A record which no Pakistani pilot had ever attained.’

কলকাতার Statesman পত্রিকায় ২৫ আগস্ট Capt. Anwar-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ খবর ছাপা হয়েছিল।

এ ছাড়া NewYork Times ও Spain-এর একটি পত্রিকায় এই দুঃসংবাদ ছাপা হয়েছিল দুঃখের সঙ্গে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দেশ তাকে মনে রাখেনি। আজকের প্রজন্মের বৈমানিকেরা তার নামও জানে না। এ দোষ হয়তো সম্পূর্ণ তাদের নয়, আমরাই জাতি হিসেবে কেমন যেন ইতিহাসবিমুখ হয়ে পড়েছি। তা ছাড়া মনে হয়, এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অগ্রজদের যোগ্য সম্মান দিতে বড়ই কুণ্ঠিত। তাই এই প্রজন্মের ছেলেমেয়ে ও তরুণ বৈমানিকদের জন্যই বিশেষ করে আমার এই লেখা।

আজ তার জন্মশতবার্ষিকীতে তার ‘সাগর ও আকাশ’-এর স্বর্ণোজ্জ্বল অভিজ্ঞতা যদি একটি ছেলেমেয়েকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাহলে আমার এ লেখা সার্থক হবে।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: