আর্কাইভ

Archive for ডিসেম্বর 19, 2016

বেকারত্বের জ্বালা মেটাতে চাইলে পড়ুন…

unemployment-problem

Advertisements

সমাজে বহুল প্রচলিত কপটতার কিছু নমুনা…

hypocritic behaviour.jpg

ভিন্নধর্মী কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান…

different-type-schools

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

sea-me-we-5-cableবহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের মার্সেলি থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সাউথ ইস্ট এশিয়ামিডল ইস্টওয়েস্টার্ন ইউরোপফাইভ (সিমিউই) কেবলে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় এই সাবমেরিন কেবল সংযোগের গ্রাউন্ড লোকেশন ঠিক করা হয়েছে। নতুন সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আরো ১ হাজার ৩০০ জিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়া যাবে। আর এসএমডব্লিউএর চেয়ে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী এসইএএমইডব্লিউই৫। তবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী মার্চ মাসে আসতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ক্যাপাসিটি মিডিয়াএক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কনসোর্টিয়ামে বাংলাদেশ (বিএসসিসিএল) ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছে, মালয়েশিয়া (টেলিকম মালয়েশিয়া), সিঙ্গাপুর (সিংটেল), ইন্দোনেশিয়া (টেলিন), মিয়ানমার (এমপিটি), শ্রীলংকা (শ্রীলংকা টেলিকম), পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ডিইউ), সৌদি আরব (এসটিসি), ওমান, মিসর, জিবুতি (জিবুতি টেলিকম), তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালি (টিআইএস), চীন (চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম এবং চায়না টেলিকম) ও ইয়েমেন (টেলি ইয়েমেন)। ১৮টি দেশের ১৯টি ল্যান্ডিং স্টেশনে যুক্ত হবে এ কেবল।

গভীর সমুদ্রে স্থাপন করা মূল কেবল থেকে একটি সংযোগ কেবলের মাধ্যমে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এটির ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে কুয়াকাটায়। এছাড়া মিসরের আবু তালাত, ইয়েমেনের আল হুদাইদাহ, ওমানের বারকা, ইতালির কাতানিয়া, জিবুতির জিবুতি সিটি, ইন্দোনেশিয়ার দুমাই ও মেদান, আরব আমিরাতের ফুজেইরাহ, পাকিস্তানের করাচি, তুরস্কের মারমারিস, শ্রীলংকার মাতারা, মালয়েশিয়ার মেলাকা, মিয়ানমারের নগওয়ি সাউঙ্গ, থাইল্যান্ডের সাতুন, ফ্রান্সের তৌলন, সিঙ্গাপুরের তুয়াস, সৌদি আরবের ইয়ানবু ও মিসরের জাফারানাতে ল্যান্ডিং স্টেশন থাকবে এ কেবলের।

১০০ গিগাবাইটস পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) ডিডব্লিইডিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা এসইএএমইডব্লিউই৫ সাবমেরিন কেবলটির ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা ২৪ টেরাবিটস পার সেকেন্ড (টিবিপিএস)। এসইএএমইডব্লিউই৫ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে স্থাপন করা নতুন এ কেবল যাবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম ইউরোপে। এর মধ্যেমধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও সংযুক্ত হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ লক্ষে প্রায় ৬৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারের ১৬৬ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) ১৪২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে। বাকি ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)

প্রসঙ্গত, বিকল্প সাবমেরিন কেবল সংযোগ স্থাপন, আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সংখ্যা ও ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশও এ কনসোর্টিয়ামের অন্যতম সদস্য হিসেবে কেবলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে সরকার রিজিওনাল সাবমেরিন কেবল টেলিকমিউনিকেশন্স প্রজেক্ট, বাংলাদেশ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিএসসিসিএলকে এসইএএমইডব্লিউই৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে অনুমতি দেওয়া হয়। এসইএএমইডব্লিউই৫ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০১৪ সালের ৭ মার্চ চুক্তি করে বিএসসিসিএল। এর আগে ২০০৫ সালে একই কনসোর্টিয়ামের অধীনে এসইএএমইডব্লিউই৪ নামে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

সূত্রঃ প্রিয়.কম

ছেলে গুগলের প্রকৌশলী, বাবা আজো দিনমজুর!

ramchandraভারতের রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ২৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে সজাত শহরের রামচন্দ্র (২৬) গুগলে চাকরি করেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর তাঁর বাবা তেজারাম সংখলা (৫০) এখনো প্রতিদিন বস্তা টানেন। দিন শেষে ৪০০ রুপি আয় করেন!

তবে রামচন্দ্র তাঁর বাবা ও মাকে ভুলে যাননি। নিজে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। বাবা তেজারাম ঋণ করেছেন। গুগলে চাকরি হওয়ার পর সেই ঋণ শোধ করেছেন রাম, এলাকায় বাড়ি করেছেন। বাবা তেজারামকে বলেছেন বিশ্রাম নিতে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস ভুলতে পারছেন না তেজারাম। সকাল হলেই চলে যান মেহেদি পাতার বস্তা তুলতে। ট্রাকে মেহেদি পাতার বস্তা তুলে দেন। অর্থ উপার্জনের জন্য নয় আনন্দের জন্য কাজটা করেন তিনি।

২০১৩ সালে গুগলে চাকরি পান রামচন্দ্র। চলতি বছর এপ্রিলে সিয়াটল চলে যান তিনি। এরপর বাবাকে বিশ্রাম নেওয়ার কথাই বলছেন রাম। কিন্তু তেজারাম জানান, কাজ না করে তিনি থাকতে পারবেন না।

রামচন্দ্র বলেন, ‘আমি বাবাকে বলেছি কাজ না করতে। কিন্তু তিনি শোনেন না।’

সজাতে সরকারি একটি হিন্দি মাধ্যম স্কুলে পড়েন রামচন্দ্র। ২০০৯ সালে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি রোরকেতে ভর্তি হন। স্থানীয় এক আদালতের কর্মকর্তার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রামচন্দ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরে সেমিস্টার ফি দিয়েছেন ওই শহরেরই অন্য এক বাসিন্দা।

রামচন্দ্র বলেন, শহরের লোকজন আমাকে কিছু কাপড় ও একটি স্যুটকেস কিনে দেন। পরে সবাই চাঁদা তুলে ৩০ হাজার রুপি দিয়ে আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেন। দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই আমি শিক্ষা ঋণ পেয়ে যাই। যা দিয়ে আমার বাকি পড়াশোনাটা চলে যায়।

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে স্কলারশিপ থেকে আসা টাকা থেকে জমাতেও শুরু করেন রামচন্দ্র। সেই জমানো অর্থ দিয়ে ৭০ হাজার রুপি দিয়ে মা ও বাবাকে একটা রান্নাঘর করে দেন তিনি।

গুগলে চাকরি পাওয়ার পর বাবা তেজারামের সব ঋণ শোধ করেন রামচন্দ্র। তাঁর বাবা ঋণ করেন সাড়ে তিন লাখ রুপি এবং শিক্ষা ঋণ ছিল পাঁচ লাখ রুপি। সব অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছেন রামচন্দ্র। বাবা ও মায়ের জন্য একটা বাড়ি করে দিয়েছেন রাম। আর কিনেছেন দেড় একরের একটি কৃষি জমিও। মা রামি দেবী ওই জমি দেখাশোনা করেন।

রামের মা মারি দেবী ছেলের বেশ প্রশংসা করলেন। তিনি বলেন, ‘ও ছোটবেলা থেকেই বেশ ভালো ছাত্র ছিল। আমরা জানতাম ও আমাদের দিন বদলে দেবে।’

রামচন্দ্র জানালেন, তিনি যখন ঋণ পরিশোধ করতে যান, তখন অনেকেই এ টাকা নিতে চায়নি। তাঁরা পরামর্শ দেন, অন্য কোনো ভালো শিক্ষার্থীকে এভাবেই সাহায্য করতে।

উৎসঃ দ্য হিন্দুস্তান টাইমস