প্রথম পাতা > ইতিহাস, বাংলাদেশ, রাজনীতি, সমাজ > পতাকার ফেরিওয়ালা মোবারক

পতাকার ফেরিওয়ালা মোবারক

ডিসেম্বর 16, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

victory-day-flagsএস এম এরশাদ : মো. মোবারক হোসেন। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা সদরের ডৌহাকলা গ্রামে। পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন। জন্ম দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক যুগ পরে। পেশায় সে দিন মজুর। কিন্তু বিজয়ের মাসে নতুন স্বপ্ন দেখে মোবারক। তাই এই মাসে দিন মজুরের কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা হাতে। এ পতাকা তুলে দেন স্বাধীন দেশের নতুন প্রজন্মের হাতে হাতে। বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করা তার পেশা। সারাদিন পায়ে হেটে বিভিন্ন শহর এলাকায় পতাকা বিক্রি করে সে। রাতে যে শহরে পতাকা বিক্রি করেন সে এলাকাতেই ভাড়ায় রাত্রি যাপন করেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা সদরের ডৌহাকলা গ্রামে। পিতার নাম মো. আলাউদ্দিন।

রোববার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সামনে পতাকা হাতে তার সাথে কথা হলে জানায়, আটনয় বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। পেশায় সে ডেকোরেটর ও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রির ভরা মৌসুম হলেও ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে মাত্র ২দিন পতাকা বিক্রির সময় পায়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে পতাকা বিক্রি করে থাকেন। এ বছরও ১ ডিসেম্বর থেকে পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন এবং তা চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় বোন ময়মনসিংহ মহিলা কলেজে বিএ অনার্স, ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট বোন নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। তাদের লেখাপড়ার খরচ তাকেই বহন করতে হয়। তাছাড়া বাবামা সহ সংসারে ছয়জনের খাবারের খরচও তার উপার্জন করতে হয়। এ কারণে জীবনের ঝুকি নিয়ে বিপুল পরিমান পতাকা হাতে তার মির্জাপুরে আসা। আর এ পতাকার অধিকাংশ নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়ে ও গাড়িতে বিক্রি করে উপার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। আর সেই টাকা ভাইবোনের লেখাপড়া ও সংসারে খরচ করবে বলে জানায় মোবারক।

তার কাছে সাত রকমের পতাকা রয়েছে। এগুলো হলো স্টিকার, লাঠি পতাকা, মাথার ফিতা, জিরো পতাকা, ২ ফুট, সাড়ে তিন ফুট এবং ৫ ফুট পতাকা। পতাকার সাইজ অনুসারে এর ক্রেতাও আছে বলে জানায় সে। স্টিকার বিক্রি করেন ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের কাছে। লাঠি পতাকা বিক্রি করেন রিকসা ও সাইকেল চালকদের কাছে। জিরো পতাকা বিক্রি করেন মোটরসাইকেল এবং ছোট যানবাহনের চালকদের কাছে। মাথার ফিতা কেনেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের পতাকা বিক্রি করে বলে মোবারক জানায়।

এত ব্যবসা থাকতে এ ব্যবসা কেন এমন প্রশ্নে সে বলে, আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বড় হতে চাই। দেশে এখনও অনেক রাজাকার রয়েছে। পতাকা বিক্রি করতে এসে তাদের অনেক কথায় শুনতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন দেশ স্বাধীন হইনাই। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে ভরে গেছে। এসব কথা শুনতে খুবই কষ্ট লাগে। কিছুই বলতে পারিনা। ব্যবসার জন্য। জামায়াতশিবিরের মুক্তিযোদ্ধবিরোধী তাবে সেই চেতনা ভুলন্ঠিত হতে চলেছে। তারা পতাকা বিক্রি করে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মরণ করিয়ে দিতে চান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের কথা। আর স্বাধীনতার দীপ্ত চেতনা মানুষের মনে জাগ্রত করতে তার এ ব্যবসায় আসা। ব্যবসায় তার লাভ যাই হোক এই অর্জনকে সে বড় করে দেখছেন। মোবারক জানান, প্রাণের পতাকা কাঁদে নিয়ে শহরবন্দর ঘুরে বাড়ি ফিরে যাবেন। ১৬ ডিসম্বরের পর থেকে সে আবার তার পুরনো দিন মজুরের কাজে নেমে পড়বে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতার মাস মার্চ আসলে বেরিয়ে পড়বে পতাকা হাতে পথে প্রান্তরে।

victory-day-flags-making

bd-flags-comilla

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: