প্রথম পাতা > অপরাধ, ইতিহাস, ইসলাম, ধর্মীয়, নারী, বাংলাদেশ, রাজনীতি, সমাজ > বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস এবং এখনকার বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা

বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস এবং এখনকার বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা

ডিসেম্বর 15, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

rayerbazar-5তসলিমা নাসরিন : বয়স অল্প ছিল একাত্তরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি নতুন পতাকা হাতে নিয়ে হাটে মাঠে ঘাটে স্বাধীনতার উৎসব করতাম। প্রতি বছর ষোলোই ডিসেম্বর এলে ভোররাত্তিরে উঠে বাড়ির ছাদে পতাকা উড়িয়ে দিতাম, আমার দেশের পতাকা। দেশটিকে একাত্তরের পর থেকে নিজেরই ভেবেছি। আমার দেশটি এখন আর আমার নয়। মনে মনে যদিও একে আমার বলেই ভাবি। খুব গোপনে, সন্তর্পণে ভাবি একে আমার বলেই। দেশের শত্রুরা আমাকে দেশ থেকে সেই দুদশক আগে তাড়িয়ে ঘোষণা করে দিয়েছিল এ দেশ আমার নয়। এরা দেশের সেই শত্রুদেরই বান্ধব অথবা সন্তান যে শত্রুরা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যে শত্রুরা একাত্তরে ধর্ষণ করেছে আমাদের নারী, যে শত্রুরা হত্যা করেছে দেশের বুদ্ধিজীবী, হত্যা করেছে অগণিত নিরপরাধ মানুষ।

বর্বর শত্রুসেনা নির্যাতন করেছে আমাদের পরিবারের সবাইকে। লুট করেছে আমাদের বাড়িঘর, সহায় সম্পদ। শুধু প্রাণটুকু বাঁচাতে একাত্তরের নমাস এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পালিয়ে বেড়িয়েছি। গভীর অন্ধকারে মোষের গাড়িতে চেপে অনাত্মীয় অপরিচিত বাড়িতে গিয়েছি, আশ্রয় চেয়েছি। শত্রুদের আগুনে গ্রামের পর গ্রাম পুড়ে যেতে দেখেছি। যে শত্রুরা পাকিস্তানি বর্বর সেনা দিয়ে আমাদের বাড়ি লুট করিয়ে ছিল, অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ছুঁড়ে দিয়েছিল আমাদের তারাই আজ দেশের আপনজন। আর আমি এবং আমার মতোরা আপাদমস্তক নিষিদ্ধ।

ওরা চট জলদি হত্যা করেছিল বুদ্ধিজীবীদের। আজ ওরা নিরাপদে, নিশ্চিন্তে, ভেবেচিন্তে বুদ্ধিজীবী হত্যার ছক আঁকে এবং এক এক করে বুদ্ধিজীবী হত্যা করে। ওরা ধরা পড়ে না, ওরা ধিকৃত হয় না, লাঞ্ছিত হয় না। সত্য বলতে কী, ওদের কোনও শাস্তি হয় না। আমি যদি দেশে থাকতাম, অনেক বছর আগেই ওরা আমাকে কুপিয়ে মেরে ফেলত। বাংলাদেশ যখন প্রতিবছর চৌদ্দই ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস পালন করে, তখন আমি ভাবি এই দিবস শুধু একটি দিনে বা দিবসে কেন সীমাবদ্ধ? মুক্তচিন্তা বা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের দেশের সর্বত্র প্রায়ই হত্যা করা হচ্ছে কুপিয়ে। নৃশংসতার সাধারণত সীমা থাকে, এই নৃশংসতা সীমাহীন। বছরের যে কোনো দিনেই খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে তটস্থ আমাদের বুদ্ধিজীবীরা, আমাদের মুক্তচিন্তকরা। শুধু মৌলবাদীরাই যে আমাদের নির্যাতন করছে তা নয়, বাকস্বাধীনতাবিরোধী আইন বানিয়ে মুক্তচিন্তকদের গ্রেফতার করছে সরকার, জেলেও পুরছে।

একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে, লক্ষ করছি, তারাও আজ কাঁদছে, যারা এখনকার মুক্তচিন্তকদের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি। এর নাম ভণ্ডামো নয়তো? একাত্তরে মুসলিম মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম আমরা বাঙালিরা। যুদ্ধ করেছিলাম পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করেছিলাম, বাংলাদেশ তার নাম। বাংলাদেশ এই নামটি উচ্চারণ করলেই এক সময় ময়ূরের মতো নাচতো মন। সেই মন কোথায় আজ? সেই মন কিন্তু ভিনভাষী ভিনদেশি কেউ এসে নষ্ট করেনি, নষ্ট করেছি আমরাই। আমরাই স্বাধীনতার শত্রুদের আদর আপ্যায়ন করেছি। আমরাই আমাদের ধর্ষক আর খুনিদের বড় আসন দিয়েছি বসতে। প্রতিদিনই তো আমরা আমাদের অসাম্প্রদায়িক আদর্শকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দেখছি, কিন্তু কিছু বলছি না। যে সন্ত্রাসীরা আমাদের হত্যা করেছিল, তাদের পুনর্বাসন আমরাই করেছি, আমরাই এখন ওদের হাতে নিজেদের খুন হয়ে যাওয়া দেখছি। দেখছি কিন্তু কিছু বলছি না। বলছি না কারণ আমরাও ভেতরে ভেতরে একটু আধটু মৌলবাদী, আমরাও ভেতরে ভেতরে একটু আধটু সাম্প্রদায়িক। এই আমরাটা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধি মাননীয় মন্ত্রীবৃন্দ।

সাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্রটি নিজেকে অনেকটাই বদলে নিয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার দিকে বলে কয়েই যাত্রা শুরু করেছে। আজ তার একটি রাষ্ট্রধর্ম আছে। স্বাধীন আর পরাধীন রাষ্ট্রের শাসকে আজ আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে, শাসকেরা জানে, মৌলবাদীদের আশীর্বাদের প্রয়োজন। আমাদের ক্ষমতালোভী শাসকেরা গদি রক্ষার্থে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে ওলামা লীগ, হেফাজতে ইসলাম নামক ভয়ংকর মৌলবাদী দলগুলোকে। এর শুরুটা অবশ্য হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। আমার বিরুদ্ধে যখন লাখো মৌলবাদীর মিছিল হল, আমার মাথার মূল্য নির্ধারণ করা হল, প্রকাশ্যে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হল তখন সরকার মৌলবাদীদের পক্ষ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিল এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করল। সরকারের না হয় গদির লোভ ছিল। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করেছিলাম তখনকার সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী সমাজ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ তো করেননি উল্টো কী দরকার ছিল ওভাবে লেখার জাতীয় মন্তব্য করে বিষয়টিকে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে গেছেন। আজকের বাংলাদেশ সেই এড়িয়ে যাওয়ারই ফল। একের পর এক প্রগতিশীল ব্লগার, লেখক, শিক্ষক, ছাত্র হত্যার পরও তাঁরা নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। দেশ মৌলবাদীদের দখলে যাচ্ছে যাক, তাতে তাঁদের কিচ্ছু যায় আসে না। তাঁরা মেতে আছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক এবং নানা পদক পুরস্কার নিয়ে। অঢেল অর্থ থাকার পরও তাঁরা চিকিত্সার জন্য সরকারি অর্থের আশায় থাকেন। এঁদের বুদ্ধিজীবী বলতে আমার বাঁধে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, গুলশান ক্যাফেয় ভয়ংকর সন্ত্রাসী ঘটনার পর সরকারের তত্পরতা দেখে ভেবেছিলাম এবার অন্তত তারা মৌলবাদজঙ্গিবাদ তোষণ বন্ধ করবে। অথচ ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই অন্যতম আসামি হাসনাত ও তাহমিদ মুক্তি পেয়ে যায়। নিজেদেরকে জিম্মি দাবি করলেও ঘটনার বিভিন্ন ছবি ভিডিওতে তাদের হাতে অস্ত্র ও জঙ্গিদের সাথে নিশ্চিন্তে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে। এ রকম ভয়ংকর অপরাধীদেরও জামিন মঞ্জুর হয়ে যায়। অথচ বই সম্পাদনার দায়ে রোদেলা প্রকাশনীর মালিক শামসুজোহা মানিকের এখনও জামিন মঞ্জুর হয় না। হত্যাকাণ্ড মেনে নিচ্ছে সরকার, কিন্তু ভিন্নমত মানছে না। কতটা অসভ্য হলে, অজ্ঞ হলে, অশিক্ষিত হলে এ সম্ভব, তা অনুমান করতে পারি।

কাল বাংলাদেশে বিজয় দিবস পালন করা হবে। যে মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা নমাস লড়াই করে জয়ী হয়েছিলাম, আমাদের স্বাধীন দেশে সেই মৌলবাদী অপশক্তিই আজ স্বাধীনতা উপভোগ করছে। তাদের আছে শতভাগ বাকস্বাধীনতা। আর আমরা যারা সমাজকে সুস্থ করতে চাই, নারী পুরুষের সমানাধিকার চাই, মানবাধিকার চাই, মানুষে মানুষে সমতা চাই, তারা আজ দেশের শত্রু, আমাদের বাকস্বাধীনতা নেই বললেই চলে। আমাদের পুরনো শত্রুরাই আজ দেশের হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে বসে আছে, তারাই আজ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট। তারা আজ বুদ্ধিজীবীদের গালি পাড়ুক, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করুক, তাদের সাত খুন মাফ।

তাদের বাক স্বাধীনতায় কেউ বাধা দিয়েছে? এই যে সগৌরবে লেখকের মাথার দাম ঘোষণা করছে ওরা, কেউ বলেছে ওদের যে এ অন্যায়, কেউ ওদের গ্রেফতার করেছে? আমার মাথার দাম যে লোকটি ঘোষণা করেছিল প্রথম, তাকে আওয়ামী লীগ আমন্ত্রণ জানিয়ে দলে ভিড়িয়েছে, বড় নেতা বানিয়েছে। আর কত অকল্যাণ দেখতে হবে বেঁচে থেকে? এ দেশকে এখন আমার দেশ বলতে লজ্জা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস, আর বিজয় দিবস নিতান্তই অর্থহীন দুটো দিবস আজ।

আমরা দেশটির আদর্শই ধরে রাখতে পারিনি। যারা সেই আদর্শকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তারাই আজ সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি কোন পথে যাবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেয় এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা কী লিখবেন, কী লিখবেন না, কী বলবেন, কী বলবেন না। দেশটিতে কে বাস করবেন, কে করবেন না। কে বাঁচবেন, কে বাঁচবেন না। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাদের সিদ্ধান্তের বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষমতাসীনদেরও নেই।

মত প্রকাশঅপ্রকাশ

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এসে যদি দেখি আমাদের অর্জন কী—তাহলে নিঃসন্দেহে অনেক পরিসংখ্যান চলে আসবে। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দৃঢ় অবস্থানই বারবার আলোচনায় আসবে। কিন্তু গণতন্ত্রের পথে চলার ঘাটতিগুলো কতটা দূর করতে পেরেছি, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেবে।

মত প্রকাশের যে অধিকার, তাই এখন সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে বলে মনে করছি। লিখতে গিয়ে, বলতে গিয়ে কত অভিজিৎ রায়কে মরতে হলো, কতজনকে দেশ ছাড়তে হলো! সরকারের বাইরেও যে মত প্রকাশের ওপর চাপ প্রয়োগ করার মতো শক্তি থাকে, এটা তার প্রমাণ। সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল বা মহল, যারাই মানুষের নিজের কথা বলা এবং জানানোর অধিকারকে অস্বীকার করে, তারা চরিত্রে অত্যন্ত হিংস্র হয়ে থাকে। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার প্রচণ্ড ক্ষমতা আছে তাদের।

অবশ্য অনেকেই বলবেন, মত প্রকাশের একটা সীমা থাকতে হয়। যা খুশি বলার অধিকার দেওয়া হয়নি কোথাও। কোনও কথা বা বক্তব্য, যদি বড় আকারের সহিংসতা, রক্তপাত বা নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে এবং তার ফলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তবে হয়তো তার প্রচার বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা দরকার। তবে বাংলাদেশে বেশি উদ্বেগ ধর্ম নিয়ে লেখালেখিতে। যারা এই বিষয়ে লেখালেখি করেন, তাদের প্রতি প্রায় সবার উপদেশ থাকে, তারা যেন কারও অনভূতিতে আঘাত না করেন। যারা এমন নসিহত করছেন, তারা তাদের নিজস্ব ধর্মের বাইরে অন্য ধর্ম নিয়ে বিরামহীন কটাক্ষ করে যাচ্ছেন বা কটাক্ষ দেখে চুপ করে থাকেন। তখন এই অনুভূতির প্রশ্ন ওঠে না।

যারা ধর্মীয় রাষ্ট্র করতে চায় বাংলদেশকে, তারা কিংবা সরকারে থাকা ব্যক্তিবর্গ, তারা খুব কমই মানতে চান যে, কেউ যে কোনও মত প্রকাশ করতে পারেন স্বাধীনভাবে যদি না তিনি তা করতে গিয়ে সহিংসতার পথ বেছে নেন। বাংলাদেশের সংবিধানে মত প্রকাশের অধিকার স্বীকৃত। আছে তথ্য অধিকারের মতো আইনও। এরপরও মত প্রকাশের পথে প্রতিবন্ধক অনেক আইন আছে কিংবা নতুন নতুন আইন প্রণীত হচ্ছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা রয়েছে সেটির অপব্যবহার দেখছি প্রতিনিয়ত। এই আইন ব্যবহার করে যখনতখন যাকে তাকে ইচ্ছামতো বিপদে ফেলার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। এই রকম ধারা মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা দিয়েছে বলা যায়।

ব্লগার, লেখকদের যারা হত্যা করছে তার পেছনে আছে বৃহত্তর রাজনৈতিক তৎপরতা, যে রাজনীতি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। এই চক্রটা খুবই শক্তিশালী ও সক্রিয়। মত প্রকাশের পথে এরাই বড় বাধা। এদের হাতে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব গেলে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? দেশকে বাঁচিয়ে রাখাই কষ্টকর হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নামে যে কেউ যখনতখন হরানির শিকার হতে পারেন।

ধর্মীয় অনুভূতির নামে যারা গলা টিপে ধরে বা হত্যা করে যে কোনও কিছুতেই এই ভাবাবেগ ব্যবহার করতে পারে। আর ক্ষমতাসীনরা পারে রাষ্ট্রদ্রোহের ব্যাখ্যা খুঁজতে। বিরুদ্ধ মত ও সমালোচনা দমনের অনেক ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে আছে। আমাদের ৪৫ বছরের স্বাধীনভাবে পথ চলার এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব রক্ষার জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমনে নানা ধারা ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

তবে বড় সমস্যা হলো ক্ষোভ প্রকাশের সংস্কৃতি। আমরা ক্রমেই একটা ক্ষুব্ধ জাতিতে পরিণত হচ্ছি। যে কোনও ছুঁতোয় ক্ষোভের সহিংস প্রকাশ এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটির ভয়ঙ্কর সহিংস প্রকাশ আমরা দেখে চলেছি। আর এদের ভয়ে রাষ্ট্র ভীত কিংবা এদের প্রতি সহানুভূতিশীল। এদের দাপটে বই নিষিদ্ধ হয়, বই মেলা থেকে বই প্রত্যাহার হয়ে যায়, সেই প্রকাশক জেল খাটেন। এদের দাবির মুখে দাউদ হায়দার, তসলিমা নাসরিনসহ অনেক লেখককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়। লেখার জবাব লেখার মাধ্যমে না দিয়ে হুমকি আর পেশিশক্তির জোরে সবকিছু করে এই গোষ্ঠী। স্বাধীনতার এত বছর পর এসে এই সমস্যাকে গণতন্ত্রের পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে হয়। আর আছে রাজনীতির দাপট। আইনের বাইরে শুধু রাজনীতির পরিচয়ের কারণে অনেকের দাপট চোখে পড়ার মতো। রাজনীতির ভেতরে এমনসব চরিত্র আছে, যারা অতিমানবে পরিণত হয়েছেন এবং তারা সমস্ত সমালোচনার ঊর্ধ্বে।

ইতিহাস কিংবা ব্যক্তি কোনও বিষয়েই নির্মোহভাবে, নিরপেক্ষভাবে কোনও কিছু প্রকাশ করা যায় না এখন। সমাজে বহু ধর্মের মানুষ থাকে। দেশের ইতিহাসে নানা রাজনীতি নানা সময় প্রভাব ফেলেছে। মানুষের অনুভূতির বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার সবারই। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কিংবা ইতিহাসের কোনও বিষয়ে বা চরিত্র সম্পর্কে যদি খোলামেলা আলোচনা করা না যায়, তাহলে কোন পথে হাঁটছি আমরা? আমরা কেবলই স্পর্শকাতর, অসহিষ্ণু ও রসবোধহীন হয়ে উঠছি?

লেখক: পরিচালক বার্তা, একাত্তর টিভি

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: