প্রথম পাতা > আন্তর্জাতিক, রাজনীতি > যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কেন পক্ষপাতদুষ্ট?

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কেন পক্ষপাতদুষ্ট?

ডিসেম্বর 12, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

blind-justice-lady-sketchইকতেদার আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্র ৫০টি স্টেট (রাজ্য) সমন্বয়ে গঠিত একটি বিরাট দেশ। এ স্টেটগুলোর অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া, অর্থাৎ ওয়াশিংটন ডিসিকে স্টেটের মর্যাদা দেয়ায় সর্বমোট স্টেট ৫১টি। প্রতিটি স্টেটের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট স্টেটের আইন দ্বারা পরিচালিত হলেও কোর্ট অব আপিল ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা ফেডারেল ব্যবস্থার আওতায় সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত।

যুক্তরাষ্ট্র অভ্যুদয়পরবর্তী দীর্ঘকাল ধরে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান এ দু’টি দল দেশটি শাসন করে আসছে। রিপাবলিকান দল রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন, অপর দিকে ডেমোক্র্যাটদের ভাবা হয় উদার। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ হলেও ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গরা দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এর পরের অবস্থান রয়েছে হিস্পানিক বা ল্যাটিনো, কালো আফ্রিকান ও এশিয়ানদের। শ্বেতাঙ্গদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থক। অপর দিকে হিস্পানিক বা ল্যাটিনো, কালো আফ্রিকান ও এশিয়ানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক। অভিবাসন বিষয়ে শ্বেতাঙ্গ প্রাধান্যবিশিষ্ট রিপাবলিকানরা সব সময় রক্ষণশীল আর ঠিক এর উল্টোটি পরিলক্ষিত হয় হিস্পানিক বা ল্যাটিনো, কালো আফ্রিকান ও এশিয়ানদের প্রাধান্যবিশিষ্ট ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ চার বছর এবং একজন ব্যক্তি একাদিক্রম বা একাদিক্রম ব্যতীত দুই মেয়াদের অধিক প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংসদকে বলা হয় কংগ্রেস। এটি সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সমন্বয়ে গঠিত। সিনেটের সদস্য সংখ্যা ১০২ আর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য সংখ্যা ৪৩৬। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাধারণ ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ (পপুলার ভোট) ভোটের পরিবর্তে একটি বিশেষ পদ্ধতির ইলেকটোরাল ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। যেকোনো স্টেটে সিনেটর ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের বিজয়ী হওয়ার জন্য সাধারণ ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট অত্যাবশ্যক হলেও একটি স্টেটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর অনুকূলে যাবে, সে দল রাজ্যটির সব ইলেকটোরাল ভোট প্রাপ্ত হয়।

য্ক্তুরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ৫৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিজিত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ২৫ লক্ষাধিক সাধারণ ভোট কম পেলেও এ বিষয়ে ইলেকটোরাল ভোটের হিসাব মুখ্য বিধায় এবং সর্বোপরি সাধারণ ভোটে পরাভূত প্রার্থীর ইলেকটোরাল ভোট অধিক হওয়ায় পদ্ধতিগতভাবে তিনি বিজয়ী ঘোষিত হলেন। এর আগে চারটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনুরূপ ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেলেও ইতঃপূর্বে কখনো বিজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে এবারকার মতো সাধারণ ভোটের এত ব্যাপক ব্যবধান প্রত্যক্ষ করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে দল থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না কেন, তিনি ফেডারেল সরকারের সাত হাজার পদে নতুনভাবে নিয়োগদান করেন। একই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পুনর্নির্বাচিত হলে সচরাচর এ পদগুলোতে নতুনভাবে নিয়োগের আবশ্যকতা দেখা দেয় না। উপরি উক্ত সাত হাজার পদের মধ্যে এক হাজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদনের আবশ্যকতা রয়েছে। এই এক হাজার পদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা, ১৩টি আপিল কোর্টের বিচারকেরা এবং ৯৪টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জাজ পদে আসীন বিচারকেরা অন্তর্ভুক্ত। তা ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ম্যাজিস্ট্রেট এবং দেউলিয়া আদালতের বিচারক ফেডারেল পদধারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। যেকোনো ফেডারেল বিচারক পদত্যাগ, মৃত্যু অথবা অভিশংসনজনিত কারণ ব্যতীত সুস্থ থাকা সাপেক্ষে আমৃত্যু স্বপদে আসীন থাকতে পারেন। আর এ কারণে নির্বাচনে একটি দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পরাভূত হলে শুধু ফেডারেল বিচারকের পদ ব্যতীত অপরাপর ফেডারেল পদে পরিবর্তন ঘটে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদ্ধতিটিকে বলা হয় স্পয়েল সিস্টেম। এ সিস্টেমটির অর্থ হলো ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যেকোনো দল প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী হতে ব্যর্থ হলে আগেকার প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ফেডারেল বিচারিক পদ ব্যতীত অপর সব ফেডারেল পদে নিয়োগ বাতিল হবে এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এসব পদে নতুনভাবে নিয়োগদান করবেন। সচরাচর দেখা যায়একটি নির্বাচনে যেসব সমর্থক একজন প্রেসিডেন্টের বিজয়ের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করে থাকেন তাদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অবদান বিবেচনায় ফেডারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগের সময় ডেমোক্র্যাটিক বা রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সব সময় দলের প্রতি অনুগতদের প্রাধান্য দিলেও তারা সুস্থতা সাপেক্ষে আমৃত্যু পদে বহাল থাকেন বলে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন হলেও তাদের চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটে না।

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ফেডারেল বিচারককে নিয়োগ দেয়ার সময় একজন প্রেসিডেন্ট তার নিজ দলের সমর্থক নয় অথবা নিজ দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত নয়, এমন ব্যক্তিকে নিয়োগদান করেন না। এসব নিয়োগ যদিও সিনেট কর্তৃক অনুমোদিত হওয়া অত্যাবশ্যক, কিন্তু সিনেটে এ সংক্রান্ত শুনানির সময় নৈতিক স্খলনজনিত কারণ ব্যতীত অপর কোনো কারণ অযোগ্যতা নির্ধারণে বিবেচিত হয় না। সুতরাং এ বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনুসৃত নীতির ফলে দেখা যায়, দলীয় সমর্থক হওয়া বা দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত হওয়া কখনো ফেডারেল বিচারক পদে নিয়োগের পথে বাধা হিসেবে দাঁড়ায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টসহ যেকোনো ফেডারেল কোর্টে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক দলের রাজনীতিসংশ্লিষ্ট কোনো মামলা বিচারকালে দেখা যায়সংখ্যাগরিষ্ঠ বা একজন বিচারক দলীয় সমর্থক ও অনুগত হিসেবে যে দল কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত, তাদের বা তার সিদ্ধান্তটি সে দলের অনুকূলে যায়। ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লোরিডা স্টেটের ২৯টি ইলেকটোরাল ভোট ছয় শ’র কম সাধারণ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থীর অনুকূলে গেলে সে সময় স্টেটটির গভর্নর পদে আসীন বিজয়ী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অতঃপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে সে সময় সুপ্রিম কোর্টে রিপাবলিকান বিচারকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সে দেশের মানুষের পক্ষে আগাম বলে দেয়া সম্ভব হয়, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী রিপাবলিকান প্রার্থীর অনুকূলে যাবে। সে নির্বাচনেও বর্তমান নির্বাচনের মতো সাধারণ ভোটে বিজিত প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন।

এবার নির্বাচনে গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষ থেকে তিনটি স্টেট যথাউইসকনসিন্স, ম্যাসাচুসেটস ও পেনসিলভেনিয়ায় ইলেকট্রনিক ও কাগুজে ভোটের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান পরিলক্ষিত হওয়ায়, কাগুজে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়ে আবেদন করা হলে তা গৃহীত হয়েছে। পুনঃগণনার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটির টেলিভিশন বিতর্ক চলাকালে রিপাবলিকান প্রার্থী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনতিনি বিজয়ী হলে ইমেইল কেলেঙ্কারির দায়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বিচারের সম্মুখীন করবেন এবং তাতে তিনি কারা অন্তরীণ হবেন। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিজয় লাভের পর তাকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অভিনন্দন জানালে তিনি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরবিষয়ক অবস্থান থেকে সরে আসেন। কিন্তু যখনই দেখা গেল, তিনটি রাজ্যের ভোট পুনঃগণনা বিষয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সরাসরি আবেদন না করলেও এর অবস্থান গ্রিন পার্টি থেকে ভিন্ন নয়, তখন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রার্থী পুনঃডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দেন।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন অনুসৃত হয়, পৃথিবীর এমন সব দেশে যেকোনো ফৌজদারি মামলার তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। এ ধরনের তদন্তকাজে কখনো রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের ঘটনা পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু রিপাবলিকান দলের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তিনটি রাজ্যের ভোট পুনঃগণনার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কর্তৃক পরাজয় স্বীকার করে তাকে অভিনন্দন জানানো সত্ত্বেও পুনঃভোট গণনার পক্ষে অবস্থান গ্রহণকে সহজভাবে মেনে না নিয়ে নিজের বিজয়ের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এর প্রধান প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত হয়ে সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ লাভ করেন। বেশির ভাগ দলীয় প্রেসিডেন্ট সাধারণত এফবিআইয়ের প্রধান পদে মনোনয়নে দলীয় সমর্থক নয় বা দলীয় অনুগত নয়, এমন ব্যক্তির বাইরে কারো ব্যাপারে চিন্তা করেন না। আর এরূপ চিন্তা করলে তা যে বিপর্যয় ডেকে আনার অবকাশ ঘটায়, সেটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকালে প্রত্যক্ষ করা গেছে। বর্তমান এফবিআই প্রধান বতর্মান ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট ওবামা কর্তৃক মনোনীত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি যখন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণের ১০ দিন আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর ইমেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে পুনঃতদন্ত হতে পারে এমন তথ্য প্রকাশ করেন, তখন তা যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জনমতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এ বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না। এফবিআই প্রধান পুনঃতদন্তবিষয়ক তথ্য প্রকাশের পর তার অতীত উদঘাটনকালীন সময়ে দেখা যায়, তিনি মূলত একজন রিপাবলিকান সমর্থক ও দলটির প্রতি অনুগত। সুতরাং এ ধরনের স্পর্শকাতর নিয়োগে দলীয় সমর্থক বা দলীয় অনুগত ব্যতীত যথাযথ যাচাই না করে বিপক্ষ দলের সমর্থক ও অনুগত কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে তা যে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, এফবিআই প্রধানের সাম্প্রতিক আচরণ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

পৃথিবীর যেকোনো দেশে ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে তদন্তকাজকে বলা হয় ‘মামলার প্রাণ’। পক্ষপাতদুষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। এ ক্ষেত্রে একজন বিচারকের সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য তদন্তকার্য ও বিচার পরিচালনায় সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ এবং প্রকৃত অর্থেই নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে উপরি উল্লিখিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণে দেখা যায় তদন্ত ও বিচারকাজ দলীয় সমর্থক ও দলীয় অনুগত ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় তা যে বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের জন্য ন্যায়পরায়ণতার বিপরীত, এ সত্যটি সে দেশবাসী অনুধাবন করতে সক্ষম।

সব গণতান্ত্রিক দেশেই আইনের দৃষ্টিতে সমতার মৌল নীতিটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। আইনের দৃষ্টিতে সমতা অর্থ, অবস্থানভেদে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার তদন্ত ও বিচারে একই আইন ও পদ্ধতি অনুসৃত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত প্রার্থী নির্বাচনে বিজিত প্রার্থীর বিষয়ে মামলা দায়েরবিষয়ক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার অন্তরায়। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক যখন যে দল ক্ষমতায়, সে দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলায় দলীয় সমর্থক ও অনুগত বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকেরা যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম বিভিন্ন সময়ে তারা এটি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ায় তারা যে আজ পক্ষপাতদুষ্ট, এটি আর অত্যুক্তি নয়।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: