প্রথম পাতা > ইসলাম, জীবনী, ধর্মীয়, বিনোদন, সমাজ > জুনায়েদ জামশেদ: পপ তারকা থেকে ইসলামি বক্তা

জুনায়েদ জামশেদ: পপ তারকা থেকে ইসলামি বক্তা

junaid-jamshed-1জুনায়েদ জামশেদকে অনেক পাকিস্তানিই নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ও অন্যতম পপ তারকা হিসেবে মনে করেন। দিল দিল পাকিস্তান, তুম মিল গায়ি, সাওয়ালি সালোনি কিংবা উহ কৌন থি গানগুলো নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানিদের মুখে মুখে ছড়িয়ে ছিল। ভাইটাল সাইন নামক ওই সময়ের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দলের গান গেয়ে জামশেদ নিজেকে জনপ্রিয় পপ তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন । পরবর্তীতে তিনি নিজেকে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও ইসলামি সংগীতশিল্পীতে পরিণত করেন। দ্য মুসলিম ৫০০ নামের একটি ওয়েবসাইট তাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বুধবার চিত্রল থেকে ইসলামাবাদ ফেরার পথে ৫২ বছরের জুনায়েদ স্ত্রীসহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার। পপ গানের শিল্পী হিসেবেই তাকে এক সময় পাকিস্তানিরা চিনলেও তিনি কখনও সংগীতকে পেশা হিসেবে নিতে চাননি। গান গাওয়ার সময়েই তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমানের পাইলট হতে চেয়েছিলেন। চোখের দৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে তার এ স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিমানবাহিনীতে অল্প কিছুদিন বেসামরিক ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন।

ভাইটাল সাইন ব্যান্ড দলটি গঠন করেছিলেন নুসরাত হোসাইন ও রোহাইল হায়াত। জুনায়েদ যোগ দেওয়ার পর ব্যান্ডটি পূর্ণতা পায়। একটি কনসার্টে ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে জুনায়েদের পরিচয় হয়।

জুনায়েদ জামশেদের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। পরে ব্রডকাস্টার ও প্রযোজক শোয়েব মনসুর ব্যান্ডটিকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। মনসুরের সহযোগিতায় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম মুক্তি পায়। ভাইটাল সাইনস ১ শিরোনামের ওই অ্যালবামের দিল দিল পাকিস্তান গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দেশজুড়ে ভাইটাল সাইন ও জামশেদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এই খ্যাতিও জামশেদ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়নি। ১৯৯০ সালে তিনি লাহোর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন।

junaid-jamshed-3কোনও ধরনের প্রচার ও বিজ্ঞাপন ছাড়াই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর জামশেদ নিজেকে ভাইটাল সাইনস থেকে সরিয়ে নেন। নিজের একক ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হয়ে পড়েন। আর ভাইটাল সাইনটি তাদের ভূমিকার জন্য জাতীয় পর্যায়ে কখনও মূল্যায়িত হয়নি।

তবে জামশেদের একক ক্যারিয়ার সহজ হয়নি তার জন্য। ২০০০ সালের কিছু পর তাকে প্রকাশ্য মঞ্চে আর গান গাইতে দেখা যায়নি। গুঞ্জন রয়েছে, এ সময় তিনি আর্থিক সংকটে ছিলেন। অবশেষে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি জামশেদকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। এ সময় জামশেদ ইসলামে গানের অবস্থা জেনে সংগীত ছেড়ে দেন এবং ইসলামি জীবনযাপনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে পোশাক কারখানা গড়ে তোলেন।

জামশেদের দীর্ঘদিনের বন্ধু মনসুর এক সাক্ষাৎকারে গানকে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা ও ভক্তদের সংশয়ে ফেলার জন্য জামশেদের সমালোচনা করেছিলেন। তবে তার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, ঘরোয়া আড্ডায় গান গাওয়া এড়াতে পারতেন না জামশেদ।

জামশেদের জীবনে দুটি ধারা ছিলো। তাকে উভয় ক্ষেত্রেই প্রশংসনীয়ভাবেই স্মরণ করা হয়। ৫২ বছরের দীর্ঘ জীবনের শেষ দিকে তিনি ধর্ম প্রচার করেছেন, বিভিন্ন সভাসমাবেশে ধর্মীয় বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২০১৬ সালে ধর্ম অবমাননার জন্য ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছিলেন জামশেদ।

তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে, দিল দিল পাকিস্তান, সওলি সালোনি, ইয়ে শাম, এইতবার, তুম দূর থা, কেহ দো জো বি না তু আয়েগি ১৯৯৪ সালে জুনায়েদের প্রথম একক অ্যালবাম জুনায়েদ অব ভাইটাল সাইনস মুক্তি পায়। যা দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ১৯৯৯ সালে উস রাহ পার এবং ২০০২ সালে দিল কি বাত মুক্তি পায়। ২০০৪ সালে সংগীত জীবন সমাপ্তির ঘোষণা দেন। পরে ২০০৫ সালে ইসলামি সংগীতের অ্যালবাম জালওয়াজানান প্রকাশ করেন। এছাড়া ২০০৬ সালে মেহবুবইয়াজদান, ২০০৮বদরউদদুজা ২০০৯ বাদিউজজামান নামে ইসলামি সংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ করেন জুনায়েদ।

সূত্র: ডন, জিও টিভি

মাওলানা তারিক জামিলের চোখে জুনায়েদ জামশেদ

junaid-jamshed-2পাকিস্তানের খ্যাতনামা ইসলামি সঙ্গীত শিল্পী জুনায়েদ জামশেদ বিমান বিধ্বস্তে নিহত হয়েছেন। তার স্মরণে মাওনালা তারেক জামিল পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জুনায়েদ জামশেদ একজন প্রেমময় পিতা ছিলেন, জীবনের প্রতি পড়তে পড়তে তার নৈতিক চরিত্র ছিল অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। আমার জীবনে আমি তার মত উত্তম চরিত্রবান মানুষ খুব কমই দেখেছি। আমার আর জুনায়েদ জামশেদের সাঈদ আনোয়ারের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য যাওয়ার একটা প্রোগ্রাম ছিলো, কিন্তু আমার বিভিন্ন কাজে জুড়ে থাকার কারণে যাওয়া হয়নি।

মাওনালা তারেক জামিল বলেন, জুনায়েদ জামশেদ বলতেন, আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রদর্শিত পথে চলো এবং সে পথেই জীবন শেষ করো। জুনায়েদ জামশেদ উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি রঙিন এই দুনিয়া ছেড়েছেন কখনো পিছনে ফিরে তাকাননি।

জুনায়েদ জামশেদ আমাকে বলেছিল, একটা সময় আমার মায়ের ওষুধ আনার মত কোন টাকা ছিলো না, আর তখন আমাকে ফোন করে পেপসির একটি গান গাইতে বলা হয় যার বিনিময়ে আমাকে চার কোটি টাকা দিতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করি।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: