আর্কাইভ

Archive for ডিসেম্বর 8, 2016

পাখী পরিচিতিঃ হলদেলেজি ফুলঝুরি

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

phuljhuri-bird

সাংবাদিক সিডনির চোখে যশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

sidney-sanbergপুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান সাংবাদিক সিডনি এইচ সানবার্গ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর শত্রুমুক্ত হবার পর বাঙালির বিজয় উল্লাস প্রত্যক্ষ করেছেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর শত্রুমুক্ত হয়। এটি ছিল সে সময় বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা।

আমেরিকান এই সাংবাদিকের ‘বাঙালিজ ড্যান্স এন্ড শাউট এট লিবারেশন অব যশোর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন লিখেন। প্রতিবেদনটি ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসে ছাপা হয়। প্রতিবেদনে তিনি লিখেন বাড়ির ছাদে বাঙালিরা নৃত্য করছে। তারা রাস্তায় রাস্তায় স্বাধীনতার স্লোগান দিচ্ছে। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। ভারতের সৈন্যদের সঙ্গে করমর্দন করছে।

১৯৩৪ সালের ১৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এই সাংবাদিক ১৯৭১ সালে সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সৈন্যদের গণহত্যা সম্পর্কে লিখেছেন। সাংবাদিক সানবার্গ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করা ছাড়াও কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের যুদ্ধের সংবাদও সংগ্রহ করেন। কম্বোডিয়ার যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি বেশি পরিচিত। ১৯৭৬ সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর থেকে মাত্র চার মাইল দূরে অবস্থানকারী ভারতের সৈন্যরা খুলনা অভিমুখে যাত্রা করার নির্দেশের অপেক্ষা করছিল। এ সময় তারা তাদের সাজোয়াযানের উপর দাঁড়িয়ে পতাকা দুলিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং সাজোয়াযানের উপর থেকে ছবি তোলার জন্য পোজ দেয়। জীপে করে একদল বিদেশী সাংবাদিক ঝিকরগাছা থেকে যশোর যাচ্ছিলেন। সড়কের দু’পাশে দাঁড়ানো গ্রামবাসীরা তাদেরকে দেখে জয় বাংলা স্লোগান দেয় এবং এগিয়ে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে করমর্দন করার চেষ্টা করে। প্রতিবেদনে সে সময় যশোরের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলা হয়, বাসের ভেতরে ও ছাদে জনতার উপচেপড়া ভীড়। বাসের যাত্রীরা স্বাধীন বাংলার স্লোগান দেয় এবং সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের নেতা ও পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

war71-4-artপ্রতিবেদনে তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, যশোরের অদূরে রাস্তার পাশে একজনের মৃতদেহ পরে আছে। তার বাম হাত কাটা ছিল এবং তার বুক ছিল ক্ষতবিক্ষত। স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তার অপরাধ সৈন্যদের অবস্থান সম্পর্কে ভারতীয় সৈন্যদেরকে অবহিত করা। এই অভিযোগে তাকে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ভারত সীমান্ত থেকে যশোর অভিমুখী সড়কের প্রায় সবকটি সেতু পাকিস্তানি সৈন্যরা উড়িয়ে দেয়। সে সময় যশোর নগরীর মোট জনসংখ্যা ছিল ৩০ হাজার। এদের খুব কমসংখ্যক লোককে রাস্তায় দেখা যেত। এদের অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিল। অনেকে মারা যায়। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান, চারুবালা, সুনির কুমার রায়, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সুধির কুমার ঘোষ, মশিউর রহমানসহ শত শত নারীপুরুষ আর কখনোই নিজ ভিটাবাড়িতে ফিরে আসেননি। মাতৃভূমির জন্য তারা আত্মোৎসর্গ করেন।

বেড়িয়ে আসুন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থেকে…

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

iswardi-paksi-resortiswardi

রেসিপিঃ চিংড়ির নানা পদের খাবার

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

recipe -prawn.jpg

বিভাগ:খাদ্য

বর্জ্য দিয়ে ভাস্কর্য তৈরী !

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

sculpture-from-garbage-1sculpture-from-garbage-2sculpture-from-garbage-3

নারীর প্রতিবাদের নিজস্ব ভাষা

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

sadia-nasreenসাদিয়া নাসরিন : জেন্টললেডিস অ্যান্ড ম্যান’—নতুন ভাষা এভাবেই তৈরি হয়। যুগ যুগ ধরে শুনে এসেছি, ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’। নারী তো কেবল ‘লেডি’ আর পুরুষ ‘জেন্টলম্যান’! আমাদের পুরুষতান্ত্রিক ভাষায় ‘ম্যান’ বা ‘মানুষ’ এক মহান শব্দ, যা পুরুষকেই বোঝায়। পুরুষ পবিত্র, ভদ্র, শুদ্ধ, মহিমান্বিত। নারীর সমার্থক শব্দে কোথাও ‘মানুষ’ নেই, বরং বলা হয় ‘মেয়েমানুষ’ অর্থাৎ, গৌন প্রজাতি, দ্বিতীয় লিঙ্গ। দক্ষিণ এশীয় জেন্ডার বিশেষজ্ঞ কমলা ভাসিন শব্দ নিয়ে খেলেন, উলটপালট করে ভাষার রাজনীতি বোঝার চেষ্টা করেন এবং পুরুষতান্ত্রিক ভাষাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনিই প্রথম ‘লেডি’র সঙ্গে ‘জেন্টল’ শব্দের রসায়ন আবিষ্কার করেন। এই সম্বোধন চালু করেন।

সম্প্রতি বন্ধুস্বজনরা খুব বলছেন, কেন আমি লেখার সময় আমার নারীসত্তা থেকে বের হতে পারি না বা আমাদের লেখায় এত রাগ কেন? কেন আমরা পুরুষের প্রতি আর একটু সদয় হয়ে লিখতে পারি না? সমালোচকদের প্রায় প্রত্যেকেই নারীবাদী লেখকদের আরও ‘নৈর্ব্যক্তিক’, আরও ‘নিরপেক্ষ’, আরও একটু ‘শালীন’ ভাষায় লেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের আমি কী করে বোঝাই, আমি নারী এ কথা যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনই সত্য আমার নারীসত্তা। আমার মাতৃত্ব, আমার বঞ্চনা, আমার আপসের দহনই তো আমার রাগ ও প্রতিবাদের উৎস। এই পৃথিবীকে আমি দেখতে পাই,শুধু নারীর চোখ দিয়ে, আমার নারী শরীর ও মন দিয়েই সব ঝড়ঝাপ্টাআঘাতকে উপলদ্ধি করি। এসবই তো আমাদের অনুভূতির উৎস, যা দিয়ে আমরা লিখি। আমরা তো আমাদের অভিজ্ঞতার বাইরে লিখতে পারব না।

আসলে নারী কী লিখবে, কতটুকু লিখবে, নারীর প্রতিবাদের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা মাপা প্রত্যাশা আছে, যুগ যুগ ধরেই ছিল। নারী কোন ভাষায় তার বঞ্চনার কথা বলবে, কোন শব্দে নিজের অধিকারের কথা উচ্চারণ করবে, তাও পুরুষই শিখিয়ে দিতে চায়। ইউনেস্কোর রিপোর্ট মিশেল ম্যাটেলারের মন্তব্যে পাওয়া যায়, ‘যে নারী উপন্যাস লেখেন, তাকে বিদ্রোহের প্রতীক না হয়ে ওঠার জন্য শাশ্বত নারীত্বের প্রতি বশ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। এতদিন নারীরা লিখে এসেছেন পুরুষের সেই চাহিদার সঙ্গে আপস করেই। তাই খনা পুরুষতন্ত্রের ভাষায় বলেছেন, ‘পুড়বে আগুন, উড়বে ছাই/ তবেই কন্যার গান গাই’। কুসুমকুমারীরাও সাহিত্যে পুরুষকেই দেখেছেন বারবার, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?’

কিন্তু সবাই তো সেই চাহিদামতো বলেন না, লেখেন না। সবাই পুরুষ চাহিদার প্রতি বশ্যতার প্রমাণ দেন না। সেই প্রমাণ দিতে না পারলে নারীবাদীরা পড়ে যায় পুরুষের আক্রমণের মুখে এবং সেই আক্রমণ নারীবাদ থেকে ব্যক্তি নারী পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে যায়। তাই খনার জিভ কেটে নেওয়া হয়, ডাইনি বলে পুড়িয়ে মারা হয় জোয়ান অব আর্ককে। নিষিদ্ধ হয়ে যান তসলিমা নাসরিন, ব্যক্তিজীবন উঠে আসে তুরুপের তাসে, মাথা নিলামে ওঠে।

তবু পুরুষতান্ত্রিক ভাষার রাজনীতি ডিঙিয়েই শিখিয়ে দেওয়া প্রভুর ভাষা, প্রভুর কৌশল প্রত্যাখ্যান করে বা তাকে অতিক্রম করে গড়ে উঠছে নারীর নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব প্রতিবাদ। হাজার বছর ধরে পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য এমন ভাষা তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে নারীকে হেয় করা হয়েছে। যেমন নারীর জন্য ‘অবলা’ যে অর্থে ব্যবহৃত হয়, সে অর্থে পুরুষকে ‘অবল’ বলা হয় না। ‘বেশ্যাপতিতাখানকিছিনালবনিতাভ্রষ্টা’ কত শব্দ তৈরি করেছে নারীকে কলঙ্কিত করতে, যেগুলোর কোনও পুরুষবাচক শব্দ নেই। এমনকি, রূপকথার সব খলচরিত্র ডাইনি অথবা পেত্নী, রাক্ষস হিসেবে যাদের চিত্র আঁকা হয়, তারাও নারী। তাই আজ যখন নারীরা সমান অধিকারের কথা বলছে, তখন লিঙ্গবৈষম্যের এসব শব্দ, বাক্য, ভাষা আর সাহিত্যের বর্ণনাকে চ্যালেঞ্জ করেই এগুতে হচ্ছে নারীদের।

পুরুষালি শব্দের শ্রেষ্ঠত্ব চ্যালেঞ্জ করে তাই ‘সুপারওমেন’, ‘শিরো’ (হিরো), ‘জেন্টলওমেন’, ‘ওমেনলি’, ‘সিস্টারহুড’, ‘ওমেনহুড’ ইত্যাদি নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে নারীবাদী লেখকদের অভিধানে। দাসজীবনের শৃঙ্খলমুক্ত ভাষা ব্যবহার করছে নারীরা। তাই ‘হাজব্যান্ড’ ‘স্বামী’ ‘কর্তা’ ‘ভাতার’ অথবা ‘স্ত্রী’ ‘ভার্যা’ বা ‘বধূ’ ‘ভরনীয়া’ এসব শব্দের দেয়াল ভেঙে নিজেদের পার্টনার বা সঙ্গী হিসেবেই পরিচিত করছে। বংশপরিচয়ের আধিপত্য বজায় রাখতে ‘পুরুষানুক্রম’ শব্দের পাশে চালু হয়েছে ‘নারীক্রম’ ‘পূর্বনারী’ ‘উত্তরনারী’। চারিত্র্যিক নিপীড়নের ভাষাকে উলটে দিয়ে মেয়েরা উচ্চারণ করছে এবার ‘পতিত’, ‘রক্ষিত’, ‘ভ্রষ্ট’ ও ‘নষ্ট’ । ‘প্রস্টিটিউট’ বললেও নারীর কথাই ভাবা হয়, তাই যৌনপেশার পুরুষের জন্য ‘জিগোলো’ শব্দটি উচ্চারিত হচ্ছে, ‘কলগার্ল’ হয়েছে ‘কলবয়’। ‘মেয়েলি’-‘পুরুষালী’ ভাষার লৈঙ্গিক রাজনীতি চ্যালেঞ্জ করে লিঙ্গসাম্যের প্রচলন করছে ভাষায়। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ, অনারারি এগ্রিমেন্ট, আনক্লেইমড টেরিটোরি ইত্যাদি শব্দ এসেছে ম্যান অব দ্য ম্যাচ, জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট, নো মেনস ল্যান্ডএর বদলে। এমনকি কবি যখন কবিতায়ও নারীকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, ‘সুরঞ্জনা ওইখানে যেওনাকো তুমি, বলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে’, তখন নারী উচ্চারণ করে, ‘যাব না কেন? যাব।’

কেন ভাষা নিয়ে এই অহেতুক বিতর্ক, এসব যুক্তি দেখানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না আর। কারণ এই ভাষাসাহিত্যের সূক্ষ্ম রাজনীতিতেই এতকাল নির্ধারণ করা হয়েছে কে প্রভু আর কে দাসী, কে কর্তা আর কে কর্ম, কে শক্ত আর কে কোমল, কে যন্ত্রী আর কে যন্ত্র। এই ভাষার ব্যাকরণ দিয়েই নির্ধারণ করা হয়েছে প্রথম লিঙ্গ হচ্ছে পুংলিঙ্গ, যে প্রত্যক্ষ, ইতিবাচক, শক্তিমান, চালক। আর স্ত্রীলিঙ্গ হলো দ্বিতীয় লিঙ্গ, যে সবসময়ই পরোক্ষ, পুরুষের ছায়া, পুরুষের বিজয়ের পেছনের কায়াপ্রেরণাদাত্রী।

সমাজে পুরুষতন্ত্রের যে ক্ষমতা, ভাষা সেই আধিপত্যের জমিনকে পোক্ত করেছে তার শব্দ, বাক্য অথবা প্রবাদ। ভাষাগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, নারীকে নিপীড়ন করতে ভাষার রাজনীতি কিভাবে পুরুষতান্ত্রিক আগ্রাসনকে পোক্ত করার মূল শক্তি হয়ে ওঠে তা বিশ্লেষণ করা। প্রতিপক্ষকে ওই ভাষার মুখোমুখি করা দরকার।

কারণ, পুরুষতন্ত্রের শেখানো অনুষঙ্গকে অতিক্রম করে প্রাণ আর শক্তির উৎস হিসেবে নারীর পুনর্নির্মাণ আগে যদি অভিধানে না হয়, তবে কিভাবে হবে মানুষের সংস্কার আর মনস্তত্বে? নারী যতক্ষণ নিজে তার নিজস্ব শব্দ আর ভাষার নির্মাণ আর চর্চা করার সাহস না দেখাবে না, ততক্ষণ কেউ ‘সম্মান’ তার হাতে এনে তুলে দেবে না। নারীবাদী কবি ‘অ্যাড্রিয়েন রিচ’এর মতোই আমরা বলি, ‘চেতনার জাগরণ সীমান্ত পেরোনোর মতো নয় যে, এক পা এগুলেই অন্যদেশে। অন্যের ভাষায় লিখে বা বলে নারীর জীবনকে বোঝা অসম্ভব। আমরা শেক্সপিয়রের চেয়ে অনেক বেশি জানি মেয়েদের জীবন। আমাদের জীবন তার চেয়ে অনেক জটিল। সুতরাং আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে, আমাদের যেতে হবে এক দীর্ঘস্থায়ী রাগের মধ্য দিয়ে।

শুধু আমি নয়, আমরা সব মেয়েই আসলে তাই করছি। তাই সম্প্রতি মেয়েদের লেখায় শিরা টানটান করা রাগের কথা থাকে। যে কথাগুলো এতদিন অনুচ্চারিত ছিল, যে অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা এতদিন উপেক্ষিত ছিল, সেসব কথাই আজ আমরা লিখছি। আমরা মেয়েরা এক জায়গায় হলেই বুঝতে পারি আমাদের যন্ত্রণা এক, ক্ষোভ এক, বঞ্চনা এক, স্বপ্ন এক, অনুভূতিও এক। যে অনুভূতি, যে অভিজ্ঞতা মেয়েদেরই একান্ত, যা নারীর শরীর ও মন ছাড়া অনুভব করা সম্ভব নয়, তাকেই নতুন করে উদ্ধার করা হচ্ছে নারীর ভাষায়।

তাই আমাদের প্রতিবাদও হচ্ছে এক নারীবাদের ভাষায়, পুরুষের প্রেসক্রিপশনে নয়। তাতে যদি নারীর সঙ্গে পুরুষের, নারীর সঙ্গে নারীর বিরোধ হয়, হোক। সে বিরোধ যদি নারীর সঙ্গে পুরুষের, নারীর সঙ্গে নারীর নতুন বোঝাপড়া তৈরি করে, তবেই তা সার্থক। সেই বিরোধ আর সমঝোতা থেকে উঠে আসবে এক নতুন মহাকাশ ‘নারীর নিজস্ব ভাষা’। তৈরি হবে নতুন পাঠক, যারা নিজেকে যোগ্য করে তুলবে নারীর জন্য, নতুন ভাষার জন্য।

(তথ্যসূত্র: তসলিমা নাসরিন, হাসান ইকবাল: ভাষা, নারী ও পুরুষপুরাণ)

লেখক: প্রধান নির্বাহী, সংযোগ বাংলাদেশ, কলামিস্ট

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ৮ ডিসেম্বর ২০১৬

রুপার্ড মারডক সাম্রাজ্যে কর্মী ছাটাই !

ডিসেম্বর 8, 2016 মন্তব্য দিন

আয় কমায় কর্মী বিদেয় করছে নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়া

news-limited-newspapersএকটি প্রতিষ্ঠানের দুজন কর্মী। একজন ছবি তুলতে পারেন, সংবাদ লিখতে পারেন, আবার নির্ভুলভাবে সম্পাদনা করে সেটি প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ বা প্রচার করার ব্যবস্থা করতে পারেন। আরেকজন কেবল ছবি তুলতে পারেন, অথবা কেবল লিখতে পারেন, কিংবা কেবল সেটি নির্ভুলভাবে সম্পাদনা করতে পারেন, অথবা প্রকাশের মতো করে এনে দিলে কেবল প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়ায় সেটি প্রকাশ করতে পারেন।

যেহেতু প্রথমজন ছবিও তুলতে পারছেন, লিখতেও পারছেন, নির্ভুলভাবে সম্পাদনাও করতে পারছেন এবং প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে ফেলতে পারছেন, অপরদিকে দ্বিতীয় জন কেবল ছবি তুলতে পারছেন, অথবা কেবল লিখতে পারছেন, কিংবা কেবল সম্পাদনা করতে পারছেন অথবা কেবল প্রাযুক্তিক প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করতে পারছেন, সেহেতু প্রথমজনকে মাল্টিটাস্কার বা সকল কাজের কাজী বিবেচনা করে দ্বিতীয়জনকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা হিসেবে দেখার চর্চা শুরু হয়েছে উন্নত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এই চর্চারই অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় মিডিয়া গোষ্ঠী নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪২ সাংবাদিক, চিত্রকর ও চিত্রগ্রাহককে অপ্রয়োজনীয় চিহ্নিত করে নিজেদের পথ খুঁজতে বলেছে।

অস্ট্রেলিয়ানআমেরিকান মিডিয়া মুঘল রপার্ট মারডকের এ মিডিয়া গোষ্ঠীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য হেরাল্ড সান ও দ্য কুরিয়ার মেইল। এই চারটি প্রতিষ্ঠানেরই ওই ৪২ কর্মীকে স্বেচ্ছায় বিদায় (প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাদিসহ) নেওয়ার কথা বলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফুলটাইম কর্মরত এই কর্মীরা চলে গেলে প্রতিষ্ঠানের খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

নতুন করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কেনায় নিউজ করপোরেশন অর্থ ব্যবস্থাপনায় খানিকটা টানাপোড়েনে পড়ে গেছে। এরমধ্যে গত নভেম্বরে প্রকাশিত তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞাপনী আয় ১১ শতাংশ পড়ে গেছে। এই আয় পতনে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে খরচ কমানোর চাপ আসছে। খরচ কমানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) ডলার। অবশ্য কেবল এবারই খরচ কমানোর লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় লোকদের সরাচ্ছে না নিউজ করপোরেশন। গতবছর ক্রিসমাসের আগে ৫৫ কর্মীকে অপ্রয়োজনীয় চিহ্নিত করে বিদায় দেওয়ার লক্ষ্য নেয় তারা। তার আগের বছর মিডিয়া গোষ্ঠীটি জানায়, ২০১২১৩ অর্থবছরে তাদের ১ হাজার কর্মী বিদায় নিয়ে গেছেন। নিউজ করপোরেশন বলেছে, যদি প্রতিষ্ঠানগুলো ৪২ অপ্রয়োজনীয় কর্মীকে স্বেচ্ছায় বিদায় দিতে অসমর্থ হয়, তবে তাদের বিদায়ে বাধ্য করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট ও আর্টস অ্যালায়েন্স। তারা বলেছে, নিউজ করপোরেশন মাথাপিছু ব্যয়ের হিসাবেও বড় ধরনের কাটছাঁট করার পর ফুলটাইম পজিশনের ৪২ কর্মীকে বিদায় নেওয়ার পথ খুঁজছে। অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, নিউজ করপোরেশন তাদের বলেছে, এই ৪২ কর্মীর মধ্যে কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা বুঝে আগেই স্বেচ্ছা বিদায়ের (প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাদিসহ) জন্য নাম লিখিয়েছিলেন, এখন সে কজনসহ অন্যদেরও এ সুযোগটা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ না মানলে প্রতিষ্ঠানেরই স্বার্থে ওই কর্মীদের বিদায়ে বাধ্য করা হবে।