প্রথম পাতা > ইতিহাস, পরিবেশ, ভ্রমণ > তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

turkey-cotton-mountain-1নাবীল আল জাহান : তুরস্কের দক্ষিণপশ্চিমের রাজ্য দেনিজলি। এই দেনিজলি রাজ্যেই দেশটির সবচেয়ে বড় পর্যটন আকর্ষণ পামুক্কালের অবস্থান। তুর্কি শব্দ পামুক্কালের অর্থ কটন ক্যাসল বা তুলার প্রাসাদ। কারণ ওটাকে দেখলে তেমনটাই মনে হয়। যেন তুলা দিয়ে বানানো এক বিশাল প্রাসাদ। আবার জায়গাটিতে গেলে আপনি হঠাৎ ভাবতে পারেন, বরফরাজ্যে চলে এসেছেন। কিন্তু পামুক্কালের সঙ্গে তুলা কিংবা বরফ—কোনোটিরই সম্পর্ক নেই। তুরস্কের মেন্দেরেস নদী গিয়ে মিশেছে আজিয়ান সাগরে। সেই নদীর উপত্যকায়ই অবস্থিত এই পামুক্কালে। সেখানকার আবহাওয়াও নাতিশীতোষ্ণ। এই উপত্যকার সবুজ প্রান্তরের মাঝেই আচমকা দাঁড়িয়ে আছে এই তুষারশুভ্র পামুক্কালে।

অবশ্য কেবল এই তুষারশুভ্র সৌন্দর্যই পর্যটকদের আকর্ষণ করার একমাত্র কারণ নয়; বরং যে কারণে চারপাশে সবুজের মাঝেও জায়গাটি সারা বছর এমন ধবধবে সাদা হয়ে থাকে, সেটিই পর্যটকদের আকর্ষণ করার কারণ—তা হলো খনিজ লবণ। পামুক্কালের পাহাড়ি উপত্যকাটি খনিজ লবণে সমৃদ্ধ। এই লবণগুলোই জমাট বেঁধে চুনাপাথরের এই তুলার প্রাসাদ গড়ে উঠেছে। আর সেই প্রাসাদজুড়ে আছে অনেক গরম পানির ঝরনা। সেসব ঝরনার পানি জমে জমে এই পাহাড়ি উপত্যকায় কতগুলো পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই পুকুরগুলোও খনিজ লবণে ভর্তি। আর সে কারণে এখানকার পানিও বেশ উষ্ণ, আরামদায়ক। শুধু যে পুকুরগুলোতে গোসলই করা যায় তাই নয়; ওই সাদা লবণগুলো গায়ে মেখে ভূতও সাজা যায়। প্রচুর খনিজ লবণের কারণে জায়গাটি কেবল সুন্দর আর দর্শনীয়ই নয়, বেশ স্বাস্থ্যকরও।

turkey-cotton-mountain-2তবে পর্যটকদের জন্য পামুক্কালেতে আকর্ষণ আছে আরো। গ্রিকরোমানদের আস্ত একটা প্রাচীন শহর—হিয়েরাপোলিস। পামুক্কালের এই তুলার প্রাসাদের কাছেই সেই শহরের অবস্থান। শহরটিও খুব যত্ন করে সংরক্ষণ করা আছে। একদম আগের মতো করে রাখা আছে সারি সারি রাস্তা, মন্দির, গোসলখানা, গোরস্তান—সব। তবে হিয়েরাপোলিসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অ্যাম্ফিথিয়েটার। প্রাচীন গ্রিকরোমান আমলের স্থাপত্যকর্মের এক অনন্য নিদর্শন এটি। হিয়েরাপোলিসের এই অ্যাম্ফিথিয়েটারটি নিতান্ত ছোটও ছিল না। একসঙ্গে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসার বন্দোবস্ত আছে। সব মিলিয়ে মনে হয়, সেই প্রাচীন আমলেই পামুক্কালে ঘিরে একটি নগর গড়ে উঠেছিল। সেখানে গ্রিক আর রোমানরা দলে দলে হাওয়া বদল করতে আসত। হিয়েরাপোলিসকে তাই অনেকে প্রাচীন স্পা নগরীও বলে। এই হিয়েরাপোলিসকে কেন্দ্র করে একটা আস্ত জাদুঘরই গড়ে তোলা হয়েছে—হিয়েরাপোলিস আর্কিওলজি মিউজিয়াম।

সব মিলিয়ে পামুক্কালে ঘোরাঘুরির জন্য দুর্দান্ত এক জায়গা। সেখানে গেলে যেমন প্রাকৃতিক বিস্ময়ের সাক্ষাৎ মেলে, তেমনি উপভোগ করা যায় মানবসৃষ্ট প্রাচীন বিস্ময়ও। আর তাই জায়গাটিকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে। সে ঘোষণার পর তুরস্ক সরকারও একে সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। সেখান থেকে সব ধরনের হোটেল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি পামুক্কালের পুকুরগুলোতে জুতা পরেও নামা বারণ। এসব কারণে দিন দিন পামুক্কালের সৌন্দর্য যেমন খোলতাই হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়ও।

pamukkel-turkey

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: