আর্কাইভ

Archive for ডিসেম্বর 4, 2016

পায়ের গোড়ালী ফাটা বন্ধ করতে…

chapped-heel

Advertisements
বিভাগ:স্বাস্থ্য

পারস্য কবি ওমর খৈয়াম

omar-khaiyyam

১৩০ বছরের গৌরব খুলনা জিলা স্কুল !

khulna zilla school.jpg

গাড়ী চালানো আনন্দদায়ক করতে…

driving comfort.jpg

একপেয়ে অরুণিমা জয় করলো এভারেষ্ট !

arunima-sinhaট্রেনের কামরায় ছিনতাইবাজদের সামনে রুখে দাঁড়ানোর শাস্তি হিসেবে তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। উল্টো দিক থেকে আসা ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েছিল বাঁ পা। সারা রাত যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে দেখেছিলেন, তাঁর কাটা পড়া পায়ে ভিড় করছে ইঁদুরের দল।

উত্তরপ্রদেশের অম্বেদকর নগরের মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণী অরুণিমা সিংহ তখন ২৩, জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড়। এখন ২৮এর অরুণিমা প্রস্থেটিক পা নিয়ে বিশ্বের প্রথম মহিলা এভারেস্টজয়ী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইনফোকমএ তাঁর কাহিনি মন্ত্রমোহিতের মতো শুনলেন তাবড় শিল্পোদ্যোগীরা। জানলেন, নিজের ধর্ম পালন করতে হলে কিছু চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হয়। কিন্তু কর্ম পালন করতে হলে প্রার্থিত বস্তুকে শুধু চাইলে হয় না। ছিনিয়ে নিতে হয়।

নকল পা লাগানোর অস্ত্রোপচারের পরেই অরুণিমা যখন এভারেস্ট জয়ের সঙ্কল্প করেছিলেন, সবাই ভেবেছিলেন এত বড় ‘দুর্ঘটনায়’ মেয়েটার মাথাটাও বুঝি বিগড়ে গিয়েছে। ‘‘তখন আমায় কেউ পাগল বললে রাগেদুঃখে চিৎকার করতাম। এখন ভাল লাগে। কারণ যখনই তোমায় কেউ পাগল বলবে, জানবে ঠিক পথে এগোচ্ছ। লক্ষ্য পূরণে পাগলামি জরুরি। ’’ আজ গর্বের সঙ্গে এ কথা বলতে পারেন অরুণিমা। হাততালিতে ভরে ওঠে রাজারহাটের প্রেক্ষাগৃহ।

পাগল’ বলে সারা দুনিয়া মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর ভারতের প্রথম মহিলা এভারেস্টজয়ী বাচেন্দ্রী পালের কাছে গিয়েছিলেন অরুণিমা। জানিয়েছিলেন এভারেস্টস্বপ্নের কথা। উত্তর পেয়েছিলেন, ‘‘তুমি যে এই অবস্থাতেও এভারেস্ট অভিযানের কথা ভেবেছ, এতেই শৃঙ্গজয় হয়ে গিয়েছে তোমার। বাকিটা কেবল লোকের জানার অপেক্ষা। ’’

উত্তরকাশীতে পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় পায়ে একটু চাপ পড়লেই প্রস্থেটিকের সংযোগস্থল ফেটে রক্ত পড়ত। দাঁতে দাঁত চেপে অরুণিমা নিজেকে বোঝাতেন, এই যন্ত্রণার একমাত্র উপশম এভারেস্ট। প্রশিক্ষণ শেষ করে, কয়েকটি ছয়সাড়ে ছ’হাজার মিটারের শৃঙ্গ আরোহণে পরে ২০১৩র এপ্রিলে এভারেস্ট অভিযান শুরু। অসম্ভবের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সে এক চরম লড়াই। আর তাতে জিতেছে আত্মবিশ্বাসই। তাই দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় খাড়া বরফদেওয়ালে ক্র্যাম্পন (বরফে চলার জুতোর নীচে লাগানো কাঁটা) গাঁথার সময় যখন প্রস্থেটিক পাটা ঘুরে গিয়ে গোড়ালি সামনে চলে এসেছিল, তখনও হাল ছাড়েননি অরুণিমা। শেরপার সাহায্যে পা ঠিক করে পরের পদক্ষেপ করেছিলেন।

২১ মে, সকাল ১০:৫৫তে যখন এভারেস্টের চুড়োয় ভারতের পতাকাটা উড়িয়েছিলেন, তখনও অরুণিমা জানতেন না জীবিত অবস্থায় নামতে পারবেন কি না। কারণ এভারেস্ট ছোঁয়ার পরেও ছিল অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়া, প্রস্থেটিক পা খুলে যাওয়া, হাতে তুষার কামড়ের মতো আরও বহু বাধা। তারাও হার মেনেছে তরুণীর মনের জোরের কাছে।

এখন নিজের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিকলাঙ্গদের জন্য ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান খুলেছেন অরুণিমা। লিখেছেন বই, ‘‘বর্ন এগেন অন দ্য মাউন্টেন। ’’ হয়ে উঠেছেন অসংখ্য মানুষের ‘আইকন’। আজ শুধু এভারেস্ট নয়, পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলির মধ্যে ছ’টিই আরোহণের পালক তাঁর মুকুটে। আগামী বছরের গোড়াতেই পরিকল্পনা আছে অ্যান্টার্কটিকার ভিনসন শৃঙ্গ অভিযানের। সাফল্য এলে, সম্পূর্ণ হবে ‘সেভেন সামিট’।

সপ্তশৃঙ্গ জয়ের আগাম শুভেচ্ছা জানাতে গোটা প্রেক্ষাগৃহ যখন উঠে দাঁড়িয়ে প্রবল হাততালিতে কুর্নিশ জানাচ্ছে অরুণিমাকে, তাঁর জেদ, সাহস, লড়াইকে— তখনই নিজের অভিজ্ঞতায় পাওয়া মোক্ষম শিক্ষাটা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। বললেন, ‘‘জীবনে ঝুঁকি নানেওয়াটাই সব চেয়ে বড় ঝুঁকি। ’’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

turkey-cotton-mountain-1নাবীল আল জাহান : তুরস্কের দক্ষিণপশ্চিমের রাজ্য দেনিজলি। এই দেনিজলি রাজ্যেই দেশটির সবচেয়ে বড় পর্যটন আকর্ষণ পামুক্কালের অবস্থান। তুর্কি শব্দ পামুক্কালের অর্থ কটন ক্যাসল বা তুলার প্রাসাদ। কারণ ওটাকে দেখলে তেমনটাই মনে হয়। যেন তুলা দিয়ে বানানো এক বিশাল প্রাসাদ। আবার জায়গাটিতে গেলে আপনি হঠাৎ ভাবতে পারেন, বরফরাজ্যে চলে এসেছেন। কিন্তু পামুক্কালের সঙ্গে তুলা কিংবা বরফ—কোনোটিরই সম্পর্ক নেই। তুরস্কের মেন্দেরেস নদী গিয়ে মিশেছে আজিয়ান সাগরে। সেই নদীর উপত্যকায়ই অবস্থিত এই পামুক্কালে। সেখানকার আবহাওয়াও নাতিশীতোষ্ণ। এই উপত্যকার সবুজ প্রান্তরের মাঝেই আচমকা দাঁড়িয়ে আছে এই তুষারশুভ্র পামুক্কালে।

অবশ্য কেবল এই তুষারশুভ্র সৌন্দর্যই পর্যটকদের আকর্ষণ করার একমাত্র কারণ নয়; বরং যে কারণে চারপাশে সবুজের মাঝেও জায়গাটি সারা বছর এমন ধবধবে সাদা হয়ে থাকে, সেটিই পর্যটকদের আকর্ষণ করার কারণ—তা হলো খনিজ লবণ। পামুক্কালের পাহাড়ি উপত্যকাটি খনিজ লবণে সমৃদ্ধ। এই লবণগুলোই জমাট বেঁধে চুনাপাথরের এই তুলার প্রাসাদ গড়ে উঠেছে। আর সেই প্রাসাদজুড়ে আছে অনেক গরম পানির ঝরনা। সেসব ঝরনার পানি জমে জমে এই পাহাড়ি উপত্যকায় কতগুলো পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই পুকুরগুলোও খনিজ লবণে ভর্তি। আর সে কারণে এখানকার পানিও বেশ উষ্ণ, আরামদায়ক। শুধু যে পুকুরগুলোতে গোসলই করা যায় তাই নয়; ওই সাদা লবণগুলো গায়ে মেখে ভূতও সাজা যায়। প্রচুর খনিজ লবণের কারণে জায়গাটি কেবল সুন্দর আর দর্শনীয়ই নয়, বেশ স্বাস্থ্যকরও।

turkey-cotton-mountain-2তবে পর্যটকদের জন্য পামুক্কালেতে আকর্ষণ আছে আরো। গ্রিকরোমানদের আস্ত একটা প্রাচীন শহর—হিয়েরাপোলিস। পামুক্কালের এই তুলার প্রাসাদের কাছেই সেই শহরের অবস্থান। শহরটিও খুব যত্ন করে সংরক্ষণ করা আছে। একদম আগের মতো করে রাখা আছে সারি সারি রাস্তা, মন্দির, গোসলখানা, গোরস্তান—সব। তবে হিয়েরাপোলিসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অ্যাম্ফিথিয়েটার। প্রাচীন গ্রিকরোমান আমলের স্থাপত্যকর্মের এক অনন্য নিদর্শন এটি। হিয়েরাপোলিসের এই অ্যাম্ফিথিয়েটারটি নিতান্ত ছোটও ছিল না। একসঙ্গে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসার বন্দোবস্ত আছে। সব মিলিয়ে মনে হয়, সেই প্রাচীন আমলেই পামুক্কালে ঘিরে একটি নগর গড়ে উঠেছিল। সেখানে গ্রিক আর রোমানরা দলে দলে হাওয়া বদল করতে আসত। হিয়েরাপোলিসকে তাই অনেকে প্রাচীন স্পা নগরীও বলে। এই হিয়েরাপোলিসকে কেন্দ্র করে একটা আস্ত জাদুঘরই গড়ে তোলা হয়েছে—হিয়েরাপোলিস আর্কিওলজি মিউজিয়াম।

সব মিলিয়ে পামুক্কালে ঘোরাঘুরির জন্য দুর্দান্ত এক জায়গা। সেখানে গেলে যেমন প্রাকৃতিক বিস্ময়ের সাক্ষাৎ মেলে, তেমনি উপভোগ করা যায় মানবসৃষ্ট প্রাচীন বিস্ময়ও। আর তাই জায়গাটিকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে। সে ঘোষণার পর তুরস্ক সরকারও একে সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। সেখান থেকে সব ধরনের হোটেল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি পামুক্কালের পুকুরগুলোতে জুতা পরেও নামা বারণ। এসব কারণে দিন দিন পামুক্কালের সৌন্দর্য যেমন খোলতাই হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়ও।

pamukkel-turkey

খাদ্যঃ ডাঁটা শাকের গুণাগুণ

data-spinach