প্রথম পাতা > অর্থনীতি, ইসলাম, ধর্মীয়, বাংলাদেশ > ‘ইসলামি ব্যাংকিংয়ে শরিয়া মানা হচ্ছে না’

‘ইসলামি ব্যাংকিংয়ে শরিয়া মানা হচ্ছে না’

islamic-banking-wordleখাঁটি ইসলামের অনুসারী বলে দাবীদার ওয়াহহাবী, সালাফী এবং আহলেহাদীস মতাদর্শীরা কখনো বলে না যে, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক রাসুলুল্লাহ (সা), সাহাবী বা তাবেয়ীদের সময়ে ছিলো না, সুতরাং ইসলামী ব্যাংকিং বিদআত !

বছরখানেক আগে অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া ইসলামী ব্যাংকের সমলোচনা করে দেশের ইসলামীপন্থীদের দ্বারা তিরষ্কৃত হয়েছিলেন এবং তাকে মুরতাদ’ আখ্যা দেয়া হয়েছিলো ! এবার দেখা যাক, ঐসব ইসলামপন্থীরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে কিনা !

লাভলোকসানের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংক চলে দাবী করলেও তারা শুধুমাত্র লাভজনক প্রকল্পেই হাত দেয় অর্থাৎ তারা ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে নারাজ ! তাহলে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে ঝুঁকিমূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে কারা ?

সাধারণ ব্যাংকিংএর আদলে গঠিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক শুধুমাত্র কিছু নবউদ্ভাবিত ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে সুদ নিচ্ছে!

বিদেশে বাড়ী কিনতে ইসলামী ব্যাংকের দারস্থ হলে দেখা যায়, তারা বাড়ীর ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে সাধারণ ব্যাংকের সুদসমেত পরিশোধ্য মূল্যের মতোই ! (১৫ বা ৩০ বছরমেয়াদী ঋণ) । অর্থাৎ বাড়ীর মর্টগেজের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বর্ধিত মূল্য ধরা হয় । তাহলে ইসলামী ব্যাংকের সাথে সাধারণ ব্যাংকের তেমন বিশেষ পার্থক্য থাকে না । উপরন্তু, বাণিজ্যিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে অংশদারিত্বের ভিত্তিতে কেনা হচ্ছে বলে ইসলামী ব্যাংক বাড়ী কেনার সময় প্রদত্ত অর্থের ভিত্তিতে মালিকানার অংশ নির্ধারণপূর্বক বাড়ী ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশও ভোগ করতে থাকে যা সাধারণ ব্যাংক করে না অর্থাৎ সাধারণ ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে ইসলামী ব্যাংকের তুলনায় বেশী ছাড় দেয় !

= = =

বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে, তাতে ইসলাম ধর্মের নিয়মকানুন বা শরিয়া পালিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শরিয়াভিত্তিক অর্থায়নের ৫২টি মান আছে। বাংলাদেশে মাত্র দুএকটি পালন করা হয়।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ইসলামি ব্যাংকগুলোতে করপোরেট সুশাসন নিয়ে এক সেমিনারে ফরিদউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও কয়েকজন বক্তা বলেন, বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক আসলে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতোই।

অনুষ্ঠানে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর বলেন, লাভলোকসান ভাগাভাগির ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংকগুলো খুব কম পরিমাণে ঋণ দেয়। তিনি বলেন, দুটি মুরগির একটি মহান আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়, অন্যটি তাঁর নাম না নিয়ে জবাই করা হয়। কিন্তু রান্না করলে স্বাদ একই। একইভাবে ইসলামি ব্যাংকিং ও সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই।

ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, কী কী শর্তে দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার না বলে ঋণ দেওয়া হলে তা হারাম হয়ে যায়। অন্যান্য ব্যাংকের মতো ইসলামি ব্যাংকগুলোতেও গ্রাহক শুধু ফরম পূরণ করেন। শর্ত সম্পর্কে পুরো ধারণা রাখেন না। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো গ্রাহককে নগদ টাকার বদলে পণ্য কিনে দেয়। এখন তারা ক্রেতা প্রতিনিধিকে (বায়িং এজেন্ট) টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। কিন্তু নিয়ম হলো আগে ব্যাংক পণ্য কিনবে, নিজের দখলে নেবে, তারপর দাম নির্ধারণ করে গ্রাহককে দেবে। এর কি কোনো মানে আছে?

ফরিদউদ্দিন আরও বলেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহককে দিয়ে মুদারাবা হিসাব খোলায়। কিন্তু গ্রাহককে বলে না যে লোকসান হলে ভাগ নিতে হবে। এ সময় সেমিনারে উপস্থিত ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কী কখনো গ্রাহককে বলেন ব্যাংকের লোকসানের ভাগ নিতে হবে? বলেন না। ব্যাংকের মুনাফা ভাগাভাগির নীতিমালাও গোপন থাকে।’

অনুষ্ঠানে বিআইবিএমএর মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক এস এ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: