প্রথম পাতা > বাংলাদেশ > পূর্বাচল আবাসন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে !

পূর্বাচল আবাসন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে !

নভেম্বর 29, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

purbachal-projectরেজা করিম: দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা কারণে পূর্বাচল নতুন শহর নিয়ে গ্রাহকের মনে হতাশার মেঘ জমলেও আছে আশা জাগানিয়া অনেক পরিকল্পনা। পূর্বাচল নামের আধুনিক এ শহরে শিক্ষা, চিকিত্সা ও বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই থাকবে অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা। বহুতল আইকনিক টাওয়ার নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে এখানে। সব মিলিয়ে এ শহরকে ঘিরে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরজীবনের উন্নত সব সুযোগসুবিধা থাকবে পূর্বাচল নতুন শহরে। সেখানে বাণিজ্যিক এলাকা, হাসপাতাল, শপিং মল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও পার্কসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামো থাকবে। প্লটের পাশাপাশি এখানে ৬০ হাজার আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। পরিবেশবান্ধব এই শহরে সবুজ চত্বর, বাগান ও বনাঞ্চলসহ সব সুযোগসুবিধা রাখা হবে। পূর্বাচল শহর নাগরিকদের আবাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।

রাজউকের একটি সূত্র জানায়, পূর্বাচলে বসবাস করতে যাওয়া আনুমানিক ১০ লাখ লোকের জন্য হাসপাতাল, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, মসজিদমন্দির নির্মাণ করার জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলবাসীদের চিকিত্সাসেবা দিতে সেখানে ১৩টি হাসপাতাল করা হবে। প্রকল্পে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গ্রিন লাইফ হসপিটাল লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হলিক্রিসেন্ট হসপিটাল লিমিটেড, সাফেনা জেনারেল অ্যান্ড ডেন্টাল হসপিটাল লিমিটেড, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট লিমিটেড, আলবাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, কিলিমানজারো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, পূর্বাচল জেনারেল হসপিটাল, আবদুল মোমেন হসপিটাল, আনসারভিডিপি হসপিটাল, ইমপেরিয়াল হসপিটাল, ইউএস বাংলা হসপিটাল ও রিজেন্সি হসপিটাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের নামে।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও ডিজাইন) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ২৫ হাজারের বেশি আবাসিক প্লট রয়েছে। এসব প্লটে প্রায় ১০ লাখ লোকের বসবাসের ব্যবস্থা থাকবে। যারা এ শহরে বসবাস করবেন তাদের নাগরিক সুবিধা দিতে সেখানে হাসপাতাল, স্কুলকলেজ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করা হবে। অন্যদিকে পূর্বাচল নতুন শহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামেও জমি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা রয়েছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জায়গা আছে বলে শুনেছি। তবে সে জায়গাটা ঠিক কোথায় সেটা এখনও ঠিক হয়নি।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৯ নম্বর সেক্টরে আধুনিক সুযোগসুবিধা সংবলিত দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। একই সেক্টরে থাকবে এক লাখ দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম। সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে এই সেক্টরেই ৬০ একর জমির ওপর ১৩০১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেঙ্গল টাওয়ার’ নামের এই আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পূর্বাচলের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিক জানান, ১৪২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মাটি যদি এর জন্য উপযুক্ত না হয় তবে ১৩০ তলা করা হবে। ১৪২ তলা হলে দেশের সর্বোচ্চ হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন হবে এটি। আর ১৩০ তলা হলে এশিয়ায় তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন হবে। ভবনটির আকৃতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের বছর ’৭১এর ইংরেজি ‘সেভেন্টি ওয়ান’এর আকৃতিতে ‘বেঙ্গল টাওয়ার’ নামের সুউচ্চ এই ভবন নির্মিত হবে। তবে স্বপ্নের এই টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এটি পূর্বাচল প্রকল্প এলাকায় না হয়ে অন্য আর একটি স্থানে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের কথা রয়েছে। এখান থেকে তা স্থানান্তরের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমার জানা নেই। যে কারণে কেউ বললেই তা স্থানান্তর হয়ে যাবে বিষয়টা তেমন নয়। সরকারি নিয়মকানুন মেনেই কাজ করতে হবে। এ পর্যন্ত টাওয়ার নির্মাণে দুই দফা আন্তর্জাতিক নিলামের আয়োজন করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও পর্যন্ত সাড়া দেয়নি বলে জানান তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বাচল নতুন শহরে আইকনিক টাওয়ার নিয়ে ইতোমধ্যে সব মহলে একধরনের ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হতে পারে স্বপ্নের এই আইকনিক টাওয়ার। অর্থমন্ত্রীর কণ্ঠেও সেই স্বপ্নের কথা শোনা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি বছরের ২ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৬১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে বলেছেন, ‘আমি আমার একটি স্বপ্নের কথা বলতে চাই। আমার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক ও জনবান্ধব একটি প্রকল্প সম্পর্কে সবাইকে বলব। আপনারা জানেন, পূর্বাচল ও এর নিকটস্থ এলাকা নিয়ে একটি স্বতন্ত্র মহানগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহানগরে পিপিপির আদলে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এর মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার স্থাপন করা হবে।’

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় মোট ৬ হাজার ২৭৭ একর জমিতে পূর্বাচল নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া খিলক্ষেত এলাকার ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ‘কুড়িলপূর্বাচল’ ৩০০ ফুট সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট জমির ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আবাসন খাতে। ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাণিজ্যিক প্লট, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য ১ দশমিক ৯ শতাংশ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২ শতাংশ এবং গবেষণা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ দশমিক ৩ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে সড়ক যোগাযোগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, বাণিজ্য ও সামাজিক অবকাঠামোর জন্য ৯ দশমিক ১, লেক ৬ দশমিক ৬, বন, উদ্যান ও সবুজ নগরায়নের জন্য ৫ দশমিক ৯ এবং খেলাধুলার জন্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিক সকালের খবর, ২৯ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
বিভাগ:বাংলাদেশ
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: