প্রথম পাতা > কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ, বাংলাদেশ > কমলায় রঙিন নানিয়ারচর

কমলায় রঙিন নানিয়ারচর

orange farming.jpgহিমেল চাকমা : কমলা বাগান করে এখন লাখপতি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষং এলাকার নম কার্বারীপাড়া গ্রামের মধুসূদন তালুকদার। এখন তার বাগানের গাছে ঝুলছে বড় বড় রঙিন কমলা। দুর্গম পাহাড়ে কমলার এ ফলনে অবাক কৃষি বিভাগও। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে এমন কমলা রাঙ্গামাটি জেলায় দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার নম কার্বারীপাড়ায় মধুসূদনের কমলা বাগানে গিয়ে দেখা যায় গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রঙিন কমলা। কমলা বাগানের যেদিকে চোখ যায় সেদিকে রঙিন কমলা। কমলার ভারে নূয়ে পড়েছে ডালপালা। ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে কমলার ডালপালাগুলো। এক একটি কমলার ওজন ২শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ গ্রাম। স্বাদেও মিষ্টি।
মধুসূদন তালুকদার বলেন, এ বছর তিনি ঘরে বসে ৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিক্রি করেছেন ১৪ লাখ টাকার কমলা। ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে কমলা পেড়ে নিয়ে যায়।

মধুসূদন বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা আর বাজারে দাম না থাকায় বাগানে নষ্ট হয়ে যেত আম, কাঁঠাল ও কলা। কিন্তু বাজারে একটি কমলার দাম ১৫২০ টাকা। পরিবহনও সহজ। এটি মাথায় রেখে ২০০৭ সালে ২ একর পাহাড়ে ৭শ’ কমলার চারা লাগাই। ২০১৩ সালে কিছু গাছে কমলা ধরে। ২০১৪ সাল থেকে বাগানের অর্ধেক গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। কমলা বিক্রির জন্য তার আর চিন্তা করতে হয় না। সময় আসলে ব্যবসায়ীরা চলে আসেন। অগ্রিম টাকা দিয়ে তারাই বাগানটি দেখাশোনা করে দিচ্ছেন।

কমলায় রঙিন নানিয়ারচরমধুসূদন বলেন, সেপ্টেম্বরঅক্টোবরের দিকে রাতের বেলায় এক ধরনের পোকা কমলার ক্ষতি করে। ফলে কমলাগুলো ঝরে পড়ে। কোনো কীটনাশকে এগুলো মরে না। তাই এই পোকা দমনে তিনি রাত জেগে পাহারা দিতেন এবং পোকাগুলো মেরে ফেলতেন। এ পোকার আক্রমণ না হলে আরো কিছু টাকা পেতেন।

কমলা ব্যবসায়ী জ্যোতিরঞ্জন চাকমা বলেন, এখন গাছ থেকে কমলা ঝরে পড়ার সম্ভবনা নেই। তাই পরিপক্ব কমলা ছিড়ে তারা বাজারে তুলছেন। মধুসূদনের বাগানের কমলা বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরে পিস প্রতি বিক্রি করছেন ২৫৩০ টাকা। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় মানুষ সহজে এ কমলা কিনে নিচ্ছেন।

এদিকে মধুসূদনের সফলতা দেখে অন্যরা ঝুঁকছেন কমলা বাগানের প্রতি। নম কার্বারীপাড়ার উজ্জ্বল চাকমা (৪৪) ও শান্তি রঞ্জন চাকমা (৪৫) বলেন, মধুসূদনকে দেখে এলাকায় এখন কমলা বাগান করছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রমনী কান্তি চাকমা বলেন, জেলায় কমলা বাগানের এলাকা ৭৬০ হেক্টর। এর মধ্যে কমলা উৎপাদনে বর্তমানে রাঙ্গামাটির শীর্ষস্থান দখল করেছে নানিয়াচরের সাবেক্ষং। স্বাদে মিষ্টি আকারে বড় হওয়ায় কমলার বাজার দখল করেছে নানিয়াচরের কমলা। নানিয়াচরের মাটি কমলা চাষের জন্য উপযোগী বলছে কৃষি অফিস। এক সময় সাজেকের কমলা বিখ্যাত হলেও এখন নানিয়াচরের কমলা সেই স্থান দখল করে নিয়েছে।

পোকা দমন ও সার প্রয়োগ বিষয়ে কমলা বাগানিরা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আরো লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগ বাগানিদের পরামর্শ দিতে সব সময় প্রস্তুত আছে।

সূত্রঃ দৈনিক মানবকন্ঠ, ২৮ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: