তুরস্কে হচ্ছেটা কী?

নভেম্বর 24, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

এই খবরটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত হবার পর জামাতশিবির ঝাঁপিয়ে পড়েছে লেখার বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করে যতোইচ্ছা ‘লাইক’ দিচ্ছে এবং লেখাটিকে সমর্থন করে মন্তব্যকারীদের ডিসলাইক’ দিয়ে তাদের শক্তিমত্তার জানান দেয়ার অপচেষ্টা করেছে অর্থাৎ তারা এরদোগানের অন্যায় ও গর্হিত কর্মকান্ডের ঘোরতর সমর্থক । আমাদের প্রয়োজন সমাজে ঘাপটি মেরে থাকা এসব ইসলামপন্থী মতলববাজদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা ।

এরদোগান মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থক আর মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে আদর্শিক সাযুজ্য জামায়াতে ইসলামীর । গণতন্ত্রের আলখেল্লা পরে ইসলামিষ্টরা শাসন ক্ষমতা দখল করতে পারলে হয়ে ওঠে স্বৈরতন্ত্রী যা তারা শরীয়াহ ব্যবহার করে জায়েয করে নেয় যেনো চিরদিন তারা ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে থাকতে পারবে। অথচ এরা বিরোধী দলে থাকার সময় অন্যদের স্বৈরশাসক বলে গালি দেয় । পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ায়ল হক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশের উপর জোর করে শরীয়াহ চাপিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু দেশবাসী তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলো না । ফলে যা হবার তাই হয়েছিলো জিয়াউল হক নিহত হবার পর পাকিস্তান আবার সেক্যুলার ধারায় চলে গেছে । ঐ সময় সুযোগসন্ধানী ধূর্ত জামাতে ইসলাম জিয়াউল হকের ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়েছিলো ।

মুরসি মিসরে ক্ষমতা দখল করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছিলেন এবং সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে একনায়কে পরিণত হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন দেশের আর্থসামাজিক উন্নতির দিকে তেমন মনোনিবেশ করেননি। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো তারা সহজেই সিআইএএর ফাঁদে পা দিয়েছে । এরদোগান সেই একই পথে হাটছেন আসলে এরদোগান এক জঘন্য রকমের স্বৈরশাসক যিনি কোন রকম সমালোচনা শুনতে রাজী নন ২১০০+ মানহানির মামলা হয়েছে অভ্যুত্থান পর্যন্ত । বলা হয়, এরদোগান তুরস্কের মহাজনপ্রিয় শাসক এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অথচ তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে মাত্র ৫২% ভোট অর্থাৎ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ তাঁকে পছন্দ করে না ! আর্মেনিয়ার গণহত্যা অস্বীকারকারী এই নেতা (এবং বাংলাদেশে জামাতী যুদ্ধাপরাধী নেতাদের সমর্থক) সিরিয়ায় বিদেশী সন্ত্রাসী, অস্ত্র, চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে বাশার আলআসাদকে উৎখাতের জন্য পাশ্চাত্যদের আজ্ঞাবহ দাস হয়ে । আবার স্বাধীনতাকামী কুর্দিদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে তাদের হত্যা করে চলেছে এমনকি আর্ন্তজাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লংঘন করে সিরিয়ার অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে কুর্দিদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আলেপ্পোতে থাকা ন্যাটো ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজন্যবর্গের অর্থঅস্ত্রসমর্থনপুষ্ট আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসীদের মদদ যুগিয়ে আসছে । বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের পাচার করা তেল অত্যন্ত সস্তা দরে কিনে নিজেরা ব্যবহার করছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতেও চোরাই তেল সরবরাহ করছে । আবার তেমনি ইরাকের মসুল শহরের উপকন্ঠে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে এবং সর্বশেষে দাবী করছে যে, তুরস্কের ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের সীমানা আলেপ্পো থেকে মসুল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সে কারণে এইসব অঞ্চল সে দখলে রাখবে ! ওদিকে আবার ইসরাইলের সাথে দহরমমহরম সম্পর্ক এই ওয়াহহাবী নেতার ! ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে গুলেনপন্থী শিক্ষক, বিচারক, সৈন্য, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার অসংখ্য পেশাজীবীদের জেলে পোরা হয়েছে । বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের এরদোগানের মতো শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে সমাজ ও প্রশাসনের সর্বস্তর থেকে জামাতশিবির উৎখাত করা দরকার । তাহলে জামাতীরা এরদোগানের অপকর্মের মাজেযা বুঝতে পারবে ।

তিউনিশিয়ায় রাশিদ ঘানুসী এদের পথে পা বাড়াননি ; এক লাফে দেশটিকে ইসলামীকরণের দিকে হাত বাড়াতে যাননি । ফলে দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় আছে । মানুষজনকে আগে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষিত করে তুলতে হবে এবং দেখতে হবে তারা শরীয়াহ ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা চায় কিনা ।

এরদোগানের কর্মকান্ড দেখে আঁচ করা যায় বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসীন হতে পারলে দেশটিকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে । বাংলাদেশের জনগণ ঐ রকম অবস্থা কখনো মেনে নেবে না ; তদুপরি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইসলামপন্থীদের দেশবিরোধী অপকর্ম তাদের জানা আছে । সুতরাং ইসলামপন্থীদের ক্ষমতারোহণকে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখবে না ।

erdogan-till-2029-in1erdogan till 2029 -in2.jpg

তুরস্কে হচ্ছেটা কী?

বছর কয়েক আগেও তুরস্ককে আধুনিক মুসলিম বিশ্বের জন্য আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করত পশ্চিমারা। সেই তুরস্ক এখন কতটা আদর্শ রাষ্ট্র, কতটা গণতান্ত্রিক, তা নিয়ে ঘরেবাইরে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর তুরস্কের গণতন্ত্রের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে বলে মত সমালোচকদের। এই মুহূর্তে তুরস্কে কতটা গণতন্ত্র আছে, তা বুঝতে কিছু তথ্যউপাত্ত বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের চলতি বছরের আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ৯৯তম। তুরস্কের আগে ৯৮তম স্থানে রয়েছে মিয়ানমার। ইরানের অবস্থান ৮৬তম।

সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানোর ক্ষেত্রে তুরস্কের অবস্থান সামনের কাতারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে দেশটির বিশ্লেষকেরা তাঁদের মত প্রকাশেও ভয় পাচ্ছেন। চরম দুঃসময় পার করছে গণমাধ্যম। ইতিমধ্যে শতাধিক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। করা হচ্ছে হয়রানি।

সরকার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করছে। যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে।

দেশটিতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চলছে। তুরস্কের তৃতীয় প্রধান বিরোধী দল এইচডিপির একাধিক নেতা ও বেশ কয়েকজন এমপিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এইচডিপির অভিযোগ, তাদের পার্লামেন্টের বাইরে রাখতে চায় সরকার। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তাঁর ক্ষমতা বাড়াতে চান। তুরস্কের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এইচডিপির ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসার ওজসয় বলেন, গণতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটেছে। খুব সীমিত যে গণতান্ত্রিক পরিসর দেশে ছিল, তাও পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে দায়ী করে আসছেন এরদোয়ান। গুলেনকে সমর্থনের অভিযোগ এনে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের গণহারে সাময়িক বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুতিকরণ অব্যাহত আছে। এই সংখ্যা এখন প্রায় লাখ ছুঁয়েছে।

গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের বিরুদ্ধে জারি হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গত জুলাই থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষকে জেলে পোরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেক্টর নিয়োগের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দিতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে তুর্কি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব নিন্দা আঙ্কারা কানে তুলছে বলে মনে হয় না। সমালোচনা করতে গিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রধান বলেন, তুরস্ক শেষ সীমা অতিক্রম করেছে। জবাবে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাই, আমরা তোমাদের শেষ সীমার (রেড লাইন) তোয়াক্কা করি না।’

তুরস্কে এখন গণতন্ত্র আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুদ্ধি অভিযানের ভুক্তভোগী লোকজন, বামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি এবং এরদোয়ানের সমালোচকেরা বলছেন, তুরস্কে আগেই গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

তুরস্কে এই ঘরানার বিপরীত মতও লক্ষণীয়। তাদের চোখে এরদোয়ান নায়ক, যিনি দেশের ইতিবাচক রূপান্তর ঘটিয়েছেন। কিন্তু বাইরের বিশ্ব ভুল বুঝছে।

গত ১৫ জুলাই রাতে সরকার ও তার সমর্থকদের জীবন বাজি রেখে অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেওয়ার ঘটনাই তুর্কি গণতন্ত্রের পরিপক্বতার স্বাক্ষর বহন করে বলে অনেকের মত। কিন্তু সেদিন রাতে যে ধরনের গণতন্ত্র রক্ষা করা হয়েছে, তা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক আছে।

বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে, নভেম্বর ২৪, ২০১৬

কিছু পাঠক মন্তব্যঃ

turkey comments -1.jpgturkey-comments-2turkey-comments-3turkey-comments-4

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: